গদ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গদ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

ইকবাল বাহার সুহেল ( ইংল্যান্ড )




আত্মোপলব্ধি বা উপলব্ধি ও চিন্তা 


                             পৃথিবীকে বদলানোর বৃর্থা চেষ্টা করার চেয়ে নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করুন তাতে তাড়াতাড়ি ফল পাবেন !
                             আপনি চাইলেই পৃথিবীর সব মানুষকে নিজের মত করে বদলাতে পারবেন না কিংবা তা সম্ভবও না !

                              প্রিয় মানুষ গুলো কখনো কখনো অপ্রিয় হয়ে যায়। চেনা মানুষের দেওয়া কষ্ট             মানুষকে খুব সহজে আঘাত করে। তার কারণ হয়তো একটাই, পরিচিত জনের কাছে সবসময় ভালো কিছু প্রত্যাশা। 

                              আপনাকে মানতেই হবে, যে মানুষটা আপনার সবচেয়ে বেশি কাছের, কেবলমাত্র সেই বলতে পারে কোন জায়গাটায় আঘাত করলে আপনি বেশি কষ্ট পাবেন। অথচ তার কাছে আপনার দুর্বলতা প্রকাশ করাটা ছিলো কেবলমাত্র আপনার বিশ্বাস।

                             সেই সাথে বলতে হয় চিন্তা চিন্তাধারার ফলে আসে ধারণা আর সেটাকে ধারণাবিন্যাস বোঝায়। 

                               যদিও চিন্তা করা মানবতার একটি অপরিহার্য কার্যকলাপ,একে সংজ্ঞায়িত বা এটা বোঝার কোনো সাধারণ ঐক্যমত্য নেই !

                               উপরের কথাগুলো মানুষের মনের কিছু সংগৃহীত চিন্তাধারা তার সাথে নিজেকে মিলিয়ে নিলে আমারা নিজে নিজেকে জানতে ও বুঝতে অনেক সহজ পাঠ্য হবো 

                                আমাদের সকলেরই আত্মোপলব্ধি বা উপলব্ধি হউক সত্য ও ন্যায়ের পথে .. অতীতের ভুল ভ্রান্তি হতে শিক্ষা নেই চলুন শুদ্ধ আত্মার চিন্তার প্রকাশ ঘটাই ..
                                আমাদের আগামীর পথচলা হউক মানবতার কল্যাণে .. শুভ কামনা সবার জন্য ..

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

মোঃহা‌বিবুর রহমান এ‌র লেখা "সহধ‌র্মিণীর হুঁ‌শিয়ারী বার্তা"৮

ঘরের ভিতর থেকে কবি ধরেছেন দৃশ্যকথা গদ্যের ভাষায় ধারাবাহিক ভাবেই প্রকাশিত হয়ে চলেছে তাঁর অসাধারন সৃষ্টি। লিখতে সহোযোগিতা করুন লাইক ও কমেন্ট করে । পত্রিকার পক্ষ থেকে সকল পাঠক পাঠিকা লেখক লেখিকা সকলের জন্য রইলো অনন্ত শুভেচ্ছা




সহধ‌র্মিণীর হুঁ‌শিয়ারী বার্তা 
                                                                                               (৮ম পর্ব)


                                             পৃথিবী‌তে হ‌রেক রক‌মের সম্পর্ক বিদ‌্যমান আ‌ছে। মা, বাবা, ভাই, বোন, চাচা, চাচী, ফুফা, ফুফু, ছে‌লে কিংবা মেয়ে ইত‌্যা‌দি। সম্পর্কগু‌লি স্ব স্ব ক্ষে‌ত্রে ইউ‌নিক বা অনন‌্য। ত‌বে প্রধান সম্পর্ক হ‌লো দু‌টি।তাহ‌লো আপন ও পর। স্ত্রীর সা‌থে স্বামীর সম্পর্কটি ব‌র্ণিত কোন ক‌্যাটাগরী‌তে পড়‌বে তা বলাটা স‌ত্যিই মু‌স্কিল। 

হয়ত এভা‌বে বলাটা অত‌্যু‌ক্তি হ‌বে না যে, একজন স্ত্রী আর একজন স্বামীর মধ্যে সম্পর্ক হ‌লো স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক। এ সম্পর্কটি আপ‌নের চে‌য়েও আপন এবং অ‌তি মধুর। এজন‌্যই হয়তবা স্ত্রীকে বলা হয়ে থা‌কে সহধ‌র্মিণী বা ই‌ং‌রেজী‌তে বলা হয় (better half)। স্বামী হি‌সে‌বে স্ত্রী বা সহধ‌র্মিণীর উপর তার যেমন অ‌ধিকার বা হক আ‌ছে তদ্রুপ স্ত্রী বা সহধ‌র্মিণী হি‌সে‌বে স্বামীর উপরও ‌সমপ‌রিমাণ হক বা অ‌ধিকার আ‌ছে।

এই অ‌ধিকার ব‌লে একজন সহধ‌র্মিণী প্রয়োজ‌নে স্বামীর উপর চোখ রাঙা‌বেন কিংবা মা‌ঝে মা‌ঝে ছ‌ড়ি ঘুরা‌বেন আর এটা যেস্বামী প‌জি‌টিভ বা ইতিবাচক হি‌সে‌বে মে‌নে নে‌বেন তার সংসা‌রে হয়ত কোনদিনই খারাপ সময় আস‌বে না কিংবা অশা‌ন্তির সৃ‌ষ্টি হ‌বে না। এটাই বাস্তবতা। আবার অ‌ধিকার ব‌লে একজন সহধ‌র্মিণী য‌দি তার স্বামী‌ ব‌্যক্তি‌কে প্রয়োজন‌বো‌ধে খুনসু‌টির কায়দায় সং‌শোধন করার ‌চেষ্টা ক‌রেন ও পরামর্শ দে‌ন আর সেই বু‌দ্ধিমান এবং সু‌শি‌ক্ষিত স্বামী ব‌্যক্তি‌টি য‌দি সেটা‌কে প‌জি‌টিভ বা ই‌তিবাচক ভে‌বে আশীর্বাদ ম‌নে করেন তাহ‌লে ঐ সংসা‌রে দুঃখ আর অশা‌ন্তি বোধ ক‌রি এক‌ দৌ‌ড়ে পা‌লি‌য়ে সরাস‌রি শীত‌নিদ্রায় চ‌লে যা‌বে।

সাংসা‌‌রিক জীব‌নে প্রত্যেকের কিছু না কিছু চিন্তাভাবনার ফারাক থাক‌বেই। কারণ, নানা মু‌নির নানা মত (Many men many minds) হ‌বেই। ত‌বে উভ‌য়ে এ‌কে অপ‌রের মতামত‌কে শ্রদ্ধা জানা‌তে পার‌লে সংসা‌রে অশা‌ন্তির অবসান ঘট‌বেই। অার পরস্প‌রের প্রতি এমন শ্রদ্ধা‌বোধ সৃ‌ষ্টি হ‌লে উভয়েরই বুঝদার হবার পথ‌টি যে অ‌তি সহজতর হ‌বে সেটা সু‌নি‌শ্চিত । 

উপ‌রোক্ত প‌রি‌স্থি‌তি‌তে স্বামীর প্রতি সহধ‌র্মিণীর যে‌কোন হুঁ‌শিয়ারী বার্তা স্বামী মানুষ‌টি ই‌তিবাচক হি‌সে‌বে ভাব‌তে বাধ‌্য। অামা‌দের পুরুষ শা‌সিত সমা‌জে হয়ত স্ত্রীর এমন হুঁ‌শিয়ারী বার্তা আজও ই‌তিবাচক হি‌সে‌বে অ‌নেক পুরুষ বা স্বামীই মে‌নে নেবার মান‌সিকতা গ‌ড়ে তুল‌তে পা‌রেনি ত‌বে আ‌মি সুনি‌শ্চিত যে, সে‌দিন আর বে‌শি দূ‌রে নেই যে‌দিন একজন সহধ‌র্মিণীর হুঁ‌শিয়ারী বার্তা প্রত্যেক‌টি স্বামীই ইতিবাচক ভে‌বে সা‌রিবা‌দি সালসা হি‌সে‌বে গ্রহণ কর‌বে।



ক্রমশ

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

মোঃহা‌বিবুর রহমান এ‌র লেখা "সহধ‌র্মিণীর হুঁ‌শিয়ারী বার্তা"৭

ঘরের ভিতর থেকে কবি ধরেছেন দৃশ্যকথা গদ্যের ভাষায় ধারাবাহিক ভাবেই প্রকাশিত হয়ে চলেছে তাঁর অসাধারন সৃষ্টি। লিখতে সহোযোগিতা করুন লাইক ও কমেন্ট করে । পত্রিকার পক্ষ থেকে সকল পাঠক পাঠিকা লেখক লেখিকা সকলের জন্য রইলো অনন্ত শুভেচ্ছা




সহধ‌র্মিণীর হুঁ‌শিয়ারী বার্তা 
                                                              (৭ম পর্ব)
 

ম‌নের কথা নি‌জের ম‌নের গহী‌নে রাখ‌লে অপ‌রে জান‌বে কি ক‌রে? অ‌নে‌কে বাক‌্যহীনভা‌বে আজীবন কা‌টি‌য়ে দি‌য়ে পরপারে পা‌ড়ি জমান। আবার অ‌নে‌কেই বক্ত‌ব্যের ফুলঝু‌রি আওড়া‌তে আওড়া‌তে অ‌নেক সময় পাগ‌লের প্রলাপ বক‌তে থা‌কে। মধ‌্যম পন্থাটাই কিন্তু বাস্ত‌বে শ্রেয়। ত‌বে স্বল্প কথায় বা অল্প শ‌ব্দে অ‌ধিক প্রকাশের মাধ‌্যমে ভাল লেখ‌কের প‌রিচয় পাওয়া যায়।

ইদা‌নিং সহধ‌র্মিণী আমা‌কে প্রয়োজ‌নের চে‌য়ে অ‌ধিক কথা বল‌ার ব‌্যাপা‌রে প্রায়শই সতর্ক ক‌রেন। মানুষ মধ‌্য বয়স কিংবা তার একটু বেশী বয়স পে‌রো‌লে নি‌জে‌কে জ্ঞানী ভা‌বে হয়তবা আমার ক্ষে‌ত্রেও তা হয়। ত‌বে বিষয়‌টি আ‌মি প‌জি‌টিভভা‌বে গ্রহণ ক‌রে নিজে‌কে এ বিষ‌য়ে বেশ নিয়ন্ত্রণ কর‌তে পে‌রে‌ছি। আস‌লে কোন মানুষই নি‌জের ভুল‌টি সহ‌জে ঠাহর কর‌তে পা‌রে না। 

সহধ‌র্মিণী ধর্মপাল‌ণেও অ‌নেক সুক্ষ তাই ধর্মকর্ম করার প্রক্রিয়ায় তি‌নি আমা‌কে প্রায়ই টোকাই ক‌রেন, ভুল ধ‌রে শুধ‌রি‌য়ে দেন। প্রথম প্রথম নি‌জে‌কে সবজান্তা ভে‌বে তাঁর দ্বারা আমা‌কে এমন ভুল ধরাটা মো‌টেই পছন্দ করতাম না। কা‌লক্রমে ধৈ‌র্যের প‌রি‌ধিটা অ‌নেক বে‌ড়ে‌ছে তাই সবজান্তা শম‌সের ভাব‌টি এখন আমার মন থে‌কে দূর হ‌য়ে গে‌ছে। 

সহধ‌র্মিণীর উপর এখন এতটাই নির্ভরশীল হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছি যে, ডাক্তা‌র সা‌হেব দীর্ঘকা‌লীন কোন ঔষধ খাওয়ার জন‌্য ‌পরামর্শ দি‌লে সে ঔষ‌ধের নাম ম‌নে রাখার দা‌য়িত্বটা কা‌লের প্রবা‌হে তা সহধ‌র্মিণীর কাঁ‌ধে যে‌য়ে ব‌র্তিয়ে‌ছে। অবশ‌্য তি‌নি বি‌য়ের শুরু থে‌কে এ বিষ‌য়ে বেশ ম‌নো‌যোগী এবং সহধ‌র্মিণীর ‌যে এ বিষ‌য়ে স্বতন্ত্র একটা আগ্রহ জ‌ন্মে‌ছে সেটা তাঁর আচর‌ণেই স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়।

তি‌নি নি‌জে দূর্বল‌সিংহ বা তালপাতার সেপাই হ‌লেও গৃহকর্তা ও ছে‌লে‌মে‌য়ের রাত জাগার ব‌্যাপা‌রে তার হুঁশিয়ারী বার্তা বেশ কড়া। দারুনভা‌বে লক্ষ‌‌ণীয় ‌যে, তি‌নি নি‌জে কোনসময় কোন জি‌নিস যেমনঃ দামী কাপড় চোপড় কিংবা সোনা গহনা কেনার ব‌্যাপা‌রে কোনসময় কাউ‌কেই ব‌লেন না বা ই‌চ্ছে পোষণও ক‌রেন না। অ‌তিশয় সাধারণ একজন মানবী জি‌নিস শুধুমাত্র স্বামী, সংসার আর ছে‌লে‌মে‌য়ে বল‌তে একদম পাগল।

