১৭ অক্টোবর ২০২১

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"২৬




উপন্যাস টানাপোড়েন (২৬) 

 ক্ষণিক অব্যাহতি । 


                       আজ মহাপঞ্চমী‌ "যদি হই চোরকাঁটা ওই শাড়ির ভাঁজে। দুষ্টু যে হয় এমন কাজ তো তারই সাজে'। পুজোর প্যান্ডেলে গান বাজছে । শিখা সার্টিনের নীল পর্দাটা ধরে দাঁড়িয়ে গান শুনছে আর উপর থেকে লোকজন দেখছে। মনটা দিব্যেন্দুর থেকে সরিয়ে নিয়েছে বটে ।কিন্তু স্মৃতি পিছু ছাড়ে না ।বারবার মনে করিয়ে দেয় নানা কথা ,মনকে আলোড়িত করে । দিন যায় ।মনের মাঝে কখনো মেঘ হয় ,মেঘ থেকে বৃষ্টি ।আবার কখনো রোদ উঠে স্বচ্ছ আকাশ দেখা দেয়। এই পোড়া মহানগরের শিখার থাকতে ভালো লাগছে না।আজকে সব স্মৃতি আরো বেশি করে ভাবাচ্ছে। পঞ্চমী থেকে যে ঠাকুর দেখা শুরু হতো তার মধ্যে দুজনের কত আড্ডা আর বাইকে চেপে শহর থেকে দূরে বেরিয়ে যাওয়া ,তার মধ্যে আলাদা রোমান্টিক মাদকতা ছিল ।একবার যেতে যেতে একটা জায়গায় খুব সুন্দর প্রকৃতির নিবিড় পরিবেশ। সেখানে বসেছিল সবুজ গালিচায় ।শিখা পড়েছিল সবুজ লিলেন বাটিক শাড়ি, হ্যান্ড মেড জুয়েলারি। কি অসাধারণ নাকি লাগছিল ।তাই সবুজ গালিচায় বসে বারবার দিব্যেন্দু ওই গানটি গেয়েছিল। শিখা গানের শেষে বোলেছিলো শাড়ির ভাঁজে চোর কাঁটা হয়ে থাকতে হবে না ।মনের মধ্যে গভীর নিরন্তর ভালোবাসায় যেন সে সবসময় থাকে ।এটুকুই যথেষ্ট। দিব্যেন্দু বলেছিল তা আর বলতে। সেই সব প্রতিশ্রুতি আর মিথ্যে আশ্বাস বেশি কষ্ট দিচ্ছে। শিখা যত ভুলে যেতে চাইছে , বিভিন্ন সময়ে কাটানো মুহূর্তগুলো দোলা দিয়ে যাচ্ছে বারবার। ভুলবে কি করে?মনে তো করতে চাইছে না,তবুও পিছু ছাড়ছে না।পাগল পাগল লাগছে। হঠাৎ ধ্যান ভাঙ্গে‌ শিখা শিখা ডাকার আওয়াজে। শিখা সাড়া দিল 'কি বৌদিভাই?"। সিড়ির কাছে গিয়ে উঁকি দিল। বৌদি বললো 'তোর গলার আওয়াজ এরকম শোনাচ্ছে কেনো?' শিখা বলল কই? বৌদি বললো 'তুই আমার কাছে লুকাবি? আবার ঠিক ছাইপাস ভাবছিস তো?' শিখা চুপ করে থাকে। বৌদি বলে 'তুই রেডি হয়ে নে। বেরোবো তো?' শিখা বলল 'হ্যাঁ বৌদিভাই ,রেডি হয়ে নিচ্ছি।' বৌদি বলল 'তার আগে এসে খেয়ে নে।' ওদিক থেকে বৃষ্টি বলল ' তুমি শুধু পিমণিকে বলো। আমাকে তো কিছু বলছো না?' বৌদি বলল 'পিমনি আমার কাছে এবং এ বাড়িতে আগে এসেছে ।তুমি ছোট ।তুমি পরে এসেছো।ঠিক আছে ।নো হিংসা পিমণির সঙ্গে।' বৃষ্টি তো কাঁদো কাঁদো হয়ে চলে গেল খাবার টেবিলে। আর মুখ হাঁড়ি করে বসে আছে। শিখা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসলো ।এসে বলল 'আমাদের ছোট্ট বেবিটা রাগ করেছেনা ,বৌদি ভাই?' বৌদি বলল 'তুই ওকে বেশি আস্কারা দিস না তো ?এই বয়সে এত জেদ কেন থাকবে? বড্ড জেদ হয়েছে।' সত্যি বৌদি শিখাকে প্রচন্ড ভালোবাসে ।কখনো মায়ের কষ্ট অনুভব করতেই দেয় নি ।কিন্তু তা হলেও আজকের দিব্যেন্দু সঙ্গে সঙ্গে ,মায়ের কথাও মনে পড়ছে । মা পুজোর সময়গুলোতে যখন সে ছোট ছিল চুল বেঁধে দিতো ।নতুন জামা এনে খুব সুন্দর করে সাজিয়ে দিত ।মায়ের হাতের স্পর্শ ,মায়ের গন্ধ ।ছোটবেলায় যে গন্ধটা পেয়েছিল ।আজ তা অনেকটাই মন থেকে অস্পষ্ট হয়ে গেছে ।অস্পষ্ট হয়েছে বৌদি ভাইয়ের জন্যই বোধহয়। কখনো বুঝতেই দেয় নি মায়ের সেই ভালোবাসার অভাব ।বৌদি সবসময় শিখার মনের যা কষ্ট ,ভালোলাগা-মন্দলাগা মায়ের মত করে ভাগ করে নিয়েছে ।তাই বৌদি ভাইয়ের কোন কষ্ট শিখাও দেখতে পারবে না। তবুও পুজো আসলে মায়ের গন্ধটা মা দুগ্গা মনে করিয়ে দেয়। বৌদি রান্না ঘর থেকে বলল 'তুই কি করছিস ?বৃষ্টিকে খাইয়ে দিচ্ছিস?ও এখন বড় হচ্ছে আস্তে আস্তে নিজে খাবার খেতে শিখুক ।' বৃষ্টি কথাটা শুনে মুখ সরিয়ে নিয়ে নিজের হাতে খেতে শুরু করল। শিখা তখন বৌদি ভাইয়ের দিকে ইশারায় কিছু নিষেধ করল ।আবার শিখা বৃষ্টিকে কাছে টেনে খাইয়ে দিতে শুরু করলো আর বলল 'আমাদের বৃষ্টিরানিকে কি সুন্দর লাগছে ,জামাটা পড়ে ।নিজের হাতে খেতে গেলে জামায় পড়বে ।তখন জামাটা নষ্ট হয়ে যাবে ।তাহলে কি হবে?তখন পিমণির নতুন ড্রেসটা বেশি ভালো মনে হবে।