২৪ অক্টোবর ২০২১

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"৩১

কান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "





                                                                 টানাপোড়েন পর্ব ৩১
                                                                   বৃষ্টি ভেজা স্বপ্ন




                                            জ বিজয়া দশমী মনটা এমনি ভারাক্রান্ত। মা চলে যাবে। তবুও মায়ের আগমনী বার্তা নিয়ে সবাইকে হাসিমুখে বিদায় জানাতেই হয়। ড্রইং রুমে এসে শিখা বসে। আজ আনমনে ম্যাগাজিনের পাতা ওল্টাচ্ছে আর মনে মনে একটা এলোমেলো ভাবনা কাজ করে যাচ্ছে ।আজ সেই  বিজয়া দশমী মায়ের সামনে দিব্যেন্দু কথা দিয়েছিল। কেন যে বারবার দিব্যেন্দুর ভাবনাটা আসে শিখা ভাবতে চায় না। এমন সময় গুন গুন করে গান' ধরিয়া রাখিয়ো সোহাগে আদরে আমার মুখর পাখি তোমার প্রাসাদপ্রাঙ্গণে .. ভালো বেসে সখী নিভৃতে যতনে ,আমার নামটি লিখো তোমার মনেরও মন্দিরে 'গাইতে গাইতে কল্যাণের প্রবেশ। 
কল্যাণ বলল  'সখি কার ভাবনায় ব্যস্ত? মন্দিরে কেউ জায়গা নিয়েছে নাকি?'
শিখা চমকে উঠলো হেসে বলল ' কি যে বলেন না আপনি। গানটা কিন্তু অপূর্ব গাইলেন। মুগ্ধ হয়ে গেলাম।'
কল্যান বলল  'বলছো?  ভালো গাইতে পারি?'
এরকম বেস্ট কম্প্লিমেন্ট পেলে খুব ভালো লাগে।
তোমার মনটা কি খারাপ? যদিও এ কথা জিজ্ঞেস করার আমার কোন অধিকার নেই ,।তবুও করলাম এ কদিনের মধ্যে এ‌কটা তো সম্পর্ক হয়েছে ,এই বন্ধুত্ব বল যা বল..।'
শিখা বলল  'না ,না  আসলে বিজয়াদশমী তো মনটা খুবই খারাপ লাগে ।মা চলে যাবেন আবার কৈলাসে ।আবার ঠিক একটি বছর ধরে মায়ের জন্য অপেক্ষা এর মধ্যে কত কিছুই ঘটে যাবে সেই ভাবনায় একটু..।
কল্যান বলে এটা তো ঠিকই যাওয়া আসাই নিয়ম। তবে মায়ের বিসর্জন,আর আগমনীর পূর্বাভাস আমরা আবার আনন্দে উচ্ছাসে মেতে উঠবো, মায়ের আগমনের আশাতে।'
কল্যান বলল 'তারপর কালকে চলে যাচ্ছি।'
শিখা বলল' আমরাও চলে যাচ্ছি।'
কল্যান বলল  'এই কটা দিন সত্যিই একটু অন্যরকমভাবে কাটল আর তোমার কথা আমার খুব মনে থাকবে শিখা ।ভালো থেকো।'
শিখা বলল  'আমারও স্মরণীয় হয়ে থাকবে দিনগুলি ।আপনিও খুব ভাল থাকবেন।'
কল্যান বলল  'তুমি কিন্তু 'নেট সেট 'পরীক্ষায় ব'সো।
আর কোনো অসুবিধা হলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ ক'রো। নম্বরটা নাও ৯৯৮৮৭৭৬৬৫৫
আর তোমার নম্বরটা আমাকে দাও ,যদি কোন আপত্তি না থাকে।
শিখা বলল-না না আপত্তি কিসের? আমি তো আপনার থেকে অনেক কিছু সাজেশন পাবো। নিন নম্বরটা৯৮৬৭৪৩২৫৫১ কিন্তু আপনার ফোন নম্বরটা তো অভিনব সব ডবল ডবল। এরকম কি করে পেলেন?
 কল্যান বলল 'পেতে হয় বুঝলে?'
