২৩ ডিসেম্বর ২০২১

কবি সালমা খান এর কবিতা




উড়ো চুল




এলোমেলো উড়ো 
হাওয়ায়, 
ঝাঁকড়া চুল?
তুমি আমার
ভোরের আলোয়
শুভ্র ঘাসফুল।
কখনো কি মনে 
পড়েছে আমায় ?
যদি মনে পড়ে
চিঠি লিখো
গোপনে, 
উড়ো নামে
সবুজ খামে,
ওতে শিশির 
দিও এক 
ফোঁটা,
কচি ঘাসের
ডগায়,
ভোরের আলোয় 
শুষে নেব, 
সূর্যের রঙে
সিঁদুর আভায়।

মোঃ হা‌বিবুর রহমান /১২তম পর্ব





ইউএন মিশ‌নে হাই‌তি‌তে গমন ১২তম পর্ব
মোঃ হা‌বিবুর রহমান

যাত্রার শুরু থে‌কে শেষাব‌ধি প্র‌তি‌টি ভ্রম‌ণেই প্র‌তি‌দিনই ইউএসএর সা‌র্জেন্টরা আমা‌দের যাত্রায় সঙ্গী হ‌'তেন। চলার প‌থে তা‌দের দে‌শের সেনাবা‌হিনী সম্ব‌ন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্র‌য়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান করা ছাড়াও পরস্পর ভাব বি‌নিময় ছিল যেন প্র‌তি‌দি‌নের রু‌টিন একটা কাজ। প‌কেট ভ‌র্তি স্মৃ‌তি তৈরী হ‌'য়ে‌ছি‌লো যা খন্ডাকা‌রে আমি পরবর্তী‌তে আ‌লোচনা করবো ইনশাল্লাহ্। 

একটি কথা তা‌দের রাজধানী সান‌জোয়ান সম্ব‌ন্ধে না ব'ল‌লে বু‌ঝি ঠিক যেন এক ধর‌নের অ‌বিচারই করা হ‌বে। ঐ‌ যে শুরুর দিকে আ‌গেই ব‌'লে‌ছিলাম ‌যে, এখানকার মে‌য়েরা গাড়ী চালায় আর জোয়ান জোয়ান বেটা ছে‌লেরা পা‌শে ব‌সে শুধু জাবর কা‌টায়।

কিছু সামা‌জিক রী‌তিনীতি আ‌ছে যেগু‌লো বি‌ভিন্ন সময় আ‌মরা রাস্তায় ও বি‌ভিন্ন পা‌র্কে ব‌সে প্রত্যক্ষ ক‌'রে‌ছি যা লজ্জায় এই মূহুর্তে ঠিক ব'ল‌তেও পার‌বো বা লিখ‌তেও পার‌বো না, তাই আ‌মি আ‌গেভা‌গেই মাফ চে‌য়ে নি‌চ্ছি। ত‌বে সুন্দর ব্যাপার‌টি হ‌লো ‌যে, সান‌জোয়ান নগরী‌টির সৌন্দর্য্য স‌ত্যিই চোখ-জোড়ানো এবং নয়না‌ভিরাম। সর্বদা ‌যেন মন ছু‌ঁয়ে যায়। 

সৃ‌ষ্টিকর্তা আল্লাহতায়া'লার দেওয়া বু‌দ্ধি‌তেই মানু‌ষের সৃ‌ষ্টি এ নগরী যেন অপূর্ব ঠিক কেউ বু‌ঝি নিজ চো‌খে না দেখ‌লে তা বর্ণনা ক‌'রে বুঝানো সম্ভবপর নয়। 

সা‌রি সা‌রি অট্টা‌লিকা যেন র‌শি ধ‌রে লাইন সোজা ক‌'রে যোগ্য ই‌ঞ্জিনিয়ার সা‌হেবরা নি‌জেরা সর্বদা সার্বক্ষ‌ণিক হা‌জির থে‌কে অ‌তি সয‌ত্নে সেগু‌লো তৈরী ক‌'রে‌ছে আর‌ কি! অদ্ভূত ব্যাপার হ‌লো,  প্র‌তি‌টি গগনচুম্বী অট্টা‌লিকার প্র‌তি‌টি ফ্লো‌রে প্রাই‌ভেট গাড়ীসমূহ হরহা‌মেশা সহ‌জেই উঠতেও পা‌রে আবার নাম‌তেও পা‌রে তাই যাত্রী‌রা যেন মহাস‌ুখী। 

আর এদের আ‌মোদ-প্র‌মো‌দের ধরনই যেন অন্য রকম। সে সবই এখন স্মৃ‌তি। পথ-প‌রিক্রমায় বোধ ক‌'রি বিশ্বায়‌নের যু‌গে নিশ্চয়ই এত‌দি‌নে সানজুয়ান‌দের আরও বু‌ঝি এক ধাপ উন্ন‌তি হ‌'য়ে‌ছে এরই ম‌ধ্যে।

একটা মজার কথা ম‌নে প‌ড়ে গে‌লো এমূহু‌র্তে। আমরা বেশ ক‌য়েকজন অ‌ফিসার মি‌লে হঠাৎ ক‌'রেই খা‌য়েস ক'রলাম যে, প্র‌ত্যে‌কে এক ডলার ক‌রে সানজুয়া‌নের ‌যেকোন একজন ফ‌কির‌কে ভিক্ষা দে‌বো। আর য‌া‌বে কয়? যে কথা সেই কাজ। তাই শুরু হ‌'য়ে গে‌লো আমা‌দের পদব্র‌জে ফকির খোঁজা অ‌ভিযান। 

ফ‌কির আদ‌তেই এ শহ‌রে নেই, না‌কি ইদা‌নিং ফ‌কির উচ্ছেদ অভিযান প‌রিচালনা ক‌'রে এ‌ই দে‌শের সরকার কর্তৃক অন্যত্র স‌‌রি‌য়ে নেওয়া হ‌'য়ে‌ছে ‌তা নি‌য়ে মোটা‌মো‌টি একটা বি‌শ্লেষণধর্মী তা‌ত্ত্বিকতা যেন মূহু‌র্তের ম‌ধ্যে শুরু হ‌'য়ে গি‌য়ে‌ছি‌লো রী‌তিমত আমা‌দের ফ‌কির অনুসন্ধানকারী দ‌লের ম‌ধ্যে।

শান্তা কামালী/৪৭ পর্ব




বনফুল
(৪৭তম পর্ব ) 
শান্তা কামালী





ঘড়ি তে তখন এগারোটা, হায়দার সাহেবের নাম্বারে ফোন বেজে উঠল, তাও আবার আন-নোন নাম্বার থেকে। ফোন রিসিভ করতে ওপাশ থেকে পলাশের কণ্ঠস্বর শুনে হায়দার সাহেব আনন্দে আত্মহারা হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, বাবা তুমি ঠিক ভাবে গিয়ে পৌঁছেছো ?  কোনো রকম সমস্যা হয়নি তো? কিছু খেয়েছো ? প্রশ্নের পর প্রশ্ন,পলাশ বললো হ্যাঁ বাবা, খেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ কোনো সমস্যা হয়নি।  বাবা ফোনটা আম্মুকে দাও, হায়দার সাহেব  স্ত্রীর হাতে ফোন দিতেই ফোন ধরে হাউমাউ করে কান্না শুরু করলেন।আসলে মা'য়ের মন তো।  বলছেন বাবা তোকে ছাড়া একটা দিন মনে হচ্ছে একটা  বছরের চেয়ে বেশি। পলাশ বললো আম্মু তুমি যদি এমন করো তাহলে আমি কি করে  থাকবো? আমার জন্য দোয়া করো , দেখতে দেখতেই দুই বছর কেটে যাবে। 
আম্মু তুমি  তিথি আর শিমুলকে ফোনটা দাও। তিথি দৌড়ে এসে ফোন ধললো। পলাশ বললো কেমন আছিস তিথি?  উত্তরে তিথি বললো আলহামদুলিল্লাহ ভাইয়া, তুমি কেমন আছো? কোনো সমস্যা নেই তো? পলাশ বললো না-রে, সবকিছু ঠিক আছে। তুই বাবা-মার দিকে খেয়াল রাখিস। তিথি বললো, ভাইয়া এই নিয়ে তুমি একদম চিন্তা করো না । শিমুল অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ভাইয়ার সাথে কথা বলার জন্য... 
তিথি শিমুলের কাছে ফোন দিলো।
 শিমুল আসসালামু য়ালাইকুম ভাইয়া বলতেই পলাশ ও প্রত্যুত্তরে  ওয়ালাইকুম আসসালাম বলে সালাম জানায়। শিমুল এখন কিন্তু  তোমার অনেক দায়িত্ব বাবা-মা, বোনকে দেখাশোনা করা সাথে আর মন দিয়ে পড়াশোনা করবে। রেকর্ড মাকর্স পেতে হবে। 
পলাশ বললো এখন ফোন রাখছি  পরে  ফোন দেবো।এখানে কল চার্জ কি রকম জানি না। পরে বুঝেশুনে জানাবো। এই বলে ফোন কেটে দিলো।

