১৬ নভেম্বর ২০২১

মোঃ সেলিম মিয়া'র ছোট গল্প


 
প্রথম শীতের আভাস 
 




                                                  কিশোরী তুল্য নব যৌবন অধিকারিনী ঘণ কুয়াশা যেমন সাদা শাড়ির ঘুমটা পড়ে আন্দোলিত  নব যৌবনটা নিয়ে সরু কোমরটা দোলায়ে দোলায়ে কাঁচা নাচন নাচতে নাচতে সামনের দিকে  ধাপিত হচ্ছে আর খিল খিল হাসিতে নদীর দু'পাড় ঘেঁষে  প্রকৃতির নিয়মে জন্মানো  সাদা বকের পালকের ন্যায় সাদা সাদা পল্লবে কাশবন মাঠে আদরের পরশ বুলাতে বার বার হাসিতে আছর খাচ্ছে। তাই দেখে সূর্যী মামা  তার স্নেহের পরশ আরোও বাড়িয়ে দিতে মেঠু পথের দু'পাশে জন্মানো দূর্বাঘাস, কচুপাতা ও  পত্র পল্লবের উপর জমে থাকা শিশির বিন্দুতে  সকালের সু মিষ্ট রোদে গা বুলিয়ে দিতে কোন রুপ কার্পণ্য করেছে না। নবাগত শীতকে সাদরে সম্ভাষণ জানাতে সূর্যী মামার আদর স্নেহের  পরশ জুড়ি মেলা ভাড়! সাদা সাদা ঘণ কুয়াশা ও শির শির ঠান্ডা বেতাল হাওয়া ভেত করে  গ্রাম্য গেছু সহিষ ভাই দিগন্ত মাঠ জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা খেজুরের গাছ গুলিতে বুক চিড়ে খেজুরের রস তুলতে অনেক বেশি ব্যস্ত সময় পাড় করছেন । খেজুরের গাছ গুলিও তার সুমিষ্ট রসে প্রকৃতির সাথে নিবির সম্পর্কে একত্বা ঘোষণা করছে। গ্রামের মা জননী গণও  বিভিন্ন স্বাদে  পিঠা পল্লীর মাধ্যমে  নবাগত শীতকে বরণ করে নিতে  কোন রুপ কার্পণ্য করেছেন না। রাত ভোর মা বোনদের  ঢেঁকিতে আটা কোটার শব্দে শিয়াল মামাদের হুক্কা হুয়া ডাক ও নবাগত শীতের আমেজ জনমনে  হয়ে উঠছে আরো বেশি প্রানবন্ত। শীতের আগমনী বার্তাকে স্বাগত জানাতে প্রতিটি গ্রামে  জারি সারি পালা গানের প্রতিযোগিতা এবং তবলা, ঢুল,খন্জর, বাঁশি আর হারমনিয়ামের সুরে বয়াতি-বাউলদের কোমড় দোলানো নিত্য দেখে নবাগত শীত যেন লজ্জায় গদ গদ! শীতের আগমনী বার্তাকে জানান দিতে ঘণ কুয়োশায় লেপটে থাকা রজনী গন্ধাও প্রস্ফুটিত হয়ে আরো বেশী সুগ্রাণে আগমনী শীতকে বরণ করতে খুব বেশি মাত্রায় ব্যস্ত। অন্যদিকে নবাগত শীতের আগাম  প্রস্তুুতিতে ধনীদের মাঝে গরম কাপড় কেনাকাটায় এক মহোৎসব চলে এসেছে । গরীবদের দিকে ফিরে তাকানোর মতো সময় তাদের কারো নেই। গরীবের তাতে কি আসে যায়? গত বছরে জমিয়ে রাখা ছেঁড়া কাথা, রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত ছেঁড়া কম্বল  দিয়ে শীত পাড় করার মতো অদম্য সাহস তাদেরকে কোন মতেই শীতের আগমনী বার্তা  নিরুৎসাহীতো করার সুযোগ দেইনি। কেউ কেউ গোয়াল ঘরের পাশের উঠোনে খরকুঠো জ্বালিয়ে  আগুনে দু'হাত সেকে নবাগত শীতকে ঠেকানোর কসরত করছে মাত্র। 
তাইতো বিদ্রোহী কবি নজরুলের মতো কবিতার ভাষায় বলতে মানা নেই--

"শীত আসবে বসবে ঘরে,
গরীব দুঃখীর কুড়ে ঘরে! 
যতন করে বসতে দিবো,
কাঠ পুড়িয়ে আগুন জ্বেলে।
দু'হাত সেকে আগুন পুড়ে,
করবো বরণ পা জুড়িয়ে! 
ছেঁড়া কাঁথার গা জুড়িয়ে,
ফাটা ঠোঁটে আদ্র নয়নে"।

# পরিশেষে  বলতে চাই -আসুন সমাজের আনাচে-কানাচেতে পড়ে থাকা ছিন্নমূল গরীব দুঃখীর কথা স্মরণ করে আগমনী শীতকে এমন কায়দায় বরণ করি যাতে শীতের কনকনে হিমেল হাওয়ার পরশে ও  ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা না পড়ুক ছিন্নমূল গরীব দুঃখী মানুষ । আগমনী শীতকে বরণ করতে সামর্থ্যবান বিত্তবান সকলে মিলে একতাবদ্ধ হয়ে  গরীব দুঃখীদের মাঝে বাড়িয়ে দেই  গরম কাপড়ে শীতের আচ্ছাদন।  আর তাতেই দেখা মিলবে আগাম শীতের পূর্বাভাষে ঘুণ কুয়াশায় ভেদ করে এক চিলতে  স্মৃতি বিজুরিত অমলিন হাসি। এমন হাসিতে হয়তো ঝড়বেনা কোন মুনিমুক্তা; প্রকারন্তরে  প্রথম শীতের আভাসে কষ্ট সহিষ্ণু সুবিধা বঞ্চিত লক্ষ কোটি মানুষদের মুখের হাসি বাংলার ঐতিহ্যবাহি  শীত ঋতু  তার সঠিক ঐতিহ্য হিম হিম শির শির কুয়াশায় নিশ্চিত ফিরে পাবে শতভাগ বর্ণিল সজীবতা এটা আমি হলফ করে বলতে পারি!!!

