১৪ জুলাই ২০২২

কবি এইচ আলিম এর দুটি কবিতা "তখন পুরুষ হয়ে উঠি" ও "জলপথের পথিক"





তখন পুরুষ হয়ে উঠি

এইচ আলিম

তোমার ঠোঁটের ভাজ, 
নাকের গড়ন আর-
চোখের ভাষা পড়তে পড়তে
পুরুষ হয়ে উঠি।

পুরুষ হলে, তুমি কি-
গোলাপেরমত লাল হয়ে যাও?
আমার লাল কিম্বা কালোতে কিচ্ছুই 
আসে যায় না। আমি চাই-
তুমি প্রকৃতিরমত প্রশস্ত হও
প্রশস্ত হতে হতে
বুকের বনভূমিতে বসত গড়ে তোল। 

অথচ, সেদিন তোমার উড়োচুলের
ঢেউ দেখেই প্রেমে পড়ে গেলাম।
তোমার হাতের মেহেদি রঙ
চোখের কাজল, 
কানের ঝুমকো,
কলাপাতা জামা, 
কালো রঙের জুতা,
কাচের চুড়ি, নেইল পলিশ
চুলে ভরা ভাজ করা কাঁধ
কফিমগে লিপিস্টিকের ছোঁয়া
দেখতে দেখতে আবারো-
আবারো মন পুরুষ উঠি।






জলপথের পথিক

এইচ আলিম



একদিন তোমাকে দক্ষিণের 
টিপের কথা বলেছিলাম বলে
তুমি লাল রঙের টিপ পড়ে এলে। 
লাল টিপ পড়লে আমার সূর্যের কথা মনে হয়। 
বারবার যেন জ¦লে উঠি ক্রোধে,
বনে আগুন জ¦ললে ভেতরে পুড়ে যাওয়া
কঙ্কালের কয়লা দেখি। কি উত্তাপ তার। 
তাপিত কয়লায় সব হেরে যায় আমার,
সকালের নাস্তা, দুপরের ভাত, রাতের রুটি
সব হারিয়ে যায়, 
তথাপি তুমি কালো শাড়িতে লাল টিপ দিলে। 
আমার শোকের বিষয় জেনে তুমিও মুচকি হাসো
তুমিও হাসতে হাসতে নতুন আয়নাতে দেখ
কলমিফুলের পড়ে থাকা পাপঁড়ি।
সব ভুলে যাও কি করে, 
সব মুছে দাও কি করে,
হৃদয় পটে আঁকা ছবিও
মুছে দিলে দামী টিস্যুতে?
এবার ফিরে যাও লাল টিপের কালো শাড়িতে
আমি জলপথের পথিক... 
জলবিহীন হাঁটি সবুজবনে। 

কবি সুশান্ত হালদার এর কবিতা "বালখিল্য সমাচার" 





বালখিল্য সমাচার 

সুশান্ত হালদার 


সব ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায় না 
যেমন বাবার ঋণ,মায়ের জঠরের ঋণ,দেশ ও মাটির ঋণ
দেশ বলতে বাতাস মাটি জল বৃক্ষ আকাশ পশুপাখির কলতান 
মানুষকে ইচ্ছে করেই উহ্য রাখলাম,কারণ 
মানুষ হলো সেই জীব
যারা শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদারে ভুলে গেছে সব অতীত ইতিহাস 

তোমাকে ভালোবেসে বলেছিলাম নক্ষত্রের আদলে মুখ তোমার 
রাশিফলে যদি বিচ্যুতি হয় কক্ষপথ আমার 
নেটওয়ার্কবিহীন পৃথিবী যদি ডুবে যায় সমুদ্র তলে সিংহভাগ 
টানা বৃষ্টিতে যদি অবশিষ্টাংশও খুঁজে পাওয়া না যায় আর 
তবে কী ভুলে যাবে আমার দেয়া সব উপচার
যে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরেছে কক্ষপথে সংঘর্ষ এড়াবার 

তিন তিনবার প্রদক্ষিণ শেষে এখন নক্ষত্র খুঁজি না আর 
সাড়ে তিন হাত মাটি পেলেই ভুলে যাব পৃথিবীর এইসব বালখিল্য সমাচার!

কবি রহমান মিজানুর এর কবিতা "মধুমাস"




মধুমাস 

রহমান মিজানুর


আমরা তো আম খাই
মুড়ি দিয়ে মাখিয়ে,
আঁটি চাটি আয়েশে
মুখটারে বাঁকিয়ে।
দুনিয়ার সেরা স্বাদ
বুঝি এই আমেতে,
থাকাটা কি সম্ভব
সেই স্বাদে না মেতে?

কাঁঠালের আঁঠা মাখি
হাতে গোঁফে দাড়িতে,
বিশাল এ ফলটারে
নিয়ে এসে বাড়িতে।
টপাটপ গিলে খাই
কোষ; কী যে রসালো!
খাওয়া শেষে বিচি গুনি
বেশিটা কে খসালো!

চেহারাটা মাইক্রো
কাঁঠালের মতো,
স্বাদে গুণে অনুপম
বলি আর কতো?
রসে টইটুম্বুর 
টসটসে জেলী,
একবারে মুখে পুরে
জিহ্বায় খেলি!
ফলটারে চিনেছো?
গেজ করো কিছু,
নামে জিবে পানি আসে 
সেটা হলো লিচু।

নুন কাঁচালঙ্কায়
ভালমতো চটকে,
টসটসে কালোজাম
টুথপিকে লটকে
খেতে কিযে স্বাদ ভাই
চেখে যদি দেখতে,
আঙুলে চাটা ছেড়ে
ফেসবুকে লেখতে??