শামীমা আহমেদ /পর্ব ৩৮




শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত 
(পর্ব ৩৮)
শামীমা আহমেদ 



----এসির ঠাণ্ডা পরিবেশে শায়লা দুপুরে বেশ একটা ঘুম দিলো। যদিও রাহাত বারবারই শায়লাকে রুমে একা রেখে এসে বেশ চিন্তিত
হচ্ছিল । আর এর মাঝেই নিজের রুমে রাহাতও একটু ঘুমিয়ে নিলো। মায়ের ঘরেও মা ঘুমাচ্ছে।এক'দিন সবাই ভীষণ একটা মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে গেছে।সারাক্ষণ উৎকন্ঠায় সময় কেটেছে।আজ বাসায় একটু স্বাভাবিক পরিবেশ লাগছে। সন্ধ্যার একটু আগে আগে শায়লার ঘুম ভাঙল। খুব আরামদায়ক একটা ফিলিংস অনুভুত হচ্ছে। রাহাত আপুর দরজায় নক করলো। আপু,এসো একসাথে নাস্তা করবো। শায়লা খুব আস্তে করেই বললো, আসছি। এইতো একটু ঘুমিয়েছিলাম। দাঁতব্রাশ করে ফ্রেশ হয়ে আসছি।  রাহাত অনলাইনে পিজ্জার অর্ডার দিয়ে রেখেছিল। 
শায়লাকে চমকে দিতে! ডাইনিংএ এসে সত্যিই শায়লা অবাক হলো! মাকে নিয়ে ভাই বোন মনে হচ্ছে অনেকদিন পর আজ একসাথে নাস্তা করা হচ্ছে। নাস্তা পর্ব শেষ করে রাহাতই চা বানিয়ে আনলো।মা বোনকে আর রান্নাঘরে যেতেই দিলো না।যদিও মাকে আটকে রাখা খুব কষ্টকরই হচ্ছিল। তবুও রাহাত কিছুতেই মাকে রান্নাঘরে প্রবেশের অনুমতি দিলোনা। 
তিনকাপ চা নিয়ে বসতেই নীচতলার রুহি খালা এলো।রাহাত দ্রুতই আরেককাপ চা বানিয়ে এনে মা আর রুহি খালাকে আলাপে বসিয়ে দিলো।আর শায়লাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিলো।নয়তো নানান প্রশ্নে শায়লা জর্জরিত করতে পারে।
রাহাত শায়লার দিকে তাকিয়ে বললো, আপু চায়ের কাপ নিয়ে চলো ছাদে যাই।অনেকদিন ছাদে যাওয়া হয়না।
রাহাত যখন যা  যেভাবে বলছে শায়লা সেভাবেই রাজী হচ্ছে।অনেকদিন পর ভাইবোনের এমন সুন্দর সময় কাটানো। ছাদের ঐ উত্তর কোণটিতে নীচ থেকে উঠা আসা একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের ডালপালায় ছেয়ে গেছে।দিনের বেলা লালসবুজের মিশেল দেখতে খুবই চমৎকার  লাগে।ভাইবোন সেখানটাতে গিয়ে দাঁড়ালো।রাহাত খুব বুঝতে পারছে,আপু নিশ্চয়ই এখন শিহাব সাহেবের কথা ভাবছে।আমি না হয়ে এখানে এখন যদি শিহাব ভাইয়া থাকতেন নিশ্চয়ই আপুর খুব সুন্দর সময় কাটতো! রাহাত বুঝতে পেরে তাই শায়লাকে বলেই  বসলো, আচ্ছা আপু এখন এখানে শিহাব ভাইয়া এলে তোমার খুব ভাললাগত।তাই না? আমরা একসাথে চা খেতাম, গল্প করতাম। অবশ্য যদি উনি আসতে রাজী হতেন তবেই! 
শিহাবের প্রসঙ্গে শায়লা বরাবরই একটু কাতর হয়ে পড়ে।শিহাবের উপস্থিতিটা বেশ অনুভব করে। শিহাবের গোছানো কথাগুলোতে  কোন দোষ খুঁজে পাওয়া যায়না।স্বচ্ছ পরিপাটি বাক্যবলয় কেমন যেন সম্মোহনের মত টেনে নেয়। 
রাহাত খুব বুঝতে পারল আপু শিহাব সাহেবের ভাবনায় ডুবে গেছে। তাইতো এমন শীতল নীরব। রাহাত ভালো করেই জানে চোখ থেকে মন আর মন থেকে ভাললাগাটা রক্ত প্রবাহে মিশে যায় যা ভীষণভাবে অনুভব অনুভুতিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ  করে।
রাহাত নীরবতা ভাঙল। চায়ে চুমুক দিয়ে বললো, আপু তোমার চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। শায়লা  ভাবছে সে একটা  ট্রেনের কামরায় বসে আছে চলন্ত ট্রেনটি যে কোন স্টেশনে থামলেই আচমকা শিহাব উঠবে! আর শায়লাকে দেখে ভীষণ অবাক হবে! আর শায়লার  চোখে মুখে অপ্রত্যাশিত একটা প্রাপ্তির আনন্দ খেলে যাবে!
রাহাত শায়লার ভাবনায় ছেদ ঘটালো। সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিলো, আচ্ছা আপু শিহাব সাহেব কি দেখতে খুব সুন্দর!
শায়লার তৎক্ষনাৎ উত্তর,হ্যাঁ, শিহাব দেখতে খুব হ্যান্ডসাম। 
নোমান ভাইয়ার চেয়েও?
সেভাবে তুলনা করে দেখিনি কখনো।শায়লা নোমানের নামটি এড়িয়ে যেতে চাইছে।রাহাত খুব বুঝতে পারছে, যদি আপাকে এখন অপশন দেয়া হয়,আপু  এখন শিহাব ভাইয়াকেই বেছে নিবে। 
রাহাত একে একে  প্রশ্ন করেই যাচ্ছে। আসলে এটা একধরনের মনোচিকিৎসা।  সাইকোথেরাপি। 
কেউ যখন কারো ভাবনায় ভীষণভাবে ডুবে থাকে, সে তখন শুধু তার কথাই বলতে বা অপরপ্রান্ত থেকে শুনতেই পছন্দ করে।রাহাত চাইছে আপুর মনে শিহাব ভাইয়াকে নিয়ে যত কল্পনা ভাবনা স্বপ্ন ভাললাগা জমেছে সেগুলো শুনতে চেয়ে চেয়ে মন থেকে তা বের করে আনতে হবে।তবেই আপুর মন হাল্কা হবে। মনের কথাগুলো বলে নিযেকে ভারমুক্ত করবে। 
রাহাত ভেবে নিলো, এভাবেই আপুকে প্রতিদিন একটু একটু করে স্বাভাবিকে নিয়ে আসতে হবে। আর মনে মনে ঠিক করে নিলো, আজ রাতেই শিহাব সাহেবের সাথে কথা বলতে হবে।তারওতো কিছু বলবার থাকতে পারে।আর তা যদি আপুর ভাবনার সাথে মিলে যায় তবে রাহাত আপুর ব্যাপারে ভিন্ন কিছু ভাববে। যে যাই বলুক, রাহাতের কাছে আপুর সুখটা সবচেয়ে বড়।আপুর মুখে হাসিটাই তার সবচেয়ে  কাঙ্ক্ষিত। 
একঘন্টা পর ভাইবোন নীচে নেমে এলো।
ড্রইং রুমে সোফায় বসে একসাথে টিভি দেখলো! আপু মাঝে মাঝে কেমন যেন  গভীর চিন্তামগ্ন হয়ে যাচ্ছে। শায়লাকে সহজ করতে রাহাত টিভিতে নিউজ রিডারটিকে দেখিয়ে বললো, আচ্ছা আপু শিহাব সাহেব কি এই লোকটির মত দেখতে! শায়লা একঝলক চোখ বিস্ফারিত করে টিভি স্ক্রিনে তাকালো!অবচেতন মনেই ভেবে নিলো,  নাহ,তাই কি আর হয়!  পরক্ষণেই বুঝলো, রাহাত আসলে তার সাথে দুষ্টুমি করছে। এবার শায়লা বেশ জোরেই একটা হাসি দিয়ে উঠলো! শায়লা রাহাতের চালাকিটা বুঝতে পারলো। সাথে সাথে তার চোখ দুটো জলে ভরে গেলো! রাহাত বুঝতে পেরে আপুকে হাত দিয়ে বেড়িয়ে ধরলো। শায়লাও ছোট্ট বোনটির মত, কিছু বায়না করার ছলে রাহাতের কাঁধে মাথা রাখলো।রাহাত খুব বুঝতে পারলো তার প্রতি এটা আপুর কিছু একটা নীরব  চাওয়া। রাহাত মনস্থির করে ফেললো,যদি আপু আর শিহাব সাহেবের ভাবনা একহয় তবে যত বাধাই থাকুক আমি আপুর ইচ্ছে চাওয়ার পূর্ণতা দিবো। 
রাহাত আজ রাতের খাবার খাওয়া পর্যন্ত শায়লার সাথে রইল।সবশেষে আপুকে তার রুমে দিয়ে এলো আর আপুর হাত ধরে বললো, আপু আমি চাইছি তোমার মোবাইলটা কিছুদিন আমার কাছে থাকুক। তুমি পুরোপুরি সুস্থ হলে তখন দিবো। শায়লা মাথা কাত করে লক্ষী মেয়ের মত সম্মতি জানালো।শায়লার ঔষধগুলো আর পানির গ্লাস এগিয়ে দিলো। শায়লার পাশে রাহাত বসে রইল। এসির পয়েন্ট সেট করে দিয়ে আপুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।ছোট ভাইটার এতটা ভালবাসায় শায়লার চোখ বন্ধ হয়ে এলো। হঠাৎ চোখের কোন বেয়ে জলের ধারা নেমে এলো।রাহাত বুঝতে পারলো এ কান্না কার জন্য।এ অনুভব কাকে ঘিরে,এ কান্নায় কোন চাওয়াটা লুকিয়ে আছে।খুব শীঘ্রই ঘুমের ঔষধের প্রভাবে শায়লা ঘুমের কোলে ঢলে পড়লো।রাহাত রুম থেকে বেরিয়ে এলো।আপুর রুম লক করা নিষেধ করা আছে।  আপু যেভাবে শিহাব সাহেব ভদ্রলোকটিকে ভেবে এত কাতর হয়ে যাচ্ছে, উনার কী তা জানা আছে? উনিও কী এতটা গভীরে নিয়ে আপুকে ভাবে?
আজ ফোন করে কথা বলে তা জেনে নিতে হবে।রাহাত নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যেতেই অজান্তেই  তার মনটা বিষন্ন হয়ে গেলো।


চলবে...

