০৮ জানুয়ারি ২০২২

মমতা রায়চৌধুরী/৮৮ পর্ব




উপন্যাস 

টানাপোড়েন ৮৮

বিদায়

মমতা রায়চৌধুরী




বাড়িতে যতই মেজ পিসিমা খোঁচা দিয়ে কথা বলুন না  কেন ?শিখা কিন্তু গায়ে মাখছে না,মাখার চেষ্টা ও করছে না।'
বৌদিভাই তো বলেই দিয়েছে 'পিসিমা ক'দিনের জন্য এসেছেন কিছু বললে , কিছু মনে করিস না।'
তখন শিখা বলেছিল 'কিন্তু বৌদি ভাই..?'
তখন মাধুরী মুখে আঙ্গুল দিয়ে বলেছিল' কোন কথা নয় এবং বলেছিল বৌদি ভাইয়ের কথাটা মেনে নিতে।'
তাই আজ অনেক কথা শোনানোর পরও কোনো কথা বলে নি, avoid করে গেছে। রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে শিখা  এসবই ভাবছিল। 
তারপর বেলঘড়িয়া থেকে ট্যাক্সি ধরে দক্ষিণেশ্বরে নেমে পড়ে । কোথাও যেতে ভালো লাগছে 
না ।তাই মায়ের কাছে, মাকে দর্শন করতে, তার আশীর্বাদ নিতে একাকী বেরিয়ে পড়া।মাকে পুজো দিতে গিয়ে  সেখানে লম্বা লাইন দেখে ভাবে অনেকটা সময় লেগে যাবে। কিন্তু পুজো দেবে বলে ভেবেছে যখন ,দেবেই।'
বৌদিভাইকে একটা মেসেজ করল' আমার ফিরতে দেরী হবে। চিন্তা ক'রো না।'
মেসেজ করতে করতে একটা ফোন ঢুকলো
ফোনটা করেছে কল্যান । 
শিখা ফোনটা রিসিভ করল'হ্যালো',।
কল্যান বলল'কিছু জানালে না তো?'
শিখা' নিরুত্তর।'
কল্যান বলল 'আজকে আমি কলকাতায় এসেছি। দেখা করবে আমার সঙ্গে?'
শিখা বললো 'আমি তো পুজো দিতে এসেছি।'
কল্যাণ বলল 'কোথায় ? দক্ষিণেশ্বর?'
শিখা বলল' হ্যাঁ।'
কল্যান বলল 'f ফ্যামিলির সাথে এসেছো?'
শিখা বলল' না ,আমি একা।'
কল্যাণ বলল: আমি দমদমে আছি তাহলে আমি পৌঁছে যাব দক্ষিণেশ্বরে।'
শিখা মনে মনে ভাবল এটা আবার কি সংযোগ রে বাবা। কিছুই বোঝা যাচ্ছে না।
কল্যাণ বলল' কিছু বলছো না যে?'
শিখা বলল ' কি বলবো ?আপনার যদি ইচ্ছে হয় পুজো দিতে আসবেন? মায়ের কাছে সবার  দরজা খোলা।'
কল্যান হেসে বলল 'হম খুব কায়দা করে উত্তর দিলে। Good

শিখা বলল' পুজোর লাইন দিতে যাব। ব্যাগ জমা রেখে দিতে হবে।'

কল্যান বলল 'একটু ওয়েট করো একসঙ্গে পুজো দেবো ।আমি দক্ষিণেশ্বর স্টেশনে পৌঁছে গেছি।

শিখা চুপ করে থাকলো
কল্যান বলল'তাহলে মৌনতা সম্মতির লক্ষণ ধরে নিচ্ছি।'
শিখা বলল 'আসলে পুজো দিতে দেরি হয়ে 
যাবে ।বাড়ী পৌছাতে দেরি হয়ে যাবে।'

কল্যাণ বলল 'সেরকম হলে বাড়ি পৌঁছে দেবো?'

শিখা সঙ্গে সঙ্গে বললো' না না বাড়ি পৌঁছে দিতে হবে না। মনে মনে ভাবল বাব্বা বাড়িতে মেজ পিসি  আছে ।আরো কত কথা যে শোনাবে তার ঠিক ঠিকানা নেই । সুঁচ ফোটানো  কথা বড্ড ভয় লাগে।'
কল্যানের  মনে একটা টানটান উত্তেজনা, মনে লেগেছে খুশির হাওয়া। কি এক অনাবিল আকর্ষণে ছুটে চলেছে। পরনে নীল শার্ট, ক্রিম প্যান্ট। হাতে ছিল  একগুচ্ছ গোলাপ ফুল।

 কল্যান ভাবছে' কি করে ফুলগুলো শিখাকে দেবে? ভেবে নিয়েছে আজকে দেবেই।'

শিখা পায়চেরি করছে আর বারবার ঘড়ি দেখছে।
এরমধ্যে মধ্যেই কল্যান ঢুকে গেল । 
কল্যাণ শিখাকে ফোন করলো ।শিখার ফোন রিং হতেই শিখা ফোন রিসিভ করে বলল 'হ্যালো'।
কল্যান বললো' কোথায় আছো?'
শিখা বলল' গেট থেকে ডানদিকে।'
কল্যান খেয়াল করল  শিখা ফোনে কথা বলছে ,দেখতে পেয়ে বলল  ' দেখতে পেয়েছি।'
কল্যান   বলল' বাহ কি সুন্দর লাগছে  নীল শাড়িতে। 'নিঙ্গারিয়া নীল শাড়িতে শ্রীমতি চলে...।'গুন গুন করে গান ধরল ।
শিখাও লক্ষ্য করলো 'বাহ খুব সুন্দর লাগছে।'
একি  কাকতালীয়ভাবে দুজনের  ড্রেস ই নীল।
হা করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো। 
কল্যান হাতটা চোখের সামনে নেড়ে বলল ' কি দেখছ?'
শিখার যেন হঠাৎ করেই ধ্যান ভঙ্গ হলো। হেসে বলল ' না কিছু না এমনি।'
কল্যাণ ভনিতা না করে  একগুচ্ছ গোলাপ ফুল দিয়ে'  বলল 'এটা তোমার জন্য'।
শিখা তো হতবাক হয়ে গেছে ।কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না । শেষে শিখা দুহাত ভরে ফুলগুলো  নিলো। আর জোরে জোরে গোলাপের সুগন্ধ মনে প্রানে নিয়ে নিল। তারপর বলল 'থ্যাঙ্ক ইউ।'
কল্যান বললো 'চলো তাড়াতাড়ি পুজোটা দিই।'
শিখা বললো 'হ্যাঁ চলুন।'
কল্যান বললো' এখনো কি আপনিতেই ঠেকে থাকবো।'
শিখা শুধু হাসল।
কল্যান যেন সেই হাসিতে একমুঠো ভালোবাসার স্ফুরণ দেখতে পেল।
তারপর আস্তে আস্তে দুজনেই পুজোর ডালা সাজিয়ে লাইনে দাঁড়ালো। আগের থেকে লাইনটা অনেকটাই হালকা আছে। প্রায় আধ ঘন্টা কেটে গেল। 
অবশেষে মায়ের কাছে গিয়ে পুজো দিল। দুজনেই আশীর্বাদ নিল। তারপর পুজো দিয়ে বেরিয়ে ভেবেছিলো গঙ্গার ধারে গিয়ে বসবে,একটু গল্প করবে। সামনে কল্পতরু উৎসব ।সেজন্য এমনিতেই একটু ভিড়। দুজন আবার আনমনে হাঁটছে উদ্দেশ্যহীনভাবে। হাঁটতে হাঁটতে বালি ব্রিজের উপর এসে দাঁড়ালো ।একমনে তাকিয়ে গঙ্গার দিকে। শান্ত ধীর গতিতে বয়ে চলেছে জাহ্নবী। একদিকে বেলুড় মঠ ,অন্য দিকে দক্ষিণেশ্বর। কল্যাণ শিখার দিকে তাকিয়ে গুনগুন করে গান ধরল'তোমারে লেগেছে এত যে ভাল,
 চাঁদ বুঝি তা জানে...।'
শিখা কল্যাণের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে।
কল্যাণ শিখার দিকে তাকিয়ে যেন চোখে চোখে কথা হয়ে গেল।
এরমধ্যে শিখার ফোন বেজে উঠলো। 'আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল...।'রিসিভ করে বলল হ্যালো'।
শিখার বৌদি ফোন করেছে। মাধুরী বলল কোথায়? ঠিক আছিস তো?
শিখা বলল হ্যাঁ ঠিক আছি।ঠিক সময়ে পৌঁছে যাব।
মাধুরী বলল 'ঠিক আছে। সাবধানে আসিস।'
শিখা বলল 'ঠিক আছে।'
শিখা ফোনটা কেটে কল্যাণের দিকে তাকিয়ে ইশারায় বলল 'এবার যেতে হবে।'
কল্যান বলল 'চলো কোথাও গিয়ে একটু খেয়ে নিই।'
শিখা বলল 'এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে।'
কল্যাণ বলল 'তাহলে চলো।'
শিখা বলল কলকাতায় কিছু কাজ ছিল?
কল্যান বললা' না তো।'
শিখা হেসে বলল 'ও।'
কল্যান বললো 'কিসে যাবে?'
শিখা বলল 'ট্যাক্সিতে।'
কল্যাণ বলল 'ঠিক আছে। এরমধ্যে একটি ট্যাক্সিকে 'এই ট্যাক্সি, ট্যাক্সি বলে হাত দেখাল।'
ট্যাক্সি এসে দাঁড়ালো ।গেট খুলে দিল শিখা বসল এবার কল্যান ও  এসে পাশে বসলো।
শিখা বলল 'আপনি?'
কল্যাণ বলল 'আমিও তোমার সঙ্গে যাবো।'
শিখা বলল 'না আমি যেতে পারবো।'
কল্যান বলল'ঠিক আছে ।আমি জানি তুমি যেতে পারবে। আমি বাড়ির ভেতরে যাবো না। সামনেটায়  আমি  নামিয়ে দেবো।'
শিখা প্রসন্নতার হাসি হাসলো।
এরপর দুজনেই চুপচাপ ।কেউ কোন ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। শেষে কল্যাণ আবার গান ধরে' -
'রোদে জ্বলা দুপুরে,
 সুর তুলে নুপুরে বাস থেকে তুমি যবে নাবতে।
একটা কিশোর ছেলে একা কেনো দাঁড়িয়ে?
সে কথা কি কোনোদিন ভাবতে?'
….
দ্বীপ জ্বলা সন্ধ্যায়।
 দ্বীপ জ্বলা সন্ধ্যায় হৃদয়ের জানালায় কান্নার খাঁচা শুধু রেখেছি…
স্বপ্নের জাল বৃথা বুনেছি।'

