০৫ অক্টোবর ২০২১

শারমিন সুলতানা রিনা




মেলেনা হিসেব


বিরহ আগুনে পুড়ে যদি মরি
ভয় তাতে বলো কিসে
তুমিতো থাকবে চিরকাল এই
আমার ভূবণে মিশে 

নিভৃত প্রেমের বিনিময়ে কেউ
কখনো পেয়েছে সুখ
তবু জ্বলে পুড়ে ভালোবেসে কেউ
মিছেমিছি বাঁধে বুক 

সেই কবে কোন এলোমেলো ক্ষনে 
চোখ ছিলো টলমল
সেই অশ্রুতে আজ পূর্ণ দীঘি
ঝলমল করে জল 

প্রেমিক হৃদয় হিসেব করে কি
কখনো বেসেছে ভালো
অনেক হিসেব মেলেনা জীবনে 
যতো পুড়ে হোক কালো

নীলাচল চট্টরাজ




অনন্তদর্শন 


প্রকৃতি আমায় বলেছিলো
তাদের কথা শুনতে
প্রকৃতি আমায় শিখিয়েছিল
তাদের কথা লিখতে
প্রকৃতি আজ হাতের মুঠোয়
অচেনা রূপ দেখছি
অজানা তার বহু পরিবার
হাওয়ায় পাখা মেলছি



রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়,৬

 চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়" আজ তৃতীয় দিন। 
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে।




                    ঊদাসী মেঘের ডানায়

                                                                               ( পর্ব ছয়

                   ঙ্গল ঘেরা গ্রামগুলি ঘুরে ঘরে দেখছে
গ্রামের চাষের মাঠে আদিবাসি মেয়েরা লাঙ্গল টানছে
নীলগিরি হিলস দেখে মনে হচ্ছে বিধাতার কি নিপূণ সৌদর্ষে নিজ হাতে সাজিয়েছেন এই অসামান্য প্রকৃতি
সব ক্লান্তি ধুয়েমুছে এক ধরনের মগ্নতায় আচ্ছন্ন করে
রেখেছেন,মনে জাগে রোমান্স।
আদিবাসীদের ভাষা রীতিনীতি  সমাজ ব্যাবস্হার
মধ্যদিয়ে এসব জায়গা কল্পকথার বিষয়বস্তুু
জঙ্গলাকীর্ণ অন্ঝল এখানটায় কম চাষের মাঠ ও খুব
কম কিছুটা যেনো শহরে রূপান্তরিত হয়েছে কেবল
প্রকৃতির মনোলোভা দৃশ্যগুলো এখনো রয়েছে বিধায়
পর্ষটকরা ছুটে আসেন।
ঘুরতে ঘুরতে খেয়াল হলো সন্ধ্যার মুখে সূর্য চলে গিয়েছে,পাহারের কোল থেকে মেঘেরা উদাও পূর্ণিমা
তার আগমনি বার্তা জানাচ্ছে।
ফিরে এলে রেষ্ট হাউজে।রাতের ডিনার সেরে নিলো
নয়টায় তারপর দুজনাই খোলা বারান্দায় এসে দাঁড়ালো, পূর্ণিমা তার রূপের ডালি ছড়িয়ে দিয়েছে
পাহারের গায়ে কি অপরূপ সেই আলো।
কখন যে অপু পিছনে দাঁড়িয়ে তৃষ্ণার কাঁধে হাত রেখেছে কেউই বুঝতে পারেনি এতোটাই তন্ময়
হঠৎ তৃষ্ণা বললো ধন্যবাদ অপু তুমি না নিয়ে এলে
দেখাই হতোনা পূর্ণমার রহস্যময় এই রূপ।
আমি তো দেখছি আরএকটি পূর্নিমার আলোয় তোমার অবয়ব জুড়ে কি তার আর্কষণের ক্ষমতা
আমাকে টানছে অয়কান্ত মনির মতো এক আলোকিত
চুম্বকের মতন।
তৃষ্ণা ওর মুখোমুখি ঘুরে দাঁড়াতেই অপু আলতো করে তৃষ্ণার কপালে চুমু দিয়ে বললো -
ঃ অনেক কিছু পেলাম, আজ এই পর্ষন্ত বাকির খাতা সময় মতন পূর্ণ করে নিবো।
 এবার চেয়ার টেনে অপু তৃষ্ণাকে বসতে বলে
 নিজেও বসলো তৃষ্ণা অপুর কাঁধে মাথা রেখে পূর্নিমা দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়লো।
অপু ওর চুলে হাত বুলাতে বুলাতে চেয়ারেই ঘুমিয়ে
পড়েছে...। 
চলবে

