১০ অক্টোবর ২০২১

রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়,১১

 চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 





                                                                             উদাসী মেঘের ডানায়
                                                                                                                         (  পর্ব ১১)



                       তৃষ্ণা,অফিস থেকে এসে শাওয়ার,সেরে মায়ের,সাথে
চা,খেতে খেতে গল্প করছিলো হঠাৎ তৃষ্ণার মা বললো
-তোকে একটা,কথা বলতে চাই।
-বলো মা
ময়নার মা আজ ময়নাকে খুব মেরেছে, ড্রাইভারের
প্রেমে পড়েছে, বিয়ে না দিলে ময়না জান দিয়ে দিবে
কি ঝামেলায় পড়লাম।
তৃষ্ণা হাসতে হাসতে বললো-তোমার চল্লিশ বছরেরমেয়ে,যদি,প্রেম করে মা ওরতো সবে আঠারে বছর ড্রাইভার মজিদ ছেলে ভালো দোষ কি তাতে।রাবেয়া,বেগম অবাক হয়ে মেয়ের মুখের দিকে    তাকিয়ে থেকে হেসে বললো
তুই যদি সত্যি বিয়ে করিস আমার থেকে সুখি কেউ
হবেনা কিন্ত কাকে
-তুমি জানো মা আমি কাকে ভালোবাসি
-ওরতে বউ আছে!
 না,নেই বেবী হবার সময় মারা,গিয়েছে।
-বাচ্চাটা?
মেয়ে,বেবী দাদীই মানুুষ করছে।
-আহারে জন্মেই মা হারা।
যাক পরে শুনবো ময়নার কি করবি?
-বিয়ে দিয়ে দিবো ছাদের ঘরে থাকবে, যাতে মজিদ
কখনো কষ্ট দিতে না পারে আর খালার ওতো এক ময়না,ছাড়া কেউ নেই খালা ও নিশ্চিন্তে থাকবে।
- মন্দ,বলিসনি , ঠিক আছে মজিদের সাথে আমি
কথা বলবো।
-সেটাই ভালো হবে, আর বলো ওর মাকে নিয়ে আসতে তারপর তারিখ ঠিক করে নিবো।
এই বলে তৃষ্ণা,ওর রুমের দিকে পা বাড়ালো।


                                                                                                                          চলবে....

ইশরাত জাহান নিরু




প্রতিবিম্ব


ভোরের প্রাশান্তির ঘুম আর স্বপ্নের পরী 
ব্যাস্ত হয়ে উড়ে যায়!  পাঁচটা বেজে গেছে? 
আড়মোড়া দিয়ে জেগে উঠে, 
রাত্রির ক্লান্তি ঝেড়ে অলসতা মুঁছে, 
চোখ তুলে মনের জানালা খুলে,
স্বজন মুখ দর্শন করে, সমুখে পা বাড়ায়।
নিজেকে নিজেই  বহন করে
ধীর পায়ে চলে, যেন হোচট না খায়।
চোখের ক্লান্তি ধুতে জলের কলে হাত রাখে,
মুখের প্রতিবিম্ব পরে বাথরুমের আয়নায়!
আমি কি? সন্দেহ চোখে ছায়া ঝুলে রয়,
নিজের মুখ নিজের কাছে অচেনা মনে হয়!
সমীক্ষায় সায় নেই শুধু শুধু সময় অপচয়।
বহুদিন ধরে আছে নিজের সাথে নিজে
দেখেছে বহুবার নিজেকে এপাশ ওপাশ করে,
আজ যেন হৃদয়ের পালিত বৃষ্টির তোড়ে
নামহীন গোত্রহীন ভালোবাসা হীন  এক
বেওয়ারিশ লাশের সাথে নির্বাক কথা হয়
ভোরের আলো এসে কড়া নাড়ে, চেনা দড়জায়।
নিজেকে  নিজে আহ্বান করে
অবাক  বিস্ময়!

লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল"৯

চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শান্তা কামালী'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "বনফুল"




                                                                            বনফুল
                                                                                       ( ম পর্ব ) 
                                                                             
