১১ জানুয়ারি ২০২২

মমতা রায় চৌধুরী 'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" ৯০


পন্যাস 


টানাপোড়েন৯০

খেয়ালী নদী

মমতা রায় চৌধুরী


ঘুম ভাঙার পর অনেকক্ষণ বিছানায় শুয়ে ছিল রুপসা। আজকাল এভাবেই বেশ কিছুক্ষণ চোখ বুজে শুয়ে  নিজেকে একটু আবিষ্কার করার চেষ্টা করে। কেমন যেন সব এলোমেলো হয়ে গেল কিছুই মাথায় ঢুকতে চায় না ।কোথাও কিছু ফাঁকা আছে কিনা সেই মন পাখিটাকে ধরে নিয়ে কল্পনায় নিজেকে তৈরী করার চেষ্টা করছিল।
হঠাৎই ভেতরের ঘরে ফোনটা বেজে ওঠে। বাজতে বাজতে কেটে গেলো ।আবার বাজতে শুরু করলো। বেজেই চলেছে। একটু বিরক্তই হলো এত সকালে কে ফোন করেছে! শব্দটা ক্রমশ তীক্ষ্ণ হচ্ছে ।ফোনটা তুলছে না কেউ। ঝর্ণা কোথায় গেল? বিরক্তি নিয়ে রুপসা বিছানা থেকে উঠে বসল। নিজের অজান্তেই দেয়াল ঘড়িটার দিকে গেল ।ঘড়িতে তখন ৬.১০। ঝরনাটা তাহলে কোথায় গেল? ও কি  কোন কাজে বাইরে গেছে? ওদিকে নদীও ফোন ধরছে না।'

হাউসকোটটা গায়ে চাপিয়ে বিরস মুখে ফোনটা তুলে বলল 'হ্যালো।'
ও প্রান্ত মুহূর্তের জন্য নীরব। তারপর বলল'আমি সমুদ্র বলছি।'
রুপসা বলল' ও তো এখনও ঘুম থেকে ওঠে নি।
কিছু প্রয়োজন আছে?'
সমুদ্র নদীর বন্ধু। বেশ কয়েকবার বাড়িতে এসেছে। খারাপ লাগেনি। ছেলেটি সহজ-সরল। সব সময় চেষ্টা করে নদীকে হাসি খুশিতে রাখার। 
অথচ আগে নদী ছিল কতটা প্রাণবন্ত, উচ্ছল ছিল তার তরঙ্গ।
সজীব মারা যাবার পর থেকে যেন কেমন হয়ে গেছে। ছাইচাপা আগুন যেন। শুধু গুমড়ে গুমড়ে থাকে।
সমুদ্র বলল' না বলছিলাম..?'
 রুপসা বলল' আমি তো সেটাই জানতে চাইছি, কি বলতে চাইছো,?'
সমুদ্র যেন মাথা চুলকে বলল' না মানে আন্টি ,কথাটা ওকে ...।'
রুপসা বললো ' বুঝেছি কথাটা আমাকে বলবে না তাই তো?'
সমুদ্র নিরুত্তর।
রুপসা বলল 'ঠিক আছে। আমি চেষ্টা করছি ওকে ঘুম থেকে ডেকে দেবার। যদি ওঠে ভালো ।না উঠলে তো আমার কিছু করার নেই বাবা।'
সমুদ্র হেসে বলল 'ঠিক আছে আন্টি।'

রুপসার স্বামী মারা যাবার পর স্বামীর বস কোম্পানিতে জয়েন করতে বলেছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই নদীকে তেমনভাবে সময় দিতে পারে না।
মেয়েটা কেমন যেন একগুঁয়ে জেদি হয়ে যাচ্ছে।
একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে পা বাড়ালো নদীর ঘরের দিকে। প্যাসেজ টপকে নদীর ঘরের ভেজানো দরজাটা আস্তে করে ঠেলল।
ঘরে ঢুকে রূপসা নদীর ঘরের বিশৃঙ্খলা অবস্থা দেখে চমকে ওঠে। এ কি করেছে বৃষ্টি !ঘরটার বই ,খাতা ,পেন, সব খাটের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে দিয়েছে। টেডি বিয়ারটা মুখ থুবরে পড়ে আছে।
হঠাৎ দেখলে মনে হবে ঘরটা যেন কেউ তছনছ করে দিয়ে গেছে। রূপসার ত্রস্ত চোখ নির্জন ঘরটায় কয়েকবার পাক খেলেl
ছোটবেলা থেকেই নদীর সখ ছিল প্রিয় খুব কাছের মানুষদের ছবি টানিয়ে রাখা। রুপসা  প্রভাতী আলো  জানলার কাঁচ লাগানো ঝোলা ভারী পর্দা দুটোর  থেকে বেরিয়ে এসেছে। আর মন কেমন করা স্মৃতিগুলো যেন আঁকড়ে ধরছে।


তারপর কাছে গিয়ে নদীর গায়ে হাত দিয়ে ডাকতে শুরু করলো। নদী ,নদী, নদী ওঠো তোমার ফোন এসেছে?'
নদী চোখ দুটো বোজা অবস্থাতেই বলল' কার ফোন? '
রুপসা বলল'একটি ছেলের কন্ঠ। নাম  সমুদ্র।'
নদী ঘুমের ঘোরে বললো ''ওকে একঘন্টা পরে আসতে বল'।
রুপসা অগত্যা সমুদ্রের ফোনটাটা ধরে আস্তে করে বলল। ও তোমাকে পরে ফোন করতে বলl
লো কিন্তু..?'
সমুদ্র বলল' আন্টি ,আপনি ওকে বলবেন খুবই দরকার।'
রুপসা শুধু' হুম বলে  নদীর ঘরের দিকে পা বাড়ায় কিন্তু আশ্চর্য সেখানে গিয়ে নদীকে দেখতে না পেয়ে একটু আশ্চর্য হয়ে যায়।রুপসা গেস করলো 'নদী ছাদে গেছে'।কারণ ওর মন ঠিক করার একটি মাত্র জায়গা হচ্ছে ছাদ। আজ কাল নদী যেন একটু খেয়ালী হয়ে গেছে।'
রুপসাও তরতর করে সিঁড়ি দিয়ে উঠে গেল ছাদে তারপর আরষ্ট গলায় ডাকলো' নদী তোমার ফোন ।'
সমুদ্র শুনতে পেল ।
রুপসা ছাদে উঠে দেখতে পেল রুপসা আলসেতে ভর দিয়ে আচ্ছন্নের মতো তাকিয়ে আছে। ক্ষণিকের জন্য  রুপসা নদীকে দেখে ভয় পেয়ে গেছিল ।
রুপসা আরষ্ট গলায় বলল 'নদী তোমার ফোন।'
নদী যেন শুনতে পেল না।
রুপসা আবার ডাকল।
এবার নদীকে ধাক্কা দিয়ে রুপসা বলল 'তোমার ফোন আছে?'
কিন্তু নদী যখন রূপসার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল তখন তাকে দেখে মনে হয়েছিল একটা ভাবলেশহীন কিছুটা উদাস দৃষ্টি।
রূপসার ভেতরটা কেমন হু হু করে উঠলো। কি হয়ে গেল তার মেয়েটার ।কেমন একটা উদাসী বাউল মন তার ভেতরটাকে দেখে আঁতকে উঠল।'
শুধু রূপসার কথাতে এবার নদী একটু ফিরে তাকালো।
রুপসা বললো 'সমুদ্র ফোন করেছিল?'
নদী তখনও একদৃষ্টিতে রূপসার দিকে তাকিয়ে। যে নাম শুনলে নদী যেন চঞ্চল অস্থির হয়ে ওঠে একটা কেমন যেন বিদ্যুৎ খেলে যায় তার শরীরের ভেতরে আজ এমন কি হলো?'
তারপর নদী কোন কথা না বলে তরতর করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে গেল।
রুপসা তার মেয়ের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো আর মনে মনে ভাবতে লাগল আজ যা কিছু হচ্ছে তার অবর্তমানে কিছুতেই তার মেয়েটাকে সে সময় দিতে পারছে 
না ।একদিকে তার কাজের জায়গা অন্যদিকে বাড়িতে মেয়ে। কি করবে সে জীবনে বেঁচে থাকার জন্য তার কর্ম দরকার আজ যদি সজীব থাকতো ,তাহলে তাকে এগুলো চিন্তা করতে হতো না। সজীব  চলে যাবার পর থেকেই সব কিছুই যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।
'কি করবে  রুপসা?'
নদী যখন সিঁড়ি দিয়ে নামছিলো পেছন থেকে দেখে রুপসাকে নিজেই চমকে ওঠে ।তার মেয়েটা খুব সুন্দর হয়েছে।গোলাপী আভা তার শরীরে ,মাথা ভরা চুল । টানা টানা চোখ, কালো চোখের পাতা। স্লিম। 
ছোটবেলায় নদীকে নিয়ে কতজনা কত কথা বলতো নদীর পিসি ঠাম্মা বলতো রূপসার ডুবলিকেট ।কেউ কেউ বলতেন নদী হবে ওর বাবার মত দেখতে। এত ছোট অবস্থাতেও যে চেহারা বোঝা যায় এটা ভাবা কঠিন কিন্তু তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনে এমনই বলতেন।
তিল তিল করে বড় হওয়া  নদী আজ ১৭+
নদী তখন বাথরুমে রুপসা যখন নদীর ঘরে ঢুকলো  নদী বাথরুম থেকে বেরিয়ে নিষ্পলক রূপসার দিকে তাকিয়ে ছিল যেন মনে হচ্ছে কিছুটা জরিপ করছে মাকে।।
রুপসাও প্রস্তুত মেয়ে এতক্ষণ তাকে  লক্ষ্য করছিল।
রুপসা বলল 'সমুদ্রের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে?'
নদী র গলার স্বরে পরিস্কার ঝাঁঝ  রয়েছে ।আজকাল মাঝে মাঝে মুখ করে ওঠে ।ভালোভাবে কথা বলতেই চায় না।
নদী বলল 'তোমার সময় আছে ,সেসব শোনার?'
রুপসা সকাল সকাল আর কথা  বাড়ায় না।
এর মধ্যেই দেখতে পায় ঝরনা চলে যাচ্ছে পাশ দিয়ে। রুপসা সমস্ত রাগ ঝরনার ওপর গিয়ে পরলো ।তবুও নিজেকে কিছুটা শান্ত রেখে ডাকলো ঝরনা ঝরনা ঝরনা।
ঝর্ণা বললো  'কিছু বলছ বৌদি?'
রুপসা বললো' কোথায় গেছিলে তুমি না জানিয়ে?'
ঝর্ণা বললো আসলে বলে বেরোবার সে সময় ছিল না।
রুপসা বললো' কোথায় গিয়েছিলে?'
ঝর্ণা বললো' বাজারে গিয়েছিলাম? তোমাকে কদিন ধরেই তো বলছি বাজার নেই। তুমি এত ব্যস্ত..। তাই আজ একটু সময় পেলাম বলে বাজার করে নিয়ে আসলাম।'
রূপসার কথা বাড়ালো না ।ঠিকই তো বাজার না হলে  রান্না হবে কি?'
রুপসা বলল' কি এনেছে বাজার থেকে?'
ঝরনা বলল'কাতলা মাছ, চিকেন, সঙ্গে কিছু সবজি।'
রুপসা বললো আর কিছু আনো নি? দুধ গোবিন্দভোগ চাল কাজু কিসমিস ,খেজুরের গুড়?'
ঝর্ণা বললো ' এনেছি তো বৌদি?'
রুপসা বলল
ঠিক করেছ যাও তাড়াতাড়ি  নাস্তা রেডি করো। আমি বেরোবো।'
ঝর্ণা বললো বেশি সময় লাগবে না বৌদি তাড়াতাড়ি করে নিচ্ছি। তোমমায় কি আজকে টিফিনে ভাত দিয়ে দেবো?'
রুপসা বলল 'না না না ।তুমি আমায় হযlএকটু ভারী করে নাস্তা টা দাও টিফিনে আজকে আমি এখানে খাব না ।আমি বাইরে লাঞ্চ করে নেব।
নদী সবকিছু শুনতে পাচ্ছিলো আজকাল মা একটু ঘনঘন বাইরে লাঞ্চ করে , ও জানলা দিয়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল। মনে হচ্ছিল বৃষ্টির চোখে মুখে যেন বিষণ্ণতার ছাপ ।জানলা দিয়েছে এই কর্ম ব্যস্ততাকে দেখছিল । ও অনেকদিন হলো তারা গ্রাম থেকে শহরে এসেছে ।যবে থেকে মা কোম্পানিতে জয়েন করেছে আজকে শুধু নদী ভাবছে তার জীবনটা অন্যরকম হতে পারত আজকে তার বাপি বেঁচে থাকলে চারিদিকে রোদ্দুরে ভেসে থাকতে পারতো আজকে একটা বিশেষ দিন সেটা কি মা একদম ভুলেই গেল? ও কিছুই বলল না আজকে কি তার জীবনে নতুন একটা নীল আকাশ আসতে পারত না?
এর মাঝে বাইরে থেকে আওয়াজ পাওয়া গেল যে মায়ের ঘর থেকে একটা ফোনের আওয়াজ আসছে ।একবার ফোন হয়ে কেটে গেল ঝর্ণা বাইরে থেকে বলে গেল বৌদি তোমার ফোন বাজছে রুপসা মেয়ের দিকে তাকিয়ে তারপর বলল হ্যাঁ যাচ্ছি বেরিয়ে গিয়ে সামনের বারান্দার আটকে গিয়ে নিজের ঘরে ঢুকলো ঢুকে দেখছে ফোন করেছে তাদের কোম্পানির বস অরিন্দম ভদ্র। আজকাল বেশিরভাগ দিনই বস ফোন করেন ।রুপসা ভাবতে থাকে কেন কোন কারণ না থাকলেও তার স্যার ফোন করেন ভাবতে ভাবতেই ফোনটা রিসিভ করল বলল' হ্যালো'।
অপরপ্রান্ত থেকে উত্তর আসলো আজকে তোমার কথাটা মনে আছে তো?
রুপসা বলল হ্যাঁ স্যার?
ঠিক আছে তাহলে নির্দিষ্ট টাইমে অফিসে পৌঁছে যেও।তোমার জন্য কি গাড়ি পাঠাবো?'
রুপসা বলল 'না ,না, না আমি ঠিক চলে যেতে পারব।'
এরপর ফোনটা কেটে গেল। রুপসা ভাবতে থাকে সে কি কোন  রাজনীতিতে জড়িয়ে যাচ্ছে নাকি সে ভাবতে পারছে না ?তবে অফিসের বস তার প্রতি কিছুটা দুর্বল তা বোঝা যায়। আজকাল বেশ তার  কথাবার্তা বা ব্যবহারে ধরা পড়ে তাকে টিকিয়ে রাখতে হলে তাকে তো তার সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলতেই হবে ।মফস্বল থেকে আসা রুপসা কতটা বদলে গেছে নিজেই মাঝে মাঝে ভাবে এই সেই রুপসা যে একদিন ভালো করে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে ভয় পেত ।গ্রামের মানুষ এক রকম সহজ সরল তাদের সঙ্গে হেসে খেলে কাটিয়ে দিতে পারতো কিন্তু সজীব যেন চলে যাবার পর তাকে সবকিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল ।এতটাই আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ দেখিয়ে দিয়ে গেল শেষ পর্যন্ত তার জীবনটা কোন দিকে যাবে? খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে না তো ? তার সংসার তার মেয়েকে নিয়ে সে ঠিক রাখতে পারবে? এই টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়েই আজকাল বেশিরভাগ সময়ে তাকে চিন্তাগ্রস্থ করে তোলে।
মধ্য শীতের ভোরে বারবার তার বিশেষ দিনের স্মৃতিটা ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করছিল নদী। নদীর জলের গভীরতা মাপার চেষ্টা করছিল। কিন্তু তার মনে হয়েছে এই নদীতে যেন  পাক জমে যাচ্ছে।

