উদাসী মেঘের ডানায়
(পর্ব দুই)
অপু যথা সময়ে রেষ্ট হাউজে এসে তৃষ্ণা কে নিয়ে এলো,অপু গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বললো -সাদা শাড়িতে
খুব নির্মল লাগছে তোমাকে।
তৃষ্ণা হেসে বললো - আর বুঝি কথা খুঁজে পেলেনা
অপু-সত্যি বললে বুঝি দোষ, কতকাল পরে তোমাকে
শাড়ি পড়া দেখলাম, সমুদ্রের জল ছোঁয়া আধো ভেঁজা শাড়িতেও তোমাকে অপূর্ব লাগছিলো তখন।
ঃএখন পছন্দ হচ্ছে নাতো সালোয়ার কামিজে এটা
সরাসরিই বলো।
ঃনা, মানে
ঃথাক খুব হয়েছে
সায়মনে এসে গাড়ি পার্ক করে ওরা রুমে ঢুকলো
তৃষ্ণা বিশাল কাচের জানালার সামনে এসে দাড়িঁয়ে
বললো- বাহ রাতের সমুদ্র কি অপরুপ লাগছে চাঁদের
আলোয় এক মায়াবী খেলায় মেতেছে জল।
ঃ হুম,আমি এলে এখানেই উঠি, একা, একা দেখি আর একজন কে ভাবি।
ঃবউ কে খুব মিস করো না?
ঃ না, একজন কে করি, সে পালিয়ে বেড়ায় আমার
কাছ থেকে।
ঐদিকে গর্জন করে আছরে পড়ছে সমুদ্রের ঢেউ
আর কাচের জানালা ভেদ করে তচনচ হচ্ছে দুটো মন
কেউ কথা বলছেনা কেবলই দেখছে যতদুর দৃষ্টি যায়
পাড়ে আছরে পড়া ঢেউয়ের আকুতি, তৃষ্ণার মনে হলো এতো রাগ কিসের সমুদ্রের, কি চায় সে...?
হঠাৎ তন্ময়তা ভেঙ্গে কথা বলে উঠলো অপু
ঃকি ভাবছো, কথা বলছোনা একেবারেই
ঃ কিছুই ভাবছিনা কেবল ঢেউগুলো মিছেই খেলায় মেতেছে তাই দেখছি।
অপু কথার মোড় ঘুড়িয়ে দিয়ে বললো-
ঃ ডিনার ১০টায় দিতে বলেছি, এসো গল্প করি কতকাল পর দেখা
ঃআজ তোমার জীবনের গল্প শুনবো অপু, শোনাবে?
ঃশুনতে ভালো লাগবেনা তোমার
ঃসেটা আমার উপর ছেড়ে দাও।
কিছুটা সময় চুপ করে থেকে তৃষ্ণার দিকে তাকিয়ে
বললো- মনে আছে তোমার তুমি জানতেনা আমি বিবাহিত ছিলাম ছয় মাস হয়েছে। কাউকে বলতামনা
জিগ্যাসা না করলে, ইচ্ছে হতোনা বলতে।
ঃকেন?
এটা কি বিবাহিত জীবন না অন্য রকম এক জীবন
আমি আমার জীবন নিয়ে ওর জীবন নিয়ে মানসিক
চাপে থাকতাম, কেবল অফিসে এলে ঐদূর্বিসহ জীবনটা ভুলে যেতাম যখনই তোমার সাথে আড্ডা
দুষ্টমিতে মেতে থাকতাম।
সেই তুমি আমাকে যেদিন জিগ্যাসা করলে আমি বিবাহিত কিনা জানার পর আস্তে আস্তে দুরে সরে যেতে থাকলে কাজের ব্যস্তটা দেখাতে, তারপর হঠাৎ
চাকরীটা ও ছেড়ে দিলে।
আমার আর কোন বন্ধুুু বা ভালোবাসার ও কেউ রইলোনা।
ঃ কি এমন হয়েছিলো অপু নতুন বিবাহিত জীবনের
শুরুতেই অশান্তি, আমার জন্য কি?