 কারো ব‌্যক্তিগত বিষ‌য়ে নাক গলা‌নো কিংবা কা‌রো ব‌্যাপা‌রে নিন্দা কিংবা গীবত করা স্বভাব তাঁর চ‌রি‌ত্রে এ‌কেবা‌রেই ‌যেন নেই। নি‌জের যা সী‌মিত কিছু সম্পদ আ‌ছে তার থে‌কে গরীব দুঃখী‌দের‌কে দান খয়রাত করার ব‌্যাপা‌রে আ‌মি বেশ অনু‌প্রেরণা পে‌য়ে‌ছি সহধ‌র্মিণীর কাছ থে‌কেই। 

ভাল খারাপ গুণ নি‌য়েই মানুষ। অামরা কেউ ভাল বা খারা‌পের উ‌র্ধে নই। ত‌বে যে মানুষ তার নি‌জের দোষত্রু‌টি‌টি সত্বর বুঝ‌তে পা‌রে বা অনুধাবন কর‌তে পা‌রে সে নিশ্চয় একজন ভাল মানুষ। সহধ‌র্মিণীর হুঁ‌শিয়ারী বার্তা‌ হোক সেটা নি‌জের জন‌্য কিংবা প‌রিবা‌রের সা‌র্বিক কল‌্যা‌ণের জন‌্য সেটা সব সময়ই আ‌মি প‌জি‌টিভভা‌বে দে‌খি ও তাঁর পরামর্শ মোতা‌বেক সদা চলার আপ্রাণ চেষ্টা ক‌রি। আস‌লে একজন সহধ‌র্মিণী সংসা‌রের চা‌লিকা শ‌ক্তি হি‌সে‌বে কাজ ক‌রে থা‌কেন।


ক্রমশ

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

হা‌বিবুর রহমান এ‌র লেখা "সহধ‌র্মিণীর হুঁ‌শিয়ারী বার্তা"৬

ঘরের ভিতর থেকে কবি ধরেছেন দৃশ্যকথা গদ্যের ভাষায় ধারাবাহিক ভাবেই প্রকাশিত হয়ে চলেছে তাঁর অসাধারন সৃষ্টি। লিখতে সহোযোগিতা করুন লাইক ও কমেন্ট করে । পত্রিকার পক্ষ থেকে সকল পাঠক পাঠিকা লেখক লেখিকা সকলের জন্য রইলো অনন্ত শুভেচ্ছা



সহধ‌র্মিণীর হুঁ‌শিয়ারী বার্তা 
(৬ষ্ঠ পর্ব)
  


                                আজ অ‌ব্দি সহধ‌র্মিণীর কোন কা‌জেই খুব একটা সাহায‌্য কর‌তে পা‌রি‌নি। তি‌নি সব সময় আমার স্বাস্থ‌্য রক্ষার ব‌্যাপা‌রে নানান পরামর্শ দেন আর সম‌য়ে সম‌য়ে নিয়‌মিত সুষম খাবার গ্রহ‌ণের কথা ব‌লে ভগ্ন স্বা‌স্থ্যের কুফল সম্প‌র্কে সতর্ক ক‌রে থা‌কেন। ত‌বে এবার তাঁ‌কে সতর্ক করার পালা আমার নি‌জের। গতকাল তাঁর স‌হোদর ভাই‌বো‌নেরা এ‌সে একরকম মন খারাপ ক‌রে গে‌ছে তাঁর শরী‌রের এমন দূরাবস্থা দে‌খে। এমন‌কি ছোট ভাই‌দের সহধ‌র্মিণীগণও তাঁর এমন ভগ্নস্বা‌স্থ‌্য দর্শনে মনক্ষুন্ন হ‌য়ে‌ছেন। 

সারা‌দিন সাংসা‌রিক কাজকর্ম যথা রান্নাবান্না সহ ছে‌লেমে‌য়ের দেখভাল করা‌র মধ্যেই যেন তাঁর পরমান্দ নি‌হিত আ‌ছে। বাস্ত‌বে দিন‌শে‌ষে যা ঘট‌ছে তা হ‌লো- একজন গৃ‌হিণী বা গৃহকত্রী হি‌সে‌বে ‌একটু সময় ক‌রে নি‌জের উপর যেন খেয়াল করার মত তাঁর কোন সময়ই নেই। তাই এখন তাঁ‌কে সতর্ক করা আমার জন‌্য একটা অপ‌রিহার্য বিষয় হ‌য়ে দা‌ড়ি‌য়ে‌ছে। 

ছে‌লের প‌দোন্ন‌তির সাফ‌ল্যে একজন মা যে এমন খু‌শি হ‌তে পা‌রেন তা সহধ‌র্মিণীর কথা ও কা‌জে প্রমাণ মিল‌লো অার এমন বাস্তব উদাহরণ‌টি চাক্ষুশ দর্শনে ধন‌্য হলাম। ভাবলাম, স‌ত্যিই ভাগ‌্যবান আ‌মি এবং আমার ছে‌লেমে‌য়েও। সহধ‌র্মিণীর প্রতি খুবই অ‌বিচার করা হ‌বে য‌দি আ‌মি এক‌টি বা দু‌টি প্রসঙ্গ না উ‌ল্লেখ ক‌রি য‌দিও বিষয়‌টি খুবই ব‌্যক্তিগত।


    অলঙ্করণ : প্রীতি দেব

প‌রিণ‌য়ের প‌রে আমা‌দের সংসার জীবন শুরু হবার সা‌থে সা‌থে তি‌নি সংসা‌রের সকল কাজক‌র্মের দায়-দা‌য়িত্ব নি‌জে নি‌জেই অ‌নেকটা স্বয়ং‌ক্রিয়ভা‌বেই নি‌জের কাঁ‌ধে তু‌লে নেন। ‌সেনাবা‌হিনীতে চাকুরীর সুবা‌দে বি‌ভিন্ন সেনা‌নিবা‌সে তিন বছর পর পর বদলী হবার কার‌ণে বাবা মা'র সা‌থে যৌথ প‌রিবা‌রে একসা‌থে তেমন একটা থাকা হ‌য়নি। মা‌ঝে মা‌ঝে আমরা ছু‌টি নি‌য়ে যেতাম বাবা, মা সহ অন‌্যান‌্য ভাই‌বোন ও আত্মীয় স্বজন‌দের দেখ‌তে। আবার কোন কোন সময় বাবা মাও বেড়া‌তে আস‌তেন তা‌দের বড় সন্তান ও বউমা‌কে দেখ‌তে।

যেটা বল‌বো বল‌বো ক‌রে এখনও বলা হয়‌নি সেটা হ‌লো, সংসার জীব‌নের একদম শুরুর দি‌কে রান্নাবান্না শে‌ষ ক‌রে আমার অ‌ফিসে গম‌নের প্রাক্কা‌লে আমা‌র দুপা‌য়ে মোজা প‌রি‌য়ে দি‌তেও কোন‌দিন কু‌ন্ঠিতবোধ ক‌রেন‌নি আমার সহধ‌র্মিণী। এখন তি‌নি এমন‌টি কর‌তে উদ‌্যত হ‌লে আ‌মি তা‌কে বাধা দেই, নি‌ষেধ ক‌রি। জা‌নিনা এখনকার কোন বউ এমন‌টি ক‌রে কিনা? 

সহধ‌র্মিণীর অন‌্যান‌্য ‌বি‌শেষ গুণাবলী আগামী প‌র্বে বলা যা‌বে। ঘরের বউ‌টি য‌দি ভাল ম‌নের হয় আর সেসা‌থে স্বামী‌টিও য‌দি সমমনা হয় তাহ‌লে তো সোনায় সোহাগা। আর স্বামী স্ত্রীরএম‌ন মধুর সম্পর্কটি কোন ক‌বির নজ‌রে পড়‌লে ক‌বি তাঁর লেখনী‌তে নিশ্চয় ম‌নের মাধুরী মি‌শি‌য়ে নি‌মোক্ত চরণগু‌লো বেশ জো‌রে‌সো‌রেই আওড়া‌‌বেন আর সেটাই তো স্বাভা‌বিকঃ

"কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহু দূর?
মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতেই সুরাসুর।
প্রীতি ও প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে,
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরই কুঁড়ে ঘরে।"





ক্রমশ

১১ সেপ্টেম্বর ২০২১

মোঃ হা‌বিবুর রহমান এর লেখা ''সহধ‌র্মিণীর হুঁ‌শিয়ারী বার্তা'' (৩য় পর্ব)

ঘরের ভিতর থেকে কবি ধরেছেন দৃশ্যকথা গদ্যের ভাষায় ধারাবাহিক ভাবেই প্রকাশিত হয়ে চলেছে তাঁর অসাধারন সৃষ্টি। লিখতে সহোযোগিতা করুন লাইক ও কমেন্ট করে । পত্রিকার পক্ষ থেকে সকল পাঠক পাঠিকা লেখক লেখিকা সকলের জন্য রইলো অনন্ত শুভেচ্ছা



সহধ‌র্মিণীর হুঁ‌শিয়ারী বার্তা 
(৩য় পর্ব)


রবীন্দ্রবলয়ের জা‌লে আট‌কে পড়ার ভয় এখন অ‌নেকটাই কা‌টি‌য়ে উ‌ঠে‌ছি। তাই প্রতি‌দিনই দুএক কলম কিছু না কিছু লেখার চেষ্টা ক‌রে যা‌চ্ছি। কোন কোন দিন কোন বিষয় বস্তু নির্বাচন না ক‌রেই লিখ‌তে শুরু ক‌রে দেই। আবার কোন কোন দিন ই‌চ্ছেমত যে‌কোন এক‌টি বিষয়‌ বা নি‌র্দিষ্ট একটা শব্দ‌কে পুঁ‌জি ক‌রেই লেখা শুরু ক‌রি। 

সহধ‌র্মিণী আমার প্রতি‌টি লেখার বি‌শ্লেষণ ও মূল‌্যায়ন ক‌রতঃ খাবার টে‌বি‌লে তাঁর মূল‌্যবান মন্তব‌্য আওড়াতে কোন‌দিনই ভু‌লেন না। এভা‌বেই লেখনীর কাজ‌টি এ‌গি‌য়ে চ‌লে‌ছে। অন‌্যদি‌কে শুভাকাঙ্খীগণ ও আপনজন ছাড়াও ‌প্রিয় ফেইসবুক বন্ধুরা আমা‌কে সদা উৎসা‌হ যু‌গি‌য়ে যা‌চ্ছেন ও অনুপ্রা‌ণিত ক‌রে চ‌লে‌ছেন তা‌দের অসাধারণ আর চমৎকার মন্তব‌্য আর মতামত জা‌নি‌য়ে।

ক‌্যা‌ডেট ক‌লে‌জে পড়াকালীন সম‌য়ে বন্ধু সাইদুলকে দে‌খে‌ছি এসএস‌সি বোর্ড পরীক্ষার সময়ও ক‌বিতা লিখ‌তে। অা‌মি দে‌খে অবাক হতাম তার এ দুঃসাহ‌সিকতা দে‌খে। মা‌ঝে মা‌ঝে ক্লাশ চলাকালীন সম‌য়ে তা‌কে দেখতাম অন‌্যমনস্ক হ‌য়ে শিক্ষ‌কের কথায় ম‌নো‌যোগ হা‌রি‌য়ে আ‌র্টিকেল লিখ‌তে। বন্ধু সাইদুল অত‌্যন্ত ভ‌াল মা‌পের একজন লেখক। বর্তমা‌নে সে কানাডায় থা‌কে এবং সেখান থে‌কেও নিয়‌মিত সা‌হিত‌্য চর্চা জারী রে‌খে‌ছে।

নিত‌্য সংঘ‌টিত জীবনধর্মী ও সামা‌জিক বিষয়া‌দির উপর লিখ‌তে আ‌মি স্বাচ্ছন্দ‌বোধ ক‌রি। সামা‌জিক রী‌তিনী‌তিতে ‌বি‌ভেদ, সদা দ্বন্দ্ব ও বৈষ‌্যমতাকে নি‌য়ে মানব দর্শনের দৃ‌ষ্টি‌তে সেগু‌লি‌কে লেখনীর মাধ‌্যমে তু‌লে ধর‌তে আনন্দবোধ ক‌রি।