গোলাম কবির




পাখি হলাম না কেনো 
  

 অনন্ত বিষাদের দীর্ঘ হিম হিম
 ছায়ায় ঘেরা শিশিরবিন্দু গুলো 
 জমে আছে বুকের ভিতর, 
 এখন এর রঙ হয়েছে 
 ঘণ হলুদ কফ যেমন ঠিক তেমনি।

 বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দোলায় 
 দুলতে থাকা মানুষের বিবেক পচনের 
 গাঢ় ক্ষত, ভাগাড়ে থাকা মানবিকতা
 এবং নৈতিক অবক্ষয় ও সাম্প্রদায়িকতার
 বিষবৃক্ষের মহীরুহ হয়ে ওঠা ঠেকাতে
 আমাদের ভালবাসা হোক আজ 
 তোমাতে আমাতে, জাতিতে জাতিতে, 
 দেশ থেকে দেশে ছড়িয়ে যাক সারা 
 বিশ্বব্যাপী- যতো দূর চোখ যায়, ততো দূর! 

 কেনো যে এই হানাহানি, রেষারেষি,
 হিংসা বিদ্বেষ ও ইর্ষা এবং মিথ্যে অহংকার
 বেড়ে যাচ্ছে সাধের এই সুন্দর পৃথিবীর
 মানুষ গুলোর মধ্যে অথচ প্রকৃত মানুষের
 তো এসব থাকার কথা ছিলো না। 
 তাই মাঝেমাঝে মনেহয় - বক, রাজহাঁস  কিংবা অন্য কোনো পাখি হলাম না কেনো!
 যাদের এসব কোনো কুৎসিত স্বভাবই নেই।

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক গল্প "অলিখিত শর্ত" ১৪

 স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শামীমা আহমেদ'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "অলিখিত শর্ত"



শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত 
                                              (পর্ব ১৪)
   শামীমা আহমেদ 


