২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

হা‌বিবুর রহমান এ‌র লেখা "সহধ‌র্মিণীর হুঁ‌শিয়ারী বার্তা"৬

ঘরের ভিতর থেকে কবি ধরেছেন দৃশ্যকথা গদ্যের ভাষায় ধারাবাহিক ভাবেই প্রকাশিত হয়ে চলেছে তাঁর অসাধারন সৃষ্টি। লিখতে সহোযোগিতা করুন লাইক ও কমেন্ট করে । পত্রিকার পক্ষ থেকে সকল পাঠক পাঠিকা লেখক লেখিকা সকলের জন্য রইলো অনন্ত শুভেচ্ছা



সহধ‌র্মিণীর হুঁ‌শিয়ারী বার্তা 
(ষ্ঠ পর্ব)
  


                                জ অ‌ব্দি সহধ‌র্মিণীর কোন কা‌জেই খুব একটা সাহায‌্য কর‌তে পা‌রি‌নি। তি‌নি সব সময় আমার স্বাস্থ‌্য রক্ষার ব‌্যাপা‌রে নানান পরামর্শ দেন আর সম‌য়ে সম‌য়ে নিয়‌মিত সুষম খাবার গ্রহ‌ণের কথা ব‌লে ভগ্ন স্বা‌স্থ্যের কুফল সম্প‌র্কে সতর্ক ক‌রে থা‌কেন। ত‌বে এবার তাঁ‌কে সতর্ক করার পালা আমার নি‌জের। গতকাল তাঁর স‌হোদর ভাই‌বো‌নেরা এ‌সে একরকম মন খারাপ ক‌রে গে‌ছে তাঁর শরী‌রের এমন দূরাবস্থা দে‌খে। এমন‌কি ছোট ভাই‌দের সহধ‌র্মিণীগণও তাঁর এমন ভগ্নস্বা‌স্থ‌্য দর্শনে মনক্ষুন্ন হ‌য়ে‌ছেন। 

সারা‌দিন সাংসা‌রিক কাজকর্ম যথা রান্নাবান্না সহ ছে‌লেমে‌য়ের দেখভাল করা‌র মধ্যেই যেন তাঁর পরমান্দ নি‌হিত আ‌ছে। বাস্ত‌বে দিন‌শে‌ষে যা ঘট‌ছে তা হ‌লো- একজন গৃ‌হিণী বা গৃহকত্রী হি‌সে‌বে ‌একটু সময় ক‌রে নি‌জের উপর যেন খেয়াল করার মত তাঁর কোন সময়ই নেই। তাই এখন তাঁ‌কে সতর্ক করা আমার জন‌্য একটা অপ‌রিহার্য বিষয় হ‌য়ে দা‌ড়ি‌য়ে‌ছে। 

ছে‌লের প‌দোন্ন‌তির সাফ‌ল্যে একজন মা যে এমন খু‌শি হ‌তে পা‌রেন তা সহধ‌র্মিণীর কথা ও কা‌জে প্রমাণ মিল‌লো অার এমন বাস্তব উদাহরণ‌টি চাক্ষুশ দর্শনে ধন‌্য হলাম। ভাবলাম, স‌ত্যিই ভাগ‌্যবান আ‌মি এবং আমার ছে‌লেমে‌য়েও। সহধ‌র্মিণীর প্রতি খুবই অ‌বিচার করা হ‌বে য‌দি আ‌মি এক‌টি বা দু‌টি প্রসঙ্গ না উ‌ল্লেখ ক‌রি য‌দিও বিষয়‌টি খুবই ব‌্যক্তিগত।


