০১ ডিসেম্বর ২০২০

শাহীন রহমান


সোনার মন

 

আমি মনে মনে খুঁজে বেড়ায় সোনার মত মন,

মনের মানুষ পাইনা খুঁজে,ভিজাই চোখের কোন 

ও মন, আমি মনের মানুষ কোথায় পাবো বল ;

এমন করে আর কতদিনের ঝরবে চোখের জল। 


সোনার মনপবনের বসত ঘরে,আছেন মহারাজ, 

সেই মনের ঘরে বসত করা,সেকি সহজ কাজ 

সেই সোনার মনের মাঝে আমি গড়বো বসত ঘর,

 আর ছুঁয়ে যাবো হৃদয় সোনার,সারা জীবন ভর। 


শুধু ভালোবাসা'র ফল্গুধারা,ছড়িয়ে দেবো মনে,

তখন সুখপাখিটা উঠবে গেয়ে কাঠালচাঁপা'র বনে 

সোনারমন যদি পায়, ফুলপরী'রা ভরবে ফুলের বন

সেদিন সেই খুশিতে লালকরবী রাঙিয়ে যাবে মন। 


দিনের শেষে এই মনটা নিয়ে, করিস না আর ছল, 

তুই মনের ভালোবাসা দিয়ে, মনের কথায় বল, 

পাগল,সোনার মত মনটা ছোঁয়া এত সহজ নয়, 

ওই মনের সাথে ভাব জমিয়ে, মনটা ছুঁতে হয়।

চৈতালী দে


অভিমান

আজ প্রথমের দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করলো 


প্রথম ।


পৃথিবীর প্রথম ........


এই প্রথম নিয়ে মানুষের মধ্যে কত লড়াই

তবে সবসময় মানুষই কেনো ?

বোধহয় প্রথমের লড়াই পিপিলিকার মধ্যেও আছে .....


আচ্ছা বলতে পারো ,

পৃথিবীর প্রথম পাগল কে ?


অথবা 


পৃথিবীতে যে মানুষটি প্রথম আত্মহত্যা করে 

সে নারী না পুরুষ ?


অদ্ভুত প্রশ্ন তাই না ?


আজ প্রথমের ওপর একটু অভিমান হলো

কাঁপা হাতে তার উস্কোখুস্কো চুলে

বিলি কাটতে লাগলাম 

মনে অজস্র প্রশ্ন !

বহিঃপ্রকাশ করতে ইচ্ছা করলো না

তার চোখে ভাসছিলো মায়ার চাদর

সে বললো , 

আমরা মায়াতেই জন্মেছি

মায়াতেই !


আমি বললাম

তোমার সাথে দেখা না হলে 

জীবনটা হয়তো অন্যরকম হতে পারতো

প্রথম নির্বাক

শুধু তাকিয়ে থাকা ....


আর আমি ?

নাহঃ ......

পাল্টাতে পারলাম না নিজেকে

অভিমানে পুড়ে পুড়ে এক নতুন আমিকে 

আবিষ্কার করলাম !

