০৭ অক্টোবর ২০২১

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"২২

কান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "। 




                                                               টানাপোড়েন (২২)

                                                          মন খোঁজে ভালোবাসার নীড়


                                                        দীর্ঘ ৭৫ বছরের বাড়ি। একসময় এই বাড়ি শহরের লোক চোখ তুলে তাকিয়ে দেখত। নামডাকও   ছিল  বাড়ির। এখনো চোখ তুলে তাকিয়ে দেখে শহরের সবথেকে জীর্ণ বাড়িটা ,চারিদিক থেকে পলেস্তার খসে খসে পড়ছে ,। আগেকার দিনের কড়ি বর্গার ঘর। যৌথ সম্পত্তি হলে যা হয়। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কারো কোন হেলদোল নেই। চলছে যে রকম চলুক। বাড়ি টা  দেখলে মনে হয় দূর থেকে জবুথবু বৃদ্ধ মুখ থুবরে পড়বে। বলে না ভাগের মা গঙ্গা পায় না। বাড়িটা সংস্কার করার জন্য সেই রকমই অবস্থা। এ বলে ও করবে।ও বলে এ করবে। কিন্তু সেদিন দুপুরবেলা জাঁকিয়ে বৃষ্টি পড়ছিল ।খাটের উপর বসে ছাদ থেকে তুলে আনা শুকনো জামা কাপড়গুলো পাট পাট করে ভাঁজ করছে বিপাশা। হঠাৎই মাথার ওপরে একটা ক্রাক করে আওয়াজ হয় ,সঙ্গে সঙ্গে উপরের দিকে তাকিয়ে দেখে কড়ি,বর্গা ভেঙ্গে পড়বে। মনে হচ্ছে যেন পুরো ছাদটা মাটির নিচে পড়বে। সঙ্গে সঙ্গে ভয়ে বিপাশা হুটোপুটি করে বেরোতে যায় ঘর থেকে ।যদি বিপদ থাকে কপালে  ,কে ঠেকাবে?বেরোতে গিয়ে টেবিলের ধাক্কা লেগে  ,তারওপর সাজানো  স্টিল‌ কাঁসার বাসন ঝনঝন আওয়াজ করে পরল পায়ের উপর। পায়ের আঙুলে চোট লাগল সাংঘাতিক। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে ফোন করল দীপককে। সেদিন দীপকের ছুটির দিন ছিল ।বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা মারতে গেছে। কয়েকবার ফোন করার পরও যখন ধরল না । বিপাশা পা ফেলতে পারছে না ।এদিকে ঘরের ওই রকম পরিস্থিতি। তখন সে আবার রিং ব্যাক করে কিন্তু নো আনসার।ছেলেদুটো তখন নিচে খেলা করছিল ।টুবলু, টুকাই বলে হাঁক দিতেই ওরা ছুটে এসে মাকে এ রকম অবস্থায় দেখতে পেয়ে আর ঘরের ওই কন্ডিশন দেখে ওরাও ভয় পেয়ে যায় ।তখন টুকাই বাবাকে ফোন করে।
 দীপক ফোন রিসিভ করে একটু বিরক্তির স্বরে বলে  "একটু ছুটির দিনেও বন্ধুদের কাছে এসে গল্প করবো সেটাও তোমার সহ্য হচ্ছে না ।"
কিন্তু যখন টুকাই বলল 'আমি টুকাই বলছি বাবা ।মায়ের পায়ে প্রচন্ড চোট লেগেছে।তুমি তাড়াতাড়ি এসো "
দীপক বলে 'ঠিক আছে তোমাদের অত চিন্তা করতে হবে না ।সেরে যাবে।'
তখন টুকাই আবার বলে 'কিন্তু বাবা,-মায়ের খুব যন্ত্রণা হচ্ছে ।তুমি একবার আসো না ।ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে।'
দীপক বলে 'আমি ঠিক টাইমে চলে যাব ।
তোমাদের অত ভাবতে হবে না।'
কিন্তু টূকাই যখন বলে 'এদিকে আমাদের ঘরের কড়ি বর্গা ভেঙে গেছে ।'
দীপক অবাক হয়ে বলে "কি বলছিস টুকাই।'
প্রথমদিকে মায়ের কথা শুনে আমল দেয় নি ।কিন্তু পরের কথাটা যখন বলেছে কড়ি বর্গা ভেঙে পড়ার উপক্রম ।
তখন দীপক বলে  'ঠিক আছে। আমি আসছি।' বিপাশা সবকিছু শুনে ,ভেবে পায় না সত্যিই কোনো দিনও কি সে দীপকের মন পাবে না?  কোনদিনও কি তার জীবনে ভালোবাসার সোনালী রোদ্দুর উঁকি দেবে না ।দীপক যা চেয়েছে ,সেরকমই হবার চেষ্টা করেছে ।কিন্তু তারপরেও মনের কোণে জায়গা নেই ।বোধহয় টুবলু টুকাইয়েরর জন্যই তাদের সম্পর্কটা টিকে রয়েছে ।অথচ বিপাশা তার স্বামীকে ভালোবাসে । তাই সে প্রত্যাশা করেছিল আজকের দিনটা অন্তত দীপক সহানুভূতির সঙ্গে ব্যাপারটা দেখবে ।সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসবে ।কিন্তু না স্ত্রীর জন্য নয।কড়ি  বর্গা ভেঙে পড়ছে , সেজন্যেই উদগ্রীব হয়ে ছুটে এসেছে।
  বাড়িতে এসেই দীপক বলল 'তোমার কি কোনদিনও কান্ডজ্ঞান হবে না বিপাশা। বাড়ির এই রকম অবস্থার খবর দিচ্ছ কত পরে। বলেই ফোন করতে শুরু করলো  'হ্যালো' 
ওপার থেকে কন্ঠ ভেসে এলো  'কে?'
দীপক বলল 'আরে রবি, আমি দীপকদা বলছি।'
