২৩ অক্টোবর ২০২১

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" ৩০

কান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "


                                    টানাপোড়েন' (পর্ব)

                                                  সেরা জুটি


                                             বমীর দুপুরের খাওয়া -দাওয়ার পর্ব শুরু হয়ে গেল বেলা বারোটা থেকে ,।গ্রামের লোকজন প্রচুর এজন্যই বোধহয়।
মাধুরী,সরজু, সুরঞ্জন ,আশিষ সবাই মিলে বেশ আড্ডা জমিয়েছে। 
কিন্তু শিখার মনের ভেতরে একটা খচখচানি রয়ে গেছে ।কি হলো হঠাৎ কল্যানদার? হঠাৎই কেন অন্য মনস্ক, মনটা যেন মনে হলো ভালো নেই। সেই যে দুজনে একসাথে অষ্টমীর পুজোর পর বেরোলো ।তারপরে বাড়িতে এসে কল্যানদা নিজের রুমে ঢুকলো।শিখা কিছুই বুঝতে পারছে না। জানলার ধারে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শিখা এসবই ভাবছে। মাঝে মাঝে দাদা বৌদিদের হাসি -ঠাট্টা ,মজার কথাগুলো কানে আসছে।
 হঠাৎই বৌদিভাই বলল  'কি ব্যাপার কল্যাণের কি কিছু হয়েছে? দেখতে পাচ্ছি না? '
সবাই এর ওর মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে লাগলো।
মাধু সরজুকে বললো 'ও বৌদি, কল্যান কোথায় গেল।'
সরজু একটু উৎকণ্ঠায় বলল 'তাই তো? এতক্ষণ খেয়াল করি নি। ওই তো শিখা। (শিখার দিকে তাকিয়ে)।  শিখা তোমরা তো একসঙ্গে বেরিয়ে ছিলে ।তা কল্যান কো‌থায়?'
শিখা বলল 'আমি জানি না তো?'
শিখা মনে মনে ভাবলো কি হলো? কেন হলো? কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। 
বৌদি বললো  'দুপুরের খাবার রেডি । চলো সবাই খাবে।'।
মাধু সুরঞ্জনকে বলল  ',যাও । দেখো কল্যান কোথায়? ওকে ডাকো।'
সুরঞ্জন গেলো কল্যাণকে ডাকতে।। সুরঞ্জন দেখল কল্যান নিজের ঘরটাতে শুয়ে আছে। জানলা বন্ধ ।সুরঞ্জন ঢুকেই বলল জানালাগুলো বন্ধ করে শুয়ে আছো কল্যান।শীত করছে? সাড়া না পেয়ে সুরঞ্জন ডাকলো  'কল্যান ,কল্যান খাবে চলো।
কল্যান বলল  'আমি পরে খাবো।'
সুরঞ্জন বললো 'তোমার শরীরটা কি খারাপ?'
কল্যান বলল  ,'মাথাটা একটু ধরেছে।'
সুরঞ্জন বলল ' ঔষধ খেতে হবে তো?'
 কল্যান বললো  'রেস্ট নিলেই হবে। '
সুরঞ্জন বললো 'তাহলে তাই করো।'
খেতে বসে শিখা খেতেই পারলো না।
মাধু বললো  'তোর আবার কি হলো?
শিখা বলল ' আর খেতে ভাল লাগছে না বৌদি ভাই। 'মাধুবৌদি হেসে বলল  'তোর ও  কি মাথা ধরেছে?'
শিখা বুঝতে পারল বৌদি কোন দিকে ইংগিত করতে চাইছে ।শুধু বলল  'না ।এমনি।'
মাধু বলল 'ও তাই বুঝি'?  তোকেও  তো রেস্ট নিতে হবে ,তাই তো? তবে একবার কল্যাণের ঘরে উঁকি দিস। দেখিস ,কি করছে বেচারা ।একটু খবর নিস।'
বৃষ্টি বলল  'পি মনি আমি যাব তোমার সাথে?'
মাধুরী বলল  'যা বৃষ্টি কে নিয়ে যা ওর খাওয়া হয়ে গেছে। আর শোন ওর এই জামাটা চেঞ্জ করে ওকে একটা কটনের জামা পরিয়ে দে।'
বৃষ্টি বলল  'না না আমি জামা চেঞ্জ করবো না।
 মাধুরী বলল  'সব সময জেদ তাই না?'
তখন শিখা বৌদিকে হাতের ইশারায় বুঝিয়ে দিয়ে বৃষ্টিকে নিয়ে গেল আর বলল ' বৃষ্টির এতক্ষণ এই জামা পড়ে থাকলে জামা তো  নষ্ট হয়ে যাবে ।তাহলে তোমাকে তো আর ভালো লাগবে না । তাহলে কি করবে এই জামাটা। এখন খুলে দিতে হবে তাই তো?''
বৃষ্টি মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো।
বৃষ্টিকে জামা চেঞ্জ করিয়ে দিয়ে তারপর  কল্যাণের ঘরের দিকে গেল। ঘরে গিয়ে দেখছে জানলা বন্ধ ,লাইট অফ করে শুয়ে আছেন। প্রথমে দরজায় নক করল কিন্তু কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে বৃষ্টিকে নিয়ে ঢুকলো।
বৃষ্টিকে দিয়ে শিখা ডাকা করালো।
বৃষ্টি বলল 'মামু মামু (একটু ধাক্কা দিয়ে) তোমার কি হয়েছে? খাবে চলো?'
কল্যাণ তাকিয়ে দেখছে শিখা।বলল ' মাথাটা একটু ধরেছে বাবু ।আমি  পরে খাব।'
তখন শিখা বলল ' না ,না। তা কি করে হয় ।আপনি চলুন, খাবেন।
কল্যান বলল  'এখন খাব না শিখা।'