                                                        জ দুপুরেও প্রতি সপ্তাহের মত রান্নাবান্নার বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে।রাহাতের আজ ছুটির দিন।শুক্রবারও ছুটি থাকে কিন্তু সেদিন সে হালকা খাবারে অভ্যস্ত  আর সারাদিন  শুধু ঘুমিয়েই কাটায়। আর শনিবার দিন  থাকে খানাপিনায় মনযোগ। মায়ের হাতের  বিশেষ কিছু রান্নার জন্য সে সারা সপ্তাহ অপেক্ষায় থাকে। শুকনা মরিচ দিয়ে আলু ভর্তা, ঘন মশুর ডাল,কাঁঠাল বিচি আর  ছোট চিংড়ি দিয়ে কচুর লতি, পটলের টক ঝাল মিষ্টির দোঁপেয়াজা, ইলিশ ভাজা,বড় কাতলের মাথা দিয়ে মুড়োঘন্টা,ডিমের কোরমা,ঝাল করে আলু মুরগির  মাংসের  পাতলা ঝোল,গরুর মাংস ভুনা আর শায়লার হাতের কিসমিস দেয়া ঝরঝরে পোলাও, রাহাতের প্রতি শনিবারের খাবারের মেনুতে এসব থাকতেই হবে।সারা সপ্তাহ অফিস করে এই একদিন মায়ের হাতের খাবার খেয়ে মনকে চাঙ্গা করে নেয়। নতুন সপ্তাহে কাজের জন্য নিজেকে তৈরী করে নেয়া। এই একই মেনু চলে আসছে বছরের পর বছর ধরে।রাহাতের একটিই কথা মা আর শায়লা আপুর হাতের এই রান্না ছাড়া আর কিছুই তার মুখে রুচে না। রাহাত শায়লার খুবই আদরের ছোট ভাই।খুবই বাধ্যগত একটি ছেলে।শায়লা ভাবে কতজনের ভাইয়েরা কতভাবে বখে যায়, চালচলনে উশৃংখল হয়, আচার ব্যবহারে বেয়াদব হয়, সঙ্গদোষে  মাদকাসক্ত হয়,মেয়েদের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে  কিন্তু শায়লার এই আদরের ভাইটাকে যেভাবে শায়লা গড়ে তুলতে চেয়েছে ঠিক তেমনটিই হয়েছে।শায়লার সব  কথা শুনেছে। বাবার শূন্যতাটা তাকে একেবারেই বুঝতে দেয়া হয়নি।খুব লক্ষী একটা ছেলে! ওর একই কথা, আপু কানাডায় চলে গেলে কে এত মজার মজার খাবার রান্না করে খাওয়াবে? শায়লা বলেছে  শীঘ্রই তোমার জন্য নতুন রাধুনীর খোঁজ করছি।তাকে সব শিখিয়ে দিবো।কিন্তু রাহাত চাইছে আপুর কানাডা যাওয়ার প্রস্তুতি শেষ হলে তবেই তার নিজের ব্যাপারে ভাববে।
খাবার শেষে মায়ের হাতের ঘন দুধের পায়েশের স্বাদ একেবারে সাতদিন মুখে লেগে থাকে। রাহাত অফিসে নিয়ে কলীগদেরও তা খাইয়েছে।সবার সেকি প্রশংসা! অবশ্য শায়লা মাকে রান্নাঘরে যেতেই দেয় না। চুপি চুপি নিজেই সব রান্না করে রাহাতকে জানায়, মা রান্না করেছে। শায়লা এত সুনিঁপুণ রান্না করে রাহাত একেবারেই তা ধরতেই পারে না। শায়লা রান্নায় মায়ের হাতটা পেয়েছে। 
মা আর শায়লা দু'পাশে বসে খুব যত্ন করে রাহাতকে খাওয়ালো। আমাদের সমাজে ছেলে সন্তানদের কদরই আলাদা! মেয়েরা যেদিন অর্থনৈতিকভাবে  আর পূর্ণ নিরাপত্তায় সমাজে চলতে পারবে সেদিনই এই বৈষম্য ঘুচবে।এ সময়ে কিছুটা অর্থনৈতিক মুক্তি মিললেও সামাজিক নিরাপত্তার কারণে আজো একটি মেয়ে পুরুষের সমান হতে পারেনি। রাত বিরাতে প্রয়োজনে বেরুতে হলে একটা ছেলে সন্তানের প্রয়োজন ভীষণভাবে অনুভব করতে হয়। 
বেশ  তৃপ্তি নিয়েই দুপুরের খাওয়া পর্ব শেষ করল রাহাত। আজ সন্ধ্যায় একটু বেরুবে।কলেজ ফ্রেন্ডদের সাথে একটা মিট আছে। ওরা সব উত্তরায় একই স্কুল কলেজ রাজউকে পড়েছে। আজ সবাই স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। শায়লারও নিজের ভাইকে নিয়ে গর্ব হয়।বাবা না থাকলেও সে তার ভাইকে মানুষের মত মানুষ করেছে।
দুপুরে মা একটু বিশ্রাম নেয়। শায়লা সবকিছু গুছিয়ে কাজের বুয়া রেনুর মাকে বক্সে খাবার দিল। ওরা কখনোই এখানে খায় না। বাসায় বাচ্চাদের রেখে আসে।যেটুকুই পায় তা সাথে করে নিয়ে যায়।
রেনুর মাকে বিদায় করতে গিয়ে শায়লা দরজা লাগাবে এরই মধ্যে নীচতলার রুহি খালাকে সিঁড়িতে দেখতে পেলো। শায়লার সাথে হাসি বিনিময় করে ওদের বাসায় ঢুকলো। মায়ের আর রেস্ট নেয়া হবে না আজ।এই যে এলো, গল্প শুরু হবে চলবে  সন্ধ্যা মাগরিব পর্যন্ত। শায়লা নিজের ঘরে চলে এলো।
শায়লা সেই যে সকালে রান্না ঘরে ঢুকেছিল, তখন থেকে মোবাইল ঘরেই পড়েছিল।হাতে নিয়ে চেক করতেই দেখা গেলো শিহাব সাহেবের মেসেজ।  তাও প্রায় আধ ঘন্টা আগের।এখন তিনটা তিরিশ বাজছে। শায়লা মেসেজ ওপেন করলো।
লাঞ্চ করেছেন?
শায়লা নিজের ঘরের দরজাটা লাগিয়ে বিছানায় এলো। শায়লার বিছানার সাথে জানালা।এই নগর জীবন শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখার বিলাসিতা!
শায়লা মেসেজের উত্তর দিলো
হ্যাঁ, এইতো লাঞ্চের পর আনুসাঙ্গিক সব সেরে এলাম।আপনি লাঞ্চ করেছেন? ভাবী আজ কি রাঁধল? 
কোন উত্তর এলো না।শায়লা অপেক্ষায়।
বিচ্ছিন্ন কিছু ভাবনায় মন চঞ্চল হয়ে উঠল !
টুং করে রেসপন্স এলো।
সেইতো কখন লাঞ্চ সেরেছি। এখন চায়ের তেস্টা পেয়ে গেছে।এক মগ লেবু চা করে নিয়ে এলাম। 
বাহ! লেবু চা আমারও খুব প্রিয়।
শিহাব একটু জ্ঞান ঝাড়ল,
---তবে লেবু চা খাবেন লাঞ্চের পর ভরা পেটে।কখনোই সকালে নয়।
হু, শায়লা আবার সেই প্রশ্নটি রাখল
ভাবী কী রাঁধল আজ?
শিহাবের সরল উত্তর
ভাবী নেই, আমিই রাধুনি।
শিহাব শায়লাকে দ্রুতই খুব আপন করে  নিয়েছে।তাই সে আর শায়লাকে কথার লুকোচুরিতে রাখতে চাইল না।যেটা সত্য সেটাই জানালো।তবে সব নয়।এখুনি নয়।শায়লা ভাবতে পারে সিঙ্গেল সেজে কথা চালিয়ে যাওয়ার জন্য গল্প ফেঁদেছি।
ভাবী নেই কেন?
সে গল্প আরেকদিন বলবো।
আপনি এখানে একাই থাকছেন?
হ্যাঁ, আমার একার সংসার।
এবার শায়লার একটু চাপা আতঙ্ক কাজ করলো মনে! লোকটি কি তাহলে খারাপ কেউ যে বউ চলে গেছে কিংবা সংসার গ্রামে রেখে এসে বলছে ব্যাচেলর?
শায়লা একটু শংকিত হলো। কথা কি আর চালিয়ে যাবে?কিন্তু মনের ভেতর কোথা থেকে যেন একটা ভালোলাগা ঢেউ বয়ে গেল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বয়ং বিধাতাই সিদ্ধান্ত নেয়ার বুদ্ধিমত্তাটা তৎক্ষনাৎ দিয়ে দেন।ভেবে নিল, না সেতো কোন ভনিতা করেনি।পরিচয়ের দুদিনের মধ্যেই সত্যটা বলেছে।এখন ইচ্ছেটা আমার কথা বলবো কিনা?
শায়লা সহজভাবেই জানতে চাইল, তা কী কী রাঁধলেন? 
কী কী? নাহ, এভাবে মেনু হিসেবে নয়,সহজ উপায়ে যা করা যায় সেরকম একটা কিছু।
তা কতদিন যাবৎ এই জীবন চলছে?
তা প্রায় তিন বছর।
তিন বছর? ভাবী কি অভিমান করে আছে, তাহলে তাকে মান ভাঙিয়ে নিয়ে আসুন। 
এবার শিহাব একটুক্ষণ চুপ থেকে লিখল--
আচ্ছা এ প্রসঙ্গটা কি এখন বন্ধ রাখা যায়?
শায়লা খুবই লজ্জিত বোধ করলো।
লিখলো, অবশ্যই।
শিহাব জানালো, আজ বিকেলের পর সন্ধ্যায় একটি বেরুবো। বন্ধুদের সাথে একটু চা পানের আড্ডা আছে।
শায়লা এবার ভীত হয়ে গেলো!ভাবলো, আবার হোটেল বারে যাওয়ার অভ্যাস টভ্যাস আছে নাকি? কি জানি লোকটির গতিবিধিতে আমার ভয়ই লাগছে।
কি হলো চুপ কেন? 
না আপনি বলুন শুনছি।
আজ কী কী রাঁধলেন? ভাই সাহেব কেমন বাজার করেন? 
শায়লা কথাটা প্রথমে বুঝতে পারেনি,আর যখন বুঝলো, হাত ফস্কে লেখা হয়ে গেলো
ভাইকে কোথায় পাবো?
মা আর ছোট ভাইকে নিয়েই আমার এইসব দিনরাত্রি।
কেমন করে যেন সত্যটা বলা হয়ে গেলো।
আসলে মিথ্যে দিয়ে কোন সুন্দর সম্পর্ক হয় না।সে যদি 'সততায় শিহাব' হতে পারে আমি কেন তবে 'সত্যবাদী শায়লা' হতে পারবো না?
পাশের ঘর থেকে মায়ের ডাক ভেসে এলো।
নিশ্চয়ই রুহি খালার পানের ডাব্বা আনতে হবে তার বাসা থেকে।
শায়লা শিহাবের কাছে একটু সময় চেয়ে নিলো।
শিহাব জানালো তবে এখন আর না।রাতে কথা হবে।বন্ধুর কল এসেছে।
ঠিক আছে বলে শায়লা দরজা খুলে ঘর থেকে বের হলো। 



