মোবাইলে টাইম পাশ, সম্বৃদ্ধ উল্লাস সাহিত্য হাসি ঠাট্টা খুনসুটি বিন্দাস পড়তে হবে নইলে মিস করতেই হবে। মোবাইল +91 9531601335 (হোয়াটসঅ্যাপ) email : d.sarkar.wt@gmail.com
১১ সেপ্টেম্বর ২০২১
সোহেল চৌধূরী
রুকসানা রহমান
শহিদ মিয়া বাহার
মানুষের কোন সূত্র নেই
আকাশের কাছে যেয়ে বলেছি
হে আকাশ
দু:খ থাকে যদি পরিবর্তনের তবে তুমি মানুষে রূপান্তরিত হও
মানুষের মত পরিমন্ডিত অভিনেতার রাজপোষাকের শিল্পীত শ্লোক হও
পরিচ্ছদ পাল্টানো বিপ্লবী না হয় প্রেমিকের অভিনিত অভিজ্ঞানের আকর,
মনোরঞ্জিত কন্ঠের উথাল পাথাল হও!
অত:পর তোমাকে নিয়ে চন্দ্র-উৎসব হবে গীতশ্রী উদ্যানে, প্রলুব্ধ পৃথিবীর!
হায়---আকাশ সরে গেল আমার কাছ থেকে একটু একটু কোরে
আকাশের সূত্র আছে জানাল; পরিবর্তনের!
পাহাড়ের কাছে যেয়ে বলেছি
হে পাহাড়
দু:খ থাকে যদি পরিবর্তনের তবে তুমি মানুষে রূপান্তরিত হও
মানুষের মত যুদ্ধবাজ না হয় প্রতারক চোখের টিউলিপ সৌরভ,
লজ্জাহীন মুদ্রায়িত ঠোটের মোহিত সংলাপ হও!
অত:পর তুমি পূজোয় পূজোয় শাণিত হবে
তোমাকে নিয়ে তোপধ্বনি হবে প্রার্থনায়
বন্দনায় বন্দনায় মিছিলের পর মিছিল।
হায়---পাহাড় সরে গেল আমার কাছ থেকে একটু একটু কোরে
পাহাড়েরও কানুন আছে জানাল
নিয়ম আছে স্থিরতার!
সূর্য, বৃক্ষ, মৃত্তিকা, তরুলতা
সমুদ্র থেকে মহাসমুদ্রের
জনান্তিকে জেনেছি
সূত্রহীন পরিবর্তনে স্থির থাকে স্বার্থহীন গতিরেখা তাদের!
অথচ পরিবর্তনশীল চর্চিত মানুষের হে বিধাতা
রূপ রূপান্তরের কোন সূত্র নেই!
হে পৃথিবী
আজো আমি তোমার চলন্তিকায় আরণ্যক রাহাগির
জীবের মতই একটি আবিষ্ট জীব হয়ে আছি
এখনও ঈশ্বরের মানুষ হয়ে উঠিনি!
ফরিদা আলম
১০ সেপ্টেম্বর ২০২১
সুমনা
অন্ধকার-রোদ্দুর আর টিন চশমা
মেয়েটাকে বরাবর আমি দেখে এসেছি , কাছ থেকে , খুব কাছ থেকে ;
দূরবীনের কাঁচের মসৃণ আঁচে আমি ওকে ছুঁয়ে ও দেখেছি প্রচন্ড উত্তাপে---
ভিজে চুলের জলে যখন সদ্যোস্নাত গ্রীবা রোদ পোহাতে এসেছে সবে,
আমি তখন ও ওকে ছুঁয়েছি।
ও রাগে, কৌতুহলে বিষ্ময়ে বলেছে, আমার চোখের সামনে যে জমাট বাঁধা কালো,তা নিয়ে ঠাট্টা করেন?
ও বিশ্বাসই করে না, আমি প্রতিটা স্পর্শের পঙ্গুত্বে ওকে ছুঁয়েছি।
বিকেলের রোদ এসে পড়ে আমার নিথর জানলার কাঠে;
ঠিক পাশেই ঘুমিয়ে থাকে আমার অবশ শরীর, বুড়ো কলমের নিব, আর সেই দূরবীন!
বোধ হয় তার স্নিগ্ধতায় ভেসে ওঠে একটা হাত;
আমি তাকে ছুঁই,আলগা খোঁপায় জুঁই!
আর থাকে রোদ্দুর ওর ঠোঁটে।
তাও পাগলিটা বলে, ভালোবাসেন বলেই মিথ্যে বলেন?