কল্যান অত্যন্ত আবেগ তাড়িত হয়ে শিখার হাতে হাত রাখলো।
শিখা হাতটা সরিয়ে নিল না। কেমন যেন বিদ্যুত খেলে গেল সারা শরীরে।
কল্যান শুধু বলল'চলো হারিয়ে যাই দূর নীল সমুদ্রে।'

কবি মোঃ ইসমাঈল এর কবিতা







জীবন 

 মোঃ ইসমাঈল



জীবনটা নয় কোনো প্রকারেই ছেলেখেলা
হারিয়ে ফেলিতেছ জীবন থেকে কী সুন্দর বেলা।
চেষ্টা করো শ্রম দিয়ে করতে কিছু জীবনে 
সফল হলে আনন্দ পাবে খুব যে মনে।

জীবনের গতিতে কর্মের পিছনে যাও এগিয়ে
দেখবে নিজ থেকে হঠাৎ অদম্য সাহস আসবে বেরিয়ে।
তখন তুমি পাবে না কোনো কিছুতেই ভয়
কেননা তোমার জন্যই অপেক্ষা করিতেছে বিজয়।

জীবন মানেই নয় কোনো প্রকার যন্ত্রণা
যদি তুমি এড়িয়ে চলতে পারো সকল কুমন্ত্রণা।
উপভোগ করতে চেষ্টা করো সুন্দর এই জীবনটাকে
হাসি-খুশি আর আনন্দ দিয়ে সতেজ রেখো মনটাকে। 

জীবনে থাকতে পারে অনেক ব্যর্থতা
পরিশ্রমের মাঝেই আবার ফিরে পাবে সফলতা।
নিজেকে রাখতে হবে সবসময় নমনীয় 
ধারন করতে হবে এমন একটা চরিত্র, যেটা হবে দুর্দমনীয়।

কবি রুকসানা রহমান এর কবিতা  





ভোগবাদী সমাজ
রুকসানা রহমান        

        

জনজীবনের সমাজ ব্যাবস্হা সূর্য ভস্মে মাথা রেখে
পথচলা।এখন আর এক ফোঁটা কান্নার জল মুছে দিতে
কতশত বছর পার হবে জানিনা। নারীদের নিয়ে এখন
কেবলই মুখরোচক গল্প মিডিয়া খবরের কাগজে
যেন ওৎ পেতে থাকে কোন নারী কি করলো পুরুষ নামক অহংকারী কিছু পুরুষত্বের ষাড়গুলোকে 
আড়ালে রেখে।
কোনদিনই কি নির্বিঘ্নে পথ পেরুনো হবেনা নারীদের ?  
ভাবতে অবাক লাগে তথাকথিত আধুনিক সমাজ আজও সেই শোষক শাসন থেকে বের হতে পারেনি।
একই শিকড়ের বন্ধনে আসা নারী যেনো মাটির পুতুল।
আদিম পোষাক দেখতে চায় সৃষ্টির  শ্রেষ্ঠতম ফুল...! 

আজ বারবার মনে পড়ছে কবি হুমায়ুন আজাদের
কবিতার কিছু লাইন.....
আমি জানি সব কিছু নষ্টদের  অধিকারে যাবে।
সাধের সমাজতন্ত্র ও নষ্টদের অধিকারে যাবে 

সত্যিই আজ  সমাজ নষ্টদের অধিকারের ব্যবস্হায় জীবন খাতার পাতায়,পাতায় সূর্যদাহে পুড়ছে
,ভয়ংকর রাষ্ট আর সমাজ ব্যাবস্হায় কৃষ্ণগহব্বরে বন্দী আজও নারী।
অথচ সমাজ প্রতিবন্ধীদের মত ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটে।
সময়ের নিজস্ব নিয়মে কার কি হচ্ছে মজা লুটছে
কিছু বলার প্রয়োজন বোধ করেনা। ভাবখানা এমন
বাবা, নিজের প্রাণ বাঁচাও। 

ঘরের চৌকাঠের ভিতর নারীর ঠিকানা-
তাদের আকাশ চিনে কি লাভ ?
শরীরের মাপ ঠিক রাখা, প্রনম্য আগুনের ভিতর দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করাই নারীর জন্য উপযুক্ত।
দহনে-দাহনে বেঘোরে পোড়াই নারীর ধর্ম
নারীর মৃত্যুর পর নারীর প্রশংসা, পুড়বে মেয়ে, উড়বে
ছাই, তবেই মেয়ের গুণ গাই।
নারী যেন খয়রাতি জীবন দিয়ে যেতে হবে তাকে সর্বস্ব  
ত্যাগে।
সমাজের তথাকথিত মানুুষরূপি হায়নারা যেনো কাম
অগ্নিকাণ্ড জন্মের কুণ্ডলির ভিতর শোষক-শাসকের
পৈতিক ক্রাচ চাষাবাদ সময়ের ক্ষূধার্ত খাদকের জন্য
কি নারীর জন্ম ?
মনুষ্য নেকাব পড়ে ওরা জনসম্মুখে ভদ্রতার নেকাব
পড়ে বুক ফুলিয়ে হাঁটে 
কেউবা জাতীয় সংগীত শুনতে শুনতে সুযোগ পেলেই
তাদের সাধের ধর্মগ্রন্থ তখন সরিয়ে অণূর্বর জমিতে 
উন্মাতাল খেলার মক্ত হয়ে ওঠে   রাষ্ট ও সমাজ।
মোমের মতন গলে যাচ্ছে পবিত্র ভালোবাসার আখ্যান। 

অপবাদে জড়ানোর ভয়ে দাবিদারহীন; মাটির উপর
দাঁড়িয়ে বাঁচতে চেষ্টা করে আজও নারীরা।
ফুঁফিয়ে ওঠা কালের বেদনার হাহাকারে নারী নামের
ফিসফাস রক্তপাতে এক একটি রক্তজবা।
এভাবেই চোরাকুঠুরীর চাবি বদলের খেলায় অস্হি মাংসের ভিতর চলে ভালোবাসার নামে উপভোগের মানচিত্র। 

তবুও কি নারী হাল ছাড়ে, ছাড়বে না বলেই আজও
ইতিহাসের পাতায়-পাতায় খোঁজে নিজেদের অধিকার। খুঁজে চলছে একা সমান্তরাল জীবন প্রশস্তদিন।
তবুও আদি পর্বের ক্ষয়ে যাওয়া সময় ফেরেনা
নতুন কোন অক্ষর কেবলই ছায়া লেগে থাকে পোড়া
চোখে।
তবুও নারীরা বাচেঁ, বাচঁতে হয় সংসার সমাজের রক্তচক্ষু, অপবাদের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে ও কেউ কেউ
অক্ষর খুঁজে পায়।
বাচেঁ একা একেবারেই একা একার আকাশের নিচে
দাঁড়িয়ে স্বস্হির নিঃশ্বাসে।
আজ প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে নারী স্বাধীনতা এখনো আর কতদুর, নারী স্বাধীনতা মানে ভোগপণ্য নয় এটি
সামাজিক অবস্হান যার মৌলিক স্বীকৃতি সমাজে
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের নারী ঘরের  সঙ্গে, সঙ্গেই
অনেক বেশি বাইরেরও।কাজের প্রয়োজনেই বাধ্য করছে তাকে যে পোষাকে নারী স্বচ্ছন্দ সেটাই অগ্রাধিকার দিতে।
কাজেই পশুদের হাত থেকে রক্ষা পায়না,এখানেই
গভীর সত্য লুকিয়ে আছে,তা হলো পশুদের হাত থেকে
নিস্তার পাওয়া বা না পাওয়া নারীর পোষাক দ্বারা
নির্ধারিত  হয় না।নির্ধারণ করে সমাজের মনোভাব
নারীর প্রতি সন্মান শ্রদ্বাশীল না হওয়া পর্ষন্ত একশ্রেণী পশু সুলভ মানুষ নারীকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করবে, 
সেই সমাজ বা রাষ্টের কখনো মাথা উচু করে দাঁড়াতে
পারবেনা এবং উন্নতি ও হবেনা।
নারী ধর্ষণের মতন নির্যাতন  থাকলে।