বৃষ্টিরটা পচা হয়ে যাবে।' বৃষ্টি এবার হাঁ করলো । শিখা নিজে হাতে খাবার খাইয়ে দিয়ে, ওকে হাতটা ধুয়ে আসতে বলল।' বৌদি রান্নাঘর থেকে বলল 'বৃষ্টি যাও নিজের ঘরে গিয়ে পিমণির খেতে খেতে একটু হোমওয়ার্ক করে নাও।' বৃষ্টি বলল 'আজকেও হোমওয়ার্ক?' বৌদিভাইয়ের তাকানোতে আর সাহস করতে পারল না। বৃষ্টি শুধু বললো ' ok মা।' শিখা বলল 'বৌদিভাই তুমি খাবে না? তুমি ও এসো ।আজকে একসঙ্গে খাব ।তুমি না খেলে কিন্তু আমি খাচ্ছি না।' বৌদি বলল 'এ আবার কি কথা শিখা ?আমার এখনো কাজ করতে অনেক দেরি আছে। তুই খেয়ে নে।' শিখা রান্নাঘরের কাছে গিয়ে আবদারের সুরে বলল ' না বৌদিভাই ,চলো চলো একসঙ্গে খাবো।' বৌদি বলল 'তুই তো মাঝে মাঝে বৃষ্টির থেকেও বাচ্চা হয়ে যাস।হাতদিয়ে চুলগুলোকে নিয়ে একটু আদর করে দিলো। আর হেসে বলল এই দুটো বাচ্চাকে সামলাতে আমাকে যে কি হিমশিম খেতে হয়, তা কি বলবো ?' এর মধ্যেই দাদা ঢুকে গেল। বললো ' কি ব্যাপার বড় মেয়েকে এত কিসের আদর করছ তুমি? আমাদের বৃষ্টিরানী দেখলে কি বলবে ,বলো তো? এবার বুঝেছি বৃষ্টি কেন এত অভিযোগ করে তোমার নামে।' বৌদি বলল .'দেখো 'এইদিকে তুমি একদম নজর দেবে না ,আর বৃষ্টিকে তুমিই আস্কারা দিচ্ছ?' শিখা মনে মনে হাসে আর ভাবছে ।কেউ যখন বৃষ্টির হয়ে কথা বলবে ,বৌদি তখন তাকেই বলবে বৃষ্টিকে আস্কারা দিচ্ছে।' বৌদি বলল ' কি ব্যাপারে শিখা, তুই এত হাসছিস কেন ?আমি কি কিছু ভুল বলেছি বল?' দাদা বলল 'না ,না ,না ।তুমি কি কখনো ভুল বলতে পারো বা ভুল করতে পারো? বৌদি বলল 'কি ব্যাপার তুমি আমাকে ক্রিটিসাইজ করলে।' দাদা তখন হেসে বলল 'বাবা ,আমি তোমাকে ক্রিটিসাইজ করবো ?তাহলে রক্ষে আছে?' এইবার দাদা বৌদির‌ খুনসুটি শুরু হলো। শিখা বলল 'দাদাভাই ,বৌদি এখন খাবে?' দাদা বলল 'তোর বৌদি একাই খাবে ?আমাকে একবারও বলবি না খেতে,?' শিখা বলল 'সেকি দাদা ।তুমি এখনো খাও নি। সরি।' দাদা হেসে বলে 'না রে ,তোর বৌদি কি কখনো আমাকে না খাইয়ে ছেড়েছে বল ?তবে কি তোদের দেখে একটু মনে হল একসঙ্গে বসে খাই।' শিখা বলল 'আমরা তিনজন একসঙ্গে বসে খাব।' বৃষ্টি ওপর থেকে সব দেখছিল ।দেখে বললো 'তাহলে আমি কি বাদ ?একসঙ্গে মানেটা কি?' বৌদি বললো 'ওমা তুই এই তো খেলি ?খেতে পারবি তুই আর?' শিখা বললো ' হ্যাঁ ,তাই তো আমরা তো বৃষ্টিরানীকে বাদ দিয়ে দিয়েছি ।একসঙ্গে তো হলো না ।আয় সোনা, খাবি আয়।' বৌদি বলল 'শিখা বড্ড বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। আমরা কিন্তু বেরোবো ?রাস্তায় দেখবি ও কিন্তু ভীষণ বমি করে।' শিখা বলল 'ঠিক আছে ।করুক ।বমি আমি পরিষ্কার করে নেব ।' বৌদি বলল 'তখন দুজনেই শুরু করবি এক সঙ্গে বমি।কে কাকে সামলাবে?' দাদা হো হো করে হেসে উঠলো। বৌদি শিখাকে একটু মন ভালোর জন্য কত রকমই না চেষ্টা করে ।শিখা বোঝে । অথচ যে ব্যপারগুলোতে কখনো বৌদির দুঃখ কষ্ট হয় । সেগুলো কখনো বৌদি বলে না ।বৌদির মুখে সর্বদা হাসি লেগেই রয়েছে। সত্যি কথা‌ শিখার বৌদির মত এই পৃথিবীতে কারোর বৌদি হবে না। বৌদি বলল 'কিরে ,এখন আবার কি ভাবছিস?' শিখা বলল 'ভাবছি বৌদিভাই, তোমাকে ছেড়ে কি করে দূরে গিয়ে বি এড করব বলো? আমার ভাললাগা, মন্দ লাগা ,কার সঙ্গে শেয়ার করবো বলো।' বৌদি বলল ফোন আছে তো ?ফোনে বলবি কিন্তু ওটা তো তোর কেরিয়ারের ব্যাপার বল?' শিখা মাথা নিচু করে রইল। দাদা বলল 'প্রতি সানডেতে এখানে চলে আসবি ।দরকার হলে আমরা দুজনে মিলে মাঝে একবার গিয়ে তোকে প্রতি সপ্তাহে দেখে আসব ।ঠিক আছে। শিখার মুখে হাসি ফুটে উঠল।যেমন মেঘলা আকাশে হঠাৎ করে সূর্যের দীপ্তি পড়লে ধরাবাসি আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে ।ঠিক সেইরকম।। এজন্যই শিখাকে এবার শহর থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে ।যাতে শিখা ভালো থাকে ।পুরনো স্মৃতিগুলো শহরের সাথে জড়িয়ে আছে ।তার থেকে দূরে গ্রামেতে যাচ্ছে ।এবার শিখা যাচ্ছে বৌদির বাবার বাড়িতে ।দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর শিখার বৌদি বাবার বাড়ি যাচ্ছে ।কৃষ্ণনগর থেকে যেতে হয় ঠিক বাংলাদেশ বর্ডার এর কাছে গেদেতে। বৌদি শিখার কাছে গিয়ে মুখটা বুকের কাছে নিয়ে বলল 'শিখা তুই কোন চিন্তা করিস না ।