২৯ আগস্ট ২০২১

নাজনীন নাহার



 প্রিয়_স্বাধীনতা 


প্রিয় স্বাধীনতা, 

তোমাকে নিয়ে লেখার সাহস আমার বরাবরই কম।

সকলে কত শত ভালোবাসায় আদৃত করে,

তোমাকে নিয়ে লিখে যায়।

আমার কেবল মনে হয়,

তোমায় নিয়ে লেখার সুযোগ্য আমি নই। 


তবুও সকলের ভালোবাসায় লেখার দুঃসাহস করি আমি।

আজ আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস।

আজ ২৬ শে মার্চ।

কত আয়োজন কত উদযাপন,

কত কত গল্প, গান,  কবিতা তোমাকে নিয়ে।

তুমি আমাদের  পরিতৃপ্তির এক মহা প্রণয়,

তুমি আমার ও আমাদের ভালোবাসা।

আমাদের সম্মান আর গৌরবের আনন্দ তুমি। 


হে প্রিয় স্বাধীনতা ,

তুমি আমাদেরকে একখানা বাংলাদেশ দিয়েছ।

দিয়েছ লাল সবুজের পতাকার উজ্জীবন।

দিয়েছ বিশ্বের মানচিত্রে নাম, মান আর সম্মান। 


আমি জানি,

ত্রিশ লক্ষ শহীদদের রক্তের বিনিময়ে,

অগুনতি মা বোনদের ইজ্জত ও আব্রুর বিনিময়ে ; আমরা তোমাকে পেয়েছি।

আমরা তা ভুলিনি।

আমরা তা ভুলব না কোনদিন প্রিয় স্বাধীনতা। 


তবুও তোমাকে নিয়ে দেখা স্বপ্নগুলো যখন তারিখ হীন দুঃসময় হয়ে সময় কাটায়, 

সময় কাটায় বেকার যুবকের হতাশার আতঙ্ক নেশায়।

ধর্ষিতার আজন্মের গ্লানিময় বিভীষিকায়,

আর দুর্নীতির ক্যাসিনো নিশীথের কাব্যে।

তখন তোমার অভিতাপের আগুনে পুড়ে,

নিঃশেষ হতে হতে পরাধীনতায় মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে জাতীয়তা আমাদের। 


জানো স্বাধীনতা!

তোমার মুখটা মাঝে মাঝে অবুঝ শিশুর নরম গালের মতো লাগে,

তখন তোমার চোখ ভর্তি আকাশে আমারা স্বপ্নের রংধনু  উড়তে দেখি। 

আমরা আবারও আমাদের ধমনীতে তোমাকে ধারণ করি,

পাঁচ ঘোড়া সাত ঘোড়ার অশ্বশক্তিতে আমরা দৌড়াতে থাকি।

দৌড়াতে থাকি ক্ষুধা দারিদ্র্য মারি আর সব রকম প্রহসনের বিপরীতে। 

আমরা আবারও স্বগৌরবে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করি,

আমরা আবারও শূন্যতার ব্যভিচারে হাত ফসকে তোমাকে হারিয়ে ফেলি।

তোমাকে হারিয়ে ফেলি হে প্রিয় স্বাধীনতা! 


আচ্ছা কেন এমন হয়! 

কেন এমন হয় প্রিয় স্বাধীনতা আমার!

আমাদের স্বপ্নের আকাশ মুছতে মুছতে দেখি,

শীতল দীর্ঘশ্বাসে গড়াগড়ি খাচ্ছে;

গৃহবন্দী আমাদের উত্তর আধুনিক জেলখানায় আটক বেহিসাবি সময়।

যদিও কেউ কেউ বেহিসাবি পরাধীন সময়ের গহ্বর থেকে কুড়িয়ে নেয়,

বেঁচে থাকার মৌন সম্মোহন। 


হে আমার স্বাধীনতা! 

তোমাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাস্তবতা আমাদেরে ছোবল মেরে বিষ ঢেলে দেয়,

আমাদের জীবন বিশ্বাসের রক্ত নালীতে ছড়িয়ে পড়ে বীভৎস দহন।

আমাদের জীবন থেকে উড়ে যায় সবগুলো স্বাধীন ভোর।

আমি ও আমরা আর এগুতে পারি না, 

সার্কাসের বিশালদেহী হাতীটির মতো,

আমরা এক শলতে দঁড়ির গিঁটে আবদ্ধ থাকি নির্দিষ্ট স্বাধীন পরাধীনতায়।

এভাবেই আমাদের অধিকাংশের স্বাধীনতারা, 

উৎসবের রঙিন গ্লাসে পরাধীনতার বিশ্বাস গুলে খায়। 


আমাদের মন ও মগজের অলিতে গলিতে মৌন মিছিলের স্লোগানে উচ্চারিত হয়,

হে স্বাধীনতা! 

তোমার মাঝবয়সী চোখ কী করে ভার্জিন হয়!

যেখানে টুইনটাওয়ার থেকে ফিলিস্তিন, 

ফিলিস্তিন থেকে ইরাক যুদ্ধ সমাপ্ত করে;

আই এস এর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে তোমার চোখের সন্মুখে! 

যেখানে তর্ক বিতর্কে জর্জরিত অণুজীবের তাণ্ডবে টালমাটাল পুরো পৃথিবী! 

তারপরও কি মৃত্যুর কাছে পরাজিত হতে হতে তুমি বলবে!

আমরা স্বাধীন বাঁচি!

আমরা স্বাধীন আছি! 


তবুও হে প্রিয় স্বাধীনতা আমার,

চোখ ভর্তি আকাশ নিয়ে গৃহবন্দী থাকার পরেও,

তুমি যেভাবে নীল চিনো।

আমরাও তেমনি তোমার জানলায় রোদের পাল্কিতে 

নেমে আসতে দেখি গোটা আকাশ।

যার শরীর থেকে কুড়িয়ে নেই নতুন স্বপ্ন সমৃদ্ধ ভোর।

এই তো তুমি, 

এই তোমাতেই বিভোর আমরা;

হে প্রিয় স্বাধীনতা।

মিতা নুর


আমার কিছু স্বপ্ন আছে


কেবল জানি 

          তোমায় নিয়ে, 

আমার কিছু 

              স্বপ্ন আছে;

প্রাপ্য আছে

           বিনিদ্র রাত, 

কাটিয়ে দেবার 

              গল্প আছে, 

  হাজারো হাজার 

তোমার জন্যে 

         ব্যাকুল  হৃদয়;

একটুখানি 

        পুরোপুরি,

শর্তবিহীন

         তোমায় 

 কাছে পাবার !! 

আসাদুল্লাহ গালিব




অভিসাপ



আমাকে ভুল ভেবে কতকাল আর অভিসাপ দিবে,রোদের উত্তাপ আর মরুভূমির তৃণলতাহীন

খসখসে মরণফাঁদ অম্লান তোমার অভিসাপে৷

আর কতকাল?

