০৫ নভেম্বর ২০২১

কবি বিকাশ সরকার আলোউৎসবে এবং আমরা দুইজন

ভালোবাসা থেকে প্রেম 

দেবব্রত সরকার 

                             বিতা নয় কবি।  হ্যাঁ তিনি কবি।  কবি বিকাশ সরকার।  নরম। উজ্জ্বল। মিষ্টি।  সুন্দর। নিরলস।  নির্মম।  সহানুভুতিশীল।  নিরহঙ্কারী একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ।  তিনি কবিতা যোগে নিজেকে মাখিয়ে রাখেন।  উপন্যাস তার প্রতিবাদের কথা বলে।  প্রেম মেখে ওঠে কবিতা।  বোধের মাঝে ডুবিয়ে রাখেন মন।  ভালোবাসার মাঝে খোঁজেন প্রাণ।  উদারতা এক বিস্ময়কর প্রকাশ।  উজ্জ্বল কচি হাসি আর যোগনিদ্রায়িত চোখ।  নিবিড় সান্যিদ্ধে কুড়িয়ে নেয় বুক।  অদ্ভুত মানুষ কবি বিকাশ সরকার। 

         কবি বিকাশ সরকার  এক বিশেষ মুহূর্তে                                 (ছবি দেবব্রত ও সানি সরকার )


 তাঁর লেখা কবিতার গোপন দৃশ্যে প্রেম প্রকৃতি হয়ে ওঠে অনন্ত।  ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে লেপটে থাকা সম্পর্ক যখনও তাঁর  হিংসা করে।  ভাবুক কবি নিয়তি মায়ায় নিজেকে খুলে খুলে দেয়। আদর ছুঁড়ে দেয় স্নেহভাজনদের দিকে। তাঁর চুপচাপ আর্তনাদ কেও দেখে , কেও দেখেও নির্বাক। অথচ কবি চুপচাপ। নেশা নেই শ্রেষ্ঠত্বের।  কাজ করে জান।  ভালোবাসা ছুঁয়ে ছুঁয়ে ঝরে পড়ে নদী। যেমন প্রকৃতি ভালোবাসে প্রাণ।  তেমনই ভালোবাসে কবি।  


      কবি বিকাশ সরকার                                 (ছবি তুলেছেন দেবব্রত সরকার) 

"কবিতার মাঝে এঁকে চলে প্রেম আর জীবনের কথা।  তিনি আর কেও নন কবি তিনি ব্যথা।"  এই কথায় কবিজীবনের সব উত্তর।  কবি বিকাশ সরকার  আজও একই ভাবে গতিময় জ্ঞান।  কবি বিকাশ সরকারের কবিতায় কি এক যাদুময় অনুভূতি। 

            কবি সানি সরকার                                                                          ছবি নিজস্বী 

আজ আলোউৎসবের দিনে হঠাৎ তাঁর বাড়িতে গিয়ে হাজির। আমি আর সানি মানে কবি সানি সরকার। সানি খুব ভালো কবিতা ও গল্প লেখে। পেশা বলতে  সাংবাদিকতা। তরুণ কবির মুখে একমুখ প্রাণচ্ছল মনখোলা আদুরে ভালোবাসার হাসি।  যে কেউ ভিজে যায় তার নরম হাসি আর সুরালো ভাষায়। 
.  

কবিতায় নিয়ে আসে প্রেম আর মায়া। কখনও বা হেসে খেলে জড়িয়ে দেয় মন। আবার কখনও ভালোবেসে ভিজিয়ে ফেলে চোখ।  কবিদেরই মনে হয় এমন হয়। ভালোবাসা তাঁদের বড়ই নিবিড়।  আর প্রেম অনন্ত।    খুব মজা করলো কবি বিকাশ সরকারের সঙ্গে।  দীর্ঘ ৬ বছর পর বিকাশঝোরা কে পেয়ে আপ্লোত কবি সানি সরকার। জড়িয়ে ধরলেন মায়াবী।  কবি তাঁর আদর দিয়ে ভাসিয়ে নিলেন আলো উৎসবের দিন। 


                                                                                                                
  

চলবে ....

রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়"২২

চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 




উদাসী মেঘের ডানায়   
                                                     ( ২২তম পর্ব ) 




                                                            সামিয়া জন্ডিস থেকে ভালো হবার পর বাববার ওর কানে ভেসে আসছে সৈকতের কথা ক্লিনিক ছাড়ো
বাসায় চিকিৎসা হবে , নয়তো ডিভোর্স দিবো আজ ও অফিসে এসে আগের মতো আর হাসিখুশি নেই
কেমন যেনো নিরব হয়ে গিয়েছে, তৃষ্ণা কিছু জিগ্যেস
করলে ও কিছু বলেনা। কল করলে ও বলে পরে শুনিস এখন ভালো লাগছেনা। আজ অফিস থেকে
স্যারএর রুম থেকে বেরিয়ে তৃষ্ণা কে বললো আমি
একটু কাজে যাচ্ছি এই বলে বেরিয়ে গেলো।
সামনে এসে দাঁড়ালো একটি খালি রিকসা তাকিয়ে
দেখে মহিলা চালক অবাক হয়ে বললো
-তুমি রিকশা চালাও?
-হ ম্যাডাম, ওডেন কই যাইবেন।

সামিয়া উঠে পড়লো- মেইন রোডে ধরবেনা, লাইসেন্স আছে?
মহিলা - আমিই আমার লাাইসেন্স।
খানিকটা যেয়ে সামিয়া বললো - তোমার নাম?
-নুরজাহান, হাজারিবাগ থানার সামনে থাকে পুলিশ
আমারে কিছু কয়না বেক্কে চিনে নুরজাহান কইলে
কই যাইবেন আপা কইলেন না।
পুরান ঢাকা সুপ্রিম কোটে।
চিনো রাস্তায় ধরবেনাতো তেমায়?
-না চিন্তা কইরেন না।
সামিয়া-তুমি ইন্জিন চালিত রিকশা চালাও কেনো?
নুরজাহান - কি করমু এক্সিডেন্ট আমার স্বামি বাচ্চা মইরা,গেছে আমার একটা হাত-পা ভাঙা,পেটের দায়ে
চালাই।
সমিয়া,অবাক হয়ে ওর জীবন কাহিনী শুনে ভাবলো
ও যদি একা বাচঁতে পারে আমি কেন বাচঁতে পারবোনা আমাকে পারতেই হবে যা,কষ্ট হউক একাই
বাচঁবো আর নয়।
কাজি অফিসে ঢুকে কথা বলে বেরিয়ে এলো
কাজি বললো দুদিনের ভিতর নোটিশ চলে যাবে
সামিয়া,বাসায় ফিরে সুটকেস গুছিয়ে বের হয়ে এলো।


                                                                            চলবে...

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক গল্প "অলিখিত শর্ত"৯




শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত 
                                              (পর্ব )
   শামীমা আহমেদ 



                                                প্রায় দুই আলমারী বোঝাই শিহাবের পোষাক,একটি তো স্যুট দিয়ে, তারপরেও তার মায়ের আলমারী দখলের চেষ্টা।আবার কিনতে গেলেই সাত আট সেট পোষাক একসাথে নিয়ে আসে,আরো চার পাঁচ সেট বানাতে দিয়ে আসেন টেইলারিং শপে। একসেট পোশাক একদিন পরলে আবার সেটা পরার জন্য ঘুরে আসতে কখনো দুই মাসও লেগে যায়। কেউ বলবে না এক পোষাকে তাকে দুই দিন দেখেছে।অবশ্য গ্রামে গেলে অনেক কাপড় বিলিয়ে দিয়ে  কিছু  কমিয়ে আসে।আবার যা তাই,নতুন নতুন  কিনে আলমারী ভরিয়ে ফেলা।
আর মা এতে বেশ বিরক্ত।দরকারের সময় প্রয়োজনীয়  জিনিসপত্র খুঁজে পায়না।সেই কলেজ লাইফ থেকে শিহাবের এই পোষাক বিলাসিতা।মাতো প্রায়ই বলেন, তোর কাপড়চোপড়ের যন্ত্রণায় আমার বাড়ি ছাড়তে হবে। এগুলো দিয়ে একটা শোরুম খুলে ফেল।বিক্রি হলে কিছু আয় হবে,ঘরে কিছুটা হলেও কাপড় কমবে।  মায়ের এই রাগ সবই বৃথা যায়।মা খুব ভালো করেই জানে কাপড়ের সাথে শিহাবের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। সে টিপটপ চলতে পছন্দ করে।সেই যে সেই কলেজ জীবনে ফার্স্ট ইয়ারে কলেজে যাবার জন্য দুই সেট শার্ট প্যান্ট আজো রয়েছে স্মৃতি হয়ে।ঘড়ি আর সানগ্লাস এগুলোতো ব্র‍্যান্ডেড হতেই হবে।জুতা! সেও এক ইতিহাস। যেমন জুতার সংগ্রহ তেমন তাদের যত্নআত্তি।দেশের বাইরে গেলে বাড়তি  সুটকেস কিনতে হয় জুতা ক্যারি করতে। আর যখন বাইরে  বেরুবে সুগন্ধিতে তো সারাবাড়ি মৌ মৌ করবে!
দু তিনটে পারফিউম মিশিয়ে স্প্রে করা শিহাবের হ্যাবিট।একসময় খুবই সৌখিন ছিল এইসব নিয়ে।এখন কিছুটা কমেছে।তবে পরিস্কার পরিচ্ছন পরিপাটি পোষাকে নিজেকে খুব যে জাহির করে সেটা নয়,  শিহাব বরাবরই খুবই মার্জিত  আর সংযত তার চালচলনে।একসময় উঠতি তরুণ বয়েসে নিত্য নতুন পোষাকে  সেকি রোমিও রোমিও ভাব নিয়ে চলা! মেয়েরা জানালা, দরজার আড়াল থেকে, বারান্দায় কাজের অজুহাতে কিংবা মোড়ের দোকানে কিছু কেনাকাটার ছলে  শিহাবের আড্ডার পাশ দিয়ে ঘুরে আসতো।সে সব দিনের কথা ভাবলে শিহাবের বেশ হাসি পায়।কিন্তু শিহাবতো শুধু একটা বারান্দারই অপেক্ষায় থাকতো।
তা হউক কড়া রোদ, ঝড়, বৃষ্টি কিংবা প্রচন্ড শীত আর এরজন্য বন্ধুদের নিয়ে কত হাজার  টাকা যে চায়ের বিল দিতে হয়েছে!

