১৪ নভেম্বর ২০২০

জারা সোমা

অখন্ড


প্রিয় হেমন্ত, চুপিচুপি এসে কতোই না কথা বলো 

নতুন করে জানতে চাও কুশল সংবাদ 


প্রতিরাতে বিছানার পাশে সাজিয়ে রাখো কামিনী

নিজের প্রতি যত্ন নিইনা বলে অভিযোগ করো

শীতল বাতাসে ভেসে বাড়িয়ে দাও ক্ষুধা 

নিঃস্ব রিক্ত করে প্রমাণ করো ভালোবাসা 

তবুও পারিনা তোমাকে ছুঁতে 


প্রতিবার মনে হয় সংসার করব তোমার সাথে

তোমাকে দেব নবান্ন-ঘ্রাণ

চাষিবউয়ের মতো মেখে দেব একথালা পান্তা 

খেলব রোদ-ছায়ার বাঘবন্দিখেলা 


তবুও শেষ পর্যন্ত পারিনা কিছুই 


আমার অশ্রুসিক্ত কলমে লেখা হয় ধর্মগ্রন্থ 

বিষাক্ত কীট প্রতিবার খুঁচিয়ে তোলে বিভেদ 

দাঙ্গার ছক কষে মন্দির-মসজিদে 


প্রিয় ঋতু প্রতিদিন ভাঙে আমার স্বপ্ন 

প্রিয় হেমন্ত আমাকে দাও অখন্ড নিজস্বতা।।।

সাইফুল আলিম এর গল্প



আসামীর জবানবন্দি


বিজ্ঞ আদালতে একজন মেয়ে তার স্বামীর বিরুদ্ধে সি আর মামলা দায়ের করা হয়েছে অভিযোগটি ছিল ৫০০০০০ (পাঁচ লক্ষ টাকা) যৌতুক দাবি করে মারধর করে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয় এবং পরবর্তীতে ধার্য তারিখে আদালতে আসামী স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করার জন্য এ্যডভোকেট সাহেব এর মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়। বিজ্ঞ কৌশলির শুনানীন্তে বিচারক সাহেব আসামীকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে যে,

তুমি যদি আমার প্রশ্নের সঠিক উত্তর দাও তাহলে তোমাকে পুরষ্কার দেওয়া হবে ।


সত্যি বলছেন সার!


জি আজ্ঞে সত্যি বলছি 


নাম কি তোমার ?

হেসে হেসে বল্লো - প্রান্ত 

কি করো তুমি ?

ব্যবসা। 

তোমাদের বিয়ে হয়েছিল কতো দিন হলো?


এক বছর তিন দিন।


নাম কি তোমার স্ত্রীর?

নদী। সার্টিফিকেটে - তামান্না আক্তার নদী 


কাবিন হয়েছে কতো টাকা?

৫ লাখ টাকা।


ডিভোর্স দিয়েছো বিয়ের কতো মাস পর?


তিন মাস পর। 


ভরনপুষন এর খরচ দিয়েছো ?


না সার ।


মেয়ের কাবিনের টাকা কখন দিয়েছো?


দেই নাই। 


মেয়েকে নিয়ে সংসার করবে না কেন?


মেয়ে ভালো না,

কি খারাপ মেয়ে তোমাকে পাগলের মতো ভালবাসে?


না সার,স্বাভাবিক ভাবে ভালোবাসতো। তবে অন্য ছেলের সাথে হষ্টিনষ্টি করতো ।


মেয়ের বাবা কি করে?


রিক্সা চালক।


প্রেমের বিয়ে না ম্যারেজ ?


হেসে হেসে বল্লো - লাভ ম্যারেজ।


তাহলে কি তিন মাসে ভালবাসা ফুরিয়ে গেছে? তিন মাসে  তো বিয়ে করা বৌ এর ঘ্রান ই  যায় না।


একটি মুশকি হাসি দিয়ে......


সার মেয়ে সুন্দর চেহারা দেখিয়ে আরো কয়েকটা ছেলের সাথে রিলেশন করেছে ।


তুমি দেখেছো 


না সার শুনেছি।


কোথায় থেকে শুনেছো? কে বলেছে তোমাকে?


অনিকা।


কে সে?

বোন সার, অনিকা আমার ছোট। সে আই এ থার্ড ইয়ারে আছে সার।

খুব আদরের দুলালি সার।

মাঝে মাঝে অন্য বোনের সাথে ঝগড়া করে।

কিন্তু আমাকে খুব ভালোভাসে।


তুমি কয়টি মেয়ের সাথে প্রেম করো।


সাতটি । 


কয় নাম্বার প্রেম তোমার?


