২০ ফেব্রুয়ারী ২০২২

কবি শামীমা আহমেদ ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৬১




শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত( পর্ব ৬১)
শামীমা আহমেদ 

ওয়েটার ছেলেটি দুই গ্লাস কোল্ড কফি নিয়ে আসতেই শায়লা শিহাবের থেকে হাত ছাড়িয়ে নিলো। শায়লা একটু বিব্রত হলেও শিহাব খুব সহজভাবেই গ্লাস দুটো  রিসিভ করলো। ওয়েটার ছেলেটিকে ধন্যবাদ জানাতেই  ছেলেটি ফিরে গেলো। শিহাব শায়লাকে গ্লাসটি এগিয়ে দিয়ে নিজের গ্লাসের স্ট্রটিতে বেশ লম্বা একটা চুমুক বসিয়ে দিলো। এক টানে গলা ভিজিয়ে নিলো।হয়তো ভীষণ তৃষ্ণার্ত ছিল। শায়লা বেশ অনেকক্ষন যাবৎ আনমনে স্ট্র দিয়ে কফি গ্লাসে নাড়াচাড়া করছিল। শিহাব চোখের ইশারায় শুরু করতে বলাতে শায়লা ছোট্ট  এক চুমুকে যেন ভদ্রতা রক্ষার্থে টান দেয়া। শিহাব বুঝতে পারলো শায়লা কোন বিষয় নিয়ে গভীর চিন্তামগ্ন। 
কি হলো শায়লা, ভালো লাগছে না? 
হ্যাঁ, লাগছে।
তবে? 
শিহাব আমি তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই।
হ্যাঁ, অবশ্যই বলো আর কথা বলবার জন্যইতো এখানে আসা। 
শিহাব ঘন ঘন স্ট্রতে টান দিয়ে দ্রুতই কফি শেষ করে পুরোপুরি শায়লার দিকে স্থির দৃষ্টি রাখলো। 
আচ্ছা শিহাব, আজ সকালে রিশতিনাকে ফিরিয়ে দিয়ে তুমি কি কাজটি ঠিক করলে?
আমি সারাটাদিন এই বিষয়টি নিয়ে ভেবেছি।সে তো একবার তার বাবা মাকে ছেড়ে তোমার কাছে এসেছিলো। আজ আবার সে সব কিছু উপেক্ষা করে এলো।তার সংসার সন্তান বুঝে নিতে। তাকে তুমি কি আমার জন্যই ফিরিয়ে দিলে? 
শিহাব এবার বুঝতে পারলো শায়লার অন্যমনস্কতার কারন।
শিহাব শান্ত ভাবেই বললো,
শায়লা তুমি এভাবে ভেবোনা। রিশতিনার পরিবারটিকে তোমার পুরোপুরি জানা নেই।রিশতিনা যে পরিবারের সন্তান তাকে কোনদিনই আমাদের পরিবারে সংসার করতে দেয়া হবে না।বলতে গেলে রিশতিনাই আমার প্রতি বেশি আগ্রহী ছিল আর আমাকে পাওয়ার জন্য খুবই অস্থির হয়ে উঠেছিল।  আমি সবটা বুঝে উঠার আগেই ও বিয়ের জন্য আমাকে চাপ দিতে থাকে।মূলত ও ওর বাবা মায়ের কড়া শাসনে অতিষ্ঠ  হয়ে উঠেছিল।ওর ইচ্ছাকে মূল্য দিতেই আমি দ্রুতই বিয়ের সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলি। 
শিহাবকে থামিয়ে শায়লা বলে উঠলো, 
শিহাব আমি তোমার অতীত মনে করিয়ে দিয়ে কি কষ্ট দিলাম?
