ভালোবাসার জয়
কোনো একদিন তোমাকে নিয়ে আমি নিরুদ্দেশের পথে হাঁটবো।
পরিচিত লোকালয় বাস,ট্রেনে পার হবো।
বিরান কোনো ভূমিতে আমরা দুজন নেমে যাব।
যেখানে সবে নবান্নের উৎসব শুরু হয়েছে।
বাড়ির বেটা ছেলেরা মাঠে,আর মেয়েরা উঠোনে কাজ করছে।
আমরা দুজন হলুদ ধানে পা ভিজিয়ে বাড়ীর উঠোনে পা রাখবো।
মেয়েরা আমাদের চোখে তাকাবে।
ওরা বুঝবে, আমরা ভালোবাসার মানুষ।
ওরা বুঝবে, আমরা দুজন প্রেমিক নারী পুরুষ।
দুটো পিঁড়ি এনে ওরা আমাদের বসতে দেবে।
নতুন ধানের ফিন্নি,পায়েস এনে আমাদের খেতে দেবে।
আমরা ওদের ভালোবাসার দুটো সবুজ পাতা সহ গোলাপ উপহার দেব।
অতঃপর দুজন হাত ধরাধরি করে এগিয়ে যাব অজানা পথে।
ছোট নদীর গায়ে পা দিতেই কোথা থেকে ছোট মাছ এসে, ছোট্ট লেজ নাড়তে নাড়তে আমাদের চেনা পথ চেনাবে।
নদী পার হলে একটি ছোট কু্ঁড়েঘর।
বয়সের ভারে নুজ্য হয়ে যাওয়া নারী আমাদের হাতের ইশারায় ডাকবে।
বলবে আমি তো তোমাদের অপেক্ষায় ছিলাম।
এত দেড়ি কেন করলে তোমরা আসতে!
গরম ভাপ ওঠা ভাতের সাথে ভাজা ইলিশ খেয়ে আমরা বসলাম পুকুর ধারে।
তুমি ছিপ নিয়ে বসতেই,আমি কেমন অস্থির হয়ে উঠলাম।
তুমি আমাকে বোঝো সব সময়।
সব ফেলে আমার হাতে হাত রাখলে।
আমরা কেমন করে দুজনের চোখে হারিয়ে গেলাম!
দুজনের ভালোবাসায় হেসে উঠলো ছোট হলুদ ফুল,নেতিয়ে পড়া বুনো ঘাস।
ওরা সতেজতা ছড়িয়ে দিল আমাদের চারপাশে।
আমরা অতৃপ্ত আত্মা বসত গড়লাম প্রকৃতির মাঝে।
কেউ জানলো না,পৃথিবীর মেরে ফেলা আমরা দুজন মানব পৃথিবীর বুকেই আজ পরিতৃপ্ত আত্মা।
ভালোবাসার জয় তো এমন করেও হয় বলো!
( ঢাকা থেকে যশোর যাওয়ার পথে চলতি ট্রেনে লেখা )