০৭ জানুয়ারি ২০২২

আলোক দাস এর লেখা




মানুষ কোথায় 


 একি খেলা চলছে এখানে, আগেই হোলো স্কুল বন্ধ I 
পানসালা সব খোলাই থাক I  শিক্ষার আর দরকার নেই I এখন হচ্ছে এখানে হীরক রাজার দেশ I ট্রেন চলছে ভিড়ে, মাস্ক নেই কারও মুখে I করোনা এখন ঘরে ঘরে I আসছে গঙ্গাসাগর মেলা I বহু লোক আসবে সাগর তীরে I পুন্য স্বান হবে I কতলোক মরবে পাপে I হাসপাতালে ডাক্তার নেই, তাঁরা সব অসুস্থ হোয়ে ঘরে বন্দি I মেরুদন্ড ভাঙতে হোলে শিশুর, শিক্ষায় আঘাত আনো আগে I আসছে আবার ভোট I মিছিল, মিটিং হোক জোর কদমে I আবার সব হবে গড়ে পাশ I সবাই পাবে একশো I আহা কি মজা I পরীক্ষা বালাই সার I রায় ও মার্টিন তো হাতেই আছে I শিক্ষার হোক বিনাশ I ডোমের পরীক্ষা আবার হবে I জীবন হোক ছন্নচ্ছাড়া I সবাই যাবে হাইকোর্ট I ভোট আমাদের চাই I সবাই বোলবে দেবো কোরে পার্ক, দেবো আলো, দেবো লম্বা রাস্তায় গাছ, দেবো পুকুর, তার ওপরে উড়াল পুল I কলকাতা হবেই তিলোত্তমা I করোনা কিছু ই নয় I আমরাই দেবো মাস্ক I ভোট আমাদের চাই I

কবি খালেদা লিপি 'র কবিতা





ঘ্রাণ 
খালেদা লিপি 


অন্ধজন স্বপ্ন দ্যাখে
যদিও তার স্বপ্ন ঘুরে ফিরে এক জায়গায় স্থির 
দেখতে পাওয়ার স্বপ্ন।
বলেছিলো, 
পৃথিবীকে দেখতে চাই
যাকে ভালোবাসি তাকে দেখতে চাই
যে আমার ঔরসজাত তাকে দেখতে চাই।
দেখে দেখে সব চিনতে চাই
মানুষ চিনতে চাই 
ঘ্রাণে আর কতোটা চেনা যায়
পৃথিবীর সব কিছু ঘ্রাণে চিনে রাখা যায়?
প্রশ্ন শুনে ব্যাকুল হই
দেখতে না পারার জন্য এই যে ব্যাকুলতা সেটা খুব ভাবায়। 
ভাবি,দেখে দেখে কতোটা চিনেছি মানুষ কতোটা স্বপ্ন হয়েছে পূরণ কতোটা বাকি!
বরং পৃথিবীর মানুষের ভয়ংকর রূপ দেখে 
থমকে গেছি। 
দেখতে পাওয়ার যে ভয়াবহতা হয়তো তা থেকে  বেঁচে গেছে অন্ধজন।
দেখেও না চেনার বিষাদী আছন্নতা 
ঘিরে রেখেছে জীবনকে সেই জীবনে ঘ্রাণ শুঁকে চিনে রাখার ক্ষমতাকে অসীম মনে হয়।

কবি সেলিম সেখ এর কবিতা





বৃষ্টি
সেলিম সেখ

জমেছে মেঘ আকাশেতে
ঝরে পড়বে বৃষ্টি হয়ে,
নদী-নালা ভরবে জলে
প্লাবন আনবে লইয়ে।

বৃষ্টির ওই ফোঁটা
পড়বে যখন নিচে,
ভিজাবো মোর দেহখানি
আসবে জ্বর মিছে।

আকাশ ভরা মেঘ দেখি 
হয়েছে যে কালো,
উঠেছে ঝড় পুব দিকে
নিভেছে তাই আলো।

গ্রীষ্মের ওই তপ্ত দুপুরে 
আসেনা ঘুম কারও,
যদি হতো বৃষ্টিপাত
মন চায় ঘুমোতে আরো। 

মরুর বুকে যদি হতো
এক পশলা বৃষ্টি, 
সবুজে  ভরতো সেথা
হতো অনেক প্রাণের সৃষ্টি।

অনাবৃষ্টির ফলে আজ
হচ্ছে অনাবাদী জমি, 
এভাবেই চলতে থাকলে
বাঁচবে ভূমি কমই। 

কোথাও দেখো অতিবৃষ্টি
প্লাবন ডেকে আনে, 
কোথাও দেখো হয়েছে মরু 
অনাবৃষ্টির টানে। 

বৃষ্টির পর সতেজ হাওয়া
দিয়ে যাই মনে দোলা, 
বৃষ্টি শেষে মাটির গন্ধে 
প্রাণ থাকতো মোদের খোলা।

কবি মহুয়া চক্রবর্তী 'র কবিতা




পরম আত্মীয় 
মহুয়া চক্রবর্তী 

কে আমার আত্মার আত্মীয়
যে কিনা আমার আত্মার সাথে জড়িয়ে আছে
সেই  কি আমার পরম আত্মীয়।
পৃথিবীর এই গোলক ধাঁধায়
দিবারাত্রি ঘুরে চলেছে নতুন সম্পর্কের বাঁধনে।
কিন্তু আজও বুঝলাম না কে আমার আত্মার আত্মীয়।
নিত্য দেখি চাঁদের হাটে সম্পর্ক গড়ে আর ভাঙে
সম্পর্ক যে  আজ নিছকই খেলনা
যা কিনা দুই পয়সার মূল্য দিয়ে সাঝের হাটে বেচে আর কেনে।


পথে-ঘাটে নিত্যদিন কত সম্পর্ক ঘোরে আশেপাশে,
স্বার্থ ফুরালে সব সম্পর্ক গুলো পালায় নিরুদ্দেশে। 

যে আমায় এই পৃথিবীর আলো 
দেখিয়েছিলে একদিনসেই আমার পরম আপন আমার গর্ভধারিনী মা
বাকি সব সম্পর্ক গুলো সব টাই ফাঁকা
উপর টাই শুধু চকচকে রঙিন। 

একমাত্র নিঃস্বার্থ ভালোবাসে' পিতা মাতা
আর যার নাই পিতা-মাতা তার আছে দয়াল বিধাতা। 

আরে ও আমার অবুঝ মন
এই পৃথিবীতে কেউ নয় তোমার আপন।
এক মুঠো ভালোবাসার আশায়
অনেকতো ঘুরলে পথে পথে
এবার চলো নিজ নিকেতন।

শামীমা আহমেদ/৫০ পর্ব






শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৫০)
শামীমা আহমেদ 

দরজায় কলিংবেল শুনে শায়লা  নিজের ঘর থেকে এগিয়ে এলো। দরজা খুলতে গেলে ডাইনিং এর দেয়াল ঘড়িটাতে তাকিয়ে নেয়া শায়লার বহুদিনের অভ্যাস।কে কোন সময়টাতে  এলো এটা দেখা শায়লার একধরনের ভাবনার খোরাকও বটে! 
ঘড়ির কাঁটায় রাত নয়টা।শায়লা দরজা খুললো।রাহাত অফিস থেকে ফিরলো।আজ বেশ দেরি হলো।রাহাত অবশ্য আগেই অফিস থেকে তা জানিয়েছিল।সামনে ওদের অফিসে বোর্ড মিটিং।অনেক পেপারস রেডি করতে হচ্ছে।তাই দেরি হবে।না জানালে মা বেশ অস্থির হয়ে উঠে। রাহাত আর কোন দিকে না তাকিয়েই বলে উঠলো, 
আপু, খুব ক্ষুধা পেয়েছে, খাবার দাও।
মা ঘর থেকে বেরিয়ে এলো।
শায়লা তড়িঘড়ি করে কিচেনের দিকে পা বাড়ালো।
দিচ্ছি, হাতমুখ ধুয়ে এসো।
রাহাত নিজের রুমে ঢুকতে গিয়ে আবার ফিরে এলো।
ওহ! আপু, আজ অনেক ব্যস্ত ছিলাম।তাই শিহাব ভাইয়াকে কল করতে পারিনি।আজ সারাক্ষনই সবাই গ্রুপে কাজ করেছি।একেবারেই ফুসরত মেলেনি।তবে ইনশাআল্লাহ  অবশ্যই  কাল কথা বলবো।
শায়লা বেশ আড়ষ্ট হয়ে কথাগুলো শুনছিল।রাহাত যতটা সহজভাবে বলছে মনে হচ্ছে শিহাব ইতিমধ্যে  এই পরিবারের একজন সদস্য হয়ে গেছে।আসলে  শিহাবের সাথে কথা বলে রাহাতেরও খুব ভালো লেগেছে!তাইতো তাকে পরিবারের সদস্য করে নিতে আর যেন ত্বর সইছে না।
---তোমাদের কী কথা হয়েছে আপু?
শায়লা রাহাতের দিকে চোখ না তুলেই জানালো,হ্যাঁ,হয়েছে।
ঠিক আছে আপু,কাল অবশ্যই কথা বলে নিবো।একটু ব্যস্ততা কমবে কাল।আমি আসছি,বলে রাহাত ঘরে ঢুকে গেলো।
শায়লা কিচেনের দিকে এগিয়ে গেলো।মাঝখানে  দাঁড়িয়ে মা দুই ভাইবোনের কথার কিছুই বুঝলা না।সে অবাক হয়ে শুধু এদিক ওদিক করলো। তবে একটা নাম নিয়ে আলোচনা যে হলো সেটা সে শুনেছে,তা হলো শিহাব।শিহাব কে!মা ঠিক বুঝতে পারছে না।  শায়লার দিকে দৃষ্টি দিতেই শায়লা দ্রুত রান্নাঘরে চলে গেলো।শায়লা মায়ের এমন বিব্রতকর অবস্থা  দেখে নিজেকে খুব অপরাধী ভাবছে।