ওদিক থেকে মাধুবৌদি ডাকছে ' শিখা নাস্তা করবি আয়।'
শিখা বলল ' যাই বৌদি ভাই।'(গলাটা বাড়িয়ে)।
মাধু আবার বলল  'কল্যাণকে ডেকে দিস তো।'
শিখা বলল কল্যাণের দিকে তাকিয়ে.' ঠিক আছে।'
কল্যান হেসে উঠলো।
শিখা বলল ' একটা কথা জিজ্ঞেস করবো যদি কিছু মনে না করেন?'
কল্যান বলল  'না না মনে করবো কি? বলো না।
শিখা বলল 'আচ্ছা ,সেদিন আমরা ঘুরে আসার পর মুখ কেন অফ ছিল? আমি কি কোনো খারাপ ব্যবহার করেছি আপনার সঙ্গে?'
কল্যান নিরুত্তর রইল। জানালার কাছে গিয়ে তাকিয়ে রইল দূর পুকুরের দিকে।
শিখা এবার উঠে কল্যাণের কাছে গেল ' আপনি চুপ করে গেলেন ,কিছু বললেন না?'
কল্যান বললো 'কিছু নয়, মাথাটা ধরে ছিল বলে তাই?'
শিখা বললো  'আমার মন বলছে শুধু মাথা ধরা নয় ।আপনার মনটাও কোন কারনে খারাপ ছিল? বলতে না চাইলে জোর করবো না ।কারণ প্রত্যেকের একটা নিজস্বতা থাকে ।সেখানে কারোর ঢোকার অধিকার থাকে না।'
বউদি আবার চিৎকার করে বলছে ' শিখা  আয়।'
শিখা বলল  'চলুন কল্যানদা।'
কল্যান বললো ' হ্যাঁ চলো।'
কল্যান আর শিখাকে  একসঙ্গে দেখে মাধু বলল'
' কি কল্যান আমার ননদিনীটি কেমন?'
শিখা মনে মনে ভাবল মাঝেমাঝে যে বৌদি, কি বলে না ,লজ্জায় ফেলে দেয়।
কল্যান বলল  'হ্যাঁ মন্দ কি ( শিখার দিকে তাকিয়ে হেসে)।
সরজুও হেসে উঠলো।
শিখা সরজু আর মাধু বৌদিকে দেখে ভাবে এরা সত্যিই ভালো মনের।
 সরজু বলল  'শিখা মাকে বরণ করতে যাবো তুমিও কিন্তু যাবে আমাদের সঙ্গে ।তারপর দেখবে আমরা কেমন সিঁদুর খেলি ।একটু সিঁদুর তোমার গালে লাগাবো।'
শিখার গাল তো লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠল।বলল 'সিঁদুরখেলা তো বিবাহিতাদের জন্য।'
মাধু বলল  'এবার একটু ছোঁয়া দিয়ে তোকে আমরা আমাদের দলে টানতে চাইছি তো।'
শিখা বলল  'হ্যাঁ সেই আর কি ।আমি লেখাপড়া বিসর্জন দিই আর তোমাদের গ্রুপে নাম লেখাই।'
মাধু বললো  'তোকে লেখাপড়া কে বিসর্জন দিতে বলেছে ?বিয়ের পর কেউ পড়াশোনা করে না?
ঠিক আছে নে মেলা বকতে হবে না ।খেয়ে নিয়ে যা রেডি হ।'
এর মধ্যেই কেমন বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করলো। মাধু বলল-'বৌদি এ কিগো বৃষ্টি হবে নাকি? ভাসান করতে যাব না?'
সরজু বলল ' মেঘ দেখে তুই করিস নে ভয় ।আড়ালে তার সূর্য হাসে। 'আরে ধুত বৃষ্টি আসলে আসবে। আমরা বৃষ্টির মধ্যে ভিজে ভিজেই ভাসান করতে যাব।'
আশীষ বলল  ,'এবার কিন্তু মাইক নিয়ে যাওয়া যাবে না সরকারি নির্দেশ আছে। '
সরজু বলল   'তাহলে কি হবে?'
আশীষ বলল 'যখন যেরকম ,তখন সে রকম'। ঠাকুর বোধহয় এরকমই একটা কথা বলেছিলেন না?'
সত্যিই বলতে বলতে ঝমঝম করে বৃষ্টি চলে আসল।
খাওয়া-দাওয়া শেষ করে কল্যান চলে গেল নিজের ঘরে।
শিখা উঠে চলে গেল নিজের রুমে।
