২৪ নভেম্বর ২০২০

মোঃ রুহুল আমীন



আমরা মধ্যবিত্ত

ধোপা কাচানো শার্ট গায়ে

কালি করা স্যান্ডেল পায়ে

চশমাটা তুলে ঐ কপালে, 

কিন্তু আসল কথাটি যাবেনা

বলা, আমরা মধ্যবিত্ত বলে।


করতে হবে বাজার ঘাট

মানিব্যাগটা গড়ের মাঠ

গিন্নির ফর্দ নিলাম তুলে, 

কিন্তু সত্য কথাটি পারিনা

বলতে, আমি মধ্যবিত্ত বলে।


চাল ডাল আর নুন তেল

দাম বাড়ে সকাল বিকেল

দু'চোখ ভেজে তপ্ত জলে,

তবু খাটি কথাটি পারিনা 

বলতে, আমি মধ্যবিত্ত বলে।


সহধর্মীনি করে প্যান প্যান

ছেলে মেয়েদের ঘ্যান ঘ্যান 

পড়ে গেছি মহা গ্যাঁড়াকলে, 

তবুও মুখ বুঁজে সব সইতে 

হয়, আমরা মধ্যবিত্ত বলে। 


মাস গেলে পাইনা বেতন

ব্যবসাটাও শিকেয় এখন

আল্লাহ জানে ক্যামনে চলে, 

এ কথাও কাউকে পারিনা 

বলতে, আমি মধ্যবিত্ত বলে।

কাজী জুবাইদা


বারান্দার ফুলেরা

আমার ফুলেরা পাতাতে পাতাতে 

লিখছে কি গান কথাতে কথাতে

ভাবছে কি কিছু রাখছে মাথাতে?

মন তা ধরতে পারে না!

          তারা স্বপ্নে দুলে

          দুলায় স্বপন।


করেনা মিথ্যে বীজের বপন 

         আমার মতো ব্যাথাতে,

ওরা আমার ও ধার ধারে না

         আমি দেখি বা না দেখি

ভালো বাসি কি না বাসি

       তাতে কিছু তো যায় আসে না,

       ওরা নিজের মতো নিজেই হাসে

আমার হাসিতে হাসে না


আমি শুধু ভাবি,

         ওরা কি আমায়

সত্যিই ভালো বাসে না?

আমি কেন তবে ওদের মতো 

দিন রাত্তির পেরিয়ে যতো,

         ভুল শুদ্ধের ঠিকানা ভুলে

ওদের সাথেই বাঁচি না?


ওরা ইচ্ছে হলে ফুল ফোটাতে

       ইচ্ছে হলেই হুল ফোটাতে জানে,

আমার মতো কারো মুখ তো যাচে না।


ওরা বারান্দার এক কোণে 

       রইছে আপন মনে

ওরা জন্মাবধি বারোমাস

       তবু জমে না দীর্ঘশ্বাস 

করে না তো অভিযোগ 

       নাই কোনো মনোরোগ

নাই নিকট নেই দূর 

নাই তাল নাই সুর

      তবে শুধু নাচে গিয়ে

      বাতাসে মৃদঙ্গ বাজায়,

আমি ওদের মতো নই,

      তাই নীরব হয়ে রই। 

অকারণে কল কল

ওটা মানুষেরই ছল

      সে বোঝেনা, 

      তবু বোঝাতে চায়

তাই নাচে, তাই গায়

      এটা সভ্যতার ভরং।


আমি ঐ ফুলের দিকে চাই,

      অন্তরে বাহিরে হেরে যাই,

      আমার ভিতরে বাহিরে ছাই

শুধুই পোড়া গন্ধ পাই,

      সেই আগুনে পুড়ে অরণ্য 

      লাগে যেন দাবানল

লোভের কীটে কাটলে অমন

      পুড়বে অনর্গল।

অলোক দাস



ব্যাস্ততা

শব্দ চয়নতো আকাশে বাতাসে, তার অস্তিত্য আমরা জানি না, আমরা শুধু ব্যাস্ত ছন্দ সানবন্দে, ওপরওয়ালা আমাদের সবকিছু দিয়ে পাঠিয়েছে, আমরা শুধু চেষ্টা করতে পারি, ফল কি হবে জানি না, এটি একটি প্রবাদ বাক্য, আমাদের কোনো আলস্য নেই, আমরা প্রতিনিয়ত ব্যাস্ত - জীবন তো একটাই, আনন্দে বাঁচতে হবে, কবিতা হোক প্রকৃত মানুষের জন্যে, যারা মানুষতো হীন, তাদের জন্য নয়, 



