১১ ডিসেম্বর ২০২০

সুমী শারমীন



প্রাক্তন


হঠাৎ কোন পাতাঝরা  বৈরী বাতাসে

যদি দেখা হয় তোমার সাথে 

চিনবে কি তুমি! 

ডাকবে কি পুরোনো আবেগের মিশেলে দেওয়া ভালোবাসার 

গোপন প্রিয় নামে ;

তাকাবে কি আগের মুগ্ধতায়,

নাকি,চশমার ফ্রেমে আটকে যাবে

চালশের মোহাচ্ছন্নতার ঘোর।


ঝুম বৃষ্টি সন্ধ্যা, কনে দেখা আলো 

পাতা ঝরা বিকেল,কিংবা

আলো আঁধারীর ডুবসাঁতার 

সবকিছু  কি ভেসে উঠবে

আর্কাইভ ক্যানভাসে।


যদি চোখ ভিজে যায়

অবেলার যমুনায়

তাহলে কি মুছিয়ে দেবে

যন্ত্রণাকাতর অশ্রুফোটা।

যে জলের লিখনে

 ছিলো না কোন ভুল,

ছিলো শুধু  হৃদমোহিনীর সুখবিসর্জন।


তোমাকে হারিয়েছি,নাকি

হারিতে জিতেছি

সে হিসেবটা তোলা থাক না হয়,

কোন এক কোজাগরী 

নিভৃত রজনীর জন্য।। 


ধ্রুপদী অস্পষ্টতায় কে কার থেকে

হয়েছি বিপন্ন বিচ্ছিন্ন, 

বড্ড গোলমেলে

 সে হিসেবের হালখাতা।। 


শুধু জানি,ভালোবাসায় ভরপুর

আমার তুমি আজ বড্ড অচেনা।

আজ আমার একটা চমৎকার 

উপাধি যুক্ত হয়েছে,উপমার আধারে

দুঃখবিলাসী প্রাক্তন।

ইসরাত জাহান, নিরু


নষ্ট সময় কষ্ট দেয়


একটা ব্যাক্তিগত অভিমান, দেয়াল

তুলে দিলো ভালোবাসার 

নির্ভরতার অভিমান,

বিশ্বাসের অভিমান,

একটা বৃত্তহীন অভিমান,

মরুদ্যানের জলের আলিঙ্গনের অভিমান।


অভিমানের দোয়েল, শীষ দেয় বুকের মাঝে;

অভিমানের ভগ্নস্তুপে দাঁড়িয়ে নিঃসীম শূন্যতা,

সহজেই ছুড়ে ফেলা যায়, এমন অভিমান হত;

যদি অভিমান গুলো জলে ভাসিয়ে

বলে ফেলো, আমারো বলার ছিল,

কিছু সুখ বাকী ছিল

তোমাকে দেবার মত!

যদি বলো, আমারো ভালোবাসা ছিল!

কন্ঠলগ্ন হয়ে প্রেমের সংঙ্ঘা ছিল

তুমি যে আমার মনের মত।


একরাশ স্নিগ্ধতা হাতে নিয়ে যদি বাড়াও হাত,

যেখানে অনন্ত এক কষ্ট হীন জীবন,

এমন অনেক কিছু হয়ত বা কখনো দেবার ছিল।

যেখানে দুঃখের উল্টোপিঠ

রাগ আর ঘৃনার উল্টোপিঠ।

চিরসুখী হই, স্বাগত জানাই সেই সুর;

রঙিন রথে অভিমান ভেঙ্গে,

আমরাও উড়ে, যাই বহুদূর।

মুন চক্রবর্তী



নিরক্ষর


অক্ষর বিহীন হলে নিরক্ষরতা 

অক্ষর পথে অবক্ষয় ছুটছে বিশ্ব ত্রাসে।

কতগুলো ইট পাথরে দাঁড়িয়ে থাকা ঘর

চারিপাশ শূন্য আবেগ বিবেক তো মরে গেছে।

বড় বড় ইউনিভার্সসিটির ডিগ্রির গোপন ফাইলে 

অক্ষর বিহীন ভালোবাসা ঝরা পাতার আলাপ।

লক্ষ কোটি বুক স্লেফে মানবিকতার অট্টহাসি

নিরক্ষর লাঙল কাঁধে,চিৎকার শিক্ষার অরাজকতার।

হত দরিদ্র সময় সংঘর্ষে, গাছের পাতায় লিখেছিল

নিরক্ষরতার অভিশাপ মুক্তির পথ,দীপান্তরের ছাল বাকলে।

অক্ষর আজ অস্ত্র বারুদ যুদ্ধের শেষ শিক্ষকতা

শিশির বিন্দুতে ঘাম ঝরে যাদের,সত্যি!নিরক্ষর!