সব সময় হাসি খুশিতে থাকবি। ঠিক আছে ।কারণ তোকে খুশি দেখলেই আমরা খুশি ।মা যেন কখনো ভাবেন না যে তার মেয়েটা অবহেলা ,অবজ্ঞায় আছে ।তার প্রতি কোনো যত্ন নেয়া হয় না। ' শিখা বলে 'বৌদিভাই তোমরা কখনো আমাকে অবহেলা ,অবজ্ঞা করতেই পারো না। আমি তো সবাইকে বলি আমার বৌদিভাই ,দাদাভাইয়ের মত এই পৃথিবীতে কারোর দাদাভাই ,বৌদিভাই হবে না ।সব সময় তোমরা এভাবে থেকো বৌদি ভাই।' এবার দাদা তাড়ি দিয়ে বলল 'জানি ননদ-ভাবীর অনেক কথা জমে আছে ।রাস্তায় যেতে যেতে গাড়িতে শেয়ার করিস ।এবার তো যেতে দেরি হয়ে যাবে?' শিখা বলল 'বৌদিভাই, আমি তোমার হাতে হাতে কাজ করে দিই ।' শিখার বৌদি বলল 'একদম না ।শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে কত কাজ করতে হবে ।এখন তোমাকে কিছু করতে হবে না ।নিজের সংসারে গিয়ে তখন করো। তোরা ছেলে মানুষ ।তোরা একটু ভালো করে রেডি হ আমার তো এক্ষুনি হয়ে যাবে।' শিখার বৌদি সব সময় ভাবে শিখার বৌদির যেন কত বয়স হয়ে গেছে। কিন্তু বৌদিভাইয়ের তো সেরকম কোনো বয়সই হয় নি ?কোথায় একটু সেজেগুজে থাকবে তা নয়।' শিখা বলেই ফেলল 'হ্যাঁ ,আমার বৌদিভাই তো পঞ্চাশ পেরিয়ে গেছে,।' বৌদি রান্নাঘর থেকে বলে 'আর বাকি কি আছে রে ?আর কি জীবনের তো সবই সব শেষ হয়ে গেল। এখন তোদের মধ্যে দিয়েই সব আনন্দ উল্লাসগুলো দেখবো। মেলা বকিস না। এবার যা উপরে গিয়ে রেডি হয়ে নে ।উপরের দিকে তাকিয়ে বৌদি বলে 'দেখ ,একজনকে সেজেগুজে দাঁড়িয়ে আছে ।(বৃষ্টির দিকে ইঙ্গিত করে। )সকলে একসঙ্গে হেসে উঠলো। যথাসময়ে সকলে রেডি হয়ে গাড়িতে করে রওনা দিলো কৃষ্ণনগরের পথে ।রাস্তায় যেতে যেতে কত প্যান্ডেল ।আর বৃষ্টি যা দেখে তাই ওর ভালো লাগে। বায়না করে ' চলো না ,ওই পান্ডেলটা দেখে আসি।' 'বৌদি বলল 'প্যাডেল দেখলে হবে ?মামার বাড়ি পৌঁছাবি কখন?' তার মধ্যে কয়েকবার বমি হয়ে গেছে। তবুও দু চোখে কৌতুহল।সারাবিশ্বটাকে যেন দেখতে চায়। সবুজ চোখে অনেক প্রশ্ন ,অনেক জিজ্ঞাসা? উত্তর খুঁজে পেতে চায়। ' এরমধ্যে শিখাও বমি করতে শুরু করল। বৌদি বলল 'একটু চোখে মুখে জল দিয়ে নে। মেয়েটা বেশিদূর গাড়িতে ট্রাবল করলেই এরকম হয়।' ড্রাইভারকে বললো 'গাড়িটা থামাও তো। জল নিয়ে শিখাকে চোখে মুখে দিল। ফ্রেশ লাগছে একটু?' শিখা বলল 'হ্যাঁ বৌদি।' বৃষ্টি তখন হেসে বলল 'তোমার ড্রেসটা কি হলো?' শিখা বলল 'কী হয়েছে আমার ড্রেস ?' বৃষ্টি বলল 'তাকিয়ে দেখো।সালোয়ারে একটু লেগে গেছে তাই?' বৌদি বলে 'কিছু হবে না ।একটু জল দিয়ে দিচ্ছি দাঁড়া।' শিখা অবাক হয়ে যায়, বৌদির কিছুতেই যেন কোন ঘৃণা নেই ,রাগ নেই ।এখনো কিভাবে আগলে আগলে নিয়ে যাচ্ছে ।নিজের শরীরটা ভাল কি মন্দ সেই হিসেবে একবারও করে না।' শিখার দুচোখ দিয়ে জল পড়তে থাকে। বৌদি ব্যাঘ্র ভাবে বলে 'কি হলো বল শিখা তোর চোখে জল কেন? আবার?‌' শিখা বলে 'আর বোলো না বৌদি ভাই, এটা হচ্ছে তোমার জন্য ।তোমাকে হারানোর ভয় সব সময় মনে কাজ করে গো?' বৌদি বলে 'বালাই ষাট আমি হারাবো কেন? কেন তোর দাদাভাই কি নতুন করে আবার নতুন বৌদি আনবে নাকি?' শিখা বললো 'বৌদিভাই ,ভালো হবে না কিন্তু ।দাদা ভাই সেই চেষ্টা করুক না ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবো না।' দাদা হাসতে হাসতে বললো ‌'এই জন্যই তো তোর বৌদি ছাড়া ,অন্য কোন মেয়ের দিকে তাকাতেই পারি না।' সবাই মিলে হো করে হেসে উঠলো। বৌদি বলল 'শিখা তুই আমার কাঁধে মাথা রাখ জানলার দিকে বসে ।' এরইমধ্যে গাড়িতে গান বাজছে ' আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা...।' হাজারো প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে শিখার মনে ।কিন্তু একটা মনের মধ্যে আনন্দ রয়েছে ।বড় হয়ে শিখা এ প্রথম দাদার শ্বশুর বাড়িতে যাচ্ছে ।সেখানকার পরিবেশ সমস্ত কিছুর গল্প বৌদির কাছে শুনেছে। আজ নিজের চোখে দেখবে ।ভাবতেই মনটা কিরকম পুলকিত হচ্ছে । গ্রামীণ পরিবেশ ,গ্রামের ঠাকুর কি রকম হবে ?মনের ভেতরে একটা আলাদা রকম রোমাঞ্চ হচ্ছে ।এই ভাবনা নিয়েই আপাতত সে দিব্যেন্দুর ভাবনা থেকে অব্যাহতি পেল।




ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"২৬ক্রমশ

রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়,পর্ব বারো




উদাসী মেঘের ডানায় (পর্ব বারো) 


 রাত নয়টা,বাজে তৃষ্ণার রিংটোনটা বাজতেই অন করে বললো- বাসায় ফিরেছো? - কখন,তুমি? - আমি মার সাথে কথা বলে মাত্র ঢুকলাম রুমে। -আমার গল্পের শেষ টুকু,আজ,বলবো -না বললে হয়না। -না সব জানাতে চাই তাতে,আমি,শান্তি ও স্বস্হি পাবো। -বেশ বলো। আমি একদিন না পেরে নীরার মাকে মেয়ের শরীর খারাপের কথা বলে বাসায় আনালাম তখন উনাকে আমি বলি নীরা এমন করে কেন? যখন শুনলাম নীরার বাবা সাগর কে সরে যেতে বলছে ওর জীবন থেকে সে নীরা না সরে গেলে নিজ ইচ্ছায় সে যাবেনা কিছুতেই তখন নীরার বাবা ড্রাইভার আর দারেয়ান দিয়ে লাঠি দিয়ে মারতে মারতে অজ্ঞান করে গাড়িতে করে কোথায় ফেলে আসে নীরা পারেনি আটকাতে পরদিন প্রত্রিকায় খবর বের হয় সাগর কে কারা পিটিয়ে হত্যা,করে রাস্তার গারভেেজের সামনে ফেলে যায় নীরা,এখর সহ্য করতে পারেনি, মানসিক ভারসাম্য হারায় তারপর থেকে ওকে ওর বাবা মেয়ে,বলে দিলে জেল খাটবে নিজে র স্বার্থের জন্য ঘুমেরঔষধ খাইয়ে ঘুম পারিয়ে রাখতো যাতে নীরা মুখ না খোলে, নীরার মার ও কিছুই করার ছিলোনা ওর বাবা ছিলেো টাকার গরিমায় পিচাশ বাড়ির সবাই ভয় পেতো আত্মীয় স্বজন বন্ধুেদর বলতো বেশি পড়তে পড়তে মেন্টাল রোগী হয়ে গিয়েছে। বছর খানিক পর নীরা কিছুটা স্বাভাবিক হলো তখন আমার সাথে বিয়ে হয় আমার এক মামা ছিলো নীরার বাবার বন্ধু উনি ও এতোকিছু জানতোনা তার ভিতর নারীকে যখম ঘুম পারিয়ে রাখতো তখন একবার ওর হার্ট এ্যাটাক হয় তারপর থেকে চিকিৎসার উপরই আছে, ওর মা এসে প্রতিমাসে নিয়ে যেতো ডাক্তারের কাছে। নীরা কে আমার সাথে বিয়ে দেয় মিথ্যা বলে সাগর মরেনি বেচেঁ আছে সাগরের সাথেই বিয়ে দিবে জানো বিয়ের রাতেই ওর অস্বাভাবিক আচরণ দেখে আমাকে সাগর বলে জড়িয়ে ধরে বলে তুমি বেঁচে আছো। আমি বলেছিলাম আমি অপু সাগর নই ও বিশ্বাস করেনি। এমন প্রায়ই করতো নীরা আমার মনটা খারাপ হয়েছিলো তারপর প্রায়ই ঘুমের মধ্যে কাদঁতো আর সাগর সাগর বলে চেঁচাতোপ আমাকে জড়িয়ে ধরে,আমিও ঘুমের ঘোরে ওকে প্রায়ই কাছে টেনে নিতাম। বিয়ের এক বছর পর ও যখন প্রেগন্যান্ট হলো ডেলিভারির সময় জানলাম ওর হার্টে প্রবলেম আছে। অনেক চেষ্টা করেছে ডাক্তার বাচাঁতেপারেনি। হয়তো আমি আগে জানলে কেনদিনও ওরে পাশে ঘুমাতামনা ওর্ প্রেগনেন্ট ও হতোনা। বুঝতে ও পারিনি ওর মা এতো কথা বলেছিলো হার্টের কথাটা আমার কাছে ছাপিয়ে গিয়ে নিজে এসে প্রতি মাসে চেকআাপে নিয়ে যেতো। ওকে আমি ভালোবাসিনি এসব শুনে ওতো আমাকে চায়না বাধ্য হয়ে আসতো, আমার খুব মায়া হতো তাই যতটুকু পারি স্নেহ মমতা দিতে চেষ্টা করতাম বাবার কাছ থেকে মেয়েটা পায়নি কিছুই, বাবার বাড়ি যেতে বললে ভয়,পেতো তাই অসহায় মনে হতো নীরাকে মাঝে মাঝে মনে হয় হয়তে প্রেগনেন্ট না হলে ও হয়তো আরও কিছুদিন বাচঁতে পারতো। তৃষ্ণা -তুমি যা করেছো মানবতা বোধ থেকে অনেক করেছো ভাগ্যকে মেনে নিয়ে, ও এভাবেই চলে যাবে বিধাতার লেখা ছিলো। দোয়া করি ওপারে যেনো ওর সৈকতের সাথে মিলন হয়। তোমার জন্যও আল্লাহ নিশ্চয় ভালো কিছু রেখেছেন তোমার একটা চার বছরের সন্তান দান করেছেন এটা কি পুরস্কার নয়। অপু-তাই হবে আর পাচঁ বছর পর কেনইবা তোমার সাথে আবার দেখা হলো, যাকে আমার হৃদয়ে রেখেছি গোপনে স্বর্গীয় অনিভূতিতে, খুঁজিনি কল করিনি ভেবেছি তুমি হয়তো ভুলে গিয়েছো তাই,বা অন্য কারো ঘরে,আমার জন্য তো বসে থাকবেনা কি আশ্চর্য তুমি আমাকে ভুলোনি সরেগিয়েও এটা আমার জন্য বিশাল পাওনা। তৃষ্ণা-পৃথিবীর ঘরে ঘরে কত গল্প থাকে গোপনে নিভৃতে কেউ জানেনা। কত রকমের যন্ত্রণা দুঃখ কষ্ট কত কি থাকে। কত নারী হারিয়ে যায় পিতা,ভাই,স্বামী সন্তানের কারণে।আবার কত পুরুষ ও আছে মানবতার কাছে নিজেকে সঁপে দেয়। এমন যদি সবাই হতো তাহলে কি হতো অপু, কেন সবাই একই মনের মানুষ হতে পারেনা কিসের সন্মান, কিসের এতো অহংকার। অপু- জানিনা আমি নিজেও কিসের এতো বড়াই দুইদিনের পৃথিবীতে। চলবে....

