১১ নভেম্বর ২০২০

নিবেদিতা নাগ মজুমদার


আদম


যে ভাবে দেখতে চেয়েছি তোমাকে

ঠিক সেই ভাবে হয়ত 

উঠে এসেছে বুদবুদ, উষ্ণ গভীর স্রোতে-


অগ্নুৎপাতের সময় ফুটন্ত লাভা

সবুজ কুরিয়ে ক্রমশ হয় পাথুরে ফসিল, 


শ্যাওলার জল ছুঁয়ে

তৈরী হয় অকৃত্রিম গুহাচিত্র, অন্ধকারে-


যেভাবে পাখির বাসায় 

গুঁজে রাখে একেকটা খড়কুটো

পুরুষ পাখির ঠোঁট-


আর রাতজাগা চোখ

চিনিয়েছে বালিশের ওম

ভিজে, স্যাঁতসেঁতে 


সেইভাবে,

আমার আদিম অপেক্ষারা তোমাকে স্পর্শ করে -

ঠিক যে ভাবে দেখতে চেয়েছি তোমাকে।

মাধবী দাস



ঝড় 

কিছু কিছু উপহার বোঝা হয়ে যায় 

কিছু কিছু খাওয়া এসে গলায় জমাট বাঁধে

বৃষ্টি চাইলে বৃষ্টি নামবে সেতো আত্ম প্রত্যয়িত স্বপ্ন


শরীরের ভাঁজে ভাঁজে ওপার বাংলার ক্রোধ 

রাগে টগবগ করে পূর্ব পুরুষের রক্ত

মনে হয় ধ্বংস করি লুকিয়ে জমানো স্মৃতি গুলো

আগুনে পুড়িয়ে ফেলি কুঞ্জনগরের মগ্নতাকে

শব্দের নিলাম করে ডেকে আনি তীব্র প্রতিবাদ


আমিতো দেখেছি একটা বড়োসড়ো ঝড়ের পরেও

নারকেল গাছের বল্লী নুয়ে থাকে শুধু ধৈর্য ধরে

ওদের কাছ থেকেই প্রতিদিন তিতিক্ষার পাঠ 

প্রতিটি ধাক্কায় গড়ি সাফল্যের ছোট ছোট ধাপ


বস্তাপচা সিলেবাস ঘাঁটাঘাঁটি করি বলে

আমি সব বুদ্ধি খেয়ে বসে আছি এমন ভেবো না

হে আকাঙ্ক্ষী জেনে রেখো দুঃখ বহনের ভার নিয়ে

জন্মাইনি এ-পৃথিবীতে , সুখের পায়রাও নই আমি।

পূর্ণিমা ভট্টাচার্য (টুকুন)



অচেনা মন

বিশ্বাসগুলো পাক খেতে খেতে অবিশ্বাসে ঘোরে,

সংশয়েরা মনের ভেতর ঢুকে যায় ধীরে ধীরে।

চিন্তাদের যতই ভাবি বাদ দেবো কেটে ছেঁটে,

কোথাথেকে দুশ্চিন্তা  এসে সব কিছু দেয় ঘেটে।

গভীর রাতে স্বপ্নের দল ভরে থাকে চোখ জুড়ে,

ভাবনারা দলে দলে এসে মাথা খায় কুঁড়ে কুঁড়ে।

পাল্টে যায় ছোটবেলার ছোট ছোট কল্পনা,

তবুও যেন লেগে থাকে কিছু কয়েকটি তার কণা।

শব্দ সাজালেই বাক্য হয় না হয় না যেমন কথা,

সুসংগত থেকেও আবার যায় না জীবনে জেতা।

মনটা এমন আজব বস্তু চিনিনা তেমন করে,

উজান টানেও কেমন করে চলে সে লক্ষ্য ধরে।

জয়ন্ত দত্ত




অভিযাত্রী 


গ্রামের কাঁচাপাকা পথ পেরিয়ে

হাইওয়ে ধরে গাড়ি ছুটে চলেছে।

চারপাশে নির্জন,হেমন্তের মধ্যরাত।

উইন্ডশিল্ডে আছড়ে পড়া বাতাস কেটে

টুকরো টুকরো হয় শো শো আর্তনাদে

ছড়িয়ে পড়ছে দুপাশে।কিছুক্ষন থেমে থেমে

এম্বুলেন্সের সাইরেন বেজে ওঠে।

এসব আর্তনাদকে তোমার কান্নার মত মনে হয়

যেন আমি চলে যাবার পর তখনো

তুমি লুকিয়ে বসে কাঁদছো


এ যাত্রা অন্তহীন...