    অলঙ্করণ : প্রীতি দেব

প‌রিণ‌য়ের প‌রে আমা‌দের সংসার জীবন শুরু হবার সা‌থে সা‌থে তি‌নি সংসা‌রের সকল কাজক‌র্মের দায়-দা‌য়িত্ব নি‌জে নি‌জেই অ‌নেকটা স্বয়ং‌ক্রিয়ভা‌বেই নি‌জের কাঁ‌ধে তু‌লে নেন। ‌সেনাবা‌হিনীতে চাকুরীর সুবা‌দে বি‌ভিন্ন সেনা‌নিবা‌সে তিন বছর পর পর বদলী হবার কার‌ণে বাবা মা'র সা‌থে যৌথ প‌রিবা‌রে একসা‌থে তেমন একটা থাকা হ‌য়নি। মা‌ঝে মা‌ঝে আমরা ছু‌টি নি‌য়ে যেতাম বাবা, মা সহ অন‌্যান‌্য ভাই‌বোন ও আত্মীয় স্বজন‌দের দেখ‌তে। আবার কোন কোন সময় বাবা মাও বেড়া‌তে আস‌তেন তা‌দের বড় সন্তান ও বউমা‌কে দেখ‌তে।

যেটা বল‌বো বল‌বো ক‌রে এখনও বলা হয়‌নি সেটা হ‌লো, সংসার জীব‌নের একদম শুরুর দি‌কে রান্নাবান্না শে‌ষ ক‌রে আমার অ‌ফিসে গম‌নের প্রাক্কা‌লে আমা‌র দুপা‌য়ে মোজা প‌রি‌য়ে দি‌তেও কোন‌দিন কু‌ন্ঠিতবোধ ক‌রেন‌নি আমার সহধ‌র্মিণী। এখন তি‌নি এমন‌টি কর‌তে উদ‌্যত হ‌লে আ‌মি তা‌কে বাধা দেই, নি‌ষেধ ক‌রি। জা‌নিনা এখনকার কোন বউ এমন‌টি ক‌রে কিনা? 

সহধ‌র্মিণীর অন‌্যান‌্য ‌বি‌শেষ গুণাবলী আগামী প‌র্বে বলা যা‌বে। ঘরের বউ‌টি য‌দি ভাল ম‌নের হয় আর সেসা‌থে স্বামী‌টিও য‌দি সমমনা হয় তাহ‌লে তো সোনায় সোহাগা। আর স্বামী স্ত্রীরএম‌ন মধুর সম্পর্কটি কোন ক‌বির নজ‌রে পড়‌লে ক‌বি তাঁর লেখনী‌তে নিশ্চয় ম‌নের মাধুরী মি‌শি‌য়ে নি‌মোক্ত চরণগু‌লো বেশ জো‌রে‌সো‌রেই আওড়া‌‌বেন আর সেটাই তো স্বাভা‌বিকঃ

"কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহু দূর?
মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতেই সুরাসুর।
প্রীতি ও প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে,
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরই কুঁড়ে ঘরে।"





ক্রমশ

সুবর্ণ রায়


 


তোমার জন্য 


তোমার জন্য আকাশপ্রদীপ 
তোমার জন্য সন্ধ্যেবেলা 
তোমার জন্য করবীগুচ্ছ 
তোমার জন্য রথের মেলা 

তোমার জন্য সেই প্রতিধ্বনি 
তোমার জন্য মিথুনময় 
তোমার জন্য কী হাপিত্যেশ 
তোমার জন্য এই নিশ্চয় 

তোমার জন্য রোদন রাত্রি 
তোমার জন্য রাত্রিবেলা 
তোমার জন্য হা-হুতাশ লেখা
তোমার জন্য এমনি খেলা  

তোমার জন্য আকাশগঙ্গা 
তোমার জন্য নেবুলা জয় 
তোমার জন্য কবিতাগুচ্ছ 
তোমার জন্য-ই আয়ুক্ষয় 