হালিমা মুক্তা এর টাইম যান /২য় পর্ব





টাইম যান
( ২য় পর্ব ) 
হালিমা মুক্তা

ঠিক দুপুর নিপু তানজিম এর খেলনা গোছাচ্ছে। স্কুল থেকে ফিরে সব এলোমেলো দেখে নিপু তানজিম এর উপর রেগে যায়। আম্মা আম্মা তোমার ছেলে সব এলোমেলো করে রেখেছে সব খেলনা গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে এ কি করেছে ঘরের অবস্থা দেখে যাও। ডাকাডাকি করছিস কেন পারলে গোছা। নিপুর মায়ের রান্নাঘর থেকে উত্তর। এই তানজিম টা না!নিপু একাই বকবক করছে। আর ঘরময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা খেলনা গোছাচ্ছে। হঠাৎ নিপুর ভোর বেলার কথা মনে পড়ে যায় সেই হেলিকপ্টার জান এর কথা। নিপু আবারো একটু শিহরিত হয়। কেমন যেন গা ছমছম করে ওঠে। রান্নাঘর থেকে আওয়াজ আসে নিপু তুমি গোসল করে ফ্রেশ হও নামাজের বেলা কিন্তু যায়। নামাজ ,খাওয়া স্যারের পড়া ওহ একটুও শান্তি নেই মায়ের কথা শুনে বিরক্ত মুখ নিয়ে নিপু কল পাড়ের দিকে হাঁটা দেয়। 

নিপু ভালো ছাত্রী কিন্তু পড়াশোনায় অমনোযোগী এটা নিয়ে নিপুর মায়ের কাছে প্রায়ই বকা খেতে হয়। সময়ের কাজ সময়ে করেনা। টাইম এর দিকে কোন খেয়াল নেই। এই মেয়ে বড় হচ্ছে না কি দিন দিন সব বুদ্ধি লোপ পাচ্ছে। কিন্তু তানজিম কে মা কিচ্ছু বলেন না। সারাঘর এলোমেলো করা চিল্লাচিল্লি তো তার আছেই।কিছু বললেই মা বলেন বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে। তুমি তোমার কাজ করো। সামনে তোমার পরীক্ষা। এবার ক্লাস ফাইভে উঠবে আর পড়াশোনায় অমনোযোগী হলে হবে না এবার মনোযোগ দাও। নিপু বয়স অনুপাতে একটু হেলদি। তার সবকিছুতেই অমনোযোগী ও একটু স্লো হওয়ার পিছনে বোধহয় এটাই কারণ।

রাতে ভাল ঘুম হয় না নিপুর। কেমন যেন একটা অস্বস্তিতে ভরে উঠছে তার ছোট্ট মন। খানিক এপাশ-ওপাশ করে বিছানা থেকে উঠে ঘরের লাইট জ্বালায়। আসলে একা একা ঘুমানোর অভ্যাস টা এখনো ভালো ভাবে গড়ে ওঠেনি নিপুর। হঠাৎ ওর ছোট্ট কচি মনটা খারাপ হয়ে যায়। এইতো কদিন আগেও তো আম্মুকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়েছি। এখন তানজিম টা বড় হয়ে যাওয়াতে আমাকে এখন! তাছাড়াও মা বলেন তোমার ১০ বৎসর হয়েছে এখন থেকে তোমার আলাদা বিছানায় ঘুমাতে হবে এবং নিয়মিত নামাজ পড়ার অভ্যাস করতে হবে। কিন্তু নিপুর ধারণা ওই তানজিম টাই সব। ওর জন্যই আম্মুর কাছ থেকে তার তাড়াতাড়ি!নাহলে আরো কিছুদিন আম্মুর সাথে ঘুমাতে পারতো সে।

চলবে...

০৭ জানুয়ারি ২০২২

আলোক দাস এর লেখা




মানুষ কোথায় 


 একি খেলা চলছে এখানে, আগেই হোলো স্কুল বন্ধ I 
পানসালা সব খোলাই থাক I  শিক্ষার আর দরকার নেই I এখন হচ্ছে এখানে হীরক রাজার দেশ I ট্রেন চলছে ভিড়ে, মাস্ক নেই কারও মুখে I করোনা এখন ঘরে ঘরে I আসছে গঙ্গাসাগর মেলা I বহু লোক আসবে সাগর তীরে I পুন্য স্বান হবে I কতলোক মরবে পাপে I হাসপাতালে ডাক্তার নেই, তাঁরা সব অসুস্থ হোয়ে ঘরে বন্দি I মেরুদন্ড ভাঙতে হোলে শিশুর, শিক্ষায় আঘাত আনো আগে I আসছে আবার ভোট I মিছিল, মিটিং হোক জোর কদমে I আবার সব হবে গড়ে পাশ I সবাই পাবে একশো I আহা কি মজা I পরীক্ষা বালাই সার I রায় ও মার্টিন তো হাতেই আছে I শিক্ষার হোক বিনাশ I ডোমের পরীক্ষা আবার হবে I জীবন হোক ছন্নচ্ছাড়া I সবাই যাবে হাইকোর্ট I ভোট আমাদের চাই I সবাই বোলবে দেবো কোরে পার্ক, দেবো আলো, দেবো লম্বা রাস্তায় গাছ, দেবো পুকুর, তার ওপরে উড়াল পুল I কলকাতা হবেই তিলোত্তমা I করোনা কিছু ই নয় I আমরাই দেবো মাস্ক I ভোট আমাদের চাই I

কবি খালেদা লিপি 'র কবিতা





ঘ্রাণ 
খালেদা লিপি 


অন্ধজন স্বপ্ন দ্যাখে
যদিও তার স্বপ্ন ঘুরে ফিরে এক জায়গায় স্থির 
দেখতে পাওয়ার স্বপ্ন।
বলেছিলো, 
পৃথিবীকে দেখতে চাই
যাকে ভালোবাসি তাকে দেখতে চাই
যে আমার ঔরসজাত তাকে দেখতে চাই।
দেখে দেখে সব চিনতে চাই
মানুষ চিনতে চাই 
ঘ্রাণে আর কতোটা চেনা যায়
পৃথিবীর সব কিছু ঘ্রাণে চিনে রাখা যায়?
প্রশ্ন শুনে ব্যাকুল হই
দেখতে না পারার জন্য এই যে ব্যাকুলতা সেটা খুব ভাবায়। 
ভাবি,দেখে দেখে কতোটা চিনেছি মানুষ কতোটা স্বপ্ন হয়েছে পূরণ কতোটা বাকি!
বরং পৃথিবীর মানুষের ভয়ংকর রূপ দেখে 
থমকে গেছি। 
দেখতে পাওয়ার যে ভয়াবহতা হয়তো তা থেকে  বেঁচে গেছে অন্ধজন।
দেখেও না চেনার বিষাদী আছন্নতা 
ঘিরে রেখেছে জীবনকে সেই জীবনে ঘ্রাণ শুঁকে চিনে রাখার ক্ষমতাকে অসীম মনে হয়।

কবি সেলিম সেখ এর কবিতা





বৃষ্টি
সেলিম সেখ

জমেছে মেঘ আকাশেতে
ঝরে পড়বে বৃষ্টি হয়ে,
নদী-নালা ভরবে জলে
প্লাবন আনবে লইয়ে।

বৃষ্টির ওই ফোঁটা
পড়বে যখন নিচে,
ভিজাবো মোর দেহখানি
আসবে জ্বর মিছে।

আকাশ ভরা মেঘ দেখি 
হয়েছে যে কালো,
উঠেছে ঝড় পুব দিকে
নিভেছে তাই আলো।

গ্রীষ্মের ওই তপ্ত দুপুরে 
আসেনা ঘুম কারও,
যদি হতো বৃষ্টিপাত
মন চায় ঘুমোতে আরো। 

মরুর বুকে যদি হতো
এক পশলা বৃষ্টি, 
সবুজে  ভরতো সেথা
হতো অনেক প্রাণের সৃষ্টি।

অনাবৃষ্টির ফলে আজ
হচ্ছে অনাবাদী জমি, 
এভাবেই চলতে থাকলে
বাঁচবে ভূমি কমই। 

কোথাও দেখো অতিবৃষ্টি
প্লাবন ডেকে আনে, 
কোথাও দেখো হয়েছে মরু 
অনাবৃষ্টির টানে। 

বৃষ্টির পর সতেজ হাওয়া
দিয়ে যাই মনে দোলা, 
বৃষ্টি শেষে মাটির গন্ধে 
প্রাণ থাকতো মোদের খোলা।

কবি মহুয়া চক্রবর্তী 'র কবিতা




পরম আত্মীয় 
মহুয়া চক্রবর্তী 

কে আমার আত্মার আত্মীয়
যে কিনা আমার আত্মার সাথে জড়িয়ে আছে
সেই  কি আমার পরম আত্মীয়।
পৃথিবীর এই গোলক ধাঁধায়
দিবারাত্রি ঘুরে চলেছে নতুন সম্পর্কের বাঁধনে।
কিন্তু আজও বুঝলাম না কে আমার আত্মার আত্মীয়।
নিত্য দেখি চাঁদের হাটে সম্পর্ক গড়ে আর ভাঙে
সম্পর্ক যে  আজ নিছকই খেলনা
যা কিনা দুই পয়সার মূল্য দিয়ে সাঝের হাটে বেচে আর কেনে।


