০৩ জানুয়ারি ২০২২

কবি ফারহানা আহাসান এর কবিতা




মুক্তির পথে কান্ডারীরা জাগো হে জাগো
ফারহানা আহাসান


মুক্তির পথে কান্ডারীরা জাগো হে জাগো,
আজ নতুন সুরে তাল লয়ে ডাকছে তোমাদের "মা" গো।
আবার যুদ্ধে নামো সত্যের পথে,
যুদ্ধে নামো এগিয়ে নিতে,
দেশের সোনার সন্তানেরা, 
তোমরা নামাও বিজয়ের জয়গান।

মুক্তির পথে কান্ডারীরা জাগো হে জাগো
নেই মোরা পিছিয়ে জেনো,
নেই মোরা ভয়ে আর শুনে রেখো
বিশ্বে আছে মোদের লাখ প্রমাণ দেখো,
এবার করবো দেশের উন্নতি  "মা" গো।

মুক্তির পথে কান্ডারীরা জাগো হে জাগো।
মুক্তির পথে কান্ডারীরা জাগো হে জাগো।

হাতে হাত রেখে
দুর্গম দেব পার।
করিনা কোন ভয়
মোরা আজকের সন্তান,
জেগে উঠো এই বিজয়ের স্লোগানে।

শামীমা আহমেদ/পর্ব ৪৭




শায়লা শিহাব কথন
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৪৭)
শামীমা আহমেদ 



সারাদিনের ছুটোছুটি আর জীবনের পট পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের দৃঢ়তায় শিহাবের একদিকে  যেমন বিরাট একটা মানসিক চাপ। অপরদিকে প্রচন্ড ক্লান্তির সাথেও ভালোলাগার এক অনাবিল মোহময়তার মিশ্রণ।শিহাব যেন পুরোপুরি শায়লা অনুভবে একেবারে ডুবে আছে। মনে হলো অনেক অনেকদিন পর শিহাবের আকাশের কালো মেঘ কেটে গেছে, হয়েছে অবাক সূর্যোদয়! আর সেই সূর্যের আড়াল থেকে শায়লার হাসিমাখা মুখের তীব্র এক আকর্ষণ, তাকে বারবার টেনে নেয় মেঘের ওপারে।
শায়লাকে নিয়ে এমনি মনের নানান ভাবনার ভেসে চলায় শিহাব কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে নিজেও বলতে পারবে না।সেই যে সেই ছোটবেলায় ঈদের দিনের মতন  নতুন পোশাক আর নতুন জুতো পরে সারাদিন ঘুরে বেরিয়ে সন্ধ্যায় ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়া। আজ যেন তেমনি মনে হলো।শিহাব ঘুম থেকে জেগে নিজেকে একবার ভালো করে দেখে নিলো।সসন্ধ্যায়  শায়লাকে নামিয়ে বাসায় ফেরা, সে ভাবেই, সে পোষাকেই বেশ একঘুম ঘুমিয়ে নেয়া। হাতের মুঠোয় সেভাবেই মোবাইলটা  ধরা। লাস্ট কল শায়লার কাছে,রাত আটটা বিশ মিনিটে। এখন ঘড়ির  কাটা এগারোটা ছুইছুই। বেশ এক ঘুম ঘুমিয়ে নেয়া হয়েছে।
শিহাব বিছানা  ছাড়লো।কাপড় বদলে নিতেই পেটে প্রচন্ড ক্ষুধা অনুভূত হলো।কি করা!ফ্রিজে বেশ ক'দিনের পুরনো খাবার। সেই একই খাবারের পুনরাবৃত্তি! আর ভালো লাগে না।যদিও এতদিন  খাবারের ব্যাপারে এ ধরনের কোন অনিচ্ছা কাজ করেনি।তবে কি অবচেতন মনে শিহাব শায়লার উপস্থিতি কামনা করছে!নিশ্চয়ই শায়লা থাকলে তার এ ব্যাপারগুলো খেয়াল রাখতো।
তক্ষুণি শায়লার মেসেজ! রাতের খাবার খেয়েছো?
শিহাব কী বলবে বুঝে উঠতে পারছে না।খেয়েছি বললে মিথ্যা বলা হবে আবার খাইনি বললে শায়লার বকুনি শুনতে হবে।তাইতো বুদ্ধি করে মাঝামাঝি একটা উত্তর জানিয়ে দিলো।এইতো এখুনি খেতে বসবো।
শায়লা ভেবে দেখলো তাদের আজকের এই স্মরণীয় দিনটি শেষ হতে রাতের আর আধা ঘন্টা  সময় বাকী! আজ বিকেল সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো শায়লাকে ভীষণভাবে আবেগী করে তুলছে।শিহাবকে এতটা কাছে পেয়ে  কেমন যেন একটা পূর্ণতা আবার কি যেন পেয়েও হারানোর একটা শূন্যতার হাওয়া বারবার বুকে আঘাত করছে।
কেন যে খাবার খেতে এত রাত করো? শরীর খারাপ করবে তো!  শায়লার খবরদারিটা শিহাব বেশ এনজয় করে।মেয়েরা স্ত্রী হওয়ার লাইসেন্স পেলেই রাতারাতি প্রেমিকা থেকে  ম্যাজিস্ট্রেটের  মত খবরদারি শুরু করে দেয়া আর এক্সাম হলের মত তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখে।
----শিহাব শীঘ্রই খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।
কিন্তু শিহাবতো নিজেই জানেনা আজ সে কী খাবে।তাইতো কথা ঘুরিয়ে বললো, ঘুম থেকে এইতো জাগলাম।আজ রাতে আর ঘুম হবে না।খেয়ে একটা ইংলিশ মুভি দেখবো।
শায়লা তুমি মুভি দেখোনা?
নাহ! বুঝিনা বলে অতটা আগ্রহ পাইনা।
আচ্ছা, আমি তোমাকে বুঝিয়ে দিবো।দুজন একসাথে বসে মুভি দেখবো। তুমি আমার খুব কাছে থাকবে তখন।
জানো শায়লা,এখন যেন আরো খুব বেশী করে তোমার কথা মনে পড়ে।
শায়লা নীরব হয়ে আছে।একটু পরেই বলে উঠলো, আচ্ছা তুমি খেয়ে নাও। কথা পরে হবে।
তুমিও ঘুমিয়ে পড়ো।
আচ্ছা,ঠিক আছে।
যদিও শায়লা ঘুমের সম্মতি দিলো কিন্তু আদৌ আজ তার ঘুম হবে কিনা সন্দেহ!
শিহাব কল এন্ড করে মহা ভাবনায় পড়ে গেলো এখন কি খাওয়া যায়!হঠাৎই তার মাথায় চট করে একটা বুদ্ধি এলো,
 কোল্ড কফি করে নেয়া যায়।সাথে চকলেট কুকিজ। যাক, আর দেরী না। শিহাব
কফি মেকারে ঠান্ডা পানি, মিল্ক ক্রীম আর কফি ডাস্ট, সামান্য সুগার ছেড়ে দিলো।বাটন প্রেস করতেই ফোমি কফি তৈরি। এক মগ ঢেলে নিয়ে কুকিজ বক্স নিয়ে বসে পড়া।শিহাব চ্যানেল ঘুরিয়ে মুভি চ্যানেলে থামল।"মি বিফোর ইউ",মুভিটি চলছে।যদিও বহুবার দেখা এটা, তবুও বহুল দেখা ছবি প্রতিবার দেখায় আবার যেন একটা নতুন উপলব্ধি বা ফিলিংস বা আন্ডারস্ট্যান্ডিং  কাজ করে!
 শিহাব এই মুভিটাতেই আটকে গেলো।
শিহাবের এই একার জীবনে মুভি আর গান যেন টনিক হয়ে তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
মুভি শেষ হতে প্রায় রাত সাড়ে তিনটা বেজে গেলো। হু, এখন একটু ঘুমাতে হবে।চোখ যেন একটু ক্লান্ত হলো! 
ট্রুং করে করে মেসেজ এলো।শায়লার মেসেজ।মুভি শেষ হলো?
হ্যা,এইতো শেষ হলো।কেমন করে বুঝলে?
আমি তোমার  চোখের সবটা যে পড়ে নিয়েছি শিহাব।
তা আমি না হয় মুভি দেখেছি,তুমি ঘুমাওনি কেন? 
তুমিতো আমায় শুভরাত্রি বলোনি।তাই রাতটা শুভ হয়নি।ঘুম আসেনি।
এটা কোন কথা হলো।এই যে এক্ষন বললাম শুভরাত্রি শুভরাত্রি,, শিগগীর ঘুমাও।
কিন্তু শিহাব, আমার কেমন যেন ভয় করছে।
কিসের ভয়?
এই যে আমাদের মনের এত ভাবনা,এত চাওয়া, এত ইচ্ছা এগুলো সত্যি হবেতো?
কেন হবে না,কিসের ভয়? আমি আছি না? রাহাত আছে আমাদের পাশে,তুমি মনে সাহস রাখো শায়লা।এসব ভেবে শরীর খারাপ করোনা।সামনে আমাদের জন্য শুধু সুখ আর সুখ অপেক্ষা করছে।তুমি আমি এতদিনতো কম পরীক্ষা দেইনি।নিজেদের সংযত রেখেছি।আজ আমরা তার পুরষ্কার পেতে যাচ্ছি।তুমি মনে মিছে কোন ভাবনা এনোনা।
শায়লা, আমি আজ তোমার হাত ধরেছি, সারাজীবনে আর ছাড়বো না।তুমি আমার বুকে ভরসা খুঁজেছো,তা চিরকালের ভরসাস্থল হয়েই থাকবে।
শায়লা কেঁদোনা।তোমার কান্নার দিন শেষ আর আমার একলা থাকার দিনের অবসান হতে যাচ্ছে।জানোতো, শেষ আর অবসান ওরা জমজ ভাই।তাই তোমার আমার বিরহকালের  শীঘ্রই  সমাপ্তি,, বাজছে সোনালী দিনের আগমনী।
শায়লা,আজ নীল শাড়িতে তোমাকে খুব সুন্দর লাগছিল।
তোমাকেও ঘিয়া রংটিতে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না।
জানো শায়লা,কত কতবারই না আমি তোমাকে  ফিরিয়ে দিলাম,ভালবাসতে বারণ করলাম কিন্তু জানো একবারও তা মন থেকে বলিনি।বারবারই ভেবেছি, তুমি যেন আমায় একেবারে ছেড়ে না যাও,তাইতো শুধু বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে তোমাকে আটকে রাখতে চেয়েছি, শুধু একটা সম্পর্কের বাধনে হলেও তোমাকে যেন কাছে পাই সে চেষ্টায় থেকেছি।তাইতো এত নাটকীয়তার আশ্রয় নিয়েছি।শায়লা কিছু বলছো না যে? শায়লা?
আহ! ঘুমিয়ে পড়েছে।
কেমন করে একটা মেয়ে এতটা আকুল হয়ে ভালবাসতে পারে,কিছু কিছু মেয়ে স্বামীর কাছ থেকে শুধু আর্থিক ভোগ বিলাস পেতে চায় কিন্তু শিহাবের জীবনে রিশতিনা, শায়লার মত মেয়েদের আগমন ঘটেছে।রিশতিনার নিঃস্বার্থ ভালবাসায় কেন ঝড় উঠেছিল শিহাব আজো তার উত্তর খুঁজে পায়না।কিন্তু এবার আর শায়লাকে সে হারাতে চায় না। ভাগ্যের সাথে এবার তার বোঝাপড়া হবে।কিছুতেই সে হার মানবে না।যে কোন মূল্যে সে শায়লাকে ধরে রাখবে।শায়লার ও প্রান্ত নীরব।শিহাবও তাই ঘুমের প্রস্তুতি নিলো।