                      অলঙ্করণ : সানি সরকার

রিক্তা হাসান




এই আমি


এই যে আমি 
এমন কেমন,এমন আমি ছিলাম না তো!
সকাল সকাল হাসির টোপর,দুপুর বিকাল দূরুন্ত মন
রাতের চাঁদে আলসে ঘুমে একশ একটা ভুল স্বপন!
তারপরে যে কি হলো
হঠাৎ করে বক্ষজুড়ে প্রজাপতির পাখনা পেলো
উড়ে উড়ে কেবল দূরে
তারপরে যে কি হলো
মন হারালো,চোখ জুড়ালো
আস্ত একটা আকাশ ছেলে
সামনে এসে 
কেবল হাসে!
আমি কি আর এমন ছিলাম
দুষ্টু হাসির মিষ্টি কথার 
বৃষ্টি জলে ভিজতে যেতাম!
তারপরে যে কি হলো-
চোখের পরে,মুখের পরে
আকাশ ছেলের আদর পেতে
আমার মনের পা বাড়ালো;
আমি কি আর এমন ছিলাম!
হাত বাড়ালেই প্রেমিকা হতেম?
সেই ছেলেটা আকাশ হয়ে
সকাল বিকাল রোদের বুকে 
মেঘ উড়িয়ে
মেঘ ভাসিয়ে 
জল নামিয়ে
কেমন করে 
চোখ পাকিয়ে
প্রেম গুঁজে দেয় 
কানের ফুলে
দুঃখ নীলে
একশ ভুলে!

আমি কি আর এমন ছিলাম?
প্রেমিক বললেই
প্রেমিকা হতাম!
তারপরে যে কি হলো
আকাশ ছেলের 
চতুর্দিকে মন আগালো
হাতের আঙুল তাও আগালো
আমায় রেখে আমার শরীর ভিড় জমালো
আমি এখন শূন্য একা কোথায় যাবো!কার আদলে!
আমি কি আর এমন ছিলাম
বসতে বললেই 
মন বিছাতাম!

তারপরে যে কি হলো
মন বিছালাম
চোখ বিছালাম
প্রেম বিছালাম
আর যা ছিল 
আমার একার 
একে একে সব নুয়ালাম;
তারপরে যে কি হলো
ভালোবাসা'র অভিশাপে
আকাশ ছেলের নামের তরে
সাতটা জনম সাতটা মরণ লিখে দিলাম!

শানজানা আলম




ছোট্ট কিছু ইচ্ছা


ছোট্ট একটা বাসা হোক,
দু কামরা হোক না, এক চিলতে হেঁসেল,
এক টুকরো বারান্দা আর
আর আর আর, বিশাল একটা আকাশ!
ছুটির বিকেলে দু পা হেঁটে একটা আইসক্রিম
অথবা দূরে কোনো নদীর ধারে একটু বসা!
অথবা অচেনা রাজপথে গন্তব্যহীন একটু রিক্সা যাত্রা!!
রোজকার রুটিনে পোলাও না হোক!
ডাল ভাতের সাথে ছোটো মাছের চচ্চড়ি,
শাক ভাজা সাথে কুমড়োর ছক্কা!!
আচ্ছা, এসব কি খুব দামী কোনো চাওয়া ছিল?
কেউ কেউ সবটা পায়, আর কেউ কিচ্ছু পায় না!
চাওয়া পাওয়ার হিসেবটা এত বেশি গোলমেলে কেন!!
কী পেয়েছি, তার হিসেব না করি!
ছোট্ট করে বলি,
পেয়েছি অনেক তবে তা চাইনি মোটেও!
চেয়েছি এক সমুদ্র ঢেউ!
এককাপ চায়েও দোলা দেয়নি কেউ!

সফিক ইসলাম




দ্বৈত মন
 
                
পাখি ও পরাগের কী অবাধ স্বাধীনতা!                              
 কী অসীম পরাগায়ন আর যৌনাচার! 
 বাতাসে ভেসে যায় পরাগ রেনু, উড়ে যায় পাখি
 আমার এই মন আমি  কেমন করে বেঁধে রাখি! 
 বসন্ত এসেও  যাই যাই করে হয়ে যায় পার
পাখি ও পরাগ হতে নিভৃত মনে শুধু হাহাকার। 

এই মন  কখনো পাখি হয়, কখনো পরাগ
ফুল খুঁজে খুঁজে দিন চলে যায়
কান পেতে থাকি অপেক্ষায়, কবে দেবে পাখি ডাক!
সাইবেরীয় হিম লেগে থাকে পাখির ডানায়, 
তবুও পালকে নিরন্তর মেখে রোদ
পাখি তার জীবনের সন্ধানে নিজেরে হারায়।