কলমের ডগায় খুচাখুচি,

নিমগ্ন রাতের গভীরে নির্ঘুমদের সারিতে উদ্দাম দেহে হজম করি সব৷

আমাকে ভুল ভেবে আর কত বাক্য সৃষ্টি করবে

মেঘেরা সূর্যকে লুকানোর অবয়ব দেখে

সন্ধা ভেবে নেওয়া অবিচার৷

আর কত অস্পৃশ্যা থেকে নিজেকে মিটাতে চাও না পাওয়ার মাঝে৷

উদোম গায়ে আমাকে খুটিয়ে দেখো নির্মল গঠন

কৌতুহলী হৃদয় ছাড়া কিছুই পাবে না আর

তবে আর কত অভিসাপের বাণী উচ্ছারিত

তোমার যবানিকা থেকে৷

অপেক্ষায় আগামি প্রভাতের নতুন অভিসাপের

প্রীতির ডোরে আগলিয়ে আছে শতাব্দির সেরা চরিত৷ 

মমতা রায় চৌধুরী 'র গল্প - অপত্য স্নেহ


 অপত্য স্নেহ



বুলু কাকিমা পুলিশ অফিসারের মেয়ে, নার্সিংহোম মালিকের স্ত্রী ,ঝকঝকে গাড়ি  করে যাতায়াত। আমি জয়িতা যখন প্রথম বউ হয়ে মল্লিকবাড়িতে ঢুকি। আমাকে দেখতে এসে একগাল হেসে বলেছিলেন -'বাঙাল ঘরের মাইয়া আনছো, একটু মানাইয়া, গোছাইয়া লইও কল্যাণী'।কথাটার মানে সেদিন বুঝতে পারি নি। আজ হারে হারে টের পাচ্ছি। আসলে আমি শাশুড়ি মার যতই আপন হবার চেষ্টা করেছি ১৪বছরে একটুও সক্ষম হই নি। ভেবেছিলাম এ বাড়িতে নতুন করে মাকে পাব। মেয়ের মত তিনি আমাকে কাছে টেনে নেবেন। ছোটবেলায় মাকে হারিয়েছি মায়ের স্নেহ তো কপালে জুটল না। অনেক প্রত্যাশা ছিল মনের ভেতর। বড়লোক বাড়ি বিয়ে হয়েছিল। ঝি চাকরাই সব কাজ করে। তবে আমার ভাগ্য অতটা সুপ্রসন্ন ছিল না। সব কাজ আমাকে করতে হতো। তাতে অবশ্য আমার কখনো কষ্ট হয়নি। কষ্ট হতো যখন বাবা-মা বা আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমাকে যখন তখন অপমান করা হতো ,অসম্মান করা হত। আসলে 'এই জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি'-এই কথাটা আমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে আমার শশুর -শাশুড়ি মার ক্ষেত্রে। ছেলেটি হুট করে বিয়ে করে ফেলবে ,তা তাদের স্বপ্নের ও কল্পনার অতীত ছিল। ভেবেছিলেন যে ছেলেকে তারা এত ভালবাসেন মা বাবার কথা মত পছন্দসই পাত্রী র সঙ্গেই তার বিবাহ হবে। কিন্তু তা হয়নি। তাই  উচ্চশিক্ষিতা বৌমার‌ প্রশংসায় প্রতিবেশীরা পঞ্চমুখ হলেও তাঁরা খুশি হতে পারেন নি।কত সম্ভ্রান্ত বাড়ির ইতিহাসে লুকিয়ে আছে ,এরকম অত্যাচারের কাহিনি। কোনদিন হয়ত সেগুলো চার দেয়ালের বাইরে বের হতেই পারে না। অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায় সন্তান না হওয়াতে। অলক্ষী ,বাজা এ তো উঠতে-বসতে কপালে জুটতো। এমনকি ছেলেকে অন্যত্র বিয়ের জন্য তোড়জোড় চলতে থাকে। আমি শুধু চোখের জল ফেলি নীরবেএবং স্বামীকে একদিন বলে ফেলি ,সত্যিই তো আমি তোমাকে কিছুই দিতে পারলাম না ।এতে তোমার ফ্যামিলির কোন দোষ নেই।তুমি বরং অন্যত্র বিবাহ করে বংশের মুখ রক্ষা করো। স্বামী অবশ্য মুখ কাচুমাচু করে বলে এসব কথা তুমি ব'লো না ।মুখে হয় তো বলে কিন্তু ভেতরে হয়তো আছে তার অন্যরকম খিদে। সেটা ক্রমশ প্রকাশ হতে থাকে। কিন্তু আমার তো কোথাও যাবার জায়গা ছিল না ।তাই মুখ বুজে আমাকেও সব মেনে নিতে হয়। অনেকে ভাবে উচ্চশিক্ষিতা সে এসব কেন সহ্য করে, সে তো চলে যেতে পারে বা প্রতিবাদ করতে পারে?স্কুল জীবনে যখন আমি এই অত্যাচারের কথা শুনতাম তখন ভাবতাম কেন প্রতিবাদ করে না। এখন বুঝি প্রতিবাদ আমরা অনেকেই করতে চাই কিন্তু পরিবেশ প্রতিকূলতায় সব সময় তা হয়ে ওঠে না ।বিশেষত যদি সেই মেয়েটি আত্মনির্ভরশীল না হয়ে থাকে।