পথে-ঘাটে নিত্যদিন কত সম্পর্ক ঘোরে আশেপাশে,
স্বার্থ ফুরালে সব সম্পর্ক গুলো পালায় নিরুদ্দেশে। 

যে আমায় এই পৃথিবীর আলো 
দেখিয়েছিলে একদিনসেই আমার পরম আপন আমার গর্ভধারিনী মা
বাকি সব সম্পর্ক গুলো সব টাই ফাঁকা
উপর টাই শুধু চকচকে রঙিন। 

একমাত্র নিঃস্বার্থ ভালোবাসে' পিতা মাতা
আর যার নাই পিতা-মাতা তার আছে দয়াল বিধাতা। 

আরে ও আমার অবুঝ মন
এই পৃথিবীতে কেউ নয় তোমার আপন।
এক মুঠো ভালোবাসার আশায়
অনেকতো ঘুরলে পথে পথে
এবার চলো নিজ নিকেতন।

শামীমা আহমেদ/৫০ পর্ব






শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৫০)
শামীমা আহমেদ 

দরজায় কলিংবেল শুনে শায়লা  নিজের ঘর থেকে এগিয়ে এলো। দরজা খুলতে গেলে ডাইনিং এর দেয়াল ঘড়িটাতে তাকিয়ে নেয়া শায়লার বহুদিনের অভ্যাস।কে কোন সময়টাতে  এলো এটা দেখা শায়লার একধরনের ভাবনার খোরাকও বটে! 
ঘড়ির কাঁটায় রাত নয়টা।শায়লা দরজা খুললো।রাহাত অফিস থেকে ফিরলো।আজ বেশ দেরি হলো।রাহাত অবশ্য আগেই অফিস থেকে তা জানিয়েছিল।সামনে ওদের অফিসে বোর্ড মিটিং।অনেক পেপারস রেডি করতে হচ্ছে।তাই দেরি হবে।না জানালে মা বেশ অস্থির হয়ে উঠে। রাহাত আর কোন দিকে না তাকিয়েই বলে উঠলো, 
আপু, খুব ক্ষুধা পেয়েছে, খাবার দাও।
মা ঘর থেকে বেরিয়ে এলো।
শায়লা তড়িঘড়ি করে কিচেনের দিকে পা বাড়ালো।
দিচ্ছি, হাতমুখ ধুয়ে এসো।
রাহাত নিজের রুমে ঢুকতে গিয়ে আবার ফিরে এলো।
ওহ! আপু, আজ অনেক ব্যস্ত ছিলাম।তাই শিহাব ভাইয়াকে কল করতে পারিনি।আজ সারাক্ষনই সবাই গ্রুপে কাজ করেছি।একেবারেই ফুসরত মেলেনি।তবে ইনশাআল্লাহ  অবশ্যই  কাল কথা বলবো।
শায়লা বেশ আড়ষ্ট হয়ে কথাগুলো শুনছিল।রাহাত যতটা সহজভাবে বলছে মনে হচ্ছে শিহাব ইতিমধ্যে  এই পরিবারের একজন সদস্য হয়ে গেছে।আসলে  শিহাবের সাথে কথা বলে রাহাতেরও খুব ভালো লেগেছে!তাইতো তাকে পরিবারের সদস্য করে নিতে আর যেন ত্বর সইছে না।
---তোমাদের কী কথা হয়েছে আপু?
শায়লা রাহাতের দিকে চোখ না তুলেই জানালো,হ্যাঁ,হয়েছে।
ঠিক আছে আপু,কাল অবশ্যই কথা বলে নিবো।একটু ব্যস্ততা কমবে কাল।আমি আসছি,বলে রাহাত ঘরে ঢুকে গেলো।
শায়লা কিচেনের দিকে এগিয়ে গেলো।মাঝখানে  দাঁড়িয়ে মা দুই ভাইবোনের কথার কিছুই বুঝলা না।সে অবাক হয়ে শুধু এদিক ওদিক করলো। তবে একটা নাম নিয়ে আলোচনা যে হলো সেটা সে শুনেছে,তা হলো শিহাব।শিহাব কে!মা ঠিক বুঝতে পারছে না।  শায়লার দিকে দৃষ্টি দিতেই শায়লা দ্রুত রান্নাঘরে চলে গেলো।শায়লা মায়ের এমন বিব্রতকর অবস্থা  দেখে নিজেকে খুব অপরাধী ভাবছে।