কবি মনোয়ারুল ইসলাম এর কবিতা




গেরিলা
মনোয়ারুল ইসলাম 


আঁধারের বুক চিরে  দূর পাল্লার ট্রেন
ঝিক-ঝাক, ঝিক-ঝাক
চলে ট্রেন সাথে যায় প্রকৃতি
জানালায় মুখ রাখে উদাস যুবক । 

দৃষ্টির প্রান্তরে
কাশবন, বাঁশঝাড় 
শীর্ণ নদী, ফসলের মাঠ
হয়ে যায় 
গেরিলা যুদ্ধের স্বর্গ ভূমি ।

আকাশের চাঁদ 
প্রেয়সীর চাঁদ মুখ
রণাঙ্গনে মৃত্যুতে ঢলে পড়া 
সহযোদ্ধা ......
দূর আকাশে জ্বল জ্বল করে জ্বলে
দূর নক্ষত্র ।

মেঘ গুর গুর চমকানো বিদ্যুৎ 
ঝলসে উঠা বিমান বিধ্বংসী কামান
দূরে কোথাও বাজ পড়ে 
শব্দে 
সশব্দে ফেটে পড়া মর্টারের  শেল ।

দূর পাল্লার ট্রেন চলে 
ঝিক ঝাক, ঝিক-ঝাক
শব্দে শব্দ মিলে 
হয়ে যায় 
যুদ্ধ-যুদ্ধ
বিপ্লব বিপ্লব
উদাস যাত্রী যুবক 
ফিরে যায়
ছেড়ে আসা রণাঙ্গনে ।

কবি রাবেয়া সুলতানা'র কবিতা




প্রেম বিলাস
রাবেয়া সুলতানা

একখন্ড নির্মোহ নির্ভেজাল প্রেমের তেষ্টা
হৃদয়ে ভীষনভাবে ঘন্টা বাজিয়ে চলে,
প্রেম বিলাসি এ তনুমনে ক্ষণেক্ষণে।

বসন্তে মাতাল আমি,
লিখি যতো অব্যক্ত পদাবলী ;
মুখ আর মুখোশের আড়ালে চলে
প্রেম-অপ্রেমের দিশাহীন টানাটানি।

প্রতিটি জীবনই অপূর্নতায় পূর্ন,
পরতে পরতে সাজানো চৈত্রের দহন ;
ভোগের লীলায় মত্ত বহুরুপীজন।

গোধূলির মায়ায় সাজানো উদ্যানে মিশে যাওয়া
আমার জন্ম জন্মান্তরের অভিলাষ।
চরম ব্যাকুলতায় ভালোবাসার নীলবেদনায়,
দূরে চলে যাওয়াও কল্পনাহীন প্রেম বিলাস।

কবি রাজেশ কবিরাজ এর কবিতা




আবার তুমি 
রাজেশ কবিরাজ

আজ এই সন্ধ্যার আঁধারে, আমি  যদি  আবার
দেখতে পাই তোমারে সেই পুরাতন গলিটির ধারে ;
তুমি কি আবার চলে যাবে ! সেই  প্রথম -
দেখা হওয়ার মতো না-দেখার অভিনয়  করে ?

তুমি কি দেখবে না আমায় ? এই সন্ধ্যার কুয়াশায় !
একদিন আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম এই রাস্তায় তোমার
আশায় । তুমি আসতে অনেকটা পথ  অতিক্রম -
করে, তোমাকে দেখে আমার দু-চোখ যেত  ভরে ।

হয়তো যদি আমি কোনদিন কোন রাতে দেখি
তোমায় স্বপ্নে আবার ! সেই দিন যদি আবার -
মন চায় তোমায় কাছে পাবার ! সেদিনও 
কি  তুমি চলে যাবে, শুনবে'না কথা  আমার ?!

আমার যে কথা ছিল মনে, হয়তো পড়ে  রবে
এই গলিটির কোণে ! এত ভালোবাসার পরও তুমি -
চিনতে পারোনি আমারে,তবুও তোমারে  রাখবো
আমার এই অন্তরে ; দেখব হাজার বছর  ধ'রে ।