সাইফুল আলিম



দর্শনেই ধর্ষিতা

দর্শনেতে কতো যে নারী,

ধর্ষিত হয় আজ

বেপরোয়া চলছে সেথায় 

কি মনোরঞ্জন  সাজ ।


শালীনতার বস্ত্র বিতান

নগ্ন ডি জে ফ্যাশনে

কুন্ঠিত আজ জাতির বিবেক

ইউরোপিয়ান সেশনে ।


উত্যক্ত আজ হচ্ছে পুরুষ

নোংরা চলন স্বভাবে

জাতি এখন ধ্বংসের দিকে

সুশাষনের অভাবে। 


নারী যদি স্বচ্ছ থাকে 

শ্রেষ্ঠ মানুষ হবে

ধর্ষণ করে পার পাবে না 

ধর্ষক কোথায় রবে । 


মা বোন যে সবার আছে

হয়ে মধ্যে মনি 

আইনের শাসন মানতে হবে

যতোই হোক না ধনী। 


বন্ধ যদি না করা যায় 

ডেটিং,চেটিং ফেক

শান্তি কুন্জে ঘটবে তবে

ভাঙ্গা গড়ার রেক।

মুনমুন ইসলাম মুনা



অতীত কাঠখড়ি

যত বার ভাবি তোমায় ভুলে যাবো

ঠিক তত বার দেখি তোমার মুখ।


অতীত প্রেম বর্তমানকে কাঁদায়

বর্তমান কাঁদায় অতীতকে।


বর্তমান উপহাস করে বলে আমি

ক্লান্ত তোমার অতীত ভুলে যাওয়ার

চেষ্টায়। 

আর কত,আর কত,

অতীতের কাঠখড়ি জ্বালাবে?

কয়লায় অতীতের বেদনার ছাই উড়াবে।


আমি বলি,খালি ঘরে শূণ্যস্থান পূরণ

যে হলো না,তুই বর্তমান ব্যর্থ খালি ঘর

পূরণে,তাই তো তোর বুকে অতীত 

কাঠখড়ি জমা করি,আর আমাবস্যায়

বেদনার ছাই উড়াই।

২৩ নভেম্বর ২০২০

মধুমিতা রায়



মধ্যদুপুর

চলতে চলতে হঠাৎ দেখা,

সময় তখন মধ্যদুপুর

নদীর ঘাটে ছলাৎ ছলাৎ

মনকেমনের ঠুংরি নূপুর


একটা আকাশ এত্তো বড়

একটা মাঠে আকাশ ভরা

একটা বনে সূর্য ডোবা 

অন্য বনটি আলোয় গড়া


তেমন তেমন মেলে নি তো

যেমন যেমন কথা ছিল

সেই সুরে গান গায়নি তো সে

যেই গানটি গাওয়ার ছিল


চলতে চলতে হঠাৎ দেখা

সময় তখন মধ্যদুপুর

মেঘের বুকে মাদল বাজে

মনের মাঝে টাপুর টুপুর।

কাকলী দাস ঘোষ



পরাজয় 

আমি তোমার জন্য একটা ঝড়  তুলেছি 

যাতে সবকিছু শেষ হয়ে যায় 


আমি তোমার জন্য একটা পাহাড় খসিয়েছি 

যাতে সবকিছু ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় 

আমি তোমার জন্য হিংস্র হয়েছি

তোমাকে পাব তাই। 


আর শেষে আমি শীতল হয়েছি

কারণ আমার হিংস্রতা আসলে ভীষণ বীভৎস 

মৃত্যু আমাকে হারিয়ে দিয়েছে । 

ফাহমিদা ইয়াসমিন



তোমার ব্যস্ততা খুব 


তুমি এখন ব্যস্ত অনেক 

চর্তুদিকে কাজ

সময় তোমার অনেক দামী, আমার খোঁজে থাকে না তোমার চোখ। 

দায়-দায়িত্ব  এখন তোমার আগের চেয়ে ও বেশি। সেকেন্ড মিনিট হিসেব করে চলো কাজের ঘোরে। 

নষ্ট করোনা সময় মোটেও, চলছো গাড়ির মতো। 

চোখ মেলে দেখো না আমায় সুখে আছি কতো! 