ধর্মীয় আ‌ঙ্গি‌কেও কিছু বক্তব‌্য লেখনীর মাধ‌্যমে প্রকাশ করার চেষ্টা অব‌্যাহত আ‌ছে। যে লেখনী‌তে আ‌ছে দিক নি‌র্দেশনা, সমাজ গড়ার উপ‌দেশ, মানু‌ষের ম‌ধ্যে সামা‌জিক দূরত্ব ঘোচনার উপায় এমন শিক্ষামূলক ও উপ‌দেশধর্মী লেখনীর মাধ‌্যমে মানুষ‌কে উজ্জী‌বিত করার ল‌ক্ষ্যে এমন মহৎ কাজ‌টি কর‌তে নিঃস‌ন্দে‌হে খুবই ভাল লা‌গে আর দারুন আনন্দ‌বোধ ক‌রি। 

সহধ‌র্মিণী মা‌ঝে মা‌ঝেই আজও বেশ খোঁচা দি‌য়েই কথা ব‌লেন আমার লেখাকে কেন্দ্র ক‌রে। তি‌নি একজন অত‌্যন্ত ধর্মপরায়ণ নারী আর তাই ধর্মীয় আ‌ঙ্গি‌কে লেখা‌কে তি‌নি সদা অ‌ধিক প্রাধান‌্য দি‌য়ে থা‌কেন। মা‌ঝে মা‌ঝে তি‌নি মন্তব‌্য ক‌রে ব‌লে বসেন "তোমার এ লেখা প‌ড়ে কয়জন মানুষইবা সৎপ‌থে আস‌বে আর কয়জনইবা তোমার লেখার বক্তব‌্য অনুযায়ী উপ‌দেশ মে‌নে চ‌লে তদানুযায়ী জীবনিপাত কর‌বেন? সমা‌জের সিংহভাগ মানুষের যখন পদস্খলন ঘ‌টে‌ছে তখন তোমার এ লেখা দি‌য়ে কি পু‌রো সমাজ‌ তথা জা‌তি‌কে একাই ঠিক ক‌রে ফেলতে পার‌বে ? এমন অ‌নেক প্রশ্নবা‌নে তিনি প্রায়শই আমা‌কে কু‌পোকাত ক‌রে ফেল‌তে উদ‌্যত হন। আ‌মি তাঁ‌কে এই ব‌লে বুঝি‌য়ে তাৎক্ষ‌ণিকভা‌বে শান্ত ক‌রি যে, দে‌খো বিন্দু বিন্দু জলকণা মি‌লেই তো সাগর অত‌লের সৃ‌ষ্টি হয়।











ধারাবাহিক ৩য়  কিস্তি


 

১০ সেপ্টেম্বর ২০২১

সজিব আল হাসান এর ছোট প্রবন্ধ


ছোট প্রবন্ধ 



বাস্তব জীবনে আমরা এমন কিছু কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে যাই যেটার জন্য আমরা কখনই প্রস্তুত থাকিনা। আমাদের জীবনে যদি খারাপ সময়টা না আসতো আমরা হয়তো জীবনের আসল মানেটা বুঝতে পারতাম না।


খারাপ সময়টা এসে বুঝিয়ে দেয়, আমি আসলে যেভাবে চলতেছি, এভাবে জীবন চলেনা। খারাপ সময়টা না আসলে হয়তো জানা হতোনা বাস্তবতা এত বেশি কঠিন। খারাপ সময়টা না আসলে হয়তো আমি আমার ভুলগুলো কখনোই বুঝতে পারতাম না, আমার এক জীবন কেটে যেত ভুলে ভুলে।


তবে প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে এমন কিছু ভয়ঙ্কর যন্ত্রনাদায়ক মূহুর্ত আসে যা সে কখনোই চিন্তা করেনি। খারাপ সময় আসা দরকার, তবে কিছু কিছু পরিস্থিতি আমাদের জীবনে ঘটে যায়। যেগুলো আমরা কখনো কল্পনাও করিনি তবুও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।


সেই পরিস্থিতি থেকে মাথা নিচু করে চলে আসা ছাড়া আর কিছুই থাকে না। সে কঠিন সময়ে আমরা কথা বলার মত সুযোগ পাইনা, আমাদের কথা বলার শক্তি হারিয়ে যায়।



০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

মোঃ হা‌বিবুর রহমান এর লেখা ''সহধ‌র্মিণীর হুঁশিয়ারী বার্তা'' (২য় পর্ব)


সহধ‌র্মিণীর হুঁশিয়ারী বার্তা  ( ২য় পর্ব )


এত‌দিন পর 'রবীন্দ্র বল‌য়ের ভী‌তি' থে‌কে ‌কিছুটা বে‌রি‌য়ে এ‌সে সাহস ক‌রে টুকটাক দু'এক চরণ লেখার দুঃসাহ‌সিক প্রচেষ্টা জারী রে‌খে‌ছি মাত্র! ত‌বে ম‌নে‌র গভী‌রতম স্হান থে‌কে একেবা‌রে যে সেই বলয় মুক্ত হ‌'তে পে‌রে‌ছি বা 'বলয়ভী‌তি' এখনও কাজ ক‌র‌ছে না সেটা বু‌কে হাত দি‌য়ে সাহস ক‌'রে বল‌ার সাহস কিংবা হলফ ক‌রে আস্হার সা‌থে জোর গলায় এখনও বলার সময় বু‌ঝি আ‌সে‌নি এ কার‌ণে যে, আবার কখন না 'রবীন্দ্র বল‌য়ের জা‌লে' অকস্মাৎ ‌নি‌জের অজা‌ন্তেই ‌নি‌জেই জালবন্দী হ‌'য়ে প‌ড়ি।


              যা‌হোক, যে কথা বল‌তে বল‌তে প্রসঙ্গ থে‌কে ক্ষণি‌কের জন্য একটু স‌'রে গি‌য়ে‌ছিলাম সেখা‌নেই ফেরত আ‌সি। অতঃপর আমার সহধ‌র্মিণী একটু হে‌সে ‌হে‌সে ব‌ল‌লেন, "শোন! এগু‌লোর ম‌ধ্যে অ‌নেক গুজা‌মিল আ‌ছে, এ নাটক, গান কিংবা অ‌নেক লেখাই আজকাল ক‌পি বা ডু‌প্লি‌কেট হ‌চ্ছে"। তখন তাঁর এ যু‌ক্তি খন্ড‌নের অ‌ভিপ্রা‌য়ে আ‌মি তা‌কে বললাম যে, দে‌খো পৃ‌থিবী‌তে বর্তমা‌নে প্রায় সাতশ' কো‌টি মানুষ আছে এবং তা‌দের প্র‌ত্যে‌কের জীব‌নে কমপ‌ক্ষে এক‌টি ক‌'রে হ‌লেও গল্প আ‌ছে। 


              সুতরাং, কেউ আজীবন লিখ‌তে থাক‌লেও ‌নিশ্চয়ই সাতশ' কো‌টি লেখা তার সারাজীবন ধ‌রে লি‌খ‌লেও তা শেষ ক'র‌তে পার‌বেনা। আর তু‌মিই ব‌লো কোন‌দিন কি কেউ এই পাহাড় সমান লেখার প‌রিসমাপ্তি ঘটা‌তে পার‌বে, আর বাস্ত‌বে কি সেটা সম্ভব? অতঃপর তিনি নি‌জেনি‌জেই অত্যন্ত সুচতুরতার সা‌থে তাঁর আ‌দি বিষয়বস্তু থে‌কে যেন অ‌তি বু‌দ্ধিমত্তার প্রম‌াণ রে‌খে অত্যন্ত সং‌গোপ‌নে একেবা‌রে চু‌পিসা‌রে ধী‌রে ধী‌রে ‌নি‌জে‌কে স‌রি‌য়ে নি‌লেন। হয়তবা জ্ঞানী ও য‌থেষ্ট বু‌দ্ধিমতী ভদ্র ম‌হিলারা বু‌ঝি এরূপ একই কৌশল অনুসরণ ক‌'রে থা‌কেন।


              ইদা‌নিং যু‌ক্তিত‌র্কে হে‌রে যে‌য়ে আমার সহধ‌র্মিণী আমা‌কে আর কিছু বলার সাহস ক‌রেন না ঠিকই কিন্তু তি‌নি যা‌তে আগামী‌তে এধর‌ণের  কিংবা নত‌ুন একই মা‌নের আর কোন প্রসঙ্গ টে‌নে তাঁর জীবন সঙ্গীর সম্মু‌খে না তুলে আন‌তে পা‌রেন সে বিষ‌য়ে আ‌মি য‌থেষ্ট সজাগ আ‌ছি ও তার ‌রে‌ডি‌মেট উত্তরও মজুদ ক‌'রে রে‌খে‌ছি যে‌নো ঝ‌টিকা গ‌তি‌তে তা ছুঁড়ে দি‌য়ে এই ধর‌ণের যু‌ক্তি‌কে সা‌থে সা‌থে খন্ডন ক‌'রে তাৎক্ষ‌ণিকভা‌বে তা‌কে নিষ্ক্রিয় কর‌তে পা‌রি। 


              এমন কিছু‌ কিছ‌ু ঘটনা মানু‌ষের জীব‌নে ঘ‌টে থা‌কে যা কা‌রো সা‌থে এমন‌কি নি‌জের জীবনসঙ্গীর সা‌থেও আজীবন মানুষ শেয়ার করেনা এবং এধর‌ণের অতীব ব্য‌ক্তিগত বিষয়গু‌লি বু‌ঝি মানুষ আজীবন নি‌জেই নি‌জের অন্ত‌রে ব‌য়ে বেড়ায় এবং অব‌শে‌ষে তা বু‌ঝি তার চিরসাথী হ‌য়ে মুত‌্যুর প‌রে এক‌ত্রে পরলো‌কে গমন ক‌রে।






ধারাবাহিক ২য়  কিস্তি


০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

মোঃ হা‌বিবুর রহমান এর লেখা ''সহধ‌র্মিণীর হুঁশিয়ারী বার্তা'' (১ম পর্ব)



সহধ‌র্মিণীর হুঁশিয়ারী বার্তা     (  ১ম পর্ব  )


              এখনঅ‌ব্দি ‌ঠিক কোন বিষ‌য়ে দু‌টো চরণ লিখ‌বো তা ম‌স্তি‌কের খ‌ু‌লি‌তে ঢু‌কে‌নি। ইদা‌নিং আমার বিরামহীন লেখা দে‌খে স্বয়ং আমার সহধ‌র্মিণী সতর্কতা সং‌কেত দি‌য়ে প্রায় প্র‌তি‌দিনই ব‌লেন "যখন সব লেখা ‌শেষ হ‌য়ে যা‌বে তখন কি লিখ‌বে"? অর্থাৎ, তি‌নি বোধ হয় এটাই বু‌ঝা‌তে চান যে, যখন আমার ঘ‌টের কপ্পুর বা স্ট‌কের সব সম্পদ শেষ হ‌য়ে যাবে তখন আ‌মি কি লিখ‌বো এই আর‌কি! 


              তাৎক্ষ‌ণিক তো একটা উত্তর দি‌তেই হয় তাই তখনই নি‌জের উপ‌স্হিত বু‌দ্ধি‌কে কা‌জে লা‌গি‌য়ে কিছু একটা তা‌ঁকে মনগড়া ব‌লে ফেললাম, তুমি তো তোমার প্র‌শ্নেই অকপ‌টে সমাধানটা নি‌জেই দি‌য়ে দি‌লে এবং আমার হ‌য়ে উত্তরটা ব‌লেই তো দি‌লে যে, যখন আমার সব লেখা শেষ হ‌য়ে যাবে তখন আ‌মি কি লিখ‌বো। সহধ‌র্মিণীকে একটু হালকা ঠাট্টা ক‌রে বললাম, একজন ভদ্র ম‌হিলা নি‌জেই প্রশ্ন ক‌রে আবার নি‌জেই সা‌থে সা‌থে উত্তর‌টিও ব‌লে দেয়, বাহ তু‌মি মজার মান‌ুষ‌তো দেখ‌ছি! 


              সহধ‌র্মিণী বল‌লেন "তার মা‌নে কি? ত‌ু‌মি এই কথার মাধ‌্যমে আবার কি বুঝা‌তে চাচ্ছ? আ‌মি বললাম সব যখন লেখা হ‌য়েই যা‌বে তখন‌তো আর কিছুই যে‌হেতু বাকী থাক‌বেনা সুতরাং, তখন‌তো বাস্ত‌বে আর সত্যি স‌ত্যিই কিছুই লেখারও থাক‌বেনা। তু‌মি‌তো বু‌ঝি হক কথাটাই অকপ‌টে ব‌লে ফে‌লে‌ছো। সহধ‌র্মিণী এবার একটু রে‌গেসেগেই বল‌লেন "যে মানুষ জে‌গে‌ জে‌গে আস‌লে ঘুমা‌নোর চেষ্টা ক‌রে আর যে বু‌ঝেও না ব‌ুঝার ভান ক‌রে তা‌কে আস‌লে কেউ কখনই বুঝা‌তে পার‌বেনা"। 


              অবস্হা বেগ‌তিক দে‌খে আ‌মি তা‌ঁকে বললাম, দে‌খো আমারও এক‌দিন তোমার মত এরকম ধারণা ছিল যে, বিশ্বক‌বি, ক‌বি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিংবা জাতীয়/বি‌দ্রোহী ক‌বি কাজী নজরুল ইসলাম এই জগৎ বিখ্যাত ক‌বিদ্বয় তো বহু পূ‌র্বেই সব কিছু লিখেই ফে‌লে‌ছেন তাহ‌লে আর বু‌ঝি কিছুই লেখার অব‌শিষ্ট নেই, তারপ‌রেও ‌তো ‌দে‌খি আবার নিত্য-নতুন আধু‌নিক ধারায় ‌বি‌ভিন্ন বিষ‌য়ের উপর ভা‌লো ভা‌লো লেখা, সি‌নেমা, গান ও নাটক প্র‌তি‌নিয়ত র‌চিত হ‌চ্ছে সেগু‌লো কি তোমার চে‌া‌খে পড়‌ছে না? 


