মোবাইলে টাইম পাশ, সম্বৃদ্ধ উল্লাস সাহিত্য হাসি ঠাট্টা খুনসুটি বিন্দাস পড়তে হবে নইলে মিস করতেই হবে। মোবাইল +91 9531601335 (হোয়াটসঅ্যাপ) email : d.sarkar.wt@gmail.com
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
দীপক কুমার মণ্ডল
মোঃ হাবিবুর রহমান এর লেখা ''সহধর্মিণীর হুঁশিয়ারী বার্তা'' (১ম পর্ব)
সহধর্মিণীর হুঁশিয়ারী বার্তা ( ১ম পর্ব )
এখনঅব্দি ঠিক কোন বিষয়ে দুটো চরণ লিখবো তা মস্তিকের খুলিতে ঢুকেনি। ইদানিং আমার বিরামহীন লেখা দেখে স্বয়ং আমার সহধর্মিণী সতর্কতা সংকেত দিয়ে প্রায় প্রতিদিনই বলেন "যখন সব লেখা শেষ হয়ে যাবে তখন কি লিখবে"? অর্থাৎ, তিনি বোধ হয় এটাই বুঝাতে চান যে, যখন আমার ঘটের কপ্পুর বা স্টকের সব সম্পদ শেষ হয়ে যাবে তখন আমি কি লিখবো এই আরকি!
তাৎক্ষণিক তো একটা উত্তর দিতেই হয় তাই তখনই নিজের উপস্হিত বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে কিছু একটা তাঁকে মনগড়া বলে ফেললাম, তুমি তো তোমার প্রশ্নেই অকপটে সমাধানটা নিজেই দিয়ে দিলে এবং আমার হয়ে উত্তরটা বলেই তো দিলে যে, যখন আমার সব লেখা শেষ হয়ে যাবে তখন আমি কি লিখবো। সহধর্মিণীকে একটু হালকা ঠাট্টা করে বললাম, একজন ভদ্র মহিলা নিজেই প্রশ্ন করে আবার নিজেই সাথে সাথে উত্তরটিও বলে দেয়, বাহ তুমি মজার মানুষতো দেখছি!
সহধর্মিণী বললেন "তার মানে কি? তুমি এই কথার মাধ্যমে আবার কি বুঝাতে চাচ্ছ? আমি বললাম সব যখন লেখা হয়েই যাবে তখনতো আর কিছুই যেহেতু বাকী থাকবেনা সুতরাং, তখনতো বাস্তবে আর সত্যি সত্যিই কিছুই লেখারও থাকবেনা। তুমিতো বুঝি হক কথাটাই অকপটে বলে ফেলেছো। সহধর্মিণী এবার একটু রেগেসেগেই বললেন "যে মানুষ জেগে জেগে আসলে ঘুমানোর চেষ্টা করে আর যে বুঝেও না বুঝার ভান করে তাকে আসলে কেউ কখনই বুঝাতে পারবেনা"।
অবস্হা বেগতিক দেখে আমি তাঁকে বললাম, দেখো আমারও একদিন তোমার মত এরকম ধারণা ছিল যে, বিশ্বকবি, কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিংবা জাতীয়/বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই জগৎ বিখ্যাত কবিদ্বয় তো বহু পূর্বেই সব কিছু লিখেই ফেলেছেন তাহলে আর বুঝি কিছুই লেখার অবশিষ্ট নেই, তারপরেও তো দেখি আবার নিত্য-নতুন আধুনিক ধারায় বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভালো ভালো লেখা, সিনেমা, গান ও নাটক প্রতিনিয়ত রচিত হচ্ছে সেগুলো কি তোমার চোখে পড়ছে না?