শিহাব চা খেয়ে গোসল সেরে নিলো।ঘড়ির কাটা আটটা ছুঁই ছুঁই। মা নাস্তা নিয়ে অপেক্ষায় থাকবে।গতরাতে মা আর আরাফের জন্য যা যা কেনাকাটা করেছিলো সেগুলো একেএকে গুছিয়ে নিলো। নিজে গুলশান মার্কেট থেকে কেনা প্রিন্টেড শার্ট, মিলিয়ে প্যান্ট আর গায়ে সুগন্ধি ঢেলে  নীচে নেমে এলো।আকর্ষণীয়, সুন্দর সুপুরুষ বলতে যা বুঝায়!এদেরকে ফিল্মেই মানায়। সিনেমার পর্দায় দারুণ দেখায় আর দর্শকরা তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে।হিরো হওয়ার প্রস্তাবও দু'একবার এসেছিল। দূরসম্পর্কের এক সিনেমা মামা আছেন।সিনেমার পরিচালক।ছোটবেলা থেকে এই নামেই চিনে তাকে।সিনেমা বানায় বলে নামের সাথে সিনেমা শব্দটা জুড়ে গেছে। সেই সিনেমা মামা ছোট বোন শিহাবের মাকে বলেছিল, ছেলেকে নায়ক বানাবি নাকি? তাহলে পাঠিয়ে দিস,,
কোথায় কি! নায়ক! সন্ধ্যা হলে মা পিটিয়ে পড়াতে বসাতেন।পড়ালেখা ছাড়া কোন কথা নেই।বাবা বিদেশ থেকে হাঁড়ভাঙা খাঁটুনি করে টাকা পাঠায়। কড়া নির্দেশ, দুই ছেলে যেনো মানুষ হয়। শিহাবের বড় ভাই শাহেদ ছিল খুবই মেধাবী।তার সাথে তুলনায় শিহাব বরাবরই পিছিয়ে যদিও দুষ্টুমিতে এগিয়ে।
শিহাবের সিনেমার নায়ক হওয়া হয়নি তবে তার ভেতরে শিল্প সাহিত্য গান সিনেমা এইসব  নান্দনিকতার প্রভাব প্রবল।সে যেমন আবেগী তেমনি রোমান্টিক। 
শিহাব তিনতলা থেকে নেমে এলো। নিজে  হাতে বাইকটা মুছে নিয়ে চোখে সানগ্লাসটা বসিয়ে বাইকে স্টার্ট দিল আর সাথে সাথেই প্রতিদিন নিয়ম করে যে ব্যাপারটা ঘটে যাচ্ছে, নীচতলার ভাবী দরজা খুলে তাকে উৎসুক চোখে একনজর দেখে নিচ্ছে। শিহাব ব্যাপারটা বেশ এনজয় করে।আর সামনের বিল্ডিংয়ের ডাইনিং এর পর্দাটা একটু সরবেই।কিন্তু কে আছে পর্দার পিছনে তা আর দেখা হয় না।শিহাব এসব ব্যাপার ফেস করে অভ্যস্ত।এ এলাকায় শিহাব নতুন।তাকে দেখবার উৎসুক চোখ তো থাকবেই!
শিহাব মনে মনে দিনের প্ল্যানটা করে নিলো। উত্তরা থেকে জিগাতলা যাওয়ার পথে পরীবাগের পেট্রোল পাম্প থেকে বাইকের জন্য তেল নিতে হবে।আর কিছু না ভেবেই  শিহাব বাইক স্টার্ট দিয়ে ঝিগাতলার দিকে ছুটলো।
চলবে....

