মোবাইলে টাইম পাশ, সম্বৃদ্ধ উল্লাস সাহিত্য হাসি ঠাট্টা খুনসুটি বিন্দাস পড়তে হবে নইলে মিস করতেই হবে। মোবাইল +91 9531601335 (হোয়াটসঅ্যাপ) email : d.sarkar.wt@gmail.com
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
দীপক কুমার মণ্ডল
মোঃ হাবিবুর রহমান এর লেখা ''সহধর্মিণীর হুঁশিয়ারী বার্তা'' (১ম পর্ব)
সহধর্মিণীর হুঁশিয়ারী বার্তা ( ১ম পর্ব )
এখনঅব্দি ঠিক কোন বিষয়ে দুটো চরণ লিখবো তা মস্তিকের খুলিতে ঢুকেনি। ইদানিং আমার বিরামহীন লেখা দেখে স্বয়ং আমার সহধর্মিণী সতর্কতা সংকেত দিয়ে প্রায় প্রতিদিনই বলেন "যখন সব লেখা শেষ হয়ে যাবে তখন কি লিখবে"? অর্থাৎ, তিনি বোধ হয় এটাই বুঝাতে চান যে, যখন আমার ঘটের কপ্পুর বা স্টকের সব সম্পদ শেষ হয়ে যাবে তখন আমি কি লিখবো এই আরকি!
তাৎক্ষণিক তো একটা উত্তর দিতেই হয় তাই তখনই নিজের উপস্হিত বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে কিছু একটা তাঁকে মনগড়া বলে ফেললাম, তুমি তো তোমার প্রশ্নেই অকপটে সমাধানটা নিজেই দিয়ে দিলে এবং আমার হয়ে উত্তরটা বলেই তো দিলে যে, যখন আমার সব লেখা শেষ হয়ে যাবে তখন আমি কি লিখবো। সহধর্মিণীকে একটু হালকা ঠাট্টা করে বললাম, একজন ভদ্র মহিলা নিজেই প্রশ্ন করে আবার নিজেই সাথে সাথে উত্তরটিও বলে দেয়, বাহ তুমি মজার মানুষতো দেখছি!
সহধর্মিণী বললেন "তার মানে কি? তুমি এই কথার মাধ্যমে আবার কি বুঝাতে চাচ্ছ? আমি বললাম সব যখন লেখা হয়েই যাবে তখনতো আর কিছুই যেহেতু বাকী থাকবেনা সুতরাং, তখনতো বাস্তবে আর সত্যি সত্যিই কিছুই লেখারও থাকবেনা। তুমিতো বুঝি হক কথাটাই অকপটে বলে ফেলেছো। সহধর্মিণী এবার একটু রেগেসেগেই বললেন "যে মানুষ জেগে জেগে আসলে ঘুমানোর চেষ্টা করে আর যে বুঝেও না বুঝার ভান করে তাকে আসলে কেউ কখনই বুঝাতে পারবেনা"।
অবস্হা বেগতিক দেখে আমি তাঁকে বললাম, দেখো আমারও একদিন তোমার মত এরকম ধারণা ছিল যে, বিশ্বকবি, কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিংবা জাতীয়/বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই জগৎ বিখ্যাত কবিদ্বয় তো বহু পূর্বেই সব কিছু লিখেই ফেলেছেন তাহলে আর বুঝি কিছুই লেখার অবশিষ্ট নেই, তারপরেও তো দেখি আবার নিত্য-নতুন আধুনিক ধারায় বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভালো ভালো লেখা, সিনেমা, গান ও নাটক প্রতিনিয়ত রচিত হচ্ছে সেগুলো কি তোমার চোখে পড়ছে না?
