০২ ডিসেম্বর ২০২০

এম.এ.রশ্মি



পরিত্যক্ত সুখের আলপনা

তুমি নিরন্তর প্রণয়ের সুখ খুঁজে বেড়াও

যেখানে আমি লিখে যাই নিঃস্ব বুকের কান্না

নতুন শিরোনামের শিহরণ খুঁজে পেয়েছো

তাই আমি আঁকি পরিত্যক্ত সুখের আলপনা


শতাব্দী পেড়িয়ে নতুন দিগন্ত ছুঁয়ে যাও

বাষ্পে ভাসে এই হৃদয়ের শব্দহীন চিৎকার

তোমার গল্পের নতুন নাম হয়েছে জানি

তাতে কী বা এসে যায় দুখের অববাহিকার। 


অমাবস্যা নেমে আসে নিঃশ্বাসের তলদেশে

কুয়াশায় জমে যায় ভেতরে মোড়ানো আবেগ

তোমার মস্তিষ্ক জুড়ে অন্য স্মৃতি খেলা করে

তবে হারানো তোমাকে নিয়ে কিসের এই উদ্বেগ, 


খোলা ডাইরিটা আজো একই ভাবে খুলে রাখি

শুধু পড়েনা তাতে ভালোবাসি শব্দের আঁচড়

যার নামে জন্ম নিয়েছে এই বুকে নিশ্চল ক্ষত

তার তরেই থাকুক আমার সমস্ত অনাগত প্রহর।

ইমন তালুকদার



স্বদেশ  

কত  সৌন্দর্য আর মাধুর্য 

দেখতে লাগে বেশ, 

সুজলা সুফলা  শস্য - শ্যামলা

সোনার বাংলাদেশ। 


শৈশব কৈশোর কাটছে মা'গো 

তোমার'ই এই  কোলে, 

পেটের দায়ে দূর- প্রবাসে 

থাকতে তোমায় ভুলে। 


ভূমির কথা মনে হলে 

ঝরে দুটি আঁখি, 

আসতাম উড়ে তোমার কোলে 

হতাম যদি পাখি। 


সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি 

আমার প্রিয় স্বদেশ, 

রূপের রাণী স্বদেশ ভূমি

গুণের  নেই তো শেষ। 


মন যে  কাঁদে প্রাণ যে কাঁদে 

মাতৃভূমির জন্য, 

তোমার কোলে জন্ম নিয়ে 

হলাম মা'গো ধন্য।

নাজনীন নাহার



অপেক্ষা

 বছর, কতটা মাস,

কতদিন চলে গেছে তার হিসেব রাখিনি, 

তোমার এক পৃথিবী ভালোবাসাকে আঁকড়ে ধরে

যে সমুদ্রকে ছুঁয়ে দিতে চেয়েছিলাম;

সময়ের সীমানায় ফিরে দেখি 

এখনো নদীর কূলে দাঁড়িয়ে, 

যেখানে বিগত দিনগুলো কেবলি বসে রইলাম 

ভালোবাসার উষ্ণ পরশ দিয়ে সুখের জোয়ারে

তোমাকে ভাসিয়ে রাখবো বলে।

কিন্তু নদীতে জোয়ার কোথায় যে 

স্রোতে ভেসে ছুঁয়ে দেবো সমুদ্রকে, 

মাঝে মাঝে দূর নীলিমায় তাকিয়ে দেখি

ছুটে বেড়ায় মেঘ হরিণী নীল আকাশের

অচেনা বাঁকে;

হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টি ঝমঝমিয়ে নামে

তাতে অবশ্য উছল হয় নদীর শরীর কিন্তু 

জোয়ার আসে না, মেঘবালিকা কোথায় 

যেন ছুটে পালায়।

আবার তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পড়ে নদীর চর

জানিনা এভাবে আর কত বছরের 

মুখোমুখি হতে হবে আমায়।

ওমর ফারুক


কখনো জানতে চাওনি তুমি

চোখেতে চোখ রাখো এখনি,

ভালো লাগবে সর্বক্ষণই। 

অভিমান করে কেনো রয়েছো দূরে,

থাকতে পারবে কি আমাকে ছেড়ে।


তুমি কি এখনো জানতে চেয়েছো,

কতটা অশান্তিতে আছি আমি,

হৃদয়ের মাঝে যে বিস্ফোরণ

ঘটিয়েছো তুমি। 


তোমার ওই বিস্ফোরণে জ্বলে

পুড়ে ছাই,

তবু্ও তোমার কথা ভেবে ভেবে 

মনে শান্তি পাই।


জ্বেলেছ আগুন জ্বলেছি আমি

তবুও তুমি ভালো থেকো

প্রার্থনা করি আমি,


দোষ না করিয়া হয়েছি দোষী আমি।

মনের আনন্দে সর্বদা ঘুরে 

বেড়াচ্ছো তুমি। 


এটাই মনে হয় 

ভাগ্যে লেখা ছিলো আমার,

তাই তো তুমি করেছো বারে'বার।

জলি লায়লা


আশা লতা


আশা লতায়  কখন যেনো 

নিখুঁত করে ধরলো পঁচোন....

ছলনার বাগান জুড়ে কত রং-এর 

করুণার ফুল যে ফুটে অকারন ঝড়ে পারে। 


হৃদয়ের দেয়ালে কষ্ট দিয়ে 

নিষ্ঠুরতার আলতো হাতে নিখুঁত করে

আল্পনা আঁকে অবিরত

নিঃসঙ্গতা আকাশ ভরা 

হাহাকারের তারা জ্বলে.. 

কষ্টের দল বৃষ্টি রূপে ঝড়ে -ঝড়ে পারে 

দুঃখ বলে চোখ পাকিয়ে 

আমার সাথে থাকলে পরে-ও 

 হাসতে হবে কারণে -অকারণে 

 আশা লতায় ধরলো পঁচোন।

এস, আলম



সভ্যতার সাক্ষী 

বিশাল মনে তুই চলিস 

নিজ তরঙ্গে কথা বলিস, 

গগন রঙে সমুদ্র জল 

প্রভু বিনা তোর বল ! 


আমার মনে আছে সেথা 

থাকিস কেন তুই একা, 

মানুষ সবাই তোর সাথে 

সুখে দুখে করে দেখা । 


তোকে নিয়ে গর্ব হয়  

কূল বিনা লাগে ভয়, 

লোনা জলের গর্জন দেখি 

তোর আঙ্গিনায় ঘুরে পাখি । 

বলবি তুই অহংকার ছেড়ে 

 মানুষ কেন মরে, 

পৃথিবীর সৃষ্টির এই পযন্ত 

 আছিস তুই ঘরে । 


 রাম রহিম সবাই দেখি 

 তোকে নিয়ে গায়, 

 অমৃত তুই হাজার সাক্ষী  

 স্মৃতির সন্ধান পায় । 


 রাখিস মনে আমায় ক্ষণে  

 অতীত ছিল ভালো, 

 আধুনিকতার জনঝামে  

 অতিষ্ঠ রবির আলো । 

০১ ডিসেম্বর ২০২০

শারমিন সুলতানা রীনা

 মৃত্যু মৃত্যু খেলা

মায়াবী রোদের লাবন্য গিয়েছে ঝরে

প্রদীপ নিভেছে তোমার নামটি ধরে

তোমার পথেই মিছিল বোঝাই নাও

এখনও কি তুমি আমার ছোঁয়াই পাও 

কোন সুরে বাঁধো জীবনের সারগাম 

কে মুছে দেয় ক্লান্ত দেহের ঘাম


আমিতো গিয়েছি জীবনের মানে ভুলে

জীবন মানে বুঝি  মৃত্যুর সহোদর

সম্পর্কের বাঁধনেও চিনিনা কে আপন কেবা পর


তোমার বাড়ির পাশেই  বেঁধেছি বাড়ি

সময় করে দেখে যেও তাড়াতাড়ি


আবারও কোথাও জমবে নতুন  মেলা

জীবনের সাথে খেলছি এখন মৃত্যু মৃত্যু খেলা।

আহসান হাবিব রাজু


শান্ত ছেলে

সবার চেয়ে শান্ত আমি

খারাপ ছেলে নই,

আমার হাতে থাকে সদা

বিশাল বড় বই।


বাবা ভালো মা ও ভালো

আমি কি ভালো নই?

কেন আমায় ধরিয়ে দিলে

এতো গুলো বই!


ক'দিন বাদে কুজো বুড়ি 

হব বইয়ের ভারে,

দুই তিনটে বই কি!

একা নিতে পারে?


