২৬ ডিসেম্বর ২০২১

মমতা রায় চৌধুরী /৭৭ পর্ব




উপন্যাস 

টানাপোড়েন ৭৭
রেখার স্কুল যাবার পথে
মমতা রায় চৌধুরী


পার্থ একেবারে হাঁপাতে হাঁপাতে এসে মনোজদের বাড়ির দরজায এসে কলিং বেল বাজালো 'জয় গনেশ ,জয় গনেশ, জয় গনেশ দেবা... ।'বেশ কয়েকবার কলিংবেল বেজে গেল। লিলি ,পাইলটদের ভৌউ ভৌউ গলা শোনা যাচ্ছে।
 পার্থ ভাবছে 'কি ব্যাপার বৌদিরা দরজা  খুলছে না কেন?'
এবার পার্থ জোরে জোরে ডাকতে লাগল 'ও মনোজদা ,মনোজদা .আ.আ ,মনোজদা...।
রেখা বাথরুমে ঢুকেছিল আওয়াজ পেয়ে তাড়াতাড়ি বাথরুম থেকে বেরোতে গিয়ে দরজায় এমন জোরে ধাক্কা লাগল , জান মনে হচ্ছে বেরিয়ে যাবে।শীতকাল তো খুব কষ্ট হচ্ছে । যন্ত্রণাগ্রস্থ অবস্থায়  এসে দরজাটা খুলল।
দরজা খুলেই রেখা বলল 'ও পার্থ তুমি?'
পার্থ বলল' কি বৌদি কখন থেকে আপনাদের ডাকছি।'
রেখা বলল ' আর বোলো না ভাই, আমি একটু বাথরুমে ছিলাম বেরোতে পারছি না। দরজার কলিংবেলের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি কিন্তু কি করবো বলো?'
পার্থ বলল' মনোজ দা কোথায়?'
রেখা বলল 'আজকে একটু বলল ওর এক বন্ধুর বাড়িতে যাবে।তাই সকাল সকাল একটু বের হল?'
রেখা বলল ' দরজায় দাঁড়িয়ে কথা কেন ?ভেতরে এসো।'
পার্থ ভেতরে ঢুকে আসলো।
রেখা চেয়ারটা এগিয়ে দিয়ে বলল 'এখানে বসো।'
পার্থ চেয়ারটায় বসে বলল'বৌদি, আজকে তো ভাইয়ের  কাজ ।সকাল সকাল বাড়িতে আসবেন কিন্তু?'
রেখা বলল 'কিন্তু আজকে তো আমাকে একটু স্কুলে যেতে হবে ভাই?'
পার্থ বলল' আজকে স্কুলে যেতেই হবে বৌদি?'
রেখা বলল 'হ্যাঁ ভাই।'
পার্থ বলল 'তাহলে দাদাকে অন্তত পাঠিয়ে দেবেন।'
রেখা বলল' হ্যাঁ ভাই ।সে তো যাবেই।'
পার্থ বলল ' মা কিন্তু আপনার জন্য ওয়েট করবে।'
রেখা বলল' মাসিমাকে একটু বুঝিয়ে বলে দিও।'
পার্থ বলল 'তাহলে আর বেশিক্ষণ বসবো না বৌদি ।কথাও বাড়াব  না। আপনাকে যে তুই স্কুলে যেতেই হবে ।আপনার তৈরি হবার ব্যাপার রয়েছে।'
রেখা  শুধু হেসে সম্মতি জানায়।
পার্থ বেরিয়ে গেল রেখা দরজাটা দিল । তারপরই মিলির আর বাচ্চাদের খাবারটা গিয়ে দিয়ে আসলো।
মিলি আর ওর বাচ্চারা কত প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে থাকে রেখার দিকে' ।যেন ওদের আশাভরসা সবকিছু রেখা।
আজকে রেখার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওদেরকে খাওয়ানোর সময় ছিল না। তাই খাবার থালা টা রেখে দিয়ে আসলো তারপর দুপুরের খাবারটা রেডি করল। পার্থ আসার আগেই গ্যাসে চাপানো ছিল তরকারি বেশি কিছু করতে পারে নি ।ডিমের কারি, ইলিশ মাছ ভাজা আর পালং শাকের ঘন্ট।
এবার ব্রেকফাস্ট রেডি করল। একটা ডিমের পোচ তৈরি করার জন্য একটা প্যান বসিয়ে দিল, তারপর কিছুটা পরিমাণ বাটার দিয়ে দিলil একটু নাড়াচাড়া করতেই ডিমটা ফেটিয়ে ওর উপর দিয়ে দিল, তার ওপর গোলমরিচের গুড়ো , একটু নেড়েচেড়ে নিয়ে ডিমের পোচ রেডি করে দিল। এরপর ঝটপট টোস্টার মেশিনে ব্রেডগুলো সেঁকে নিল। 
রেখা ভাবতে লাগলো ' মনোজ এখনো আসলো না পোচটা তো ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। এরপর গাজরের জুস কাঁচের গ্লাসে ঢেলে টেবিলে র ওপর রেডি করে রাখল।
তারপর ফেসওয়াশ দিয়ে  ফেস ক্লিন করার সময় হঠাৎ দরজায় কলিংবেল আওয়াজে চটপট মুখটা ধুয়ে নিয়ে দরজাটা খুলল।
 খুলে দেখল মনোজ।
রেখা বললো 'কি ব্যাপার এত দেরি করলে?'
মনোজ বলল' এতদিন পর গেছি ,বন্ধুকে কাছে পেয়ে
ছাড়তে কি চায়?'
মনোজ রেখা বলল' 'তা না হয় বুঝলাম। কিন্তু তোমার তো ব্রেক ফাস্ট টাইম হয়ে গেছে। ওদিকে ডিমের পোচ করেছি ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে ।
মনোজ বলল 'হ্যাঁ যাচ্ছি ,ভেতরে ঢুকে জুতোটা বারান্দায় রেখে একবার ভালো করে হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে হাত মুখ ভালো করে  ধুয়ে নিয়ে গামছা দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে খাবার টেবিলে বসলো।
মনোজ বলল' আজ ব্রেডের সাথে ডিমের পোচ ?
কাঁচের গ্লাসে কি রেখেছো?'
রেখা ঘরে থেকে সাড়া দিলো ।তাই রাখলাম দেখো বাস্কেটে কলা আছে নিয়ে নাও।'
মনোজ বলল' কাঁচের গ্লাসে ওটা কি রেখেছো? জুস?
রেখা বলল হ্যাঁ। গাজরের জুস।
মনোজ বলল' অ্যাই রেখা ,গাজরের জুস খাবো না।
 প্লিজ।'
রেখা বললো "তা কি করে হয় ছোটদের মতো বায়না করলে তো হবে না ।তোমাকে খেতে হবে।'
মনোজ আর কথা বাড়ালো না। চুপচাপ নাস্তা করতে লাগলো। জানে ,রেখা যদি একবার বলে দিয়েছে তার কথার নড়চড় হবে না।
রেখা বললো 'মিলিদের খাবারটা তুমি দিয়ে দিও দুপুর বেলায়। যদি অসুবিধা হয় ,বাচ্চারা তো বড় হয়েছে ।তাহলে তোমার ওই গৌরীসেন দাদাকে ডেকে নিও।'
মনোজ বলল' ঠিক আছে।'
রেখা বলল'আর শোনো পার্থর ভাইয়ের আজকে কাজ আছে। পার্থ এসেছিল ।তুমি একবার ওখানে দেখা করে এসো কেমন?'
মনোজ বলল 'আজকে তোমাকে স্কুলে যেতেই হবে?'
রেখা বলল 'হ্যাঁ। এত মেডিকেলে নিয়ে নিলাম।আজকে যেতে হবে এই কারণেই সবার প্রশ্ন জমা পড়ে গেছে ।12 ক্লাসের যে 50 নম্বরের প্রশ্ন করেছি সেই প্রশ্নটা তো আমার জমা দেয়া হয় নি ।এদিকে সামনে টেস্ট পরীক্ষা।"
রেখা বাইরে বেরিয়ে এসে জুতো পড়ে পরতে পরতে বলল 'আসছি। সাবধানে থেকো।'
মনোজ বলল' তুমি খেয়েছ?'
রেখা বলল 'না খাবার সময় পাই নি ।আমি টিফিন বক্সে নিয়ে নিয়েছি।'
মনোজ বলল ''তা কি করে হয়? এতটা বেলা হয়ে গেছে, না খেয়ে চললে?"
রেখা বললো' 'আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না। আমি ঠিক খেয়ে নেবো।"
মনোজ বলল 'ঠিক আছে সাবধানে।'
রেখাবলল"আমি কলাপসিবল গেট টেনে দিয়ে যাচ্ছি। তুমি খেয়ে উঠে লক করে দিও।'
বাড়ি থেকে বেরিয়েই দেখতে পেল অটো ।রেখা হাত নেড়ে বলল' অটো দাঁড়াও দাঁড়াও দাঁড়াও।'
অটোআলা কাছে আসতেই দেখতে পেল রেখার পরিচিত মুখ বিধান।
অটো ড্রাইভার বিধান বলল' দিদি ,আপনি এতদিন পর?'
রেখা বলল'-কিছুদিন স্কুলে যেতে পারি নি গো।'
বিধান বলল 'ভাল ছিলেন তো?'
রেখা বলল "হ্যাঁ ছিলাম এক রকম।'
স্টেশনে পৌঁছে ট্রেনের খবর হয়ে গেল দু নম্বর প্লাটফর্মে ট্রেন আসছে। রেখা ছুটতে শুরু করলো।
ট্রেন থামতেই রেখা যাত্রী নামার পর  উঠে পড়ল গাড়িতে ।তারপর জিজ্ঞেস করতে লাগল কে কোথায় নামবে ।
এক যাত্রী বলল 'সে মদনপুর নামবে। 
রেখা  তার দিকে মুখ করে দাঁড়াল আর বলল'আমাকে জায়গাটা দেবেন দিদি।'
 রেখা তার জায়গার দিকে দাঁড়িয়ে  একটা ফোন করল রিম্পাদিকে।রিম্পাদির ফোন কল হয়ে গেল সাড়া দিল না।
এরপর রিম্পাদি নিজেই ঘুরিয়ে রেখাকে ফোন করল
। রেখার ফোন বেজে উঠল' 'আমি কার, কে আমার ,কি যে তার আমি হই..?'
রেখা ওই সময় ব্যাগের থেকে ফোন বের করতে করতেই ফোনটা কেটে গেল ।ইতিমধ্যে সেই দিদি মদনপুরে নামার জন্য তৈরি হতে লাগল । লাগেজ গুলো সব নিজের কাছে রাখলো,উপর থেকে  নামাল এবং ধীরে ধীরে গেটের কাছে এগোতে লাগল।ভদ্রমহিলা উঠে যেতেই রেখা সেই জায়গায় বসল ।এরপর নিজে মিসকলটা দেখে ফোন করলো।রিং হতেই রিম্পাদি ফোন তোলৈ।
রেখা জিজ্ঞেস করল' তুমি কি কৃষ্ণনগর লোকালেই  আছো?'
রিম্পাদি বলল 'হ্যাঁ আছি।'
রেখা বলল 'সামনের লেডিসে আছো, না পেছনে লেডিসে আছো?'
রিম্পাদি বলল 'সামনের। তুই?'
রেখা বলল' পেছনের।'
রিম্পাদি বলল 'ঠিক আছে।'
রেখা সে বলল ' স্টেশনে নেমে কথা হবে।'
রিম্পাদি বলল' হ্যাঁ রে ,তোদের কম্পার্টমেন্টে 
স্মৃতিদি আছে?'
রেখা  বলল 'কই নজরে পড়ছে না তো। কেন কিছু দরকার আছে?'
রিম্পাদি বলল 'আরে গত বছর যে সোয়েটারগুলো নিয়েছিলাম ।মনে আছে তোর ব্লু কালারের?'
রেখা বলল' হ্যাঁ ,তুমি আমি সেম কালারের নিয়েছিলাম।"
রিম্পাদি বলল  'আর ও  দুটো কালার নেব আমি ।সেটা এবছর আছে কিনা?'
রেখা বললো' তোমার নিজের জন্য ,না অন্য কারো জন্য?'
রিম্পাদি' আরে না। মাসতুতো ননদ নেবে।'
রেখা হেসে বলল 'আচ্ছা।'
রিম্পাদি বলল 'যদি দেখা হয় তাহলে এই কথাটা বলে দিস ,কেমন?'
রেখা বললো' ঠিক আছে। রাখছি।
রিম্পাদি বলল 'ওকে'।
রেখা জায়গাটাকে পেয়ে ঘুম দেবে বলে চোখটা বুঝলো।
ক্লান্ত শরীরে ঘুম এতটাই পেয়েছিল যে স্টেশনে গাড়ি পৌঁছালে সব যাত্রী খালি হয়ে যাবার পর হঠাৎ বাইরের প্যাসেঞ্জার সব উঠতে শুরু করলে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গাড়ি থেকে তাড়াতাড়ি রেখা নেমে পড়ে।
কিছুটা দূর স্টেশনের দিকে এগোতে রিম্পাদি দেখল সেই পুরনো জায়গায় দাঁড়িয়ে যদি একটু এগিয়ে আসলো তারপর দুজনে হেসে কথা বলতে শুরু করল ওভার ব্রিজ পেরিয়ে এবার টোটো ধরার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো।
রিম্পাদি বলল জানিস তো'কাল এ আই অফিস থেকে যে নতুন স্যার এ আই হয়ে এসেছেন। তোর কথা খুব জিজ্ঞেস করছিলেন?'
রেখা বুঝতেই পারল একাধিক যার কথা বলছে সে তার কত পরিচিত।
রেখা কোন উত্তর করলো না।
রিম্পাদি বলল 'কিরে শুনতে পাচ্ছিস কি বললাম?'
রেখা বলল' হ্যাঁ শুনতে পাচ্ছি।'
রিম্পাদি বলল ' বারবার বড়দিকে জিজ্ঞেস করছিলেন আপনাদের রেখা ম্যাম নেই?'
বলতে বলতেই টোটো এসে স্কুল গেটের কাছে দাঁড়াল।