মোঃ আরিফ রেজা।





একাকীত্ব 


সেদিন গোধূলীর লগ্নে দাঁড়িয়ে ছিলাম, 
ধুলোয় মলিন মলাটে হিজল গাছের নীচে।

একাকীত্ব মন বিদায়ের বারতা নিয়ে আসে রুদ্ধশ্বাসে! 
পড়ন্ত বিকেলের রঙ্গিন হাতছানি। 

ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছি-- জল ভরা চোখে,
খাম-খেয়ালীপনার অবচেতন মনে।

হৃদস্পন্দন কিটকিট করে উঠে ভাবনার অন্তরালে।

আমার দিবা সেজেছে রক্তিম আলোর ঝলকানিতে,
সেখানে দাগ দিতে গিয়ে উড়ে যায় সর্বনাশা ঝড়ে। 

হৃদয় স্পর্শ না করার কি অসহ্য যন্ত্রণা দগ্ধ করে আমাকে। 

বারবার চুমু দিতে যায় লাল দু'টি ঠোঁটে।

মোহময়ী স্নিগ্ধ হাওয়ায় উথালপাতাল করে স্রোতস্বিনী,
পাখির দল ফিরে আসে তার আপন ঠিকানায়। 

সৃষ্টিলোকের অপার লীলা বুঝিনা আমি।

বাড়িয়ে দিয়েছি আমি দু'হাত প্রসারিত করে অবগহন মনে! 