মনি জামান/২য় পর্ব

ধারাবাহিক উপন্যাস



সেদিন গোধূলি সন্ধ্যা ছিল
(২য় পর্ব)
মনি জামান

নিলয়ের কয়েকটা রাত কেটেছে এক প্রকার ঘুমহীন কি একটা অনুভূতি তাকে জাগিয়ে রেখেছে কয়েক রাত ধরে, হয়তো এই জেগে থাকাকে ভালবাসার নির্ঘুমতা বলে।
প্রেমিক প্রেমিকাকে প্রেম এমনি ভাবে নির্ঘুম করে দেয়, শূক্রবার রাত্রি শেষে এলো সেই ক্ষাংকিত শনিবার নুতন ভালো লাগার একটি ভোর নিলয় হয়তো এই ভোরটার জন্য এই কয়দিন ধরে অপেক্ষা করেছে।
নিলয় ভোরে উঠলো উঠেই ওয়াস রূমে গিয়ে ব্রাস আর জেল নিয়ে দাঁত ব্রাস করে ফ্রেস হলো তারপর ক্লীন সেভ হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে পরখ করে দেখে নিচ্ছে,নিলয় আজ নিজেকে দেখলো আয়নার ভিতর অন্য রকম এক নিলয়কে।
নিজেকে এভাবে পরখ করে আর কখনো দেখা হয়নি, রূমে ফিরে ফোনটা হাতে নিয়ে বাটন টিপলো মেবিনের ফোন নাম্বারে,রিং হচ্ছে একটু পর মেবিন ফোনটা রিসিভ করলো,নিলয় বলল,কি করছো কাক পাখি।
মেবিন বলল,এইতো উঠলাম ফ্রেস হলাম এখন ব্যাগ পত্র সব গুছিয়ে নিচ্ছি শোন তুমিও সব গুছিয়ে নাও নিলয়,এখন বাজে আটটা আর মাত্র দুই ঘন্টা সময় আছে আমাদের হাতে দ্রুত সেরে নাও সব কাজ।
নিলয় বলল,ঠিক আছে কাক পাখি আমি এখুনি সব গুছিয়ে নিচ্ছি বলে ফোনটা কেটে দিয়ে রেখে দিলো,নিলয় সব গুছিয়ে নিয়ে আবারও মেবিনকে ফোন করে দুজন দুজনের কথা শেষ করে ফোন কেটে দিয়ে পকেটে ভরে ব্যাগপত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়লো। 
নিলয় ও মেবিন দুজনে নিধারিত স্থানে এসে এক সাথে মিলিত হল তারপর দুজনে একটা রিক্সা ডেকে রিক্সাই উঠে বসলো,মেবিন রিক্সাওয়ালাকে বলল, কমলাপুর রেল ষ্টেশন চলো রিক্সাওয়ালা কলাপুরের দিকে রিক্সা ঘুরালো নিলয় আর মেবিন দুজনে ট্রেনে যাবে কক্সবাজার,ওদের দুজনের দুটো ফাষ্টক্লাস টিকেট আগাম কেটে রেখেছে মেবিনের বন্ধু মরুফ। রিক্সায় নিলয় আর মেবিন দুজন গল্পে মত্ত,রিক্সাওয়ালা প্রায় বিশমিনিট পর এসে পৌছালো কলাপুর। রিক্সাওয়ালা বলল, আপু এসে গেছি কমলাপুর,নিলয় আর মেবিন রিক্সা থেকে নেমে রিক্সার ভাড়া দিয়ে স্টেশনে হেঁটে এলো তারপর দুজনে এসে বসলো একটা যাত্রী বেঞ্চে,ট্রেন ছাড়তে আর মাত্র আধা ঘন্টা সময় আছে,নিলয় মেবিন স্টেশনের পাশের দোকান থেকে আনুসাঙ্গিক প্রয়োজনীয় জিনিষ পত্র গুলো কিনে দুজনে ট্রেনে উঠে ওদের সিটে গিয়ে বসলো।ট্রেন ছাড়ার সময় প্রায় আগত একটু পর ট্রেন স্টার্ট হলো বিকট চিৎকার দিয়ে উঠলো ট্রেন, কারণ যাবার সংকেত দিচ্ছে যাত্রীরা যে যেখানে আছে যেন তাড়াতাড়ি সবাই হুইচেল শুনে উঠে পড়ে ট্রেনে। 
স্টার্ট হয়েছে ট্রেন কাপছে যেন মৃদ ভূমিকম্পন হচ্ছে, ধীরে ধীরে ট্রেন চলতে শুরু করলো নিলয় আর মেবিন পাশাপাশি বসে আছে,নিলয় কেবিনের জানালা খুলে দিল ঝিরি ঝিরি বাতাস ওদের কেবিনে প্রবেশ করছে,মেবিন আজ নীল সেলোয়ার কামিজ পরেছে কপালে ছোট্ট একটা কাল টিপ পরেছে,অপূর্ব সুন্দর লাগছে মেবিনকে, ঝিরি ঝিরি বাতাস মেবিনের মাথার চুল গুলো এলোমেলো করছে, কখনো চুল গুলো আলতো করে ছুঁয়ে দিচ্ছে কপাল চোখ মুখ কখনো বা গ্রীবা।মেবিনের চোখে মুখে আজ একটা আনন্দের ঝিলিক বয়ে যাচ্ছে মনে হয় কিছু পাওয়ার প্রাপ্তির এ ঝিলিক,নিলয় অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে মেবিনের দিকে।
মেবিন নিলয়কে বলল,কি দেখছো অমন করে,নিলয় বলল,তোমাকে দেখছি কাক পাখি।
মেবিন বলল,মনে হয় কখনো দেখনি আমাকে,নিলয় দুষ্টমির হাসি হেসে বলল,না আজ প্রথম দেখছি।
মেবিন বলল,তাই নাকি?তাহলে এতদিন ধরে কাকে দেখেছো?তোমরা ছেলেরা না এমন।
নিলয় মেবিনের হাতটা হাতে নিয়ে বলল, এতদিন ধরে দেখেছি মেবিন নামের একটি মেয়েকে কিন্তু আজ দেখছি আমার স্বপ্নের এক রাজকন্যাকে,সত্যি তুমি অপূর্ব সুন্দর। মেবিন লজ্জায় লাল হয়ে গেলো এমন লজ্জা সে কখনো পাইনি আজ কেন এত লজ্জা লাগছে মেবিন জানে না।নিলয় মেবিনের গ্রীবা স্পর্শ করলো এবং আরো কাছে টেনে নিলো,মেবিন নিলয়ের কাঁধে মাথাটা রাখলো,রাখার পর মেবিনের কাঁধে মনে হল এ কাঁধ কত নির্ভাবনার কতটা প্রশান্তির তা আজ যেন অনুভব করছে মনে মনে।
হঠৎ নিলয় মেবিনকে ছোট্ট করে একটা টোকা দিয়ে আদর করে বলল,এই কাক পাখি দেখো দেখো বাইরে কত অপূর্ব সুন্দর প্রকৃতি কত রূপ যেন দিগন্ত বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রেখেছে সুবজ অরণ্য।
মেবিন দেখ ঐ দেখ তোমার প্রিয় কাশফুঁল মেবিন সেদিকে তাকালো,তখন ট্রেন আপন গতিতে চলছে একের পর এক দৃশ্যপট পরিবর্তন হচ্ছে মাঠ আর মাঠ এ যেন স্বর্গ উদ্যানের বুকে চিরে ওদের কক্সবাজার যাত্রা।
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ট্রেনও ছুটছে, দুজন প্রেমিক প্রেমিকা পাশাপাশি বসে অপলক চেয়ে আছে পরস্পরের দিকে, নিলয়ের মনে হলো মেবিনকে আজ প্রথম আবিস্কার করেছে,নিলয় মেবিনকে বলল,এই চুপ কেন কিছু বলো,মেবিন বলল,জানো নিলয় আজ খুব ভালো লাগছে তোমাকে কাছে পেয়ে।
নিলয় বলল,আমারও যে কত ভালো লাগছে তোমাকে বোঝাতে পারবো না,তোমাকে এত আপন করে কাছে পাবো ভাবিনি কখনো,মেবিন নিলয়কে বলল,তোমার মনে আছে চারুর কথা,নিলয় বলল,হ্যাঁ মনে আছে গত বছর তো তোমাদের বাসায় বেড়াতে আসলো তা হঠাৎ চারুর কথা জিজ্ঞেস করলে কেন।মেমিন বলল,চারুর জীবনে একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেলো জানি না চারু এখন কতটা মানুষিক ভাবে সুস্থ আছে,নিলয় বলল,কাক পাখি তুমি ফোনে তো কথা বলো চারুর সাথে কিছু বুঝতে পারো না ওর মনের অবস্থা,মেবিন বলল,মনে হয় সয়ে গেছে ওর কষ্ট গুলো,কক্সবাজার যাচ্ছি শুনে মা বলে দিয়েছে চারুকে যেন ফিরার পথে সাথে করে নিয়ে আসি,নিলয় বলল,ভালোই হবে চারু আমাদের সাথে আসলে।
ট্রেন ছুটছে সবুজ মাঠের বুক চিরে নিলয় মেবিনকে টোকা দিয়ে বলল,এত সুন্দর দৃশ্য আগে কখনো ট্রেনে বসে দেখা হয়নি ঐ সবুজ অরণ্য,ওরা যেন আমাদের সাথে কক্সবাজার যাচ্ছে,মেবিন সেদিকে তাকিয়ে বলল,সত্যি সুন্দর কিন্ত তুমি ইদানীংকাল খুব ফাজিল হয়ে যাচ্ছো।
নিলয় বলল,কি রকম ফাজিল,মেবিন হাহা করে হেসে উঠলো তারপর বলল,ঐ সবুজ অরণ্য আমাদের সাথে কক্সবাজার যাচ্ছে বলে আবার হাসলো।
নিলয় মেবিনের একটু চোয়াল টেনে বলল,বুঝলাম কাক পাখি তবে খারাপ বলেছি কি?মেবিন বলল,মোটেও না একটুও খারাপ বলোনি তবে জানো আমি মা"কে তোমার কথা সব বলেছি, মা তোমাকে নিয়ে যেতে বলেছে আমাদের বাড়ি,এবার কক্সবাজার থেকে ঘুরে এসে তোমাকে নিয়ে যাবো আমাদের বাড়ি।
নিলয় মনে মনে খুশি হলো আবার ভয়ও পেলো,মেবিনের মা যদি পছন্দ না করে তাকে দেখে,তখন কি হবে নিলয় যখন মনে মনে ভাবছে কথা গুলো তখন মেবিন বলল,কি ভাবছো চুপচাপ,মেবিন বলল,নিলয় জানো শীত শীত লাগছে এখন,নিলয় মেবিনকে আরো কাছে টেনে নিয়ে বলল,আমাকে জড়িয়ে ধরে বসো তাহলে শীত চলে যাবে,মেবিন বলল,খুব দুষ্ট হয়ে গেছো ইদানীং তাই না!তখন ট্রেন দুর্বার গতিতে ছুটছে কক্সবাজার অভিমুখে।


চলবে....

শামীমা আহমেদ /পর্ব ৫২




শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৫২)
শামীমা আহমেদ 

খুব সকাল সকালই রাহাত অফিসের উদ্দেশ্যে  বেরিয়ে গেলো। যাবার সময় চোখের ভাষায় শায়লাকে বুঝিয়ে গেলো আজ অফিসে গিয়েই শিহাব ভাইয়ার সাথে কথা বলবে।শায়লা একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে স্বস্তির সম্মতি প্রকাশ ঘটালো।ডাইনিংয়ে মায়ের সাথে শায়লা নাস্তা সেরে নিলো।মায়ের অভিব্যক্তিতে বেশ বুঝা যায় মনের ভেতর  অনেক প্রশ্ন জমা।কিন্তু শায়লার কাছে তার কিছুই জানতে চাইল না। শায়লাও আগ বাড়িয়ে কিছুই বলছে না।সবকিছু রাহাত, শিহাব আর সময়ের উপর ছেড়ে দিয়েছে।  শিহাব তাকে বিশ্বাস রাখতে বলেছে আর রাহাত তাকে আস্বস্ত করেছে।এখন সময়ই সব ফায়সালা করবে।
শায়লা পারতপক্ষে মায়ের মুখোমুখি হয় না।পাছে মা আবার কি শুনতে কি শুনবে, বয়স হয়েছে, এতটা কঠিন সিদ্ধান্ত মা মানতে পারবে কিনা আর এর সাথে তো রুহি খালাকে মোকাবেল করাও বিশাল এক  ভাবনার ব্যাপার!
দরজায় কলিংবেল হলো।শায়লা এগিয়ে গেলো।বুয়ার আগমন।পেছনে ইন্টারনেট বিল নেয়ার জন্য ছেলেটি দাঁড়িয়ে। ছেলেটির নাম মাসুদ।প্রতিমাসেই বিল নিয়ে যায়। খুবই ভদ্র গোছের ছেলেটি,স্কুল পড়ুয়া বয়সী,তবুও এই বয়সে কাজ করছে।বুঝা যায় ভালো ঘরের সন্তান নিশ্চয়ই অর্থাভাবে এই কাজ করা।শায়লা ঘরে গেলো বিলের টাকা আনতে।ফিরতেই এরই মাঝে রুহি খালার প্রবেশ ঘটলো।তাকে ঠেকাবার সাধ্য কার? অবশ্য শায়লারা কখনোই সেটা চায় না।ভাড়াটিয়া হলেও খুবই বিপদের আপনজন এই রুহি খালা।
শায়লা বেশ বুঝতে পারছে আগমনের হেতু! চোখে মুখে রাজ্যের প্রশ্নের ভীড়।মাকে তো আগে থেকেই সতর্ক করা আছে। দুজনেই ডাইনিং টেবিলে বসলো।মনে হচ্ছে দ্বিপাক্ষিক কোন আলোচনা শুরু হবে!কাজের বুয়া মরিয়মের মায়ের ঘর ঝাঁট দেয়া চলছে। কেমন আছো মরিয়মের মা? ডাইনিং এ আসতেই রুহি খালার জিজ্ঞাসার  জবাবে কথার তুবরী ছুটলো যেন! এক সেকেন্ড মনে হয় দশটা কথা বলে ফেলে!
--কেরুম আর থাকুম খালা? গরীবের ঘরে মাইয়া হইলো গলার কাঁটা গিলাও যায় না বাইরও করন না। পোলা পোলা কইরা চাইর চাইরটা মাইয়া হইছে।এই শেষ বয়সের পোলা কবে বড় হইব,সংসারের হাল ধরব? বড় মাইয়াডা ডাঙ্গর হইতেই বস্তির মালিকের পোলার জ্বালায় রাহন যাইতে ছিল না। তাড়াহুড়া কইরা বিয়া দিলাম।জামাই সিএনজি চালায়।বছর ঘুরতেই বাচ্চা পেডে।এহন শুনি জামাইয়ের আগে একটা বিয়ে আছে। সেহানে দুইখান পোলাপান। আমার মাইয়া আর তার সংসার করবো না।আইয়া পড়ছে।
ঘরে এত খাওনের মুখ,আবার নতুন আরেকজন লইয়া আইলো।স্বামী  রিকশা চালায়া আর কয় ট্যাকা আনে? আপনেগো বড়লোকের ঘরে মাইয়া বিয়া না দিলেও ক্ষতি নাই, বিয়া দিলেও বাপের বাড়ি থাকার কোন অসুবিধা নাই।আমগো হইছে পুড়া কপাল।মরিয়মের মায়ের বিশাল এক লেকচার গিলতে হলো সবাইকে।যদিও এর প্রতিটি বর্ণই বুকের ভেতর কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসা।শায়লা বুঝে নিলো বিয়ের পর সেওতো বাপের বাড়ি থাকছে এটাও তো একটা চিন্তার বিষয়। মরিয়মের মা রান্নাঘরে ব্যস্ত হলো। এবার রুহি খালা মুখ খুললেন।যা সে মনের ভেতর বহন করে এনেছেন।তবে তা যে শায়লার জন্য সুখকর কিছু নয় তা শায়লা বুঝতে পেরেছে।সেদিন শায়লাকে শিহাবের বাইক থেকে নেমে আসাটাতো সে সহজভাবে নেবেনা যেখানে তার সকল তত্ত্বাবধানেই শায়লার বিয়ে হয়েছে।রুহি খালা শায়লার মাকে খুবই সম্মান করে।তাই বেশিকিছু বলে ঘাটালো না।শুধু জানালো এই মাসের পঁচিশ তারিখে নোমান সাহেব দেশে আসছেন।দশদিন থাকবেন।শায়লার যাবতীয় কেনাকাটা গোছগাছ করে তিনি নিজের সাথে করে নিয়ে যাবেন।শায়লা যেন নোমান বাবাজির সাথে কথা বলে।বছর ঘুইরা আসলো বিয়ার। নিজের সংসারে যাওয়াতো উচিত।কথাগুলো বলেই রুহি খালা বিদায় নিলো।শায়লা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলো তবে ভেঙে পড়লো না।রাহাত আর শিহাব শায়লার অনেক মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে।শায়লা হিসেব করে নিলো আজ পাঁচ তারিখ পঁচিশ হতে আর বিশ দিন।শায়লা মোটেও ভীত নয়।
শিহাবকে একটা কল দিতে হবে।কাল রাতে যে অবস্থা করেছিল সে!! শায়লা হাত বাড়িয়ে মোবাইলটা কাছে আনলো।