-

কবি আহমেদ কামাল খোকন এর কবিতা "গৃহবাসিনী"






গৃহবাসিনী 

আহমেদ কামাল খোকন


সে বড় চঞ্চল হাতে এটা সেটা করে,
মাটির চুলোয় আগুনের উত্তাপ, তার বুকের উত্তাপ পুড়িয়ে দেয়, সংকর আগুনে পুড়ে যায় যৌবন।
সম্পর্কের সমন্বয় সাধনে, অল্প বয়সি দুটি পায়ের হঠাৎ বয়স বাড়ে, তবুও পদক্ষেপ চালিয়ে নিতে হয়।
চন্দ্রগ্রহনের মতই ধীরে ধীরে, চোখের উপর ছায়াবাজীর ভেলকি দেখায়, অদৃশ‍্য পুতুল নাচের নেপথ‍্য কুশিলব।
কিছু গান সেই কবে শুনেছিল, কোন্ ভালো সময়ে!
ভালো সময় আর আসে না, পুরনো সুর বাঁজে না এখন আর।

কত জন! বেদেনি সেজে ঘুরে বেড়ায়, বোষ্টমী সাজে কেউ  কেউ, সে কোনো একটা টিপের দাবি নিয়ে, খিড়কির বাইরে, একদম পা ফেলতে পারে না!

কোনো যাযাবর, কোনোদিন, তৃষ্ণায় দুয়ারে দাঁড়ালে, তাকে ডেকে বলবে বালিকা, ওহে পথিক! তোমার পথ কি একলা চলার ? কতটা সংকীর্ণ? পাশে নিতে পারবে?

চাইলেও সে যেতে পারবে না, চেনা জানা সীমানার বাইরে যেতে হয় না, মননে এমনই শক্ত সে বোধ! কে কবে প্রোত্থিত করে দিয়েছে, কেউ জানে না, সে কোত্থাও যাবে না।
সে কখনো খোলা আকাশ দেখবে না, কার বাগানে কি ফুল ফুটেছে জানবে না, কার ললাট, কোন্ ঠোঁটের স্পর্শে কেঁপেছে, এমন বিহ্বল সময় সে ছোঁবে না।
সে এক অদেখা খোলসে বন্দি, আত্ম-নিমগ্ন গৃহবাসিনী।
সে কোত্থাও যাবে না।

১৩ জুলাই ২০২২

কবি গীতা চক্রবর্তী'র কবিতা "পলাশ চেয়েছি"




পলাশ চেয়েছি

গীতা চক্রবর্তী

বসন্ত তোমাকে দোষ দিতে চাই নি,
পাশে দাঁড়িয়ে পলাশ চেয়েছি; মনের ভাষায়
কথারা বহিরাগত থাক, 
ছুঁয়ে থাক দৃষ্টিভ্রম মরীচিকা।

জীবনমুখী গানে গানে হারানো সুর খুঁজেছি 
বসন্তের মৃদু বাতাসে,
সংযত হয়ে মাখতে চেয়েছি  আবিরের রঙ
তবু মনে হয় বেবাক হাতছানি  সেই তো ঝরে পড়া শায়িত শিমুল,
প্রেম প্রতিবিম্বের আলেখ্য হয়ে থাক মননে।

দীর্ঘ লড়াইয়ে সিড়ি উর্দ্ধে উঠুক সগৌরবে,
অবচেতনেও প্রশান্তির প্রলেপে শুভ কামনা চেয়ে
রাখি  
চিরন্তন বসন্তের কাছে।

কবি সারমিন জাহান মিতু "ভালোবাসি তোমাকেই"




ভালোবাসি তোমাকেই

সারমিন জাহান মিতু 


নীল রংমহল দেখতে পাও তুমি, 
যেখানে বিরহে কাঙাল মনের 
ব্যথিত চোখের জল বিষাক্ত ছোবল 
দেয় নিজের অন্দর মহলে । 
জানি দেখতে পাওনা তুমি,
 মোটা ফ্রেমের চশমায়
ঢাকা পড়ে যায় সবটাই। 
দেখেছো কখনো অক্সিজেন লেবেল নেমে এলে 
কেমন বাঁচার আকুতি নিয়ে চেয়ে থাকা প্রিয় সেই মুখ। 
দেখোনি তুমি, 
তবে বুঝতে তেমনই আকুতি নিয়ে 
প্রতিটি মুহূর্ত অপেক্ষা আমার 
তোমাকে কাছে পাবার।
কি রকম করে বেঁচে আছি আধমরা পৃথিবীর বুকে, 
একলা একজন আমি তোমার জন্য। 
অথচ সে চাওয়া মূল্যহীন,
পচন ধরা জেলের ফেলে দেয়া মাছ গুলোর মতো । 
মানুষের মনের দাম কতো হবে আর,
বিনেপয়সাতে পাওয়া তো যায়। 
অথচ কেউ কেউ ভালোবাসার একটু কাঙালি 
হয়ে থাকে জীবন হতে শেষ পর্যন্ত। 
বোঝানো যাবে না তোমাকে, 
আসলে উচ্চ আদালতের কার্যক্রমে
বিচারপতি যখন তুমি নিজেই
আমার মতো আসামির শাস্তি দিতে পারো সর্বোচ্চ মৃত্যু দন্ড।
আমি সব দন্ড মেনে নিয়ে বলবো,
ভালোবাসি তোমাকেই নিরুত্তাপ উদাসী মেঘ হয়ে 
গত জন্মে এবং এ জন্মে কি'বা পূর্ণজন্ম বলে কিছু যদি থাকে।