সকালে ঘুম থেকে জেগে,শিহাব অফিসে যাওয়ার আগে শায়লার মোবাইলে শুভ সকাল মেসেজ রাখলো।আর লিখে রাখলো, আমার প্রতি বিশ্বাস রেখো শায়লা।কোনদিন কোনভাবে আমাকে ভুল বুঝোনা।বাই।
শিহাব নাস্তা ছাড়াই বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়লো।অফিসে গিয়ে অফিস এসিস্ট্যান্ট কবির  ছেলেটাকে দিয়ে নাস্তা আনিয়ে খেয়ে নিবে। কবে শায়লা তার ঘরে আসবে আর তার কঢতের দিন ফুরাবে! শিহাব অফিসে পৌছে রুমে ঢুকতেই কবির জানালো একটা ছেলে আপনার সাথে দেখা করার জন্য সেই সকাল থেকে বসে আছে।আমি কতবার জানতে চাইলাম আপনি কে, কেন স্যারকে খুজছেন,কে পাঠিয়েছে,একটা প্রশ্নের উত্তর সে দিচ্ছেনা।শুধু বলে, আমি শিহাব স্যারের কাছে সব বলবো। এবার শিহাবের খেয়াল হলো, হ্যা,অফিস রুমে ঢুকার আগে খুবই সাধারন পোষাকের একটা ছেলেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে।শিহাবের বেশ কৌতুহল হলো।
শিহাব কবিরকে বললো, ঠিকাছে যাও,ছেলেটিকে ডেকে নিয়ে আসো।আর হ্যাঁ,কবির,তুমি কিন্তু রুমেই থাকবে। অচেনা এমন একটা লোক কেন কি উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছে, সাবধান থাকতে হবে। 
কবির ছেলেটিকে ডাকতে বাইরে বেরিয়ে গেলো। শিহাব গভীর ভাবনায় ডুবে গেলো,কি জানি কোন চাকরী বা টাকার  সাহায্যের জন্যই এসেছে কিনা। শিহাব বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলো।টেনশন কমাতে একটা সিগারেট  ধরিয়ে নিলো
কবির ছেলেটিকে নিয়ে রুমে ঢুকলো। শিহাবকে সালাম দিলো।শিহাব উত্তর দিয়ে বসতে বললো।বেশ বিনীতভাবেই জানতে চাইল, আপনিকি বলতে চাইছেন নির্বিঘ্নে বলুন।রাখার মত হলে অবশ্যই রাখবো।কবির রুমে থাকাতে ছেলেটা ইতস্তত করছে।
শিহাব ইশারায় কবিরকে বাইরে যেতে বললো।শিহাবের কৌতুহল বেড়েই চলেছে 
এবার ছেলেটি বললো, আমার নাম মিলন। আমার বাবার নাম জয়নাল দেওয়ান।আমার বাবা ঝিগাতলায় জজবাড়ির দারোয়ান ছিল।
শিহাবের এবার মনে পড়লো।এই জয়নালকেই একদিন শিহাবের মোবাইল নাম্বার নেয়ার জন্য রিশতিনা পাঠিয়েছিল! আজ তার ছেলে মিলন  কি সেই যোগসূত্রেই কোন সাহায্য চাইতে এসেছে।সাহায্য দিতে শিহাবের কোন আপত্তি নেই।কিন্তু মনে হচ্ছে ছেলেটা আরো কিছু বলতে চায়।
এবার বললো, আমাকে রিশতিনা আপু পাঠিয়েছে।আপু আপনার সাথে দেখা করতে চায়। আজ দুপুরে ধানমন্ডির একটা রেস্টুরেন্টে। মিলন একটা কাগজ এগিয়ে দিলো যেখানে রেস্টুরেন্টের নাম আর সময় লেখা। জিনজিয়ান রেস্টুরেন্টে বেলা আড়াইটায়। শিহাব ঘড়ি দেখলো। সকাল সাড়ে দশটা বাজছে।শিহাব ছেলেটিকে কী বলবে বুঝতে পারছে না।তার সামনে শুধু শায়লার অভিমানী মুখটা ভেসে উঠছে আর রিশতিনার মুখটা অস্পষ্ট লাগছে।শিহাব কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না।ছেলেটি আবার বললো, আপু অপেক্ষায় থাকবে।আপনাকে যেতেই হবে।আপনার সাথে অনেক কথা আছে। রিশতিনা দেশে কবে এলো?  কেন এলো? আর এলোই যদি তবে আরেকটা দিন আগে কেন এলো না।ল?শিহাবতো তার জন্য অনেক অপেক্ষায় ছিলো। মিলন বিদায় নিলো।শিহাব আনমনা হয়ে রইল।অতীত স্মৃতি সব  শায়লার ভাবনাকে ম্লান করে দিতে চাচ্ছে।উফ! আবার জীবন পরীক্ষা! আর কত?
হঠাৎ মোবাইল বেজে উঠলো।শিহাব চমকে উঠলো! তাকিয়ে দেখলো মায়ের কল।শিহাব স্বস্তি পেলো।সন্তানের বিপদে মায়েরা ঠিকই টের পায়।শিহাব কল রিসিভ করলো।মা কেমন আছো?
বাবা আমি আরাফ, তুমি কবে আসবে বাবা? আমার জন্য চক্কেত আনবে।
হ্যাঁ,বাবা আনবো।আরাফ তার জীবনের অনেকখানি।সেতো রিশতিনারও সন্তান।তবে কী রিশতিনা আরাফের ভাগ নিতে এসেছে? 
প্রচন্ড দুশ্চিন্তায় শিহাব  অন্যমনস্ক হয়ে রইল।আঙুলের ফাঁকে আটকে রাখা সিগারেট কাঠিটি একা একাই পুড়ছে।চলবে....