হামিদ সরকার




কাব্যের দেহে সৌরভ
 

কবিতাকে নিয়ে সবাই মাতে
রাত্রি কাটে কবিতারই সাথে,
ঘুমকাতুরে জাগে সারারাত
কাব্যেরবুকে প্রেমিকার হাত। 

স্বপ্নে বিভোর কবিতার ঘ্রাণে
অসমদোলা লেগেছে প্রাণে,
শৃঙ্খল হৃদয়ে এলোমেলো ঝড়
কী অদ্ভুত শক্তি কবিতা তোমার। 

কবিতার দেহে বর্ণিল সৌরভ
রাত্রিনিশিথে প্রাপ্তিতে গৌরব,
রাগ-অভিমান কবিতার সাথে
ধরা দিয়েছে জ্যোসনা রাতে। 

চাঁদের আলোয় কবিতার স্নান
আচমকা মেঘ করে দিল ম্লান।
নগ্ন কবিতা সারা রাত্রি জুড়ে
তৃপ্ত করেছে হৃদয় উজাড় করে।














১৫.৯.২০২১ প্রথম প্রহর।

রাবেয়া পারভীন এর ধারাবাহিক ছোট গল্প "কালো ক্যনভাস"শেষ পর্ব




                                           কালো ক্যনভাস 
                                                                      ( শেষ পর্ব


- এখন কি একটু সুস্থ বোধ করছেন?
হঠাৎ প্রশ্নটি শুনে চমকে ইশতিয়াকের  মুখের দিকে তাকালো  নীলা। কোন উত্তর না দিয়ে  তীর্যক দৃষ্টিতে  ইশতিয়াকের  দিকে তাকাল সে। মনটা তেতো হয়ে গেছে তার। লোকটা কি নির্লজ্জ নাকি তাকে চিনতে পারেনি ?  কাকে জিজ্ঞেস করবে  নীলা ? ইচ্ছে করছিলো ইশতিয়াকোর দুই গালে কষে দুইটা থাপ্পর মারতে ।  দাঁতে দাঁত চেপে  কড়মড় করে তাকিয়ে রইল নীলা।  তাঁর কপালে বিরক্তির ভাঁজ পরেছে। ব্যাপারটা  লক্ষ্য করে  ইশতিয়াক একটু অপ্রস্তুত  হলো। সেও ভাবছিলো  মেয়েটি তার দিকেই বিরক্তি  প্রকাশ করছে কেন ?  ও আসলে কে ?  কত মেয়েকেই তো সে চেনে  ঘনিষ্ঠ ভাবে। সে কি তাদের কেউ ?  তবে যেই হোক  মেয়েটি কিন্তু দারুন সুন্দরী। একবার তাকিয়ে চোখ ফেরানো যায়না। মনে মনে একটু খুশিই  হলো  তাঁকে সহকর্মী  হিসেবে পেয়ে । সুযোগ বুঝে  একদিন  খুব করে তাঁর  রূপের প্রশংসা করতে হবে। কারন  রূপের প্রশংসা করলেই মেয়েরা গলে যায়। ইশতিয়াক কে নির্লজ্জের মত তাকিয়ে থাকতে দেখে  এবার নীলা মুখ খুলল
- আমাকে  চিনতে পেরেছেন  স্যার ?
হেসে  ইশতিয়াক বলল
- আমারও কেমন যেন  চেনা  চেনা লাগছে  আপনাকে কে বলুন তো !  
এক সেকেন্ড দাঁতে  ঠোঁট কামড়ালো নীলা।  তারপর বলল
- আমি  নীলা সেই যে আমাকে আর আমার ভাই নয়নকে পড়াতেন আপনি। আমার আব্বুর নাম জালাল আহমেদ। কাউকে কিছু না বলেই  আমাদের বাসা থেকে চলে গিয়েছিলেন।  আপনি কি সেদিন পালিয়ে গিয়েছিলেন  স্যার ?
প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিয়ে  ইশতিয়াকের দিকে তাকিয়ে রইল নীলা। মুহূর্তের  মধ্যে  ফ্যাকাসে সাদা হয়ে গেল ইশতিয়াকের চেহারা। কপালে দেখা দিল বিন্দু বিন্দু ঘাম। পা দুটোও মনে হল কাঁপছে।  সেই নীলা  যেন  যমদূত হয়ে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। সত্যি ই সেদিন পালিয়ে গিয়েছিলো  ইশতিয়াক কিন্তু একবারের জন্যও  মনে  হয়নি  এতদিন পরে এসে কৈফিয়ত  দিতে হতে পারে। ইশতিয়াকের অবস্হা দেখে এতক্ষনে একটু মুচকি হাসি ফুটে উঠল  নীলার ঠোঁটের কোনায় ।