জি এম কাউসার আলী, (অষ্ট্রেলিয়া)


 প্রতিক্ষায় থাকি


আমি প্রতিক্ষায় থাকি ঝড়ে ডানা ভাঙ্গা-

আহুত ডাহুক পাখির মত,

তুমি ফিরে এসে ভালোবাসার ছোঁয়ায় আমাকে-

সেবা যত্নে সারিয়ে তুলবে যত ক্ষত।


প্রতিক্ষায় থাকি মেঘ বৃষ্টিপানে চেয়ে থাকা-

পিপাসিত চাতকের মত,

তোমার স্বানিধ্যে পেলে আমি সিক্ত হবো-

প্রেম বর্ষনে অবিরত।


প্রতিক্ষায় থাকি নির্লিপ্ত হয়ে আকাশ পানে তাকিয়ে থাকা-

চৈত্র্যের খরতায় চৌচির হওয়া ক্ষেত মজুরের মতন,

মেঘে মেঘে বর্ষনে বর্ষনে ধরা শান্ত করবে নিয়তি-

কৃষাণীর মুখে হাসি ফুটবে পেয়ে নবান্নের কেতন।


প্রতিক্ষায় থাকি বেদনার বালুচরে পলিতে পলিতে-

চাপা পড়া বিস্মৃত স্মৃতির অনলে পোড়া স্বজনের মত,

কালে ভদ্রে পেয়ে গেলে তোমায় জীবনে আবার-

থরে থরে সাজাবো আনন্দগুলো সুখ সারির মত।


প্রতিক্ষায় থাকি শুকিয়ে যাওয়া বাঁক হারা-

অবলা সেই খরস্রোতা নদীর মত,

শ্রাবণের বার্তা হয়ে এলে ঢলে ঢলে দুকূল প্লাবিত হয়ে-

নাব্যতা ফিরে পেতো অনুভূতি যত।


আমি প্রতিক্ষায় থাকি রাতের আঁধার ঘুচিয়ে ভোরের-

সোনালী দীপ্ত সুন্দর সকালের আলোর মত,

ভালোবাসার দৈন্যতা কাঁটিয়ে আবার মোরা-

কিন্নরি প্রেমের তরে হব অবনত।

অমর্ত্য সরকার



বন্ধুর প্রতি 

ব্যর্থতার ভীড়ে হারানো নিজেকে আবারও খুঁজতে চায়,

ভাঙা স্বপ্নের টুকরো তুলে আবারও গড়তে শেখায় ।

জানে সে, হয়তো লড়ব আমি আবারও হাত বাড়ালে,

সেইতো জানে কত কষ্ট লুকিয়ে আছে হাসিমুখের আড়ালে।

আমার কাজে কখনও কখনও সে রাগে, আমি জানি,

তবুও আমায় একলা ছাড়তে সে যে বড্ড অভিমানী।

সারাদিন যার খুনসুটিতে আমিও হাসিতে মাখি,

দিনের শেষে অশ্রুপাতেও তার কাঁধেই মাথা রাখি।

হাসি ঠাট্টা বেধে রাখি আড্ডাতে যার,

আমার লড়াইয়ে লড়াকু সে বন্ধু আমার ।


শিরিন আক্তার



রঙিন দেশ


ধ্যানে তুমি, মনে তুমি 

স্বর্ণশস্যশালিনীর দেশ।

ধ্যানে তুমি,মনে তুমি

  স্বাধীন বাংলাদেশ।


রক্ত -নদীর উজান বেয়ে, 

অনন্তপানে কেতন,তুলে;

