জলকেলি
দীঘির জলে গা ভিজিয়ে
বেণীর আগল খুলে দিয়ে
পদ্মানুরাগ মালা গেঁথে
পরাবো তোমার গলে।
টিপটিপিয়ে বৃষ্টি নেমে
পলাশ ডাঙায় নাইতে যেয়ে
যতই আড়াল হওনা কেন
নিবো জারুল তলে।
মেঘ গুড় গুড় মেঘলা ডাকে
রুমঝুম ঝুম শব্দযোগে
কেয়াপাতার নৌকো গড়ে
খেলব দুজন জলে।
মোবাইলে টাইম পাশ, সম্বৃদ্ধ উল্লাস সাহিত্য হাসি ঠাট্টা খুনসুটি বিন্দাস পড়তে হবে নইলে মিস করতেই হবে। মোবাইল +91 9531601335 (হোয়াটসঅ্যাপ) email : d.sarkar.wt@gmail.com
জলকেলি
দীঘির জলে গা ভিজিয়ে
বেণীর আগল খুলে দিয়ে
পদ্মানুরাগ মালা গেঁথে
পরাবো তোমার গলে।
টিপটিপিয়ে বৃষ্টি নেমে
পলাশ ডাঙায় নাইতে যেয়ে
যতই আড়াল হওনা কেন
নিবো জারুল তলে।
মেঘ গুড় গুড় মেঘলা ডাকে
রুমঝুম ঝুম শব্দযোগে
কেয়াপাতার নৌকো গড়ে
খেলব দুজন জলে।
সৎকার
না হয় সৎকার হোক নীরবে
নিজস্ব পুরীষ আপন খেয়ালে,
তারপর একদিন ফিরে আসুক
পবিত্র পুরুষ ।
পান্ঞ্চজন্য বাজিয়ে জানিয়ে দাও
সে সমাচার, মানুষ জানুক
কিভাবে অবতরণ হয় মাহেন্দ্রক্ষণ ।
অশ্লেষা মঘা পেরিয়ে পেরিয়ে
তবেই তো উঠে আসে সারাৎসার ।
অনন্ত বসন্
দুরন্ত বসন্ত, জাগ্রত অনন্ত আহ্বানে।
নব গুন্জরনে , আজি ফাগুনে ,
হৃদয় জুড়িয়ে,মন ভুলিয়ে, দিশা হারিয়ে।
নিজ মাধুরী মিশিয়ে, বিশ্ব ভূবন মাঝারে।
সকরুণ নিবিড় বেদনা , বনমাঝে ।
ঝরিয়ে পল্লবে , করুন বেদনা বাজে ।
তবুও ব্যাকুল হয়ে আকূল, আগত সৌরভে ,
শাখায়-শাখায় , মুকুল সাজায় , গৌরবে ।
দখিনা পবনের , সুঘ্রানে তার,
মনের দুয়ারে, তোলে ঝঙ্কার ।
আজি বসন্ত, অনন্ত এই ফাগুনে ,
নিদারুণ ভালোলাগার , উষ্ণ বাতায়নে ।
কতো কল্পনায় জাল বোনে, মধুর আশায়,
অনন্ত বসন্তের, আগুন জ্বালানো ভালোবাসায় ।
না পাওয়ার খতিয়ান
রদ্দুর নয় নয় তারাদের আলো
থাক না নিকষ কালো
থাক না ব্যথার দিন -
থাক না আমার তার ছিঁড়ে যাওয়া বীন।
থাক না নিথর প্রাণ
থাক না বিবশ হৃদয়ে ব্যথার গান।
অশ্রু না হয় থাক না দু চোখ ভরে
আগল থাকুক আমার আঁধার ঘরে
থাকুক তমসা নিশা
থাকুক সমুখে অসীম গহন দিশা।
ছিঁড়ুক পালের রশি
থাকুক কৃষ্ণ পক্ষের একাদশী
থাকুক না ঝরা ফুল
থাক না পেছনে জীবন ভরানো ভুল।
থাকুক ভাটার টান
থাকুক জীবনে ক্ষতি ভরা ক্ষতিয়ান।
থাকুক সমুখে সঙ্গী বিহীন পথ
স্বপ্নে থাকুক দিবসের মহরত।
থাক না থাক না জীবনে জমাট কালো
রদ্দুর নয়, আঁধারই আমার ভালো।
রুমাল
রুমালের চতুর্দিকে ভরানো ছিল -কারুকার্যে,
প্রতিটি নকশায় ফুটে উঠেছিল