সকাল বেলা স্কুলে যাও

মা আমাকে বলে,

পড়া দিতে না পারিলে

ম‍্যাডামে কান মলে।


বিশাল একটা অঙ্ক কশতে

দেয় আমাকে স‍্যারে

দুই আর একে দশ বলি

তার জন‍্য স‍্যার মারে।


সবার চেয়ে বেশি বলব

কম বলব ক‍্যান?

ওদের চেয়ে আমার কি

কম বুদ্ধি জ্ঞান!

মাসুদ করিম


স্মৃতিময় দিন গুলি 


হঠাৎ একদিন দরজায় কড়া নাড়ার

শব্দে তাকিয়ে দেখি দরজায় তুমি দাঁড়িয়ে,

জানতে চাইলাম কে আপনি?

তুমি বল্লে আমি তোমার বন্ধু।


সেই থেকে পরিচয়, তারপর বন্ধু,

বন্ধুত্ত থেকে হয় গভিরতা, একে

অন্যের মনের কথা বিনিময়ের মাঝে

আসা হয় হৃদয়ের কাছাকাছি।


ধিরে ধিরে বাড়ে হৃদয়ের গভিরতা,

জন্ম নেয় দুটি হৃদয়ে ভালোবাসা,

তারপর ঘর বাঁধার স্বপ্ন

জাগে দুটি প্রানে।


চলছিল বেশ, হঠাৎ এলো এক

দমকা হাওয়া, হয়ে গেল

সবি এলমেল।


কোথা থেকে হঠাৎ যে কি হয়ে

গেল বুঝে উঠতে গিয়ে দেখি

তুমি অনেক দুরে, এক অচেনা

মানুষে পরিনত হলে।


কেন, কি কারনে দুরে সরে

গেলে তা আজো বুঝে

উঠতে পারিনি।


সেই থেকে চলে পথ চেয়ে থাকা,

আজো আছি সেই প্রতিক্ষায়

বুক ভরা আশায় হয়তো ফিরবে

কোন একদিন।


আজো যখন একা বসে থাকি

ভাবি তাই স্মৃতিময় সেই দিন গুলি,

বড় কষ্ট দেয় স্মৃতি গুলি,

তবুও ভাবি তোমার কথা ভাবতে

ভালো লাগে তাই।

বীথিকা মণ্ডল


দহন                

ক্ষয়িষ্ণু সময়ের এই ব্যস্ততায়

 আমরা হারিয়ে যাচ্ছি ক্রমশঃ; 

 প্রত্যাশার সবুজ ঘাস প্রতিনিয়ত পুড়ছে

 হৃদয় অনলে;

ধূ-ধূ জমি,খাঁ-খাঁ মাঠ জল-শূন্য নদী

বর্ষার প্রতীক্ষায় চির প্রেয়সী।


পরাজয়ের মায়াবী বিষন্নতায়

দহনের কাল এসে উপস্থিত।

চিন্তার শব্দ পাঠ আজও রহস্যে ঘেরা,

নিদ্রা বিহীন রাত্রে বুক পুড়ে যাচ্ছে

দহন জ্বালায়।


মনে রাখার ক্ষণ টুকু তুমি

দিব্যি পার করে নিচ্ছ , 

তোমার সুললিত কথার চাতুর্যে  !


রাত্রি জাগার পাঠ নিয়েছ আজ,,

লক্ষ্যহীন নিরুত্তাপকে সম্বল করে,

এই সব আবেগের মূল্য

অনিশ্চিত আধাঁরের ভেতর

লাভা স্রোত হয়ে উদ্গত হবে এক দিন;


আমার অপেক্ষা

সেই ক্ষণের…..........


যেদিন তুমি এসে আমার হাত দুটো ধরে বলবে.....


“আমি দেব জলের প্লাবণ তুমি দিও একটি নদী।"

শাহীন রহমান


সোনার মন

 

আমি মনে মনে খুঁজে বেড়ায় সোনার মত মন,

মনের মানুষ পাইনা খুঁজে,ভিজাই চোখের কোন 

ও মন, আমি মনের মানুষ কোথায় পাবো বল ;

