একটি অদ্ভুত ভয়ঙ্কর দর্শন নরক
যখন হাফপ্যান্টে। নিজস্ব খোলা মাঠে। চমৎকার। কি বলবো হয়তো আদর হয়তো ভাষাহীন ভালোবাসা। সাঁঝঢলা মেলা। বোঁদে জিলিপি পাঁপড়। মজা। গায়ে ঘূর্ণি। হু হা ওয়ারে ওয়া। স্বপ্নের মানে রূপকথা শোনে। আনাচে কানাচে ধরণা। ছলবল খলবল। একটা সাজ। একটা সবুজ পরিচিত গন্ধ। অথচ। সব রং শুনশান। হাপিস। অসাড় বিনিময় মাখামাখি। উঁহু ঝাঁপ তো বন্ধ। অথচ মাতামাতি জাজিম। নিঝিম বহুদিন বহুক্ষণ ইয়ারি ঢেউ খেলানো মাটি। জিরেন নিচ্ছে আঁজলা আঁজলা আকুতি জঙ্গল।
আচ্ছা এতো এতো বছরের উতরাই ভেঙে হটাৎই পেছন ফেরা কেন। কেন ঝিমুনিতে লকলক এ ললকানি। অনেকটা ভেতর। এখানে কি গা ঘেঁষা বুনে দেওয়া হচ্ছে। যোজন গন্ধ। এখন যে আর সঠিক শরীর হাঁটে না । ইঁট পাথর গাছ শূন্যে পা তোলে না। আকাশ ঠোঁট দুটো কোথায় রাখে আকাশের মনে পড়ে না। শালপাতা অনিবার রোশনাই ছুড়ে দেয় আর তো ওড়ে না। এখন এ আমিতে আর কুপি জ্বলা আলো-ধোঁয়া রূপকথার রোশনাই-আমি থাকে না। সেই নেই কিশোরের থোকা থোকা জলকেলি বিদ্যুৎ পরাণবতী আদি আদিম সহজ কবে কুনঠিনে কুন্ লাফড়ায় লুঠ হয়ে ... যাতনা ফিরল ... যাচনা ফিরল ... আমিটাতো ফিরল না ... সুডোল বুনো সর্বঅঙ্গ তিরতির কাঁপন... সীমাসন্ধি হদ্দমুদ্দ খেয়ে ফেলেছে।
আমিও বেঁচে রইব কি। জানি না। কেন সাপে ধরেছে কি। মাংসাশী আইন। প্যাঁচ পয়জার। টাকারে টাকায় মদ্দা-মিনসের নাচের আওয়াজ গুঁড়ো গুঁড়ো হয়। আর পাগলা তো ঘোষণাই হয়ে আছে। কাঁচারক্ত আগ্রাসন ... হাগু মুতু মুখের ওপর ঝুঁকে পড়ে। তবুও এখন জেলখানা জানলার গরাদকে বেহুঁশ করি। অন্তর মেখে বৃষ্টির সাথে ছেনালি। মাদলের পাপড়ি তা'দিচ্ছে। ওড়ে ঘাম কাদায় মাখামাখি সুডোল বুনো আগুন-নেশা। এও এক বেশুমার জাদু। যৌন যাপন নেশা। ওড়ে নাভির নীচে টায়েটোয়ে ফুটে ওঠা গহীন থান। ওখানে যে আমি মাথা ঠেকাতি চাইরে বাতি জ্বালতি চাইরে। তারপর... গুড়ুম গুড়ুম। সব শেষ হোক না কেন ... মাতন লাগা জঙ্গল ছুটুক ...
আপ-ডাউন রেললাইন আহা। সব ছুটেছে। বিড়বিড় খারাপ ভালো কি চিরকালকার বই বাঁধিয়ের সঙ্গে উড়নখাটোলায় আছে। তুমি একা একা চলে এলে। আমার কি উচিত ছিল শিক্ষানবিশ হিসেবে তোমার সাথে তোমারই মতো নীরবতার ছবি আঁকা। ট্রেনের গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে তোমার রং আর আঠার গন্ধ উষ্ণ সুস্বাদু হয়। কিন্তু অসম্পূর্ণ হুম চুম। খুব আরাম। হা হা। বেচারা আরাম হত্যা হল। প্রতিবিম্ব বদল হলো। এক হাতে ঠোঁটে কামড়ানো আঙুল। পেছনে একটা ফুটো। হাতে চোখ। চোখে জড়ানো নীচু-স্বর। সিঁড়ির পাশ। শুকনো নদীর দাগ। এখন আমতা আমতা সুস্বাধ।
পেছনে শাড়ি সায়া ব্লাউজ। কেউ কি কাউকে মেরে ফেলেছে। মৃত্যুচোবানা দেহস্তূপ। সমস্ত বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড একযোগে খোলা পাত্রে কেমন কেমন বিদ্যুৎ বুনছে বিচে বুচে চাট্টি মুড়ি।
নিজেরেই কেচেকুচে কাপড় পাল্টিম'দে ভদ্দর ভাষায়ই তো সব রং-কথা গাইছি। তুরা গুরুচন্ডালী দোষ দেখ কেনে। খিদে ক্ষুধা এ-গুরুচণ্ডালী হলেও প্যাট যে মানে না। যাদের প্যাট নাই প্যাটের নীচ টুকুন আছে ওই ভদ্দর গাই আমি নই। ষণ্ডর কুঁজটিও নাই। ক্যাবল প্যাট...