জয় বাংলা, জয় বাংলা 

বলে,এসেছিলে তুমি।


ত্রিশ লক্ষ প্রাণ, আর

লক্ষী বোনের, সোনা মায়ের, 

ইজ্জতটা বিসর্জন করি,

বিনিময়ে আমরা বিজয় পেয়েছি। 


আজ! প্রভাতোর ঐ আদিত্য ;

নিশীথ রাতে পূর্ণ মাসীর 

আহ্লাদের মতোই এদেশ।

শিল্পীর সুর,ছন্দে রেস।


বসন্ত পূজারী, আর 

ভরা নদীর স্বাধীন চেতা, 

বিজয়ী রঙে- রঙ্গিন দেশ

আমার প্রাণের বাংলাদেশ।

১০ ডিসেম্বর ২০২০

কবি মিশ্র


ইচ্ছে মতি


তোমার কাছে একটা সন্ধ্যা চেয়েছিলাম...

তুমি পাঠালে রাত্রি..

বললে, সন্ধ‍্যেটা এঁকে নিতে...


তোমাকে একটা জ‍্যোৎস্না চাইলাম

তুমি দিলে একটা অস্বচ্ছ মন

বললে, ওখানে জ‍্যোৎস্নাকে খুঁজে নাও..


আমি নদী হতে চেয়ে, প্রত‍্যাশায় চেয়ে রইলাম তোমার পানে, 

তুমি সাগর পাঠালে...

বললে নদীতে ভেসে কি হবে? 

সাগরে সাঁতার কাটতে না জানলে ??


আমি ঝড় হতে চাইলাম, 

তুমি ঢেউ তুলে আছাড় মারলে পাড়ে..

বললে , দেখ সামলাতে পারো কিনা??

ঝড় হয়ে কি করবে ??


চিৎকার করে বললাম, তাহলে একটা অন্ধকার দাও... 

তুমি হেসে বললে, আলোর খোঁজ পেলে না, অন্ধকার নিয়ে কি করবে ??


তাহলে তোমাকে দাও.. তোমাতে বিলীন হই...হারিয়ে যাই জাগতিক ইচ্ছা থেকে..

তুমি একটা আয়না দিলে...

বললে দেখ, তুমি আর আমি আলাদা নই....

আবদুল মালেক



যাওয়ার বেলায়


দেবশিশু পথ ভূলে এসেছি চলে

কাদামাটি মেখেছি সারা গায়ে

শেষ বিকেলের শীতের রোদ্দুর

গায়ে মেখে আল পথ ধরে

হেঁটেছি অনেক টা পথ ।


ডালা ভরে কুড়িয়েছি 

রাশি রাশি ফুল

যাওয়ার বেলায় ।

গৌরী প্রভা দাশ



সবাক চিত্র


আজকাল দিনগুলো কেমন যেনো

হেলায় হেলায় কেটে যাচ্ছে।

রাত ফুরিয়ে সকাল, দুপুর লম্বা হয়ে বিকেল....

 এর পর মৃদু পায়ে আসে সন্ধ্যা। 

বেলাগুলো একে একে 

চলে যাচ্ছে সময়ের সাঁকো পেরিয়ে। 


আমাকে বিমর্ষ দেখে আমার এক বন্ধু বললো-

জীবন জীবিকার কথা , ঘর গেরস্তের কথা অনেক তো হলো। 

 এবার খানিকটা নিজের কথা  বলো।


আমি ভাবনার করিডোরে তড়িৎগতিতে হেঁটে আসি।

তোমাকে ভিন্ন কিছুই দেখতে পাই না অতীত স্মৃতির ঝালরের দিকে দৃষ্টি মেলে । 


কখন যে সিঁড়ি ভেঙ্গে নামে খেয়ালগুলো, 

স্থবির মূর্তির মতো দৃষ্টি আটকে যায় প্রাচীন দেয়ালে। 

ফেলে আসা ক্ষণগুলো  বিমূর্ত হয়ে ফোটে।

 চিত্রায়িত হতে দেখি আমাদের যৌথ সময়ের 

আনন্দ বেদনার অবাক কাহিনী।

দেখতে দেখতে আমি স্মৃতির ঐশ্বর্য্যের মাঝে 

নিজেকে  হারিয়ে ফেলি।


বন্ধুকে কী করে বলি.......