গোলাম কবির




প্রকৃত মানুষ 

  প্রকৃত মানুষ একলা ভীষণ, 
  সমুদ্রের এক একটি আছড়ে পড়া 
  ঢেউয়ের চেয়েও একা, 
  মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা 
  তালগাছের চেয়েও একলা ভীষণ! 
  প্রকৃত মানুষ মানেই দুঃখী মানুষ, 
  প্রকৃত মানুষ মানেই নিদ্রাহীন মানুষ,
  প্রকৃত মানুষ মানেই এখন 
  সবার চোখেই ব্যর্থ মানুষ!

লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল" ৫

চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শান্তা কামালী'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "বনফুল" 




                                                                    বনফুল 
 
                                                                        ম পর্ব 

                                      জুঁই গাড়িতে উঠে বসলো, কতরকম ভাবনারা দোল খেলে যাচ্ছে জুঁইয়ের মনে। পলাশের সাথে দেখা হওয়ার পর কোথা থেকে শুরু করবে ইত্যাদি। 
এই ভেবে ভেবে কখন যে এজিবি পয়েন্ট চলে এসেছে জুঁই বুঝতেই পারেনি, ড্রাইভার বললো মেমসাব আমরা এজিবি পয়েন্ট চলে এসেছি, জুঁই বাস্তবে ফিরে এলো। জুঁই এদিক ওদিক দেখতে লাগলো পলাশ নির্দিষ্ট  পয়েন্টে এলো কি না, জুঁইয়ের চোখ পড়লো সামনেে গলির দোকানের পাশেই পলাশ দাঁড়িয়ে আছে। জুঁই ড্রাইভারকে বললো ঐ দোকানটা সামনে যান,পলাশের সামনে গাড়ি থামতেই জুঁই গাড়ির দরজা খুলে পলাশকে গাড়িতে উঠে আসতে বললো, পলাশ ও কোনো রকম সংকোচ না করেই জুঁইয়ের পাশের সিটে বসলো। জুঁই ড্রাইভারকে হাতিরঝিলে যান। 
পলাশ বেশ আশ্চর্য হয়ে জুঁইকে দেখছে …..
এর আগে অনেক বার জুঁইকে দেখেছে কিন্তু জুঁই এতো সুন্দরী, সেটা সে কোনো দিন ভালো করে তাকিয়ে দেখেনি। 
কি অপূর্ব সুন্দর দেখাচ্ছে জুঁইকে, হয়তো শাড়িতে আরো বেশি সুন্দর লাগছে। জুঁই প্রশ্ন একটা করে কোনো উত্তর পাইনি।
  সিটে বসার সাথে সাথে জুঁই জিজ্ঞেস করেছিলো কেমন আছেন?
পলাশ উত্তর দিতেই ভুলে গেছে.... 
ড্রাইভার বললো মেমসাব  আমরা হাতিরঝিল চলে এসেছি। জুঁই পলাশকে বললো নেমে আসুন, জুঁই ড্রাইভারকে বললো আপনি গাড়ি কোথাও পার্ক করে রেখে দিন। জুঁই পলাশকে বললো সামনে চলুন কিছুটা সামনে গিয়ে খুঁজে একটা নিরিবিলি জায়গা দেখিয়ে জুঁই পলাশকে বললো চলুন  ঐখানটায় বসি । মুখোমুখি দুজনেই চুপচাপ বসে আছে, কি বলবে ঠিক বুঝতে পারছেনা জুঁই!
ঠিক তখনই পলাশ বলে উঠল হঠাৎ করে আমাকে কেন ডেকেছো বলতো? 
নিরবতা ভেঙে জুঁই উত্তর দিলো, ডেকেছি যখন বলবো তো নিশ্চয়ই, আমি আপনার কাছে সরাসরি একটা কথা জানতে চাইছি? আপনি কি কাউকে পছন্দ করেন?  পলাশ উত্তর দিলো বুঝতে পারলাম না। 
আপনি কি কাউকে ভালোবাসেন ?
পলাশ উত্তর দিলো সেই সৌভাগ্য আমার হয়ে ওঠেনি, আমার মতো বিত্তহীন ছেলেদেরকে কেউ ভালোবাসে না। 
জুঁই বলে উঠলো ভাগ্যিস  কেউ বাসেনি। 
পলাশ বললো মানে? 
জুঁই হালকা করে উড়িয়ে দিলো কথা টা। মানে টা আমিও জানি না। 
পলাশ যতবার জুঁইয়ের দিকে তাকাচ্ছে চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে, কি অপরূপা সুন্দরী। 
জুঁই হঠাৎ করে বললো আমি আপনাকে সরাসরি একটা কথা বলার জন্য ডেকেছি। 
আমি আপনাকে ভালোবাসি..
জুঁইয়ের মুখে ভালোবাসার কথা শুনে পলাশের চোখ ছানা বড়া হয়ে গেছে, কোথায় জুঁই আর কোথায় সে.... 
পলাশ বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে বসে ভাবতে লাগলো। জুঁই পলাশকে প্রশ্ন করলো কিছু বলছেন না যে? 
পলাশ কি উত্তর দিবে ঠিক বুঝতে পারছেনা।


