১২ এপ্রিল ২০২২

কবি মালা মুখোপাধ্যায় "বসন্তের কোকিল"





বসন্তের কোকিল 
মালা মুখোপাধ্যায়

তোমার ডাকে বুঝি বসন্ত এসে গেছে ?
তুমি একদম ভুল করেও ভোলো না ? 

তোমার ডাককে নকল করে কত ডেকেছি ছোটতে
আমি ডাকলেই তুমি ডাকতে
কি জানি কি ভাবতে ? 

বড় বড় গাছের কোন ডালে বসে ডাকছো খুঁজে চলতাম ঘাড় বেঁকিয়ে মাথা তুলে
দেখতে পেলে কী মজা হতো! 

সেই পাখিটা আবার এসেছে
বসন্ত এসেছে
শীত বর্ষায় কোথায় ছিলে ?
জানবার জো নেই
দু'বার নড়ে চড়ে বুঝিয়ে দেয় এসেছি
ডাকছি এই ঢের,অত খোঁজ নিও না বাপু
তোমরা শুধু আমার মিঠে গলার ডাক শুনে যাও। 

জানি তো তোমাকে
চিনিও তোমাকে
মাঝে মাঝে একটু আধটু কাছে
থেকে দেখেছি তো
বেশ চমকদার
তুমি যখন কাকের বাসায়
ডিম পাড়তে 
কৌশলটি ভারি মজার
পুরুষ কোকিল
কাককে রাগিয়ে বাসা থেকে
বার করে নিয়ে যায়
আর তুমি এসে ডিম পেড়ে যাও। 

প্রকৃতির কী নির্মম পরিহাস !
তোমার নামেই পড়ে বদনাম। 

হবে নাইবা কেন ?
অতি চালাকির গলায় দড়ি
পারো না একটা নিজের বাসা বানাতে ? 

খুব দুষ্টু
আমার কথায় কান না দিয়ে
একরকম পাত্তা না দিয়ে
ডেকেই চলেছো যে,
আর হয়েছে কি জানো ?
আমার নিজের লাগানো
ছোট আম গাছের ডালে
তোমাকে সেদিন ডাকতে
দেখেছি
খুব কাছ থেকে
দু'চোখ ভরে আমি
তোমাকে শুধু দেখেছি।