হঠাৎই শিখা গান গেয়ে ওঠে ' তোমার কাছে ফাগুন চেয়ে চেয়ে কৃষ্ণচূড়া। তুমি  তাই দুহাত ভরে দিলে আগুন উজাড় করে ।সে কি তোমার অ‌হংকার?.. যদি ধরো জেতার বাজি ।আমি হেরে ই যেতে রাজি।'
কল্যাণ ওপরের ঘর থেকে খুব মনোযোগের সঙ্গে গানটি শুনে ভাবলো সত্যিই এবার শিখার প্রেমে পড়ে যাচ্ছে কল্যান। কল্যাণ ও  গুনগুন করে উঠলো 'যা পাখি উড়ে যা না ।আজ হারাতে নেই মানা।তুই যা উড়ে...।
মাধু আর সরজু দু'জনে কল্যানের ঘরে ঢুকে বলল ' কী ব্যাপার? আর মুখ টিপে টিপে হাসতে লাগল।'
কল্যান তো চমকে গেল ,।
লজ্জা পেয়ে বলল  'দিদি আর বৌদি তোমরা কি গো একটু কি গান ও গাইতে পারবো না।'
মাধু বলল ' না না গান গাওয়া ভালো।'...পড়লে যেন গানটা বেশি আসে ,তাই না বৌদি?(বৌদির দিকে তাকিয়ে)।
কল্যান বলল  'রং গুলো ফ্যাকাসে হয়ে গেছে।স্বপ্ন ঝরা বকুল।'
সরজু বলল আবার?
মাধু কিছু একটা গেস করল। বৌদিকে ধাক্কা দিল।সরজু ইশারায় বলল 'পরে বলবে।'শোন সবাই নিচে নেমে আয় এখন সিঁদুর খেলা হবে।
কল্যান বলল  'সিঁদুরখেলা তোদের। আমরা গিয়ে কি করবো?'
সরজু বলল  'তোরা দেখবি আর ছবি তুলবি। এরপরই তো ভাসান।'
কল্যান বলল  'বৃষ্টি পরছে তো। '
মাধু বলল 'বৃষ্টিকে মারো গোলি।
সবাই পূজামণ্ডপে গিয়ে হাজির হলো মাকে বরণ শেষে সিঁদুর খেলার পর্ব শুরু হয়ে গেল
মাধু এসে শিখার গালে একটু, কল্যাণের গালে একটু সিঁ দুর লাগিয়ে দিল।
এ‌র প‌র ভাসানের দিকে চলল সবাই ধ্বনি দিতে দিতে আসছে বছর আবার হবে। জয় মা দুর্গা কি জয়। 'কল্যাণ ও শিখা পাশাপাশি হাঁটতে লাগলো। 
কল্যাণ শিখাকে বলল ' বৃষ্টি ভেজা বিকেলে মনে হচ্ছে ফেরারি মন ছেড়ে যাবে কোনো স্মৃতির কোন।হয়তো সময় হয়েছে এখন। এখনো ওড়ার সময় হয়েছে।'
শিখা কল্যাণের মুখের দিকে তাকালো।
কল্যান আর ও বললো  'আজকের বৃষ্টি ভেজা বিকালের স্বপ্ন গোধূলি লগ্নে অনেক কিছু সাক্ষী হয়ে থাকবে।
সেই ডাকে কি তুমি সাড়া দেবে?'
শিখা ভেবে পাচ্ছে না ' কি উত্তর দেবে?'
দিব্যেন্দু কিভাবে ধোঁকা দিল আর নতুন করে কিছু ভাবতে চায় না ।এখন সে শুধু তার নিজের ক্যারিয়ার গড়ার দিকে নজর দিতে চায়। তবু কোথাও যেন কল্যানদার জন্য একটা মনে জায়গা তৈরি হয়েছে। সে জায়গাটা যে কি ?সেটা এখনো বুঝে উঠতে পারছে না। হয়তো তার হাত ধরে এ জীবন নদী চায় পারাপার হতে।
কিন্তু সন্দেহের বীজ মন থেকে পারছে না তাড়াতে ।
ইচ্ছে করে আবার মন ভেসে নতুন কুলে যেতে। আজ যে শূন্যতা সেই শূন্যতা কি সত্যিই পূরণ হবে ?নিঃসঙ্গতা কি সত্যিই কাটবে? নাকি নতুন করে নতুন জোয়ারে ভাসবে ?একটা যেন  দোলাচল। অন্ধকারের ভুলে কি পারবে কল্যাণের হাতটা ধরে জীবন নদী পারাপার করতে? একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কল্যাণের দিকে তাকিয়ে একটু ম্লান হাসলো,।



ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" ৩১ ক্রমশ

কবি মিশ্র




নবমীর রাত


আমায় নিয়ে তুই একটা গল্প লিখবি
বলেছিলি ,সে বারের পুজোর সময়...
আজও লিখে উঠতে পারলি না!
আজকে ও তুই এলি না
গল্পটা খাতার মাঝে আটকে গেছে...

সে বছর রহিম চাচা, যখন বাঁশ, খড়, দঁড়ি মাটি নিয়ে ঠাকুর গড়বে, প্রস্তুতি নিচ্ছিল
বলে ছিলাম তাকে, আমার ও এই ভাবে প্রতিমা গড়বি তুই
তোর খাতায় কলমে...

আবার ও একটা প্রতিমা গড়ার সময় হয়ে এল
ষষ্টি, সপ্তমী, অষ্টমী,গেল
 নবমীর রাতে ও তুই এলি না..
তোর প্রতিমা কি বেশ্যা বাড়ির মাটি পায় নি ?
রহিম চাচা বলেছে, 'মা দূর্গা তো আমার সামনে'
আমি তো হেসে বাঁচিনে, তুই বুঝলি না কেন ?

বাঁশের কাঠমায়, খড়,মাটি দিয়ে মৃন্ময়ী রূপ পায় মা
আমি তখনও থাকি সেই অন্ধকারে
আমি যে বারবনিতা...

আমায় নিয়ে গল্প লিখবি....
বলেছিলি...
আজও এলি না তুই..!!

সুবর্ণ রায়




মৃত্যুহীন 
 

বেঁচে আছো কিনা তাও জানি না!

