১৯ মার্চ ২০২১

মমতা রায়চৌধুরী




আগে দেখা হলে



আরো আগে দেখা হলে,

অনেক কিছু ঘটতে পারতো।

অনেক বসন্ত একসঙ্গে

কাটাতে পারতাম।

অনেকগুলো সূর্যমুখী

সকাল উপহার দিতাম।

আরো আগে দেখা হলে ,

নদী, সমুদ্র, পাহাড় হয়ে

নানা রূপে ধরা দিতাম।

আলতো ছোঁয়ায় পরতে পরতে 

ভালোবাসার গান ছড়িয়ে

দিতাম হৃদয়বীনায়।

আরো আগে দেখা হলে,

হয়তো ঘর বাঁধতাম।

হয়তো বা ভালোবাসার

 কুঞ্জবনে আনন্দ উচ্ছ্বাসে

ঢেউ তুলতাম।

অলোক দাস




বলতে পারো      


সবায়ের কোরো যাওয়া সেবা, হয় নাকো বার্থ I যদিও মোন জানে, কেউ আমার নয় I বলতে পারো কে সেই পুরুষ এনেছিলেন নোবেল বিদেশ থেকে প্রথম I বলতে কি পারো কে সেই বীরপুরুষ বলেছিলেন, যে কাজ করি, সেখানে একটা ভুল থাকবেই I কে বলে যার যা কাজ সে করবেই I কে বলেছিলেন না  বলে কিছুই নেই I আমরা শুধু চেষ্টা করতে পারি, এ বাণী কার I তুমি আসবে বলে, পুলিশ টা ঘুষ খায় নি I সবই পরিষ্কার শুধু তোমারি জন্যে I

স্বপন কুমার ধর




নারী, তুমি স্বপ্নে 


তোমায় আমি যতই দেখি,

করি ততই কল্পনা,

মনের ফানুস উড়িয়ে দিয়ে

বাড়িয়ে দিই জল্পনা।

কখনো দেখি শিশুর মত,

কাঁদছো একা ঘরে,

কখনো আবার প্রেয়সীরুপে,

জড়িয়ে ধরছো মোরে।

কখনো দেখি মাতৃ রুপে,

করছো শিশুর পালন,

কখনো আবার রুদ্ররুপে,

করছো তাদের শাসন।

কখনো দেখি অন্যায়ের বিরুদ্ধে,

প্রতিবাদের ধ্বজা ধরো,

কখনো আবার মানিয়ে নিয়ে,

সংসার প্রতিপালন করো।

দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন,

তুমিই করতে পারো,

মানব সৃষ্টির চলমান ধারা,

গর্ভে ধারণ করো।

দেখি স্বপ্নে এত রুপ তোমার,

বিশ্বাস করা দায়,

বাস্তবে আজ ও শোষণে পিষ্ট,

তুমি যে নারী, হায়!

ওয়াহিদা খাতুন




সনেট  রজনী-সুখ


প্রকৃতির ঘুমচোখে রজনী নিঃঝুম;

শীতের কাঁথা মুড়ে বিশ্ব ঘুমাচ্ছে শুয়ে--

জ্যোতিস্ক-জ্যোৎস্নায় তন্দ্রাপুরী যায় ছুঁয়ে--

মহাকাশ-তলী শহরে নেমেছে  ঘুম;

মরণকাঠিতে তন্দ্রাচ্ছন্ন জীবকুল--

নিশিস্বপ্নে ভেসে সুখমগ্নে করে খেলা;

তন্নি নদীর তীরে কাটে কামনার বেলা;

দংশিত কীটের দহনে স্খলিত ফুল--!


নিদ্রাসুখে শ্রান্ত শরীর রজনী কোলে ;

নিশুতি চাদরে প্রণয়ের শয্যা মেখে--

মধুচন্দ্রিমা বিরহ কাব্যকথা লেখে--

নক্ষত্র-আসরে রতিশাস্ত্র পৃষ্ঠা খোলে;


অভিসার-অভিধানে শুধু প্রিয়-মুখ--!