মমতা রায়চৌধুরী এর ধারাবাহিক উপন্যাস উপন্যাস টানাপোড়েন ১৮৪




উপন্যাস

 টানাপোড়েন ১৮৪
লাইফ কেয়ার ইউএসজি
মমতা রায়চৌধুরী


মনোজ বাথরুম থেকে বেরিয়ে কোনরকমে জামাটা গলিয়ে সেন্ডেল  পরতে থাকে আর রেখাকে তাড়া দিল চলো, চলো চলো ঘোষ দা ফোন করেছিল। যেতে বলেছে ।ডাক্তার বাবু এসে গেছে। 
রেখা বললো" ও বাবা ,ওই দেখো পেছনে আবার কিউ কিউ আওয়াজ করছে ।"
"কে?"
"কে আবার আমাদের তু তু রানি।"
রেখা ওর গাল দুটো টিপে দিয়ে বলল" এখন তোকে আদর করার সময় ? এখন ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি। চল, চল ,ঘরে থাকতে হবে না ,বাইরে চল ।তারপর লেজ নাড়তে নাড়তে মনোজ আর রেখার আ আগে তুতু  দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসলো।
 রেখা হাঁক দিল "মাসি ,মাসি ,মাসি।"
মাসি তখন কলতলাতে বাসন মাজছিল।
মাসি বললো "কিছু বলছ?"
রেখা একবার দরজার দিকে মাথা বাড়িয়ে বলল 'হ্যাঁ দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে যাও?'
মাসির বয়স হয়েছে তো তাই মাসির হঠাৎ করে উঠতে গেলে খুব কষ্ট হয় । পিড়িটা একহাত দিয়ে সরিয়ে দিতে দিতে বলল' এই যাই বৌমা।'
রেখা বললো' ঠিক আছে, তুমি এসে লাগিয়ে 
দিও ।আমি আসছি তাহলে ,হ্যাঁ মাসি।'
মাসি বললো' চাবিটা কার কাছে রাখবো?'
"পাশের দোকানের সেন্টুদার কাছে  দিয়ে দিও।'
মাসি মাথা নাড়লো কিন্তু সেই মাথা নাড়া রেখা দেখতে পেল না ।তবে রেখা জানে মাসি ঠিকঠাক করে রেখে যাবে  এ ব্যাপারে রেখা নিশ্চিন্ত।"
রেখা মনোজের বাইকে চাপল ।মনোজ বাইক স্টার্ট দিয়ে লাইক কেযারএর উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
বাইকে যেতে যেতে মনোজ বলল 'একটা জলের বোতল নিয়েছো তো?"
"হ্যাঁ নিয়েছি।"
লাইফ কেয়ার এর কাছে এসে যখন বাইক থামল 
মনোজ রেখা দেখল লম্বা লাইন। মিনিমাম 10 -15 জন বসে আছেন ।প্রত্যেকের হাতেই একটা করে জলের বোতল।
মনোজ বলল "তুমি এখানে বস আমি ঘোষদার সঙ্গে  দেখা করে আসি । প্রেসক্রিপশনট 
দাও। "
রেখা ব্যাগ হাতরে হাতরে প্রেসকিপ্শনটা বের করল।
মনোজ বলল "এতক্ষণ লাগে একটা প্রেসক্রিপশন বের করতে।"
রেখা বলল 
"রেখেছিলাম তো কাছেই অথচ এখন খুঁজে পাবো না, সেই হাতরাতেই হলো।"
 মনোজ একটু বিরক্ত হলো। প্রেসক্রিপশনটা হাতে নিয়ে মনোজ ভেতরে ঢুকলো।
সামনে তিনটে ছেলে বসে আছে  একজন ফোনে কথা বলছে আর একজন প্রেসক্রিপশন দেখছে আর একজন এন্ট্রি করছে।  এরমধ্যে একটি মেয়ে লম্বা লিস্ট নিয়ে নাম ডাকতে শুরু করলো 
"কবিতা দুলুই।"
অপরপক্ষ বলল" আছি ।"
"আপনার প্রেসার পেয়েছে।"
"না।"
"জল খান বেশি করে।"
"মনোয়ারা বিবি।"
"আছি।"
"প্রেসার পেয়েছে।"
"না।"
""জল খান জল খান বেশি করে।'
"রতন বাগ।'
"আছি।"
"প্রেসার পেয়েছে।"
" পাচ্ছে না তো।"
"জল খান বেশি করে"।
"পুরো এক লিটার বোতল শেষ করে ফেললাম।'
"যান ভেতর থেকে আরো জল  নিয়ে আসুন।"
"এরপর তো পেট বাস্ট হবে।"
সবাই হো হো করে হেসে উঠলো।
"পায়চারি করুন ,পায়চারি করুন।"
"সে তো ঘাম হয়ে ঝরে গেলে জলটাই বেরিয়ে যাবে।"
"সে মেয়েটার কোন কথা বলল না ।নেক্সট নাম ঘোষণা করল।"
"রাখি চক্রবর্তী।"
"আছি।"
"প্রেসার পেয়েছে।'
"হ্যাঁ পেয়েছে।"
"আপনি ভেতরে চলে আসুন।"
আরো কতগুলি নাম ডে কে নিল।
নীলা সূত্রধর, বৈশাখী মজুমদার, অনিল বসু
ওদের  প্রত্যেককেই বলল' জল খান, প্রেসার পেলে বলবেন।'
বলেই মেয়েটি চলে গেল ভেতরে  তারপর ঘোষ দা বেরিয়ে এসে বললেন "সে কি আপনাদের কারোর প্রেসার পাই নি ।এরপরে একসঙ্গে সবাই যখন বলবেন প্রেসার পেয়েছে তখন তো অসুবিধে
 হবে ?জল খান বেশি করে।"