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"৩৭

কান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "




 'টানাপোড়েন' (৩৭)

 এক রাস্তা হ্যায় জিন্দেগি



                                   রেখা হঠাৎ করেই দেখছে পরপর কতগুলো মেসেজ ঢুকছে। রেখা হোয়াটসঅ্যাপটা চেক করে দেখে স্কুল গ্রুপে মেসেজ ঢুকেছে। রেখা চশমাটা পরে ভাল করে দেখল"আরে এ তো এমসিকিউ 'এর মূল্যায়ণের জন্য খাতা ইমিডিয়েট সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে। আগামী পরশু দিন খাতা জমা দিতে হবে।'
রেখা দেখল  'আজকে তো  স্কুলে যায় নি। হাতে সময় মাত্র একটা দিন ।কালকে স্কুলে গিয়ে খাতা এনে চেক করে দেয়া অনেকটা টাফ ব্যাপার ।কি হবে এখন ?এদিকে মনোজ ও  ফেরে নি ।ওদিকে কী হলো কে জানে? রিম্পাদিকে বললে হ'তো, খাতাটা যদি নিয়ে আসতো, স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যেত। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে ,সে সময় পেরিয়ে গেছে। এখন তো বলেও লাভ নেই। রিম্পাদি তো ট্রেনে চেপে পড়েছে ,কি হবে? শরীরটাও ভাল নেই। কী যে হচ্ছে ,কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না ।সবকিছু কেমন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে।'
 অন্যদিকে মিলি  চেঁচাচ্ছে। বাবা, ওর আবার খিদে পেয়ে গেল। এত ঘনঘন খিদে পাচ্ছে। ওকেই বা দোষ দিয়ে লাভ কি ?বাচ্চারা বড় হচ্ছে, দুধ খাচ্ছে ,ওর ক্ষিদের পরিমাণ বাড়ছে, তাছাড়াও ঠিক করে না খেলে বাচ্চাদের দুধ ই বা পাবে কোথা থেকে?এই ভেবে গেল মিলিকে কিছু খাবার দিতে। মিলির কাছে যেতেই মিলি রেখাকে ওর ভাষায় রাগ দেখাতে লাগলো ।মানে ওর ভাষায় কিছু বলতে চাইছে যে এত দেরি করে দিচ্ছ ?খিদে পাচ্ছে ।তোমার কি টাইম জ্ঞান নেই?
রেখা হেসে বলল '  মা গো, আমার তো কাজ থাকে নাকি, রাগ কোরো না। খেয়ে নাও। '
মিলিও সেই কথা শুনে রেখার দিকে একটু তাকালো, তারপর লেজ নেড়ে খেতে শুরু করল।
এরমধ্যেই শুনতে পেল ঘরেতে ফোনে আওয়াজ হচ্ছে। রেখা মিলিকে খেতে দিয়ে ছুটল ফোনের দিকে।যেতে যেতে ফোনটা কেটে গেল। ভাবলো হাতটা ধুয়ে নিয়ে ফোনটা রিসিভ করবে ।
এরমধ্যে আবার ফোন বেজে উঠলো। রেখা হাত ধুতে গিয়ে আবার ফিরে আসলো ।বাহাতে ফোনটা রিসিভ করল ,ডান হাত টা তখনও এঁটো।
 রেখা বলল  '"হ্যালো।
অপরপক্ষ বলল 'এই রেখা আমার ট্রেন পালপাড়া ছাড়ছে ।তুই রেডি হয়ে স্টেশনে চলে আয় ।আমি তোর খাতাগুলো নিয়ে এসেছি ।কারণ খাতাগুলো চেক করে তাড়াতাড়ি জমা দিতে হবে।'
রেখা খুব খুশি হয়ে বলল  'তুমি কি করে আমার মনের কথা বোঝো রিম্পা দি ।সত্যিই তুমি ছাড়া কে বুঝবে আমাকে বল তো?'
রিম্পাদি বলল  ,'কি হয়েছে বল তো? হঠাৎ এরকম বলছিস কেন?'
রেখা বলল  ' মনে মনে এটাই ভাবছিলাম যে রিম্পাদি   কে বললে তো, খাতাগুলো দিয়ে যেত। মেসেজটা একটু আগে দেখতে পেলাম। আরেকটু আগে যদি বড়দি মেসেজ দিত। তাহলে হ'ত।'
রিম্পাদি বলল  'আমি জানি তো। সেই জন্যই তো আমি তোর খাতাগুলো নিয়ে আসলাম।'
রেখা বলল  'তোমাকে আমি থ্যাঙ্কস জানাবো না ।কারণ থ্যাংকস জানিয়ে আমি তোমাকে ছোট করতে চাই না ।তোমাকে আমি সব সময় আমার হৃদয়ের ভালোবাসায় তোমাকে সংযুক্ত করতে চাই। করতে চাই বললে ভুল, তুমি তো সংযুক্তি হয়েই গেছে ।না হলে বুঝলে কি করে আমার মনের কথা বল?