নূপুর মণ্ডল

অতলান্ত


ভাবতে ভাবতে শেষ বিন্দু পর্যন্ত ভেবেও

ভাবনাগুলির অন্ত পাইনি আজও।

তোমাকে দুহাতে জাপটে ধরবো বলে

যে ভাবনাটি হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল

কেন পুড়ে গেল সে ভাবনার উত্তর পাইনি আজও।

সারাদিন বসে বসে তোমার ছবিটি দেখব বলে

যে ইচ্ছা চোখের ক্যানভাসে রঙিন হয়ে উঠল

সেই তোমার ছবিটি কেন ফ্যাকাশে জানা হল না আজও।

আসলে ভাবনারা অতলান্ত

সারাদিন ভেবে ভেবে একটি কবিতাও হয়ে ওঠে ক্লান্ত।

কৌশিক মিশ্র


ফিরে পাওয়ার আশা


 মাটির দ্বারা তৈরী ইটে,

আস্ত এক আমার ভিটে।

ভিটের ভিতর বন্ধী থেকে,

মেজাজ যে আজ বড়ই খিটখিটে।

আরে! মেজাজের কি আর দোষ আছে ভাই?

মনের ভেতর যে আর কোন শান্তি নাই!

আতঙ্ক নাড়ছে রোজ দরজায় কড়া;

দেশ যে আজ কঠিন জীবাণুতে ভরা;

আচ্ছা! আমরা কি আর পাবো না ফিরে?

সেই "ধন ধান্য পুষ্পে ভরা,

আমাদের ওই বসুন্ধরা...."

যাহার মাঝে মাঝে আছে সে দেশ...

যে দেশ আমাদের ভারতবর্ষ,

যে দেশ সকল দেশের সেরা...।।


১০ নভেম্বর ২০২০

গৌরশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়


দরজা খুলে বাইরে দেখোনা 


মুখ নিচু করে বসে আছো যেন কতদিনের দুঃখ তোমাকে 

                            অনেক কষ্ট দিয়েছে 

আজ কতদিন পরে দেখতে এসেছি  

তোমার ঝলমলে মুখ অবকাশের ঘুম চোখ আর আকাঙ্খা 

বাইরের কতক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি 

                        ডোরবেল বাজিয়ে আছি অপেক্ষায় 

তবু কেউ তো দরজা খুলল না 


এখন বিকেল গড়িয়ে শীতের অন্ধকার 

বিকেল পাঁচটা 

আমি যেন দেখতে পেলাম 

অবিকল এক ছায়া  কত চেনা

হেঁটে দূরে চলে যাচ্ছে 

অন্য এক অন্ধকারের দিকে 

 যেখানে নির্জনতায় একা একা অনেকেই চলে যায় 


বহুদিন পর কবিতার মতো  সেই সব স্বপ্ন নিয়ে 

দু'চার কথা বলার জন্যই এসেছিলাম 

জানতে এসেছিলাম 

হঠাৎ হঠাৎ এখনো কি আগের মতো 

দরজা খুলে বাইরে দেখনা

সুস্মেলী দত্ত



দূষণ পর্ব              

    

সে কোন দেশে তেপান্তরে ছিল যে তার বাস 

ফুলের দোলা  সরস ঠোঁটে ডাইনে বামে কাশ 

মাঝের গলি  সরলরেখা বিন্দু মেশে ঘামে 

রূপকথা সে রূপকথা সে শহর গাঁয়ে জানে 

বলছি আমি নিজের কথা তোমারও সই সখি 

আপনমনে উদাস স্মৃতি একলা ঘরে বকি 

ছিল যা সব নষ্ট হলো পৃথিবী সর্পিল

 কুজন থুড়ি বাতাস ভারী শকুন ওড়ে চিল 

শূন্য গোলা নিঃস্ব মরু উধাও কালো মেঘ 

সাঁই সপাটে ঘূর্ণি ঝোড়ো দুস্টু গতিবেগ 

কেন এমন হচ্ছে নাকি ধ্বংস কলিযুগ 

কল্কি বুঝি ঐ এলো যে ধুকপুকিয়ে বুক 

ঘর ভেঙেছে কুল ছাপানো মানুষ মরা নদী 

সংক্রমণে বন্যা খরা শান্তি সুখে যতি 

গলছে হিম ফুটছে জল কাঁপছে ভূমি থরো 

সবুজ নেই সবুজ নেই আবর্জনা জড়ো 

বাঁচাও মাগো রক্ষে করো বিপথগামী আমি 

দূষণ জ্বরে আজ বুঝেছি প্রানটি ছিল দামি

ভবেশ বসু



সভ্যতার সেই বাউল অস্ত্র 


বৈষ্ণব পদাবলীতেই হয়েছে এক ভয়ংকর হত্যা,সেই প্রথম বোধহয় ইতিহাসে অপরাধ

তারপর ধারালো লোহা আবিষ্কার হয়,বোমা গুলি ও আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত সকলে

বৃক্ত থেকেই পৃথিবী ঘুরছে,কম্পাসের কাঁটা এই স্থানে রেখে যাবতীয় দাগ---অংক বিজ্ঞান সাহিত্য রাজনীতি

মর্গের মৃতদেহের মতো এটি কার লাশ,খুঁজতে খুঁজতে জ‍্যৈষ্ঠের দুপুরে বর্ষায় শীত বসন্তে অনেকবার প্রকৃতি হয়েছি