প্রায় পৌনে দশটার দিকে শিহাব ঘরে ফিরলো।পথিমধ্যে বাইক থামিয়ে  একটা  ক্যাটারিং হাউজে চাওমিন অর্ডার করলো।তাকে সেখানে বিশ মিনিট অপেক্ষা করতে হলো।যেহেতু টেক এওয়ে খাবার তাই ওরা বেশ যত্ন নিয়ে খাবারটি তৈরি  করে।আর তাই একটু সময় বেশি নেয়।আর শিহাবকে তো সার্ভিসম্যানগুলো খুবই পছন্দ করে।ওদের খুব ইচ্ছা,স্যার একদিন আমাদের এখানে বসে ডিনারটা করেন,ম্যাডামকেও একদিন আনেন। ওদের ধারনা শিহাবের উপস্থিতি ওদের কাস্টমার বাড়াবে।বিশেষ করে নারী কাস্টমার!শিহাব এসব কথার একেবারেই পাত্তা দেয়না। সে নিজেকে এতটা সস্তা করে দিতে রাজী নয়। পুরুষের  সৌন্দর্য  তার ব্যক্তিত্বে আর নারীর  সৌন্দর্য  শালীনতায়।শিহাব বাইরে বাইকে বসেই অপেক্ষা করে। আজ বাইকে বসেই শিহাব ভেবে নিলো,ঘরে খাবার ফুরিয়েছে।মা,ভাবীকে জানাতে হবে আবার কিছু খাবার তার জন্য পাঠাতে। পরক্ষণেই ভাবলো।না পাঠাবে কেন? খুব শীঘ্রই সে নিজেইতো জিগাতলায় যাবে, শায়লাকে নিয়ে। শায়লার কথা জানিয়ে মা আর ভাবীকে আগে থেকেই ব্রিফ করে রাখতে হবে।মা খুশি হলেও ভাবী কিভাবে নিবে শিহাব তা বুঝতে পারছে না।ভাবীর খুব ইচ্ছা ছিল তার খালাতো বোনের সাথে শিহাবের বিয়ে দিতে।ভাবীর খালাতো বোন জেরিন,মেয়েটি নিঃসন্দেহে খুবই ভালো কিন্তু শিহাব ঠিক মেয়েটির সাথে নিজেকে মিলাতে পারেনি।বেশ ধনীর ঘরের মেয়ে। বিয়ের তিনদিনের মাথায় ডিভোর্স হয়ে যায়।ছেলেটি ড্রাগ এডিক্ট ছিল। বিয়ের সময় বুঝা যায়নি একেবারে।আর বিয়ের পর তা বুঝতে পেরেই জেরিন আর তার সাথে সংসার করতে চায়নি। শিহাব ভেবে নিলো, আসলে পৃথিবীতে কেউই সুখী বয়।অর্থ বিত্তও সুখ এনে দিতে পারেনা।টাকার অভাবে দরিদ্ররা মেয়ে বিয়ে দিতে পারে না, অর্থাভাবে স্ত্রীর প্রতি নির্যাতন চালায় আবার ধনীদের প্রচুর অর্থ থাকলেও,তাদের কাছে  অর্থের চেয়ে এডজাস্টমেন্ট বড়! 
চাওমিন তৈরি হয়ে এলো।শিহাব বক্সটি নিয়ে বাইকে বাসার উদ্দেশ্যে দে ছুট! বাসার গ্যারেজে বাইক পার্কিং করার সময় কেয়ারটেকার বেলাল এগিয়ে এলো।কিছু একটা বলার জন্য কাছে এসে হাত ঘষাঘষি করছিল।
কিছু বলবে বেলাল?
জ্বী স্যার,একটা কথা।
বলো।
বেলাল বেশ ভীত মুখেই বললো, স্যার নিচতলা অপুর আম্মু ম্যাডামে আমার কাছে আপনার মোবাইল নম্বরটা চাইছিল।আপনার অনুমতি ছাড়া তো আমি দিতাম পারিনা।
শিহাব আবার জানতে চাইল,,,,, কে?
ঐ যে স্যার, আপনারে যে জ্বরের সময় নাস্তা পাঠাইছিলো।অপুর আম্মু ম্যাডামে।
ওহ! বুঝেছি।নিশ্চয়ই কোন বিয়ের প্রস্তাব আসবে।হয় ছোট বোন,নয়তো ননদ নয়তো কোন বান্ধবীর ছোট বোন নয়তো কোন ভাবীর অবিবাহতা খালাকে নিয়ে।শিহাব এসব ভালোই বুঝে।এইসব সে এত ফেইস করেছে যে শিহাব এ সবে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।তাকে নিয়ে কে কি বলতে চায় শিহাব খুব ভালো করেই বুঝে।তাইতো শিহাব নিরাপদ দূরত্ব রেখে চলে।পারতপক্ষে কোন ধরণের পারিবারিক আয়োজনেও এজন্য সে যায় না।
শিহাব বেলালকে বেশ কড়া করেই নিষেধ করে দিলো নম্বর না দিতে। শিহাব ভেবে নিলো খুব শীঘ্রই এইসব যন্ত্রনার দিন শেষ  হচ্ছে।শায়লাকে দ্রুতই সে ঘরে নিয়ে আসবে। আমাদের দেশে এইসব ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে মানুষের অতি উৎসাহ একেবারেই ভদ্রতার বাইরে।
শিহাব ঘরে ঢুকে খাবারটি টেবিলে রেখে ফ্রেশ হয়ে নিলো।
শায়লার মেসেজ এলো।আজ রাতে কি মেনু?
শিহাব উত্তর লিখে জানালো,চাওমিন এনেছি।
হু, গরম থাকতেই খেয়ে নিও।
শিহাব বুঝে না মেয়েরা যত্ন আত্তির ব্যাপারে কিভাবে যে এত পারফেক্ট?
শিহাব লিখলো, শায়লা, তোমার সাথে শেয়ার করে চাওমিনটা খেতে ইচ্ছে করছে।
আচ্ছা, সে হবে কোনদিন।তুমি চাওমিন অর্ডার করে আমায় কল দিলেই  আমি চলে আসবো।
ওকে,,জাস্ট মাইন্ড ইট!
শায়লা নীরব হলো।শিহাব মনের ভাবনায় শায়লাকে নিয়ে চাওমিন বক্স এক নিমেষে খালি করে ফেললো! শিহাবের খুব প্রিয় এই আইটেমটা।ভাবীর হাতেরটা চমৎকার হয়।একদিন ভাবীই খাইয়েছিলো। শিহাব ভাবলো শায়লাকে বলবে ভাবীর কাছে থেকে  রান্নাটা শিখে নিতে।শিহাব কি যে সব এলোমেলো ভাবছে! নিজেই মনে মনে হাসছে।
শিহাব এক কাপ গরম কফি বানিয়ে বিছানায় নিয়ে বসলো। মাকে কল দিতে হবে।আজ জীবনের বিরাট একটি সিদ্ধান্ত মাকে জানাতে যাচ্ছে।শিহাব খুব করে জানে,মা কতটা খুশি হবে! মায়ের চাওয়াটা শিহাব ঠিকই বুঝতো কিন্তু তা পূরণ করতে পারছিল না। 
মাকে কল করে শিহাব বাবা মায়ের শারিরীক খোঁজ খবর নিয়ে জানালো, মা আমি দুদিন পর শুক্রবার দিন জিগাতলায় আসছি।মা আমার সাথে একজন অতিথি  থাকবে সে সারাদিন তোমাদের সাথে থাকবে।আরাফের সাথে সময় কাটাবে।
মা এবার বুঝতে পারলো কেমন অতিথি!
মা, আমি যাকে নিয়ে আসছি সেই হবে আরাফের মা।আমি চাই, তুমি ও বাসার সবাই আরাফকে এটাই বুঝাবে, যে ইনিই তোমার মা।
শিহাবের কথায় মা একেবারেই নিরুত্তর হয়ে রইল।এ ব্যাপারটিতে তার কোনই আপত্তি নেই বরং আরাফ মায়ের আদর পাবে শিহাবের মা এতেই খুশি।
মা,তুমি বাবা আর ভাবীকে জানিয়ে রেখো।আর ভাবি যেন ভাইয়াকে আগে থেকেই জানিয়ে রাখে।যদিও এ ব্যাপারে 
শাহেদ কোন আগ্রহই দেখাবে না।কোন কালেই সে শিহাবকে নিয়ে অতিরিক্ত কোন কৌতুহল দেখায়নি।একজন আত্মকেন্দ্রিক মানুষ তিনি।শিহাব জানালো,
মা,আমি তোমাদের ওর ব্যাপারে সব জানাবো। দয়া করে তোমরা ওকে কোন কিছু নিয়ে প্রশ্ন করবে না। শুধু দেখবে সে আরাফকে আপন করতে পারছে কিনা আর আরাফও তার কাছে স্বেচ্ছায় যাচ্ছে কিনা। তোমরা ওদের কে আপন হতে সাহায্য করো।
আচ্ছা মা,রাত হয়েছে,ঘুমিয়ে পড়ো।
কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে বলে শিহাব কল শেষ  করলো। একটা সিগারেট  ধরিয়ে  দীর্ঘ এক টান দিয়ে সাথে কফি কাপে দারুণ এক সিপ টেনে নিলো।মূহুর্তেই দেহের ভেতরে একটা রক্তের ছলাৎ চলনে দেহটা কেঁপে উঠলো। শায়লার মুখটা যেন চোখের সামনে এসে থামলো! যেন শায়লার স্পর্শ টের পেলো।শিহাব মনের অজান্তেই হেসে উঠলো। হাতে টিভি রিমোট নিয়ে স্পোর্টস চ্যানেলে স্টিক হলো।ফুটবল খেলা চলছে।ম্যানচেস্টার আর রিয়েল মাদ্রিদের খেলা।দুই পক্ষেই গোল হয়ে হয়েও হচ্ছে না! একপক্ষ কর্ণার কিক মিস করছে তো আরেকপক্ষের লং শট বারবার গোল পোস্টে লেগে ফিরে আসছে! ভীষণ উত্তেজনাকর খেলা চলছে। শিহাব খেলার মাঝে বারবারই আফসোস করে উঠছে।
গ্যালারিতে  সমর্থক দর্শকদের চোখ ফেটে বেরিয়ে আসতে চাইছে।কোন ভাবেই যেন নিজ দলের গোল দেয়া দেখাটা মিস না হয়ে যায়!
শিহাবের মোবাইলে 
একটা রিং এলো। শিহাবের মনযোগ কিছুটা হলেও সেদিকে গেলো।কোন নাম ছাড়া অচেনা একটা নম্বর থেকে।শিহাব কৌণিক চোখে একবার দেখে নিলো। নাহ! নাম্বারটা একেবারেই চেনা নয়। ফ্যাক্টরির ম্যানেজার কিনা? কোন ঝামেলা হলো কিনা আবার?
ভাবতে ভাবতে এক রাউন্ড রিং শেষ হলো।শিহাবের মনে খেলার আগ্রহের চেয়ে এখন মোবাইল স্ক্রিনে চোখ আটকে গেলো।
আবার কল।শিহাব এবার এক রিংয়েই ধরলো।
হ্যালো, কে বলছেন।
ওপাশের নীরবতা শিহাবকে উৎকন্ঠিত করে তুললো।বারবার একই প্রশ্ন করে যাচ্ছে শিহাব।
কে বলছেন? কে বলছেন? 
এবার উত্তর ভেসে এলো।যা শুনে শিহাব একবারে যেন  ভাবনার কক্ষপথ থেকে ছিটকে বেরিয়ে এলো। টিভি স্ক্রিনে ম্যানচেস্টার  এক গোল দিয়েছে,গ্যালারিতে দর্শক আনন্দে ফেটে পড়ছে কিন্তু  শিহাবের সবকিছু যেন পানসে হয়ে থমকে গেলো।ওপ্রান্তে কে? শিহাব ভেতরে অস্থির হয়ে উঠলেও এমন রহস্যজনক আচরণে বেশ রাগও হচ্ছিল।
কিছুক্ষন পর উত্তরটা ভেসে এলে, শিহাব যেন হঠাৎ থমকে গেলো! নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছিলো না। এত উত্তেজনাকর খেলাও আগ্রহে ভাটা পড়লো। মনে হলো সুদূর অতীতের 
ভুলে যাওয়া একটা খুবই চেনা কন্ঠস্বর থেকে উত্তরটি ভেসে এলো,,,,,আমি রিশতিনা। গত পরশু দেশে এসেছি।তুমি কেমন আছো শিহাব?
চকিতেই যেন শিহাবের ভেতরে বিশাল এক ভূমিধ্বস হলো।চলার গতির হঠাৎই থেমে গেলো। সেই বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা রিশতিনার মায়াবী মুখটা বুকে এসে আঘাত করলো।
ওপ্রান্ত থেকে আবার একই প্রশ্ন,,,কেমন আছো শিহাব ?


চলবে....