ভেতরে ভেতরে এবার আমি আত্মনির্ভরশীল হওয়ার কথাই ভাবছিলাম। কেননা স্বামীর প্রতি যার গভীর আস্থা ,শেষ পর্যন্ত সেও যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়। তার থেকে দুঃখের একটি মেয়ের জীবনে আর কি হতে পারে? আমার জীবনে চলতে থাকে মা না হতে পারার তীব্র যন্ত্রণা। সন্তান জন্ম দিয়ে নাকি সংসারের ভর্তি হওয়া যায় মল্লিকবাড়ির ধারণা অনুযায়ী। এভাবেই কাটতে থাকে বছর আমিও এ বাড়িতে স্বামী শ্বশুর শাশুড়ি মার সেবা -যত্ন, আর তীব্র অসম্মান নিয়ে সময় কাটাতে থাকি। আবার সন্তান থাকলেও সে মায়ের কত যন্ত্রনা ,আমি আমার জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছি চারপাশের ঘটনা দেখে ,বিশেষত বুলু কাকিমাকে দেখে। কাকা মারা যাবার পর বুলু কাকিমার যা-কিছু ব্যাংক ব্যালেন্স ছিল সমস্ত কিছুই মেয়েরা কাকিমাকে বুঝিয়ে নিজের নামে করে নেয়। আস্তে আস্তে সেই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বুলু কাকিমাকে আমি দেখতে পাই অন্য মাত্রায়। বুলু কাকিমা শ্বশুরমশাইয়ের বন্ধুর স্ত্রী হওয়ার জন্য সেই সুবাদে প্রায়ই আমাদের বাড়িতে আসতেন আর আমার সঙ্গে গল্প করে যেতেন। এতে শাশুড়ি মা অসন্তুষ্ট হতেন। বুলু কাকিমা বাঙাল হওয়ার জন্য হয়তো আমার প্রতি কিছুটা সহানুভূতিশীল ছিলেন।এরপর বুলু কাকিমার কপালেও জুটল মেয়েদের থেকে লাথি-ঝাঁটা। এমন কি খাবার খেতে না দেওয়া ।শেষমেষ একদিন তো আমার কাছে এসে কেঁদেই পড়লেন এবং বললেন তুমি আমার মেয়ের মতো ,তাই তোমাকেই বলছি। আমাকে একটু খেতে দেবে? আমি বললাম -'সে কি কথা ,কাকিমা ?অবশ্যই অতিথি নারায়ন। আমি আরো সাহস করে বলতে পারি কারণ আমার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি মা তার মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেছেন প্রায় দুমাস হল। তখন সংসারের সমস্ত কিছুই আমার হাতে বিশেষত হেঁশেলের। তাই যখন কাকিমা দুপুরবেলায় একদিন হন্তদন্ত হয়ে আসলেন ,চুলগুলো উসকো খুসকো ,চোখের কোণে কালি এবং কেঁদে ফেললেন। আমি বললাম কাকিমা কি করবেন আপনাকে বাঁচতে হলে তো আপনাকে আইনের দ্বারস্থ হতেই হবে ।কি করে বৌমা ? তাহলে তো আমার পরিবারের কেচ্ছা-কেলেঙ্কারি সব বেরিয়ে পড়বে ।তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন -'তুমি পারবে তোমার পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে কথা বলতে? আমি তোমার সব কিছুই জানি ।একদিন আমিও  হয়তো তোমাকে বলেছি যে একটা সন্তান জন্ম দিতে পারলে না । সন্তানসুখে গর্বিত মা হিসেবে বলেছিলাম তখন। তবে আজ বুঝি তোমার সন্তান হয় নি ,তুমি ভালো আছো ।আমার সন্তান হয়েও তো আমি ভালো নেই । অপত্য স্নেহ এমন যে, তারা ভুল করলেও তাদের বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু বলতে পারি না। ওপরে থুতু ফেল লে তো মাটিতেই পড়ে ।এরা আমার সন্তান ।সুখে দুঃখে ভালো-মন্দে আমি জড়িয়ে আছি ।তাদের বিরুদ্ধে গিয়ে কথা বলব?আমি অবাক হয়ে গেলাম আর ভাবলাম মা এমনই হয়। উদাসী হাওয়া গায়ে এসে লাগল ।