০৫ এপ্রিল ২০২১

বাহাউদ্দিন সেখ





নিশ্বাস

                


গরীব-ধনী উঁচু-নিচু জাতি ভেদা ভেদ

 বৈষম্য তুলেছে মানব কন্ঠের গান

 এই পৃথিবীর বন্দী ঘরে

কয়েকটা দিন

 রয়েছে আমাদের প্রাণ।

ভাঙ্গছে মসজিদ মন্দির অহংকারে

 বলো আল্লাহ ভগবান

একে অপরে মাঝে একি ধর্ম জাতি 

একই রক্ত

ভিন্ন ভিন্ন রক্তের অভিমান।

দিক বেদিকে চলছে একটি নদী

তবু তার শত শত ভিন্ন ভিন্ন নাম

কারো যাই মৃতদেহ লাশ হয়ে

 শ্মশানঘাট 

কারো বা যাই কবরস্থান...

মোঃ হা‌বিবুর রহমান




কষ্ট



কথায় ব‌লে "কষ্ট না কর‌লে কেষ্ট মে‌লে না"। আবার এও ব‌লা হ‌য়ে থা‌কে "ক‌ষ্টের প‌রে আরাম আ‌সে, দুঃ‌খের প‌রে সুখ" কিংবা "‌মেঘ দে‌খে তুই ক‌রিসনা ভয়-আড়া‌লে তোর সূর্য হা‌সে" ইত্যা‌দি।


মানু‌ষের জীব‌নে নানা ধর‌নের কষ্ট থা‌কে। কারো জীব‌নে হয়ত টাকার কষ্ট নাও থাক‌তে পা‌রে ‌কিন্তু এ‌মন মনঃকষ্ট আ‌ছে যে তা তার সারা জীব‌নের উপা‌র্জিত টাকা পয়সার বদ‌লেও সেই কষ্ট নিবারণ করা কোনভা‌বেই সম্ভব নয়। 


আবার কষ্ট না ক'‌র‌লে কি "সুখ লাভ হয় কি শুধু মহী‌তে"? ক‌ষ্টে ধৈর্য্য ধরা উত্তম ও বু‌দ্ধিমা‌নের কাজ। সৃ‌ষ্টিকর্তা, আল্লাহপাকও সেই রকম নি‌র্দেশই দি‌য়ে‌ছেন। কখনও নিরাশ হ‌ওয়া উ‌চিত হ‌বে না। 


আশা ক‌রি কষ্ট কি, মানুষ কেন কষ্ট পায় ও জগ‌তে কত ধর‌নের ক‌ষ্টে মানুষ কষ্ট পে‌য়ে থা‌কে সেই তপসারা গাঁ‌ঙে ছুঁ‌ড়ে ‌দি‌য়ে জ‌লে ভা‌সি‌য়ে দেই আজ ঠিক এ মুহূর্ত থে‌কেই। 


জগ‌তের সব মানুষ সু‌‌খে থাক; এমন‌কি পরম শত্রুও থাক সদা দু‌ধে-ভা‌তে।

স্বপন কুমার ধর



পসার


যখন বেণী ছোট ছিল,

মুখে থাকতো হাসি,

চারিদিকে আমরা সবাই,

বেণীর পিসি মাসী।

আলতো আলতো বলতো কথা,

সবারই মনে,আছে গাঁথা।

তারপরে সে স্কুলে গেল,

পড়াশুনায় মন দিল।

বড় হয়ে বিলেত গেল,

বাবা তার,জমি বিকোল।

মা বলেন - "যা আছে,যাক-

ছেলে আমার প্রতিষ্ঠা পাক"।

‌বিলেতে সে ডাক্তার হলো,

দেশে এসে পসার জমালো।

বাবা-মা তার বিয়ে দিলো,

মনের সুখে সে সংসার পাতলো।


বছর দশেক পরের ঘটনা,

বৃষ্টি পড়ছিল, সেদিন একটানা।

"বাবার ভীষণ শরীর খারাপ" -

চিঠিটা পড়েই যে,তার বিরক্তিভাব।

গ্ৰামে কী আবার যেতে হবে!

কে জানে ক'দিন কাটাতে হবে?