মমতা রায়চৌধুরী /৮৭




উপন্যাস 

টানাপোড়েন ৮৭
উথাল পাথাল মন

মমতা রায়চৌধুরী



শিখার গতরাতে উত্তেজনায় ঘুম আসে নি হঠাৎ করে মনটা যেন কেমন উথাল-পাতাল করছে।কেন এমন হলো ?তবে কি মেসেজগুলো তার ভেতরে কোন রেখাপাত করল ।নাকি অন্যকিছু? উদাসী বাউল মনটাকে আবার কি ঘরের দিকেই আবদ্ধ করার জন্য কোনো মন তাকে ডাকছে, সোনার আলোয় ভরিয়ে দেবার জন্য ।
খুব ভোরবেলায় উঠে পরেছে শিখা। ভোরে উঠে ফ্রেশ হয়ে ঠাকুরঘরে গেছে। ঠাকুর ঘরে প্রেমের ঠাকুর 'রাধামাধব 'এর সামনে 'তুমি নির্মল কর, মঙ্গল করে ,মলিন মর্ম মুছায়ে..।'গান গাইছে একাগ্রচিত্তে।
গান শুনে মাধু ,সুরঞ্জন ,বৃষ্টি সকলের ঘুম ভেঙে গেছে ।সকলে হা করে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়িয়েছে। তিন তলার ঠাকুর ঘর থেকে আওয়াজ আসছে। 
মাধু সুরঞ্জনকে ধাক্কা দিয়ে বলল 'এই শোনো ,শোনো ।দেখো, শিখা গান গাইছে আবার ।আজ কতদিন পরে ঠাকুর ঘরে ঢুকলো বলো তো।'
সুরঞ্জন বলল 'একটা গুড সাইন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।'
মাধু বললো 'অপূর্ব গাইছে গো। '
সুরঞ্জন মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো আর বলল 'বোনটা কার দেখতে হবে তো,?'
মাধু  হেসে বলল 'ননদটা  কার দেখতে হবে তো?'
বৃষ্টিটা আবার বলল" পি মনিটা কার দেখতে হবে তো?'
 মাধু আর সুরঞ্জন তো বৃষ্টির কথায় অবাক হয়ে গেল। তারপর মাধু বৃষ্টিকে গাল দুটো টিপে দিয়ে বলল 'একটা পাকা বুড়ি।' 
এরপর বৃষ্টির হাতটা ধরে বলল  'চলো চলো চলো ঠাকুরঘরে চলো সবাই ।শিখা গান করছে।'
মেজ পিসি ঘর থেকেই বললেন 'কে গান করছে মাধু? শিখা?'
মাধুরী বলল'-হ্যাঁ মেজ পিসিমা।'
মেজ পিসি বললেন' গানের গলা তো ভালো। ওকে তো আমি এসে অবধি গান করতে শুনি নি।'
সবাই গিয়ে ঠাকুরঘরে বসলো। মাধু আর সুরঞ্জন দেখছে' কি ভক্তিভরে একান্তমনে ,একনিষ্ঠভাবে ঠাকুরের পুজো করছে গানের মধ্যে দিয়ে। অন্য কোন দিকে ধ্যান নেই। গান শেষে শিখা দু' হাত জোড় করে ঠাকুরের কাছে প্রণাম করলো ।প্রণাম করার সময় মাধুরী লক্ষ্য করল  শিখার চোখে জল।'
মাধুরী মনে মনে ভাবল 'শিখার আত্মা শুদ্ধিকরণ হলো আঘাতে -আঘাতে , দগ্ধে -দগ্ধে পুড়ে পুড়ে ।
শিখা পুজোর শেষে পেছনে ঘুরে তাকিয়ে দেখে পরিবারের সবাই উপস্থিত। শুধুমাত্র মেজ পিসি ছাড়া। এমনিতেও মেজো পিসির তিনতলা ওঠার ক্ষমতাও নেই, হাঁটুতে ব্যথা।
শিখা সবাইকে প্রদীপের শিখার তাপ, রাধা মাধবের আশীর্বাদ দিল ।তারপর প্রসাদ দিল।
মাধু দেখছে শিখাকে কি স্নিগ্ধ লাগছে। কি সুন্দর একটা লাল পেড়ে শাড়ি পরেছে।
বৃষ্টির পি মনি বলেই শিখাকে জড়িয়ে ধরতে যাচ্ছে ।ঠিক তখনই মাধু বৃষ্টিকে ধরে বলল ' একদম 
নয় ।পি .মনি কে এখন ছোঁবে না ।বিছানা থেকে উঠে এসেছ।'
শিখা বলল' ছেড়ে দাও না বৌদিভাই। ও তো শিশু কিচ্ছু হবে না।সবকিছুর মধ্যেই ভগবান বিরাজ করেন ।এ'খানে কোন আচার-বিচার, রীতিনীতি খাটে না।'
মাধুরী তো  শিখার কথায় হা  হয়ে গেল। কি শুনছে শিখার কাজ থেকে।
মাধুরী বলল' ঠিক আছে । আমি নিচে যাচ্ছি প্রত্যেকে  নাও ফ্রেশ হয়ে নাও। বৃষ্টির হাত দুটো ধরে নিয়ে বলল'বৃষ্টি চলো, চলো, চলো তোমাকে ব্রাশ করিয়ে দিই তারপর তুমি দুধ খেয়ে হোমওয়ার্ক করবে।'
শিখা আর সুরঞ্জনকে বলল 'তোমরাও  তাড়াতাড়ি চলে এসো। আমি নাস্তা রেডি করছি। '
মাধু সিঁড়ি দিয়ে তরতর করে নিচে নেমে গেল।
সুরঞ্জনও নিচে নেমে গেল। শিখা কিছুক্ষণ ঠাকুরঘরে রাধামাধবের দিকে তাকিয়ে থেকে আপন মনে কি যেন বলল তারপর দরজা বন্ধ করে শিখাও নিচে নেমে আসলো।
ইতিমধ্যে শিখার ফোন বেজেই চলেছে।' 
মেজ পিসি বললেন 'কার ফোন এতবার করে বেজে যাচ্ছে গো মাধু ,ফোনটা কেউ ধরছে না?'
মাধু বলল 'আমরা তো কেউ এখানে ছিলাম না পিসিমা।'
শিখা নিচে নেমে আসলে মাধু কানের কাছে গিয়ে বলল' তোর ফোনটা বেজে গেছে ।যা  দেখ কে ফোন করল?'
শিখা হেসে নিজের ঘরে চলে গেল।
ভেতরে ভেতরে একটা উত্তেজনা ছিলই। সে তাড়াতাড়ি ফোনটা দেখল। দেখছে 'কল্যান ফোন করেছিল?'
তারপর হোয়াটসঅ্যাপটা খোলে। দেখল বেশ কয়েকটা মেসেজ ঢুকেছে।
প্রথম মেসেজটা'তখন ফোনটা ধরতে পারি নি।
এর জন্য দুঃখিত।'
পরের মেসেজটা আছে'অভিমান হয়েছে?'
তারপরে মেসেজে আছে 'বললাম তো একটা কাজে ছিলাম।'
এবার শিখা মেসেজ দিল'মনে করব কেন?'
সঙ্গে সঙ্গে কল্যান রেসপন্স করলো'
'অভিমান পাই খুঁজে কিছু,
পাই খুঁজে কিছু ব্যথাময়।
তাই আমি করে মাথা নিচু,
দুরু দুরু মনে সংশয়।'

শিখা টেক্সট করল
'অভিমানে নেই কোনো মূল্য
শীতের ঝরে যাওয়া 
পাতার মতই শুধু শূন্য।'
মনের সংশয় ছেড়ে 
এগিয়ে যেতে হবে বহুদূর।
তাই পিছনে ফিরে তাকানো
শুধু  ভুল আর ভুল।'

কল্যান মেসেজ করল
'অভিমান মূল্যহীন হলে
কি করে যে যায় দিনকাল?
কালোমেঘ মনে ভেসে এলে
বদলাবে কিছু হালচাল।'

শিখা লিখল'
'কিছুই বদলাবে না
হয়তো বা ভাসিয়ে নিয়ে যাবে বহুদূর।'

কল্যান লিখলো '
শীতে শুধু পাতা নয় মনে,
ঝরে পড়ে বসন্তের পাতা।
চেয়ে থেকো প্রেমী আনমনে,
আমি হই হেরে যাক ব্যথা।
শিখা লিখল
'মনের জীর্ণতা যখন এসে বাসা বাঁধে,
কোন বসন্ত এসে তাকে নিয়ে যাবে উড়িয়ে।'

কল্যান লিখলো'
' এর চেয়ে বেশি কিছু তুমি,
ভালোবাসা মেখে মনময়।
প্রেম ছুঁয়ে লিখে যাই আমি
ভাষা নিয়ে করে নির্ণয়।'

শিখা লিখল
'তবুও তো ফুলের সুবাস
 প্রত্যেকে চায়।
ঝরে যাওয়া পাঁপড়ির
সে রূপ গন্ধ কোথায়?'

কল্যান লিখল
' কোথায় ঝরেছে পাতা বলো,
সুগন্ধি ছেয়েছে হৃদি মন।
ঘুরে আসি মনে মনে চলো
পাহাড় সমুদ্র আর বন।'

এবার শিখা একটা হাসির চিহ্ন পাঠায়।

কল্যান আবার লিখলো
'শীতের গায়ে তুমি যদি  একে দাও
পলাশের গান।
আমি তো অনন্ত যতি ছিল যত বোধে 
আঁকা অপমান।
সবই তো  ধুয়ে মুছে যাবে খুশির ফিরে পাবে
হৃদয়ের টানে।'

শিখা লিখল '
সব সময় শুধু চাওয়া ভালো থাকা
এই প্রত্যাশাটুকুই বেঁচে থাক।'

কল্যাণ লিখেলো 'সেই প্রত্যাশা পূরণ করবে কে?'
শিখা কোন জবাব দেয় না।
এরমধ্যে মাধু বৌদি ', শিখা ,শিখা  আ..আ . আ বলে ডাকতে শুরু করেছে।'
কল্যান আবার লিখল উত্তর কোথায়?
মাধু আবার ডাকছে শিখার নাম ধরে।
মেজ পিসি নিচ থেকে চিৎকার করছেন।
বলছেন'এত বড় ধিঙ্গি মেয়ে। তাকে সব সময় খাবার জন্য ডাকতে হবে?'
শিখার কানে কথাটা আসলো। লিখল এখন আমি নিচে যাচ্ছি বৌদি ডাকছে?'
কল্যান বলল 'ok কিন্তু জবাব চাই। মনে থাকে যেন।
শিখা হাসির চিহ্ন দিয়ে পাঠায়।
এবার শিখা শাড়িটা চেঞ্জ করে তাড়াতাড়ি নিচে নেমে আসে। মাধুরী লক্ষ্য করে শিখার ভেতর আজকে রাগ নেই ।মেজপিসিমা যেভাবে কথাগুলো শোনালেন তাতে মাধুরী ভেবেছিল শিখা এসে আবার কোনো কাণ্ড করে না বসে।'
শিখা নিচে এসে বৌদিকে বলল'বৌদিভাই, আমার খাবার দাও।'
মাধুরী বলল' এই দিচ্ছি।'
শিখা বললো 'বৌদিভাই আজকে আমি একটু বেরোবো।'
কথাটা শুনতে পেয়ে মেজ পিসি বললেন 'কেনো রে ,যখন- তখন, যেখানে -সেখানে বেরোস কেন এত?'
শিখা কোন কথার উত্তরই দিলো না এভয়েট করে গেল। 
মাধু বলল 'পিসিমা প্রয়োজন থাকলে তো বেরোতেই হবে না?'
পিসিমা বললেন 'আর এত ঢাকো কেন মাধু তুমি?'
শিখা বলল 'বৌদি ভাই আমি বেরোচ্ছি।'
মাধু শুধু হেসে ঘাড় নাড়লো।
শিখা ঘরে গিয়ে ড্রেস পরতে পরতে গান গাইতে লাগল 'ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে...।
তারপর একটা কি উত্তেজনা মাদকতা সারাক্ষণ মনটাকে উথাল পাথাল করে দিতে লাগলো । এই উত্তেজনাতেও কি আনন্দ ? ভালো লাগছে শিখার।'আজকে  কি সারাটা দিন ধরেই চলবে মনের ভেতর অস্থিরতা? সারারাত ঘুম হয় নি কিন্তু তাতে টায়ার্ড লাগছে না। শিখার মনে কি হলো সেটাই খুঁজে পাবার চেষ্টা করছে। আজকে বাইরে বেরোবে ফুটপাতে রাস্তা ধরে হাঁটবে অনেকটা দূর পর্যন্ত নিজেকে জানার জন্য।

০৬ জানুয়ারি ২০২২

কবি শাহিদা ফেন্সী'র কবিতা




প্রণয় বিভোর
শাহিদা ফেন্সী

তোমার ঐ অধর মানে
গোলাপ কুঁড়িতে কামড়

তোমার জন্য অধীরতা মানেই
যেন রাগ ইমনের বিভোরতা।

তোমার ওই গ্রীবার মানে
আমার প্রেমের ঔদ্ধত্যতা

বুকের বাঁ পাশে যে হৃদপিণ্ড
সে তো আমার বিশ্বাসের কুঁড়েঘর।

তোমার বাহুবন্ধন জুলিয়াস সিজার
আমি ক্লিওপেট্রা হয়ে কাঁপি থরথর।

কবি শহিদ মিয়া বাহার এর কবিতা




জোৎস্নার স্বরলিপি
শহিদ মিয়া বাহার

একশত বছর জ্বলেছে পূর্বপুরুষের চোখের ঘর-বসতি, বর্ষার নদী এবং তারও আগে আমাদের প্রপিতামহ কেঁদেছেন,স্বপ্নের উৎসারিত ভাঙ্গন দেখেদেখে--
যেমন কেঁদেছেন সর্বশেষ নবাব,
বিষাদমুখো কৈলাস পাতার মেরুন দৃষ্টিতে, শৃঙ্খলিত লোহার কপাটে! 