দুঃখিত। একটা গোপন কথা এই ফাকে না ব'ললে পিছে আবার ভুলে যাবার সমূহ সম্ভাবনা আছে। সত্যি বলতে কি, ক্যাডেট কলেজে অধ্যায়নকালে আমার শ্রদ্ধেয় বাংলার প্রফেসর জনাব রফিক নওশাদ যিনি একজন অত্যন্ত সুনামধন্য কবি ও খ্যাতিমান লেখকও ছিলেন, তিনি একদিন ক্লাসে বিশ্বকবি প্রসংগে বলতে যেয়ে একবার 'রবীন্দ্র বলয়ের' কথা বলে এমন একটা ভয় ধরিয়েছিলেন আর যায় কোথায়? তারপর থেকেই সেই যে ডান হাতে বেড়ি পরালাম আর খোলাখোলির যেন নামগন্ধ নেই।
ধারাবাহিক ১ম কিস্তি
ফারজানা আফরোজ
প্রিয় নদী
আমার প্রিয় নদী ঘিরে
জোয়ার ভাটার গল্প ছিল।
ভালোবাসার নদী নিয়ে
ভাঙা গড়ার কাব্য ছিল।
আঁকাবাঁকা নদীর বাঁকে
স্বপ্ন সেথায় বোনা ছিল।
তরী যেথা বাঁধা থাকে
সময় যেন থমকে ছিল।
দুই নদীর মোহনায়
রং তুলির ছোঁয়া ছিল।
সেই নদীর জলের ধারায়
আমার চোখের আয়না ছিল।
নদীর উপর ভাসা মেঘে
না বলা সব কথা ছিল।
রাতের বেলা নদীর ছায়ায়
চাঁদের আলোর হাসি ছিল।
পাল তোলা নৌকা মাঝে
চঞ্চলা এক মন ছিল।
নদী তীরে সাঁঝ বেলায়
কাশফুলের দোলা ছিল।
নদীর সেই মাঝির গানে
বিরহের সুর ছিল।
হঠাৎ ওঠা নদীর ঝড়ে
এগিয়ে যাওয়ার সাহস ছিল।
বয়ে যাওয়া এই নদীতে
রংধনুর রং ছিল।
সিরাজুম মুনিরা ময়ূখ
আগুন-ফাগুন
বুকের ভেতর
ফাগুন ফাগুন ঘ্রাণ,
দেখছি কারোর
আগুন আগুন চোখ।
পুড়ছে পুড়ুক হৃদয়,
জ্বলুক এমন রোজ!
আগুন ঝরা ফাগুন বুকে
পাবে আমার খোঁজ!
এই যে আমি আসছি ফিরে
যেমন পাখি ফেরে নীড়ে!
আসা-যাওয়ার কারণ তুমি
গাইছি যে গান চরণ চুমি
নিজের কাছে নিজেই আমি
হচ্ছি যে সহজ!
আমার মাঝেই তুমিও ভীষণ
হারাচ্ছো যে রোজ!
রেবিন চৌধুরী
উপলব্ধি
দুনিয়ার দস্তারখানায় মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব
প্রযুক্তির জমিনে কেউকেউ পাগলা অশ্বারোহীর মতো,
চারিদিকে আগ্রাসি দৃষ্টির নগ্নতা
শ্রেষ্ঠত্বের বড়ই আকাল পড়েছে সর্বত্র।
সমাজপতির পকেটে আইনের বাক্স
মুহূর্তে বদলায় নিয়মের বোল,মৃত্যুর দলিলে চোখ বুলানোর সময় কই,
বিবেকের হাড়িতে হালুয়া রুটির ঝুল।
আশার বাতিঘরে আপামরের দীর্ঘশ্বাস আর ভালো লাগেনা,
আত্মার নদীতে সাঁতরে উপায় খোঁজেখোঁজে,বারবার ক্লান্ত হই।
ঝিনুকের বুকচিরে মুক্তার প্রাচীর গড়ার প্রতিযোগীতা বেড়ে চলেছে,
কোনভাবেই থামানো যাচ্ছেনা এসব।
জননীর বিশ্বাস ভঙ্গ করে মীরজাফরেরা উল্লাসে মাতে,
চেতনার কেতন উড়ে দিগন্তে,ভাবতে ভাবতে ফের ডুব দেই
ভেসে উঠি একদম খালি হাতে।
বেদনার সুর সম্রাজ্ঞির পায়ের মল হয়ে কানে বাজে
স্বপ্ন দেখার অধিকার যেন তাদেই পাওনা,
সীমাহিন সুখের জোয়ারে কানামাছি খেলার ধুম
মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটাতে ঈশ্বরেরও টনক নড়ছেনা।
ভালোবাসাবাসির ছাইপাশের দগ্ধচুলায় আর ধর্ষণের দাবানলে
অর্ধনির্মিত ভ্রুণের বিগলিত শরীরের রস পোকামাকড়ের খাবার,
কোনকালেই পূর্ণবিকাশ ঘটেনি মানুষের মানবতার।
জাগাতে হবেই মানুষের মনুষ্যত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ হয় মগজ।
অতঃপর,উপলব্ধি হলো ভালোবাসাই হবে মোক্ষম
মানুষ নিজেকে ভালোবাসলেই থেমে যাবে সমস্ত অনিয়ম।
প্রকৃতপক্ষে মানুষ নিজেকে ভালোবাসেনা বলেই
শোধ,ঘুষকে নিশ্চিন্তে হালাল বানিয়ে নিয়ে
সমাজকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়ে
নিজেকে জাহান্নামের দিকে ধাবিত করছে।
আত্মমসম্মান একান্তই ব্যক্তির অমুল্য সম্পদ,
মানুষ ক্ষমতার অপব্যবহারে সম্মান নষ্ট করে নির্দ্বিধায়,
ক্ষমতাশীনদের ছত্রছায়াকেই নিজের জন্য ভাবে নিরাপদ।
মানুষ সবাইকে নিয়ে বাঁচার জন্য অপরাধী হয় কিন্তু
নিষ্ঠুর সত্য হলো একসাথে বাঁচতে পারলেও মরতে হয় একাই
কবর ও হাসরের বয়াবহতা জেনেও নিজে পাপ করে পাপী হয়,
তার কারণ মানুষ নিজেকে ভালোবাসেনা।
পরকালীন সুখ অথবা দুঃখের রূপ নিয়ে
কবরের সঙ্গী হয়ে আত্মার সাথী হয় একমাত্র আমলই,
মৃত্যুর স্মরণে বিবেক জাগ্রত হলে মানব জীবনে
গতি ফিরে আসবে শুধু নিজেকে ভালোবাসলেই।
তাহসান কামরুজ্জামান
ছুঁয়া
আমাদের গল্পের পাতায় কোনো বাস্তবতার ছুঁয়া নেই।
তবে কয়েকশ শতাব্দীর অফুরান অনুভবে গল্পের পাতা এলোপাতাড়ি ভাবে বৃষ্টির ছুঁয়া লেগে রয়েছে।
তুমুল বৃষ্টি ঝরে পড়া দেখলেই মনের আকাশে কংক্রিটের শহরগুলোর কথা খুব করে মনে পড়ে।
বৃষ্টির ছুঁয়াই নির্জীবও নিষ্ক্রিয় পথঘাট গুলো সজীব রূপ ধারণ করে।
গাছপালা ভারি বৃষ্টি বর্ষণে নতুন প্রাণ পেয়ে যায় "
সেখানেই সীমাবদ্ধ রিক্সার পেছনের হুডের ছাওনি তুলে" প্রথম ইশায় অনুভূতি প্রকাশের ব্যাপারগুলো বড্ড গাঢ় সম্পর্কের প্রকাশ ছিলো।
আধোআধো বৃষ্টির ছুঁয়াই ভেঁজা ভেঁজা ভাব "
সংকীর্ণ গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকা স্মৃতি " কি অদ্ভুত গল্পেই হারিয়ে গিয়েছে বাস্তবতার জীবনচিত্র।
একদিন ঠিক সময়ে মুনাফার বৃত্তিগুলো স্বপ্নের বাগিচায় রূপ দিবো।
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
হুমায়ুন কবির সিকদার
বুলি
কথা কাজে নাই যে মিল
বিষে ভরা দেহের দিল।
সকাল সন্ধ্যা মিথ্যা বুলি
সত্যটা তাই যাচ্ছি ভুলি।
করছি যতই স্বর্ণ চাষ
গজায় শুধু মুলি বাঁশ।
শুনে বুলি একালা চলি
ফর্সা মুখে মাখছি কালি।
সোজা পথে হোচট খাই
বাঁকা পথে সুখ কুড়াই।