ইতিমধ্যে ঘোষ দার সঙ্গে দেখা করে মনোজ বেরিয়ে এসে বলল "তোমার প্রেসার পাচ্ছে?"
 রেখা বলল 'না।'
এজন্যই বলেছিলাম বাড়ি থেকে প্রেসার পেলে তবে এখানে আসবে।
রেখা বলল "বাড়িতে তো বাথরুম করে 
আসলাম ।তাহলে এত তাড়াতাড়ি কখনো প্রেসার আসে?"
আমাকে বোকার মত বাড়ি থেকে বাথরুম করে আসতে বলল।
"তুমি তো আমাকে আগে ব্যাপারে কিছু বলনি?"
"কেন এর আগে কি তোমার  কোনো ইউএসজি হয়নি?"
কিন্তু আমি ভাবলাম এখানে যদি ভিড় থাকে সেই ভেবেই….।
"নাও আর কি ?এখন জল খাও বেশি করে আর আমি কাজকর্ম বাদ দে এখানে বসে থাকি।'
রেখা আর কথা বাড়ালো না। কথায় কথা বাড়বে।
ইতিমধ্যে প্রেসার পেয়েছিল, তাকে আবার বের করে দেয়া হয়েছে। বলছে যে ও উনার ব্লাডার পরিপূর্ণ নেই ।কম্পিউটার রিজেক্ট করে দিচ্ছে।"
রেখাআর  কী করবে বসে বসে   ,ভালো এই ফাঁকে বসে একটু গল্প লিখে নি।'
আর পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তর মনোজ তাড়া দিচ্ছে 'পেলো?
রেখা সেই আগের মতোই মাথা নেড়ে জানালো ,'না।
তারমধ্যে রেখা দেখল যে যা আজ তো যাগুড মর্নিং জানানো হয়নি।
প্রত্যেককে গুড মর্নিং জানানো হয় 
নি । প্রথমে প্রত্যেককে গুড মর্নিং জানাই।তাই বসে বসে মেসেজ গুলো ফরোয়ার্ড করতে লাগলো।
এরপর রেখা গল্প লেখায় মনোনিবেশ করল।
এর মধ্যে সেই মেয়েটি আবার এসে নাম ঘোষণা করল "আপনাদের যাদের নাম ঘোষণা করলাম তাদেরকে প্রেসার পাচ্ছে?'
এর মধ্যে রেখার মনে হল একটু একটু প্রেসার পাচ্ছে।
এগিয়ে গিয়ে বললো যে তার প্রেসার পাচ্ছে।
মেয়েটি বলল পেশার পাচ্ছে বললে হবে না কিরকম পাচ্ছে?
যেরকম পেলে  বাথরুম হয়।
মেয়েটি বলল সে তো বাথরুমে গেলে একটু হলেও বাথরুম হবে। মানে বলতে চেয়েছি তলপেটে ব্যথা করছে ?মনে হচ্ছে আর যেন বাথরুম ধরে রাখতে পারবেন না এরকম কি হচ্ছে প্রেসার?"
রেখা  বলল 'বুঝতে পারছি না । তারপর ভেবে বলল না, না ,সেরকম হচ্ছে না।'
ছেলেটি বলল তাহলে বুঝতে পারছেন এবার আপনাদের ঢুকিয়ে নিলে যদি প্রেসার না পায় তাহলে কিন্তু আবার আপনাকে একদম ওয়েটিং এ থাকতে হবে।
রেখা আর রিস্ক নিল না।
দুপুরে একটা নেমন্তন্ন আছে ম্যারেজ অ্যানিভার্সারি সেখানে যেতেই হবে। ইউ এস জি করতে গিয়ে দেরি হয়ে গেলে তারপর সেই বাচ্চাগুলো কে খেতে দিয়ে রেডি হয়ে যাওয়া মানে অনেকটা চাপের হয়ে যাবে।
তাইরে খাবার চুপ করে এসে বসল দিয়ে যেটুকু জল ছিল শেষ করে ফেলল ।তারপর মনোজকেকে ভুলার একটু জল খাবও নিয়ে আসি ।
মনোজ বলল"না ,আর জল খেতে হবে না হতেই হবে।"
গল্প একটুখানি লেখার পর তাকিয়ে দেখল সামনেই আখের রস বিক্রেতt আখের রস
 বিক্রয় করছে ।এক ভদ্রমহিলা তার বাড়ির লোক বোধহয় টেস্ট করাতে এসেছে তার সঙ্গে আরো অনেক আত্মীয়-স্বজন এসেছে ।প্রধান মহিলা আখের রস নিয়ে ভদ্রলোককে দিলেন ।তারপর অন্যদের জিজ্ঞেস করলেন তারা খাবে কিনা ?তার মধ্যে একজনকে বলতে শুনলাম মেজদি খাবি 'মেজদি বলল '. না না এই রাস্তায় ঘুরে ঘুরে রস বিক্রি করা জিনিস আমার ভালো লাগে না ।'
রেখা তাকিয়ে দেখল এখানেও বেশ আবার একটু বরফের টুকরো ফেলা হয়েছে। সেটা কেমন ভাবে মিক্স করা হয়েছে উপর থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে কিন্তু মনে হলো না .রেখার একবার ও খাই। এই সময় রেখার মনে পরল সেদিন খাতা জমা দিয়েছিল তার কথা। আহা মুখে লেগে রয়েছে চরম উষ্ণতম দিনে একদম শীতলতম হয়ে  এসেছিল। এখানে এসব পাওয়াও যাবে না আর সব থেকে বড় কথা ইউ এস জি করতে এসে ওসব খাওয়াও যাবে না ।আপাতত গল্প এখানেই শেষ।
রেখার মনে হলো হ্যাঁ সত্যিই সত্যি ই মনে হচ্ছে প্রেসার পাচ্ছে ।তার মধ্যে দেখলাম সেই মেয়েটি এসে আর একজনের নাম ঘোষণা করল রাখি চক্রবর্তী ।তার সঙ্গে সঙ্গে রেখার নামটাও ঘোষণা করল।
মেয়েটি বলল 'আপনারা প্রত্যেকে ইউ এস জি টেস্ট করার রুমে আসুন।'
একটা বেঞ্চের উপর বসলো তখন দেখল  রাখি চক্রবর্তীর ইউএসজি হচ্ছে ।ডাক্তারবাবু কম্পিউটারের সামনে তাকিয়ে আছেন আর একহাতে যেটা দিয়ে পেটের চারিদিকে ঘোরাবেন সেরকম কিছু একটা জিনিস নিয়ে ঘোরাচ্ছেন একবার বলছেন পেট ফোলান আরো পেট ফোলান ।ব্যস ।
"তারপর আবার বলছেন এখন আর পেট, ফোলাতে হবে না ।নরমাল রাখুন ।আপনার কি সমস্যা রাখি চক্রবর্তী বলল তার একটা বাচ্চা এসেছিল নষ্ট হয়ে গেছে ডাক্তার বাবু এখন ইউ এস জি করতে বলেছেন।"
ডাক্তারবাবু আবার বললেন "পেট ফোলান ফোলান।"
রাখি চক্রবর্তীর পেটের ওপর ঘোরাতে লাগলেন।
রেখা  বসে বসে দেখতে লাগলো।
ডাক্তারবাবু বললেন" নর্মাল রাখুন আর পেট ফোলাবেন না।"
"উঠে পড়ুন।"
অন্য আরেকটি মেয়ে একটা ছোট্ট কাচের শিশি দিল বাথরুম করে এতে ভরে নেবেন 
বাথরুম করার পর আবার আসবেন ।আপনার আবার টেস্ট হবে।"
এর মধ্যে যে মেয়েটির নাম ঘোষণা করেছিল সেই মেয়েটি বলল "রেখা চৌধুরী আপনি যান শুয়ে পড়ুন।"
রেখা ক্লেচার খুলে রাখলো পাশে। তারপর অন্য একটি মেয়ে বলল সালোয়ার কামিজটা উপরের দিকে তুলুন পা টা সোজা করে দিন।
এরপর ডাক্তারবাবু সেই রাখি চক্রবর্তীর মতনরেখার পেটে একটা পদার্থ মাখিয়ে নিলেন তারপর আগের মতো পেটের ভেতরের একটা বস্তু দিয়ে বোলাতে লাগলেন আর বললেন পেট ফোলান।
রেখা পেট ফোলালো।
তারপর ডাক্তার বাবু আবার বললেন "এবার নরমাল জোরে জোরে শ্বাস নিন।'
 