কবি দিলারা রুমা  ( ইংল্যান্ড) এর কবিতা






স্বাগতম তোমায়
দিলারা রুমা 
( ইংল্যান্ড)

বিগত বছরের কালি মুছে
উদয় হলো নতুন সূর্য
সময়ের ঘড়িটা বদলে নিলো
দিন তারিখ বয়স।
ফেলে এসেছি যা 
ঘুমিয়েছে তা।
আবার ফুটুক শতকোটি ফুল
সুগন্ধে ভরে যাক
সময়ের নীড়।
চলো, একসাথে জেগে উঠি
গাই জীবনের গান;
চলো একসাথে চলি
মিতালির বন্ধনে বলি
স্বাগতম তোমায়।
চলো ভুলে যাই 
ভুল ভ্রান্তির একটু আধটু ছায়া,
তোমাতেই আমি আমাতেই তুমি
হোক একই কায়া।
চলো বুনন করি সুন্দরের চারা 
আর গড়ে তুলি স্বপ্নের বসুন্ধরা।

০১ জানুয়ারি ২০২২

শান্তা কামালী/ ৫৫ তম পর্ব





বনফুল
( ৫৫ তম পর্ব ) 
শান্তা কামালী

সকালে উঠে নাস্তা খাওয়া শেষ করে স্ত্রী রাহেলা খাতুনের সাথে কিছুটা সময় কাটালেন অলিউর রহমান সাহেব। তারপর, ফোন হাতে নিয়ে দেখতে পেলেন অহনার বাবা মনিরুজ্জামান সাহেব অহনার একাউন্ট নাম্বার পাঠিয়েছেন।  অলিউর রহমান সাহেব স্ত্রী রাহেলা খাতুনের সাথে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করে বললেন অহনার কাবিনের টাকা আজই ওর একাউন্টে ট্রান্সফার করে দেবো ভাবছি,তুমি কি বলো?  রাহেলা খাতুন স্বামীকে বললেন খুবই ভালো কথা, কতো টাকার কাবিন দিচ্ছো?  সৈকতের বাবা বললেন আমি ভাবছি পাঁচলক্ষ টাকা অহনার একাউন্টে টাস্ফার করে দেবো। ঠিক আছে না কম হয়ে গেল?  সৈকতের মা  বললেন একদম ঠিক আছে। আর তুমি এতো সুন্দর করে সবকিছুতে ভাবতে পারছো দেখে আমি রীতিমতো অবাক হচ্ছি....! কি জানি আমার মাথায় এতো কিছু আসতো কি না? অলিউর রহমান সাহেব বললেন ঠিক আছে আমি এখন বেরোচ্ছি ব্যাংকের কাজ শেষ করে অহনার টুকটাক কিছু জিনিস কেনাকাটা করার বাকি আছে। সব শেষ করে তবে ফিরবো। ওদিকে অহনার  বাড়িতে ও তোড়জোড়  চলছে। বিয়ে বলে কথা, একমাত্র মেয়ে। কিছু না হলেও মা-বাবার মন কি শান্তি পাবে।  যাবতীয় কর্মকাণ্ড শেষ করে অনলাইনে বর সাজনো,খাট সাজানো সব অর্ডার করে দিয়েছেন অলিউর রহমান সাহেব। বাড়িতে ফিরতে চারটা বেজে গেল। টেবিলে খাবার গোছানো আছে কাজের বুয়া জিজ্ঞেস করলেন খালু খাবার গরম করবো? সৈকতের বাবা বললো হ্যাঁ করো। ওভেনে সব গরম করে পরিবেশন করে দিয়েছে বুয়া। অলিউর রহমান সাহেব খাওয়া শেষ করে স্ত্রীর রুমে গিয়ে কিছুটা সম। 



চলবে...

কবি সুচিতা সরকার এর চিঠি



 সুচিতা সরকার এর চিঠি



প্রিয় নীল, 

বুকের ভেতরে আলগোছে রাখা তোর নামের প্রেমটা মাঝে মাঝেই মাথা চাড়া দেয়। দিশেহারা হয়ে তখন বেরিয়ে পড়ি তোর খোঁজে। হলুদ খোয়াইয়ের পাড়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে তোর নাম বলি, মাঝি ভাইয়ের কাছে চিরকুটে নামটা লিখে আসি। একছুটে ছাদে গিয়ে মেঘটাকে টেনে নামাই। ধূসরের বুক চিরে ঝরে পড়া বৃষ্টির কণাগুলি পাগলের মতো হাতড়াই। 

গোলাপ আমার কোনোদিনই পছন্দের নয় তবু গোলাপ কাঁটায় হাত রাঙিয়ে, গোলাপের পাপড়িতে তোর নাম লিখে রাখি। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা এলোমেলো মেঘগুলি আমার দিকে হাত বাড়ায়। নিয়ে যেতে চায় আমায় ওদের আলোকপুরীতে। আমি যাই না। কি হবে গিয়ে বল। তুই ছাড়া আমার সব আলোই তো ওই প্রদীপের নীচের অন্ধকারের মতো। 

চাঁদের সাথে আড়ি করেছি বহুকাল হলো। রাতের কালোয় তাই জোনাকিদের হাত ধরি। জানিস্, তোর গল্প শুনতে ওরা খুব ভালোবাসে। বহুদূর পথ হেঁটে ক্লান্ত হয়ে যখন শেষরাতে বাড়ি ফিরি, উঠোনের জুঁইগুলি ফুটে ওঠে। গন্ধ ছড়ায় তোর নামের। ওরা যে খুব কাছ থেকে চেনে তোকে। ঘরের দোরে মাটির প্রদীপ জ্বালাতেই , জ্বলন্ত শিখাটা তোর দিকে আমায় ইশারা করে। চেয়ে দেখি তুই কি নিশ্চিন্তে আমার বুকের ঘরে ঘুমিয়ে আছিস। চোখ দুটো আমার ভিজে আসে। আমার সব খোঁজ শেষ হয় তোর কাছে এসেই। তোর ঘুমন্ত মুখটা দেখতে দেখতে কখন যে ভোরের আলো ফুটে ওঠে বুঝতেই পারিনা। 