সেই আমির কাছে পেলাম আমার

সকল প্রশ্নের উত্তর

নিসঃঙ্গতা আজ আর আমায় স্পর্শ করতে পারে না

পৃথিবীর বুকে আজ আঁকলাম

আমার প্রথম আলপনা ।

মোহাঃ নওশাদ আলম

মাটির সুঘ্রাণ

সোনা সোনা গন্ধ পাচ্ছি, স্বদেশ মাটির ঘ্রাণে,

সতেজ বাতাস লাগে- আমার নিস্তেজ প্রাণে।

জীবনের খাতা থেকে হারালো ন'মাস ঢের,

নিথর হৃদয় খানি, প্রাণ ফিরে পেলো ফের।


প্রতিটি মুহুর্তক্ষণে, এ মাটির স্বপ্ন দেখি,

আনমনে ঘুরে এসে, কত শত কাব্য লেখি।

মাটির ঢেলা কণায় স্মৃতির আবির ভাসে,

গোধূলির শান্ত রোদে সাদা মেঘ মিষ্টি হাসে।


সকল ক্লান্তি যাতনা এসে ভুলে যায় আমি,

জন্মভূমি মা জননী স্বর্ণ রাজ্য থেকে দামি।

শীতল সমীর ঢেউ খেলা করে উন্মুক্ত মাঠে,

মৌমাছির দল হয়ে ঘুরি আমি ভিন্ন ঘাটে।


নাড়ির মমতা টানে, ফিরে আসি মাতৃকোলে,

নিঃস্বার্থ ভালোবাসা  হৃদ নদে ঢেউ তোলে।

ফিরে পেয়েছি আমার শৈশবে কাটানো দিন,

মা-মাটি জননীর কাছে রয়েছে হাজার ঋণ।


কেমনে শোধ করিবো ঋণের বিশাল বোঝা,

প্রতি পদেপদে রোজ, মমতা ও স্নেহ খোঁজা।

মাটির সুঘ্রাণে মন  হয়েছে চঞ্চলা পাখি,

এলোমেলো সমীরণে,মেলেছে বিবিধ আঁখি।

মনি-মনি



আমার ভালবাসা

তোমার ভালবাসার ছোঁয়া পেয়ে 

হয়েছি আমি পূর্ণ, 

তুমি বিহনে এতদিন অামার

হৃদয় ছিল শূন্য,। 


 শূন্য হৃদয়ের পূর্ণতায় অাজ

হয়েছি আমি ধন্য।

আমার পৃথিবী তাই তো অাজ 

পেয়েছে তারুণ্য। 


তোমার স্পর্শ অামাকে সাজিয়ে দেয় 

নতুন অামি করে, 

অজানা এক স্বপ্ন এসে নিরালায়

অামার হাতটি ধরে। 


জানিনা কি এমন অাছে

তোমার এই স্পর্শে,

তোলপাড় হয় অামার হৃদয় 

শুধু তোমার পরশে।


যে সুধা অামি পান করেছি 

তোমায় ভালোবেসে, 

সারাটি জীবন রেখো অামায় তোমার 

মায়াবী এই পরশে।

আমির হাসান মিলন


অপারগতার গল্প 

দূর জাভাপুঞ্জে কোন এক রাতে 

চাঁদের স্নিগ্ধ আলোতে জ্যোৎস্নার ছায়ায় 

নাকে লেগেছিলো লোবানের গন্ধ 

হৃদয়ে মেখেছিলাম তাকে অশেষ আপ্লুত হয়ে, 

উগ্র কামনার ঘ্রাণানুসরণে সে লোবান উড়ে গেলো 

উঁচু বিদ্বেষপূর্ণ অট্টালিকায় ;  


সে আর খোঁজ রাখেনি এই উন্মাদ প্রেমিকের ! 


আজকাল তাই এ সব অবাস্তবিক নাট্যের 

অযথা বেখেয়ালি , আনমনা মঞ্চস্থের আনকোরা আয়োজনে, 

বিধ্বস্ত মন আমার অঘোরে ঘুমায় 

আমি পড়ে থাকি কঙ্কালসার এই বিছানায় কষ্টের আলিঙ্গনে। 


নিজেকে লুকিয়ে আড়ালে।

সুরজিৎ ব্যানার্জী

 পরিমার্জিত

উপোসী স্বার্থ বোঝে, জিভে প্রেম বুঝে চলে পোষ্য,

আমার রেটিনা বোঝে স্মৃতি-পুজো অপয়া অজস্র।

প্রেমিকা আঙুল ধরে , ভালোবাসা আমাদেরই জন্য, 

 উল্লাসি অপঘাত  চোখে ভাসে আয়না জঘন্য।


তরফে বরফ জমে, একাকার, তর্জমা ভাষাহীন

হৃদয় প্রণালী-প্রিয় বয়ে যায় ধোঁয়াশায় কী রঙিন!