গুরুর সাথে দিনে রাতে
তাতেই হয় কেল্লা ফতে।
খাচ্ছি দাচ্ছি দারুণ বেশ
দিনের কর্ম রাতে শেষ।
তোমরা বাপু হিংসা ছাড়
আমার মত দেশটা গড়।
গুরুর সাথে মিলাও তাল
পালটে যাবে তোমার হাল।
দিলারা রুমা ( ইংল্যান্ড )
পরম সুখ
নীল আসমান দেখো কত বিশাল
হিমেল হাওয়া গা জুড়িয়ে যায়
আষাঢ়ে স্রোত বর্ষার ঝণঝনানি
সব ভালো লাগে যদি তুমি পাশে থাকো।
তুমিতো সবুজ পৃথিবী
তুমিতো ভালো থাকা ভালো রাখা
মুক্ত বিকেল আমার।
তোমাকে নিয়ে ভেসে যাই
সীমানার ওপাড়ে
তোমাতে রাখি আমার সাত সমুদ্র স্নেহ বন্ধন।
পাখিদের গান ফুলের ঘ্রাণ
প্রকৃতির চিরচেনা রূপ ফিরে পায়
তোমার স্পর্শে।
দিলাম খুলে হৃদয় দোয়ার
এখানেই কবিতা লিখো
পরম সুখে।
জীবন পাতা
জীবন পাতায় প্ৰতিদিন দেখি কত কথা কাহিনী
জীবন চলাৱ পথে পথে শেষ কিছু ই তো ভাবিনী।
সময়েৱ সাথে উকি দেয় কত ফেলে আসা গল্প কাহিনী
একটিবাৱ খুজিনি কখনো হাৱিয়ে যাচ্ছে সময়েৱ
হাসি আনন্দ ব্যথা ধ্বনি ।
জীবনটিকে এতো আদৱ স্বপ্ন ভৱা শেষ নেই
বাকি সব না দেখাৱ চাহনী-
জীবন যে শুধু কল্পনা কাহিনী
মানুষ বলতে কিছু ই বুঝিনি।
দৱজা খুলে প্ৰতিদিন খুজি
নতুন এক পৃথিবী
কত প্ৰশ্ন থেকে ই যাবো
আমাৱ কিন্তু আমিই নি?
উম্মে হাবীবা আফরোজা
বিলুপ্ত মনুষ্যত্ব
আমি মানুষ দেখেছি, আবার অমানুষ ও দেখেছি,
দেশাত্মবোধ দেখেছি,আবার দেশদ্রোহী ও দেখেছি।
রাষ্ট্রীয় স্বার্থে ঐক্যের পতাকা তলে সামিল হতে দেখেছি,আবার দেখেছি দলীয় স্বার্থে ব্যক্তিস্বার্থে উগ্রবাদী হতে।
আমি মানুষ দেখেছি, আবার অমানুষও দেখেছি, ক্ষুধার্ত অসহায় মানুষদের এক থালায় বসে ভাগাভাগি করে খেতে দেখেছি,
আবার তাদের সেই মুখের খাবার কেড়ে নিয়ে লুটপাটও হতে দেখেছি।
আমি মানুষ দেখেছি,আবার অমানুষও দেখেছি,
মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য এই নীতিতে রক্ত বিসর্জন দিয়ে নিবেদিত প্রাণ দেখেছি,
আবার এইও দেখেছি কিভাবে মানুষের রক্তে মানুষের হাত রঞ্জিত হয়ে কলুষিত হতে।
আমি মানুষ দেখেছি আবার অমানুষ ও দেখেছি,
কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে যৌতুকের কাছে বলির পাটা হতে দেখেছি, আবার সেই মাতৃতুল্য নারীকে এই সমাজ সভ্যতাকে দেখেছি বেশ্যা ও পণ্য বানাতে।
আমি মানুষকে বাঘের বাচ্চা হয়ে উঠার তীব্র বাসনা দেখেছি, কিন্তু সত্যিকারের মনুষ্যের বাচ্চা হওয়ার আঙ্খাক্ষা খুব কমই দেখেছি, আমি মানুষ দেখেছি আবার অমানুষও দেখেছি কিন্তু পৃথিবীর মানচিত্রে মনুষ্যত্ববোধ খুব কমই দেখেছি।
সাহা শোমী
নীল নিঃশ্বাসে
আলো বাতাস মনে মেখে
চলরে জীবন বাঁচি।
ঝিমিয়ে গেলে বুঝবে কেমনে?