মমতা রায় চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৫১



উপন্যাস 

টানাপোড়েন ১৫১
আনন্দ দোলা
মমতা রায় চৌধুরী

"ছোট বৌদি, ছোট বৌদি', ও ছোট বৌদি'
রান্নাঘর থেকে কাকিমা সাড়া দিল কি হয়েছে রে ভোলা?
"একবার বাইরে এসো না।"
"এখন আমার হাত জোড়া আছে বাইরে গেলে হবে? কড়াইতে খুন্তি দিয়ে কিছু ভাজার আওয়াজ আসলো তুই ওখান থেকেই বল ,আমি কানে শুনতে পাচ্ছি।"
"কানে শুনতে পাচ্ছে বললে তো হবে না। এটা দেখতে হবে এসোই না।"খুশিতে ডগ মগ হয়ে ভোলা বলল।
একটু বিরক্তি নিয়ে রেখার কাকিমা বলল'" মাঝে মাঝে যে এত জ্বালাস না ভোলা, কি হয়েছে বল? একি করেছিস? মাগো কি সুন্দর !আজকাল তো এই মাছ দেখাই যায় না ।'
কাকিমা এতক্ষন চন্ডী মূর্তিতে ছিল এখন ভোলাকে কত নরম হয়ে কথা বলছে । কাকিমা ও মাছগুলো দেখে খুব খুশি হয়েছে।
কাকিমা আর ভোলা কাকার এই আওয়াজে রেখাও ঘর থেকে বেরিয়ে আসলো এসে জিজ্ঞেস করল' কি হয়েছে কাকিমা?'.
" দেখ ,দেখ ,ননী, সত্যিই আজকে ননিরা আসাতেই মাছগুলো পড়েছে ।ভোলার তো জানিস ও মাছ  ধরার জন্য পাগল। গেছিল নদীতে কিছু পেয়েছে বোধহয় ।মাছ দেখ ,কি ,কি মাছ। 
"কি মাছ কাকিমা?"
"হ্যাঁ রে ভোলা,  মাছগুলোর নাম বল ।
নানা পদের মাছ এসেছে টেংরা, পুঁটি ,চান্দা গুড়া সোনা। খলিসা ,কয়েকটা খয়রা মাছ, চিংড়ি মাছ।'
"আরে ভোলা আজকে ওই ঘোষদের পুকুরে যাসনি?"
"হ্যাঁ গেছিলাম ওখানে অনেক ভিড় বলে চলে এসেছি।"
'জানিস ননী ওই ঘোষদের পুকুরে মাঝে মাঝেই শিঙি মাছ ,কই মাছ পায়  ওদেরকে দিয়ে আসে আবার কিছু বাড়িতে নিয়ে আসে।'
এসব মাছ তো হারিয়ে যেতে বসেছে রে।
একদম ঠিক বলেছো কাকিমা।
এই প্রজাতির মাছ এখন নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে, যেভাবে দূষণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। দের বাঙ্গালীদের সেরা মাছগুলো আর পাতে উঠবে না। পাতে উঠবে কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা মাছ।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'বেনের মেয়ে 'উপন্যাসে পড়িস নি আগে গ্রামে পুকুরে মাছ ধরার বিশাল বর্ণনা ।
শুধু উপন্যাসে কেন এটা তো সত্যিকারেরই ঘটনা কিন্তু আজ এসব হারিয়ে যেতে বসেছে।।
" তোদের এই ভোলা কাকাকে দেখে তাই সেই উপন্যাসের কথা আমার মনে আসলো।'
, ও ব্যাটা ওই মাছের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে।
এই নিয়ে কম বকা খায় ও আমার কাছে।
তবে যখন আবার মাছগুলো নিয়ে আসে দেখে প্রাণটা জুড়িয়ে যায়।
তোরাএসেছিস মাছগুলো পেয়েছে, তোদেরকে রান্না করে খাওয়াতে পারলে আমার ভালো লাগবে।'
কাকিমা রান্না ঘরে কি বসিয়ে এসেছ ,,?পোড়া পোড়া গন্ধ বেরোচ্ছে।"
"দেখেছিস বেগুন ভাজা ।উফ ভোলা সাধে কি তোর সাথে আমার রাগ হয়  ।বলেই কাকিমা ছুটতে শুরু করল। সব রাগ গিয়ে পড়লো ভোলা কাকার  উপর।
"ভোলা কাকা মাথা চুলকে বলে আমি আবার এখানে কি করলাম বলো তো ছোট বৌদি।"
"কি সর্বনাশ টা হল দেখে যা ।বেগুন ভাজার হাল কি হয়েছে ?জামাই মেয়ে এসেছে প্রথমেই পোড়া।
আবার বেগুন কেটে এবার বসাতে হবে।'
রেখা বললো 'ভোলা কাকা ঘোষেদের বাড়ি কি সেই  আগের মত জমজমাটি আছে? সেই লক্ষ্মীপূজো সরস্বতী পুজো একসাথে হয় , তা এখনো হয়?'
'আছে মামনি কিন্তু আগের মত সেই আনন্দ আর হয় না ।সবাই যে যার মত  বিদেশ বিভুইতে থাকে।ওই পুজোর সময় গুলোতে আসে , এই যা।