না শায়লা একেবারেই না।আমি একেবারেই ঠান্ডা মাথায় উত্তর দিচ্ছি।আমিতো আগেই বলেছি, তোমার মনে যত প্রশ্ন, আজ তুমি তা কর‍তে পারো।তাইতো এখানে আসা।আর যতদিন বা যখনি রিশতিনাকে নিয়ে তোমার মনে প্রশ্ন আসবে তুমি তখুনি তা জানতে চাইবে।আমার উত্তর দিতে কোন বাঁধা নেই।আমি  চাইনা আমাদের ভালবাসায়  তোমার মনে ভেতর কোন প্রশ্নের উত্তর অজানা থাকুক।আমি চাইনা আমার সাথে  মনে কোন প্রশ্ন নিয়ে জীবন কাটাও।
শায়লা, রিশতিনা আমার জীবনে এক কালবৈশাখী ঝড় হয়ে এসেছিলো। ও আমার জীবনটাকে ওলোটপালোট করে দিয়ে গেছে।তবে হ্যাঁ, এই ঝড় আমায় যতই কষ্ট দিক না কেন,এতে আমার একটা বিরাট অর্জন হয়েছে, আমার সন্তান আরাফকে পেয়েছি।
রিশতিনার বাবা মায়ের অর্থ বিত্ত আর অবস্থানের আভিজাত্যে তারা এতটাই অন্ধ যে,নিজ সন্তান মা হয়েছে,তারপরেও তার বুক থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়েছে।আমাদের কাছে ছুড়ে দিয়ে গেছে।এই চারটি বছর রিশতিনাকে আরাফের একটা খোঁজও নিতে দেয়নি। রিশতিনা দেশে থাকলেও কোনদিনই ওরা আমার সাথে শান্তিতে সংসার করতে দিতো না।আর এমন একটি অসুস্থ পরিবেশে আরাফ সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারতো না।যদিও আরাফ তার আপন মাকে পায়নি কিন্তু সে একটা সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশে বড় হয়েছে। আমি ধৈর্য্য  ধরেছি।রিশতিনার ফিরে আসার অপেক্ষায় থেকেছি।কিন্তু পরক্ষনেই তাদের পরিবারের দাপট আর নোংরা আচরনে  আবার কিছুতেই চাইনি রিশতিনা ফিরে আসুক। তার পরিবারের অবস্থানেই তাকে মানিয়ে নিয়ে নতুন জীবন  শুরু করতে হবে। রিশতিনা যতই অস্বীকার করুক আমি জেনেছি, রিশতিনাকে ওর বাবার ছাত্রের সাথে বিয়ে দিয়ে ঢাকা থেকে ওরা লন্ডনে গেছে।তবে জানিনা রিশতিনা সে বিয়ে মেনে নিয়েছে কিনা। আমি  রিশতিনার ভালোর জন্যই ওকে ফিরিয়ে দিয়েছি।এতে তুমি কোন হীনমন্যতায় ভুগবেনা শায়লা। এখানে তোমার কোন কার্যকারন জড়িত নয় শায়লা। তুমি জানো না,আমি আরাফকে নিয়ে ভালোই ছিলাম।এই একার জীবনে অনেক অনেক রাত একা একা আঁধারে শুধু প্রশ্ন রেখে গেছি কেন আমার জীবনটা এমন হলো? শুধু আরাফের মায়ের শূন্যতা আমাকে কষ্ট দিয়েছে। শায়লা আজ তোমাকে পেয়েছি।আমার জীবনটা আবার নতুন করে সাজাতে ইচ্ছে করছে।আবার স্বপ্নেরা উঁকি  দিচ্ছে।রিশতিনার সাথে আমার একমাসের চেয়ে অল্প কিছুদিনের দাম্পত্য জীবন। স্বামী স্ত্রীর সবটুকু সুখ ভোগের আগেই আমাদের জীবনটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।আমি বুঝিনি জীবন কি, সংসারে স্ত্রীর ভালবাসা কি? রাত নিশুতে খুব ভালবেসে স্ত্রীর কাছে সুখ খুঁজে নেয়া কি,বুঝিনি কেমন করে দুজনে দুজনার হয়ে হয়, কেমন করে ভালবাসার উজান গাঙে নাও বাইতে হয়! কেমন করে প্রেয়সীর ভেজা চুলের ঘ্রাণ নিতে হয়। দুজনার সাজানো সংসারে আটপৌরে নারীর দেহের বাঁকে কেমনে লুকিয়ে থাকে শিহরনের স্পন্দনের দোলা!
