২০ অক্টোবর ২০২১

রাজেশ চন্দ্র দেবনাথ




আগুন



ব্লাকবোর্ডে ঢলছে চিত্রের কল্পনা
দৃশ্যের আঁচড়ে ভাবনার ডগায়
খুঁটছে বাঁশ কোড়ল...

অলীক ঘাসে নির্মিত সংকল্প
ছুঁয়ে আছে বিচ্ছিন্ন আগুন

নিঘাত করিম




নীরবতা


আমরণ স্তব্ধতায় আমি ঠিক নীরব হয়ে যাবো 
একেবারে নীরব , স্তব্ধ 
সূর্যোদয়ের মতো
নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়া শিশিরের মতো
কোন বাক্য আর নিঃসৃত হবে না 
আমার কণ্ঠে
যেসব কথা শ্রুতিকে আলোড়িত করে
মধুর শব্দমালা যাতে হৃদয় উদ্ভাসিত হয়
আমার কোন কথায় বা শব্দে আর ঝরে পড়বে না ভালোবাসার বাক্য
আর কোনদিন সরব হবো না ঘুণাক্ষরে 
একেবারে নীরব হয়ে যাবো
সন্ধ্যার মতো গোধূলির মতো
আঁধারে ঢাকা রাতের মতো 
আমি আবার ঠিক নীরব হয়ে যাবো
আগের মতো যখন আমার দিনগুলো ছিলো নির্জন নীরব শান্ত চাঁদের মতো !

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক গল্প




                                                               অলিখিত শর্ত 
                                                                                   (পর্ব)
                                                                 শামীমা আহমেদ
                                                                    শায়লা শিহাব কথা

