২১ মার্চ ২০২১

মুন চক্রবর্তী




আমি আর তুমি 


অনেক দূরে হাঁটছি আমি আর তুমি 

পাশাপাশি  শব্দের নৈসর্গিক ভালোবাসায়

মৌণ মায়াজাল মাকড়সার শিল্প আর শিল্পীর

হাজার কিলোমিটার রাস্তা পার করে নিঃশব্দে 

ভাবনাগুলো এক মঞ্চে উচ্চারিত পৃথিবী 

দূরের কথারা কাছে আসে কবিতায় 

 রাত্র নিশিথে অজনার টানে পাতায় আলিঙ্গন করে

 শব্দেরা রামধনু হলে আমি আর তুমি কবিতার কাছে আসি--কাছে আসি।

মিলন ভৌমিক


 


সুন্দরবন


বাংলার দখিন প্রান্তে

বিখ্যাত বন নাম সুন্দর বন.

দুই বন্ধু রাষ্ট্রের মধ্যে

অসংখ্য নদ নদী

বিরাজ করছে অরন্য সুন্দরী.

বিষধর সাপের সাথে

ধূত শিয়ালের খেলা,

রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের

বাসভূমি এটা.

অনেক দ্বীপ রয়েছে

নদ নদীর ভিতরে,

জনমানবহীন হয়ে.

 নাম না জানা পাখিরা 

রাজত্ব  করছে ,

মনের কথা বলে.

জীব জন্তুর দেশ

ভীতরে ঢুকতে নিষেধ.

নয়নাভিরাম প্রকৃতি দেখে

মন যাবে ভরে,

ইচ্ছা হবেনা আসতে.

প্রকৃতি প্রেমিকের অভাব নেই

এই পৃথিবীতে,

সব প্রেমিকের জায়গা এখানে.

নৌকা বিহার বড়ই ভালো

যদি থাকে প্রাণের মানুষগুলো.

নিম'ল আকাশ বাতাস

গভীর জঙ্গল, মিলে মিশে,

এযেন মানুষের মিলন.

কোনা জালে ,

রুপালী মাছ দেখে

আনন্দ লাগে মনে.

জেলে যদি পরে যায়

বাঁচবে কিভাবে ?

কুমির ও কামটের  হাত থেকে.

বাঘ কে দেখতে

ইচ্ছা ছিল মনে,

বাঘ দেখতে পেলো সবাইকে.

দিন দিন নৌকায়

বাড়ছে দুষণ,

সরকারের দৃষ্টি প্রয়োজন.

বিশেষ পযাটক কেন্দ্র

গড়তে হবে এখানে,

পৃথিবীর পযাটকরা

দেখবে মানচিত্রে.

( কল্পনা সঠিক, সুন্দরবন সম্পর্কে)

অলোক দাস




বসন্ত চলিয়া যাইবে


বসন্ত চলিয়া যাইবে, আসিবে আবার I 

যৌবন চলিয়া যাইবে, আসিবে না আর I

 পাতা তো গড়িবে ঝরিয়া এ বসন্তে I 

মিশিবে মাটিতে I 

এটা কোনো যন্ত্রনা নয় I 

নতুনের আহ্বান, আবার ফুল ও পাতা গজিবে I

 পুরানো পাতারা পাবে মুক্তির অনাবিল আনন্দ I 

আর আনন্দ লাভ ই তো আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য I 

ইচ্ছে ডানা মেলে যাও সুদূরের সন্ধানে I


ফিরোজ আহমেদ জুয়েল


 


গল্প:জীর্ণ জীবন(পর্ব-১)


গল্পের শিরোনাম : অতিরিক্ত রাগ,জিদ, অহংকার ও ইগো মানুষকে ধ্বংস করে দেয়।

এবং আত্মসম্মান এর চেয়ে বড় আর কিছুই নেই,যেটি হারিয়ে গেলে বেঁচে থাকাটাও দূর্বিষহ হয়ে পড়ে এবং জীবন্ত মানুষও জীবন্ত লাশ হয়ে যায়।