রিম্পা দি বলল ' হু, মন ভেজানো হচ্ছে না?'
রেখা বলল  ,'না গো রিম্পাদি ,মন ভেজানো নয় ।সত্যি কথা বলছি।'
রিম্পা দি বলল 'ঠিক আছে তাড়াতাড়ি চলে আয় ।খাতা গুলো নিয়ে যা।'
রেখা বলল 'হ্যাঁ, তুমি রাখো ফোন ।আমি স্টেশনে যাচ্ছি।'
রেখা রেডি হয়ে হন্তদন্ত হয়ে কোনরকমে একটা অটোকে পাকড়াও করল। অটো তো অলরেডি বুকিং ।এবার খুব চেপে চেপে বসতে হবে।
 অটোওয়ালা দাঁড়াতেই চাইছিল না। জোরজবস্তি
করে রেখা বলে ' এ‌ই অটো দাঁড়াও, রোজ যাই।'
অটোওয়ালা বলল ‌'না দিদি ,আপনি যেতে পারবেন না ঠাসাঠাসি করে বসতে হবে।
রেখা বললো  'আমাকে যেতেই হবে । আমি জানি এই ট্রেনটা মিস করলে আমার অসুবিধা আছে।'
অটোওয়ালা বলল  'কি বলব দিদি, বলুন তো ?আপনারা ডেলি প্যাসেঞ্জার করেন, কিছু বলার নেই ।ঠিক আছে উঠুন ।কষ্ট করে বসতে হবে আপনাকে।'
রেখা কোন কথা না বলে অটোতে উঠলো আর মনে মনে ভাবল অটোওয়ালা তো ঠিকই বলেছে। কিন্তু আমার তো কিছু করার নেই আর তাছাড়া অটোতে বসে আর যা কান্ড হবে, সেসব হজম করতে হবে ।তার চেয়ে মনে মনে ভালো কথাগুলো ভাবতে থাকি ।রিম্পাদির সঙ্গে দেখা হবে ,খাতা পাবো -এই খুশিতে যেটুকু পথ অতিক্রম করা যায়।
এই করতে করতে কল্যাণী স্টেশন এর কাছে নামিয়ে দিলো আর ঠিক তখনই ট্রেনটা ঢুকলো রেখা ছুটতে ছুটতে প্লাটফর্মে এসে  উপস্থিত হল। রিম্পাদি ও একগাল হাসি নিয়ে গেটের কাছে দাঁড়িয়ে । বলল 'এই নে ,তোর আমানত। আমি খুব টেনশনে ছিলাম। কি জানি তুই আসতে পারবি কিনা?'
রেখা বলল  'আর বোলো না, আসতে পারতাম না ।অটোওয়ালা কিছুতেই তো আমাকে অটোতে তুলে ছিল না ।নেহাৎ ডেলি প্যাসেঞ্জার বলে এই ফ্যাসিলিটি পেলাম জানো তো?
যাই হোক আজকে নেমে যাও না ?কালকে একসাথে যাবো স্কুলে।
রিম্পা বলল  ' হ্যাঁ , তাই  আর কি ?আমার বাড়িতে মেয়েটা রয়েছে ,আমার বর রয়েছে ।আমি না বলে কয়ে, হঠাৎ করে তোর বাড়িতে থেকে যা ই তাই না ?ঠিক আছে অন্য দিন আসব ।
এর মধ্যে  ট্রেন ছেড়ে দিল ।
ভালো থাকিস ।'হাত নাড়তে লাগল দুজনেই।
রেখা যতদূর ট্রেনটাতে রিম্পাদিকে দেখা গেল ,তাকিয়ে রইলো ।তারপর আবার অটোতে এসে বসলো। খেয়াল করে নি সেই অটোতেই বসেছে।
অটোওয়ালা তাকিয়ে বলল ' ও দিদি আপনি ট্রেনে গেলেন না ,এত হুটোপাটি করে যে আসলেন?'
রেখা একগাল হেসে বলল ' একটু দরকার ছিল দাদা।এই ট্রেন মিস করলে আমার খুব অসুবিধা হতো এইজন্য'।
অটোওয়ালা বলল ' তখন যা কষ্ট করে আসলেন ।এখন একটু জায়গা নিয়ে ঠিক ভালোভাবে যেতে পারবেন। বলেই হাঁকতে লাগল বুদ্ধ পার্ক, বি ব্লক ,বাগের মোর ।
এরমধ্যে মনোজ ফোন করলো ।
রেখা ফোন রিসিভ করে বলল' হ্যালো'।
মনোজ একটু অবাক হয়ে বলল ' আরে তুমি কোথায় ?আজকে স্কুলে যাও নি তো?'
রেখা বলল  'একটু স্টেশন এসেছিলাম। দরকার ছিল।'
মনোজ বলল  'এদিকে বাড়িতে এসে দেখি। ‌ মিলি কি চেঁচানো চেঁচাচ্ছে। আমাকে দেখে একটু শান্ত হলো।'
রেখা বলল 'আর বোলো না, ওর খাবার টাইম হয়ে গেছে।'
মনোজ বলল ।'আমি ওর খাবার দিয়ে দিয়েছি।'
রেখা বলল ' ও তাই? ভালো করেছো। ওদিকের কি খবর গো?'
মনোজ বলল  'আবার ডেট পড়েছে। জজ যা বলল তোমার বোনের তো লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাবার মতো।'
রেখা বলল ' ঠিক আছে ।আমি বাড়িতে গিয়ে শুনবো'।