            
                                      শিহাব এক ঝটকায়  শপিং ব্যাগগুলো নিজের হাতে নিয়ে নিলো, শায়লা কিছু বুঝে উঠবার আগেই! ক্যাশ কাউন্টারে পেমেন্ট সেরে ক্রেডিট কার্ডটি ওয়ালেটে রাখতে না রাখতেই আচমকা এটা ঘটে গেলো! শায়লা বেশ অপ্রস্তুতই হলো! কারণ শপিংগুলো তারই ছিল। শিহাব বললো," চলো তোমাকে এগিয়ে দেই।" দুজনে নীরবতায় ধীর পায়ে লিফটের দিকে এগিয়ে যায়।শিহাবের এই কেয়ারিং দিকটিতে শায়লা বেশ আনন্দিত হয়। যে কোন ধরণের সহযোগিতায় সশরীরে না হলেও ফোনে চটজলদি সমাধান বাৎলে দিবে।এমন একজন কেয়ারফুল পার্সন কার না কাঙ্ক্ষিত! যখন একজন কেয়ারলেস লাইফপার্টনারের সাথে শায়লা দিন কাটাচ্ছে।তখন এধরণের প্রাপ্তিটাতো হঠাৎ বৃষ্টির মতই মনটাকে ভিজিয়ে দেয়। একটা চাপা আনন্দে পুলকিত হয় শায়লা! এই সময়টাকে তাই সে জীবনের পরম প্রাপ্তির একটি সময় ভেবে নিল।
শিহাবকে শুধু কিছু জেন্টস এক্সেসরিজ পছন্দ করে দেয়ার জন্যই শায়লা আসতে বলেছিল। শিহাবেরও এদিকটায় একটা কাজ পড়ে যাওয়াতে শায়লার অনুরোধে সে একেবারে চটজলদি রাজী হয়ে গেলো। দুজনের দেখা করার সময়টা খুব একটা মেলে না। কর্মক্লান্ত দিনের শেষে শিহাব যখন ঘরে ফেরে শায়লার যেন তখনই বাইরে বেরুনোর একটু অবসর মেলে।সুপার শপে প্রাত্যহিক কেনাকাটা কিংবা বাসার কাছের পার্কটিতে এক বিকেল হাঁটতে যাওয়া, প্রয়োজনে  ধারে কাছের পার্লারে নিজেকে একটু ফ্রেশ করে নেয়া। আজ যেন কাকতালীয়ভাবে সময়টা মিলে গেছে! যদিও অনেকদিন শায়লার অনেক অনুরোধ থাকে একটু দেখা করবার জন্য কিন্তু  শিহাব নানান অজুহাতে তা এড়িয়ে যায়। তবে আজ যেন শিহাব বেশ আগ্রহ দেখিয়েই চলে এলো।হয়তো একটা দায়িত্ববোধ কাজ করেছে। অনেকভাবেই শিহাবের এ দিকটির প্রমাণ পেয়েছে সে।
শায়লা অপেক্ষা করছিল শপিং মলটির সামনে। উৎসুক চোখে শিহাবকে নয়, শিহাবের বাইকটিকে খুঁজছিল আর অবশ্যই সেখানে  চোখে সানগ্লাস  সেঁটে দেয়া একজন  সুদর্শন ব্যক্তি থাকবে সে ব্যাপারে শায়লা একেবারে নিশ্চিত ছিল। আসলে শিহাবের সাথে  প্রথমদিনের সেই  দেখা হওয়ার  দৃশ্যটা শায়লার মনে একেবারে গেঁথে গেছে। প্রায়শঃই স্বপ্নেও সে দেখে সে মুখখানি। কালচে নীল শাড়িতে শায়লা টি স্টলটির সামনে অপেক্ষায় ছিল। জিন্স শার্টের নীল রঙ আর শিহাবের শুভ্র মুখখানি যেন শরতের এক টুকরো আকাশ! শায়লা মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল।তবে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়ে শিহাবের এই দর্শন দেয়া।শর্ত ভঙ্গ হলে সে নিজেকে গুটিয়ে নিবে চিরতরে।সব শর্ত মেনে নিয়ে উৎসুক শায়লা শুধু একবার তাকে দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে ছিল।---এইসব নানান ভাবনায় ডুবে থেকে শায়লা কেন বা কোথায় দাঁড়িয়ে আছে তা একেবারে  ভুলেই গিয়েছিল। হঠাৎ সম্বিত ফিরে এলো!ঘড়ি দেখলো শায়লা। চারটা বিশ। এতক্ষনে তো শিহাবের চলে আসার কথা!  তক্ষুণি মোবাইল ফোন বেজে উঠল, শিহাবের কল,,কী হলো কোথায় তুমি? 
এইতো শপিংমলের ফোয়ারাটার সামনে দাঁড়িয়ে।তোমার জন্য অপেক্ষায়। 
---কি বলো? আমিতো সেই কখন থেকে 
ফেব্রিক্স শপের ফ্লোরে চলে এসেছি।
আহ! তাহলেতো আজ শিহাবের বাইকে আসার দৃশ্যটা মিস হয়ে গেলো!
শায়লা খুব দ্রুত লিফটের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। উফ! লিফট ওপরে উঠে গেছে।শপিং মলটি ষোলতলা। একেবারে টপ ফ্লোরে ক্যাফে,খানাপিনা আর আড্ডার জায়গা। টেইলারিং এন্ড ফেব্রিক্স  শপটি আটতলায়।
শায়লা রাতেই জানিয়ে রেখেছিল শপটির কথা।সেটা সে একেবারেই ভুলে বসে আছে। 
শিহাব আবার এসব ক্ষেত্রে ভীষণ পাংচুয়াল।
লিফট নেমে এলে শায়লা উঠে গিয়ে নাম্বার এইট বাটনে প্রেস করলো। ভেতরে কেমন যেন একটা ভালোলাগা অনুভুতি।শায়লা ঠিক বুঝে উঠতে পারে না কেন এমন করে দিনগুলো এগুচ্ছে? দিনে দিনে শিহাবের প্রতি নির্ভরতা বাড়ছে।অবশ্য শিহাব এ ব্যাপারে একেবারেই নির্বিকার। শুধুমাত্র একজন পরিচিত মহিলা কোন সাহায্য চেয়েছে সে কারণেই তার এগিয়ে আসা।কি জানি শায়লা ঠিক বুঝে উঠতে পারে না অচেনা একজন মানুষ হঠাৎ পরিচয়ে  কিভাবে এতটা আপন হয়ে উঠতে পারে!
লিফট আট তলায় এসে থামতেই দরজা খুলে গেলো। সরাসরি শপটিতে তাকাতেই শিহাবকে দেখতে পেলো।দারুণ হ্যান্ডসাম লাগছে তাকে।পরনে কালো শার্ট সাথে কম্বিনেশনে ঘি রঙা প্যান্ট আর চোখে সেই কাঙ্ক্ষিত  সানগ্লাসটি সেঁটে দেয়া। অবশ্য আজ পর্যন্ত সানগ্লাস খুলে কথা বলেনি শিহাব। নাহ, তাকে দেখতে  চাওয়াটা মিস হয়নি।শায়লা এগিয়ে গেলো। শিহাব খুব মাপা হাসিতে শায়লাকে ওয়েলকাম করলো।কেমন আছো কিংবা অবান্তর কোন গল্পে সময় ব্যয় করার মত ব্যক্তিটি তিনি নন। মেয়েদের সাথে গায়ে পড়ে কথা বলার স্বভাব তার একেবারেই নেই।শায়লা এর আগেও লক্ষ্য করেছে শিহাবের মুখে এক ধরনের বিষন্নতার ছাপ।না, কখনো কিছু জানতে চাওয়া হয়নি। ঐ যে, মেপে হাসি আর মাপা কথায় যেটুকু জানিয়েছে শুধু সেটুকুতেই সন্তুষ্ট আছে শায়লা। আর এমন কোন অধিকার পাওয়া হয়নি যে সবকিছু জানতে চাওয়া যাবে।তবে এদিক দিয়ে শায়লা তার উল্টোটায়।সবকিছু বলতে পারলেই যেনো হালকা হয়।এজন্যই হয়তো মেয়েদের পেটে কথা জমে থাকে না।
শিহাব জানতে চাইলো,  কী ধরণের কাপড় সে কিনতে চাইছে? ছেলেদের কাপড় কেনার কোন অভিজ্ঞতা শায়লার নেই।ছোটবোনটির বিয়ে হয়েছে ছয় মাস হতে চলেছে। শীত আসি আসি করছে।মা চাইছে জামাইকে একটা কম্পলিট সুটপিস পাঠাতে।

শায়লাকেই তা কিনতে হবে আর এব্যাপারে শায়লা শিহাবের সহযোগিতা চাইতেই শিহাবের সম্মতি মিলেছে।নয়তো একটা দুপুর কিংবা একটা বিকেল শায়লাকে সময় দেয়া কোনদিনই তার হয়নি, শায়লার শত  অনুরোধ উপেক্ষা করে শিহাব নিজের বাসায়তেই ফিরে গেছে।তাইতো আজ দুপুরের ঝকঝকে রোদে শায়লা  নিজেকে একজন সুখী মানুষ ভেবে নিলো।



                                                                                                                 চলবে....