                                                                                 চলবে.....

অলোক দাস




আমরা 


গণন্ত্রন্তের রক্ষাকবজ বিরোধিতা, 
বহুততা বাদ তো থাকবেই - 
সবাইকে তো কেউ সন্তুষ্ট কোরতে পারে না I 
সবাই সমান হয় না I 
যার যা কাজ সে তো করবেই I 
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ হোক সর্বত্র I 
সংবিধান তো তাই বলে I 
এখন যা খেলা চলছে, 
রাজনীতির ঢং না দেখে দেশের জন্যে কাজ কোরে যাওয়াই ভালো I 
মিনিস্টার না হোলেও দেশের কাজ করা যায় I 
মোনে রাখতে হবে যে প্রতিটি আঘাত আমাদের শিক্ষা দেয় I 
অনেকে অনেক কথাই বলবে,--, আমাদের যেটা ভালো আমরা করবোই I

ffrza

LOVE

১৫ নভেম্বর ২০২১

কবি ফাল্গুনী চক্রবর্তী এর কবিতা





বিরতির শেষে


বয়েসের উঠোন বাঁধ ভাঙছে
জরি আর রাঙতার ডোরে 
তাজ পরা বেশ চাঁদ
রুপোলি স্নানঘরে কাঁচা হলুদেরা
সোনালি সপ্নের সি৺থি আ্ঁকে
আদরের কৌটো খুচরো রাখছে
কুয়াশার পানপাত্র চিরে সিলিকন
হয়ে নামে অজানার পিয়াল
তুমি আমি বিশেষণ নই
তাই প্রেম ঈশরীয় হয়ে
একটু একটু কথা ইটের
গায়ে মিলিয়ে যাচ্ছে বেপনাহ। 

আমিনা তাবাসসুম সম্পাদিত "শব্দ পিয়াসী"র আত্মপ্রকাশ

তারুণ্যের সৃষ্টির ঢল নেমেছে শব্দ পিয়াসী পত্রিকায় 

 

      অনুষ্ঠানের উপস্থিত সম্মানীয় অথিতিদের সঙ্গে সম্পাদক আমিনা তাবাসসুম 


তিথি সরকার ,বহরমপুর : তরুণ কবির হাতে তারুণ্যের সাহিত্য ধ্বজা। যে কোন একটি পত্রিকাকাকে কেন্দ্রে রেখে গড়ে ওঠে এক বিশেষ পরিবার। এই পরিবারের সঙ্গে পত্রিকা, পাঠক ও লেখকদের মাঝে যে আত্মিক যোগাযোগ তৈরি হয় তা যে-কোনও সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। একটি পত্রিকা এমনই চম্বুকীয় টান বহন করে সবসময়। এক্ষেত্রে সমস্ত দিক দিয়ে সতর্ক কিন্তু খোলামেলা পত্রিকা সম্পাদক, যিনি নেতৃত্ব দেন সেই পরিবারের। 


পত্রিকা হাতে নবীন প্রজন্ম ও প্রবীন প্রজন্ম সৃষ্টির উল্লাসে কবিবৃন্দ 

    তেমনই একটি নতুন পত্রিকা এমনই মাধুর্যে ভরা। যেখানে তারুণ্যের সৃষ্টিতে ঢল নেমেছে বললে কম বলা হয়। এমনই তো একটি পত্রিকার চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিৎ বলে মনে করছেন, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক মহল। অনেকের মন্তব্য, পুরনো দিনের কথা আবার মনে পড়ল। আমরা পোস্টকার্ড-এর দিন দেখেছি, পত্রিকা দপ্তরগুলিতে তারুণ্যের উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল, পোস্টকার্ড, ইনল্যাণ্ড লেটারে। 