শিখা বললো  'তাহলে কি আপনি ওষুধ খাবেন?  ব্যবস্থা করি।'
কল্যাণ বলল  'না না একটু শুলেই আমার মাথা ঠিক হয়ে যাবে ।একটু বাম লাগাতে পারলে ভালো হতো।
শিখা বললো  'আপনার কাছে আছে?'
কল্যান  বলল ' না, আমার কাছে নেই ।তবে দিদির কাছে পাওয়া যেতে পারে।'
শিখা বৃষ্টিকে বলল ' বৃষ্টি মামীর কাছ থেকে বাম‌ নিয়ে এসো তো।'
বৃষ্টি বলল  'ওকে পিমনি।'
শিখা খাটের পাশটায় বসল। কল্যাণ পাশ ঘুরতে গিয়ে হঠাৎই টাচ হয়ে যায় শিখার সঙ্গে।
 কল্যান বলল  'সরি শিখা।'
শিখা বললো না খেলে কি হয় ,একটু তো খেতেই হবে।
এরই মধ্যে বৃষ্টি এসে বাম ধরিয়ে দিলো পিমনির হাতে।
কল্যান বলল  'আমার হাতে দাও আমি লাগিয়ে  নিচ্ছি।'
বৃষ্টি বলল  'মামু লাগিয়ে দেবো?'
কল্যান হেসে বলল 'আমার ছোট্ট মিষ্টি মা। আমাকে লাগিয়ে দেবে ?আচ্ছা দাও।'
ছোট্ট ছোট্ট হাতে বৃষ্টি বাম লাগাতে লাগলো। তখন শিখা বলল অনেক লাগিয়েছো বৃষ্টি ।দাও আমি লাগিয়ে দিচ্ছি।'
বাম নিয়ে শিখা আলতোভাবে কল্যাণের কপালে লাগাতে গেল। ‌
কল্যাণ বললো ' থাক, শিখা থাক। বৃষ্টি যা লাগিয়েছে ওতেই হবে। শুধু শুধু তুমি কেন কষ্ট করবে?'
শিখা বলল  'বেশি কথা বলবেন না তো? আপনাকে কে বলেছে যে আমার কষ্ট হবে‌ ?নাকি ,আপনি.জ্যোতিষী। সব বুঝতে পারেন?'
কল্যান কোন কথা খুঁজে পেল না। চুপ করে থাকলো।
শিখার হাতের বাম লাগাতে শিখার হাতের  স্পর্শে কল্যাণ বারবার শিহরিত হতে লাগলো। ভেতরে যেন একটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলএবং সেজন্যেই কল্যান শিখার হাত দুটো ধরল। কিন্তু কোন ভাষা খুঁজে পেল না। 
শিখা বলল  'কিছু বলবেন?'
কল্যান এবার লজ্জা পেয়ে গেল ,বলল  'না। ঠিক আছে আর লাগাতে হবে না ।এতেই হবে।'
 কল্যাণের হৃদস্পন্দন হাতুড়ির মত তার বুকে আঘাত করতে লাগলো। শরীরের ভেতর তপ্ত রক্তস্রোত তখন ও  বয়ে চলেছে, যেকোনো সময় অঘটন ঘটে যেতে পারে।
কিন্তু আজ একি হলো কল্যাণের? 
কল্যান বলল 'শিখা তুমি এবার এসো। আমি একটু বিশ্রাম নিই।'
শিখা সম্মতি জানিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো।
এরই মধ্যে সরজুদি তখন খাবার নিয়ে ঢুকলো কল্যাণের ঘরে। 
সরজু বলল  'কিরে ঠিক আছিস?'
কল্যান বলল  'হ্যাঁ দিদি।'
সরজু বলল  'তাহলে খেয়ে নে। আর বলল শোন আমি জানি কেন তুমি হঠাৎ করে এরকম ঘরে শুয়ে পড়লে। দেখ পুরনো স্মৃতি  ধরে বসে থাকলে তো আর জীবন চলে না। বর্তমানকে নিয়ে ভাবো।'
কল্যাণ উঠে বসল এবং বলল  'সেটাই তো চেষ্টা করছি দিদি।'
সরজু বলল ' নবমী দশমী দুটো দিন খুব ভালো করে কাটা।এখনি ওঠ ।'
'কল্যান মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
সরজু কল্যানের মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেল।
দুপুর গড়িয়ে বিকেলে সোনালী রোদ্দুর তখন ম্রিয়মান। বুকের ভেতরে জমানো কষ্টের পাহাড় মোচড় দিচ্ছে বারবার। আস্তে আস্তে সন্ধ্যা নামছে, পুজো মন্ডপে ঢাক বেজে উঠলো। তখনই হঠাৎ 'যেভাবেই তুমি সকাল দেখো ,সূর্য কিন্তু একটাই। যত ভাগেই ভাগ করো না প্রেম।হৃদয় কিন্তু একটাই.. প্রতিবার  প্রেমে নতুন জনম ,জীবন কি করে একটাই। ' গান কানে আসল। কল্যাণ মনোযোগের সঙ্গে শুনল। সত্যিই শিখা অপূর্ব ‌গায়।
মেয়েটার ভেতরে কোয়ালিটি আছে।
এরইমধ্যে মাধরীর গলা শুনতে পেলো শিখাকে বলছে 'তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে। '
শিখা বলছে 'বৌদি ভাই আজকে আর আমি পুজো মণ্ডপে যাব না।'
মাধু বলল 'কেন রে তোর আবার কি হলো?'
কল্যান সব শুনতে পাচ্ছে। 'শিখার আবার কি হলো?'
মাধু বৌদি বলছে তোর তো দেখতে পাচ্ছি আজ দুপুর থেকেই মুড অফ ।কেন, কি কারণে কিছু বুঝতে পারছি না ।যাই একবার কল্যাণের ঘরে যাই দেখি ওর কি খবর।
কল্যান কথাটি শুনতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ওয়াশরুমে গেল ।মাধু দরজা নক্ করল। কল্যান ভেতরে আসতে পারি। বাথরুম থেকে আওয়াজ দিল বৌদি আমি বাথরুমে আছি। 