রেখা তাই করতে লাগলো।
ডাক্তারবাবু বললেন 'আপনার কোনো অপারেশন হয়েছে।'
রেখা তো কিছুতেই মনে করতে পারলো না অপারেশন হয়েছে কিনা? বলল' না হয় নি।'
"আপনার কি সমস্যা?"
রেখা সমস্যার কথা বলল।
তারপর ডাক্তার বাবু ভালো করে পেটের ভেতরে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখে অবশেষে বললেন' ঠিক আছে ।আপনি উঠুন।"
সেই যে মেয়েটি রেখাকে শুয়ে পড়তে বলেছিল সেই মেয়েটির কাছে রেখা  কয়েকটা নেপকিন চাইল। ভালো করে পেটের  রসালো পদার্থগুলোকে মুছে নিল। তারপর বাইরে বেরিয়ে আসল।
রেখাকে বেরিয়ে আসতে দেখে কয়েকজন মহিলা বলল "এ বাবা বাথরুমে পাচ্ছে না ,কি হবে ?আজ কটায় হবে ?মহা সমস্যায় পড়লাম।'
একজন ভদ্রমহিলা বলল" যাই আরও জল নিয়ে আসি। জল খাই।"
একজন বলল' যা জল খেয়েছি। সারাদিনেও এত জল খাই না।
তাতেও বাথরুম পাচ্ছে না? কি অবাক কান্ড। '
মনোজ রেখাকে বললো ', চলো ,চলো, বাইকে বস'। এসব কথা শুনলে 
হবে ,অনেক কাজ পড়ে আছে।'

কবি এম, এ করিম এর কবিতা "বর্ষার দিনে" 




বর্ষার দিনে 

এম, এ করিম 


কালো মেঘে সাদা বক উড়ে
চারদিকে অন্ধকার জুড়ে
হিমেল হাওয়ায় ছুটে যায়
টিপ টিপ ঘণ ধারা বর্ষায়,

চারদিকে পানি আর পানি
খাল বিল নদী নালাই
ছোট বড় হরেক মাছ
ভেসে বেড়াই ডোবায়, 

সাদা কালো  পাতি হাঁস
ফ্যাক ফ্যাক ডাকে
ডাহুক আর পানকৌড়ি 
খেলে একসাথে 

নদীর বুকে যৌবন আসে
বর্ষায় পানি ঝরে ঝর ঝর
জেলে পাড়া থাকে সুখে
আনন্দের হাসি  নিথর,

কদম তলায় রেনু আসে
বর্ষায় আমন্ত্রনের সাথে
কাঁশবনে  নানা পাখি বসে 
দক্ষিনা বাতাসে বর্ষাতে,

পাকা তালের গন্ধে মাতে
পিঠা পুলি আর চিড়ে ভাজাতে
গল্পে বসে কৃষক কৃষাণী খেতে খেতে
 আষাঢ়-শ্রাবনের এই বর্ষাতে,
 
অবসরে থাকে কত খেলা
লুডু কেরাম বাগহাতি- 
আর তাশের মেলা
এভাবে  কেটে যায় সারাটা বেলা।