না, মিথ্যে বলে বাকি সব, এই ঘর, এই লোক, এই পাড়া!
অবুঝ আঙুল হাতড়িয়ে ও বলে, কি মিথ্যে বলে ?
আমি এমন সময়ই বোবা হয়ে যাই,
সঙ্গে সঙ্গে উগ্র সন্ধ্যা নামে,
ওই জানলার কাঁচে মুখ মিলিয়ে যায় ইলেকট্রিক আলোয়,
সব সুবাস কেড়ে নেয় ওদের আধুনিক শব্দ।
চোখের সামনে হুড়মুড়িয়ে নেমে পড়ে টিনচশমার আবছা ধূসর ছবি।
জানলার দুই পারে পড়ে থাকে দুটো নিস্তব্ধ পঙ্গু ভালোবাসা।
রোকসানা সুইটি
কদাচিৎ দুঃস্বপ্ন
প্রতিশ্রুতি ছিলো সমুদ্রের বিশালতা দেখতে যাওয়ার,
নাকি মিথ্যা স্বপ্নের ব্যসাতী সাজিয়ে প্রলুব্ধ করলে!
জানা হলোনা...
সাহস হয় যদি কোন দিন একাকিত্বের বাঁধন ছেঁড়ার...
তবে কী শূন্যতা ঘেরা জীবন পূর্ণতায় ভরপুর হবে?
কি এক কদাচিৎ দুঃস্বপ্ন গ্রাস করেছিলো ,
সেই চোখের বিস্ময়ে বিশালতা খুঁজে পাইনি পড়ন্ত বিকেলে,
পড়ে যাওয়া কফির মতোই উপচে পড়লো স্বপ্ন গুলো...
পুড়ে যাওয়া স্বপ্নেরা ভাবনার করিডোরে হেঁটে যায় নিঃশব্দে...
তবে কি, কখনো কখনো অপ্রয়োজনেও ভালোবাসা হয়!
মোহাম্মদ সোহেল রানা
ক্ষমা করে দিও দাদীমা
দাদীমা তোমার কোলে হয়েছি
আমি শিশুকাল থেকে মানুষ,
কত যাতনা দিতাম দাদীমা গো
যখন আমি ছিলাম ছোট্ট অবুঝ।
শীতের রাতে দাদীমা গো রাখতে
আমায় তোমার ঐ বুকে জড়িয়ে,
দাদাভাই আমার শীতে কষ্ট পাবে
সর্বদা তুমি থাকতে সেই ভয়ে।
রাতের খাবার খাইয়েছো দাদীমা
মোরে কত আদর সোহাগ করে,
দাদীমা তোমার সোহাগে শতকষ্ট
মান-অভিমান যেতো আমার ঝরে।
দাদা কেমন দেখিনি আমরা কেহ
ছোট থেকে ডেকেছি দাদা তোমায়,
দূর প্রবাসে এলাম যখন আঁচল দিয়ে
মুখটি মুছে বলে ছিলে ভুলোনা আমায়।
ওগো দাদীমা তোমার দেওয়া শিক্ষা
আমি সর্বক্ষণ যাচ্ছি পালন করে।
কারো সঙ্গে করবে না ঝগড়া ঝাটি
শক্রকে ক্ষমা করে রাখবে বুকে ধরে।
নয়টি বছর প্রবাস জীবন আমার
দাদীমা সবার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে,
আজ কোরবানি ঈদের দিনে বিধাতা
পৃথিবী থেকে তোমায় গেলেন নিয়ে।
ক্ষমা করে দিও দাদীমা!শেষ বিদায়ে
পারলাম না তোমায় স্পর্শ করে দিতে,
পারলাম না রাখতে তোমার মনের আশা
নিথর দেহ কাঁধে করে গোরস্থানে নিতে।
দাদীমা তুমি ছিলে অতি পরহেজগার
তার প্রমাণ দিয়ে গেছে এ মৃত্যু তোমার
কোরবানীর পবিত্র দিনে তুমি চলে গেলে
দোয়া করি পরকালে জান্নাত যেনো মিলে।
শরিফুর রহমান
প্রেম আরতি
হেরিয়া তব সুধাময়ী রূপ
তপস্বীর ধ্যান হয়েছে ভঙ্গ,
তপোবন ছেড়ে সাধনা ভুলিয়া
প্রেম যমুনায় মজেছে অঙ্গ।
মম মন্দিরে তব প্রতিমা বসেছে
উলুধ্বনিতে বাজিছে শঙ্খ,
ধূপের গন্ধে মাতাল মদিরা
অারতিতে ভাসে হৃদ মৃদঙ্গ।
ষষ্ঠী বুঝিনা; বুঝিনা দশমী
যেতে নাহি দেবো কস্মিনকালে,
পান করায়ে অাজি প্রেমেরো সুধা