কোনও নাম নেই তোমার—
তোমার ভাবনাকে আমি নাম দিই অবেলায়

কোনও ছবি নেই তোমার—
তোমার ঠিকানা আমি নিত্য লিখি কবিতায়

কোনও স্পর্শ নেই তোমার—
তোমার স্পর্শ আমি ছুঁয়ে থাকি কেয়াপাতায়

তুমি বেঁচে আছো কিনা জানি না,
মৃত্যুহীন হয়ে আছো জানি
এই অর্বাচীন প্রগলভ ভণিতায়…

গোলাম কবির




বাঙালির হৃদয় ভাঙার গল্প 


 এই হৃদয়ের চেয়ে বড়ো মন্দির, মসজিদ, 
 কাবা যদি না থাকে কোনো নজরুলের
 লিখার মাধ্যমে যা পাই , তা যদি 
 বিশ্বাস করি বা করো সে কথা,
 তবে বলবো -
 হৃদয় তো ভেঙে গেছে কবেই, 
সেই ১৯৪৭ এর দেশ ভাঙা থেকেই! 
 যখন আমার পূর্ববাংলা ছেড়ে হিন্দু ধর্মের
 লোক হবার অপরাধে সুনীল, শীর্ষেন্দু,
 সত্যজিৎ, অমর্ত্য সেনরা রাতের আঁধারে
 কাউকে কিছু না বলে চলে যায় 
ওপার বাংলায় রিফিউজি অথবা বাঙ্গাল
 নামের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার কপাল নিয়ে!
 এমনিভাবেই ওপার বাংলা হতেও 
 যাঁরা এসেছিলো একই করুণ নাটকের 
 পশ্চিম বাংলা ভার্সনের বাস্তবায়নে
 মুসলিম গণ তাঁরাও এখানে এসে
 একইভাবে ঘটি নামে কাটিয়ে দিলো 
 জীবন আজ হবে পঁচাত্তর বছর প্রায়! 
 দেশ ভাঙা সর্বস্ব হারা বাঙালিদের মতো 
 এরকমভাবে হৃদয় পৃথিবীর আর 
 কোনো জাতির ভেঙে ছিলো কিনা 
 আমি জানিনা তা। 
 এখনো সেই হৃদয় ভাঙার পাঁয়তারা 
 চলছে হরদম দুইপারেই 
 শোনা যায় যখন তখন!
যাঁরা এসেছিলো এবং যাঁরা চলে গেলো
তাঁদের যদি না দেখা পাও, 
তো ওদের উত্তরপুরুষের কাউকে 
জিজ্ঞাসা করে দ্যাখো, 
বলো তাকে - তোমার ক্ষত কি শুকিয়েছে 
নাকি তা আরো দগদগে ঘা'র মতো হলো!

রোজী খান




উত্তপ্ত পারদ
 

তোমার অবহেলার উত্তপ্ত পারদে
অঙ্গার হোক আমার পৃথিবী 
তোমার দেওয়া এক ঝাঁক কষ্টে 
হৃদয় চিরে বৃষ্টি ঝরুক,
আমার প্রতি উদাসীনতায়
সৃষ্টি হোক তোমার
নতুন কবিতার ছন্দ,
পৃথিবী কবিতাময় হোক তোমার 
রচিত মহাকাব্যে।
লিখতে বলবো না আর
কখনো আমাকে নিয়ে কাব্য;
প্রফুল্ল থেকো বন্ধুর আড্ডায় 
আর বইমেলার ফটোসেশনে 
বায়না ধরবো না আর 
কখনো ছবির মহড়ার অংশ হতে,
চাইবো না আর গোলাপের 
পরশে ভালোবাসায় সিক্ত
হয়ে জন্মতিথি স্মরণে ,
রয়ে যাব তবু দুরাশার ধরণীতে
অতৃপ্ত ভালোবাসার টানে,
ইচ্ছে গুলো দিয়ে দিলাম তাই 
আমৃত্যু নির্বাসনে,
তুমিহীন বিনিদ্র রাত্রিগুলো 
তোমার আঘাতেই বিদগ্ধ হোক,
অনুরাগের সুর তুলে 
মেঘবালিকার সকাল হোক,
নিস্তব্ধ নিথর জনমানবহীন
মন কেমন করা বিকেল হোক,
অভিমানে এক আকাশ ভেসে
যাওয়া মেঘের ভেলায়
বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যা হোক।
তারপর শ্রাবণের বাদল দিনে 
শত সহস্র অভিমান বুকে জমা নিয়ে 
আলোকহীন বিষন্ন মলিন হৃদয়ে 
জলভরা চোখে এক পৃথিবী
স্বপ্ন নিয়ে অপেক্ষা করব
বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় ,
তুমি ফিরবে নকশী কাঁথার 
মাঠে বর্ষণভরা নয়নে 
সেইদিন আবারো বৃষ্টি হবে 
বর্ষণমন্দ্রিত অন্ধকারে  ভাসিয়ে
নিয়ে যাবে শুধুই তোমাকে -আমাকে।

রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়" ১৬

চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 





উদাসী মেঘের ডানায় 
                                                  (পর্ব ১৬)