ব্যথিত চিত্তে চলে যায় রজনী সুখ--!।


রচনাকালঃ-১২টা ১৬ মিনিট (সনেট নম্বর ৯৬)

মোঃ হা‌বিবুর রহমান



 তু‌মি আস‌বে ব‌লে তাই


আকু‌তি নি‌য়ে চে‌য়ে‌ছিলাম 

তোমার সুদূর প‌থ পা‌নে,

দীর্ঘ সময় প‌রে হ‌বে দেখা 

বহুদিন ধ‌রে ভে‌বে‌ছি তাই।

অ‌পেক্ষায় প্রহর গু‌ণে‌ছি

তু‌মি আস‌বে ব‌লে তাই।

ভে‌বে ভে‌বে তন্দ্রায় প‌ড়ে‌ছি 

বেশ অ‌নেক অ‌নেকবার।

মা‌ঝে মা‌ঝে সু‌যোগ বু‌ঝে 

ছোট দু'ডানার দূর্দান্ত মশারা

তন্দ্রার ভিত‌রেই খে‌য়েছে রক্ত

বেশ ‌বেশ কয়েকটি বার,

তাদের ছোট্ট পেট ভ‌'রি। 

তু‌মি আস‌বে ব‌লে তাই 

অ‌নেকগু‌লো রাত ক‌'রে‌ছি গুজরান,

কখনও জে‌গে কখনও বা অর্ধঘু‌মে।

অব‌শে‌ষে আস‌লে যখন তু‌মি

দে‌খেই হ'লাম একদম ‌নিশ্চুপ হতবাক। 

যেমন‌টি কল্পলো‌কে এঁ‌কে‌ছিলাম তোমা‌য়

হুবহু একটুও ফারাক হয়‌নি 

তোমার চাঁদ বদনখা‌নি।

আকুবাকু হৃদয়‌টি হ‌লো শীতল ঠান্ডা

মনটা হ‌লো ভীষণ খুশী

তোমার চাঁদ বদন‌টি হে‌রিয়া।

সুলতানা চৌধুরী পারু ( ইংল্যান্ড )




 শত বাধা 


আহ্লাদি মেয়ে কত যে সখ ছিল 

ছবি আঁকবে বলে ,পারেনি সে আর

তার ছবি আকা বারণ ছিল ! মুখেতে নেকাব

মেয়েদের ছবি অংকন নাকি পাপ ! সেই তো মহাপাপ !


গাছে উঠবে পাখির ছানাদের সাথে 

কথা বলবে ! কত কি ? 

সেই কথাটিও কাউকে তার আর বলা হয়নি 

হয়তো সেটিও পাপ কিংবা মহাপাপ ! সে বুঝতে পারেনি !


পাখিরা যে নিষ্পাপ  

কাউকে ধোঁকা দিতে জানেনা 

যা কিছু শুনে নিজের মনেই রাখে 

তাইতো মেয়েটির পাখি এতো প্রিয় ! খুব প্রিয় বলবে কাকে !


কত যে সখ  ছিল মেয়েটির 

পুকুরে সাঁতার কাটবে প্রতিযোগীতা করবে

কিন্তু তাও কি সম্ভব কত মতবাদ ! শত অপবাদ 

সে যে শুধুই মেয়ে ! মেয়ে হয়ে জন্মিয়েছে সেটাই তার অপরাধ !


আহ্লাদি মেয়ে সারাক্ষণই অপেক্ষার প্রহর গুনে  একদিন সে বড় হবে ! স্বামির ঘরে যাবে আল্পনায় ছবি আকবে ..

তবে কি সেখানেও অপবাদ তার পিছু নিবে ! নিজের মনের স্বাধীনতা কি থাকবে !

শাশুড়ির রক্ত চোখ ! শাড়ি পড়তে হবে ! সংসার ধরম মেনে চলতে কি তার হবে !

আজও তার নারী হিসেবে যেভাবে চলতে হয় ! হয়তো সেই ভাবেই বাকি জীবনটা একদিন মানিয়ে নিবে !

১৪ মার্চ ২০২১

সৌমিত বসু


 


মায়া বৌ - ১১


একটা মানুষ আর একটা মানুষকে ডাকতে গিয়ে দেখে 

দুটো মানুষের মধ্যে দিয়ে চলে যাচ্ছে

এক তীব্র মালগাড়ি।

এক একটি বগির ফাঁক দিয়ে 

সে দেখার চেষ্টা করে ,কিন্তু 

ঝাপসা ছাড়া কিছুই দেখতে পায় না ।


তখন সে ফিরেও যেতে পারেনা আবার পাতের ওপর ঝাঁপিয়েও পড়তে পারে না।সে নিশ্চিত ট্রেন চলে গেলে

তার জন্য পড়ে থাকবে শুধুই হুইসেল।


তখন সে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই আত্মহত্যা  করে।



মধুমিতা রায়




ইচ্ছেকথা...