প্রায় পৌনে দশটার দিকে শিহাব ঘরে ফিরলো।পথিমধ্যে বাইক থামিয়ে  একটা  ক্যাটারিং হাউজে চাওমিন অর্ডার করলো।তাকে সেখানে বিশ মিনিট অপেক্ষা করতে হলো।যেহেতু টেক এওয়ে খাবার তাই ওরা বেশ যত্ন নিয়ে খাবারটি তৈরি  করে।আর তাই একটু সময় বেশি নেয়।আর শিহাবকে তো সার্ভিসম্যানগুলো খুবই পছন্দ করে।ওদের খুব ইচ্ছা,স্যার একদিন আমাদের এখানে বসে ডিনারটা করেন,ম্যাডামকেও একদিন আনেন। ওদের ধারনা শিহাবের উপস্থিতি ওদের কাস্টমার বাড়াবে।বিশেষ করে নারী কাস্টমার!শিহাব এসব কথার একেবারেই পাত্তা দেয়না। সে নিজেকে এতটা সস্তা করে দিতে রাজী নয়। পুরুষের  সৌন্দর্য  তার ব্যক্তিত্বে আর নারীর  সৌন্দর্য  শালীনতায়।শিহাব বাইরে বাইকে বসেই অপেক্ষা করে। আজ বাইকে বসেই শিহাব ভেবে নিলো,ঘরে খাবার ফুরিয়েছে।মা,ভাবীকে জানাতে হবে আবার কিছু খাবার তার জন্য পাঠাতে। পরক্ষণেই ভাবলো।না পাঠাবে কেন? খুব শীঘ্রই সে নিজেইতো জিগাতলায় যাবে, শায়লাকে নিয়ে। শায়লার কথা জানিয়ে মা আর ভাবীকে আগে থেকেই ব্রিফ করে রাখতে হবে।মা খুশি হলেও ভাবী কিভাবে নিবে শিহাব তা বুঝতে পারছে না।ভাবীর খুব ইচ্ছা ছিল তার খালাতো বোনের সাথে শিহাবের বিয়ে দিতে।ভাবীর খালাতো বোন জেরিন,মেয়েটি নিঃসন্দেহে খুবই ভালো কিন্তু শিহাব ঠিক মেয়েটির সাথে নিজেকে মিলাতে পারেনি।বেশ ধনীর ঘরের মেয়ে। বিয়ের তিনদিনের মাথায় ডিভোর্স হয়ে যায়।ছেলেটি ড্রাগ এডিক্ট ছিল। বিয়ের সময় বুঝা যায়নি একেবারে।আর বিয়ের পর তা বুঝতে পেরেই জেরিন আর তার সাথে সংসার করতে চায়নি। শিহাব ভেবে নিলো, আসলে পৃথিবীতে কেউই সুখী বয়।অর্থ বিত্তও সুখ এনে দিতে পারেনা।টাকার অভাবে দরিদ্ররা মেয়ে বিয়ে দিতে পারে না, অর্থাভাবে স্ত্রীর প্রতি নির্যাতন চালায় আবার ধনীদের প্রচুর অর্থ থাকলেও,তাদের কাছে  অর্থের চেয়ে এডজাস্টমেন্ট বড়! 
চাওমিন তৈরি হয়ে এলো।শিহাব বক্সটি নিয়ে বাইকে বাসার উদ্দেশ্যে দে ছুট! বাসার গ্যারেজে বাইক পার্কিং করার সময় কেয়ারটেকার বেলাল এগিয়ে এলো।কিছু একটা বলার জন্য কাছে এসে হাত ঘষাঘষি করছিল।
কিছু বলবে বেলাল?
জ্বী স্যার,একটা কথা।
বলো।
বেলাল বেশ ভীত মুখেই বললো, স্যার নিচতলা অপুর আম্মু ম্যাডামে আমার কাছে আপনার মোবাইল নম্বরটা চাইছিল।আপনার অনুমতি ছাড়া তো আমি দিতাম পারিনা।
শিহাব আবার জানতে চাইল,,,,, কে?
ঐ যে স্যার, আপনারে যে জ্বরের সময় নাস্তা পাঠাইছিলো।অপুর আম্মু ম্যাডামে।
ওহ! বুঝেছি।নিশ্চয়ই কোন বিয়ের প্রস্তাব আসবে।হয় ছোট বোন,নয়তো ননদ নয়তো কোন বান্ধবীর ছোট বোন নয়তো কোন ভাবীর অবিবাহতা খালাকে নিয়ে।শিহাব এসব ভালোই বুঝে।এইসব সে এত ফেইস করেছে যে শিহাব এ সবে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।তাকে নিয়ে কে কি বলতে চায় শিহাব খুব ভালো করেই বুঝে।তাইতো শিহাব নিরাপদ দূরত্ব রেখে চলে।পারতপক্ষে কোন ধরণের পারিবারিক আয়োজনেও এজন্য সে যায় না।
শিহাব বেলালকে বেশ কড়া করেই নিষেধ করে দিলো নম্বর না দিতে। শিহাব ভেবে নিলো খুব শীঘ্রই এইসব যন্ত্রনার দিন শেষ  হচ্ছে।শায়লাকে দ্রুতই সে ঘরে নিয়ে আসবে। আমাদের দেশে এইসব ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে মানুষের অতি উৎসাহ একেবারেই ভদ্রতার বাইরে।
শিহাব ঘরে ঢুকে খাবারটি টেবিলে রেখে ফ্রেশ হয়ে নিলো।
শায়লার মেসেজ এলো।আজ রাতে কি মেনু?
শিহাব উত্তর লিখে জানালো,চাওমিন এনেছি।
হু, গরম থাকতেই খেয়ে নিও।
শিহাব বুঝে না মেয়েরা যত্ন আত্তির ব্যাপারে কিভাবে যে এত পারফেক্ট?
শিহাব লিখলো, শায়লা, তোমার সাথে শেয়ার করে চাওমিনটা খেতে ইচ্ছে করছে।
আচ্ছা, সে হবে কোনদিন।তুমি চাওমিন অর্ডার করে আমায় কল দিলেই  আমি চলে আসবো।
ওকে,,জাস্ট মাইন্ড ইট!
শায়লা নীরব হলো।শিহাব মনের ভাবনায় শায়লাকে নিয়ে চাওমিন বক্স এক নিমেষে খালি করে ফেললো! শিহাবের খুব প্রিয় এই আইটেমটা।ভাবীর হাতেরটা চমৎকার হয়।একদিন ভাবীই খাইয়েছিলো। শিহাব ভাবলো শায়লাকে বলবে ভাবীর কাছে থেকে  রান্নাটা শিখে নিতে।শিহাব কি যে সব এলোমেলো ভাবছে! নিজেই মনে মনে হাসছে।
শিহাব এক কাপ গরম কফি বানিয়ে বিছানায় নিয়ে বসলো। মাকে কল দিতে হবে।আজ জীবনের বিরাট একটি সিদ্ধান্ত মাকে জানাতে যাচ্ছে।শিহাব খুব করে জানে,মা কতটা খুশি হবে! মায়ের চাওয়াটা শিহাব ঠিকই বুঝতো কিন্তু তা পূরণ করতে পারছিল না। 
মাকে কল করে শিহাব বাবা মায়ের শারিরীক খোঁজ খবর নিয়ে জানালো, মা আমি দুদিন পর শুক্রবার দিন জিগাতলায় আসছি।মা আমার সাথে একজন অতিথি  থাকবে সে সারাদিন তোমাদের সাথে থাকবে।আরাফের সাথে সময় কাটাবে।
মা এবার বুঝতে পারলো কেমন অতিথি!
মা, আমি যাকে নিয়ে আসছি সেই হবে আরাফের মা।আমি চাই, তুমি ও বাসার সবাই আরাফকে এটাই বুঝাবে, যে ইনিই তোমার মা।
শিহাবের কথায় মা একেবারেই নিরুত্তর হয়ে রইল।এ ব্যাপারটিতে তার কোনই আপত্তি নেই বরং আরাফ মায়ের আদর পাবে শিহাবের মা এতেই খুশি।
মা,তুমি বাবা আর ভাবীকে জানিয়ে রেখো।আর ভাবি যেন ভাইয়াকে আগে থেকেই জানিয়ে রাখে।যদিও এ ব্যাপারে 
শাহেদ কোন আগ্রহই দেখাবে না।কোন কালেই সে শিহাবকে নিয়ে অতিরিক্ত কোন কৌতুহল দেখায়নি।একজন আত্মকেন্দ্রিক মানুষ তিনি।শিহাব জানালো,
মা,আমি তোমাদের ওর ব্যাপারে সব জানাবো। দয়া করে তোমরা ওকে কোন কিছু নিয়ে প্রশ্ন করবে না। শুধু দেখবে সে আরাফকে আপন করতে পারছে কিনা আর আরাফও তার কাছে স্বেচ্ছায় যাচ্ছে কিনা। তোমরা ওদের কে আপন হতে সাহায্য করো।
আচ্ছা মা,রাত হয়েছে,ঘুমিয়ে পড়ো।
কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে বলে শিহাব কল শেষ  করলো। একটা সিগারেট  ধরিয়ে  দীর্ঘ এক টান দিয়ে সাথে কফি কাপে দারুণ এক সিপ টেনে নিলো।মূহুর্তেই দেহের ভেতরে একটা রক্তের ছলাৎ চলনে দেহটা কেঁপে উঠলো। শায়লার মুখটা যেন চোখের সামনে এসে থামলো! যেন শায়লার স্পর্শ টের পেলো।শিহাব মনের অজান্তেই হেসে উঠলো। হাতে টিভি রিমোট নিয়ে স্পোর্টস চ্যানেলে স্টিক হলো।ফুটবল খেলা চলছে।ম্যানচেস্টার আর রিয়েল মাদ্রিদের খেলা।দুই পক্ষেই গোল হয়ে হয়েও হচ্ছে না! একপক্ষ কর্ণার কিক মিস করছে তো আরেকপক্ষের লং শট বারবার গোল পোস্টে লেগে ফিরে আসছে! ভীষণ উত্তেজনাকর খেলা চলছে। শিহাব খেলার মাঝে বারবারই আফসোস করে উঠছে।
গ্যালারিতে  সমর্থক দর্শকদের চোখ ফেটে বেরিয়ে আসতে চাইছে।কোন ভাবেই যেন নিজ দলের গোল দেয়া দেখাটা মিস না হয়ে যায়!
শিহাবের মোবাইলে 
একটা রিং এলো। শিহাবের মনযোগ কিছুটা হলেও সেদিকে গেলো।কোন নাম ছাড়া অচেনা একটা নম্বর থেকে।শিহাব কৌণিক চোখে একবার দেখে নিলো। নাহ! নাম্বারটা একেবারেই চেনা নয়। ফ্যাক্টরির ম্যানেজার কিনা? কোন ঝামেলা হলো কিনা আবার?
ভাবতে ভাবতে এক রাউন্ড রিং শেষ হলো।শিহাবের মনে খেলার আগ্রহের চেয়ে এখন মোবাইল স্ক্রিনে চোখ আটকে গেলো।
আবার কল।শিহাব এবার এক রিংয়েই ধরলো।
হ্যালো, কে বলছেন।
ওপাশের নীরবতা শিহাবকে উৎকন্ঠিত করে তুললো।বারবার একই প্রশ্ন করে যাচ্ছে শিহাব।
কে বলছেন? কে বলছেন? 
এবার উত্তর ভেসে এলো।যা শুনে শিহাব একবারে যেন  ভাবনার কক্ষপথ থেকে ছিটকে বেরিয়ে এলো। টিভি স্ক্রিনে ম্যানচেস্টার  এক গোল দিয়েছে,গ্যালারিতে দর্শক আনন্দে ফেটে পড়ছে কিন্তু  শিহাবের সবকিছু যেন পানসে হয়ে থমকে গেলো।ওপ্রান্তে কে? শিহাব ভেতরে অস্থির হয়ে উঠলেও এমন রহস্যজনক আচরণে বেশ রাগও হচ্ছিল।
কিছুক্ষন পর উত্তরটা ভেসে এলে, শিহাব যেন হঠাৎ থমকে গেলো! নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছিলো না। এত উত্তেজনাকর খেলাও আগ্রহে ভাটা পড়লো। মনে হলো সুদূর অতীতের 
ভুলে যাওয়া একটা খুবই চেনা কন্ঠস্বর থেকে উত্তরটি ভেসে এলো,,,,,আমি রিশতিনা। গত পরশু দেশে এসেছি।তুমি কেমন আছো শিহাব?
চকিতেই যেন শিহাবের ভেতরে বিশাল এক ভূমিধ্বস হলো।চলার গতির হঠাৎই থেমে গেলো। সেই বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা রিশতিনার মায়াবী মুখটা বুকে এসে আঘাত করলো।
ওপ্রান্ত থেকে আবার একই প্রশ্ন,,,কেমন আছো শিহাব ?


চলবে....