রহমান মিজানুর




গাধা ও বলদ


গাধা বলে বলদেরে ডেকে মিয়া ভাই
এ ভূবনে তুমি বিনে আত্মীয় নাই।
আমি ভারী বোঝা বই, তুমি টানো ঘানি
কতো ব্যাথা বুকে চেপে সেতো আমি জানি।
তবু কিছু ভালো আমার জীবনের ধরন
বুড়ো হয়ে মরি আমি; স্বাভাবিক মরন।
কি যে পরিনতি তোমার বুড়োকালে হায়,
মানুষেরা কেটেকুটে ঘটা করে খায়!
মৃদু হেসে বলদে বলে ছোট ভাই,
যা বলেছো ঠিক কথা; সন্দেহ নাই।
তবে কিনা এ দুনিয়া অস্থায়ী জানি-
পরকালে সুখ পাবো; এই কথা মানি।
তাই দুখ সয়ে সয়ে করে যাই সেবা,
পরোপকার না করে বড় হলো কেবা?
উপকার করি বলে গালাগাল শুনি
প্রাণ দেই, না হয়েও আমি ঋষি-মুনি।
'বলদা' বলে যারা আমারে দেয় গাল
তাদের না হয় যেন করুন এই হাল।
মানবের তরে আমি যদিও বা মরি, 
তবু তারা সুখে থাক, এই দোয়া করি।

ইয়াসমিন রাহমান শিউলি




পূর্ণিমার আলো তোমরা


তোদের ছাড়া একমুহূর্ত থাকতে চাই না আমি,
তোমরা ছাড়া জীবন আমার শূন্য মরুভূমি।
 তোমরা ছাড়া মা লাগেনা আমার একটু খানি ভালো।
তোমরা যে আমার আঁধার ঘরের পূর্ণিমার আলো।

জীবন যুদ্ধ তোরাই জন্য, 
তোদের নিয়েই আশা,
তোমরা আমার স্বপ্নের নীড়,
আশা ভালোবাসা।
তোদের কিছু হলে আমার প্রাণ পাখি যায় উড়ে,
তোদের ছাড়া বন্দী জীবন নিগূঢ় অন্ধকারে। 

সারাজীবন থাকিস রে বাবা মা
 দেশ ও দশের সেবায়, 
থাকিস রে বাবা  মা ন্যায়ের পথে
জড়াসনে মা কান্নায়। 
সৎ পথ যদি হয় বাবা মারে,
তোদের জীবনের সাথী, 
ভুলিস না মা কষ্ট আমার,
জলাঞ্জলি দিস না কভু নীতি।

ইকবাল বাহার সুহেল ( ইংল্যান্ড )




অবাঞ্ছিত কথাকাব্য


একটি কথা কি জানো 
আমিই আমার সব লেখার অনিবার্য পাঠক !

অবাক হইনি তোমার প্রতীচ্য পুরাণ পাঠে ! কালি, কলম, মন কষ্ট শরীরের, মনের নয় সেতো জানি  

প্রেমের সহবাসে তোমার "উছৃঙ্খল জীবনের পেছনেই কি ছিল আলোর আভাস" ওই লাইনটা ঘুরেফিরে বারবার ভাবি !

তোমাকে একবার পাইবার পর, নিতান্তই মাটির মনে হবে না জানি ! মনে হবে না তুমি সেই সোনার মোহর’ খানি ..

মানুষ এমন ভাবে বদলায়া যায়, ক্যান যায় জানো ?
পুন্নিমার চান হয় অমাবস্যা সাধের পিনিস ক্যান জানো ! রঙচটা রদ্দুরে মন শুকায় ক্যান জানো ..

বেশ্যাকে বসাইয়া কোলে মিয়াভাই, কী জিগান জানো ? হাবিজাবি, বাতি নিবায়া দিমু নাকি থাকব কতক কন ! কেন জিগান জানো ?

আমি কবি নই যে জন্মে জন্মে বারবার কবি হয়ে ফিরে আসব এই বাংলায় , জন্মে জন্মে যেন কবি হয়ে জন্ম নিই এই বাংলায় !

যে চোখ কাঁদে, সে চোখ ভিজে যায় ভেসে যায় ! অতঃপর কবির চোখ আবারও কাঁদে ,চোখও কাঁদে, অবিরাম ভিজে আসে, ভেসে যায় ভেসে যেতে থাকে। অতঃপর এই কথাকাব্য পড়ে , এই কথাকাব্য পড়ে তুমি যদি মুগ্ধ, গ্রস্ত, সমাহিত, নিমজ্জিত বোধ কর তবেই আমি সার্থকতা পাবো !

মোঃ হা‌বিবুর রহমান



সম‌য়ের চাকা



নদীর স্রো‌ত আর বিদ‌্যুত গ‌তি‌তে যেন সময় চ‌লে যায়,
বৈদ‌্যতিক পাখার গ‌তিটা স্ম‌রি‌য়ে দেয় সম‌য় হা‌তে নাই।
সময় গত হয় দি‌নের আ‌লো নি‌ভে যাবার সা‌থে সা‌থে,
দিন রা‌তের নিত‌্য প‌রিবর্তনে সম‌য়ের চাকা‌টি ঘো‌রে।
প্রতি‌টি নিঃশ্বাস প্রশ্বা‌সে সময়ের হি‌সেবটি মাপা যায়,
দি‌নে ভাবনা আর রা‌তে স্ব‌প্ন দেখে সময়‌টি চ‌লে যায়।
আষা‌ঢ়ে গ‌ল্পে মূল‌্যবান সময় ‌নিশ্চু‌পে হা‌রি‌য়ে যায়,
দিন, সপ্তাহ, মাস ও বছর পে‌রি‌য়ে সময় চ‌লে যায়।
জীবন এভা‌বেই শেষ হ‌য়, মানুষ হা‌রি‌য়ে যায় চিরত‌রে,
ফেরে না তারা কভু ওপার গন্তব্যের চিরন্তন পথ হ‌তে।
সম‌য়ের চাকার আবর্তনে ধী‌রে ধী‌রে সবই ঘ‌টে যায়‌,
সময় চ‌লে গে‌লে ফি‌রে পাওয়া যায় না কভু তা আর।
সময় এভা‌বেই ব‌য়ে যায়, জীবন এক‌দিন হা‌রি‌য়ে যায়,
মানু‌ষের মু‌খের সুমি‌ষ্ট কথা ও স্মৃ‌তিকথা শুধু র‌য়ে যায়।

রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়,

 চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 





                   উদাসী মেঘের ডানায়      
                                                                                                      পর্ব তেরো


অফিস ছুটি হবার,সময় হয়েছে সামিয়া সব গুছিয়ে
বের হবে এমন সময় সৈকতের ফোন, রিসিভ করতেই
বললো- তাড়াতাড়ি বাসায় যেয়ে রান্না করো আমার তিনজন বন্ধু ওদের  বউ নিয়ে আসবে রাতে খাবে
সকালে নাস্তা করে তারপর যাবে।
সামিয়ার মুখটা শুকিয়ে গেলো ভয়ে আজ কয়দিন
ওর র্শরীরটা ভালো যাচ্ছেনা, সৈকত জানে তবু ও
দাওয়াত দিলো কাল তো শুক্রবার দুপুরে বললে কি হতো।  
কি আর করা বাসায় ফোন করে বুয়াকে সব গুছাতে বলে ফোনটা রেখে দিলো।
বাসায় এসে আর শাড়ি পাল্টানো হলোনা হাত মুখ ধুয়ে,সোজা রান্না ঘরে ঢুকলো পাচঁ ছয়টি আাইটেম শেষ না হতেই সৈকত বন্ধুদের নিয়ে বাসায় এসেই
চায়ের অর্ডার দিয়ে নিজে ফ্রেশ হয়ে ড্রইংরুমে ঢুকলো।
সামিয়া চা,নাস্তা দিয়ে একটু কথা বলে নিজে চলে এলো শাওয়ার,নিতে।
ড্রইংরুমে এসে দেখে ভাবিরা সহ তাস খেলায় ব্যাস্ত
ও ওর রুমে চলে এলো বুয়াকে ডাইনিং  টেবিলে
প্লেট গ্লাস সব গুছিয়ে দিতে বলে।
রাত,এগারেোটার সময় সবাই ডাইনিংএসে খেতে বসলো। ডিনার সেরে আবার চায়ের পর্ব চলতে চলতে
তাস নিয়ে বসলো। 
আজ সারারাতই চলবে শরীরটা খারাপ লাগছে বুয়াকে ঘুমাতে বলে সৈকত কে বললো
ও বেডরুমে  চা লাগলে যেনো ডাকে।                   
পরদিন সকালে এক ভাবে বমি করছে সামিয়া সারাশরীরে রেশ বের হয়েছে আর পারছেনা বড়আপা,কে ফোন করে জানালো বোন এসে বিকেলে
ডাক্তারের কাছে নিয়ে,গেলো।
ডাক্তার রোগী দেখেই বললো মারাত্মক জন্ডিস ভর্তি
করাতে হবে হাসপাতালে সেলাইন দিতে হবে আর কিছু টেষ্ট করাতে হবে।
বড়আপা ভর্তি করিয়ে,সাগরকে জানালো সাগর রেগে
বললো -জন্ডিস হলে হাসপাতালে ভর্তির দরকার ছিলো আমার সংসার,বাচ্চাদের কে দেখবে
বড়আাপা- আমি দেখবো ঠিক আছে।
তিনদিন ধরে রোজই অফিস থেকে হাসপাতালে এসে
সামিয়াকে আখ খাওয়ায় সবার সামনে।
সবাই চলে গেলে বলে -ডাক্তার কে বলো ছেড়ে দিতে
নয়তো ডিভোর্স দিবো বলে।
সামিয়া অবাক হয়ে,মুখের দিকে তাকিয়ে,থাকলো।
রাতে প্রফেসার এলো বললো সামিয়া বাসায় যাবার,কথা বলতেই বললো,- কিভাবে যাবেন আপনার বিলোরোবিন এখনো হাাই,ছাড়া যাবেনা।
পরদিন সেই,একই ঘ্যানঘ্যান আজও বললো যখন
 ডাক্তার সাহেবকে বললো যান তবে সমস্ত রিপোর্ট ডাক্তারের কাছে,থাকবে সুস্থ্য না হওয়া পর্ষন্ত
তাই রাজি হলো সামিয়া বাসায় চলে এলো। 
সামিয়া আস্তে আস্তে সুস্থ্য হলো বড়আপা চেকআপে
নিয়ে যায় বিলোরোবিন নিল হওয়ার,পর ডাক্তার সাহেব রিপোর্ট সব বুঝিয়ে দিলো।
সংসারে ঝগড়া,মান অভিমান কত কিছুই হয় সামিয়ার
জীবন ইটের দেয়ালের ভিতর যেনো কালো এক ইতিহাস যা আঁধারেই থাকবে কেউ জানবেনা দেখবেনা এসব নাটকীয়তার গোপন গল্প কথা।
চলবে...


১৯ অক্টোবর ২০২১

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"২৭

কান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "। 


 