                                                                                                         চলবে....

শহিদ মিয়া বাহার




প্রেমের পরাগায়ন


কে যায় উড়ে উড়ে উত্তরের বাউল
চাদর দুলে দুলে তার সাদা সাদা মেলেছে পেখম
আকাশের পয়ার গীতিকায় এঁকেছে নরমে 
গীতিকাব‍্যের মাধবী চুম্বন।

আহা এ যে শরতের মেঘ-ভেলা ভাসা 
বাউল আদলে তরঙ্গ রাহাত যমুনার মতন!

মেঘের শারদ লিপিকা নিয়ে ছুঁয়েছে আমায় 
আশ্বিন বিকেলের মোহলগ্ন রোদ
ছুঁয়েছে নদীর কিনারে 
সাদা দোপাটি আঁচলে কাশেদের ইতিকথা
বাতাসের মিলিত যাপন 
ঐ নদী জলে ফেনাদের লাবন‍্য ছুঁয়েছে 
হলুদ মিনজিরি ফুলের শিল্পীত কথন!

নদী-জল সংলাপে উঠেছে মেতে সন্ধ‍্যামতি গাংচিল
সমাগত সন্ধ‍্যার রূপোলী মায়ায়!

উচ্ছাস মাতাল সুরে বেঁধেছে লহরী ধ্রুপদ 
চাঁদের সানকিতে ধরে শরত-রাতের সুরমন্দ্র জোছনা  পরাগ
 আরো কিছু রাত্রি নিশীথে যখন সরে যাবে সব কোলাহল আঁধারের রূপ ছুঁয়ে ছুঁয়ে হবে 
ঐ দূর নীহারিকার মিটি-মিটি বাসর!

তারাদের তখন থোকা থোকা প্রেমের 
তুমুল পরাগায়ন!

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"২০

কান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "। 





                                                   টানাপোড়েন (২০)
                                                            দুর্ভোগ