এখন তো পালা করে করে পূজো হয় বড় বাবুর পালা থাকলে বড়বাবু করে ,ছোট বাবুর পালা থাকলে ছোট বাবু করে এইরকম।
আর আগে তো সব একসঙ্গে পুজো হতো। কত লোকজন। গ্রাম শুদ্ধ লোকে সেখানে খাওয়া-দাওয়া করত।
এখন সব অতীত ইতিহাস।'
ভোলা কাকার কথায় রেখা চলে যায় সেই তার শৈশব কৈশোরের দিনগুলোতে সত্যি কি মজাটাই না করেছে পুজোর দিনগুলোতে । পুজোআসলেই ঘোষেদের বাড়িতে সাজো সাজো রব আর  শুধু ঘোষেদের বাড়ি নয় ,গ্রামের প্রত্যেকের মুখে তখন হাসি ফুটে উঠত।
ঘোষেদের বাড়িতে পুজো দেখতে গিয়েই তো নীলুদার সঙ্গে প্রথম বৃষ্টিতে ভিজেছিল প্রথম বোধহয় ভালোবাসার গন্ধটা অনুভব করতে পেরেছিল। 
কেমন একটা উদাসী হাওয়া এসে যেন রেখার মনটাকে টেনে নিয়ে যায় সেই কত বছর আগের দিনে বিস্মৃতির অন্তরালে হঠাৎ করেই যেন আনন্দের স্মৃতি উঁকি দিতে থাকে।
এমন সময় মনোজ  বলে রেখা," একটু তাড়াতাড়ি করতে হবে কিন্তু। বেরোতে হবে তো আমাদের।'
কাকিমা রান্না করতে করতে  শুনতে পেয়ে বলে, "আজকে তোমরা চলে যাবে?'
'না গেলে তো হবে না। বাড়ি ফাঁকা তো?'
"এ বাবা আমার এখনো রান্না বান্না কিছু হলো না কত কিছু রান্না করবো ভাবলাম।"
মনোজ বললো "অন্য একদিন এসে খাবো। 'সেগুলো তোলা থাক না কাকিমা আর তাছাড়া আমরা আসলে তো আপনি কম আয়োজন করেন না আবার কি করবেন?'
'তা কি হয় বাবা ।জামাই বলে কথা  বাড়িতে এসেছ।'
"ননীর মা বেঁচে থাকলে কি এরকম করে ছেড়ে দিতে পারতো?'
রেখা বলল' মা বেঁচে থাকলে কি হতো সেটা নয় থাক কিন্তু মা বেঁচে নেই বলে আমরা তার অভাবটা এক বিন্দু অনুভব করি নাই এই বাড়িতে এসে। হ্যাঁ, মা থাকার জন্য তো একটা অভাব বোধ কাজ করে কিন্তু কাকিমা, তুমি তো মায়ের জায়গাটা কখনো অপূর্ন রাখনি। আমরা কখনো সেই অভাবটা এখানে এসে বোধ করি না।"
"দাঁড়া কোথায় গেল দেখি সতী ।ভোলা ,ভোলা রে?'
ভোলার কাঁধে গামছা আর একটা ছোট্ট পিরিন পরেছে ।পিরিন বলতে এখানে হচ্ছে ওই ছোট ধুতি গুলো খুব ছোট্ট করে কেটে পরা।
তারপর ভোলা এসে জিজ্ঞেস করল 'ডাকছো ছোট বৌদি,?'
"আরে দেখ না সতী কোথায় আছে? ওকে ওই মাছগুলো তাড়াতাড়ি কেটে দিতে বল ,না,?"
"ও তো সারাক্ষণ সেই গান গেয়েই চলেছে অবসর সময়ে আর চোখের জল ফেলছে ।'
"দেখ ,দেখ, কোথায় গেল । কোনো পুকুর ধারে গিয়ে বসে আছে কিনা?'
"সতী দিদি ও সতী দিদি.. ই. ই কোথায় গেলা ।এইখানে আইসো । ভোলা আপন মনে বলল বাঙাল ভাষা সতী দিদির কাছ থেকে শিখছি। গলা খাকারি দিয়ে বলল 'তোমাকে ছোট বৌদি ডাকতাছে ।'
'ও যাইতাছি।'
'এটু তাড়াতাড়ি আইসো।'
"আমার হাত বান্ধিবি পা বান্ধিবি, মন বান্ধিবি কেমনে"গান গাইতে গাইতে সতী এসে জিজ্ঞাসা করল'
'কি কও ছোট বৌদি।'
'ওই মাছগুলো তাড়াতাড়ি কেটে দে।মেয়ে জামাই বাড়ি চলে যাবে।'
'ও দিতাছি তাড়াতাড়ি কাইটা।'
"ইতিমধ্যে মাংস বসিয়ে দিয়েছে।
সরষে ইলিশ টা ও  একদিকের উনুনে কড়াইতে চাপিয়ে দিল।
"ও ছোট বৌদি ,কইতাছি এই মাছ ভোলা দাদা কুন জায়ইগায় পাইলো।"
এই মাছগুলা দেইখ্যা আমার বাংলাদ্যাশের কথা মুনে পড়তাছে।
কতদিন পর এই মাছ দেখতাছি। বাংলাদ্যাশে কি কম মাছ খাইছি ।'
সতী তুই ওই বাইরের মাটির উনুনটাতে হাঁড়ি করে চাল ধুয়ে বসিয়ে দে ভাতের জন্য তাড়াতাড়ি। 
"হ দিতাছি।'
"ক্যা  মাইয়া জামাই এত তাড়াতাড়ি চইলা যাইব ক্যান।"