শায়লা, আমার অনেকদিনের না পাওয়ার মাঝে আমি তোমাকে পেয়েছি।একটা সুন্দর সুখের নীড় গড়বার আশায় তোমার বুকে মুখ লুকাতে চাই শায়লা।ভেবোনা রিশতিনাকে একেবারেই ভুলেছি। এটা বললে মিথ্যে বলা হবে।তোমার কাছে আমি কিছু লুকাইনি শায়লা।আমি অন্তত ওকে একদিকে শান্তি দিতে চাই।ও বাবা মায়ের পরিবার থেকে কখনোই মুক্তি পাবে না। কখনোই আমাদের ওরা শান্তি দিবে না।
শায়লা তুমি আমায় গ্রহন করো।আমাকে আমার একাকী জীবন থেকে মুক্তি দাও। শায়লার শিহাবের কথার মাঝে একেবারে ডুবে গিয়েছিল।তার কোল্ড কফি যেন জুড়িয়ে গিয়ে উষ্ণতা ছড়াচ্ছে।শায়লা স্ট্র দিয়ে কফি গ্লাসে হাত ঘুরাচ্ছে।সাথে তার মনেও নানান ভাবনা মনের ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে।
শিহাব  একটানে শায়লার ডানহাতটি কাছে টেনে নিলো।বললো,বাহ" ব্রেসলেটটা তোমাকে দারুন মানিয়েছে। বলেই শিহাব শায়লার হাতে ঠোঁট ছুইয়ে দিলো। শায়লা  বাইরে আমি খুবই পরিপাটি হলেও এই অগোছালো আমিটা তোমার যত্ন খোঁজে।
এই চেতনাহীন আমিটাকে তোমার চেতনার রঙে রাঙিয়ে দিও,যখন আমি দ্বিধান্বিত হই তুমি আমায় পথ দেখিও।
শায়লা, ঘড়ির কাঁটা মেপে চললেও আমি যে খুব ভুলো মনা, তুমি আমাকে তোমার মনের গহীনে রেখো। তোমার আঁচল তলে ছায়া খুঁজি বলে আমায় কাপুরুষ ভেবোনা,  তুমি চাইলে আমি যে হিমালয় জয় করতে পারি, পারি আটলান্টিক পাড়ি দিতে, শত ক্রোশ পেরিয়ে তোমায় নীল পদ্ম এনে দিতে।
শায়লা শি্হাবের সব কথায় একেবারে ডুবে গেলেও তার ভেতরেও প্রতিনিয়ত একটি কাঁটা বিঁধছে। কানাডার বাতাস বয়ে আনছে উৎকন্ঠা। শায়লার চোখে মুখে তার ছাপ শিহাবের দৃষ্টি এড়ায় না। শিহাব তা বুঝতে পেরে শায়লার মনে আশা জাগাতে শত বাধাকে উপেক্ষা করবে। 
শিহাব বলে উঠলো, শায়লা তোমার বিষয়টিও একটা বাধা হয়ে আছে।তুমি ভেবোনা, একটা সুন্দর সমাধানে আমাদের যেতে হবে।
রাহাত আর আমি দুজনে সবঠিক করে নিবো।রাহাতের কথা আসাতেই বাড়িব ফেরার কথা মনে হলো। 
শিহাব বললো, এবার তবে চলো উঠি।
শিহাব ওয়েটারকে বিল দেয়ার জন্য ডাকতেই ওরা বিল নিয়ে হাজির হলো। শিহাব বিল ও সাথে কিছু টিপস দিয়ে উঠে দাঁড়ালো। শায়লা 
হ্যান্ডব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে একপা আগালো।রেস্টুরেন্টের ছেলেটি ওদের ধন্যবাদ জানালো।আবার আসবার আমন্ত্রণ জানালো। শিহাব হাসি বিনিময় করে শায়লার হাত ধরে লিফটের দিকে এগিয়ে গেলো। লিফট গ্রাউন্ড ফ্লোরে কল দিতেই ঊঠে এলো।লিফট থেকে দুইটি ছেলেমেয়ে নামল। শিহাব ভাবলো, ওদেরও নিশ্চয়ই কত কথা জমে আছে মনের ভেতর! 