                          ভোর পাঁচটার সময় হঠাৎই কলিংবেলের আওয়াজ। বেলটা বেজে চলেছে। রেখা মনোজকে বলল  'দেখ না কে এসেছে?"
মনোজ ঘুম জড়ানো চোখে বলল  ' তুমি যাও'। রেখা জানে ঘুম কাতুরে মনোজকে ভোর বেলায় ঘুম থেকে তোলা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার।
আবার কলিংবেল ক্রিং ক্রিং ক্রিং। কি ঝামেলা হলো বাবা ,সাতসকালে কে?হঠাৎই রেখা হুড়মুড় করে উঠে পড়ে।,তখনও চোখ দুটো ঘুমে আরষ্ট হয়ে আছে। তবুও রেখা বলে 'আ্যই মনোজ,একটু  ধাক্কা দিয়ে ।'
মনোজ বলে উঠলো 'কি হল রেখা?'
রেখা বলল ' নতুন কাজের মেয়েটা আসে নি তো?'
মনোজ বলে ' যাও দেখো গিয়ে। বলেই আবার ওপাশ ঘুরে শুয়ে পড়ল।'
রেখা বলল ' তা আমি কি মেয়েটাকে চিনবো নাকি?' 'মনোজ নাক ডাকতে শুরু করেছে। 
রেখাকে  বাধ্য হয়ে উঠতে হলো। ঘুমের রেশ কাটেনি তখন। দরজাটা খুলে বললো কে?'
আগন্তুক হেসে বলল 'ও বৌদি, আমি নতুন কাজের মেয়ে সুমিতা। ওই যে পুটুদি পাঠিয়েছে ।হাত দিয়ে ইশারা করে দেখাল।
রেখা বলল  'ও আচ্ছা। এসো ভেতরে এসো। তা তুমি এত সাত সকালে এসেছ কেন?পুটু টাইম বলে দেয় নি।'
সুমিতা বলল  'হ্যাঁ ।বলে দিয়েছে। কিন্তু আমি একটু তাড়াতাড়ি এলাম ।প্রথম দিন তো বুঝে নিতে হবে ।তারপর শুনেছি আপনি স্কুলে যাবেন। যদি লেট হয়ে যায়?(হেসে  বলল)।
তা কি কি কাজ করতে হবে বৌদি?'
রেখা বলে 'কেন পুটু তোমাকে বলে দেয় নি?পুটুর কাজগুলোই তো করতে হবে'।'
সুমিতা বলে ''হ্যাঁ ,সব ঠিক আছে বৌদি ।কিন্তু আমি তো কাপড় কাচতে পারবো না'। আমার সিজার হয়েছে তো ,তাই আমার একটু অসুবিধা আছে।'
রেখা বললো  'তাহলে কাপড় কে কাচবে?'
সুমিতা বলে ' না, আমি তো পুটুদিকে বলেছি যে আমি কাপড় কাচতে পারবো না।পুটুদি বলল ঠিক আছে। তুই যা বৌদি ম্যানেজ করে নেবে।'
রেখা বলল  'মানে ম্যানেজ করে নেব মানে?'
সুমিতা আমতা আমতা করে বলে  'না, মানে আপনার তো ওয়াশিং মেশিন আছে, ওতে যদি...?
রেখা তো অবাক হয়ে গেল আর কি বলবে? তাহলে মাইনে তো তুমি বেশি পাবে না ।
সুমিতা গালে হাত দিয়ে বসে পড়ে বলে ' এ বাবা ।তা বললে কি  করে হবে বৌদি?'
রেখা বলে ' কি আর হবে? তুমি কাপড় কাচতে পারবে না ।তোমাকে কাপড় কাচার মাইনে দেব ?এ আবার কি কথা?
এই কথা কাটাকাটির মধ্যেই মনোজ উঠে পড়ে চোখ রগড়ে এসে বলে  'কি হয়েছে ?এত কথা কাটাকাটি কিসের হচ্ছে?'
রেখার আগে সুমিতাই বলে উঠলো ' দাদা ,দেখুন না বৌদি বলছে মাইনে কমিয়ে দেবে?'
রেখা তো অবাক হয়ে যাচ্ছে, আর ভাবছে  'কি ধরনের মেয়ে রে বাবা।'একটু  মনোজের দিকে তাকায়। মনোজ বলে  উঠলো ' মানে পুটুর যা মাইনে, তুমি সেই মাইনেই পাবে ।রেখা কমাবে কেন ?আসল কথাটা খুলে বল কি হয়েছে?'