মাধুরী বলল 'ঠিক আছে তুমি রেডি হচ্ছো তো ? বেরোবে তো? এখন শরীর ঠিক আছে?'
কল্যান বলল  'হ্যাঁ বৌদি ।বেরোবো ।ঠিক আছি।'
মাধু বলল ঠিক আছে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও।
অন্যদিকে শিখা সারাক্ষণ ভেবে যেতে লাগলো।কল্যানদার কি হয়েছে?
 কল্যাণ পূজামণ্ডপে চলে গেল কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখতে পেল শিখা  তখনও পুজোমণ্ডপে আসে নি।'
মাধু বৃষ্টিকে বলল 'বৃষ্টি যা তো পিমনিকে গিয়ে বল সবাই পূজামণ্ডপে এসেছে। পিমনিকে নিয়ে চলে আয়।'
বৃষ্টি তো নাচতে নাচতে চলে গেল।
 বৃষ্টি বলল  'পিমনি চলো ।সবাই তোমার জন্য ওয়েট করছে। '
 শিখা বৃষ্টিকে কায়দা করে জিজ্ঞেস করলো ' কে কে এসেছে রে? বৃষ্টি তো একে একে সবার নাম বলতে শুরু করল ,সঙ্গে যখন কল্যাণের কথাটা আসলো ।তখন শিখার মনে একটা আলাদা উত্তেজনা সৃষ্টি হল।
এবার শিখা বলল  'যা বৃষ্টি তোকে আর   অত লিস্ট শোনাতে হবে না ।আমি যাচ্ছি।'
বৃষ্টি বলল  'ঠিক আছে। তুমি তাড়াতাড়ি এসো।'
শিখা বললো' হ্যাঁ। আমার মা। আমি ঠিক তাড়াতাড়ি চলে যাব।'
শিখা' আজ লাল কালো ঢাকাই জামদানি শাড়ি পরে মন্ডপে ঢুকতেই আশুদা বলল'শিখা তুমি ছাড়া মন্ডপ টা যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগছিলো।এখন পরিপূর্ণতা পেল।'
শিখা বলল ' কি যে ,বলেন না আপনি?'
আশুদা বলল  'মন্ডপে যারা উপস্থিত( সকলের দিকে তাকিয়ে )জিজ্ঞেস করে দেখো, আমি যদি মিথ্যা কথা বলে থাকি।
তখন কল্যান  বলল 'একদম ঠিক।'
শিখার চোখ মুখ যেন লাজে রাঙা হয়ে উঠল।
তারপর শিখা বলল 'আজকে আমি কি করবো?'
আশুদা বলল ' কিছুই না। শুধু মন্ডপের শোভাবর্ধন করো আর মাকে দর্শন করো, পুজো দেখো ।আনন্দ করো'
কল্যাণ বলল  ঢাকি ভাইয়ের দিকে এগিয়ে ' ভাই একটু ঢাকের কাঠিটা একটু দাও তো?'
সবার নজর তখন কল্যাণের দিকে
আশুদা অবাক হয়ে বলল 'তুমি ঢাক ও বাজাতে পারো।'
কল্যান বলল ' চেষ্টা করে দেখছি মাত্র।'
কল্যান ঢাক বাজাতে লাগলো। সকলে তন্ময় হয়ে গেল।ইতিমধ্যে পুজো শেষ হলো।
এবার নবমীর রাতের খেলা শুরু হলো। অভিনব খেলা সেরা জুটি নির্বাচন। সবাই বললো আশুদাকে এ আবার কি  খেলা? জুটি নির্বাচন মানে? আমাদের তো জুটি আছে ।যাদের জুটি নেই ,তারাই কি জুটি নির্বাচন করবে?'
আশুদা বলল ' ওয়েট ওয়েট'। যারা যে বিষয়ে পারদর্শী ।ধরো গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, ঢাক বাজানো, তারা সেই ভাবে তাদের জুটি নির্বাচন করে নেবেন। এবং যারা সেই বিষয়ে সফলতা লাভ করবে তারা হবে সেরার সেরা জুটি এবং তাদের জন্য পুরষ্কার ও থাকবে। '
সুরঞ্জন বলল  'আমরা তো আবার সহধর্মিনী ছাড়া অন্য জুটির কাছে যেতেও পারবো না ।তাহলেই তো গন্ডগোল( মাধুর দিকে তাকিয়ে হেসে।)
আমরা যে জুটি আছি সেই জুটি থাকি ।দেখি কি করতে পারি। অন্যদিকে সরজূ -আশিষ জুটি, এইভাবে যে যার জুটি নির্বাচন করে নিল। কল্যান আর শিখা পরল ধন্দে। 
আশুদা বলল 'কল্যান ও শিখা তোমরা জুটি। তোমরা বাদ আছো। বাকি সকলের জুটি নির্বাচন হয়ে গেছে।'অন্যান্যরা শিখা ও কল্যান পরস্পর ,পরস্পরের মুখের দিকে তাকালো ।কল্যাণের প্রসন্ন দৃষ্টি শিখাকে মুগ্ধ করল। শুরু হলো গানের লড়াই।সকলের গানের শেষে শিখা ও কল্যানের গান। 'কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে। তোমারে দেখিতে দেয় না। ..মোহমেঘে তোমারে দেখিতে দেয় না।মাঝে মাঝে তব দেখা পাই। চিরদিন কেন  পাই না। ..।'
সত্যি খুব সুন্দর দু'জনে গান করল পুজো মণ্ডপ সকলে মোহাবিষ্ট হয়ে গেল। সেরা জুটি হিসেবে নির্বাচিত হ'ল শিখাও কল্যান। শিখা কল্যাণের দিকে তাকাল ।কল্যাণ প্রসন্ন দৃষ্টিতে শিখার দিকে ,যেন চোখে তাদের অনেক কথা হয়ে গেল।'মনে হল মাঝে মাঝে দেখা নয়, চিরদিনের জন্যই দেখা পেতে চায়। আশুদা বলে উঠলো ' তোমরা তো ফাটিয়ে দিয়েছো ভাই ।বাস্তব জীবনে কি তোমরা সেরা জুটি হবে? তাহলে আগাম আমাদের শুভেচ্ছা ,শুভকামনা রইল তোমাদের জন্য।'




ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" ৩০ক্রমশ

শুরু হলো কাজী ইনাম এর ধারাবাহিক গল্প "একরাত্রি" ২য় পর্ব

এই সময়ের অন্যতম স্বনামধন্য উপন্যাসিক কাজী ইনাম এর চতুর্থ উপন্যাস এর প্রস্তুতি চলছে এখন  একরাত্রি শুরু হলো ধারাবাহিক গল্প ।  "স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকায় " পাঠকদের কাছে অনুরোধ লেখাটি পড়ে লেখক কে উৎসাহ প্রদান করুন আরো ভালো কিছু পাবার আশায়। 
 





                                                                            একরাত্রি
                                                                                   (য় পর্ব )


                                                বিচ্ছেদ মৃত্যুতেও সে ভারি অবিকার থাকতে পারে ।     
  আরিফ আর সপ্নাকে পড়তে বসা নিয়ে সারাদিনে রাবেয়া একটা কথাও বলেনি। অন্যদিন তারা রাবেয়াকে ব্যতিব্যাস্ত রাখে। লেখাপড়া শিখে ছেলেমেয়েরা একদিন অনেক বড় হবে এমন কোনো স্বপ্ন রাবেয়ার নেই। তারপরও পড়ার টেবিলে তাদের না দেখলে কেমন অস্থির লাগে। ছেলেমেয়েদের পিছে দৌড়াতে গিয়ে সে তার যৌবনচিত কমনীয়তা আর কন্ঠের মাধুর্য অনেকখানি হারিয়েছে। রাবেয়ার তাতে আফসোস  নেই। সংসারসমুদ্রে সে পড়েছে । এখানে কত লক্ষ্মীই তো প্রতিদিন প্রতিনিয়ত তাদের রূপ-লাবন্য জলাঞ্জলি দেয়।  রাবেয়া না ফিরে  তাকালেও আরিফ আর সপ্না আজ পড়ার টেবিলে বসেই দিন পার করেছে। এই যে এখন এত রাত, তারা কিন্তু পড়ার টেবিলে। রাবেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। মার মলিন মুখখানাই দেখার জন্য অধীর হয়ে আছে। রাবেয়া না বলা পর্যন্ত তারা বিছানায় যাবেনা।    
    ঘরে উঁকি দিল রাবেয়া। আরিফ আর সপ্না যে যার টেবিলে। দুজনেই বেশ মনোযোগী। পড়া থেকে চোখ উঠাচ্ছে না কেউ। তাদের দিকে চেয়ে রাবেয়ার এত মায়া লাগছে। আজ সারাদিন কোনো খবর নেওয়া হয়নি। অবহেলায় বেড়ে ওঠা চারার মতই লাগছে এখন তাদের। আফসার না থাকলে তাদের কী হবে তার একটা ছবি কি আগেভাগেই আঁকা হয়ে গেছে? রাবেয়ায় বুক ব্যথায় ভরে ওঠে। সে মনে মনে ঠিক করে ফেলল আর কোনোদিন তাদের রাগ করবে না। মমতার ছায়াতলে রেখে দেবে বটবৃক্ষ হয়ে।   
    আজ ঘুমাও নি কেন বাবা? বলে রাবেয়া আরিফের হাতটা ধরে। ঠান্ডা হাত। রাবেয়া আজ এই প্রথম একটা শীতল স্পর্শ পেল।
       কাল বাবার সাথে কি আমরাও যাব মা?
       না। শুধু তোমার বাবাই যাবে। কোর্টে বাচ্চাদের যেতে নেই।
       কেন যেতে নেই?
       জানিনা। বলে রাবেয়া কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর বলে, শোন বাবা। তোমাদের একটা কথা আগে থেকেই বলে রাখি। তোমাদের বাবা কাল নাও ফিরতে পারে। কাল কেন, হয়ত অনেকদিন ফিরবে না। এই সময়টা তোমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। বাবার জন্য বাসায় কোনোরকম কান্নাকাটি হোক আমি তা চাই না। তোমাদের সাথে তোমাদের মা আছে এটাও কিন্তু মনে রাখা উচিত।
     ওপাশ থেকে স্বপ্না বলে, বাবার কি ফাঁসি হবে?
     না মা। তা কেন হবে? রাবেয়া ত্বরিত জবাব দেয়। বুক তার ধ্বক করে করে ওঠে। সপ্না যেন সব জেনে বুঝে বলেছে।
     ভাইয়া বলেছে বাবার ফাঁসি হবে। যারা কোর্টে যায় তাদের ফাঁসি হয়।
   এত দুঃখের মাঝেও রাবেয়া না হেসে পারল না। শিশুদের মাঝে থাকার মতো আনন্দের বোধহয় আর কিছুই নেই। তার হঠাৎ মনে হলো এই কঠিন সময়টা সে খারাপ থাকবে না। একটা অকারণ সুখ অনুভব করে রাবেয়া বলে, তোমার বাবাকে তাহলে কাল কোর্টে যেতেই দেবনা। লুকিয়ে রাখব। কোথায় লুকানো যায় বলত।
    সপ্না দৌড়ে এসে রাবেয়াকে জড়িয়ে ধরে। মা, আমার টেবিলের পেছনে একটা জায়গা আছে। বাবাকে   সেখানে লুকিয়ে রেখো। পরশুদিন আমি ওখানে লুকিয়েছিলাম। ভাইয়া আমাকে খুঁজে পায়নি।
 
  কুসুম ঘুমিয়েছে। পাশেই আফসার শুয়ে আছে। সে জেগে আছে। রাবেয়াকে আসতে দেখেই চোখ বন্ধ করল। সে যে ঘুমিয়ে গেছে রাবেয়াকে তা বুঝতে দেওয়া। যদিও অন্ধকার ঘরে রাবেয়ার তা দেখতে পাওয়ার কথা না। রাবেয়া আজ সারাদিন একটিবারের জন্যও তার মুখের দিকে তাকায় নি। এই মেয়েটা অভিনয় জানে না। আফসারের কথা ভেবে অন্তত স্বাভাবিক থাকার ভান করা যেত। অন্য কেউ হলে তাই করত। রাবেয়া করল না। অথচ এর প্রয়োজন আছে।

রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়"১৫

 চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 






                                                                     উদাসী মেঘের ডানায় 
                                                                                               (পর্ব ১৫)