দুঃখিত। একটা গোপন কথা এই ফাকে না ব'ললে পিছে আবার ভুলে যাবার সমূহ সম্ভাবনা আছে। সত্যি বলতে কি, ক্যাডেট কলেজে অধ্যায়নকালে আমার শ্রদ্ধেয় বাংলার প্রফেসর জনাব রফিক নওশাদ যিনি একজন অত্যন্ত সুনামধন্য কবি ও খ্যাতিমান লেখকও ছিলেন, তিনি একদিন ক্লাসে বিশ্বকবি প্রসংগে বলতে যেয়ে একবার 'রবীন্দ্র বলয়ের' কথা বলে এমন একটা ভয় ধরিয়েছিলেন আর যায় কোথায়? তারপর থেকেই সেই যে ডান হাতে বেড়ি পরালাম আর খোলাখোলির যেন নামগন্ধ নেই।
ধারাবাহিক ১ম কিস্তি
ফারজানা আফরোজ
প্রিয় নদী
আমার প্রিয় নদী ঘিরে
জোয়ার ভাটার গল্প ছিল।
ভালোবাসার নদী নিয়ে
ভাঙা গড়ার কাব্য ছিল।
আঁকাবাঁকা নদীর বাঁকে
স্বপ্ন সেথায় বোনা ছিল।
তরী যেথা বাঁধা থাকে
সময় যেন থমকে ছিল।
দুই নদীর মোহনায়
রং তুলির ছোঁয়া ছিল।
সেই নদীর জলের ধারায়
আমার চোখের আয়না ছিল।
নদীর উপর ভাসা মেঘে
না বলা সব কথা ছিল।
রাতের বেলা নদীর ছায়ায়
চাঁদের আলোর হাসি ছিল।
পাল তোলা নৌকা মাঝে
চঞ্চলা এক মন ছিল।
নদী তীরে সাঁঝ বেলায়
কাশফুলের দোলা ছিল।
নদীর সেই মাঝির গানে
বিরহের সুর ছিল।
হঠাৎ ওঠা নদীর ঝড়ে
এগিয়ে যাওয়ার সাহস ছিল।
বয়ে যাওয়া এই নদীতে
রংধনুর রং ছিল।
সিরাজুম মুনিরা ময়ূখ
আগুন-ফাগুন
বুকের ভেতর
ফাগুন ফাগুন ঘ্রাণ,
দেখছি কারোর
আগুন আগুন চোখ।
পুড়ছে পুড়ুক হৃদয়,
জ্বলুক এমন রোজ!
আগুন ঝরা ফাগুন বুকে
পাবে আমার খোঁজ!
এই যে আমি আসছি ফিরে
যেমন পাখি ফেরে নীড়ে!
আসা-যাওয়ার কারণ তুমি
গাইছি যে গান চরণ চুমি
নিজের কাছে নিজেই আমি
হচ্ছি যে সহজ!
আমার মাঝেই তুমিও ভীষণ
হারাচ্ছো যে রোজ!
রেবিন চৌধুরী
উপলব্ধি
দুনিয়ার দস্তারখানায় মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব
প্রযুক্তির জমিনে কেউকেউ পাগলা অশ্বারোহীর মতো,
চারিদিকে আগ্রাসি দৃষ্টির নগ্নতা
শ্রেষ্ঠত্বের বড়ই আকাল পড়েছে সর্বত্র।
সমাজপতির পকেটে আইনের বাক্স
মুহূর্তে বদলায় নিয়মের বোল,মৃত্যুর দলিলে চোখ বুলানোর সময় কই,
বিবেকের হাড়িতে হালুয়া রুটির ঝুল।
আশার বাতিঘরে আপামরের দীর্ঘশ্বাস আর ভালো লাগেনা,
আত্মার নদীতে সাঁতরে উপায় খোঁজেখোঁজে,বারবার ক্লান্ত হই।
ঝিনুকের বুকচিরে মুক্তার প্রাচীর গড়ার প্রতিযোগীতা বেড়ে চলেছে,
কোনভাবেই থামানো যাচ্ছেনা এসব।
জননীর বিশ্বাস ভঙ্গ করে মীরজাফরেরা উল্লাসে মাতে,
চেতনার কেতন উড়ে দিগন্তে,ভাবতে ভাবতে ফের ডুব দেই