এর মধ্যে অটোওয়ালা গান চালিয়েছে 'এক রাস্তা হ্যায় জিন্দেগি,যো থাম গ্যেয়ে তো কুছ  নেহি....।'
রেখা মনে মনে ভাবতে লাগল সত্যিই তো তাই আমাদের জীবনটাও ঠিক তাই।  
অটোওয়ালা বলল  'দিদি ,এসে গেছেন নামুন।'
রেখা বলল ' আচ্ছা, আচ্ছা ।এই নিন ভাড়া।'
 ভাড়া মিটিয়ে রেখা বাড়িতে ঢুকলো।
বাড়িতে এসে দেখে মনোজ কফি করে বসে আছে।
মনোজ বলল এই মাত্র কপি করলাম ফ্রেশ হও তাড়াতাড়ি।একটু গল্প করি দুজনে।'
রেখা কেমন অবাক হয়ে গেল ।কালকে অবধি তার জীবনটা কি অবস্থায় ছিল ?
এক টলমলে তরী ।যার মাঝির বেহাল অবস্থা ।আদৌ তরী তীরে নিয়ে গিয়ে থামাতে পারবে কিনা ?জীবন বিপর্যস্ত হয়ে যাবে কিনা? একটা টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে কাটিয়েছে ।আজকে মনোজকে অন্য মুডে দেখে রেখার চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগলো ।
মনোজ  বলল ' তুমি কাঁদছো কেন ?যাও ফ্রেশ হও।' রেখা তারপরও যখন নড়লো না।
 তখন মনোজ এসে রেখাকে হাত দুটো ধরে বলল  'সরি ,আমি যদি কোন খারাপ ব্যবহার করে থাকি, তার জন্য।আমার যে কি হয়েছিল..? আদপে আমি একটা সমস্যায় আছি ।তোমাকে না পারছি বলতে কি ভাববে ,না ভাববে ?আগে সমাধানটা করি ।তারপর তোমাকে সব বলবো ।আমার কোন কথা তো তোমার অজানা নয় ।শুধু হঠাৎ করে একটা উটকো ঝামেলায় মধ্যে কিভাবে জড়িয়ে গেলাম বুঝতে পারছি না। শুধু এটুকুই বলবো যে আমি ,আছি থাকবো তোমারি। তবে আমার কিছু খারাপ আচরণের জন্য সত্যিই আমি লজ্জিত।'
রেখা বলল 'এই যে তুমি মন খুলে আমাকে কথাটা বললে এতেই আমি খুশি। তোমাকে ঐরকম অবস্থায় দেখলে আমি একদম ভালো থাকি না।'
মনোজ বলল  'আসলে কেন যে আমি তোমার সাথে এরকম ব্যবহার করলাম আমি নিজেও জানি না।'
রেখা বললো ' ছাড়ো, যা হবার হয়ে গেছে। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি। দুজনে মিলে অনেকদিন পর বসে বসে আবার কফি খাবো  , গল্প করবো। আমাদের ব্যস্ততম জীবনে এই টুকুই অক্সিজেন।'
রেখা ফ্রেস হতে চলে গেল।
বাথরুম থেকেই রেখা ফোনের আওয়াজ শুনতে পেল। মনোজ ফোনে কথা বলছে  'হ্যালো'।
অপর পক্ষ বলল  'আমি সুরো বলছি।'
মনোজ বলল ' হ্যাঁ বল।'
সুরঞ্জন বলল 'তিথিটা এত নির্লজ্জ হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে তোকে এবার ডিএনএ টেস্ট করতে হবে? না হলে তুই এই সমস্যার সমাধান করতে পারবি না।
মনোজ বলল 'ডিএনএ?'
রেখা কলের জোরটা একটু কমিয়ে দিল বাথরুম থেকে ডিএনএ টেস্টের কথা শুনতে পেল। ভাবলো 'কেন, ডিএনএ টেস্ট কেন হবে?'
সুরঞ্জন বলল 'আরে তুই তো ফ্রেশ আছিস, তোর এত চিন্তার কি আছে? তাছাড়া  এই যাত্রায় তুই রক্ষা পাবি না।'
মনোজ বলল 'ও তো চিরকাল টাকার জন্যই সবকিছু করেছে। ও টাকার  পেছনে ছুটেছে বলে আমার ভালবাসাটাকে অস্বীকার করেছিল ।আজকে আবার আমার কাছেই ছুটে এসেছে । এখন আমি তো ওকে মনেপ্রাণে চাই না।''
রেখা বাথরুম থেকে কথাগুলো শুনতে পাচ্ছে আর ভেতরে ভেতরে একটা  কষ্ট পাচ্ছে। 
রেখা ভাবছে যখনই ক্ষণিক ভালোবাসার সুখে হাসি ফুটে ওঠে ,তখনই কিছু না কিছু খারাপ সময় রেখার জীবনে এসে হাজির হয়।
 আবার কোন কালবৈশাখী ঝড় আসতে চলেছে জীবনে কে জানে ?আদপেও এই ঝড়-ঝঞ্ঝার হাত থেকে মনোজকে, নিজেকে রক্ষা করতে পারবে কিনা?
কথাগুলো মনোজ  আস্তে আস্তে বলছে না জোরেই বলছে। এটুকুর ভরসায় বুকে বল পাচ্ছে।