"বাড়ি ফাঁকা আছে রে।'
'ও তাইলে তো যাইতেই  অইব।'
মনোজ রেখাকে বলল 'মাসিকে একটা ফোন করো দেখো কি করছে?'
"হ্যাঁ ঠিক বলেছ ভুলে গেছি একদম।'
মনোজ মজা করে বলে' সে তো আমি জানি বাপের বাড়ি আসলে আর শ্বশুর বাড়ির কথা কিছু মনে থাকে না তোমার।
'সেবার আমি হারে হারে টের পেয়েছি।'
'হ্যাঁ ,তাইতো।"
"তাইতো মানে ?ভুলটা কি বলেছি বলো?'
কাকিমা বলল "আসলে বাবা ,মাটির গন্ধ। এ গন্ধ যাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ।তারা কখনো ভুলতে পারবে না গো।" 
সতী বলল "এক্কেবারে হক কথা কইছো ছোট বৌদি।
মাটির গন্ধে পাগলা অইয়া যাই।
নাইলে কতজুনা শহরে কাজের লাইগা কইতাছিল যাইতে পারতাইম ।যাই নাই।'
রেখা রিং করলো বাড়িতে ফোন বেজে যাচ্ছে।
"কি ব্যাপার মাসি ফোন ধরছে না কেন?'
মনোজ বলল'তোমার  বড্ড অধৈর্য  জানো তো? হয়তো কোথাও কোনো কাজ করছে ,এসে ফোনটা ধরতে পারে নি। আর একবার কর আগেই এত দুশ্চিন্তা কেন করো তুমি?'
রেখা আবার ফোন করলো ।রিং হল। এবার ফোন ধরে কথা বললো মাসি' হ্যালো'।
"হ্যাঁ মাসি, কি করছিলে প্রথমে রিং হয়ে গেল ধরলে না।"
"আর বোলো না ঐ কতগুলো অন্য পাড়ার কুকুর এসে মিলির বাচ্চাগুলোকে জ্বালাতন করছিল তাই তাড়াতে গেছিলাম।'
"ও আমি ভাবলাম ঘুমিয়ে পড়েছিলে বোধ হয়।"
"না গো বৌমা ঘুম আসে না।'
"তুমি খেয়েছ?'
"হ্যাঁ খেয়েছি আর তোমার বাচ্চাদেরকে ও খাইয়ে দিয়েছি।'
রেখা হেসে বললো, "আমি জানি তো তবু জিজ্ঞেস করলাম।"
বাচ্চাগুলো কিছু করছিল?
"হ্যাঁ ওরা তো মাঝে মাঝে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিল বোধহয় তোমাদেরকে খুঁজছিল।'
রেখা হেসে বললো পাগল বাচ্চা সব।
"আচ্ছা মাসি পার্থ ওষুধ দিয়ে গেছে তোমার?"
" হ্যাঁ ,দিয়ে গেছে খেয়ে নিয়েছি।'
ঠিক আছে প্রেসারের ওষুধ না খেয়ে থেকো না কখনো।
"তোমরা কখন আসবে বৌমা?"
"এইতো খেয়ে দেয়ে বেরোবো।'
কাকিমা তো আজকে থেকে যেতেই বলছিল।
'তবে থেকে এসো না।'
'না  গো মাসি পরের দিন স্কুল আছে আর বাড়ি ফাঁকা রেখে থাকা যায়?"
"ঠিক আছে মাসি, রাখছি।"
ঘর থেকে রেখার কাকা ডাকছে 'ননী, ননীমা আমার কাছে এসে একটু বস মা ।এরপরেই তো চলে যাবি ।ঘরটা ফাঁকা হয়ে যাবে। আবার সেই একা একা থাকা আমাদের।'
"হ্যাঁ যাই কাকা।আচ্ছা কাকিমা, সোমুরা আসেনি আর?"
"হ্যাঁ, এসেছিল। তোর কথা জিজ্ঞেস করছিল।'
"সমুকে তোমরা আর ভুল বুঝনা কাকিমা।'
"আর কি বলবো মা , সন্তান তো।'
"ও এখনও ওই কাজটা করছে তো?'
"হ্যাঁ করছে"।
"পাবলো কেমন আছে?"
"যা পাবলোর কথা হয়েছে। শুনলে তুই পাগল হয়ে যাবি।"
সতী দিদি বলল "এটটা কুটটিপাড়া পোলা,. হাইসা হাইসা মইরা যাইবা।'
রেখা ঘরে কাকার কাছে গিয়ে বসলো তারপর কাকার মাথায় দিলি কেটে দিতে লাগলো।
কাকা বলল 'ননী মা ,তুই আসলে যেন এই বাড়িটা একটা অনাবিল আনন্দে ভরে ওঠে ।এই বয়সে আমরা আর কি চাই বল মা ?একটু শান্তি ,একটু আনন্দ।'
'কিন্তু কাকা আমার খুব খারাপ লাগে আমরা আসলে কাকিমা, তোমরা যা ব্যস্ত হয়ে পড়ো কাকিমার কত খাটুনি বাড়তে থাকে বলো  তো? 'এখন তো বয়স হচ্ছে না?'
কাকিমা শুনতে পেয়ে বলল 'বয়স হলে কি হবে রে মা, এই আনন্দ বিশেষত সন্তান আসলে যে কি মায়েদের মনের অবস্থা হয়, তা বলে বোঝাতে পারবো না তোকে ।আমার কোন কষ্ট নেই মা।'
তোরা মাঝে মাঝে আসিস আমাদের শূন্য বুকে একটু আনন্দের দোলা দিয়ে যাস।'

