০৭ অক্টোবর ২০২১

তাজ ইসলাম




যাদুকর এসে গেছে


যাদুকর এসে গেছে
মানুষের গালে কামড়াবে কুকুর
মানুষের ভুঁড়িতে কামড়াবে কুকুর
মানুষের সম্মানে কামড়াবে কুকুর
আপনারা এই কুকুরটিকে দেখবেন 
এটি একটি মানুষ
কী চমৎকার যাদু না!
যাদুকর এসে গেছে
এখন যাদু দেখাবেন
মানুষের কীর্তি উল্টে দেবে কুকুর
মানুষের সুনাম কামড়াবে কুকুর
নেকাব কামড়াবে কুকুর
লকব কামড়াবে কুকুর
খেতাব কামড়াবে কুকুর
ইজ্জতে কামড় দিবে কুকুর
যাদুকর তার যাদু মন্ত্র বলে
এই কুকুরটিকেই দেখাবে 
এটি একটি মানুষ।
যাদুকরের যাদুর ভেলকিতে
বিজ্ঞতা ছাড়া বুঝার উপায় থাকবে
মানুষের রূপে এটি আসলে
একটি কুকুর
কেননা যাদুকর তার যাদু মন্ত্রে
মজমায় হাজির করলেন
মানুষের মত করেই একেকটি কুকুর
যেমন প্রবল কৌতুহলে একটি শিশু
ভীড় ঠেলে গিয়ে দেখে
চোরটা দেখতে অবিকল মানুষ।

গোলাম কবির






কতিপয় মানুষ ও মুশোশধারী বরাহরা


  ইউক্যালিপটাসের বাকল যেমন খসে পড়ে
  তেমনি আবারও সুন্দর ভাবে যদি 
  গজিয়ে উঠতো সভ্যতার ছাল চামড়া,
  তবে আমার কোনো দুঃখ ছিলো না! 
  কিন্তু হায়! অশোকের বাকল 
  ছাড়িয়ে নেবার পরও যেমন বৃক্ষটি 
  বেঁচে থাকে কায়ক্লেশে তেমনি করেই  
  কায়ক্লেশে বেঁচে থাকে কতিপয় মানুষ! 
  অথচ অন্যদিকে মানুষ নামের মুখোশধারী 
   বরাহরা পৃথিবীকে কাদাজল বানিয়ে 
   আনন্দে কী ভীষণ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে!


রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়,৭

 চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 




                                    উদাসী মেঘের ডানায়  
                                                 (পর্ব সাত)


পরদিন ওরা আবার ফিরে এলো কক্সবাজারে
বেশ রাত হয়ে গেলো।
রাতের ডিনার আজ তৃষ্ণাই অর্ডার দিয়েছে
খেতে বসে অপু বললো
ঃএকি আজ মাংস দিতে বললি?
ঃআমি এসে থেকে দেখছি অপু দিব্য দুবেলা মাংস
খেয়ে,যাচ্ছো, মাছ,সবজি নাম মাত্র খাচ্ছো, আজ
মাছ সবজি ডাল খাবে।
ঃআমার তো তাহলে খাওয়াই হবেনা প্লিজ গরু বা
খাসির মাংস না হলে।
ঃতাই বেশ মুরগী দিতে বলছি তাহলে।
ঃমুরগী আমি খাবোনা।
ঃকেন?
ঃমুরগী শিয়ালে খায়, আমি কি শিয়াল
তৃষ্ণা হাসতে হাসতে বললো
তুমি কি,বাচ্চা নাকি, একি সমস্যা মাংস ছাড়া খাবেনা
বলছি কিন্ত একপিস রাজি।
রাজি।
ঃখাও খেয়ে খেয়ে বিশাল ভুড়ি বানাও তখন বুঝবে ঠেলা
ঃআমি রোজ এক্সসেসাইজ করি হবেনা।
ঃবড্ড পেটুক তুমি।
খাওয়া,শেষে দুজন কিছুটা সময় গল্প করলো
ঃতৃষ্ণা বললো যাই রুমে ঘুম পাচ্ছে।
ঃকাল কিন্তু সমুদ্রস্নানে যাবো তারপর বারোটায় ঢাকায় রওনা হবো।
আমি স্নান করবোনা সাঁতার জানিনা ভয় করে।
ঃকাল দেখা যাবে যাও ঘুমাতে
শুভ রাত্রি
শুভ রাত্রি...