দেশীয় শিক্ষা-
সংস্কৃতির প্রেক্ষাপট
---' রুমাল থেকে এক অদ্ভূত সুবাস ছড়িয়ে পরতো বিশ্বের কোনায় কোনায়-
এই ঘ্রান নিতে এসেছে মৌমাছি ,প্রজাপতি------
তারপর যখন এল সারি সারি লাল পিঁপড়ের দল -
রুমালের বিভিন্ন স্থানে-
কারুকার্য কেটে ছিঁড়ে
করে দিল একাকার-
সংস্কৃতির সৌন্দর্য হল
চূর্ণবিচূর্ণ ।
রুমালের বিভিন্ন স্থানে -
এলোমেলো ভাবে কেটে-
কয়েকটা টুকরো বানিয়ে দিল।
শিক্ষা সংস্কৃতির কাটাছেঁড়া রূপ- বিচ্ছিন্ন টুকরোর বিভিন্ন-
স্থানে বিরাজমান।
সুন্দর সুবাসের পরিবর্তে -
রুমালের ছেঁড়া অংশ থেকে- বার হয় দুর্গন্ধ,
বিচ্ছিন্ন রুমালে আজও
হানা দেয় লাল পিঁপড়ের দল।
আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যায়-
আরও টুকরো টুকরো করতে,
সংস্কৃতি মনস্ক মানবিকতা -
রুখে দেয় এই কু-প্রয়াস ।
স্বপ্নচারিনী
আঁধার রাতে এক কাপ চা সাথে কিছুটা আবেগের ফোঁটা
খুব ঘন হচ্ছে বজ্রপাত,
বৃষ্টির সাথে এসেছে প্রভাত ।
স্বপ্নের সাথে হয়েছে আলাপ,
ভাল বাসায় বাসায় কেটে গেছে রাত ।
'স্বপ্নচারিণী তোমার ছোঁয়ায়
রঙিন স্বপ্ন বেঁধেছে আমায়'।
বেঁধেছে আমায়
কাজল কালো আঁখি তোর
বেঁধেছে আমায়
কিছুটা উত্তাপ যদি চলে আসে ভোর ।
সূর্যটা ঠিক উঠবে এখন
রাতকে জানানো হয়েছে বিদায়
সকালের সূর্য আমার হৃদয়টা কুঁড়েকুঁড়ে খায়
ভালবাসা এই বুঝি আমার জীবন থেকে
যায় হারিয়ে যায়।
অপেক্ষা
প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে একটি মেয়ে।
তিরিশ বছর আগেও ছিল
আজও দেখলাম
সে দাঁড়িয়ে।
কেমন করে হয়!
চোখে তেমনি অপেক্ষা আঁকা
তেমনি ছটফটানি শরীরী বিভঙ্গে
তেমনি হঠাৎ আনমনা।
তিরিশ বছর পরেও
প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটি
কিচ্ছু বদলায়নি, সংখ্যাদের টুকরো টুকরো করে
সে দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে
অপেক্ষায়।
জয় হোক সব-ই তার
নীল আকাশে কত তারা খসে যায় চোখের পলকে
অষ্টাদশী চাঁদ ডুবে গেলেও ডেকে যায় তেমন ঝলকে।
যাকে ভালোবেসে করি হৃদয় বিনিময়
ব্যাথাতুর এ ভাঙা হৃদয় --
সেটাই সব চেয়ে বড় সত্য। হোক না পতন তার
যুগ যুগান্তর ধরে ভাবি জয় যেন হয় সবই তার।
এমন করে বলো না!
এমন করে বলোনা
আমি পারবো না
নীড় হারা পাখি আজও ওড়ে
ছায়ার বুক চিরে
নদী তীরে, শবের খোঁজে।
চাঁদ ডানা মেলে জড়িয়ে ধরে পৃথিবী
রাত জাগা সূর্যের আড়ে,
গন্তব্য স্থানে ছুঁটে চলে ট্রেন
ফুটন্ত ভাতের শহরে.......