              দুঃখিত। একটা গোপন কথা এই ফাকে না ব'ল‌লে ‌পি‌ছে আবার ভু‌লে যাবার সমূহ সম্ভাবনা আ‌ছে। স‌ত্যি বল‌তে কি, ক্যা‌ডেট ক‌লে‌জে অধ্যায়নকা‌লে আমা‌র শ্র‌দ্ধেয় বাংলার প্রফেসর জনাব র‌ফিক নওশাদ যি‌নি একজন অত্যন্ত সুনামধন্য ক‌বি ও  খ্যা‌তিমান লেখকও ছি‌লেন, তি‌নি এক‌দিন ক্লাসে বিশ্বক‌বি প্রসং‌গে বল‌তে যে‌য়ে একবার 'রবীন্দ্র বল‌য়ের' কথা ব‌লে এমন একটা ভয় ধ‌রি‌য়েছি‌লেন আর যায় কোথায়? তারপর থে‌কেই সে‌ই যে ডান হা‌তে ‌বে‌ড়ি পরালাম আর খোলা‌খে‌া‌লির যেন নামগন্ধ নেই।






ধারাবাহিক ১ম  কিস্তি


০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

মোহাম্মাদ আবুহোসেন সেখ /একএিতো হও




 একএিতো হও


একই রকম দেখতে আমগাছে দুরকম ফল হয়। একটি ফল টক আর একটি ফল মিষ্টি, কিন্তু ফল যতই ভিন্ন স্বাদের হোকনা কেন সেটা ফলই তো, সেটা কেউ বুঝতে চাই না। এই না বোঝার দরুন সমাজে আজ অশান্তি, রক্তপাত, নিজেদের মধ্যে হানাহানি, বিরোধীতা হিংসা আর কুসংস্কারাচ্ছন্নেই ভরপুর হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ‍্যেতে এর প্রভাব আরো বাড়তে থাকবে। ততক্ষণ বাড়তে থাকবে যতক্ষণ না পযর্ন্ত সমস্ত মানবজাতির মনে মনুষ্যত্ববোধ বিবেক জাগ্রত হচ্ছে।  


মানবজাতির মাঝে এই র্ধমবিরোধীতাকে রুখতে পারে একমাত্র ছাএসমাজ তথা যুবসমাজ। কারন চার দেওয়ালের মাঝে যখন শিক্ষা দেওয়া হয় -----সেখানে জাতি, ধর্ম-বর্ণ, নির্বীশেষে সমস্ত জাতির মানব একএিত থাকে। তখন তো এই বিরোধীতা দেখা যায় না। তাহলে,পরবর্তী একটা সময়ে এসে এরা নিজেদের মধ্যে কেনো জাতপাতের ভাগাভাগির দাবি তোলে এবং শান্তির জায়গায় অশান্তিকে টেনে আনে।সমস্ত মানবজাতির কাছে এখন প্রশ্ন হলো আমার এটাই? ওই চারদেওয়ালের মাঝে এই শিক্ষা তো দেওয়া হয়না। আমার মতে এই শিক্ষা পাওয়া যায় সমাজের কিছু অসাধু মুর্খামী মানুষের কাছে। যদি তাই হয় তাহলে তোমার কাছে কি! ওই  চার-দেওয়ালের শিক্ষার কোনো গুরুত্ব নাই? জিজ্ঞাসা করো নিজের মনকে, জিজ্ঞাসা করো নিজের বিবেককে, জাগ্রত করো নিজের ভিতরে লুকিয়ে থাকা মনুষ্যত্ববোধকে।নইলে এই দ্বায়বদ্বতার ভার নিতে হবে একমাত্র ছাএসমাজ তথা যুবসমাজকে।যে ভুল করে এবং যে দেখে চুপ থাকে তারা একই অপরাধের অপরাধি তা আমার সবাই জানি।তাই ক্ষতিকারক সেই বিরাট বড়ো বটগাছের শিকড়কে উফড়ে দিয়ে,উপকারিতা ছোট্ট নিমগাছের চারা বসানো হলো আমাদের কতর্ব‍্য।কিন্তু আমরা এই কাজ ক'জন করি বা করছি সেটাই হলো এখন প্রশ্ন?

 

 আমি যথাসম্ভব জানি যে,এই বাংলার মাটিতে একসময় ছাত্রসমাজ তথা যুবসমাজ আলোর দিশা দেখাতো। অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতো।সমাজ ক্ষতিকারক জীবগুলোকে বিন‍্যাস ঘটিয়ে সমাজকে শক্তিশালী বানাতো।এমনকি সমাজের কুসংস্কার দূর করতে পথমিছিল থেকে শুরু করে হর্তাল পযর্ন্ত করতো।কিন্তু আজ যখন সারা ভারতবর্ষে জাতপাতের ভাগাভাগির দ্বন্দ,অসামাজিক অত‍্যাচার চলছে,তখন এই ছাএসমাজ তথা যুবসমাজ কেন? নিজেদের চোখে কালো কাপড় বেঁধে অন্ধের মতো ঘোরাঘুরি করছে। এদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সেই তীব্র নেশা,জলন্ত অংগার কেন?তারা ধীরে ধীরে নিভিয়ে দিচ্ছে। এই ছাত্রসমাজ তথা যুবসমাজ তোমরা কি দেখতে পাচ্ছো না!কত হিন্দু ঘরের,কত মুসলিম ঘরের মা,বাবা,ভাই ও বোন প্রান হারাচ্ছে।কত নিশপাপ শিশু ও প্রান হারাচ্ছে যারা এই সমাজে একদিন বড়ো কিছু হয়ে উঠতো। তারা আজ এই যুদ্ধের কারনে সংঘর্ষের তান্ডবে বিলুপ্ত হচ্ছে।এই ছাত্রসমাজ তথা যুব সমাজ তোমরা কি পারবে ফিরিয়ে আনতে যে মায়ের হূদয় ভেঙ্গে নদী থেকে জল বেরিয়ে গেছে সেই জলকে ফিরিয়ে আনতে,পারবে না।কিন্তু এটা করতে পারবে যে,ওই নদী থেকে যাতে জল না বের হয় তার জন‍্য মজবুত পাড় দিতে।আর যদি সেটাও না করতে পারি তাহলে আমাদের মতো অভাগা এই পৃথিবীতে জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মরণ ঢেড় ভালো।।

 

এখানে একটা ব‍্যাপার জলের মতো পরিষ্কার যে আজ ছাএসমাজ তথা যুব সমাজ যদি আগিয়ে না আসে।তাহলে এই দেশ একদিন হবে অসাধু মূর্খ‍্যদের সামরাজ‍্য‍।

আর সেদিন এই দেশে রক্তের হুলিখেলায় মেতে উঠবে সারা দেশ তথা স্বপ্নের মাতৃভূমি।চারিদিকে তাকালে দেখতে পাওয়া যাবে শুধুই বোমার ধোঁয়ায় সব সাদা ধোঁয়াসা।মন্দিরে পূজাদেবার লোক থাকবেনা,মসজিদে আজান দেবার ও লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।শুধুই দেখতে পাওয়া যাবে কতগুলো লাশ।আর দেখতে পাওয়া যাবে জীবন্ত অবস্থায় চোখের সম্মুখে জালিম অত‍্যাচারিত নীপিড়ীত সন্ত্রাসবাদ বোম মেসিন নিয়ে রক্ত চোসার জন‍্য ঘোরাঘুরি করছে।আর তখনই আমার মনে হয় ছাএসমাজ তথা যুবসমাজ এবং সমস্ত মানবজাতির মনে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠবে প্রতি ক্ষণে ক্ষণে।কিন্তু সবাই জেনে রাখো সেদিন আর এই বিদ্রোহের আগুন জ্বালাতে পারবেনা আর না পারবে বাইরে জ্বলতে থাকা আগনকে নেভাতে।আর সেদিন নিজে নিজের উপর ধিক্কার দিয়ে আত্মহত্যা করা ছাড়া পথ থাকবে না তোমার সম্মুখে।তাই সেদিন এই চরম পরিস্থিতির জন‍্য দ্বায়ি কারা তা হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছো।


তাই ছাত্রসমাজ তথা যুবসমাজের কাছে আমার বার্তাটা এমনটাই যে সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে লক্ষ রেখে এই সুন্দর সমাজের ভিতরে লুকিয়ে থাকা নোংরা আর্বজনা,কুসংস্কারাচ্ছন্নোকে দূর করতে নিজেদের মেলে ধরো।

২৮ আগস্ট ২০২১

মোহাম্মাদ আবুহোসেন সেখ


 

  স্বাধীনতা কি?


স্বপ্ন আমাদের পূর্বপুরুষেরা দেখেছিল তাই ১৯৪৭সালে ১৫ই আগষ্ট অনেক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ত্রনেছিলেন তারা স্বাধীনতা।স্বপ্ন অনেকাংশে পূরণ ও হয়েছিল।কিন্তু স্বপ্ন ভাঙার চর জাগেনি সর্বত্র।মুক্তি হয়নি কলমের ভাষার।বাংলা ভাষা মুক্তি পেলেও মুখের ভাষা,মনের ভাব প্রকাশে মানুষ পিছিয়ে পড়েছে।মানুষ কার্বনে ঢাকা যে কাগজে স্বাধীনতা কথাটি লিপিবদ্ধ করেছিল তার অনুরুপ কাগজে ধরা দেয়নি। ধরা দিয়েছে শুধু মানুষের মুখে।ধরা দিয়েছে শুধু মানুষের ইচ্ছায়।মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে।সার্বভৌমত্ব পেয়েছে।তবে অর্থপূর্ন স্বাধীনতা পায়নি।আমরা মুক্তির অর্থ বুঝেই মুক্তি চেয়েছিলাম।

তবে অর্থপূর্ন মুক্তি পায়নি।স্বাধীনতা শব্দের অর্থ যদি শুধু একটা পরিচয় হয়,তাহলে জাতির কাছে আমাদের নতুন কোনো প্রত‍্যাশা নেই।কিন্তু স্বাধীনতার স্বাদ বলতে যদি মানুষের মৌলিক চাহিদার অধিকার আদায়ের অর্থ হয়,তাহলে বলতে চাই ঘুষবিহীন চাকরি চাই,চাঁদা না দিয়ে শান্তিতে ব‍্যবসা করতে চাই।আমার যে রোগ হয়েছে শুধু সেই রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে চাই।শাহবাগে গলা উঁচিয়ে ক‍্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ পরাধীদের ফাঁসি চাই এবং ত্রকথা বলার পরও বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা চাই।যোগ‍্যতার বলেই চাকরি পেতে চাই।যোগ‍্যতার বলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাই।আমি আমার জমিতে ফলানো ফসলের ন‍্যায‍্য মজুরি চাই।আমি আমার মতো করে কথা বলতে চাই।

২৭ আগস্ট ২০২১

প্রেম ও কিছু কথা / সজিব আল হাসান



প্রেম ও কিছু কথা



                            প্রেম করতে কে না চায়। মনের মত মন খুঁজে সত্যিকারের প্রেম করা এক ধরণের শিল্প। যদিও প্রেম করলেও জ্বালা প্রেম না করলেও জ্বালা। মুখে বললেও প্রেমের মানে বুঝতে সারা জীবন লেগে যায়। তাই প্রেমের কোনও নিদিষ্ট বয়স হয় না। পদার্থ বিজ্ঞানে যা আকর্ষণ মানবিক বিদ্যায় তাই প্রেম। পদার্থ বিজ্ঞানে যা বিকর্ষণ মানবিক বিদ্যায় তাই ঘৃনা। আগের চেয়ে এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষ প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন অনেকে। আবার অহরহ সম্পর্ক ভেঙেও যাচ্ছে। প্রেম মানেই ভালবাসা, অবেগ ও মায়ার সম্পর্ক। প্রেম মানুষকে তার ভেতরের সুপ্ত বৃত্তিকে জাগিয়ে তোলে। সত্যি প্রেমের অনুভূতি অনেক আনন্দের।