দুজনে লিফটে উঠতেই দরজা বন্ধ হলো।  শিহাব মনে মনে চাইতেই শায়লা শিহাবের খুব কাছে চলে এলো।শিহাবের বুকে মাথা রেখে যেন নিজেকে একেবারে শিহাবের কাছে সঁপে দিলো।শিহাব শায়লার আবেগের সাড়া দিয়ে ভীষণ শক্ত করে শায়লাকে নিজের সাথে বেঁধে নিলো। তিন সেকেন্ড স্থায়ী এই ভালবাসার উষ্ণতার বন্ধন যেন এক মহাজীবনের সঞ্চয় হয়ে রইল।লিফট গ্রাউন্ড ফ্লোর টাচ করতেই  শায়লা নিজেকে আলাদা করে নিলো।শিহাব নিজেকে মানিয়ে নিয়ে দুজনে লিফট থেকে নামলো।দুজনে
এগিয়ে মেইন রোডে দাঁড়ালো। একটু অপেক্ষা করতেই একটা খালি রিকশা এগিয়ে এলো। শিহাব ইশারা দিতেই শায়লা রিকশায় উঠলো।  শিহাব রিকশাওয়ালাকে যথাযথ নির্দেশনা দিয়ে বললো, আপনার এই ম্যাডামের কাছ থেকে ভাড়া নিবেন,বুঝছেন, আমি কিন্তু ভাড়া দিলাম না। রিকশা ওয়ালা মাথা ঝুকিয়ে বললো, আইচ্ছা।
শিহাব শায়লার কাছে থেকে বিদায় নিলো।শায়লার মুখটা বিষন্নতায় ছেয়ে গেলে শিহাব বললো, রাতে কথা হবে। আমার ঘরের গ্রোসারী জাতীয়  কিছু কেনাকাটা আছে।একটা সুপারমলে ঢুকবো।তুমি পৌঁছে জানিও।বাই, বলতেই রিকশা ঘুরে গেলো।
দশ মিনিটের মধ্যেই শায়লা বাসায় পৌঁছে গেলো। ছুটির দিন বিকেলে আজ রুহি খালার হাজবেন্ড জয়নাল খালু দাঁড়িয়ে।শায়লাকে ভালোভাবেই পর্যবেক্ষণ করে নিলেন।নিশ্চয়ই  যাওয়ার সময় রুহি খালা দেখেছে আর রুহি খালার কাছ থেকে সবই জানা হয়েছে।শায়লা রিকশা ভাড়া মিটিয়ে বাসার গেটে ঢুকে গেলো। জয়নাল সাহেব যা বুঝার বুঝে নিলেন। শায়লা দোতালায় উঠে গিয়ে কলিংবেল দিতেই রাহাত দরজা খুলো। ভাই বোনের হাসি বিনিময় হলো। শায়লা কিছুটা লজ্জিত প্রকাশভঙ্গীতে তাকিয়ে বললো,মা কেমন আছে।রাহাত মাথা ঝুকিয়ে জানালো,ভালো।
শায়লা নিজের ঘরে ঢুকে গেলো। দ্রুতই কাপড় চেঞ্জ করার উদ্দেশ্য, শাওয়ার নেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো। 
প্রায় আধ ঘন্টা খানেক সময় কাটিয়ে একেবারে জলধোয়া পদ্মপাতা হয়ে বেরিয়ে এলো। ভেজা চুলে জলের ধারা। অগছালো বসনায় তাড়াহুড়োয় বেরিয়ে আসা।
আহ, মোবাইল বেজেই চলেছে।নিশ্চয়ই শিহাব পৌছেছি কিনা জানতে।আহ! এসে আর মোবাইল বের করে কল দেয়া হয়নি।
শায়লা হন্তদন্ত হয়ে ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করলো এবং যারপর নাই  মোবাইল স্ক্রিনে  নামটা দেখে  ভীষণ রকম চমকে উঠলো! 
কানাডা থেকে নোমান সাহেবের  পাঁচটি মিসড কল!!