আট নাম্বার। সার বিথিলা ও ব্রেকি এই মাল দুটি অনেক কিউট সার। শাপলা সার আরো সুন্দরী সার। না দেখলে বিশ্বাস ই করতে পারবেন না সার।


কতোটা wetting?


ছয়টি। 


কিভাবে তাদের সাথে প্রেম হয়েছে?


সব সার ফেইসবুক কালেকশন। ফেইসবুক পছন্দ মেসেন্জারে প্রেমালাপ। তার পর সার আরো কতো কি........... 


টাকার জন্য কে গিয়েছিল তোমার বাবা মা না তুমি?

আমি যাইনি সার,  আমার মা পাঠিয়েছে।


তোমার ব্যবসার প্রয়োজনে কতো টাকা চেয়েছিলে তাহার কাছে?

মাত্র দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলো মা ।

কি বলেছে? দেওয়ার কথা বলেছে কি?


না সার,

মা, বাবা তো রিস্কা চালিয়ে আমাদেরকে অন্ন বস্ত্র দিতে কষ্ট হয়ে যেতো কিন্তু আমাদের পড়া লেখার খরচ দিতে পারতো না। আমি টিউশনি করে ভাই বোনের পড়া লেখার খরচ চালাতাম। কোথায় পাবো এতো টাকা?

দেশে যায়গা জমি বিক্রি করে আমার ছেলের ব্যবসার জন্য টাকা নিয়ে আসো যাও। আমার ছেলের জন্য কোটি পতি মেয়ের বাবা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে ।

বুঝতে পেরেছো? 


উকিল সাহেব কিছু বলার জন্য দাড়িয়ে গেলে.......


অর্ডার অর্ডার অর্ডার কেহ আদালতে হৈ চৈ করে পরিবেশ নষ্ট করবেন না।

বিজ্ঞ লার্নেড অনুগ্রহ করে বসে পড়ুন। জবানবন্দি রেকর্ড করে নেই তার পর আপনি যা যা বলার বলবেন।


আপনারা কয় ভাই কয় বোন?

তিন ভাই ৫ বোন।

পড়া লেখা কতোটুকু করেছো ?


আন্ডার মেট্রিক।


স্ত্রী কি পাশ করেছে?

এই ধরেন বিয়া পাশ।


মানে?


বাদী পক্ষে বিজ্ঞ আইনজীবী দাড়িয়ে

অবজেকশন ইউর অনার ।

আমার মোয়াক্কেলকে ইনসাল্ট করা হচ্ছে।

আমার মোয়াক্কেল বি. এ পাশ করেছে সার।


আদালতে সবাই হাসা হাসি করতে লাগলো....


অর্ডার অর্ডার অর্ডার।


ডিভোর্স লেটার কে পাঠিয়েছে?


উকিল সাহেব।


ডিভোর্স দেওয়ার কথা কে বলেছে তোমাকে?


মা আর অনিকা।


বর্তমানে কি বিয়ে করেছো?

না সার, তবে ফাইনাল কথা বার্তা চলছে আগামী সপ্তাহে বিয়ে করাবে বলেছে অনিকা,অনিকা ও মা মেয়ে অনেক সুন্দরী আবার দশ লাখ টাকাও দিবে বলছে।

সেই টাকা দিয়ে সার এবার আমরা মাছের আড়ৎ এ বড় দোকান পজিশনে লইতে পারবো।


কিসের টাকা?


এখনকার যুগে ছেলেকে কিছু দিতে হয় না সার। ঐটাই

অনেকেই বলে এটা নাকি যৌতুক।

আমাকেও ব্যবসা করার জন্য পাচঁ লাখ দেবে আপাতত ...

আসামী পক্ষের আইনজীবী খুব ফেডাপ হয়ে আছে আসামীর প্রতি।


কোর্টের পিউন - আদালত নামছে

আসামী চিৎকার করে বলতে থাকে

সার আমার পুরুষ্কাকার।


ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব মুচকি হাসি হেসে বললেন

তুমি জেলখানার মধ্যে কয়েক বছর ঘুরে আসো তার পর তোমাকে পুরুষ্কাকার দেওয়া হবে। 


নথি পর্যালোচনায আদেশ,আসামী ভিতরে যাবে।

শর্মিষ্ঠা মজুমদার



মৌরুসী-পাট্টা

গাছ,তুমি এত অগোছালো কেন?

ডালপালা এমন ভাবে  ছড়ায়!!

জানোনা! এটা মরুভূমি

এখানে শুধু  কাঁটা জন্মায়...