রাত প্রায় দশটা,বাজে তৃষ্ণা ডিনার সেরে বারান্দায়
এসে বসলো,আকাশে হালকা মেঘ, ঝাপসা হয়নি
রাতের আকাশের তারার ঝিলিমিলি স্পষ্ট নয়
হয়তো কোথাও চাঁদ উঠেছে তবুও হালকা আলোর
আভাস মন জুড়ে ছড়িয়ে আছে।
ফোনটা বেজে উঠলো
তৃষ্ণা-অপু দেরি করলে যে?
অপু- অভিমান হয়েছে বুঝি?
তৃষ্ণা- আমার বয়েই গেছে। চিন্তা হয় দিনকাল ভালোনা তাই।
অপু- যাক তাহলে চিন্তা করো খুশি হলাম,সহজে তো
কিছু বলোনা, পেট খালি হবার ভয়ে।
তৃষ্ণা-ভালো হচ্ছেনা অপু ফোন রেখে দিবো কিন্ত।
অপু- মোনালিসা রাগ করতে হয়না। বাসায় বড় চাচা
এসছিলো ডিনার করে গেলো একটু আগে।
তৃষ্ণা-আমি কি,কৈফিয়ত চেয়েছি।
অপু- আাকাশের,মতন তুমিও আজ হালকা মেঘলা হয়ে আছো একটা গান গাও,মন,ভালো হয়ে যাবে।
তৃষ্ণা-না গাইবোনা আজ গান।
অপু - প্লিজ, প্লিজ তৃষ্ণা একটা রবীন্দ্র সংগীত খুব
শুনতে ইচ্ছে হচ্ছে, গাওনা।

আমারে ডাক দিলো কে ভিতর পানে
ওরা যে ডাকতে জানে
আশ্বিনে ওই শিউলি শাখে মৌমাছিরে
যেমন ডাকে
ঘরছাড়া আজ ঘর পেলো যে
হাওয়ায় হাওয়ায় কেমন করে
খবর যে তার পৌচ্ছুলেরে
ঘরছাড়া ওই মেঘের টানে।

অপু মন দিয়ে শুনলো কিছুটা সময় দুজনায় নিরব
নিরবতা ভেঙে অপু বললো--
-রবীন্দ্র সংগীতটা শুনে আজ আবারও নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা পেলাম মোনালিসা।

তৃষ্ণা-তুমিতো ছায়ানটের ছাত্র ছিলে আজ তুমি একটা
গান গাওনা।

অপু- অবশ্যই গাইবো আমার স্বপ্নের গানটি আজও গাওয়া হয়ে ওঠেনি,বিশেষ দিনে বিশেষ সময় ঠিক
গাইবো।
আমাদের বন্দি থাকা স্বপ্নরা নানান রঙের কষ্ট ক্লান্তি
একাকীত্বের যন্ত্রণা  যা কিছু আছে সব যখন
ছুঁড়ে ফেলেছি  নতুন করে বাঁচতে চাই শুধু তোমাকে
 নিয়েই। বাঁচাতে চাই তোমার দুঃস্বপ্ন গুলো জলে ভাসিয়ে একসাথে।

তৃষ্ণা-রাত সাড়ে বারোটা বাজে সকালে অফিস আছে
ঘুমাতে যাও।

অপু -যাচ্ছি গো যাচ্ছি বড্ড বিরক্ত করো তুমি।

-আমি আবার কখন বিরক্ত করলাম

-করো তুমি জানোনা,একদম ঘুমাতে দাওনা।

তৃষ্ণা-থাক আর মায়ায় জড়াতে হবেনা ঘুমাতে যাও।
শুভরাত্রি 
শুভরাত্রি



                                                                                                                          চলবে......

লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল" ১১ তম পর্ব

চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শান্তা কামালী'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "বনফুল" 






                                                বনফুল 
                                                                                                   ১১ তম পর্ব    


                                                 গাছের ছায়ায় বসে বেশ খানিকটা সময় গল্প করে কাটলো দুজনের.. …  
জুঁই বললো এবার চলো ক্লাস শুরু হতে আর বেশি সময় বাকি নেই। 
দুজনেই উঠে পাশাপাশি হেঁটে সিঁড়ি দিয়ে উপরে গেলো।পলাশ চলে গেল তিনতলায়, আর জুঁই দোতালাতেই থেকে গেলো। জুঁইয়ের ক্লাস রুম দোতলায়। দুজনেই প্রায় একই টাইমে নেমে এলো, জুঁই হাঁটতে হাঁটতে ড্রাইভারকে গাড়ি গেটের সামনে নিয়ে আসতে বললো, পলাশকে বললো আমি তোমাকে পৌঁছে দিয়ে যাব।দুজনেই গাড়িতে উঠে বসলো।
টুকটাক কথাবার্তা হলো দুজনের মধ্যে। এজিবি পয়েন্ট এসে গাড়ি থামতেই পলাশ নেমে হাত নাড়িয়ে বিদায় জানালো।
বাসায় পৌঁছাতে ঘড়িতে আড়াইটা বেজে গেল। হাতমুখ ধুয়ে কিছু সময় মা বাবার সাথে গল্প করতে চাইলো বাবা বললেন চলো খেতে খেতে কথা বলা যাবে। এই বলে তিনজনই ডাইনিং টেবিলে বসলো, ময়না খাবার পরিবেশন করছে, জুঁই খেতে খেতে  বাবা-মার সাথে চুটিয়ে গল্প করলো। খাওয়া শেষ করে বেসিনে হাতমুখ ধুয়ে জুঁই উপরে উঠে গেলো,রুমে ঢুকে ড্রেস চেঞ্জ করে বিছানায় শুয়ে পলাশকে নিয়ে ভাবতে লাগলো। জুঁই ফোন হাতে নিয়ে পলাশকে ফোন করলো। পলাশ জুঁই ফোন দিচ্ছি দেখে একটু আশ্চর্য হলো!  এইতো কিছুক্ষণ আগে মাত্র বাসায় গেলো এখনই ফোন! পলাশে একটু চিন্তায় পড়ে গেলো। ওপাশ থেকে জুঁই বললো খাওয়া হয়েছে?।
পলাশ বললো, হুম  হয়েছে, তুমি খেয়েছো? 
হ্যাঁ  খেয়েছি।
-কি করছো এখন?  
- শুয়ে আছি, 
-তাহলে ঘুমাতে চেষ্টা করো, জুঁই পলাশকে বললো তুমি এখন  কিরবে?
উত্তরে পলাশ বললো আমার এক্ষুনি  টিউশনে যেতে হবে। জুঁই বললো আচ্ছা যাও আমি রাখাছি...। 
জুঁই ঘুমিয়ে পড়েছে ,পাঁচটা বাজতেই জুঁইয়ের ঘুম ভাঙ্গলো, চোখে মুখে একটু পানি দিয়ে  ছাদে উঠলো জুঁই। গন্ধরাজ গাছটা ফুলে ফুলে ভরে উঠছে, আরো অন্য গাছগুলোয় ফুলের মেলা বসেছে, হ্যান্ড শাওয়ার দিয়ে বেশ কিছু কিছু গাছে পানি দিলো জুুঁই।
 তখনই দৌড়ে চলে এলো মালি। মেমসাব আপনি কেন পানি দিচ্ছেন, আমি এক্ষুনি  আসছিলাম পানি দিতে। তখন জুঁই  বললো আমার ভালো লাগছিলো তাই দিচ্ছিলাম।



                                                                                                                                             চলবে....