বেহায়া দ্বীপের মতো প্রেমিকের এ পোশাক বেমানান

অবহেলা থইথই , এর-ই মাঝে ক্ষণিকের মোহ দান।


উপোসী স্বার্থ বোঝে, জিভে প্রেম বুঝে চলে পোষ্য

বেঁচে থাকা যতটুকু , তার বেশি বেঁচে থাকে নশ্বর

প্রেমের অঢেল কবি জল্পনা জবানীতে সংঘাত

কী যেন প্রমাণ হবে, অভিমান চেপে থাকে দাঁতে দাঁত


একদা নতুন প্রেম, ভুলচুক  বেহিসেবী আমিও

 শান্তি স্তিমিত হলে চাইব আবারো সুনামি হোক।

৩০ নভেম্বর ২০২০

ফাহমিদা ইয়াসমিন ( ইংল্যান্ড )



আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো নারী

ধর্ষণ কোন প্রেম নয় অত্যাচার 

নারীর প্রতি জঘন্য নখের থাবা

জানোয়ারের কামনা লালসার সুতীব্র লোভ

কামুক কাপুরুষের নির্লজ্জ হাসি।


দেশের বুকে শত শত নারীর সম্ভ্রম 

হায়েনার থাবায় বিনষ্ট হচ্ছে প্রতিদিন 

নারীর আর্তচিৎকারে প্রকম্পিত হচ্ছে আকাশ

বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে বিষাক্ত বিলাস।


কে যাবে কার কাছে

যে নারী ধর্ষিত হলো 

যে নারী শরীরে রক্তাক্ত ক্ষত নিয়ে 

বিচারের মুখোমুখি দাঁড়ালো 

সেই নারীই বিমর্ষ মনে কাঁদতে কাঁদতে 

ফিরে আসে নিজের ঘরে।

বিচারহীন এই দেশে ঘৃণায় ক্ষোভে 

অতঃপর আত্মহত্যা করে 

নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে চলে যায়

ঘৃণার জগত ছেড়ে।


হায় নারী 

তোমার বিমর্ষ মুখ আমার বুকে বিদ্ধ করছে

অভিশাপের জ্বলন্ত আগুন

আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো 

আমার অক্ষমতায় আমিও দগ্ধ।

অর্কদীপ সরকার



প্রিয় তুমি

ব্যস্ত থাকতে না চেয়েও ব্যস্ত হয়ে যায় 

পেটের ক্ষুধা, রোগদুর্ভোগে টাকা ছাড়া কিছু নাই!! 

ইচ্ছে হলেও পারিনা তোমায় অনেক সময় দিতে

ভালো রাখতে খুঁজে ফিরি টাকা, গ্রীষ্ম কিংবা শীতে!!


অভিমানী জমা তোমার মনে কোথাও আমি অপরাধী

বাথরুমে স্নানের মাঝে অনেকখানি কাঁদি!! 

এই শহরের রঙিন সন্ধ্যে হয়না আমার দেখা 

মোম গলেপড়া মোমবাতিটা আমার মতোই একা!!   

                                                  

                                               ইতি

                                         তোমার আমি। 

               

   

মুন চক্রবর্তী



গোধূলি


রজনীগন্ধার সকাল দেখে ফিরেছ

দেখছ শুভ্রমনন কালো চুলে 

মুক্তর কারুকার্য ফুল রাশিতে 

প্রেমের হাত ধরে হেঁটেছে কত দীর্ঘকাল

নিঃশ্বাসে বিমল বাতাস অর্ঘ্য প্রেমিকের

তার ছোঁয়া নিয়ে দিনান্তে বিকাল দিয়েছ ভরে

গোধূলি হলুদ বর্ণে রাঙ্গিয়া গেছ শতশতাব্দী

পূর্ণ তোমার আসা দিনের শেষে সন্ধ্যা মেলায়

লীনা দাস



আদিমতা

সব সময় শান্ত থাক কি করে বলোতো?

রাগের কথাতেও গলা চড়াও না,

হ্যাঁ,ঠিকই গলাটা একটু কঠিন হয়ে যায় তোমার,

আচ্ছা,বলোতো আমার উপর খুব রাগ না তোমার?

কোন সময় কি ইচ্ছে করে তোমার,কথা না বলার?


জানি তো,ভালবাস আমায়,

চোখ বুজে আমিও বিশ্বাস করি-

তোমায়,

আর এটাও জানি পৃথিবী রসাতলে

চলে গেলেও

তুমি যাবে না ছেড়ে আমায়।


তোমাকে যে এতো বকি,তোমার

রাগ হয় আমার পরে?