১২ জুলাই ২০২২

মমতা রায়চৌধুরী এর ধারাবাহিক উপন্যাস উপন্যাস টানাপোড়েন 183





উপন্যাস 


টানাপোড়েন ১৮৩
শরীর নিয়ে টানাপোড়েন
মমতা রায় চৌধুরী


আজকাল ভীষণ ক্লান্তি লাগে সারাক্ষণ মনে হয় শুয়ে থাকতে পারলে খুব ভালো হয় কিন্তু কাজের জন্য নিজের দিকে তাকানোর অবকাশ কোথায়। রেখা যখন একটু নিজেকে নিয়ে ভাবতে যায় ঠিক তখনই দুচোখ জুড়ে ঘুম যেন আলিঙ্গন করতে থাকে। এমন পরম স্নেহে, ভালোবাসায় আঁকড়ে ধরে ঘুম ,রেখা তার হাত থেকে রেহাই পায় না। আর পাবি বা কেন এত ভালোবাসা জড়ানো হাত তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে সাড়া না দিয়ে কি করা যায়? কিন্তু ঘুমের ভেতরে রয়েছে হাজারো ভাবনা চিন্তা সেগুলোই স্বপ্নে তাড়া করে বেড়ায়।ইদানিং খাতার চাপে ঘুমের ঘাটতি হয়েছে। তারপর পাশাপাশি চলেছে লেখালিখি ,বাচ্চাদের খাবার দেয়া, স্কুল এর মাঝে একদিন রিম্পাদি ফোন করে বলল "হ্যাঁ রে রেখা তোর শরীরটা যে খারাপ যাচ্ছে বেশ কিছুদিন থেকেই বলছিলি ,ক্লান্তি তোর সারা শরীরে ।আবার তোর তলপেটে মাঝে মাঝে ব্যথা হচ্ছে ডাক্তার দেখিয়েছি স?"
রেখা বলেছিল" ও ঠিক সেরে যাবে কাজের চাপটা বেড়েছে, জল ঠিক করে খাওয়া হচ্ছে না নিজের দোষেই, সেই জন্য বোধহয়।"
সেদিন রাত্রে বেশ খানিকটা বাড়াবাড়ি হয়েছিল। তাই মনোজ  রেখাকেn ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছিল।
ডাক্তার কয়েকটি পরীক্ষা করতে দিয়েছিলেন।
বলেছিলেন 'সার্কেল শুরু হলে তার দুই থেকে চার দিনের মধ্যে ফোন হোল এবডোমেন ইউএসজি করতে হবে।'
আরো জিজ্ঞেস করেছিলেন' আপনার ওই সময় গুলোতে ব্লিডিং কেমন হয়?'
রেখা বলেছিল"দুই থেকে তিন দিন হেভি  পরিমাণ হয় ব্লিডিং ।'
"সেই সময়গুলোতে কেমন অনুভব করেন?"
রেখা বলেছিল' প্রচন্ড ক্লান্তি মনে হয় সারাক্ষণ ঘুমিয়ে থাকি আর যন্ত্রণা।"
ডাক্তারবাবু বলেছিলেন "ঠিক আছে আগে রিপোর্টগুলো করিয়ে নিন ,তারপরে কথা হবে।
গতকাল খাতা জমা দিয়ে আসার পর থেকেই ব্লিডিং শুরু হয়েছে।'
এতটা ক্লান্তি সারা শরীর বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করছে না ।শুধুমাত্র রেখা কাজগুলো করে মনের জোরে ।সে বুঝতে পারছে ভিতরে ভিতরে তার শরীরে দ্রুত ক্ষয় শুরু হয়েছে।
মনোজ এসে রেখাকে শুয়ে থাকতে দেখে বলল "শরীর খারাপ?
তুতুরা খেতে চাইছে? আমি দিয়ে দেবো?"
"না চলো আমি দিয়ে দিচ্ছি। তাছাড়া তুমিও তো খাবে,?"
রেখা উঠে দরজার দিকে এগুতেই মনোজ বলল "তোমার হাউসকোটের  পুরো পেছনটায় ব্লাড লেগে গেছে।"
রেখা বলল," এ বাবা একটু ওয়েট করো
ওয়াশরুম থেকে আসছি।"
রেখা পুরো চেঞ্জ করে আসলো।
মনোজ বলল" কালকে তোমাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।"
রেখা বললো" এখন ডাক্তারের কাছে গিয়ে কি করবো?'গেলেই তো এক্সাম রিপোর্ট চাইবে?
"ও হ্যাঁ ঠিকই তো।"
মনোজ বলল "ঠিক আছে । নো প্রবলেম আমি
লাইফ কেয়ারে ফোন করে দিচ্ছি ঘোষদাকে।"
সঙ্গে সঙ্গে মনোজ নম্বর খুঁজে ডায়াল  করল।
রিং হতেই অপরপ্রান্ত থেকে বেশ গম্ভীর গলায় বললেন"হ্যালো'।
"ঘোষ দা আমি মনোজ বলছি।"
"হ্যাঁ বল,।"
"বলছি তোমাকে আগে বলেছিলাম না একটা হোল এবডোমেন ইউএসজি করাতে হবে ।কালকে সেই সার্কেলের দুদিন পড়ছে । আগামীকালকে কি তোমাদের "ডাক্তার থাকবেন?"
"তুই বৌমাকে দেখাতে চাইছিস তো?"
মনোজ বলল' হ্যাঁ'
"হ্যাঁ,থাকবেন ।তুই বৌমাকে দশটার পর নিয়ে আয়।"
মনোজ বললো "ওকে।"
তারপর বলল "শোন ,আমার একটা কথা আছে কালকে তাহলে কিছু খেতে পারবে না তো?"
"না র চা খাওয়াতে পারিস। জল খাবে প্রচুর পরিমাণে আর শোন এখানে যখন আসবে তখন যেন প্রেশারটা থাকে। ব্লাডার পরিপূর্ণ না থাকলে কিন্তু ইউ এস জি হবে না ।তাই বেশি করে জল খেতে বলবি বৌমাকে।"
মনোজ বলল "ওকে ,ওকে।"
"ভালো আছো তো তুমি?"
"চলছে একরকম।"
ঘুষ দারুণ এক কথা ভান্ডার পরিপূর্ণ করে দিলেও চলছে একরকম এ বলবেন।
কেন তোমার তো লক্ষীর ভান্ডার পরিপূর্ণ ই আছে ফাঁকা তো যাচ্ছে না দাদা।
ঘোষ দা একগাল হেসে বললেন
"ঠিক আছে কালকে আয় ।দেখা হবে ,কথা হবে।"
ইতিমধ্যে তুতু এসে কিউ কিউ কিউ কিউ করছে।
মনোজ বলল ", ওই দেখ।"
রেখা বলল "কি হয়েছে তুতুরানি?"
"খিদে পেয়েছে?"
রেখা তুতুকে একটু আদর করে নিয়ে বললো 'চলো খেতে দেবো।'রেখা রান্নাঘরের দিকে যেতে যেতে মনোজকে বললো একটু দরজা টা খুলে দাও তো যদি ওরে হিসু পায় তাহলে চলে যাবে নিজে থেকেই।'
মনোজ দরজা খুলে দিল ।ঠিক তাই, তুতু ছুটে গেল।
মনোজ রেখাকে বলল বেশ খানিকটা দূরে গিয়েই তো হিসু করল। তুমি বেশ ভালো বোঝো তো?"
তা বুঝবো না? ছোট থেকে  আমি কোলে পিঠে করে  ওদের মানুষ করছি ।"
রেখা ভাত মেখে নিয়ে ওদের খেতে দিতে যেতে যেতে  বললো" বললাম না ,আমাদের তুতু ও রকম নয় গো ।খিদে পেলে তাকিয়ে থাকবে মুখের দিকে আবার আমাকে দেখে নিয়ে আবার শুয়ে 
পড়বে ।তারপর আমি যখন উঠব , ওকে ডাকবো আয় রে খেতে দেবো। তখন ও চুপ্টি করে উঠে আমার কাছটাতে বসে থাকবো ।আমার ভাত মাখা হবে, ভাত নিয়ে বেরোবো ।তখন ও আমার সাথে বেরোবে।"
মনোজ বলল-আচ্ছা ট্রেনিং দিয়েছে বাবা।"
খাবার-দাবার খাওয়ানোর শেষ হলে রেখা মনোজকে জিজ্ঞেস করে "কি খাবে?"
মনোজ বলল "আজকে রুটি করতে হবে না । বরং একটু তুমি  ছানা করে দাও।,"
রেখা বললো "ঠিক আছে তুমি দরজা বন্ধ করে এসো।"
ওই দেখো হঠাৎ করে যেন ঝড় উঠলো জানালা গুলো খোলা দড়াম দড়াম করে আওয়াজ হচ্ছে।
রেখা বলল" তুমি দরজাটা লাগিয়ে তাড়াতাড়ি এসো জানলাগুলো লাগিয়ে দাও ।আরেকটু উপরে যাবে। ঠাকুর ঘরের জানালাটা খোলা আছে।"
মনোজ দরজা বন্ধ করতে যাবে তার আগেই তুতু এসে হাজির।
মনোজ কিছু না বলে তাড়াতাড়ি করে ছুটল ঠাকুর ঘরের জানালা গুলো বন্ধ করতে।
রেখা রান্নাঘরে দুধ জ্বালাচ্ছে ঠিক বাইরে দাঁড়িয়ে তুতু কিউকিউ আওয়াজ করছে।
রেখা পিছন ফিরে তাকাতেই দেখে তুতু।
রেখা বললো 'তুতু তুই কি আজকে ভেতরেই থাকবি?
যা ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়। ওমা সত্যি সত্যি ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ল।"
 মনোজ এটা দেখে রেখাকে বলল "আচ্ছা ট্রেনিং দিয়েছ বাবা। যেকোনো পেশাদার ট্রেন আর কেউ হার মানাবে।"
তারপর ছানা করে এনে মনোজকে ছানার বাটিটা ধরিয়ে দিল।
মনোজ বলল" এতটা ছানা দিয়েছো?”
রেখা বললো" কই অল্পই
 তো  ।খাও না?"
"না আমি এতটা খাব না। প্রয়োজনের থেকে অতিরিক্ত যা কিছুই খাবো সেটাই বিষ বুঝলে?"
', হ্যাঁ, বুঝলাম।'
"তাহলে বুঝেছো যখন একটু হা  করো।'
মনোজ ছানার বাটিটা রেখার সামনে নিয়ে গিয়ে চামচে করে ছানাটা তুলে রেখার মুখের কাছে নিয়ে গিয়ে বলল নাও 'হাঁ করো।'
রেখা হা  করলো মনোজ ছানা খাইয়ে দিল।
মনোজ আরেকটু ছানা নিয়ে রেখাকে খাওয়াতে গেল রেখা বলল না "আমি আর খাব
 না । ওটুকু তুমি খাও।"
রেখা বললো "সব যদি আমাকে দেবে তাহলে তুমি কি খাবে বলো?"
"আমি খাচ্ছি তো।"
"বাইরে কিসের আওয়াজ হলো?. একটা পড়ে ভাঙলো বোধহয়.।"
রেখা জানলা খুলে দেখতে যাচ্ছে মনোজ বলল থাক আর জানলা খুলে দেখতে হবে না ।ঝড় হচ্ছে তো ছেড়ে দাও। যা হচ্ছে হোক।"
"তুতু কি আজকে এখানেই থাকবে নাকি গো?"
"থাকে থাকুক। ও কিউ কিউ আওয়াজ করলে সেটা কিন্তু মাথায় রেখ, ওকে বাইরে বের করতে হবে।"
রেখা বলল শুধু আমার মাথায় রাখলে হবে না. আমি যদি ঘুমিয়ে যাই ,তোমাকেও মাথায় রাখতে হবে।"
মনোজ বলল "হ্যাঁ , তাই তো ঠিকই।'
রেখা বলল" হ্যাঁ গো ,পাইলট মিলি ওরা আবার ভিজে যাচ্ছে না তো?"
"না না ভিজবে কি করে ?আমি তো শাটারটা খুলে দিয়ে এসেছি।"
"ও আচ্ছা ,তাহলে ঠিক আছে।"
মনোজ বলো "তোমার তুতুটা এখন তোমার এতটাই ন্যাওটা হয়ে গেছে ,এখন আর ওখানে থাকতে চাইছে না।"
"হ্যাঁ গো কোথাও গিয়ে যখন ফিরে আসি । আমার কথা শুনতে পেলেই, মুখিয়ে থাকে কখন দরজা টা খুলবো তখনই  আসবে।"
রেখা বললো "আমার প্রচন্ড ঘুম পাচ্ছে। আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।"
"আচ্ছা তুমি ঘুমিয়ে পড়ো। "
"আর তুমি কি করবে?"
এই মায়াবী চাঁদের রাতে…
মনোজের গানটা শেষ করতে না দিয়ে রেখা বলল "এটা মায়াবী চাঁদের রাত নয়, বর্ষার 
রাত ।কাজে কাজেই ঘুমিয়ে পড়ো। এত রাত্রে আর কাব্য করতে হবে না।'