নাজিয়া নিগার 




কালের আগন্তুক 

 সত্যের পাটাতনে উন্মাদের নৃত্য দাপটের গ্লোবালে শিং নেড়ে গুণটানে হালের মাঝি.... শরতে বর্ষা নামে..... কাজীর ভাত খুটে খায় বসন্তের কোকিল! মিষ্টি সুরা পান..... উড়ে যায় সুসময়ের মাছি স্বর্গে ঘুরে মাতাল ল্যাম্বার্ট! গাজনের বাজনায় ব্রাহ্ম পুরোহিত শেকল ভাঙার গানে নবারুণ প্রলাপ কাঠখড়ে পোড়ে ইঁটপাথরের ইমারত বাতাসের ছাইভষ্মে রেনেসাঁস.... হ্যামিলনের বাঁশি হাতে কালের আগন্তুক।

কামরুন নাহার কনক






বিলাসিনী 


 সত্যের প্রতি আমার অনুরাগ সবসময়... তবুও কেমন করে যেন, মিথ্যেতেই হলো বসবাস! সুসংহত আর সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও ভুল -ভ্রান্তি হলো কোথায় কী জানি! প্রভাব বিস্তর করল হৃদয়েরর গভীর থেকে গভীরে, জানি না, সত্যের উপলব্ধিগুলো গ্রাস করল কীসে? হয়তো বা আবেগ, হয়তো বা আকৃষ্ট হয়েছি, বিমোহিত হয়েছি, প্রভাবিত হয়েছি কথা আর ভালোবাসার ফাঁদে... আকস্মিক সুবিন্যস্ত জীবনধারা বাঁক নিল এক উদ্দেশ্যহীন আর নিয়ন্ত্রণহীন গতির পথে, কোন অভিজ্ঞতা, বিশ্লেষণেই বাঁধা পড়ল না মন। পরিদৃশ্যমান জগত-জীবনের অন্তরালে এক স্বাপ্নিক সত্তা গিলে খায় আমায়... আমি ভুলে যাই, আমার ধর্মীয়, বুদ্ধিগত, সৌন্দর্যগত, নৈতিক চেতনা কঠোর তপস্যা ও সাধনায় সত্য করতে চাই, স্বপ্ন আর চিন্তার বিলাসিতাকে।



                             বনফুল ( ১০ ম পর্ব )


                           ফোনের রিংটোনে জুঁইয়ের ঘুম ভাঙ্গালো। ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফোন সাইলেন্ট করতে ভুলে গিয়েছিল নিশ্চয়ই। ফোন হাতে নিয়েই জুঁই আশ্চর্য হলো! এ যে পলাশের ফোন, ইয়েস করতেই ওপাশ থেকে থেকে ভেসে এলো গুডমর্নিং সুইট হার্ট... জুঁই কোনো দিন ভাবতে পারেনি এতো সুন্দর সকাল ওর জন্যে অপেক্ষা করে ছিলো। পলাশ কোনো রিপ্লাই না পেয়ে আবার বললো হ্যালো... পলাশের হ্যালোতে জুঁই বাস্তবে ফিরে এলো, সাথে সাথেই বললো গুডমর্নিং। -এতো সময় লাগলো গুডমর্নিং বলতে!তুমি কি ঘুমোচ্ছিলে? -জুঁই না তো! -তাহলে! আমি ভাবতেই পারছিলাম না এতো সুন্দর সকাল তুমি উপহার দেবে.... পলাশ ওপাশ থেকে হেসে উঠলো। জুঁই জানতে চাইলো হাসলে যে? - পলাশ বললো জুঁই তুমি একটা পাগলী, জুঁই উত্তরে জানালো তোমাকে ভালোবাসার জন্য পাগলী হতেও রাজি। এবার পলাশ হেসে উঠলো হাহাহা হাহাহা হাহাহা....করে। - জুঁই বললো আমি কি হাসার মতো কথা বলেছি ? পলাশ কথা এড়িয়ে বললো ঘড়িতে কয়টা বাজে? আজ তবে ভার্সিটিতে যাবে না? - জুঁই বললো কি যে বলো ভার্সিটিতে না গেলে তোমাকে যে দেখতে পাবো না! পলাশেরও যে অবশ্য সেই ব্যাপার,সেটা প্রকাশ করেনি চেপে গেল, ওর চাওয়াটা জুঁইয়ের মুখ থেকে বেড়িয়ে এসেছে। জুঁই পলাশকে বললো এখন ছাড়ছি, ফ্রেস হয়ে নাস্তা খেয়ে বেরোতে হবে তো...। -পলাশ বললো ওকে ম্যাম। জুঁই বিছানা ছেড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে ফ্রেস হয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে হালকা সাজগোছ করে নিচে নেমে এলো। ওর বাবা মা ওর জন্য অপেক্ষা করছিলো জুঁই নেমে এলে একসঙ্গে নাস্তা করবে বলে ।গল্প-গুজবের মাঝে নাস্তা খাওয়া শেষ হলো, তারপর চা খাওয়া শেষ করে জুঁই বললো আমি বেরোচ্ছি। বাবা মা দুজনেই বললেন সাবধানে যেও মা। জুঁই গাড়িতে উঠে বসলো, ড্রাইভার যথা সময়ে জুঁইকে ভার্সিটি গেট নামিয়ে দিলো, আজ পলাশ জুঁইয়ের আগেই চলে এসেছে, গেটের ভিতরে ঢুকেই জুঁই পলাশকে দেখতে পেলো।মুহুর্তেই চার চোখে দৃষ্টি বিনিময় হলো, পলাশ ছোট্ট করে হেসে বললো জুঁই চলো, ওদিকটায় গাছের ছায়ায় বসি, ক্লাসের অনেকটা সময় বাকি আছে।

আতিয়ার রহমান 



স্মৃতির কলতান 

 প্রজাপতি ভীড় করে না ডালিম ফুলে এসে মৌমাছিরা গাঁও ছেড়েছে সে কোন নিরুদ্দেশে! খেজুর রসের নলেন গুড়ে মাছির উড়াউড়ি টাটকা রসে আর পড়ে না বড়ন ধানের মুড়ি। কিশোর সকাল আঁধার করে সেই যে গেলো মায় কুটুমপাখি মধুর সুরে ডাকলো না আর আয়। ফাগুন রাঙা শিমুল পলাশ হাজার পাখির ভীড় শালিক টিয়া বুলবুলিরা হারালো তার নীড়। হারালো সেই গোধূলি রঙ ঘরে ফেরার টান। পুঁইয়ের ডগা লাউয়ের মাচায় চাঁদের হাসি ম্লান। বদলে গেছে সেই মেঠো পথ সোদা মাটির ঘ্রাণ গোধূলি চোখ তবু খোঁজে স্মৃতির কলতান।

জামিল জাহাঙ্গীর 




গোপন কান্নার দিন 
 
 কিছু অভিমান জমিয়ে রেখেছি বুকে একটা দোয়েল এসে ঠোঁটে গেঁথে উড়ে গেলো কিছু অনুযোগ লিখে পাথর চেপে রাখবো দমকা বাতাসে ভেসে গেছে ওরাও অচেনা... বালিকার নাম কান্না শুনে হাসি পেলো আমার ভুলে গেছি শেষ কবে হেসেছিলাম বালকের দুঃখ নামে একটুও করুণা নয় নিদারুণ খরায় পুড়ে যাচ্ছে আকাশজমিন ... শোক নয় সন্তাপই জরুরী এখন দুধের মাছিরা ভনভন করুক প্রোপাগান্ডায় চোখ মুছতে গেলেই হাত পুড়ে যায় অশ্রুতে এ ঘন শ্রাবণ কাঁদতে ভুলে গেছে আমি আর কাঁদবো না তুমিও কাঁদতে যেও না।