এখন আর হয় না মনে আমার কথা। 

কেমন আছি জানার সময় নাই।

মাঝে মাঝে  মান অভিমান যতই করি চোখ তুলে চাওনা দেখে মনের   ভেতর জমাট ব্যথা। 

তবুও তুমি ভালো থেকো  প্রার্থনা তাই করি।

 সময় তোমার নেই তাতে কি ভালোবাসা নিয়ো।

 আমি তোমার তোমারি আছি থাকবো তোমারি হয়ে।

ব্যস্ত আছো থাকো তোমার কাজে 

আমি কেবল তোমার জন্য সুখ কামনা করি।

শুভমিতা বিশ্বাস


যে চোখে তুই

যে চোখে তুই আকাশ দেখিস

 নূপুর জলে সাঁতার কাটিস

জলছবির এই রান্নাঘরে

আমার সাথেই ঝগড়া করিস।


শহরতলির গভীরতায়

 আনমনা হই যখন তখন।

ইট ভাঙা ঐ পথের বুকে

তোর হাসিতেই রাঙাই জীবন।



মেঘলা নখে আঁচড় কাটিস

বারিস ছুঁড়ে মারিস বুকে

চুলের ক্লিপ ফুল হয়ে যাক

তোর আমার 'বিশ্বসুখে'।


যে চোখে তুই আকাশ দেখিস

কাজল ভেজাস মধ্যেরাতে..