মোড়লের কথায় ,বিষন্ন গাছ বলে,

জীবন আগুনে জ্বলে-পুড়ে 

মানুষ  দুপুরে , আমার ছায়ায়

একটু শান্তি পায়,সে কি বৃথা তবে?

আর ঐ পাখিগুলো ! যারা গান গায়

তারাই বা বাঁচবে কিভাবে ?

শুনে মোড়ল বলে,ভুলে যাও সব

তোমার যত ছল,বড় হওয়ার কৌশল,

কৌলীন‍্য কোথায় তোমার,বুনো ভূত

জঞ্জাল,আগাছা কোথাকার!

গাছের পাতা মৃদু দুলে বলে,

ক্ষতি কি,যদি আমার মত 

দু একটা বুনো আগাছা জন্ম নেয়?

কাঠফাটা দুপুরে ,তবুওতো 

একমুঠো ,শান্তি কাউকে দেয়।।

পার্থ ব্যানার্জ্জী


ফেরাবে


তোমার দু'চোখের আলতো ঢেউ

দেখে ধরতে হাত বাড়ালাম

তুমি পাখি হয়ে উড়ে গেলে,

আকাশকে কতো ডাকলাম

সাড়া দিলো না, চুপচাপ। 

বাতাসকেও ডাকলাম, চুপ।

কাকে ডাকবো, ভেবে পাচ্ছিলাম না,

হঠাৎ মনে পড়লো আলোর কথা,

গাছেদের কথা, পাহাড়ের কথা।

ওরা নিশ্চয় শুনবে, আমাকে বুঝবে,

ভালোবাসার ইচ্ছাকে সমুদ্র হয়ে

বারবার ঢেউয়ের দোলায় দুলিয়ে

ফিরিয়ে ওকে আনবোই,

আনন্দ নিয়ে বাঁচার নাম জীবন,

সেটা ওকে দেখিয়ে দিতে হবে, 

পারবে ওরা, আমার প্রিয় বন্ধুরা,

ওকে হারিয়ে যেতে দেবে না,

পালিয়ে যেতে দেবে না কিছুতেই,

বিশ্বাস বারবার জোর দিয়ে বলছে,

ফেরাবোই প্রিয়ার ওষ্ঠের ললিত স্বর

আর তোমার ভালোবাসা,

দেখেছি ওদের চোখে একরাশ

আশা, ফিরিয়ে আনার ভরসা।

ফিরিয়ে আন বন্ধুরা প্রিয়তমাকে।

মুন চক্রবর্তী

 


দীপান্বিতা 



 প্রদীপ আলোতে ভেসে আসছে অন্ধকারের বন্দনা

জ্বলে উঠে নিঃশব্দ তরঙ্গ শিখা রেখে যায় অমলিন শিশির কণা।

বিন্দু থেকে সিন্ধুপারে লিখে গেছে আরধনার সাহিত্য

প্রচ্ছদের শরীর ছুঁয়ে সৃজন কল্পে আলোক মন্ডিত 

দীপান্বিতার আশায় প্রদীপ সমীপে শান্ত শিখা।

গোলাম কাদের



মানচিত্র

বিন্দু বিন্দু দূষিত ঘামে রক্তে জমাট বাঁধা,

ইতিহাসের লুপ্ত ইতিহাস অজস্র আঁকা!


ফোস্কা হাতে নিরন্তর কোদাল, গাঁইতি, শাবল

ইটে ইটে নখের আখর কীর্তি নত স্বর্নোজ্জ্বল।


ক্রমে সমতল ছেড়ে সাগর থেকে হিমালয়ে

পরিচয় দিয়ে বদলে যাচ্ছে পবিত্র মাতৃকোলে।


সৃষ্টির উল্লাসে মগ্ন নীরব ভগবান 

পোড়া চাম পায়ে দুর্গন্ধ ভুবন আলোকিত। 


কঙ্কাল বুকে খোদাই বহু ব্যথার উপগল্প। 

স্ত্রীলোক বিড়ি বেঁধে খেতে পায় খুব অল্প! 


 দেশ গড়ার দায়ে ওরা বাড়ি থেকে দূরে দূরে 

ভেঙে পড়েছে বাড়ি, আর্ত পরিবার অনাহারে। 


দেশ টা যাদের জন্য, যাদের কল্যাণে গড়া 

মিথ্যা গনতন্ত্র, মিথ্যা শপথ ফানুষে মোড়া। 


ভোট বাক্স হাপিত্যেশে গলা ছেড়ে হাঁকে, ওহে

কোথায় তুমি, অভুক্ত আমিও তোমার মত যে!