আরেকটা দিন শুরু হয়, আরেকটা আরম্ভ, আরেকটা হাতছানি নিয়ে। বলাই হয়না আর তোকে ঠিক কতটা ভালোবাসি। 

ইতি-
কি আর হবে জেনে

মমতা রায় চৌধুরী /৮৩




উপন্যাস

টানাপোড়েন ৮৩
আবেগ স্নাত সকাল
মমতা রায় চৌধুরী




রেখা একটু মনের জোর পাচ্ছে মিলিকে নিয়ে। আজকে মিলি আন্টি র্্যাব ভ্যাকসিনজ কমপ্লিট হল।
আগামীকাল অনিন্দিতার বিয়ে মনে মনে ভাবছে রেখা 'যাবে কি ?যাবে না? অনিন্দিতা মুখ ফুটে কিছুই বলল না । যাওয়া উচিত কিনা? স্কুল তরফে নেমন্তন্ন হয়েছে। তবুও এতটা ক্লোজ ছিল ..।
নাকি ব্যস্ত থাকার জন্য করতে পারে নি। কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না ।নাকি মনোজের করোনা হওয়ার জন্য করে নি। এতগুলো প্রশ্ন ভিড় করছে।
রিম্পাদিকে একটা ফোন করবে? 'রিম্পাদিকে একটা ফোন করেই ফেলি। রিম্পাদিকে ডায়াল করলো নম্বর।  রিং হল। রিংটোন বেজে উঠল'তুমি নির্মল কর, মঙ্গল করে,মলিন মর্ম মুছায়ে..।'
রিং হয়ে কেটে গেল। রেখা মনে মনে ভাবল' কিন্তু গানটা এত সুন্দর সকাল বেলায় মনটা ভাল হয়ে গেল। আবার 'ডায়াল করল'তুমি নির্মল কর, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে..'।
রিম্পাদি ফোন ধরে বলল ' হ্যালো'।
রেখা বলল'হাঁপাচ্ছ কেন?'
রিম্পাদি বলল ' আর বলিস না ফোনটার রিং শুনতে পেলাম ।মেয়েটাকে বললাম ফোনটা ধরতে তার তো নড়তে-চড়তে ১৮মাসে বছর । ফোন কেটে গেল।'
রেখা বলল 'ওই জন্য তুমি ছুটছিলে নাকি?'
রিম্পাদি বলল 'তাছাড়া আবার কি?'
রেখা বলল' কালকে যাচ্ছ অনিন্দিতার বিয়েতে?'
রিম্পাদি বলল  'হ্যাঁ তুইও তো যাচ্ছিস।'
রেখা বলল 'ডিসিশন নিতে পারছি না গো।'
রিম্পাদি বলল 'কেন মনোজের শরীরটা কি আবার খারাপ করেছে ?নাকি বাচ্চাগুলো বা মিলির জন্য যেতে চাইছিস না?'
রেখা বলল 'না ,ও ঠিক আছে। তবে বাচ্চাগুলো আর মিলির জন্য তো একটু অসুবিধা আছেই । তাছাড়া আর একটা অন্য কারণও আছে।'
রিম্পাদি বলল'কি বলো তো?'
রেখা বলল 'অনিন্দিতা একবারও বললো না।'
রিম্পাদি বলল 'ও তুই সেই ধরে বসে আছিস। সবাইকে কি ও বলেছে, বল তো?
 রেখা বলল 'সেটাই তো ভাবছি?'
ওদিক থেকে টুস্কাই এর গলা শোনা গেল মা ,মা.আ.আ...
রেখা বলল' দেখো সবার অবস্থা তো এক নয়। আমি তো ভয় পাচ্ছি....।
রিম্পাদি বলল' ও বুঝেছি সেই এক কথা।'
রেখা বলল 'সেই জন্য তো ডিসিশান নিতে পারছি না।'
আবার টুস্কাই এর গলা শোনা গেল মা মা.আ.আ.
রিম্পাদি একটি বিরক্তির স্বরে বলল' ওই দেখ কেমন ডাকছে দেখ। কি হলো?'
টুস্কাই  বলল 'বাপি ডাকছে ।'
রিম্পাদি বলল' কেন?'
রেখা বললো 'ঠিক আছে। তুমি যাও। দেখো দাদা কিছু চাইছে বোধহয়?'
রিম্পাদি বলল 'শোন  আমি বলছি তোকে কিন্তু যেতেই হবে কাল ।তোর সাথে এই স্কুলে থাকাকালীন আমার এই লাস্ট বিয়েতে যাওয়া।ok'
রেখা বলল 'ঠিক আছে দেখছি।'
রিম্পাদি বলল' ঠিক আছে ।টা টা কালকে দেখা হবে।'
ফোনটা ছেড়ে রেখা ভাবছে কালকে গিয়ে দেখি কি হয়।
রেখা ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলার পর এবার মনোজের ঘরের দিকে গেল ।গিয়ে দেখে মনোজ তখনও শুয়ে আছে। রেখা গোলাপি সার্টিনের পর্দাটা সরিয়ে দিয়ে জানালাটা খুলে দিল। সূর্যের আলো এসে পড়ল ঠিক বিছানার উপর। রেখা খাটের পাশে বসে মনোজের মাথায় ,কপালে হাত বুলাতে বুলাতে ভাবছে  'শরীর খারাপ করেছে ?তা  দেখার জন্য  কপালটা থেকে তাপ নেবার চেষ্টা করল।দেখল না ঠিকই আছে। তারপর মনোজকে আস্তে আস্তে ডাকলো  'কি হলো, উঠবে না?'
মনোজ এক ঝটকায় রেখাকে বুকের কাছে এনে বলল 'না উঠবো না।'
রেখা বলল' একি করছো?'
মনোজ বলল' কি আবার করলাম। নিজের বৌটাকে একটু আদর করছি।'
রেখা বলল 'এই জন্য তুমি ঘাপটি মেরে শুয়ে ছিলে না ?'জানতে এখন আমি তোমার ঘরে ঢুকবো?
মনোজ বলল' হ্যাঁ বাবু সেই জন্যেই।'
রেখা বলল' ঠিক আছে। এবার তো ওঠো। কফি, না চা খাবে?'
মনোজ বলল' চা খাব।'
রেখা বললো 'ঠিকআছে ।উঠে পড়ো ।আমি চা নিয়ে আসছি।'
রেখা চা করতে যাচ্ছে ‌মনোজের বাহুবন্ধন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে ।মনোজ আবার রেখাকে হাত ধরে নিজের বুকের কাছে আনলো। রেখা মনোজের দিকে তাকিয়ে বলল ' কি? কি হলো?'
মনোজ শুধু হেসে বলল 'কিছু না তোমাকে দেখছি।'
রেখা বলল 'বাহ রে  আমাকে দেখ নি?'
মনোজ  বলল 'শীতের  শিশিরস্নাত সকালবেলায় তোমার এই মিষ্টি মুখটা দেখার অপেক্ষায় ছিলাম ,থাকবো ।'
মনোজ রেখার চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বলল' 
'চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য..
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।'
রেখা বলল'
'সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে ডানার; রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পান্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল
সব পাখি ঘরে আসে-সব নদী-ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।'
মনোজ উঠে বসে রেখাকে জড়িয়ে ধরে বলে -'সেই তুমি আমার বনলতা সেন।'
রেখা বলল 'নাও কাব্য ছাড়ো। ভালোই এখন কাব্য করতে শিখে গেছ ,হ্যাঁ।'
মনোজ বললো 'দেখো এই আমাদের যান্ত্রিক জীবনে এই টুকুই তো প্রশান্তির কথা বলো?এই যে দেনাপাওনা লেনদেন সবশেষে একমাত্র প্রেম ই বাঁচিয়ে রাখতে পারে। আমাদের নতুন জীবনবোধ তৈরি করতে পারে।'
মনোজ  বলল' আর একটা কবিতা বলো না রেখা, শুনি। তোমার কন্ঠে ওই কবিতাটি শুনতে খুব ভাল লাগে।
রেখা বললো 'কোনটা?'
মনোজ বলল 'ভুলে গেলে কতবার শুনিয়েছ আমাকে ওই কবিতাটা কবি জীবনানন্দ দাশের..
রেখা বলল 'অন্ধকার' কবিতা।
মনোজ বলল 'এগজ্যাক্টলি।'
রেখা বলল'
 ধানসিড়ি নদীর কিনারে আমি শুয়েছিলাম -পউষের রাতে -
কোনদিন জাগবো না আমি-কোনদিন জাগবো না আর-
মনোজ বলল ,'কী অপূর্ব কন্ঠ তোমার? কি সুন্দর বললে।'
রেখা বলল 'তুমি সবসময় এই কবিতাগুলো কেন শুনতে চাও।'
মনোজ বলল কবি জীবনানন্দ দাশ রাত্রির অন্ধকারের মধ্যে আশ্রয় চাইতেন ।ভোরের আলোর অস্তিত্বের প্রতি তার কোন টান ছিল না।
রেখা বলল ' সংঘর্ষ ভরা এই পৃথিবীতে সংকট মুক্তির পথ হিসেবে তিনি পরাবাস্তবতার জগতকে বেছে নিতে চেয়েছিলেন।
মনোজ বলল 'জানো আমারও মাঝে মাঝে এই কথাই মনে হয়।'
রেখা বলল 'ছাড়ো কাব্য । আমি এবার চা টা ঝটপট নিয়ে আসছি।চা খেয়ে ,উঠে পড়ো।'
রেখা রান্নাঘরের দিকে গেল ঠিক সেই মুহূর্তে ফোন বাজতে শুরু করলো'কাটছে দিন ,সৃষ্টিহীন, বৃষ্টি আসে না। গান হারা ভাবনারা স্বপ্নে ভাসে না...।'
রেখা বলল 'কার ফোন বাজছে গো?'
মনোজ বলল 'আমার ফোন।'
রেখা জিজ্ঞাসু কন্ঠে বলল 'বাব্বা কি ব্যাপার, 
আজকাল এরকম  রিংটোন লাগাচ্ছ?'
মানুষ শুধু বলে ইচ্ছে হয় ভাবনা গুলো ভাসিয়ে দিও এই ভেলায়। তারপর হাসতে হাসতেমনোজ ফোনটা রিসিভ করে বলল 'হ্যালো'।
পার্থ ফোন ধরে বলল' আমি পার্থ বলছি।'
মনোজ বলল 'বল'।
পার্থ বলল' বৌদিকে একটু মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিও তো?'
মনোজ বলল কখন?
পার্থ বলল 'বৌদির সময় করে আসতে ব'লো।
মনোজ বলল 'ঠিক আছে।',।
এর মধ্যে রেখা চা নিয়ে এসে বলল' কার ফোন গো?'
মনোজ বললো' পার্থর ফোন ।তোমাকে একবার যেতে বলল ওদের বাড়িতে।'
রেখা বলল 'কেন?'
মনোজ বলল'' সেটা আমাকে বলেছে থোড়ি।'
রেখা বলল' কখন যেতে বলেছে?'
মনোজ বলল' তোমার সময় মতো'।
রেখা হাসতে লাগলো হো হো হো করে।
মনোজ বলল 'হাসলে কেন?'
রেখা বলল 'পরে বলব।'
মনোজ বলল 'ওই দেখো তোমার ছানাপোনা চেঁচাচ্ছে।'
রেখা বলল 'লিলির গলাটা শুধু শোনো। এখন ওর কাছে না যাবে ততক্ষণ চেঁচিয়ে যাবে।
'মনোজ বলল 'তাহলে তো আর তোমার কবিতা শোনা হলো না?'
রেখা বললো যাবার আগে তাহলে কবির ভাষায় বলি-
'একদা এমনই বাদলশেষের রাতে-
মনে হয় যেন শত জনমের আগে-
সে এসে সহসা হাত রেখেছিল হাতে,
চেয়েছিল মুখে সহজিয়া অনুরাগে'।(সুধীন্দ্রনাথ দত্তের শাশ্বতী)।
মনোজ বলল' দারুন দারুন।'
মনোজ আরো বললো জানো তো রেখা আমি আজীবন প্রতীক্ষা করব শুধু তোমার জন্যই ।যতই প্রতিবন্ধকতা আসুক তবু তোমার আসার পথ চেয়ে প্রলয়ের পথ অকাতরে ছেড়ে দিতে পারব।'