প্রেম কাকে বলে

কোন ব্যক্তি বা জিনিসের উপর মায়া,

ভালোবাসা ও আসক্তি বেড়ে যাওয়াই হলো প্রেম। একজন নারী বা একজন পুরুষ তাদের আবেগের বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে যখন একে অপরকে জানার জন্য খুব কাছাকাছি আসে কোনো রকম শারীরিক সম্পর্ক ছাড়া, তখন তাকে প্রেম বলে। এক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের দুজনের মধ্যে একে অপরকে ছাড় দেবার মন মানসিকতা থাকতে হবে। সাইকোলজিস্ট রবার্ট স্টেনবার্গ প্রেমকে তিনটি উপাদানের মধ্যে ভাগ করেছেন। সেই উপাদানটিকে একটি ত্রিভুজের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করেছেন। তিনটি উপাদান হল- আবেগ অর্থাৎ সঙ্গীর প্রতি যৌন ও রোমান্টিক আকর্ষণ, অন্তরঙ্গতা হলো গভীর অনুভূতি এবং সহানুভূতি যা কিনা শুধুমাত্র সম্পর্ককে রক্ষা করাই নয়, তাকে সসম্মানে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

পৃথিবীর আদিকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত, মানব জন্মের ইতিহাস আর প্রেমের ইতিহাস একইসূত্রে গাঁথা। পৃথিবীর প্রথম নর-নারী আদম-হাওয়া পরস্পরের প্রেমে পড়েছিলেন। এ কারণে আল্লাহর নিষেধ অমান্য করে আদম তাঁর সঙ্গিনী হাওয়ার অনুরোধ রক্ষা করেছেন। এই ভালবাসা যেমন সত্য তেমন শাশ্বত। এছাড়া শ্রী রামচন্দ্রের পতিব্রতা স্ত্রী সীতার প্রেমে পড়েছিলেন রাবণ। এজন্য তিনি সীতাকে অপহরণ করে অশোক কাননে বন্দি রেখে দেহ মনে পাবার সমস্ত কলাকৌশল অবলম্বন করেছিলেন। রাবণের ভালবাসা ছিল একতরফা, তাই এই ভালবাসা আদম হাওয়ার মতো পবিত্র নয়। অপূর্ব সুন্দরী হেলেনের প্রেমে পড়েছিল গ্রিক পুরাণের প্রেমিক পুরুষ প্যারিস। হেলেন তখন রাজা মেনেলাসের স্ত্রী। তাই এই ভালবাসা তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থায় স্বীকৃত ছিল না। ফলে ধ্বংস হয়েছিল ট্রয় নগরী। একজন পুরুষ হয়ে পুরুষের প্রেমে পড়েছিলেন ইতিহাস বিখ্যাত বীর আলেক্সজান্ডার দ্য গ্রেট। এই প্রেম ছিল নিষিদ্ধ। আজও পৃথিবীর অধিকাংশ স্থানে তা স্বীকৃতি পায়নি। যা পাপ হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। প্রেম শব্দটি এক হলেও পৃথিবীতে তার বিস্তার ঘটেছে এমন নানামুখী সম্পর্কের ভেতর দিয়ে। এর মধ্যে কোনো কোনো সম্পর্ক যুগে যুগে মানুষ শ্রদ্ধাভরে গ্রহণ করেছে। আবার কোনো কোনো সম্পর্ক পাপাচার আখ্যায়িত করে প্রেমের পাত্র পাত্রীকে চড়িয়েছেন শূলে।

সাধারণত দুইজন বিবাহিত বা অবিবাহিত নারী পুরুষের মধ্যে যে প্রেম গড়ে ওঠে, পৃথিবীতে প্রায় সকল সমাজে এই প্রেমকে শাশ্বত এবং পবিত্র বলে ধরে নেওয়া হয়। পৃথিবীতে শুধু ভালোবেসে অমর হয়েছে এমন সাহিত্য পুরাণ ও বাস্তব জীবনের উল্লেখযোগ্য প্রেমিক জুটি হল – সাইকি-কিউপিড (গ্রিক); রাধা-কৃষ্ণ (ভারত উপমহাদেশ); লাইলী-মজনু (পারস্য); বেহুলা-লখিন্দর (বাংলাদেশ); প্যারিস-হেলেন (গ্রিক); রোমিও-জুলিয়েট (রোম); ওডিয়াস-পেনেলোপ (গ্রিক); পিরামাস-থিসবি (গ্রিক); পিগম্যালিয়ন-গ্যালাটিয়া (গ্রিক); দেবদাস-পার্বতী (ভারত); ভিক্টোরিয়া-আলবার্ট (ব্রিটেন) প্রমুখ।

আমরা জানি প্রেমে শরীর থাকবেই।

নারী ও পুরুষের মাঝে জৈবিক কারণে হলেও শরীর চলে আসে। কিন্তু প্লেটোনিক ভালবাসা হল শরীরবিহীন প্রেম। অর্থাৎ এই ভালবাসা শরীরী নয়, অশরীরী। এখানে দুই প্রেমিক এবং প্রেমিকার মাঝে কোনো যৌন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় না। এই শুদ্ধতম ভালোবাসায় কামনা বাসনার কোনো স্থান নেই। এ শব্দটির উৎপত্তি মূলত প্লেটোর ‘প্লেটোনিজম’ মতবাদ থেকে; যাতে বলা হয় এমন প্রকার ভালোবাসার কথা যেখানে প্রেমিক-প্রেমিকা ভালোবাসা ডিভাইনিটির দিকে উঠে যাবে। শরীর নামক বস্তুটি থাকবে অনুপস্থিত। এমন নিষ্কাম ভালবাসা, যে ভালবাসা রাজাধিরাজের মতো দু’হাত ভরে শুধু দিয়ে যায়, নেয় না কিছুই। বাস্তবে নারী পুরুষের মাঝে এমন প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হওয়া আদৌ সম্ভব কিনা, তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক আছে।


প্রেম ভালবাসার নির্দিষ্ট কোনো প্রকারভেদ নেই।তবে যে প্রকারভেদ গুলো উল্লেখ করলাম সেগুলো সাধারনত সংঘটিত হয়ে থাকে ।


১. প্রথম প্রেম: জীবনের প্রথম প্রেম সবার কাছেই স্মরনীয় হয়ে থাকে। প্রথম প্রেমের কোন নির্দিষ্ট বয়স নেই তবে অনেকের ক্ষেত্রেই খুব কম বয়সে প্রথম প্রেম এসে থাকে। প্রথম প্রেম বেশিরভাগ সময়ই আদতে প্রেম হয়না, সেটা হয়ে থাকে Infatuation। প্রথম প্রেম হতে পারে কোন বাল্য বন্ধু, হতে পারে গৃহশিক্ষক বা স্কুলের শিক্ষক বা শিক্ষিকা, হতে পারে বয়সে বড় কোন আপু, হতে পারে কোন ফিল্মের নায়ক বা নায়িকা, হতে পারে পাড়ার কোন হ্যান্ডসাম তরুনী বা বড়ভাই। কারো কারোক্ষেত্রে আবার জীবনের প্রথম প্রেমই একমাত্র প্রেম।


২. প্রথম দেখায় প্রেম/Love at First Site:প্রথম দেখাতেই এই ধরনের প্রেমের সূত্রপাত। এ ধরনের প্রেম অনেক ক্ষেত্রেই একতরফা হয়। ছেলেদের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রেম বেশি দেখা যায়। প্রথম দেখাটা হতে পারে কোন বিবাহ অনুষ্ঠানে, শপিং মল, কলেজ,ভার্সিটি, কোচিং সেন্টারে, স্যারের বাসায়, বন্ধু আড্ডায়। এমনকি বন্ধুর মোবাইলে ছবি দেখেও এ ধরনের প্রেমের শুরু হতে পারে। এ ধরনের প্রেমে প্রায় অবধারিতভাবেই তৃতীয় পক্ষের (বন্ধুকূল বা বড়ভাই) সাহায্যের দরকার পড়ে। এ ধরনের প্রেমের সূত্রপাতে রূপ সৌন্দর্য্য ও দৈহিক সৌন্দর্য্যের ভুমিকাই বেশি।


৩. বন্ধুত্ব থেকে প্রেম: এই ধরনের প্রেমের ক্ষেত্রে প্রেমিক ও প্রেমিকা দু’জনেই প্রথমে বন্ধু থাকে। আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব কালের বিবর্তনে প্রেমে রূপ নিতে থাকে,অনেক সময়ই দু’জনেরই অজান্তে। তবে আশেপাশের মানুষ (বিশেষত বন্ধুকূল) কিন্তু ঠিকই খেয়াল করে। দুঃখজনকভাবে এধরনের প্রেম অনেক সময়ই অকালে ঝরে যায় কোন একতরফা সিদ্ধান্ত বা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে। অনেকে বন্ধুত্বের এই রূপান্তর মেনে নিতে পারেনা বলে অনুশোচনায় ভোগে – বিশেষত মেয়েরা।


৪. একরাতের প্রেম/One Night Stand:এগুলোকে প্রেম বললে পাপ হবে। ৯০% ক্ষেত্রেই ছেলেরাই এ ধরনের প্রেমের আয়োজক। দৈহিক বাসনাকে পূর্ণতা প্রদান করাই এই প্রেমের প্রধান উদ্দেশ্য। উদ্দেশ্য পূরণের পূর্বে কিছু নাম মাত্র ডেটিং হতে পারে। উদ্দেশ্য পূরণের জনপ্রিয় স্থান: কোন হোটেল, খালি ফ্ল্যাট, সমুদ্রতীরবর্তী কোন শহর। এই ধরনের প্রেমের মূলমন্ত্র হলো: “আজকে না হয় ভালোবাসো, আর কোনোদিন নয়……..”


৫. বিবাহোত্তর প্রেম: এই প্রেম শুধুমাত্র স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে দেখা যায়। বিয়ের ঠিক পর পর প্রথম কয়েক মাস এই প্রেম প্রবল থাকে। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পূর্বপরিচিত নয় এমন দু’জনের মধ্যে এ্যারেন্ঞ্জ বিয়ে হলে এই ধরনের প্রেম প্রবল রূপে পরিলক্ষিত হয়। প্রেম করে বিয়ে হলে সেক্ষেত্রে বিবাহোত্তর প্রেমে ভাঁটা পড়ে বলে একটি মতবাদ প্রচলিত আছে, কবে এর সত্যতা পরীক্ষিত নয়। বিবাহোত্তর প্রেম ফলাতে হানিমুনের জুড়ি নেই।


৬. পরকীয়া প্রেম: বিয়ের পর স্বামী বা স্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন পুরুষ বা মহিলার সাথে প্রেমকেই পরকীয়া প্রেম বলে। পরকীয়া প্রেমের মূল কারনগুলো হলো:ক. সময়ের সাথে সংসার জীবনের প্রতি অনাগ্রহ বা তিক্ততা চলে আসা।খ. শারীরিক চাহিদা পূরণে স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি একঘেঁয়েমি চলে আসা।গ. শারীরিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর অক্ষমতা বা অপূর্ণতা।ঘ. নিতান্তই এ্যাডভেঞ্চার-প্রিয়তা, লুকিয়ে প্রেম করার স্বাদ অনুভব করা।  মহিলাদের মধ্যে পরকীয়া এদেশে এখনো ততোটা জনপ্রিয় নয় যতোটা পুরষদের মধ্যে। পুরুষদের পরকীয়া প্রেমের ক্ষেত্রে তৃতীয় ব্যাক্তিটি কম বয়সী কোন অল্প বয়সী মহিলা এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে যুবতীও হয়ে থাকেন। মহিলাদের ক্ষেত্রে তৃতীয় ব্যাক্তিটি সাধারণত কোন মধ্যবয়সী পুরুষ হয়ে থাকেন। ৩০-৪৮বছর বয়সীদের মধ্যে পরকীয়া প্রেম বহুলভাবে পরিলক্ষিত হয়।


৭. অপরিণত প্রেম/কম বয়সে প্রেম/না বুঝেই প্রেম: এ ধরনের প্রেম সাধারণত স্কুলে পড়ুয়া অবস্থায় হয়ে থাকে। মেয়েরাই এ ধরনের প্রেমে বেশি পড়ে। তবে ছেলেরাও পড়ে। প্রেমিক প্রেমিকাদের দু’জনই সমবয়সী হতে পারে। তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রেমিক তার চেয়ে বয়সে বড়ও হতে পারে। তবে এ ধরনেরপ্রেমের সাফল্যের হার কম – অর্থাৎ এ ধরনের প্রেম বিয়ে পর্যন্ত গড়ায় খুব কম ক্ষেত্রেই।