                                                                                                                      চলবে....

আশ্রাফ বাবু


শব্দহীন মনের আস্তানা


অন্যমনস্ক সন্ধের আঁধারে হাওয়া শুনি 
জেগে ওঠে মায়া আর নির্জন ভয়ের আখ্যান
পাখিদের ঘিরে জমে ওঠে হেঁসে ওঠে
আমার কিছুক্ষণ চুপচাপ ইহকাল !

মেঘের ভাঙা মন মেলে দিয়ে বসে আছে
ভেসে আসছে কাঁপানো বীরের বাঘের ডাক 
শুনে তবু শুকিয়ে মুখ- চোখ হাতচাপা !
সূর্য গেছে,আলো গেছে,দৃপ্ত গান রচিত হয়েছে। 

সুরের গোধূলি জাঁগে আকাশ প্রান্তরে 
অকস্মাৎ শব্দহীন মনের আস্তানা জুড়ে
অল্প সূত্র জানা আছে আলোর আড়ালে
জমে উঠছে অন্ধকার,শান্ত তাকিয়ে গোল চাঁদ।

ঘন্টাধ্বনি জেগে থাকে জনপদে
রাত্রি বলে চেনা যায় না আজ লুকানো আলোয়,
অন্যমনস্ক সন্ধের আঁধারে হাওয়া শুনি 
আলো গেছে,মন হারিয়ে যেতে চায় সেখানে।

সফিক ইসলাম




মন ভালো নেই


মন ভালো নেই
আজকে আমার মন ভালো নেই
শ্রাবণ মেঘের  বৃষ্টি ঝরার এই দিনেও মন ভালো নেই।
নিয়ম ভাঙার লৌকিকতা পার করেছি খুব সহজেই 
তবু আমার মন ভালো নেই। 
আজকে শুধু তোমার কথা ভীষণ করে পড়ছে মনে
বিষের নীলাভ দহন ব্যথাই পুড়ছে কেবল হৃদয় কোণে
স্মৃতির বনে জ্বলছে আগুন ; মেঘ চাতালে  বৃষ্টি শুকাই
আটপৌরে  সুখ খুঁজতে যেয়ে শ্রাবণ থেকে মুখটা লুকাই। 

অথচ কী দারুণ ছিল একটি সময়, পুলক জলে যেতাম ভেসে বৃষ্টি হলে---
অনুভবে জমতো কেবল ব্যাকুল করা ভালোবাসা পলে পলে। 
চোখের পাতায় নাচতো শুধু  তোমার দেহের ধ্রুপদী তাল  
বৃষ্টিজলের শব্দ শুনে কার যে পায়ের নূপুর ভেবে যখন তখন হতাম মাতাল,
ভালো করেই  এসব তোমার ছিল জানা ----
তাই কি তুমি মিষ্টি হাসির ছলনাতে বদলে গেলে এপথ ভুলে!
তাই কি তোমার বিষের এমন ছোবল হানা!

আজকে কেন  শ্রাবণ আকাশ  বিষণ্নতার মেঘে ভরা
আজকে কেন সব কিছুকেই লাগছে এমন দিগম্বরা
 কার অপেক্ষায় দিন কাটে তো রাত কাটে না
একাকীত্বের যাপনবেলায়  কিছুই তো আর  ভাল্লাগে না।
 
মন ভালো নেই ----
আজকে আমার মন ভালো নেই
হাজার কয়েক বইয়ের মাঝেই  আমার এখন বসত ঘর
ভালো করেই জানি আমি বই কখনো করে না পর,
বইয়ের সাথেই সখ্য গড়ি, যেমন ইচ্ছে সে বই পড়ি
তবু আমার মন ভালো নেই। 
এসব বইয়ের পাতায় পাতায় জমে থাকা স্মৃতির ধুলো
খুব যতনে আগলে রাখি অমূল্য সেই ছোঁয়াগুলো
তবু আমার মন ভালো নেই। 