একটা দারুন ঘুম দিয়ে  বেশ এক সুখকর অনুভুতিতে শিহাবের ঘুম ভাঙল। মন থেকে সব কালো মেঘ সরে গেছে। শায়লা তাকে মনের শক্তি যুগিয়েছে।আহ! শায়লা, আমার জীবনে তুমি না এলে আমি বোধহয় বাঁচতেই পারতাম না। শিহাব চোখ মেলেই মোবাইলে শায়লার ছবিটা অনেকক্ষন তাকিয়ে দেখলো। নিবিষ্ট মনে শায়লার মেরুন রঙা ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে রইল।শায়লার ঠোঁটেই যেন তার সব আবেদন জমা হয়ে আছে আর কাজল কালো চোখ দুটোই যেন কতকালের তৃষ্ণা। হঠাৎই শিহাবের দৃষ্টিভ্রমে ছবির শায়লা যেন কথা কয়ে উঠলো!
কি দেখছো অমন করে?
শিহাব চমকে গেলো!!৷ নিমেষেই মুচকি হেসে বললো,
তোমাকে,,
আমাকে এত দেখার কি আছে?
বাহ! তুমিই তো ছবিটা পাঠিয়েছো দেখবার জন্যে,আমি দেখবো না?
ও, আমি পাঠিয়েছি বলেই দেখছো? নয়তো....ঠিকাছে ছবি ফেরত পাঠিয়ে দাও।
শিহাবের এবারের মনোকথন যেন আহ্লাদে বলে উঠলো,শায়লা, তুমি ছবি না পাঠালেও তোমার মুখটা সর্বক্ষণ আমার মনের ভেতরে গাঁথা। যতক্ষন জেগে থাকি প্রতিটাক্ষণ দিব্যদৃষ্টিতে তোমায় দেখি। ঘুমকেও দূরে ঠেলে রাখি তোমায় ভাববো বলে। যখন দীর্ঘক্ষণ বাইক চালাই সামনে হয়তো পথ দেখে চলছি কিন্তু আমার মনের আয়নায় পুরোটাই  তুমি,মনে হয় তুমি আমার সাথেই চলছো,আমার পেছনেই বসে,আলতো করে আমায় ছুঁয়ে আছো।তোমার অনুভুতি আমার বাইকটাকে উড়িয়ে নেয় পঙখীরাজ ঘোড়ার মত।নিজেকে মনে হয় স্বপ্নপুরীর ঘোড়সাওয়ার আর দৈত্যবন্দিনীর কাছ থেকে ছিনিয়ে আনা তুমি আমার রাজনন্দিনী! আহ! শায়লা কেমন করে তুমি আমার হলে?
সে এক বিস্ময়!
আমার ঘুম ভাঙানিয়া! আমার কৃষ্ণ যামিনী!

এমনই সুখের ভাবনায় ডুবে থাকলেও  শিহাব আচমকা শায়লার কড়া শাসনের মাঝে  পড়লো! যেন ট্রাফিক সার্জেন্ট  আইন ভাঙার অপরাধে থামিয়ে দিচ্ছে!সহসাই শায়লার কল এলো।
--ঘুম থেকে কি জেগেছো রাজকুমার?আজ অফিসে যেতে হবে না?
আহ! শায়লার এমন বেরসিক প্রশ্নে শিহাবের সম্মোহনী অনুভবটা ছুটে গেলো! নাহ! এরা প্রেমিকা থাকাকালীনই ভালো থাকে, বউ বউ ভাব  হলেই যত আনরোমান্টিক হয়ে যায়।তবে শিহাব খুব গোপনে  সিদ্ধান্ত নিলো  শায়লার জন্য চিরকালই সে রোমান্টিক মুডে থাকবে। 
---হ্যাঁ,এইতো উঠছি।শিহাবের জবাব।আর যাচ্ছি বাবা অফিসে যাচ্ছি। আর শুনে রাখো নন্দিনী, অফিসটা কিন্তু আমারই,কারো অফিসে কিন্তু আমি চাকর নই,আমার যখন ইচ্ছা আমি যাবো,,বুঝলেন ম্যাডাম!! বলেই শিহাব, ওকে,বাই বলেই ওয়াশরুমের এমারজেন্সি কলে এক ভোঁ দৌড় দিলো!
অফিসের জন্য তৈরি হয়ে  শিহাব শায়লাকে মেসেজ পাঠালো,শায়লা,তুমি আমার ফিরে পাওয়া চাঁদ।তুমি আমার মায়া ধরানো নিশুতি রাত!খুব ভালো থেকো।
আহ! জরুরি কথাটাই তো লেখা হলোনা, শিহাব আবার মোবাইল  অন করলো,লিখলো,
তোমাকে নিয়ে  শুক্রবার জিগাতলায়  যাচ্ছি,রাহাত আর মায়ের অনুমতি নিয়ে রেখো। বাই।
মূহুর্তেই শায়লার কাছে মেসেজ পৌঁছে গেলো।শায়লা মেসেজ দেখে মিটিমিটি হাসলো।কোন রিপ্লাই দিলো না, নয়তো অফিস যেতে দেরি হয়ে যাবে।শায়লার চোখে কল্পনায় সে শিহাবকে ভেবে নিলো। নিশ্চয়ই সকালের ফ্রেশ লুকে শিহাবকে অপূর্ব লাগছে।আর সানগ্লাস লাগিয়ে যখন বাইক চালাবে কত মেয়ে যে হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরবে। পরক্ষণেই শায়লা ভাবলো, আচ্ছা আজ  একটা ছবি চাইবো। নয়তো বলবো, অফিসেই একটা সেল্ফি তুলে পাঠাও!
শায়লার ছেলেমানুষিতে সে নিজেই হেসে পরক্ষনেই  ম্রিয়মাণ হয়ে গেলো।এত সুখ এত স্বপ্ন কি আমার জীবনে সত্য হয়ে ধরা দেবে? শায়লার বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠলো।
লাঞ্চের আগে আগেই রাহাত শিহাবকে কল দিলো।এ নিয়ে প্রায় অনেকদিনই কথা হলো শিহাবের সাথে কিন্তু দুজনার আজো দেখা হয়নি।কী অদ্ভুত এক যোগাযোগ। তবে যাই হোক শিহাবকে কিন্তু রাহাতের বেশ ভালো লেগেছে। শুধু আফসোস হয়  আর কিছুদিন আগে কেন আপনি আপুর জীবনে এলেন না?
কেন পরিচয়টা হতে এত দেরি হয়ে গেলো।কিন্তু তবুও মন্দের ভালো যে,আপু এমন একটা সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে।চিরকালইতো ইন্ট্রোভার্ট টাইপের আপু।
শিহাবের সাথে রাহাতের কথা হলো।দুজনেই মার্জিত আর ভদ্রতা প্রকাশে চূড়ান্ত দেখালো।দুজনার মনে একটি কমন বিষয় শায়লা।শায়লাকে সম্মান জানাতে শিহাবের সর্বোচ্চ চেষ্টা আর  আপুকে খুশি করতে যেন রাহাতের প্রানান্তকর ইচ্ছা।
শিহাব জানালো পরশুদিন শুক্রবার তোমার আর মায়ের অনুমতি মিললে আমি শায়লাকে আমাদের বাসায় নিয়ে যেতে চাই।শায়লার কাছে জেনেছো কিনা আমার চার বছরের একটি ছেলে আছে নাম আরাফ।
রাহাত অকপটেই জানালো, হ্যাঁ,আপুর কাছে জেনেছি।
শিহাব বলে চললো, শায়লাকে আমার বাবা,মা, ভাবী আর আমার  আরাফ বাবুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।যদি এতে না তোমাদের কোন আপত্তি থাকে।আর শায়লাই আরাফের মা,আমি আমার ছেলেকে সেটাই জানাবো। আরাফ সারাজীবন শায়লার কাছে মায়ের আদর পাবে আমার শুধু এটাই চাওয়া।
শিহাবের কথা খুবই স্পষ্ট এবং গোছানো। রাহাতের খুবই ভালো লাগে।তাইতো শিহাবকে দেখার জন্য রাহাতও বেশ উদগ্রীব হয়ে উঠলো!  
শিহাব জানালো,নিশ্চয়ই দেখা করবো।আমারতো একই এলাকায় থাকি।তুমি চাইলে যে কোনদিন সন্ধ্যার পর আমি তোমার সাথে দেখা করতে পারি।রাহাত এবার একেবারে পুরোপুরিই শিহাবের ভক্ত অনুরক্ত হয়ে গেলো।দুজনেরই সিদ্ধান্ত হলো বৃহস্পতিবার রাতে দেখা হচ্ছে।জায়গাটা পরে শিহাব জানিয়ে দিবে। 
চমৎকার একজন মানুষ আমাদের পরিবারের একজন হয়ে উঠছেন! রাহাত খুবই আনন্দিত হয়ে উঠলো! আপুর কাছে শুনেছে সে দেখতেও নাকি সালমানখানের জুরুয়া ভাই!! রাহাত মনে মনে পুলকিত হলো বেশ! সে শিহাবের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে অফিসের কাজে মনযোগী হলো।ওপ্রান্তে
শিহাব ফোন রাখতেই রিশতিনার রাতের সেই নম্বরটা থেকে কল এলো। হয়তো গুলশানে সে শিহাবেরই অপেক্ষায়। শিহাব কিছুটা কি যেন ভেবে নিয়ে রিশতিনার কলটা রিসিভ করলো ।


চলবে....