দোলা দিয়ে গেলো মনে প্রানে। তার দুদিনের মধ্যে শশুর শাশুড়ি মা বাড়িতে আসলেন। শাশুড়ি মা ,দেখি আদর করে আমাকে ডাকছেন ।আমি একটু অবাক হলাম বটে। তবে ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় করে। তবুও খুব খুশি হয়েছি যে এভাবে এত স্নেহের সুরে আমাকে ডাকছেন । এক নিমিষে যেন জীবনের সমস্ত দুঃখ কষ্ট ঘুচে গেল। মরা নদীতে বান ডেকে গেল।আমি গদগদ ভাবে যখন তার কাছে দাঁড়াই। উনি বললেন -'দেখো বৌমা তোমাকে আমি অনেক কটু কথা বলেছি কিছু মনে করো না। তবে তোমার কাছে অনুরোধ তুমি আমার ছেলেকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যাও।  নইলে আমার বংশ রক্ষা হয় না। তুমি তো উচ্চশিক্ষিতা নিশ্চয়ই আত্মনির্ভরশীল হতে পারবে। তার জন্য যা করতে হয় আমি তার ব্যবস্থা করে দেবো। শুধু তুমি আমার ছেলেটিকে মুক্তি দাও। কথাটা শুনে আমার পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেল, আমি যেন আমার চোখের সামনে তখন সর্ষেফুল দেখছি। তারপর নিজেকে শক্ত করলাম আর ভাবলাম তাই তো আমার স্বামী একটি সন্তান‌‌ প্রত্যাশা  করে। কিন্তু আমি সেটা দিতে পারি নি।আমাদের মধ্যে সম্পর্কটায় যেন আস্তে আস্তে অনেকটাই দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। ভেবে দেখলাম আমাকেও প্রমাণ করার দরকার আছে। আমি কিছু করতে পারি আমার আইডেন্টিটি তৈরি করতে পারি। সারাটা রাত ভাবলাম খোলা জানালায় দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলাম ,যখন চাঁদের স্নিগ্ধ মধুর আলো আমার শরীরে এসে পড়ল। ভাবলাম শাশুড়ি মার কথাটাই মেনে নেওয়া উচিত। পরেরদিন সকালবেলায় শাশুড়ি মাকে বললাম আমি রাজি । শাশুড়ি মা বললেন-বাহ ভাল ভাবনা। আমিও তোমার জন্য ভেবে রেখেছি। তুমি তো খুব ভালো গান করো। এ বাড়িতে তো তুমি সেভাবে গান করার সুযোগ পাওনি। তোমার জন্য একটা গানের স্কুল খুলে দেবো। জয়িতা খুব খুশি হলো। যে  গান একসময় তার প্রাণ ছিল। কলেজে গান গেয়ে কতজনার হৃদস্পন্দনে পরিণত হয়েছিল সে। শুধুমাত্র সজলকে ভালোবেসে এতটা সেক্রিফাইস করেছিল। তাই আজ শুধু সে নিজের জন্যই ভাববে। শাশুড়ি মা বৌমার মধ্যে একটা যেন চুক্তি হয়ে গেল। তবে মনে রয়ে গেল পুরুষ জাতির প্রতি একটা তীব্র ঘৃণা। এ কেমন ভালোবাসা ,সন্তান জন্ম দিলেই কি শুধু ভালোবাসার অস্তিত্ব রক্ষা করা যায়? সন্তান ই কি শুধুমাত্র দুজনকে বেশি নিবিড় করে বাঁধে?  আজ সন্তান হয়নি বলে সে সুখী হতে পারলো না সজলের সাথে। আর বুলু কাকিমা তার সন্তান থাকা সত্ত্বেও সেও সুখী হতে পারলো না। সন্তান না থাকার জন্য একটা সংসার ভেঙে যাচ্ছে ।আবার সন্তান থাকার জন্য অসহায় মা চোখের জল ফেলছে। এ কেমন অপত্য স্নেহ যার জন্য ভালোবাসার মানুষটিও হাতছাড়া হয়ে যায়। আজ জয়িতার বারবার মনে পড়ছে গানটি-"আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ' সজলের সঙ্গে বাঁধা ছিল তার গান। আজ তাল কেটে গেলো ,সুর বেসুরো হলো। তবে আজ নতুন করে নিজেকে বেঁধে ফেলতে চাইলো গানের অপত্য স্নেহে। জয়ীতার চলার পথে থাকল শুধু গান আর গান।