যতদিন উত্তাপের প্রয়োজন হবে,ততদিন আমিও নতুন মাংসে নতুন অক্ষরে পুরুষ নারী। 


অবিশ্বাস গর্ভে ধারণ করেছিল পিতাই,তখন মাতাই সন্তান লালন করতো অমল অন্ধকার থেকে

ক্রমে ক্রমে জন্মের অন্তর্ভেদী আর্তনাদ শুনে মাতা শুকতারার ভোরে পিতার থেকে গর্ভ কেড়ে নেয়

সেই থেকে গর্ভ-সন্তানে বিশ্বাস শব্দটি মগজে স্থাপন শুরু

তবু আদিম মস্তিষ্ক শিশির সুখ রোদ ও বৃষ্টির ভেতর অবধি

মাতা সৃষ্টি রক্ষা করতে পারলেও ক্রুশ-কাঞ্চন মধ্যে এখনো সুখ-নিঃশ্বাস পৃথক করতে পারেনি।


সেই মথুরা নগরী,প্রত্যাখ্যাত রাধা গলে গলে নদী থেকে নদী,যুগ থেকে যুগে আমাদের ঘর বৈঠকখানায় হাজির

কৃষ্ণ সে সময় যে অস্ত্র রাধার বুক লক্ষ্য করে ছুঁড়েছে,এত শতাব্দী পরেও শবের সংখ্যা বেড়ে সাতশো কোটি 

কিন্তু প্রেম নামে সভ্যতার সেই বাউল-অস্ত্র,যমুনার বুক হতে আজ অবধি উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

ডোনা মাঝি



ছুঁয়ে দেখা


ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখলাম তোমায়

বলতে চাইলাম অনেক কিছুই

হলো না কিন্তু কিছুই বলা ।

গলার মাঝে আটকে নিলাম

তোমার নানান রঙের পাগলামো

বুকের ভেতর যত্ন করে রেখে দিলাম

তোমার বুকের সুপ্ত ফুল

চোখের তারায় লুকিয়ে নিলাম

দুষ্টু হাসির কথপোকথন 

কানের মধ্যে ভরে নিলাম

তোলপাড় করা গলার সুর

তোমার সব কিছুকেই 

মনের সাথে জুড়ে নিলাম ।

ঠোঁটের মাঝে বেঁধে নিলাম

আমার একটা বন্দী মন

কান্না ধোয়া হৃৎস্পন্দন

খাঁচার ভিতর ভাঙলো তাই 

বলতে চাইলাম অনেক কিছুই

হলো না সত্যিই কিছু বলা

ছুঁয়ে ছুঁয়ে তাই দেখেই গেলাম

সত্যিই, হলো না কিছু‌ই বলা ।।

দুর্গাদাস মিদ্যা



নিদাঘের দিনে


বিনম্র রজনীর মত খোলা ছাদ হয়ে থাকো তুমি বিষণ্ণতার খেলাঘরে খেলা খেলা পাতি সাজাও আপন মনে। বেহুলার মতো হয়তো দুঃখ দুঃখ তোমার নেই তবুও মাঝ রাতে কান্না শুনি আকাশে। এযাবৎ যেসব কথা বলেছিলে তুমি  তার কাছে এসব যেন ম্লান মনে হয়। 

আসন্ন প্রসবা রমণীর মতো ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে চলাফেরা মতো ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে চলাফেরা রমণীর মতো ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে চলাফেরা মতো ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে চলাফেরা ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে চলাফেরা সে কি তোমাকে মানায়! 

তার চেয়ে চলো বনবীথিকায়

 হয়তোবা দুদন্ড শান্তি পাওয়া যেতে পারে এই নিদাঘের দিনে।

শুভমিতা বিশ্বাস




নীল উঠোনের অপেক্ষা


যদি পারো সূর্য ডুবে যাওয়ার পর এসো,

আমি এক কলসি সন্ধ্যা নিয়ে বসে থাকব 

নীল উঠোনে,

 শুরু হবে প্রতীক্ষা-

দীর্ঘ প্রতীক্ষা..


জানি,দূরের সাগরের বুকে গাঁথা সব ঢেউ, পারাপারে আসেনা- 

তবুও,কিছু ভাঙা ঝিনুক দাঁড়িয়ে থাকে এক হাঁটু লোনা জলে,


 উষ্ণতার কানায় কানায় যখন জোয়ারের জল, উপচে পড়ে

তখনই ভাঁটার মহাটান 

ফিরে যায়,

ফিরে যায় যারা পারে এসেছিল।

যারা সিঁড়ি ভেঙেছিল হৃদয়ের লোভে 

তাঁরা এখন পঙ্গু

তাঁরাও প্রতীক্ষায় আর 

আমিও....

শিবপ্রসাদ দে

স্মৃতির স্মরণী বেয়ে


আমার নিঃশব্দ বালুচরে

তোমার নিঃসঙ্গ পদচারনা, 

প্রবল তপ্ত হৃদয়ে, 

যেন হাড়হিম করা শীতল বাতাস। 

আমার ঝলসে যাওয়া হৃদয়, 

আজ আমি অর্বাচীন ও অপাঙক্তেয়।