আমার আমারে করি দুই ভাগে ভাগ 
এক ভাগে করি শুধু ফুলেরই চাষ 
 অন্তরে মাখি রোজ  ফুলের সুবাস
ফুলের সাথেই  তাই যত সংরাগ।
অন্যভাগে কাঁটাতারহীন উড়ুক্কু এক পাখিমন করে বাস                           
 ঠিকানা  অজানা জানি, তবুও খুঁজি মুক্তির আশ্বাস।

গৌরীশংকর মাইতি




 শরতে ফুলের মেলা


সাদা মেঘের আনাগোনা
নীল আকাশের কোলে
সবুজ লতানো গাছের ডালে
অপরাজিতা ঝোলে।

জল ভরা টলটলে দিঘি
শাপলা শালুকে ভাসি
বিলের জল পাতায় ঢাকা
শতদল রাশি রাশি।

ভোরের বেলায় শিশির বিন্দু
রোদ্দুরে হীরক ছটা
শিউলি তলায় ঝরা শিউলি
কমলা সাদা ফোঁটা।

সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে 
কামিনী থোকায় থোকায়
সন্ধ্যায় ফোটে ভোরে ঝরে
কামিনী সুগন্ধ ছড়ায়।

সবুজ পাতা ঢাকা পড়ে
সাদা টগর ফুলে
কাশের বনে কাশের মেলা
হাসে নদীর কূলে।

জুঁই, কেয়া, মালতি, মল্লিকা
রাধাচূড়া, নয়নতারা
শরৎকালের ফুলের মেলায়
হৃদয় আপন হারা।

গোলাম কবির





এলোমেলো ভাবনার কবিতা 

   খাশির চামড়া ছিলার মতো অত্যন্ত 
   ক্ষীপ্রতার সাথে পাকা কসাই এর মতো
   মানুষের বিবেক নিলামে উঠে যাচ্ছে!  
   রোদের তীব্রতাকে কুচিকুচি করে কেটে
   নিয়ে এখন ভয়াল কোনো সন্ত্রাসী যেনো
   পুরো পৃথিবীকে অন্ধকারাচ্ছন্ন একটা
   বিষাক্ত বিষাদের নগরী বানিয়ে ফেলছে
   সহসাই। এদিকে চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে
   একদল গৈরিক আলখেল্লাধারী ব্যক্তি
   সম্মিলিত ভাবে চিৎকার করছে, ওরা
   মানুষের হৃদয় ন্যায্যমূল্যে কিনে নেবে
   বলে বারবার আশ্বস্ত করছে কতোগুলো
  বোকাটে  লোককে, যদিও ঐ লোকগুলো
  আরো বেশি দাম পাবার আশায় ওদের
  সাথে দর কষাকষি করছে, হায় রে
  মানুষের হৃদয়! এদিকে একজন কবি
  অভিমানে আর কখনোই প্রেমের কবিতা
  লিখবেন না বলে নিজেই নিজেকে বারবার
  বলছেন, তবুও কে শোনে কার কথা! 
  এরই মধ্যেই কখন যে সকাল হয়ে গেলো, 
  আবার সন্ধ্যায় সূর্য ডুবে গিয়ে একাদশী
  চাঁদের আলোয় ঝলমল করে উঠলো
  উঠোন, নদীর বুকে জলের ঢেউয়ে
  চিকচিক করে উঠতে থাকলো মানুষের  
  আগামী সকালের ভাবনা গুলো!