রেখা বলল  ' কাপড় কাচবে না । তাহলে পুটুর মাইনে কি করে পাবে?'
 'মনোজ বলে ওঠে 'সে কী কথা?
এরকম তো কথা ছিল না।'
রেখা বলল মনোজের  দিকে তাকিয়ে-' দেখো ,সাতসকালে আমার কিন্তু ভালো লাগছে না এসব। তুমি বরং পুটুর সঙ্গে কথা বলে ,ঠিকঠাক করে ওর মাইনে ঠিক করো।
সুমিতা বলে  'পুরো মাইনে না দিলে আমি কিন্তু কাজ করবো না বৌদি।'
মনোজ  মাঝখানে এসে  সামাল দেয় ইশারায় রেখাকে হাত দিয়ে কিছু বুঝিয়ে। 
তারপর মনোজ বলে  'ঠিক আছে সুমিতা। তুমি আজকে কাজ করো। তারপর আমি কথা বলে নিচ্ছি পুটুর সাথে ।ঠিক আছে।'
সুমিতা বলে  'ঠিক আছে।
 সুমিতা কাজ করে চলে যাবার পর  মনোজকে রেখা বলে  'একে আমার পোষাবে না। অন্য কাজের মেয়ের ব্যবস্থা করো।'
মনোজ রেখাকে বলে  'রেখা পুজোর সময় এখন লোক পাবে না কিন্তু ।পুজোর পরে আবার লোপ পাবে। কাজেই যা চাইছে দিয়ে দাও ।পরে  ভালো লোক দেখে নেয়া যাবে আর তার মধ্যে যদি পুটুর সব সমস্যা মিটে যায় ।তাহলে তো পুটুই কাজ করবে ।'
রেখা বলে তাই বলে এইভাবে বল কাপড় কাচবে না তার টাকা নেবে কি দিনকাল পরলো গো? লোক রাখতে হবে না পুজোর এ কটা দিন আমি চালিয়ে নেব।'
মনোজ রেখার ক্রোধ বুঝতে পেরে বলে 'হ্যাঁ সোনা আমি তো জানি তুমি পারবে? তোমার যে ভীষণ কষ্ট হবে। সারাদিন স্কুল করে আসার পর তারপর আবার তুমি ঘরের সব কাজ করবে আবার স্কুলে যাবার আগে তারপর দুজনে মিলে যে আমরা সন্ধ্যেবেলায় ফিরে বা রাত্রের দিকে একটু আড্ডা দিই সে সব কিছুই হবে না রোজ ই  ঝামেলা লেগে থাকবে ।সেটা কি ঠিক বল ,নিজেদের মধ্যে অশান্তি ডেকে আনা? রেখাকে বুকের কাছে নিয়ে নেয় তোমাকে এত পরিশ্রম করতে হবে না ।যাক না কটা টাকা যাবে ,তো কি হয়েছে?'
রেখা বলে 'দেখো, মেয়েটি বলতে পারতো বিনয়ের সঙ্গে,তা নয় ,উল্টে হুমকি দিল কাজ করবে না।এটি কিছুতেই মানতে পারছি না।'
মনোজ বলল ' সব কিছু এত ধরতে যেয়ো না।কষ্ট বাড়বে।দেখ ‌কথায় কথায় অনেক বেজে গেল। তুমি কিন্তু ট্রেন মিস করবে? আর তোমার রিম্পা দি সঙ্গেও কথা হবে না পাশাপাশি বসে। রিম্পা দি তো আর বেশিদিন নেই স্কুলে?'
রেখা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে মনোজের বাহুবন্ধন থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলে  'এ বাবা কত দেরি হয়ে গেছে। আজ মনে হচ্ছে ট্রেন পাব না।'
মনোজ রেখাকে আশ্বাস দিয়ে বলে 'যাও ঠিক ট্রেন পাবে ।টেনশন নিও না।'
রেখা বলল 'তুমি কদিন ছুটি নিয়েছ অফিসে?'
মনোজ বলল 'আর দুদিন আছে?'
রেখা বলল 'ব্রেকফাস্ট রেডি করি নি। দুপুরের তরকারিটা করা হয়েছে।'
মনোজ বলল 'ঠিক আছে বাবা। আমি বাটার ব্রেড আর ডিম সেদ্ধ খেয়ে নেব। তুমি টিফিনে কি নিয়ে যাবে আমি রেডি করছি।'
রেখা বলল 'থাক আজকে নেব না।