সব কিছু আজ এলোমেলো জীবন থেকে হারিয়ে গেলো  যেটুক সময়
সেই কথাটা মনে রেখে  কী আর হবে,  একটি ভুলেই ভীষণ ক্ষতের সৃষ্টি যে হয়
সে ই জানে ক্ষতটা যার, সারা জীবন ক্ষতের দহন  তার কেমনে সইতে  যে হয়।

মন ভালো নেই--
আজকে আমার একটুকুও মন ভালো নেই
শ্রাবণ ধারার বৃষ্টি জলে সব ধুয়ে আজ সাফ হলেও                                    মনের ব্যথা আজকে আমার রইল মনেই।

অরণ্য আপন




তার মুখ একটি বন্ধুত্বপূর্ণ পাখি



এই আকাশ মরে যাবে; চলে যাবে চোখের ভাষা থেকে
যে হৃদয় আমি রেখেছি হাতে
ছেড়ে গেছে সে সন্ধ্যা ফুরানো রাতে
তারপর অনেকদিন তাকে ঘুঘুর চোখের মতো গেছি ডেকে 
শরৎ যেভাবে রোদ ডেকে নিয়ে আসে চোখে 
আশ্বিনের এই রাতের গায়ে পড়েছে তার অক্ষরের ছায়া
আমার মৃত চোখে অন্ধকার নিবিড় হয়ে আসে, ডাক দেয় কষে তার মায়া 

কতদিন হায় ঘর ছেড়েছি তার কাছে হৃদয় রেখে
তাকে দেখি না, হয়তো কোনোদিন আমি তাকে দেখিনি
অন্ধকারের ঘ্রাণ পেয়ে সে চলে গেছে ভোরের মুখ অন্ধকার করে
তার চোখ আমাকে খোঁজে না, তার মন আমার কথা বলে না 
আমার পৃথিবী একদিন মরে যাবে তার পেঁচা ডাকা ঘরে 
দুপুরের মাঠ ভরে জোহরের আজান একা একা ঘোরে 
জানি না আশ্বিনের কোন রাত তাকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে আসবে ভোরে...

০৫ অক্টোবর ২০২১

শারমিন সুলতানা রিনা




মেলেনা হিসেব


বিরহ আগুনে পুড়ে যদি মরি
ভয় তাতে বলো কিসে
তুমিতো থাকবে চিরকাল এই
আমার ভূবণে মিশে 

নিভৃত প্রেমের বিনিময়ে কেউ
কখনো পেয়েছে সুখ
তবু জ্বলে পুড়ে ভালোবেসে কেউ
মিছেমিছি বাঁধে বুক 

সেই কবে কোন এলোমেলো ক্ষনে 
চোখ ছিলো টলমল
সেই অশ্রুতে আজ পূর্ণ দীঘি
ঝলমল করে জল 

প্রেমিক হৃদয় হিসেব করে কি
কখনো বেসেছে ভালো
অনেক হিসেব মেলেনা জীবনে 
যতো পুড়ে হোক কালো

নীলাচল চট্টরাজ




অনন্তদর্শন 


প্রকৃতি আমায় বলেছিলো
তাদের কথা শুনতে
প্রকৃতি আমায় শিখিয়েছিল
তাদের কথা লিখতে
প্রকৃতি আজ হাতের মুঠোয়
অচেনা রূপ দেখছি
অজানা তার বহু পরিবার
হাওয়ায় পাখা মেলছি



রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়,৬

 চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়" আজ তৃতীয় দিন। 
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে।