মমতা রায়চৌধুরী /৮৭




উপন্যাস 

টানাপোড়েন ৮৭
উথাল পাথাল মন

মমতা রায়চৌধুরী



শিখার গতরাতে উত্তেজনায় ঘুম আসে নি হঠাৎ করে মনটা যেন কেমন উথাল-পাতাল করছে।কেন এমন হলো ?তবে কি মেসেজগুলো তার ভেতরে কোন রেখাপাত করল ।নাকি অন্যকিছু? উদাসী বাউল মনটাকে আবার কি ঘরের দিকেই আবদ্ধ করার জন্য কোনো মন তাকে ডাকছে, সোনার আলোয় ভরিয়ে দেবার জন্য ।
খুব ভোরবেলায় উঠে পরেছে শিখা। ভোরে উঠে ফ্রেশ হয়ে ঠাকুরঘরে গেছে। ঠাকুর ঘরে প্রেমের ঠাকুর 'রাধামাধব 'এর সামনে 'তুমি নির্মল কর, মঙ্গল করে ,মলিন মর্ম মুছায়ে..।'গান গাইছে একাগ্রচিত্তে।
গান শুনে মাধু ,সুরঞ্জন ,বৃষ্টি সকলের ঘুম ভেঙে গেছে ।সকলে হা করে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়িয়েছে। তিন তলার ঠাকুর ঘর থেকে আওয়াজ আসছে। 
মাধু সুরঞ্জনকে ধাক্কা দিয়ে বলল 'এই শোনো ,শোনো ।দেখো, শিখা গান গাইছে আবার ।আজ কতদিন পরে ঠাকুর ঘরে ঢুকলো বলো তো।'
সুরঞ্জন বলল 'একটা গুড সাইন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।'
মাধু বললো 'অপূর্ব গাইছে গো। '
সুরঞ্জন মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো আর বলল 'বোনটা কার দেখতে হবে তো,?'
মাধু  হেসে বলল 'ননদটা  কার দেখতে হবে তো?'
বৃষ্টিটা আবার বলল" পি মনিটা কার দেখতে হবে তো?'
 মাধু আর সুরঞ্জন তো বৃষ্টির কথায় অবাক হয়ে গেল। তারপর মাধু বৃষ্টিকে গাল দুটো টিপে দিয়ে বলল 'একটা পাকা বুড়ি।' 
এরপর বৃষ্টির হাতটা ধরে বলল  'চলো চলো চলো ঠাকুরঘরে চলো সবাই ।শিখা গান করছে।'
মেজ পিসি ঘর থেকেই বললেন 'কে গান করছে মাধু? শিখা?'
মাধুরী বলল'-হ্যাঁ মেজ পিসিমা।'
মেজ পিসি বললেন' গানের গলা তো ভালো। ওকে তো আমি এসে অবধি গান করতে শুনি নি।'
সবাই গিয়ে ঠাকুরঘরে বসলো। মাধু আর সুরঞ্জন দেখছে' কি ভক্তিভরে একান্তমনে ,একনিষ্ঠভাবে ঠাকুরের পুজো করছে গানের মধ্যে দিয়ে। অন্য কোন দিকে ধ্যান নেই। গান শেষে শিখা দু' হাত জোড় করে ঠাকুরের কাছে প্রণাম করলো ।প্রণাম করার সময় মাধুরী লক্ষ্য করল  শিখার চোখে জল।'
মাধুরী মনে মনে ভাবল 'শিখার আত্মা শুদ্ধিকরণ হলো আঘাতে -আঘাতে , দগ্ধে -দগ্ধে পুড়ে পুড়ে ।
শিখা পুজোর শেষে পেছনে ঘুরে তাকিয়ে দেখে পরিবারের সবাই উপস্থিত। শুধুমাত্র মেজ পিসি ছাড়া। এমনিতেও মেজো পিসির তিনতলা ওঠার ক্ষমতাও নেই, হাঁটুতে ব্যথা।
শিখা সবাইকে প্রদীপের শিখার তাপ, রাধা মাধবের আশীর্বাদ দিল ।তারপর প্রসাদ দিল।
মাধু দেখছে শিখাকে কি স্নিগ্ধ লাগছে। কি সুন্দর একটা লাল পেড়ে শাড়ি পরেছে।
বৃষ্টির পি মনি বলেই শিখাকে জড়িয়ে ধরতে যাচ্ছে ।ঠিক তখনই মাধু বৃষ্টিকে ধরে বলল ' একদম 
নয় ।পি .মনি কে এখন ছোঁবে না ।বিছানা থেকে উঠে এসেছ।'
শিখা বলল' ছেড়ে দাও না বৌদিভাই। ও তো শিশু কিচ্ছু হবে না।সবকিছুর মধ্যেই ভগবান বিরাজ করেন ।এ'খানে কোন আচার-বিচার, রীতিনীতি খাটে না।'
মাধুরী তো  শিখার কথায় হা  হয়ে গেল। কি শুনছে শিখার কাজ থেকে।
মাধুরী বলল' ঠিক আছে । আমি নিচে যাচ্ছি প্রত্যেকে  নাও ফ্রেশ হয়ে নাও। বৃষ্টির হাত দুটো ধরে নিয়ে বলল'বৃষ্টি চলো, চলো, চলো তোমাকে ব্রাশ করিয়ে দিই তারপর তুমি দুধ খেয়ে হোমওয়ার্ক করবে।'
শিখা আর সুরঞ্জনকে বলল 'তোমরাও  তাড়াতাড়ি চলে এসো। আমি নাস্তা রেডি করছি। '
মাধু সিঁড়ি দিয়ে তরতর করে নিচে নেমে গেল।
সুরঞ্জনও নিচে নেমে গেল। শিখা কিছুক্ষণ ঠাকুরঘরে রাধামাধবের দিকে তাকিয়ে থেকে আপন মনে কি যেন বলল তারপর দরজা বন্ধ করে শিখাও নিচে নেমে আসলো।
ইতিমধ্যে শিখার ফোন বেজেই চলেছে।' 
মেজ পিসি বললেন 'কার ফোন এতবার করে বেজে যাচ্ছে গো মাধু ,ফোনটা কেউ ধরছে না?'
মাধু বলল 'আমরা তো কেউ এখানে ছিলাম না পিসিমা।'
শিখা নিচে নেমে আসলে মাধু কানের কাছে গিয়ে বলল' তোর ফোনটা বেজে গেছে ।যা  দেখ কে ফোন করল?'
শিখা হেসে নিজের ঘরে চলে গেল।
ভেতরে ভেতরে একটা উত্তেজনা ছিলই। সে তাড়াতাড়ি ফোনটা দেখল। দেখছে 'কল্যান ফোন করেছিল?'
তারপর হোয়াটসঅ্যাপটা খোলে। দেখল বেশ কয়েকটা মেসেজ ঢুকেছে।
প্রথম মেসেজটা'তখন ফোনটা ধরতে পারি নি।
এর জন্য দুঃখিত।'
পরের মেসেজটা আছে'অভিমান হয়েছে?'
তারপরে মেসেজে আছে 'বললাম তো একটা কাজে ছিলাম।'
এবার শিখা মেসেজ দিল'মনে করব কেন?'
সঙ্গে সঙ্গে কল্যান রেসপন্স করলো'
'অভিমান পাই খুঁজে কিছু,
পাই খুঁজে কিছু ব্যথাময়।
তাই আমি করে মাথা নিচু,
দুরু দুরু মনে সংশয়।'

শিখা টেক্সট করল
'অভিমানে নেই কোনো মূল্য
শীতের ঝরে যাওয়া 
পাতার মতই শুধু শূন্য।'
মনের সংশয় ছেড়ে 
এগিয়ে যেতে হবে বহুদূর।
তাই পিছনে ফিরে তাকানো
শুধু  ভুল আর ভুল।'

কল্যান মেসেজ করল
'অভিমান মূল্যহীন হলে
কি করে যে যায় দিনকাল?
কালোমেঘ মনে ভেসে এলে
বদলাবে কিছু হালচাল।'

শিখা লিখল'
'কিছুই বদলাবে না
হয়তো বা ভাসিয়ে নিয়ে যাবে বহুদূর।'

কল্যান লিখলো '
শীতে শুধু পাতা নয় মনে,
ঝরে পড়ে বসন্তের পাতা।
চেয়ে থেকো প্রেমী আনমনে,
আমি হই হেরে যাক ব্যথা।
শিখা লিখল
'মনের জীর্ণতা যখন এসে বাসা বাঁধে,
কোন বসন্ত এসে তাকে নিয়ে যাবে উড়িয়ে।'

কল্যান লিখলো'
' এর চেয়ে বেশি কিছু তুমি,
ভালোবাসা মেখে মনময়।
প্রেম ছুঁয়ে লিখে যাই আমি
ভাষা নিয়ে করে নির্ণয়।'

শিখা লিখল
'তবুও তো ফুলের সুবাস
 প্রত্যেকে চায়।
ঝরে যাওয়া পাঁপড়ির
সে রূপ গন্ধ কোথায়?'

কল্যান লিখল
' কোথায় ঝরেছে পাতা বলো,
সুগন্ধি ছেয়েছে হৃদি মন।
ঘুরে আসি মনে মনে চলো
পাহাড় সমুদ্র আর বন।'

এবার শিখা একটা হাসির চিহ্ন পাঠায়।

কল্যান আবার লিখলো
'শীতের গায়ে তুমি যদি  একে দাও
পলাশের গান।
আমি তো অনন্ত যতি ছিল যত বোধে 
আঁকা অপমান।
সবই তো  ধুয়ে মুছে যাবে খুশির ফিরে পাবে
হৃদয়ের টানে।'

শিখা লিখল '
সব সময় শুধু চাওয়া ভালো থাকা
এই প্রত্যাশাটুকুই বেঁচে থাক।'