দেলোয়ার হোসেন সজীব




এসো বন্ধু হই


এসো বন্ধু হই
বন্ধুত্বের হাত বাড়াই,
এসো কল্যানে
এসো ভালোবাসা বিলাই।

এসো প্রভুর ধ্যানে
দিনরাত্রি যাপন করি,
এসো মানুষের জন্য
সুস্থ্য সুন্দর সমাজ গড়ি।

এসো ভুল বুঝাবুঝি
ভুলের ঘরে ভুল ঝেরে,
এসো মানুষ হই
ঘুমন্ত বিবেক জাগ্রত করে।

এসো ভালোবাসি
মানুষ মানুষ ভাবি
এসো ভেদাভেদ ভুলে
মানবতার জয়গান করি।।

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

কবি সৌমিত বসু'র কবিতা




কুয়াশা

টুকরোগুলো কুড়িয়ে আনি আর সময় পেলেই জুড়তে বসে যাই।
অদ্ভুত জলে ছায়া ভাসে, 
ভাঙাচোরা ছায়া।
টুকরোগুলো এক একটি ছায়ার ভেতর পড়ে লম্বা হয়ে যায়, 
আর চেনাই যায় না তাদের এতটুকু।
টুকরোগুলো লুকিয়ে রাখি দরজার পেছনে
সময় পেলেও তাদের কথা মনে পড়ে না আর
মনে পড়ে না সেইসব ফাটলের কথাও।
জুড়তে বসার প্রশ্নও ওঠেনা।

পানবরজেরওপর দিয়ে 
ঝুপ করে নেমে এলো চাঁদ
মাঠের নাড়াগুলোজেগে রয়েছে তখনো
মাদা দিয়ে তিরতির করে বয়ে চলেছে জল,
 খোঁচা খেয়ে চাঁদ ফুঁসে উঠেছে অভিমানে, কি দিয়ে জুড়তে বসি খ'সে পড়া কথা?
কি দিয়ে জুড়তে বসি আঁচলের ফাঁক গ'লে নেমে আসা বৃষ্টি
 কিংবা ফুটো কলসি কাঁখে মেয়েটির
 বুড়ো আঙুলের ফাঁক গ'লে বের হয়ে আসা কাদার প্রলেপ,
জুড়তে বসে কেবলই ভুল হয়ে যায়,
জুড়তে বসে ছায়ার মতো ঝেঁপে ধরে এক একটি ডানাকাটা অন্ধকার।

রাত ড্রপ খেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ভোরের দিকে
জুড়তে বসে এক একটি ভুল হাত ধরে ডেকে আনছে অন্যটিকে।

সমিত মণ্ডল




লম্বা দাড়ি,জোব্বাপরা ঈশ্বর 
                

মনে মনে হাঁটো
২৫শে বৈশাখ থেকে ২২শে শ্রাবণ
লম্বা দাড়ি,জোব্বাপরা ঈশ্বর
মানুষের পড়ার ঘরে তুমি
জীবনের ক্যালেন্ডার।

সকলের ভাষা,শৈশব থেকে মৃত্যুর
মন্দির,মসজিদ,গির্জা একাকার
মনে মনে হাঁটেন
লম্বাদাড়ি,জোব্বাপরা ঈশ্বর।

মোবাইল রিংটোন,ট্রাফিক সিগন্যালে
সুর হয়ে বাজো
অনন্তকাল,এভাবেই
বাজতে বাজতে হাঁটো।

তোমাকে আঁকড়ে ধরে
অন্ধগলি খুঁজে পাক
ভুবনডাঙার টাটকা ভোর
লম্বা দাড়ি,জোব্বাপরা ঈশ্বর
মনের ভেতর উঁকি মারো
 নিত্যদিন...রবিঠাকুর।

মাধুরী বিশ্বাস




তুমি কৃষ্ণচূড়া হয়েছিলে
 

এত দিন তো তোমায় বন্ধু বলেই ডেকেছি ।
এত দিন ধরে তুমি আমি তার ছায়ায়
বসে ভেবেছি।
কেন ফুল ফোটে না এই গাছে ?
বছর, মাস, দিন গুনেছি ...
তবুও ফোটে নি কৃষ্ণচূড়া।
আমি বুঝতেই পারিনি 
তার ফুল আর তোমার অপেক্ষায় 
বসতে বসতে তার ছায়ায়,
হৃদয়টা কখন সেই কৃষ্ণচূড়া গাছ হয়ে গ্যাছে।
এতদিন তুমি কাছে ছিলে, 
গাছটি ছিল সবুজ শীতল।
এই ফাগুনে তোমার বিয়ে, তাই খেয়াল করোনি
আমি দেখেছিলাম...
সমস্ত সবুজ হলুদ হয়ে আছড়ে পড়েছিল মাটির বুকে ।
আমাদের কৃষ্ণচূড়ায় এবার ফুল ফুটেছে 
আগুনরঙের ফুল।
হঠাৎ সেদিন কাঁদলে যখন আমায় দেখে 
দেখলাম কৃষ্ণচূড়া জলছে দাউ দাউ করে 
ফুল নেই, ফুল নেই কোথাও, শুধু আগুন 
ডালে ডালে থোকা থোকা আগুন ।
আমি বুঝলাম....বন্ধু আমার, 
তুমি কৃষ্ণচূড়া হয়েছিলে আর কৃষ্ণচূড়া আমার হৃদয়।