তবু জিনদের ছায়া। সোনার সুন্দরীর সময় ভর্তি বাক্স আর তার অনুচ্চার স্বর এসব একটা আঁকা অসম্ভব কি। ঢেউ উঠছে। আমি কাকে আঁকবো আমাকে না তোমাকে। আমি না তুমি কার মুখ ভুলতে পারি না। জ্যান্ত অবস্থায় নিজেকে দেখা হয়নি। তুমিরঙা রাস্তাটা যে ভেদ করতে পারিনি। ঢেউ উঠছে। জল কাদায় লেপ্টে সূর্য। আর কত্তা কতটা নিজেকে খুঁড়তে খুঁড়তে চক্রাকারে ঘুরতে পারবে। বরং শঙ্খচিলের সমুদ্রের সঞ্চয় থেকে তীব্রতা ধার নিই। হ্যাঁ এখন আপ-ডাউন রেললাইন মহল্লাও অনেক ডেকে ফেরা হাড়গোড়ে মাখামাখি। ঠিক আছে। ওখানটাই আঁকতে যায়। কিন্তু দেখতে পাই অনেক শ্বাস-প্রশ্বাস অনেক খিস্তি খেউড় অনেক গোঙানি ক্যানভাস জুড়ে হামাগুড়ি কাটছে।
ঢেউ উঠছে। আমিকি ঢেউ করতে চাই। ঢেউ হতে চাই। ঢেউ ধরতে চাই। আমি কি উড়ে যাওয়া শীতার্ত মেয়ের না না বরং পার্থিব টাকা কড়ির রমণীয় ছবি আঁকি। কিন্তু ওই যে। ডন্তপাটি মাড়ি সমেত কাটা মুণ্ডিটা ওই যে মাটি শুকছে ঠান্ডা ফেলছে লোহা তলায় আঙুল ছুঁয়ে আমি'কে তুমি'কে খুঁজে চলেছে। ওখানেই তুলি রাখবো। সৃষ্টি ফ্যক্টরিতে প্রকাণ্ড সিকিউরিটির পায়ের ছাপ উকুন ছারপোকা বুকনির পর বুকনি গুজবের পর গুজব চলে ফেরে। আশ্চর্য প্রদীপ রোমরাজিতে মেহেদি ছিনতাইয়ের গল্প লটকে যায়। সে এক ডাউস অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া।
আমি তখন হামাগুড়িকালে নিজেকে চেপে ধরে পাখি-নদী-তিরতির চুম্বন সবুজে ঝাঁপাই কী ঝাঁপাযই । শুধু স্তনের জন্য আমি তখন এক বোধযুক্ত শিশুকাল
তখন ওরম শিশুকাল খোঁজা ক্যানভাস কোথায়। শুধু শুখা-রক্ত-জমিন আড়মোড়া ভাঙার চেষ্টা চালাচ্ছে।
কোথায় যে সম্মোহিত গরম নিশ্বাস সমেত মুন্ডুটা থমকে গিয়ে দু-প্রান্তে চোখ ছিড়কে যেতে চাইছে। আমি আঁচ করছি আমার এই কলাকৌশলে আমি এবং আমার ভালো লাগা লুটতরাজের জিনিস একহয়ে গেছে। শ্যাওলার মতো সবুজটুকুও নিরুদ্দেশ। কিন্তুন্ বড় ভুক লেইগেছে। চানা মুড়িও তো নাই। আর তো ছুট্টবেলার ঝাঁপানে ওই যে বেশুমার উল্লাস আর তো জীবিত লাই। ওহোরে ওহো মৌহার চুকা তাড়ি মাড়ি হাড়িয়া দোনা ভর্তি মাদলের তালে গুণ গুণ রমণীরে তুই ফিন যিদি ঘর ছাড়্যে পালাস।
কেউ সাক্ষ্য দিবেনা। আমিই তো উল্ট্যা প্যাল্টা ভাষা ছন্দহারা ছন্দ অদ্ভুত চিৎকার ক্যানভাস যেখানে এক ফুটা ঘুম নাই শুশ্রুষা নাই এ আমি কোন যাপনে জেগে চলেছি।
শুখা মুন্ডুর কানে জলকেলির থোকা থোকা সোহাগীনি রংকথা। নাচে বুক। কোমর পা নাচে। আক্রমণ নাচে। বুক সেপটে কোমর কাঁচালঙ্কা-লুন। চমকাই ঘন্টা দেয় ঘড়িটা। যুদ্ধু যুদ্ধু খেলা চলতেই থাকে। ওই তো আমি আমি কাঠি-গোঁজা আইসক্রিম চুষছি ঠোঁট-জিভ হাসি-খি-খি গাছ হয়ে গেছি। পরণে কিছু নাই। এমন কী কোন সুন্দরীর আসক্তি রোশনাইটিও নাই। ছোট্ট বেলার জোনাক ভাষার সব লালা ওই হরদম বক বক শব্দ নিজেরই কপিকলে ওই বকবক শব্দতুলি আর... প্রাইমারি স্কুলের মাচানে তখন থেকেই শহীদ হয়ে থাকি। রমণী নামের গাছটার যত্ন আত্তি... না না ওই জংলা রমণীর গায়ে আজ আর তো লতাপাতা সোনালি সবুজ জোনাক লালা... নিরুদ্দেশে বেড়াবার চিৎকার... পঙ্খিরাজ ভ্রমণ পান্ডুলিপি ...
এরপরে আর কোন ক্যানভাস আত্মকথা চিহ্ন নাই। হাঁটতে-হাঁটতে সাইকেল চালাতে চালাতে চারচকায় নিজেকে ঠেলতে ঠেলতে যিনি এই পাগলা-পাগল অন্তিমে পৌঁছেছেন...
তিনি ...