০৯ জানুয়ারি ২০২২




উপন্যাস 

টানাপোড়েন ৮৯
বিদায়
মমতা রায়চৌধুরী।
৩১.১২.২১
রাত্রি১.৩৫
আজ একটা দিন গেল বটে রেখার ,কতটা ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।একদিকে গত রাত্রে সাড়ে বারোটায় বাড়ি ফেরা হঠাৎই কাকিমার শরীর খারাপ কথাটা শুনেই ছুটতে হলো ।মনোজকে নিয়ে দেশের বাড়ি কাকিমার কাছে । ফলে স্কুলে যেতে পারে নি । হঠাৎ কোন বাজলো'কেন দূরে থাকো শুধু আড়াল রাখো, কে তুমি কে তুমি আমায় ডাকো'। গাড়িতে যেতে যেতেই ভাবছিল এসমস্ত কথা। ফোনটা বের করে দেখে বড়দির ফোন।
রেখা ফোনটা রিসিভ করে বলে' হ্যাঁ দিদি বলুন।'
বড়দি বললেন' রেখা আজকে তুমি স্কুলে আসলে না?'
রেখা বলল' আসলে দিদি একটা প্রবলেম হয়ে গেছে।'
বড়দি বললেন'তুমি না আসলে তো এদিকে প্রবলেম হয়ে যাবে।'
রেখা বলল' হ্যাঁ আমি সেটা জানি।'
বড়দি বললেন" কি হয়েছে?'
রেখা বলল'আসলে আমার কাকিমা  হঠাৎ অসুস্থ। তাই সেখানে যাচ্ছি।'
বড়দি বললেন' ও তাই বুঝি?'
রেখা বলল' হ্যাঁ ,দিদি।'
বড়দি বললেন'হ্যাঁ সেখানে তো যেতে হবেই। ঈশ্বর কাছে প্রার্থনা করি যেন সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যায়।"
রেখা বলল' হ্যাঁ দিদি এটুকুই প্রার্থনা।'
বড়দি বললেন' কিন্তু স্কুলের প্রোগ্রামের ব্যাপারটা..।'
রেখা বলল' চিন্তা করবেন না দিদি প্রোগ্রামের যা-কিছু অ্যারেঞ্জমেন্ট সব আমি করেই 
রেখেছি ।শুধু দোকান থেকে যে জিনিসগুলো আনার দরকার ,সেগুলো নিয়ে নিতে হবে। আমি টিচারদের বলে দিচ্ছি।'
বড়দি বললেন 'সে তো ঠিক আছে কিন্তু পুরো প্রোগ্রামটা সঞ্চালনার ব্যাপার রয়েছে।'
রেখা বলল 'যদি কাকিমা স্টেবল  থাকেন, তাহলে আমি আজকে রাত্রে ফিরবো ।কালকে স্কুলে জয়েন করব দিদি.'।
বড়দি বললেন' আমি জানি তোমার কাজের ব্যাপারে কতটা তুমি সিরিয়াস ,।সে ব্যাপারে আমার কোন অভিযোগ নেই ।কিন্তু তা হলেও এ ব্যাপারটা তো আর তোমার হাতে নয় ।সেই জন্যই চিন্তা হচ্ছে।'
রেখা বলল' হ্যাঁ দিদি সেটাই তো?'
বড়দি বললেন 'ঠিক আছে। তুমি দেখো ফোনে যোগাযোগ করে ,কি করতে পারো ?আমাকে একটু জানিও কেমন?'
রেখা বলল 'হ্যাঁ দিদি সে তো জানাবো ই। আমি ঐদিন থে প্রেসেন্ট না থাকতে পারলে আমারও প্রচন্ড খারাপ লাগবে?'
বড়দি বললেন'হ্যাঁ সে তো ঠিকই। রিম্পার ও  খারাপ লাগবে। তোমাদের মধ্যে এত সুন্দর বন্ডিং ভাবতেই অবাক লাগে ।বেশিরভাগ  টিচারদের মধ্যে তো শুধু দলাদলি আর মনোমালিন্য।'
অপল্লো বিদায় সম্বর্ধনা ।'বিদায় 'শব্দটা আমার কাছে প্রচন্ড যন্ত্রণা দায়ক।'
বড়দি বললেন 'সেটা আমি উপলব্ধি করতে পারি।'
রেখা বলল তবু তো মেনে নিতেই হবে।
ঠাকুরের কথায়
যেতে নাহি দিব হায়
তবু যেতে দিতে হয়
তবু চলে যেতে হয়।'
বড়দি বললেন' একদম হক কথা।'
রেখা বলল ' কি করে যে প্রোগ্রামটা আমি সঞ্চালনা করব সেটাই বুঝতে পারছি না ।তবু চেষ্টা করব?'
বড়দি বললেন'সে আস্থা আমার আছে তোমার প্রতি। তোমরাও সাবধানে যেও।'
রেখা বলল' হ্যাঁ, দিদি।'
তারপর রেখা এটাই ভাবছিল যে পরের দিন যেহেতু রিম্পাদির বিদায় সম্বর্ধনা ফলে সমস্ত কিছুর প্রোগ্রাম এরেঞ্জ এর দায়িত্ব তার কাঁধে তুলে দিয়েছেন বড়দি। এমন কি,একটা মেমেন্টো এতদিনের স্কুলের স্মৃতি, সেখানে ভেতরের লেখাটা পর্যন্ত রেখাকে লিখে দিতে হয়েছে ।কিন্তু সেগুলো যে দোকানে ছিল, সেখান থেকে আনার দায়িত্ব ওই মুহূর্তে ঠিক করে নিতে হয়েছে  ।কেননা যদি কাকিমার বাড়াবাড়ি হয়ে থাকে তাহলে তো ফিরতেই পারবে না । বাড়ি পৌঁছে রেখা দেখল কাকিমা একটু স্টেবল।এদিকে মনেপ্রাণে চেয়েছিল অনুষ্ঠানে থাকতে। তাদের এতদিনের
সম্পর্ক। এতগুলো বছর একসঙ্গে কাটানো। শুধু স্কুল জীবন নয় , তারা সাংসারিক জীবনের সুখ-দুঃখ-কষ্ট সময়ের প্রতিটি পল শেয়ার করেছে। ।রিম্পাদি না থাকলে রেখার স্কুলের অস্তিত্ব কি রকম হবে সেটা ভেবে যেমন সে কষ্ট পেয়েছে , তেমনি আঁতকে  উঠেছে ।তার বিদায় যাত্রাটাকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে দেবার দায়িত্ব তার কাঁধে ছিল । সমস্ত  প্রোগ্রাম এরেঞ্জ করা। ফোনে ফোনে অন্যান্য টিচারদের  দায়িত্ব দিয়ে,বড়দিকে জানিয়ে দেওয়া। রেখার  স্কুলে না আসলেও যাতে কোন অসুবিধা   না হয় । ঈশ্বর তো মনের কথা শোনেন ,সত্যি করেই যদি ঈশ্বরকে ডাকা যায়। রেখার কথাও  শুনেছেন ।
মনোজকে নিয়ে তড়িঘড়ি করে গেছে কাকিমার কাছে। সেখানে গিয়ে যেন ভূত দেখছে । সমু মানে সোমদত্তা বসে আছে ।
গাড়ি থেকে নামতেই ভোলা কাকা এসে বলল ', তুমি এসেছ চলো চলো চলো। '
রেখা বললো 'এখন কেমন আছে কাকিমা?'
ভোলা কাকা বলল 'এই ডাক্তার দেখে গেলেন ।আগের থেকে একটু ভালো।'
রেখা হাফ ছেড়ে  বলল 'বাঁচলাম টেনশনে ছিলাম। থ্যাংকস গড।'
ভোলা কাকা বলল 'ছোটবৌদি তো সারাক্ষণ শুধু তোমার নাম করেই যাচ্ছে।"
রেখা বললো 'চলো ,চলো, চলো ।আগে কাকিমাকে গিয়ে দেখি।'
রেখা আর মনোজ ভেতর ঢুকলো। 
কাকিমার ঘরে যেতেই ভোলা কাকা তার আগে বলল'ছোটবৌদি ,দেখো কাকে নিয়ে এসেছি।'
সমু বললো 'এখন মাকে ডেকো  না তো? একটু আগে ঘুমালো।'
রেখা বললো' থাক ডাকতে হবে না।'
ভোলা কাকা বলল'ছোট বৌদি ডাকতে  বলেছে।'
ভোলা কাকা আর সমুর কথা কাটাকাটিতে কাকা পাশের ঘর থেকে জিজ্ঞেস করলেন কে এসেছে রে?'
ভোলা কাকা বলল 'দিদিমণি এসেছে?'
কাকা আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন' কে ননী এসেছে।"
রেখা আর  মনোজ কাকার ঘরে গিয়ে উপস্থিত হয়।
রেখা কাকাকে  প্রণাম করে বলে 'এখন কেমন আছো?'
কাকা বললেন 'তোকে দেখতে পেয়েছি এখন ঠিক আছি।'
রেখা বলল" সমু কবে এসেছে?'
কাকা বললেন 'গত রাত্রে।'
রেখা বলল 'পাবলো কোথায়?'
কাকা বললেন 'ওকে রেখে এসেছে।'
 রেখা বলল 'আচ্ছা।'
রেখা আরো বলল 'দেখি কাকিমার কাছে যাই।'
কাকু বললেন 'ঠিক আছে',।
আবার  কাকিমার ঘরে গিয়ে উঁকি দিয়ে দেখে ঘরে তখন সমু নেই। রেখা সরাসরি কাকিমার ঘরে ঢুকে দেখল কাকিমা জেগে।
রেখা কাকিমাকে গিয়ে বলল ' কাকিমা এখন কেমন বোধ করছ?'
কাকিমা বললেন 'আগের থেকে ভালো।'
ঠিক তখনই আবার সমু ঘরে ঢুকে বলল এ'খন মাকে ডিস্টার্ব না করাই ভালো।'
রেখা বলল 'আমি তো চলে যাব কাকিমার সঙ্গে একটু দেখা না করলে হয়?'
কাকিমা বললেন'আয় আমার কাছে আয় বস।
 আমি ভীষণ খুশি যে তুই এসেছিস?'
অবশেষে ইতিমধ্যে মনোজ ঘরে ঢুকে পড়ে।
সমু যেন মনোজকে  চিনতে ই পারে না।
বেশ কিছুক্ষন ধরে কাকিমার কাছে থেকে বলে 'আমাদের ফিরতে হবে কাকিমা?'
কাকিমা বললেন "থাকতে পারবে না।'
রেখা বললো "না কাকিমা স্কুলে কালকে যেতেই হবে।'
কাকিমা কাকে যেন খুঁজে বেড়াতে লাগল তারপর বললো "ভোলা।'
ভোলা কাকা পাশেই ছিল বলল 'এই তো বৌদি।'
কাকিমা বললেন 'জামাই মেয়ে যেন না খেয়ে  যায় দেখো।'
ভোলা মাথা নেড়ে বলল 'এই নিয়ে ভাবতে হবে না তোমায়।"
হল এখন কোন খাওয়ার ঝামেলায় যাব না কাকিমা।
মনোজ এবার তাড়া দিয়ে বলল'তাড়াতাড়ি চলো রাত হয়ে গেলে কিন্তু কুয়াশা পাবে, গাড়ী চালাতে অসুবিধা হবে।'
রেখা বলল "ঠিক আছে কাকিমা ,তুমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠো। আমরা এখন উঠি।'
কাকিমা বললেন 'কিছু খাওয়া দাওয়া করলে না।'
রেখা বলল "ওসব অন্যদিন হবে কাকিমা।ঠিক আছে ,আসছি তাহলে।' যাও বা একটু বসতো  সমুর ভাব ভঙ্গি দেখে কিছুতেই ভালো লাগছিলো না।
বাড়িতে ফিরতে ফিরতে রাত বারোটা বেজে গেল
 পরেরদিন স্কুলে রিম্পাদির ফেয়ারওয়েল।
অবশেষে রিম্পাদিকে  বিদায় জানাতেই হচ্ছে।
সকাল থেকে মনটা বিষাদে পরিপূর্ণ ছিল। অবশেষে যাব যাব করে আজকের দিন বেদনায় ভারাক্রান্ত করে দিয়ে রিম্পাদি চলে যাবে নতুন কর্ম জীবনে। গাড়িতে আসতে আসতেএসবই ভাবছিল
স্কুলে পৌঁছে রিম্পাদিকে খোঁজ করছিল।
বড়দি বললেন 'কাকে খুঁজছো? রিম্পাকে?
 সে রাস্তায় আছে।'
রেখা বলল 'ও আচ্ছা।'
বড়দি বললেন 'তুমি এদিকে সব প্রোগ্রাম সেট করে ফেলো।'
রেখা বলল 'হ্যাঁ দিদি।'
 প্রোগ্রাম সেট করতে করতেই রিম্পাদি এসে হাজির হলো।
রেখার তো চোখে জল ছল ছল করছে।
অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেল।
প্রথমে স্নিগ্ধার গান দিয়ে উদ্বোধনী সংগীত।
'তোমারেই মেনেছি জীবনের ধ্রুবতারা..।'
পাদের জন্য আনা কিছু স্কুলের তরফ থেকে উপহার সামগ্রী যেটা সারা জীবন ভালোবাসার স্মৃতিসুধা হিসেবে থেকে যাবে।
এরপর বিষাদ ঘন পরিবেশে রিম্পাদিকে নিয়ে দু চার কথা বলা।
এরপর পুরানো সেই দিনের কথা দিয়ে মেয়েদের স্মৃতিচারণ।
এরপর সৌমীয়ার কবিতা আবৃত্তি।
এরপর বড়দি দু চার কথা বললেন।
তারপর রেখাকে স্মৃতিচারণ মেয়ের কথা বললে রেখা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে।
রিম্পাদি রেখাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায়ll ভেঙে পড়ে। রিম্পাদির ও একই অবস্থা।'
কান্না ঝরা মুহূর্ত। কাল থেকে আর রিম্পাদি স্কুলে আসবে না। রেখার পাশে  জায়গাটি শুধু ফাঁকা ফাঁকা আর ফাঁকা। অন্তরাত্মা হু হু করে উঠলো। এরমধ্যে বড়দি রিম্পাদি সম্পর্কে বক্তব্য রাখলেন। সমাপ্তি সংগীত'তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম।
এবার রিম্পাদি আর রেখা দুজনেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। এ যেন বাঁধ ভাঙ্গা বাদল ঢেউয়ের উচ্ছ্বাস।
বাড়ি ফেরার পথে রিম্পাদি আজকে গাড়ি নিয়েএসেছিল ।রেখাকে বাড়ির কাছে নামিয়ে দিল। 'বিদায় '  ছোট্ট একটা শব্দ কিন্তু এর মধ্যে রয়েছে  বিচ্ছেদ বেদনায় ভরা এক আবেগঘন মুহূর্ত। 'বিদায় 'জানানোটা কতটা কষ্টের। তবুও "বিদায়' জানাতেই হয়
রেখার কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লাইনটা বারবার মনের ভেতরে অনুরণিত হতে থাকে।
"যেতে নাহি দিব হায়
তবু যেতে দিতে হয়
তবু চলে যেতে হয়।'