ফোনের ওপার থেকে আবারো কণ্ঠস্বর এলো  "ভালো শোনা যাচ্ছে না। কে বলছেন?'
এদিকে বাইরে ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে তার আওয়াজ এতটাই জোরালো যে ফোনের কথা স্পষ্ট হচ্ছে না। দীপক আবার বলল 'রবি ,আমি দীপকদা বলছি।"
এবার রবি বলল 'হ্যাঁ ,দীপকদা বলুন।'
দীপক বলল "এক্ষুনি একবার আমাদের বাড়িতে আয় না ভাই। আমাদের কড়ি বর্গাটা ভেঙে পড়ছে একটু ব্যবস্থা করতে হবে।'
রবি বলল "কিন্তু দাদা বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে এই মুহূর্তে কি করে যাব আপনার বাড়িতে?'
দীপক অনুনয়ের সুরে বলল 'দেখ ভাই একটু চেষ্টা কর না হলে তো আমরা মারা পড়বো।'
 রবি বলল  "ঠিক আছে দাদা ।যাচ্ছি"।
  বিপাশা তখনও খাটের ওখানেই বসেছিল। রবি এসে বলল  'বৌদি আপনার তো ঘরেই থাকা উচিত নয় আপনি এখনো পায়ের যন্ত্রণা নিয়ে জামা কাপড় গুছিয়ে যাচ্ছেন ?আপনি . ঘর থেকে বেরিয়ে যান ।যে কোনো সময় বিপদ হতে পারে এবং আরো বলল বড় বিপদের হাত থেকে বেঁচে গেছেন।'
কোনোরকমে তারা এই তুমুল বৃষ্টির ভেতরে বাঁশ  এনে ঠেকনা দিতে চেষ্টা করল ।তারপর বলল যে নতুন করে এসব লাগাতে হবে । অগত্যা কিছু করার নেই ।এতদিন ভাগের সম্পত্তি বলে যাবা হাত গুটিয়ে বসে ছিল ।এখন তো কিছু করার নেই।যে ঘরটাতে থাকা হয় ,সেই ঘরের ছাদে যদি ভেঙে পড়ে। তাহলে থাকবেটা কোথায়?
 রবি মিস্ত্রি বলল 'দীপকদা জয়েসের ব্যবস্থা করতে হবে।"
সঙ্গে সঙ্গে জয়েসের জন্য লোক পাঠানো হয় এবং বিভিন্ন দোকান ঘুরে অবশেষে তা ব্রাদার্স দের দোকানে পাওয়া যায়  ।
দীপক আবার রবি মিস্ত্রি কে ফোন করে বলল ' রবি ভাই,যত তাড়াতাড়ি পারিস  কাজ শুরু কর।'
রবি মিস্ত্রি বলল 'তাই হবে দাদা চিন্তা করবেন না কিন্তু বৌদিকে যে অবস্থায় দেখে আসলাম ।বৌদিকে একটু ডাক্তার দেখানোর ব্যবস্থা করুন। '
দীপক বলল 'ও তেমন কিছু ব্যাপার নয় একটু বরফ লাগালে ঠিক হয়ে যাবে। দরকার হলে কয়েকটা পেনকিলার খাওয়াতে হবে ‌‌। তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করতে হবে ।সেটা মাথায় রাখিস।'
দীপক আরো বললো 'কি যে উটকো বিপদ হলো?'
দীপক এবার বিপাশা কে উদ্দেশ্য করে বলল "দুপুরের খাবার রেডি আছে তো নাকি?'
বিপাশা শুধু ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানায়।
দীপক বললো  'তাহলে খেতে দাও। আমার মাথায় অনেক চাপ কিচ্ছু ভালো লাগছে না।'
অথচ একবারও বিপাশাকে সহানুভূতির সঙ্গে জিজ্ঞাসা করল না যে তোমার কষ্ট হচ্ছে‌, তোমার খুব লাগছে?
বিপাশার দু চোখ ফেটে জল পড়তে থাকে। স্বামীর কাছ থেকে অবহেলা ,অবজ্ঞা একজন স্ত্রী যদি পেয়ে থাকে। তাহলে সেই স্ত্রীর মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে ?প্রত্যেক স্ত্রী তার স্বামীর ভালোবাসা ,একটু সহানুভূতি ,সুমিষ্ট কথা প্রত্যাশা করে কিন্তু বিপাশার ক্ষেত্রে..?
বিপাশা মাঝেমাঝে ভাবে  কোন দিনের জন্য কি দীপক তাকে ভালোবাসে নি অথচ দু দুটো সন্তানের মা হয়েছে বিপাশা। তাহলে কি সেই সন্তান দুটো জৈবিক প্রবৃত্তি নিবৃত্ত ফসল? প্রশ্ন জেগেছে বারবার বিপাশার। উত্তর খুঁজে পায় নি। অথচ কলেজ লাইফে বিপাশাকে সুদীপ্ত ভালোবাসতো। বিপাশা জানতো। কখনো সাহস করে এগোতে পারে নি। তাই মাঝে মাঝে ভাবে সুদীপ্তর সঙ্গে বিয়ে করলে কি এর থেকে অনেক বেশি সে সুখী হতে পারতো না? ভালোবাসার ভেলায় চেপে দূর সাগরে ভেসে যেতে পারত না ? ভেবেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে। 
এমন সময় দীপক চিৎকার করে ওঠে 'আর কতক্ষণ বসে থাকবে? খেতে দেবে তো নাকি?'
বিপাশা কিছু না বলে কোনরকমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে রান্নাঘরের দিকে যায়।
 অন্যদিকে টুবলু ও টুকাই বলতে থাকে ' মা তোমার লাগবে? তুমি সাবধানে।'
বিপাশার মনের কোণে জমানো কষ্টের ভিতর এক পশলা বৃষ্টি যেন এই দুই সন্তান। এইযে সহানুভূতি কেয়ারিং মনোভাব বাচ্চা দুটোর মধ্যে এই দেখে তার অন্তরাত্মা জুড়িয়ে যায়। ছেলেদুটোকে বুকে টেনে নেয়। আর বলে আমার কিচ্ছু হবে না সোনা। তোরা আছিস না?


ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"২২ক্রমশ

কাবেরী মাহমুদ





অব্যক্ত কথা


আমার কবিতা গুলো ভাষা খুঁজে পায় না...
অব্যক্ত কথা গুলো পায়না তাদের কাঙ্খিত রুপ!
কাব্য রাজ্যে আমি আজ নির্বাসিত... 
গহীন কোণে লুকিয়ে রেখেছি মনের অভিরূপ! 
চোখের কোণে জমা শুকনো জলের দাগ
আর বালিশে কাটিয়ে দেয়া রাত্রির শেষ ভাগ।
দিগন্তের ওপারে সূর্যের কায়া খুঁজি
শেষ হতে চলেছে জীবনের মায়া বুঝি!

এন,এন,মুন




অব্যক্ত অনুভূতি


প্রকৃতিতে প্রভাতরাগ বিরাজমান 
বিস্মিত, পুলকিত মানব মন।
নতুন ফুলের প্রস্ফুটন,
চারদিকে ভ্রমরের গুঞ্জন। 
ঘাসগুলি লম্বা,স্নিগ্ধ কোমল 
প্রকৃতির কার্পেট, সবুজ  শ্যামল।
অতঃপর উত্তরীবায় 
সব বিবর্ণ হয়ে যায়।
ক্ষ্যপা আগুন তাদের পোড়াতে পারে
যদিও বসন্তে তারা পুনরায় জন্মাবে।
স্বপ্নেরাও  আত্মিক তাড়নায়
নিজ গতিপথ পাল্টায়।
আমি বিপর্যস্ত বুড়ো ঈগলের মতো
স্বপ্নিল জগৎ সাজাতে ব্যস্ত।
আজও খুব কষ্ট পেলে
এ মন তোকে খুঁজে ফেরে।
তুই আজ দূর আকাশের তারা
অলক্ষ্যেপথ দেখাও,দাও পাহারা 
 সময়ের ছলনায় পরবাসী  আমরা অব্যক্তই থেকে যায় অনুভূতিরা।

রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়,৮

 চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 





                   উদাসী মেঘের ডানায় 
                                                                                           (পর্ব আট


ভোরে উঠে পড়লো,ঘুম,থেকে দুজনই তৃষ্ণা,টিশার্ট
ট্রাউজার পড়ে রেডি হয়ে,সমুদ্রে গেলো 
তৃষ্ণা বললো- তুমি,নামো,আমি,সাঁতার জানিনা,ভয় করেএতো বড় বড় ঢেউ।
-আরে আমি,আছিনা সাঁতার কাটার,দরকার,নেই,
জলে,নামলেই হবে।
সকালে মিষ্টি রোদের আলোয়, তৃষ্ণার মুখ জুড়ে মায়াবী এক আলোক,রশ্মি খেলা,করছে।উদাসীন
চোখ জুড়ে বিহব্বলতা ভাবছে একটা ঝড় কে সামলে,নিয়েছিলো আজও কি সব,স্বপ্ব তাছাড়া
বয়স ওতো হারিয়ে যায়নি,কিছুটা মূল্যবান সময়
পাশ,কেটে,চলে গেছে।
সাগর,তীরে দাঁড়িয়ে,অপুও,ভাবছে এলোমেলো জীবনের পথে বাস্তবতার রোমান্সের,চিহ্নমাত্র ছিলোনা
সেদিন,নিপূণ,হাতে,মুছে,নেওয়া হয়েছিলো,সেন্টিমেন্ট আর মেলোড্রামার বাস্প 
 চিরে,চিরে,আলো,ফেলেছিলো লুকিয়ে,থাকা,হৃদয়ের
বেদনায়।সেখানে আজ,আলৌকিক জগতে টেনে
নিয়ে এলো,তৃষ্ণা রংধনু ফুটিয়ে,তুলেছিলো তুমুল
বৈচিত্র্যের বৈভবে না বলা চোখের তারায় সেই আর্কষণ নতুন করে বাঁচার এক অনুপ্রেরণা খুঁজে পেলো। গভীর চোখ মেলে দেখছে ওর চোখের কোনায়
হাসির ঝিলিক। 
অবাক হয়ে ঢেউয়ের নানা রঙের জলে ভালোলাগার
অন্তরালে ভালোবাসা চুপি,চুপি এসে দাঁড়ালো অতীত
ঠেলে আলোক বার্তা ছড়িয়ে প্রকৃতির মনোরম পরিবেশে,মানুুষ যখন হারানো বা না পাবার কষ্ট পায়
সেই কষ্টের চাদর সরিয়ে জীবনে বেঁচে থাকার অদ্ভুত
এক সম্ভাবনায় প্রকৃতিই উজ্জীবিত করে।
তন্নয়তা ভাঙলো অপু - জলে নামবেনা মোনালিসা
-নামবো বেশিদুর যাবোনা
- চলো আমার হাত ধরে রাখো আমি আছিনা ভয় কিসের কোমর পানিতে দাড়িঁয়ে অপু বললো
এখানে দাড়িঁয়ে থাকো আমি সাঁতার কেটে আসি
বলতে,না বলতে বিশাল একঢেউ আছরে পড়লো ওদের উপর তৃষ্ণা চিৎকার করে ভয়ে অপুর বুকে মুখ গুজে রাখলো অপু দুহাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে থাকলো ঢেউ সরে যেতেই অপু ডাকলো
-পাগলি একটা দেখো তুমি কোথায় ?
বুকের থেকে মাথাটা তুলেই লজ্জা পেয়ে পা বাড়াতেই অপু হাতটা ধরে বললো চলো আর সাঁতার
কাটবোনা। বেলা বারোটায় আমরা রওনা হবো ঢাকায়
তৈরী হয়ে নাও।
                                                                                                 চলবে...

লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল" ৬

চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শান্তা কামালী'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "বনফুল" 




                                                                   বনফুল 
                                                                               ( ষষ্ঠ পর্ব ) 


পলাশ বললো জুঁই তুমি কি জানো ? আমি খুব মধ্যবিত্ত ফ্যামেলির ছেলে,আর কোথায় তুমি! 
আমার ঠিক কি বলা উচিৎ আমি বুঝতে পারছি না। পলাশেরও যে জুঁইকে ভীষণ ভালো লেগে গেছে, ওর  চোখের দিকে তাকিয়ে না করা সম্ভব না। 
জুঁইয়ের কাজল কালো চোখে পলাশ নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে...।