            খোশ মেজাজে কবিরা 

এখন বৈদ্যুতিন মাধ্যমের যুগ। যে-কোনও মুহূর্তে পৌঁছে যাওয়া যায় পৃথিবীর যে-কোনও প্রান্তে। সাহিত্য সংস্কৃতির পালেও এখন হাওয়া লেগেছে বিশ্বায়ণের। তাতে কী ক্ষতিগ্রস্ত সাহিত্য প্রশ্ন অনেকের। কিন্তু, মুদ্রণ পত্রিকা বন্ধ হওয়ার না। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আছে থাকবে। আসবে নানান প্রযুক্তিও। কিন্তু মুদ্রিত পত্রিকা বের হবে নিজস্ব গতিতে। 


              কবি আমিনা তাবাসসুম 

    তেমনই একটি নতুন পত্রিকার জন্ম দিলেন, মুর্শিদাবাদ জেলার গঙ্গাধারীতে। নওদা ব্লকের এই জেলা সীমান্ত গ্রামে বসবাসকারী তরুণ কবি আমিনা তাবাসসুম। তাবাসসুম কবিতা লেখেন নিজের আনন্দে। নিজের লেখাটিকে নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আঁটকে রাখেননি এই কবি। ছড়িতে দিয়েছেন নিজের মতো করে। তরুণ এই কবির কবিতা পৃথিবীর বিভিন্নপ্রান্তে, নিজ যোগ্যতায় প্রকাশিত হয়। এই সময়ের এই কবির কথায়, 'যদি কবিতার সঙ্গে প্রেম না থাকত, কবিতা লিখতাম না। কবিতার সঙ্গে বন্ধনের জন্যেই আমি একক চেষ্টায় আজ 'শব্দপিয়াসী' সাহিত্য পত্রিকাটি সম্পাদনা করতে পেরেছি। ' জেলা সীমান্তের এই গ্রামে বসে স্নাতকোত্তর স্তরে সাম্মানিক নিয়ে পাঠরত তরুণ এই কবি দুঃসাহস দেখিয়েছেন, একটি মুদ্রণ পত্রিকা প্রকাশ করার। যা এই প্রজন্মের লেখকদের ও তরুণদের কাছে কুর্ণিশ যোগ্য। 


            পত্রিকার  প্রচ্ছদ শিল্পী প্রীতি দেব 

    গত রবিবার ১৪ নভেম্বর ২০২১, দুপুরে হরিহরপাড়ার  একটি বেসরকারি গানের স্কুলে আমিনা তাবাসসুম সম্পাদিত 'শব্দ পিয়াসী' সাহিত্য পত্রিকার আত্মপ্রকাশ ঘটল এক সুন্দর সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে। পত্রিকার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মঞ্চে উপবিষ্ট স্থানীয় সাহিত্য-ব্যক্তিত্বরা। তাঁদের আলোচনায় উঠে আসে আঞ্চলিক সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনের বিভিন্ন দিক। কবিতা পাঠ, সঙ্গীত অনুষ্ঠানটিকে অন্য মাত্রা যোগ করে। 

     
            পত্রিকা প্রকাশ দৃশ্যে কবিবৃন্দ  


    পত্রিকা সম্পাদক ও কবি আমিনা তাবাসসুম জানান, 'পত্রিকায় অনেক নতুন লেখক লিখেছেন। অনেকে প্রথম লিখেছেন শব্দ পিয়াসী-তে এমন লেখকের লেখাও আমি ছেপেছি। তাঁদের লেখা সবসময়ই স্বাগত আমার পত্রিকায়। এই ধারা কিন্তু অব্যহত থাকবে। তেমনই আগামীদিনে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে আমি বৃহদাকারে নবীন কবিদের নিয়ে পত্রিকার অনুষ্ঠান করবো।'

মাহ্জাবীন মিতি




তোমাকে পাবার ছলে


তোমার ওই বুকে বুনোফুলের গন্ধ হব
তোমার কপালে শেষ বিকেলের মিষ্টি রোদ
তোমার উড়নচণ্ডী চলমান জীবনে
একটা দমকা হাওয়া হয়ে 
উড়িয়ে নেবো তোমায়...

সবকিছু ঠিক করার ছলে 
বার বার অগোছালো করে দিব .....
পারিপাট্যয় আমার বড্ড অনিহা 
আমি চাই বিস্তীর্ণ সবুজের ঢাল
যেথায় আমি আদিম মানবীর মত
চাষে বেড়াবো তোমার শরীরের প্রতিটি কোষ

বন্য বাইসনের পায়ে শেকল পড়ানোর চেষ্টায়
নিজেকে প্রকাশ করবো
এক সুদক্ষ তীরন্দাজ হিসেবে
প্রচন্ড ঝড়ের কবলে অর্ধ ডুবন্ত 
জাহাজের, নাবিক হয়ে 
ঠিক সামলে নেব তোমায়... 

তুমি শুধু এক পৃথিবী বিশ্বাস নিয়ে 
আমার চোখে, চোখ রেখো...