মোঃ হা‌বিবুর রহমান





ইউএন মিশ‌নে হাই‌তি‌তে গমন শেষ পর্ব 
মোঃ হা‌বিবুর রহমান




পো‌র্টো‌রি‌কোর স্হানীয় সময় তখন বি‌কেল পাঁচটা। যতদূর ম‌নে প‌ড়ে সে‌দিন ছি‌লো ২০ সে‌প্টেম্বর ১৯৯৪ সাল। 

টানা দু'ঘণ্টা উড়ার পরও কোন খবর নেই, ব্যাপারটা কি? ছোট প্লেইন তাই এর জানটাও ছোট। আমা‌দের সব লাগেজ ও সাম‌রিক সরঞ্জামা‌দি‌তে সে‌দিন সমস্ত এয়ার ক্র্যাপ্টটাই অ‌নেকটাই জ্যামপ্যাক্ট হ‌'য়ে গি‌য়েছি‌লো।

আ‌গেই ব‌লছি, মা‌র্কিনীদের দে‌খে আমরাও  প্র‌য়োজ‌নে কিংবা অপ্র‌য়োজ‌নে বেশ কিছু‌দিন ধ‌'রে‌ই যেন বোত‌লে প‌া‌নি খাওয়ার একটা বড় অভ্যাস খুব ভালভা‌বেই রপ্ত ক‌'রে ফে‌লে‌ছিলাম। কিন্ত‌ু এই ভাল অভ্যাস‌টিই সে‌দিন আবার আমা‌দের জন্য কিছুটা কাল হ‌'য়ে দাঁড়ি‌য়ে‌ছি‌লো। তিন ঘণ্টা পার করলাম, তাহ‌'লে হাই‌তির রাজধানী ভূ-পৃ‌ষ্ঠের মান‌চিত্র থে‌কে কি কোথাও উধাও হ‌'য়ে গে‌লো? 

