১৫ আগস্ট ২০২১

 মুন চক্রবর্তী

 



ইতিহাস ঘুমায়নি 

 


 শপথ সময়ে জন্ম নিয়েছিল যে ছেলে মেয়েরা তাঁরা এক নির্বাক বন্ধন। 

সেদিন রক্ত মাংসের ছেলে মেয়েরা কুসুম শয্যা ছেড়ে অর্নিবান পথে। 

জন্ম দেওয়া মায়েরা রাতের নিবন্ধে কারাগারের স্বপ্ন লিখেছিল। 

মুক্তির শপথে মাতৃ দুগ্ধে পেয়েছিল দেশপ্রেমের বিপ্লবী শক্তি। 

আজ লাল কেল্লার বর্ণাঢ্য আয়োজনে কত ছেলে মেয়েদের রক্তে রঞ্জিত,ইতিহাস ঘুমায়নি। 

শপথ সময়ে জন্ম নিয়েছিল শতশত নাম তাঁদের অমর বলিদানে প্রণাম। 

সেদিনও হরিয়ালী মাঠে শস্য খেলেছিল প্রেম জাগানো স্রোতে। 

জোছনার আলোতে পায়ে পায়ে কত কাঁটা বিঁধে চট্টগ্রাম অস্ত্রগার লুন্ঠনে মাষ্টারদা। 

প্রেম ছিল ফুল ছিল নদীরও জল প্রতিজ্ঞার আগুণে সব পুড়েছে রক্ত মাংসের ছেলে মেয়েরা। 

নামগুলো সোনার হরফে এমনি হয়নি লেখা অভুক্ত সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ,শপথে শপথে শিকাগো

 জ্ঞানলোকে স্বামীজী। 

গভীর অরণ্যের ভয়ঙ্কর মারণ পথে কোনো নারীর শ্লীহানি হয়নি,ছেলেদের স্বদেশ প্রেম মহিমময়ী নারী।

 কত রাত্র ঘুমায়নি চোখ স্বপ্ন মাতৃ ভূমির শৃঙ্খল মুক্তি,নেতাজি আজও ঘুমায়নি 

ঘুমায়নি ব্রহ্মপুত্র,গঙ্গা,পদ্মা,কাবেরী,যমুনা এলাহাবাদের সঙ্গমে রেখেছে কেবল প্রতিজ্ঞা। 

জেগে আছে রবীন্দ্রনাথ,নজরুল,সুকান্ত,জীবনানন্দ আবার আসিব ফিরে--ইতিহাস ঘুমায়নি। 

বিপ্লবীর তাপস বেলায় সিরাজদৌল্লা,পলাশীর বাংলা 

 ফাঁসির মঞ্চে একে একে তরুণ সম্পদ বলিদানে লজ্জিত ভয়ে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। 

সুখদেব রাজগুরু ভগত কত পূন্যের ফলে এমন ছেলে,একবার বিদায় দে মা বীর ক্ষুদিরাম--স্বাধীনতা স্বাধীনতা। 

নেতার সব দাবি ফিরায়ে ওঁরা আছে অমৃতে বিপ্লবী শহীদ 

মাতৃ মুক্তির ইতিহাস ঘুমায়নি,স্বরাজ আমার জন্মগত অধিকার---শতকোটি প্রণাম স্বাধীনতা দিবস।

মমতা রায় চৌধুরী




এ কেমন স্বাধীনতা? 



 শুনেছি স্বাধীনতা 

 একটি বীজপ্রবাহ। 

তবে কেন হয়নি সমাজের 

 সর্বস্তরে তার অঙ্কুরোদগম? 

এখনো দেশের অন্নদাতা , 

অগণিত কৃষক ভাগ্যহত, 

অধিকার বঞ্চিত ও দরিদ্র। 

তবে এ কেমন স্বাধীনতা? 

আজও মানুষ নিরন্ন,নিরক্ষর, 

ভাতৃঘাতি সংগ্রাম, সাম্প্রদায়িক কলহ, 

মাথাচাড়া দিচ্ছে নিরন্তর। 

স্বপ্ন দেখতে ভুলে যাচ্ছে অগণিত যুব জনতা। 

যে শিশুর খেলার বয়স 

তাকেই শ্রম দিতে হয় 

কোন চায়ের দোকান। 

নয়তো মায়ের সাথে 

মনিবের বাড়ি বাসন মাজায়। 

হয়তো‌ বা রাজমিস্ত্রির 

যোগান দেয়ায়। 

এখনো শিশু শ্রম! 

একবিংশ শতাব্দীর 

এটাই কি ভবিতব্য? 

এই স্বাধীনতা চেয়েছি আমরা? 

এখনো দেশে লাঞ্ছিত, 

 জগদ্ধাত্রী রুপি নারী। 

 আব্রু রক্ষা করতে, 

বলি দিতে হয় অস্তিত্বকে। 

আঁতকে উঠি আর ভাবি- 

 স্বাধীন দেশের নিয়ে ভবিষ্যতকে। 

আজও দেশে পণপ্রথা - 

রয়েছে মারণব্যাধি রূপে। 

দেশের প্রস্ফুটিত গোলাপগুলি 

 ঝরে যায় কেমন অকালে। 

বলতে পারো এ কোন স্বাধীনতা? 

যা রক্ষা করতে আত্মত্যাগী 

 স্বাধীনতা সংগ্রামীরা, 

স্বপ্ন দেখেছিল। 

আজ কেন সে আজন্ম লালিত 

স্বপ্ন হচ্ছে ধুলায় লুণ্ঠিত? 

তবুও আশায় বুক বাঁধি 

নতুন স্বাধীনতায় উঠবো জেগে।