আমি নিশ্চিত, হারিয়ে যাবে তুমি ক্ষুদ্রাকার পিপীলিকার মত।

তবুও বলবো, তুমি ধরা দিয়ে যাও, অনিবার্য আমার কবিতা হয়ে
যাব আমি তোমার সনে।

দিবা-আজ পরম শুণ্যতার হাওয়ায় ভাসে কালের হলে
মহা সমুদ্রের গর্জনে।

মমতা রায় চৌধুরী/৭৫




উপন্যাস 

টানাপোড়েন ৭৫

ভোরের স্বপ্ন
মমতা রায় চৌধুরী

উপন্যাস টানাপোড়েন ৭৫

ভোরের স্বপ্ন
মমতা রায় চৌধুরী

আজকের রাতটা রেখার ভালো ঘুম হয় নি। ভেবেছিল পার্থর মা মানে মাসীমা আর মনোজ দুজনাই ভালো আছে তো মনের দিক থেকে একটু শান্তি পাবে ।আজকের রাতটা ভালো করে ঘুমাতে পারবে কিন্তু না মেয়েদের প্রজেক্ট এর চিন্তা , গল্পটা ভালো লাগবে কিনা পাঠকদের? সেই নিয়ে একটা চিন্তা ছিলো।তার দেখা ভোরের স্বপ্ন কি সফল হবে?'সে যাই হোক রেখার দুশ্চিন্তা আরও গ্রাস করল।
 'কি অদ্ভুত এতবার মেসেজ করা সত্ত্বেও এই মেয়েগুলো প্রজেক্ট জমা দিল না ।আবার ফোন করা হচ্ছে তো ফোনের গলা শুনেই সুইচড অফ করে দিচ্ছে ।ভাবা যায় ?যাও বা কেউ ফোন ধরছেন বলছেন' তার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে ।''
রেখা এক অভিভাবককে তখন বলল 'আমরা তো ভাবতেই পারছি না ,একি রে বাবা ।কবে ,কেন বিয়ে দিলেন?এখন তো আপনাদের পড়ানোর কোনো অসুবিধে নেই ।তারপরও আপনারা মেয়ের 18 বছর হয় নি বিয়ে দিয়ে দিলেন?'
একজন ভদ্রলোক তো বলেই দিলেন '18 বছর হতে দুমাস মতো বাকি আছে । 18 বছর হয়ে যাবে। '
রেখা যখন জিজ্ঞেস করল 'আপনার বিয়ে দেবার জন্য এত তাড়া কিসের?'
ভদ্রলোক বললেন' ' দিনকাল ভালো না ।মেয়ে বড় হচ্ছে ।আশেপাশের লোকজন নানা কথা বলে ।এইজন্য ।আমরা তো সাধারন মানুষ?'
রেখা বলল 'আপনি পাড়ার লোকের কথায় কান দিলেন ?আর আমরা টিচাররা যে বলছি মেয়েকে লেখাপড়া শিখে স্বনির্ভরশীল হতে দিন।'
ভদ্রলোক বললেন 'সে তো বুঝতে পারছি কিন্তু..?'
রেখা বলল 'কিন্তু, কিন্তু কি?'
ভদ্রলোক নিরুত্তর।
রেখা বলল 'আমরা জানেন কন্যাশ্রী ক্লাবে জানালে আপনার মেয়ের বিয়ে আটকে যাবে আর আমরা কিছুতেই  বিয়ে হতে দেবো না?'
ভদ্রলোক কাকুতি-মিনতি করে বললেন' দিদিমণি, এই কাজটি করবেন না।'
রেখা তো রেগে  গেল এবং বলল 'আপনি জানেন না এটা অপরাধ?'
ভদ্রলোক বললেন 'একটা ভালো সম্বন্ধ পেয়েছি দিদিমণি।'
রেখা বললো 'ভালো সম্বন্ধ ?কি ভালো সম্বন্ধ?'
ভদ্রলোক বললেন 'দেখুন আমরা খেটে খাই, ছেলেটার মুদির দোকান আছে।'
রেখা বলল 'শুধু মুদির দোকান দেখেই মেয়েটার বিয়ে দিয়ে দেবেন?'
ভদ্রলোক বললো 'তা ছাড়া আর কি  করি বলুন 'আমাদের অত টাকা পয়সা কোথায়? খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকলেই হল।'
রেখা বললো' তা ঠিক জয় গোস্বামীর 'নুন' কবিতাটা মনে পড়ে গেল। যদিও সেটার মানে আপনাকে বোঝানো যাবে না ।কবিতার লাইনটা এরকম
 'আমরা তো অল্পে খুশি, বলো আর অধিক কে চায়?
হেসে খেলে ,কষ্ট করে, আমাদের দিন চলে যায়।'
ভদ্রলোক বললেন 'যিনি লিখেছেন তা একদম আমাদের মনের কথা।'
রেখা এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে কি উত্তর দেবে তার ভাষা খুঁজে পেল না  ।তারপর মনে মনে ভাবতে লাগল তাই তো কোথায় আমি ওনাকে বোঝাতে গেলাম, উল্টে উনি আমাকে বুঝিয়ে দিলেন তাদের জীবনালেখ্য।'
ভদ্রলোক আবার বললেন' দিদিমণি ,আমার মেয়ের বিয়েটা যেন বন্ধ করবেন না ।বুঝতেই পারছেন ,আমরা সমাজে থাকি ।বিয়ে ভেঙে গেলে আমার মেয়েটাকে বিয়ে দিতে পারব না।'
রেখা এ কথার কোন উত্তর দিতে পারল না ।আর মনে মনে ভাবতে লাগল' এখনও আমরা কোথায় পড়ে আছি। কোথায় আমাদের বিদ্যাসাগর মহাশয় ,কোথায় আমাদের রাজা রামমোহন রায় ?তাদের দেখানো পথে আমরা কবে হাঁটতে পারব?'
শুধু বললো 'কিন্তু আপনার মেয়ের বিয়ে নিয়ে আপনি ভাবছেন ?সরকার তো এখন অনেক ব্যবস্থা করেছে লেখাপড়া শেখালে কন্যাশ্রী প্রকল্পের আওতায় টাকা পাবে। আর 18 বছর হলে তো 25000 টাকা এককালীন  পাবে।লেখাপড়ার তো আপনাদের কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।'
ভদ্রলোক বললেন 'হ্যাঁ ,সে জানি।'
রেখা বললো 'তাহলে কেন আপনি মেয়েকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিচ্ছেন বলুন? আমাদের তো সরকার এই জন্যই বাল্যবিবাহ রোধ করার জন্যই তো এই প্রকল্প আর তাছাড়া যাতে মেয়েরা স্বনির্ভরশীল হতে পারে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে?'
ভদ্রলোক বললেন 'আসলে আমার তিনটি মেয়ে বুঝতে পারছেন ?ওই বড় এখনো দুজনে ঘাড়ের উপর ।এরকম করে থাকলে আমরা তো খেটে খাওয়া মানুষ ।আগেই বললাম।
রেখা বলল' তা ছাড়া মেয়েদের বিয়ের জন্য রূপশ্রী রয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে দিলে তো রূপশ্রী প্রকল্পের আওতায় আপনারা টাকা পেতেন?'
ভদ্রলোক চুপ করে রইলেন।
রেখা বলল' ঠিক আছে মেয়েকে পরীক্ষাটা দেওয়ার ব্যবস্থা  অন্তত করুন।'
ভদ্রলোক বললেন' ঠিক আছে আপনি যখন বলছেন তাহলে বলবো পরীক্ষাটা দিতে।'
রেখা বলল 'সেজন্য তো বলুন মেয়েকে প্রজেক্টটা যেন জমা দিয়ে যায় ।ঠিক আছে।'
ভদ্রলোক বললেন ' আচ্ছা, দিদিমনি আমি বলব।'
ফোনটা কেটে রেখার ভাবতে সময় কেটে গেল অনেকটা। কি করে এই মানুষদের বোঝানো যেতে পারে, কি করে?'
এখনো কয়েকটা মেয়ের বাকি আছে ফোন করার।
রেখা মনে মনে ভাবতে লাগল মেয়েটার বিয়ে আটকানোটা জরুরী ছিল কিন্তু ভদ্রলোক এমন অসহায় ভাবে বললেন, সেখানে রেখা যেন আটকে গেলো।
রেখাকে নিজের প্রতি খুব অসহায় মনে হল।
সঠিক সিদ্ধান্ত কোনটা সেটা জেনেও আজকে রেখাকে চুপ করে মেনে নিতে হচ্ছে। প্রতিনিয়তঃ আমাদেরকে এই ভাবেই মেনে নিতে হয়।
এর পরবর্তী ফোন নম্বর রেখা ডায়াল করলো
*******২৪৩২
দুবার তিনবার বেজে গেল কিন্তু ফোন তুললো না।
রেখা এবার নেক্সট নম্বর ডায়াল করলো******৪৩২৬
এই ফোন নম্বরে ডায়াল করার পর দু-তিনবার বাজার পর ফোনটা রিসিভ করে ভারিক্কি গলায় বললেন  'হ্যালো'।
একটু ঘাবড়ে গিয়ে রেখা বলল,' এটা কি অনিন্দিতা বালার ফোন নম্বর? আমি স্কুল থেকে বলছি।'
ভদ্রলোক বললেন 'না" না না ও পড়াশোনা করবে না।'
রেখা রীতিমতো ভাবাচ্যাকা খেয়ে গেল।
রেখা বুঝতে পারল 'নিশ্চয়ই অন্য কোন দিদিমণি ফোন করেছিল?
ভদ্রলোক বললেন 'একবার তো বলে দিয়েছি যে আমার মেয়ে পড়াশোনা করবে না ।তারপরও আবার ফোন করছেন?'
রেখা বলল না না আমি অন্য সাবজেক্টের টিচার বলছি।
ভদ্রলোক বললেন' আপনি আবার কি বলতে চাইছেন?'
রেখা বলল প্রজেক্ট এর ব্যাপারে কথা বলতে চাইছি।
ভদ্রলোক বললেন' ওই দিদিমনিও  তো প্রজেক্ট এর ব্যাপারে বললেন।'
রেখা বলল ' হ্যাঁ,ও দিদিমণি অন্য সাবজেক্টের কথা বলেছেন।'
ভদ্রলোক বললেন 'ঠিক আছে বলবো?কবে  দিতে হবে?'
রেখা বলল 'এই সপ্তাহের মধ্যে।'
ভদ্রলোক বললেন ও তো নেই বাড়িতে। এ সপ্তাহে কি করে দেবে?''
রেখা বলল' মেয়েকে খবর দিন, এখনো তো সময় আছে।'
ভদ্রলোক বললেন" ঠিক আছে ফোন করে দেখবো?'
কিন্তু ও তো পড়তে চাইছে না।'
রেখা ভদ্রলোককে বুঝিয়ে বলল' মেয়েকে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে বলবেন। বোঝানোর দায়িত্ব আমাদের।'
ভদ্রলোক বললেন' ঠিক আছে বলব?'
ফোনটা রেখে রেখা বিরক্তির স্বরে বললো 'বাপ রে, বাপ ।ওরে বাবা ,এ যেন টিচার এর দায় হয়ে গেছে সব ব্যাপারে।'
মনোজ এসে বলল' কি হয়েছে? তুমি আপন মনে কথা বলে যাচ্ছ?'
রেখা বললো 'আর কি বলি বলো তো ?এতজন মেয়ের গার্জেনকে ফোন করে জানতে জানতে, তাদের অসুবিধার কথা জানতে জানতে আমার সময় নষ্ট হয়ে গেলো। দেখো কটা বাজে?(ঘড়ির দিকে তাকিয়ে)
এবার কি হবে বলো তো প্রজেক্ট যদি না পাই?'
মনোজ বলল 'আর মাথায় চাপ নিও না তো ,যা হবে হবে।'
এরমধ্যে আবার ফোন বেজে উঠল'আমি কার, কে আমার ,কী যে তার আমি হই..।'
মনোজ বলল' কার ফোন বাজছে?'
রেখা বলল' আমার ফোন?'
মনোজ বললো' বাপ রে ,তুমি আবার রিংটোন চেঞ্জ করেছ?'
রেখা হেসে উঠল' হ্যাঁ করেছি। তো?'
মনোজ বলল 'না না। আমি এমনি বললাম।'
রেখা বলল 'তাই বলো? আমি ভাবলাম তুমি আবার কি ভাবছ কে জানে?
মনোজ হো হো করে শুধু হাসতে লাগলো।
আবার ফোন বেজে উঠলো'আমি কার, কে আমার
কী যে তার আমি হই...।'
রেখা ফোনটা রিসিভ করে বলল' হ্যালো।'
অপরপ্রান্ত থেকে এক ভদ্রলোক বললেন' ম্যাম আমি পত্রিকা থেকে বলছিলাম।'
রেখা বললো' কোন পত্রিকা?'
ভদ্রলোক বললেন "'আমি' সিঁড়ি' পত্রিকার সম্পাদক বলছিলাম।"
রেখা হাসতে হাসতে বলল ' ও  নমস্কার'।
সিঁড়ি পত্রিকার সম্পাদক বললেন' এখন চিনতে পারছেন তো?'
রেখা  হাত জোড় করে  বলল 'কিছু মনে করবেন না ।আমি লজ্জিত। আসলে...
সম্পাদক বললেন 'আপনার কোন দোষ নেই ।আমি অন্য নম্বর থেকে ফোন করেছি।'
রেখা বললো 'এগজ্যাক্টলি। সেজন্য ই বুঝতে পারছিলাম না।'
সম্পাদক মহাশয় হাসতে লাগলেন আর বললেন 'কেমন চমকে দিলাম বলুন?'
রেখা ও হাসতে হাসতে বললো' তা আর বলতে?'
সম্পাদক মহাশয় বললেন' এবার কাজের কথায় আসি ম্যাম।'
রেখা বলল 'হ্যাঁ বলুন'।
সম্পাদক বলেন' আপনার 'ওদের যন্ত্রণা 'গল্পটি কিন্তু লোকে ভীষণ ভাবে খাচ্ছে?'
রেখা বললো' মানে?'
সম্পাদক বলেন 'ও ম্যাম, সরি ।আসলে মানুষের চাহিদার মধ্যে রয়েছে গল্পটি।'
রেখা বলল 'তাই?'
সম্পাদক বললেন 'মনে হচ্ছে এই গল্পটির জন্য আপনার কিছু প্রাপ্তির..
রেখা উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল' আমি ভীষণভাবে আপ্লুত।'
সম্পাদক বলেন 'আমরাও আপনার কাছে কৃতজ্ঞ যে আপনি এ ধরনের লেখা আমাদের পত্রিকায় দিয়েছেন।'
রেখা বলল 'দেখুন ,এটা আমাদের নিত্য ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা নিয়ে আমি লিখেছি ।মানে সময় ,বাস্তবতা নিয়ে লেখা একটা ঘটনা এতটা আমার মনে আঘাত হেনেছিল ।যার থেকে আমার লেখা ।যাক পাঠকের ভালো লেগেছে ।এজন্য সত্যিই আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই।'
সম্পাদক বললেন' ঠিক আছে ম্যাম, এই গল্প তো রইলোই ।এই গল্পের জন্য একদিন আলাদা ভাবে আপনার কাছে সাক্ষাৎকার নেয়া যাবে। আজকে রাখছি। আপনার কলমে এভাবে এগিয়ে চলুক ।শুভকামনা থাকলো।'
ফোনটা রেখে এতটা উত্তেজিত হয়ে গেছিল যে মনোজকে জড়িয়ে ধরে, আর আনন্দে ওর মন নেচে গান গেয়ে ওঠে ''শুধু তোমায় ভেবে ভেবে কত দিন রাত গেছে বয়ে..শুধু ভোরের স্বপ্ন হয়ে..।'নাকি
 থেকে যাবে সাজবাতির রূপকথা হয়ে।
মনোজ বলল 'তাহলে কি এখন তোমার সেই ভোরের স্বপ্ন বাস্তব হচ্ছে।'
রেখা হাত দিয়ে ঈশ্বরের দিকে দেখায়।

২২ ডিসেম্বর ২০২১

কবি বিশ্বজিৎ মণ্ডল এর কবিতা





বিগ্রহ
বিশ্বজিৎ মণ্ডল


অনিচ্ছায় কতবার চলে গেছি, উপবনে....