নাকছাবিটা গান হয়ে যায়

সেই চোখেরই মল্লারেতে।

ইমন তালুকদার



বঁধু সাজে প্রিয়া

মন চায় তারে পায়     মনে সুখ পাই

ভবজুড়ে দেখি ঘুরে    তার তুল্য নাই। 

রাঙা ঠোঁটে হাসি ফোটে    গালে পড়ে টোল,

গানে সুরে বহুদূরে   বাজে প্রেম ঢোল। 


সারাবেলা রঙখেলা    বঁধু  সাজে প্রিয়া 

প্রেম জাগে হৃদবাগে   খুঁজে  সখি হিয়া। 

হাসি  মুখ পাই  সুখ     মন যায় ভরে 

 ঘুরি বনে তার সনে     প্রিয়া হাত ধরে। 


ভব মাঝে নব সাজে      সবচেয়ে দামী

প্রিয়া হাসি  ভালোবাসি   জানে অন্তর্যামী।

মন চায় সারাক্ষণ      থাকি যেন সাথে

মনে সুখে প্রিয়া মুখে   গান শুনি  রাতে। 


তুমি ছাড়া গৃহ হারা   বেঁচে থাকা দায় 

দিন যায় রাত আয়    করি হায় হায়, 

ভালোবেসে দেবো হেসে   রাঙা ঠোঁটে চুমি, 

একসাথে রবো রাতে   আমি  আর তুমি । 


জান পাখি বলে ডাকি   থাক  তুমি সুখে

প্রেমানলে অঙ্গ জ্বলে    মরি দুখে দুখে। 

তুমি হীন দুখ বীণ    হৃদে  বাজে সুর 

ছেড়ে ঘর করে পর    যাবে নাতো দূর।

মাহমুদা মৌ



ভুল ঠিকানা খুঁজিনা 

সময়ের ব্যর্থ ধারাপাত খুঁজে,  

আমি আর ভুল পথে হাঁটিনা এখন

কাঁদে রক্ত, মজ্জা, শরীর কেবল তোর কারণে,

তবু আমি আর ভুল পথে হাঁটিনা এখন

আমাতেই বিস্তৃত আমি আজ,

কান্নার গ্লাস কবেই শো-কেসে রেখেছি উঠিয়ে,

অভিমানের এভিনিউকে পাঠিয়ে দিয়েছি আফ্রিকার নিভৃত অরন্যে,

জীবনের ক্ষতগুলো নির্বিকার আজ

ফেলে আসা সময়কে বিষণ্ণ বিলাপ ছাড়া 

আর কিছুই ভাবিনা,

দহনে দাহনে কিয়দংশ জলে ডুবি তবু

আমি আর ভুল পথে হাঁটিনা এখন,

ভুল ঠিকানায় খুঁজিনা আশ্রয়,

ভরসন্ধ্যায় অথবা উল্লসিত প্রভাতে 

কখনো যদি আলগোছে উঁকি দিস 

আমি থিতু হই সমরেশ মজুমদারের সাতকাহনে,

তোর জন্য নেই আর অপেক্ষা- অনুযোগ 

ঠোঁটজুড়ে দীপাবলি নিয়ে দিনমান হাঁটিনা,

তুই থাক অনেকের মাঝে,

আমি হাঁটি সবুজ ঘাসে 

শ্রাবণের বর্ষণে ভিজি। 

ফেলে আসা কপাট বন্ধ করে দেই অষ্টপ্রহর ঘুম 

তবু আমি আর ভুল পথে হাঁটিনা এখন

ভুল ঠিকানায় খুঁজিনা আশ্রয়।

আমির হাসান মিলন



প্রশান্তি 

তোমাকে যখন দেখি , 

আমার বুকের প্রশান্তে প্রবল ভু-কম্পন সৃষ্টি হয় 

হৃদয় ছিটকে গিয়ে চাঁদের মতোন 

পৃথিবী মঙ্গল এর মাঝে স্থবিরতা প্রাপ্ত হয় । 


তোমাকে না দেখে, 

আমার ভিতর কোন এক সুদুর সুখের অব্যক্ত ব্যথায় 

শীতের সন্ধ্যার তারার মতো লাস্যময়ী হয়ে উঠে 

নিজেকে পেয়ে খুঁজে পাই হারানো সুর । 


তোমাকে যখন দেখি , 

হৃদপিণ্ড থেকে আমার উল্কা বৃষ্টি শুরু হয় 

হৃদয়ের অনু ছিঁড়ে ছিঁড়ে 

পাকস্থলীতে ভস্মের মহাস্তুপ সৃষ্টি করে । 


তোমাকে না দেখে,

আমার দুটি চোখ চৈতি পৃথিবীর মতো খর হয়ে উঠে

সেখানে দুঃখের অশ্রু প্রতিহিংসার তাপে 

বাষ্পীভূত হয়ে লীন হয় । 


অসামান্য রূপের আলোক ছটায় 

আলোকিত না হয়ে , ডুবে থাকি আরাধনায় ।

সুচি রহমান

প্রকৃতি ও তুমি 

ই শীত চলে গেল তুমি কাছে ছিলে না অামার,

যখন অসহ্য ঋতু হিমে হিমে রুক্ষ্ণ অাবরণে

বরফের বীজমন্ত্র বুনে দিয়েছিল চারিধার,

কবির মাতাল মন বিমর্ষ হইল যে কারণে ।


তবু এই দেহে মনে বয়ে চলেছিলো উচ্ছলতা

মাতাল যৌবন ভার-- পরিপূর্ণ বাড়ন্ত ফসলে ।

অথচ জাগেনি মনে এ-শীতের কোন প্রফুল্লতা

এ-অাঙ্গুল ছুঁয়নিও যেখানে যৌবন বয়ে চলে।


প্রকৃতির রিক্ততায় হইনি অবাক একেবারে,

মজেনিতো মুগ্ধচোখ আকাশের গাঢ় নীলিমায়,

শূন্যতায় ছিল তারা তুমিহীন এই অভিসারে,

তোমারই প্রতিচ্ছবি এ-হৃদয়ে শুধু বয়ে যায় ।


দেখেছি কেবল শীত-- সেদিনের রাত্রির বেলায়,

তুমিতো ছিলে না তাই শূন্যতায় কেটেছে খেলায় ।