২৭ নভেম্বর ২০২০

অর্কদীপ সরকার



ব্যর্থ এ শৈশব


ঘাসের বুকে পা রেখে আকাশ পানে চেয়ে থাকা

বৃষ্টিভেজা শীল কুড়ানোর অনুভূতিরা বড্ড ফাঁকা।।


পুকুরঘাটে জলের বুকে দস্যি শিশুর উঠতো ঢেউ

অনলাইনে ক্লাস আছে যে, পুকুর ঘাটে যায় না কেউ!!


বিকেল বেলায় একটু খেলা কংক্রিটের ওই দালান টায়।

ছটার সময় ড্রয়িং আছে, তাড়াতাড়ি আসা চাই।।


মোবাইলের কীপ্যাডে ক্রিকেট আর ফুটবল

একলা ঘরে আটকে আজ নজরুলের তরুণ দল।।


পশ্চিমের অস্তাচল, বাসায় ফেরা পাখির ডাকে।

বঞ্চিত অনুভূতি! রবি, রুশোরা বইয়ের পাঁকে!!

নীলাঞ্জন কুমার



না হয় হলো সাদামাঠা কবিতা 

মেগা সিরিয়ালের মতো সাদামাঠা  কবিতার 

ভেতরে ছুটে আসে হাজারো কৌতুক , 


তা পড়ে নারীদের চাবুক অনুপ্রেরণা , 

পুরুষের ভেতরে উপেক্ষার শেড।


খাওয়া শোওয়া কামনার ভেতরের 

সহজ দিক জাপটে ধরলে 

কেন যে দমবন্ধ লাগে !


না হয় এলো সাদামাঠা কবিতা 

অন্তত একটি, কোন উদাসীন চাহিদায় ; 


হরেক দৃশ্যের থেকে প্রকৃত দর্শন 

নাই বা হল উচ্চারণ !


মাখো মাখো হাততালির ভেতরে 

অন্ততঃ একটু দুঃখ ছোঁয়া থাক।

ওয়াহিদা খাতুন


চাই সাম্যের অধিকার

ক্ষমতার সমতা হোক ন্যায্যের দাবি,

আর্য-অনার্য মিলে সবাই করি পণ,

মনুষ্যত্বের হাতে আসুক যক্ষ-চাবি;

ফসলের ভাণ্ডার হোক সম বন্টন,

কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ নয়--মন করো সাদা--

বিত্ত-ভৃত্যের পার্থক্য অনেক তো হলো;

বন্ধু,অন্তর দহনে আর নয় কাঁদা--

সবাই হেসে বাঁচবো উচ্চ শিরে বলো;


পুত্র-কন্যা,অজ্ঞ-বিজ্ঞ,সব তাঁর দান--

 জাতি-ঈর্ষা,উচ্চ-নীচ মুছে দাও ভাই-- 

নিছক ক্ষোয়াচ্ছ কেনো মানব কল্যাণ?

মনুষ্যত্বের উপরে আর কিছু নাই;


ভুলে যাও বৈষম্য সাম্যের করো জয়--!

মুক্তচিন্তায় বিশ্ব,হোক আলোকময়--!!



রচনাকাল:--২২/১০/২০২০ দুপুর ১টা ৩ মিনিট! (সনেট নং ৩০)