আহা!তুমি বকোনা বুঝি আমায়?

শোধবোধ তবে।


সামনের শ্রাবনে তুমি আর আমি

হাত ধরাধরি করে ভিজবই---

কথা নিয়ে রাখলাম তোমার কিন্তু,

কোনো অজুহাত?শুনব না যেন,

অভিমানিনী আমি,সেতো তুমি  জানই,


ঘনঘোর বরষার শ্রাবনী রাতে,

আমি চাই তোমার ঠোঁটের উষ্ণতা,

বুকের নিবিড় ওম আর....আর

আদিম মানব মানবী হয়ে যেতে----

ফটিক চৌধুরী



বিষম বস্তু

সমাপ্তি ঘোষণার আগে অনেকেই চলে যায়

আমি যেতে গিয়েও যেতে পারলাম কই ?

টানছে আমাকে কেউ টানছে

                              টেনে বসিয়ে দিচ্ছে

মায়া ? নাকি কোন প্রচ্ছায়া এসে

             গাছের নিচে বসিয়ে দিতে চায় !


আমরা ফিরে আসতে চাই কিসের টানে ?

শেকড়ের ? রক্তের ? নাকি ভালবাসার ?

আসলে ভালবাসাই অটুট রাখে সম্পর্ক।

ভালবাসা এমনই এক বিষম বস্তু 

হাসনা হেনা



তুমি এসো আমার ঘরে

আমার ঘরে চাঁদের আলোয় আলোকিত হয়ে এসো,,, 

বৃষ্টির মেঘ হয়ে এসো,, আকাশের নীল হয়ে এসো,,, 

সূর্যের কিরন হয়ে এসো,  সবুজের সমারোহ হয়ে এসো,, বাগানের ফুল হয়ে এসো,, সাগরের ঢেউ হয়ে এসো,, 

নদীর তীরে কাশফুল হয়ে এসো,, একমুঠো রুদ্র হয়ে এসো,, তুমি  আসলেই ,,চাঁদের আলোয়  আলোকিত হয়ে জ্বোস্নায় ভেসে যাবো,, দক্ষিণের জানালায় দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ হাসনা হেনা এবং  মাধবী লতা ফুলের ঘ্রাণ নেবো,,, নীল অপরাজিতা হেসে উঠবে  আরেকটি কবিতা লিখবো ইতিহাসের এবং  কট্টকময় জীবনের,, তোমাকে নিয়ে  রচনা হবে  শত শত কবিতা,  গল্প ,  স্টাটাস ,  ,, জীবনের শেষ অদ্ভুত  দর্শন হবে,,, গন্ধরাজ ফুলগুলো  তাদের  আশ্চর্য জাদুকরী ঘ্রাণ বিলিয়ে দিবে আমাদের,, বর্ষার অঝোর বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে দোলন চাপা ফুল গুলো আমাদের দিকে চেয়ে হাসবে,  কাঁদবে,, ভেজা ভেজা রঙন ফুল গুলো লাল রঙে রাঙিয়ে দেবে তোমাকে।

আজাদ রহমান



স্বপ্ন চাষাবাদ

জানি চলে যাবো, 

তবুও স্বপ্ন বুনে যাবো,

অন্তহীন আকাশে,

উড়ে চলা

দূরন্ত ঈগলের ডানায়।

সাতরে খুজে নিবো,

নিঃসীম নভে, 

বাতাসে তরঙ্গ ছুয়ে যাওয়া,

পালকের ভাজে ভাজে,

অপলক চোখে,

শিকারী ক্ষীপ্রতায় 

আমার স্বপ্ন হাজার।

দিন শেষে সন্ধ্যায়, 

আমিও পৌছে যাবো,

কোন এক বুড়ো বটের 

ডালে,

ভালোবাসার ছোট্ট নীড়ে।

আঁধার এর বুক ছুয়ে,

অবসাদ ক্লান্তি মুছুে নিবো,

খুজে নিবো, 

আগামীর স্বপ্ন বুননের

অন্য আকাশ।