                                            শুক্রবার বেশ আয়োজন করেই ময়নার বিয়ে দিলো
ছাদের রুমটি সুন্দর করে সব কিছু দিয়ে তৃষ্ণা ঘুছিয়ে
রেখেছিলো। ময়নার মা চার বছরেরে ময়না কে নিয়ে
ওদের বাড়িতে এসেছিলো, ময়নার বাবা আর একটি
বিয়ে,করে ওদের রেখে পালিয়ে গিয়েছিলে। সেই চার বছরের মেয়ে আজ বড় হয়ে নিজের পছন্দমত বিয়ে
করলো।ময়নার মা খুব খুশি ময়না তার কাছেই থাকবে
বিয়ের সাজে ময়নাকে  বেশ সুন্দর লাগছিলো।
বিয়ের কয়দিন পর মজিদের সাথে হাতির ঝিল ঘুরে এসে বললো - আফা হাতির ঝিলে একখান ও হাতি
দেখলাম না, কত মানুষ কত সুন্দর কইরা  মাইয়ারা
সাইজা কালা চশমা পইরা কি যে গল্প করলো হেগোর বন্ধু না সেয়ামী জানিনা খুব ভালা লাগলো।

তৃষ্ণা,-আরে বোকা জায়গারটার নাম হাতিরঝিল।
তোরা কি করলি খুব আনন্দ করলি বুঝি।

ময়না-মুখখানি ম্লান করে বললো তা,করছি।

তৃষ্ণা- মজিদ তোরে খুব ভালোবাসে তাইনারে ময়না?

ময়ন- ভালাবাসে আফা,কিন্ত 
তৃষ্ণ - কিন্ত কি? 
ময়না-সিনেমার লাগাননা।
তৃষ্ণা হো হো করে হেসে উঠলো  হাসি আরা থামছেনা
তৃষ্ণার মা দৌড়ে মেয়ের ঘরে এসে বললো

-কিরে এতো হাসছিস কেন?

তৃষ্ণা - ময়না তুই যা, মা তোমার শুনে কাজ নেই
ময়না বেশ স্বপ্ন দেখতে শিখেছে মা দোয়া করো ও যেনো সুখি হয়।

ময়না আজকাল মজিদ কে নিয়ে ছাদে সুন্দর বাগান
করেছে ফুল ছাড়াও নানান রকম সবজি বাগান ও করছে এই কয়দিন বেশ গিন্নি গিন্নি ভাব এসেছে
ওর ভিতর, মেয়েদের বিয়ে হলে ওরা কেমন বদলে
যায়, স্বামির পছন্দমত রান্না করে রাখে এগুলো নিরবে দেখে তৃষ্ণা শান্তি পায়।
অপু ফোন করেছে আজ কথা বলতে বলতে তৃষ্ণা
কখন ঘুমিয়ে পড়েছে নিজেও জানেনা।
চলবে....

বুশরা হাবিবা





মায়াবতীর সন্ধানে 


কাজলে লেপ্টে থাকা চোখের কোণে যে এক ফোঁটা মায়াও লুকানো থাকে সে কথা তোমার অজানা,
দামী ব্রান্ডের গাঢ় রঙা লিপস্টিকের নিচে ঢাকা পরে যাওয়া  ঠোঁট জোড়ায় যে মায়া লেগে থাকে সে ও তোমার অজানা।
তোমার জন্য শখ করে পড়া নীল শাড়িটার প্রতিটি ভাঁজে যে কতটা মায়া লুকানো থাকে সেটাও তোমার ভীষণ অজানা!
তুমি গল্পে,আড্ডায় নাকি ভীষণ আক্ষেপে বলে বেড়াও- 
 একজন মায়াবতীর খোঁজে তুমি আজও নিরুদ্দেশ!  
অথচ মায়াবতী যখন নিজের মাঝে লুকোনো মায়ার প্রান্তর নিয়ে তোমার সামনে এসে দাঁড়ায় -
তুমি তখন কত সহজে সেই মায়াকে উপেক্ষা করে, 
অন্য কোনও দিকে অন্য কারোও দিকে মনোনিবেশ করে যাও!
যেখানে একবার,শুধুই একটাবার চোখে চোখ রাখলেই তুমি মায়াবতীকে খুঁজে পেতে,
সেখানে তুমি নিরুদ্দেশের মতো এ জগত সংসারে না জানি কোন মায়ার  পেছনে ছুটে চলো! 
যে মায়ার সন্ধানে তুমি মায়াবতীকেই দূরে সরিয়ে দাও,
সেই মায়ার প্রপাত নিয়ে মায়াবতী তোমার অপেক্ষায় আঁচল বিছিয়ে বসেই আছে!
তুমি শুধু একবার পেছন ফিরে মায়াবতী বলে ডেকে দেখো-
হয়তো এক জীবনের ধারণকৃত সবটুকু মায়া সে তোমার চরণতলে বিছিয়ে দেবে নিঃশব্দে! 
তুমি শুধু একটিবার মায়াবতী বলে ডেকেই দেখো।

লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল" ১২

চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শান্তা কামালী'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "বনফুল






                                                    বনফুল 
                                                      ( ১২ তম পর্ব ) 
 

জুঁই বেশ কিছু সময় ছাদে কাটালো, সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো দেখে জুঁই আস্তে আস্তে ছাদ থেকে নেমে এলো। 
মাগরিবের আযান হলো, জুঁইয়ের বাবা-মা নামাজ পড়তে চলে গেল,
জুঁই মোবাইল হাতে নিয়ে ফেসবুকে  ঢুকে কিছু সময় কাটাচ্ছিল তখন ময়না টেবিলে চা নাস্তা পরিবেশন করতে করতে জুঁইয়ের বাবা-মা নামাজ শেষ করে চলে এলে। এক সাথে বসে বাবা-মা মেয়ে চা নাস্তা খেতে খেতে খানিকটা আড্ডা মারলেন, জুঁই বললো এবার আমি উপরে যাচ্ছি পড়া শেষ করতে হবে। এই বলে জুঁই উপরে উঠে গেল,পড়ার টেবিলে বসে ভাবতে লাগলো কি ভাবে বাবা-মাকে পলাশের ব্যাপারটা বলা যায়। সে যাকগে যেভাবেই বলি বলবো, এখন পড়া শেষ করতে হবে, হঠাৎ জুঁই ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো সাড়ে দশটা বাজে, মনে হলো বাবা-মা নিশ্চয়ই আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। তাড়াহুড়ো করে নিচে নেমে এলো, জুঁইকে মা মনোয়ারা বেগম বললেন মা জুঁই আমরা তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। অমনি জুঁই বললো স্যরি মা কখন যে ঘড়িতে সাড়ে দশটা বেজে গেল বুঝতে পারিনি! 
মা বললো চলো এখনই খাওয়া শেষ করে ফেলি তোমার বাবার ঔষধ খেতে হবে সময় মতো। যথারীতি খাওয়া শেষ করে জুঁই উপরে উঠে এসে ফ্রেস হয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে বিছানায় শুয়ে ফোন হাতে নিতেই ফোন বেজে উঠল, আশ্চর্য কি টেলিপ্যাথি পলাশের ফোন! ওপাশ থেকে পলাশের কণ্ঠে কি করছো জুঁই? 
-জুঁই না কিছু না, তোমাকে ফোন দেবো বলে ফোন হাতে নিতেই তোমার ফোন! পলাশ প্রশ্ন করলো তুমি খুশি হওনি?  জুঁই হয়েছি  মানে রীতি মতো ভাবছিলাম আমাদের কি টেলিপ্যাথি.....! 
জুঁই বললো আমি ভাবছিলাম কি করে আমাদের  সম্পর্কটা বাবা-মাকে জানাব।
পলাশ বললী,না জুঁই এখনোও সময় হয়নি,তিনমাস পরে আমার ফাইনাল পরিক্ষা। তার পরে যা বলার বলবে, এখন না।
জুঁই জিজ্ঞেস করল তুমি খেয়েছো উত্তরে হ্যাঁ বললো পলাশ। 
জুঁই তুমি এখন কি করছো?  শুয়ে আছি। তাহলে লক্ষ্মী
মেয়ের মতো ঘুমিয়ে পড়ো।
জুঁই বললো হুম, গুডনাইট সুইট হার্ট। 
পলাশও গুডনাইট বলে ফোন কেটে দিলো।




                                                                                                চলবে...

