২৪ অক্টোবর ২০২১

সুবর্ণ রায়




মৃত্যুহীন 
 

বেঁচে আছো কিনা তাও জানি না!

কোনও নাম নেই তোমার—
তোমার ভাবনাকে আমি নাম দিই অবেলায়

কোনও ছবি নেই তোমার—
তোমার ঠিকানা আমি নিত্য লিখি কবিতায়

কোনও স্পর্শ নেই তোমার—
তোমার স্পর্শ আমি ছুঁয়ে থাকি কেয়াপাতায়

তুমি বেঁচে আছো কিনা জানি না,
মৃত্যুহীন হয়ে আছো জানি
এই অর্বাচীন প্রগলভ ভণিতায়…

গোলাম কবির




বাঙালির হৃদয় ভাঙার গল্প 


 এই হৃদয়ের চেয়ে বড়ো মন্দির, মসজিদ, 
 কাবা যদি না থাকে কোনো নজরুলের
 লিখার মাধ্যমে যা পাই , তা যদি 
 বিশ্বাস করি বা করো সে কথা,
 তবে বলবো -
 হৃদয় তো ভেঙে গেছে কবেই, 
সেই ১৯৪৭ এর দেশ ভাঙা থেকেই! 
 যখন আমার পূর্ববাংলা ছেড়ে হিন্দু ধর্মের
 লোক হবার অপরাধে সুনীল, শীর্ষেন্দু,
 সত্যজিৎ, অমর্ত্য সেনরা রাতের আঁধারে
 কাউকে কিছু না বলে চলে যায় 
ওপার বাংলায় রিফিউজি অথবা বাঙ্গাল
 নামের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার কপাল নিয়ে!
 এমনিভাবেই ওপার বাংলা হতেও 
 যাঁরা এসেছিলো একই করুণ নাটকের 
 পশ্চিম বাংলা ভার্সনের বাস্তবায়নে
 মুসলিম গণ তাঁরাও এখানে এসে
 একইভাবে ঘটি নামে কাটিয়ে দিলো 
 জীবন আজ হবে পঁচাত্তর বছর প্রায়! 
 দেশ ভাঙা সর্বস্ব হারা বাঙালিদের মতো 
 এরকমভাবে হৃদয় পৃথিবীর আর 
 কোনো জাতির ভেঙে ছিলো কিনা 
 আমি জানিনা তা। 
 এখনো সেই হৃদয় ভাঙার পাঁয়তারা 
 চলছে হরদম দুইপারেই 
 শোনা যায় যখন তখন!
যাঁরা এসেছিলো এবং যাঁরা চলে গেলো
তাঁদের যদি না দেখা পাও, 
তো ওদের উত্তরপুরুষের কাউকে 
জিজ্ঞাসা করে দ্যাখো, 
বলো তাকে - তোমার ক্ষত কি শুকিয়েছে 
নাকি তা আরো দগদগে ঘা'র মতো হলো!

রোজী খান




উত্তপ্ত পারদ
 

তোমার অবহেলার উত্তপ্ত পারদে
অঙ্গার হোক আমার পৃথিবী 
তোমার দেওয়া এক ঝাঁক কষ্টে 
হৃদয় চিরে বৃষ্টি ঝরুক,
আমার প্রতি উদাসীনতায়
সৃষ্টি হোক তোমার
নতুন কবিতার ছন্দ,
পৃথিবী কবিতাময় হোক তোমার 
রচিত মহাকাব্যে।
লিখতে বলবো না আর
কখনো আমাকে নিয়ে কাব্য;
প্রফুল্ল থেকো বন্ধুর আড্ডায় 
আর বইমেলার ফটোসেশনে 
বায়না ধরবো না আর 
কখনো ছবির মহড়ার অংশ হতে,
চাইবো না আর গোলাপের 
পরশে ভালোবাসায় সিক্ত
হয়ে জন্মতিথি স্মরণে ,
রয়ে যাব তবু দুরাশার ধরণীতে
অতৃপ্ত ভালোবাসার টানে,
ইচ্ছে গুলো দিয়ে দিলাম তাই 
আমৃত্যু নির্বাসনে,
তুমিহীন বিনিদ্র রাত্রিগুলো 
তোমার আঘাতেই বিদগ্ধ হোক,
অনুরাগের সুর তুলে 
মেঘবালিকার সকাল হোক,
নিস্তব্ধ নিথর জনমানবহীন
মন কেমন করা বিকেল হোক,
অভিমানে এক আকাশ ভেসে
যাওয়া মেঘের ভেলায়
বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যা হোক।
তারপর শ্রাবণের বাদল দিনে 
শত সহস্র অভিমান বুকে জমা নিয়ে 
আলোকহীন বিষন্ন মলিন হৃদয়ে 
জলভরা চোখে এক পৃথিবী
স্বপ্ন নিয়ে অপেক্ষা করব
বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় ,
তুমি ফিরবে নকশী কাঁথার 
মাঠে বর্ষণভরা নয়নে 
সেইদিন আবারো বৃষ্টি হবে 
বর্ষণমন্দ্রিত অন্ধকারে  ভাসিয়ে
নিয়ে যাবে শুধুই তোমাকে -আমাকে।

রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়" ১৬

চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 





উদাসী মেঘের ডানায় 
                                                  (পর্ব ১৬)


                                            শুক্রবার বেশ আয়োজন করেই ময়নার বিয়ে দিলো
ছাদের রুমটি সুন্দর করে সব কিছু দিয়ে তৃষ্ণা ঘুছিয়ে
রেখেছিলো। ময়নার মা চার বছরেরে ময়না কে নিয়ে
ওদের বাড়িতে এসেছিলো, ময়নার বাবা আর একটি
বিয়ে,করে ওদের রেখে পালিয়ে গিয়েছিলে। সেই চার বছরের মেয়ে আজ বড় হয়ে নিজের পছন্দমত বিয়ে
করলো।ময়নার মা খুব খুশি ময়না তার কাছেই থাকবে
বিয়ের সাজে ময়নাকে  বেশ সুন্দর লাগছিলো।
বিয়ের কয়দিন পর মজিদের সাথে হাতির ঝিল ঘুরে এসে বললো - আফা হাতির ঝিলে একখান ও হাতি
দেখলাম না, কত মানুষ কত সুন্দর কইরা  মাইয়ারা
সাইজা কালা চশমা পইরা কি যে গল্প করলো হেগোর বন্ধু না সেয়ামী জানিনা খুব ভালা লাগলো।

তৃষ্ণা,-আরে বোকা জায়গারটার নাম হাতিরঝিল।
তোরা কি করলি খুব আনন্দ করলি বুঝি।

ময়না-মুখখানি ম্লান করে বললো তা,করছি।

তৃষ্ণা- মজিদ তোরে খুব ভালোবাসে তাইনারে ময়না?