এই দুইটি উক্তির সমন্বয়ে রচিত লেখা জীর্ণ জীবন।

এই গল্পে তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে একটি মানুষ তথা পরিবার হারিয়ে বিবাগী হয়ে যায়,তারই বাস্তবোচিত কাহিনী তুলে ধরা।

নির্দোষ হয়েও একজন নিরাপরাধ যুবক  আইনের কাছে আসামী এবং ২য় দফায় সাজা ভোগ করে। বিচারাধীন অবস্হায় কতোটা কষ্ট ও ঘৃনা পেলে একজন যুবক চিৎকার করে বিচারককে বলতে পারে মাননীয় জজ সাহেব,আমাকে নির্দোষ প্রমানের জন্য মুক্তি দিন না হয় সাজা দিন তবুও আমার সহধর্মিণীর সাথে যেতে বাধ্য করবেননা প্লিজ প্লিজ প্লিজ.......! চলমান

১৯ মার্চ ২০২১

অর্কদীপ সরকার




চাকরি 


সবটুকু উজার করেও, ব্যর্থতা প্রতিক্ষনে 

কলমে আসেনা কথা, শব্দেরা অনশনে। 

লেখার টেবিলে ছেঁড়া চিরকুট, স্বপ্ন বুনে কাঁদে 

ঘড়ির কাঁটায় বয়স বাড়ে, চাকরিতে বাঁধসাধে।।


লালবাতি গাড়ি মিটিং-মিছিল, ব্যর্থতা অবিরত 

মদের বোতলে গ্রাস করেছে বেকারত্বের ক্ষত। 

ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া ডিগ্রীগুলো মেধাতালিকায় বাদ সিগারেটের কালো ধোঁয়ায় বেকারের আর্তনাদ।।

জারা সোমা




ঘুম


কোলাহল শুরু হতেই পাখি 

   খুঁজতে থাকে বাসা


 মরানদীতে আচমন সেরে

   ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যের জমায়েত 


অবাধ্য স্বপ্নভঙ্গের চাবুক কষিয়ে 

    ঘা লাগাতেই,ঘোর কাটে 


হরকা সময় ভাসিয়ে দেয় হরেক

 বায়ানাক্কা শেষপ্রায় বিন্দু ছুঁলেই 


 পালা বদলের খেলার জমজমাট আসরে

     বেচতে থাকি  মুখোশ ও  মালা 


কানহা মুঠো খুলে কালো ফাগ ছুঁড়তেই 

   চাঁদকে বলি একটা জম্পেশ  চুমু খেতে 


    কলঙ্কের কোলে মাথা রাখলেই

        বড্ড ঘুম পায় .....

মিলন ভৌমিক


 


শিশু শ্রমিক


নবজাতকের জন্ম নি়য়ে

মধুর ২ স্বপ্ন থাকে,

মানুষের মনে.

ফুটফুটে ছেলেটি স্কুলে যাবে

বাবা মায়ের হাতধরে.

ধীরে ধীরে বড় হবে

দুঃখ,কষ্ঠ,লাঘব হবে.

সমাজের পিছিয়ে পরা

মানুষের কথা একটু ভাবো,

আছে স্বপ্নের ফেড়ি

সফল হয়না অথ'ভাবে.

দশ বছর হলোনা বয়স

বসে আছে ফুটপথে,

বাবুদের জুতো পালিশ করবে.

অফিস বাবুরা চলে যাচ্ছে

না দেখার ভান করে.

সরকারের আইন আছে

শিশুশ্রমিক নিষিদ্ধ এদেশে.

কাজ করানো যাবেনা যে.

গরিবী হঠাও দেশ থেকে

নেতারা সব বলে,

সত্তর বছর পরেও 

হলোনা সমাধান যে.

নববষে' সমাজ কে

নিতে হবে শপথ,

স্কুল ছুট,পথ শিশু

থাকবেনা এদেশে.

মানুষই পারে সমাজকে

পরিবত্তন আনতে.