তোলপাড় পাথরপরি জানিয়েছিল, আমাদের সংলাপ
ভুল স্বীকার করেই বলি,আদপে প্রেমিক নই
তোমার ডানার করতোয়া রং দেখে
ভুল মেপেছি____ভিক্টোরিয়া...

আসলে সতেরো বছর আগে হারিয়ে ফেলা সুগন্ধি 
রুমালের খোঁজে ,আজ আমি পাথর পাহারাওয়ালা...

রুকসানা রহমান






দু'চোখে যে অন্ধখনি


যতই তুমি থাকো দুরে, ছায়ার মতন জড়িয়ে আছো
আমার সাথে 
নিশুতরাতে চাঁদের ভিতর,
সেদিন কি আর ছিলো তোমার ভালোবাসা  
নেশা-পেশার সাজানো এক যজ্ঞবেদী...!
তবু কেন মন খারাপের জানালাতে দাঁড়াও এসে
নিত্য নতুন আয়না হয়ে...!? 
যতই তুমি অবহেলায় তুচ্ছ করো, আবেগী সব কথার
স্মৃতি বিনাসূতোয় কষ্ট কাহন মালা গাথি গহীন রাতে
থমকে দিয়ে আলগোছেতে খোঁপায় জড়াও
সোহাগ ভরে স্বপ্নে এসে।
লতায়- পাতায়  বাতাস যখন খেলায় মেতে, যায়  চলে যায় অবহেলায়, তাকে তখন বাধঁতে পারে...!

আমিও যে চাই ভুলতে তোমায়, চাইলে কি আর যায়
ভোলা যায়,ততই তুমি আঁকড়ে ধরো।
কোথায় তুমি, ছায়া হয়ে কান্না ভেজা জলে দেখি
ভাসতে ভাসতে যাও হারিয়ে। 
সেইতো কবে মনে আছে, নদীার জলে সন্তরণে
আকুল হয়ে ঢেউয়ের সুরে সুর তোলাতে
কাজল  আখিঁর পাতায় পাতায় কী মমতায় গভীর ভাবে ওষ্ঠ ছুঁয়ে, হারিয়ে যেতে রীতিনীতির দুয়ার ভেঙ্গে। 
অমৃত সেই নেশার ঘোরেই,বলতে শুধু আমার তুমি, তুমি আমার                                      জলজ দেহে কি মহিমায় আকঁতে ছবি
অনুরাগের স্পর্শকতায়।

আমি কেবল রয়ে গেলাম আজও শুধু তোমার হয়ে
এখনও কি  ব্যাস্ত ভীষণ, কি এসে যায় আমার কষ্টে!
 সব কিছু তো তোমার কাছে...ভুলে গেলে এমন করে? 
হয়তো হঠাৎ চলার পথে, দেখা হলে চিনবে তখন...!
বুকের ভিতর চিনচিনিয়ে অনুতাপের ব্যথায় কি সেই
 আগের মতন বাজবে আবার নিঠুর হৃদয়?

হাতটি তখন বাড়াও যদি,  শূণ্য তখন এ হাতখানি
হৃদয়টাও চৈত্রখরা,দু'চোখ ও যে অন্ধখনি 
 কী হবে আর দেখা হয়ে
 আমি যে এক জ্যান্ত মমি...!