১৩ নভেম্বর ২০২০

অমিত কাশ‍্যপ



ব‍্যস্ততা

কার্তিকের শেষে এক মায়া লেগে আছে 

তুমি অবুঝ হয়ে না, গ্রাম আর গ্রাম নেই 

শীত রোদ মখমলের মতো বসে যাবে 

উত্তুরে হাওয়ার মাঝে উঠোনে তোমার 


এইভাবে সরল ভাবনা আর নেই যেনো 

বিশ্বাসযোগ্য শব্দটা মনে মনে উচ্চারণ করতে পার

পাশে বসা ভদ্রলোকটি নিপাট ভালোমানুষ

পাড়ার গোবিন্দদা ভালোমানুষ নাও হতে পারেন 


পড়শি অমলকাকু, সজ্জন বলা যায়, তবে মন খুলে 

কোনো কথা বলা যায় না 

প্রাচীন প্রবাদে ছিল, দেওয়ালেরও কান আছে 

এখন প্রবাদ, মন নেই, ব‍্যস্ততা গিলে খাচ্ছে সব

নূরজাহান শিল্পী

টেমস নদী 

স্রোতস্বিনী চির যৌবনা টেমস ।

রোমান শাসক জুলিয়াস সিজার 

টেমস নামকরণে ইতিহাসে অমর নাম যার ।


ইতিহাসের অসংখ্য ঘটনার সাক্ষী 

অক্সফোর্ড , কিংসটন , রিডিং,

উইন্ডসর রিচমন্ড ঘেঁষে টেমস সঙ্গমে মিলেছে উত্তর সাগরে

প্রেম ও প্রণয়ের নৈসর্গে।

পাশ জুড়ে সুরম্য অট্টালিকার 

কংক্রিটের যান্ত্রিকতা।

স্বপ্নঘেঁষা দর্শক ক্যাফের আড্ডায়  মশগুল।

আলো ছায়ার বিনির্মাণ সুখে ,

স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে জানান  দেয় 

টাওয়ার ব্রিজ ।

বিগ বেন ঘড়ির 

 ঢং ঢং আওয়াজে 

জেগে উঠে অলস বিছানা 

আড়মোড় ভাঙা  বিষণ্ণ  কঙ্কালগুলো ।

বাতাসের বেহালা উড়িয়ে নিয়ে যায়,

 ধূসর পাতার বিবর্ণ রূপরেখা ।

  

মুগ্ধতার ঝলকানিতে জেগে উঠে আকাঙ্খার স্বরলিপি ।

  তার মাঝে কারো কারো দীর্ঘশ্বাসের গোপন বাতাস খেলে, যায় বিসর্জনের খেলা ।

কুলকুল ধ্বনিতে মৌনতা পুড়ে, ছাই হয় রমণীর লাল টিপে ।

পথচারী  হেঁটে যায় আগুন নিয়ে আঙুলের ডগায় ।

যেথায় একদা ঘোড়া হাঁকিয়ে বেড়িয়েছেন রাজা রানী রাজপুত্ররা ।

দুনিয়ার সব বিচ্যুতি থেকে মুক্তি পেতে কারো  ছুটে আসা ।

 ছুটে আসা শান্তির খুঁজে টেমস এর নীড়ে ।

জলধারার ক্যানভাসে গুঞ্জরিত টেমসের কল্লোল অববাহিকায় ।

অলীক গভীরতা মাপতে মাপতে, জীবন দান ছেড়ে আসা নারী, সনাতনী দুঃখগুলো জমা রাখে টেমসের পৌত্তলিক গহবরে ।

এখানেই হয় সূর্যোদয় ।

এখানেই সূর্যাস্ত।

টেমস নদী।

                                                                 ( যুক্তরাজ্য ) 

শ্যামল রায়

আকাশ হয়ে থাকুক


আমি বুঝতে পারি

কিছুটা হলেও জানতে পারি

নদী -পাহাড় ও ঝর্ণার কথা।

জড়ো করা দুঃখগুলো

সবুজ করতে উড়ে যেতে পারি

কিন্তু, কেন যাবো?

সারমর্মে জীবন ছাড়া যুক্তি নেই

শুনতে গেলে লাগাম ছাড়া হবে,

যতসব আছে চিহ্ন গুলো মুছে যেতে পারে।

তাই উষ্ণতা নিতে

 মানুষের কাছাকাছি যাবো----

ওখানে সোহাগ আছে, অন্তর আছে।

চলো --বৃক্ষের কাছাকাছি গিয়ে বসি

থাকতে চাই বলতে চাই

ফ্যাকাশে যতসব আছে সবুজ করবো

প্রেমিকারা হৃদয়ের অন্তপুরে

আকাশ হয়ে থাকুক।

মধুমিতা রায়



চাঁদগন্ধী


আহ্লাদি চাঁদটা নারকেল পাতায় দোল খেতে খেতে মাঝে মাঝে টুপ করে দুচারটে আলোর দানা ছড়িয়ে দিল উঠোনের শিউলি গাছটার তলায়।


পরদিন সকালেই ম্যাজিক!