উম্মে হাবীবা আফরোজা



আমিত্ব 


এই মায়ার শহরে
ভালোবাসায় সাজিয়ে নিয়েছি নিজেকে নিজের মতো করে।

মেঘেদের কাছে জমা রেখে শতো অভিমান নিত্য বিভোর আমি ভালো আছি করে যাবো ভান। 

আক্ষেপের কোলাহল ছেড়ে
চলে যাবো বহু দূরে 
বেঁধে নেব নতুন সুরে। 

মন বাড়িতে এসো যেটুকু সত্য আছে তা ওই আমিত্বের বৃত্তে।

এক টুকরো শান্তির অন্বেষণে
কানে  গুঁজেছি তুলো
চেনা পৃথিবী চিনছি নতুন করে।

আমার মনের ক্যানভাসের প্রান্তিক সীমানাও পারোনি তুমি  কবু ছুঁ'তে।

পিছে ফেলে সব পিছুটান 
বেসুরেই গাইব গান
তবুও ফিরবো না তোমাদের নীড়ে।

আমাকে বুঝোনি,আমার আমিকেও খুঁজোনি, যেদিন থামবে কোলাহল, থামবে জীবন গাড়ি,সবার সাথে ভাব ছেড়ে করবো সেদিন আড়ি।

দূরের বাতাসে নাকি ঘ্রাণ বেশি 
আমি সেই ঘ্রাণ হবো,
গভীর রাতের জোছনা হবো,
ভাসবো বৃষ্টির জলে, যখন শহর জুড়ে বর্ষা আসে নেমে।

আমাকে জানতে হলে,আমাকে যে পড়তে হবে, আমার প্রিয় আমিত্বটাকে।

২২ অক্টোবর ২০২১

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক গল্প "অলিখিত শর্ত"




                                                                  অলিখিত শর্ত (য় পর্ব)
                                                                      শায়লা শিহাব কথন 

                                                                      শামীমা আহমেদ 





                                                              রিকশা ভাড়া মিটিয়ে শায়লা দোতালায় উঠে এলো। দোতালায় ওরা থাকে আর নীচতলায় বহুদিনের পুরনো একটি ভাড়াটিয়া পরিবার।
সুখে দুখে একসাথে। অনেকটা ঘরের মানুষের মতই হয়ে গেছে তারা।শায়লার বাবা দোতালা পর্যন্ত বাড়িটি তুলতে পেরেছিলেন। 
এরপর চাকরির অবসরের সাথে জীবনেরও অবসর নিলেন। পরিবারটির আমূল পরিবর্তন  এসে গেলো।শায়লার মা তিনটি সন্তান নিয়ে একেবারেই ভেঙে পড়লেন।
স্বামীর নির্ভরতায় মধ্যবিত্ত পরিবারের মায়েরা স্বামীকে হারিয়ে একা চলতে যেমন 
অসহায় বোধ করেন। শায়লাকেই ধৈর্য্য ধরে সব সামাল দিতে হলো।ছোট ভাই রাহাত তখন কলেজে পড়ছে আর ছোট বোন নায়লা এসএসসির প্রস্তুতিতে।শায়লার অনার্স প্রায় শেষের দিকে ছিল। আর কিছুদিন ক্লাসের পরেই ফাইনাল। তা আর দেয়া হলো না।
একটা চাকরি নিতে হলো সংসারের আয় বাড়াতে। দিন রাত্রির পরিশ্রমে নিজের দিকে তাকানোর সময় হলোনা।আর তখুনি জীবন থেকে  অনেককিছুই খসে গেলো নিতান্তই নিছক অজুহাতে। শরীর ও মন দুটোই ভেঙে পড়লো শায়লার।সে সব দুঃসহ স্মৃতি শায়লা ভুলে থাকতে চায়।জীবনের উঠতি বয়সে ভালোবাসার রঙ লাগতে না লাগতেই তা ফিকে হয়ে গেলো।তবে চলমান জীবনধারা কখনোই থেমে থাকে না। বয়ে যায় আপন গতিতে।তাতে হয়তো পাহাড়সম বাধা, উঁচু নীচু কন্টকময় পথ পাড়ি দিতে হয়। 
শায়লা সবকিছুর সাথেই নিজেকে মানিয়ে নিলো। জীবনকে এক সরলরেখায় নিয়ে এলো।যেখানে শুধু মা  ছোট ভাই রাহাত আর ছোট বোন নায়লা।নিজেকে অচেনা করে রাখল নিজের কাছেই।
দোতালায় দরজায় কলিং বেল দিতেই মা দরজা খুলে দিলো। রাহাত এখনো ফিরেনি?  
শায়লার প্রশ্নে মা জানালেন, না, ওর দেরি হবে জানিয়েছে। সেই কলেজ পড়ুয়া ভাইটি একে একে ইউনিভার্সিটির দিনগুলো পেরিয়ে আজ দারুণ একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করছে। বিবিএ এমবিএ করেছে।শিক্ষাগত যোগ্যতায় যেন পিছিয়ে না পড়ে তাতে শায়লার সর্বাত্মক চেষ্টা ছিল। এখন সোনালী ভবিষ্যৎ উঁকি দিচ্ছে।রাহাতেরও অনেক স্বপ্ন মা বোনদেরকে নিয়ে।দারিদ্র্যতা ঘুচিয়ে আনবে স্বচ্ছল জীবন।
শায়লা ফ্রেস হয়ে মাকে সবকিছু বের করে দেখালো।একে একে সুটপিস, শার্ট, মিলিয়ে টাই আর শেভিং কিটস উইথ ডিওডোরেন্ট। 
সুট পিসের সাথে ওদের দেয়া ফ্রি একটি চমৎকার ব্যাগ।
ছোট বোন নায়লার পছন্দের বিয়ে।ওর অনার্সের পর পাত্রপক্ষও বেশ আগ্রহ করে তাকে গ্রহন করেছে।ওদের পারিবারিক অবস্থাও বেশ ভালো।মাস্টার্স তারাই করিয়ে নিবে।নিজস্ব ব্যবসায় দায়িত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে দিবেন। এমন পরিবারে আত্মীয়তা করে শায়লার পরিবারকে একটু নিচু হয়েই থাকতে হয়।তবুও মায়ের মন।যতটুকু পারা যায়।
ছোটবেলা থেকেই নায়লা বেশ চটপটে  ও উজ্জ্বল গাত্রবর্ণে শায়লার সাথে বরাবরই তুলনায় এসেছে।মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আর কবে পাল্টাবে? বিয়েটাই যেনো জীবনের মূলমন্ত্র।একটা মেয়ের ভালো বিয়ে হয়েছে বলতে আমাদের সমাজে কোন স্ট্যান্ডার্ড কে বুঝায়? এসব কথা শোনা শায়লার  সয়ে গিয়েছে।
---নায়লা ও মূর্শেদ ওরা সুখী দম্পতি। ছয় মাস হলো বিয়ের।
প্রায়ই গাড়ি হাঁকিয়ে মায়ের বাড়ি বেড়াতে আসে।চোখে মুখে সুখের ছোঁয়া।ওদের দেখে শায়লাও  আনন্দিত হয়!ভালোবাসার মানুষকে শেষ পর্যন্ত পাওয়া ও সুখী দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যাওয়া এটা ভাগ্যবান মেয়েদের জন্যই লেখা থাকে। 
মা বলে উঠলো, তবে তো ওদের একদিন আসতে বলতে হয়।
ওরা বসুন্ধরাতে শ্বশুরের বিশাল ফ্ল্যাটে আছে। পারিবারিক ব্যবসা।একমাত্র ছেলের বউ।বেশ আদর আহ্লাদেই নায়লার দিন কাটছে।
শায়লা বললো --হ্যাঁ, বলো,, এভাবেই প্রতিটি বিষয়ই শায়লাকে দেখতে হয় যেন মাকে খুশি রাখা যায়।
---কিংবা রাহাত গিয়েও দিয়ে আসতে পারে বা মুর্শেদের সাথে একসাথে গিয়ে টেইলারিংয়ে দিয়ে আসতে পারে।শায়লা ভাবলো, বাবা বেঁচে থাকলে আজ তার জীবনটা অন্যরকম হতো। শায়লা বড় মেয়ে, হয়তো তাকে নিয়েই ভাবনাটা আগে আসতো।
মাকে সব বুঝিয়ে দিয়ে শায়লা নিজের ঘরে এলো।পাভেলের কথা খুব মনে পড়ছে!
অনার্সের সহপাঠী ছিল।প্রথম বছর থেকেই একটু  একটু ভালোলাগা এগিয়ে যাচ্ছিল।
ফাইনাল ইয়ারে তার পূর্ণতাও এসেছিল।
শায়লার বাবার মৃত্যুতে পাভেল একেবারে পালটে গেলো। শায়লার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলো। শায়লার খোঁজ রাখা মানেই ভবিষ্যতে তার পরিবারের দায়িত্ব নেয়া।একটা শিক্ষিত ছেলের এমন ভাবনায় শায়লার মন ভেঙে যায়। আর শায়লাও পারিবারিক কারণে পড়াশুনাটা গুটিয়ে নেয়। একে একে আটটি বছর হারিয়ে যায় ওর জীবন থেকে। 