কখনও ইচ্ছা করে

এলোমেলো সমস্ত ভাবনা নিয়ে

নদীর কাছে বসি


রুক্ষ যে পথটা 

চলে গেছে দূর থেকে দূরে

নদীর পাশে এলে

সেও খানিক নরম হয়ে ওঠে।


তারও ইচ্ছে জাগে

তার দুপাশে কৃষ্ণচূড়ার মায়া থাকুক

যত্নমাখা ছায়া থাকুক।


ভাবনাগুলো আকাশের সাথে

গল্পে মাতে

পানকৌড়ির মত ডুব দেয়

তারপর পথকে বলে....

ভালবাসি তো!


রুক্ষ পথটা কঠিন হবার চেষ্টা করেও

হেরে যায়

মায়া আর ছায়া তাকে কখন যেন

ভিজিয়ে দিয়ে গেছে!



ওয়াহিদা খাতুন




     


ধানক্ষেত


আঁকাবাঁকা তরঙ্গে বাতাসে তোলে দোল,

সবুজ বনটিয়া হয়ে মিলেছে পাখা ;

তশরি-পরশ নিতে ডাকে কচি কোল;

হিমেলী বায়ুতে মুদিত সবুজ শাখা ;

অপ্সরীর প্রাঙ্গণ জুড়ে সূর্য-কিরণ--

তার আলোর বিটপীতে শিশির-ঘ্রাণ ;

সবুজের আঁচলে দক্ষিণা সমিরণ--

ধানক্ষেত জুড়ে কচি শিসের রৌদ্রস্নান !


মেরুকন্যা হয়ে কুয়াশার শাড়ি পরে

গায় ফসলের গান;বসে আনমনে--

বুকে খেলে কচি শিশু দেখে মন ভরে--

শতাব্দী-শান্তনা শুনি এ সবুজ রণে--


দোদুল্যমান ধানশিসের স্নিগ্ধ বায়ু--!

মুগ্ধতায় ভরিয়ে দিলো প্রতিটি স্নায়ু--!!



রচনাকাল:--১২/১২/২০২০ সকাল ৯টা ৩০মিনিট! (সনেট নং ৬৪)

কবি মিশ্রর




তোমাকে প্রাক্তন করিনি


তুমি কি সেই আগের মতোই আছো?

সেই অভিমানী,চাপা রাগ, অর্ধেক কথা

ভুল বোঝা তোমার অভ্যাস ছিল-


ভুল বোঝা তোমার অভ্যাস ছিল-

কথায় কথায় থাক বলে ফোনটা রেখে দেওয়া

সব ই তো মেনে নিয়ে ছিলাম

তবে কেন হারিয়ে গেলে ?


জানো তুমি, আজ ও সন্ধ্যাতারা এসে খবর দেয়, তোমার ভালো থাকা-মন্দ থাকা..


ঝিঁঝিঁ পোকা, জোনাকি,ওরা হাসিয়ে কাঁদিয়ে যায়

তোমাকে ভুলে থাকার জন্য,


নীড় ভাঙা পাখি,ও জানে আমাদের কথা..

শিশির ভেজা স্থলপদ্ম,ওর কাছে আমরা ঋণী।


আমাদের ভালোবাসা একমাত্র ওরাই জানে...


না, তোমাকে আমি প্রাক্তন করিনি-

প্রতিটা দিন এঁকে চলি তোমার মুখ, প্রতিটা মুখের ভীড়ে--


কোন দিন হয়তো ভুল করেই ফিরে আসবে আমার কাছে।

ড,সৈয়দ আজিজ




মানুষ



সেদিন রমনা পার্কে এক অপরাহ্নে 

ঘুরছিলাম উদ্দেশ্যেবিহীন,আনমনে 

সবুজের ছায়াঘের মায়াঘেরা পথে 

হঠাৎ পড়ল চোখে কোথা হতে 

এক লীলাসঙ্গিনী কিংশুক বৃক্ষতলে 

যৌবন রসের বহ্নিশিখায় লীলাচ্ছলে 

বসে খাচ্ছিল গান বেসুরে দোলে দোলে,

এক শীর্ণ শুভ্র সদ্যযাত শিশু কোলে 

অনুসন্ধানী চোখে ভীড়লাম কাছে সন্তর্পণে

কী জানি কী ভাবে,যদি দেখে পরিচিত জনে?

পসারিনী শিশুকে চামচে দুগ্ধ করাচ্ছিল পান

পরম তৃপ্তিতে,যতনে আগ্রহে সঁপে প্রান 

মনে ভাবি জারজ শিশু তবুও তো জন্মদাত্রী মাতা

তাই বুঝি দারিদ্র্য  পরিচর্যায় নেই কোনো কার্পণ্যতা 

প্রশ্ন করি অবহেলা ভরে, নিয়ে অভিঘ্য ভাব 

চামচে কেন? তোমার বুকের দুধের কি অভাব?