দেবব্রত সরকার 



বিজয়া 

বিজয়াটা শুধু শুরু হোক প্রতিদিন 
প্রতিদিন দুর্গা ফিরে যাক শিবভূমে 
কষ্টগুলোকে দিয়েছি বিসর্জনই 
ধুনুচি উঠুক মনের কলিজা পুড়ে 
মিথ্যে আমার কবর খুঁড়েছে রোজ 
শ্মশানে চিতার কাঠের অভাব খুব 
ভুল যারা বোঝে নিয়ে থাকে বুকে বোঝ 
তাদের জন্যই বিজয়া হয়েছে চুপ 
দূরে থেকে একা তুমিও কেঁদোনা মেয়ে 
বিজয়া এনেছে বিজ্ঞাপণের মার্ক
ব্যথার পাহাড়ে বিশ্বাস বলি দিয়ে   
আমার কাছে যে হয়ে ওঠে বিষ-সার্ক 
তাকে তো আমিই প্রিয় জন ভাবি বলে 
এতোটা আঘাত এনে দিলো বুকে ঝড় 
প্রিয়জনেরাই এই ভাবে যায় চলে 
বিশ্বাস তুমি হইওনাকো আর পর 
আমিও তোমার অপেক্ষাতে রোজ 
বসে আছি নিয়ে বুকে কতো ক্ষতরেখা 
নিশ্চয় তুমিও মনেতে রেখেছো খোঁজ 
তোমাকে জানাই শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা 

১১ অক্টোবর ২০২১

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" ২৫


কান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "। 





                                                                           টানাপোড়েন পর্ব ২৫

                                                                                                ধাক্কা


                                           জকে স্কুল থেকে ফেরার সময় ট্রেনে রেখা বসার জায়গাই সে রকমভাবে পায় নি। যাও বা পেয়েছিল মানবিকতার খাতিরে সে জায়গাও ছেড়ে দিতে হয়েছে। মেজাজটা তাই খিটখিটে হয়ে আছে। জায়গাটা ছেড়ে দিয়েছে বলে নয়, আসলে ক্লান্তি শরীর মনকে গ্রাস করেছে। বাড়িতে ঢুকে হাজারোতর কাজ। নতুন কাজের মেয়ে সুমিতা সকালবেলায় আসে নি ।তখন থেকেই মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে আছে ।এরপর স্কুলের ধকল ,ট্রেনের ধকল এসব করে মেজাজ হারিয়ে ফেলছে। এমন সময় মনোজ ফোন করে । কয়েকবার রিং হয়ে  যাওয়ার পরও যখন ফোন ধরছে না। তখন মনোজ টেক্সট করে ফোনটা তুলতে?
এরপর আবার রিং হল ক্রিং ক্রিং ক্রিং।
এবার হাতের কাজ ফেলে রেখা ফোন রিসিভ করে।
'হ্যাঁ বল?'
মনোজ বলে 'সমু ফোন‌ করেছিল?'
রেখা বলে  'ওর নামটা আমার কাছে ক'রো না ।'
মনোজ বলে ‌,, কিন্তু তোমাকে তো শুনতেই হবে ।এবার কাকু কাকিমাকে কি বলবে ,বলো?'
রেখা বলে '  বুঝতে পেরেছি ডিভোর্স পেপার ফাইল করেছে ।তাই তো?'
মনোজ বলে ' হ্যাঁ তাই? কয়েক মাস আগেই করেছে।কেমন সবাইকে একটা ধাক্কা দিল বল তো ?আমার তো মনে হয় পার্থ ওই কারনেই...?
রেখা বলে  'এমনি আমার মেজাজটা বিগড়ে আছে ।তারপর ওর নামটা করলে ।আমার একদমই ভালো লাগছে না ।তুমি ফোনটা রাখ।'বলেই ফোনটা কেটে দেয়। এত তাড়াতাড়ি এই ধাক্কাটা খাবে বুঝতে পারে নি ।পার্থ হসপিটাল থেকে ছাড়া পেতে পেতে এইরকম একটা ধাক্কা। ঘটনাটি অবিশ্বাস্য।'
মনোজ বলে  'মাথাটা ঠান্ডা রাখো রেখা ।এখনো অনেক খেলা বাকি।'
 রেখা বলে" তুমি এখন কতদূর বলো তো? বাজে বকো না ।'
মনোজ তবুও হাসতে থাকে।
রেখার মাথায় একরাশ চিন্তা এসে জড়ো হলো। 
পাবলোটার কি হবে? সমু তো নিজের সুখ বেছে নিল।এরপর কেসের ডেট হলেই পাবলোর ডাক পড়বে। ওর শিশু মনে যে কতটা দাগ পড়বে। তার ঠিক ঠিকানা নেই। মায়ের কাছে থাকবে ,না বাবার কাছে থাকবে ।চলবে শিশুকে নিয়ে টানাটানি আর শিশুমনের যে টানাপোড়েন সেটা কেউ উপলব্ধি করতে পারবে না। আবার রেখা ভাবছে, কাকিমা কাকু কি জানে? নানা ঝামেলায় কাকু কাকিমার কাছে যাওয়া হয়ে ওঠে নি। এরপর সমু কোথায় থাকবে?কাকু কাকিমা কি মেনে নেবে? নাকি ওই ছেলেটার সঙ্গে থাকবে?কিন্তু ওই ছেলেটির তো এখনো ডিভোর্স হয় নি,।
এই সব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে কখন যে চোখটা একটু লেগেছে ,ঠিক তখনই কলিংবেলের আওয়াজ জয় গনেশ, জয় গনেশ, জয় গনেশ দেবা...।'
রেখা বিরক্তি নিয়ে দরজাটা খোলে। মনোজ রেখার চোখমুখ দেখে হেসে ফেলে বলে  'কি ব্যাপার ,তুমি কি আমাকে ভূত দেখার মত দেখছো?'
রেখা অবাক হয়ে বলে 'কি ব্যাপার, তুমি যে বললে আজকে পিসির বাড়ি হয়ে আসবে, এত তাড়াতাড়ি আসলে?'
মনোজ বলে দরজা লক করতে করতে 'আরে ধ্যুতেরি, ট্রেনটাই তো মিস করেছি পিসির বাড়ি যাবার।'
রেখা বলল  'ও তাই বলো?'
মনোজ বলল তোমার রাগ বিরক্তিগুলো কমলো? তুমি খুশি হও নি?'
রেখা বলল 'রাগ কমে নি ,তবে দ্বিতীয় টা কমেছে।  আমি তোমাকেই চাইছিলাম ।আমার সকল বোঝা তোমার ওপর চাপিয়ে দিয়ে.. দিব্যি মহাসুখে থাকবো বলে।'

