অনুগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অনুগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৩ আগস্ট ২০২১

নুরুল আজিজ (বাপ্পু)




আটপৌরে প্রেমিক হতে চাই।


  আচ্ছা প্রেমিকা!!

তুমি কি আমার হৃদ-অন্তরালের  জমানো সব কথাগুলো শুনতে চাও?

যদি শুনবে বলো,

তবে শুনো বলি তোমায়।

আধুনিকতার এই বড়লোক প্রেমিকদের বাজির খেলায় এসে আমি তোমার এক হাড়কিপটে প্রেমিক হতে চাই।


রিকশায় হুডি তুলে তোমার গা ঘেঁষে বসে বিশ মিনিটের পথে শুধুশুধু ত্রিশ টাকা গচ্ছা দিয়ে প্রেমকে বিব্রত করতে চাইনা।বরং তোমার হাতে হাত রেখে পাঁচটাকার বাদাম খেতে-খেতে  নদীর পাড়ে বিরতিহীন পথ পাড়ি দিয়ে প্রেমকে তৃপ্তির সহিত আলিঙ্গন করতে চাই।


ফুটো পকেট নিয়েও তোমার সাথে  কোনো এক টঙের দোকানে অথবা নগরের সেরা কৃতিত্ব পাওয়া সেই ফোসকার দোকানে বসে আয়েস করে ফোসকা খেতে চাই নিশ্চিন্ত মনে নির্দ্বিধায়।

মস্তিষ্কের নিউরনে ঘুরপাক খাওয়া প্রশ্নদের মুখে উত্তর ছুড়ে বলতে চাই,আমার প্রেমিকা তো আছে পাশে বিল দেওয়া নিয়ে অতশত কোনো চিন্তা নাই।


আজকের এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমি তোমার নব্বই দশকের কোনো এক আটপৌরে প্রেমিক হতে চাই।হিরা-গোল্ড-ডায়মন্ড রিং এর বদলে সবুজের মাঠ থেকে ঘাস-লতা কুড়িয়ে সেই ঘাস-লতার পায়েল পরিয়ে দিয়ে প্রেম নিবেদন করতে চাই।


আমার মানিব্যাগে বেলীফুলের মালা দেখতে চাওয়ার আবদারে তোমার প্রফুল্লচিত্তের হাসি মুখ দেখতে চাই। চোখের ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই,মাসের শেষপ্রান্তে এসে আমার পেটমোটা এই মানিব্যাগে কাগজ ভর্তি ছাড়া মালা কেনার মত কানাকড়িও নাই।


তারপর তোমার হাতের মুঠোয় টাকা লুকিয়ে মানিব্যাগে রেখে দিয়ে আমার মেস ভাড়াটার

বন্দবস্ত করে দেওয়া দেখে নিজের উপর নিজে-ই

ভীষণ ভাবে ঈর্ষান্বিত হতে চাই।


তোমার ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা এক চিলতে হাসির প্রেমে আমি আবার হাবুডুবু খেতে খেতে অতল গহ্বরে তলিয়ে যেতে চাই।তোমার কপালের কালো টিপ ছুঁয়ে আমি স্বর্গের অনুভূতি উপলব্ধি করতে চাই,অকপটে ভালোবাসি ভালোবাসি বলে তোমাতে আমি মিশে যেতে চাই পূর্ণ প্রাপ্যতায়।




১৭ আগস্ট ২০২১

জাফর রেজা


এক আশাবরীর গল্প 

 ( সংক্ষিপ্ত আকারে লেখা একটি সত্য ঘটনা। আশাবরী নামটি কাল্পনিক)


 পৌষের শেষ রাতে কয়েক জোড়া পা খাটিয়া কাধে 

এগিয়ে যাচ্ছে, মুখে, ' বলো হরি বল '

 খাটিয়ায় শুয়ে থাকা মেয়ে মানুষটির নাম আশাবরী। 

অন্য দশটি মেয়ের মতই আশাবরী'র চোখে ছিল স্বপ্নছিল 

কল্পনার মানুষটি'র সাথে ঘর বাধার, 

পৃতৃহীন আশাবরী'র ভাগ্যে এসব কিছুই জোটেনি, পনের টাকার জন্য বিয়েটি আর হয়নি। 

একদিন মাও চলে গেল শ্মশান ঘাটে, শুন্য ঘরে পার করে দিলো সে জীবনের বাকি দিনগুলো। 

 যৌবনে উপকারী পুরুষেরা হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল, 

কিন্তু একটি হাতও ছিলনা দায়ীত্ব নেবার । 
 সব কামনা বাসনাকে নির্বাসনে পাঠিয়ে পার করে দিয়েছিল যৌবনের রঙিন দিনগুলো, বৃদ্ধা আশাবরী'র পাশে আর দেখা যায়নি উপকারী পুরুষের আনাগোনা। 
আজ আশাবরী অনন্তের পথ যাত্রী। 
 পৌষের শেষ রাতে 'বলো হরি বল ' আরও জোড়ালো হতে থাকে। 

০৫ নভেম্বর ২০২০

আশিস চক্রবর্তী

 লক্ষ্মীর ভাঁড় 

মেঝেতে আছাড় মেরে আবার সুতপা দেবী লক্ষীর ভাঁড় টা ভেঙে ফেললেন। ওনার মেয়ে শব্দ শুনে এগিয়ে এসে বললো -- মা ! এই নিয়ে কতবার তুমি ভাঁড় ভাঙলে বলতো! সেই ছোট্ট থেকে দেখছি। টাকা জমিয়ে ভালো কিছু করবে বলে ,শেষ টাই আমার জন্য টাকা গুলো খরচ করো ! 

সুতপা দেবী মিচকি হেসে বললেন -- কোথায় খরচ করছি ! আমি তো শুধু আমার মা লক্ষ্মীর কাছ থেকে টাকা গুলো কিছু সময়ের জন্য চেয়ে নিয়ে ,আমার ছোট  লক্ষ্মীর কাছে জমা রাখছি । আমি জানি তুই নিশ্চয় মা লক্ষ্মীকে সে টাকা আবার ফেরত দিয়ে দিবি ।