                    ঊদাসী মেঘের ডানায়

                                                                               ( পর্ব ছয়

                   ঙ্গল ঘেরা গ্রামগুলি ঘুরে ঘরে দেখছে
গ্রামের চাষের মাঠে আদিবাসি মেয়েরা লাঙ্গল টানছে
নীলগিরি হিলস দেখে মনে হচ্ছে বিধাতার কি নিপূণ সৌদর্ষে নিজ হাতে সাজিয়েছেন এই অসামান্য প্রকৃতি
সব ক্লান্তি ধুয়েমুছে এক ধরনের মগ্নতায় আচ্ছন্ন করে
রেখেছেন,মনে জাগে রোমান্স।
আদিবাসীদের ভাষা রীতিনীতি  সমাজ ব্যাবস্হার
মধ্যদিয়ে এসব জায়গা কল্পকথার বিষয়বস্তুু
জঙ্গলাকীর্ণ অন্ঝল এখানটায় কম চাষের মাঠ ও খুব
কম কিছুটা যেনো শহরে রূপান্তরিত হয়েছে কেবল
প্রকৃতির মনোলোভা দৃশ্যগুলো এখনো রয়েছে বিধায়
পর্ষটকরা ছুটে আসেন।
ঘুরতে ঘুরতে খেয়াল হলো সন্ধ্যার মুখে সূর্য চলে গিয়েছে,পাহারের কোল থেকে মেঘেরা উদাও পূর্ণিমা
তার আগমনি বার্তা জানাচ্ছে।
ফিরে এলে রেষ্ট হাউজে।রাতের ডিনার সেরে নিলো
নয়টায় তারপর দুজনাই খোলা বারান্দায় এসে দাঁড়ালো, পূর্ণিমা তার রূপের ডালি ছড়িয়ে দিয়েছে
পাহারের গায়ে কি অপরূপ সেই আলো।
কখন যে অপু পিছনে দাঁড়িয়ে তৃষ্ণার কাঁধে হাত রেখেছে কেউই বুঝতে পারেনি এতোটাই তন্ময়
হঠৎ তৃষ্ণা বললো ধন্যবাদ অপু তুমি না নিয়ে এলে
দেখাই হতোনা পূর্ণমার রহস্যময় এই রূপ।
আমি তো দেখছি আরএকটি পূর্নিমার আলোয় তোমার অবয়ব জুড়ে কি তার আর্কষণের ক্ষমতা
আমাকে টানছে অয়কান্ত মনির মতো এক আলোকিত
চুম্বকের মতন।
তৃষ্ণা ওর মুখোমুখি ঘুরে দাঁড়াতেই অপু আলতো করে তৃষ্ণার কপালে চুমু দিয়ে বললো -
ঃ অনেক কিছু পেলাম, আজ এই পর্ষন্ত বাকির খাতা সময় মতন পূর্ণ করে নিবো।
 এবার চেয়ার টেনে অপু তৃষ্ণাকে বসতে বলে
 নিজেও বসলো তৃষ্ণা অপুর কাঁধে মাথা রেখে পূর্নিমা দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়লো।
অপু ওর চুলে হাত বুলাতে বুলাতে চেয়ারেই ঘুমিয়ে
পড়েছে...। 
চলবে

হামিদ সরকার




কাব্যের দেহে সৌরভ
 

কবিতাকে নিয়ে সবাই মাতে
রাত্রি কাটে কবিতারই সাথে,
ঘুমকাতুরে জাগে সারারাত
কাব্যেরবুকে প্রেমিকার হাত। 

স্বপ্নে বিভোর কবিতার ঘ্রাণে
অসমদোলা লেগেছে প্রাণে,
শৃঙ্খল হৃদয়ে এলোমেলো ঝড়
কী অদ্ভুত শক্তি কবিতা তোমার। 

কবিতার দেহে বর্ণিল সৌরভ
রাত্রিনিশিথে প্রাপ্তিতে গৌরব,
রাগ-অভিমান কবিতার সাথে
ধরা দিয়েছে জ্যোসনা রাতে। 

চাঁদের আলোয় কবিতার স্নান
আচমকা মেঘ করে দিল ম্লান।
নগ্ন কবিতা সারা রাত্রি জুড়ে
তৃপ্ত করেছে হৃদয় উজাড় করে।














১৫.৯.২০২১ প্রথম প্রহর।

রাবেয়া পারভীন এর ধারাবাহিক ছোট গল্প "কালো ক্যনভাস"শেষ পর্ব




                                           কালো ক্যনভাস 
                                                                      ( শেষ পর্ব