পোড়াবো তোমায় হৃদ চিতানলে।
সজিব আল হাসান এর ছোট প্রবন্ধ
ছোট প্রবন্ধ
বাস্তব জীবনে আমরা এমন কিছু কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে যাই যেটার জন্য আমরা কখনই প্রস্তুত থাকিনা। আমাদের জীবনে যদি খারাপ সময়টা না আসতো আমরা হয়তো জীবনের আসল মানেটা বুঝতে পারতাম না।
খারাপ সময়টা এসে বুঝিয়ে দেয়, আমি আসলে যেভাবে চলতেছি, এভাবে জীবন চলেনা। খারাপ সময়টা না আসলে হয়তো জানা হতোনা বাস্তবতা এত বেশি কঠিন। খারাপ সময়টা না আসলে হয়তো আমি আমার ভুলগুলো কখনোই বুঝতে পারতাম না, আমার এক জীবন কেটে যেত ভুলে ভুলে।
তবে প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে এমন কিছু ভয়ঙ্কর যন্ত্রনাদায়ক মূহুর্ত আসে যা সে কখনোই চিন্তা করেনি। খারাপ সময় আসা দরকার, তবে কিছু কিছু পরিস্থিতি আমাদের জীবনে ঘটে যায়। যেগুলো আমরা কখনো কল্পনাও করিনি তবুও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
সেই পরিস্থিতি থেকে মাথা নিচু করে চলে আসা ছাড়া আর কিছুই থাকে না। সে কঠিন সময়ে আমরা কথা বলার মত সুযোগ পাইনা, আমাদের কথা বলার শক্তি হারিয়ে যায়।
শিবনাথ মণ্ডল
মাটির খুকুই খাঁটি
খুকুর এখন প্রাপ্ত বয়স হয়েছে
দেবো তার বিয়ে
মাসি পিসি এলো সবাই
ফুলের মালা নিয়ে।
আমার খুকুর বিয়ে হবে
রাজার ছেলের সাথে
তাইতো আজ খুশির দিন
বিয়ে হবে রাতে।
সন্ধ্যাবেলা খবর এলো
রাজা পাঠাবেন না বর
পণ নাদিলে বিয়ে হবেনা
পাঠালেন এই খবর।
খবর শুনে মেয়ের বাড়ি
কান্নার উঠলো স্বর
খুকুবলে নাইবা এলো
রাজ পুত্তর বর।
বিয়ে আমি করব না
দিয়ে টাকার পণ
রাজভোগ চাইনা আমি
চাইনা রাজ্যধন।
চাষির ঘরের বউহয়ে
সুখে করবো ঘর
সবাই আমার আপন হবে
থাকবেনা কেউ পর।
খুকুমণির কথা শুনে
সবাই হলেন অবাক
রাজার ছেলের বিয়ে হলোনা
কী দেবেন তার জবাব?।।
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
মোঃ হাবিবুর রহমান এর লেখা ''সহধর্মিণীর হুঁশিয়ারী বার্তা'' (২য় পর্ব)
সহধর্মিণীর হুঁশিয়ারী বার্তা ( ২য় পর্ব )
এতদিন পর 'রবীন্দ্র বলয়ের ভীতি' থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসে সাহস করে টুকটাক দু'এক চরণ লেখার দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা জারী রেখেছি মাত্র! তবে মনের গভীরতম স্হান থেকে একেবারে যে সেই বলয় মুক্ত হ'তে পেরেছি বা 'বলয়ভীতি' এখনও কাজ করছে না সেটা বুকে হাত দিয়ে সাহস ক'রে বলার সাহস কিংবা হলফ করে আস্হার সাথে জোর গলায় এখনও বলার সময় বুঝি আসেনি এ কারণে যে, আবার কখন না 'রবীন্দ্র বলয়ের জালে' অকস্মাৎ নিজের অজান্তেই নিজেই জালবন্দী হ'য়ে পড়ি।
