বর্ষা ও বসন্তের বিলম্বিত
মোবাইলে টাইম পাশ, সম্বৃদ্ধ উল্লাস সাহিত্য হাসি ঠাট্টা খুনসুটি বিন্দাস পড়তে হবে নইলে মিস করতেই হবে। মোবাইল +91 9531601335 (হোয়াটসঅ্যাপ) email : d.sarkar.wt@gmail.com
২৬ মার্চ ২০২১
প্রেমাংশু শ্রাবণ
মমতা রায়চৌধুরী
বসন্ত এসেছে
দেখো, আজ বসন্ত এসেছে
ওই রাঙা পলাশ পথে।
তাই ফাগুনের দোল,
লাগলো হৃদয় তটে।
দেখো, আজ কৃষ্ণচূড়া, পলাশ
শিমুল ডাকছে কেমন তোমায়
আজ বসন্ত এসেছে,
তোমার আমার হিয়ায়।
বন মেতেছে, মন মেতেছে,
বসন্তের উত্তাল হাওয়ায়।
আজ ফাগুনের নেশা লাগল
ভালোবাসার ছটায়।
বসন্ত এসেছে আজ
তোমার আমার হিয়ায়।
ওয়াহিদা খাতুন
বসন্তছোঁয়া
শনশন বাতাস বহে মহুয়ার ওই বনে--
উদাস বাউল মনটা আমার কুহুকুহু শুনে--
মাতলা নদীর উধাও হাওয়ায় মনটা ভেসে যায়--
বলগা হরিণ নেচে চলে দূরে বনো-ছায়--
আবির মাখা কুহুধ্বনি ওঠে প্রতিক্ষণে;
শনশন বাতাস বহে মহুয়ার ওই বনে--!
বনোমালী গেয়ে চলে কেয়াগাছের ডালে;
নাচছে সবাই কোমর বেঁধে ঝুমুর গানের তালে;
ঝুমঝুম ঝুম নূপুর বাজে সুরের মোর্ছনায়--
হাড়িয়া আর মাদল নিয়ে হেতালের তলায়--
বসন্তেরি কিযে যাদু লাগলো সারা মনে--!
শনশন বাতাস বহে মহুয়ার ওই বনে--!!
রচনাকাল:-২৫/০৩/২০২১ সকাল ৯টা ৫৩ মিনিট! (গান নং ৪৫)
অলোক দাস
ভালোবাসা হীন পাথর
একটি বহু প্রাচীন বটগাছ I দিয়েছে মানুষকে অক্সিজেন, পক্ষিকুলকে দিয়েছে আশ্রয় I গ্রীষের তাপে দিয়েছে আশ্রয় পথিককে I বটগাছ আর দিতে পারে না অক্সিজেন, ওর সব পাতা ঝরে গেছে I ওর আয়ু শেষ I ও একটা ভালোবাসা হীন পাথর I কেউ আসে না ওর কাছে I ওর পাশে বকুল, টগর, শিউলি পলাশ I নীচে সবুজ গাসের আরণ্যক I কোকিল আসে ভোরে, বসে পলাশ বোনে I মানুষের ভালোবাসা সীমাবদ্ধ I যে নারী মা, দেরি হোলে বাড়ি ফিরতে, দাঁড়িয়ে থাকতো ! যে বলতো খোকা আজ এতো দেরি? বাবা বলতো খোকা খুব খাটাখাটুনি হচ্ছে না? এটাই ভালোবাসা I
স্বপন কুমার ধর
একাকীত্ব
একা ঘরে আমি, বসিয়া রহিয়াছি,
করিয়া রুদ্ধ দ্বার,
ভাবিতেছি মনে সঙ্গী না থাকিলে,
জীবন-টাই কী অসার!