মনোজ রেখাকে দুই হাত দিয়ে ধরে নিজের বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করলো আর বলল ' তাই?কেন বল তো?'
রেখা মনোজের বুকে মাথা রেখে বলল .,:জানো তো ,এই ব্যাপারটা আমি কিছুতেই মন থেকে মেনে নিতে পারছি না।'
মনোজ বলল  'ওদের কেসের ডেট ও পড়ে গেছে। আগামীকাল। আমাকে যেতে বলেছে।'
রেখা বলে এবার পাবলো কার কাছে থাকবে। যতদূর সম্ভব 18 বছর না হওয়া পর্যন্ত তো  মায়ের কাছেই থাকবে ,তাই না?'
মনোজ বলল' সে রকমই তো হওয়া উচিত। নাবালক তো।'
রেখা বললো  'কিন্তু পার্থ তো পাবলোকে খুব ভালোবাসে। আর সমু যা মেয়ে। ও কিছুতেই পাবলোর সঙ্গে ওর বাবার দেখা করতে দেবে না ।দেখে নিও তুমি।'
মনোজ বলল 'আমি ওকে বললাম হ্যাঁরে ,এখন কোথায় থাকবি ভাবছিস? উত্তরে বলল ,দেখি?'
ডিভোর্সের আগে তো দুজনকে সেপারেশনে থাকতে হয় ।এটাও আমি বললাম ।তাতে ও বললো  'ওসব হয়ে যাবে।'
রেখা বলল  'তুমি ওকে চেন ই না ।ও ধুরন্ধর মেয়ে ও সব করতে পারে ।একবার কাকু কাকিমাকে দেখতে যাবার সময় নেই ।আর এখন ওই বাড়িতে গিয়েও থাকবে, ভাবো?'
ভাবছি আজকে একবার কাকু কাকিমাকে ফোন করবো।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে মনোজ বলল  'দশটা বাজে এখন কি করবে? থাক আজকে বলতে হবে 
না ।নিশ্চিন্তে ঘুমাক।'
মনোজ বলল  'রেখা খাবার করেছ?'
আমি জগার দোকান থেকে তরকা আর রুটি নিয়ে আসি। '
রেখা বলল 'না না ঠিক আছে। আমি রুটি করে নিচ্ছি।'
মনোজ বলল  'না ,তোমার আজকে রুটি করতে হবে না। এমনি টায়ার্ড আছো ,ঠিক আছে। চোখ মুখ শুকিয়ে গেছে ক্লান্তিতে। চোখে ঘুম ঢুলু ঢুলু।(গালটা ধরে একটু আদর করে।)'
রেখা মনোজের কথা শুনে হেসে ফেলল ,বলল  ‌'
তুমি কি করে এত মনের কথা বোঝো ,বল‌ তো?'
মনোজ বলে  'তোমাকে আমি বুঝব‌ না .।তুমি আমাকে বুঝবে না ,তা কখনো হয়?'বলেই মনোজ বেরিয়ে যায় জগার দোকানের দিকে।
রেখা সারাক্ষণ পাবলোর কথা ভাবতে লাগলো পাবলোর সামনের জীবনটা কী  ধূসর। নাকি নতুন সূর্য উঁকি দেবে ওর জীবনে। ওর বয়সন্ধিকালে কোন সমস্যা দেখা না দেয়। ঈশ্বর ওকে সেই শক্তি দিন যাতে সঠিক পথে চালিত হতে পারে। পার্থর জন্য ও কেমন মন খারাপ করছে। বিয়ের পর থেকে দেখেছি তো সব সময় মনোজ আর তাকে কতটা সম্মান দিয়ে এসেছে। কেউ তো, মুখই খুলছে না কি হয়েছে?
রেখা মনোজ এর জন্য ‌খুব গর্ববোধ করে সত্যিই এরকম স্বামী পেয়েছে ।ভগবান করুন সব সময় যেন মনোজের প্রতি ধ্যান  দিতে পারে।
পরের দিন মনোজ খুব তাড়াতাড়ি কোর্টে বেরিয়ে গেল। রেখা সারাটা দিন কোন কাজে মন লাগাতে পারে নি। বারবার ফোন করে পাবলোর কথা জিজ্ঞেস করেছে। লাস্ট যেটুকু জানা গেছে যখন পাবলোকে ডাকা হয়েছে এবং জিজ্ঞেস করা হয়েছে বল তো সোনা তুমি কাকে বেশি ভালোবাসো ।
তাতে পাবলো কিছুক্ষণ ভেবেছে । আবার  যখন  তাকে প্রশ্ন করা হয় ।'তুমি মাকে বেশি ভালোবাসো না বাবাকে?'
তখনো কিছুক্ষন চুপ করে থাকে। পরে বলেছে দু'জনকেই।
রেখা এই কথা শোনার পর চোখের জল ধরে রাখতে পারে নি। এর থেকেই তো প্রমাণিত হয় একটি শিশু মা-বাবা দু'জনকেই একসঙ্গে চায় ,সেখানে যদি তাকে নিয়ে চলে টানা হ্যাচরা ।তার শিশু মন তো ক্ষতবিক্ষত হবেই কি করে ওর চাহিদাগুলো পূরণ করবে ওর সার্বিক বিকাশ ঘটবে বা কি করে এই চিন্তায় রেখা কে কুরে কুরে খেতে থাকে।



ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"২৫ক্রমশ

১০ অক্টোবর ২০২১

রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়,১১

 চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 





                                                                             উদাসী মেঘের ডানায়
                                                                                                                         (  পর্ব ১১)



                       তৃষ্ণা,অফিস থেকে এসে শাওয়ার,সেরে মায়ের,সাথে
চা,খেতে খেতে গল্প করছিলো হঠাৎ তৃষ্ণার মা বললো
-তোকে একটা,কথা বলতে চাই।
-বলো মা
ময়নার মা আজ ময়নাকে খুব মেরেছে, ড্রাইভারের
প্রেমে পড়েছে, বিয়ে না দিলে ময়না জান দিয়ে দিবে
কি ঝামেলায় পড়লাম।
তৃষ্ণা হাসতে হাসতে বললো-তোমার চল্লিশ বছরেরমেয়ে,যদি,প্রেম করে মা ওরতো সবে আঠারে বছর ড্রাইভার মজিদ ছেলে ভালো দোষ কি তাতে।রাবেয়া,বেগম অবাক হয়ে মেয়ের মুখের দিকে    তাকিয়ে থেকে হেসে বললো
তুই যদি সত্যি বিয়ে করিস আমার থেকে সুখি কেউ
হবেনা কিন্ত কাকে
-তুমি জানো মা আমি কাকে ভালোবাসি
-ওরতে বউ আছে!
 না,নেই বেবী হবার সময় মারা,গিয়েছে।
-বাচ্চাটা?
মেয়ে,বেবী দাদীই মানুুষ করছে।
-আহারে জন্মেই মা হারা।
যাক পরে শুনবো ময়নার কি করবি?
-বিয়ে দিয়ে দিবো ছাদের ঘরে থাকবে, যাতে মজিদ
কখনো কষ্ট দিতে না পারে আর খালার ওতো এক ময়না,ছাড়া কেউ নেই খালা ও নিশ্চিন্তে থাকবে।
- মন্দ,বলিসনি , ঠিক আছে মজিদের সাথে আমি
কথা বলবো।
-সেটাই ভালো হবে, আর বলো ওর মাকে নিয়ে আসতে তারপর তারিখ ঠিক করে নিবো।
এই বলে তৃষ্ণা,ওর রুমের দিকে পা বাড়ালো।


                                                                                                                          চলবে....