আফসানা মিমি


বাবা


আব্বু আমি তোমার মুখের মিষ্টি আম্মু ডাকটা আজও অনুভব করি।

আব্বু আমি তোমার মুখের মিষ্টি মৃদু হাসিটা আজও অনুভব করি।


আব্বু তোমার মনে পড়ে,

তুমি ভালবেসে ডাকতে আমায় "মিতু" আম্মু কোথায় রে? 

আমি বলতাম এইতো আব্বু তোমার পাশে।

ফজর ও মাগরিবের ওয়াক্ত নামাজ পড়ে

বলতে আমায়,আম্মু একটু চা বানাতে পারবি কি?

বলতাম আমি,বসো তুমি আনছি আমি চায়ের সাথে সরিষা তেল আর লবনের মুড়ি মাখাটি।

মুচকি হাসি তুমি দিয়ে,

এইতো আমার লক্ষ্মী আম্মুটি।


আব্বু তোমার মনে পড়ে,

টেবিলে খাবার খেতে বসে আমার আচল দিয়ে তোমার মুখের ঘাম মুছিয়ে দেওয়ার স্মৃতি!!

মনে পড়ে তোমার,হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে করতে কতবার আমার হাত থেকে পাখাটা পরে গেছে,তুমি তখন বলতে আম্মু আর লাগবে না।

আমি তখন,মুখে হাসি নিয়ে একটুও থামতাম না...


আব্বু তোমার মনে পড়ে,

পড়াশোনা করতে করতে কখনো ঘুমিয়ে পরলে আম্মুকে ডেকে বলতে ওর দ্বারা পড়াশোনা হবে না,

আরও বলতে লেখাপড়ায় এতো আরাম চলে না, অনেক সাধনা করতে হয়,অনেক কষ্ট করতে হয়।

 সময় আছে মেয়েকে বোঝাও!!

আর আমি তখন,আহারে কি ঘুম হা হা...


আব্বু তোমার মনে পড়ে,

তোমার চশমা,জামাকাপড়,পান সুপারি,মেডিসিন ইত্যাদি সবকিছুর দায়িত্ব আমি নিয়েছিলাম।

আর তুমি বলতে আমার পাকনা 

আম্মুটি সবকিছুতে অলরাউন্ডার।

আমি তখন বলতাম কার মেয়ে দেখতে হবে না 

          হা হা....


আব্বু তোমার মনে পড়ে এসব পুরানো স্মৃতি?

নাকি সবটা ভুলে আমাদের ভুলে নিশ্চিন্তে আছো?

আব্বু মনে পড়ে এসব ভালবাসার কাহিনী?

নাকি সবটা ভুলো খুব আনন্দেই আছো?

               আব্বু!আব্বু!ও আব্বু!!...

এসব যে আমার খুব মনে পড়ে,ভুলতে পারি না এই মায়ার বাধঁন!


 কেন বললে না?ফোনটি করে আম্মুরে "মিতু" আমার খুব কষ্ট হচ্ছে তাড়াতাড়ি বাসায় রওনা হয়ে আয়?

কেন বললে না? তুমি সহস্র কষ্ট আঘাত একা বুকে নিয়ে হারিয়ে যাচ্ছো?

 

আব্বু ও আব্বু সত্যি কি

 এসব এখন আর মনে পড়ে না?

আব্বু আমি তোমার মুখের মিষ্টি আম্মু ডাকটা আজও অনুভব করি।

আব্বু আমি তোমার মুখের মিষ্টি মৃদু হাসিটা আজও অনুভব করি।


আব্বু তোমার মনে পড়ে,

তুমি ভালবেসে ডাকতে আমায় "মিতু" আম্মু কোথায় রে? 

আমি বলতাম এইতো আব্বু তোমার পাশে।

ফজর ও মাগরিবের ওয়াক্ত নামাজ পড়ে

বলতে আমায়,আম্মু একটু চা বানাতে পারবি কি?