- এখন কি একটু সুস্থ বোধ করছেন?
হঠাৎ প্রশ্নটি শুনে চমকে ইশতিয়াকের  মুখের দিকে তাকালো  নীলা। কোন উত্তর না দিয়ে  তীর্যক দৃষ্টিতে  ইশতিয়াকের  দিকে তাকাল সে। মনটা তেতো হয়ে গেছে তার। লোকটা কি নির্লজ্জ নাকি তাকে চিনতে পারেনি ?  কাকে জিজ্ঞেস করবে  নীলা ? ইচ্ছে করছিলো ইশতিয়াকোর দুই গালে কষে দুইটা থাপ্পর মারতে ।  দাঁতে দাঁত চেপে  কড়মড় করে তাকিয়ে রইল নীলা।  তাঁর কপালে বিরক্তির ভাঁজ পরেছে। ব্যাপারটা  লক্ষ্য করে  ইশতিয়াক একটু অপ্রস্তুত  হলো। সেও ভাবছিলো  মেয়েটি তার দিকেই বিরক্তি  প্রকাশ করছে কেন ?  ও আসলে কে ?  কত মেয়েকেই তো সে চেনে  ঘনিষ্ঠ ভাবে। সে কি তাদের কেউ ?  তবে যেই হোক  মেয়েটি কিন্তু দারুন সুন্দরী। একবার তাকিয়ে চোখ ফেরানো যায়না। মনে মনে একটু খুশিই  হলো  তাঁকে সহকর্মী  হিসেবে পেয়ে । সুযোগ বুঝে  একদিন  খুব করে তাঁর  রূপের প্রশংসা করতে হবে। কারন  রূপের প্রশংসা করলেই মেয়েরা গলে যায়। ইশতিয়াক কে নির্লজ্জের মত তাকিয়ে থাকতে দেখে  এবার নীলা মুখ খুলল
- আমাকে  চিনতে পেরেছেন  স্যার ?
হেসে  ইশতিয়াক বলল
- আমারও কেমন যেন  চেনা  চেনা লাগছে  আপনাকে কে বলুন তো !  
এক সেকেন্ড দাঁতে  ঠোঁট কামড়ালো নীলা।  তারপর বলল
- আমি  নীলা সেই যে আমাকে আর আমার ভাই নয়নকে পড়াতেন আপনি। আমার আব্বুর নাম জালাল আহমেদ। কাউকে কিছু না বলেই  আমাদের বাসা থেকে চলে গিয়েছিলেন।  আপনি কি সেদিন পালিয়ে গিয়েছিলেন  স্যার ?
প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিয়ে  ইশতিয়াকের দিকে তাকিয়ে রইল নীলা। মুহূর্তের  মধ্যে  ফ্যাকাসে সাদা হয়ে গেল ইশতিয়াকের চেহারা। কপালে দেখা দিল বিন্দু বিন্দু ঘাম। পা দুটোও মনে হল কাঁপছে।  সেই নীলা  যেন  যমদূত হয়ে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। সত্যি ই সেদিন পালিয়ে গিয়েছিলো  ইশতিয়াক কিন্তু একবারের জন্যও  মনে  হয়নি  এতদিন পরে এসে কৈফিয়ত  দিতে হতে পারে। ইশতিয়াকের অবস্হা দেখে এতক্ষনে একটু মুচকি হাসি ফুটে উঠল  নীলার ঠোঁটের কোনায় ।

গোলাম কবির




প্রকৃত মানুষ 

  প্রকৃত মানুষ একলা ভীষণ, 
  সমুদ্রের এক একটি আছড়ে পড়া 
  ঢেউয়ের চেয়েও একা, 
  মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা 
  তালগাছের চেয়েও একলা ভীষণ! 
  প্রকৃত মানুষ মানেই দুঃখী মানুষ, 
  প্রকৃত মানুষ মানেই নিদ্রাহীন মানুষ,
  প্রকৃত মানুষ মানেই এখন 
  সবার চোখেই ব্যর্থ মানুষ!

লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল" ৫

চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শান্তা কামালী'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "বনফুল" 




                                                                    বনফুল 
 
                                                                        ম পর্ব 

                                      জুঁই গাড়িতে উঠে বসলো, কতরকম ভাবনারা দোল খেলে যাচ্ছে জুঁইয়ের মনে। পলাশের সাথে দেখা হওয়ার পর কোথা থেকে শুরু করবে ইত্যাদি। 
এই ভেবে ভেবে কখন যে এজিবি পয়েন্ট চলে এসেছে জুঁই বুঝতেই পারেনি, ড্রাইভার বললো মেমসাব আমরা এজিবি পয়েন্ট চলে এসেছি, জুঁই বাস্তবে ফিরে এলো। জুঁই এদিক ওদিক দেখতে লাগলো পলাশ নির্দিষ্ট  পয়েন্টে এলো কি না, জুঁইয়ের চোখ পড়লো সামনেে গলির দোকানের পাশেই পলাশ দাঁড়িয়ে আছে। জুঁই ড্রাইভারকে বললো ঐ দোকানটা সামনে যান,পলাশের সামনে গাড়ি থামতেই জুঁই গাড়ির দরজা খুলে পলাশকে গাড়িতে উঠে আসতে বললো, পলাশ ও কোনো রকম সংকোচ না করেই জুঁইয়ের পাশের সিটে বসলো। জুঁই ড্রাইভারকে হাতিরঝিলে যান। 
পলাশ বেশ আশ্চর্য হয়ে জুঁইকে দেখছে …..
এর আগে অনেক বার জুঁইকে দেখেছে কিন্তু জুঁই এতো সুন্দরী, সেটা সে কোনো দিন ভালো করে তাকিয়ে দেখেনি। 
কি অপূর্ব সুন্দর দেখাচ্ছে জুঁইকে, হয়তো শাড়িতে আরো বেশি সুন্দর লাগছে। জুঁই প্রশ্ন একটা করে কোনো উত্তর পাইনি।
  সিটে বসার সাথে সাথে জুঁই জিজ্ঞেস করেছিলো কেমন আছেন?
পলাশ উত্তর দিতেই ভুলে গেছে.... 
ড্রাইভার বললো মেমসাব  আমরা হাতিরঝিল চলে এসেছি। জুঁই পলাশকে বললো নেমে আসুন, জুঁই ড্রাইভারকে বললো আপনি গাড়ি কোথাও পার্ক করে রেখে দিন। জুঁই পলাশকে বললো সামনে চলুন কিছুটা সামনে গিয়ে খুঁজে একটা নিরিবিলি জায়গা দেখিয়ে জুঁই পলাশকে বললো চলুন  ঐখানটায় বসি । মুখোমুখি দুজনেই চুপচাপ বসে আছে, কি বলবে ঠিক বুঝতে পারছেনা জুঁই!
ঠিক তখনই পলাশ বলে উঠল হঠাৎ করে আমাকে কেন ডেকেছো বলতো? 
নিরবতা ভেঙে জুঁই উত্তর দিলো, ডেকেছি যখন বলবো তো নিশ্চয়ই, আমি আপনার কাছে সরাসরি একটা কথা জানতে চাইছি? আপনি কি কাউকে পছন্দ করেন?  পলাশ উত্তর দিলো বুঝতে পারলাম না। 
আপনি কি কাউকে ভালোবাসেন ?
পলাশ উত্তর দিলো সেই সৌভাগ্য আমার হয়ে ওঠেনি, আমার মতো বিত্তহীন ছেলেদেরকে কেউ ভালোবাসে না। 
জুঁই বলে উঠলো ভাগ্যিস  কেউ বাসেনি। 
পলাশ বললো মানে? 
জুঁই হালকা করে উড়িয়ে দিলো কথা টা। মানে টা আমিও জানি না। 
পলাশ যতবার জুঁইয়ের দিকে তাকাচ্ছে চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে, কি অপরূপা সুন্দরী। 
জুঁই হঠাৎ করে বললো আমি আপনাকে সরাসরি একটা কথা বলার জন্য ডেকেছি। 
আমি আপনাকে ভালোবাসি..
জুঁইয়ের মুখে ভালোবাসার কথা শুনে পলাশের চোখ ছানা বড়া হয়ে গেছে, কোথায় জুঁই আর কোথায় সে.... 
পলাশ বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে বসে ভাবতে লাগলো। জুঁই পলাশকে প্রশ্ন করলো কিছু বলছেন না যে? 
পলাশ কি উত্তর দিবে ঠিক বুঝতে পারছেনা।


                                                                                                         চলবে....