টানাপোড়েন পর্ব ২৭
সংযোগ



গাড়ি যথাসময়ে কৃষ্ণনগরে এসে পৌঁছালো। কৃষ্ণনগরের নাম শুনেই শিখার যেন কেমন একটা অদ্ভুত ফিলিংস হতে লাগলো।
উত্তেজিত শিখা বলল  'বৌদি ,কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির নাম অনেক শুনেছি ।এখানেই তো সেই রাজবাড়ী ?'
মাধুরী বলল  'হ্যাঁ ,স্টেশন থেকে যেতে হয় ।জোড়াদিঘির কাছে।'
শিখা বলল  'জোড়াদিঘি?'
মাধুরী (শিখার বৌদি)বলল  'শোন, তোকে বললে হবে না শুধু ।দেখাতে হবে। ঠিক আছে। আজকে তো হবে না,অন্যদিন।'
শিখা বললো  'বৌদিভাই, কৃষ্ণনগরে অধর মিষ্টান্ন ভান্ডারের খুব নাম শুনেছি। চলো না প্লিজ ,চলো ।সরপুরিয়া ,সরভাজা খুব বিখ্যাত নাকি?'
বৃষ্টি সঙ্গে তাল মিলিয়ে বললো ' পিমনি আমি খাব।'
তখন ওর বৌদি বলল  'তাহলে তো আর কিছু করার নেই ।দুই বাচ্চাই খেতে চাইছে। চলো ড্রাইভার অধর মিষ্টান্ন ভান্ডারের কাছে।,'
 ড্রাইভার বলল  'কোন দিকে যাব?'
বৌদি বলল  'এই তো নেদেরপাড়ার এদিক দিয়ে ।ট্রাফিক পুলিশকে জিজ্ঞেস করো।'
শিখা বলল  'শুনেছি নাকি এখানে উত্তম কুমার এসে  মিষ্টি খেয়েছিলেন,কোন একটা সিনেমার শুটিং করতে এসে। এটা মনে করতে পারছি না।'
বৌদি বলল ' উত্তম কুমার খেয়েছেন। এবার তোমরাও খাবে। কষ্ট করে আর নাম মনে করতে হবে না।'
গাড়ি এসে অধর মিষ্টান্ন ভান্ডার এর কাছে দাঁড়ালো। সান ভিউ নার্সিংহোম ইন্ডিকেট করছে,রয়েছে ডক্টর চঞ্চল সরকারের চেম্বার।
শিখার দাদা বৌদি গাড়ি থেকে নেমে মিষ্টান্ন ভান্ডার এর কাছে গিয়ে বলল  'সরভাজা ,সরপুরিয়া দিন তো ৫00 ,৫00,
দোকানের কর্মচারী বলল ' দাদা বৌদি আপনারা লাইনে দাঁড়ান।'
বৌদি বল্লো  'আচ্ছা। সরি।'
দোকানদার বলল' সরপুরিয়া আছে। সরভাজা পাবেন না । বাড়ন্ত।'
বৌদি বললো  'যা আছে তাই দেবেন আর কি করবো?'
বৌদি দাদার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল 'দেখলে কেমন ভিড় ।এ দোকানটা এরকম ই  জানো তো? সব সময় টাকা দিলেই সব জিনিস পাওয়া যায় না।চাহিদা এত বেশি?তবে কি অবাক কান্ড দেখো ,লাইনের কিন্তু কেউ বলল না যে দিদি, আপনারা ভেতরে যাচ্ছেন কেন ,লাইনে দাঁড়ান?'
দাদা বলল  'তাই তো?'
মাধুরী বলল  'দেখলে, তাহলে এখানকার লোকজন কতটা সভ্য?'
দাদা বললো  'ও সুযোগ পেলেই আমাকে ঠুকে  দাও না?'
ওদিকে শিখা আর বৃষ্টি সমানে বলে যাচ্ছে ' ও বৌদি ও মা,নিয়ে এসো। '
মাধুরী বলল  'দেখছিস না লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।'
শিখা চুপ করে গেল কিন্তু বৃষ্টি ..?'
এরপর  তারা যথাসময়ে মিষ্টি নিয়ে গাড়িতে উঠলো ।প্যাকেট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শিখা আর বৃষ্টি খেতে শুরু করল।
 বৃষ্টি বলল ' মা কি টেস্টি টেস্টি?'
দাদা বললো  'আমাকেও দে?'
শিখা বলল  'সরি দাদা ,নাও। হাতে করে শিখা তুলে দিল। বৌদি তুমিও নাও।সঙ্গে ড্রাইভার কেও দিল।'
ড্রাইভার বলল  'সত্যি বৌদি ,কৃষ্ণনগরের সরপুরিয়া সরভাজার নাম শুনেছি ।তবে সরভাজা তো খেতে পেলাম না ।সরপুরিয়া খেয়ে মন ভরে গেল।'
বৌদি বল্লো ' কৃষ্ণনগরে আরো অনেক জিনিস আছে,? 'সবাই কৌতুহলী হয়ে রইলো।
শিখা বলল 'কি বল তো?'
বৌদি বলল  'না ।এটা আমি বলবো না। তোমরা বলো?'
শিখা এবং বৃষ্টি মাথা চুলকাতে লাগলো।
বৃষ্টি বলল ' মা আমি পারবো?'
বৌদি তো  একেবারে চক্ষু ছানাবড়া। '
বৃষ্টি বলল  'আমি g k তে পড়েছি। ঘূর্ণির মাটির পুতুল।'
বৌদি বৃষ্টিকে জড়িয়ে ধরল আর বলল‌ 'হ্যাঁ, তোর তো মনে আছে বৃষ্টি।'
বৃষ্টি বলল   'পিমনি কিন্তু পারে নি।'
বৌদি বলল 'এখানে তুমি ১০এ ১০ আর পিমনি জিরো।'
বৃষ্টি তো খুব খুশি। বৃষ্টি হাসলে গালে টোল পড়ে ।দেখতে খুব ভালো লাগে । ও বৌদির মত খুব ফরসা ।মুখটা গোল, চোখ দুটো টানা টানা, সত্যিই আমাদের বৃষ্টি খুব সুন্দর ।শিখা মনে মনে ভাবল।
শিখাও বৃষ্টিকে জড়িয়ে ধরে অনেক আদর করলো আর বলল  'বৃষ্টি তুমি আমার কাছে চকলেট পাবে এর জন্য। '
বৃষ্টি বলল ' থ্যাংক ইউ পি মনি।'
গাড়ি কৃষ্ণনগর বাস স্ট্যান্ড থেকে ভীমপুর মাজদিয়া লাইনের দিকে যাচ্ছে।
 শিখা বলল  'বৌদি মনে হচ্ছে না গ্রাম ।শহরই তো মনে হচ্ছে।' 
বৌদি বলল 'কৃষ্ণনগর তো  শহরই।'