দিবারাত্রি দেখে সে পয়সার আলো,

রোগীর ভিড় যে হেথা,বাড়ছে ভালো।

চিঠি কয়েক এল মা'র,

সময় যে আর,কাটেনা তার।

সব চিঠিতে একই কথা,

"বাবার সাথে কিছু সময় কাটা,

সে যে তোকে দেখতে চায়,

শেষ বেলাতে তাই,তুই আয়"।


বাড়ির চাকর ভজু-টাকে,

বেণী পাঠাল অবশেষে।

গ্ৰামে পৌঁছে দেখে ভজু,

সবাই কেমন কাঁচুমাচু।

বুঝতে ভজুর হয় না দেরি,

মা'র পরনে যে,সাদা শাড়ি।

চোখের কোনে পড়েছে কালি,

সজল নয়নে বললেন খালি -

"বাবার হাতের শেষ লেখাটা,

ডাক্তারকে দিস এই চিরকুট টা"

তাতে ছিল লেখা - "প্রিয় বেণী,

কোনও দিন আমি স্বপ্নে ভাবিনি,

করেছি নিজেকে সদা নিঃশেষ,

পসার হোক তোর,অপার অশেষ"।

প্রেমাংশু শ্রাবণ এর দুটি কবিতা





বরষের তালপাতায় লেখা


শ্রীমতী খনার কথামালা
বরষের তালপাতায় লেখা
সভাসদগন বলেছেন অশ্বত্থগাছের ছায়ায়-----

ক্লান্তিহীন খনা তাকিয়ে আছেন
সংশয় ভরা আকাশের দিকে
আজ তার প্রবচন পরীক্ষার দিন।

উদ্দাম ঝড়ো বাতাসে খনা কাঁদলো,
দীর্ঘ বিরহের পর!
মেঘ কমারী ঝরালো বাণী ও প্রকরণের
অশ্রুবিন্দু!

খনার জটবাঁধা ধূসর কেশে
বৃষ্টির ফোটা ফোটা স্বর্ণকণা,
চোখে মুখে মুক্তির অভিমান এবং
প্রাপ্তির প্রচ্ছায়া।

খনা এখন দুরন্ত প্রকৃতিবালা
তার পেছনে ছুটছে
সভাসদরা-----
পালালো অন্ধকারে......

খনা আজও মূর্তিমতী।




সাঁতার জানে না নদী

পলাতক পাখির পালকে কুয়াশা ভরে নিলে 
উড়ে যায় দিগন্তের চিল 
নিশি স্রোতে ভেসে যায় 
দীর্ঘ সব মাতাল দেবদারু। 

দূর বনগ্রামে
ময়ূরের ডাকে জমা হয় মেঘ

প্রতিটি বৃষ্টির পর পরিত্যক্ত জলে 
পিঁপড়ের আশ্রম ভেঙে
গাঢ় হয় রাত

জাহাজ ডুবির পরে জেগে থাকে 
শুধু ঝিঁঝিঁর সাম্রাজ্য

জলডাকা রাতে 
সাঁতার জানে না নদী।

রেবেকা সুলতানা রেবা




 তবুও তুমি ভালো থেকো


সেই ছেলেটা ততোদিনি খুব ভালো ছিলো যতো দিন তুমি শব্দ টা তার সাথে মিলেমিশে  ছিলোনা। 

চুপি সারে এলো জানান দিয়ে  চলে গেলো 

ক্যানো এলো ক্যানো গেলো আজও জানা হলো না।


চলে গেলো ঠিকি তবে দিয়ে গেলো ব্যাথা বুকের ব্যাথা মুখে বলা  কি এতো সোজা?গভীর রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙ্গার কারন সে কোন দিন জানলোনা। 

তবুও তুমি ভালো থেকো।


তোমাকে ধরে  রাখার ক্ষমতা আমার নেই 

 কিন্তু ভালোবাসার ক্ষমতা তো  আমার আছে।


চলে যাচ্ছ যাও আমার ভালোবাসার সীমানা পেরিয়ে 

মনে রেখো এমন একজন কে তুমি পিছে ফেলে সামনে এগোলে সে তোমাকে অনেক ভালোবাসে এখনো মোনাজাতে রাখে তার ভালোবাসা হয়তো তখন তোমার খুব প্রয়োজন ছিলো এখন হয়তো আর নেই।