৮. কর্মক্ষেত্রে প্রেম: কর্মসূত্রে দু’জন মানুষের পরিচয়ের মাধ্যমে এ ধরনের প্রেম গড়ে ওঠে। উক্ত দু’জন হতে পারেন কোন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর দু’জন কর্মকর্তা অথবা কোন প্রজেক্টে পরস্পরের পার্টনার। অফিসে নতুন জয়েন করেছেন এমন কোন মেয়ের সাথে এরূপ প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের জন্য অফিসের পুরুষ কর্মকর্তাদের মাঝে তাগিদ দেখা যায়। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের প্রেম বেশি দেখা যায়।


৯. মোবাইল প্রেম: বন্ধুর কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে বা ফোনবুক থেকে চুরি করে, পাড়ার ফ্লেক্সির দোকান থেকে সংগ্রহ করে, অন্য কোন সুত্র থেকে নাস্বার পেয়ে বা নিতান্তই মনের মাধুরী মিশিয়ে কোন নাম্বার বানিয়ে তাতে ফোন করে কোন মেয়ের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এই ধরনের প্রেমের সূত্রপাত। অনেক সময় মোবাইলে এভাবে কথা বলে ছেলে মেয়ে পরস্পরের সাথে সামনাসামনি দেখা করে। এ ধরনের প্রেমের সফলতার হার খুবই কম। আসলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফলতা এ ধরনের প্রেমের মূল উদ্দেশ্য নয়।


১০. ইন্টারনেটে প্রেম: ইন্টারনেটে চ্যাটিংয়ে বা সোসিয়্যাল মিডিয়া সাইটে (যেমন – ফেইসবুক,মাইস্পেস) দু’জনের পরিচয়ের মধ্য দিয়ে এ ধরনের প্রেমের সূত্রপাত। অনেক ক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ের একজন বিদেশে অবস্থান করে। এভাবে পরিচয়ের পর ছেলে মেয়ে পরস্পরের সাথে সামনাসামনি দেখা করে। এ ধরনের প্রেমে উভয়পক্ষেরই ফাঁকি দেয়ার সুযোগ থাকে অনেক। অনেক সময়ই কোন ছেলে মেয়ে সেজে অন্য কোন ছেলের সাথে এমন সম্পর্ক চালিয়ে যায়। আর তাই অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের সম্পর্ক প্রতারণায় পরিণত হয়। পূর্বে এ ধরনের প্রেমের সাফল্যের হার বেশি থাকলেও বর্তমান সময়ে এসে সাফল্যের হার কম।


১১. ত্রিভূজ প্রেম: এ ধরনের প্রেমকে বলা যেতে পারে একজন মেয়েকে নিয়ে দু’জন ছেলের টাগ-অফ-ওয়ার বা দড়ি টানাটানি। একই মেয়ের প্রতি দু’জন ছেলেরভালোবাসা এই প্রেমের মূলকথা। উক্ত মেয়েকে পেতে দু’জন ছেলেই মরিয়া থাকে। ত্রিভূজ প্রেমের ক্ষেত্রে প্রায়শঃই মেয়েরা মানসিক দ্বন্দে ভোগে – কাকে পছন্দ করবে এই নিয়ে। অনেক সময়ই ছেলে দু’জনের মধ্যে প্রতিযোগিতা রূপ নেয় মারামরিতে। দু’জন মেয়ে আর একজন ছেলের মধ্যেও ত্রিভূজ প্রেম লক্ষিত হয়। তবে সেক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা মারামারিতে নয় বরং রূপ নেয় চুলোচুলিতে।


১২. বহুভূজ প্রেম/Multi প্রেম: একই মেয়ে বা ছেলের প্রতি ২ এর অধিক ব্যাক্তির অনুরাগই মূলতঃ বহুভূজ প্রেম। এক্ষেত্রে উক্ত মেয়ে বা ছেলেটি স্বভাবতই দৃষ্টিকাড়া সৌন্দর্য্যের অধিকারী হয়ে থাকেন। সবাই তার সাথে প্রেম করতে চায় এই বিষয়টি তাকে ব্যাপক আনন্দ দেয়।


১৩. অসমবয়সী প্রেম: এ ধরনের প্রেমের বৈশিষ্ট্য প্রেমিক ও প্রেমিকার মধ্যে বয়সের উল্লেখযোগ্য ব্যবধান। যদিও মেয়ের চাইতে ছেলে কয়েক বছর বড় হলেও তা স্বাভাবিক প্রেম হিসেবে ধরা হয়, তথাপি, যদি পার্থক্য খুব বেশি হয় – যেমন ১২ বছর তবে তা অসমবয়সী প্রেম হিসেবে ধরা হয়। মজার ব্যাপার হলো ছেলের চাইতে মেয়ে এক বছরের বড় হলেও তা অসমবয়সী প্রেম হয়ে হিসেবে ধরা হয়। অসমবয়সী প্রেমকে এ সমাজে বাঁকা চোখে দেখা হয়, বিশেষত যদি মেয়ে ছেলের চাইতে বয়সে বড় হয়। অসমবয়সী প্রেম বিয়েতে রূপ নিলে দাম্পত্য জীবন শান্তিপূর্ণ হয় না বলে একটি মতবাদ এদেষে প্রচলিত আছে, কিন্তু এর কোনসত্যতা পাওয়া যায়নি।


১৪. শারীরিক প্রেম/শরীর সর্বস্ব প্রেম: প্রেমিক ও প্রেমিকার মধ্যে শরীরি আকর্ষণই এই প্রেমের মূল উপাদান। আবেগ ততোটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।


১৫. দুধের মাছি প্রেম/অর্থসর্বস্ব প্রেম: “যতোদিন টাকা আছে, ততোদিন সম্পর্ক” – অনেকটা এই নীতির বলে এই ধরনের প্রেম গড়ে ওঠে। অবশ্যই ছেলেরাইটাকা ব্যয় করে থাকে এসব ক্ষেত্রে। ধনীর ঘরের ছেলেদের পক্ষে এই ধরনের সম্পর্ক বেশিদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়। তবে মোটামুটি আয়ের ছেলেরা খরচেরঠেলায় অল্পদিনেই হাঁপিয়ে ওঠে, সম্পর্কও আর বেশিদিন থাকেনা। তখন ঐসব মেয়েরা অন্য ছেলের খোঁজে বেরোয়।


১৬. ঈর্ষাণ্বিত প্রেম: “অমুক ছেলে প্রেম করে, আমাকেও করতে হবে” বা “অমুকের বয়ফ্রেন্ড আছে,আমারো চাই” – অনেকটা এমনতর মানসিকতা থেকে এসব প্রেমের সূত্রপাত। এ ধরনের প্রেমগুলো অনেক সময়ই সাময়িক হয়ে থাকে। অধিকাংশ সময়ইবয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড মনের মতো না হলেও প্রয়োজনের তাগিদে সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া হয়।


১৭. জেদের বশে প্রেম: পূর্ববর্তী বা বর্তমান বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডকে অনেকটা দেখিয়ে দেয়ার (“তুমি ছাড়াও আমার প্রেম করার লোকের অভাব নেই…….”) উদ্দেশ্যে যাকে সামনে পাওয়া যাবে ধরে তার সাথে প্রেম করাই এ ধরনের প্রেমের মূল লক্ষ্য। মনের মতো লোক পাওয়ার বিষয়টি এখানে নগণ্য।


১৮. চড়িয়ে খাওয়া প্রেম/গাধাখাটুনি প্রেম/ঘানি টানা প্রেম: প্রেমিক বা প্রেমিকার কাছ থেকে কোন বিশেষ সুবিধা লাভই এ ধরনের প্রেমের উদ্দেশ্য।ক্লাসের ভালো রেজাল্ট করা মেধাবী ছাত্রটি এ ক্ষেত্রে জনপ্রিয় শিকার হিসেবে পরিগণিত হয়। মেয়েদের মধ্যে এ ধরনের প্রেমের প্রচলণ বেশি দেখা গেলেওছেলেদেরকেও মাঝে মাঝে করতে দেখা যায়।


১৯. অব্যক্ত প্রেম/না বলা প্রেম: নীরবে এক অপরকে ভালোবেসে গেলেও পরিস্থিতি, সময় বা মনোবলের অভাবে প্রেমিক বা প্রেমিকার মধ্যে কেউই একে অপরকে কোনোদিন বলেনি। অব্যক্ত প্রেম হারানোর বেদনা খুব কষ্টদায়ক, জীবনের অন্যতম বড় ভুল হিসেবে মনে থাকে।


২০. সুপ্ত প্রেম: একে অপরকে ভালোবাসে কিন্তু কেউই কাউকে বলছে না, পুরো ব্যাপারটাই লুকিয়ে যাচ্ছে এমন প্রেমই সুপ্ত প্রেম। সুপ্ত প্রেম আজীবন সুপ্ত থেকে গেলে তা পরিণত হয় অব্যক্ত প্রেমে।


২১. চুক্তিবদ্ধ প্রেম: এ ধরনের প্রেম হয় পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে। সাধারণ অর্থে প্রেম বলতে যা বোঝায় তা এই ধরনের প্রেমে অনুপস্থিত থাকে। কোনভবিষ্যৎ থাকেনা এসব সম্পর্কের। মূল উদ্দেশ্য হলো কোন বিশেষ গোষ্ঠীকে নিজেদের মধ্যে প্রেম দেখিয়ে কোন বিশেষ স্বার্থ চরিতার্থকরণ। শোবিজ ও মিডিয়ার তারকাদের মধ্যে এ ধরনের প্রেম বেশি দেখা যায়।


২২. মিথ্যে প্রেম/অভিনয় প্রেম: এ ধরনের প্রেমে প্রেমিক বা প্রেমিকার দু’জনের যেকোন একজন প্রেমের অভিনয় করে যায়। যখন প্রেমিক বা প্রেমিকার কেউ একজন ভবিষ্যতের কথা ভাবতে আরম্ভ করে তখন এই প্রেমের সমাপ্তি ঘটে। এ ধরনের প্রেমের পরিণতিও যেকোন একজনের জন্য খুবই কষ্টদায়ক।


২৩. ২য় ইনিংস প্রেম/Old is Goldপ্রেম/Revived প্রেম: পূর্ববর্তী বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডের সাথে পুনরায় জুড়ে গিয়ে এই প্রেম করা হয়।


২৪. ব্ল্যাকমেইল প্রেম/অনিচ্ছাপূর্বক প্রেম/জোড় খাটানো প্রেম: এটাকেও প্রেম বললে পাপ হবে। জোড়পূর্বক এসব প্রেম করা হয়ে থাকে। এর শিকার হয়ে থাকে মেয়েরাই। পাড়ার বখাটে ছেলে বা বড় ভাই, কলেজের বখাটে ছাত্র, কর্মক্ষেত্রে উপরস্থ কর্মকর্তা বা বস প্রধানত এরাই এ ধরনের সম্পর্ক স্থাপন করতে আগ্রহী হন।


২৫. গায়ে পড়ে প্রেম/নাছোড়বান্দা প্রেম: মেয়ে কোন সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী নয় তবুও ছেলে জোড় চেষ্টা চালিয়ে যায় এমন প্রেমে। অনেক সময়ই এমনপরিস্থিতিতে মেয়েরা সরাসরি না বলতে পারে না যার মাশুল তাদেরকে পরে দিতে হয়।


২৬. বিদেশী প্রেম/পরবাসী প্রেম: এ ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ের মধ্যে অন্ততঃ একজন বিদেশী হয়।


২৭. অসাম্প্রদায়িক প্রেম: এ ধরনের প্রেমের ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে দু’জনে দুই ধর্ম বা সম্প্রদায়ের অনুসারী হয়ে থাকে। সমাজ এ ধরনের সম্পর্ককে সমর্থন করেনা। বিশেষতঃ হিন্দু-মুসলমান ছেলে-মেয়ের মধ্যে প্রেম বেশি বিতর্কের সৃষ্টি করে।


২৮. চাঞ্চল্যকর প্রেম/আলোচিত প্রেম: এ ধরনের প্রেমে প্রেমিক ও প্রেমিকা যাই করেন না কন তা মিডিয়ায় চাঞ্চল্যকর তথ্য হিসেবে প্রচার করা হয়। সাধারণত শো-বিজ আর মিডিয়ার তারকা ও সেলিব্রেটিরা এ ধরনের প্রেম করে থাকেন।


২৯. ঐতিহাসিক প্রেম: এইসব প্রেমের কাহিনীর অবসান ঘটেছে অনেক আগেই কিন্তু আজো রয়ে গেছে ইতিহাসের পাতায়। এখনো এসব প্রেমকে উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়।


৩০. ভাড়াটে প্রেম/ভ্রাম্যমাণ প্রেম/Roamingপ্রেম: এ ধরনের প্রেমের প্রেমিক বা প্রেমিকারা বলতে গেলে ভাড়া খাটে। তারা সকালে একজনের গার্লফ্রেন্ড তো বিকেলে আরেকজনের। কোন নির্দিষ্ট ঠিক ঠিকানা নেই। ব্যাপারটা অনেকটা মাসে মাসে মোবাইল হ্যান্ডসেট চেন্ঞ্জ করার মতো।