এবার গাড়ি কৃষ্ণনগর রাধানগর ছাড়িয়ে গেল চাঁদমারি  ,৯ব্যাটালিয়ান ক্যাম্পাস পাশ করে ,সন্ধ্যা মাঠপাড়া ছাড়িয়ে, গাড়ি চলেছে খাঁপুর ,গোবরাপোতা র দিকে।
তখন শিখাকে বলল বৌদি‌' এখন কি মনে হচ্ছে শিখা ?'
শিখা বলে  'এখন গ্রামই মনে হচ্ছে। তবে গ্রামগুলো অনেক উন্নত। চার পাশে সবুজের সমারোহ কিন্তু মাঝখানে রাস্তাঘাট একদম পাকাপোক্ত। '
খাঁপুরে একটা সবুজ অরণ্য আছে ।সেখানে দাঁড়িয়ে পড়ে শিখা কিছু সেলফি তোলে'।
 শিখার বৌদি খুব খুশি হলো যে শিখার মন থেকে দিব্যেন্দু দিব্যেন্দু ভাবটা মনে হচ্ছে যেন কেটেছে ।দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল  'এরপর খামারপাড়া ,তারপর কুলগাছি, ঝাউতলা ,তারপর আসাননগর ,ভীমপুর , চৌগাছা। 
'চৌগাছার নাম শুনে শিখা বলল " দিগম্বর বিশ্বাস .. তারা নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন না? কি ভালো যে লাগছে ঐতিহাসিক স্থান।'
এইভাবে আস্তে আস্তে‌ গাড়ি শিবনিবাস, তারপর কৃষ্ণগঞ্জ , মাজদিয়া। এবার মাজদিয়া থেকে একটা লাইন গেদের দিকে যাচ্ছে ।আর একটা  ভাজন ঘাটে র দিকে। 
বৌদি বলল ' জানিস তো শিবনিবাস  বড় বড় শিবলিঙ্গ আছে । কতদূর থেকে লোকে শিব মন্দির দর্শন করতে আসেন। এর পেছনেও একটা ইতিহাস আছে। '
শিখা আর বৃষ্টি বলল‌ ' বলো না  কি ইতিহাস?'
বৌদি বলল  'আজ বকবক করতে পারব না ।অন্য একদিন শুনে নিও ।'
এরপর গাড়ি পৌঁছালো মাজদিয়া ।মাজদিয়া ঢোকার আগে চারপাশে আমবাগান। সবুজ আর সবুজ দেখে খুব ভালো লাগলো শিখার।বাড়িঘর ও খুব বিশাল বিশাল ।শিখা বলল  'বৌদি ,এখানকার লোকজনের কি প্রচুর টাকা?'
বৌদি শিখার কানে কানে বললো  'এখানকার লোকজন বেশিরভাগ ব্ল্যাকে  কাজ করে জানিস তো?'
বৃষ্টি বললো  'মা black কি?'
 বৌদি ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দিল।
বৌদি আরো বললো তবে ভাবিস না যে এখানকার মানুষেরা কেউ চাকরি বাকরি করে না। এখানে অনেক ব্যক্তিত্ব আছেন,যারা কলেজের  প্রফেসর, টিচার,ইঞ্জিনিয়ার,ডাক্তার।আর বড় বড় ব্যবসা তো রয়েছেই।'.
শিখা বলল .'তা অবশ্য ঠিক বাড়িঘর দেখে মনে হচ্ছে।'
এইভাবে গাড়ি গিয়ে শেষ পর্যন্ত পৌঁছালো গেদেতে মাধুরীর বাবার বাড়ির কাছে। 
শিখা দেখল 'বৌদি ভাইদের বাড়ির পাশে বারোয়ারীতে পুজো হচ্ছে ।সবাই বৌদিকে দেখে এগিয়ে আসলো ।অনেকে বৌদি ভাইয়ের সমবয়সী তারাও বাবার বাড়িতে এসেছে। জিজ্ঞেস করছে বাবা ,তোকে তো চেনাই যাচ্ছে না? ভালো আছিস?'
মাধুরী হাসি মুখে বলছে  'হ্যাঁ ভালো আছি ।কাউকে কাকিমা ,কাউকে জ্যাঠা,জ্যেঠিমা,কাউকে দাদু সকলকে জিজ্ঞাসা করছে ভালো আছেন? ,প্রণাম করছে ।আর সমবয়সীদের তোরা ভালো আছিস বলে বুকে জড়িয়ে নিচ্ছে।
শিখা মনে মনে ভাবল গ্রামীণ কালচারে একটা আন্তরিকতা আছে ,হৃদয়ের টান আছে। তাই হয় তো বৌদিভাইয়ের মনটা এত ভালো ।কোনো জটিলতা নেই ।খুব ভাগ্য করে  আমরা বৌদি ভাইকে পেয়েছিলাম ।'
বাড়ীর ভেতর থেকে বৌদি ভাইয়ের দাদা -বৌদিরা সব ছুটে আসলো ।সব্বাইকে বাড়ীর ভেতরে নিয়ে গেল ।ওদের বাড়িটাও বেশ বড়সড়। চারপাশে গাছ গাছালি যৌথ ফ্যামিলি ।একসঙ্গে থাকে সবাই। এবার বাড়ির ভেতরে চলতে লাগলো- বাবা, কতদিন পরে এলি?এতদিন পর মনে পড়লো বুঝি?'
বৌদি বলল 'না গো ,কাজের চাপ। মেয়ের পড়া আছে ,এসবের জন্য আসা হয়ে ওঠে না। তাই ভাবলাম এবার যাই।একটু ঘুরেই আসি ।সবাই বলছে  যখন।'
সবাই বলল 'তা খুব ভালো করেছিস ।এটা বুঝি তোর ননদিনী ।'
মাধুরী বলল শিখাকে কাছে টেনে  'ও আমার শুধু ননদিনী নয় ।আমার বড় মেয়ে।'
 অনেকে মুখ টিপে টিপে হাসতে লাগল ।অনেকে আবার চোখের ইশারায় বোঝাতে চাইল অন্য কিছু? শিখা সবকিছুই দেখতে লাগল আর  ভাবল গ্রামের মানুষ সরল-সহজ সব ঠিক আছে ।তবে এদের ভেতরেও এমন এমন কিছু ঘরোয়া রাজনীতি করার মানসিকতাটা স্পষ্ট হয়ে ধরা দিল। 
বৌদি ভাইয়ের দাদা সবাইকে  বলল  'ফ্রেশ হয়ে কিছু খাবার দাবার খেয়ে বিশ্রাম নিতে।'
শিখা ফ্রেশ হয়ে ড্রইং ‌রুমে আসে ।সেখানে বিভিন্ন ধরনের ম্যাগাজিন আছে ।পাতা ওল্টাচ্ছে। এমন সময় একজন সৌম্যকান্তি যুবক সামনে এসে হাজির এবং আরেকটি ম্যাগাজিন হাত বাড়িয়ে হঠাৎ  বলল কিছু মনে করবেন না ।আমি একটা ম্যাগাজিন এখান থেকে নিচ্ছি ।'
শিখা বলল " সিওর ।'
ছেলেটি নিজেই অন্য একটি চেয়ারে বসে ম্যাগাজিন পড়তে লাগল ।