মমতা রায় চৌধুরী/৭৪





উপন্যাস 



টানাপোড়েন ৭৪

একান্ত মনোভূমি

মমতা রায় চৌধুরী




রেখা সকাল থেকে একটা মনের ভেতরে আলাদা একটা প্রশান্তির জায়গা খুঁজে নিতে চাইছিল। ওদিকে পার্থর মা মানে মাসীমা আগের থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ধীরে ধীরে ফিরছেন সে দিক থেকে একটু টেনশন মুক্ত আবার এদিকে মনোজ ও  ধীরে ধীরে ক্রমশ উন্নত পর্যায়ে পৌঁছাছে স্বাস্থ্যের দিক থেকে, সে দিক থেকেও মনে একটা আলাদা ভালো লাগার জায়গা তৈরি হয়েছে। শীতের হিমেল হাওয়া গায়ে লাগছে ,তাই এক মুঠো সোনালী রোদ্দুর যেন চাই চাই।তাই ছাদে উঠে আসা। কিন্তু একা একা ভাল লাগছে না ছাদে পায়চারি করতে। 
দোলাচলতায় নিচে নেমে এসে ভাবল ' কি ব্যাপার ,আজকে মিলির বাচ্চাগুলোর কোন সাড়াশব্দ নেই কেন?'
 একটু উঁকি মেরে দেখার চেষ্টা করল। রেখা দেখল "আরে ওরা তো একটার উপর আরেকটা এভাবে শুয়ে আছে। ওদের তো বস্তা পেতে দেয়া হয়েছে। তার পরেও ওদের ঠান্ডা লাগছে।'
 দুধ রুটি খাওয়ার সময় হয়েছে  বলে রেখা সামনের গেটের ছিটকিনিটা যেই না খুলেছে,  ক্যাচ শব্দ কানে যেতেই তিনটে বাচ্চা ছুটে চলে এসেছে। এসেই লেজ নাড়তে শুরু করল আর ওদের ভাষায়' ভোউ ভৌউ..উঃ করতে লাগলো'। কিন্তু লিলিটা বেরোলো না। রেখার সন্দেহ হওয়াতে কাছে গেল ।কাছে গিয়ে লিলিকে কোলে তুলে নিল। দেখল চোখ বুজে আছে।
রেখা  প্রথমে ভাবছে  'কি জানি হয় তো ওর ঘুমোতে ভালো লাগছে ,একটা চোখ খুলে একবার দেখল বটে ।
রেখা মনে মনে ভাবল খাবার দেখলে ওরা সবাই ছুটে আসে আবার কিছুটা অভিমান থাকে কোলে চাপার। কোলে না নিলে ওরা কিছুতেই খেতে আসতে চায় না।
তাই রেখা ওর কাছে গিয়ে বললো' আর ঘুমোতে হবে না ।এসো এবার একটু দুধ রুটি খাও ।'কোলে চেপে বুকের ভেতরে মাথাটা রেখে চুপ করে রইলো।
আজকাল খুব অভিমান হয়েছে ।'ওদের খেতে দিলে প্রথমে কেউ খাবে না কিন্তু গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ওরা প্রত্যেকে এসে হাজির হবে খাবার সময় । অথচ খাবে না। ওদের উপরি পাওনা চাই তবে খাবে।
তখন রেখা ওদেরকে বলল' নে বাবা খেয়ে নে।'
সোনারে বাছারে বলে গায়ে হাত বুলাবে আর এক এক করে কোলে তুলে নেবে ।একজন করে কোলে থেকে নামাবে তারপর তারা খাবে। লিলি  খাবারটা খেলো তারপর আবার ঘরে ঢুকে গেল। কিন্তু মনের ভিতর একটা দুশ্চিন্তা রয়ে গেল, বাচ্চাটার কি হলো?'
রেখা ভাবল 'বেলা বাড়ুক তারপরে দেখা যাবে।'
রেখা বাচ্চাদেরকে খাইয়ে-দাইয়ে সবেমাত্র রান্নাঘরে থালাটা রেখেছে বেসিনে। ঠিক সেই সময় ফোন বেজে উঠলো'ধায় যেন মোর সকল ভালোবাসা..
ফোনটা খাবার টেবিলের কাছে রাখা ছিল, ফলে ফোনটা ধরতে অসুবিধা হয় নি রেখার। একবার রিং হতেই ফোনটাকে রিসিভ করতে গিয়ে দেখে বড়দির ফোন।
রেখা ফোনটা রিসিভ করে বলে 'হ্যালো বড়দি।'
বড়দি বললেন' রেখা 'আমি বড়দি বলছি।'
রেখা বলল 'আমি বুঝতে পেরেছি বলুন'।
বড়দি ওর বললেন '12 ক্লাসের প্রজেক্ট খাতা গুলো দেখা হয়েছে তোমার?'
রেখা বলল 'যারা জমা দিয়েছে বড়দি ।তাদেরগুলো দেখা হয়েছে।
'বড়দি বললেন 'কেন তোমার সব খাতা জমা পড়ে নি?'
রেখা বলল 'না। অনেকেই দেয় নি তো?"
বড়দি বললেন' সে কি? আমায় কিন্তু নম্বর দেবে আগামী সপ্তাহে ।বোর্ডে পাঠাবো।'
রেখা বলল" যারা দেয় নি তাদের কি করবো বলুন?'
বড়দি বললেন 'কিন্তু ঐ খাতাগুলো তো তোমাকে কালেক্ট করতেই হবে রেখা ।যেভাবেই হোক।'
রেখা বলল'দিদি আমি গ্রুপে মেসেজ করেছিলাম?'
বড়দি বললেন'কোন রেসপন্স পাওনি। খাতা জমা দেয় নি।'
রেখা বলল' না দিদি।'
বড়দি বললেন' তাহলে এবার ফোন করো?'
রেখা বলল'তাহলে এবার ফোন করব? দেখি কি হয়?
বড়দি বললেন হ্যাঁ সেটাই করো।:
রেখা বলল 'বড়দি অন্য  সাবজেক্টের কি সব প্রোজেক্ট পেয়েছে?'
বড়দি বললেন 'অনিন্দিতা তো বলছিল ইংরেজি প্রজেক্ট কিছু বাকি আছে?'
রেখা বলল 'ও আচ্ছা ‌আমি ভাবলাম শুধু আমার সাবজেক্টটাই বোধহয় বাকি আছে?'
বড়দি বললেন 'আসলে আমি তোমাকে আগে থেকে ইনফর্ম করলাম । তুমি তো স্কুলে আসছো না ।তোমার ক্ষেত্রে হয়তো অসুবিধা হবে এই জন্য।'
রেখা বলল 'হ্যাঁ দিদি ,ঠিকই বলেছেন।'
বড়দি বললেন' ঠিক আছে। সাবধানে থেকো ।ভালো থেকো। রাখি।'
রেখা বলল" দিদি ,আপনিও খুব ভাল থাকবেন।'
ফোনটা কাটার পর রেখা আপন মনে বলতে লাগল বাপরে বাপ আজকালকার মেয়েদের কোন রেসপন্সিবিলিটি নেই ।ওরা জানে যে প্রজেক্ট নম্বর জমা না পড়লে প্রজেক্টে পাস না করলে বিষয়েও ফেল। এটা কিছুতেই বোঝানো যাচ্ছে না।
এরপর মনে হচ্ছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাতা কালেক্ট করতে হবে।
মনোজ ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বলল 'তুমি কার সঙ্গে এত কথা বলছ গো?'
রেখা বলল 'আর কার সাথে কপাল চাপড়ে বলল 'কপালের সাথে।'
মনোজ হাসতে হাসতে বলল 'সেই কপালটা চাপড়ে কি বুঝতে পারলে তুমি?"
রেখা বলল 'এই যে ফোন করতে বসব এবার?'
মনোজ বলল 'কাদের ফোন করবে?'
রেখা বলল 'কাদের আবার, ছাত্রীদের।'
মনোজ বললো "ভালোই আছো?'
রেখা বলল' হ্যাঁ ভালোই তো আছি। সমাজের সব মানুষই তো এখন শুধু টিচারদের  দোষারোপ করে।টিচারদের কোন কাজ নেই ,টিচারদের স্কুল নেই। বাড়ি বসে বসে মাইনে আরো কত কিছু।
আমাদের যে কাজের পাহাড় কাকে বোঝাবো বলো?'
রেখা বলল 'এই শোনো তোমার নাস্তা খেয়ে নাও। আমি কিন্তু এখন ফোন করতে বসবো আমাকে ডিস্টার্ব করবে না।'
মনোজ বলল 'ওকে ম্যাডাম'।
রেখা বললো "ঠিকআছে। বসো দিচ্ছি খেতে।'
মনোজ বলল-'এই রেখা আজকের মেনু কি?'
রেখা বলল "বলা যাবে না । এটা সিক্রেট।'
মনোজ খাবার টেবিলে বসে ,রেখা খাবার প্লেটে খাবার বাড়ছে। তখনই গন্ধটা মনোজের নাকে আসলো।
মনোজ বলল "ঘ্রাণে অর্ধভোজন। ঠিক তুমি আমার স্পেশাল মেনু বানিয়েছ মেথিমালাই।'
রেখা বলল 'গন্ধ যখন পেয়ে গেছো ,তাহলে আর সিক্রেট কোথায় ?এই নাও খেয়ে নাও।প্লেটটা মনোজের সামনে রাখলো।
মনোজ বলল 'কতদিন যেন মনে হচ্ছে খাই নি।'
রেখা বললো 'ঠিক আছে নাও। এবার পেট ভরে খাও।'
মনোজ বলল 'এই তোমার খাবারটা নিয়েএসো তো কতদিন একসঙ্গে বসে খাই নি । '
রেখাকে হাত ধরে টেবিলে বসাল।'
রেখা বললো ' না ,এখন আমি খাবো না ।আমি কাজগুলো ততক্ষণ সেরে আসি।'
মনোজ বলল' তুমি না খেলে কিন্তু আমিও খাবো না।'
রেখা বলল  'ধেৎতেরি। মাঝে মাঝে এমন বায়না করো না, ভালো লাগে না।'
একটু বিরক্তি নিয়েই রান্নাঘরে গেল রেখা। তারপর রেখা নিজের খাবারটা নিয়ে চলে আসলে ,প্লেটটা নিয়ে বললো' নাও  শান্তি ,এবার খাও।'
মনোজ বলল" রাগ করছো রেখা ।দুজনে একসাথে আমরা কত গল্প করতাম আর খেতাম। শুধু তোমার আমার একান্ত মনোভূমি ছিল।'
রেখা বলল ' না গো রাগ করি নি।  একটা চাপ রয়েছে না মাথায় ?খাতাগুলো যদি না পাই ,কি করে কি করবো সেটাই ভাবছি।'
খেতে খেতেই রেখার আবার ফোন বেজে উঠলো 'ধায় যেন মোর সকল ভালোবাসা.।
রেখা বললো 'আবার কে ফোন করল ?কে জানে?'
মনোজ বললে'দেখ না ফোনটা কর?
 জরুরি কিছু হতে পারে।'
রেখা ফোনটা রিসিভ করে বলল 'হ্যালো'।
অপরিচিত ব্যক্তি বললেন' হ্যালো ম্যাম আমি সিঁড়ি পত্রিকার সম্পাদক বলছি।'
রেখা বলল 'বলুন?'
সম্পাদক বলেন নমস্কার ম্যাম।'
রেখা বলুন নমস্কার।
সম্পাদক বললেন' আপনার লেখা পাঠাচ্ছেন না তো?'
রেখা বলল 'আসলে লেখা হয়েছে সেটা পাঠানো হয়ে ওঠে নি ।আমি একটু অসুবিধার মধ্যে ছিলাম।'
সম্পাদক বললেন 'এবার পাঠিয়ে দিন ম্যাম? '
রেখা বলল 'হ্যাঁ দেব। আর বলল আপনার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠিয়ে দিলেই হবে তো?'
সম্পাদক বললেন 'হ্যাঁ আমার ওই নম্বরেই পাঠাবেন।'
রেখা বলল 'ওকে।'
সম্পাদক বললেন' ধন্যবাদ ম্যাম।:
রেখা বলল'আজকে যতটা পারছি পাঠাচ্ছি।'
সম্পাদক বললেন ' ঠিক আছে।'
রেখা ভাবল 'এরমধ্যে আর লেখা হয়ে ওঠে নি, আগের লেখা কিছু আছে, সেগুলোই পাঠাতে হবে। এই জায়গাটাই রেখার একেবারে একান্ত মনোভূমি।
এই স্বাভাবিক স্বচ্ছন্দ জীবনে পৌঁছাতে পারলে প্রয়োজন হয় না বন্ধু বান্ধবীর। নিজেকে মেলে ধরার জায়গা। প্রাণের জায়গা ,খুশির জায়গা।

শান্তা কামালী





বনফুল
(৪৬পর্ব) 
শান্তা কামালী

সৈকত অহনাকে পৌঁছে দিয়ে এসে ডিনার শেষে বললো খালাম্মা আমি কালকে ভোর বেলায় ট্রেন ধরবো। ভোর পাঁচটায় বাসা থেকে বেরোবো, আপনি আবার কোনো রকম কষ্ট করে নাস্তা বানাতে যাবেন না। আমি ট্রেনে উঠে নাস্তা করে নেব।
পলাশের আম্মু বললো আরেকটা দিন থেকে গেলে হতো ভালো বাবা।সৈকত বললো খালাম্মা আমাকে সপ্তাহ খানেকের মধ্যে সব গুছিয়ে আসতে হবে, যত তাড়াতাড়ি যেতে পারবো, আমার জন্য ভালো হবে। পলাশের আম্মু বললেন, আচ্ছা বাবা.....। 

প্রায় ১০ ঘন্টা জার্নি করে পলাশ মাল্টা এয়ারপোর্টে পৌঁছে চেকিং শেষ করে, একটা ক্যাব বুক করে ভার্সিটির হোস্টেলে এসে পৌঁছলো। গাড়ি থেকে জিনিসপত্র নামিয়ে রুমে ঢুকে দু'জন রুমমেটের সাথে  পরিচয় পর্বে জানতে পারলো একজন ইন্ডিয়ান। ভালোই হলো,মালপত্র এক সাইডে গুছিয়ে রেখে ওয়াশ রুমে ঢুকে শাওয়ার করে এসে দশ মিনিট রেস্ট নিয়ে ব্যাগ থেকে  কিছু খাবার বের করতে যাবে তখনই ইন্ডিয়ান রুমমেট রাহুল বললো, আমরা আছি আর তুমি কি না ড্রাই ফুড খেয়ে থাকবে এ আবার হয় নাকি! চলো আমাদের সাথে খাবে, পলাশ ভদ্র ছেলের মতো  ওদের সাথে বসে খাবার খেলো।তবে হঠাৎ অন্য দেশের খাবারের স্বাদ খুব একটা ভালো লাগেনি.....  তবুও খাওয়ার জন্য খাওয়া।