শাহীন রায়হান



একলা কাঁদে

একলা কাঁদে দোয়েল আমার

জুৃঁই চামেলি পাতা বাহার

জংলী পুকুর পাড় মেঘনা নদীর ধার

খুকুর প্রথম পাঠ

ছোট্ট গাঁয়ের হাট।


একলা কাঁদে ফুল পরী গাঁও

জোনাক পোকা পাল তোলা নাও

একটি তারা জলের ধারা

মেঘনা নদীর ঘাট

শেষ বিকেলের মাঠ।


একলা কাঁদে স্মৃতিগুলো

প্রজাপতি পথের ধুলো

মনটা আমার সোনা ধানে 

দোয়েল পাখির গানে গানে

ছোট্ট সবুজ গাঁয়

হারিয়ে যেতে চায়।

মনোয়ারা পারভীন


হেমন্তকাল

কার্তিক মাসে হেমন্তকাল

ঝরে গাছের পাতা,

আবছা শীতে সবার ঘরে

লাগে কিন্তু কাঁথা।


সকাল বেলা শিশির ভেজা

সবুজ দূর্বা ঘাসে,

চাদর গায়ে হিমেল হাওয়া

পূর্ব থেকে আসে।


বিলে ফোটে পদ্ম শাপলা

রাতে জোনাক পোকা,

দেখতে লাগে অনিন্দ্য সব

না দেখলে খাই ধোঁকা।


ঋতুর রাজা হেমন্ত কাল

নবান্ন যে আসে,

ঘরে ঘরে পিঠাপুলির

বাহার চোখে ভাসে।


পুলি ভাপা চিতল পাঠি 

কত রকম পিঠা,

দাদীর হাতে তৈরী পিঠা

খেতে লাগে মিঠা।


হেমন্তকাল শীতের আমেজ

নিয়ে ধরায় আসে,

হিমের হাওয়া বয়ে চলে

বাড়ির আশে পাশে।

দেবব্রত সরকার



হৃদয়শ্যাওলা 


দেখেছ লিখেছি কখনো কবিতা বলেছো কি তাকে একা 

আমিও কেমন হেরেছি একাই হারেনি তো তার দেখা 

সবুজ রাঙানো জলজ শ্যাওলা খেলছে কি একা জলে !

হৃদয়ে ছলকে শ্যাওলা গোপনে শুনেছে যে যায় বলে


তবুও আঘাত জড়িয়ে ছড়িয়ে বিষাদে কি ঢাকে মুখ 

আমার ঘরেতে ন"জন শুয়েছি  একলা তো নয় দুখ 

একলা তোনয় আমার প্রেমিকা দেখছো কি তাকে শুনি !

তোমার উপরে প্রেমের প্রলেপ দিয়েছি জানো কি তুমি 


যদিও জানলে জানার কথা না তাহলে কি তবে রূপ 

রূপের ঝলকে ঝলসে আঁধার হৃদয় যে হয় চুপ 

হাসছে পথিক আপন খেয়ালে হেসেছে কি একা একা 

দেখিনি তো তাকে একাই হেসেছে গোপনে যে কাঁদে দেখা

 

পথিক পথের ওপরে হারিয়ে ফেলেছে যে তার ঘর 

এপথে নজর দিয়েছে পথিক পৃথিবী তো নয় পর 

পথিক দিয়েছে পথের ঠিকানা সকলে কি বুঝে পাবে 

আপন খেয়ালে দিনের গুনতি গুনিয়ে সে চলে যাবে


পথিক খাবেনা খেতেও চায়না খাবার সে দিয়ে যায় 

আমরা যখন খাবার খেয়েছি খুশিতে সে ভরে যায় 

নিজের নামটা শুনতে চেয়েছে এটাও কি তবে ভুল 

মানব জনম আসেনা সহজে পথিক কি তবে মূল ?

 প্রাণকে এনেছে আপন ক্রোধেতে করেছে যে রিপু দান 

রিপুর জ্বালাতে মানুষ হেরেছে সত্যের কি বদ নাম 

পথিক চেয়েছে পথের ঠিকানা দিয়েছে যে এনে য্প 

যেজন মানুষ হয়েছে মনন বরণে সেজন তো করে তপ্

২৬ নভেম্বর ২০২০

রাজেশ চন্দ্র দেবনাথ



মধ্যরাত্রির নিঃশ্বাস

আপনার মৃত্যুর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন যাঁরা

রাত কেটে ফুটিয়ে তুলছেন গুচ্ছ গুচ্ছ নিঃশ্বাস 

নকশা বেঁধে চলছে শুশ্রূষার চাষাবাদ... 