রেখা বলল শাশ্বতী কবিতাটি তো এক গভীর ভালোবাসার কবিতা।
মনোজ বলল বৃষ্টিস্নাত এক রাতে যদি এইরকম কবিতা আর তোমার নিবিড় সান্নিধ্য থাকে তাহলে সব কিছুকেই আমি জয় করতে পারি।


'

সাফিয়া খন্দকার রেখা'র গল্প




কাঁচের চুড়ি ও নতুন বছর 

সাফিয়া খন্দকার রেখা 

আচ্ছা তোমার এই নাম  কে রেখেছে মোনা! তুমি কিন্তু একেবারেই মোনালিসার মতো দেখতে নও। কথাগুলো বলেই মোনার মুখের দিকে তাকায় গালিব। মোনার হাসি থামতে চায়না গালিবের এই কথায়। 
গালিব কপাল কুঁচকে ভাবে কি অদ্ভুত মেয়ে রাগ হওয়ার কথা বললেও হাসে!

আচ্ছা গালিব সাহেব আপনি কি সেই বিখ্যাত কবি মীর্জা গালিবের মতো লিখতে পারেন?  একটি লাইনও তো লিখতে পারেন না জনাব, তবে কেন আপনি গালিব নাম ধারণ করে আছেন হুম?

আসলে কি হয়েছে মোনা, আমার মা খুব কবিতা প্রেমিক ছিলেন তিনি চেয়েছিলেন আমার নাম জালালুদ্দিন রুমি রাখতে কিন্তু বাবার পছন্দ হয়নি তিনি বললেন গালিব রাখা যেতে পারে... হাহাহা এই হলো আমার নামের ইতিহাস। 

মোনা তাকিয়ে আছে গালিবের মুখের দিকে, গালিব হাসলে ওর বাম গালে টোল পড়ে, ছেলেদের গালে টোল খুব কম ই দেখেছে মোনালিসা। আমার নামের এমনই এক ইতিহাস রয়েছে বুঝলে!
বুঝলাম তবে তুমি মোনালিসার চেয়ে বেশি সুন্দর, তুমি যখন কথা বলো আমার কি মনে হয় জানো?
না জানিনাতো 
মনে হয় রিমঝিম করে বৃষ্টি এলো আবার কখনও মনে হয় দুহাত ভর্তি কাঁচের চুড়ি কেউ বাজাচ্ছে আমার কানের কাছে। 
কি যে বলোনা তুমি.. মোনালিসা সেই প্রথম দিনের মতো লজ্জায় রংধনুর মতো হয়ে গালিবের স্পর্শ খোঁজে।  কেউ নেই পাশে বেলকনিতে মোনালিসা একা দাঁড়িয়ে আছে
আকাশে আতসবাজির আলো চারিদিকে শব্দ উল্লাস. …দশ বছর আগের কথাগুলো এখনও কেমন আগলে রেখেছে মোনালিসাকে। মানুষ না থাকা সময়ে আরও অধিক রয়ে যায় কাছে।  
এইতো গত বছর ডিসেম্বরে হালকা জ্বর নিয়ে অফিস থেকে ফিরে সেই যে বিছানায় গেলো তিন দিন পর আই সি ইউ আর ফেরা হয়নি ঘরে গালিবের। সাত বছরের রুপন্তী অবিকল গালিবের মতো দেখতে, মেয়েটার গালে টোল পড়ে। 