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক গল্প "অলিখিত শর্ত" ১৩

 স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শামীমা আহমেদ'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "অলিখিত শর্ত"






শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত 
                                              (পর্ব ১৩)
   শামীমা আহমেদ 




                                        তকাল ফ্যামিলির সাথে খুব ঘুরে বেড়ালেন বুঝি?
শায়লার এ প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে শিহাব পাল্টা প্রশ্ন লিখে দিল।
----আপনার  কেমন কাটলো?
কেমন আছেন আপনি?
শুভ সকাল।
---ভালোই কেটেছে।
আমি ভালো  আছি।এখনো বিছানা ছাড়েন নি?ভাবী বেড টি দেয়নি?
শিহাব এবারও শায়লার কথাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলো।এইতো উঠবো!আপনি চা খেয়েছেন?
হ্যাঁ, সেই কোন ভোরবেলা।এখন কয়টা বাজে সে খেয়াল আছে?খুব ক্লান্ত বুঝি?
---হ্যা,অনেকটা।ছুটির দিন হলেও অনেক ইনফরমাল কাজ থেকে যায়।যা সারা সপ্তাহ জমিয়ে রাখা হয়।আমরা তো কেউ সংসার পরিবার ছাড়া নই?
হু, সেতো অবশ্যই।
তা পরিবারে কে কে আছে?আপনার বাবু ক'জন?
শায়লা আজকাল বেশ গুছিয়ে কথা বলা রপ্ত করেছে।কর্মক্ষেত্র  মানুষকে অনেক কিছু শেখায়। সুন্দর করে কথা বলায় নিজেকে যেমন প্রকাশ করা যায় আবার নিজেকে ডিফেন্ডও করা যায়।
শায়লা ভাবলো, এভাবে পরিচয়ের প্রথমে কাউকে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করা কি ঠিক হচ্ছে? কিন্তু প্রশ্ন না করলে জানবোই বা কিভাবে? শায়লা প্রায়ই এই দ্বন্দ্বে পড়ে যায়।কাউকে প্রশ্ন করে তার সম্পর্কে জানতে চাইলে,আবার কী জানি সে কী মনে করে বসে! কিন্তু কিছু জানতে না চাইলে তার সম্পর্কেতো জানাই হবে না? 
আসলে খুবই বিনীত  স্বভাবের শায়লা অন্যের প্রতি সন্মান দেখাতে ভীষণ সচেতন। এটা সে তার বাবার কাছ থেকে পেয়েছে।ভীষণ অমায়িক মানুষ ছিলেন আজাহার সাহেব।
কি হলো?  চুপ করে আছেন যে? শিহাব শায়লার ধ্যান ভাঙালো?
নাহ! ভাবছিলাম এভাবে সরাসরি এত কিছু জানতে চাওয়া?
তাতে কী? পরিচিত হতে হলে তো জানতেই হবে।
তা, একই প্রশ্ন তো আমারও! নিশ্চয়ই  আপনারা দুজন বসে সকালের চা খেয়েছেন  গল্প করে,পত্রিকা পড়ে ছুটির দিনের সকাল কাটিয়েছেন।
শায়লা বুঝতে পারলো।কৌশলে তার সম্পর্কে জানতে চাইছে। কিন্তু শায়লা নিজেকে গুটিয়ে রাখল।
শিহাবের  নিজের সম্পর্কে জানাতে কোনো দ্বিধা নেই কিন্তু আজ আর সে প্রসঙ্গে যেতে ইচ্ছে করছে না।যদিও শায়লার সাথে কথা বলে তার বেশ আরামই লাগছে। বেশ গুছিয়ে ভদ্রতা বজায় রেখে কথা বলছে।
শিহাব কারো সাথে একটু মন খুলে কথা বলতে পারে না।তার অবস্থা জানার পরেই সবাই প্রেম নিবেদন করে বসে।শিহাব এগুলোতে আজকাল বেশ বিরক্ত বোধ করে।
তবে শায়লাকে তার জানতে আগ্রহ হচ্ছে। সাধারণত বিবাহিত নারীরা এতটা ফ্রি হয়ে কথা বলতে পারে না। কথার ইঙ্গিতে স্বামীর  পদ পদবী অবস্থান জানিয়ে দেয়।যেন অপরপক্ষ বুঝতে পারে সে একজন ধনী ক্ষমতাবান ব্যক্তির স্ত্রী।
মেয়েরা সব দিক দিয়েই সুবিধা নিতে চায়।
নিজের স্বাধীনতাও চায় আবার অপরপক্ষে যদি লেস ক্যালিভারের কেউ থাকে তবে স্বামীর পরিচয়ে  স্ট্যাটাস জাহির করতে চায়।
শিহাব এসব ব্যাপারে বেশ সংযত আচরন করে।অবশ্য এমনিতেই মহিলাদের প্রতি সে বেশ সন্মান রেখেই কথা বলে।
শিহাব বুঝতে পারছে শায়লা নিজেকে জানাতে চাচ্ছে না।শিহাবেরও কোন পীড়াপীড়ি নেই।
শিহাব নিজেকে খুব ভাল করেই জানে।
যাদের সাথেই তার কথা হয় বা কিছুদিন হয়েছে কোন অভদ্র আচরণ সে করেছেএমন কোন অভিযোগ তারা  করতে পারবে না।
বরং তাদের নানান প্রস্তাবে শিহাবের না উচ্চারণে তারা  খুবই বিস্মিত হয়েছে! কোন লাভ হবে না জেনে নিজেরাই গুটিয়ে নিয়েছে।
শায়লাকেও শিহাব ভেবে নিল। সময় হলেই বুঝা যাবে। প্রেমের সম্পর্ক ছাড়াও দুইজন নারী পুরুষের মধ্য নিস্পাপ নিটোল একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হতে পারে।
শায়লা শিহাবের ভাবনার হিসেব হয়তো এখন করতে পারছে না তবে নিজের মনেও কিছু যোগ বিয়োগ করে নিচ্ছে।একটু সাহস নিয়ে হলেও কথা এগিয়ে নিতে হবে।এইটুকু কথায় তো শালীনতা স্পষ্ট হচ্ছে। অবশ্য সময় গেলেই বুঝা যাবে।
শায়লা জানতে চাইল, ভাবী কি জব করেন?
না অন্য কোথাও থাকেন?
--শিহাব অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলো।
আচ্ছা কী মনে করে আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালেন? আবার একজন অচেনা মানুষের সাথে এমন নির্ভয়ে কথাও বলছেন? 
শায়লার ভেতরে শিহাবকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর আগের দ্বিধাদ্বন্দ্বের কথাগুলো মনে পড়ে গেল।কিন্তু সেগুলোকে আড়াল করে বেশ সাহসিকতায় বললো আপনার প্রোফাইল পিক তো অবশ্যই নজর কেড়েছে।যদিও ভাবছি সেটা আপনার নাও হতে পারে। তবে এফবির বায়োতে সততায় শিহাব কথাটার ভরসায় আগ্রহী হলাম।
বাহ! সত্য বলার জন্য ধন্যবাদ।
মোবাইল ফোনে টাইপ করতে করতে শিহাবের হাত ব্যাথা করছিল।ইচ্ছে হচ্ছিল কল দিয়ে কথা বলতে।কিন্তু শায়লা এখুনি কথা বলতে রাজী হবে কি?
থাক, পরিচিতি আরেকটু এগুলেই কল দেয়া যাবে।
শায়লা লিখলো,
আচ্ছা আপনি সেদিন গানের কথা বলছিলেন। কী ধরনের গান শোনেন আপনি?
সব ধরণের,,  যেমন ইংলিশ স্প্যানিশ হিন্দি উর্দু থেকে শুরু করে বাংলায় মারফতি মুর্শিদি বাউল আধুনিক রোমান্টিক, স্যাড সং,
----এত ভাষার গান? বুঝেন কি করে?আমিতো পাশের দেশের ভাষা হিন্দিই আজ পর্যন্ত বুঝলাম না।
---সব গান আক্ষরিক অর্থে বুঝতে হয় না।গানের সুর নিজেই ভিতরে প্রবেশ করে অর্থটা বুঝিয়ে দেয়।
শায়লা ভেবে নিল বেশ কথা জানে। কিছুতেই আসল কথায়  ধরা দেবে না।তবে আজ আর নয়।সেদিনের কথা না বলা আজ পুষিয়ে দিল।
ওপ্রান্তে  শিহাব ভাবলো 
অনেক কথা হলো। এখন থামতে হবে।
দুজনের মোবাইল পর্দায় একসাথে ভেসে উঠল, আজ আর নয়।
দুজনেই অবাক হলো! হাসির ইমোজি দিয়ে
বাই জানালো।
আজ শায়লার মনের আকাশে কেমন যেন অন্যরকম ভালোলাগা ছুঁয়ে গেল। 