 জুঁই বললো এখনই বলার দরকার নেই আমাকে ফোনে জানালেও হবে।
বলতে বলতেই জুঁই ড্রাইভার কে ফোন দিয়ে বললো গাড়ি সামনে নিয়ে আসেন।দুজনেই গাড়িতে উঠে বসলো জুঁই ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য করে বললো ভালো কোনো রেস্তোরাঁয় চলুন।
কিছুক্ষণের মধ্যেই একটা বিলাসবহুল চাইনিজ রেস্টুরেন্টের সামনে গাড়ি থামতেই জুঁই পলাশ কে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে কয়েকটা সিঁড়ি উঠেই রিসেপশনের সামনে থেকে লিফটে ওঠে। পাঁচ তলায় নেমেই চাইনিজের ডিনার হলের এক কর্নারে একটা টেবিলে বসলো। ওয়েটার এসে চার্ট বুক  রেখে গেলেন,জুঁই বিশেষ বিশেষ কিছু খাবার অর্ডার করে দুজনের খাবার পরিবেশন করতে বলে আরো চারজনের পার্সেল দিতে বললো। খাওয়ার সময় দুজনের মধ্যে টুকটাক কথা হলো, খাওয়া শেষে বিল পেমেন্ট করে কাউন্টারে এলো, বয় পার্সেল গুলো এনে গাড়িতে উঠিয়ে দিলো।ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দিয়ে আগে এজিবি পয়েন্টে পলাশকে নামিয়ে দিতেই জুঁই  পার্সেলগুলো হাতে ধরিয়ে দিয়ে হাত নাড়িয়ে বিদায় জানিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে নিজের  বাসার দিকে চলে গেল। জুঁই বাসায় আসতে আসতে রাত দশটা বেজে গেল, বেশখানিকটা সময় মা-বাবার সাথে বসে গল্প করে যখন ঘড়িতে এগারোটা বেজে গেল তখন মাকে বললো, আম্মু আমি খেয়ে এসেছি, তোমরা খেয়ে নিও বলেই উপরে উঠে গেলে। আজ মা বাবাও জুঁইকে দেখে বেশ খুশি, কারণ এর আগে কোনো দিন এতো খুশিখুশি ভাব দেখেনি!জুঁই রুমে এসে ফ্রেস হয়ে পড়ার টেবিলে বসলো। কিন্তু অনেক  চেষ্টা করেও পড়ায় মন বসাতে ব্যর্থ  হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো। বারবার পলাশের ইন্নোসেন্ট মুখটা চোখে ভেসে উঠলো, ওর কথা বলার এটিচিউট, মৃদু হেসে কথা বলা, সব কিছু কেমন যেন চোখে ভাসছে।

 ওদিকে পলাশ ও জুঁইয়ের কথা অনেক বার ভেবেছে।  কতো ভদ্র অমায়িক, কোনো রকম অহংকার নেই। এখনকার পৃথিবীতে জুঁইয়ের মতো মেয়ে ও আছে!




                                                                                                         চলবে....

মামুন তালুকদার




শব্দহীন যুদ্ধ


বন্দুক-বোমার শব্দ নেই,
মর্টার-মেশিনগানের শব্দ নেই
ট্যাঙ্ক-কামানের শব্দ নেই,
কোন যুদ্ধ বিমানের শব্দ নেই, 
কিন্তু যুদ্ধ চলছে।
যুদ্ধের বিভীষণে -
ছোট্ট শিশুটিও মায়ের কোল ছেড়ে
হয়েছে করুণ শরণার্থী।
ফোনের ওপাশ থেকে বলে-
বাবা, আমাকে তোমাদের কাছে নিয়ে যাও,
তোমাদের কাছে যাব,
আমাকে তোমাদের কাছে নিয়ে যাও।
কিন্তু বাবাকে অদৃশ্য শত্রুদল ঘিরে ফেলেছে,
কণ্ঠনালী, ফুসফুস বেশি বিপর্যস্ত,
নিঃশ্বাসে নীরব ঘাতক,
শিশুটিকে বুকে ধরার সাধ্য নেই।

যুদ্ধ আছে, লাশের মিছিল আছে,
যুদ্ধের দামামা নেই।
সকল অহংকার পায়ে ঠেলে
সাদা পতাকা ওড়ানোর ইচ্ছে আছে,
কিন্তু কোন সন্ধিপত্র নেই।
কান্না আছে, রক্তক্ষরণ আছে,
শব্দ নেই, প্রবাহ নেই।
যুদ্ধ চলছে, শব্দহীন যুদ্ধ।

মাহমুদা মৌ





সময়ের ইতিকথা 


তুমি আদর পাঠিয়েছিলে 
নিঃশর্ত দাবীতে , শব্দের সাজে
রঙিন খামে মুড়ে ।
ভালোবেসেছিলে দূরন্ত গতিতে,
শেফালিকার শুভেচ্ছা জানিয়ে ! 
যুগল স্বপ্ন দেখিয়েছিলে 
দোলনচাঁপা ক্যামেলিয়ার 
পাপড়িতে বাসর সাজিয়ে ! 
ভাবনায় ডুবে যেতে 
একান্ত সময়কে বিসর্জন দিয়ে । 
অথচ সময়ের ব্যবধানে 
ঘন কালো মেঘ করে প্রবলে বেগে 
ঘুর্নিঝড়ের মতো উড়ে চলে গেলে 
উপকূলে আছড়ে পরার হুঁশিয়ারী
সংকেত জানিয়ে ,
ডুব দিলে নিজস্ব জগতে ।

vccxv

LOVE

zxv

LOVE

sdfcdv

LOVE

উম্মে হাবীবা আফরোজা




ভালোবাসার আত্মকথা

ভালোবাসা তুমি,
শ্বেত পদ্ম ফোঁটা শুভ্রতার
মায়াজল,
অনুভবের নদীতে ডুবন্ত এক জোড়া হংস মিথুন।

কিংবা শিশিরের স্নানে ভেঁজা
স্নিগ্ধতার অনুভবে প্রজাপতি মন।।

ভালোবাসা তুমি,
অভিমানি কিশোরীর নিকষ কালো চোখের কাজল,
চিরকুটের ভাঁজে ভাঁজে ফিসফিসিয়ে তোমার
আলতো স্পর্শের আঁছড়।।

ভালোবাসা তুমি,
গোধূলীর রক্তিম আভায়
সমুদ্র তটের গহীন স্রোতে বিলীন হওয়া, নিমগ্ন পিয়াসীর বিমুগ্ধ মন।