 
                                 য়না টেবিলে চা নাস্তা দিয়েছে, মা বাবার সাথে বসে চা নাস্তা খেতে খেতে খানিকটা সময় গল্পগোজব হলো। তারপর 
মা-বাবা কে বললো আমার কিছু পড়া জমে আছে  কমপ্লিট করতে হবে, আমি উপরে যাচ্ছি।এই বলে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে গেলো।
টেবিলে বসলো জুঁই মন দিয়ে ঘন্টা তিনেক পড়লো, হঠাৎ জুঁইয়ের ফোন বেজে উঠল, ফোন হাতে নিতেই জুঁইয়ের মন খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো, ওপাশ থেকে পলাশের গলা ভেসে এলো কি করছো ? উত্তরে জুঁই বললো পড়ছিলাম , পলাশ জুঁইকে বললো রেখে দেবো ফোন?  জুঁই বলে, আরে না আমার পড়া কমপ্লিট, বলো তুমি কি করছিলে? 
 তিনটে টিউশন সেরে এসে আমার নিজের পড়া শেষ করলাম। 
সাথে তিনি, শিমুলের পড়াও বুঝিয়ে দিলাম।
-এখন কি করছো?  
এখন , এখন আমার সুইট হার্টের সাথে ফোনে কথা বলছি... 
পলাশের মুখে এমন করে রোমান্টিক  কথা বলতে শুনে জুঁইয়ের শরীর কাঁটা দিয়ে উঠলো। 
পলাশ আরো বললো, জুঁই তুমি, তুমি কি জানো? 
 জুঁই প্রশ্ন করলো কি? তুমি একটা লক্ষ্মী ভদ্র মিষ্টি  মেয়ে। এপাশ থেকে জুঁই হাহাহা হাহাহা হাহাহা করে হেসে উঠলো।
 পলাশ জুঁইকে প্রশ্ন করলো আমি কি ভুল বলেছি, জুঁই বললো, না সব প্রেমিকদের কাছে তার ভালোবাসার মানুষকে পরীর মতো সুন্দরী মনে হয়, পলাশ বললো মোটেই না। তুমি সত্যি সত্যিই অনেক সুন্দর....
জুঁই না পেরে বললো আচ্ছা যাও তোমার কথাই ঠিক এবার হলো?
পলাশ হুম, তাহলে আমার কথা মানাছো তো! জুঁই আচ্ছা বাবা  তোমার কথাই ঠিক। জুঁই কথা ঘোরায়,পলাশকে বলে  তুমি খেয়েছো না, এখনই খেতে বসবে?
পলাশ বললো জুঁই তুমি কখন খাবে?  এইতো এখনই নিচে যাবো,পলাশ বললো জুঁই এখন তাহলে ফোন রাখছি। জুঁই বললো হুম, 
ওপাশ থেকে পলাশ বললো টেক কেয়ার জুঁই  ও বললো তুমি ও..... 
জুঁই নিচে নেমে দেখলো মা বাবাও জুঁইযের জন্য অপেক্ষা করছে। মেয়েকে দেখেই বাবা বললো জুঁই তোমার জন্য  অপেক্ষা করছিলাম,চলো খেয়ে নিই  জুঁই ও বললো চলো বাবা, খেতে বসে মা বাবার সাথে  মেয়ের অনেক কথবার্তা হলো। 
ভার্সিটিতে কেমন লাগছে, পড়াশোনা কেমন হয় ইত্যাদি... 
জুঁই বললো ভালো, বাবা-মা বললেন ভালো হলেই ভালো। ওয়াজেদ সাহেব মেয়েকে বললো তুমি মা মন দিয়ে পড়াশোনাটাই কর, কথা বলতে বলতে খাওয়া শেষ হলো জুঁই মা-বাবাকে গুডনাইট বলে উপরে উঠে গেলো।
মুখে হালকা প্রসাধনী মেখে শুয়ে পরলো।



                                                                                                                                                      চলবে....

বিধানেন্দু পুরকাইত





অপ্রত্যাশা 

যেটুকু সন্দেহ করো তার চেয়ে বেশী
আকন্ঠ ডুবে আছি প্রেমের সমিধে। 

আমাকে মাতাল করে 
যে নারীর চোখের পলক
তার কাছে আমি আছি আমৃত্যু অবধি। 

আমাকে নিঃস্ব কেন এতটুকু
ছুঁয়েও দেখনি
কতটা শূন্য ছিল নদীগর্ভজাত বৈভব
যে নারীর ভালবাসা মাতাল করেছে
তাকে শুধু দিতে চাই নিজস্বতা। 

নারী ছাড়া পুরুষের আকাল সময়
এমনই ভিখারী বলো
নারী ছাড়া কে করতে পারে! 

আমি সেই-ই নারী পদতলে
আমৃত্যু সাধনা করি
মেঘরেণু মেখে।

মুহিন তপু




আমারে খুঁজবা তুমি
(আলো তোমাকে)