মোরা মনে প্রাণে বেঁচে আছি!
মন যে বড়ই অভিমানী
কেবল আদর পেতে চায়।
আকাশ হতে রোদ নিয়েছে
মাখবে মন, মনের গায়ে।
রোদেলা মনে রামধনু রঙ,
দিয়েছে জীবন এঁকে।
তাই যে আজ উত্তাল প্রেম
দেখছি পৃথিবীর চোখে।
বাগদানে ব্যস্ত বর্ষা,
অন্তরে অনন্ত কথা।
বসন্ত এলে লাল পলাশে
মন রাঙায়ে,ভোলাবে মনো ব্যথা।
খুঁজলে পরে একটু আধটু
আমাকে এদের মাঝেই পাবে।
আলো ছায়ার পায়ে পায়ে
নীল নিঃশ্বাসে মিশে, থাকবো নীরবে।
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
কবি স্বপন দত্ত'র কবিতা
একটি অদ্ভুত ভয়ঙ্কর দর্শন নরক
যখন হাফপ্যান্টে। নিজস্ব খোলা মাঠে। চমৎকার। কি বলবো হয়তো আদর হয়তো ভাষাহীন ভালোবাসা। সাঁঝঢলা মেলা। বোঁদে জিলিপি পাঁপড়। মজা। গায়ে ঘূর্ণি। হু হা ওয়ারে ওয়া। স্বপ্নের মানে রূপকথা শোনে। আনাচে কানাচে ধরণা। ছলবল খলবল। একটা সাজ। একটা সবুজ পরিচিত গন্ধ। অথচ। সব রং শুনশান। হাপিস। অসাড় বিনিময় মাখামাখি। উঁহু ঝাঁপ তো বন্ধ। অথচ মাতামাতি জাজিম। নিঝিম বহুদিন বহুক্ষণ ইয়ারি ঢেউ খেলানো মাটি। জিরেন নিচ্ছে আঁজলা আঁজলা আকুতি জঙ্গল।
আচ্ছা এতো এতো বছরের উতরাই ভেঙে হটাৎই পেছন ফেরা কেন। কেন ঝিমুনিতে লকলক এ ললকানি। অনেকটা ভেতর। এখানে কি গা ঘেঁষা বুনে দেওয়া হচ্ছে। যোজন গন্ধ। এখন যে আর সঠিক শরীর হাঁটে না । ইঁট পাথর গাছ শূন্যে পা তোলে না। আকাশ ঠোঁট দুটো কোথায় রাখে আকাশের মনে পড়ে না। শালপাতা অনিবার রোশনাই ছুড়ে দেয় আর তো ওড়ে না। এখন এ আমিতে আর কুপি জ্বলা আলো-ধোঁয়া রূপকথার রোশনাই-আমি থাকে না। সেই নেই কিশোরের থোকা থোকা জলকেলি বিদ্যুৎ পরাণবতী আদি আদিম সহজ কবে কুনঠিনে কুন্ লাফড়ায় লুঠ হয়ে ... যাতনা ফিরল ... যাচনা ফিরল ... আমিটাতো ফিরল না ... সুডোল বুনো সর্বঅঙ্গ তিরতির কাঁপন... সীমাসন্ধি হদ্দমুদ্দ খেয়ে ফেলেছে।
আমিও বেঁচে রইব কি। জানি না। কেন সাপে ধরেছে কি। মাংসাশী আইন। প্যাঁচ পয়জার। টাকারে টাকায় মদ্দা-মিনসের নাচের আওয়াজ গুঁড়ো গুঁড়ো হয়। আর পাগলা তো ঘোষণাই হয়ে আছে। কাঁচারক্ত আগ্রাসন ... হাগু মুতু মুখের ওপর ঝুঁকে পড়ে। তবুও এখন জেলখানা জানলার গরাদকে বেহুঁশ করি। অন্তর মেখে বৃষ্টির সাথে ছেনালি। মাদলের পাপড়ি তা'দিচ্ছে। ওড়ে ঘাম কাদায় মাখামাখি সুডোল বুনো আগুন-নেশা। এও এক বেশুমার জাদু। যৌন যাপন নেশা। ওড়ে নাভির নীচে টায়েটোয়ে ফুটে ওঠা গহীন থান। ওখানে যে আমি মাথা ঠেকাতি চাইরে বাতি জ্বালতি চাইরে। তারপর... গুড়ুম গুড়ুম। সব শেষ হোক না কেন ... মাতন লাগা জঙ্গল ছুটুক ...