বহুদিন পরে, কিছুদিনের তরে,
গিয়াছে যে সে, বাপের বাড়ি,
জননী যে তার,থাকে একা একা,
বাড়িটি যে তার , লাগে ফাঁকা ফাঁকা।
একদা তাহার সবাই যে ছিল,
ছিল না একাকীত্ব,
জীবিকার তরে, আজ যে তারা,
রয়েছে ভীষন ব্যস্ত।
মনে ভাবি হায়! সকলের-ই কী কপাল,
"মা" থাকে একা দূরে,
ইচ্ছে থাকিলেও, পারেনা থাকিতে,
মা'র কাছে সদা কেহ।
ঘুরিবে যে কাল, আসিবে এদিন,
আমাদের সবার-ই জীবনে,
বুঝিব এ ব্যথা, যাহা সহিতেছে মাতা,
আপন বার্ধক্য কালে।
মোঃ হাবিবুর রহমান ( নিবন্ধ )
ইথারে লুপ্ত মূল্যবান ভাবতত্ত্ব
জীবনে কত শতবার যে মনের অতল গভীর হইতে বিভিন্ন সময়ে নিজের অজান্তেই অনেকটা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অনেক দামী দামী কথা উৎসারিত হইয়াছে তাহার বুঝি কোন ইয়ত্তা নাই।
যখনই এই সমস্ত মূল্যবান কথাগুলি নিজের অজান্তেই নিজের মন হইতে বাহির হইয়া আসিতো তখনই মনে হইত যে আহা! ইহা যদি রেকর্ড করিয়া রাখা যাইতো তাহা হইলে কতই না ভাল হ'য়ত।
সময়, সুযোগের অনুকুল কিংবা মনের যথেষ্ট দৃঢ়তার অভাবেই তাহা বুঝি সেই মুহূর্তে আর রেকর্ড করা সম্ভব হয় নাই কিংবা লিখিবার মন মানসিকতা গড়িয়া না উঠিবার কারণেই বুঝি উহা চিরতরের জন্য তখন ইথারে হারাইয়া গিয়াছে।
মন হইতে হঠাৎ হঠাৎ উৎসারিত এই সমস্ত মহামূল্যবান ভাবতত্ত্ব সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে নানান অনুকুল ও প্রতিকুল পরিবেশ পরিস্থিতিতে স্থান, কাল, পাত্রের উপর ভিত্তি করিয়া ইতিপূর্বে অতীতে নানান সময়ে উৎসারিত হইয়াছিল।
বোধ ক'রি আজকের মত তথ্য-প্রযুক্তির যদি এত উন্নতি সাধিত হইত তাহা হইলে হয়তবা ঐ সমস্ত লুপ্ত মূল্যবান ভাবতত্ত্বসমূহ আমরা চিরস্থায়ীভাবে আজও বুঝি দুনিয়াতে ধরিয়া রাখিতে পারিতাম।
তাই মাঝে মাঝেই মনে হয় আহা! আমার কোন উদীয়মান একজন বৈজ্ঞানিক ভাই যদি এমন কোন যন্ত্র তৈরী করিতে সমর্থ হইত কিংবা অালাউদ্দিনের চেরাগের যাদু-মন্ত্রের বদৌলতে হয়ত যদি আমরা পূর্বের মুছে যাওয়া বা আমাদের মন হইতে অবলীলায় তাৎক্ষণিকভাবে হারিয়ে যাওয়া সমস্ত অব্যক্ত কথারাজি আর অপ্রকাশিত মনের সেই অমূল্য ভাবতত্ত্বগুলি আবারও নতুন করিয়া ফিরিয়া পাইতাম তাহা হইলে আজ কি মজাই না হইত!