ময়ন- ভালাবাসে আফা,কিন্ত 
তৃষ্ণ - কিন্ত কি? 
ময়না-সিনেমার লাগাননা।
তৃষ্ণা হো হো করে হেসে উঠলো  হাসি আরা থামছেনা
তৃষ্ণার মা দৌড়ে মেয়ের ঘরে এসে বললো

-কিরে এতো হাসছিস কেন?

তৃষ্ণা - ময়না তুই যা, মা তোমার শুনে কাজ নেই
ময়না বেশ স্বপ্ন দেখতে শিখেছে মা দোয়া করো ও যেনো সুখি হয়।

ময়না আজকাল মজিদ কে নিয়ে ছাদে সুন্দর বাগান
করেছে ফুল ছাড়াও নানান রকম সবজি বাগান ও করছে এই কয়দিন বেশ গিন্নি গিন্নি ভাব এসেছে
ওর ভিতর, মেয়েদের বিয়ে হলে ওরা কেমন বদলে
যায়, স্বামির পছন্দমত রান্না করে রাখে এগুলো নিরবে দেখে তৃষ্ণা শান্তি পায়।
অপু ফোন করেছে আজ কথা বলতে বলতে তৃষ্ণা
কখন ঘুমিয়ে পড়েছে নিজেও জানেনা।
চলবে....

বুশরা হাবিবা





মায়াবতীর সন্ধানে 


কাজলে লেপ্টে থাকা চোখের কোণে যে এক ফোঁটা মায়াও লুকানো থাকে সে কথা তোমার অজানা,
দামী ব্রান্ডের গাঢ় রঙা লিপস্টিকের নিচে ঢাকা পরে যাওয়া  ঠোঁট জোড়ায় যে মায়া লেগে থাকে সে ও তোমার অজানা।
তোমার জন্য শখ করে পড়া নীল শাড়িটার প্রতিটি ভাঁজে যে কতটা মায়া লুকানো থাকে সেটাও তোমার ভীষণ অজানা!
তুমি গল্পে,আড্ডায় নাকি ভীষণ আক্ষেপে বলে বেড়াও- 
 একজন মায়াবতীর খোঁজে তুমি আজও নিরুদ্দেশ!  
অথচ মায়াবতী যখন নিজের মাঝে লুকোনো মায়ার প্রান্তর নিয়ে তোমার সামনে এসে দাঁড়ায় -
তুমি তখন কত সহজে সেই মায়াকে উপেক্ষা করে, 
অন্য কোনও দিকে অন্য কারোও দিকে মনোনিবেশ করে যাও!
যেখানে একবার,শুধুই একটাবার চোখে চোখ রাখলেই তুমি মায়াবতীকে খুঁজে পেতে,
সেখানে তুমি নিরুদ্দেশের মতো এ জগত সংসারে না জানি কোন মায়ার  পেছনে ছুটে চলো! 
যে মায়ার সন্ধানে তুমি মায়াবতীকেই দূরে সরিয়ে দাও,
সেই মায়ার প্রপাত নিয়ে মায়াবতী তোমার অপেক্ষায় আঁচল বিছিয়ে বসেই আছে!
তুমি শুধু একবার পেছন ফিরে মায়াবতী বলে ডেকে দেখো-
হয়তো এক জীবনের ধারণকৃত সবটুকু মায়া সে তোমার চরণতলে বিছিয়ে দেবে নিঃশব্দে! 
তুমি শুধু একটিবার মায়াবতী বলে ডেকেই দেখো।

লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল" ১২

চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শান্তা কামালী'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "বনফুল






                                                    বনফুল 
                                                      ( ১২ তম পর্ব ) 
 

জুঁই বেশ কিছু সময় ছাদে কাটালো, সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো দেখে জুঁই আস্তে আস্তে ছাদ থেকে নেমে এলো। 
মাগরিবের আযান হলো, জুঁইয়ের বাবা-মা নামাজ পড়তে চলে গেল,
জুঁই মোবাইল হাতে নিয়ে ফেসবুকে  ঢুকে কিছু সময় কাটাচ্ছিল তখন ময়না টেবিলে চা নাস্তা পরিবেশন করতে করতে জুঁইয়ের বাবা-মা নামাজ শেষ করে চলে এলে। এক সাথে বসে বাবা-মা মেয়ে চা নাস্তা খেতে খেতে খানিকটা আড্ডা মারলেন, জুঁই বললো এবার আমি উপরে যাচ্ছি পড়া শেষ করতে হবে। এই বলে জুঁই উপরে উঠে গেল,পড়ার টেবিলে বসে ভাবতে লাগলো কি ভাবে বাবা-মাকে পলাশের ব্যাপারটা বলা যায়। সে যাকগে যেভাবেই বলি বলবো, এখন পড়া শেষ করতে হবে, হঠাৎ জুঁই ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো সাড়ে দশটা বাজে, মনে হলো বাবা-মা নিশ্চয়ই আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। তাড়াহুড়ো করে নিচে নেমে এলো, জুঁইকে মা মনোয়ারা বেগম বললেন মা জুঁই আমরা তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। অমনি জুঁই বললো স্যরি মা কখন যে ঘড়িতে সাড়ে দশটা বেজে গেল বুঝতে পারিনি! 
মা বললো চলো এখনই খাওয়া শেষ করে ফেলি তোমার বাবার ঔষধ খেতে হবে সময় মতো। যথারীতি খাওয়া শেষ করে জুঁই উপরে উঠে এসে ফ্রেস হয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে বিছানায় শুয়ে ফোন হাতে নিতেই ফোন বেজে উঠল, আশ্চর্য কি টেলিপ্যাথি পলাশের ফোন! ওপাশ থেকে পলাশের কণ্ঠে কি করছো জুঁই? 
-জুঁই না কিছু না, তোমাকে ফোন দেবো বলে ফোন হাতে নিতেই তোমার ফোন! পলাশ প্রশ্ন করলো তুমি খুশি হওনি?  জুঁই হয়েছি  মানে রীতি মতো ভাবছিলাম আমাদের কি টেলিপ্যাথি.....! 
জুঁই বললো আমি ভাবছিলাম কি করে আমাদের  সম্পর্কটা বাবা-মাকে জানাব।
পলাশ বললী,না জুঁই এখনোও সময় হয়নি,তিনমাস পরে আমার ফাইনাল পরিক্ষা। তার পরে যা বলার বলবে, এখন না।
জুঁই জিজ্ঞেস করল তুমি খেয়েছো উত্তরে হ্যাঁ বললো পলাশ। 
জুঁই তুমি এখন কি করছো?  শুয়ে আছি। তাহলে লক্ষ্মী
মেয়ের মতো ঘুমিয়ে পড়ো।
জুঁই বললো হুম, গুডনাইট সুইট হার্ট। 
পলাশও গুডনাইট বলে ফোন কেটে দিলো।




                                                                                                চলবে...