মানুষ আর নেকড়ের সমান্তরাল ঘুর্ণন দেখে দেখে, অত:পর পিতামহ কেঁদেছেন বহুযুগ!

কৈবর্ত চোখে কেঁদেছেন, আমাদের জন্মদাতা পিতা-
অস্তগামী সূর্যের লাল শেষকৃত‍্য দেখে দেখে!

আমরাও কেঁদেছি বহুবছর---
স্বৈরাচারী পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে, প্রপাতের কান্নার মত
ঝর্ণার প্রবঞ্চক জলের প্রেম খুঁজে খুঁজে!

প্রান্তরের পাথর চাপায় দীর্ঘসময়, কারা যেন লুকিয়ে রেখেছে স্বর্ণভেজা রোদ!
আমরা সবাই এখন রক্তহীন বিবর্ণ ঘাস হয়ে গ‍্যাছি, পরিত‍্যাক্ত সাদা কাফনের মত!

এখন আমরা কেউ আর কাঁদতে পারি না!

রাতের দুর্গম আরণ‍্যক আঁধারে, চাঁদ-সলতের অক্ষরে লিখা, আমাদের স্বপ্নগুলো 
এখনো জোৎস্নার স্বরলিপি হয়ে উঠেনি।

শামীমা আহমেদ /পর্ব ৪৯




শায়লা শিহাব কথন
অলিখিত শর্ত
( পর্ব ৪৯ )
শামীমা আহমেদ 

" ছার,লাঞ্চ করবেন না? অনেক  তো বেলা হইছে। "
কবিরের কথায় শিহাব ল্যাপটপ স্ক্রীন থেকে মুখ সরালো। ছার, কিছু কি আনমু? সক্কাল থেইকা সে যে কাজে ডুবলেন আর তো একটু পানিও খাইলেন না। 
শিহাব জানতে চাইলো, কয়টা বাজছে কবির?
ছার,সোয়া দুইটা বাজে।
আচ্ছা ঐ ছেলেটা  কী চলে গেছে?
জ্বি ছার,কার সাথে যেন ফোনে কথা কইল আর দুইটার দিকে চইলা গেলো।
শিহাব একটুক্ষণ কি যেন ভেবে নিয়ে মনে মনে এই সিদ্ধান্তে এলো,নাহ! শায়লার কাছে তার সততা পাহাড়সম উচ্চতায়। সে কখনোই তার এই বিশ্বাসের অমর্যাদা করবে না। তক্ষুনি শায়লার মেসেজ এলো,লাঞ্চ করেছো? 
এইতো করবো।
খেয়ে নাও অনেক বেলা হলো।
---আচ্ছা,লিখেই শিহাব মোবাইল থেকে মুখ তুলতেই দেখলো,  কবির তার আদেশের অপেক্ষায় মুখ কাচুমাচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

কি আনমু বলেন ছার।
চাইনিজ না দেশী খাবার?
যদিও দেশী খাবারেই শিহাবের আগ্রহ বেশি তবে সেটা,ঘরে মা ভাবীর হাতের রান্না।
শিহাব কেমন যেন আনমনা হয়ে কবিরের কথাগুলোর উত্তর দিচ্ছিল।তার ভেতরে ভাবনায় অন্য কিছুর ঘুরপাক চলছে।কিছু খাওয়ার ইচ্ছেটা একেবারেই নেই।
তুমি লাঞ্চ করেছো কবির? 
না ছার,আপনি না খাইলে আমি ক্যামনে খাই? 
সেকি, এত বেলা হয়ে গেছে তুমি না খেয়ে আছো,শিগগির খেয়ে নাও।আর 
আমি আমার খাবারের অর্ডার দিচ্ছি ওরা  খাবার পৌছে দিবে।কবির মাথা ঝুকিয়ে সম্মতি জানিয়ে রুমের পাশেই ছোট্ট ঘরের মত জায়গাটায় তার বাসা থেকে আনা টিফিন ক্যারিয়ারটা খুলে খেতে বসলো।কবিরের বউ খুব যত্ন করে রান্না করে খাবার সাজিয়ে দেয়। কবিরও তার বউটাকে খুবই ভালোবাসে।
শিহাব ভাবলো,পৃথিবীতে ধনী গরিব  মধ্যবিত্ত দিনমজুর কিংবা রিকশাচালক সবার জীবনেই এ যেন এক অনন্য সুখ! স্ত্রীর হাতের রান্না স্বামী পরম তৃপ্তি নিয়ে খায়।আর স্বামী  অন্তঃপ্রান স্ত্রীরা জীবনের শত কষ্টের বিনিময়ে স্বামীকে স্বযত্নে খাওয়াতে ভালবাসে।
শিহাব  কাছেই একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ওদের সেট মেনু অর্ডার করলো। বিশ মিনিটের মধ্যেই ওরা খাবার পৌছে দিলো।এর মধ্যেই কবির খাওয়া শেষ করে নিলো।
শিহাবের অফিস রুমের এক কর্ণারে লাঞ্চের জন্য টেবিল চেয়ার সেট করা আছে।শিহাব সেখানে বসেই লাঞ্চ সেরে নিলো।খাবার শেষে একটু আয়েশি ভঙ্গিতে শিহাব একটা বেনসন ধরিয়ে গভীর চিন্তামগ্ন হলো।ঘড়ির কাটায় তিনটা তিরিশ।নিশ্চয়ই রিশতিনা তার জন্য অপেক্ষা করে ফিরে গেছে কিংবা শিহাব যাবে না  জানতে পেরে হয়তো সেখানে আর যায়নি।
নাহ! এ হয় না।আমার অতীতকে ভুলতে হবে নয়তো সামনে এগুনো যাবে না।এবার নিজেই নিজের ভাগ্য গড়ে নিবো।শায়লাকে নিয়ে যে স্বপ্ন সে দেখেছে সেটাই হবে তার একমাত্র ধ্যান জ্ঞান।কিন্তু রিশতিনার সাথে দেখা করতে না যাওয়াটাও  শিহাব বারবার নিজের বিবেকের কাছে  হেরে যাচ্ছে।
শিহাব চোখ বন্ধ করে সেই দিনগুলির কথা ভাবছিল। যখন শত বিত্ত বৈভব পিছে ফেলে রিশতিনা তার কাছে ছুটে এসেছিলো।বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান।কত প্রাচুর্যেই না বড় হয়েছিল। শিহাব নিজেকে বুঝে উঠতে পারছে না। কি করবে।কারো কাছে এ বিষয়ে  পরামর্শ নেয়ার মত এমন নিরপেক্ষ কাউকে তো দেখছে না।
ব্যবসায়িক কত কিছুরইতো শিহাব ডিল করে, কত কন্ট্র‍্যাক্ট,কত ডিসিশন,কত স্টেপ, কত ফিউচার প্ল্যান,কত একশানতো তাকেই নিতে হয়।ব্যবসায়িক বন্ধুরা  তার দিকে তাকিয়ে তাকে।এ ব্যাপারে তার প্রজ্ঞা আর দূরদর্শী বন্ধুদের বিস্মিত করে।তাইতো তারা বলে,, এইসব ব্যাপারে শিহাব নাকি যথেষ্ট দক্ষ।বন্ধুরা তাই তার সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করে।কখনো কোন ডিসিশন তার ভুল হয়নি।কোন ব্যবসায়িক ক্ষতির সন্মুখীন তারা  হয়নি।কিন্তু নিজের জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে তার এত চড়াই উৎরাই পেরুতে হচ্ছে। সহজ পথে কিছুই এগুচ্ছে না।