আপ-ডাউন রেললাইন আহা। সব ছুটেছে। বিড়বিড় খারাপ ভালো কি চিরকালকার বই বাঁধিয়ের সঙ্গে উড়নখাটোলায় আছে। তুমি একা একা চলে এলে। আমার কি উচিত ছিল শিক্ষানবিশ হিসেবে তোমার সাথে তোমারই মতো নীরবতার ছবি আঁকা। ট্রেনের গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে তোমার রং আর আঠার গন্ধ উষ্ণ সুস্বাদু হয়। কিন্তু অসম্পূর্ণ হুম চুম। খুব আরাম। হা হা। বেচারা আরাম হত্যা হল। প্রতিবিম্ব বদল হলো। এক হাতে ঠোঁটে কামড়ানো আঙুল। পেছনে একটা ফুটো। হাতে চোখ। চোখে জড়ানো নীচু-স্বর। সিঁড়ির পাশ। শুকনো নদীর দাগ। এখন আমতা আমতা সুস্বাধ।
পেছনে শাড়ি সায়া ব্লাউজ। কেউ কি কাউকে মেরে ফেলেছে। মৃত্যুচোবানা দেহস্তূপ। সমস্ত বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড একযোগে খোলা পাত্রে কেমন কেমন বিদ্যুৎ বুনছে বিচে বুচে চাট্টি মুড়ি।
নিজেরেই কেচেকুচে কাপড় পাল্টিম'দে ভদ্দর ভাষায়ই তো সব রং-কথা গাইছি। তুরা গুরুচন্ডালী দোষ দেখ কেনে। খিদে ক্ষুধা এ-গুরুচণ্ডালী হলেও প্যাট যে মানে না। যাদের প্যাট নাই প্যাটের নীচ টুকুন আছে ওই ভদ্দর গাই আমি নই। ষণ্ডর কুঁজটিও নাই। ক্যাবল প্যাট...
তবু জিনদের ছায়া। সোনার সুন্দরীর সময় ভর্তি বাক্স আর তার অনুচ্চার স্বর এসব একটা আঁকা অসম্ভব কি। ঢেউ উঠছে। আমি কাকে আঁকবো আমাকে না তোমাকে। আমি না তুমি কার মুখ ভুলতে পারি না। জ্যান্ত অবস্থায় নিজেকে দেখা হয়নি। তুমিরঙা রাস্তাটা যে ভেদ করতে পারিনি। ঢেউ উঠছে। জল কাদায় লেপ্টে সূর্য। আর কত্তা কতটা নিজেকে খুঁড়তে খুঁড়তে চক্রাকারে ঘুরতে পারবে। বরং শঙ্খচিলের সমুদ্রের সঞ্চয় থেকে তীব্রতা ধার নিই। হ্যাঁ এখন আপ-ডাউন রেললাইন মহল্লাও অনেক ডেকে ফেরা হাড়গোড়ে মাখামাখি। ঠিক আছে। ওখানটাই আঁকতে যায়। কিন্তু দেখতে পাই অনেক শ্বাস-প্রশ্বাস অনেক খিস্তি খেউড় অনেক গোঙানি ক্যানভাস জুড়ে হামাগুড়ি কাটছে।
ঢেউ উঠছে। আমিকি ঢেউ করতে চাই। ঢেউ হতে চাই। ঢেউ ধরতে চাই। আমি কি উড়ে যাওয়া শীতার্ত মেয়ের না না বরং পার্থিব টাকা কড়ির রমণীয় ছবি আঁকি। কিন্তু ওই যে। ডন্তপাটি মাড়ি সমেত কাটা মুণ্ডিটা ওই যে মাটি শুকছে ঠান্ডা ফেলছে লোহা তলায় আঙুল ছুঁয়ে আমি'কে তুমি'কে খুঁজে চলেছে। ওখানেই তুলি রাখবো। সৃষ্টি ফ্যক্টরিতে প্রকাণ্ড সিকিউরিটির পায়ের ছাপ উকুন ছারপোকা বুকনির পর বুকনি গুজবের পর গুজব চলে ফেরে। আশ্চর্য প্রদীপ রোমরাজিতে মেহেদি ছিনতাইয়ের গল্প লটকে যায়। সে এক ডাউস অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া।