আ‌মি অ‌নোন্যপায় হ‌'য়ে সরাস‌রি কক‌পিটে পাইলট‌কে জিজ্ঞাসা ক‌'রে প‌রিস্কার হ'লাম যে, বাহামা দ্বীপপু‌ঞ্জে সামু‌দ্রিক ঝড়ের সৃ‌ষ্টি হওয়ার দরূনই যত এ বিপ‌ত্তির কারণ। তাই পাইলট‌কে এখন বাহামা দীপপুঞ্জ বাইপাস ক‌'রে ফি‌দেল কা‌ষ্ট্রোর দেশ সুদুর কিউবা হ‌'য়ে ডি‌টোর মে‌রে পূণরায় ঘু‌রে হাই‌তি‌তে ঢুক‌তে হ‌'চ্ছিল। 

এ‌দি‌কে, হাইতিগামী যাত্রী‌দের প্রাত‌ঃক্রিয়া দারুনভা‌বে অনুভূত হওয়ায় খ‌ুব একটা মু‌স্কিলে প‌ড়ে‌ছি‌লো প্রায় সবাই। আস‌লে গাদাগা‌দি ক‌'রে সরঞ্জামাদি রাখার দরুনই টয়‌লেট ঢে‌কে যাওয়া হেতুই এই কঠিন সমস্যার উদ্ভব। 

অবশে‌ষে, দীর্ঘ সা‌ড়ে চার ঘণ্টা পর যুদ্ধ বিধস্ত হাই‌তির রাজধানীর আন্তর্জা‌তিক বিমান বন্দ‌রে আমরা সেইফ ল্যান্ড ক'রলাম, আলহামদু‌লিল্লাহ্।

অগ্রগামী দ‌লে পূর্ব হ'তেই আমার বন্ধ‌ু মেজর সিরাজ হাই‌তি‌তে আগমণ করায় সে এবং তার দ‌লের সদস্যরা আমা‌দের জন্য তাঁবুর ব্যবস্হা ক‌'রে রে‌খে‌ছি‌লো। তবে সে‌দিন রা‌তে হাই‌তির পুরা আকা‌শে ছিল মে‌ঘের ঘনঘটা এবং ল্যান্ড করার ‌বেশ পূ‌র্বেই তুমুল বর্ষণ হ‌'য়ে‌ছি‌লো। 

অব‌শে‌ষে, যুদ্ধ বিধস্ত ‌দেশ হাই‌তির আন্তর্জা‌তিক বিমান বন্দ‌র, পোর্ট অব প্রি‌ন্সের ঠিক অন‌তি দূ‌রেই সা‌রিভা‌বে স্হাপিত তাঁবুর দি‌কে আমরা ছুটলাম। তখনও মিশ‌ন শেষ হবার কিন্তু ৩৫০ দিন বাকী।

‌বিঃদ্রঃ আপনা‌দের সবার একান্ত অনু‌প্রেরণায়ই সম্ভব হ‌'য়ে‌ছে শত ব্যস্ততার ম‌ধ্যেও কিছ‌ু সময় যোগাড় ক‌'রে বেশ ক‌য়েক‌টি পর্ব লি‌খে সময় মত আপনা‌দের‌কে পোষ্ট করা। ভুলত্রু‌টি মার্জনা ক‌'রে সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃ‌ষ্টি‌তে দেখবেন সে বিশ্বাস আ‌মি রাখ‌তেই পা‌রি, কি বলেন ?

মতিয়ার মিল্টন





ক্যালেন্ডার
 

ক্যালেন্ডারের বোটা থেকে 
প্রতিদিন খসে পড়ছে দিন।

সময়ের আঁচল খুলে 
খুচরা পয়সার মত 
খরচা হচ্ছে বয়স।

ক্যালেন্ডার ভর্তি স্মৃতি রেখে
উড়ো মেঘের মত উড়ে যাচ্ছে মানুষ।

এভাবে উড়তে উড়তে 
উজাড় হলে মানুষ;
ক্যালেন্ডার কাঁদবে দেয়ালে দেয়ালে।

শামীমা আহমেদ




শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব৪০)
শামীমা আহমেদ 

প্রায় পাঁচদিন পর রাহাত আজ অফিসে যাচ্ছে।আপুকে বাইরে থেকে মোটামুটি সুস্থই লাগছে। যদিও ভেতরের সবটুকু তার জানা নেই।তবুও রাহাত আজ আপুকে রেখে অফিসে যেতে ভরসা পাচ্ছে। আর শিহাব সাহেব যেভাবে নিজ সিদ্ধান্ত দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিলো তাতে তো বিষয়টির বেশ কিছুটা অগ্রগতি  হয়েছে।এখন রাহাতকেই একটা শক্ত স্টেপ নিতে হবে। আইদার অর,, এস্পার অউর ওস্পার! নো ইফ আর বাট! ব্যাপারটা ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। দুজনারই আর সময় নষ্ট করার মত সময় নেই। দুজনেরই একাকীত্বে জীবন থেকে অনেকখানি দিন চলে গেছে। আর রাহাতকেই এই অসাধ্যটা সাধন করে দিতে হবে।আর এজন্য এখন আপুর হাতে ফোনটা ফিরিয়ে দিতে হবে।  দুজনায় কথা বলে একটা স্থির সিদ্ধান্তে তাদের আসতে হবে।
রাহাত তৈরী হয়ে শায়লার  মোবাইল হাতে নিজের রুম থেকে বেরিয়ে এলো। সরাসরি শায়লার রুমে ঢুকল। শায়লা ঘুম থেকে জেগে বিছানায় বসে সকালের আকাশ দেখছে।নিশ্চয়ই আপুর মনে অনেক কথার ঢেউ।রাহাত শায়লাকে ভীষণভাবে বুঝে।যদিও ছোটবেলায় শুধু আপু অফিস থেকে ফেরার সময় আপু তার জন্য আজ কি আনবে শুধু সেই অপেক্ষায় থাকা হতো।কতই না এমন মধুর স্মৃতি আপুকে নিয়ে! 
রাহাত শায়লার কাছে এগিয়ে এলো।রাহাতের অফিসের পোশাক দেখে শায়লা অবাক হলো! বুঝতে পেরে রাহাতই বললো,হ্যাঁ আপু,আলহামদুলিল্লাহ  তুমিতো এখন সুস্থ হয়ে গেছো।আর আমার অফিসে যাওয়া জরুরী।বস খোঁজ করছেন।বুঝতেইতো পারো পরের চাকর আমরা, তার উপর প্রাইভেট সেক্টরের। একেবারে যেন মাথা কিনে নিয়েছে।একটু ঘাড় ঘুরানোর সুযোগ নেই। জীবন বান্ধা পইরা গেছে এই সকল জবে আইসা! যাই হউক আশা করি দ্রুতই আমি আগের আপুটাকে দেখবো। আর হ্যাঁ,এই  যে তোমার মোবাইলটা। আমার কাছে কিছুদিন বেড়ালো! আজ ওকে বুঝে নাও! এ কথায় দুইভাইবোন একসাথে হেসে উঠলো!  
শায়লা মোবাইল স্ক্রিনে এক ঝলক তাকালো।মনে হলো কাকে যেন খুঁজছে! নিশ্চয়ই  শিহাব সাহেবের কল বা মেসেজ! 
আপু তুমি শিহাব সাহেবের সাথে কথা বলো,,রাহাত চোখের ভাষায় এমনটি বুঝিয়ে দিলো শায়লাকে।শায়লাও ভাইয়ের এমন অনুমতিতে অবাকের চেয়ে বেশি কিছু হলো! 
রাহাত অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেলো।
শায়লা অতি দ্রুত মোবাইল অন করলো!মনে হলো কতদিনের অভুক্তের সামনে খাবার এলে যেমন  চোখ চকচক করে উঠে তেমনি!  খুব দ্রুতই শায়লা  অনলাইন হলো। আঙুলে মেসেঞ্জারে টাচ করতেই শিহাবের একগাদা মেসেজ ভেসে উঠলো!  প্রতিদিনে অন্তত চারটি পাঁচটি করে মেসেজ।
শায়লা আজ তুমি কেমন আছো।
তুমি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠো।
আমার কথায় তুমি ভুল বুঝলে।
আমি তোমায় ফিরিয়ে দিয়ে বুঝেছি অনেক বড় একটা ভুল করেছি।
তুমি সুস্থ হয়ে উঠলে আমরা বাইক নিয়ে ঘুরতে  যাবো ঐ দূরে, সুর্যাস্ত দেখবো।
এমনি আরো অনেক খন্ড খন্ড মেসেজ।শায়লার চোখ জলে ভরে গেছে।সে ঝাপসা দেখছে।সবশেষ মেসেজটায় শায়লার চোখ আটকে গেলো। আজ সকালের মেসেজ।
শায়লা আমি আজ ভাবনা নদীর কিনারায় নোঙর ফেলেছি তোমাতে আবাস গড়বো বলে,তুমি ফিরিয়ে দিলে চিরতরে  হারাবো ঐ নীল জলে।শায়লা আর চোখের জল ধরে রাখতে পারলো না। সেই অলিখিত শর্ত আজ যেন মুখ লুকালো।শিহাব নিজেই নিজের দেয়া শর্তের অবাধ্য হলো।শায়লা  দ্রুতই শিহাবের প্রোফাইল পিকটাতে ফিরে গেলো। শায়লা অঝোর ধারায় কাঁদতে লাগল।
আজ সকালে ঘুম ভেঙেও তো জানতো না এমনি এক হৃদয় কাড়া সংবাদ তার জন্য অপেক্ষা করছে। গহীনের চাওয়া আলোর মুখ দেখছে। এক অপার আনন্দে শায়লা মন দুলে উঠলো। শায়লা খুব দ্রুতই ইউটিউবে গিয়ে তার খুব প্রিয় একটা রবীন্দ্র সংগীত সার্চ দিলো।
না চাহিলে যারে পাওয়া যায়
ত্যায়াগীলে আসে হাতে,
দিবাশেষে ধন হারায়েছি,
আমি পেয়েছি আঁধার রাতে।
গানটি বারবার বেজেই চলেছে। আর শায়লা
অজানা এক ভাললাগা সুখে বারবার শিহরিত হয়ে উঠছে!  চোখ বন্ধ করে সে শি্হাবকে  অনুভবে খুব কাছে নিয়ে এলো। শিহাবের অমন মিষ্টি মুখখানি শায়লার দিকে তাকিয়ে যেন হাসছে! এক স্বর্গীয় হাসিতে শায়লাকে চুম্বকের মত কাছে টানছে ! এক দীর্ঘনিঃশ্বাসে শায়লা যেন ফুলের সুবাসে ডুবে গেলো!শিহাবের প্রিয় সুগন্ধিতে শায়লার ঘর মৌ মৌ করছে। হঠাৎই মনে হলো শিহাব তার খুবই কাছে ঘেঁষে  দাঁড়িয়ে।তার হাত ধরতে চাইছে। 
শায়লা কল্পনায় যেন কোথায় হারিয়ে গেলো! 
মনে হচ্ছে দুজনে পাশাপাশি ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ঐ দূরে সূর্যাস্ত দেখছে। শায়লা একটি লালচে কমলা রঙের শাড়ি পরে আছে। শিহাব সবুজ শার্ট।অপূর্ব লাগছে।শায়লা সূর্য দেখবে না শিহাবকে দেখবে! সূর্যাস্তের লালচে সভায় শি্হাবের মুখখানি লাল হয়ে উঠছে! মনে হচ্ছে যুগ যুগান্তর  এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা যাবে!এমনি অনুভবে কেবল তখুনি ডুবে যায় মন প্রাণ যখন দু'প্রান্তে থেকেও দুজন দুজনকে মনের অজান্তেই ভালোবেসে যায়।
হঠাৎই  মোবাইল রিংএ  শায়লার ভাবনায় ছেদ পড়লো।শায়লা একবারেই ভুলে গিয়েছিল সে এখন কোথায়! ভীষণ  চমকে গিয়ে দেখল 
স্ক্রিনে রাহাতের কল। শায়লা দ্রুতই কল রিসিভ করলো।
আপু কোথায় তুমি? শিহাব ভাইয়া কল দিয়েই যাচ্ছে ধরছো না কেন? তুমি কল রিসিভ না করাতে শিহাব ভাইয়া আমাকে কল দিলো।কী আপু কাকে ভাবছিলে? 
রাহাতের দুষ্টুমিতে শায়লা  লজ্জায় লাজ রাঙা হয়ে উঠলো! নাহ, এখন আর শিহাবকে কল ব্যাক করা  যাবে না। মা নাস্তা খেতে ডাকছেন। নাস্তা খেয়ে ফ্রি হয়ে শিহাবের সাথে কথা বলবে।কেমন যেন একটা মান অভিমান চাওয়া পাওয়া লাজুকতায় শায়লার ভেতরটায় কেমন যেন একটা উষ্ণ জলধারা বয়ে গেলো,,,নিজের কাছেই যেন নিজে ধরা পড়ে গেলো! লজ্জায় আয়নায় আর তাকানো গেলো না।