শিহাবের মোবাইল বেজে উঠলো।টেবিলের উপর ফোনটি ছিল।কবির আসতে আসতে রিং শেষ হয়ে গেলো।আবার কল এলো।কবির মোবাইলটা এগিয়ে দিলো।শিহাব দৃষ্টি ফেলে দেখলো বন্ধু রোমেলের কল।শিহাব কল রিসিভ করলো।ওপ্রান্ত থেকে টগবগে কন্ঠ!
দোস্ত কেমন আছো?
আলহামদুলিল্লাহ, ভালো।
তুই কেমন আছিস?
ভালো,দোস্ত,তবে তুমি কেমন যেন কিছুদিন যাবৎ ঝিম মাইরা আছো।কি হইছে তোমার?
কতদিন আড্ডা নাই,ঘুরাঘুরি নাই। খাল্লি কাজ আর কাজ।বন্ধুর মিষ্টি অনুযোগ। 
 উত্তরায় ব্যবসায়িক কাজের সুবাদে রোমালের সাথে পরিচয়।খুবই খোলা মনের একজন সৎ ব্যবসায়ী। উত্তরাতেই স্থায়ী বসবাস। ধীরে ধীরে বন্ধুত্বের কারণে আজ ব্যবসায়িক পার্টনার হয়ে যাওয়া।ওর অফিস সেক্টর নয় এ।নিজে বাড়ির নিচ তলায়।
শিহাবের নীরবতায় রোমেলের ঝংকার,
দোস্ত, তোমার কি হইছে,বলা যায়? 
কই কিছু না তো?
ঠিক আছে কিছু না হইলে আজ সন্ধ্যায় দিয়াবাড়িতে চা পানের আড্ডায় চইলা আসবা।আসবা মানে আমরা একসাথে রেরুমু।
যদিও শিহাবের আজ হৈ হুল্লোড় করার মত মনের অবস্থা নেই।তবুও।বন্ধুত্বের খাতিরে তা করতে হবে।তাছাড়া ওরা খুব ভালো বন্ধু।বিশেষ করে রোমেলের মধ্যে একটা ভালো মানুষের সব গুনাগুনই আছে।
সন্ধ্যার পর দিয়াবাড়ির সেই চায়ের আড্ডায় বন্ধুরা হৈ চৈ করে একজন আরেকজনকে
নানানভাবে খোঁচাচ্ছে।বিবাহিত বন্ধুদের সবার কার সাথে কার পরকীয়া চলছে।কে কোথায় কতবার ডেটিং এ যাচ্ছে।কোন ভাবির স্বামী দেশের বাইরে আছে তার ফোন নাম্বার লেনদেন চলছে।বউকে কে কিভাবে ফাঁকি দিচ্ছে এসব যেন আজ এক সামাজিক ব্যাধিতে দাঁড়িয়েছে।তারা বুঝতে পারছে না,যখন তাদের স্ত্রীদের তারা ফাঁকি দিচ্ছে তাদের স্ত্রীরাও তখন অন্যের বগলদাবা হয়ে 
চাওয়া পাওয়া মিটিয়ে নিচ্ছে।একটা অসুস্থ পারিবারিক পরিবেশে সন্তানরা বড় হচ্ছে।তাইতো তারাও বিপথে যাচ্ছে। নেশা আর সেক্স, আর সহজলভ্য পর্ণোগ্রাফিতে ঝুঁকছে।
শিহাব  গুটিশুটি মেরে আলো আঁধারিতে বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।হাতে সিগারেট নিয়ে উদাস দৃষ্টিতে আকাশের তারা দেখছে।  চায়ের অর্ডার দেয়া হয়েছে।শিহাবের আজকাল সিগারেট একটু বেশিই লাগছে।কি আর করা! এতসব টেনশনে সিগারেটের সাথেই যেন সব কথা বলে চলা।
শিহাবের শায়লাকে খুব মনে পড়লো।আজ তার দিক থেকে কোন কল যায়নি শায়লার কাছে।নিশ্চয়ই শায়লা অপেক্ষায় ছিল। শিহাব শায়লার নাম্বারে কল দিলো।ফোনটা বেজেই চললো।একসময় থেমেও গেলো।পরক্ষণেই শায়লার কল ব্যাক।
শিহাব!
কেমন আছো শায়লা?
ভালো।তুমি?
ভালো। 
না,তোমার কন্ঠ কেমন যেন শোনাচ্ছে আর আশেপাশে এত হৈচৈ এর শব্দ।তুমি কি বাইরে?
হ্যাঁ শায়লা, বন্ধুদের সাথে দিয়াবাড়ি চা খেতে এসেছি।তোমার কথা খুব মনে পড়ছে।একদিন তুমি আর আমি এখানে এসে চা খাবো।
ঠিক আছে। বেশি রাত করোনা।
আচ্ছা,কি করছিলে?
এইতো,তোমার দেয়া ব্রেসলেটটা দেখছিলাম।জানো শিহাব,আমি আজ অনেকবার ব্রেসলেটটা ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখেছি।আর প্রতিবারই ওটা কথা বলে উঠেছে!একদম তোমার কন্ঠস্বরে!
শিহাবের ভেতরটা একবারে মোচড় দিয়ে উঠলো!কী ভীষণ গভীরতায় শায়লা যে তাকে অনুভব করে।
তা ব্রেসলেটটি কি বলে?
চুপ কেন? বলো।ব্রেসলেটটি কি বলে?
বলে, শায়লা আমি তোমাকে খুব ভালবাসি।
হু, ঠিকই তো বলে।আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি শায়লা।
রোমেল দুই কাপ চা নিয়ে শিহাবের দিকে এগিয়ে আসছে। শিহাব কথা সংক্ষিপ্ত করলো।ঠিক আছে শায়লা রাতে কথা হবে।রাখছি।
শিহাব হাত এগিয়ে  চায়ের কাপ নিয়ে, দুই বন্ধু চায়ে চুমুক দিলো।রোমেল যেন শিহাবের চোখের ভাষা পড়তে চাইছে।শিহাব তার চোখ আড়াল করতে চাইছে।রোমেলের আক্রমন ছুটে এলো---
কি দোস্ত,প্রেমে ট্রেমে পড়ছো নাকি?কেরম যেন আউলাভাবে থাকো আজকাল।আমাদের কোন ফোন নাই যোগাযোগ নাই।
খুবই হালকা করে শিহাব বললো,কি যে বলোনা দোস্ত। শিহাবের কথাতেই বুঝা গেলো কথার মাঝে কিছু ফাঁক আছে।
আরে দোস্ত, পুরুষ মানুষের এত্ত আবেগী হইলে চলে না।অতীত নিয়া পইরা থাকলে কি চলবো?জীবনটারে আবার নতুন কইরা সাজাও। সময়তো খুবই কম।বলাতো যায় না,
কার কখন ডাক আসে।
বন্ধুদের আড্ডায় নিজেকে খুবই প্রাণহীন করে রাখলো শিহাব।অন্যরাতো গল্পতে মেতে উঠেছে। রিশতিনার ডাকে না গিয়ে কেমন যেন একটা অপরাধ বোধের কাঁটা খচখচ করে বিঁধছে।
ঘড়িতে রাত নয়টা বেজে গেলো।শিহাব বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নিলো।রোমেল তার কাঁধে হাত রেখে বললো,বন্ধু কোন পরামর্শ বা  আলোচনার দরকার হইলে এই দোস্তটারে স্মরণে আইনো।আমি আছি তোমার পাশে।
শিহাবের ভেতরে অনেক কথার আকুলিবিকুলি থাকলেও বুকের ভেতরেই তা চাপা রইল।কন্ঠনালী পর্যন্ত তার অনুমতি মিললো না।শুধু চোখ দুটোতে নির্বাক দৃষ্টি আর  তার সাথে দেখা না হওয়ায় রিশতিনার অভিমানী মুখটা বারবার ভেসে উঠছে। তার মনের ভেতরও রিশতিনার প্রতি রাজ্যের প্রশ্ন জমা হয়ে আছে।


চলবে.....

কবি মনিরুল হক মৃধা এর কবিতা




কবি ভালোবাসে
মনিরুল হক মৃধা


এতো ভালো লেখা কবি দেই সাদুবাদ 
এভাবেই করে যেয়ো কবিতা আবাদ, 
পাঠক হয়েই আমি যেন হই ধন্য
কবিতা বাসেনা যারা তারাই ত বন্য!

শিখে নেই যেথা পাই জ্ঞানী গুণী, লেখা 
জানি সে একদিন পাবো কবিতার দেখা, 
শোধাবো তারেই কবি কবিতাকে বাসি 
উত্তর সে দেবে সেথা মুখে নিয়ে হাসি।

কবিতার কলি পড়ে হৃদে ঝড় উঠে 
তার তরে মন হরে ব্যথা হৃদ পুটে, 
কবিতা বলবে যখন কবি ভালোবাসি! 
এই হৃদে ফুটবে ফুল শত রাশিরাশি।

কবিতারা অভিমানী বড্ড মন চোরা 
তার বাসা পায়না যারা সে কপাল পুড়া, 
বসে রই বটতলে কবিতার পথে 
ভালোবাসে কবিতায় তা-ও একটা শতে।

তাইতো আমি সে বারবার কবিতা ই লিখি 
আমার প্রেয়সী তারে মন লয় দেখি, 
এ দেখার শেষ নেই বসে থাকি আশে
বলে দিও দেখা হলে কবি ভালোবাসে ।

সাইন্স ফিকশন গল্প লিখছেন হালিমা মুক্তা

শুরু হলো হালিমা মুক্তারের সাইন্স ফিকশন গল্প টাইম যান


টাইম যান
(সাইন্স ফিকশন গল্প)
হালিমা মুক্তা

ফজরের ওয়াক্ত নিপু কলপাড়ে ওজু করছে। হঠাৎ এমন সময় নিপুর চোখ যায় কলপাড় থেকে একটু দূরে বড় সাইজের হাসনাহেনা ফুলের গাছের তলায়।
আরে তানজিম এর খেলনা হেলিকপ্টার টা এত বড় হয়ে গেল কেমন করে! এটাতো অনেক বড় দেখাচ্ছে! নিপু কিছু বুঝে ওঠার আগেই হেলিকপ্টার জান টা একটু মৃদু মন্দ আওয়াজ করে উপরের দিকে উড়াল। নিপুর চোখ তো ছানাবড়া। মাথা ঘুরাচ্ছে এটা কি দেখলো ও। ওটা কি ছিল। ভয়ে গা শিহরিত হচ্ছে। এটা তো তানজিম এর খেলনা হেলিকপ্টার না তাহলে! ভাবতেই গলা শুকিয়ে আসছে নিপুর। কিন্তু নিপু ভাবলো মাকে বলা যাবে না, শুধু টেনশন করবেন।তার থেকে আগামী কালকে দেখবে সে আসলে ওটা কি ছিল। হঠাৎ মায়ের এ রুমে আগমন নিপু এখনো নামাজে দাড়াওনি! সূর্য উঠার সময় হয়ে এলো কিন্তু। কি এত চিন্তা করছ কি হয়েছে তোমার? মায়ের চোখ বলে কথা। তোমাকে পেরেশান দেখাচ্ছে কেন? আম্মা তানজিমের হেলিকপ্টার কি উড়তে পারে? কি বলো ঘুম থেকে উঠে কি বলছ তানজিমের হেলিকপ্টার উড়তে পারে মানে! নিপু মা'কে বলে সে যা দেখতে পেয়েছে।নিপুর মা হেসে কথাগুলি উড়িয়ে দেই বলে কী উদ্ভট কথা বলছো তুমি , ঘুম থেকে উঠে গিয়ে দেখেছো হয়তোবা তুমি ঘুমের ঘরে দেখেছো। তাই এখন মাথায় কাজ করছে। যাও নামাজে দাঁড়াও। স্কুল আছে নামাজ পড়ে হোম ওয়ার্ক গুলো ঠিকঠাক মত দেখে নাও।নিপুর মা রুম থেকে চলে যায়। নিপু খাটের কোনা থেকে উঠে নামাজে দাঁড়ায়।

 তানজিম এর খেলনা গোছাচ্ছে। স্কুল থেকে ফিরে সব এলোমেলো দেখে নিপু তানজিম এর উপর রেগে যায়। আম্মা আম্মা তোমার ছেলে সব এলোমেলো করে রেখেছে সব খেলনা গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে এ কি করেছে ঘরের অবস্থা দেখে যাও। ডাকাডাকি করছিস কেন পারলে গোছা। নিপুর মায়ের রান্নাঘর থেকে উত্তর। এই তানজিম টা না!নিপু একাই বকবক করছে। আর ঘরময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা খেলনা গোছাচ্ছে। হঠাৎ নিপুর ভোর বেলার কথা মনে পড়ে যায় সেই হেলিকপ্টার জান এর কথা। নিপু আবারো একটু শিহরিত হয়। কেমন যেন গা ছমছম করে ওঠে। রান্নাঘর থেকে আওয়াজ আসে নিপু তুমি গোসল করে ফ্রেশ হও নামাজের বেলা কিন্তু যায়। নামাজ ,খাওয়া স্যারের পড়া ওহ একটুও শান্তি নেই মায়ের কথা শুনে বিরক্ত মুখ নিয়ে নিপু কল পাড়ের দিকে হাঁটা দেয়। 

চলবে...