কল্যাণ লিখেলো 'সেই প্রত্যাশা পূরণ করবে কে?'
শিখা কোন জবাব দেয় না।
এরমধ্যে মাধু বৌদি ', শিখা ,শিখা  আ..আ . আ বলে ডাকতে শুরু করেছে।'
কল্যান আবার লিখল উত্তর কোথায়?
মাধু আবার ডাকছে শিখার নাম ধরে।
মেজ পিসি নিচ থেকে চিৎকার করছেন।
বলছেন'এত বড় ধিঙ্গি মেয়ে। তাকে সব সময় খাবার জন্য ডাকতে হবে?'
শিখার কানে কথাটা আসলো। লিখল এখন আমি নিচে যাচ্ছি বৌদি ডাকছে?'
কল্যান বলল 'ok কিন্তু জবাব চাই। মনে থাকে যেন।
শিখা হাসির চিহ্ন দিয়ে পাঠায়।
এবার শিখা শাড়িটা চেঞ্জ করে তাড়াতাড়ি নিচে নেমে আসে। মাধুরী লক্ষ্য করে শিখার ভেতর আজকে রাগ নেই ।মেজপিসিমা যেভাবে কথাগুলো শোনালেন তাতে মাধুরী ভেবেছিল শিখা এসে আবার কোনো কাণ্ড করে না বসে।'
শিখা নিচে এসে বৌদিকে বলল'বৌদিভাই, আমার খাবার দাও।'
মাধুরী বলল' এই দিচ্ছি।'
শিখা বললো 'বৌদিভাই আজকে আমি একটু বেরোবো।'
কথাটা শুনতে পেয়ে মেজ পিসি বললেন 'কেনো রে ,যখন- তখন, যেখানে -সেখানে বেরোস কেন এত?'
শিখা কোন কথার উত্তরই দিলো না এভয়েট করে গেল। 
মাধু বলল 'পিসিমা প্রয়োজন থাকলে তো বেরোতেই হবে না?'
পিসিমা বললেন 'আর এত ঢাকো কেন মাধু তুমি?'
শিখা বলল 'বৌদি ভাই আমি বেরোচ্ছি।'
মাধু শুধু হেসে ঘাড় নাড়লো।
শিখা ঘরে গিয়ে ড্রেস পরতে পরতে গান গাইতে লাগল 'ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে...।
তারপর একটা কি উত্তেজনা মাদকতা সারাক্ষণ মনটাকে উথাল পাথাল করে দিতে লাগলো । এই উত্তেজনাতেও কি আনন্দ ? ভালো লাগছে শিখার।'আজকে  কি সারাটা দিন ধরেই চলবে মনের ভেতর অস্থিরতা? সারারাত ঘুম হয় নি কিন্তু তাতে টায়ার্ড লাগছে না। শিখার মনে কি হলো সেটাই খুঁজে পাবার চেষ্টা করছে। আজকে বাইরে বেরোবে ফুটপাতে রাস্তা ধরে হাঁটবে অনেকটা দূর পর্যন্ত নিজেকে জানার জন্য।

০৬ জানুয়ারি ২০২২

কবি শাহিদা ফেন্সী'র কবিতা




প্রণয় বিভোর
শাহিদা ফেন্সী

তোমার ঐ অধর মানে
গোলাপ কুঁড়িতে কামড়

তোমার জন্য অধীরতা মানেই
যেন রাগ ইমনের বিভোরতা।

তোমার ওই গ্রীবার মানে
আমার প্রেমের ঔদ্ধত্যতা

বুকের বাঁ পাশে যে হৃদপিণ্ড
সে তো আমার বিশ্বাসের কুঁড়েঘর।

তোমার বাহুবন্ধন জুলিয়াস সিজার
আমি ক্লিওপেট্রা হয়ে কাঁপি থরথর।

কবি শহিদ মিয়া বাহার এর কবিতা




জোৎস্নার স্বরলিপি
শহিদ মিয়া বাহার

একশত বছর জ্বলেছে পূর্বপুরুষের চোখের ঘর-বসতি, বর্ষার নদী এবং তারও আগে আমাদের প্রপিতামহ কেঁদেছেন,স্বপ্নের উৎসারিত ভাঙ্গন দেখেদেখে--
যেমন কেঁদেছেন সর্বশেষ নবাব,
বিষাদমুখো কৈলাস পাতার মেরুন দৃষ্টিতে, শৃঙ্খলিত লোহার কপাটে! 

মানুষ আর নেকড়ের সমান্তরাল ঘুর্ণন দেখে দেখে, অত:পর পিতামহ কেঁদেছেন বহুযুগ!

কৈবর্ত চোখে কেঁদেছেন, আমাদের জন্মদাতা পিতা-
অস্তগামী সূর্যের লাল শেষকৃত‍্য দেখে দেখে!

আমরাও কেঁদেছি বহুবছর---
স্বৈরাচারী পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে, প্রপাতের কান্নার মত
ঝর্ণার প্রবঞ্চক জলের প্রেম খুঁজে খুঁজে!

প্রান্তরের পাথর চাপায় দীর্ঘসময়, কারা যেন লুকিয়ে রেখেছে স্বর্ণভেজা রোদ!
আমরা সবাই এখন রক্তহীন বিবর্ণ ঘাস হয়ে গ‍্যাছি, পরিত‍্যাক্ত সাদা কাফনের মত!

এখন আমরা কেউ আর কাঁদতে পারি না!

রাতের দুর্গম আরণ‍্যক আঁধারে, চাঁদ-সলতের অক্ষরে লিখা, আমাদের স্বপ্নগুলো 
এখনো জোৎস্নার স্বরলিপি হয়ে উঠেনি।

শামীমা আহমেদ /পর্ব ৪৯




শায়লা শিহাব কথন
অলিখিত শর্ত
( পর্ব ৪৯ )
শামীমা আহমেদ 

" ছার,লাঞ্চ করবেন না? অনেক  তো বেলা হইছে। "
কবিরের কথায় শিহাব ল্যাপটপ স্ক্রীন থেকে মুখ সরালো। ছার, কিছু কি আনমু? সক্কাল থেইকা সে যে কাজে ডুবলেন আর তো একটু পানিও খাইলেন না। 
শিহাব জানতে চাইলো, কয়টা বাজছে কবির?
ছার,সোয়া দুইটা বাজে।
আচ্ছা ঐ ছেলেটা  কী চলে গেছে?
জ্বি ছার,কার সাথে যেন ফোনে কথা কইল আর দুইটার দিকে চইলা গেলো।
শিহাব একটুক্ষণ কি যেন ভেবে নিয়ে মনে মনে এই সিদ্ধান্তে এলো,নাহ! শায়লার কাছে তার সততা পাহাড়সম উচ্চতায়। সে কখনোই তার এই বিশ্বাসের অমর্যাদা করবে না। তক্ষুনি শায়লার মেসেজ এলো,লাঞ্চ করেছো? 
এইতো করবো।
খেয়ে নাও অনেক বেলা হলো।
---আচ্ছা,লিখেই শিহাব মোবাইল থেকে মুখ তুলতেই দেখলো,  কবির তার আদেশের অপেক্ষায় মুখ কাচুমাচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

কি আনমু বলেন ছার।
চাইনিজ না দেশী খাবার?
যদিও দেশী খাবারেই শিহাবের আগ্রহ বেশি তবে সেটা,ঘরে মা ভাবীর হাতের রান্না।
শিহাব কেমন যেন আনমনা হয়ে কবিরের কথাগুলোর উত্তর দিচ্ছিল।তার ভেতরে ভাবনায় অন্য কিছুর ঘুরপাক চলছে।কিছু খাওয়ার ইচ্ছেটা একেবারেই নেই।
তুমি লাঞ্চ করেছো কবির? 
না ছার,আপনি না খাইলে আমি ক্যামনে খাই? 
সেকি, এত বেলা হয়ে গেছে তুমি না খেয়ে আছো,শিগগির খেয়ে নাও।আর 
আমি আমার খাবারের অর্ডার দিচ্ছি ওরা  খাবার পৌছে দিবে।কবির মাথা ঝুকিয়ে সম্মতি জানিয়ে রুমের পাশেই ছোট্ট ঘরের মত জায়গাটায় তার বাসা থেকে আনা টিফিন ক্যারিয়ারটা খুলে খেতে বসলো।কবিরের বউ খুব যত্ন করে রান্না করে খাবার সাজিয়ে দেয়। কবিরও তার বউটাকে খুবই ভালোবাসে।
শিহাব ভাবলো,পৃথিবীতে ধনী গরিব  মধ্যবিত্ত দিনমজুর কিংবা রিকশাচালক সবার জীবনেই এ যেন এক অনন্য সুখ! স্ত্রীর হাতের রান্না স্বামী পরম তৃপ্তি নিয়ে খায়।আর স্বামী  অন্তঃপ্রান স্ত্রীরা জীবনের শত কষ্টের বিনিময়ে স্বামীকে স্বযত্নে খাওয়াতে ভালবাসে।
শিহাব  কাছেই একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ওদের সেট মেনু অর্ডার করলো। বিশ মিনিটের মধ্যেই ওরা খাবার পৌছে দিলো।এর মধ্যেই কবির খাওয়া শেষ করে নিলো।
শিহাবের অফিস রুমের এক কর্ণারে লাঞ্চের জন্য টেবিল চেয়ার সেট করা আছে।শিহাব সেখানে বসেই লাঞ্চ সেরে নিলো।খাবার শেষে একটু আয়েশি ভঙ্গিতে শিহাব একটা বেনসন ধরিয়ে গভীর চিন্তামগ্ন হলো।ঘড়ির কাটায় তিনটা তিরিশ।নিশ্চয়ই রিশতিনা তার জন্য অপেক্ষা করে ফিরে গেছে কিংবা শিহাব যাবে না  জানতে পেরে হয়তো সেখানে আর যায়নি।
নাহ! এ হয় না।আমার অতীতকে ভুলতে হবে নয়তো সামনে এগুনো যাবে না।এবার নিজেই নিজের ভাগ্য গড়ে নিবো।শায়লাকে নিয়ে যে স্বপ্ন সে দেখেছে সেটাই হবে তার একমাত্র ধ্যান জ্ঞান।কিন্তু রিশতিনার সাথে দেখা করতে না যাওয়াটাও  শিহাব বারবার নিজের বিবেকের কাছে  হেরে যাচ্ছে।
শিহাব চোখ বন্ধ করে সেই দিনগুলির কথা ভাবছিল। যখন শত বিত্ত বৈভব পিছে ফেলে রিশতিনা তার কাছে ছুটে এসেছিলো।বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান।কত প্রাচুর্যেই না বড় হয়েছিল। শিহাব নিজেকে বুঝে উঠতে পারছে না। কি করবে।কারো কাছে এ বিষয়ে  পরামর্শ নেয়ার মত এমন নিরপেক্ষ কাউকে তো দেখছে না।
ব্যবসায়িক কত কিছুরইতো শিহাব ডিল করে, কত কন্ট্র‍্যাক্ট,কত ডিসিশন,কত স্টেপ, কত ফিউচার প্ল্যান,কত একশানতো তাকেই নিতে হয়।ব্যবসায়িক বন্ধুরা  তার দিকে তাকিয়ে তাকে।এ ব্যাপারে তার প্রজ্ঞা আর দূরদর্শী বন্ধুদের বিস্মিত করে।তাইতো তারা বলে,, এইসব ব্যাপারে শিহাব নাকি যথেষ্ট দক্ষ।বন্ধুরা তাই তার সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করে।কখনো কোন ডিসিশন তার ভুল হয়নি।কোন ব্যবসায়িক ক্ষতির সন্মুখীন তারা  হয়নি।কিন্তু নিজের জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে তার এত চড়াই উৎরাই পেরুতে হচ্ছে। সহজ পথে কিছুই এগুচ্ছে না।