যাহোক, যে কথা বলতে বলতে প্রসঙ্গ থেকে ক্ষণিকের জন্য একটু স'রে গিয়েছিলাম সেখানেই ফেরত আসি। অতঃপর আমার সহধর্মিণী একটু হেসে হেসে বললেন, "শোন! এগুলোর মধ্যে অনেক গুজামিল আছে, এ নাটক, গান কিংবা অনেক লেখাই আজকাল কপি বা ডুপ্লিকেট হচ্ছে"। তখন তাঁর এ যুক্তি খন্ডনের অভিপ্রায়ে আমি তাকে বললাম যে, দেখো পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় সাতশ' কোটি মানুষ আছে এবং তাদের প্রত্যেকের জীবনে কমপক্ষে একটি ক'রে হলেও গল্প আছে।
সুতরাং, কেউ আজীবন লিখতে থাকলেও নিশ্চয়ই সাতশ' কোটি লেখা তার সারাজীবন ধরে লিখলেও তা শেষ ক'রতে পারবেনা। আর তুমিই বলো কোনদিন কি কেউ এই পাহাড় সমান লেখার পরিসমাপ্তি ঘটাতে পারবে, আর বাস্তবে কি সেটা সম্ভব? অতঃপর তিনি নিজেনিজেই অত্যন্ত সুচতুরতার সাথে তাঁর আদি বিষয়বস্তু থেকে যেন অতি বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ রেখে অত্যন্ত সংগোপনে একেবারে চুপিসারে ধীরে ধীরে নিজেকে সরিয়ে নিলেন। হয়তবা জ্ঞানী ও যথেষ্ট বুদ্ধিমতী ভদ্র মহিলারা বুঝি এরূপ একই কৌশল অনুসরণ ক'রে থাকেন।
ইদানিং যুক্তিতর্কে হেরে যেয়ে আমার সহধর্মিণী আমাকে আর কিছু বলার সাহস করেন না ঠিকই কিন্তু তিনি যাতে আগামীতে এধরণের কিংবা নতুন একই মানের আর কোন প্রসঙ্গ টেনে তাঁর জীবন সঙ্গীর সম্মুখে না তুলে আনতে পারেন সে বিষয়ে আমি যথেষ্ট সজাগ আছি ও তার রেডিমেট উত্তরও মজুদ ক'রে রেখেছি যেনো ঝটিকা গতিতে তা ছুঁড়ে দিয়ে এই ধরণের যুক্তিকে সাথে সাথে খন্ডন ক'রে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিষ্ক্রিয় করতে পারি।
এমন কিছু কিছু ঘটনা মানুষের জীবনে ঘটে থাকে যা কারো সাথে এমনকি নিজের জীবনসঙ্গীর সাথেও আজীবন মানুষ শেয়ার করেনা এবং এধরণের অতীব ব্যক্তিগত বিষয়গুলি বুঝি মানুষ আজীবন নিজেই নিজের অন্তরে বয়ে বেড়ায় এবং অবশেষে তা বুঝি তার চিরসাথী হয়ে মুত্যুর পরে একত্রে পরলোকে গমন করে।
ধারাবাহিক ২য় কিস্তি
মোঃ সামশের আলী
এভাবেই বেশ আছি
সময় কাটাতে হয়না, কেটে যায়
ধীরে ধীরে পাথরের মূর্তিসম আমি
নিঃসঙ্গতায় হেটে চলি, ঘুরে বেড়াই
গোধূলির রাঙা আলো সামনে রেখে
নিঃশব্দে জানলায় ভর করি
স্মৃতির গুড়ো গুড়ো গল্প আর
যৌবনের স্মৃতি এই সময় বড়ো
কাছাকাছি আসে
এখন সময় কাটে অলস
শীত দুপুরের মতো,
চোখ বুঝে চোখের পাতায় অতীত টেনে,
আলস্যের ঘুম ঘুম ঘোর-এ
এভাবেই সময় কাটটে কাটতে
পরতে-পরতে জমে বার্ধক্যের ধূলো
আকাঙ্খারা উঁকি -ঝুঁকি মারে
জানালার ওপার থেকে
ঝরা পাতার লুটোপুটি খায়
এই ক্ষয়ে যাওয়া জীবন
এটাও এক রকম সুখ,
একরকম আস্বাদন বয়ে আনে
এভাবেই বেশ আছি
সময় কাটাতে হয় না, কেটে যায়।
মহুয়া চক্রবর্তী
আকাশ তাহলে আর বৃষ্টি ধরে রাখতে পারবে না।