কবি নর্মদা চৌধুরী (তুলিকা) এর কবিতা "কাল্পনিক রাজকন্যা"




কাল্পনিক রাজকন্যা
নর্মদা চৌধুরী (তুলিকা)

অবিশ্রান্ত বর্ষা শহর জুড়ে,
আমার চোখে তখন আবীর রাঙা বসন্তের আগমন ,
এলোমেলো চারধার।
চিরপরিচিত রাস্তায় চলছে ভালোবাসার প্রতিদ্বন্দ্বিতা,
দ্রুতবেগে ধাবমান কোন গাড়ির চালকের ভূমিকায় ....
তুমিও আমাকে টেনে নিয়ে চলেছো-
চিরবসন্তের কোন অচেনা গ্রামে !
নিঃশব্দে শিশিরের বিন্দু ভিজিয়ে দিয়েছে আমাদের আপাদমস্তক,
শতঝর্ণা খেলা করছে তোমার এলোচুলে।
এখন তুমিও রক্ত- মাংসে গড়া লিওনার্দোর মোনালিসা,
আর আমি নিখুঁত কোন গ্রীক যুবক।

বাস্তবিক সংসারের সাথে এভাবেই সহাবস্থানে দিব্যি বেঁচে আছে,
 আমার স্বপ্নের রাজকন্যা।
প্রতিদিনের একঘেয়ে জীবন‌ও মাঝে মাঝে খুব প্রিয় হয়ে ওঠে,
একটানা বৃষ্টি রচনা করে প্রেমের কবিতা ;
যে জীবন শুধু গদ্যময়,
যে জীবনে নিত্যদিনের সঙ্গী অভাব !
সে জীবনও  কাব্যিক হয়ে ওঠে!
যদি তুমি হাতে হাত রেখে দিয়ে যাও
প্রতিশ্রুতি.......
 আজীবন সাথে থাকার!!

কয়েকবার মৃত্যু কড়া নেড়ে ফিরে গেছে
প্রিয়তমা,
আমার বেদনার্ত চোখে সে পারেনি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে !
যে চোখে তুমি করেছো স্থাপন প্রেমের রাজত্ব,
সে চোখ তাই চির অপরাজিত অহংকারী মৃত্যুর কাছে।
বাস্তবিক সংসারে ভালো থাকতে চেয়েছিল
যে পথিক !
সেও আজ আনমনে খুঁজে চলেছে আশ্রয় তোমার আবেগী দৃষ্টিতে !
তুমিও তাই হয়ে উঠেছো আরো মোহময়ী;
আমার তোমার পাতানো সম্পর্কের লৌহজালে।
মনের বিনিময়ে মন নাকি শুধুই নিঃস্বার্থ প্রেম!
অস্বীকৃত সম্পর্কে।