চলবে.....

শান্তা কামালী /৪৯ পর্ব




বনফুল
(৪৯ পর্ব ) 
শান্তা কামালী

জুঁই শুয়ে এপাশ ওপাশ করে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে টের পায়নি!  আর যখন ঘুম ভাঙ্গলো ঘড়িতে তখন  এগারোটা বেজে গেছে দেখে জুঁই একটু আশ্চর্য হলো.... এতো সময় ঘুমিয়েছি বুঝতেই পারিনি! নিশ্চয়ই আব্বু আম্মুর আমার জন্য অপেক্ষা করে নাস্তা খাওয়া হয়নি আব্বু নাস্তা না খেয়ে ই কাজে চলে গেছে। ওয়াশ রুমে ঢুকে জুঁই ফ্রেস হয়ে নিচে নেমে এলো, মা মনোয়ারা বেগম জুঁইকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, জুঁই তোমার শরীর ঠিক আছে তো? প্রথমে ময়না এসে বলেছে তুমি ঘুমাচ্ছো, ঘন্টা খানেক অপেক্ষা করে আমি গিয়ে দেখলাম তখনো তুমি গভীর ঘুমে, তাই আমিও ডাকি নি। জুঁই বললো আম্মু অনেক ঝামেলা গেলো তো শরীর একটু  দূর্বল ছিলো মনে হচ্ছে, এখন আমি একদম ফিট্। জুঁই বললো আম্মু তুমি নাস্তা করেছো?  মা মনোয়ারা বেগম বললো তোকে ফেলে আমি কি করে নাস্তা করি বল? ময়না টেবিলে দুইজনের নাস্তা পরিবেশন করলো। জুঁই মাকে নিয়ে নাস্তা খাওয়া শেষ করে ডায়নিং রুমে বসে আড্ডা দিচ্ছে ময়না এসে কফি দিয়ে গেল। মনোয়ারা বেগম বললেন জুঁই তুমি বসে টিভি দেখ, আমি একবার রান্না ঘর ঘুরে আসি তোমার আব্বু আসার সময় হয়ে যাচ্ছে....। 
আজ আর জুঁই নাস্তা খাওয়া শেষ করে নিজের রুমে যায়নি। কলিং বেল বাজতেই জুঁই গিয়ে দরজা খুলে ওয়াজেদ সাহেবকে জড়িয়ে ধরে বললো স্যরি আব্বু, আজ ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেছে বলে সকালে তোমার সাথে দেখা হয়নি!  আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারছি না.....। 
বাবা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, পাগলী মেয়ে এইটা কোনো ব্যাপার হলো?  ওয়াজেদ সাহেব ফ্রেশ হয়ে টেবিলে আসলেন। বাবা-মা মেয়ে হাহাহা হাহাহা হাহাহা করে হাসছে আর খাচ্ছে পুরো ডাইনিং রুম সরগরম। খাওয়া শেষ করে জুঁইয়ের আব্বু আম্মু রেস্টের জন্য রুমে চলে গেলেন, জুঁই ও নিজের রুমে গেল কিছুটা সময় বিশ্রাম নেবে বলে।


চলবে....

আব্দুল হাকিম 




আরতি 



যদি আঁধারের অতলে      পড়ি আমি বিরলে
                    তব কৃপায়  নিয়ো তুলে, 
সংসারের কোলাহলে        তোমায় যায় ভুলে
                   তবু স্মরিয়ো পলে পলে।
আমি যে অবোধছলে        কত যে পাতকানলে
                     সদা দোহিতেছি জ্বলে,
নিষিদ্ধ মোহকুলে                 মম বিচরণ চলে
                     পড়ি কুহক কবলে।
মোর পদ যুগলে                বেঁধে প্রেম শিকলে
                   এ সংসার মহলে,
তোমারই অনুকুলে            ফেরাও গো অর্গলে
                  তব প্রণয় ছায়াতলে।