শিখা ভাবলো একটা অচেনা মেয়ে ঘরে আছে আর সেই ব্যক্তি তার পাশে বসেই ম্যাগাজিন পড়ছে ।এ কি রকম শিক্ষা রে বাবা ।
এমন সময় বৌদির দাদা এসে বলল  'কল্যাণ চলো ,নাস্তা করবে? শিখা তুমিও খাবে চলো।'
শিখা বলল  'না ,না ,আমি পরে খাব দাদা।'
শিখাএকটু অবাক হল এই ছেলেটি বেশ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। আর ভদ্র মনে হচ্ছে ।না জেনে শুনে কিছু মন্তব্য করাটা ঠিক হয় নি।
যাক গে শুনতে তো পায় নি।
পাশের ঘরে বৌদিভাইকে নিয়ে বিশাল আলোচনা সভা বসেছে ।হাসি-ঠাট্টা সমানে চলছে। কতদিন পর বৌদি ভাই যেন প্রাণ খুলে গল্প করছে। বাড়িতে তো সব সময় হুটোপুটি লেগেই থাকে। আমরা যা জ্বালাই। থাক বৌদিভাইকে এখন ডাকবো না।'
এমন সময় সেই ভদ্রলোক আবার এই ঘরে আসলো। শিখা একটু হকচকিয়ে গেল। এবার নিজেই নিজের পরিচয় দিল ,।নমস্কার ।আমি কল্যান।অমরদা আমার জামাইবাবু। আমি ওনার শ্যালক হই।'
শিখা উঠে দাঁড়িয়ে বলল  'আমি ও আমার বৌদি ভাইয়ের বাবার বাড়িতে এসেছি।
আমার নাম শিখা।'
কল্যান বলল "দারুন নাম তো। সব সময় শিখা হয়েই থাকুন।'
শিখা বলল 'মানে?'
কল্যান বলল 'সব কথার মানে খুঁজতে নেই।'
এরই মধ্যে বৌদিভাই এসে পড়ল আর বলল ''তাই বলি আমার ননদিনী কোথায় গেল? 
ও কল্যাণ ,না? কেমন আছো ভাই?'
কল্যান বললো " ভালো আছি দিদি। আপনারা?'
বৌদি ভাই বলল  'ভালো আছি। আমার ননদের সঙ্গে তোমার আলাপ হয়েছে? খুব ভালো মেয়ে। আমার নিজের ননদ বলে বলছি না। এর কথাই তোমাকে বলেছিলাম।'
শিখা মনে মনে ভাবল বৌদি আমার সম্পর্কে কি বলেছে?
কল্যান বলল  'হ্যাঁ এই তো আলাপচারিতা চলছিল।'
বৌদি হেসে বলল  ' আমি কি তাহলে এসে সভা ভুন্ডুল করলাম?'
কল্যান বলল ' আরো ভালো জমবে। আড্ডা দেয়া যেতে পারে।'
বৌদি বলল ' শিখা জানিস কল্যান কিন্তু কলেজের প্রফেসর?'
শিখা অবাক হয়ে গেল। তার সম্পর্কে বাজে কিছু ভেবেছে।
বৌদি বলল  'কল্যান আমার ননদ পিএইচডি করবে ।এখন বিএড এ ভর্তি করে দিচ্ছি। একটু ওকে একটু সাহায্য করো তো?'
কল্যান বলল ' সিওর'।
বৌদি বলল'এরপর তো তোমাকেই দায়িত্ব নিতে হবে ।তা ,তোমরা গল্প কর আমি আসি।'
শিখার বৌদির প্রতি একটু রাগ হলো। কি আবোল তাবোল বকে গেল।কল্যানবাবু শিখার সম্পর্কে কি ভাবছেন?'
'কি এত ভাবছেন আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন? শাস্তি কে দিল আপনাকে ?' কল্যাণের কথায়  সম্বিত ফেরে শিখার।
শিখা লজ্জা পেয়ে গেল মাথা নিচু করে বসল।
কল্যান বললো  'আমি বাঘ নয়, ভাল্লুক নয়। আপনাকে খেয়ে ফেলবো না। আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করুন।
কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছেন? বাংলা?'
আমারও বাংলা। ভালোই হলো সাহিত্যপ্রেমীরা একটু রোমান্টিক হয় জানেন তো?'
কল্যানের কথায় শিখার ভেতরে হঠাৎ একটা দোলা দিয়ে গেলো ।তারপর একটু মৃদু হেসে, তাকাল।
কল্যাণ ও শিখার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে বলল ' কি ঠিক বলছি তো?'
শিখা নিরুত্তর রইল।
কল্যান বলল  'ছাত্রী বুঝতে পারল কি না ,তার উত্তর না দিলে, টিচার তাকে পড়াবেন কি করে?'
শিখা বলল 'বোধহয়।'
কল্যান বলল ' বোধহয় কেন বললেন? নিশ্চিত নন।
না, না ঠিক আছে ।আজকে বেশি ক্লাস নেব না । আজকে গ্রামের ঠাকুর দেখতে বেরোবেন তো?'
এরইমধ্যে মামা মামা করতে করতে পিকলু এসে হাজির এবং কল্যানকে হাত ধরে নিয়ে গিয়ে বাইরে গিয়ে বাজি পটকা ফাটাবে বলে বায়না ধরল।যাবার সময়ও কল্যান শিখার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিল।
শিখার গা টা কেমন রোমাঞ্চিত হয়ে উঠল । ভাবলো এরকম কেন হচ্ছে। সাদা পাজামা ,সবুজ পাঞ্জাবিতে খুব সুন্দর লাগছিলকল্যানকে। বারোয়ারীর প্যান্ডেলে তখন গান বাজছে ' কি নামে ডাকবো তোমাকে ,কানে কানে বলে তুমি দাও। কোন্ ফুল ভালবাসো তুমি ।নামটা জানিয়ে শুধু যাও।'গানটা শুনতে শুনতে শিখার মনে একটা আলাদা মাদকতা এসে গেল। এ আবার কি ?আজ কেন মনের ভেতর এরকম হচ্ছে ?আজকে দিব্যেন্দুর কথা যেন অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে ।একই সঙ্গে নতুন সংযোগ ।কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না ।সব যেন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে।



ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"২৭ক্রমশ

দেবব্রত সরকার




আগুন 


কি আর বলি গাঁয়ে আগুন গায়ে আগুন কার  
রক্তে আমার ভাই দাদা মা সন্তান যায় যার
কি আর বলি গাঁয়ে আগুন গায়ে আগুন কার  

খড়ের গায়ে আগুন দিলি আগুন দিলি মনে 
ধর্ম আমার ধর্ম তোমার আপন আপন জনে
খড়ের গায়ে আগুন দিলি আগুন দিলি মনে 

ধর্ম কেবল নাম কে বাস্তা ধর্ম যন্ত্র ভয়
আসলে তা সমাজ গঠন মনুষ্যত্ব নয় 
ধর্ম কেবল নাম কে বাস্তা ধর্ম যন্ত্র ভয়

মনুষ্যত্ব ধর্ম মানে মানব জাতির জয়
খুন খারাপী রক্তে মাখা থাকে না সং-শয় 
মনুষ্যত্ব ধর্ম মানে মানব জাতির জয়

আর বাকিটা ব্যক্তিগত জীবন জীবি-কার
থাক না সুখে দুঃখ কিসে বাঁচান সং-সার 
আর বাকিটা ব্যক্তিগত জীবন জীবি-কার

সানি সরকার



এখন সময়টুকু 
 

ঝড়টা সাময়িক, বরাদ্দ শুধু 
এ দ্বিপ্রহরের জন্যে-ই  

আমরা সকলেই জানি, আগুন যেমন আছে 
তেমনি পাশাপাশি জলও 

আরেকটু পরেই মাটি ঠাণ্ডা হয়ে যাবে 
শালিক ও পায়রাগুলি লাফালাফি করবে পুনরায় 

দীর্ঘ সুন্দরকে ধারণ করার আগে 
একটি ঘুর্ণি সবসময়-ই থাকে 
তারপর খুব আকস্মিক আসে 
ঢেউয়ের ভেতর নিয়ে যায় 
মাত্র কিছুক্ষণের জন্যে কাঠ ও কয়লা করে 
আবার তারপর-ই আরও তীব্র 
সোনালী ও সাদা জ্যোতির কাছে
নিয়ে যাবে স্থায়ীভাবে 

এখন সময়টুকু ঠিক তেমনি

আমিনা তাবাসসুম




মোহময় তুমি



তোমার ওই মোহময় চোখ
লেগে থাকে গভীরে, গভীরে

ঠোঁটে তীব্র কবিতার রেস
বুকে পুষে রাখা কাশফুল
হেঁটে আসে নরম সকালে
        সিঁদুরের মধ্য দিয়ে

এখানে থাক শান্তির বসবাস
যে ভীষণ ভালোবাসা
                   ভীষণ প্রকাশ
নরম হৃদয় থেকে তুমুল সাগরে
প্রতিদিন পার করে নিশ্চিন্ত সংসার
 বিশ্বাস কাঁধে থেকে
     প্রতিদিন বয়োজ্যেষ্ঠ হয়

সেখানে অদ্ভুত আলো ছায়া খেলা
বুকে ঢেউ। শীতের সাইটে
এ কেবল তুমি!
               তুমিময়...

দেবাশিস সাহা




বিজয়ার পরাজয় 


অপুর দিদি দুগগা
গোবর কুড়াতে কুড়াতে জন্ম দেয় ঘুটে।
জন্ম দিতে দিতে সোমত্ত হয়ে ওঠে দুগগা।
পথে দেখা জঙ্গলের সাথে 
সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে
সূর্যাস্তের অস্তরাগ
বিজয়ার পরাজয় হয়
সিঁন্দুর খেলার ঢঙে।