মমতা রায়চৌধুরী




আগে দেখা হলে



আরো আগে দেখা হলে,

অনেক কিছু ঘটতে পারতো।

অনেক বসন্ত একসঙ্গে

কাটাতে পারতাম।

অনেকগুলো সূর্যমুখী

সকাল উপহার দিতাম।

আরো আগে দেখা হলে ,

নদী, সমুদ্র, পাহাড় হয়ে

নানা রূপে ধরা দিতাম।

আলতো ছোঁয়ায় পরতে পরতে 

ভালোবাসার গান ছড়িয়ে

দিতাম হৃদয়বীনায়।

আরো আগে দেখা হলে,

হয়তো ঘর বাঁধতাম।

হয়তো বা ভালোবাসার

 কুঞ্জবনে আনন্দ উচ্ছ্বাসে

ঢেউ তুলতাম।

অলোক দাস




বলতে পারো      


সবায়ের কোরো যাওয়া সেবা, হয় নাকো বার্থ I যদিও মোন জানে, কেউ আমার নয় I বলতে পারো কে সেই পুরুষ এনেছিলেন নোবেল বিদেশ থেকে প্রথম I বলতে কি পারো কে সেই বীরপুরুষ বলেছিলেন, যে কাজ করি, সেখানে একটা ভুল থাকবেই I কে বলে যার যা কাজ সে করবেই I কে বলেছিলেন না  বলে কিছুই নেই I আমরা শুধু চেষ্টা করতে পারি, এ বাণী কার I তুমি আসবে বলে, পুলিশ টা ঘুষ খায় নি I সবই পরিষ্কার শুধু তোমারি জন্যে I

স্বপন কুমার ধর




নারী, তুমি স্বপ্নে 


তোমায় আমি যতই দেখি,

করি ততই কল্পনা,

মনের ফানুস উড়িয়ে দিয়ে

বাড়িয়ে দিই জল্পনা।

কখনো দেখি শিশুর মত,

কাঁদছো একা ঘরে,

কখনো আবার প্রেয়সীরুপে,

জড়িয়ে ধরছো মোরে।

কখনো দেখি মাতৃ রুপে,

করছো শিশুর পালন,

কখনো আবার রুদ্ররুপে,

করছো তাদের শাসন।

কখনো দেখি অন্যায়ের বিরুদ্ধে,

প্রতিবাদের ধ্বজা ধরো,

কখনো আবার মানিয়ে নিয়ে,

সংসার প্রতিপালন করো।

দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন,

তুমিই করতে পারো,

মানব সৃষ্টির চলমান ধারা,

গর্ভে ধারণ করো।

দেখি স্বপ্নে এত রুপ তোমার,

বিশ্বাস করা দায়,

বাস্তবে আজ ও শোষণে পিষ্ট,

তুমি যে নারী, হায়!

ওয়াহিদা খাতুন




সনেট  রজনী-সুখ


প্রকৃতির ঘুমচোখে রজনী নিঃঝুম;

শীতের কাঁথা মুড়ে বিশ্ব ঘুমাচ্ছে শুয়ে--

জ্যোতিস্ক-জ্যোৎস্নায় তন্দ্রাপুরী যায় ছুঁয়ে--

মহাকাশ-তলী শহরে নেমেছে  ঘুম;

মরণকাঠিতে তন্দ্রাচ্ছন্ন জীবকুল--

নিশিস্বপ্নে ভেসে সুখমগ্নে করে খেলা;

তন্নি নদীর তীরে কাটে কামনার বেলা;

দংশিত কীটের দহনে স্খলিত ফুল--!


নিদ্রাসুখে শ্রান্ত শরীর রজনী কোলে ;

নিশুতি চাদরে প্রণয়ের শয্যা মেখে--

মধুচন্দ্রিমা বিরহ কাব্যকথা লেখে--

নক্ষত্র-আসরে রতিশাস্ত্র পৃষ্ঠা খোলে;


অভিসার-অভিধানে শুধু প্রিয়-মুখ--!