রাতে যদি ঘুম না আসে 

বেলকুনির জানালা খুলে রেখো

ঝিরিঝিরি বাতাসে ঘুম আসবে 

দেখে নিও ঠিকি।


খুব যদি একা লাগে গান শুনো

মন ভালো হবে দেখে নিও।

তবুও তুমি ভালো থেকো।

ওয়াসিম খান




তবু চেয়ে থাকি 


তুমি যদি যোগ করো 

আমি করি গুন।

প্রেম প্রেম করো তুমি 

আমি খুঁজি মন । 


তুমি দেখ ভেদ ফল 

আমি দেখি ভাগ। 

তুমি হলে বিচ্ছেদ 

আমি অনুরাগ ।


তুমি কষো গনিতের 

লাভ ক্ষতি সূত্র। 

আমি লিখি স্মৃতিকথা

আবেগের পত্র। 


তুমি যাহা প্রেম ভাবো

শ্রাবণের বৃষ্টি।

আমি ভাবি ভালোলাগা

কামনার দৃষ্টি । 


তুমি আমি এক নয়, 

তবু চেয়ে থাকি ।  

দেখি আছে আর কত ?

রহস্য বাকী।

রাকিবুল হাসান




প্রার্থনা


দ্রষ্টা তুমি স্রষ্টা তুমি

তুমি মহীয়ান!


খালিক তুমি মালিক তুমি

তুমি গরিয়ান!


নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী

ওগো বিজয়দানকারী

ওগো উন্নতকারী!


আমি শূণ্য,নিরান্দ

নিরাশ্রয়

আমি কল্মষ

ওগো মার্জনাকারী

আমার দুষ্কার্য তুমি মার্জনা করো!


3শত দশ দিন পরে

এসে পৃথ্বীর বুকে

তোমার নাম শুনেছি মায়ের মুখে।


বলেছে খোঁকা!

আমি তোর মা- 

তবুও আমার কাছে কিছুই চাইবি না

চাইবি তোর স্রষ্টার কাছে-সে সর্বত্রময়!

সে মহৎ কৃপাময়!


তারই উপসনা করবি-বায়না ধরবি তার কাছে

ডাকবি বারংবার।


ওগো কল্যাণকারী 

অমুখাপেক্ষী

ওগো প্রার্থনা শ্রবণকারী

তোমার মায়াময় অঙ্গনে আমাদের আশ্রয় দাও

তোমার অনুকম্পাহীন আমরা যে এক্কেবারই নিরবলম্ব!

০৪ এপ্রিল ২০২১

দেবব্রত সরকার




মধুমতি


একটি কবিতা লেখার চেষ্টা করছি 

কত বার কাটাকাটি করছি ধরছি

অথচ কবিতা আমাকে ধরা দিলনা

যা দিলো তা শুধু একরাশ শব্দ ব্যঞ্জনা


আমি তো তোমাকে নিয়েই ভাবছি সারা রাত 

দিন শেষ হলে ফিরে আসো দিয়ে থাকো সাথ

এ কেমন তুমি আমাকে বলো কি চাও একা

তোমাকে তো দিইনা কিছুই দিই শুধু ব্যথা


তবুও ভালোবাসো তুমি তোমার মতো করে

প্রেম করো বুকে চোখে মুখে অপূর্ব আদরে

আমি ভেবে যায় সারারাত সারাদিন তুমি

কি ভাবে ভুলবো ছুঁয়ে আমারই বদনামি


অনেক ভাবনা ভেবে ফিরে যায় ঘুমে

আবার ডেকে যে তোলে কবিতায় চুমে

তোমার ঠোঁটের উপর লিখেছি  শ্রুতি

তুমি তো কবিতা নও তুমি মধুমতি ।



 


প্রতিমা রায়বিশ্বাস


 


লিপ্সা


তোমার তোমার তোমার কথায় সকাল সন্ধ্যা রাত্রি।

চোখের জলে সাঁতার কাটে এখন অতীত যাত্রী।

মনের ভিতর অনেক জাগা, জায়গা অনেক বিঘা।

শূন্য রঙের মন মেখে তাই আজও ফুটে থাকা।


জলের ভিতর আবির গুলে আমার চোখে চেয়ে 

প্রাপ্তি ছিল জল থই থই স্রোতের সারি গেয়ে।

আবার আমার সাহিল ভ'রে  উঠছে আবেগ প্রাণ।

রোপন আশায় যাই ছুঁয়ে তার বীজের অমোঘ টান।


ফসল ফলায় অনেক স্মৃতি এই তো দিনের ফল।

দেওয়াল ঘিরে চারটি দিকে অথৈ অশ্রু জল।

তোমার কথায় অনেক ভেজাল অনেক মিথ্যা স্বাদ।

তবুও আমার লিপ্সা অনেক মিথ্যা হয়েই থাক।

আসমা মতিন (লণ্ডন)