২৫ ডিসেম্বর ২০২১

মমতা রায় চৌধুরী/৭৬




উপন্যাস 

টানাপোড়েন ৭৬
পেটের শত্তুর
মমতা রায় চৌধুরী



সকালবেলা মরার সময় নেই, নিঃশ্বাস না নিতে পারলে ভালো হয়, এত কাজ, এত কাজ, উফ্ আর পারছি না।
আজ থেকে সুমিতার আসার কথা ছিল, আসলো না। এবার ওকে কাছ থেকে অব্যাহতি দিতেই হবে আর পারা যাচ্ছে না। হাতের কাজগুলো করতে করতে এসব ই  ভাবছে ।হঠাৎ ফোন 'আমি কার, কে আমার , কী যে তার আমি হই...।'রেখা মনে মনে বলল'এ  সময় আমি ফোন ধরতে পারছি না। আবার ফোন  ''আমি কার,কে আমার ,কি যে তার আমি হই..।'
রেখা এক হাতে ঝাঁটা আর একহাতে ফোন ।'ফোনটা রিসিভ করে বলল 'হ্যালো'।
অন্য প্রান্ত থেকে একটা সুরেলা কণ্ঠ ভেসে আসলো বললাম আমি 12 ক্লাসের ছাত্রী রিয়া বলছি 
রেখা বলল' বলো?'
রিয়া বলল'আমি এ সপ্তাহে প্রজেক্ট দিতে পারব না ম্যাম ।প্লিজ পরের সপ্তাহে নিন।'
রেখার চরাম করে মাথাটা গরম হয়ে গেল ।মাথা ঠান্ডা রেখে বলল 'কেন দিতে পারবে না কেন?'
রিয়া বললো 'আমার দাদু মারা গেছে।'
রেখা বললো 'খুবই দুঃখের খবর কিন্তু প্রজেক্ট তো তোমাদের অনেক আগে দেয়া ছিল?''
রিয়া বলল' হ্যাঁ ম্যাম ।কিন্তু আমি তো গ্রুপে এড ছিলাম না ।আমি সব তথ্য জানতে পারি নি।'
রেখা বলল 'ঠিক আছে কিন্তু বড়দি যদি এই সপ্তাহে নম্বর চেয়ে পাঠায় ,তাহলে তো আমার অসুবিধা হবে ।তুমি খাতাটা ঠিক দেবে তো?'
রিয়া বললো' হ্যাঁ ম্যাম ।আমি দিয়ে দেবো।'
রেখা বলল 'ok
রেখা ফোনটা কেটে মনে মনে ভাবল নম্বরটা তো বসিয়ে দিতে পারবে কিন্তু যদি খাতা না দেয় তাহলে তো অসুবিধা হবে ।এই মুহুর্তে বিশ্বাস করা ছাড়াও তো কোন উপায় নেই দেখাই যাক।'
এর জোমধ্যে আবার কলিংবেলের আওয়াজ ' জয় গনেশ, ‌জয় গনেশ জয় গনেশ দেবা...।
কলিংবেলের আওয়াজ শুনে রেখা দরজা খুলতে গেল
অন্য প্রান্ত থেকে গলা ভেসে এলো'বৌদি ,আমি ‌ পার্থ।
রেখা বললো "এসো ভেতরে এসো পার্থ।'
পার্থ বলল বৌদি আমি একটা দরকারে  এসেছি।'
 রেখা বলল' হ্যাঁ হ্যাঁ পার্থ বলো?'
পার্থ বলল 'বৌদি আজকে একটু আপনার সময় হবে?
রেখা বলল' কেন বলো তো ভাই?'
পার্থ বলল'আসলে আমি বাড়ী থাকবো না তো ওই জন্য একটু  মায়ের কাছে থাকা।"
রেখা বললো 'এখনো তো বুঝতে পারছি না ভাই ।স্কুল থেকে যদি বড়দি ফোন করেন তাহলে তো আমাকে স্কুলে যেতে হবে ,না হলে আমি থাকবো।
পার্থ বলল' ও তাই?'
রেখা বলল 'কেন তুমি কি খুব দূরে যাচ্ছ?'
পার্থ বলল "আমার ফিরতে  ঘন্টা দেড়েক লাগবে বৌদি।'রেখা বলল' তুমি কখন বেরোবে?'
পার্থ বলল'আমি হবিস্যিটা  করে বেরোবো ভেবেছিলাম।'
রেখা বলল 'আজকে তো তোমার লাস্ট হবিস্যি না?'
পার্থ বললো 'হ্যাঁ ,বৌদি।'
রেখা বলল'ঠিক আছে এখনো দিতে বড়দি ফোন করেন নি ।হয়তো বেরোবো না।'
পার্থ বলল 'আপনি থাকলে আমি একটু নিশ্চিন্ত থাকতে পারি। আপনি যেভাবে মাকে বোঝান, আর মা আপনার কথাটা ভাল শোনে।'
রেখা বলল 'রাখি দি আসেন নি?'
পার্থ বলল' কয়েকবার ফোন করেছিলাম কিন্তু কোন রেসপন্স নেই।'
রেখা বলল "রাখিদির এত রাগ কিসের তোমাদের প্রতি?'
পার্থ বলল' কি বলবো পরিবারের কথা বলুন বৌদি?'
রেখা বলল ' না' না ।আমার এই ধরনের প্রশ্ন করাটা ও ঠিক নয় ,কারণ এটা নিতান্তই তোমাদের একেবারে পারিবারিক বিষয়।'
পার্থ বলল 'এ মা না ।ছিঃ ছিঃ ছিঃ বৌদি, আপনি তো আমাদের  পরিবারের ই  একজন।'
রেখা বলল 'তা হলেও?'
পার্থ বলল 'না বৌদি, এমন কোনো ব্যাপার নেই।
আসলে দিদি চাইছিল সম্পত্তি আর মায়ের কিছু পারিবারিক গয়না আছে ,সে গয়নাগুলো তাকে দিতে হবে সব।'
রেখা বলল 'ও বাবা তাই নাকি?'
পার্থ বলল "হ্যাঁ বৌদি।'
রেখা বললো কিন্তু আমি তো শুনেছি তোমার দিদির অবস্থাপন্ন পরিবারে বিয়ে হয়েছে ওরাতো কলকাতার ফ্ল্যাট থেকে ভাড়াই পায় অনেক।
পার্থ বলল 'হ্যাঁ বৌদি ,একদম ঠিক। তাছাড়া জামাইবাবুর নিজস্ব বিজনেস রয়েছে।'
রেখা বললো' মাসিমার কি অভিমত?
মা শুধু বলেছে 'ঠিক আছে, দেয়া হবে। আগে তোর ভাইদের সবার বিয়ে হোক।'
রেখা বলল' তাহলেও ভাইকে একবার দেখতে আসা উচিত ছিল।'
পার্থ বলল' কি বলব, বলুন?'
রেখা বললো 'ঠিক আছে পার্থ ,তুমি বাড়ি যাও কোথাও বেরোবে বলছিলে।'
পার্থ বলল 'হ্যাঁ বৌদি কথায় কথায় দেরি হয়ে গেল। আমি আসছি।"
রেখা বলল' 'তুমি নিশ্চিন্তে যাও ।এদিকে টেনশন করতে হবে না।'
'পার্থ বলল ''হ্যাঁ, বৌদি।'তা আমি জানি।'
রেখা বলল "হ্যাঁ ,ভাই এসো ।তবে মাসিমা একটা টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়েই যাবে তোমাদের এই পারিবারিক গন্ডগোলটা নিয়ে।
সবেমাত্র দরজাটা বন্ধ করতে যাবে এমন সময় আবার ফোন বেজে উঠলো"আমি কার ,কে আমার, কি যে তার আমি হই।''
রেখা ফোনটা রিসিভ করে বলল 'হ্যালো'।
অপরপ্রান্ত থেকে বললেন 'ননী ,আমি কাকিমা বলছি।'
রেখা বলল'বলো? তোমার গলাটা এমন শোনাচ্ছে কেন?'
কাকিমা বললেন'আমাদের কেউ শান্তিতে থাকতে দেবে না রে।'
রেখা বলল 'কেন কি হয়েছে?'
কাকিমা বললেন" সমু এসেছিল?'
রেখা বলল" হ্যাঁ ,তাতে কি হয়েছে?'
কাকিমা বললেন'সম্পত্তি ওকে লিখে দিতে হবে।"
রেখা বলল 'কেন এসব করছে।'
কাকিমা বললেন 'পেটের শত্তুর,শত্তুর।'
রেখা বলল 'ওকে  কে বোঝাবে বলো তো?'
কাকিমা বললেন 'ওর সাথে বাদ বিতন্ডা হলো।''
রেখা বলল"?' কাকু কি বলল?'
কাকিমা বললেন' তোর কাকু তো যাচ্ছে তাই বলল ।আর বলল বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে।'
রেখা বলল' কাকুর শরীরটা এমনি খারাপ।'
কাকিমা বললেন 'পেটের মেয়ে হয়ে বুঝলো না রে ননী ?তুই বুঝলি।'
রেখা বলল 'ও কাকিমা তোমরা মানি অর্ডার টা পেয়েছ?'
কাকিমা বললেন 'এখনো তো হাতে পা ই নি।'
রেখা বলল 'এর মধ্যেই পেয়ে যাবে দেখো।'
কাকিমা বললেন' তোকে তো আমি বারণ করেছিলাম পাঠাতে।'
রেখা বলল' এব্যাপারে একটা কথা বলবে না।'
কাকিমা বললেন 'কি বলব আর বল, যা ভালো বুঝিস কর।'
রেখা বলল 'এই তো লক্ষী মেয়ের মত কথা বলেছ।'
কাকিমা বললেন কিন্তু রোজ রোজ এই সম্পত্তি মেয়ে আর অশান্তি ভালো লাগে না মা। ভেতরে ভেতরে একটা টানাপোড়েন থেকেই যায়।
রেখা বলল ' কি আর করবে বলো?'
কাকিমা বললেন 'ঠিকই বলেছিস। পেটের শত্তূর তো
কত জ্বালা যে আছে কে জানে?'
রেখা  বলল 'ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে কাকিমা ।চিন্তা করো না।'
কাকিমা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন 'ফোন রাখছি রে  ভালো থাকিস?'
এরপর ফোন কেটে গেল রেখা ভাবতে লাগল বাপরে বাপ একের পর এক ফোন।'এরপর আবার পার্থ
দের বাড়িতে যেতে হবে।' 
তবে কাকিমার কথার মধ্যে দিয়ে আজ জীবন সম্পর্কে একটা নতুন দিক উন্মোচিত হলো। সন্তান ভবিষ্যৎ জীবনের পিতা-মাতার একমাত্র অবলম্বন সেই সন্তান যখন পিতামাতাকে কুঠারাঘাত করে তখন তাদের হৃদয হয় ক্ষতবিক্ষত। সন্তানকে ঘিরে যে সোনালী স্বপ্ন লালিত হয় পিতা-মাতার মনে ।সে স্বপ্ন ধূসরতা আর যন্ত্রণায় ভরিয়ে দেয়। রেখা তাই মনে মনে ভাবে তার সন্তান হয় নি সে এক যন্ত্রনা আবার হলেও যন্ত্রনা। তবুও পিতা মাতা আশায় বুক বাঁধে সন্তানের জন্য।