কবি রুকসানা রহমান এর কবিতা





গেরুয়া আলোর পথে
রুকসানা রহমান 

কেন যে শূ্ন্যতায় কষ্টের নীবর বেদনায় ঘুরেফিরে
সেই তুমি ভেসে ওঠো আমার সমুদ্রের অতলতায়
আধাঁর দৃষ্টিতে স্বপ্ন এসে ভীড় করে 
জলজ জানালায়।
বসে আছি একোন দিগন্ত ছেড়ে কোন দিগন্তে
ভেঙ্গে গেছে যার প্রনয়ের দ্ধার  অনন্ত প্রতিক্ষায়
নিশুতি রাতের  বাহুডোর । 

আমার ঘরে রাত নামে,যেন খড়রৌদ্রের বিরহ পত্রনিয়ে।
খুঁজিকি আজও  তবে নিরবে নির্জনে
সেই স্মৃতিময় তোমাকে...
তুমি কি কখনো খোঁজো একা হলে ? 

ক্লান্ত অশ্বথের শাখায় মিয়ানো চাঁদের আলোয়
চমকে ওঠা মন শিশির ভেজা চোখ আজও
হাওয়ার দীর্ঘশ্বাস উড়ে,ওড়ে মরুর বাঁকে ঐ-কারাভ্যানে
নিঃশ্বেস হয়ে ও আমি কি দেখেছি তারে
নীল নদের তীরে নিঠুর সেই মুখ! 

জীবনের কত যে গল্প পড়ে থাকে বিকেলের
গেরুয়া আলোর পথে।
নিরবে নিশিথে এসেছিলে আশ্চর্য কৌশলে প্রাণের
আকুতি জানিয়ে
সেই তুমি একটু একটু করে মুছে দিলে স্বপ্নের আত্মার পান্নার সব রঙ
যেমন করে মোহের খেলার আর্কষণের ভালোবাসা শেষ হলে পাশ কেটে চলে যায় নীরদ তীর্থস্নানে
হৃদয় রেখায় নিরব বিষের শিবিরে কোকিল 
পালক ছড়িয়ে।

মনি জামানের ধারাবাহিক উপন্যাস ১ম পর্ব

শুরু হলো এই সময়ের অন্যতম তরুণ কবি মনি জামানের ধারাবাহিক উপন্যাস "সেদিন গোধূলি সন্ধ্যা ছিল"







সেদিন গোধূলি সন্ধ্যা ছিল
(১ম পর্ব)
মনি জামান 

আজ নিলয়ের মনটা খুব খারাপ মেবিনের কথা বার বার মনে পড়ছে,নিলয় ফোনটা হাতে নিয়ে মেবিনের নাম্বারে ফোন করলো
অপর প্রান্ত থেকে জানিয়ে দেওয়া হল,দুঃখিত এই মূহুর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।নিলয় আবার ফোন করলো অপর প্রান্ত থেকে একই উত্তর দুঃখিত এই মুহুর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা।
বিষন্নতায় ছেয়ে গেলো নিলয়ের মন ফোনটা রেখে দিয়ে মনটা ভিষণ খারাপ লাগছে নিলয়ের,কয়দিন হলো মেবিনের সাথে কথা হয়নি,সেই ২০১৮ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসে মেবিনের সাথে প্রথম দেখা ও পরিচয় হয়েছিলো নিলয়ের একটি কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠানে।
সেই থেকে দুজনের পরিচয় আর এই পরিচয়ের সূত্র ধরেই ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে দুজনের মাঝে,সেখান থেকে আজ পার্যান্ত কখনো মেবিনের ফোন বন্ধ পাইনি নিলয়। আজ মনটা ভিষণ খারাপ লাগছে মেবিনের জন্য ভাবছে কোন কিছু কি হলো,নাকি ফোনে চার্জ নেই এমন উল্টা পালটা ভাবনা নিলয়কে অস্থির করে তুলছে,মেবিন ফোনটা কেন বন্ধ করে রেখেছে কোন সমস্যা হয়নি তো?আবার ভাবছে ধ্যাত তা কেন হবে মেবিন তেমন মেয়েই নয়।
যদিও ওরা ভিন্ন ভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে পড়ে নিলয় আর মেবিন দুজনের ভিন্ন অবস্থান হলেও সব সময় ফোনে কথা হয় দুজনের, মাঝে মাঝে দুজন নির্জনে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলে।
নিলয় জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষ ইংরেজীতে পড়ে,আর মেবিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। 
নিলয়ের গ্রামের বাড়ি মুরাদ নগর এক অজপাড়া গাঁয় থেকে এসেছে ঢাকায় পড়তে, নিলয়ের ভিতর সেই গ্রাম্য সরলতার স্পষ্ট ছবি তার অবয়ব জুড়ে।নিলয় মেধাবি ছাত্র দেখতেও মন্দ নয় মোটামুটি সুন্দর,আর মেবিনের বাবা মুজাহিদ প্রফেসর,মা পারভীন বেগম গৃহিণী,এক ভাই প্রিন্স,প্রিন্স বড় আর মেবিন ছোট নাটোরের অভিজাত পরিবারে মেবিন বড় হয়েছে এবং সবার আদরের সে।
মেবিন নিলয় সম্পর্কে সব জেনে শুনে তারপর নিলয়কে ভালবেসেছে,কারণ গ্রামের এই সহজ সরল ছেলেটার ভিতর মেবিন সরলতার স্পষ্ট ছাপ খুঁজে পেয়েছে যেখানে নেই কোন কৃত্তিমত্বার কোন ছাপ।
এটাই মেবিনের ভাল লাগার একমাত্র কারণ,কিন্তু মেবিন ধনীর একমাত্র মেয়ে হয়েও নিলয়ের মত ছেলেকে ভালোবাসে নিলয়ের ভয় এখানে যদি মেবিন কখনো নিলয়কে ভুল বুঝে হারিয়ে যায় তার জীবন থেকে।এই ভয়টা আজ নিলয়ের ভিতর তোলপাড় শুরু করে দিয়েছে কি করবে এটাই ভাবছে বসে বসে হঠাৎ মেবিনের ফোন এলো, নিলয়ের অপেক্ষার বাধ ভাঙ্গা আনন্দ মনকে ভরে তুললো সব এলোমেলো ভাবনা গুলো উধাও হয়ে গেল মনে একটা শিহরণ যেন সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়লো। 
নিলয় তাড়াতাড়ি ফোনটা রিসিভ করলো অপর প্রান্ত থেকে মেবিনের কন্ঠ ভেসে এলো,কেমন আছ নিলয় তুমি?নিলয় বলল,ভাল আছি তবে তোমার ফোনটা বন্ধ ছিল কেন?মেবিন বলল,ফোনে চার্জ ছিলনা নিলয় শুনে  বলল,তাই!তবে ফোন বন্ধ না করেও চার্জে বসাতে পারতে,উত্তরে মেবিন শুধু বলল ও আচ্ছা বুঝলাম।
নিলয় বলল,কি বুঝলে সোনা তুমি,মেবিন নিলয়ের প্রশ্নটা এড়িয়ে বলল,কাল তো ইউনিভার্সিটিতে গ্রীষ্মের ছুটি হয়ে যাচ্ছে চলনা আমরা দুজন কক্সবাজার থেকে ঘুরে আসি।
মেঘ না চাইতে বৃষ্টি নিলয় বলল, কক্সবাজার!সত্যি যাবে বলো!কবে যেতে চাও বলো আমাকে?মেবিন বলল,আগামী সপ্তাহে,নিলয় সম্মতি জানিয়ে দিল আগামী সপ্তাহ মানে কি বার,মেবিন বলল,আগামী শনিবার।
নিলয় আর মেবিন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো আগামী শনিবার ওরা দু'জন কক্সবাজারের উদ্দেশ্য রওনা হবে,আজ নিলয়ের খুশির বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ার বইছে মনে তার প্রিয়তমা মেবিনকে খুব কাছ থেকে একান্ত ভাবে দেখতে পাবে,সমুদ্রের তীর ঘেঁষে দুজন দুজনে হাত ধরে হাটবে কত আনন্দ আজ নিলয়ের মনে।
নিলয় মেবিনের হাতে হাত রাখবে উন্মত্ত সমুদ্রের নোনা জলে জলকেলি খেলবে,সূর্য অস্ত যাবে সেটা দেখবে আরো কত কি মনে আসছে আজ।
রাতে নিলয়ের আর ঘুম আসছে না কি যেন শিহরণ সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে,মেবিনের কথা ভাবতে ভাবতে নিলয়ের সারারাত কিভাবে কেটে গেল নিলয় বুঝতেই পারলো না।
পরের দিন সারাদিন নিলয় আর মেবিন দুজন ঘুরলো,দিন শেষে রূমে ফিরে পড়া শেষ করে খেয়ে শুয়ে পড়লো তারপর গত রাতের ঘুমকে পরাজিত করে নিলয় ফোনটা হাতে নিলো এবং মেবিনকে ফোন করলো,অপর প্রান্ত থেকে মেবিন বলল,এত রাতে কেন ফোন দিয়েছো?
নিলয় বলল,কেন জানি ঘুম আসছে না আমার গত কাল রাতে ও শুধু তোমার কথা মনে পড়েছে,মেবিন এক গাল হেঁসে বলল, আমারও তোমার কথা খুব খুব মনে পড়ছে তাই আমিও জেগে আছি।
নিলয় বলল,জানো এই যে ঘুম না আসা এটা কি প্রেম রোগ?মেবিন হেসে বলল,বোধহয়।
নিলয় বলল,তুমি সত্যি সুন্দর শুধু ঝগড়াটা বাদ দিলে মেবিন বলল,কি আমি ঝগড়াটে?ঠিক আছে তুমি ভালো একটা মেয়ে দেখে প্রেম কর আমি গেলাম।
নিলয় বলল,প্লীজ যেওনা আমি এমনি বলেছি ফান করে,তুমি তো জানো এই জন্য তোমাকে কাক পাখি বলি।
মেবিন অভিমানের সুরে বলল,হয়েছে এখন রাখো আর ঘুমিয়ে পড়,নিলয় মেবিনকে ফোনে একটা চুম্বন করে জানতে চাইলো আগামী শনিবার কয়টার সময় বেরুবো আমরা,মেবিন বলল,সকাল দশটার ট্রেনে যাবো আমরা।
নিলয় বলল,ঠিক আছে কাক পাখি শুভ রাত্রি তাহলে এখন রাখছি বলে ফোনটা কেটে দিয়ে রেখে দিল।
নিলয় আদর করে মেবিনকে সব সময় কাক পাখি বলে ডাকে,মেবিনের ও ভাল লাগে নিলয়ের মুখ থেকে এই ডাকটা শুনতে। 