কবি আশ্রাফ বাবু এর কবিতা "দৃষ্টিপাত"





দৃষ্টিপাত

আশ্রাফ বাবু

চোখ তাকে ঘিরে আছে অত্যন্ত উত্তপ্ত 
দেখায় প্রাণবন্ত ও উৎসুক বহির্ভাগের শিখা-চক্র,
যে ভোরে আমি যাত্রা করবো
ভাবছি অতিক্রম করে যাবে আমার দৃষ্টিপাত।

সময়ের ব্যবধানে কাঁটায় পুরো বারো মাস। 
ঋতুও পিছিয়ে আছে এই নগরীতে এখন
রাত্রিকে অতিক্রম করার জন্য, 
আমি অপেক্ষা করি নীরবে। 

অভ্যন্তরে প্রতীক্ষা করছে যা ভাবনার অতীত
তোমার মুখছবিতে হয় না ভাংচুর
নড়েচড়ে আমার স্পর্শ করি বাজে না কোনো সুর
চোখের পুতলি নাড়াতে পারে না পাতা।

কীভাবে বন্ধ করবো অভ্যন্তরে প্রতীক্ষা 
তাবৎ হয়েছে উৎসুক;
ভেতরে আমি এড়াতে পারি না
নির্নিমেষ দৃষ্টিপাত-চাও না ছুঁতে তোমার দুহাত।

কবি আতিয়ার রহমান এর কবিতা মিলনের হাসি





মিলনের হাসি

আতিয়ার রহমান 


পদ্মা করাল স্রোতে বয়ে চলা নদী 
নির্মম ক্রোধে মন ভেঙে নিরবধি
সুশোভিত বনভূমি ফসলের মাঠ
স্বপ্নের গৃহে আনে যাযাবর পাঠ।

শাসন না মানা সেই জলধুমকেতু
নতশিরে মেনে নিলো বুকফোড়া সেতু
কোমল তটিনী বাঁধা কঠিনের জালে
বৃথা আক্রোশে ঢেউ ফেরে পালেপালে। 