কাজী ইনাম এর ধারাবাহিক গল্প "একরাত্রি" শেষ পর্ব

এই সময়ের অন্যতম স্বনামধন্য উপন্যাসিক কাজী ইনাম এর চতুর্থ উপন্যাস এর প্রস্তুতি চলছে এখন  একরাত্রি শেষ হলো ধারাবাহিক গল্প ।  "স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকায় " পাঠকদের কাছে অনুরোধ লেখাটি পড়ে লেখক কে উৎসাহ প্রদান করুন আরো ভালো কিছু পাবার আশায়। 





একরাত্রি
             (শেষ পর্ব)
    


                                    ফসার আজ সারাদিন রাবেয়ার ঠোঁটের কোণে একটু হাসি দেখার অপেক্ষায় ছিল। তার মনের অশান্তিটা কমত তা।
আলোটা একটু জ্বালি? রাবেয়া জানে আফসার জেগে আছে।

আলো জ্বালবে কেন? আফসার তটস্থ হয়ে জানতে চায়।
ঘড়ি দেখব।

ঘড়ি দেখতে হবে না।আড়াইটা বাজে।
আমার কিছু কথা আছে।

রাবেয়া বাতি জ্বেলে দিল।আলো তার চোখে লাগছে।অন্ধকারটাই তো ভাল ছিল।সে একবার বাতি নেভানোর কথা ভাবল। নেভাল না।পা তুলে দিয়ে বিছানায় বসল।তাকে দেখে মনে হয় গল্প করতে বসেছে
অথচ সে এসেছে ভীষণ সিরিয়াস কিছু কথা বলতে।কঠিন বক্তব্যের ভূমিকা বুঝি এমনই রসালো হয়।রাবেয়া চুপ করে আছে।যা বলতে এসেছিল আফসারকে দেখার পর আর বলতে পারছে না।ভীষণ অসহায় চোখে আফসার তারই দিকে তাকিয়ে আছে
যেন এই মামলার রায় রাবেয়া তাকে পড়ে শোনাবে।রাবেয়া এই দুর্বল মানুষটির স্বভাবভালো করে জানে
সে যদি এখন তাকে বলে- কাল তোমার কিছুই হবে না।হাসিমুখে বাসায় ফিরবে তুমি- আফসার শান্তিতে ঘুমিয়ে যাবে।কিন্তু এমন কথা রাবেয়া কী করে বলে? যে স্বপ্ন সে নিজে দেখেনা আরেকজনকে তা দেখায় কেমন করে? সে জানে কাল কী হবে।কাল আফসারের ফেরা হবে না।রাবেয়া কিছুই বলল না।বাতি নিভিয়ে শুয়ে পড়ল।সে ঘুমানোর চেষ্টা করছে না। ঘুম ভাঙলেই যে আগামীকাল।
 জগৎসংসারে চিন্তার বাইরের ঘটনাই ঘটে বেশি
সেই সন্ধ্যায় আফসার ফিরে আসে।মামলা থেকে মুক্ত হয়ে ঘরে ফেরেবাসায় তাকে নিয়ে তীব্র উত্তেজনাছেলেমেয়েদের কথা আর শেষই 
হয় না।মরিয়ম তার দরদী মন থেকে অনেক কথা বলল।ছোট্ট কুসুম সেও অবোধ্য ভাষায় তখন থেকে কী যেন বলছে সরব বাড়িটাতে নিশ্চুপ আছে শুধু রাবেয়া।আফসার আসার পর থেকে একটা কথাও সে বলেনি।কেন জানি লজ্জা পাচ্ছে।একটা নির্লজ্জ সুখ আড়াল করতেই সে ক্ষণে ক্ষণে রাঙা হচ্ছে।আফসার তাকে কিছু বলবে তারই অপেক্ষায় আছে।   

২৩ অক্টোবর ২০২১

অলোক দাস




হাওয়া বদল


 বহুক্ষণ অপেক্ষায় ছিলাম ও জানতাম "হবেই দেখা সিন্ধু " । 
 দেখা হয়নি সিন্ধু। 
আজ ভোরে দক্ষিনের দরজা খুলে দেখি - 
চারপাশে ঘাসের ওপরে সারি সারি শিশির বিন্দু।  
আকাশ তো স্থির
 একই জায়গায় যুগ যুগ ধরে I সূর্য একই স্থানে স্থির চিরদিন।  
আমাদের চারপাশে সবই বিদোমান। 
তাই দূরে যাবার প্রয়োজন কেন? 
তবুও আমরা যাই দূরে, একই মাটি ও একই আকাশ।  
শুধু পরিবর্তন, যাকে বলে "হাওয়া বদল "। 
এখন জীবন পাল্টাচ্ছে অতি দ্রুত।
বুঝে নিতে হবে সবকিছু - কারণ আমি আমার মোতো। 

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" ৩০

কান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "


                                    টানাপোড়েন' (পর্ব)