জুঁইয়ের ঘুম ভাঙ্গলো নয়টায়। হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেস হয়ে নিচে নেমে এলো। জুঁইয়ের আব্বু আম্মু ওর জন্য অপেক্ষা করছিলো। ওকে দেখতে পেয়েই ময়না টেবিলে নাস্তা  পরিবেশন করলো।
জুঁই বাবা-মার সাথে বসে বেশ ভালো করে নাস্তা খেলো। ময়না কফির ট্রে টেবিলে রাখতেই জুঁই ওর কফির মগ টা নিয়ে সোফায় বসে কফি খাচ্ছে, এমন সময় হঠাৎই জুঁইয়ের ফোন বেজে উঠল আন-নোন নাম্বারের থেকে কল এসেছে। ভয়ে ভয়ে রিসিভ করতেই পলাশের গলা!  অমনি জুঁই পাগলের মতো প্রশ্ন করতে লাগলো তুমি ঠিক ভাবে গিয়ে পৌঁছেছো তো? কিছু খেয়েছো,না-কি এখনো খাওনি? 
পলাশ বললো, জুঁই আমি ঠিক ভাবে পৌঁছে শাওয়ার করে নাস্তা খেয়ে তবেই তোমাকে ফোন দিচ্ছি। এখন  বলো জুঁই তুমি কেমন আছো? 
উত্তরে জুঁই বললো আলহামদুলিল্লাহ....
একবার আন্টি বা আঙ্কেলকে ফোনটা  দাও তো।
 জুঁই বাবা-মার কাছে ফোনটা দিয়েছে,স্পিকার অন করে দুজনেই কথা বললেন। জুঁইয়ের মা মনোয়ারা বেগম বললেন বাবা  যেতে তোমার কোনো সমস্যা হয়নি তো? পলাশ বললো জ্বি, না আন্টি। জুঁইয়ের বাবা পলাশকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি তোমাদের বাসায় ফোন দিয়েছিলে?  পলাশ জ্বি, না আঙ্কেল, আপনাদের থেকে ফোন রেখেই বাসায় ফোন দিচ্ছি।  ওয়াজেদ সাহেব বললেন আমি রাখছি তুমি আগে বাসায় ফোন দাও। এই বলে জুঁইয়ের বাবা ফোন কেটে দিলেন।



চলবে...

শামীমা আহমেদ/পর্ব ৩৭






শায়লা শিহাব কথন
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৩৭)
শামীমা আহমেদ 





রাহাত আরো একদিন অফিস ছুটি বাড়িয়ে নিল। একটি কর্পোরেট অফিসে রাহাতের এটাই প্রথম জব চলছে। তা প্রায় বছর দুই হয়ে এলো। ছুটি নেবার মত কখনো এমন কোন সিরিয়াস বা ইমার্জেন্সি  প্রয়োজন পড়েনি। এবারই প্রথম আপুর জন্য ছুটি নেয়া।  শায়লার জন্য রাহাত  অন্তত এটুকু করতে পেরে নিজের উপর কিছুটা দায়িত্ববোধ হালকা করলো।
আপুর রুমটা ঠিকঠাক করে দিতে হবে। একটি  ইলেকট্রনিক্স শোরুমে কথা বলে  রাহাত ঘরে বসেই  একটা ছোট এসি শায়লার রুমের জন্য অর্ডার করে দিল। ওদের কোম্পানির লোক এসে সেটা সেট করে দিয়ে গেলো। শায়লার রুমের লকটা ঠিক করা হলো। রাহাত এবার বেশ উঠেপড়েই লেগেছে। শায়লার মনে যেন সবসময় একটা নিরাপত্তাবোধ কাজ করে রাহাত সে ব্যাপারটা নিশ্চিত করবে। সবশেষে দুজন লেবার গোছের লোক আর বাসার দাড়োয়ান নিয়ে আপুর রুমের জিনিদপত্রগুলোর একটু জায়গা পরিবর্তন করে দিলো। শুধু শায়লার আপত্তিতে রুমের খাটটা সরানো হলোনা। খাটটা ঠিক জানালার পাশে আছে। শায়লা বিছানায় শুয়ে শুয়ে জানালার পর্দা সরিয়ে আকাশ দেখে,পাখি দেখে মেঘ, বৃষ্টি,  চাঁদ দেখে, রাতের আঁধার দেখে, দিনের উজ্জ্বল  আকাশ থেকে ! রাহাত ভাবলো আপুর রুমের জন্য শীত আসবার আগেই একটা কার্পেট বসিয়ে দিবে। মোটামুটি রুমটা গোছানো হয়ে গেলে নতুন এসি ছেড়ে ভাইবোন খোশ গল্পে নেতে উঠল, যাক ! শায়লা এখন একেবারেই স্বাভাবিক হয়েছে। মা বেশ একটি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো । যে ভয় লাগিয়ে দিয়েছিল মেয়েটা ! 
রাহাত মায়ের কাছে দুই কাপ চা পাঠিয়ে দেয়ার বায়না করে মূলত রুম থেকে মাকে  সরিয়ে দিলো।রাহাতের ইচ্ছা আপুকে হালকাভাবে জিজ্ঞেস করে শিহাব সম্পর্কে  টুকটাক কিছু জানতে চাইবে।খুব ডিটেইলড কিছু না।আপুর প্রাইভেসীটাও মেইন্টেইন করতে হবে। 
ভাইবোন আলাপচারিতায় মেতে উঠলো। খুব হালকাভাবেই রাহাত জানতে চাইল,আচ্ছা আপু তুমি যখন অসুস্থ ছিলে মিঃশিহাব নামে একজন ভদ্রলোক বারবার তোমার খোঁজ নিচ্ছিল। তোমাকে দেখতেও আসতে চাইছিল। কিন্তু দ্রুতই তোমার রিলিজ হওয়াতে আর আসা হলো না ! রাহাত একটু বাড়িয়েই বললো।জানতে চাইল,আচ্ছা আপু
আমি কি  উনাকে চিনি ? কখনো দেখেছি কি ?
শায়লা হঠাৎ শিহাবের এমন প্রসঙ্গে একটু বিব্রতবোধ করলো। আর ভেবে অবাক হলো শিহাব নিয়মিত তার খোঁজ নিয়েছে? ছিঃ আর আমি তার সম্পর্কে কি না কি ভেবেছি !
যদিও এই অসুস্থতা পুরোটাই শিহাবের সেদিনের কথার কারনে হয়েছে  কিন্তু সবতো আর রাহাতকে  বলা যাবে না। শায়লা চাইবে না তার  ভাইয়ের কাছে শিহাবকে কোনভাবে ছোট করতে। আর তা ছাড়া শিহাবতো সে ধরনের মানুষ নয়। শায়লা 
শুধু হাল্কা স্বরে বললো, এইতো ফেসবুক ফ্রেন্ড। ফেসবুকে পরিচয়, তিন মাস হলো পরিচয় ।রাহাত বুঝে নিলো, তাহলে আপুর  বিয়ের পরে এ সম্পর্ক ।  তাহলে নোমান ভাইয়ের সাথে কী শায়লার যোগাযোগে নেই? এ কেমন কথা হলো ! আপু বিয়ের পরেও এমন সম্পর্কে  কেন জড়ালো।নাহ! এটা আপুর একেবারেই ঠিক হয়নি ।
আপু উনি কি করেন ? 
একে একে রাহাতের সকল প্রশ্নের উত্তর শায়লা অবলীলায় দিয়ে গেলো। রাহাত অবাক হলো ,সম্পর্ক তবে তো অনেকদূর গড়িয়েছে। শায়লা ইচ্ছে করেই শিহাব সম্পর্কে সবটাই জানালো।কিছুই লুকালো না। আসলে শায়লাতো এটাই চাইছে সবাই শিহাবের কথাটা জেনে যাক, নাহ ! শায়লার শিহাবকে নিয়ে আর কোন লুকাছাপা করবে না। সম্পর্কটা যে এখন শিহাবের ইচ্ছায় বন্ধুত্বে দাঁড়িয়েছে সেটাও বুঝিয়ে
দিলো । যদিও শায়লা খুবই একান্তভাবে শিহাবকে নিজের করে পেতে চাইছে কিন্তু সেটা আড়ালেই রেখে দিলো।তবে রাহাতের বুঝতে একটুও কষ্ট হলোনা যে, আপু ভীষণভাবে  শিহাব সাহেবের ঘোরের মধ্যে আছে । তাকে একান্তে  পেতে চাইছে ।খুবই  মুশকিল হবে এ সম্পর্ক থেকে আপুকে বের করে আনা। কিন্তু কানাডার বিষয়টির কী হবে? কেমন করে সেটা এভয়েড করবে বা আদৌ কি তা করা সম্ভব? যদিও এমন ঘটনা যে একেবারে ঘটে না তা নয়! কত প্রবাসীইতো নতুন বউ রেখে যায় আর বউ আরেকজনের সাথে প্রেম করে পালিয়ে যায়।অবশ্য রাহাত এতে দোষ দেখেনা।বিয়ে করা নতুন বউয়ের তো একা থাকা সম্ভব না একেবারেই। 
ওদিকে শিহাব সাহেবের কথাও শুনতে হবে।সে কি চাইছে?  আপুকে নিয়ে তার ভাবনাটা কি ? আপু যে বিবাহিতা সেটা উনি জানেন কিনা? তবে ফিলিংস্টা যে বেশ গভীরে সেটা বুঝাই যায়। খুবই সিরিয়াস হয়ে গেছে ব্যাপারটা। আত্মীয়স্বজনেরা তো ছিঃছিঃ করবে। তা করুক !  রাহাত এ ক্ষেত্রে একেবারেই লিবারেল।  যে কোন মূহুর্তেই মানুষ  কারো প্রেমে পড়তে পারে।তখন হয়তো নিজেদের পিছন বা অতীতটা আর ভাবা হয় না। 
মা চা নিয়ে এলো।  সাথে পাপড় ভাজা। শায়লা জানে শিহাবের খুব পছন্দ এই পাপড় ভাজা। শিহাবের কথা মনে হতেই শায়লা বলে উঠলো, আচ্ছা আমার মোবাইলটা কোথায় ? 
রাহাত বুঝতে পারলো এটা শায়লার শিহাবের জন্য আকুলতার কারনে! নয়তো এখন মোবাইল কোন জরুরি বিষয় নয়। 