                                                                                                                                                     চলবে....

তানভীর আজীমি ( এথেন্স, গ্রিস )




মন মানেনা পথের দূরত্ব


জানতে ইচ্ছে করে কেমন আছ তুমি ?
জানি ভালোবাসা নিঃশব্দে গেছে হারিয়ে অজানায়
আকাশের তারাগুলি যেভাবে হারার দীর্ঘশ্বাস ফেলে
অমাবস্যার আঁধারের জালে।

সুখ পাখিরা উড়ে গেছে নিঝুম সন্ধ্যায়
গাছেরা পাতায় ঝরে পড়ে বিদীর্ণ কিরণ যেভাবে
ভোরের সূর্য জেগে উঠে শিশিরের কান্না হয়ে
সারা রাত দিগন্তে প্রত্যাশার স্বপ্ন চোখ
শেষ করতে চায় তার অসীমতার যাত্রা।

সত্যি করে বলো তুমি কেমন আছ আজ ?
জানো ভালোবাসতে হলে অনেক বড় মন চাই
কি করে বলি তোমার আমি রেখেছিলাম
অনবদ্য ভরসার প্রদীপ ভেবে।

সময় বোধ হয়.বোঝে না ভালোবাসার মূল্য
তাইতো জীবন যুদ্ধে হেরে গিয়ে এভাবে
দু'হাত দিয়ে সরিয়ে দিলে আমায়
তাই বলে কি মন থেকে সরাতে পারবে কখনো।

যোজন যোজন দুরত্বে চোখ যেন তাই মাপে
মন কি পথের ব্যবধান টা মাপবে হৃদয়ের টানে
অজস্র দুরত্ব হলেও মনের চোখ যেন ঠিক তাই দেখে
যে মনের গহীনে রাখেছিলাম তোমায় যত্ন করে
সেখানেই থাক তোমার স্থায়ী নিবাস।

তুমিও থাকো অসীম সুখে পাখিদের কলতানে মেতে
ভবিষ্যতের স্বপ্ন এঁকে চোখের পাতায়
আমি না হয় হারাই বিদীর্ণ সময়ের চোরাবালিতে  
রাতের অন্ধকারে.নয়নের নীরব অশ্রুধারায়।

মতিউল ইসলাম





অপত্য স্নেহ 


এভারেস্টের চুড়োয় উঠতে চাইনি কখনোই,
কখনোই ভাবিনি সংবাদের শিরোনাম হতে,
দামি গাড়ি দেখে থমকে গেলেও কখোনো ভাবিনি ওটা আমার চাই।

নুন আনতে পান্তা ফুরানো মানুষ আমি
অনেক না পাওয়া আর সামান্য প্রাপ্তির
যোগ বিয়োগে কেটে যায় দিন রাত,
ছেড়া কাঁথায় শুয়ে রাজা হবার স্বপ্ন আমার নয়।

মাসের মাঝে পকেট গড়ের মাঠ,
মাস পহেলার দিনের দিকে তাকিয়ে
কাটিয়ে দিই বছরের পর বছর।
আমার এই নিন্ম মধ্যবিত্ত সংসারে
কোথা থেকে এলি রে তুই?