মমতা রায়চৌধুরী /৮৬





উপন্যাস 

টানাপোড়েন ৮৬
স্নেহ-মায়া-মমতা 
মমতা রায়চৌধুরী


অনিন্দিতার বিয়েতে যাবার আগে যে উত্তেজনা মন প্রাণকে ছুঁয়ে গেছিল। তা অনেকটাই স্তিমিত হয়ে গেল ঠিক যেন 'গঙ্গাসাগরে মৃতপ্রায় মনুয়া পাখির মতো।' অনিন্দিতা কেন যে রেখার সাথে এরকম ব্যবহার করল ?
সবাইকে জিজ্ঞেস করল একবারও রেখা কে জিজ্ঞেস করল না।
গাড়িটা আসতে  আসতেএসবই ভাবছিল হঠাৎ রেখার মনে পড়ল 'এই যা মনোজ তো ফোন করেছিল ,তখন তো ধরতে পারে নি। 'হোয়াটসঅ্যাপটা খুলল দেখল 'কিছু ম্যাসেজ আছে কিনা?'
দেখল 'হ্যাঁ ,মেসেজ ঢুকেছে। মনোজ লিখেছে 'কত দূরে আছো?'
রেখা ভাবল' ফোনটা করবে? না থাক। তার থেকে মেসেজ পাঠিয়ে দি।'
রেখা টেক্সট করলো'এই তো চাকদহ পালপাড়া ক্রস করছি। তুমি খেয়েছো তো?'
রিম্পাদি বলল-'এই রেখা ,রেখা । কি রে কোনো কথা বলছিস না। মুড অফ?'
রেখা তখনো  ফোনটা ঘেটে যাচ্ছে। অনুরাধাদি রিম্পাদিকে বলল'মটন কষাটা তোমাদের কেমন লেগেছে?'
রিম্পাদি বলল 'কেন বলুন তো?'
অনুরাধাদি বললেন 'এমনি  জিজ্ঞেস করছি?'
রিম্পাদি আবার ঠোঁটকাটা তো বলে ফেলল' না আপনি তো এমনিতে কিছু বলেন না দিদি।নিশ্চয়ই কিছু হয়েছে বা কিছু মনে জেগেছে?'
আনুরাধাদি একটু হাসলেন।
 রিম্পাদি হেসে এবার একটু কায়দা করে বললো 'আমার তো ভালোই লেগেছে।' 
অনুরাধাদি শুধু বললেন" অ অ।'
রিম্পাদি কায়দা করে কথাটা বের করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারল না। রিম্পাদি জানে। মটন কষাটার মটন ভাল ছিল না।'
এরমধ্যে রিম্পাদি আবার রেখাকে ধাক্কা দিয়ে বলল 'কিরে কিছু বলছিস না যে?'
রেখা বলল '' কি বলব?'
রিম্পাদি বলল 'না কিছু লিখছিলি তো ? মনোজ ফোন করেছিল?'
রেখা বলল 'হ্যাঁ ,সে তো যাবার সময় ফোন করেছিল। আবার ফিরছি  ,দেখছি মেসেজ পাঠিয়েছে।'
রিম্পাদি বলল' ও ।তা এমনি সব ঠিক আছে তো?'
রেখা বলল মনে হয় 'সব ঠিক আছে। লিখেছে যে কত দূর?'
রিম্পাদি বলল'তুই কোন উত্তর দিয়েছিস?'
রেখা বলল 'হ্যাঁ ,আমি লিখলাম তখন পালপাড়ায় ছিলাম সেই কথাটাই ।'
এরমধ্যে অনুরাধাদি দেখি পা নিয়ে খুব কষ্ট পাচ্ছেন ।একটানা পা ঝুলিয়ে বসে থাকা তো?'
রেখা বলল' দিদি ,আপনি পা টা ছড়িয়ে
 বসুন ।আমরা একটু এদিকে চেপে বসছি।'
রিম্পাদি ও  বলল ', হ্যাঁ, দিদি। পা টা ছড়িয়ে দিন। অ্যা  অ্যা অ্যা রেখা একটু সর সর সর আর একটু। ব্যস ব্যস, ঠিক আছে।'
রেখা বললো' ঠিক আছে অনুরাধাদি।"
অনুরাধাদি বললেন ' হ্যাঁ গো। উফ: কি কষ্ট পাচ্ছিলাম। কিন্তু তোমাদের তো কষ্ট হবে?'
রিম্পাদি ও রেখা বলল 'আরে না ,না ।আপনি বসুন তো ঠিক করে।'
এরমধ্যে গান বাজছে'তোমারেই করেছি জীবনের ধ্রুবতারা ...।'
সবাই কিছুক্ষনের জন্যে চুপ করে গেল আর মনোযোগের সঙ্গে গানটা শুনতে লাগল।
গাড়ি ইতিমধ্যে মদনপুরের ঢুকে পড়ল।
এরমধ্যে রেখার ফোনে একটা ম্যাসেজ ঢুকলো ', খেয়ে নিয়েছি।'
রেখা মেসেজ করল' বাচ্চারা সব খেয়েছে তো?'
মনোজ লিখলো "হ্যাঁ ,সবাই খেয়েছে।'
কিন্তু রেখা জানতেও পারল না তার বাড়িতে কি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
গাড়ি যখন কল্যাণী স্টেশন হয়ে রেখার বাড়ির গেটের কাছে। গাড়ি থেকে নামল এবং রিম্পা দি অনুরাধাদিকে অনুরোধ করলো 'ভেতরে ,ভেতরে চলো সবাই।'কিন্তু রিম্পাদি অনুরাধাদি দুজনেই বললেন 'না গো অন্য দিন একদিন 
আসবো ।আজ আর নয়।'
রিম্পাদি বলল 'না রে আজকে এমনি দেরি হয়ে গেছে। আমাদেরও তো ফিরতে হবে বল?'
রেখা কোন জোরজবস্তি করল না। সত্যিই তো এখনও অনেকটা পথ যাবার রয়েছে। দুজন মেয়ে মানুষ যাবেন।'
রেখা হেসে বলল 'ঠিক আছে দিদি ।তাহলে কিন্তু তোমাদের পাওনা থাকল।'
রিম্পাদি অনুরাধাদি দুজনেই হাসলেন এবং বললেন,' ঠিক আছে ।অন্য একদিন আসবো।'
রেখা বলল 'আপনারা পৌঁছে কিন্তু আমাকে একটু জানাবেন ।ফোন করতে না পারেন , অন্তত আমাদের গ্রুপে একটা মেসেজ পাঠিয়ে দেবেন। চিন্তায় থাকব।'
রিম্পাদি ,অনুরাধাদি '  দুজনাই বলেন ঠিক আছে।'
ড্রাইভার গাড়ি ছেড়ে দিল। রিম্পাদি অনুরাধাদি গাড়ি থেকে হাত নাড়তে লাগলো ।রেখা ও এই দিক থেকে হাত নাড়তে লাগলো।
রেখা বাড়িতে ঢুকে কলিং বেল বাজাল ।কলিং বেলের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে' জয় গনেশ ,জয় গনেশ, জয় গনেশ দেবা।'
মনোজ এসে দরজা খুলল ।মনোজের মুখটা থমথমে। রেখা ওয়াশরুমে গিয়ে হাত মুখ ভালো করে ধুয়ে রুমে ঢুকলো। টাওয়াল দিয়ে মুখ পরিষ্কার করার সময় মনোজ বললো 'লিলি আর নেই।'
রেখা কথাটা শুনে ধপ করে খাটের উপর বসে পড়ল। চোখে তাকিয়ে শুধু  প্রশ্ন' নেই মানে?'
তখনো রেখা কল্পনা করতে পারেনি গিলি যে তাদের ছেড়ে অনেক অনেক দূর চলে গেছে যার নাগাল কোনদিনও পাবে না। কখনো ওকে ছুঁইয়ে আদর করতে পারবে না।তিন মাসও কমপ্লিট হয় নি ।এই তিন মাসের মধ্যেই কতটা রেখাকে জড়িয়ে নিয়েছিল ।ভগবান কেন এরকম করলো কে জানে?
মনোজ শুধু বলল 'কিছু করার ছিল না এক্সিডেন্ট?'
রেখা খুব উত্তেজিত ভাবে আর ভীষণ জোরে কেঁদে বলল"অ্যাক্সিডেন্ট মানে? কি করে এক্সিডেন্ট হয়?'
আর হাউ হাউ করে কাঁদতে থাকে " লিলি, লিলি বলে।"
মনোজ বলল'' শান্ত হও।'
রেখা বলল ' তুমি কি করছিলে?'
মনোজ বলল'আরে মিলি তো কিছু খাবার খেয়ে এসে বাচ্চাদের খাওয়াবে বলে চেঁচাতে 
থাকে ।প্রতিদিনই তো গেট খুলে দেয়া হয়। ঠিক সেভাবেই খুলে দেয়া হয়েছে'।
রেখা বলে তাহলে 'এক্সিডেন্ট হয় কি করে?।
মনোজ বলল 'ওরা ঠিক মায়ের কাছে গিয়ে খাবারটা খাচ্ছিল ।ঠিক সে সময় একটা টোটো আসে আর হঠাৎই লিলি দৌড়ে রাস্তায় আসে এবং টোটোর সামনে পড়ে।'
রেখা বলল' টোটোওয়ালাকে ধরে কিছু দাওয়াই দিতে পারো নি। নিরীহ জীবগুলোকে ওরা এভাবে চাপা দেয়।'
মনোজ বলল 'টোওয়ালার এখানে কোন দোষ ছিল না ও আস্তে আস্তেই আসছিল।'
রেখা বলল 'তুমি আর টোটোওয়ালার হয়ে গুন গান গেয়ো না। আমার কিন্তু প্রচন্ড রাগ হচ্ছে।'
মনোজ বলল 'টোটোর গতি বেগ কম ছিল হঠাৎ ই লিলি ছুটে এসে সামনে পড়ে।'
রেখা বললো'-তারপর?'
মনোজ বলল 'ওর গায়ে চোট-আঘাতের চিহ্ন দেখা গেল না ।তারপরেই টোটো টা সরিয়ে নিতে লিলিটা আবার ছুটে ওর মায়ের কাছে আসে।কিছুটা খাবার খায় ।তারপর ছুটে ও নিজের ঘরে যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায় ওর রক্ত বেরোচ্ছে।
আমি তখন ওর কাছে উপস্থিত ছিলাম ।আমি আমি দেখতে পাচ্ছি একটা তরতাজা প্রাণ কি করে সবাইকে ছেড়ে চলে যায়।"
রেখা বলল-"আমার লিলি ,আমার লিলি বলে রেখা চিৎকার করে ওঠে।'
মনোজ বলল'আমি ওর মুখে জল দিলাম ।জলটা খেলো তারপর আমার দিকে তাকিয়েই মারা গেল।'
রেখা তো ডুকরে ডুকরে কেঁদে ওঠে। আর বলে জানো' আজ সকাল বেলায় যখন ওদের দুধ-রুটি খাওয়াতে গেছি, ওরা তো প্রতিদিনই সকলে ছুটে গেটের কাছে আসে আওয়াজ পেলে। কিন্তু খাবার থালা দেখলেই ওরা আবার এক এক করে নিজের শোবার জায়গাটায় চলে যায়।'
রেখা আরো জোরে কেঁদে ওঠে' আমার লিলি ,লিলি, লিলি বলে।'
মনোজ বলল 'কিছু করার ছিল না। নইলে কি চেষ্টা করতাম না বল?'
রেখা বলল' জানো?'আজকে লিলিকে যখন আমি ঘরে থেকে বের করতে গিয়ে বলছি সোনা বেবি তুমি ভেতরে ঢুকে কেনো? তখন কী করলো জানো?'
মনোজ উদাসী দৃষ্টিতে তখন রেখার দিকে তাকিয়ে।
রেখা বলল 'ও সুন্দর ছোট্ট বাচ্চাদের মত আদর করে শুয়ে পড়ল । যেমন ছোট বেবিরা বিছানা ছাড়তে না চাইলে ,যেরকম করে ঠিক সে রকম।'
মনোজ উৎসুক দৃষ্টিতে রেখার দিকে তাকিয়ে।
রেখা বলল' তখন আমি ওকে মাথায় গায়ে হাত বুলিয়ে দিয়ে আস্তে আস্তে টেনে বের করে কোলে তুলে নিলাম ।ওর মুখে বার বার চুমু খেতে লাগলাম ।আদরে আদরে ভরিয়ে দিতে লাগলাম। ও মুখের দিকে চুপ্টি করে তাকিয়ে থাকলো।'
মনোজ এবার উঠে বসলো আগ্রহভাবে রেখার দিকে তাকিয়ে। চোখে তখন জল ছলছল।
রেখার কন্ঠ তখন বাকরুদ্ধ তবুও বলল 'তারপর ওকে বললাম তুমি খেয়ে নাও ।তবুও সে খাবে না তখন হাতে করে করে ধরলাম ওদের মুখের কাছে তখন ওরা খেলো।'
রেখা এসব কথা বলছে আর কাঁদছে ।রেখার বুকটা যেন ফেটে যাচ্ছে যন্ত্রণায় ।ভুলতে পারছে না ছোট ছোট কার্যকলাপকে।
রেখা আর ও বললো' যখন ওদের খাওয়ানো কমপ্লিট হলো ।তারপর জল দিয়ে দেয়া হলো ।জলের বাটিটা থেকে ওরা জল খেতে লাগলো।' আজকে একটা অভিনব কান্ড করেছে লিলি।এখন সব মনে পড়ছে।'
মনোজ এবার শুধু আস্তে করে বললো 'কি?'
রেখা বলল 'গেটে তালা চাবি দিয়ে বেরিয়ে আসতে যাবো, ঠিক তখনই লিলি এসে আমার দোপাট্টা টেনে ধরল ।এবার তাকাতেই ও যেন ওর ভাষায় কিছু বোঝাতে চাইল। ওকে কোলে নেওয়া হলো। তখনো কি জানতাম লিলি এভাবে ফাঁকি দিয়ে চলে যাবে? সব থেকে বড় কথা কোথাও যাবার আগে সবসময় ওদেরকে একবার দেখে যাই আজকে এতটা লেট হয়ে গেছে গাড়ি এসে গেছে আর ওদেরকে দেখার টাইম হয় নি আমার।'