রাহাত সরাসরিই জানতে চাইল,আচ্ছা আপা শিহাব সাহেব কেমন মানুষ ? শায়লা কথাটা শুনে  বেশ চমকে গিয়ে চোখ তুলে তাকালো। 
কিছুক্ষন নীরব থেকে বললো, শিহাব খুব ভালো একটা ছেলে রাহাত । ওর একটা কষ্টের অতীত আছে।আমাকে সবটাই বলেছে । আমরা এখন খুব ভালো বন্ধু হয়েছি । আমার সবকিছুই সে জানে ।
ওহ! রাহাত একটু আশ্বস্ত হলো । তাহলে শিহাব সাহেব যেহেতু সবই জানেন তবে আপার কানাডার ব্যাপারে আর কোন পিছুটান রইল না।  শায়লা চায়ে চুমুক দিলো।রাহাত চা খেয়ে বললো, আপু, তোমার  ফোনটা আমার রুমে । ফোনে একেবারেই চার্জ ছিল না তাই চার্জে দিয়েছি । শায়লা একটু টেনশনে পড়ে গেলো মন হচ্ছে ।কিন্তু রাহাত চাইছে না এখুনি আপার হাতে ফোনটা দিতে ।
চার্জ হলে মোবাইল আমি নিজেই দিয়ে যাবো।চা শেষ  করে রাহাত শায়লাকে এসি চালানোয় রিমোটের  নিয়মকানুনগুলো বুঝিয়ে দিয়ে রুম থেকে বেরুলো আর ভেবে নিল আজ বিকেলেই শিহাব সাহেবকে কল দিবে। তার কথাতেই বুঝা যাবে আসলে সম্পর্কটা কতদূর গড়িয়েছে,, একদিকে একজন সেন্সলেস হচ্ছেন আরেকদিকে উৎকন্ঠায় আরেকজন বারবার ফোন করেই যাচ্ছিল! হু বুঝা যাচ্ছে,,, ডাল মে কুচ কালা হ্যা !



চলবে...

জাবেদ আহমেদ




চাঁদের কণা ধরায়


না জানি এই আদরের লিলায় কোন উত্তাল সাগরে আমি ডুবি নাজানি!
কবির কলমে কেন বারবার তোমার অপরুপ মুখখানি। 
এই কেমন অনুভূতির খোয়াবে খোলা চোখে শুধুই তোমারে দেখি!
না জানি কোন পাষন্ডের রাজ্যে আমি আছি
না জানি !
সবুজে ঘেরা অবণ্যের মাঝে বনলতার সন্ধানে আমি না জানি ।
কত দুর্গম গিরিখাতের পাড়ি দিয়ে তোমার আশায় বাধি নীড় নীড়পাতায় না জানি!
কত অসীম তোমার দুরত্ব না জানি !
আমার শৈশবের দেখা নন্দিনী 'র মত কেন তুমি নাজানি কোন দুঃদর্শ যুদ্ধের সমুক্ষে আমি নাজি কোন কিয়ামতের নমুনা তুমি নাজানি।ওগো চাঁদের বুড়ি এক টুকরো ঝড়ে পড়েছ কেন ধরায় না জানি।

মোঃ হা‌বিবুর রহমান/১১ তম পর্ব 




ইউএন মিশ‌নে হাই‌তি‌তে গমন 
( ১১ তম পর্ব ) 
মোঃ হা‌বিবুর রহমান

আজ লেখার শুরু‌তেই মন‌কে বললাম, "হে ‌মোর মন আর কত পর্ব পর্যন্ত তু‌মি খুড়ি‌য়ে খুড়ি‌য়ে চ'লবা? মন ব'ল‌লো এইভা‌বে যায় যত‌ দিন। ম‌নের ভিত‌রে অন্য মন‌টি ব'ল‌লো, আর কত‌ দিন? অ‌নেক‌ তো লিখ‌ে‌ছো, এবার এ যাত্রায় দেওনা কিছু সময় ক্ষ্যামা? অপর মনটি ব'ল‌লো, কই আর এত‌ দিন, চলছে চলুক না কেন, এ‌কেবা‌রে শেষ ক‌রো মিশন আব‌ধি। মিশন শে‌ষে ফির‌তি ফ্লাইট দি‌য়ে টা‌নো ই‌তি; যেখান থে‌কে তুমি ক‌'রে‌ছি‌লে শুরু সেই ব‌ঙ্গদে‌শের রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জা‌তিক বিমান বন্দর নামে খ্যাত স্থান‌টি‌তে ফি‌রে এ‌সে হও ত‌ু‌মি ক্ষান্ত। 

অন্য মন‌টি বল‌লো, মন্দ নয় যেন প্রস্তাবটি, একেবা‌রেই যেন খাসা, কিন্তু এত সময় পা‌বে তু‌মি কোথা? স‌ত্যিই তো দে‌বে কি  কেউ আমায় অমূল্য সময় ধার? কার অন্ত‌রে আ‌ছে এত দয়া, কে আমায় দি‌বে অ‌তি মূল্যবান ‌সেই সময়টি ধার? কা‌জেকা‌জেই অব‌শেষে নিলাম সিদ্ধান্ত, শেষ ক'র‌তেই হ‌বে যে‌কোন প্রকা‌রেই আজ। আর যেই কথা যেন সেই কাজ। কে‌টেশে‌টে একদম ক'রলাম শর্ট, ফেইস বু‌কের এক বন্ধু ব‌লেছি‌লেন মো‌রে, হয় যেন অ‌তি সুন্দর আপনার শেষ পর্ব খা‌নি।

যা‌হোক, ‌মেজর সাখাওয়াৎ (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), আমা‌দের জন্য ম‌নোব‌ল রক্ষার যেন একটা রক্ষা কবজ হি‌সে‌বে আ‌বির্ভূত হ‌'লেন। তা‌কে ‌দেখ‌লেই আইএস‌ডি টে‌লি‌ফো‌নের কথা সর্বদা ম‌নে পড়ে যে‌তো। একজন অত্যন্ত আন্ত‌রিক ও দয়াল‌ু অ‌ফিসার যা‌কে কোন কে‌ান সময় দে‌খে‌ছি নি‌‌জের ভা‌গের তিন মি‌নিটকালও তি‌নি আমা‌দেরকে দি‌য়ে বলে‌ছেন যে, "স্যার, আমার নি‌জের জন্য বরাদ্দ তিন মি‌নিট আপনার জন্য, আপ‌নি এখনই বাংলা‌দে‌শে আপনার প‌রিবা‌র ও আপনজন‌দের সা‌থে কথা বলুন"। 

যা‌হোক, এক এক ক‌'রে প্র‌তি‌দিনই আমা‌দের‌কে তারা মি‌লিটারী কলা-কে‌ৗশল ও মি‌লিটারী অপা‌রেশন সম্ব‌ন্ধে বৃ‌টিশ রয়াল আ‌র্মি ও ইউএসএ আর্মির অত্যন্ত যোগ্য ও চৌকস মি‌লিটারী অ‌ফিসারগণ তা‌ত্ত্বিক ও ব্যবহা‌রিক দিকটা শিক্ষা দি‌তেন। এই সময় মহড়ার মাধ্য‌মে মা‌ঝে-মা‌ঝেই বিষয়টি আরও সম্যক প‌রিস্কার ক‌'রে দি‌তেন। এধর‌নের কলা-‌কৌশল আমা‌দের জন্য নতুন কিছু না হ‌'লেও তা‌দের কারো কা‌রো ব্য‌ক্তিগত অ‌ভিজ্ঞতাগ‌ুলো আমা‌দের জন্য অবশ্যই অনুকরণীয় ও শিক্ষণীয় ছিল। 

আস‌লে কথায় ব‌লেনা "বিদ্যা বড় অমূল্য ধন" আর এই বিদ্যা শিক্ষার যেন শেষ নেই। প্র‌তি‌টি মূহু‌র্তে যে কোন বয়‌সেই যে কোন বিষয় শেখা যায় আর‌কি! দুপুর দু'টার পর আমরা ক্লাস শে‌ষে সম্পূর্ণ ফ্রি হ‌'য়ে যেতাম। মজার সময়টা ঠিক তখন থে‌কেই শুরু হ‌তো। আমরা ঝ‌টিকা গতি‌তে মি‌লিটারী পোষাক পা‌ল্টি‌য়ে (আমা‌দের জন্য এ‌সি লি‌মি‌টেড বাস প্রস্তুতঃ থাক‌তো) আর আমরা এই বা‌সে ছওয়ার হ‌'য়ে সোজা ভু-করে এ‌ দে‌শের রাজধানী এ‌কেবা‌রে সান‌জোয়া‌নে পৌঁ‌ছে যেতাম। 

প্র‌শিক্ষণ কেন্দ্র, ক্যাম্প সা‌ন্টিয়া‌গো থে‌কে রাজধানী যতদূর ম‌নে প‌ড়ে ৬০ মাইল কিংবা ৯৬ কি‌লোঃ এর মত হ‌বে বোধ হয় হ‌বে। এক ঘণ্টার‌ও কম বাস ভ্রমণ। রাস্তার দু' পা‌শের নয়না‌ভিরাম দৃশ্য দেখ‌তে দেখ‌তে কখন যে ঠিক রাজধানী, সান‌জোয়া‌নে পৌঁছে যেতাম তা কোন‌দিনই টের পাই‌নি।

চলবে....