এমন করে আর কতদিনের ঝরবে চোখের জল। 


সোনার মনপবনের বসত ঘরে,আছেন মহারাজ, 

সেই মনের ঘরে বসত করা,সেকি সহজ কাজ 

সেই সোনার মনের মাঝে আমি গড়বো বসত ঘর,

 আর ছুঁয়ে যাবো হৃদয় সোনার,সারা জীবন ভর। 


শুধু ভালোবাসা'র ফল্গুধারা,ছড়িয়ে দেবো মনে,

তখন সুখপাখিটা উঠবে গেয়ে কাঠালচাঁপা'র বনে 

সোনারমন যদি পায়, ফুলপরী'রা ভরবে ফুলের বন

সেদিন সেই খুশিতে লালকরবী রাঙিয়ে যাবে মন। 


দিনের শেষে এই মনটা নিয়ে, করিস না আর ছল, 

তুই মনের ভালোবাসা দিয়ে, মনের কথায় বল, 

পাগল,সোনার মত মনটা ছোঁয়া এত সহজ নয়, 

ওই মনের সাথে ভাব জমিয়ে, মনটা ছুঁতে হয়।

চৈতালী দে


অভিমান

আজ প্রথমের দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করলো 


প্রথম ।


পৃথিবীর প্রথম ........


এই প্রথম নিয়ে মানুষের মধ্যে কত লড়াই

তবে সবসময় মানুষই কেনো ?

বোধহয় প্রথমের লড়াই পিপিলিকার মধ্যেও আছে .....


আচ্ছা বলতে পারো ,

পৃথিবীর প্রথম পাগল কে ?


অথবা 


পৃথিবীতে যে মানুষটি প্রথম আত্মহত্যা করে 

সে নারী না পুরুষ ?


অদ্ভুত প্রশ্ন তাই না ?


আজ প্রথমের ওপর একটু অভিমান হলো

কাঁপা হাতে তার উস্কোখুস্কো চুলে

বিলি কাটতে লাগলাম 

মনে অজস্র প্রশ্ন !

বহিঃপ্রকাশ করতে ইচ্ছা করলো না

তার চোখে ভাসছিলো মায়ার চাদর

সে বললো , 

আমরা মায়াতেই জন্মেছি

মায়াতেই !


আমি বললাম

তোমার সাথে দেখা না হলে 

জীবনটা হয়তো অন্যরকম হতে পারতো

প্রথম নির্বাক

শুধু তাকিয়ে থাকা ....


আর আমি ?

নাহঃ ......

পাল্টাতে পারলাম না নিজেকে

অভিমানে পুড়ে পুড়ে এক নতুন আমিকে 

আবিষ্কার করলাম !

সেই আমির কাছে পেলাম আমার

সকল প্রশ্নের উত্তর

নিসঃঙ্গতা আজ আর আমায় স্পর্শ করতে পারে না

পৃথিবীর বুকে আজ আঁকলাম

আমার প্রথম আলপনা ।

মোহাঃ নওশাদ আলম

মাটির সুঘ্রাণ

সোনা সোনা গন্ধ পাচ্ছি, স্বদেশ মাটির ঘ্রাণে,

সতেজ বাতাস লাগে- আমার নিস্তেজ প্রাণে।

জীবনের খাতা থেকে হারালো ন'মাস ঢের,

নিথর হৃদয় খানি, প্রাণ ফিরে পেলো ফের।


প্রতিটি মুহুর্তক্ষণে, এ মাটির স্বপ্ন দেখি,

আনমনে ঘুরে এসে, কত শত কাব্য লেখি।

মাটির ঢেলা কণায় স্মৃতির আবির ভাসে,

গোধূলির শান্ত রোদে সাদা মেঘ মিষ্টি হাসে।


সকল ক্লান্তি যাতনা এসে ভুলে যায় আমি,

জন্মভূমি মা জননী স্বর্ণ রাজ্য থেকে দামি।

শীতল সমীর ঢেউ খেলা করে উন্মুক্ত মাঠে,

মৌমাছির দল হয়ে ঘুরি আমি ভিন্ন ঘাটে।


নাড়ির মমতা টানে, ফিরে আসি মাতৃকোলে,

নিঃস্বার্থ ভালোবাসা  হৃদ নদে ঢেউ তোলে।

ফিরে পেয়েছি আমার শৈশবে কাটানো দিন,

মা-মাটি জননীর কাছে রয়েছে হাজার ঋণ।


কেমনে শোধ করিবো ঋণের বিশাল বোঝা,

প্রতি পদেপদে রোজ, মমতা ও স্নেহ খোঁজা।

মাটির সুঘ্রাণে মন  হয়েছে চঞ্চলা পাখি,

এলোমেলো সমীরণে,মেলেছে বিবিধ আঁখি।