ভালোবাসা তুমি,
বিষাদ অনুরাগে পাশে থাকার প্রত্যয়ে
অভিমানি মেঘের সাথে
চুক্তিবদ্ধ সন্ধির যুগল প্রেমের বন্ধন।

ভালোবাসা তুমি,
রবি ঠাকুরের-'' সেই দিন চৈত্র মাস,
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ।"

কিংবা কবি নির্মলেন্দুর " আমি বলছি না আমাকে ভালোবাসতে হবেই, কেউ একজন অন্তত আমার জন্য অপেক্ষায় থাকুক।"

ভালোবাসা তুমি,
দীর্ঘনিঃশ্বাসের অসীম যন্ত্রনা,
দূরত্বময় আবেগীয় সম্পর্কের পিছুটান।
 প্রেমিকের বুকে ঝড় তোলা প্লাবন,
প্রেমিকার অন্তরের বোবা কান্না,
চাওয়া পাওয়ার গভীর এক আকুতি।

ভালোবাসা ও মৌহের মানবিক দ্বন্ধে,
ভালোবাসা তুমি যে চির মহান, তুমি যে হৃদ স্পন্দের
অপর এক নাম।

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"২১

কান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "। 




                                                       টানাপোড়েন (২১)

                                                                         বোধোদয়


দিনকে দিন বুম্বা কেমন বেয়ারা হয়ে যাচ্ছে দেখো।রাতে খাবার টেবিলে কথাটা পারলো সুরূপা।কিন্তু সুধাময় কোনো উত্তর দিলো না।
সুরূপা আবার বলল ' কি বলছি, শুনতে পাচ্ছ না?'(একটু ঝাঁঝের সুরে )।
এবার সুধাময় খাবার টেবিল ছেড়ে উঠে পড়ল।
এবার আরো জোরে সূরূপা চেঁচিয়ে  বলল  'সন্তান কি শুধু আমার?'
সুধাময় জানলার কাছে দাঁড়িয়ে সিগারেটের পর সিগারেট খেয়ে যাচ্ছে। কোন কথার জবাব দিচ্ছে না।
এতে সুরূপা আরো রেগে যায়। আর বলে 'এই সংসার থেকে আমাকেই চলে যেতে হবে। তাহলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।'
এবার সুধাময় বলল 'তুমি বুঝতে পেরেছ বলো ,সুরুপা ?'আজ তোমার জন্যই এসব হয়েছে।'
এবার সুরূপা ক্রোধান্বিত হয়ে বলল' 'আমার জন্য হয়েছে?'বলেই কেঁদে ফেলল।'
সুধাময় বলল 'ভেবে দেখো পাঁচ বছর আগের কথা। তখন কি বুম্বা এরকম ছিল? প্রতিটা দিন কেটেছে তাদের কত আনন্দে। তোমার তো সেগুলো পছন্দ হয় নি।'
সুরূপা কেঁদে কেঁদে বলল 'কেন আমি ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভেবে কি ভুল করেছি?'
সুধাময় বলল 'এখন তো সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছো। তুমি সঠিক ছিলে ,না বেঠিক?'
সুরূপা বলল 'হ্যাঁ তুমি তো এখন আমাকে এসব বলবেই। তাহলে তুমিই বা কেন এসেছিলে কলকাতায়?'
সুধাময় বলল 'অফিস থেকে ফেরার পর রোজ তুমি আমার কানের কাছে এক গান গাইতে। গ্রামে থেকে নাকি তুমি তোমার ছেলেকে মানুষ করতে পারবে না ।শুধু কি তাই ,আমার বাবা -মার জন্য নাকি তোমার ছেলে বিগড়ে যাচ্ছে? রোজ অশান্তি, রোজ । রোজ অশান্তির থেকে বনবাস ভালো..?'
সুরূপা বলল 'আমি কলকাতায় ছেলেকে ভালো স্কুলে ভর্তি করতে চেয়েছি ,ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবেছি। প্রতিটি মা চায় তার সন্তানের ভালো হোক। আমিও চেয়েছি।
সুধাময় বলল 'কেন গ্রামে থেকে কি ছেলেকে মানুষ করা যেত না? শুধুই
 বলতে আমার বাবা-মা তোমার কাছে বাড়তি? আর আমিও সন্তান হিসেবে মা-বাবাকে সঠিক মর্যাদা না দিয়ে চলে এসেছি।'
সুরূপা বলল 'তাহলে তুমি কেন তোমার বাবা-মার সঙ্গে থাকলে না?'
সুধাময় বলল 'হ্যাঁ আমি থাকি আর আমার হাতে হাত করাটা পড়ুক তাই না? তুমি যে কত নাটক করতে পারো? ভগবান ছাড়া আর কারো জানার উপায় নেই। শুধু কি তাই? ছুটির দিনগুলোতে বুম্বাকে নিয়ে একটু গ্রামে যেতাম ঠাকুমা দাদুর কাছে, এটাও তোমার অপছন্দের।'
সুধাময়ের ভেতরের তীব্র জ্বালা থেকে আরো বলতে লাগলো'বুম্বার শৈশব থেকে শুরু করে কৈশোর পর্যন্ত তার সার্বিক বিকাশ হবার জন্য যা যা দরকার তার ঘাটতি ছিল। এইজন্য আজ বয়সন্ধির সময় ছেলেকে নিয়ে এত ভোগান্তি।কলকাতায় এসে ও কি সেরকম বন্ধুবান্ধবকে পেয়েছে? দুদিন স্কুল থেকে ফিরে ও মন মরা হয়েছিল বলো। অথচ ছুটির দিনে যখন ওকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতাম সেখানে গিয়ে ওর আনন্দ-উচ্ছ্বাস যেন আকাশ ভেঙে পড়তো। তুমি সেগুলো বন্ধ করে দিলে।
সব সময় বাঁধা নিষেধ। আজ তোমার ছেলে কোন বাঁধাই মানে না। কারো কথাই শোনে না। তুমি মা এখন তুমি শাসন করো। তখন পেরে উঠছ না, অমনি আমাকে দোষারোপ করতে শুরু করলে না?'
সুরূপা বলল 'আমার কথা ও শোনে না। তাই বলছিলাম তুমি যদি একটু ওকে বলতে?'
সুধাময় বলল  'আমি কি বলবো, বলো তো ?আমি তো জানি ওর চাহিদা পূরণ হওয়ার জন্য কত কিছুর অভাব ছিল। আমরা বাবা -মা হিসেবে ব্যর্থ হয়েছি। শুধু তাই নয় আমার বাবা -মাকে অবহেলা করে আমি চলে এসেছি ,এর যন্ত্রণা তো আমাকে ভোগ করতেই হবে সুরূপা ।
সুরূপা নিরুত্তর তার কথা বলার ভাষা নেই।
সুধাময় বলল আমারও ভুল আছে শুধু তোমার একার নয় ,আমি যদি সেদিন তোমার কথা শুনে কলকাতায় না আসতাম। তাহলে বোধহয়  এ‌ দিনটা দেখতে হতো না।'
দীর্ঘশ্বাস ফেলে সুধাময় বলে  'দেখি ওর সাথে কথা বলে ও কেন এরকম করছে।'