কবি ইকবাল বাহার সুহেল ( ইংল্যান্ড ) এর কবিতা




ক্লেদাক্ত হৃদয়ের বিষাদভরা চিত্র

ঝরনার সমতলে নেমে আসা পায়ের নূপুর 
হঠাৎ থমকে গিয়ে নুড়িপাথরের সঙ্গে কাদাপানি মিশে যাওয়ার দৃশ্য ! যেন কোনো চলচ্চিত্রের দৃশ্যায়ন

ওর কি প্রাণ আছিল ? বুক ধুকপুক করছিল ? চোখ ফুটছিল কি বিরতি নেওয়ার ক্ষণে 

পাপ, পাপ। কী অলঙ্ঘনীয় পাপের বোঝা পায়েলের আত্মাজুড়ে
দুই হাত ভরা রক্তের দাগ ! নিষ্পাপ নিষ্কলঙ্ক ভালোবাসার রক্ত !সে কখনো জানবে না কেন কখন হত্যা করা হয়েছে 
‘প্রেমের ক্ষত’ , স্বর্গের বারান্দায় চতুর্দিকে যখন ঘিরে ধরবে? ঘৃণা করবে? তখনও কি মনে পড়বে বলবে ওহ্​, ঈশ্বর কি আমায় ক্ষমা করবেন ? হায় ঈশ্বর।

মোঃ হা‌বিবুর রহমান/১৩তম পর্ব




ইউএন মিশ‌নে হাই‌তি‌তে গমন 
১৩তম পর্ব
মোঃ হা‌বিবুর রহমান

অতঃপর পদব্র‌জে অ‌নেকখা‌নি পথ চলার পর হয়রা‌নির এক পর্যা‌য়ে গি‌য়ে দূ‌রে এক জায়গায় একজন আ‌শি ঊর্ধ ফ‌কির জাতীয় একজন বৃদ্ধা‌কে দে‌খে আমা‌দের পা‌য়ে হাঁটা কা‌ফেলার সবাই আশায় বুক বেঁ‌ধে অ‌তি সন্দর্প‌নে তৎক্ষণাৎ তার নিকট হা‌জির হ‌'বার পর অ‌নেকটা হতাশই হ‌'য়ে‌ছিলাম। আস‌লে বৃদ্ধাটি বোধ হয় একজন জাত ফ‌কির ছি‌লেন না। শানশওকাতেই সুন্দর একটা কম্বল পে‌তে ব‌'সেছিলেন এই বটবৃক্ষসম শ্র‌দ্ধেয় বৃদ্ধা নান‌টি। 

যতদূর ম‌নে প‌ড়ে তার কম্ব‌লের উপর কিছু ডলার প‌ড়ে থাক‌তে দে‌খে অ‌তি সন্ত‌ুষ্টিচি‌ত্তে প্র‌ত্যে‌কে কম্ব‌লের উপর আমরা কা‌ফেলার প্র‌ত্যে‌কেই এক ডলার ক‌'রে নি‌ক্ষেপ ক‌'রে‌ছিলাম। যতদূর এই মূহু‌র্তে ম‌নে প‌ড়ছে, এ স‌বের মুল প‌রিকল্পনাকারী ছি‌লো আমার বন্ধু মেজর সা‌লেহ্। 

আজ অত্যন্ত ভারক্রান্ত হৃদ‌য়ে আপনা‌দের‌কে জানা‌চ্ছি যে, আমার সেই অত্যন্ত ভাল ম‌নের বন্ধুটি, মেজর সা‌লেহ্ আজ আর আমা‌দের মা‌ঝে বেঁ‌চে নেই। তি‌নি বি‌ডিআর বি‌দ্রো‌হে শহীদ হ‌'য়ে পরলোকগমন ক‌'রে‌ছেন। এ মূহু‌র্তে তার রূ‌হের মাগ‌ফেরাত কামনা ক'র‌ছি। পরম করূণাময় তাকে জান্নাতুল ফের‌দৌস দান ক'রুন।

এ‌দের খাওয়া-দাওয়া, কৃ‌ষ্টি, সভ্যতা, ব্যবসা-বা‌ণিজ্য, ধর্ম-কর্ম আচার-আচরণ ও রীতিনী‌তি সম্ব‌ন্ধে ব'ল‌তে গে‌লে তা এত স্বল্প প‌রিস‌রে বলা ‌মো‌টেই সম্ভব হ‌বে না। কোন‌দিন সু‌যোগ পে‌লে খন্ডাকা‌রে লিখ‌বো ইনশাল্লাহ্। এ‌দের শ‌পিং মলগু‌লোর বর্ণনা কিছুটা না দি‌লে আজ আমা‌দের নিজ দে‌শের অবস্হান ঠিক কোন জায়গায় তা হয়তবা বুঝা যা‌বেনা। 

আজ আমা‌দের দে‌শেও বসুন্ধরা সি‌টি, যমুনা ফিউচার পার্ক, আ‌গোরা কিংবা অন্যান্য বড় বড় শ‌পিং সেন্টারের উদ্ভব হ‌'য়ে‌ছে। কিন্তু সে‌দিন সিয়ারস্ এর মত সেই মেগা বা বড় শ‌পিং সেন্টারগুলো ‌নিজ চাক্ষুষ দর্শনের অব্যব‌হিত প‌রে যেন আমরা এ‌কেবা‌রে বড্ড তাজ্জ্ববই ব‌নে গিয়ে‌ছিলাম আর‌ কি! 

হয়তবা এই সময় গেলে তাজ্জ্বব বনার কিছুই থাক‌তো না, বরং এখন গে‌লে বলতাম, তোমরা এসো আমা‌দের বাংলা‌দে‌শে, তোমা‌দের এ‌কেবা‌রে চো‌খে আঙ্গুল দি‌য়েই দেখি‌য়ে বল‌বো "আ‌রে ভাই এখন এ জি‌নিস আমা‌দের দেশেও আ‌ছে; সুতরাং, এ নি‌য়ে তোমা‌দের মাতামা‌তির দরকার নেই, তোমরা আমা‌দের দে‌শের রাজধানীর সেই বঙ্গবাজা‌রে গে‌লেই ‌কিছু সস্তা দা‌মে বস্তা বস্তা কাপড়-‌চোপড় কেনার কিন্তু নেশায় প‌ড়ে যা‌বে"।

যা‌হোক, ‌বিড়ম্বনার বিষয়‌টি ছি‌লো খাওয়ার ব্যাপার‌টি। প‌নের‌টি দি‌নের কোন‌দিনই আমরা ভা‌তের মুখ দে‌খি‌নি। ত‌বে ক্যা‌ন্টি‌নে মা‌ঝে মা‌ঝে অর্ডার দি‌য়ে নি‌জের প্রচুর ডলার খরচা ক‌'রে ভা‌তের চেহারাটা দেখা সম্ভব হ‌'তো।