চলবে.....




শায়লা শিহাব কথন
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৫১)
শামীমা আহমেদ 

রিশতিনার প্রশ্ন শুনে বেশ কিছুক্ষণ নীরব থেকে শিহাব বললো,
---আমি ভালো আছি। তা তুমি হঠাৎ দেশে?
---হ্যাঁ, এসেছি একটা জরুরী প্রয়োজনে।শিহাব তুমি সত্যি করে বলো কেমন আছো?
রিশতিনা এই নিয়ে তিন তিনবার জানতে চাইল, শিহাব কেমন আছে।কিন্তু কেন এই জানতে চাওয়া? সেতো অন্য একটি জরুরি কাজে দেশে এসেছে।শিহাবের জন্যতো নয়!
চার চারটি বছর শিহাবের কিভাবে দিন হয়েছে, রাত কেটেছে, কতটা যন্ত্রনায় অপমানে ক্ষোভে তার প্রতিটি প্রহর কেটেছে।তার হিসেব কি আর এই এক মূহুর্তে দেয়া সম্ভব?
শিহাব নিজেকে বেশ শক্ত করে নিয়ে বললো,তুমিই বলো কেমন থাকতে পারি?
রিশতিনা এক মূহুর্তও অপেক্ষা না করে বলে উঠলো, আমি জানি আর এই সবকিছুর জন্য আমিই দায়ী। সে আমি ভীষণভাবে বুঝতে পারি। নিজের উপর আমি নিজেই দোষারোপ করি। সেদিন যদি,,,
----থাক সেসব কথা।
কেন থাকবে শিহাব?তোমারতো কোন দোষ ছিলনা। আমিই তোমার জীবনটা ওলোট পালোট করে দিয়েছি।
--আচ্ছা এখন রাখতে চাইছি।আমাকে আর কল না দিলে খুশি হবো।
রিশতিনা যেন এ কথাটি একেবারেই আমলেই নিলো না।
সে বলেই চললো,,,তুমি তো এখন উত্তরা থাকো।সেক্টর ১৩ তে বাসা।কুশল সেন্টারে অফিস।গাজীপুরে ফ্যাক্টরি,, সবাই জিগাতলায় থাকলেও তুমি একাই এখানে থাকছো।তোমার সেই বাইকটা এখনো আছে।শীত গ্রীষ্মে,ঝড় বৃষ্টি জল ঝড়ে চলার সঙ্গী হয়ে আছে। শুধু জানিনা,সেখানে কোন নতুন
যাত্রী সঙ্গী হয়েছে কিনা? 
---এত কিছু তুমি কেন বলছো?রিশতিনা,তুমি তোমার নতুন জীবন নিয়ে সুখে থাকো।আমি এখন রাখতে চাইছি।
রিশতিনার থমথমে কন্ঠে বুঝাই যাচ্ছে ও প্রান্তে রিশতিনার ভেতরেও অনেক জমানো কথার ভার।অনুরোধের সুরে বললো,
শুধু আরেকটা কথা বলবো,
কী বলবে?
রিয়াজ কেমন আছে?
রিয়াজ?রিয়াজ কে? শিহাবের কন্ঠে যেন রাজ্যের বিস্ময়! 
আমাদের ছেলে।আমি তো তাকে আপন করে পেলাম না।আমার নামের সাথে মিলিয়ে আমি ওকে রিয়াজ নাম দিয়েছি।
সে তোমার ইচ্ছে। শিহাব চরম বিরক্তি প্রকাশ করে বললো,তুমি আমার এত খোঁজ খবর কিভাবে পেলে? আর কেনইবা তা রাখছো।
সবই তো শেষ, কেন এত আগ্রহ আর?
---রোমেল ভাইয়ার কাছ থেকে আমি নিয়মিত  তোমার খোঁজ খবর নিয়েছি।তোমার ভাল মন্দে দূর থেকে হলেও শুভকামনা করেছি।
রোমেল? আমার বন্ধু রোমেল? শিহাবের বিস্ময়ের সীমা রইল না!
হ্যাঁ, রোমেল ভাইয়া।সে আমার কাজিন। সে আমাকে সবসময় তোমার খবর জানিয়েছে।
----তোমার এটা করা ঠিক হয়নি।তোমার লেখাপড়ায় ক্ষতি করে।
রিশতিনা বুঝতে পারে শিহাবের অভিমানটা অনেক গভীরে। রিশতিনার তাইতো সহজ স্বীকারোক্তি, 
শিহাব,আমি তোমাকে এখনো ভুলতে পারিনি, পারবোও না কোনদিন।
কিন্তু তোমার এটা ঠিক হচ্ছে না রিশতিনা।
আমি এখন রাখবো।তুমি আমাকে আর কল দেবে না।
একটা কথা ছিল।
শিহাব যেন শুধুই শুনে যাওয়ার জন্য বললো,
কি কথা আবার?বলো,
আমি তোমার সাথে দেখা করে তা বলতে চাই।যক্স
শিহাব নিজেকে ভীষণভাবে সংযত রেখে শুধু বললো,সেটা সম্ভব নয়।
কেন নয়? আমি এক সপ্তাহের জন্য দেশে এসেছি।তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
রিশতিনার সাথে কথা বলায় শিহাব যেন বারবার শায়লার কাছে অপরাধী হয়ে যাচ্ছে।
তার অনেক কষ্টের রাত পেরিয়ে আজ শায়লার কাছে থিতু হতে চাওয়া।শায়লাকে আপন করে আগামীর স্বপ্ন বোনা। শিহাব তবুও কথস চালিয়ে যাচ্ছে।
তুমিতো আমাকে একা ফেলে গিয়ে  দূর থেকে আমার সব খোঁজই নিয়েছো।আমার মনের কষ্টের কতখানি লাঘব করতে পেরেছো তাতে?
শিহাব আমি পরিস্থিতির স্বীকার।আমি তোমাকে সব খুলে বলবো।আমি শুধু একটিবার তোমাকে দেখতে চাই।শুধু 
একটিবার।এই জীবনে আর কোনদিন তোমাকে বিরক্ত করবো না।
কাল দুপুরে আমি গুলশানের ফোর সিজন্সে লাঞ্চে অপেক্ষায় থাকবো।
হঠাৎই মেসেঞ্জারে শায়লার কল বেজে উঠলো।রিশতিনার কথায় ছেদ পড়লো। 
ওপ্রান্তে রিশতিনা বলেই চলেছে,,
শিহাব, আমাদের ভালবাসা, আমাদের সন্তানের কসম দিয়ে বলছি,আমি এই একটিবার শুধু তোমাকে দেখবো। তোমাকে দেখার জন্য আমার প্রাণটা জিইয়ে রেখেছি।
তুমি আসবে আমি অপেক্ষায় থাকবো।
বলেই রিশতিনা শিহাবের উত্তরের অপেক্ষায় না থেকে ফোন কেটে দিলো।
শিহাব দ্বিধাদ্বন্দে পড়ে গেলো।খুব অল্পদিনের হলেও রিশতিনা তার বিবাহিত স্ত্রী, তারই সন্তানের মা।এটাতো অস্বীকার করার উপায় নেই। বৈধ মতেই তাদের বিয়ে হয়েছিল।যদিও রিশতিনার বাবা তা মেনে নেয়নি বলে আজ তারা বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাচ্ছে।তার প্রতি রিশতিনার সেই আবেগতো আগের মতই আছে।তাতে সাড়া দেয়া কি অন্যায় হবে?
আইনগত ভাবে ভাবলে তারতো পূর্ণ অধিকার আছে তার প্রতি, তার সন্তানের প্রতি।
সাথে সাথে আরাফের মুখটা ভেসে উঠলো! মনে হলো,কে যেন আরাফকে ছিনিয়ে নিতে চাইছে! শিহাব পাশে থাকা বালিশখানি আঁকড়ে ধরলো। 
মেসেঞ্জারে বারংবার শায়লার কল আসছে।শিহাবের মনের ভেতর রিশতিনার অতীত স্মৃতি আর আজকের কথাগুলো কেমন যেন ঘুরপাক খাচ্ছে।কিছুতেই সে স্বাভাবিক হতে পারছে না।মনে হচ্ছে টাইম মেশিনে চড়ে সে সেই ঝিগাতলার দিনগুলোতে ফিরে গেছে আবার একটু আগে রিশতিনার কথাগুলো কানে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।শিহাব দুই হাতে কান চেপে ধরলো।সেই বিভীষিকাময় দিনগুলো!  উফ! কি অসহ্য যন্ত্রণা!  একদিকে সদ্য বিয়ে হওয়া দুজনার বিচ্ছেদ,এরপরই সন্তান আগমনের খবর! রিশতিনার বাবার বাড়িতে বন্দী জীবন।শিহাব এক নিদারুন গোঙানিতে সারারাত ছটফট করেছে।ক্রুদ্ধ রিশতিনার বাবা তাকে যে কোন মূহুর্তে এরেস্ট করানো হুমকি।শিহাবের  মায়ের ছেলের দুশ্চিন্তায় শয্যাশায়ী হয়ে যাওয়া।মায়ের প্রাণ বাঁচাতে শিহাব তার জীবনের সব অন্যায় মেনে নেয়।
শুধু আরাফকে পেয়ে সে বেঁচে থাকার একটা অবলম্বন খুঁজে পায়।
একের পর এক আঘাতে শিহাব পুরোনো পরিবেশ ছেড়ে উত্তরায় চলে এসে সবকিছু ভুলে থাকবার চেস্টা করছিল।প্রতিটি বিকেল সন্ধ্যা তার একাকীত্বের সাক্ষী হয়ে আছে। কোন অনৈতিক সম্পর্কে সে জড়ায়নি।ভদ্র ঘরের সন্তান হওয়ার কারণে একার জীবনেও সমাজে নিজেকে ভালো প্রমান করতে হয়েছে।
মেসেঞ্জারে শায়লার কল বেজেই যাচ্ছে।একটার পর একটা দীর্ঘ রিংটোন। 
শিহাব অবচেতন মনে হাত বাড়িয়ে শায়লার কলটা রিসিভ করলো।
ওপ্রান্তে শায়লা শিহাব,শিহাব করে ডেকেই যাচ্ছে।শিহাবের কানে যেন কিছুই পৌছাচ্ছে না।
শায়লা অস্থির হয়ে উঠলো!সে বলেই চলেছে,শিহাব তুমি কি ঘুমিয়ে গেছো?কল রিসিভ করছিলে না কেন? কথা বলছো না কেনো? তুমি কি অসুস্থ? 
শিহাবের নীরবতায় শায়লা ছটফট করতে লাগলো।বেশ অনেকক্ষন পর শিহাব কথা বলে উঠলো। 
না মানে হ্যাঁ, একটু ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
ঠিক আছে।ঘুমিয়ে পড়ো।আমি রাখছি।
না শায়লা,না তুমি রাখবে না,তুমি যাবে না,তুমি আমার পাশে থাকো।তুমি পাশে থাকলে আমার ভালো লাগে।শায়লা বেশ অবাক হলো!
মনে হচ্ছে শিহাব কেমন যেন ভীত সন্ত্রস্ত। মনে হচ্ছে সে কোন অন্ধকার যায়গায় একা দাঁড়িয়ে আছে।শায়লাকে সে পাশে পেলে ভরসা পাবে।
শায়লা বুঝতে পারছে না,এমন  আবেগহীন কাঁপা কাঁপা কন্ঠে শিহাব কেন এসব বলছে?
শায়লা কথা দাও,আমাকে ছেড়ে তুমি কোনদিন যাবে না।আমার আরাফকে তুমি বুকে আগলে রাখবে। 
শায়লা বুঝতে পারলো অতীত নিয়ে শিহাব ভীষণ ভেঙে পড়েছে।শায়লা বুঝে নিলো শিহাবকে এগুলো থেকে বের করে আনতে হবে।
শায়লা শিহাবকে আস্বস্ত করতে চাইল।তাকে শান্ত করতে সে এই প্রথম শিহাবকে ভিডিও কল করলো।
শায়লাকে দেখে শিহাব একটু শান্ত হলো। শায়লা বলেই চলেছে,তুমি মন খারাপ করোনা।আমাকে আরাফের কাছে নিয়ে চলো।দেখো আমি কেমন করে তাকে আপন করে নেই।
শায়লা ভাবলো,আমরা কেবল মাতৃস্নেহের কথাই জানি,একজন পিতাও যে সন্তানের হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে কতটা ভীত হয়ে উঠতে পারে,শিহাবকে দেখলে তা বুঝা যায়।
শিহাব কেমন যেন আদুরে গলায় বলছে,শায়লা তোমার কোলে মাথা রেখে আমার ঘুমাতে মন চাইছে।তুমি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছো।আমি পরম নিশ্চিন্তে তোমার মাঝে সবটুকু নির্ভরতায় সারারাত ঘুমিয়ে থাকতে চাই। শায়লা,কবে আমার এই কাঙ্ক্ষিত রাতটি আসবে? তুমি আমি সারারাত গান শুনবো।দুজনে গল্প করবো।তুমি আমার হাতটি ধরে রাখবে শক্ত করে। আমি কিন্তু সত্যি সত্যিই একটু একটু ঘুমাবো।আর চোখ মিটমিট করে তোমাকে দেখবো।
শিহাবের কথাগুলো শুনে শায়লার চোখ জলে ভরে উঠলো। এমন স্বপ্নতো সেও দেখে।তাইতো,কবে আসবে তাদের এমন দিন? 
শিহাব  নিজেকে বুঝাতে পারছে না,কিভাবে আজকের এই রাতটা কাটবে।রিশতিনা বারবার তার স্বাভাবিক জীবনকে এলোমেলো করে দেয়।আর শায়লা বারবার তা গুছিয়ে দেয়।
শিহাব খুব কঠিনভাবে মনকে জানিয়ে দিলো,কোনভাবেই  রিশতিনার সাথে সে দেখা করবে না। নয়তো আবার না জানি কোন
ঝড় এসে শায়লাকে নিয়ে সাজানো স্বপ্নটা তছনছ করে দেয়। এমন ভাবনায় শিহাব নিযেকে একটু স্থির করে নিলো। হঠাৎই একটা মেসেজের শব্দ! 
শিহাব তাকাতেই দেখলো, শায়লার একটা খুব সুন্দর ছবি শিহাবের মেসেজে ঢুকলো। বিকেলের আলোতে শায়লাদের বাড়ির ছাদে তোলা।খোলা চুলে কাজল আঁকা চোখে একটা হলুদ শাড়িতে বিকেলের সূর্যের আভায় শায়লাকে যেন  একটি অপ্সরীর মত লাগছে!
হঠাৎ কোন অবাক করা কিছু দিয়ে যেমন ছোট্ট শিশুদের কান্না থামানো যায়,শায়লার ছবিটাতেও শিহাব যেন তেমনি আগ মূহুর্তে এতকিছু ঘটে যাওয়া নিমেষেই ভুলে গেলো! মুগ্ধ হয়ে সে ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল।শিহাবের চোখে মুখে যেন এক আলোর দ্যুতি খেলে গেলো!শিহাব চট করেই মোবাইলটায় চুমু বসিয়ে দিলো আর বলে উঠলো,,, শায়লা, আই লাভ ইউ,,আই লাভ ইউ আ লট!
শিহাবকে শান্ত করতে পারায় শায়লার মাঝেও স্বস্তি ফিরে এলো।শায়লা একগাদা লাভ রিএক্ট পাঠিয়ে গুড নাইট জানালো।
আজ রাতের মত বেঁচে থাকার অবলম্বন পেয়ে শিহাব যেন হালকা পালকের মত হয়ে উত্তাল  সাগরেও স্বপ্নডিঙায় ভাসতে শুরু করলো।


