স্ত্রী কি শুধুই একজন স্ত্রী
( প্রবন্ধ ) মোঃ হাবিবুর রহমান
এ যেন এক অপূর্ব লীলাখেলা সৃষ্টিকর্তার। কোথাকার এক ছেলে আর কোথাকার এক মেয়ে জোড়া দিয়ে গড়েছে সংসার। হ'য়ে গেছে যেন দুজনে দুজনার। এ সম্পর্ক বা বন্ধন সত্যিই মধুর ও স্বর্গীয়ও বটে।
পশু পাখিদের সংসার আনুষ্ঠানিকভাবে খুব একটা দৃশ্যমান না হলেও কিন্তু সৃষ্টির সেরা জীব নামে খ্যাত মানুষদের স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যে এই সম্পর্ক বা স্বর্গীয় বন্ধনটি সারা বিশ্বেই কিন্তু কমবেশী চালু বা বিদ্যমান আছে।
আল্লাহ্পাকের কি এক অপূর্ব মহিমায় এই বন্ধনটি টিকে থাকে একটানা বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ এমনকি আজীবন ও একদম আমৃত্যু পর্যন্ত।
কি যেন এক অদ্ভূত আর অভূতপূর্ব এক মায়া আর মোহে দুটি ভিন্ন আর বিপরীত লিঙ্গের স্বত্মাধিকারী মানব-মানবী জুটি ক'রে ঘর বেঁধে সুন্দর সংসার সাজায়।
আর অতঃপর তাদের উভয়ের রক্ত দ্বারা সন্তান-সন্তানাদি কলিজার টুকরার মত অতি আদরের পরম ধন জন্ম গ্রহণের পরপরই তাদের সম্পর্কের সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়। সৃষ্টিকর্তার এই দেওয়া বিধান সত্যিই অপূর্ব!
অথচ, পরের ঘরের মেয়ে এসেছে সম্পূর্ণ অচেনা এক ঘরের পরের ছেলের সাথে মানিক জোড় সৃষ্টির লক্ষ্যে। তাই এই বিয়ে নামক সামাজিক স্বীকৃতিটি দুটি ঘরের পর ও অচেনা দুটি ছেলে আর মেয়ে একাত্ম হ'য়ে সৃষ্টি করেছে যেন মহাআপনের এক অদ্ভূত দৃষ্টান্ত।
একদম পর ও দুজন অচেনা মানব-মানবীর আপনজনে পরিণত হবার এ যেন স্রষ্টার দেওয়া বিশ্বজনীন এক মহাকৌশল। স্বামী ও স্ত্রীর রক্তের ভাগাভাগিতে কলিজার টুকরো সন্তানের জন্ম লাভের পর থেকেই যেন তাদের দুআত্মা একাত্মায় রূপ নেয়।
প্রতিটি সুখ, প্রতিটি দুঃখ ও বেদনা যেন সমানভাবে উপভোগ কিংবা সহ্য করে দুজনেই একই উপলব্ধি নিয়ে।
এযেন বিধাতার এক অমোঘ অভিপ্রায় যা বুঝি বাস্তবে কার্যকরী করা হয় অচেনা দুই পরের ঘর থেকে আসা দুই মানব-মানবীর মধ্যে বিয়ে নামক প্রচলিত সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী চুক্তির মাধ্যমে।
পর পরই এ কথাটি যথেষ্ট সত্য কিন্তু এটাও সত্য যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বন্ধনের পর এই থিয়োরিটি কেন যেন একদমই অকেজো হয়ে যায় কিংবা কোন কোন ক্ষেত্রে কেন যেন একেবারেই দূর্বল আর ফিকে হ'য়ে যায়।
সন্তান-সন্তানাদির জনক জননী হবার পর প্রকৃতির অমোঘ নিয়মেই তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই যেন অচেনা দুটি পৃথক পরিবার থেকে আসা সত্বেও একবারে পর থেকে পরমাত্মীয়তে পরিণত হয়ে যায়। আর তখনই বুঝি স্ত্রী আর পর থাকে না, হয়ে যায় একবারে রক্তীয় বা অতি আপন স্বজন।
প্রকৃতির নিয়মেই একটা পরিবারের সব মেয়েরা চলে যায় পরের ঘরে, ছেলেরা বিয়ে করে পরের সংসার থেকে বউ নিয়ে আসে আর বাড়ির কর্তা, গৃহিণী, বাপ ও মা তো এক সময় বয়োঃবৃদ্ধ হ'য়ে হাপানী কাশানীতে পড়ে। তাই ছেলেরা স্বভাবতই নিজের স্ত্রী-সন্তানাদি নিয়ে বহলতবিবতে পুরোদমেই সংসার শুরু করে।
আর তখনই বুঝি পরের ঘরের মেয়েটি পরিবারের কত্রী হ'য়ে সংসারের হাল ধরে। এই একটি জাগায় অন্য পরিবার থেকে আসা পরের মেয়েটি আর মোটেই আর পর থাকেনা বরং হ'য়ে যায় আপনের চেয়েও আপন।
তাকে ছাড়া স্বামী বেচারা কোন সিদ্ধান্ত নেবার মানসিক সাহসও পায়না। যৌথ পরিবার হ'লে তো বাড়ির বৌটিই শ্বশুর-শ্বাশুড়ী থেকে শুরু ক'রে পুরো পরিবারের সবার উপরই কর্তৃত্ব করতে থাকে আর এটা তখন সময়ের দাবী হিসেবেই চরমভাবে অনুভূত হয়।
পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্ক হলো স্বামী স্ত্রীর মধুর দাম্পত্য সম্পর্ক। আর এই সম্পর্ক গড়ে উঠার একটাই কারণ হলো-স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা গড়ে উঠে আপনের চেয়ে আপন। স্বামী যদি ইজ্ঞিন হয় তাহলে স্ত্রী অবশ্যই হবে ঐ গাড়ির চেসিস।
এখানে গাড়িটি একটা সংসারের রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং, সব কথার মোদ্দা কথা হলো স্ত্রী পরের ঘরের একজন মেয়ে হলেও সে আসলে পর নয়, বরং সে পরমাত্মীয় ও অতি নিকটজন।
আর এজন্যই হয়তবা স্ত্রীকে অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।