জামান আহম্মেদ রাসেল




দেখা দাও হে প্রিয়


আমি কল্পনায় তোমাকে খুজি
যদি করো তুমি প্রকাশ
তবেই তো ছুঁতে পারবো তোমার আকাশ
দেখিনি তবে-সরাসরি এ ভবে
দেখা দাও হে প্রিয় এই আমাকে 
রাখিবো তোমাকে হৃদয়ে এঁকে 
তুমি হয়ে থেকো আমার পাখি
আমি তোমায় খাঁচায় বন্দী করে রাখি
যখনই করিবে তুমি প্রকাশ
পূর্ণতা পাবে আমার আকাশ
হাহাকারের জৎগ বরই বেদনাময়
তুমি আমার শূন্য খাঁচায় বন্দী হয়ে
খাচাটাকে করে দাও পরিপূর্ণ
তোমার কল্পনায় কাটে আমার দিবানিশি বেলা
তুমি যে নারী ভালোবাসার খেলা
তোমার তরে উজার করে দিব আমার সব
তোমার উপস্থিতি আমার ভিতর মুক্তির কামিনী
যখন আমি তোমাকে নিয়ে ভাবি
আমার ভিতরে তখন অনেক কিছু আঁকি
যদি না রাখো তুমি ভিতরে শরম
আমি পরিপূর্ণ ভক্তি দিয়ে তোমাকে করিব বরণ
দুজনার দুটি মন গড়ে নিব এক 
জৎগ এর মানুষ দেখরে এবার দেখ ।

শামীমা আহমেদ /পর্ব ৩৯




শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত আরোপ
পর্ব ৩৯
শামীমা আহমেদ 

এক মগ কফি হাতে  রাহাত বারান্দায় এসে দাঁড়ালো। শিহাব সাহেবের সাথে কিভাবে কথা শুরু করবে সে বিষয়টি নিয়ে রাহাত গভীরভাবে ভাবছে। যেখানে শায়লা আপুর অনেকখানি আবেগ জড়িত। আপুর ভাললাগার এই অনুভব মনের ভেতর চেপে রেখে আজ তা শরীরেও বাসা বেঁধেছে। বেঁচে থাকাটাই হুমকির মুখে পড়ে গেছে।সেদিনের ঘটনাটা ভাবলে রাহাত আজও শিউরে ওঠে! কিন্তু তাই বলে, সেজন্যতো একেবারে  কাঙাল হয়ে শিহাবের দিকে হাত বাড়ানো যাবে না। রাহার ঘরে চলে এলো।রাত প্রায় এগারোটা বাজতে চলেছে। রাহাত ঘরে এসে রুমের সোফায় বসে হাতে মোবাইলটা নিলো।
কন্ট্যাক্ট লিস্টে ক্রল করে শিহাব নামে থামল।
নাম্বারে টাচ করে শিহাবকে কল দিল।

এদিকে রাত প্রায় পৌনে দশটার দিকে শিহাব গাজীপুর থেকে বাসায় ফিরলো। সারাদিন ম্যানেজার ফারুখ সাহেবের সাথে ফ্যাক্টরির যাবতীয় হিসেব নিকেশ নিয়ে বসেছিল।আগামীতে শ্রমিকদের দুইটা ঈদ বোনাস দিতে হবে। সে ব্যাপারে আলোচনা করে আর্থিক দিকটা গুছিয়ে রাখতে হলো।এই সকল ব্যাপার মালিক পক্ষের খুব শক্ত হাতেই হ্যান্ডেল করতে নয়।নয়তো শ্রমিকেরা ঈদ বোনাসের দাবীতে কাজ বন্ধ রেখে  বিক্ষোভ ভাংচুর করে, রাস্তাঘাট অবরোধ করে আন্দোলনে নেমে পড়ে। আর সাথে সাথেই তা সংবাদিকদের একটা সংবাদের ইসু হয়ে যায়। তাই আগেভাগেই সব ভেবে রাখতে হচ্ছে।দুপুরে ম্যানেজার ফারুখের বাসায় খাওয়া দাওয়া হলো।শিহাব এ ব্যাপারটিতে কোন আপত্তি করে না।এতে ফারুখ সাহেব ও তার পরিবার তৃপ্ত হয়। শিহাব এ দিকটি খুবই সম্মানের সাথে দেখে। সবকিছু গুছিয়ে বেরিয়ে আসতে রাত হয়ে গেলো। গাজীপুর থেকে রওনা দিয়ে উত্তরায় ঢোকার মুখে একটা চায়ের আড্ডায় বন্ধুদের সময় দিয়ে বাসায় পৌছুতে রাত দশটা হয়ে গেলো। ফিরে দ্রুতই ফ্রেশ হয়ে ফ্রিজ থেকে খাবার নামিয়ে আভেনে গরম করে খেয়ে নিলো। খাওয়া শেষে সবকিছু গুছিয়ে রেখে  একটু আয়েশী ভঙ্গিতে একটা সিগারেট ধরিয়ে যেই বিছানায় বসেছে অম্নি একটি নাম্বার থেকে ফোন কল।শিহাব তাকিয়ে দেখলো। সেই দুপুরের নম্বরটি।বুঝলো এটা শায়লার ভাই রাহাতের নাম্বার।
শিহাব কল রিসিভ করলো। দুজনায় কুশালাদি বিনিময় করে  শিহাব  খুব স্পষ্টভাবেই শায়লার কথা জানতে চাইল। রাহাত জানালো আপু এখন একটু ভালো তবে আপুর মনে আপনার জন্য  বিশাল এক আকাশ ধরে রেখেছে।পালাবদলে তা রোদ বৃষ্টি ঝড় আর এক সুগভীর মহাশূন্য ধরে আছে। আপু আনমনে, জাগরণে আপনাকেই ভেবে চলেছে।
শিহাবের এসব বুঝতে এতটুকু কষ্ট হলোনা। এই কয় মাসে শায়লাকে খুব ভালো করেই বুঝেছে সে। শায়লার ভেতরে শিহাবের জন্য জমিয়েছে এক সমুদ্র ভালবাসা। একটু উত্তাল ঢেউ  এলেই তা চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে। শিহাবকে  এক নজর দেখার জন্য যেভাবে সে আকুল হয়ে উঠে  তা  ঠিকই টের পায় শিহাব।
রাহাতকে উত্তরের অপেক্ষায় রেখে শিহাব  শায়লাকে নিয়ে ভাবনার অতলান্তে হারিয়ে গেছে।
রাহাতের সাড়ায় শিহাবের ঘোর কাটল।
আচ্ছা, আপনাকে আমি ভাইয়া বলে ডাকতে চাই,যদি অনুমতি মিলে
অফ কোর্স, নো প্রবলেমএট অল। 
আচ্ছা ভাইয়া আপনার নিজেকে নিয়ে এখন আপনার ভাবনা কী?
শিহাব বুঝতে পারলো রাহাত কী জানতে চাইছে।শিহাব এমনিতেই ভীষণ শার্প ব্রেইনের 
শুধু নিজের অজান্তেই জীবনটা এলোমেলো হয়েছে।আমার নিজেকে নিয়ে ভাবনা মানেই তো শায়লাকে নিয়ে আমার ভাবনা।আর ব্যাপারটা যখন শায়লার পরিবারে প্রকাশ পেয়েছে তো তাদের তো এই জিজ্ঞাস্য থাকতেই পারে। যদিও পরিচয়ের শুরুতে অনেক শর্ত আরোপ করে শিহাব শায়লাকে দেখা দিয়েছিল।কথা ছিল শুধু বন্ধুত্বের সম্পর্কে বাঁধা থাকবে দুজন।কিন্তু শিহাবের দীর্ঘ একার জীবনে শায়লার সাথে পরিচয় পথচলা শিহাবকে নতুন করে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখিয়েছে,কল্পনায় শায়লাকে দৃষ্টি সীমায় নিয়ে কতইনা না বলা অনুভুতির ইচ্ছা ধরে রেখেছে।প্রতিনিয়ত শায়লার অমন মায়াভরা মুখচ্ছবিটা মনের পর্দায় ভেসেছে। শায়লা যেন আঁধার ঘন রাতের একাকীত্বের পর হঠাৎ ঝলকে উঠা এক গনগনে সূর্য।  শিহাব নিজের এই সত্যগুলোকে যদি অস্বীকার করে তবে তার নিজের সাথে নিজেরই প্রতারণা করা হবে।হ্যাঁ, শায়লার অমনভাবে অসুস্থ হয়ে যাওয়া শিহাবকেও আতংকিত করেছে! শায়লা তাকে এতটাই ভালবেসেছে! শিহাবকে একেবারে চমকে গিয়েছে!আসলে মেয়েদের এই বন্ধনেবাঁধার শক্তিটা ভীষণ মজবুত। শায়লা তার বিবাহিত জীবনটা নিয়ে সুখী নয়, শিহাবেরও সংসারটা শুরু হতে না হতেই তা ভেঙে গিয়েছে।আর এই অপ্রাপ্তির কারনেই  আজ একটা সত্যের কিনারায় সে এসে দাঁড়িয়েছে। যতই শায়লাকে বন্ধুত্বের সম্পর্কে রাখতে চাইছে কিন্তু
ভাললাগা ভালবাসার অপ্রতিরোধ্য স্রোত  যেন দুজনকে ভাসিয়ে নিচ্ছে দূর দূরান্তে।
রাহাত বলে উঠল, ভাইয়া কি কিছু ভাবছেন ?
শিহাব বেশ স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে জানালো হ্যাঁ শায়লা আর আমার কথা ভাবছি। রাহাত তুমি নিশ্চয়ই আমার অতীতটা জেনেছো।আর তা নিয়ে বহুদিন একটা সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম। জীবনে আর কাউকে আপন করবো না ভেবেরেখেছিলাম। কিন্তু শায়লা আমায় একেবারে বদলে দিল।
রাহাত কথা প্রসঙ্গে বললো,আপুর কানাডার যাওয়ার ব্যাপারে তবে কি আমরা আর আগাবো নাকি অন্যকিছু ভাববো?
সে সিদ্ধান্ত শায়লার।
তবে আমি স্পষ্টই জানিয়ে দিচ্ছি  শায়লা আমায় আপন করলে আমার দিক থেকে সম্পূর্ণ সম্মতি থাকবে।চাইলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আমি শায়লাকে বিয়ে করতে কোন আপত্তি থাকবে না।
রাহাত এত কথার পরেও কেমন যেনো আশ্বস্ত হতে পারছে না। যদি পরে শিহাব মত পাল্টে ফেলে তবে তো আপুর দুই দিকই হারিয়ে যাবে !
নাহ,রাহাত আর কিছু ভাবতে পারছে না। যেখানে আপু একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তির স্ত্রী তার কাছে থেকে ছাড়া পাওয়া কি এতই সহজ হবে ? তবুও রাহাত আপুকে সুখী দেখতে চায়। তবে কি কানাডায় নোমান সাহেবকে আপুর ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিবো ? কেমন করে বা কোন যুক্তিতে সে ডিভোর্স দিবে? তবুও রাহাতের এই ভেবেই ভালো লাগছে যে,শিহাব ভাইয়া কোন ভনিতা না করে স্পষ্ট করেই বলেছে,,যেখানে দুজনার মাঝে এতটাই  বোঝাপড়া সেখানে আপুর চেয়ে প্রায় পনের বছরের বড়  দুই সন্তানের পিতাকে কী গ্রহন করা যায়? একবার যে ভুল হয়েছে তা আর এগুতে দিবে না রাহাত। তাইতো সিদ্ধান্ত হলো শায়লা নোমান সাহেবকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিবে। আবার পরক্ষণেই রাহাত উৎকন্ঠিত হয়ে উঠলো,, একজনের মুখের কথায় এরকম একটা সিদ্ধান্ত নেয়া কী ঠিক হবে? রাহাত দ্বিধা দ্বন্দের মাঝে ফোন থেকে বিদায় চেয়ে নিলো।অপরপ্রান্তে মনের সব কথা খুলে বলতে পারাতে শিহাবের নিজেকেও বেশ হালকা লাগছে।