কাজী ইনাম এর ধারাবাহিক গল্প "একরাত্রি" শেষ পর্ব

এই সময়ের অন্যতম স্বনামধন্য উপন্যাসিক কাজী ইনাম এর চতুর্থ উপন্যাস এর প্রস্তুতি চলছে এখন  একরাত্রি শেষ হলো ধারাবাহিক গল্প ।  "স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকায় " পাঠকদের কাছে অনুরোধ লেখাটি পড়ে লেখক কে উৎসাহ প্রদান করুন আরো ভালো কিছু পাবার আশায়। 





একরাত্রি
             (শেষ পর্ব)
    


                                    ফসার আজ সারাদিন রাবেয়ার ঠোঁটের কোণে একটু হাসি দেখার অপেক্ষায় ছিল। তার মনের অশান্তিটা কমত তা।
আলোটা একটু জ্বালি? রাবেয়া জানে আফসার জেগে আছে।

আলো জ্বালবে কেন? আফসার তটস্থ হয়ে জানতে চায়।
ঘড়ি দেখব।

ঘড়ি দেখতে হবে না।আড়াইটা বাজে।
আমার কিছু কথা আছে।

রাবেয়া বাতি জ্বেলে দিল।আলো তার চোখে লাগছে।অন্ধকারটাই তো ভাল ছিল।সে একবার বাতি নেভানোর কথা ভাবল। নেভাল না।পা তুলে দিয়ে বিছানায় বসল।তাকে দেখে মনে হয় গল্প করতে বসেছে
অথচ সে এসেছে ভীষণ সিরিয়াস কিছু কথা বলতে।কঠিন বক্তব্যের ভূমিকা বুঝি এমনই রসালো হয়।রাবেয়া চুপ করে আছে।যা বলতে এসেছিল আফসারকে দেখার পর আর বলতে পারছে না।ভীষণ অসহায় চোখে আফসার তারই দিকে তাকিয়ে আছে
যেন এই মামলার রায় রাবেয়া তাকে পড়ে শোনাবে।রাবেয়া এই দুর্বল মানুষটির স্বভাবভালো করে জানে
সে যদি এখন তাকে বলে- কাল তোমার কিছুই হবে না।হাসিমুখে বাসায় ফিরবে তুমি- আফসার শান্তিতে ঘুমিয়ে যাবে।কিন্তু এমন কথা রাবেয়া কী করে বলে? যে স্বপ্ন সে নিজে দেখেনা আরেকজনকে তা দেখায় কেমন করে? সে জানে কাল কী হবে।কাল আফসারের ফেরা হবে না।রাবেয়া কিছুই বলল না।বাতি নিভিয়ে শুয়ে পড়ল।সে ঘুমানোর চেষ্টা করছে না। ঘুম ভাঙলেই যে আগামীকাল।
 জগৎসংসারে চিন্তার বাইরের ঘটনাই ঘটে বেশি
সেই সন্ধ্যায় আফসার ফিরে আসে।মামলা থেকে মুক্ত হয়ে ঘরে ফেরেবাসায় তাকে নিয়ে তীব্র উত্তেজনাছেলেমেয়েদের কথা আর শেষই 
হয় না।মরিয়ম তার দরদী মন থেকে অনেক কথা বলল।ছোট্ট কুসুম সেও অবোধ্য ভাষায় তখন থেকে কী যেন বলছে সরব বাড়িটাতে নিশ্চুপ আছে শুধু রাবেয়া।আফসার আসার পর থেকে একটা কথাও সে বলেনি।কেন জানি লজ্জা পাচ্ছে।একটা নির্লজ্জ সুখ আড়াল করতেই সে ক্ষণে ক্ষণে রাঙা হচ্ছে।আফসার তাকে কিছু বলবে তারই অপেক্ষায় আছে।