মনোজ বলল 'তুমি রেডি হও ।যা করার আমি করে দিচ্ছি।'
রেখা তাড়াতাড়ি পূজা পাঠ করে নিয়ে রেডি হয়ে বলল  'আমাকে আজকে একটু ছেড়ে দেবে চলো।'
মনোজ বলল 'হ্যাঁ অবশ্যই। যতটুকু তোমার সঙ্গে থাকা যায়। দাঁড়াও দাড়াও, এই নাও ব্রেকফাস্ট করো বলেই হা করতে বলল।
রেখা বললো ' কি  সুন্দর টেস্টি হয়েছে খেতে। তোমার হাতে জাদু আছে। আর খাব না চলো চলো তাড়াতাড়ি।
মনোজ বলল 'না ,বেবি।জুসটা খেতে হবে। গ্লাসটা মুখের সামনে ধরল।'
তারপর মনোজ গাড়ি স্টার্ট করে রেখাকে স্টেশনের দিকে পৌঁছে দিতে গেল। স্টেশন যাওয়ার পথে মনোজ রেখাকে বলল  'আমাকে জড়িয়ে ধরো না।'
রেখা মনোজকে জড়িয়ে ধরে যাবার সময় হঠাৎই গান ধরে ,এই পথ যদি শেষ না হয় তবে কি হত?'মনোজের গাড়ি স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই ট্রেন স্টেশনে ঢুকে যায়। এনাউন্স শুরু হয়ে যায়। মনোজ কোনক্রমে রেখাকে স্টেশনে পৌঁছে দিল। কিন্তু ওভার ব্রিজ পেরিয়ে দুই নম্বর প্লাটফর্মে যেতে যেতেই ট্রেনটা ছেড়ে দিয়েছে। "
রেখার মন টা ‌খারাপ হয়ে গেল। তারপর আবার ফিরে এলো এক নম্বর প্লাটফর্মে ।মনোজ তখনও দাঁড়িয়ে ।
মনোজ মিটিমিটি হাসছে ।
কিন্তু রেখার এটা দেখে ভীষণই রাগ হয়ে গেল। আর বলল  তুমি 'হাসছো?"
মনোজ বললো ' চলো বাইকে চাপো।'
রেখা মুখ গোমরা করে বাইকে চাপল।
মনোজ বলল 'যা কি হবে আজকে তো নিম পাতার সঙ্গে তোমার...?'তবে আমার ক্ষেত্রে কিন্তু ভালো হয়েছে।'
রেখা বলল ' কেন?'
মনোজ হেসে বলল 'বাহ রে। কতদিন পরে একসঙ্গে আমরা সারাটা দিন কাটাবো বল তো? আজ শুধু তুমি আর আমি। আ্যই রেখা আজ বৃষ্টি হলে কেমন ভালো হতো বলো। বৃষ্টিভেজা দুপুরে তুমি আমি...?'
রেখা বলল 'তোমার বয়স বাড়ছে, না কমছে?'
মনোজ বলল 'আমার তো মনে হয় কমছে কিন্তু তুমি যেন বুড়িয়ে গেছো। কত আশা ভরসা নিয়ে তোমাকে কথাগুলো বলছি আর তুমি গুরুত্ব দিচ্ছ না।'
রেখা বলল 'আজ যা কিছু ঘটলো সব  সুমিতার জন্য
সকাল বেলাটা এসে মেজাজ বিগড়ে দিয়েছে । তাই দুর্ভোগ পোহাতে হলো। কালকে কাজে এসে যদি ওরকম কথা বলে না?
 আমি এই দুর্ভোগকে ছাড়িয়েই ছাড়বো।'
মনোজ বলল " ছাড়ো না। আমাদের কথার মাঝে আর ওকে টেনে এনো না।'
তার চেয়ে দেখো আজকের দিনটা কত ভালোভাবে কাটানো যায় সেটুকুই আমাদের জীবনের বড় প্রাপ্তি। দুজনাই তো কাজের মধ্যে থাকি। সারাদিন কতটুকু কে কার খবর রাখতে পারি ?আজ ব্যস্ততার যুগে সমস্ত সুখানুভুতিগুলো যেন মূল্যহীন হয়ে পড়ছে। তার চেয়ে যতটুকু পাওয়া যায় সুদে-আসলে মিটিয়ে নেয়াই ভাল নয় কি?
রেখা শুধু ঘার নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।











ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"২০ ক্রমশ