আমারে খুঁজবা তুমি শুকিয়ে যাওয়া চোখের জলে। আমারে খুঁজবা তুমি একলা দুপুর। গনগনে রোদ। শান্ত দিঘি। মরে যাওয়া ঘাসের ভেতর। পাতা-ঝরা গাছের তলে। আমারে খুঁজবা জানি নিয়মনীতির শিডিউলের ফাঁকফোকরে। ভেঙে যাওয়া আয়নার টুকরোয় খুঁজবা তুমি। শার্টের গায়ে শুকিয়ে যাওয়া কড়া ঘামে। পত্রিকার পাতায় পাতায় নিউজফিডে আমার সব প্রিয় নামে। দরজা খোলা ইশারাতে, রাত্রিবেলা। অন্ধকারে ঘরের ভেতর খুঁজবা আমায় যেন আমার শুয়ে থাকা। বাকির খাতায়। বইয়ের পাতায়। কবিতার সব পঙ্‌ক্তি মেলে লুকিয়ে রাখা গোপন কথায়। খুঁজবা আমায় প্রিয় শাড়ি, হারিয়ে ফেলা। ঘড়ির কাঁটায় চোখ বুলিয়ে কলিংবেলে খুঁজবা আমায়, দরজা খোলা। মধ্য রাতে ভেসে ভেসে পূর্ণিমা চাঁদ, নৌকা দেখে খুঁজবা আমায়। খুব ভোরেতে পাখি ডাকা খুনশুটিতে। খুঁজবা আমায় ধীরপায়েতে তোমার দিকে হেঁটে আসা। চুল সরিয়ে আলতো চুমোয় আদর আদর ভালোবাসা খুঁজবা আমায়। ধুলোজমা দূর-দিনেতে। পাশে বসা হাতটি ধরে। অথবা কিছু অবাধ্য চুল একটু হাওয়ায় উড়ে এলে। মুখের উপর খুব যতনে সরিয়ে দিয়ে, মুখোমুখি লজ্জা পেয়ে লুকিয়ে পড়া বুকের ভেতর ধুপুক ধুপুক, খুঁজবা আমায়। আমারে খুঁজবা জানি ঠান্ডা হওয়া চায়ের কাপে, গরম গরম। লজ্জা শরম মাথা খেয়ে। খুব লুকিয়ে সিগারেটে আগুন জ্বেলে। ধোঁয়ায় ধোঁয়ায় খুঁজবা আমায়। বুকের আগুন লুকিয়ে রেখে। তোমার পোষা প্রিয় পাখি। দেখে দেখে খুঁজবা আমায় ফুল বাগানের ভূমিকাতে। টুকরো টুকরো আমায় পাবে। ঘ্রাণে ঘ্রাণে আকুলতা। চোখের জল শুকিয়ে যাবে। বিষণ্ণতা। মরা নদী। দমে দমে আমার নামে কদম ফেলা। আমি জানি খুঁজবা আমায় প্রিয় আলো। ভালোবাসা। এমন প্রবল আকুতিতে দীর্ঘশ্বাসের দাগ রেখে যায় কাঁদামাটি। পায়ের ছাপে খুঁজবা আমায়। প্রিয় আলো তাইতো আমি পথ হয়েছি মনের দিকে। ভালোবাসা শেষ নিয়তি হৃদয় জেনে। পথিক হলে পাবে আমায় সারা বেলা। পথের মায়া সঙ্গী আমি। আলো ফেলো। দেখতে পাবে দাঁড়িয়ে আছি অন্ধকারে...

রাহাত জামিল





বিদ্যালয়ও খোলা হোক 


যাচ্ছে চলে দিন পেরিয়ে বেশ সময়ের ওই চাকা,
পড়াশুনা সব গুমরে কাঁদে লকডাউনে সে ঢাকা।

ইচ্ছে ছিলো পড়বো ঢের কলেজে উঠলে পরে,
ইচ্ছে গুলো ভয়ার্ত ভীষণ পাছে করোনা যদি ধরে।

পড়াশুনা আজ কাছে ঘেষে না লাজুক মেয়ের মত,
শিখেছিলাম সব গিয়েছি ভুলে সূত্র-ব্যাকরণ যত।

রাত গুলো নিদারুণ উপোস পড়াশুনা নেই বিধায় ,
আবারো নাও আপন করে করুণাবেদনে সে শুধায়।

সকাল গুলো আজ কদর্য খুব নেই টিউশণের ধুম,
প্রভাতে বন্ধুদের নেই ডাকাডাকি গেছে হারিয়ে গুম।

বছর শেষে ব্যাগে-বাড়িতে নেই নতুন বইয়ের ঘ্রাণ,
আট-আঠারোর শিশু-যুবক অতৃপ্ত যে তাদের প্রাণ।

শিক্ষার্থীরা সব পড়াশুনা ছেড়ে মগ্ন খুব নেট পাড়ায়,
হারিয়ে সৃজন-স্বকীয়তা ভার্চুয়ালে তারা খুব বেড়ায়।

করোনার নামে অনলাইনে সব ক্লাসের নামে প্রহসন 
বিড়ম্বনার ভার্চুয়াল ক্লাস অক্ষম নিতে বিদ্যালয়ের আসন।

কুঁড়েমিতে অভ্যস্ত আজ হোমওয়ার্কে খুব দরাদরি,
পড়তে বসেই যায় হারিয়ে পিডিএফ বই ভুরি ভুরি।

কাটছে দিবস গোলেতালে পড়াশুনাটাও ঠিক তাই,
সাহিত্য-ব্যাকরণ বদ্ধ ফোনে যোগ্যতা যে আমার নাই।

শিক্ষালয় গুলো নিঃস্ব নিদারুণ নেই কোলাহল সেথা,
আসবে কি ফিরে সুদিন সেখানে ভুলবে কি বিমর্ষ ব্যথা?