সকল বৃত্তান্ত-ই যেন ভীত অথর্ব 

এক একটা আছড়ে পড়া কান্না

থমকে যাচ্ছে


টিভির পর্দায় পোড়া কাঠের গর্জন

হাসপাতালের রৌদ্রস্নাত নার্সের হাতে 

সকল সংক্রমণ মুছে

বিছিয়ে দিচ্ছেন বেঁচে থাকার উপত্যকা 


আর,

মৃত্যুর ঢেউয়ে ডুবিয়ে রেখেছেন 

নিজের সমস্ত আয়ু

শুভমিতা বিশ্বাস



টান

তোমার আমার মধ্যে এক সেতু আছে 

যার নাম টান।

হৃদয়ের গর্ভে আমাদের অনুভূতির চারাগাছের জন্ম।


কান্নার মিছিল তোমার চোখে যখন হাঁটে

উন্মাদ হয় রুমাল।

দূরত্ব লেখার তুমি কে?

সরলরেখার বিন্দু তুমি

যেখান থেকে আমি পথ খুঁজে পাই।

দূরে এগিয়ে গেলাম

 বিন্দু পথে ।

অন্তরে মোচড় দিয়ে ওঠে

বুঝলাম বিন্দুর থেকে দূরে গেলে ছিঁড়ে যাবো।

সানি সরকার



প্রাগৈতিহাসিক 


এই সব শস্য ক্ষেতের ভেতর 

ভালো লাগে না আর 


আমাদের ঘুমের ভেতর

প্রতিদিন পাখিটি আসে যায়...

ডানার ভাঁজ থেকে ভাঁজে

পদ্মের কুঁড়ি আর কিছু 

হিরন্ময় আলো ভেসে ভেসে ওঠে 


আমরা চুপ করে থাকি 

আমরা খুলে ফেলি একলক্ষ উঁটের কুঁজ... 

অতঃপর এইসব সিমেন্ট-বালুর শরীরে

তেত্রিশ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎতের জ্যাকেট পরে নিই 


ওই ওষ্ঠের মেখলাবৃত ঢাল থেকে ঢালে 

এইভাবে কবে যে আগুনের জন্ম হয়েছিল 

পৃথিবী মনে রাখেনি

মধুমিতা রায় এর মুক্তগদ্য পড়তেই হবে



মন নিয়ে


মন নিয়ে কতটুকু ভাব? এই যে অর্থ বৈভব প্রতিপত্তি আর প্রতিযোগিতার  জীবনে ডুবে যাচ্ছ, সাঁতার জান তো?


মনের কিছু সার জল হাওয়া চাই বোঝো তা? কেবল বাইরের শরীরটার জন্যই যত চিন্তা যত ভাবনা যত আয়োজন... আর যাকে অবহেলায় সরিয়ে রাখ সেই মনই একসময় মস্তিষ্ককে খেয়ে ফেলবে জান সেটা?


অবসাদ বড় মারাত্মক জিনিস। ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে হেমলকের মতো। মনকে বন্ধু দাও সময় দাও খুশি দাও কান্নাও দাও আর হীরের টুকরোর মত ভালবাসা দাও।তারও তো ইচ্ছে করে ডানা মেলতে।


তুমি কি জান তোমার একটু কথা বা একটু হাসি আরেকজনকে ভালো রাখে যেমন তুমিও ভালো থাকো কারোর কথার ঝলকে।এই সম্পর্কগুলোকে যত্নে রাখো।কেমন আছ?...এই খোঁজটুকু রেখো পরিচিত জনের।তোমার সময় হয়ত খুবই মূল্যবান তবু তারগুলো ছিঁড়ে ফেলো না।ভেঙে ফেলা আঘাত করা খুব সহজ তাই বেশির ভাগ মানুষ তাই করে থাকে।ভালবাসতে শেখো।


ব্যস্ত থাকো সুন্দরের সাথে শিল্পের সাথে। মন আপনি ভালো হবে।এই তো একটুকরো জীবন।এত অহং এত ঈর্ষা না হয় নাই করলে।পৃথিবী  তো আজ শিখিয়ে দিয়েছে আমরা সবাই...  যার আছে সেও আর যার নেই সেও একই সারিতে দাঁড়িয়ে রয়েছি।


ভালো থেকো, ভালো রেখো, আনন্দ খুঁজে নাও নিজের মতো করে। 


মনকে যত্নে রেখো।....