শিহাবের মোবাইল বেজে উঠলো।টেবিলের উপর ফোনটি ছিল।কবির আসতে আসতে রিং শেষ হয়ে গেলো।আবার কল এলো।কবির মোবাইলটা এগিয়ে দিলো।শিহাব দৃষ্টি ফেলে দেখলো বন্ধু রোমেলের কল।শিহাব কল রিসিভ করলো।ওপ্রান্ত থেকে টগবগে কন্ঠ!
দোস্ত কেমন আছো?
আলহামদুলিল্লাহ, ভালো।
তুই কেমন আছিস?
ভালো,দোস্ত,তবে তুমি কেমন যেন কিছুদিন যাবৎ ঝিম মাইরা আছো।কি হইছে তোমার?
কতদিন আড্ডা নাই,ঘুরাঘুরি নাই। খাল্লি কাজ আর কাজ।বন্ধুর মিষ্টি অনুযোগ। 
 উত্তরায় ব্যবসায়িক কাজের সুবাদে রোমালের সাথে পরিচয়।খুবই খোলা মনের একজন সৎ ব্যবসায়ী। উত্তরাতেই স্থায়ী বসবাস। ধীরে ধীরে বন্ধুত্বের কারণে আজ ব্যবসায়িক পার্টনার হয়ে যাওয়া।ওর অফিস সেক্টর নয় এ।নিজে বাড়ির নিচ তলায়।
শিহাবের নীরবতায় রোমেলের ঝংকার,
দোস্ত, তোমার কি হইছে,বলা যায়? 
কই কিছু না তো?
ঠিক আছে কিছু না হইলে আজ সন্ধ্যায় দিয়াবাড়িতে চা পানের আড্ডায় চইলা আসবা।আসবা মানে আমরা একসাথে রেরুমু।
যদিও শিহাবের আজ হৈ হুল্লোড় করার মত মনের অবস্থা নেই।তবুও।বন্ধুত্বের খাতিরে তা করতে হবে।তাছাড়া ওরা খুব ভালো বন্ধু।বিশেষ করে রোমেলের মধ্যে একটা ভালো মানুষের সব গুনাগুনই আছে।
সন্ধ্যার পর দিয়াবাড়ির সেই চায়ের আড্ডায় বন্ধুরা হৈ চৈ করে একজন আরেকজনকে
নানানভাবে খোঁচাচ্ছে।বিবাহিত বন্ধুদের সবার কার সাথে কার পরকীয়া চলছে।কে কোথায় কতবার ডেটিং এ যাচ্ছে।কোন ভাবির স্বামী দেশের বাইরে আছে তার ফোন নাম্বার লেনদেন চলছে।বউকে কে কিভাবে ফাঁকি দিচ্ছে এসব যেন আজ এক সামাজিক ব্যাধিতে দাঁড়িয়েছে।তারা বুঝতে পারছে না,যখন তাদের স্ত্রীদের তারা ফাঁকি দিচ্ছে তাদের স্ত্রীরাও তখন অন্যের বগলদাবা হয়ে 
চাওয়া পাওয়া মিটিয়ে নিচ্ছে।একটা অসুস্থ পারিবারিক পরিবেশে সন্তানরা বড় হচ্ছে।তাইতো তারাও বিপথে যাচ্ছে। নেশা আর সেক্স, আর সহজলভ্য পর্ণোগ্রাফিতে ঝুঁকছে।
শিহাব  গুটিশুটি মেরে আলো আঁধারিতে বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।হাতে সিগারেট নিয়ে উদাস দৃষ্টিতে আকাশের তারা দেখছে।  চায়ের অর্ডার দেয়া হয়েছে।শিহাবের আজকাল সিগারেট একটু বেশিই লাগছে।কি আর করা! এতসব টেনশনে সিগারেটের সাথেই যেন সব কথা বলে চলা।
শিহাবের শায়লাকে খুব মনে পড়লো।আজ তার দিক থেকে কোন কল যায়নি শায়লার কাছে।নিশ্চয়ই শায়লা অপেক্ষায় ছিল। শিহাব শায়লার নাম্বারে কল দিলো।ফোনটা বেজেই চললো।একসময় থেমেও গেলো।পরক্ষণেই শায়লার কল ব্যাক।
শিহাব!
কেমন আছো শায়লা?
ভালো।তুমি?
ভালো। 
না,তোমার কন্ঠ কেমন যেন শোনাচ্ছে আর আশেপাশে এত হৈচৈ এর শব্দ।তুমি কি বাইরে?
হ্যাঁ শায়লা, বন্ধুদের সাথে দিয়াবাড়ি চা খেতে এসেছি।তোমার কথা খুব মনে পড়ছে।একদিন তুমি আর আমি এখানে এসে চা খাবো।
ঠিক আছে। বেশি রাত করোনা।
আচ্ছা,কি করছিলে?
এইতো,তোমার দেয়া ব্রেসলেটটা দেখছিলাম।জানো শিহাব,আমি আজ অনেকবার ব্রেসলেটটা ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখেছি।আর প্রতিবারই ওটা কথা বলে উঠেছে!একদম তোমার কন্ঠস্বরে!
শিহাবের ভেতরটা একবারে মোচড় দিয়ে উঠলো!কী ভীষণ গভীরতায় শায়লা যে তাকে অনুভব করে।
তা ব্রেসলেটটি কি বলে?
চুপ কেন? বলো।ব্রেসলেটটি কি বলে?
বলে, শায়লা আমি তোমাকে খুব ভালবাসি।
হু, ঠিকই তো বলে।আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি শায়লা।
রোমেল দুই কাপ চা নিয়ে শিহাবের দিকে এগিয়ে আসছে। শিহাব কথা সংক্ষিপ্ত করলো।ঠিক আছে শায়লা রাতে কথা হবে।রাখছি।
শিহাব হাত এগিয়ে  চায়ের কাপ নিয়ে, দুই বন্ধু চায়ে চুমুক দিলো।রোমেল যেন শিহাবের চোখের ভাষা পড়তে চাইছে।শিহাব তার চোখ আড়াল করতে চাইছে।রোমেলের আক্রমন ছুটে এলো---
কি দোস্ত,প্রেমে ট্রেমে পড়ছো নাকি?কেরম যেন আউলাভাবে থাকো আজকাল।আমাদের কোন ফোন নাই যোগাযোগ নাই।
খুবই হালকা করে শিহাব বললো,কি যে বলোনা দোস্ত। শিহাবের কথাতেই বুঝা গেলো কথার মাঝে কিছু ফাঁক আছে।
আরে দোস্ত, পুরুষ মানুষের এত্ত আবেগী হইলে চলে না।অতীত নিয়া পইরা থাকলে কি চলবো?জীবনটারে আবার নতুন কইরা সাজাও। সময়তো খুবই কম।বলাতো যায় না,
কার কখন ডাক আসে।
বন্ধুদের আড্ডায় নিজেকে খুবই প্রাণহীন করে রাখলো শিহাব।অন্যরাতো গল্পতে মেতে উঠেছে। রিশতিনার ডাকে না গিয়ে কেমন যেন একটা অপরাধ বোধের কাঁটা খচখচ করে বিঁধছে।
ঘড়িতে রাত নয়টা বেজে গেলো।শিহাব বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নিলো।রোমেল তার কাঁধে হাত রেখে বললো,বন্ধু কোন পরামর্শ বা  আলোচনার দরকার হইলে এই দোস্তটারে স্মরণে আইনো।আমি আছি তোমার পাশে।
শিহাবের ভেতরে অনেক কথার আকুলিবিকুলি থাকলেও বুকের ভেতরেই তা চাপা রইল।কন্ঠনালী পর্যন্ত তার অনুমতি মিললো না।শুধু চোখ দুটোতে নির্বাক দৃষ্টি আর  তার সাথে দেখা না হওয়ায় রিশতিনার অভিমানী মুখটা বারবার ভেসে উঠছে। তার মনের ভেতরও রিশতিনার প্রতি রাজ্যের প্রশ্ন জমা হয়ে আছে।


চলবে.....