মনটাকে নিমিষেই করে দিয়ে রাজা,
আমার সমস্ত না পাওয়ায় হিসেব
ভুলিয়ে দিলি আলতো হেসে,
হাজার খুশি ছড়িয়ে দিলি আকাশ বাতাসে,
বাঁকা শিকদাঁড়া সোজা করে উঠে দাড়িয়েছি
স্বপ্ন গুলো পকেট বন্দী করার জন্য।

নুর আদিল সেখ




পাখির পরিবার 



ঘুরে ঘুরে গ্রাম ঘুরে 
আমি চলি পাখির খোঁজে ।
সেজে সেজে সং সেজে 
ঘড়িতে পাঁচটা বাজে ।
বনে-বনে ঝোপে ঝোপে 
কতো পাখি সেজে থাকে ।
তারা সব জেগে ওঠে আর 
খ্যাদ্যের আহারে ছুটে ।
ঝাকে-ঝাকে একে-বেঁকে 
ছবি আঁকে খোলা আকাশে ।
পথে ঘাটে জানালাতে বসে 
গান ধরে সরু ঠোটে  টান দিয়ে  ।
সন্ধের ধ্বনি পেয়ে তারা 
ছুটে সব নিজ নিজ বাসাতে।

শিবনাথ মণ্ডল




জাগো দূর্গা জাগো


শরৎএল আশ্বিনে
ঢাকে বাজে বোল
কচি ধানের ক্ষেতেওঠে
ঢেউয়ের কত দোল।
শিউলী ফুলে সুবাস ছড়াই
কাশফুলের রাশি
ছেলে বুড়ো সবার মুখে
মৃদু মৃদু হাসি।
নতুন বস্ত্র দেখলে দূর্গা
বড্ড খুশী হয়
গরিব দুঃখী সবাই যেন
নতুন বস্ত্র পায়।
মহালয়া এসে গেল
আর কটাদিন পরে
পাড়ায় পাড়ায় পূজোর গল্প
আনন্দে ছড়িয়ে পরে।
সবাই মিলে দেখবো ঠাকুর
শহর থেকে গ্রামে
নতুন পোষাক কিনুক সবাই
অল্প বেশি দামে।
দূর্গাদেবী জেগে ওঠো
ত্রিশূল নিয়ে হাতে
দস‍্যু দানব ঘুরে বেড়ায়
আজকে দিনে রাতে।
মাগো তুমি ছেড়েদাও
আগের মহিষাসুর
শয়তানদের বধ কর মা
যারা এই সমাজের অসুর।।

গৌরীশংকর মাইতি





শিউলি ফুল



শিউলি গাছে শিউলি ফুল
পাতার ফাঁকে ফাঁকে,
শরৎ হাসে মেঘের দেশে
আকাশের বাঁকে বাঁকে।

শরৎ শিউলি গন্ধ ছড়ায়
তিতলি ঝাঁকে ঝাঁকে,
বাউল বাতাস বইছে ধীরে
পথের বাঁকে বাঁকে।

শরৎ শিশির ভোরের বেলায়
ঝরে শিউলি ফুলে,
ঢাকে কাঠি ঢ্যাম কুড়া কুড়
পুজোর ছুটি স্কুলে।

শিউলি ঝরে গন্ধ ওড়ে
শিশির ভেজা ঘাসে,
পুজোর ছন্দ মনে আনন্দ
বাতাসে ভেসে আসে।

কিচিরমিচির পাখি ডাকে
শিউলি গাছের শাখে,
মৌটুসী ঐ নাচছে দেখো
রোদের আলো মেখে।

মৌমাছি ওড়ে দলে দলে
ডানায় ডানায় গান,
শিউলি গাছে নাচছে তারা
পুজোর কলতান।

মোঃ ইমরান হোসেন





শূন্যের সুখ


সর্বহারার মতোই আমি সব হারাতে চাই 
সব হারিয়ে একটা মানুষ, শুন্য জীবন চাই
শুন্য হলো বাঁচার সংখ্যা, শূন্যে শপথ করি
কষ্ট গুলোয় শূন্য দিয়ে পুণ্যর রুপ ধরি।

 সকাল বিকাল যার নামে সাঁই, যপি তোমায় রাখি
তার মুখে আর পেলাম না ক আমার নামের সারি
তাই তো আমি ভীষণ একা, হাজার প্রাণের ভীরে
এক মানুষে সস্তি খুঁজি সুখ সাগরের জলে।

সদ্য প্রেমের তপ্ত জ্বালার সংখ্যা বুকে বয়
শংঙ্কা হিয়ায় সংখ্যা রোগের বিয়োগ ব্যথা হয়
প্রেম হোক তোমার শরৎ-সঙ্গী তোমার ভেতর থাকুক
দোকলা বিহীন আমার জীবন, এমনি করেই বাঁচুক। 

তাই শূন্যে খুঁজি আমার সর্গ, শূন্যে করি বাস
সংখ্যার মাঝে চাই না আমি আমার সর্বনাশ।

ফরমান সেখ




স্মৃতি কথা



যখন আমি  বিদ্যালয়ে
      নব নতুন ঢুকি--
তখন আমি  সবে মাত্র
    নয় বছরের বৈকি!

মনে মনে  আনন্দতে
    উঠতো ভরে এসে,
একলা তবু  স্বপ্ন গুলো
    ফিরতো হেঁসে হেঁসে।

তখন আমি  নব নতুন
    নতুন সকল গুরু--
শ্রেণীকক্ষে  বুকের পাঁজর
      কাঁপতো দুরু দুরু।

জানলা দিয়ে  মন যে আমার
     ছুটতো সর্বক্ষনে,
উড়ান দিতো  বায়ুর পথে
     ঘুরতো বনে বনে।

বিদ্যালয়ে  চলার পথে
     অল্প কিছু স্মৃতি,
বলে গেলাম  তোমার দ্বারে
     গেয়ে গেলাম গীতি।