আমি জানি আজ বাবা আকাশ থেকে আমাদের দেখছে এইজন্যই তুমি বাবার প্রিয় কাঁচের চুড়ি পড়েছো তাইনা মোনা আম্মু?
মোনা রুপন্তীকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে বুকে টেনে নেয়, কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে কেন তুই আমাকে শুধু আম্মু ডাকিস না? 
রুপন্তীর চোখ থেকে টপটপ জল মোনালিসার ঘাড়ের ওপর পড়ছে...
আকাশে আতসবাজি ফুটছে শব্দ উল্লাস...মোনালিসা অনুভব করে একটি ছায়ার ক্রমশ বিস্তার।

শামীমা আহমেদ /পর্ব ৪৬




শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৪৬)
শামীমা আহমেদ 

সন্ধ্যা লগন পেরিয়ে রাতের আঁধারে ডুবেছে প্রিয় শহর।যদিও পথের দু'ধারের নিয়ন বাতি আর যানবাহনের আলো রাতের আঁধারকে গ্রাস করে নেয়। মুহুর্মুহু হর্ণের শব্দে রাত্রির নিস্তব্ধতা ভেঙে কোলাহলপূর্ণ পথঘাট সরব হয়ে উঠে।ওদের পূর্বাচল থেকে বেরুতে একটু দেরি হয়ে গেলো।শিহাব দ্রুতই ছুটছে।তবুও যেন পথ ফুরাচ্ছে না। শায়লাকে নামাতে হবে।বাসার লোকজন ফিরে এলে শায়লা সমস্যায় পড়বে।তার দেরির জন্যই এই অবস্থাটা হলো।এর মধ্যে আবার
বাইকে তেলও ফুরিয়ে এসেছে।তেলের কাটা নেমে এসেছে। তাই নিকুঞ্জ পেট্রোল পাম্পে একটু থামতে হলো।ছুটির দিন। মানুষ  যে যেভাবে পেরেছে ঘর থেকে বেরিয়েছে।পেট্রোল পাম্প আর সিএনজি গ্যাস পাম্পগুলোতে বেশ ভীড়। দীর্ঘ লাইন। যদিও বাইকের তেল ভরতে খুব একটা সময় লাগে না। শায়লা বাইক থেকে নেমে দাঁড়ালো।শিহাবের সংস্পর্শে সময়টা ভালো কাটলেও বাড়ি ফেরার উৎকন্ঠায় শায়লা বারবার চুপসে যাচ্ছে।এতক্ষনে মা ফিরে এলে তাকে কী বলবে? শিহাব এক নজর শায়লাকে দেখে নিলো।গ্যাস স্টেশনের ফ্লাড লাইটে শায়লা যেন উজ্জ্বলতায় ফুটে আছে! শায়লার চোখে চোখ পড়তেই শিহাব হেসে ফেললো। শায়লা লাজুকতায় চোখ নামালো। তেলের বিল মিটিয়ে আবার দুজনের ছুটে চলা। খুব দ্রুতই শায়লায় বাসার কাছাকাছি চলে এলো।শায়লা চাইছিল  শিহাব তাকে বাসার ধারে কাছে কোথাও নামিয়ে দিক।কিন্তু রাত হয়ে গেছে শায়লাকে পথে নামানো ঠিক হবে না।শিহাব শায়লাদের বাসার গেটে এসে বাইক থামালো।শায়লা নামতেই শিহাব পিছন ঘুরে বিদায় জানালো।হেলমেটে ঢাকা মুখখানি আর দেখা হলো না। আজ শিহাবকে খুবই সুন্দর লেগেছে।শায়লা এক ঝলক আজকের শিহাবকে ভেবে নিলো। পিছন ঘুরে বাড়ির গেটে ঢুকতেই একটা রিকশা এসে থামল।
রিকশায় নিচতলার রুহী খালা।বেশ অনেককিছু কেনাকাটা করে রিকশা ভরপুর।শায়লাকে বাইক থেকে নামতে দেখে সে যেন বিস্ময়ে ফেটে পড়লো!শায়লার সাজগোজ দেখেও এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে। শায়লা না দেখার ভঙ্গীতে গেটের ভিতর ঢুকল।রুহী খালা যেন রিকশা থেকে নামতেই ভুলে গেছে।শায়লা খুব দ্রুত দোতালায় উঠে এলো।বাসায় ঢুকেতো আবার মাকে ফেস করতে হবে। রুহী খালাতো যা দেখার দেখেই নিলো।মাকে তো অস্থির করে তুলবে। আর এ খবর কানাডায় পৌছুতেও সময় লাগবে না।এখন রাহাতই ভরসা এই বিপদ থেকে বাঁচানোর। শায়লা সিড়ি ভেঙে দোতালায় উঠে এলো। কলিং বেল দিয়ে শায়লা অপেক্ষায় রইল।নাহ,কেউ খুলছে না,ভিতরে আলোও দেখা যাচ্ছে না।তাহলে রাহাত মা এখনো ফিরেনি! যাক বাঁচা গেলো।শায়লা  চাবি দিয়ে দরজা খুলে ঘরে ঢুকল। ঘরের সব বাতি জ্বালিয়ে রাহাতকে কল দিলো।রাহাত কল ধরতেই শায়লা জানালো, তোমরা কোথায়? আমি এই এলাম।
রাহাত ঘড়ি দেখলো রাত আটটা বাজছে।
তোমরা কখন ফিরবে? 
আমরা রাতের খাবার খেয়ে ফিরবো। ওরা কিছুতেই ছাড়ছে না।মোর্শেদ খুব করে বলছে,তাই ডিনার সেরেই ফিরবো।ঠিক আছে বলে শায়লা কল কেটে দিলো।
প্রচন্ড ক্লান্তি আর সাথে কেমন যেন একটা ভালো লাগা! এখনো শিহাবের স্পর্শ এর অনুভব শরীরে লেগে আছে।শায়লা শিহরিত হলো।নিজের রুমে ঢুকে মোবাইলে বেশ কয়েকটা সেল্ফি তুলে নিলো।শাড়িটির রঙ আজ চমৎকার লেগেছে! শায়লা হাতের ব্রেসলেটটা কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে  দেখলো।হাতটা ঠোঁটের কাছে নিয়ে  শিহাবকে ভেবে ছোট্ট করে চুমু খেলো। আবেশে চোখ বুজে এলো! যেন শিহাব তাকে ছুঁয়ে আছে। শায়লা ব্রেসলেটটি খুলে আলমারীতে যত্ন করে তুলে রাখলো। নিজেকে ফ্রেশ করায় ব্যস্ত হলো।
শিহাব আর কোথাও বাইক না থামিয়ে সরাসরি বাসায়  ফিরলো। ঘরে ঢুকে কাপড় না ছেড়ে একেবারে বিছানায় সটান হয়ে শুয়ে পড়লো। বাইক চালানো ভীষণ রক হেক্টিকের কাজ! উফ! আর পিছবে যদি মহিলা থাকে তবেতো সতর্কতা আরো বেশী!
শিহাব ভাবলো,শায়লাকে একটা কল দেয়া দরকার।বাসায় কী অবস্থা হলো। মা কিভাবে ব্যাপারটা  নিলো।শিহাব কল দিলো।শায়লা খুব করে জানত শিহাব কল করবে। সে চট করে কলটি ধরলো।শিহাব জানতে চাইল, বাসার কী অবস্থা?
অবস্থা ভাল।মা আর রাহাত ফিরেনি। ওরা রাতের  খাবার না খাইয়ে ছাড়বে না। 
আমি নিজেই ঘরে ঢুকলাম।
শিহাবের যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়লো! ভীষণ  টেনশনে হচ্ছিল।যাক, নিশ্চিন্ত হওয়া গেলো।
কী করছো শায়লা?
এইতো ফ্রেশ হবো।তুমি? 
আমি বিছানায় ক্লান্তি দূর করছি।শায়লা আজ আমার নিজেকে অন্যরকম লাগছে। 
হু,  আমারও।বিশ্বাস  হচ্ছে অচেনা একটা মানুষ  কেমন করে এতটা আপন হয়ে গেলো! ঠিক আছে। রেস্ট নিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিও।
শায়লা আমি কিন্তু বেশিদিন অপেক্ষা করবো না।দ্রুতই তারিখ ঠিক করবো তোমাকে আমার ঘরে নিয়ে আসার। আমার এখন আগের চেয়ে বেশী একা লাগে। তুমি মনে নেশা ধরিয়ে দিয়েছো।
দুজনেই কেমন যেন স্বপ্নঘোরে বসবাস করছে। কাছে যাওয়ার অপেক্ষা দীর্ঘ  মনে হচ্ছে।
আচ্ছা আমি কবে ঝিগাতলায় যাবো?
এইতো শুক্রবারেই তোমাকে নিয়ে যাবো।এর মাঝে আমি মা আর ভাবীকে তোমার কথা জানাবো।ওরা যেন আরাফকে আগে থেকেই বুঝিয়ে রাখে তোমার মা আসবে।আরাফ এখনো তার নিজের মাকে দেখেনি।কোন ছবিও দেখাইনি আমরা।মনে কোন কষ্টের ছাপ পড়তে দেইনি।তোমাকেই প্রথম মা বলে জানবে।এতদিন ও দাদী আর চাচীর নাঝেই মায়ের স্পর্শ পেয়েছে। আমার সাত রাজার ধন  আরাফকে  কখনো পর করো না।
শায়লা নিজের সাথে নিযে বোঝাপড়া করে নিলো। সে ভেতরে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হলো আরাফকে সে নিজের সন্তানের মতই দেখবে।
তুমি ভেবোনা।আরাফকে আমি মায়ের ভালবাসা শাসনে বড় করে তুলবো।
দরজায় কলিংবেল! শায়লা শিহাবের কাছ থেকে বিদায় নিলো।ডোর ভিউয়ার দিয়ে দেখল দরজায় রাহাত আর মা দাঁড়িয়ে।
শায়লা দরজা খুলতেই রাহাত বলে উঠলো, আর বলিস না, ওরা না খাইয়ে ছাড়বে না।
আবার গাড়ি দিয়ে নামিয়ে দিয়ে গেলো।সাথে দেখো আপু তোমার জন্য কত খাবার পাঠিয়েছে।
শায়লা দেখলো রীতিমত এক টেবিল বোঝাই খাবার! মা নিজের রুমে ঢুকে যেতেই রাহাত শায়লার খুব কাছে এসে ফিসফিস  করে বললো, কী আপু কেমন বেড়ালে? মুভি দেখলে না শুধু ঘুরাঘুরি করলে?
শায়লা বেশ লজ্জিত ভঙ্গিতে বললো,না না কোন মুভি দেখিনি।এমনিতেই গল্প করেছি।
ঠিক আছে না বললে।আমি কালই জেনে নিতে পারবো শিহাব ভাইয়াকে কল করে।ভাইবোন অনাবিল এক আনন্দে পুলকিত হলো।এক অজানা সুন্দর আগামীর হাতছানিতে ভাইবোনের চোখে স্বপ্নের জাল বোনা।