ভেসে উঠি একদম খালি হাতে।
বেদনার সুর সম্রাজ্ঞির পায়ের মল হয়ে কানে বাজে
স্বপ্ন দেখার অধিকার যেন তাদেই পাওনা,
সীমাহিন সুখের জোয়ারে কানামাছি খেলার ধুম
মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটাতে ঈশ্বরেরও টনক নড়ছেনা।
ভালোবাসাবাসির ছাইপাশের দগ্ধচুলায় আর ধর্ষণের দাবানলে
অর্ধনির্মিত ভ্রুণের বিগলিত শরীরের রস পোকামাকড়ের খাবার,
কোনকালেই পূর্ণবিকাশ ঘটেনি মানুষের মানবতার।
জাগাতে হবেই মানুষের মনুষ্যত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ হয় মগজ।
অতঃপর,উপলব্ধি হলো ভালোবাসাই হবে মোক্ষম
মানুষ নিজেকে ভালোবাসলেই থেমে যাবে সমস্ত অনিয়ম।
প্রকৃতপক্ষে মানুষ নিজেকে ভালোবাসেনা বলেই
শোধ,ঘুষকে নিশ্চিন্তে হালাল বানিয়ে নিয়ে
সমাজকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়ে
নিজেকে জাহান্নামের দিকে ধাবিত করছে।
আত্মমসম্মান একান্তই ব্যক্তির অমুল্য সম্পদ,
মানুষ ক্ষমতার অপব্যবহারে সম্মান নষ্ট করে নির্দ্বিধায়,
ক্ষমতাশীনদের ছত্রছায়াকেই নিজের জন্য ভাবে নিরাপদ।
মানুষ সবাইকে নিয়ে বাঁচার জন্য অপরাধী হয় কিন্তু
নিষ্ঠুর সত্য হলো একসাথে বাঁচতে পারলেও মরতে হয় একাই
কবর ও হাসরের বয়াবহতা জেনেও নিজে পাপ করে পাপী হয়,
তার কারণ মানুষ নিজেকে ভালোবাসেনা।
পরকালীন সুখ অথবা দুঃখের রূপ নিয়ে
কবরের সঙ্গী হয়ে আত্মার সাথী হয় একমাত্র আমলই,
মৃত্যুর স্মরণে বিবেক জাগ্রত হলে মানব জীবনে
গতি ফিরে আসবে শুধু নিজেকে ভালোবাসলেই।
তাহসান কামরুজ্জামান
ছুঁয়া
আমাদের গল্পের পাতায় কোনো বাস্তবতার ছুঁয়া নেই।
তবে কয়েকশ শতাব্দীর অফুরান অনুভবে গল্পের পাতা এলোপাতাড়ি ভাবে বৃষ্টির ছুঁয়া লেগে রয়েছে।
তুমুল বৃষ্টি ঝরে পড়া দেখলেই মনের আকাশে কংক্রিটের শহরগুলোর কথা খুব করে মনে পড়ে।
বৃষ্টির ছুঁয়াই নির্জীবও নিষ্ক্রিয় পথঘাট গুলো সজীব রূপ ধারণ করে।
গাছপালা ভারি বৃষ্টি বর্ষণে নতুন প্রাণ পেয়ে যায় "
সেখানেই সীমাবদ্ধ রিক্সার পেছনের হুডের ছাওনি তুলে" প্রথম ইশায় অনুভূতি প্রকাশের ব্যাপারগুলো বড্ড গাঢ় সম্পর্কের প্রকাশ ছিলো।
আধোআধো বৃষ্টির ছুঁয়াই ভেঁজা ভেঁজা ভাব "
সংকীর্ণ গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকা স্মৃতি " কি অদ্ভুত গল্পেই হারিয়ে গিয়েছে বাস্তবতার জীবনচিত্র।
একদিন ঠিক সময়ে মুনাফার বৃত্তিগুলো স্বপ্নের বাগিচায় রূপ দিবো।