ইশরাত জাহান নিরু




প্রতিবিম্ব


ভোরের প্রাশান্তির ঘুম আর স্বপ্নের পরী 
ব্যাস্ত হয়ে উড়ে যায়!  পাঁচটা বেজে গেছে? 
আড়মোড়া দিয়ে জেগে উঠে, 
রাত্রির ক্লান্তি ঝেড়ে অলসতা মুঁছে, 
চোখ তুলে মনের জানালা খুলে,
স্বজন মুখ দর্শন করে, সমুখে পা বাড়ায়।
নিজেকে নিজেই  বহন করে
ধীর পায়ে চলে, যেন হোচট না খায়।
চোখের ক্লান্তি ধুতে জলের কলে হাত রাখে,
মুখের প্রতিবিম্ব পরে বাথরুমের আয়নায়!
আমি কি? সন্দেহ চোখে ছায়া ঝুলে রয়,
নিজের মুখ নিজের কাছে অচেনা মনে হয়!
সমীক্ষায় সায় নেই শুধু শুধু সময় অপচয়।
বহুদিন ধরে আছে নিজের সাথে নিজে
দেখেছে বহুবার নিজেকে এপাশ ওপাশ করে,
আজ যেন হৃদয়ের পালিত বৃষ্টির তোড়ে
নামহীন গোত্রহীন ভালোবাসা হীন  এক
বেওয়ারিশ লাশের সাথে নির্বাক কথা হয়
ভোরের আলো এসে কড়া নাড়ে, চেনা দড়জায়।
নিজেকে  নিজে আহ্বান করে
অবাক  বিস্ময়!

লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল"৯

চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শান্তা কামালী'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "বনফুল"




                                                                            বনফুল
                                                                                       ( ম পর্ব ) 
                                                                             
 
                                 য়না টেবিলে চা নাস্তা দিয়েছে, মা বাবার সাথে বসে চা নাস্তা খেতে খেতে খানিকটা সময় গল্পগোজব হলো। তারপর 
মা-বাবা কে বললো আমার কিছু পড়া জমে আছে  কমপ্লিট করতে হবে, আমি উপরে যাচ্ছি।এই বলে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে গেলো।
টেবিলে বসলো জুঁই মন দিয়ে ঘন্টা তিনেক পড়লো, হঠাৎ জুঁইয়ের ফোন বেজে উঠল, ফোন হাতে নিতেই জুঁইয়ের মন খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো, ওপাশ থেকে পলাশের গলা ভেসে এলো কি করছো ? উত্তরে জুঁই বললো পড়ছিলাম , পলাশ জুঁইকে বললো রেখে দেবো ফোন?  জুঁই বলে, আরে না আমার পড়া কমপ্লিট, বলো তুমি কি করছিলে? 
 তিনটে টিউশন সেরে এসে আমার নিজের পড়া শেষ করলাম। 
সাথে তিনি, শিমুলের পড়াও বুঝিয়ে দিলাম।
-এখন কি করছো?  
এখন , এখন আমার সুইট হার্টের সাথে ফোনে কথা বলছি... 
পলাশের মুখে এমন করে রোমান্টিক  কথা বলতে শুনে জুঁইয়ের শরীর কাঁটা দিয়ে উঠলো। 
পলাশ আরো বললো, জুঁই তুমি, তুমি কি জানো? 
 জুঁই প্রশ্ন করলো কি? তুমি একটা লক্ষ্মী ভদ্র মিষ্টি  মেয়ে। এপাশ থেকে জুঁই হাহাহা হাহাহা হাহাহা করে হেসে উঠলো।
 পলাশ জুঁইকে প্রশ্ন করলো আমি কি ভুল বলেছি, জুঁই বললো, না সব প্রেমিকদের কাছে তার ভালোবাসার মানুষকে পরীর মতো সুন্দরী মনে হয়, পলাশ বললো মোটেই না। তুমি সত্যি সত্যিই অনেক সুন্দর....
জুঁই না পেরে বললো আচ্ছা যাও তোমার কথাই ঠিক এবার হলো?
পলাশ হুম, তাহলে আমার কথা মানাছো তো! জুঁই আচ্ছা বাবা  তোমার কথাই ঠিক। জুঁই কথা ঘোরায়,পলাশকে বলে  তুমি খেয়েছো না, এখনই খেতে বসবে?
পলাশ বললো জুঁই তুমি কখন খাবে?  এইতো এখনই নিচে যাবো,পলাশ বললো জুঁই এখন তাহলে ফোন রাখছি। জুঁই বললো হুম, 
ওপাশ থেকে পলাশ বললো টেক কেয়ার জুঁই  ও বললো তুমি ও..... 
জুঁই নিচে নেমে দেখলো মা বাবাও জুঁইযের জন্য অপেক্ষা করছে। মেয়েকে দেখেই বাবা বললো জুঁই তোমার জন্য  অপেক্ষা করছিলাম,চলো খেয়ে নিই  জুঁই ও বললো চলো বাবা, খেতে বসে মা বাবার সাথে  মেয়ের অনেক কথবার্তা হলো। 
ভার্সিটিতে কেমন লাগছে, পড়াশোনা কেমন হয় ইত্যাদি... 
জুঁই বললো ভালো, বাবা-মা বললেন ভালো হলেই ভালো। ওয়াজেদ সাহেব মেয়েকে বললো তুমি মা মন দিয়ে পড়াশোনাটাই কর, কথা বলতে বলতে খাওয়া শেষ হলো জুঁই মা-বাবাকে গুডনাইট বলে উপরে উঠে গেলো।
মুখে হালকা প্রসাধনী মেখে শুয়ে পরলো।



                                                                                                                                                      চলবে....

বিধানেন্দু পুরকাইত





অপ্রত্যাশা 

যেটুকু সন্দেহ করো তার চেয়ে বেশী
আকন্ঠ ডুবে আছি প্রেমের সমিধে। 

আমাকে মাতাল করে 
যে নারীর চোখের পলক
তার কাছে আমি আছি আমৃত্যু অবধি। 

আমাকে নিঃস্ব কেন এতটুকু
ছুঁয়েও দেখনি
কতটা শূন্য ছিল নদীগর্ভজাত বৈভব
যে নারীর ভালবাসা মাতাল করেছে
তাকে শুধু দিতে চাই নিজস্বতা। 

নারী ছাড়া পুরুষের আকাল সময়
এমনই ভিখারী বলো
নারী ছাড়া কে করতে পারে! 

আমি সেই-ই নারী পদতলে
আমৃত্যু সাধনা করি
মেঘরেণু মেখে।