চলবে....

যমুনা অধিকারী 




কুয়াশার চাদরে 
যমুনা অধিকারী 

কুয়াশার চাদরে আলতোভাবে মনে প্রেমকে জড়ালাম,
যে প্রেম প্রতিটি নিশ্বাসে অক্সিজেন যুগিয়ে আমায় বাঁচায়,
যার অপরুপ রুপের ঝলকে আমি মোহিত হই বারংবার,
নিন্দার কালো পাথরের ঠোঁকরে আমি বিচলিত হই না কখনোই,
কোন কঠোরতা আর ভাবায় না মোটেও আমায়,
শুধুই প্রেম প্রেম খেলায় কাটে সূর্য উদয়ন থেকে অস্তমিত বেলা অবধি,
ভাবনার মহাসমুদ্রে বিহ্বল হৃদয়ের কানায় কানায় পরিপূর্ণ এই প্রেম,
কখনো আর রাগে গদ্গদ হয় না অভিমান জমে না বুকে,
এই মোহিত প্রেমের অবিরত বালিপুঞ্জে অক্ষত প্রেমের আল্পনা আঁকি,
যেথায় চোরাবালির নেই ভয় নেই হারানোর কোন যন্ত্রণা,
শুধু মনে বাজে কুহুধ্বনি পেখম মেলে স্বাধীনচেতা হৃদয়,
কুয়াশা বেয়ে অমর প্রেমের তকমা আঁটি নীল নীল দিগন্ত ছুঁতে,
থরে থরে প্রাণে বিজলি জ্বলে সাড়া জাগায় দূর-নীলিমায়,
আজ প্রাণের আঁকুতি নির্লজ্জ শিশিরের গাঁ চুমে পড়ে,
নেই কোন কম্পন শুধু চেয়ে রয় কুয়াশার পৌষালি রাত্রির আবদারে,
পথিকের তৃষিত বুকের চাহিদা মিঠায় খেঁজুরের টপটপ মধুকর রসে,
আকুলিবিকুলি হৃদয়ে দাগ কেটে যায় মেঘহীন নীলাকাশ,
যেথায় পৌষের প্রেমালু কুয়াশায় নিরবে ঝরে পড়ে প্রেমের অধরা কাব্য।

কবি মাসুদ করিম এর কবিতা




যেতে হবে শুন্য হাতে
মাসুদ করিম
    

পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি 
শৈশব আমার গেছে চলে
কিশোর কালে তাকিয়ে দেখি
রঙ্গিন দেখায় চারিদিকে
ছাত্র জীবন মধুর জীবন কত 
ফুল যে ছোখে লাগে
পড়া-লিখা শেষ করে আজ 
ঘুরতে যে হয় কর্মের তালে
যৌবন এলো সংসার হলো 
খাটুনি খাটার হালে
কাঁধে নিয়ে সংসার বোঝা বুঝা 
যে যায় কেমনে চলে
দেখতে দেখতে যৌবন গেলো 
জীবন চলে বেহাল তালে
ধিরে ধিরে মাথার চুলে, গোপেতে 
হায় পাকন ধরে
জীবনটা যে কেমনে গেলো 
দেখছি এবার হিসাব করে
ডাইরীর পাতা উল্টে দেখি 
পাতা হলো শেষের দিকে
শিশু, কিশোর, যৌবন গেলো
ভেবে দেখি যেতে হবে শুন্য হাতে।

মোঃ নাহিদ হাসান মজুমদার এর প্রবন্ধ




যে সব গুনাবলী মানুষকে সফল হতে সাহায্য করে। (  Qualities that make a person successful.) 
( ছোট প্রবন্ধ ) 
মোঃ নাহিদ হাসান মজুমদার 