রেখা হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল তারপরদেখল ওদের খাবার টাইম হয়ে গেছে দেখে কাঁদতে কাঁদতেই গিয়ে আবার খাবার গরম করলো। তারপর খাবার নিয়ে সরাসরি চলে গেল ওদেরকে খাওয়াতে। খাবার দিতে গিয়ে ওদের সামনে রেখা আরো জোরে জোরে কেঁদে উঠলো।
আর রেখার কান্না দেখে তুলি , পাইলট চিৎকার করতে লাগল এবং রেখাকে নানাভাবে নানা দিক থেকে আদর করতে লাগল ।কখনো গালে, কখনো হাতে, কখনো মাথায়। আর গা বেয়ে বেয়ে উঠতে শুরু করল। ওরা ওদের নিজের ভাষায় 'ঘেউ ঘেউ' আওয়াজও করলো।'
রেখা তখন ওদের জড়িয়ে ধরে আদর করতে লাগল।দু চোখে তখন  জল ।'
খাবার দিয়ে এসে ঘরে প্রবেশ করতেই রেখা জিজ্ঞেস করল "তুমি খেয়েছ?'
মনোজ বলল 'আমার ওই অবস্থাতে কিছু খেতে ইচ্ছে করে নি।'
রেখা বলল' তোমারও তো শরীরটা খারাপ .খাবর খাওয়া উচিত ছিল? তাহলে কি ভাত করে দেব?'
মনোজ বলল 'আমার খাবার করতে হবে না।'
রেখা বলল 'তাহলে কি খাবে?'
মনোজ বলল 'ভাইপোকে বলেছি চারটে ডালপুরি এনে দিতে।'
রেখা বলল 'সারাদিন কিছু খেলে না। এখন ডাল পুরি খাবে?'
মনোজ বলল'আমার খাবার নিয়ে আমাকে ভাবতে দাও।'
রেখা বলল'ok
কিন্তু রেখার চোখের জল তখনও কমে নি। বারবার লিলির কথা বলছে আর কাঁদছে।
আর তখনই পুরশ্রী ভবনে গান বাজছে'যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে। আমি বাইব না ,আমি বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে...।'
গানটা যেন রেখার অন্তরাত্মায় একাত্ম হয়ে 
গেছে। রেখা বারবার লিলির কথা ভেবে ভেবে অস্থির হয়েছে, ডুকরে ডুকরে কেঁদে
 উঠেছে ।উৎসবমুখর বিয়ে বাড়ির আনন্দ আর,আনন্দের মধ্যে যে তার লিলি না থাকার বেদনা তার ভেতরে একটা শূন্যতা সৃষ্টি করে দেবে সেটা কল্পনার বাইরে ছিল । রেখা শুধু শূন্য দৃষ্টিতে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকে।