খাদিজা আহমেদ সন্ধ্যেচূড়া




প্রশ্নোত্তর 


আচ্ছা... 
তুই কি স্বর্গের সমর্পণ
নাকি অমিয় আসক্তির ঘোর মায়া,
মহাবিশ্বের দীপ্ত ধ্রুবতারা
নাকি রন্ধ্র বিষের কাল ছায়া? 

আচ্ছা...
তুই কি বৈষয়িক প্রতীক্ষা
নাকি শৌর্য জাগরণের বিধান,
উন্মাদ স্বরের মুক্তির স্বরলিপি 
নাকি অনুভবের সঙ্গাহীন অভিধান? 

চিরন্তন প্রতীক্ষার অব্যপ্ত তিয়াস,কখনো মহোৎসবের আলপনা।
সুখ সোহাগের ব্যকরণিক জলসা,এ যে বিরামহীন বন্দনা। 
আচ্ছা... 
এ তুই কোন কালজয়ী উদ্দীপনার 
বেহিসাবি বেড়াজাল? 
মননশীল আত্মার অব্যক্ত বাহ্বা,
নাকি দেশদ্রোহী অবতার! 

তুই কি সুবোধের পান্ডুলিপি,
প্রেমান্ধের উজ্জ্বল্য ইতিহাস? 
নাকি...
উন্মুক্ত অম্বরের অফুরানি তারাবাজি 
দিগ্বিজয়ের উচ্ছ্বাস। 

আচ্ছা... 
তুই কি বড্ড অনুরাগের দিকভ্রান্ত প্রারম্ভ?
নাকি প্রতিবাদের বিশস্ত ভরসা 
দু' চোয়ালের উচ্চাঙ্গ। 

এ কোন...
নেশাতুর সূত্রতা 
যাতে আকর্ষিত প্রেমমন?
শাশ্বত স্রষ্টার সৃষ্টিশীল শৈল্পিকতা
জাগে যবে হৃৎস্পন্দন! 

গতিশীল নক্ষত্রের অশরীরী প্রতাপ
কখনো হিমশীতল শিহরণ, 
তুই কি অপ্রতিরোধ্য চঞ্চলতা?
নাকি আত্ম প্রণয়ের বন্ধন। 

এ কেমন নেশায় আসক্ত আমি
যার নেই কোনো বিশ্লেষণ। 
অবাধ্য অনুরাগের অজ্ঞাত বৈচিত্র্যতা
এ কোন যাদুকরী গুঞ্জন। 

জীবন্ত সৃজনের নব্যধারা,
বিশদ শব্দের বিপ্লবী উল্লাস।
অনাবিষ্টের তীব্র চেতন,
নাকি দিকভ্রষ্টের তৃপ্ত আশ। 

তুই কি অনন্ত আলোকবর্ষ, 
কি়ংবা অন্তহীন নিঃসঙ্গতা? 

নাকি... 
প্রারম্ভের পরিব্যপ্ত সমাস?
জ্যান্ত নিঃশ্বাসের অমলিন ঐশ্বর্য, 
হয়ত এ তুই আমার আমৃত্যু সর্বনাশ।

সুস্মিতা সৎপথী





নক্ষত্রকথা



প্রেম;
ঠিক একটা সহজ দুরুত্ব থেকে তুমি মেপে নিচ্ছ আজন্ম লালিত জোছনা,

এক, দুই, তিন...
বছর মাস দিন...
কিংবা,
আলোকবর্ষে...

বিরহ ;
সমস্ত নাক্ষত্রিক গণনার অভিমুখের বিপ্রতীপে আমৃত্যু লালিত জোছনা।।