                                                                                                  চলবে.....

লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল"২৪

চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শান্তা কামালী'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "বনফুল" 





বনফুল
                ( ২৪ তম পর্ব ) 



                                                   ঠাৎ করে সৈকতের ফোন বেজে উঠল। সৈকত ঘুমিয়ে পড়েছিলো ফোন বাজতে ঘুম ভাঙ্গলো, ফোন হাতে নিতেই চমকে উঠলো!  অহনা ফোন করেছে।
ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে অহনা বললো আসলামু য়ালাইকুম,
সৈকত প্রতিউত্তরে অভিবাদন জানালো ওয়ালাইকুম আসসালাম , 
অহনা বললো কেমন আছেন ভাইয়া?  
সৈকত ভালো আছি, তুমি? হুমম আমিও.... ; না মানে ভাবলাম নাম্বার যখন এনেছি একবার ফোন দিই। 
খুব ভালো করেছো, আমি ও ফোন দিতাম না, ঠিক তা নয়, হয়তো সকালে ফোন দিতাম। তুমি আগে ফোন দেওয়ায় তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ অহনা, আমি খুব খুশি হয়েছি। 
অহনা বললো ভাইয়া,জুঁইদের বাড়িতে যে রক্তকরবী ফুল টা বুকপকেটে ভরে দিয়েছিলাম, সেটা কোথায় রেখেছেন? 
ওহ্,ওটা জামার বুক পকেটেই 
আছে। 
মশাই কোথায় রাখতে বলেছিলাম? 
সেখানেই রাখতাম, কিন্তু আমরা দুজন একই ঘরে, তাই..…
ওহ্, লজ্জা করছে! ঠিক আছে, সকালে একবার দেখবেন সে কেমন আছে। 
সৈকত আমতাআমতা করে জবাব দেয়,নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই দেখবো। 
 তাহলে এখন রাখছি,
গুডনাইট....।
সৈকত ও বললো গুডনাইট। 

এভাবেই চলে গেল দুইমাস।

 আগামী কাল পলাশের রেজাল্ট পাবলিশ হবে,এটা ভেবে  ভেবে জুঁই এক ফোঁটা  ঘুমতে পারলো না! 
খুব সকালে উঠে রেডি হয়ে নিচে নেমে এলো জুঁই। সামান্য কিছু খেয়ে মাকে বললো, আম্মু বেরোচ্ছি।
জুঁইকে বেরোতে দেখে ড্রাইভার তারাহুরো  করে গাড়ি বের করলো।জুঁই গাড়িতে উঠে বললো ভার্সিটিতে যাবো।
এই টাইমে রাস্তায় বেশ জ্যাম থাকে। ভার্সিটিতে পৌঁছাতে প্রায় সাড়ে দশটা বেজে গেল। গেটের ভেতর ঢুকতেই হৈচৈ শোনা যাচ্ছে। একটু সামনে এগোতেই দেখতে পেলো জুঁইয়ের পরিচিত একজন সিনিয়র আপু কে।
জুঁই তাকে জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে আপু?এতো হৈচৈ কেন? 
আপু উত্তরে জুঁইকে বললো একটা ছেলে রেকর্ড মার্কস পেয়ে পাশ করেছে, এই নিয়ে সবাই আনন্দ করছে। 
ছেলে মেয়েদের এতো ভীড় যে জুঁইয়ের পক্ষে কিছুতেই সামনে এগিয়ে জানা সম্ভব হচ্ছিল না,কোন ছেলেটাএতো 
ভালো রেজাল্ট করেছে।
এর কিছুক্ষণ পরেই পলাশকে গেটে ঢুকতে দেখে ওর মেসের সব বন্ধুরা পলাশকে কাঁধে তুলে হৈচৈ শুরু করলো। এবার জুঁইয়ের  বুঝতে বাকি রইলো না কে সে ব্যক্তি......
জুঁই য়ের দুচোখের পাতা ভিজে গেলো আনন্দাশ্রুতে।



                                                                                              চলবে....