আকাঙ্ক্ষা "→ → ( Desire )     তার মানে এ নয় যে অতীতকে ভুলে যাবো ? অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহন করে, বর্তমানে বাস্তবতা মেনে নিয়ে, ভবিষ্যৎকে সফলতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষে অভিষ্ট অগ্রসর হওয়া। সাফল্যের চালিকাশক্তি আসে সিদ্ধিলাভের জ্বলন্ত আকাঙ্ক্ষা থেকে। নেপোলিয়ন হিল লিখেছেন, মানুষের মন যাহা কল্পনা করে এবং বিশ্বাস করে, মানুষ তাহা পেতেও পারে। " এক তরুন সিক্রেটসকে জিজ্ঞাসা করেছিল, সাফল্য লাভের রহস্য কি? সক্রেটিস তাকে পরের দিন নদীর ধারে দেখা করতে বললেন। দেখা হবার পর দুজনে পানির দিকে এগুতে থাকলেন এবং এক গলা পানিতে গিয়ে দাঁড়ালেন। হঠাৎ কিছু না বলে সক্রেটিস ছেলেটির ঘাড় ধরে পানির মধ্যে ডুবিয়ে দিলেন। ছেলেটি পানির উপরে যতই উঠার চেষ্টা করে সক্রেটিস ততই তাকে শক্তহাতে পানির নিচে ডুবিয়ে রাখলেন। বাতাসের অভাবে নীল হয়ে গেল ছেলেটির মূখ। সক্রেটিস তখন তার মাথাটি পানির উপরে তুললেন। ছেলেটি অনেক কষ্টে বুকভরে নিশ্বাস নিচ্ছিল। সক্রেটিস তাকে জিজ্ঞাস করলেন, " যতক্ষন পানির নিচে ছিলে ততক্ষণ তুমি সবচেয়ে আকুলভাবে কি চেয়েছিলে ? "উওরে সে বলল ' বাতাস '। সক্রেটিস বললেন এটাই সাফল্যের রহস্য। তুমি যেভাবে বাতাস চেয়েছিলে সেভাবে যখন সাফল্য চাইবে তখন তুমি সাফল্য পাবে। সাফল্যের কোন যাদুবিদ্যা বা অন্যকোন রহস্য নেই। কোন কাজ সুসম্পন্ন করতে হলে শুরু করতে হয় একটি জ্বলন্ত আকাঙ্ক্ষা দিয়ে। সামান্য আগুন যেমন অনেক উওাপ দিতে পারে না। তেমনি রুগ্ন ইচ্ছাশক্তি কোন মহৎ উদ্দেশ্য সাধন হয় না। প্রিয় বন্দুগন বরাবরের মত শব্দ ও বাক্যচয়নে ভুল আছে জেনেই ক্ষমা সুন্দর কামনা করছি।

৩১ ডিসেম্বর ২০২১

কবি এরশাদ এর কবিতা




একটি কবিতার আত্মহুতি


তোমার ভালোবাসার চাতক পাখি কি ঘরে ফিরেছে?
অভূতপূর্ব কোন মায়াজাল থেকে
নিজের অস্তিত্বটুকু বিলীন হয়েছে কবে আমার! 
সেই কবে আমি তোমার পথ থেকে
নিজের পথের বাঁক নিয়েছি।

তুমি কি দেখো
আমার চোখ এখন নির্ঘুম থাকে সারাক্ষন
আমি এখন আজন্ম ক্রিতদাস আমার অমানিশার কোঠরে।
মুষ্টিমেয় ভালোবাসার চৌকাঠ পেরিয়ে
আমার উঠোনে এখন
নির্বাসিত পায়রার চাষ।

তুমি এখনও উড়ন্ত বলাকা হে প্রিয় আমার?
আমি তোমাকে অবাধে দিয়েছিলাম আমার আকাশ
এখন আমার নির্মল মেঘ ফুঁড়ে
শূন্য ক্যানভাস শুধু
আমার রংতুলিতে
ধূসর পালক আর মৃত করোটির বিকট হাসি।

শান্তা কামালী/৫৪ পর্ব 




বনফুল
(৫৪ পর্ব ) 
শান্তা কামালী

অলিউর রহমান বাসায় পৌঁছে লাঞ্চ করে, অনেকটা সময় চিন্তা ভাবনা করছেন কি ভাবে কি করা যায়। বিয়ে বলে কথা.... 
মাঝখানে মাত্র দুটো দিন, হঠাৎ করে মাথায় এলো কাবিনের বিষয়টা! সাথে সাথে অলিউর রহমান সাহেব মনিরুজ্জামান সাহেবকে ফোন করে অহনার একাউন্ট নাম্বার দিতে বলেছেন। মনিরুজ্জামান সাহেব বললেন ঠিক আছে কাল সকালে আমি মেসেজ করে অহনার একাউন্ট নাম্বার দিয়ে দেবো। তারপর অলিউর রহমান সাহেব স্ত্রীর রুমে ঢুকে অহনার জন্য করা বাজার গুলো একটা একটা করে দেখালেন , উনি বুঝতে পারছেন আজ রাহেলা খাতুন সুস্থ থাকলে কতো আনন্দ উল্লাস হতো এই বিয়েতে। 
রাগেলা খাতুন সব বাজার-সদায় দেখে খুব খুশি হলেন, স্বামীকে বললেন আমি ও তোমার মতো এতো সুন্দর জিনিস-পত্র কেনাকাটা করতে পারতাম কি না জানিনা। অলিউর রহমান স্ত্রীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন...।
 রাতে খাওয়ার সময় হয়ে গেল, সৈকত মায়ের খাবার নিয়ে আসতেই সৈকতের বাবা বললেন আজ আমি খাওয়াবো তোমার মাকে। 
ডিনার শেষে ঔষধ খাইয়ে শুইয়ে দিলেন অলিউর রহমান সাহেব...। 
ছেলেকে নিয়ে নিজেও ডিনার শেষ করে আপন মনে কিছুটা সময় পায়চারি করছেন দেখে সৈকত বললেন আব্বু তুমি কি কোনো রকম ডিপ্রেশনে আছো? 
সৈকতের বাবা বললেন তুমি বসো বাবা, তোমার সাথে কথা আছে। সৈকত বসলো, ছেলের কাছাকাছি বাবাও বসেছেন,আস্তে আস্তে  অলিউর রহমান সাহেব সৈকতকে উদ্দেশ্য করে বললো বাবা এ-সব কথা আমার  বলার কথা নয়,কিন্তু  আমাদের সিচুয়েশন বাধ্য করেছে...., তুমি শুনেছো কি না আমি জানিনা।তবুও বলছি শোনো, আগামী বৃহস্পতিবারে তোমার বিয়ে ঠিক করেছি অহনার সাথে... তোমার কোনো রকম আপত্তি নেই তো?  
সৈকত বললো, বাবা  তুমি যা ভালো মনে করবে সেইটা আবার ই করবে, আমার কোনো আপত্তি নেই। এই বলে সৈকত নিজের রুমে চলে গেল।
অলিউর রহমান ও নিজেদের রুমে শুতে গেলেন। 

ওদিকে অহনা জুঁইকে ফোন করে ডিটেইলস বললো, সব শুনে জুঁই বললো অহনা ভালোই হলো অন্তত খালাম্মা তোর হাতের যত্ন-আত্তি পাবে। অহনা বললো জুঁই তুই কি বুধবারে আসবি? জুঁই বললো হুমম দেখেছি.... গুডনাইট বলে জুঁই ফোন কেটে দিয়ে জুঁই পলাশকে ফোন করলো, পলাশ বললো জুঁই আজ যে তুমি আমার ফোনের অপেক্ষা না করেই ফোন করলে? আজ তোমাকে একটা খবর দেওয়ার আছে, কি হয়েছে জুঁই? তোমার শরীর ঠিক আছে তো? আমি একদম ফিট্, অহনা সৈকতের বিয়ে আগামী বৃহস্পতিবারে,আন্টির অবস্থা ভালো না তাই তাড়াহুড়ো করে বিয়ে দিচ্ছেন। পলাশ বললো জুঁই আমার দুর্ভাগ্য দুই মাস পরে হলেই আমি থাকতে পারতাম,জুঁই বললো পলাশ তুমি দুঃখ করো না।
তুমি ফিরে এলে আমরা একসাথে পার্টি দেবো,তখন অনেক অনেক আনন্দ করতে পারবো। তারপরই জুঁই গভীর আবেগে আবদার করে বলে, কবে ফিরে আসবে বলো না,মাই সুইটহার্ট। 


চলবে....