এমন করে বলোনা, আমি পারবো না!
পরিযায়ী শ্রমিকের রক্ত স্নাত পথ ভেঙে
জলের উঠোনে বিষণ্ণ রোদ আছড়ে পড়ে। পুরোনো বিছানা নতুন করে বিছিয়ে শুবে
আহত ইতিহাসের কলঙ্কিত পাতায়,
এমন করে বলোনা........।
দেশ প্রেমিক
কথা বলতে ভয়ে মরি
দলে দলে মহল্লায় শকুন নামে
স্নান সেরে নিচ্ছি বিষন্ন রোদে
আমরা নগ্ন হতে চাই
এরপরে আর কিছু আছে?
ডুবন্ত পৃথিবীর আবেগ আন্দোলিত হয়
চোখের সামনে খেলা করছে রক্তাক্ত ভারত
মৃত্যুরং এর টিপ পড়েছি কপালে
মৃত্যুতরঙ্গের ওপর ভেসে আসছে
দীর্ঘ শ্বাস রং এর উৎসব
প্রত্যাশা
আবদুস সালাম
হেমন্তের কুয়াশায় লেপ্টে আছে ব্যর্থ কথা
চিলের ডানায় লেখা তার রক্তাক্ত আহ্বান
অতীত কথা বুনে চলেছে পরিশ্রমী শালিক
জীবনের ধার গেছে ক্ষয়ে
শিশিরজল ভরে চলেছি ক্লান্ত থালায়
বাঁকা চোখে তাকিয়ে দেখি রাতের যন্ত্রণা
ছেঁড়া মানচিত্রের উপর পড়ে আছে জীবনের আহ্লাদ
পাঁজর ছিঁড়ে লিখে দিলাম ভালোবাসার চিঠি
02/11/2019
ধাপ্পা
সোনার অঙ্গ জড়াইছো মনু
পরের বসন দিয়ে,
ভাবখানা এমন, ভাজা মাছ ও
খাওনা যে উল্টিয়ে!
উঠতে বসতে সূর্য দেখো
আকাশ পেলে কই,
সব ভুলে আজ পেতেছ মনু
চাঁদের সাথে সই।
তোমার দেশের লতায় পাতায়
কতই না ফুল ফোটে!
ছলচাতুরী করেই তবে তোমার
কপালে অন্ন জোটে!
মেঘবালিকা, জ্যোৎস্না দেখাও
নেইযে কিছু বাকি,
যতই দেখাও আকাশ, বাতাস
সবই তোমার ফাঁকি।
জাতপাত কি পিঠে থাকে
লেখা পোষ্টারে?
জন্তুর মতো মুখটা তোমার
কুৎসিত অন্তরে।
সুযোগ পেলেই জায়গামতো
লাগিয়ে দিবা কদু,
পাব্লিকে তোমার সবই বোঝে
সাজতে এসোনা সাধু।
মাথায় পড়ল বাজ
হাটে আইছি বিসাতি কত্তি
খতে নিয়ে হাতে
পকেটে আছে তিন শ টাহা
কি হবেনে তাতে?
বউ কয়ে দেছ মিলা কিছু
আনবা কিনে আজ
সেসব কুতা শুনে আমার
মাথায় পড়ল বাজ।
নব্বই টাহা পেঁজের কেজি
ঝাল একপোয়া ষাট
পঞ্চাশ টাহায় আলু কিনে
পকেট গড়ের মাঠ।
এহন মাছ কেনব কি দিয়ে
জিরে মশেল্লা নুন
ওষধ পত্তর না কিনলি তো
হয়ে যাবানে খুন।
বউ যাবে কাল বাপের বাড়ি
মাইয়ে যাবে সাথে
ছাবাল যাবে কোচিং কত্তি
কি দিবানে হাতে।
যে কায়দায় বাড়ে চলেছ
জিনিস পাতির দাম
এসব কুতা ভাবদি গেলি
ছুটতেছ গার ঘাম।
আমরা যারা গরিব মানুষ
কামই অনেক কম
আয় আর ব্যায় হিসেব করে
আটকে যাতেছ দম।
=============================