আর আজ যদি সত্যি সতিই তাহা ফিরিয়া অানা সম্ভব হইত তাহা হইলে উহা লোকচক্ষুর সম্মুখে উন্মুক্ত ক'রিতে পারিলে তাহা বোধ করি কতই না মজার হইত যাহা মাঝে মাঝে ভাবিয়া যেন কল্পণার রাজ্য হইতে ঘুরিয়া আসিয়া একেবারে শুন্য হাতে ফিরিলেও তাহা ভাবিতে বেশ ভালই লাগিয়া থাকে।
ইহা যেন এমন যে, আজ হয়ত তাহা সম্ভব হইতেছে না ঠিকই কিন্তু দুই দিন পরে যে উহা সম্ভব হইবে না তাহা কিন্তু মোটেই সেই রকম নহে। তাই ভবিষ্যতের নতুন আবিষ্কারের আনন্দে মনটা যেন এখনই কেমন একরকম উতলা হইয়া উঠিয়া মনের গভীরে এক নতুন আবহের সৃষ্টি করে আর ঠিক তখনি যেন বেজায় পুলকিত হইয়া নিজেকে বেশ ভাগ্যবান ও ধন্য বলিয়া মনে হয়।
বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে বুঝি যুগের হাওয়া অনেকখানিই পাল্টাইয়া গিয়াছে। যদিও বয়োঃবৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের কিছু স্মৃতিভ্রম ঘটিয়া থাকে কিংবা স্মরণ শক্তি একটু লোপ পাইয়া থাকে তথাপি প্রযুক্তি যেন তাহার সেই ঘাটতিটি একবারেই শতভাগ পূরণ করিয়া দিয়াছে।
কোন বিষয়ে কিছু মনে রাখা আজ তাই কোন ব্যাপারই নয়। কম্পিউটার, এনড্রয়েড কিংবা নানান ধরনের মুঠো ফোনের উদ্ভাবনের মাধ্যমে তাহা যেন একেবারেই জলবো তরলো হইয়া গিয়াছে।
আজ আমার দুই-এক কলম লিখিবার সামান্য যেহেতু অভ্যাস হইয়া দাঁড়াইয়াছে তাই এখন লিখিবার প্রাক্কালে সেই সমস্ত লুপ্ত অার অব্যক্ত ভাবতত্ত্বগুলি যদি আজ হাতের গোঁড়ায় থাকিত তাহা হইলে বোধ করি তাহার একটি একটি করিয়া লইয়া অতি সযতনে আর সহজেই দুই-এক কলম লিখিয়া জনসমুক্ষে অনায়াশেই হাজির করিতে পারিতাম।
শুধু বুঝি আমি নয়; আমার মত এই বিশ্বের শত সহস্র মানব মানবীর মনেও হয়তবা একই ধরনের চিন্তা বা অনুভূতির সৃষ্টি হইয়াছে কিন্তু আমি তাহা আগ বাড়াইয়া সর্বাগ্রে সবার অক্ষির সম্মুখে তুলিয়া ধরিয়া নিজে নিজেই ইহার কৃতিত্বের দাবীদার বলিয়া দাবী ক'রিতে আজ তাই সাহস পাইলাম।
২৪ মার্চ ২০২১
আশিস চক্রবর্তী
প্রতিশ্রুতি
এখনো ক্ষুধার্ত মানুষের ভিড়ে তোমার উপস্থিতি
শরীরের ওপর চড়ে শোনাচ্ছো বাসি প্রতিশ্রুতি।
তোমার মঞ্চের তলায় রোদহীন হলদেটে ঘাস।
অমূল্য কার্পেটে হারিয়েছে সহস্র মানুষের শ্বাস।
বিশাল সম্ভাবনায় লেগেছে আজ মড়কের ঘ্রাণ
ছেঁড়া পকেটের নীচে ধুঁকছে ভবিষ্যতের প্রাণ।
দুর্গন্ধের মতো শোনায় তোমার সমস্ত ভাষণ।
অজান্তে উধাও দেখো তোমার সাধের আসন।
তোমার উদ্ধৃত দৈব বাণী যেন ধ্বংসের পরিচয়
তোমার হাতের রেখায় লেখা আসন্ন পরাজয়।
দিকে দিকে ওই শোনা যায় সময়ের ভ্রুকুটি
ভাগাড়ে শকুনের মতো ওড়ে বাসি প্রতিশ্রুতি।
রীনা ঘোষ
সমুদ্রকান্তা
তুমি ছলাৎ ছলাৎ এগিয়ে চল খোঁপায় কাশফুল,
তুমি আগমনীর নতুন সাজে ছাপিয়ে দুই কূল।
তুমি ইছামতি ইচ্ছেপূরণ রাত রুপোলি জল,
তুমি সূর্য সাথে সোনার বরণ বইছো যে কলকল।