 হারায়নি যে কখনো  কিছু,

তবে সে পায়ও নি কখনো কিছুই।


আইরিন মণীষা



বেকার জীবন 


অভিশাপের অপর নাম

বেকার নামক জীবন, 

থাকে না তার কোনো দাম

দুঃখেই নিত্য যাপন। 


আকাশ সমান দুশ্চিন্তা

ভবিষ্যৎ নিয়ে  ভাবনা,

রাজ্যের যত   কুচিন্তা

বাড়ায় শুধু তার  যাতনা



মিলেনা হিসেব জীবনের

হয়না পূরণ তার সাধ,

অনিশ্চিত সময় আগামীর

ইচ্ছেঘুড়ি পায় যে বাঁধ। 


কিছু মায়া  ও কিছু ছায়া

মরীচিকার পিছে ছুটে, 

বেকার জীবন খাটায় কায়া,

সুখ যদি কিছু জুটে। 


আশায় থাকে আসবে সুদিন

কাটবে সময় ভালো ,

ঘুচবে হয়ত বেকারের দু'দিন 

আসবে জীবনে আলো।

মোঃ রুহুল আমীন


 আর যেন না শুনি ধর্ষিতার আর্তনাদ

   

পৃথিবীর একজন মাত্র নারী

  যে শুধু আমার প্রিয়তমা

অন্য সব নারী আমার বোন

  কন্যা নয়তো আমার মা।


মায়ের মমতা বোনের আদর

  নয়তো কন্যার ভালবাসা

মিষ্টি মধুর মায়া ভরা ডাকের

  কত যে মিষ্টি সেই ভাষা।


ধর্ষক তুমিও তো নারীর সন্তান

   কিংবা হয়তো কারো ভাই

নয়তো কারও পিতা হও তুমি

  সেই হিসাবটা তোমার নাই?


রাস্তা বাজার আর শহর নগরে

  যেসব নারীরা চলে রোজ

তারাও কারো মা বোন কন্যা

   রাখনা কি এসব খোঁজ?

  

এতকিছু জেনেও নারীর প্রতি

   সহিংসতা চালায় যারা

মানুষ রুপের অমানুষ সবাই

  এই সমাজের কীট তারা।


গর্জে ওঠ সব দামাল ছেলেরা

  একসাথে করো প্রতিবাদ

আর যেন না শুনি কখনো

   কোন ধর্ষিতার আর্তনাদ।**************************************

           

মোঃ হুমায়ুন কবীর( পিন্টু)


দু:খ আমার মাথার মুকুট


দু:খ আমার মাথার মুকুট

কষ্ট আমার জ্বালা।

ভুল বুঝে চলে গিয়ে

আমায় করলে শুধু হেলা।


বন্ধু ভেবে তোমাই আমি

হৃদয়ে দিয়েছিলাম ঠাঁই, 

ভালবেসে ভুলে গেলে

একি তোমার প্রতিদান!


মিথ্যা তোমার ভালবাসা

নষ্ট তোমার মন,

ভালবেসে ভুলে বন্ধু

রেখে গেলে স্মৃতি। 


ভালবেসে যতন করে

রেখেছিলাম বুকে,

তিলে তিলে মনটা পুড়ে

অন্তর করলি কালা।


যত্ন করে দিলাম লিখে 

রত্ন করে রেখ,

আমার কথা মনে হলে

বইখানি খুলে পড়।

মৌসুমি আক্তার



কষ্ট


বর্গা চাষার মেয়ে আমি

ভেন্না পাতার চাউনি ঘরে,

ছেঁড়া চটে শয়ন মোদের,

সুখের নিদ্রা নয়ন ভরে ।


পান্তা জলে পোড়া মরিচ

সকালে খাই পেট ভরে,

লাল শাকে ভাত লাল করে

আহ্লদে খাই দ্বিপ্রহরে ।


শৈশব পেরিয়ে অধ্যাবসায় শেষে

নব জীবনে পদাপর্ণ ,

দেখিলাম আচমকা নয়ন খুলিয়া,

সুখে মাখা আহ্লদে কত সুখীজন ।


কষ্ট কেঁদে উঠিল মন

স্মরণে অতীত জীবন ক্ষণ,

কত কষ্টে ছিল জীবন,

বুঝিলাম পেয়ে সুখের বন।