সুরূপা যেন আশার আলো দেখতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে ব্যাঘ্র ভাবে বলে ওঠে 'হ্যাঁ ,আমি তো সেই কথাই বলছি। তুমি একটু দেখো নিশ্চয়ই আমার ছেলে তোমার কথা শুনবে। জানো তো আজকে ভাত খায় নি।'
সুধাময় ব্যাকুল ভাবে বলল 'তুমি এতক্ষণে আমাকে বলছো? কোথায় ও?'
বেরিয়ে গেছে সেই সন্ধ্যেবেলায় এখনো ফেরে নি। সামনে মাধ্যমিক পরীক্ষা। কি হবে আমি ভেবেই পাচ্ছি না। ওকে যখনই বলতে যাই বাবু ,একটু ভালো করে পড় ।বোর্ডের পরীক্ষা আছে। ভালো রেজাল্ট না করতে পারলে ,তুই তো তোর কোন আশাই পূর্ণ করতে পারবি না।
 তাতে ছেলে বলল ' করোণা পরিস্থিতিতে বোর্ডের পরীক্ষা হবে নাকি? স্কুল কি খুলছে ।'
সুরূপা বলল 'পরীক্ষা হবে না তোকে কে বলেছে যদি পরীক্ষা হয় ।তখন কি করবি?'জানো, তখন চুপ করে থাকে। আর বলে বেশি বকো না তো।'
সুধাময় বলল 'কোথায় গেছে জানো?'
সুরূপা বলল 'রাজদীপদের বাড়ি।
সুধাময় বলল 'বড় চিন্তায় ফেললে সুরূপা। রাজদীপ ছেলেটা মোটেই ভালো নয়। ওর অনেক বদ গুন আছে।বুম্বাকে গ্রাস না করে?'ফোন নম্বর আছে?
সুরূপা বলল 'না '।
সুধাময় চিন্তিত ভাবে বলল 'রাত নটা বাজে।'কোবিদ পরিস্থিতিতে এতক্ষণ বাইরে থাকা উচিত নয়। তাহলে আমাকে ওর বাড়ি যেতে হবে।'
সুরূপা বলল 'না ,আজকে রাজদীপদের বাড়িতে থাকবে।'
সুধাময় বলল 'তুমি কি করে জানলে?"
সুরূপা বলল 'একটা আননোন নম্বর থেকে কল এসেছিল ।আমি রিসিভ করেছি ।তখনই একথা বলল।'
সুধাময় বলল সুরূপা ছেলেকে রাজদীপের সংস্পর্শ থেকে ফেরাতে হবে।
সুরূপা বলল 'কিন্তু কিভাবে?"
সুধাময় বলল 'কালকে রাজদীপ এর বাড়ি থেকে ফিরলে ,বুম্বার সাথে কথা বলবো। পরশুদিন মহালয়া আছে। দেখি বাবা-মায়ের কাছে যাবো একবার। বুম্বাকেও নিয়ে যাবো।'
সুরূপা এই প্রথম শ্বশুর-শাশুড়ির ওখানে যাওয়ার কথা শুনেও চুপ করে রইলো।( মাথা নিচু করে)।
সুধাময় ভাবতে থাকে মহালয়ার দিন ভোর বেলায় গ্রামে কত সুন্দর কেটেছে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের রেডিওতে কন্ঠ শোনার জন্য, ঘড়িতে এলার্ম দিয়ে রাখা। তারপর সব বন্ধু-বান্ধব মিলে বাজি পটকা ফাটানো,তারপর তর্পণ দেখার  জন্য নদীর নদীতে ভিড় জমানো ,শৈশবের সেই সোনালী দিনগুলোর কথা ভেবে চোখে জল চলে এসেছিল। তাই গানটা বড্ড মনে বাজে ' 'দিনগুলো মোর সোনার খাঁচায় রইল না'। অথচ আজকের প্রজন্ম মহালয়ার গুরুত্বই বুঝতে পারে না। মহালায়া কখন আসে, কখন যায়। কিছুই বোঝে না।ওদের দোষ নয়। আজকের সমাজবাস্তবতার এক  নিষ্ঠুর দলিল।পারস্পরিক সহানুভূতি ,সমানুভূতি,ভালোবাসা এইগুলো এদের মধ্যে এখন দেখা যায় না। যেগুলো আমাদের গ্রামেতে পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে থেকে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করে যে সুখানুভূতি পাওয়া যায় ।শহরেতে তা নয়।
হঠাৎই ফোনে ক্রিংক্রিং আওয়াজ করে উঠল সুধাময় বলল ' দেখো তো কার ফোন?'
সুরূপা বলল  হ্যাঁ দেখছি। হ্যালো''কে বলছেন?
ওপার থেকে সারা আসলো 'আমি রাজদীপ এর বাবা বলছি। আপনারা একবার আমাদের বাড়িতে আসতে পারবেন?
কথাটা শুনে সুরূপা বলল 'কেন কি হয়েছে?'"
রাজদীপের বাবা বলল 'বুম্বার অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে ।আমরা ওকে হসপিটালে এডমিট করেছি। আপনারা তাড়াতাড়ি চলে আসুন।"
কথাটা শুনেই সুরূপা সেন্সলেস হয়ে যায়। অপরদিক থেকে ফোনে " হ্যালো হ্যালো 'হয়ে যেতে লাগল।'
ওদিকে ভাসাভাসা কথা সুধাময়ের  কানে এসেছে ।ফোনে কোন কথাবার্তার আওয়াজ না পেয়ে বলে ,সুরূপা কি হয়েছে?' সাড়া না পেয়ে সুধাময় যায় পাশের ঘরেতে।'
সেখানে গিয়ে দেখে সুরূপা সেন্সলেস হয়ে পড়ে আছে।
সুধাময় তাড়াতাড়ি সেন্স ফিরানোর জন্য যা যা করণীয় ।সবকিছু করে । 
সেন্স ফিরলে সুরূপা বলে"আমার বূম্বা কোথায়? আমার বুম্বাকে আমার কাছে এনে দাও ।ওই বাড়িতে গেলে ওর ক্ষতি হবে ।আমি তোমাকে বলছিলাম না?'
সুধাময় বলল  বলো ,কি বলেছেন উনি? '
সুরুপা বলল  'বুম্বার অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে ।হসপিটালাইজড। সুধাময় বলল  'এক্ষুনি যেতে হবে।'
বলেই গাড়িটা বের করল।
সুরূপা বলল ' আমিও যাব'।
সুধাময় বলল  'তোমাকে যেতে হবে না।'আমি ফোনে তোমাকে সব জানাবো।'
সুধাময় চলে যাবার পর সুরূপা বসে বসে ভাবতে লাগলো সত্যিই গ্রামের বাড়িতে শ্বশুর-শাশুড়ি মাকে নিয়ে তারা ভালই ছিল। কি কুক্ষণে যে তার মতিভ্রম ঘটেছিল ,কে বলতে পারে? আজ  মনে পড়ছে তার শাশুড়ি মা কত যত্ন করে নাতি বুম্বাকে পছন্দের জিনিস খাওয়াতেন। এমনকি সুরুপাকে কত স্নেহ করতেন । অথচ নিজের ইগোর জন্য আত্মীয় পরিজন ছেড়ে আজ বনবাসে।আর তার ছেলেটিও অমানুষ পরিণত হয়ে যাচ্ছে। তাই সুরূপা ভেবে স্থির করে নেয় ।তার ছেলের সুস্থ হয়ে ফিরলে তার দাদু ঠাকুমাকে কলকাতায় নিয়ে আসতে হবে। সে যে ভুলগুলো করেছে, তার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই চেষ্টাই করবে।









ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"২১ ক্রমশ

তাজ ইসলাম




যাদুকর এসে গেছে


যাদুকর এসে গেছে
মানুষের গালে কামড়াবে কুকুর
মানুষের ভুঁড়িতে কামড়াবে কুকুর
মানুষের সম্মানে কামড়াবে কুকুর
আপনারা এই কুকুরটিকে দেখবেন 
এটি একটি মানুষ
কী চমৎকার যাদু না!
যাদুকর এসে গেছে
এখন যাদু দেখাবেন
মানুষের কীর্তি উল্টে দেবে কুকুর
মানুষের সুনাম কামড়াবে কুকুর
নেকাব কামড়াবে কুকুর
লকব কামড়াবে কুকুর
খেতাব কামড়াবে কুকুর
ইজ্জতে কামড় দিবে কুকুর
যাদুকর তার যাদু মন্ত্র বলে
এই কুকুরটিকেই দেখাবে 
এটি একটি মানুষ।
যাদুকরের যাদুর ভেলকিতে
বিজ্ঞতা ছাড়া বুঝার উপায় থাকবে
মানুষের রূপে এটি আসলে
একটি কুকুর
কেননা যাদুকর তার যাদু মন্ত্রে
মজমায় হাজির করলেন
মানুষের মত করেই একেকটি কুকুর
যেমন প্রবল কৌতুহলে একটি শিশু
ভীড় ঠেলে গিয়ে দেখে
চোরটা দেখতে অবিকল মানুষ।

গোলাম কবির






কতিপয় মানুষ ও মুশোশধারী বরাহরা


  ইউক্যালিপটাসের বাকল যেমন খসে পড়ে
  তেমনি আবারও সুন্দর ভাবে যদি 
  গজিয়ে উঠতো সভ্যতার ছাল চামড়া,
  তবে আমার কোনো দুঃখ ছিলো না! 
  কিন্তু হায়! অশোকের বাকল 
  ছাড়িয়ে নেবার পরও যেমন বৃক্ষটি 
  বেঁচে থাকে কায়ক্লেশে তেমনি করেই  
  কায়ক্লেশে বেঁচে থাকে কতিপয় মানুষ! 
  অথচ অন্যদিকে মানুষ নামের মুখোশধারী 
   বরাহরা পৃথিবীকে কাদাজল বানিয়ে 
   আনন্দে কী ভীষণ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে!


রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়,৭

 চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 




                                    উদাসী মেঘের ডানায়  
                                                 (পর্ব সাত)


পরদিন ওরা আবার ফিরে এলো কক্সবাজারে
বেশ রাত হয়ে গেলো।
রাতের ডিনার আজ তৃষ্ণাই অর্ডার দিয়েছে
খেতে বসে অপু বললো
ঃএকি আজ মাংস দিতে বললি?
ঃআমি এসে থেকে দেখছি অপু দিব্য দুবেলা মাংস
খেয়ে,যাচ্ছো, মাছ,সবজি নাম মাত্র খাচ্ছো, আজ
মাছ সবজি ডাল খাবে।
ঃআমার তো তাহলে খাওয়াই হবেনা প্লিজ গরু বা
খাসির মাংস না হলে।
ঃতাই বেশ মুরগী দিতে বলছি তাহলে।
ঃমুরগী আমি খাবোনা।
ঃকেন?
ঃমুরগী শিয়ালে খায়, আমি কি শিয়াল
তৃষ্ণা হাসতে হাসতে বললো
তুমি কি,বাচ্চা নাকি, একি সমস্যা মাংস ছাড়া খাবেনা
বলছি কিন্ত একপিস রাজি।
রাজি।
ঃখাও খেয়ে খেয়ে বিশাল ভুড়ি বানাও তখন বুঝবে ঠেলা
ঃআমি রোজ এক্সসেসাইজ করি হবেনা।
ঃবড্ড পেটুক তুমি।
খাওয়া,শেষে দুজন কিছুটা সময় গল্প করলো
ঃতৃষ্ণা বললো যাই রুমে ঘুম পাচ্ছে।
ঃকাল কিন্তু সমুদ্রস্নানে যাবো তারপর বারোটায় ঢাকায় রওনা হবো।
আমি স্নান করবোনা সাঁতার জানিনা ভয় করে।
ঃকাল দেখা যাবে যাও ঘুমাতে
শুভ রাত্রি
শুভ রাত্রি...