হাকিকুর রহমান



বিবর্ণ পত্র

নবীন প্রাতে নামলো পথিক পথে,

শিশির ভেজা ঘাসে যে তার ভিজলো দু’চরণ-

উদাস বাউল পায় না খুঁজে সুর,

ক্ষত বুকে তৃষার প্রলেপ দিয়ে কাঁদে কোন বিরহিনী।


রাতের কাজল এখনও মোছেনি কার আঁখি হ’তে,

পত্রপুটে বাসা বাঁধে কোন এক বাহারি প্রজাপতি-

কি মায়া লয়ে দাঁড়িয়ে থাকে অনামিকা গাঁয়ের বঁধু

কার অপেক্ষায়। কপোল বেয়ে নামে জল

ভরা তপ্ত নিঃশ্বাসে।


জীবনের পথে, জীবনটাতো আর চলেনা-

বিবর্ণ পত্রের ন্যায় ঝরে যায়,

না চলা পথের পরে।

দেবাশিস সাহা 'র দুটি কবিতা



মেয়ে ভারতবর্ষ 

মেয়ে ভারতবর্ষ জানে

আগুনের কোনো দোষ নেই


ওদের কয়লাজন্ম

পিঠে সারি সারি শলাকায়

বয়ে নিয়ে বেড়ায় আগুন


মেয়েভারতের গুহাপথ

ইন্ডিয়ান রেলওয়ে 


মালগাড়ি, লোকাল, এক্সপ্রেস 

সবার অবাধ যাতায়াত 


যোনীদেশ ছিঁড়ে গেলেও

রক্ত ঝরেনা

মুষলধারে ঝরতে থাকে অন্ধকার 


মেয়ে ভারতবর্ষের কয়লাজন্ম

আগুনের কোনো দোষ থাকতে পারেনা। 


হত্যাতন্ত্র

১.

হাওয়া ধারণ করেছে ধর্ম

ধর্ম জমে জমে মেঘ

মেঘ ফেটে গেলে 

রক্তে ভিজে যায় মানুষ 


২.

পাথর জানেনা কার হাতে আছে

কার দিকে ছুটে যাচ্ছে আঘাত নিয়ে

হৃদয় পাথর হলেই

সে চলে আসে হাতে

দিগবিদিক ভুলে ছুটে যায়

ভাইজান বা মা-বোনের দিকে


৩.দেশের ভিতর দিয়ে 

ছুটে যাচ্ছে অগ্রন্থিত বিড়াল

অপমান পাড়া বলে যাকে ডাকো

সেই তো তোমার আমার বোনেদের আশ্রয় 

লালটুকু তুলে রাখো

আমাদের স্নেহজ ভেসে ভেসে

চলে গে ছে লাশের সংগে

আত্মীয়তা থাক শিমূলে পলাশে

মনকে মরতে দিওনা

একান্ত বাউল রাত ওর দখলে 


৪.কোনো কোনো কান্না 

একা একা ছুটে যায়

গাছহীন এক অরণ্যের কাছে

সেখানে মা'কে খোঁজে 


সবার কি মা হয় 


সবার কি মা থাকতে আছে 


কান্নাগুলো পরিত্যক্ত কামরার ভিতর 

কাকে খোঁজে 

বিন্দু বিন্দু রক্তে ভেজা 

একটা ছেঁড়া ভারতবর্ষ 

শুষে নিচ্ছে কান্নাগুলোর মা'কে।

দুর্গাদাস মিদ্যা।


অভিনয়

যেভাবে বোঝালে মনে হল

এর বুঝি কোনো বিকল্প নেই

ঠায় দাঁড়িয়ে বুঝিয়ে দিলে

হাতে নাতে ফল পাবে অচিরেই। 

অথচ আজ পর্যন্ত ফল ফললো  না। 

মিথ্যুক বলি তাও হয়তো নয় 

তবু কোথায় যেন থেকে যায় সংশয়! 

তুমি বলেছিলে -যদি এভাবে শুরু করা যেত

তবে কাঙ্খিত ফসলে ভরে যেত মাঠ

গোলাভরা ধান উঠে আসতো ঘরে। 

এখন বুঝি সেসব সত্য নয়

বলার জন্য বলতে গিয়ে 

করেছ মিথ্যে অভিনয়।