চলবে...

শান্তা কামালী/৪৮ তম পর্ব




বনফুল
(৪৮ তম পর্ব ) 
শান্তা কামালী

পলাশের ফোন পেয়ে বাবা-মা দুজনেই অনেকটা স্বস্তি পেলেন।  মনে মনে ওয়াজেদ সাহেবর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। ওনার সহযোগিতা না থাকলে পলাশ কখনোই বিদেশ থেকে 
এম বি এ করতে পরতো কি না সন্দেহ ছিলো? 
ওদিকে অহনা অস্থির হয়ে আছে, সৈকত ঠিক ভাবে বাড়িতে  গিয়ে পৌঁছোল কিনা। ঘড়িতে তখন  চারটা বাজে অপেক্ষা করেছিলো অহনা। ফোনটা বেজে উঠল, অহনা ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে সৈকত বললো জানি তুমি চিন্তা করছো।অহনা জিজ্ঞেস করল তুমি খেয়েছে?  
সৈকত বললো বাসায় পৌঁছে শাওয়ার সেরে ডিনার  করে তবেই তোমাকে ফোন দিয়েছি। অহনা বললো তুমি চলে যাওয়ায় খুব খারাপ লাগছে.... ডিয়ার। 
সৈকত বললো তুমি এই কথা বলছো,আমি তো এক সপ্তাহ পারেই আসছি।  একবার জুঁইয়ের কথা চিন্তা করে দেখতো বেচারি জুঁইয়ের মনের কি অবস্থা......?
সাথে সাথে অহনা বললো স্যরি আমি ওভাবে চিন্তা করিনি! অহনা বললো আমি এখন রাখছি তোমার সাথে পারে কথা হবে, এখন জুঁইকে ফোন  দেব।
সৈকত বললো তাই করো। অহনা জুঁইকে ফোন দিয়ে বলছে কেমন আছিস জুঁই ?  উত্তরে জুঁই বললো সব ঠিক আছে, শরীরটা বেশ দুর্বল লাগে।
অহনা বললো লাগবেই তো তোর উপর দিয়ে কতো ঝড় বয়ে গেল। যা-ই হোক সাবধানে থাকিস, মানসিক চাপও তো একটা বিষয়, আমি সময় করে দু-এক দিনের মধ্যে তোর বাড়িতে আসব,রাখছি ভালো থাকিস।

 হঠাৎ করে অন্য দেশে গিয়ে পলাশের মনটাও খুব একটা ভালো নেই, কিছু দিন সময় লাগবে এডজাস্ট করতে...। 
জুঁইয়ের শরীর পুরোপুরি সুস্থ না। তখন জুঁইয়ের ঘড়িতে এগারোটা বেজে গেল, ডিনার শেষ করে মাত্র নিজের এসেছে, তখনই পলাশের ফোন কল এলো।রিসিভ করতে ওপাশ থেকে পলাশের কণ্ঠস্বর শুনে জুঁই অনেকটাই সতেজ হয়ে উঠলো.....  পলাশ বললো জুঁই তুমি কেমন আছো?  
তুমি জানো না তোমাকে ছাড়া তোমার জুঁই কেমন থাকবে?  পলাশ বললো জুঁই সব জানি কিন্তু আমি তো তখনই বলেছিলাম দেশেই কোনো ভর্সিটি থেকে এম বি এ করে নেবো,তখন তুমিই তো জোর করলে! এখন তোমার যদি এতো মন খারাপ হয় আমি কি করে থাকব, তুমিই বলো?  জুঁই প্রসঙ্গ বদলে বলল তুমি কিছু খেয়েছো? 
পলাশ হুম খেয়েছি, জুঁই তুমি খেয়েছো এইমাত্র খেয়ে রুমে ঢুকেছি তোমার ফোন এলো। পলাশ বললো জুঁই এখন তোমার শরীর কেমন আছে? ঠিক আছে তবে একটু দুর্বল লাগে। 
লক্ষীটি এখন শুয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করো, আমি যখনি সময় পাবো তোমাকে ফোন করবো সুইট হার্ট।গুডনাইট বলে ফোন কেটে দিলো পলাশ।


চলবে...

সেলিম সেখ





বড়দিন




বছর শেষে আসলো রে ভাই
খুশির এই বড়দিন,
তাইতো সবাই নেচে গেয়ে
করছি তা ধিন ধিন।

রাস্তার ধারে দেখি আজ
বসেছে কত দোকান,
সারি সারি রেখেছে কেক
বাজছে খুশির গান।

আমার শহর সেজেছে আজ
বড়দিন বলে তাই,
তাই তো মোদের মন যে আজ
খুশির গীত গাই।

বড়দিনে বন্ধুরা সকলে
দিচ্ছে সুদূর পাড়ি,
নদীর ধারে করবে রান্না
নিয়েছে সঙ্গে তাই হাঁড়ি।

খুশির এই বড়দিন
কাটুক সবার ভালো,
সকল বিভেদ ভুলে গিয়ে
খুশির প্রদীপ জ্বালো।