                                                  সেরা জুটি


                                             বমীর দুপুরের খাওয়া -দাওয়ার পর্ব শুরু হয়ে গেল বেলা বারোটা থেকে ,।গ্রামের লোকজন প্রচুর এজন্যই বোধহয়।
মাধুরী,সরজু, সুরঞ্জন ,আশিষ সবাই মিলে বেশ আড্ডা জমিয়েছে। 
কিন্তু শিখার মনের ভেতরে একটা খচখচানি রয়ে গেছে ।কি হলো হঠাৎ কল্যানদার? হঠাৎই কেন অন্য মনস্ক, মনটা যেন মনে হলো ভালো নেই। সেই যে দুজনে একসাথে অষ্টমীর পুজোর পর বেরোলো ।তারপরে বাড়িতে এসে কল্যানদা নিজের রুমে ঢুকলো।শিখা কিছুই বুঝতে পারছে না। জানলার ধারে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শিখা এসবই ভাবছে। মাঝে মাঝে দাদা বৌদিদের হাসি -ঠাট্টা ,মজার কথাগুলো কানে আসছে।
 হঠাৎই বৌদিভাই বলল  'কি ব্যাপার কল্যাণের কি কিছু হয়েছে? দেখতে পাচ্ছি না? '
সবাই এর ওর মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে লাগলো।
মাধু সরজুকে বললো 'ও বৌদি, কল্যান কোথায় গেল।'
সরজু একটু উৎকণ্ঠায় বলল 'তাই তো? এতক্ষণ খেয়াল করি নি। ওই তো শিখা। (শিখার দিকে তাকিয়ে)।  শিখা তোমরা তো একসঙ্গে বেরিয়ে ছিলে ।তা কল্যান কো‌থায়?'
শিখা বলল 'আমি জানি না তো?'
শিখা মনে মনে ভাবলো কি হলো? কেন হলো? কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। 
বৌদি বললো  'দুপুরের খাবার রেডি । চলো সবাই খাবে।'।
মাধু সুরঞ্জনকে বলল  ',যাও । দেখো কল্যান কোথায়? ওকে ডাকো।'
সুরঞ্জন গেলো কল্যাণকে ডাকতে।। সুরঞ্জন দেখল কল্যান নিজের ঘরটাতে শুয়ে আছে। জানলা বন্ধ ।সুরঞ্জন ঢুকেই বলল জানালাগুলো বন্ধ করে শুয়ে আছো কল্যান।শীত করছে? সাড়া না পেয়ে সুরঞ্জন ডাকলো  'কল্যান ,কল্যান খাবে চলো।
কল্যান বলল  'আমি পরে খাবো।'
সুরঞ্জন বললো 'তোমার শরীরটা কি খারাপ?'
কল্যান বলল  ,'মাথাটা একটু ধরেছে।'
সুরঞ্জন বলল ' ঔষধ খেতে হবে তো?'
 কল্যান বললো  'রেস্ট নিলেই হবে। '
সুরঞ্জন বললো 'তাহলে তাই করো।'
খেতে বসে শিখা খেতেই পারলো না।
মাধু বললো  'তোর আবার কি হলো?
শিখা বলল ' আর খেতে ভাল লাগছে না বৌদি ভাই। 'মাধুবৌদি হেসে বলল  'তোর ও  কি মাথা ধরেছে?'
শিখা বুঝতে পারল বৌদি কোন দিকে ইংগিত করতে চাইছে ।শুধু বলল  'না ।এমনি।'
মাধু বলল 'ও তাই বুঝি'?  তোকেও  তো রেস্ট নিতে হবে ,তাই তো? তবে একবার কল্যাণের ঘরে উঁকি দিস। দেখিস ,কি করছে বেচারা ।একটু খবর নিস।'
বৃষ্টি বলল  'পি মনি আমি যাব তোমার সাথে?'
মাধুরী বলল  'যা বৃষ্টি কে নিয়ে যা ওর খাওয়া হয়ে গেছে। আর শোন ওর এই জামাটা চেঞ্জ করে ওকে একটা কটনের জামা পরিয়ে দে।'
বৃষ্টি বলল  'না না আমি জামা চেঞ্জ করবো না।
 মাধুরী বলল  'সব সময জেদ তাই না?'
তখন শিখা বৌদিকে হাতের ইশারায় বুঝিয়ে দিয়ে বৃষ্টিকে নিয়ে গেল আর বলল ' বৃষ্টির এতক্ষণ এই জামা পড়ে থাকলে জামা তো  নষ্ট হয়ে যাবে ।তাহলে তোমাকে তো আর ভালো লাগবে না । তাহলে কি করবে এই জামাটা। এখন খুলে দিতে হবে তাই তো?''
বৃষ্টি মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো।
বৃষ্টিকে জামা চেঞ্জ করিয়ে দিয়ে তারপর  কল্যাণের ঘরের দিকে গেল। ঘরে গিয়ে দেখছে জানলা বন্ধ ,লাইট অফ করে শুয়ে আছেন। প্রথমে দরজায় নক করল কিন্তু কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে বৃষ্টিকে নিয়ে ঢুকলো।
বৃষ্টিকে দিয়ে শিখা ডাকা করালো।
বৃষ্টি বলল 'মামু মামু (একটু ধাক্কা দিয়ে) তোমার কি হয়েছে? খাবে চলো?'
কল্যাণ তাকিয়ে দেখছে শিখা।বলল ' মাথাটা একটু ধরেছে বাবু ।আমি  পরে খাব।'
তখন শিখা বলল ' না ,না। তা কি করে হয় ।আপনি চলুন, খাবেন।
কল্যান বলল  'এখন খাব না শিখা।'
শিখা বললো  'তাহলে কি আপনি ওষুধ খাবেন?  ব্যবস্থা করি।'
কল্যাণ বলল  'না না একটু শুলেই আমার মাথা ঠিক হয়ে যাবে ।একটু বাম লাগাতে পারলে ভালো হতো।