৩১. প্রেমময় প্রেম: এই প্রেমে প্রেমিক আর প্রেমিকা দু’জনেই একজন আরেকজনের দিকে প্রেমময় ভঙ্গিতে ঘন্টার পর ঘন্টা তাকিয়ে থাকেন, হাত ধরে বসে থাকেনকোন রেস্টুরেন্টের অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশে, সারাক্ষণ I Love You বলে আর শুনেও ক্লান্তি আসে না তাদের। সারাদিন প্রেমের পর মোবাইলে ১২টার পরও কম জান না তারা।


৩২. ঝগড়াটে প্রেম: সারাক্ষণ দু’জনের মধ্যে খিটির-পিটির লেগে থাকাটা এই প্রেমের বৈশিষ্ট্য। কিছুক্ষণ হয়তো দু’জনে শান্ত থাকে, তারপর আবার কিছু নাকিছু একটা নিয়ে একজন শুরু হয়ে যায়। এ ধরনের প্রেমে ঝগড়াগুলো ক্ষণস্থায়ী হয়, কিন্তু খুব ঘনঘন হয়। ঝগড়াগুলো অধিকাংশই হয় ফোনে। বন্ধুকূল সর্বদা দু’জনের ঝগড়া মিটাতে ব্যস্ত থাকে। মেয়ে তার সখীদের কাছে এই ঘনঘন ঝগড়ার কথা বলে বেড়ায়।


৩৩. সমলিঙ্গীয় প্রেম: আমাদের দেশে এখনো খুব একটা প্রচলিত না হলেও বাইরের অনেক দেশেই এই ধরনের প্রেমের প্রচলণ আছে। দু’জন ছেলের মধ্যে হলে তাদেরকে Gay বলে আর দু’জন মেয়ের মধ্যে হলে Lesbian।


৩৪. অমিল প্রেম/দুনিয়াছাড়া প্রেম: এই প্রেমে প্রেমিক ও প্রেমিকার মধ্যে কথাবার্তা, মত, পছন্দ,অপছন্দ কোন দিক দিয়েই কোন মিল থাকেনা, তারপরও কিভাবে যেন সম্পর্ক টিকে থাকে।


৩৫. ‘আজো তোমায় ভালোবাসি’ প্রেম: এই প্রেমে প্রেমিক-প্রেমিকার বিচ্ছেদ ঘটেছে আগেই। তবুও আজো তারা একে অপরকে ভালোবাসেন। নীরবে চেয়ে যান সেই মানুষটির সঙ্গ যার সাথে একসঙ্গে জীবন কাটাতে পরিস্থিতিই ছিলো একমাত্র ও সবচেয়ে বড় বাধা।


৩৬. ব্যর্থ প্রেম: এবং সবশেষে আছে ব্যর্থ প্রেম। এ প্রেম শুরু হবার আগেই শেষ হয়ে যায়। ব্যর্থ প্রেমিকার চাইতে ব্যর্থ প্রেমিকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। ব্যর্থ প্রেমের শেষটা হয় প্রস্তাব প্রত্যাখান দিয়ে। কখনো কখনো ছেলেদের ভাগ্যে জোটে থাপ্পড়, মেয়েদের জুতার বাড়ি আর কখনো কখনো গণধোলাই। অনেক সময়ই ব্যর্থ প্রেমের পরিণতি হয় করুন। কেউ দেবদাস হয়ে যায়, কেউবা মেয়েদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে ও “দুনিয়ার সব মেয়ে এক” এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। দুর্বল মানসিকতার কেউ কেউ আত্মহননের পথও বেছে নেয়।

২৬ আগস্ট ২০২১

স্ত্রী কি শুধুই একজন স্ত্রী,




স্ত্রী কি শুধুই একজন স্ত্রী

( প্রবন্ধ )  মোঃ হা‌বিবুর রহমান



এ যেন এক অপূর্ব লীলা‌খেলা সৃ‌ষ্টিকর্তার। কোথাকার এক ছে‌লে আর কোথাকার এক মে‌য়ে জোড়া দি‌য়ে গ‌ড়ে‌ছে সংসার। হ‌'য়ে গে‌ছে যেন দুজ‌নে দুজনার। এ সম্পর্ক বা বন্ধন স‌ত্যিই মধুর ও স্বর্গীয়ও ব‌টে।


পশু পা‌খি‌দের সংসার আনুষ্ঠা‌নিকভা‌বে খুব একটা দৃশ্যমান না হ‌লেও কিন্তু সৃ‌ষ্টির সেরা জীব না‌মে খ্যাত মানু‌ষদের স্বামী-স্ত্রীদের ম‌ধ্যে এই সম্পর্ক বা স্বর্গীয় বন্ধনটি সারা বি‌শ্বেই ‌কিন্তু কম‌বেশী চালু বা বিদ্যমান আ‌ছে।


আল্লাহ্পা‌কের কি এক অপূর্ব ম‌হিমায় এই বন্ধন‌টি টি‌কে থা‌কে একটানা বছ‌রের পর বছর, যু‌গের পর যুগ এমন‌কি আজীবন ও একদম আমৃত্যু পর্যন্ত। ‌


কি যেন এক অদ্ভূত আর অভূতপূর্ব এক মায়া আর মো‌হে দু‌টি ভিন্ন আর বিপরীত লি‌ঙ্গের স্বত্মা‌ধিকারী মানব-মানবী জু‌টি ক‌'রে ঘর বেঁধে সুন্দর সংসার সাজায়।


আর অতঃপর তা‌দের উভ‌য়ের রক্ত দ্বারা সন্তান-সন্তানা‌দি ক‌লিজার টুকরার মত অ‌তি আদ‌রের পরম ধন জন্ম গ্রহ‌ণের পরপরই তা‌দের সম্প‌র্কের সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় থে‌কে দৃঢ়তর হ‌য়। সৃ‌ষ্টিকর্তার এই দেওয়া বিধান স‌ত্যিই অপূর্ব! 


অথচ, প‌রের ঘ‌রের মে‌য়ে এ‌সে‌ছে সম্পূর্ণ অ‌চেনা এক ঘ‌রের প‌রের ছে‌লের সা‌থে মা‌নিক জোড় সৃ‌ষ্টির ল‌ক্ষ্যে। তাই এই বি‌য়ে নামক সামা‌জিক স্বীকৃ‌তি‌টি দু‌টি ঘ‌রের প‌র ও অ‌চেনা দু‌টি ছে‌লে আর মে‌য়ে একাত্ম হ‌'য়ে সৃ‌ষ্টি ক‌রে‌ছে যেন মহাআপ‌নের এক অদ্ভূত দৃষ্টান্ত।


একদম পর ও দুজন অ‌চেনা মানব-মানবীর আপ‌নজ‌নে প‌রিণত হবার এ যেন স্রষ্টার দেওয়া বিশ্বজনীন এক মহাকৌশল। স্বামী ও স্ত্রীর র‌ক্তের ভাগাভা‌গি‌তে ক‌লিজার টুকরো সন্তা‌নের জ‌ন্ম লা‌ভের পর থে‌কেই যেন তাদের দুআত্মা একাত্মায় রূপ নেয়। 


প্র‌তি‌টি সুখ, প্র‌তি‌টি দুঃখ ও বেদনা ‌যেন সমানভা‌বে উপ‌ভোগ কিংবা সহ্য ক‌রে দুজ‌নেই একই উপল‌ব্ধি নি‌য়ে। 


এ‌যেন বিধাতার এক অ‌মোঘ অ‌ভিপ্রায় যা বু‌ঝি বাস্ত‌বে কার্যকরী করা হয় অ‌চেনা দুই প‌রের ঘর থে‌কে আসা দুই মানব-মানবীর ম‌ধ্যে বি‌য়ে নামক প্রচ‌লিত সামা‌জিক ও ধর্মীয় রী‌তিনী‌তি অনুযায়ী চু‌ক্তির মাধ্য‌মে। 


পর পরই এ কথা‌টি য‌থেষ্ট সত্য কিন্তু এটাও সত্য যে স্বামী-স্ত্রীর ম‌ধ্যে বিবাহ বন্ধ‌নের পর এই থি‌য়ো‌রি‌টি কেন যেন একদমই অ‌কে‌জো হ‌য়ে যায় কিংবা কোন কোন ক্ষে‌ত্রে কেন যেন এ‌কেবা‌রেই দূর্বল আর ফি‌কে হ‌'য়ে যায়। 


সন্তান-সন্তানা‌দির জনক জননী হবার পর প্রকৃ‌তির অ‌মোঘ নিয়‌মেই তারা স্বামী-স্ত্রী দুজ‌নেই‌ যেন অ‌চেনা দু‌টি পৃথক প‌রিবার থে‌কে আসা স‌ত্বেও এক‌বারে পর থে‌‌কে পরমাত্মীয়‌তে প‌রিণত হ‌য়ে যায়। আর তখনই বু‌ঝি স্ত্রী আর পর থা‌কে না, হ‌য়ে যায় একবা‌রে রক্তীয় বা অ‌তি আপন স্বজন। 


প্রকৃ‌তির নিয়‌মেই একটা প‌রিবা‌রের সব মে‌য়েরা চ‌লে‌ যায় প‌রের ঘ‌রে, ছে‌লেরা বি‌য়ে ক‌রে প‌রের সংসার থে‌কে বউ নি‌য়ে আ‌সে আর বা‌ড়ির কর্তা, গৃ‌হিণী, বাপ ও মা তো এক সময় ব‌য়োঃবৃদ্ধ হ'য়ে হাপানী কাশানী‌তে প‌ড়ে। তাই ছে‌লেরা স্বভাবতই নি‌জের স্ত্রী-সন্তানা‌দি নি‌য়ে বহলত‌বিব‌তে পু‌রোদ‌মেই সংসার শুরু ক‌রে।


আর তখ‌নই বু‌ঝি প‌রের ঘ‌রের মে‌য়ে‌টি প‌রিবা‌রের কত্রী হ‌'য়ে সংসা‌রের হাল ধ‌রে। এই এক‌টি জাগায় অ‌ন্য প‌রিবার থে‌কে আসা প‌রের মে‌য়ে‌টি আর ‌মো‌টেই আর পর থা‌কেনা বরং হ‌'য়ে যায় আপ‌নের চে‌য়েও আপন। 


তা‌কে ছাড়া স্বামী ‌বেচারা কোন সিদ্ধান্ত নেবার মান‌সিক সাহসও পায়না। যৌথ প‌রিবার হ‌'লে তো বা‌ড়ির বৌ‌টিই শ্বশুর-শ্বাশুড়ী থে‌কে শুরু ক‌'রে পুরো প‌রিবা‌রের সবার উপরই কর্তৃত্ব কর‌তে থা‌কে আর এটা তখন সম‌য়ের দাবী হি‌সে‌বেই চরমভা‌বে অনুভূত হয়।


পৃ‌থিবীর সব‌চে‌য়ে সুন্দর সম্পর্ক হ‌লো স্বামী স্ত্রীর মধুর দাম্পত্য সম্পর্ক। আর এই সম্পর্ক গ‌ড়ে উঠার একটাই কারণ হ‌লো-স্বয়ং‌ক্রিয়ভা‌বে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা গ‌ড়ে উ‌ঠে আপ‌নের চে‌য়ে আপন। স্বামী য‌দি ই‌জ্ঞিন হয় তাহ‌লে স্ত্রী অবশ্যই হ‌বে ঐ গা‌ড়ির চে‌সিস। 


এখা‌নে গা‌ড়ি‌টি একটা সংসা‌রের রূপক অ‌র্থে ব্যবহৃত হ‌য়ে‌ছে। সুতরাং, সব কথার মোদ্দা কথা হ‌লো স্ত্রী প‌রের ঘ‌রের একজন মে‌য়ে হ‌লেও সে আস‌লে পর নয়, বরং সে পরমাত্মীয় ও অ‌তি নিকটজন। 


আর এজন‌্যই হয়তবা স্ত্রী‌কে অর্ধাঙ্গিনী হি‌সে‌বে আখ‌্যা‌য়িত করা হ‌য়ে‌ছে।

২০ আগস্ট ২০২১

Where can I will publishe my won poetry or writing content .

Where can I will publishe my won poetry or writing content .