গুলশান আরা রুবী




অন্তরে যার স্থান


তুমি কষ্ট দেয়া বন্ধ করো না-
তাতে কি হবে 
ভুলতে চাই না সহজে তা আমি 
তুমি কি তা বুঝবে।

যতদিন বেঁচে রইবো এ ধরণীতে- 
কামনা থেকে রেহাই নেই নিশ্চয়ই!
তবে একবার ভেবে দেখ তো 
যা আছে সব রেখে যাবে কিছুই আপন নয় তো ।

ঐ কষ্টগুলো ভীষণ মধুরতম-   
তোমার কষ্ট থেকে চাই না পরিত্রাণ !
তা নিয়েই যেন পাই পরপারে স্থান।।

জীবনে যা ভাবেনি তাই পাই 
আসলে এমন বুঝি পৃথিবীর জীবনটাই !
সময়ে সাথে বদলে যায় মানুষের রুপ 
বদলে যায় আচার ব্যবহার 
বদলে যায় রীতিনীতি এটাই জীবন।

রাবেয়া রুবি




ফেরারী মন 


সেই কবে হারালো ভালোবাসার নক্ষত্রগুলো
লুকায়িত হয়ে প্রাপ্তি খুঁজে পেলনা, 
অনুরাগের সবুজ গালিচায় ভালোবাসা আর
ঈর্ষা পাশাপাশি  শুয়ে থাকেনা। 
রাত নেমে এলেই গোধূলির লালিমা, ধূসর রঙের  সমাপ্তি, 
তবুও ডুবন্ত সূর্যের ঝলকানির মাঝেও আকাশ খুঁজে প্রাপ্তি।
পরম ভালোবাসা গুলো ঝুলে থাকে শূন্য আকাশে নিস্তব্ধতায়, 
আঁকা হয়না  রঙিন আল্পনাগুলো  নির্জন রাতের জ্যোস্নায়। 
জীবনের দোলাচলে মিশে আছো
জীবনেরই  প্রতিচ্ছায়া  হয়ে, 
সব ভাবনাগুলোও  জুড়ে আছো
আদুরে মায়া নিয়ে। 
প্রকৃতির নিয়মের বেড়াজালে সব ঠিক আছে
স্বপ্নগুলো ঘুরেফিরে দমকা হাওয়ার মাঝে।
কতদিন হলো একসাথে নতুন সূর্যোদয়  দেখা হয়না,
এখন আর শিশিরেও পা ভিজানো হয়না, 
মন যমুনায় ঢেউ উঠলে ভোরের শুকতারা হয়ে এসো, 
তখন শুনবো পাখ- পাখালির  কলতান,
পরিযায়ী পাখিরা দলবেঁধে এসে ফিরে যাবে,
হয়তো রেখে যাবে মহা মিলনের  গান।
কতটা সময় পাড়ি দিয়েছি কত বাঁধা-বিপত্তির  পথ, 
প্রহরগুলো অমলিন সোনালী  ছিল,থমকে যায় সবকিছু হঠাৎ। 
সাজানো পৃথিবী  থেমে যায়,সবকিছু  নিস্তব্ধ তায়,
থেমে নেই শুধু  সময়ের গতিবেগ, আর নতুন চলার গতি যত,
প্রকৃতিও তালে তালে মিলে যায়  সব - ই  আগের মত।

লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল"১৮

চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শান্তা কামালী'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "বনফুল" 





বনফুল
                     ( ১৮ তম পর্ব) 
 

জুঁই উপরে উঠে হাত পা ছেড়ে শুয়ে পড়ল,ঘড়িতে তখন তিনটে বাজে। ফোনটা হাতে নিয়ে পলাশকে ফোন দিল, ওপাশ থেকে পলাশের কণ্ঠে বললো কেমন আছো জুঁই ? স্যরি জুঁই আমি আর তোমাকে ফোন দিতে পারিনি! এপাশ থেকে জুঁই বললো its Okay আমি তো দিচ্ছি, মোট কথা একজন দিলেই হলো।
আমিও ব্যস্ত ছিলাম তাইতো তোমাকে ফোন দিতে পারিনি, এখন বল তোমার বন্ধু কেমন আছেন?  
হুমমম ভালো আছে, এতক্ষণ পর্যন্ত তোমার গল্পই হচ্ছিল..... 
জুঁই হাহাহা হাহাহা হাহাহা  হেসে উঠলো! আমায় নিয়ে আবার গল্প করার কি আছে, আমি সাদামাটা একটা মেয়ে মাত্র,আমি তো ক্লিওপেট্রা নই। আচ্ছা তোমাদের বন্ধুত্বের গল্পে ভাগ বসাতে চাই না, কালকে ঠিক সময়ে চলে এসো। ফোন রাখছি বাই বাই বলে জুঁই ফোন কেটে দিলো। কিছুক্ষণ চুপ করে শুতেই ঘুমিয়ে পড়েছে জুঁই। পাঁচটায় জুঁয়ের ঘুম ভাঙ্গলো, হাতমুখ ধুয়ে নিচে নেমে আসতেই ময়না জিজ্ঞেস করলো আপামনি আপনাকে চা দেবো না কফি?  
জুঁই বললো কফি দাও সাথে হালকা কিছু স্ন্যাকস দিও।
আজ জুঁয়ের মা ভীষণ ব্যস্ত কালকে বাসায় মেহমান আসবে, তাই আজ থেকে সব কিছু গুছিয়ে রাখছে, যেন সকালে নাস্তার পরই একে একে সব রান্না করে নিতে পারেন।
আজ জুঁই বাবা-মায়ের সঙ্গে চুটিয়ে গল্প করলো রাত দশটা পর্যন্ত, তারপর ময়না টেবিলে খাবার পরিবেশন করেছে। বাবা-মা মেয়েতে ডিনার শেষ করে। গুডনাইট বলে জুঁই  উপড়ে উঠে এলো। 
দাঁত ব্রাস করে ফ্রেস হয়ে জুঁই শুতে যাওয়ার আগে নিজেকে একবার আয়নায় দেখে নিলো।তারপর ভাবলো কালকে কি ড্রেস পরবে।কোন বডি স্প্রে টা পলাশ কে বেশী আকর্ষণ করবে,এইসব ভাবতে ভাবতে একটা চুড়িদার ওড়না, ইনার গার্মেন্টস সবকিছু গুছিয়ে রাখলো।পড়ার টেবিলে একটা ফটো ফ্রেমে নিজের একটা হাল্কা পোশাক পরা ছবি লাগিয়ে বসিয়ে দিলো।আবারও আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বিনুনি দুটো পেছন থেকে সামনে এনে বুকের দুপাশে দুলিয়ে দিয়ে নিজেকে দেখে নিজেই হেসে ফেললো। প্রতিবিম্ব কে যেন নিজেই প্রশ্ন করলো",উঁ এইটুকু মেয়ে আবার প্রেম করে"।ঠোঁটের ওপর হাল্কা করে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে মুখটা এঁকিয়ে বেঁকিয়ে নিজেকে মুগ্ধ হয়ে দেখছিলো,এমন সময় 
 পলাশ একটা গুড নাইট মেসেজ পাঠালো।ফোনটা হাতে নিয়ে পলাশ কে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,তোমার বন্ধু কি ঘুমিয়েছে, না-কি এখনো আমাকে নিয়েই.....। পলাশ বললো, এতোক্ষণে ঘুমিয়েছে বলেই তো শুভ রাত্রি জানাতে দেরি হয়ে গেলো।
একটা মিষ্টি হাসির মৃদু শব্দ শুনিয়ে পলাশ কে শুভ রাত্রি জানিয়ে জুঁই ঘুমাতে গেল।


                                                                                                                                      চলবে। ....