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৮৭




ধারাবাহিক উপন্যাস 


শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৮৭)
শামীমা আহমেদ 

শিহাব,তোমাকে আমি কথাগুলো ওভাবে বলতে চাইনি। আরাফের জন্য তখন আমার মাথা ঠিক ছিল না।আমার কথায় তুমি কিছু মনে করোনা।
শিহাব হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল।কথাগুলো তার পেছন থেকে ভেসে আসলে শিহাব পিছন ফিরে তাকালো। পিছনে সুমাইয়া দাঁড়িয়ে। 
সুমাইয়া কখন এসেছে শিহাব তা টের পায়নি। শিহাব একটু বিরতি নিয়ে বললো,
না ভাবী, আমি কিছু মনে করিনি। তুমিতো ঠিকই বলেছো। আরাফের জন্য এখন মায়ের সান্নিধ্য ভীষণ প্রয়োজন। 
আচ্ছা শিহাব একটা কথা জানতে চাইতে পারি ? আবার অন্য কিছু ভেবোনা।
না না,, অবশ্যই জানতে চাইবে ভাবী।
সেদিন যে শায়লা মেয়েটিকে নিয়ে এলে,তা প্রায় দুইমাস হতে চললো। তার ব্যাপারে তুমি কি  সিদ্ধান্ত নিলে ?মেয়েটিকে তো ভালোই লাগলো। আরাফের সাথে খুব অল্প সময়ে বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল। আমরা তো ভাবছিলাম তুমি সহসাই কিছু বলবে। 
শিহাব ভাবলো সব না হলেও কিছুটাতো ভাবীকে বলা যায়।
ভাবী শায়লার বিষয়টি নিয়ে আমি খুব জটিলতার মধ্যে আছি। যদিও শায়লার দিক থেকে আমার প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা আছে।
কেন কি হয়েছে ? সে কি আর তোমার সাথে সম্পর্কে নেই ? নাকি তুমি বিবাহিত বলে  ওর পরিবার রাজী হচ্ছেনা? আমি কি কোন কথা বলবো ওদের সাথে ?
না না ভাবী, তার দরকার হবে না।
তাহলে কি দরকার আর জটিলতায় গিয়ে।এমনিতেই নানান ঝামেলা বয়ে গেছে তোমার জীবনে। এবার আমরা দেখে শুনে একজনকে আরাফের মা করে আনি।
শিহাব এর কোন উত্তর দিতে পারলো না।শায়লাও যে বিবাহিতা,আর  তা দেড় বছর  হয় বিয়ে হয়েছে। শায়লার বিয়ের পর তার সাথে পরিচয় সম্পর্ক, ঘনিষ্ঠতা  তা ভাবীকে  কিভাবে বলবে। সেতো  আজই চেয়েছিল শায়লাকে নিয়ে আসতে।শায়লাও রাজী ছিল কিন্তু আরাফের দূর্ঘটনা সব পালটে দিল। তাছাড়া আজই তার স্বামী কানাডা  থেকে দেশে  আসছে। দশদিন থাকবে, ফেরার সময় শায়লাকে তার সাথে করে নিয়ে যাবে। এমনও হতে পারে আজই আজীবনের জন্য শায়লার সাথে তার সম্পর্কের ইতি ঘটতে যাচ্ছে।যদিও শায়লা কে পাওয়ার জন্য সে সব রকম চেষ্টা করেও কোন কূল করতে পারছে না।তবে এইসব  কথা কিভাবে ভাবীকে বলবে। যদিও ভাবী খুবই আপনজন কিন্তু শায়্যলাকে নিয়ে তাদের মনে আশা জাগিয়ে কেমন করে সে স্বপ্ন ভঙ্গ করবে।
শিহাবের নীরবতায় সুমাইয়া বুঝে নিলো শিহাব আর শায়লা আরাফের বাবা মা হতে পারছে না। তবেতো রিশতিনাকে ফিরিয়ে দেয়া শিহাবের উচিত হয়নি।
তবে কেন রিশতিনাকে ফেরালে ? সুমাইয়ার কঠোর জিজ্ঞাসা।আরাফের সত্যিকারের মা তো রিশতিনাই। সেতো এসেছিল সন্তানের কাছে। তাকে তার সংসার ফিরিয়ে দিতে পারতে।
শিহাব  এবার বেশ স্পষ্টভাষী হলো। ভাবী,দয়া করে  রিশতিনার অংশটি ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করো। আরাফের জন্য মা দরকার আমি মা এনে দিলেইতো হয়।
এবার সুমাইয়া, একটু সাহস সঞ্চয় করে কথাটা বলেই ফেললো, তাহলে শিহাব আমার মামাতো বোন রুবিনা তোমাকে খুব পছন্দ করে।খবর দিলে সে এখুনি চলে আসবে। যদি তুমি তাকে গ্রহন করো। রুবিনা খুবই ভালো একটা মেয়ে।মাঝে মাঝেই আমাদের বাসায় আসে।সারাদিন আরাফের সাথে থাকে।ওর যত্ন নেয়। 
আরাফের জন্মের পর থেকে আজ অবধি ভাবীই আরাফকে আদর যত্নে বড় করছে। ভাবীর এমন চাওয়াকেতো তার সম্মান জানানো উচিত আর যেখানে আরাফের 
আজ এই অবস্থায় জ্ঞান ফিরলে সে মাকেই খুঁজবে।
ভাবী, শায়লার সাথে আমার একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছে।এখন হুট করে অন্য কাউকে বিয়ে করা সম্ভব না। সবদিক মেলাতে আমার আরেকটু সময় লাগবে।
শিহাবের কথায় সুমাইয়া বেশ হতাশ হয়ে কেবিনে ফিরে গেলো। 
শিহাব শায়লার কোন মেসেজ পাচ্ছে না। কি জানি কি হচ্ছে ওদিকে।শিহাব আর কিছু ভাবতে পারছে না। তার ভীষণ অসহায় লাগছে।প্রতিটি দিন সকাল হলেই সে ভাবে আজই শায়লা আমার কাছে চলে আসবে।আশায় আশায় বুক বেঁধে বারবার তা নিরাশায় ডুব দিচ্ছে।
কেবিন থেকে মা বেরিয়ে এলেন।শিহাব মায়ের দিকে এগিয়ে গেলো।  
বাবা, দুপুর হয়েছে। বাসা থাকে কিছু খেয়ে আয়। সুমাইয়া তো সকাল থেকে এখানেই।
বাসায় বুয়া সব রান্নাবান্না করেছে।যা, চারটা মুখে দিয়ে আয়।আরাফ এখনো ঘুমাচ্ছে। কখন যে জাগবে ?  জেগেইতো তোকে খুজবে।
তুমি কি খেয়েছো মা ? 
না, তা কেমন করে। আমি আর বৌমা তো এখানেই।বাসায় বাচ্চাগুলো মায়ের জন্য না খেয়ে আছে।
তাহলে বরং তোমরা বাসায় গিয়ে খেয়ে আবার আসো। আমি এখানে ক্যান্টিনে কিছু খেয়ে নিবো।
না তা কেন? বাসায় কত খাবার।আমি আর বৌমা গিয়ে তোর জন্য খাবার পাঠিয়ে দিচ্ছি।
না মা  শুধু ঝামেলা করোনা।
সুমাইয়া তৈরি  হয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে এলো। শিহাবকে উদ্দেশ্য করে বললো, আরাফ বেশ ঘুমাচ্ছে। ওর স্যালাইন চলছে।
আমি আর মা বাসায় যাচ্ছি। তোমার খাবার নিয়ে আবার আসছি। তুমি আরাফের কাছে ওর পাশেই থেকো।
মা আর সুমাইয়া বেরিয়ে  গেলো। শিহাব কেবিনে ঢুকে গেলো। আরাফের দিকে তাকাতেই অজান্তেই চোখ জলে ভরে গেলো। 
আহা,বাচ্চাটাকে রেখে আমি কিভাবে এতটা দুরে থাকি। 
ডাক্তার ভিজিটে এলেন। সব রকম রিপোর্ট দেখে জানালেন।নাহ, মাথের ভেতরে কোন ইনজুরি নেই। আজ রাতটা হস্পিটালে থাকুন।  ঘুম ভাঙলে বাচ্চার মা বাবা আপনারা কাছে থাকুন। বাচ্চা যেন উত্তেজিত না হয়।কাল দুপুর নাগাদ চলে যেতে পারবেন। নিয়মিত অষুধগুলো খাওয়াবেন। সেলাইটা আস্তে আস্তে শুকিয়ে যাবে। এক সপ্তাহ পর  আবার দেখিয়ে নিতে যাবেন।
ডাক্তারের কথায় শিহাব একটু নিশ্চিন্ত হলো।
সে চেয়ার নিয়ে আরাফের খুব কাছে বসে রইল। তার খেয়াল হলো, অনেকক্ষন শায়লার সাথে কথা হচ্ছে না।
সে শায়লাকে মেসেজ পাঠালো, কি করছো ?
তৎক্ষনাৎ শায়লার রিপ্লাই চলে এলো, এইতো সবাই এয়ারপোর্টে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে আছে,এক্ষুনি যাবে তাই দেখছি।
তুমি যাবে না অতিথিকে রিসিভ করতে ? 
তোমার কি মনে হচ্ছে? আমি যাবো ?
কি জানি শায়লা, আমি কিছু বুঝতে পারছিনা।তোমার ফেলে আমি কত দূরে চলে
এলাম।জানিনা তোমাকে ফিরে পাবো কিনা।
এভাবে বলো না শিহাব।আরাফ অসুস্থ। এখন ওর দিকে খেয়াল দাও। 
শায়লা আমি বোধহয় তোমায় হারিয়ে ফেলছি।
কখনোই না।কোনদিনই  না। আমি তোমার জন্য অপেক্ষায় থাকবো।
আচ্ছা রাখছি।কেউ এসেছে দরজায়।
আচ্ছা।ভালো থেকো।