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"৪৩

কান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "





টানাপোড়েন (৪৩)

  খুনসুটি


                                                     

রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়"২৭

চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 






উদাসী মেঘের ডানায় 
                                              (পর্ব ২৭)


                                   দুই বাড়িতে আনন্দে মেতে আছে সবাই, আত্বীয়- স্বজনদের নিয়ে। তৃষ্ণা অপু কখনো সামিয়াকে নিয়ে
মার্কেটিং এ ব্যাস্ত। কাল গায়ে হলুদ কেনাকাট
শেষ করে বাসায় ঢুকতেই তৃষ্ণাকে বললো- আর কিন্তু  মার্কেটে যাওয়া নয়, সব কেনাকাটা শেষ।?
তৃষ্ণা- মা আর কেনাকাটা নেই।
মা-কি হাল,করেছো এই কয়দিনে চেহারার, যাও হাতমুখ ধুয়ে খেয়ে রেষ্ট নাও। আজ আর রাত জাগবেনা।
এই বলে চলে গেলেন রান্নাঘরে।
সামিয়া-সত্যি রে তোকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে, আজ একটু কম কথা বলিস পরশুদিন চলে যাবি তখন যত পারিস গল্প করিস।
তৃষ্ণা- অপু কথা বললে আমি কি করে মানা করি বলো!
সামিয়া - আমি বলবো না হয়।
তৃষ্ণা- না-না তুমি কিছু বলবেনা।
সামিয়া হেসে বললো-আচ্ছা যা বলবোনা।
তৃষ্ণা-  সামিয়া আকাশটা কেমন থমথমে ভাব মেঘ করেছে, বৃষ্টি হবে মনে হয়।
সামিয়া- হবে মনে হয়না,বেশ ঝিরঝিরানি বৃষ্টি হচ্ছে,
এই তৃষ্ণা একটা কথা মনে পড়লো।
তৃষ্ণা- কি কথা?
সামিয়া- মা বলে জন্মের সময় বৃষ্টি হলে বিয়ের সময়
বৃষ্টি হয়।
তৃষ্ণা- এসব মুরুব্বীদের মন গড়া কথা।
সামিয়া- আমি খালাকে জিগ্যেস করে আসি এই বলে
চলে গেলো।
তৃষ্ণার মনটা অস্হির অপু কখন ফোন করবে।
এমন সময় অপু ফোন করে বললো- আরও দুটো দিন ধোর্য ধরতে হবে। তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করছে আসি।

তৃষ্ণা- মাথা খারাপ অপু তোমার বাসায় ছোট চাচা চাচিমা খালা বোনরা এসেছে, কি ভাববে বলোতো?

তাহলে ভিডিও অন করো একটু দেখবো।
ভিডিও অন করতেই অপু  রবি বাবুর কবিতা পড়লো-
"হে অচেনা
দিন যায় সন্ধ্যা হয় সময় রবে না
তীব্র আকস্মিক,
বাধা বন্ধন ছিন্ন করে দিক
তোমারে চেনার,অগ্নী দীপ্ত শিখা উঠুক উজ্জ্বলী
দিবো তাতে জীবন অন্জলী"
আমি জানিনা তৃষ্ণা আজ কেন জানি তোমাকে আরও
কাছে পাবার জন্য আমার আবেগের দুয়ার ভেঙ্গেছে
প্রাণের ভাষা যেনো ডানা মেলে দিয়েছে।
তৃষ্ণা- এতো ভালোবাসার সুখ আমার সইবে তো?

অপু- এসব বলতে হয়না, বিধাতারই লেখা নয়তো
কেন আবার দেখা হলো দুজনার, তাইতেো তোমার
মাঝে, আমি আমাকে খুঁজে পেয়েছি।
আর শোন কালকে গায়ে হলুদের ভিডিও ছেড়ে রাখবে
প্রতিটি মুহূর্ত আমি দেখতে চাই।




                                                                                       চলবে...

সাবিলা রওশন





আমি ওদের বীরাঙ্গনা বলি
 

যে মুখোশগুলো রোজ সুখ বিক্রি করে আমি তাদের বীরঙ্গনা বলি,
ওরা শোক বহন করে 
ওরা কষ্ট পায় রাতের অগোচরে। 
ওরা বোঝাটাকে পরতে পরতে উপলব্ধি করে। 
ওরা শুধু তোমাদের মতো অমানুষ নয়।
ওরা সভা করে না উশৃংখলার।
ওরা মার খায় রোদেপুড়ে। 
ওরা অসহায় হলেও কারও ভালোবাসাকে চাবুক মারে না।
ছোবল মারেনা শেষ প্রহরে। 
ওরা তোমাদের মতোই আবেগপ্রবণ।
ওদেরও কান্না পায়!
কিন্তু ওদের রুমাল দিয়ে কেউ চোখ মুছে দেয় না। 
ওরা বিচ্ছেদ ঘটায় না দিনরাত্রি, 
ওরাও মানুষ তোমাদের মতো, 
পার্থক্য এটাই ওরা তোমাদের মতো বেহায়া নয়।
ওদেরও মন স্পর্শ পেতে চায়, 
ওরাও প্রেমে পড়ার মতো প্রেম করে!