যেমন ফিরেছে শঠ ঢেলে বিষজ্বালা
বিনিময়ে গলে পরে করুনার মালা।
গর্বিত বুকে আজ দৃঢ় ব্রতচারি 
অবাক বিশ্ব দেখে 'আমরাও' পারি। 

গৌরব পেলো জাতি, ঘরহারা ঘর
যুগযুগ ধরে যারা ছিলো যাযাবর
চর থেকে চরে ঘুরে শত উৎরাই 
জীবনের সন্ধান, পেলো ওরা ঠাঁই। 

ভাঙনের ব্যথা ভুলে দুই তীরবাসি 
সাজসাজ রবে হাসে মিলনের হাসি
সময়ের পিছে যারা দূরবাসিগণ
তারা পেলো দ্রুততার সেতুবন্ধন।

জাতিগত অপমান একা গায় মেখে
চেতনার মহাবীর ইতিহাস লেখে
হে বীর! সালাম লও দৃঢ়তার ভূমি
অনন্য দেশ প্রেমে সাহসীকা তুমি। 

কবি জসীম মাহমুদ এর কবিতা "মুনাফা"




মুনাফা 

জসীম মাহমুদ


পুষ্টিসম্ভারে আম
লুকিয়ে ছিল পাতার আড়ালে
লতানো বৃক্ষের ডালের সাম্রাজ্য

দিয়েছিল নিরাপত্তা তাকে।

মৃত্তিকার সবুজ বল্কল
অঙ্গে পরিধান ক'রে
সে-ও রোদের মায়াবী ওমে

পাল্টায় বসন। 

শর্করাগুণে সমৃদ্ধ হ'লে
মুনাফার দৃষ্টির তীর
বিদ্ধ করে বাজার

সাম্যবাদী শরীরের সীমান্ত ছুঁয়ে।

কবি এ এস এম হোসেন এর কবিতা "কালপুরুষ"





কালপুরুষ 


এ এস এম হোসেন 


আমি সজল আঁখি তে জল সঞ্চারি 
দুঃখ পুষি বলে,
আমি অন্ত্য যাত্রী শেষ প্রহরে 
স্বপন বোনা ছলে। 
আমি হাসির মাঝে লুকাই প্রাণে 
কান্নার উতরোল, 
আমি স্বর্গ বেঁচি নরক কিনি 
বিষাদ বিহ্বল দোল।
আমি ঘুমের ভানে বেঘুম চাতক 
জাগ্রত মহাকাল, 
আমি সাগর জলে জাহাজ ডুবাই 
শূন্যে উড়াই পাল।
আমি ফুলসজ্জায় রক্তে রাঙাই 
কুমারী বধুর হাত,
আমি ঠাকুর ঘরে সিঁদকাটা চোর 
দুর্দম উৎপাত।
আমি ফুলের মাঝে হুলের আঘাত 
ভুলের নটরাজ, 
আমি শান্ত শুভ্র শরৎ মেঘে 
আকাশ ফাটা বাজ।
আমি ছদ্মবেশী পদ্মগোখরো 
এক ছোবলে ছবি,
আমি মরণ পাড়ে স্মরণ ভোলা 
চরণ তোলা কবি।
আমি মিত্রের সাথে প্রতিচিত্র গড়ি 
শত্রুকে বধি ঘাতকে,
আমি আমার আমিতে সুর সন্ন্যাসী 
সুষুপ্ত জাত-জাতকে।
আমি আশের মাঝে নাশের নাগর 
স্বর্গ খেকো ভুক,
আমি ধ্বংস লীলার বংশ ক্রমিক 
ইসরাফিলের মুখ।
আমি আমার আমিতে ক্ষত-বিক্ষত 
বক্ষে গাঁথা ত্রিশূল,
আমি মহাবিশ্বের মহা প্রয়োজন 
তৃণমূল আমি উন্মূল।
আমি বিশ্বাসে রচি বিস্ময় ঘেরা 
বিসৃত এই জনপদ,
আমি দুর্জয় চির দুর্নয় আমি 
জগজ্জয়ী আমি হিম্মৎ। 
আমি আকাশের গায়ে স্বাধীনতা লিখি 
তড়িৎ আলোকে ঝলকে, 
আমি জন্মশোধের মৃত্যুকামী 
যমদূত প্রাণ অলখে।
আমি নীরবে নিভৃতে নিত্যানন্দ 
চিত্তের মাঝে হাহাকার, 
আমি আপনার সুখে অসুখ তুলিয়া 
সুখেরে করি ছারখার। 
আমি হাসি মুখে ধরি হননের গীতি 
আপনার খুশি খেয়ালে,
আমি দিগ্বিজয়ের সৃষ্টি সুখে 
মানচিত্র আঁকি দেয়ালে। 
আমি চলে যেতে-যেতে বলে যাই সব 
অনাগত ভূতভবিষ্যৎ, 
আমি সময়ের চোখে দেখিয়াছি ভেজা 
রক্তে রাঙানো রাজপথ। 
আমি কালের ঘড়িতে শুনিয়াছি ঐ 
ক্ষুধিতের দুঃখ  বিলাপে,
আমি দেখিয়াছি কাবা তওয়াফের ভীড়ে 
পুঁজিবাদে ঘেরা গিলাফে।
আমি দেখিয়াছি জল সকরুণ চোখ 
অসহায় ডাকে স্রষ্টায়,
আমি পথশিশুদের বেওয়ারিশ লাশ 
রুটি চুরি যাওয়া দোষটায়।
আমি দুঃশাসনের দুর্বিপাকে 
দন্ডিত রাজ ফেরারি, 
আমি অপশক্তির অবগুণ্ঠনে 
পথের দিশা-দিয়ারি।
আমি ধুলোবালি জমা সংবিধানে 
বিবেক নামের ছেলেটি, 
আমি আদর্শচ্যুত স্বাধীন দেশের 
শহীদের মমি করোটি। 
আমি অরুণ লোকের মহা তরুণে
ছুটে চলি দিগ্ দিগন্তে, 
আমি আপনার মাঝে আপনি নিখোঁজ 
সকলের মাঝে অনন্তে।
আমি সকল ধর্মের ধর্ম গুরু  
মানুষ ধর্মের জ্ঞাতি, 
আমি বিশ্বমাতার লালিত শিশু 
সকলের ভাই-ভ্রাতী।