হরিৎ প্রান্তরের মেয়ে



ফুল ফসলের লীলাময়ী শ্যমল নিকেতনে 

নির্জন পথ ধরে মেয়ে টি সহস্র বার হেঁটেছে 

ভ্রমণ করেছে সহস্র মনের গহীনে 

শ্রম ঘাম ভোজী সবুজ প্রান্তরে থোকা থোকা ব্যথা 

ব্যথার স্বাদ ও চেকে দেখার চেষ্টা করতো সে

রস ভরা আম কাঁঠালের বনবাদরে চরে বেড়াতো সে অকুণ্ঠে পান করেছে সকল ফলের রস।বহুজাতি বহু ভাষাভাষী মানুষ মানুষের কাঁচাঘর,পাকাঘর শ্রেনী ভেদও একই চত্বরে তবে তার কাছে মানবপ্রেমই জয়ী হতো।

আজানের মধুর সুর নাগধূপের ধোঁয়া পাহাড়ী ভ্রমরের গুনঞ্জন পাখিদের শিস দেয়া ঘুম ভাঙানো ভোর।

পথে যেতে যেতে দুটিপাতা একটি কুঁড়ি, কৃষ্ণচুড়ার রঙ  চা এর গাছ গোলাপ পাপড়ির সাথে অনেক কথা বলা হতো তার 

নবীণ স্রোতস্রিনী  প্রাকৃতির উদ্যানে মিলেমিশে একাকার তার অনুভূতি চাশ্রমিকের অবিরাম শ্রম,রমণীরা  পায়ে খাড়ু গলায় হাসুলী বাজুবন্ধ বাহুতে, সারাটা দিন তাদের পাতা তুলার দৃশ্য এ নিয়ে ছিলো তার গভীর ভাবনা 

এমনি এক নৈসর্গিক লীলভূমির নাগরিকগণ হাসিকান্নায় ব্যস্ত জনপদে

মেয়ে তার আপনারে খোঁজে পাওয়া মনে মনে কথা বলা।

বাংলাবাড়ির বারান্দার দুই পাশে শিউলি করবীর শাখায়  প্রভাতী শিহরণ দেখার আনন্দ পুরোটা ই সে লুটেছে

বাগানে রাত ঝরাতো ফুল ফুলের মালায় ভোরের বারান্দায়  শৈশব সাজিয়ে সে রাখতো।

কৃষ্ণচুড়া গন্ধরাজ কলাবতী আরও কত কি ফুলের সৌরভ এগুলো বাগানে পরস্পরের আত্মীয় হয়েই ছিলো ।

দুপুর যখন পশ্চিমে একটু হেলান দিতো 

 শীতকালের উষ্ণ রোদ ফুল বাগানে 

 ফরিং ধরার হৈচৈ পড়তো খেলার সাথিরা

সেই  শ্যামলিমা মায়া বিথীকা 

আর কোথাও নেই তুলনা।

হটাৎ একদিন নিয়মের কাছে হার মেনে নিতে হলো, মালতিলতার ফটকে জড় হলেন সকল, সকল হৃদয়ে বেদনা বিধুর  অথচ বিদায় জানাতে হবেই 

সময়ের স্রোতে  প্রবাহিত হলো ভাটির দিকে 

হে শৈশব কোনও এক রাজকুমারের ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বিদায় হে শৈশব তোমাকে বিদায়। 

চাপাতার ঘ্রাণ গন্ধরাজ ফুল হে কৃষ্ণচূড়া তোমাকে বিদায়।

কবিতা হালদার





গ্রীষ্মের দাবদাহে




চৈত্রের অবসানে তপ্ত দুপুরে কত কথা আসে মনে

ছুটে যেতে চায় তোমার চির শান্তির কাননে।

 

রুদ্র তোমার দারুন দীপ্তি মায়ের আঁচল তলে।

তৃষিত হরসে চৈত্র পবনে কিযেন চায় উতলা প্রাণে


মাতাল মহুয়া কলস কাঁখে কয়না কথা অভিমানে!