০৪ জানুয়ারি ২০২২

মমতা রায়চৌধুরী /৮৫




উপন্যাস 


টানাপোড়েন ৮৫ 
আঘাত

মমতা রায়চৌধুরী



গতকাল রাতে একটা উত্তেজনার ঘোর ছিল রেখার মনে ।অনিন্দিতার বিয়ে। তাহলে শেষ পর্যন্ত অনিন্দিতার বিয়েতে যেতেই হবে। রিম্পাদি কায়দা করে গিফটা আমার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। বড়দি সরাসরি নিজের বাড়ি থেকে যাবেন, নিজের গাড়িতে। শুভ্রা, আমি রিম্পাদি , অনুরাধাদি এক গাড়িতে যাব। রিম্পাদি গাড়িটা নিয়ে আসবে অনুরাধাদিকে তুলবে ,তারপর আমাকে, তারপর শুভ্রাকে এই পর্যন্ত কথা হয়েছে। কে কি সাজগোজ করবে সেই প্রস্তুতি চলছে।
রিম্পাদি গতকাল পার্লারে চুলের হেয়ার স্ট্রেটনিং করিয়েছে। শুভ্রা লেয়ার কার্ট ,সঙ্গে স্ট্রেটনিং করেছে।
শুধু আমি চুল কাটাতে পারি নি। যাব কিনা সেটা নিয়েই তো প্রথম থেকে ডিসিশন নিতে পারি নি। যাক গে যা হবে হবে ।সবার মাঝে না হয় একটু নিষ্প্রভ থাকবো। ভাবতে ভাবতেই ওয়ারড্রব খুলে শাড়িগুলো সিলেট করছে কোনটা পড়বে।
রেখা সব শাড়িগুলো ঘাটার পর মনে মনে ভাবছে"ওপারা সিল্ক  পড়ব, নাকি কাতান সিল্ক ?'
ভেবে যখন কোনো ডিসিশন নিতে পারল না তখন দুটো শাড়ি নিয়ে গিয়ে মনোজকে দেখাল। মনোজ
তখন ল্যাপটপ খুলে একটা কাজ করছিল মনোযোগের সঙ্গে।ঠিক তখনই রেখা ঢুকলো শাড়ি দুটো নিয়ে ঝড়ের বেগে।
রেখা হঠাৎ গিয়ে মনোজকে বলল' কোন শাড়ি পড়ি বলো তো? '
মনোজ ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে বলল 'তুমি যেটা পরবে, সেটাই ভাল লাগবে।'
 রেখা আবার বললো  'বলো না কোন শাড়ি টা পড়বো?'
 মনোজ বলল' আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছি রেখা।'
 রেখা বলল' একবার আমার দিকে তাকাও না? তাকিয়ে বলো।'
 মনোজ রেখার দিকে  বিরক্তিতে
 তাকিয়ে বলল 'ঠিক আছে বলো?'
 রেখা এমন ভাবে মনোজের দিকে তাকিয়েছে যে মনোজ হেসে ফেলেছে। ল্যাপটপ টা সরিয়ে রেখে রেখার কাছে এসে বলল 'দেখি শাড়ি দুটো ।নীল শাড়ি টাও ভালো লাগছে, আবার তোমার হলুদ ওপারা সিল্কটাও ভালো লাগছে।মনোজ বলল
 'এবার তো আমি কনফিউজড। কোনটা তোমাকে সাজেস্ট করি বলো তো?'
 রেখা এবার বলল এভাবে বলোনা আমি নিজেই কনফিউজড।
 মনোজ বলে একটা কথা বলব?
 রেখা খুব উৎসুক ভাবে বলল বলো?
 তুমি এক কাজ করো দুটির শাড়ি তুমি পড়বে?
 রেখা বললো তুমি কি পাগল হয়ে গেলে দুটো শাড়ি আবার কিভাবে পড়ে একসঙ্গে?
 মনোজ বলল 'আমি কি তাই বলেছি ,দুটো শাড়ি একসঙ্গে পড়বে?'
 রেখা বলল' তাহলে?'
 মনোজ  বলল 'বাড়ি থেকে যখন বেরোবে তখন একটা শাড়ি পড়বে। আর যখন অনিন্দিতার বাড়ি যাবে তখন..।'
 রেখা বলল 'তখন আবার আমি শাড়ি চেঞ্জ করবো তাই তো?'
 মনোজ বললো  'হ্যাঁ ,একেবারে সিম্পিল পথ দেখালাম।'
 রেখা মনোজের মাথায় চুল ধরে একটু ঝাকিয়ে বলল 'সত্যিই তুমি ক্ষেপে গেছ মনে হচ্ছে?'
 মনোজ বলল ' কেন আমি কি খারাপ কথাটা বলেছি? অনেকেই তো বিয়ে বাড়িতে গিয়ে শাড়ি চেঞ্জ করে করে না?'
 রেখা বললো 'থাক তোমার ওই সাজেশন আমার দরকার নেই ।আমি চললাম।'
 মনোজ রেখার হাত দুটো ধরে টেনে বলল'অ্যাই রেখা ,শোনো ,শোনো, শোনো ।রাগ ক'রো না। আসলে দুটো শাড়িই সুন্দর।এ জন্যই তো বললাম এই কথা।'
 রেখা এক ঝটকায় হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে চলে গেল
  নিজের ঘরে ।ঘরে এসে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের থেকেই সিলেক্ট করলো হলুদ ওপারা শাড়িটাই সে পড়বে। আর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিজের মনেই মনোজের কথাটা মনে পড়ে হাসতে লাগল আর ভাবতে লাগলোএক হিসেবে মনোজ ঠিক ই  বলেছিল।'
 মনোজ চুপিসারে ঘরের দরজার কাছে দাড়িয়ে রেখাকে লক্ষ্য করছিল। শেষে মনোজ রেখার কান্ড কারখানা দেখে গুনগুনিয়ে বলল'তুমি কি এমনি করে থাকবে দূরে আমার এ মন মানে না...।'
 রেখা জিভ ভাঙ্গিয়ে বলল 'আমার বয়েই গেছে।'
 মনোজ এসে জোর করে দু হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরল।
 আর বলল 'প্লিজ রাগ করো না।'
 রেখা বলল 'না  ছাড়ো প্লিজ।'
 মনোজ বলল 'আমি খোলা জানালা ।তুমি ওই দখিনা বাতাস ।আমি নিঝুম রাত ।তুমি কোজাগরি আকাশ।'
 রেখা বলল' বেশ বেশ বুঝতে পেরেছি। এবার ছাড়ো।'
 তারপরে রেখা বলল' আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ...।'
 মনোজ বলল 'এবার আমি খুশি হয়েছি।'
 রেখা বলল 'ছাড়ো আমি আমার বেবিদের খাবারগুলো দিয়ে আসি ।তারপর নিজেকে রেডি হতে হবে।'
 মনোজ  বলল 'আমার খাবার করো নি তো?'
 রেখা বলল 'বাহ রে তুমিই তো বললে  আজকে  খাবার করতে হবে না । বিরিয়ানি কিনে এনে খাবে?'
 মনোজ বলল' সেজন্যই তো  আবার জিজ্ঞেস করলাম।'
 রেখা বলল 'আচ্ছা মকা পেয়ে গেলে বাইরের খাবার খাবে ।তোমার রুচি বদল হবে। তোমার বউয়ের রান্না আর ভাল লাগছিল না আজকাল।'
 মনোজ আবার রেখাকে ধরে বলল 'অ্যাই আমি কখন বলেছি তোমার রান্না ভালো নয়। প্লিজ এভাবে ব'লো না।'
 রেখা বলল 'ঠিক আছে সব বুঝতে পেরেছি ।এবার আমি যাই ছানাপোনাদের খাওয়াতে।'
 রেখা তারপর বাচ্চাদের খাওয়াতে গেল ও বাবা আজকাল যা হয়েছে এদের খাবার নিয়ে গেলে আগে ওদেরকে আদর করতে হবে যে যার মত অভিমানে ন শুয়ে পড়ে ।প্রত্যেককে কোলে তুলতে হবে, আদর করতে হবে ,তারপর ওরা খাবে। খাবার নিয়ে গিয়ে
 রেখা বলল 'পাইলট, তুলি ,লিলি সব উঠে পড়ো সোনা খাবে।'
 ওরাও নিজেদের ভাষায় 'অউ অউ  'আবার কেউ  'ঘেউ ঘেউ' করে উত্তর দিল।
 রেখা এদেরকে খাইয়ে তারপর নিজের রেডি হবে বলে মনোজকে বলল 'তুমি যাও না তোমার পাশের ঘরে।' 
মনোজ বলল 'কেন আমি থাকলে অসুবিধা কি?'
রেখা বলল 'বাহ রে আমি শাড়ি চেঞ্জ করবো আমার বুঝি লজ্জা করে না?'
মনোজ অবাক হয়ে রেখার কাছে গিয়ে রেখার মুখটি তুলে ধরে বলল' হ্যাঁ ,কি বলছো গো আমার কাছে তোমার লজ্জা?'
 এর মধ্যেই রিম্পাদি ফোন করেছে।'রিংটোন বাজতে শুরু করলো'আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল। বাতাসের আছে কিছু গন্ধ...।'
 রেখা মনোজকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ফোন ধরে বলল 'হ্যালো বলো?'
 রিম্পাদি বলল 'কিরে তুই রেডি হচ্ছিস তো?'
 রেখা বলল ' রেডি হবো।'
 রিম্পাদি বলল' ওকে ।আমরা কিন্তু কাঁচরাপাড়া এসে গেছি।'
 রেখা বলল 'ওকে।'
 এরমধ্যে রেখা রেডি হতে শুরু করে দিল।
 রেখা রেডি হয়ে মনোজকে বলল' ওদের খাবারটা ঠিক সময় দিয়ে দিও। আর মিলিকেও‌ দিয়ে দিও। নিজে খেয়ে নিও।'
 মনোজ  হেসে বলল 'ওকে ম্যাডাম।'
 এমন সময়ে গাড়ি এসে হর্ন বাজাতে শুরু করলো। রেখা বললো 'দেখো নিশ্চয়ই রিম্পাদিদের গাড়ি এসেছে।'
 এবার রিম্পাদি গাড়ি থেকে নেমে কলিং বেল  বাজাল'জয় গনেশ ,জয় গনেশ ,জয় গনেশ দেবা... মনোজ বলল 'ওই দেখো দেবা গণেশ বাজছে। '
 রেখা মনোজকে ধাক্কা দিয়ে বলল'যাও না দরজাটা খোলো না?'
 মনোজ বলল' সুন্দরী বউকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না।'
 রিম্পা দি আবার ডাকতে শুরু করলো চেঁচিয়ে 'মনোজ ,রেখা রেখাআ.আ।'
 মনোজ এবার দরজা খুলে বলল ' আরে দিদি, আসুন ,আসুন ,আসুন ভেতরে আসুন।'
 রিম্পাদিয বলল' আরে না রে বাবা ,এখন ঢুকলে হবে না ।হয়েছে রেখার?'
মনোজ বলল' হ্যাঁ ও তৈরি হয়ে গেছে ,আপনাদের ভিতরে নিয়ে আসতে বলল।'
 রিম্পাদি গাড়িতে বসা অনুরাধা দিদিদের দিকে তাকিয়ে বলল 'না ,না ,না ভেতরে গেলে হবে না।'
 মনোজ বলল 'এত দূর থেকে আসছেন একটু রেস্ট নিয়ে জল মিষ্টি খেয়ে যান।'
 রিম্পাদি বলল ''না বাবা ,তাহলে বিয়ে বাড়িতে গিয়ে আর কি খাব?'
 অগত্যা মনোজ রেখাকে ডাকল' রেখা, রেখা , রেখা .আ. আ .
 রিম্পাদিরা কিন্তু ভেতরে আসছেন না । 'তোমাকে বের হতে বললেন।'
 রেখা বলল" সে কি?
 রেখা বাইরে বেরিয়ে এসে বলল এটা কিন্তু ঠিক হচ্ছে না রিম্পা দি ,অনুরাধাদি  সবাইকে ভেতরে আসতে বলছি।'
 রিম্পাদি বলল ' না রে দেরি হয়ে যাচ্ছে। চল চল চল আবার ফিরতে হবে।'
 রিম্পাদি রেখাকে হাত ধরে টেনে তুলল গাড়িতে।
 গাড়ি ছাড়ার সময় সবাই মিলে মনোজকে হাত নেড়ে বলল 'আসছি।'
 তারপর গাড়ি ছুটতে শুরু করল। গাড়িতে তখন গান বাজছে 'আমার পরানো যাহা চায় ,তুমি তাই, তুমি তাই গো...।"
 গাড়ি দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণনগরে এসে পৌঁছালো। কৃষ্ণনগরে শুভ্রাকে তুলে তারপর গাড়ি ছুটলো বেথুয়া ডহরির উদ্দেশ্যে।
 শুভ্রাএকটা ব্লু কালারের বেনারসি পড়েছে খুব ভালো লাগছে দেখতে।
 রেখা বলল 'আরে শুভ তোকে তো চেনাই যাচ্ছে না। দেখিস বাবা ,আজকে বিয়ে বাড়িতে নজর না লেগে যায়।'
 শুভ্রা বললো' কি যে বলো না দিদি, তোমার কাছে আমি....?'
 রিম্পাদি বললো 'ঠিকই বলেছিস।'
 অনুরাধাদি বরাবরই চুপচাপ  আর রাশভারী প্রকৃতির। তবুও এই কথাতে অনুরাধাদি হেসে ফেললেন।
 কথা বলতে বলতে আর বাইরে জানলা দিয়ে দৃশ্য দেখতে দেখতে গাড়ি এসে পৌঁছালো বেথুয়াডহরি ''আপনজন' লজের কাছে ।
 গাড়ি থেকে নামার আগে প্রত্যেকে একটু নিজের নিজের চুল আঁচড়ে নিল। শুভ্রা আরেকটু লিপস্টিক ঘষে নিল।
 রিম্পাদি গাড়ি থেকে নেমে তাড়া দিতে লাগল' কিরে তোদের হলো?'
 রেখা  শাড়ি ঠিক করতে করতে বলল '' এই তো হয়ে গেছে।'
 অনিন্দিতার বাবা গাড়ির সামনে এসে বললেন 'আপনি রিম্পাদি আর তোমরা  রেখা শুভ্রা তাই তো?'
 রিম্পাদি বলল 'হ্যাঁ একদম ঠিক ধরেছেন।'
 রেখা হাতজোড় করে বলল 'নমস্কার ভাল আছেন তো? '
 অনিন্দিতার বাবা একগাল হেসে বললেন  ভালো আছি  ।তবে তোমরা আসাতে সাথে ভীষণ খুশি হয়েছি।'
 ভেতরে যাওয়া হোক
 রিম্পাদি বলল 'সেই ভাল।'
 গেট দিয়ে ঢুকতেই  সঙ্গে দেখা।' কি মিষ্টি লাগছে তন্দ্রা তোমাকে ।'রেখা বলল' তোমাকে ভীষণ সুন্দর লাগছে'
 তন্দ্রা একটু হেসে বলল ' দিদি, চলুন স্টল বসেছে ফুচকার। খাবেন?'
 রিম্পাদি আর শুভ্রা ফুচকার নাম শুনে জিভে জল আসতে শুরু করলো। রিম্পাদি বলল 'আর দেরি কেন চলো।,'
 রিম্পাদি আর শুভ্রা টপাটপ জল ফুচকা খেতে লাগলো। আর রেখার দিকে তাকিয়ে রিম্পাদি বলল '
 একটু দই ফুচকা খা না রে বাবা ।তুই তো বাড়িতে দই ফুচকা নিয়ে গেলে খাস।'
 তন্দ্রা বলল 'দিদি এইগুলো খেয়ে দেখুন খুব টেস্টি। এরা আমাদের এখানে সব থেকে বেশি ভালো বানায়। তাই এদেরকেই দিদির বিয়েতে অর্ডার দিয়েছি।'
 রেখা বলল 'ঠিক আছে । আচ্ছা, দিন তো আমাকে দুটো ফুচকা।'
 তন্দ্রা বলল অসীমদা ' চারটে ভালো করে দই ফুচকা বানিয়ে দিন।'
 অসীমদা ঘাড় নেড়ে ভার থেকে দই কাটছিলেন আর তারপর কাজু কিসমিস সমস্ত কিছু বের করে একটা জায়গায় রাখলেন ।এরপর ফুচকা রেডি করে রেখার হাতে দিলেন।
 রেখা ফুচকার বাটিটা হাতে নিয়ে একটা মুখে দিলে দেওয়ার পর বুঝল ফুচকাগুলো সত্যিই খুব ভালো। আরও চারটি ফুচকা খেল।'
 অসীমদা জিজ্ঞেস করলেন'দিদি কেমন লাগছে?'
রেখা ঘাড় নেড়ে বললো' ভালো।'
অসীমদা বললেন্'আর চারটে নিন না দিদি।'
রেখা বললো 'ঠিক আছে, দুটো দিন।'
অসীমদা খুব খুশি মনে দুটো নয় চারটে ফুচকা দিলেন।
রেখা বলল 'এতগুলো দিলেন?'
অসীমদা একগাল হেসে বললেন 'খান, ভালো লাগবে।" 
রেখা বলল' হ্যাঁ ,ভালো তো লাগছে কিন্তু আরও তো কিছু খাবার খেতে হবে?'
রিম্পাদি বলল  'অনিন্দিতার সাজগোজ হয়েছে? নিয়ে এসেছে এখানে।'
তন্দ্রা বলল এক্ষুনি চলে আসবে দিদি। একটু ওয়েট করুন প্লিজ।'
রিম্পাদি বলল 'হ্যাঁ ,সে তো আমরা ওয়েট করব কিন্তু গিফট আগে দিতে পারলে ভালো হতো ।আমরা তো আবার ফিরব এবার খাবার-দাবার খেতে যাব।'
তন্দ্রা বলল 'আসলে দিদি ,পার্লারের মেয়ে একটু দেরি করে এসেছে ,দিদিকে সাজাতে।'
এমন সময় অনুরাধাদি বলে উঠলেন' ওই তো অনিন্দিতা?'
সবাই তখন উৎসুক হয়ে অনিন্দিতাকে দেখছে।
রেখা বলল 'কি ভাল লাগছে ।'
অনিন্দিতা কিন্তু রেখার কথার কোন রেসপন্স করলো ।না ,না হাসলো ও না।'
অনিন্দিতা জিজ্ঞেস করল' কখন এসেছ? '
রিম্পাদিও বলল 'তোমরা কখন এসেছ?'
রেখা বলল  'এই তো একটু আগে।'
এখনো কোন রেসপন্স করলো না অনিন্দিতা।
রেখা রিম্পাদির উত্তরগুলো নিজের কন্ঠে বসিয়েছিল 
অনিন্দিতা শুভ্রাকে বলল 'বাবা তুই তো নীল পরী সেজেছিস?'
শুভ্রা শুধু মিষ্টি করে হাসলো। এরপর অনুরাধা দিকে বলল
অনুরধাদিকে বলল' আস্তে কোন অসুবিধা হয় নি' তো?'
এবার রেখা খুব ইনসাল্ট বোধ করলো।
রিম্পাদি ব্যাপারটা খেয়াল করে রেখাকে বলল' আগে খেতে বসি। আরো বললো অনিন্দিতা এই তোর গিফট তোদের বিবাহিত জীবন সুখের হোক, সুন্দর হোক, মধুর হোক ,এই কামনা করি।'
অনিন্দিতা বলল 'থ্যাংক ইউ দিদি।'
বিয়ে বাড়িতে গান বাজছে ' ও আধো আলো ছায়াতে, কিছু ভালোবাসাতে। আজ মন ভোলাতে, হবে বল কার ? কারোর  নয় শুধু যে আমার..।'
কিন্তু রেখা যে প্রাণোচ্ছলতা নিয়ে অনিন্দিতার বিয়েতে এসেছিল মনটা খুবই ভারাক্রান্ত হয়ে গেল অনিন্দিতার ব্যবহারে। মনে মনে ভাবছিল তার থেকে না আসলেই ভাল হত। অনিন্দিতার সাথে এতটাই ক্লোজ ছিল রেখা কিন্তু আজকে নিজের বিয়ের দিনে যেভাবে  রেখাকে আঘাত করলো ,এই অপমানের জ্বালা কিছুতেই ভুলতে পারছে না রেখা। সময় চলে যাবে অনেক কিছু বদলে দেবে কিন্তু এই ব্যবহার রয়ে যাবে।