 চলবে....

কবি আলমগীর হোসাইন এর কবিতা




সুখের বিদায়
আলমগীর হোসাইন

লাল বেনারসি শাড়ি পরিয়ে বিদায় দিতে পারিনি
সাদামাটা গোলাপ পাপড়ির মেহেদী সন্ধ্যায়
মন না চাহিতেই রঙ্গ উল্লাসে সাজিয়ে দিলাম
সুখ সম্বৃদ্ধি কল্যাণের পথে বাবার গৃহ ত্যাগে
নতুন জীবনে নব সাথী লয়ে স্বামী গৃহে যেতে দিলাম।
 
বিদায় ক্ষণ আখি যুগল নোনা জলে ছলছল
তালাবদ্ধ খেলনাগুলো শো কেইস এ সাজানো আজো
ধুলোর আস্তরণে ঝাপসা লাগে অতীত স্মৃতির বহু কিছু
তোমার বিদায়ে খালিলাগে মায়ের ঘরের অনেক কিছুই
স্বপনে এসে কি যেন বললে বুঝতে পারিনি মাগো
বহু চেষ্টা করেও  স্বপনের কথা স্মরণে আসেনি আদৌ
সুখের পরশে স্বর্ণালী সময়ে পদার্পন যুগল প্রেমী মন
মোর অনাগত সময়ের বিসর্জনে সুখ কামনা তোমার।

কতো কথা মনে পড়ে ক্ষণ সময়ে মোর 
সুখ বিলাসে রঙ্গিন স্বপ্নে সাজাও তোমার ঘর
ছোট্ট বেলার পুতুল খেলার সেই মাটির পুতুল
তোমার বিদায়ে ভেঙে গেলো আঠারো বছর পর।

মোর জীবনের স্বপ্ন স্বাধ তোমাকে ঘিরে মাগো
পুতুল খেলারচ্ছলে তোমায় শাসন করেছি যতোই
বিদায় লগ্নের নোনা জলে ধুয়ে মুছে দিও সব
মা মনি আমার লক্ষিবতী সুখে থেকো জীবন ভর।

কবি বদরুল আলম এর কবিতা




কষ্ট কড়চা
বদরুল আলম 

কোনহানে তোমার ঘর
কোন ইস্টিশানের লগে ?
যেইহানে হিজলের নাল
ফুল তরতাজা হইয়্যা ফোটে,
যেইহানে বটের পাতার আবডালে 
কোকিলের কান্দনের সুর বাজে,
যেইহানে কালা পানির বিলে
পদ্মফুল ফোটে,সেইহানে হিষ হিষ করে
সাপেরা মাছ খায়,ধানের ডগায় 
নাল ফড়িং আর ভ্রমর নাইচ্যা বেড়ায়,
পাখিরা খেলে ডুব সাঁতার ?
আমারে তাড়াতাড়ি কও
গাঙের কোন দিকে যামু আমি?
উত্তরে পাড়ভাঙ্গা ভিষণ রাগ
দক্ষিণে কাল নাগিনীর  ফনার মতোন
তালগাছ সমান বড় বড় তুফান।
বুকের মধ্যিহানে কালধুতরার 
বিষের মতো জ্বালা, 
চোক্ষে নামে ঘোর কালা সন্ধ্যার মতোন
আসমান সমান ঘুম,
তোমারে দেহিবার মনে লয়,
চাইয়া চাইয়া আমার চোক্ষু দুইহান
হইলো ক্ষয়।
আমার সোনার গতরহান জ্বলে
আমার পরানহান জ্বলে,
আহারে ক্ষিধার জ্বালা
তার চে ডাঙ্গর য্যান পিরিতের জ্বালা।
কোনহানে তোমার ঘর 
কোন ইস্টিশানের লগে ?

কবি সুচিতা সরকার এর কবিতা




সব শেষের শেষে উপরাম্ভ থাকে না

সুচিতা সরকার


সব শেষের শেষে উপরাম্ভ থাকে না।
গাঢ় নীল আকাশের নীচে শুয়ে থাকা 
হলুদ বালিয়াড়িতে রাতে যখন শীত নামে,
চাঁদের আলো তাকে উষ্ণতা দিতে পারে না।
সব আলোক উৎস জীবনদায়ী হয় না। 
কিছু আলো শুধুই স্বপ্ন দেখায়। 
স্বপ্নালু চোখে পোকারা একসময় মৃত্যু পায়।