বলতাম আমি,বসো তুমি আনছি আমি চায়ের সাথে সরিষা তেল আর লবনের মুড়ি মাখাটি।

মুচকি হাসি তুমি দিয়ে,

এইতো আমার লক্ষ্মী আম্মুটি।


আব্বু তোমার মনে পড়ে,

টেবিলে খাবার খেতে বসে আমার আচল দিয়ে তোমার মুখের ঘাম মুছিয়ে দেওয়ার স্মৃতি!!

মনে পড়ে তোমার,হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে করতে কতবার আমার হাত থেকে পাখাটা পরে গেছে,তুমি তখন বলতে আম্মু আর লাগবে না।

আমি তখন,মুখে হাসি নিয়ে একটুও থামতাম না...


আব্বু তোমার মনে পড়ে,

পড়াশোনা করতে করতে কখনো ঘুমিয়ে পরলে আম্মুকে ডেকে বলতে ওর দ্বারা পড়াশোনা হবে না,

আরও বলতে লেখাপড়ায় এতো আরাম চলে না, অনেক সাধনা করতে হয়,অনেক কষ্ট করতে হয়।

 সময় আছে মেয়েকে বোঝাও!!

আর আমি তখন,আহারে কি ঘুম হা হা...


আব্বু তোমার মনে পড়ে,

তোমার চশমা,জামাকাপড়,পান সুপারি,মেডিসিন ইত্যাদি সবকিছুর দায়িত্ব আমি নিয়েছিলাম।

আর তুমি বলতে আমার পাকনা 

আম্মুটি সবকিছুতে অলরাউন্ডার।

আমি তখন বলতাম কার মেয়ে দেখতে হবে না 

          হা হা....


আব্বু তোমার মনে পড়ে এসব পুরানো স্মৃতি?

নাকি সবটা ভুলে আমাদের ভুলে নিশ্চিন্তে আছো?

আব্বু মনে পড়ে এসব ভালবাসার কাহিনী?

নাকি সবটা ভুলো খুব আনন্দেই আছো?

               আব্বু!আব্বু!ও আব্বু!!...

এসব যে আমার খুব মনে পড়ে,ভুলতে পারি না এই মায়ার বাধঁন!


 কেন বললে না?ফোনটি করে আম্মুরে "মিতু" আমার খুব কষ্ট হচ্ছে তাড়াতাড়ি বাসায় রওনা হয়ে আয়?

কেন বললে না? তুমি সহস্র কষ্ট আঘাত একা বুকে নিয়ে হারিয়ে যাচ্ছো?

 

আব্বু ও আব্বু সত্যি কি

 এসব এখন আর মনে পড়ে না?

মুন চক্রবর্তী




ধ্বস্ত পৃথিবী 



ছায়াপথ ধরে হাঁটছে বিস্ফোরণ 

রেখে ছিলাম মল্লিকা বনের ঠিকানা

তবে কি রাস্তা ভুল করেছে ভূলুণ্ঠিত উড়ানা?

ধর্মের আস্ফালনে জ্বলছে কোমল শরীর

ব্যর্থতা নিয়ে ঘরে বসে আছে কৌশলী কারিগর 

মৃত্যুর পৃথিবী দেখার আগে, ভূমিকম্প আগ্নেয়গিরি উল্কাপাত সুনামি আসুক।

তবুও তো বেঁচে যাবে কোনো বাবার দেওয়া শাড়ির সম্মান

বেঁচে যাবে দেশ ছাড়ার যন্ত্রণা,নরক ভোগের দাসত্ব 

কোটি কোটি মৃত্যুতে লেখা থাকবে না ধর্ষন।

ধ্বস্ত পৃথিবীর জন্য প্রার্থনা করি একবার পশু হও

মানুষ শব্দটি পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন না হলে

বনানীর উৎসব দেখবে না কোনো গ্রহ তারা

কত আর্তনাদের কান্না ঝরে পরলে নদী শুকিয়ে যায়।

ছুটির আয়োজন কর প্রকৃতি তোমার মৃত্যুতে দাঁড়াব নির্ভয়ে বাবার শাড়ি উপহারে।