বোনের পলাশ ডেকে বলে করুন নয়নে!


অতিষ্ঠ আমার প্রাণ গ্রীষ্মের দহনে 

এক- লোটা জল দাও, বন্ধু তৃষিত পরানে !


রাখাল ছেলে ছড়ায় ধেনু মাঠে ঘাটে ভরদুপুরে  

ছুটে যায় তৃষিত পরানে মধুকরের মধূপ আহরণে।


বসন্ত বিদায়ে, কুঞ্জবনের ছায়ায় পড়েছে আজ কত রঙের মায়া

সব রাং মিলেমিশে যাবে

কৃষ্ণ চরণে, 

যমুনার কূলে বিরহী রাধার তৃষিত পরানে।।

শ্যামল রায়ের একগুচ্ছ কবিতা



সুতোয় গাঁথা ফুলগুলো

এক

সুতোয় বেঁধে রেখেছি ফুলগুলো

আলোর পথ দেখব

খুশিতে মেতে উঠবো।

আবার সুতোয় বেঁধে রেখেছি আগুন

পুড়িয়ে দেব যত সব আছে জঞ্জাল

অথচ সুতোয় বাঁধা আছে

 প্রেম জড়ানো ফুলগুলো।

আমি সারাটা দিন লেপটে থাকি

সুতোই বাধা ফুলগুলো জড়িয়ে রেখে।


দুই

বিশ্বাস বলে কিছু থাকে

বিশ্বাস ভাঙলে

সত্যটা অজানা থাকে

ভুলটা ভেঙে দেয় সুন্দর পাড়

এই ভাবে দেখতে দেখতে

চেনা-অচেনা নিয়ে

বেঁচে থাকার পর চলে যেতে হয়।


তিন

পিঁপড়েরা পিলপিল করে হেঁটে বেড়ায়

আমি শুধু দেখি

পিঁপড়েদের দেখে ভুলে যাই বিচ্ছেদ

আমরাও যেন বেঁচে থাকি

আসল ঠিকানায় জোট বদ্ধ থেকে।


চার

এখানে শুদ্ধ বাতাস আছে

এখানে নির্ভেজাল ভালোবাসা আছে

উড়িয়ে দাও তোমার আঁচলখানি

সবুজ ঘাসে পেতে বসে

শুদ্ধ বাতাস

আমাদের কথা শুনুক

জীবনের রং জড়ানো পথ

আলোকিত হয়ে উঠুক

সোহাগ নিয়ে দুজনের ভিতর।

পাঁচ

শব্দের পর শব্দ সাজাই নৌকা বানাই

দুহাত ছুঁয়ে দেখি। চোখে চোখ রাখি।

ভেসে বেড়াই সভ্যতার কাছে

জীবনের গান হতে।

তুমি জীবনের কাছে

বিশ্বাস নিয়ে নিঃশ্বাসে থেকো

আমিতো জোসনা জুড়ে স্বপ্ন আঁকি।

সর্বক্ষণ আনন্দ বুকে , বৃষ্টি আর রোদ্দুরে

শুধুই তোমাকে ভাবি

আমি যেন কখনো একা না হয়ে বাঁচি।

মোহাঃ হাসানুজ্জামান




তুমি আছ তাই




চশমার পাওয়ার বেড়েছে আমার

দৃস্টি শক্তি হয়েছে ক্ষীণ,

তবুও কমেনি অন্তরের ভালোবাসা

তোমার প্রেমে আমার বসন্তবেলা।


উদাস বাউলের বীরহ সুর

বাড়াই মনের যাতনা,

মুগ্ধ আমি তোমার প্রেমে

যেমন চাঁদের গায়ে জোৎস্না।


শপথ ছিল মোদের মাঝে

কাটবে জীবন একসাথে,

তোমার অমূল্য হৃদয় টাতে

থাকব আমি আজীবন সম্পূর্ণরূপে।


আমার নেই শক্তি সামর্থ

তবু পায়না আমি ভয়,

জীর্ন শীর্ণ হয়েছি যন্ত্রনায়

তুমি আছ হবে এজীবনে জয়।


আমি হয়েছি আজ দূর্বল

তবুও কাটেনা বেলা দূর্ভাবনায়,

জীবন বোধের এই খেলায়

গাইবো মোরা ভালোবাসার সেই গান।



-