আমি কোথায় আমার নিজের লেখা কবিতা ও অন্য কোন লেখা প্রকাশ করতে পারবো ।

আলোদেব্





প্রতিটি লেখক তার লেখা প্রকাশের জন্য এখন আর আগের মতো তাঁকে অপেক্ষা বা সময় অথবা অর্থ ব্যয় করতে হয় না। আগেকার সময় এমন কি বলা যায় ২০১৫ সালেও লেখকদের লেখা পাঠানোর পদ্ধতি ছিল বাই পোস্ট বা হ্যান্ড টু হ্যান্ড। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ধারা। তার মূল কারন হলো টেকনলজি । এখন মানুষ প্রিন্ট মিডিয়াতে সেভাবে গুরুত্ব না দিয়ে তাঁদের প্রভাব অনেক বেশি মাত্রায় পরছে সোশ্যাল মিডিয়ায় । তার কারণ গুলি হলো। প্রিন্ট মিডিয়ায় কত জন পড়ল বা পড়বার পর বহিপ্রকাশ কি তা অনেক ক্ষেত্রেই বোঝা যায়না । কিন্তু সোশ্যাল যেকোনো সাইডেই লেখক তাঁর পাঠকদের কথা বা মন্তব্য পেয়ে থাকেন। এতে খুশি অনেক বেশি। সহজেই সেই সাইডে গিয়ে দেখে নিতে পারেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় লেখকদের লেখার ভিউস অনেক কম তাই বলে এই নয় যে কোন দিন ভিউস বাড়বে না। হতাশ হবার কিছু নেই । দ্বিতীয় , যখন খুশি লেখা পাঠানো যায় । তার সময় বা মাপ কাঠি নেই। তৃতীয় , প্রায় প্রতিদিনই লেখা প্রকাশের সুযোগ, চতুর্থ , একটা সুনির্দিষ্ট পাঠকদের উল্লাস। পঞ্চম , পাঠক ও লেখকের সঙ্গে সারাসরি যোগাযোগ এবং লেখালেখি বিষয় নিয়ে মানবিক বহিপ্রকাশ । ষষ্ট , লেখার অনেক পরিধি । সপ্তম , অতি সহজেই খুঁজে পাওয়া যায় । অষ্টম , লেখকের লেখার প্রতি আগ্রহ অধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়া সম্ভব। নবম, অনেক বেশি লেখক সেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এক সঙ্গে লেখার সুযোগ থাকে। দশম, নতুনদের লেখা প্রকাশের অনেক বেশি সুযোগ ইত্যাদি । সোশ্যাল মিডিয়াতে লেখা চুরি হবার বিষয় ও অনেক বেশি ক্ষেত্রে দেখা যায় । এছাড়াও এর ভয় ও অনেক গুণ বেশি কারণ কখন তরঙ্গ তার গতি হারাবে কেও জানে না। তাহলেই কোটি কোটি মানুষ এমন কি নির্ভরশীল কোম্পানি গুলো ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে নিমিষে। তবে প্রিন্ট মিডিয়া এদিক থেকে অনেকগুণ সেফটি। এবং যতই সোশ্যাল মিডিয়া আসুক না কেন প্রিন্ট মিডিয়ার কদর কখনোই কমবে না। এ ক্ষেত্রে লেখকরা ভেবে চিনতে লেখা প্রকাশ করবার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন । কোনটা সোশ্যাল ও কোনটা প্রিন্টে দেব । তবে এখন আপনাদের লেখা প্রকাশের স্থান অনেক বেশি। অনেক অনেক পোটাল ম্যাগাজিন ব্লগজিন রয়েছে যে গুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে আপনার লেখা আপনি প্রকাশ করতে পারবেন । নিচে তার কয়েকটি লিঙ্ক দেওয়া হলো যেখানে সারাসরি লেখা পাঠিয়ে আপনি লেখা প্রকাশ করতে পারবেন । 

যেমন - 

 https://swopnosiri.blogspot.com/?m=1 http://www.jaladarchi.com/2021/08/views-of-sri-aurobindo-on-education-prasun-kanjilal.html https://m.dailyhunt.in/news/india/english https://vimeo.com/159811915 https://writers.com/best-places-submit-poetry-online https://www.dreamerswriting.com/dreamers-magazine/ https://www.desh.co.in/ https://www.desh.co.in/ http://www.shabdaguchha.com/ http://www.kaurab.com/english/

০৮ আগস্ট ২০২১

মোঃ হা‌বিবুর রহমান 




 অব‌শে‌ষে ক‌বিতা লি‌খে ফেললাম 



 একটা ক‌বিতা লিখ‌বো লিখ‌বো ক‌রে অব‌শে‌ষে লিখেই ফেললাম, যে ক‌বিতায় আ‌ছে সুজলা, সুফলা, শস‌্য শ‌্যামলা বাংলা মা‌য়ের কথা। অা‌ছে ষড়ঋত‌ু-গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বস‌ন্তের কথা। বহতা পদ্মা, মেঘনা, যমুনা আর আত্রাই‌য়ের কথাও বাদ যায়‌নি যেথা। আ‌ছে সব মুঘল, নবাব আর ইং‌রেজ আম‌লের একচ্ছত্র শাসনামলের কথা, সাতচ‌ল্লিশে অ‌র্জিত কা‌ঙ্খিত স্বাধীনতা আর একাত্ত‌রের মহান স্বাধীনতা যু‌দ্ধের কথাও আ‌ছে সেথা। বায়ান্নর ভাষা আ‌ন্দোলনের বীর শহীদ সালাম, বরকত ও জব্বার সহ সংশ্লিষ্টদের কথাও আ‌ছে সেথা। ঠাঁই পে‌য়ে‌ছে সেথা নজরুল, রবীন্দ্রনাথের মত বিশ্ববরণ‌্য সব খ‌্যাতনামা ক‌বিদের কথা, দে‌শ মাতৃকার ত‌রে শহীদ হ‌য়ে‌ছেন যারা অকু‌তোভয় সেই বীর মু‌ক্তি‌যোদ্ধা-সেনানী‌দের কথা। আ‌ছে ত্রিশ ল‌ক্ষ বাঙ্গালীর জীবনের বি‌নিম‌য়ে অ‌র্জিত লাল সবু‌জের পতাকার কথা। আরও আ‌ছে মহান নেতা 'বঙ্গবন্ধুর' কথা-যাঁর ডা‌কে যু‌দ্ধে ঝাঁ‌পি‌য়ে প‌ড়ে‌ছি‌লো যারা, এনেছি‌লো ছি‌নি‌য়ে সে‌দিন মহান স্বাধীনতা, বাংলা মা‌য়ের সাহসী দামাল সূর্যসন্তা‌নেরা। ক‌বিতা লিখ‌বো লিখ‌বো ক‌রে অব‌শে‌ষে একটা ক‌বিতা কিন্তু লি‌খেই ফেললাম।

১৩ এপ্রিল ২০২১

শুভ্র ব্যানার্জি




 জট

সকালে ঘুম ভাঙলেই আপনার মনে পড়বে  একটা জাঁদরেল জট যা আপনি পাকিয়ে ফেলেছেন জীবনের সুতোয় তা আবার ছাড়াতে বসতে হবে।যদিও আগের দিনও ছাড়াচ্ছিলেন।আগামীতেও ছাড়াবেন।তার মানে 'যাচ্ছে দিন'।

না!তেমন যাচ্ছেতাই দিন আপনার নয় এবং সত্যি সত্যি দীন তো আপনি নন।তাই পরোক্ষ 

প্রচুর অসুবিধে থাকলেও 'বেলা হবে'।বেলা হলে রোদ উঠবে।বিকেলও হবে আবার রাত।

আবার কিছুক্ষণ স্বপ্নের জটলা।

একে তো চৈত্র মাস দারুণ এ সময়

 লেগেছে বিষম ভোট কী জানি কী হয়।

কালকে এক পার্টির অভিনেতা নেতার ভূমিকা পেয়ে পাড়া বেড়াতে এসেছিলেন।মুখে মিষ্টি হাসি।কী সুন্দর চেহারা।লাল টুকটুকে, সর্বহারার ব্যথা নির্ঘাত বোঝেন।

আজ আবার পাশের পার্কে ফুল ভলিউমে মাইক বাজছে।না সিনেমার গান না।সকলে কেন অত্যন্ত সুখে আছি সেই কথা মনে করিয়ে দেবার গান।আশ্চর্য নিম্নমানের লেখা ও সুর।তেমনই গায়কের কণ্ঠস্বর।মাঝে মাঝে বন্দেমাতরম পাঞ্চ করা আছে লিরিকের যেখানে সেখানে।

আমার যে কী আনন্দ হচ্ছে কী বলব।আকাশে বাতাসে আনন্দ থৈ থৈ করছে।


করোনার লকডাউনে মানুষের স্বার্থে পুলিশ মাস্ক ছাড়া লোক দেখলেই কেলিয়ে বৃন্দাবন দেখাত।এখন করোনা নাই?নো মাস্ক। সব ঠিক হয়ে গেছে।ভোট কত বড় বালাই।লার্জার দ্যান লাইফ।আমি কে?মরি বাঁচি কার কী এসে গেল?লোক না পোক!ঠাকুর বলেছেন।

করোনা হোক আর ভোট হোক।জন্ম মৃত্যু তো লেগেই আছে।ওসব বিধাতার কোর্টের বল।

'মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক আমি ভোটার'।যাহ!মিলল না।মিলল না মিলল তোদের .....তো ছিঁড়ল।

এতো সবের মধ্যে মজাটি হলো এই আকালেও দু একজন জুটে যাওয়া যারা জট খুলতে আপনার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।আপনার সন্তান ওই ছুট্টে এসে গলা জড়িয়ে একবার বাবা বলে ডেকে উঠল।

ঠিক মনে হবেই -কোথায় 'বেলা হবে' আর 'যাচ্ছে দিন'।আহা জীবন এসবের অনেক উর্দ্ধে রে পাগলা।চশমা নাকে লাগা,জট খুলতে বোস।

এক কাপ রেড লেভেলের ন্যাচেরাল কিওর চা বানাও রাখী,আমি ব্রাশ করে আসছি।


গদ্য 

মোঃ হা‌বিবুর রহমান




জীবন‌বোধ



জীবন তো বু‌ঝি এভা‌বেই অনা‌দিকাল পর্যন্ত বহমান থাক‌বে একেবা‌রে মহাপ্রলয়ংক‌রের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত। কখনও মে‌ঘে ঢে‌কে যা‌বে আবার সূ‌র্যের রোদ এ‌সে তা‌কে ক্ষে‌দিয়ে পদ্মা পার ক'র‌বে আবার হয়ত বা কোন দিন মেঘ ও রোদ দু'‌টোর যে‌কোন একটার প্রতাপ বা রাজত্ব দীর্ঘক্ষণ যাবৎ আকা‌শে দৃশ্যমান থাক‌বে। 


        জীব‌নের স্বল্পকালীন জমা মেঘগু‌লো স‌রে গে‌লেই হয়তবা জীব‌নের আকাশটা নীল হ‌য়ে পূ‌র্বের মত আ‌বিভূর্ত হ‌বে, শুভ্র রঙ্গীন আ‌লোয় যেন জীব‌নের দিগন্ত‌টি উদ্ভা‌সিত হ‌বে আর আমার-আপনার জীব‌নের সকল কর্মকান্ডগু‌লোও এ‌কেবা‌রে স্বাভা‌বিক হ‌'য়ে আস‌বে ধী‌রে ধী‌রে।


            আর এছাড়া জীব‌নের মেঘ য‌দি দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হয় কিংবা এ‌কেবা‌রে নাইবা কা‌টে, কোন অসু‌বিধা তো হবার কথা নয়। যে‌হেতু, এই কষ্টগু‌লোর কশাঘা‌ত জীব‌নের বি‌ভিন্ন প‌রিস‌‌রে খে‌তে খে‌তে তা একপ্রকার যেন সহনীয় এক পর্যা‌য়ে এ‌সে আজ দাঁ‌ড়ি‌য়ে‌ছে।

                    

                বড় বড় কষ্ট, দুঃখ আর বেদনা সহ্য ক'র‌তে ক'র‌তে সেগু‌লো যেন আজ ন‌স্যির মত হ'য়ে গে‌ছে। আর যে বেপ‌রোয়া চ‌লে আর একলা চলা যার বহু আ‌গে থেকেই অভ্যেস গ‌ড়ে উ‌ঠে‌ছে তার কা‌ছে তো এটা কোন ক‌ষ্টের বিষয়ই নয় বরং তার কা‌ছে থোড়াই কেয়ার করার মত অবস্থা আর‌ কি! 


গদ্য

                                  

                      আর তাই সে বু‌ড়ো আঙ্গুল দে‌খি‌য়ে দে‌খি‌য়ে সোজা আ‌গে বাড়‌তেই পা‌রে আর বল‌তেই পা‌রে যে' "who cares" আ‌মি কা‌রো খাই না প‌রি না কা‌রো চাকুরী ক‌রি।

                                                 

                         

আস‌লে সৃ‌ষ্টিকর্তার না‌মে সদা পথ চ'ল‌লে কোন বিপদই বু‌ঝি বিপদ ম‌নে হয় না। তাই আমা‌দের জীব‌নের সকল চলার পথ শুরু হোক একমাত্র পরম করুণাময় সৃ‌ষ্টিকর্তা আল্লাহতায়া'লার না‌মেই।