না তোমার জন্য নয়,বরং ওর ব্যাবহারে আমি একটু
ভালোবাসা পাবার আসায়,তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছিলামা।
ও কখনো আমাকে ভালোবাসা তো দুরের কথা পছন্দই করতোনা,প্রথম, প্রথম খুব রাগ হতো পরে
ওর জীবনের গল্প শুনে আমি হতভম্ভ হয়ে গিয়েছিলাম
ওকে ভালোবাসতে পারিনি কিন্ত কেন জানি অসহায়
লাগতো ওর দিকে তাকালে ভাবতাম মা-বাবা ও এমন
নিষ্ঠুর হয় আমার জানা ছিলোনা।
একটু থেমে পানি খেলো।
তৃষ্ণাঃ কষ্ট হলে বলোনা অপু
ঃনা তোমাকে শুনতে হবে একটু থেমে বলতে শুরু করলো-
ঃনীরা যখন এস,এসসিতে পড়ে ওর একটা ছেলের সাথে প্রেম হয়,ছেলেটা ভার্সিটিতে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে এভাবে বছর তিনেক পর নীরার বাবা জানতে পারে,মেয়ের কাছে শোনে,ওর বাবা কৃষক ভালো স্টুডেন্ট এখনানেই যত বাধা কোথায় তাদের ফ্যামিলি
স্টাটাস আর মেয়ে কিনা কৃষকের ছেলেকে ভালোবাসে।অনেক বুঝালো মেয়েকে মেয়ে শুনলোনা
হঠাৎ একদিন নীরাক ওর বাবা বললো সৈকত, কে বাসায় ডাকতে কথা বলবে।
নীরা খুবই খুশি,আসতে বললো সৈকত কে, কিন্ত
হতভাগীনি জানতোনা তাদের জীবনে এতোবড়ো বিপদ ঘনিয়ে আসবে।
যথা সময়ে সৈকত এলো নীরার আনন্দে আজ আর কথা বের হচ্ছেনা, বাবা রাজি এটাই ছিলো শেষ আনন্দ বুঝেনি।
হঠাৎ নীরাার বাবা সৈকতের সামনে যেয়ে দাঁড়িয়ে
চুলের মুঠোধরে বললো- বামন হয়ে চাদেঁ হাত বাড়িয়েছিস বলে এলোপাথাড়ি মারতে লাগলো নীরা
ছুটে এসে বললো- বাবা,কি করছো তুমি, ওকেে ডেকে
এনে।
এবার মেয়েকে একটা চড় মেরে বললো- খুব দরদ
এই বলে দারোয়ান চাচাকে দিয়ে এলোপাথাড়ি মেরে
গাড়িতে তুলে কোথায় ফেলে এসছে নীরা জানতোনা
দুদিন পর পত্রিকায় নিউজ পড়ে সৈকত আত্মহত্যা
করেছে।সেই থেকে ওকে অপরাধী ভাবতে ভাবতে
মানসিক ভাবে অসুষ্হ। আর প্রতিজ্ঞা করেছে কোনদিন সৈকত ছাড়া কাউকে ভালোবাসবেনা,সেই
তার জীবনের সব।
তৃষ্ণার মনটা ভারী হয়ে উঠেছে,খেয়াল করলো অপুর
কম্পিত কন্ঠস্বর থামতেই শোনা যাচ্ছে সমুদ্রের গর্জন
দরজায় ডোর বেলটা বেজে উঠতেই তাড়াতাড়ি উঠে
দরজা খুললো।
বেয়ারা রাতের ডিনার নিয়ে হাজির, অপু ঘড়ি দেখলো
রাত দশটা সময় মতন নিয়ে এসছে, ইশারায় রাখতে বললো বেয়ারা চলে গেলেো।
এভাবে আরো কিছুটা সময় পার হতেই মৌনতা ভাঙ্গলো অপু-- ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে সব খাবেনা?
ঃএসো খাই দুজনেই খেতে বসলো ঠিকই কোন
রকম খেতে হয় তাই খাওয়া।
তবুও তৃষ্ণা বললো- অপু তুমি কিছুই খাচ্ছোনা
ঃতুমিও,
ঃআসলে খিদে নেই
ঃআমরও
এই বলে দুজনেই উঠে পড়লো।
তৃষ্ণা এসে এবাব রাান্দায় বসলো।
অপু ঃঠান্ডা লাগবে তৃষা সরাসরি বাতাসে
ঃলাগুকু তবুও কাচের জানালায় কি সমুদ্র দেখে
ভালো লাগে।
অপুও পাশে এসে বসলো।
ঃবারোটায় আমাকে দিয়ে আসবে অপু
ঃথাকোনা,কথা তো শেষ হয়নি শুনবেনা
ঃশুনবো কালকে।
( চলবে)