আছে যত আহাজারি আর লোক দেখানোর ঝোঁক
ভিড়ছে সবাই সর্বত্রই তবে বিদ্যালয়ও খোলা হোক ।

নুর আদিল সেখ




অসহায় প্রকৃতি 

 
মায়ের কোলে জন্ম আমার ।
পশুদের সাথে বসে খেলি ।
প্রকৃতির সাথে বেড়ে উঠি।
আর জগতের সাথে চলি।
নীল-সবুজের ঘেরা প্রাচীর।
এই সবের মাঝে আছি আমি।
কিন্তু এই নতুন প্রযুক্তি বিদ্যার ফলেই ।
হয়েছে অনেক পশু-পাখির কমি।
কোথাও পাহাড় ও জলাভূমি ।
আবার কোথাও সমতল আর বেলাভূমি।
কোথাও বা জনশূন্য বরফের ভূমি।
এর মাঝে পৃথিবী আজ ধ্বংসের ভূমি।

n m m

LOVE

vgh

LOVE

বাহাউদ্দিন সেখ




বিচ্ছেদ


প্রতিদিন বিরহ শব্দের স্রোতে নন্দনে ভাসি,
এপার হতে ওপার নদী, স্মৃতির বুকে আসি।
যতবার দেখি প্রেম-প্রীতি সেই স্মৃতির ভাসমান তরী
একবার চাহি আবার তোমার হাত, ওহে তোমায় জড়িয়ে ধরি।
এই মহাকাশে দেখিলাম কত সূর্য চন্দ্র নক্ষত্র তারা
তোমার বিচ্ছেদ বিরহের পথে হয়েছি দেখো দিশেহারা।
এই তোমার প্রেমিক পথের পথিক মৃত প্রায়,
হঠাৎ থমকে জীবন হঠাৎ কেঁপে কেঁপে যায়।
বিষিয়ে ওঠে স্মৃতির বুক, ওহে পথে পথে কাঁদি,
বেঁচে থেকেও মৃত হয়, দিন প্রহর বুকে বাঁধি সমাধি।
অরণ্য এ-মন সবুজ মহাবন হয়েছে দেখ অন্ধকার
বিচ্ছেদ বিরহের পথে অগ্নিকণা নিভৃত মনে হাহাকার।
দিন প্রতিদিন স্মৃতির ক্ষত ক্ষত বিক্ষত হয় যে এ হরণ প্রাণ
পথে পথে খুঁজে বেড়ায় মুক্ত স্বচ্ছ প্রেমের শ্বাস প্রশ্বাস সমাধান।