আমি তখন হামাগুড়িকালে নিজেকে চেপে ধরে পাখি-নদী-তিরতির চুম্বন সবুজে ঝাঁপাই কী ঝাঁপাযই । শুধু স্তনের জন্য আমি তখন এক বোধযুক্ত শিশুকাল
তখন ওরম শিশুকাল খোঁজা ক্যানভাস কোথায়। শুধু শুখা-রক্ত-জমিন আড়মোড়া ভাঙার চেষ্টা চালাচ্ছে।
কোথায় যে সম্মোহিত গরম নিশ্বাস সমেত মুন্ডুটা থমকে গিয়ে দু-প্রান্তে চোখ ছিড়কে যেতে চাইছে। আমি আঁচ করছি আমার এই কলাকৌশলে আমি এবং আমার ভালো লাগা লুটতরাজের জিনিস একহয়ে গেছে। শ্যাওলার মতো সবুজটুকুও নিরুদ্দেশ। কিন্তুন্ বড় ভুক লেইগেছে। চানা মুড়িও তো নাই। আর তো ছুট্টবেলার ঝাঁপানে ওই যে বেশুমার উল্লাস আর তো জীবিত লাই। ওহোরে ওহো মৌহার চুকা তাড়ি মাড়ি হাড়িয়া দোনা ভর্তি মাদলের তালে গুণ গুণ রমণীরে তুই ফিন যিদি ঘর ছাড়্যে পালাস।
কেউ সাক্ষ্য দিবেনা। আমিই তো উল্ট্যা প্যাল্টা ভাষা ছন্দহারা ছন্দ অদ্ভুত চিৎকার ক্যানভাস যেখানে এক ফুটা ঘুম নাই শুশ্রুষা নাই এ আমি কোন যাপনে জেগে চলেছি।
শুখা মুন্ডুর কানে জলকেলির থোকা থোকা সোহাগীনি রংকথা। নাচে বুক। কোমর পা নাচে। আক্রমণ নাচে। বুক সেপটে কোমর কাঁচালঙ্কা-লুন। চমকাই ঘন্টা দেয় ঘড়িটা। যুদ্ধু যুদ্ধু খেলা চলতেই থাকে। ওই তো আমি আমি কাঠি-গোঁজা আইসক্রিম চুষছি ঠোঁট-জিভ হাসি-খি-খি গাছ হয়ে গেছি। পরণে কিছু নাই। এমন কী কোন সুন্দরীর আসক্তি রোশনাইটিও নাই। ছোট্ট বেলার জোনাক ভাষার সব লালা ওই হরদম বক বক শব্দ নিজেরই কপিকলে ওই বকবক শব্দতুলি আর... প্রাইমারি স্কুলের মাচানে তখন থেকেই শহীদ হয়ে থাকি। রমণী নামের গাছটার যত্ন আত্তি... না না ওই জংলা রমণীর গায়ে আজ আর তো লতাপাতা সোনালি সবুজ জোনাক লালা... নিরুদ্দেশে বেড়াবার চিৎকার... পঙ্খিরাজ ভ্রমণ পান্ডুলিপি ...
এরপরে আর কোন ক্যানভাস আত্মকথা চিহ্ন নাই। হাঁটতে-হাঁটতে সাইকেল চালাতে চালাতে চারচকায় নিজেকে ঠেলতে ঠেলতে যিনি এই পাগলা-পাগল অন্তিমে পৌঁছেছেন...
তিনি ...