 শুধালো সে এ শিশু আমার নয় বটে 

বান্ধবীর, এর জন্মলগ্নেই মাতৃমৃত্যু ঘটে 

এখন ফেলি কোথা?তুলেছি আপনার কোলে 

মাতৃ হীন শিশুসন্তান তাই বেঁধেছি যে অঞ্চলে 

জিজ্ঞাসি মায়া ভরে,অসুবিধা হবে না তাতে?

শুধালো সে কে নেবে দায়িত্ব এই অনাথে?

দেশ,সমাজ,সরকার, আপনি না কোনো দলে?

তাই অনাথেরে নিয়াছি নিজ কোলে, তরুতলে 

 আপনাদের মতো আমাদের নেই সামাজিক সন্মান

আমরা, অচ্ছুত, অমানুষ, সাহেব এবার আপনি যান।

আবীর চ্যাটার্জী




মঙ্গল যাত্রা 


যাবোই যাবো চলে এবার 

দূর অজানার কোন দেশে 

ফুড়ুৎ করে পালিয়ে যাবো 

মঙ্গল এর ঐ দূর দেশে. 


যেতেও পারি চাঁদে আমি 

নয় বা শুক্র গ্রহে 

যাবোই যাবো চলে আমি 

দূর অজানার কোন দেশে. 


নেইকো সেথায় দলা দলি 

হানা হানি নেই সেথায় 

দূষণ মুক্ত পরিবেশে 

যাবোই আমি চলে এবার. 


মা বোনেদের নেই কোনো ভয় 

নেইতো সেথায় বলাৎকার 

নেইতো সেথায় নিন্দা চর্চা 

আমি হবো রাজা সেথায়. 


নেইতো সেথায় প্রধানমন্ত্রী 

মন্ত্রী সান্ত্রী নেই সেথায় 

পুলিশ কর্মী লাগেনা সেথায় 

অপরাধতো নেই সেথায়.  


ভাত কাপড়ের নেই চিন্তা 

নেইতো সেথায় কোটি প্রাণ 

হাতে গোনা মানুষ সেথায় 

নেই তো সেথায় কোনো দূষণ. 


যাবোই যাবো চলে এবার 

দূর অজানার কোন দেশে. 


মঙ্গলটা কাছে পিঠে 

অনেক বার গেছি সেথায় 

অনেক আছে চেনা জানা 

আপন কিছু আছে সেথায়. 


তোমরা যদি চাও গো যেতে 

মঙ্গলের ঐ দূর দেশে 

নামটি লিখে পাঠিয়ে দাও 

থাকবো আমি তোমাদের পাশে. 


আমি কিন্তু যাবো সেথায় 

থাকবো না আর এই দেশে 

দলা দলি হানা হানি 

করো তোমরা এখানে বসে.

শ্যামল রায়




হাতটা ধরো


ছেড়ে যাওয়ার আগে হাতটা ধরো

বুকের সেই চেনা গন্ধ ভাগ করে নেব

আমি তো ভালোবাসি তোমাকে।

এখনো ভুলিনি কপালের টিপ,, কাজল আঁকা চোখ

দু ঠোঁটে লিপিস্টিক, নীল শাড়ির কথা

হারায়নি কথাগুলো

আমি তো ভালোবাসি তোমাকে।

সেদিন হাত ছুঁয়ে ছিলাম

তুমি বলেছিলে সব ঠিক আছে

দুটো মন একাকার হয়েছিল

এসব দেখেছিল ইটের দেওয়াল 

আর চারপাশের গাছপালা

দুই হাতের স্পর্শ গুলো

এখনো ঢেউ খেলে যায় শরীরের ভেতর

আমি তো ভালোবাসি তোমাকে।

আন্তরিক নির্ভেজাল ভালোবাসায়

বুকে টেনে নিয়েছিলে

এসব কথা এখনো সূর্যের মতো

আমার হৃদয় জুড়ে  আলো হয়ে আছে

এসো আগের মতো মুখোমুখি বসি

তুমুল বিতর্ক হোক আমাদের

চোখের জলে ভেসে যাক তিলোত্তমা

নন্দন চত্বর কিংবা ভিক্টোরিয়া।

জ্বলে উঠুক রাজপথে আলো

দুই হাত ধরো বুকের চেনা গন্ধে

ফের নির্মাণ হোক ভালোবাসাবাসি।