শিখা বললো  'আপনার কাছে আছে?'
কল্যান  বলল ' না, আমার কাছে নেই ।তবে দিদির কাছে পাওয়া যেতে পারে।'
শিখা বৃষ্টিকে বলল ' বৃষ্টি মামীর কাছ থেকে বাম‌ নিয়ে এসো তো।'
বৃষ্টি বলল  'ওকে পিমনি।'
শিখা খাটের পাশটায় বসল। কল্যাণ পাশ ঘুরতে গিয়ে হঠাৎই টাচ হয়ে যায় শিখার সঙ্গে।
 কল্যান বলল  'সরি শিখা।'
শিখা বললো না খেলে কি হয় ,একটু তো খেতেই হবে।
এরই মধ্যে বৃষ্টি এসে বাম ধরিয়ে দিলো পিমনির হাতে।
কল্যান বলল  'আমার হাতে দাও আমি লাগিয়ে  নিচ্ছি।'
বৃষ্টি বলল  'মামু লাগিয়ে দেবো?'
কল্যান হেসে বলল 'আমার ছোট্ট মিষ্টি মা। আমাকে লাগিয়ে দেবে ?আচ্ছা দাও।'
ছোট্ট ছোট্ট হাতে বৃষ্টি বাম লাগাতে লাগলো। তখন শিখা বলল অনেক লাগিয়েছো বৃষ্টি ।দাও আমি লাগিয়ে দিচ্ছি।'
বাম নিয়ে শিখা আলতোভাবে কল্যাণের কপালে লাগাতে গেল। ‌
কল্যাণ বললো ' থাক, শিখা থাক। বৃষ্টি যা লাগিয়েছে ওতেই হবে। শুধু শুধু তুমি কেন কষ্ট করবে?'
শিখা বলল  'বেশি কথা বলবেন না তো? আপনাকে কে বলেছে যে আমার কষ্ট হবে‌ ?নাকি ,আপনি.জ্যোতিষী। সব বুঝতে পারেন?'
কল্যান কোন কথা খুঁজে পেল না। চুপ করে থাকলো।
শিখার হাতের বাম লাগাতে শিখার হাতের  স্পর্শে কল্যাণ বারবার শিহরিত হতে লাগলো। ভেতরে যেন একটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলএবং সেজন্যেই কল্যান শিখার হাত দুটো ধরল। কিন্তু কোন ভাষা খুঁজে পেল না। 
শিখা বলল  'কিছু বলবেন?'
কল্যান এবার লজ্জা পেয়ে গেল ,বলল  'না। ঠিক আছে আর লাগাতে হবে না ।এতেই হবে।'
 কল্যাণের হৃদস্পন্দন হাতুড়ির মত তার বুকে আঘাত করতে লাগলো। শরীরের ভেতর তপ্ত রক্তস্রোত তখন ও  বয়ে চলেছে, যেকোনো সময় অঘটন ঘটে যেতে পারে।
কিন্তু আজ একি হলো কল্যাণের? 
কল্যান বলল 'শিখা তুমি এবার এসো। আমি একটু বিশ্রাম নিই।'
শিখা সম্মতি জানিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো।
এরই মধ্যে সরজুদি তখন খাবার নিয়ে ঢুকলো কল্যাণের ঘরে। 
সরজু বলল  'কিরে ঠিক আছিস?'
কল্যান বলল  'হ্যাঁ দিদি।'
সরজু বলল  'তাহলে খেয়ে নে। আর বলল শোন আমি জানি কেন তুমি হঠাৎ করে এরকম ঘরে শুয়ে পড়লে। দেখ পুরনো স্মৃতি  ধরে বসে থাকলে তো আর জীবন চলে না। বর্তমানকে নিয়ে ভাবো।'
কল্যাণ উঠে বসল এবং বলল  'সেটাই তো চেষ্টা করছি দিদি।'
সরজু বলল ' নবমী দশমী দুটো দিন খুব ভালো করে কাটা।এখনি ওঠ ।'
'কল্যান মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
সরজু কল্যানের মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেল।
দুপুর গড়িয়ে বিকেলে সোনালী রোদ্দুর তখন ম্রিয়মান। বুকের ভেতরে জমানো কষ্টের পাহাড় মোচড় দিচ্ছে বারবার। আস্তে আস্তে সন্ধ্যা নামছে, পুজো মন্ডপে ঢাক বেজে উঠলো। তখনই হঠাৎ 'যেভাবেই তুমি সকাল দেখো ,সূর্য কিন্তু একটাই। যত ভাগেই ভাগ করো না প্রেম।হৃদয় কিন্তু একটাই.. প্রতিবার  প্রেমে নতুন জনম ,জীবন কি করে একটাই। ' গান কানে আসল। কল্যাণ মনোযোগের সঙ্গে শুনল। সত্যিই শিখা অপূর্ব ‌গায়।
মেয়েটার ভেতরে কোয়ালিটি আছে।
এরইমধ্যে মাধরীর গলা শুনতে পেলো শিখাকে বলছে 'তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে। '
শিখা বলছে 'বৌদি ভাই আজকে আর আমি পুজো মণ্ডপে যাব না।'
মাধু বলল 'কেন রে তোর আবার কি হলো?'
কল্যান সব শুনতে পাচ্ছে। 'শিখার আবার কি হলো?'
মাধু বৌদি বলছে তোর তো দেখতে পাচ্ছি আজ দুপুর থেকেই মুড অফ ।কেন, কি কারণে কিছু বুঝতে পারছি না ।যাই একবার কল্যাণের ঘরে যাই দেখি ওর কি খবর।
কল্যান কথাটি শুনতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ওয়াশরুমে গেল ।মাধু দরজা নক্ করল। কল্যান ভেতরে আসতে পারি। বাথরুম থেকে আওয়াজ দিল বৌদি আমি বাথরুমে আছি। 
মাধুরী বলল 'ঠিক আছে তুমি রেডি হচ্ছো তো ? বেরোবে তো? এখন শরীর ঠিক আছে?'