                                                                                                                      চলবে....

আশ্রাফ বাবু


শব্দহীন মনের আস্তানা


অন্যমনস্ক সন্ধের আঁধারে হাওয়া শুনি 
জেগে ওঠে মায়া আর নির্জন ভয়ের আখ্যান
পাখিদের ঘিরে জমে ওঠে হেঁসে ওঠে
আমার কিছুক্ষণ চুপচাপ ইহকাল !

মেঘের ভাঙা মন মেলে দিয়ে বসে আছে
ভেসে আসছে কাঁপানো বীরের বাঘের ডাক 
শুনে তবু শুকিয়ে মুখ- চোখ হাতচাপা !
সূর্য গেছে,আলো গেছে,দৃপ্ত গান রচিত হয়েছে। 

সুরের গোধূলি জাঁগে আকাশ প্রান্তরে 
অকস্মাৎ শব্দহীন মনের আস্তানা জুড়ে
অল্প সূত্র জানা আছে আলোর আড়ালে
জমে উঠছে অন্ধকার,শান্ত তাকিয়ে গোল চাঁদ।

ঘন্টাধ্বনি জেগে থাকে জনপদে
রাত্রি বলে চেনা যায় না আজ লুকানো আলোয়,
অন্যমনস্ক সন্ধের আঁধারে হাওয়া শুনি 
আলো গেছে,মন হারিয়ে যেতে চায় সেখানে।

সফিক ইসলাম




মন ভালো নেই


মন ভালো নেই
আজকে আমার মন ভালো নেই
শ্রাবণ মেঘের  বৃষ্টি ঝরার এই দিনেও মন ভালো নেই।
নিয়ম ভাঙার লৌকিকতা পার করেছি খুব সহজেই 
তবু আমার মন ভালো নেই। 
আজকে শুধু তোমার কথা ভীষণ করে পড়ছে মনে
বিষের নীলাভ দহন ব্যথাই পুড়ছে কেবল হৃদয় কোণে
স্মৃতির বনে জ্বলছে আগুন ; মেঘ চাতালে  বৃষ্টি শুকাই
আটপৌরে  সুখ খুঁজতে যেয়ে শ্রাবণ থেকে মুখটা লুকাই। 

অথচ কী দারুণ ছিল একটি সময়, পুলক জলে যেতাম ভেসে বৃষ্টি হলে---
অনুভবে জমতো কেবল ব্যাকুল করা ভালোবাসা পলে পলে। 
চোখের পাতায় নাচতো শুধু  তোমার দেহের ধ্রুপদী তাল  
বৃষ্টিজলের শব্দ শুনে কার যে পায়ের নূপুর ভেবে যখন তখন হতাম মাতাল,
ভালো করেই  এসব তোমার ছিল জানা ----
তাই কি তুমি মিষ্টি হাসির ছলনাতে বদলে গেলে এপথ ভুলে!
তাই কি তোমার বিষের এমন ছোবল হানা!

আজকে কেন  শ্রাবণ আকাশ  বিষণ্নতার মেঘে ভরা
আজকে কেন সব কিছুকেই লাগছে এমন দিগম্বরা
 কার অপেক্ষায় দিন কাটে তো রাত কাটে না
একাকীত্বের যাপনবেলায়  কিছুই তো আর  ভাল্লাগে না।
 
মন ভালো নেই ----
আজকে আমার মন ভালো নেই
হাজার কয়েক বইয়ের মাঝেই  আমার এখন বসত ঘর
ভালো করেই জানি আমি বই কখনো করে না পর,
বইয়ের সাথেই সখ্য গড়ি, যেমন ইচ্ছে সে বই পড়ি
তবু আমার মন ভালো নেই। 
এসব বইয়ের পাতায় পাতায় জমে থাকা স্মৃতির ধুলো
খুব যতনে আগলে রাখি অমূল্য সেই ছোঁয়াগুলো
তবু আমার মন ভালো নেই। 

সব কিছু আজ এলোমেলো জীবন থেকে হারিয়ে গেলো  যেটুক সময়
সেই কথাটা মনে রেখে  কী আর হবে,  একটি ভুলেই ভীষণ ক্ষতের সৃষ্টি যে হয়
সে ই জানে ক্ষতটা যার, সারা জীবন ক্ষতের দহন  তার কেমনে সইতে  যে হয়।

মন ভালো নেই--
আজকে আমার একটুকুও মন ভালো নেই
শ্রাবণ ধারার বৃষ্টি জলে সব ধুয়ে আজ সাফ হলেও                                    মনের ব্যথা আজকে আমার রইল মনেই।

অরণ্য আপন




তার মুখ একটি বন্ধুত্বপূর্ণ পাখি



এই আকাশ মরে যাবে; চলে যাবে চোখের ভাষা থেকে
যে হৃদয় আমি রেখেছি হাতে
ছেড়ে গেছে সে সন্ধ্যা ফুরানো রাতে
তারপর অনেকদিন তাকে ঘুঘুর চোখের মতো গেছি ডেকে 
শরৎ যেভাবে রোদ ডেকে নিয়ে আসে চোখে 
আশ্বিনের এই রাতের গায়ে পড়েছে তার অক্ষরের ছায়া
আমার মৃত চোখে অন্ধকার নিবিড় হয়ে আসে, ডাক দেয় কষে তার মায়া 

কতদিন হায় ঘর ছেড়েছি তার কাছে হৃদয় রেখে
তাকে দেখি না, হয়তো কোনোদিন আমি তাকে দেখিনি
অন্ধকারের ঘ্রাণ পেয়ে সে চলে গেছে ভোরের মুখ অন্ধকার করে
তার চোখ আমাকে খোঁজে না, তার মন আমার কথা বলে না 
আমার পৃথিবী একদিন মরে যাবে তার পেঁচা ডাকা ঘরে 
দুপুরের মাঠ ভরে জোহরের আজান একা একা ঘোরে 
জানি না আশ্বিনের কোন রাত তাকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে আসবে ভোরে...