চলবে....

কবি সাহানুকা হাসান শিখা  এর কবিতা




প্রাপ্তি 
সাহানুকা হাসান শিখা 


বহু বছর আগে হয়েছে 
আমার আত্মার হয়েছে মৃত্যু
কিন্তু আমার দেহ আজও
চিতায় জ্বলছে  অবিরত। 
ঈশ্বর মাঝে মাঝে করেন কিছু দান,
আবার মাঝে মাঝে অভুক্ত রই,
পাই কিছু অপমান। 
জন্ম আর মৃত্যু, দুটিই আমার কাছে
অনর্থক মনে হয়। 
সারাক্ষণ মনটা জুড়ে প্রচণ্ড ভয়,
এগুলো কি দৈত্য দানব, 
নাকি নরপিশাচ !

কবি মাহবুবা আখতার এর কবিতা




রক্ত ক্ষরণের ধারাপাত     
মাহবুবা আখতার 

যদি কষ্টগুলো কখনো দুঃখ নদী হতো
যদি সুখগুলো কখনো উড়াল পাখি হতো
যদি ভালোবাসাগুলো কখনো হতো অচেনা শহরের অন্ধগলি
তাহলে হে জীবন,আমার এই অথর্ব,অসহিষ্ণু জীবনটা 
উৎসর্গ করে অনায়াসে প্রণয়ী হতাম সহজিয়া হিরন্ময় তৃষ্ণায়। 
আমি অনার্য প্রেমে জলের জলে সন্তরণ খেলতাম কাদম্বিনী হয়ে। 

যদি স্মৃতিগুলো কখনো হৃদয়ে স্থিতি পেতো 
যদি স্বপ্নগুলো কখনো ফেরিওয়ালা হতো জীবনের নাগর দোলায়
যদি সময়গুলো কখনো শরীরের অস্তিত্বে একাকার হতো 
তাহলে হে জীবন আমার অনায়াসে তোমাকে আহুতি দিয়ে মেঘের শরীরে মিশে নিপুণ নিষ্ঠায় সঙ্গোপনে আমাকে যোগ্য করে নিতাম চমৎকার প্রেমী হতে। 

যদি অহংকারগুলো কখনো আরব বেদুঈন হতো
যদি ভুলগুলো কখনো শুদ্ধ ব্যাকরণ হতো
যদি বিষন্নতাগুলো কখনো সুস্থ চালচিত্র হতো 
তাহলে হে জীবন আমার,এই ক্ষয়িষ্ণু জীবনটা বিশাল 
বিলবোর্ডে কালো চাদরে ঢেকে রাখতাম। 

যদি ইচ্ছেগুলো কখনো দুর্দান্ত পাগলামো হতো
যদি দুঃখ-কষ্টগুলো কখনো নাচের ভৈরবী আলাপ হতো
যদি আয়ুষ্কালট কখনো স্তব্ধতা না ভাঙতো 
তাহলে হে জীবন আমার,সকল বিবশতা,অস্থিরতা তুচ্ছ 
করে হেঁটে যেতাম নেলসন ম্যান্ডেলার হাত ধরে। 

যদি আর্তনাদ গুলো কখনো শ্রাবণ আকাশ হতো
যদি যন্ত্রণা গুলো কখনো ফিনিক্স পাখি হতো 
যদি প্রশংসা গুলো কখনো ঘৃণার বারুদ হতো
তাহলে হে জীবন আমার, মুহূর্তে তোমার সমূহ দৃশ্যপট
পাল্টে দিয়ে মঙ্গলালোকের অলৌকিক বাঁশীতে 'ফুঁ' দিয়ে আনন্দ যজ্ঞ করতাম। 

অথচ,অথচঃ কত্তো সময় পেরিয়ে গেলো এলোমেলো ক্লান্ত ভাবনা, বিনিদ্র চোখ, ভুল সূত্রে অসমাপ্ত কবিতার পান্ডুলিপি নিয়ে আমি আজো সেখানেই দাঁড়িয়ে  
আছি শর্তহীন রক্ত ক্ষরণের ধারাপাতে।

কবি শিবনাথ মণ্ডল এর কবিতা




একুশ স্মরণে


শিবনাথ মণ্ডল

আজো তোমায় স্মরণ করে
বিশ্বের নর-নারী
বিশ্বভূমে জয় হয়েছে
একুশে ফেব্রুয়ারি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাঁরা
নেমেছিল আন্দোলন পথে
বুলেটে তাদের ঝাঁজরা করে
বাংলাভাষা মুছার স্বার্থে।
ভাষা আন্দোলনের পথেপথে
লক্ষ মানুষের ঢল
বুলেট দিয়ে ভাঙতে চায়
বাংলা ভাষার বল।
বুলেট ছুড়ে হয় না বন্ধ
বংলা মায়ের গান
জীবন দিয়ে রাখব ধরে
বাংলা  ভাষার মান।
আসুক ঝড় আশুক তুফান 
রাখব মাতৃভাষার মান
বিশ্বের মাঝে বাংলাভাষা
হবে বলবান।
বাংলাভাষার বিরোধ কারীরা
মাথা করেন নত
মাতৃ ভাষাকে সমর্থন করেন
বিশ্বে দেশআছে যত।
একুশে ফেব্রুয়ারী আন্তজার্তিক করেন
বাংলা ভাষা ঘোষণা
আন্দোলনকারী শহিদদের
সার্থক হলো সাধনা।
বাংলা ভাষা মাতৃ ভাষা
তোমায় প্রণাম করি
হাজার মানুষের রক্তঝড়া
একুশে ফেব্রুয়ারি।।