কল্যান বলল  'হ্যাঁ বৌদি ।বেরোবো ।ঠিক আছি।'
মাধু বলল ঠিক আছে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও।
অন্যদিকে শিখা সারাক্ষণ ভেবে যেতে লাগলো।কল্যানদার কি হয়েছে?
 কল্যাণ পূজামণ্ডপে চলে গেল কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখতে পেল শিখা  তখনও পুজোমণ্ডপে আসে নি।'
মাধু বৃষ্টিকে বলল 'বৃষ্টি যা তো পিমনিকে গিয়ে বল সবাই পূজামণ্ডপে এসেছে। পিমনিকে নিয়ে চলে আয়।'
বৃষ্টি তো নাচতে নাচতে চলে গেল।
 বৃষ্টি বলল  'পিমনি চলো ।সবাই তোমার জন্য ওয়েট করছে। '
 শিখা বৃষ্টিকে কায়দা করে জিজ্ঞেস করলো ' কে কে এসেছে রে? বৃষ্টি তো একে একে সবার নাম বলতে শুরু করল ,সঙ্গে যখন কল্যাণের কথাটা আসলো ।তখন শিখার মনে একটা আলাদা উত্তেজনা সৃষ্টি হল।
এবার শিখা বলল  'যা বৃষ্টি তোকে আর   অত লিস্ট শোনাতে হবে না ।আমি যাচ্ছি।'
বৃষ্টি বলল  'ঠিক আছে। তুমি তাড়াতাড়ি এসো।'
শিখা বললো' হ্যাঁ। আমার মা। আমি ঠিক তাড়াতাড়ি চলে যাব।'
শিখা' আজ লাল কালো ঢাকাই জামদানি শাড়ি পরে মন্ডপে ঢুকতেই আশুদা বলল'শিখা তুমি ছাড়া মন্ডপ টা যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগছিলো।এখন পরিপূর্ণতা পেল।'
শিখা বলল ' কি যে ,বলেন না আপনি?'
আশুদা বলল  'মন্ডপে যারা উপস্থিত( সকলের দিকে তাকিয়ে )জিজ্ঞেস করে দেখো, আমি যদি মিথ্যা কথা বলে থাকি।
তখন কল্যান  বলল 'একদম ঠিক।'
শিখার চোখ মুখ যেন লাজে রাঙা হয়ে উঠল।
তারপর শিখা বলল 'আজকে আমি কি করবো?'
আশুদা বলল ' কিছুই না। শুধু মন্ডপের শোভাবর্ধন করো আর মাকে দর্শন করো, পুজো দেখো ।আনন্দ করো'
কল্যাণ বলল  ঢাকি ভাইয়ের দিকে এগিয়ে ' ভাই একটু ঢাকের কাঠিটা একটু দাও তো?'
সবার নজর তখন কল্যাণের দিকে
আশুদা অবাক হয়ে বলল 'তুমি ঢাক ও বাজাতে পারো।'
কল্যান বলল ' চেষ্টা করে দেখছি মাত্র।'
কল্যান ঢাক বাজাতে লাগলো। সকলে তন্ময় হয়ে গেল।ইতিমধ্যে পুজো শেষ হলো।
এবার নবমীর রাতের খেলা শুরু হলো। অভিনব খেলা সেরা জুটি নির্বাচন। সবাই বললো আশুদাকে এ আবার কি  খেলা? জুটি নির্বাচন মানে? আমাদের তো জুটি আছে ।যাদের জুটি নেই ,তারাই কি জুটি নির্বাচন করবে?'
আশুদা বলল ' ওয়েট ওয়েট'। যারা যে বিষয়ে পারদর্শী ।ধরো গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, ঢাক বাজানো, তারা সেই ভাবে তাদের জুটি নির্বাচন করে নেবেন। এবং যারা সেই বিষয়ে সফলতা লাভ করবে তারা হবে সেরার সেরা জুটি এবং তাদের জন্য পুরষ্কার ও থাকবে। '
সুরঞ্জন বলল  'আমরা তো আবার সহধর্মিনী ছাড়া অন্য জুটির কাছে যেতেও পারবো না ।তাহলেই তো গন্ডগোল( মাধুর দিকে তাকিয়ে হেসে।)
আমরা যে জুটি আছি সেই জুটি থাকি ।দেখি কি করতে পারি। অন্যদিকে সরজূ -আশিষ জুটি, এইভাবে যে যার জুটি নির্বাচন করে নিল। কল্যান আর শিখা পরল ধন্দে। 
আশুদা বলল 'কল্যান ও শিখা তোমরা জুটি। তোমরা বাদ আছো। বাকি সকলের জুটি নির্বাচন হয়ে গেছে।'অন্যান্যরা শিখা ও কল্যান পরস্পর ,পরস্পরের মুখের দিকে তাকালো ।কল্যাণের প্রসন্ন দৃষ্টি শিখাকে মুগ্ধ করল। শুরু হলো গানের লড়াই।সকলের গানের শেষে শিখা ও কল্যানের গান। 'কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে। তোমারে দেখিতে দেয় না। ..মোহমেঘে তোমারে দেখিতে দেয় না।মাঝে মাঝে তব দেখা পাই। চিরদিন কেন  পাই না। ..।'
সত্যি খুব সুন্দর দু'জনে গান করল পুজো মণ্ডপ সকলে মোহাবিষ্ট হয়ে গেল। সেরা জুটি হিসেবে নির্বাচিত হ'ল শিখাও কল্যান। শিখা কল্যাণের দিকে তাকাল ।কল্যাণ প্রসন্ন দৃষ্টিতে শিখার দিকে ,যেন চোখে তাদের অনেক কথা হয়ে গেল।'মনে হল মাঝে মাঝে দেখা নয়, চিরদিনের জন্যই দেখা পেতে চায়। আশুদা বলে উঠলো ' তোমরা তো ফাটিয়ে দিয়েছো ভাই ।বাস্তব জীবনে কি তোমরা সেরা জুটি হবে? তাহলে আগাম আমাদের শুভেচ্ছা ,শুভকামনা রইল তোমাদের জন্য।'




ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" ৩০ক্রমশ

শুরু হলো কাজী ইনাম এর ধারাবাহিক গল্প "একরাত্রি" ২য় পর্ব

এই সময়ের অন্যতম স্বনামধন্য উপন্যাসিক কাজী ইনাম এর চতুর্থ উপন্যাস এর প্রস্তুতি চলছে এখন  একরাত্রি শুরু হলো ধারাবাহিক গল্প ।  "স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকায় " পাঠকদের কাছে অনুরোধ লেখাটি পড়ে লেখক কে উৎসাহ প্রদান করুন আরো ভালো কিছু পাবার আশায়। 
 





                                                                            একরাত্রি
                                                                                   (য় পর্ব )


                                                বিচ্ছেদ মৃত্যুতেও সে ভারি অবিকার থাকতে পারে ।     
  আরিফ আর সপ্নাকে পড়তে বসা নিয়ে সারাদিনে রাবেয়া একটা কথাও বলেনি। অন্যদিন তারা রাবেয়াকে ব্যতিব্যাস্ত রাখে। লেখাপড়া শিখে ছেলেমেয়েরা একদিন অনেক বড় হবে এমন কোনো স্বপ্ন রাবেয়ার নেই। তারপরও পড়ার টেবিলে তাদের না দেখলে কেমন অস্থির লাগে। ছেলেমেয়েদের পিছে দৌড়াতে গিয়ে সে তার যৌবনচিত কমনীয়তা আর কন্ঠের মাধুর্য অনেকখানি হারিয়েছে। রাবেয়ার তাতে আফসোস  নেই। সংসারসমুদ্রে সে পড়েছে । এখানে কত লক্ষ্মীই তো প্রতিদিন প্রতিনিয়ত তাদের রূপ-লাবন্য জলাঞ্জলি দেয়।  রাবেয়া না ফিরে  তাকালেও আরিফ আর সপ্না আজ পড়ার টেবিলে বসেই দিন পার করেছে। এই যে এখন এত রাত, তারা কিন্তু পড়ার টেবিলে। রাবেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। মার মলিন মুখখানাই দেখার জন্য অধীর হয়ে আছে। রাবেয়া না বলা পর্যন্ত তারা বিছানায় যাবেনা।    
    ঘরে উঁকি দিল রাবেয়া। আরিফ আর সপ্না যে যার টেবিলে। দুজনেই বেশ মনোযোগী। পড়া থেকে চোখ উঠাচ্ছে না কেউ। তাদের দিকে চেয়ে রাবেয়ার এত মায়া লাগছে। আজ সারাদিন কোনো খবর নেওয়া হয়নি। অবহেলায় বেড়ে ওঠা চারার মতই লাগছে এখন তাদের। আফসার না থাকলে তাদের কী হবে তার একটা ছবি কি আগেভাগেই আঁকা হয়ে গেছে? রাবেয়ায় বুক ব্যথায় ভরে ওঠে। সে মনে মনে ঠিক করে ফেলল আর কোনোদিন তাদের রাগ করবে না। মমতার ছায়াতলে রেখে দেবে বটবৃক্ষ হয়ে।   
    আজ ঘুমাও নি কেন বাবা? বলে রাবেয়া আরিফের হাতটা ধরে। ঠান্ডা হাত। রাবেয়া আজ এই প্রথম একটা শীতল স্পর্শ পেল।
       কাল বাবার সাথে কি আমরাও যাব মা?
       না। শুধু তোমার বাবাই যাবে। কোর্টে বাচ্চাদের যেতে নেই।
       কেন যেতে নেই?
       জানিনা। বলে রাবেয়া কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর বলে, শোন বাবা। তোমাদের একটা কথা আগে থেকেই বলে রাখি। তোমাদের বাবা কাল নাও ফিরতে পারে। কাল কেন, হয়ত অনেকদিন ফিরবে না। এই সময়টা তোমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। বাবার জন্য বাসায় কোনোরকম কান্নাকাটি হোক আমি তা চাই না। তোমাদের সাথে তোমাদের মা আছে এটাও কিন্তু মনে রাখা উচিত।
     ওপাশ থেকে স্বপ্না বলে, বাবার কি ফাঁসি হবে?
     না মা। তা কেন হবে? রাবেয়া ত্বরিত জবাব দেয়। বুক তার ধ্বক করে করে ওঠে। সপ্না যেন সব জেনে বুঝে বলেছে।
     ভাইয়া বলেছে বাবার ফাঁসি হবে। যারা কোর্টে যায় তাদের ফাঁসি হয়।
   এত দুঃখের মাঝেও রাবেয়া না হেসে পারল না। শিশুদের মাঝে থাকার মতো আনন্দের বোধহয় আর কিছুই নেই। তার হঠাৎ মনে হলো এই কঠিন সময়টা সে খারাপ থাকবে না। একটা অকারণ সুখ অনুভব করে রাবেয়া বলে, তোমার বাবাকে তাহলে কাল কোর্টে যেতেই দেবনা। লুকিয়ে রাখব। কোথায় লুকানো যায় বলত।
    সপ্না দৌড়ে এসে রাবেয়াকে জড়িয়ে ধরে। মা, আমার টেবিলের পেছনে একটা জায়গা আছে। বাবাকে   সেখানে লুকিয়ে রেখো। পরশুদিন আমি ওখানে লুকিয়েছিলাম। ভাইয়া আমাকে খুঁজে পায়নি।
 
  কুসুম ঘুমিয়েছে। পাশেই আফসার শুয়ে আছে। সে জেগে আছে। রাবেয়াকে আসতে দেখেই চোখ বন্ধ করল। সে যে ঘুমিয়ে গেছে রাবেয়াকে তা বুঝতে দেওয়া। যদিও অন্ধকার ঘরে রাবেয়ার তা দেখতে পাওয়ার কথা না। রাবেয়া আজ সারাদিন একটিবারের জন্যও তার মুখের দিকে তাকায় নি। এই মেয়েটা অভিনয় জানে না। আফসারের কথা ভেবে অন্তত স্বাভাবিক থাকার ভান করা যেত। অন্য কেউ হলে তাই করত। রাবেয়া করল না। অথচ এর প্রয়োজন আছে।

রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়"১৫

 চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 






                                                                     উদাসী মেঘের ডানায় 
                                                                                               (পর্ব ১৫)


রাত প্রায় দশটা,বাজে তৃষ্ণা ডিনার সেরে বারান্দায়
এসে বসলো,আকাশে হালকা মেঘ, ঝাপসা হয়নি
রাতের আকাশের তারার ঝিলিমিলি স্পষ্ট নয়
হয়তো কোথাও চাঁদ উঠেছে তবুও হালকা আলোর
আভাস মন জুড়ে ছড়িয়ে আছে।
ফোনটা বেজে উঠলো
তৃষ্ণা-অপু দেরি করলে যে?
অপু- অভিমান হয়েছে বুঝি?
তৃষ্ণা- আমার বয়েই গেছে। চিন্তা হয় দিনকাল ভালোনা তাই।
অপু- যাক তাহলে চিন্তা করো খুশি হলাম,সহজে তো
কিছু বলোনা, পেট খালি হবার ভয়ে।
তৃষ্ণা-ভালো হচ্ছেনা অপু ফোন রেখে দিবো কিন্ত।
অপু- মোনালিসা রাগ করতে হয়না। বাসায় বড় চাচা
এসছিলো ডিনার করে গেলো একটু আগে।
তৃষ্ণা-আমি কি,কৈফিয়ত চেয়েছি।
অপু- আাকাশের,মতন তুমিও আজ হালকা মেঘলা হয়ে আছো একটা গান গাও,মন,ভালো হয়ে যাবে।
তৃষ্ণা-না গাইবোনা আজ গান।
অপু - প্লিজ, প্লিজ তৃষ্ণা একটা রবীন্দ্র সংগীত খুব
শুনতে ইচ্ছে হচ্ছে, গাওনা।

আমারে ডাক দিলো কে ভিতর পানে
ওরা যে ডাকতে জানে
আশ্বিনে ওই শিউলি শাখে মৌমাছিরে
যেমন ডাকে
ঘরছাড়া আজ ঘর পেলো যে
হাওয়ায় হাওয়ায় কেমন করে
খবর যে তার পৌচ্ছুলেরে
ঘরছাড়া ওই মেঘের টানে।

অপু মন দিয়ে শুনলো কিছুটা সময় দুজনায় নিরব
নিরবতা ভেঙে অপু বললো--
-রবীন্দ্র সংগীতটা শুনে আজ আবারও নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা পেলাম মোনালিসা।