ব্যথিত চিত্তে চলে যায় রজনী সুখ--!।


রচনাকালঃ-১২টা ১৬ মিনিট (সনেট নম্বর ৯৬)

মোঃ হা‌বিবুর রহমান



 তু‌মি আস‌বে ব‌লে তাই


আকু‌তি নি‌য়ে চে‌য়ে‌ছিলাম 

তোমার সুদূর প‌থ পা‌নে,

দীর্ঘ সময় প‌রে হ‌বে দেখা 

বহুদিন ধ‌রে ভে‌বে‌ছি তাই।

অ‌পেক্ষায় প্রহর গু‌ণে‌ছি

তু‌মি আস‌বে ব‌লে তাই।

ভে‌বে ভে‌বে তন্দ্রায় প‌ড়ে‌ছি 

বেশ অ‌নেক অ‌নেকবার।

মা‌ঝে মা‌ঝে সু‌যোগ বু‌ঝে 

ছোট দু'ডানার দূর্দান্ত মশারা

তন্দ্রার ভিত‌রেই খে‌য়েছে রক্ত

বেশ ‌বেশ কয়েকটি বার,

তাদের ছোট্ট পেট ভ‌'রি। 

তু‌মি আস‌বে ব‌লে তাই 

অ‌নেকগু‌লো রাত ক‌'রে‌ছি গুজরান,

কখনও জে‌গে কখনও বা অর্ধঘু‌মে।

অব‌শে‌ষে আস‌লে যখন তু‌মি

দে‌খেই হ'লাম একদম ‌নিশ্চুপ হতবাক। 

যেমন‌টি কল্পলো‌কে এঁ‌কে‌ছিলাম তোমা‌য়

হুবহু একটুও ফারাক হয়‌নি 

তোমার চাঁদ বদনখা‌নি।

আকুবাকু হৃদয়‌টি হ‌লো শীতল ঠান্ডা

মনটা হ‌লো ভীষণ খুশী

তোমার চাঁদ বদন‌টি হে‌রিয়া।

সুলতানা চৌধুরী পারু ( ইংল্যান্ড )




 শত বাধা 


আহ্লাদি মেয়ে কত যে সখ ছিল 

ছবি আঁকবে বলে ,পারেনি সে আর

তার ছবি আকা বারণ ছিল ! মুখেতে নেকাব

মেয়েদের ছবি অংকন নাকি পাপ ! সেই তো মহাপাপ !


গাছে উঠবে পাখির ছানাদের সাথে 

কথা বলবে ! কত কি ? 

সেই কথাটিও কাউকে তার আর বলা হয়নি 

হয়তো সেটিও পাপ কিংবা মহাপাপ ! সে বুঝতে পারেনি !


পাখিরা যে নিষ্পাপ  

কাউকে ধোঁকা দিতে জানেনা 

যা কিছু শুনে নিজের মনেই রাখে 

তাইতো মেয়েটির পাখি এতো প্রিয় ! খুব প্রিয় বলবে কাকে !


কত যে সখ  ছিল মেয়েটির 

পুকুরে সাঁতার কাটবে প্রতিযোগীতা করবে

কিন্তু তাও কি সম্ভব কত মতবাদ ! শত অপবাদ 

সে যে শুধুই মেয়ে ! মেয়ে হয়ে জন্মিয়েছে সেটাই তার অপরাধ !


আহ্লাদি মেয়ে সারাক্ষণই অপেক্ষার প্রহর গুনে  একদিন সে বড় হবে ! স্বামির ঘরে যাবে আল্পনায় ছবি আকবে ..

তবে কি সেখানেও অপবাদ তার পিছু নিবে ! নিজের মনের স্বাধীনতা কি থাকবে !

শাশুড়ির রক্ত চোখ ! শাড়ি পড়তে হবে ! সংসার ধরম মেনে চলতে কি তার হবে !

আজও তার নারী হিসেবে যেভাবে চলতে হয় ! হয়তো সেই ভাবেই বাকি জীবনটা একদিন মানিয়ে নিবে !