কবি সুবর্ণ রায় এর কবিতা




জল হয়ে আছি
 

জল ভেবেছিলে,জল-ই হয়ে আছি।
দানা বাঁধেনি,কেলাসিত হয়নি
গলে গলে গেছি,বয়ে গেছি

জল-ই হয়ে আছি যেমন 
জল ভেবেছিলে শুধু
স্ফটিক নয়।

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"২৪


কান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "। 






                                                          টানাপোড়েন পর্ব ২৪

                                                                   নতুন অতিথি


রেখার আজ  শুধু আনন্দ আর আনন্দ। মহালয়ার পুণ্য লগ্নে নতুন অতিথির আগমন। ধরিত্রী যেমন সেজে উঠেছে শিউলি, কাশ, পদ্মের সমারোহে, শরতের সোনালী রোদ্দুর মনের মাঝে উঁকি দিয়ে যায় পুজোর গন্ধে মাতোয়ারা মা আসার আর কতদূর?
তার মাঝে যদি উপরি পাওনা হিসেবে এসে যায় আরো কিছু বড় প্রাপ্তি তাহলে তো আর কিছু বলারই থাকে না। মহালয়ার পুণ্য লগ্নে যখন সকলে রেডিও-টিভিতে মায়ের আগমনী সুরে মাতোয়ারা, ঠিক তখনই ফুটফুটে সন্তানের জন্ম দিল রেখার প্রিয় পোষ্য মিলি। আসলে এই মিলি ছিল রাস্তার সারমেয়।
লকডাউনের মধ্যে মিলিসহ কয়েকজনকে সন্তানরূপে কাছে পায় রেখা। তার মধ্যে অতি প্রিয় ছিল তার স্নেহের মিলি। তারপর থেকেই তার জীবনে এরা একটা আলাদা জায়গা করে নেয় ।আজ ওকে সারমেয় বললে খুবই খারাপ লাগে ।এটা একটা রেখার বাড়তি গুণ বলা যেতে পারে ।রেখা ও মনোজ দুজনেই সন্তানের মত একে স্নেহ করে। তার মধ্যেই যখন ও সন্তানসম্ভাবনা হয় । তখন ওর যত্ন- আত্তির কোনো ত্রুটি থাকে না। কিন্তু  কখনো কখনো রোডের ধারে শুয়ে থাকলে যখন কেউ ওকে আঘাত করে ।তখন মনে হয় যেন রেখাকে কেউ আঘাত করেছে ।রান্নাঘরে কাজ করতে করতে মিলির আওয়াজ পেলে সে আওয়াজ আনন্দের ,না আঘাতের ?রেখা কিন্তু তার আওয়াজ শুনেই বুঝতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যায় মিলির কাছে। এভাবেই মিলিকে নিয়ে টানাপোড়েন থাকলেও ,আগলে আগলে রেখেছে । সেই ‌মিলি তার মাতৃত্বের পূর্ণতা লাভ করল। রেখার কাছে এ যেন এক বিরাট প্রাপ্তি। কিন্তু সমস্যা তার পিছু ছাড়ে না ।যৌথ বাড়িতে থাকে। তাই মিলি যখন নিজের বাচ্চার জন্য সেফ জায়গা হিসেবে সিঁড়িটাকে পছন্দ করে ।তখন থেকেই রেখার মনে ভয় কাজ করতে থাকে ।কেননা রেখার যে জেঠতুতো ভাসুর,জা, জেঠতুতো শাশুড়ি আছে।কেউ এই ব্যাপারটাকে পছন্দ নয়।। তাই সময়-সুযোগ পেলেই রেখা মনোজের অজান্তে এমন মার ,মারে যে ,ভয়েতে দরজা পর্যন্ত ঢুকতেই সাহস পায় না।'
এই তো কিছুদিন আগে রেখার স্কুল থেকে ফিরতে দেরি হয়েছে ।মনোজ ও ফেরে নি ।তারমধ্যে কোন কারনে নাচ দরজার কাছে মিলির জন্য একটা জায়গায় জল রাখা হয় ।সেই জলটা খেয়ে সে ক্লান্তিবশত দরজার পাশে শুয়েছিল । রেখার ভাসুর বাইক টা এমন ভাবে ঢুকিয়েছিল যে ওর পায়ে চোট লাগে। স্কুল থেকে ফিরে এসে মিলিকে দেখতে না পেয়ে রেখার মনের ভেতরে একটা সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে। 
রেখা কয়েকবার ডাকে  'মিলি মিলি মি..ই..ল..ই ই ।ডাকার পরেও যখন এলো না । তখন রেখা নিচে গিয়ে খুঁজতে থাকে। আর বলতে থাকে 'কোথায় গেল ?কোথায় গেল ?'
আশেপাশের কয়েকজন দোকানদার খুবই ভালো ।বিশেষত সন্টু দা (পশুপ্রেমী) ।পাগলের মতো তাকে খুঁজতে থাকলে সেই সময় সন্তুদা এসে বলেন, 'বৌদি ,আজকে মিলিকে আঘাত করেছে ।এই জন্য মিলি এখানে নেই ।একটু সবুর করুন ।আমি দেখি ।কোথায় আছে?'
তখন রেখা ব্যাঘ্র ভাবে বলে ' একটু দেখুন না ,সন্তুদা।
কিন্তু রেখা মনে মনে এটা কিছুতেই মানতে পারে না ।একটা অবলা জীব তাদেরকে তো খেতে পড়তে দিতে হয় না ।রেখাই দেয় ।তাহলে কেন তার ওপর এত রাগ সকলের।
আসলে তা  নয় রেখাদের প্রতি ঈর্ষাবশত এই সমস্ত দাওয়াই গুলো দেয়া হয়।
কিছুক্ষণ পর সন্তুদা ফিরে এসে বলেন 'বৌদি চিন্তা করবেন না তাকিয়ে দেখুন (পেছনের দিকে ইশারা করলেন)।
রেখা তাকিয়ে দেখে মিলি আসছে লেজ নাড়তে নাড়তে কিন্তু পা টা একটু খুঁড়িয়ে চলছে।
রেখা মিলির দিকে তাকিয়ে বলে  'মিলি‌ সোনা মা কোথায় গিয়েছিলে তুমি ?তোমাকে দেখতে না পেলে যে আমার কেমন কষ্ট হয় ,তুমি বোঝ না? যেন রেখার কথাগুলো বুঝতে পেরে রেখার কাছে এসে দাঁড়ায় ও যেন ওর ভাষায় কিছু বলতে চায় আও আও চিৎকারে।'