তৃষ্ণা-তুমিতো ছায়ানটের ছাত্র ছিলে আজ তুমি একটা
গান গাওনা।

অপু- অবশ্যই গাইবো আমার স্বপ্নের গানটি আজও গাওয়া হয়ে ওঠেনি,বিশেষ দিনে বিশেষ সময় ঠিক
গাইবো।
আমাদের বন্দি থাকা স্বপ্নরা নানান রঙের কষ্ট ক্লান্তি
একাকীত্বের যন্ত্রণা  যা কিছু আছে সব যখন
ছুঁড়ে ফেলেছি  নতুন করে বাঁচতে চাই শুধু তোমাকে
 নিয়েই। বাঁচাতে চাই তোমার দুঃস্বপ্ন গুলো জলে ভাসিয়ে একসাথে।

তৃষ্ণা-রাত সাড়ে বারোটা বাজে সকালে অফিস আছে
ঘুমাতে যাও।

অপু -যাচ্ছি গো যাচ্ছি বড্ড বিরক্ত করো তুমি।

-আমি আবার কখন বিরক্ত করলাম

-করো তুমি জানোনা,একদম ঘুমাতে দাওনা।

তৃষ্ণা-থাক আর মায়ায় জড়াতে হবেনা ঘুমাতে যাও।
শুভরাত্রি 
শুভরাত্রি



                                                                                                                          চলবে......

লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল" ১১ তম পর্ব

চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শান্তা কামালী'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "বনফুল" 






                                                বনফুল 
                                                                                                   ১১ তম পর্ব    


                                                 গাছের ছায়ায় বসে বেশ খানিকটা সময় গল্প করে কাটলো দুজনের.. …  
জুঁই বললো এবার চলো ক্লাস শুরু হতে আর বেশি সময় বাকি নেই। 
দুজনেই উঠে পাশাপাশি হেঁটে সিঁড়ি দিয়ে উপরে গেলো।পলাশ চলে গেল তিনতলায়, আর জুঁই দোতালাতেই থেকে গেলো। জুঁইয়ের ক্লাস রুম দোতলায়। দুজনেই প্রায় একই টাইমে নেমে এলো, জুঁই হাঁটতে হাঁটতে ড্রাইভারকে গাড়ি গেটের সামনে নিয়ে আসতে বললো, পলাশকে বললো আমি তোমাকে পৌঁছে দিয়ে যাব।দুজনেই গাড়িতে উঠে বসলো।
টুকটাক কথাবার্তা হলো দুজনের মধ্যে। এজিবি পয়েন্ট এসে গাড়ি থামতেই পলাশ নেমে হাত নাড়িয়ে বিদায় জানালো।
বাসায় পৌঁছাতে ঘড়িতে আড়াইটা বেজে গেল। হাতমুখ ধুয়ে কিছু সময় মা বাবার সাথে গল্প করতে চাইলো বাবা বললেন চলো খেতে খেতে কথা বলা যাবে। এই বলে তিনজনই ডাইনিং টেবিলে বসলো, ময়না খাবার পরিবেশন করছে, জুঁই খেতে খেতে  বাবা-মার সাথে চুটিয়ে গল্প করলো। খাওয়া শেষ করে বেসিনে হাতমুখ ধুয়ে জুঁই উপরে উঠে গেলো,রুমে ঢুকে ড্রেস চেঞ্জ করে বিছানায় শুয়ে পলাশকে নিয়ে ভাবতে লাগলো। জুঁই ফোন হাতে নিয়ে পলাশকে ফোন করলো। পলাশ জুঁই ফোন দিচ্ছি দেখে একটু আশ্চর্য হলো!  এইতো কিছুক্ষণ আগে মাত্র বাসায় গেলো এখনই ফোন! পলাশে একটু চিন্তায় পড়ে গেলো। ওপাশ থেকে জুঁই বললো খাওয়া হয়েছে?।
পলাশ বললো, হুম  হয়েছে, তুমি খেয়েছো? 
হ্যাঁ  খেয়েছি।
-কি করছো এখন?  
- শুয়ে আছি, 
-তাহলে ঘুমাতে চেষ্টা করো, জুঁই পলাশকে বললো তুমি এখন  কিরবে?
উত্তরে পলাশ বললো আমার এক্ষুনি  টিউশনে যেতে হবে। জুঁই বললো আচ্ছা যাও আমি রাখাছি...। 
জুঁই ঘুমিয়ে পড়েছে ,পাঁচটা বাজতেই জুঁইয়ের ঘুম ভাঙ্গলো, চোখে মুখে একটু পানি দিয়ে  ছাদে উঠলো জুঁই। গন্ধরাজ গাছটা ফুলে ফুলে ভরে উঠছে, আরো অন্য গাছগুলোয় ফুলের মেলা বসেছে, হ্যান্ড শাওয়ার দিয়ে বেশ কিছু কিছু গাছে পানি দিলো জুুঁই।
 তখনই দৌড়ে চলে এলো মালি। মেমসাব আপনি কেন পানি দিচ্ছেন, আমি এক্ষুনি  আসছিলাম পানি দিতে। তখন জুঁই  বললো আমার ভালো লাগছিলো তাই দিচ্ছিলাম।



                                                                                                                                             চলবে....

উম্মে হাবীবা আফরোজা



আমিত্ব 


এই মায়ার শহরে
ভালোবাসায় সাজিয়ে নিয়েছি নিজেকে নিজের মতো করে।

মেঘেদের কাছে জমা রেখে শতো অভিমান নিত্য বিভোর আমি ভালো আছি করে যাবো ভান। 

আক্ষেপের কোলাহল ছেড়ে
চলে যাবো বহু দূরে 
বেঁধে নেব নতুন সুরে। 

মন বাড়িতে এসো যেটুকু সত্য আছে তা ওই আমিত্বের বৃত্তে।

এক টুকরো শান্তির অন্বেষণে
কানে  গুঁজেছি তুলো
চেনা পৃথিবী চিনছি নতুন করে।

আমার মনের ক্যানভাসের প্রান্তিক সীমানাও পারোনি তুমি  কবু ছুঁ'তে।

পিছে ফেলে সব পিছুটান 
বেসুরেই গাইব গান
তবুও ফিরবো না তোমাদের নীড়ে।

আমাকে বুঝোনি,আমার আমিকেও খুঁজোনি, যেদিন থামবে কোলাহল, থামবে জীবন গাড়ি,সবার সাথে ভাব ছেড়ে করবো সেদিন আড়ি।

দূরের বাতাসে নাকি ঘ্রাণ বেশি 
আমি সেই ঘ্রাণ হবো,
গভীর রাতের জোছনা হবো,
ভাসবো বৃষ্টির জলে, যখন শহর জুড়ে বর্ষা আসে নেমে।

আমাকে জানতে হলে,আমাকে যে পড়তে হবে, আমার প্রিয় আমিত্বটাকে।