শিহাব উঠে গিয়ে দরজা খুলতেই  ভীষণ  অবাক হলো! একজন  খুবই সুন্দরী মহিলা জানতে চাচ্ছেন,এটাই তো তিনশ চার ননবর কেবিন তাইনা ?
শিহাব বেশ  অবাক হলো? কে উনি? এই কেবিনে এলেন! 
আচ্ছা এখানে পেশেন্ট কি আরাফ, ছোট্ট শিশুটি ? 
শিহাবের আশ্চর্য  হওয়ার মাত্রা আরো বেড়ে গেলো!বললো,হ্যাঁ, আরাফ, আমার ছেলে।কিন্তু আপনি কে ?
আমি রুবিনা। আরাফের চাচী সুমাইয়ার মামাতো বোন। আমি প্রায়ই আরাফকে দেখতে আসি। ওর সাথে খেলা করি।কিন্তু আজ এসে শুনলাম আরাফ হসপিটালে। শুনেই তাই ছুটে এলাম ওকে দেখতে।
শিহাব এবার উনাকে চিনতে পারলেন।হ্যাঁ,তাইতো,অনেক আগে একবার ভাবীর বাসায় দেখা হয়ে ছিলো। ভাবীর অনেক ধনী বড় মামার একমাত্র মেয়ে। যার  জাকজমকপূর্ণ বিয়ের তিনদিন পর ডিভোর্স  হয়ে যায়। মেয়েটি খুব কোমল স্বভাবের।স্বামীর পরকীয়া সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি।আজ দুপুরে ভাবী যার কথা বলছিলেন।
রুবিনা হাতে খাবেরের ব্যাগ দেখিয়ে বললো,
আমি আরাফকে দেখতে আসবো  শুনে সুমাইয়া আপু আমার সাথে আপনার জন্য খাবার পাঠিয়ে দিলেন।
আপনি ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নিন।আমি আরাফের খেয়াল রাখছি।
শিহাবের বুঝতে কষ্ট  হলো না যে, ভাবী এটা ইচ্ছে করেই করেছে। যেন রুবিনার প্রতি শিহাব আগ্রহী হয়ে উঠে তারই চেষ্টা। 
এক কেবিনের ভেতর একজন অপরিচিত মহিলার সাথে সময় কাটাতে শিহাব ইতস্ততবোধ করছিল। শিহাব আড় চোখে  দেখেলো, রুবিনা তার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে।শিহাব বেশ অস্বস্তিবোধ করতে লাগলো।
আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন, আমি টেবিলে খাবার সাজিয়ে দিচ্ছি।
শিহাবের শায়লার কথা খু মনে হতে লাগলো।তবে কি শায়লাও এভাবে নোমান সাহেবকে খাবার সাজিয়ে দিচ্ছে ? 
আজ সকালে শায়লাকে  রেখে এসে সে বিরাট একটি ভুল করেছে। আর এজন্য সে নিজেকেই নিজে বারবার  ধিক্কার দিতে লাগলো।