রেখা এমন ভাবে কথাগুলো বলছে রাস্তায় লোক যেতে যেতে তাকে ঘুরে ফিরে দেখছে ।কার সঙ্গে কথা বলছে পরক্ষণে লোকজনের বুঝতে অসুবিধা হয় না যে একটি সারমেয় সঙ্গে কথা বলছে ।তখন  হাসতে হাসতে চলে যান। 
আবার অনেকে মন্তব্য করেন  'আদিখ্যেতা দেখো।'
আবার অনেকে বলেন ' আপনি জীব সেবা করে, শিব সেবা করছেন ।ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুন।'
তখন খুবই ভালো লাগে ।এই উপলব্ধিটা রেখার জীবনে মনোজের সংস্পর্শে থেকে হয়েছে ।
মনোজ বরাবরই বলে  'মিথ্যা আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পুজো করে,কিছু হবে না ।তারচেয়ে বরং অসহায় জীবগুলোকে সেবা করো। তার মধ্যেই স্বয়ং ঈশ্বর বিরাজ করেন ।তাদের সেবা করলেই ঈশ্বরের সেবা করা হবে।'
তবে এই সবা করাটা অত সহজ নয় ,রেখা মিলিকে খাবার দেবার সঙ্গে সঙ্গে আরো কয়েকজন সঙ্গী-সাথী জুটেছে তাদের ও  কেউ দিতে হয় .।তাদেরকে কোন ডিশ বা পাতায় দেয়া হলে , অভিযোগের তীর রেখার দিকে আসে এবং বলেন 'এখানে ওখানে খেতে দেবেন ‌  না ।'
এই নিয়ে রেখার সাথে তীব্র বচসা ও  হয়ে যায়।
রেখার যেন সবসময় একটা মৃদু আতম্ক কাজ করে।রাত্রিতে শুয়ে থেকেও শান্তি পায় না। 
একদিন অনেক রাত্রে মিলির আওয়াজ পেয়ে তিন তালার বারান্দার দাঁড়িয়ে ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করে।
মনোজ হঠাৎই বুঝতে পারে যে রেখা তার পাশে নেই ।তখন সে  'রেখা রেখা 'বলে ডাকতে থাকে। শেষে মনোজ উঠে গিয়ে দাঁড়ায় বারান্দায়। মনোজ রেখার দুঃখটা বুঝতে পারে রেখার নিঃসন্তান জীবনে হাহাকার হুহু করে বেড়ায়।
মনোজ বলে  ' সব ব্যাপার নিয়ে এতো ভেবো না ।মিলিকে মিলির মত থাকতে দাও। ওরা প্রকৃতির কোলে বেড়ে উঠেছে।'
রেখা বলে ' প্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে আমার কোনো চিন্তা নেই,। যত চিন্তা মনুষ্য সৃষ্ট পরিবেশ নিয়ে।'
এভাবে ভয়ে আতঙ্কে রেখার দিনগুলি রাতগুলি কেটেছে।
সমস্ত বাধা বিঘ্ন পেরিয়ে অবশেষে মিলি জন্ম দিল তার সন্তানদের। তাই রেখার আজ আনন্দের দিন।
কতরাত মুখ লুকিয়ে কেঁদেছে মনের অজান্তে। শুধু মিলির জন্য নয় ,তার নিজের জীবনকে নিয়েও। এত বছরের বিবাহিত সম্পর্কে তাদের শূন্য জীবনে পরিপূর্ণতা আনার জন্য একটা শিশুর দরকার।
মনোজ অবশ্য এই নিয়ে কখনো অভিযোগ করে নি বরং রেখাকে বুঝিয়েছে , ধৈর্য ধরো ।দেখবে, তুমিও মা হয়েছ।'
মনোজ রেখাকে এমন ভাবে বলতো যেন মনোজের মনে কোন দুঃখ নেই, কষ্ট নেই।
কিন্তু রেখা  জানে ,বোঝে ।মনোজ গভীরভাবে সন্তানকে চায়।
তাই মিলি তার সন্তানের জন্ম দিলে,মনোজের মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। নতুন অতিথিকে স্বাগত জানায় এবং বলে  'রেখা ,তুমি একবার রিম্পাদিকে বল ফোনটা করে।'
রেখা বলে  'ঠিক বলেছ। আজ তো আর স্কুলে যাব না।'
শরতের সোনালী রোদ্দুর রেখা চোখে মুখে মেখে নেয় আর পেঁজা তুলোর মতো মেঘ ভাসা আকাশের
তাকিয়ে বলে থ্যাংকস গড।
রেখা ফোনটা রিম্পাদিকে করে। একবার রিং হয়ে যাওয়ার পর যখন ফোনটা ধরে ওপার থেকে বলে  '
হ্যালো।'।
রেখা বলে উচ্ছ্বসিতভাবে 'জানো তো রিম্পাদি, আমার মিলি মা হয়েছে।'
রিম্পা দি বলল 'কনগ্রাচুলেশন্স'। মানে তুই আর আজকে স্কুলে আসবি না ।তাই তো?'
রেখা হেসে বলে "একদম ঠিক ধরেছ ।এই জন্যই তো আমি তোমাকে এত ভালোবাসি ।আমার মনের কথাগুলো কি সুন্দর বুঝে যাও।'
রিম্পাদি বলে  ,'ঠিক আছে ।তোমার নাতি নাতনীদের ভালো করে যত্ন নাও। একদিন গিয়ে দেখে আসব। মিষ্টি মুখটা করিয়ে দিও আমাদের (হাসতে হাসতে)।
রেখা বলে "একদম। যেদিন স্কুলে যাব অবশ্যই সকলকে মিষ্টিমুখ করাব। তোমরা সকলে আশীর্বাদ করো ।আমার মিলি এবং তার বাচ্চারা যেন সবাই ভাল থাকে, নিরাপদে থাকে।'
রিম্পাদি বলে "আমার আশীর্বাদ সব সময় রয়েছে।'
এরপর ফোনটা ছেড়ে দিয়ে রেখা আনন্দে গুনগুন করে গান গেয়ে ওঠে  "কি আনন্দ ,আকাশে বাতাসে..।'
একটা সন্তানের জন্য বুকটা খাঁ খাঁ করে, সেই শূন্য জীবনে মিলি তার নতুন অতিথি এনে রেখাকে কিছুটা হলেও পরিতৃপ্তি দিয়েছে।



ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"২৪ক্রমশ

মাহ্জাবীন মিতি





বন্য ছায়া


জানি না কি এক অমোঘ শক্তি আছে
তোমার মাঝে!
কতো সহজেই ছুঁয়ে গেলে আমার অস্তিত্বকে।
আমার তপ্ত হৃদয়ে দিলে একপশলা বৃষ্টির প্রশান্তি 

শান্ত দীঘির জলে ছুঁড়ে দেয়া কোন এক দুষ্টু বালকের ঢিলে তির তির করে কেঁপে চলেছে বুকের দীঘিটা....

জীর্ণ এক দেবদারুর মাথায় হাত রেখে, চোখে স্বপ্ন নিয়ে অনিদ্রা সাজালে একদিন

এমন কি হয়েছে আগে? 
কেউ এসে সজোরে ঠিক বুকের ভেতর কড়া নেড়ে সবটুকু বিশ্বাসকে নাড়িয়ে দিয়েছে? 
না... মনে তো পড়ে না!

বহুদিন, বহুকাল কেউ এভাবে আঁচড় কাটেনি জীবাশ্ম শরীরে।
লৌকিক অরণ্য জ্বালিয়ে দিয়ে বাঁচিয়ে তুলেছো আমায়,
জড়িয়ে ফেলেছো মন্ত্রের মায়াজালে, 

আমি ভেসে যাচ্ছি, আমি ডুবে যাচ্ছি
আমি ক্ষয়ে যাচ্ছি তোমার বন্য ছায়ায়...

শিরীন শীলা




নারী মানে                       


আমরা যাকে বলছি নারীদের জয়গান
এখানে দেখি আমি শুধুই অপমান,
বলা হয় এই সমাজে লেডিস ফার্স্ট
বিপরীতে করা হয় লেডিস ব্লাস্ট ।

নারীদের আধুনিকতার নামে 
চলছে প্রহসন.............
নারীরাই হচ্ছে বার বার ধর্ষণ ।

নারীদের করা হচ্ছে পুরুষের সমান
আবার সেই নারীকে দিচ্ছে মরন
স্বামী নামের অপদার্থ বেইমান
যৌতুকের কারণে নির্যাতন ।

এ কোন আধুনিকতার ছোঁয়া
নারীদের হতে হয় সর্বহারা ।

নারী দিবসে সমাজের হর্তা কর্তা
মঞ্চে উঠে দেন লম্বা লম্বা বক্তিতা
অবশেষে উনাদের যায় দেখা.....
নারী কেলেংকারিতে যোগানদাতা ।

রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়,১০

 চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 




                                                      উদাসী মেঘের ডানায় 
                                                                                               (১০ম পর্ব)


তৃষ্ণা মনটা খারাপ নিয়েই বাসায় ফিরে এসে শাওয়ার
সেরে চুপচাপ বিছানায় শুয়ে পড়লো।
তৃষ্ণার মা রাবেয়া খাতুন চিন্তিত হলো, মেয়েতো অফিস থেকে এসে মার সাথে গল্প করে চা খায় আজ কি হলো বুকের ভিতরটা একটা ভয়,কাজ করলো অপুর সাথে কিছু হয়নিতো।
বিছানায় যেয়ে বসে মেয়ের মাথায়,হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো - শরীর খারাপ লাগছে।
-না মা মনটা বড্ড খারাপ
-কি হয়েছে বল।
মাকে সামিয়ার কথা আজ সব খুলে বললো।
মা  -সত্যি বলতে কি লোকটা অমানুষ ,কথায়, কথাায় বউয়ের গায়ে হাত তোলে।লেবু বেশি চিপলে
তিতা হয়ে যায়, যেদিন সামিয়া প্রতিবাদ করবে
আল্লাহ জানেন কি হবে।
মন খারাপ করে কি করবি, চল চা খেয়ে নেই। 
- না মা তুমি জানোনা সমিয়া অফিস থেকে বাসায় 
ফিরে গেলে কাপড় ও চেন্জ করারা সুযোগ পায়না,
 উনার অফিস থেকে ফোন করে দুনিয়ার কাজ চাপিয়ে দেয়।স্বাভাবিক রোজ কি ভালো লাগে ওর তো
ইচ্ছে করে একটু বিশ্রাম নিতে।কখনো যদি না করে
বাসায় এসে দেখে করিয়ে ছাড়বে কথা বললেই গায়ে
হাত দিবে।ওকে সান্তনা দেবার ভাষা আমার জানা নেই
খারাপ লাগে কলিগ বলে নাম ধরে ডাকি, সামিয়া
কিন্তু আমাকে ছোট বোনের মতন ভালোবাসে।
মা- আয়তো চা খাবোনা আমি একা
চা,খেয়ে এসে বারান্দায় বসলো ঠিকই চোখের সামনে
ভেসে উঠলো একটি বছরের বিবাহিত জীবনের দূর্বিসহ অতীত যা আজও সাঁতারে কাটে সেই দিনগুলে বর্শার ফলার মতন বিঁধে আছে।
এমন সময় ফোনটা বেজে উঠতেই মূহুর্তেই অতীতের
বোঝা সরে মনের আঁধার কেটে গেলো।
দুজনই ঠিক করলো শুক্রবার কোথায় বেড়াতে যাবে।

                                                                                                                                 চলবে...

লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল" ৮

চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শান্তা কামালী'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "বনফুল"




                                                                              বনফুল
                                                                              ( ম পর্ব ) 

ওটা আপনি আমার উপর ছেড়ে দিন, এইবার পলাশ জুঁইয়ের দিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।জুঁই প্রশ্ন করলো উত্তরটা এখনো জানা
হলো না? 
মৃদু স্বরে পলাশ বললো জুঁই তোমার ভালোবাসা প্রত্যাখান করার সাহস আমার নেই। মুহূর্তে জুঁইয়ের মুখ হাসোজ্জল  হয়ে উঠলো, পলাশের দিকে তাকিয়ে জুঁই বললো অনেক ভালোবাসি..... 

উত্তরে পলাশ বললো সেম টু ইউ। ওদের কফি খাওয়া শেষ, পলাশ জুঁইকে বললো চলো ওঠা যাক,
 জুঁই হুম বলে উঠতে গেলো, অমনি মাথা কেমন চক্কর দিয়ে উঠলো। পলাশ জুঁইকে ধরে আবার  চেয়ারে বসিয়ে দিলো। মিনিট দুয়েক বসে জুঁই পলাশকে বললো চলুন, পলাশ জুঁইকে বললো বেশি খারাপ লাগলে আরো পাঁচ মিনিট বসে রেস্ট নাও, জুঁই বললো না ঠিক আছে চলুন। জুঁই গেটের দিকে এগোতে এগোতে ড্রাইভার কে ফোন দিয়ে সামনে আসতে বললো।জুঁই আবার বললো, আমি কিন্তু আপনাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে যাব।
পলাশ জুঁইকে বললো তুমি কি আপনি করেই বলবে? 
অলরেডি গেটের সামনে গাড়ি নিয়ে ড্রাইভার অপেক্ষা করছে, দুজনেই গাড়িতে উঠে বসলো জুঁই পলাশকে বললো এখন থেকে  আমাকে ফোন দেবে তো? পলাশ উত্তরে বললো না দিয়ে উপায় আছে! এই প্রথম পলাশ জুঁইয়ের হাতটা ধরে টুস করে একটা চুমু খেলো,  মুহূর্তেই জুঁইয়ের শরীর শিউরে উঠলো.... 

এজিবি পয়েন্ট এসে গাড়ি ব্রেক কষলো, পলাশ জুঁইকে টেক কেয়ার বলে গাড়ির দরজা বন্ধ করে হাত নেড়ে বিদায় জানিয়ে হাঁটতে শুরু করলো।
জুঁই বাসায় পৌঁছাতে ঘড়িতে আড়াইটা বেজে গেল। মেয়েকে দেখে মা বললেন 
ময়নাকে টেবিলে খাবার দিতে বলবো, জুঁই মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো।বেসিনে গিয়ে হাতে মুখ ধুয়ে এসে টেবিলে বসলো। খেতে খেতে বেশ কিছুক্ষণ গল্পগুজবও হলো তিনজনে। ওয়াজেদ সাহেব মেয়েকে এতো খোশ-মেজাজে দেখে বেশ আনন্দিত, সাথে মা মনোয়ারা বেগমও  কম খুশি নন।জুঁই মাকে বলে উপরে উঠে গেল।
রুমে ঢুকে কাপড় চেঞ্জ করে বিছানায় শুয়ে পড়বে, হঠাৎ কি মনে করে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে একবার দেখে নিলো,টিশার্ট ট্রাউজারে বেশ লাগছে।শুয়ে এপাশ-ওপাশ করে কখন ঘুমিয়ে পড়লো....
ঘুম ভাঙ্গলো ছয়টায়, ওয়াশরুম ঢুকে ফ্রেস হয়ে নিচে নেমে এসে ময়নাকে ডেকে চা-নাস্তা দিতে বললো।

                                                                                                                                          চলবে....

শাহারিয়ার তুষার




জড়িয়ে যাই


সহজেই জড়িয়ে যাই
পুরোনো বিল্ডিংয়ের গুল্মলতার মতো,
গুমোট হাওয়ায় উড়ে চুল 
শিকড়ের অসুখে মাটির যেমন পরাজয় 
ইতস্তত শরীরে দাঁড়িয়ে বেপরোয়া চোখ দেখে
নেয় পাতাদের ক্রন্দন।
সহজেই জড়িয়ে যাই
পোড়া ইটের ধারাবিবরণীতে ঢুকে পড়ি
ভাটার শ্রমিকের দুঃখ নিয়ে
ভেজা কাপড় যেভাবে সঁপে দেয় ঝলমলে রোদের কাছে
কিংবা সমস্ত সবুজ যেভাবে চুমু খায় প্রকৃতির ঠোঁটে 
সেইসব বসন্ত হারানো গল্পে’র মর্মার্থ পাঠ করে
সহজেই জড়িয়ে যাই 
তোমার একটা সুন্দর ভুলের মতো
ছেলাবেলায় দাদীর কোলে মাথা রেখে কিৎসা শোনার মতো অদ্ভুত মায়ায়।