আলোর কণা গুলো হয়ে গেছে

ফুল! 


এসব কিছু অলকানন্দার ঝোপে বাসা বাঁধা মৌটুসিটা দেখেছিল।সে তার ছানাদের ওম দিতে দিতে চাঁদকে বলেছিল...আরে এদিকেও কিছু আলো চাই।


ব্যস,

অলোকানন্দার ঝোপ ভরে ফুটে উঠলো হলুদ হলুদ আলো।

ম্যাজিক!


জানলায় বসে বিষন্ন মেয়েটি তাকিয়েছিল

মাঝরাতে চাঁদের দিকে।

..... কই তুমি?

এ প্রশ্নের জবাব আসেনি আজ।


..... এই তো

মোবাইলের স্ক্রিনে সকাল হল।


আবার ম্যাজিক!

বিষন্ন মেয়ের গালে টোল

চোখে আলো

চাঁদ ঘুমোবার আগে রেখে গেছে বুঝি!

জয়ন্ত দত্ত

পাতা খসে যায়

ক্যালেন্ডারের পাতা খসে পড়ে

মানুষের পদচিহ্ন পড়ে থাকে

পথের ধূলায়


কাল যার সাথে কথা হল

আজ সে সুদূর ঐ

                 বাঁধের ওপারে

পড়ে আছে শুধু দীর্ঘশ্বাস!


চলে যাওয়ার কত যে রঙবেরং-এর অজুহাত!


স্তব্ধ রাত্রিতে একাকী নিজের সাথে

কথা বলছি...কে যেন হঠাৎ-ই

দরজা খুলে দাঁড়ায়...

মমতা রায়চৌধুরী



 আদ্যাশক্তি মহাকালী


হে আদ্যাশক্তি, মহাকালী

মুক্তকেশী, চৈতন্যময়ী ,

মুণ্ডমালিনী করালিনী।

তোর নাম স্মরণে

সর্ব পাপ যায় যে ঘুচে।

তোর নাইকো বরণ  

নাইকো আবরণ।

অথচ রূপেতে তোর

 পাগল যে ভোলা মহেশ্বর।

হে দয়াময়ী ,সদানন্দময়ী,

তোর স্নেহ সুধায় তেমনি 

গদাধর ,বামাক্ষ্যাপা ,আর    

ভবাও  হয়েছে পাগলা,

আর যত সব রয়েছি অভাগা।

হে প্রলয়ংকারী , জগৎ জননী 

তাই অশেষরপে প্রকট হ দেখি।

এ পৃথিবীতে অন্যায় -অবিচারে,

হিংসা-দ্বেষ কলুষতায় যে ভরে।

আজ মানুষ যে বড়ো বিপন্নতায়

কাটছে সময় তাদের অসহায়তায়।

তাই হে আদ্যাশক্তি, বরাভয়ী মা,

তোর খড়গে ঝলসা  ঘৃণ্যকর্মটা।

তুই কালোর  বুকে আনতো  মা

সকল আলোর বন্যা।

মানুষ হিংসা বিদ্বেষ যাক ভুলে 

সংহতির চেতনায় উঠুক জেগে।

পৃথিবীর যত কলুষতা ধুয়ে মুছে

আবার সকল গৃহকোণ আলোর   

রোশনাইতে  উঠুক ভরে।

হে মা আদ্যাশক্তি,  মহাকালী

  তাই দুর্দিনে তোর নাম যে স্মরি।

জাফর রেজা

সীমান্তের সীমানা


আমি সীমান্ত, 

ভবঘুরে আমার পরিচয়, 

আমি ঘুরছি নগরীর অলিতে-গলিতে 

কখনও রাজপথের ফুটপাত ধরে;

আমি ছুটছি 

যুগ থেকে যুগান্তরে

ক্লান্তিহীন যুবকের মতো ,

প্রাণহীন শহরে ছুটে চলি

ভালবাসা নয় জীবিকার খোঁজে ,

মেঘ ভাঙা রোদে ঘর্মাক্ত শরীর 

দেহের সবটুকু শক্তি 

হয়তো এখুনি হবে নিঃশেষ

তবুও চলতে হবে।


নিজেকে প্রশ্ন করি

সীমান্ত তোমার সীমানা কতদূর।