তুমি মেঘ মেদুরে ঝগড়া করে অম্বু ডাকো তাই,
তুমি টাপুর টুপুর অঙ্গে মাখো আগুন করো ছাই।
তুমি তন্বী তোমার চলার গতি সর্পিল বাঁকাপথ,
তুমি নিষ্পাপ সে পুষ্প সমান তোমার পবিত্র শপথ।
এই আকাশ জানে বাতাস জানে দৈব জানে সব,
ময়ূরপঙ্খী প্রাচীনতরু জানে তোমার কলরব।
তুমি যেমন খুশি তেমন সাজো নীল কালোয় সে
ডুব,
সোনা রূপা ধুলার রঙেও মানায় তোমায় খুব।
সরিৎ তুমি মন্দাকিনী তোমার কল্লোলিনী মন,
সমুদ্রের কান্তা তুমি, তোমার বিস্তার ত্রিভুবন।
বিধান সাহা
বলিষ্ঠতা
গোলাম কবির
প্রেমে পড়া বারণ
প্রেমাংশু শ্রাবণ
চৈত্রের শেষ বেলা
দেবব্রত সরকার
বসন্তপলাশ
দেখ দেখি চোখ উঠিয়ে লজ্জা ভেঙে অমি প্রিয়া
রঙের খেলায় হৃদয় পুড়ায় এ কেমন তর হিয়া
জানো তুমি কি যে কখন আমার উলটো পালটা দাবি
প্রেমে পড়ে দিয়ে ছিলাম তোমায় হৃদয় পাড়ের চাবি
এই পরে আর ওই পরে সব বসন্তকাল এলেই
পাতার মতন তোমার প্রেমের আগুন জ্বালায় সেই
তোমার প্রেমের প্রশ্ন উত্তর হারিয়ে যাবার আগে
চোখ নদী কে জানতে চাইলেই তোমারই অনুরাগে
হারিয়ে যাওয়া ঝরাপাতা আবার উঠুক বেঁচে
বুকের ভেতর ভাঙছে পাথর একা ভালোবেসে
সাজিয়ে দিলাম মানিয়ে নিলাম পলাশ তিয়াস জুঁই
তোমার বুকে মাথা রেখে হাজার বাছর শুই
এই তো ছোট্ট স্বপ্ন আমার আর কি চেয়ে ছিলাম
মাথার মধ্যে যা কিছু সব হৃদয় দিয়ে দিলাম
তবুও আমায় ভাসিয়ে একলা কোথায় যে যাও রানি
দেখ চেয়ে সেই তোমার জন্য একা দাঁড়িয়ে আছি আমি
অথচ আজও গভীর ভাবের তুমিই অমর নারী
তোমার ভেতর দেখেতে পেতাম আমার বেঁচে থাকার বাড়ি
এখন তুমি অবাক প্রিয়া হারিয়ে গেলে কই
তাই তো লিখি তোমার কথা বেঁচে থাকার সই
এই গল্পের শেষ হবে না শেষ হবে না প্রেম
এ কবিতা পড়ছো যারাই জেনে যাও তার শেষ
আমি যাকে ডেকে ছিলেম আমার সর্বনাশে
বেশ কিছু দিন কাটিয়ে পালায় এই বসন্ত পলাশে
তহিদুল ইসলাম
দারিদ্র
ঘরে সন্ধ্যা দেয়ার তেল নেই
দিনে প্রদীপ জ্বেলে আগুন পোহায়
একটা অভাব মিটলে,আরেকটা এসে পড়ে
বিয়ের পরে সুখ নাই
ঈশান কোণে মেঘ নিকষ কালো
চোখাঁধারি অন্ধকার,আসন্ন ঝড়ো হাওয়ায়
কটা মুদ্রা পর্ণের সাথে উড়ে এলো
কুঁড়ে ঘরের দেউড়িতে
আমি বেমুখ হয়ে দাঁড়িয়ে রইনু
স্নেহের একমাত্র মেয়ে , চোখের জলে
মহাজনের গাড়িতে গিয়ে উঠলো।
তারপর,মেঘ ডেকে বৃষ্টি নামলো।
ঘরদোর খাঁ,খাঁ করছে
ক'টা টাকা দিয়ে ক'টা দিনই বা চললো
ক'দিন হলো উনুনে হাঁড়ি চড়েনি
টাকা! বেচে দেবো ,সব বেচে দেবো
বৌ'য়ের হাটে বৌয়ের নিলাম
তোমরা,কে কত দিবে তার দাম?
পাড়ায় পাড়ায় কানাকানি
বাতাস এসে বলে গেল
শ্রাবণের জলেও মাটি শুকনো
ভিজার কোনো লক্ষন নাই
চোতের আগুনে পুড়ে অঙ্গার কালো
ভালোবাসা বেচে দেবো
বেচে দেবো জ্বলন্ত পৃথিবীটাকে
সুখের সন্ধানে,
হাজার বছর পথ হাঁটবো
আরেকটা পৃথিবীর সন্ধানে
________________________