চলবে....

কবি মোঃ শাহিনূর রহমান শাহীন এর কবিতা "আমি সৃষ্টির স্রষ্টা"




আমি সৃষ্টির স্রষ্টা
মোঃ শাহিনূর রহমান শাহীন 

আমি মৃত্যু -আমি জীবন দাতা,
আমি মূল -আমি সবার পিতা ? 
তোমরা সবাই আমার সন্তান, 
তোমাদের জন্যে আমার প্রেমের অনুভব -
তোমরা করেছ কী সত্যের সন্ধান ? 
আদম কে আমি করেছি সৃষ্টি, 
দিয়েছি জ্ঞান বিজ্ঞান সভ্যতা কৃষ্টি ! 
কত শিল্প - বিকল্প কত কী, 
এত পেয়ে আদম অবাধ্য - বন্য 
আমাকে দিতে চায় ধোঁকা ফাঁকি ? 
আমি সবার মাঝে - জীবন হয়ে, 
ক্কলবে বন্ধু কে সাথে নিয়ে ! 
প্রেমে বিভোর হয়ে - খেলি খেলা, 
আমি সত্য জাত আমি ছিফাত
বলো " লা ইলাহা ইল্লাল্লা! 
আমি সৃষ্টি করি আমি স্রষ্টা, 
আমি নতুন জীবনের স্বপ্ন ভ্রষ্টা! 
স্বীকার করো বা অস্বীকার, 
আমি জীবন মৃত্যু হয়ে -
দেহে জীবন্ত আছি সবার ?

কবি শরিফুর রহমান এর কবিতা "শরিফুর রহমান"




প্রয়োজন 
শরিফুর রহমান 

সত্যি বলছি; আমার চেয়ে
আমার প্রয়োজন গুলো তোমাকে
বড্ড ভালোবাসে।
তাঁরা তোমাকে আদর করে; বুকে টানে,
দু-হাত দিয়ে হৃদয় ছানে,
একটুখানি আড়াল হলে তুমি
অস্থির-চোখে জল আসে, 
ওঁরা... ওঁরা তোমাকে বড্ড ভালোবাসে।

আর; বাসবেই না কেন... বলো ?
আমার বুকের পাঁজরভাঙা
কষ্ট-পাথরগুলো-
ছড়ানো ছিটানো দুঃখগুলো-
না পাওয়ার শত-বেদনাগুলো-
কেমন করে বুকে তুলে আলতো ঝেড়ে 
গুছিয়ে রাখো নিপুণ ভাবে-
মিষ্টি হেসে যতন করে তোমার পাশে,
তাই তো ওঁরা তোমাকে; বড্ড ভালোবাসে।

প্রয়োজন গুলো আমার-
বৃত্তের মতো সাজিয়ে রেখেছে আমাকে, 
আমাকে ঘিরেই তো ওঁরা-
ওঁদের মাঝেই আমি।
তাহলে কি এই আমি টাই সবচেয়ে বেশি  
তোমাকে ভালোবাসি ?