১৭ নভেম্বর ২০২১

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"৪৫

কান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "






 টানাপোড়েন ৪৫

যাত্রাপথে


'জয় গনেশ, জয় গনেশ ,জয় গনেশ দেবা' মনোজ রেখাকে বাথরুম থেকে বলল ' দেখো তো কে কলিং বেল বাজাচ্ছে?আমার মনে হয় পার্থ এসেছে।'
রেখা বলল ' হ্যাঁ, দেখছি ।কেন তুমি পার্থকে ফোন করেছিলে?'
মনোজ বাথরুমের কলটা খুলে দিয়ে বলে গাড়ির ব্যাপারে ।গাড়ি ঠিক না হলে তো আজকে যেতে পারবো না।'
রেখা বলল 'এরকম কথা বোলো না ।আমার ভালো লাগছে না ।যেদিনই যাবার চেষ্টা করছি কিছু না কিছু বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছি। দূর ছাই ভালো লাগে না'।

মনোজ বাথরুমের কলটা বন্ধ করতে করতে যখন কথা বলছিল,তখন বাথরুমের কলের জলের যে আওয়াজটা ছিল তা ক্রমশ মৃদু হয়ে এল ,আর মনোজ বলল  'আমি কি বলছি বলো? যদি না পায় তাহলে কি করবে বলো?'
রেখা বলল  'কেন যে এত অলক্ষুণে কথা বলো কে জানে বাবা?'
রেখা গজ গজ করতে করতে গিয়ে দরজা খুলল।
পার্থ বলল  'বৌদি কখন বেরোবেন?'
রেখা বলল 'এই তো নাস্তা করেই।'
পার্থ বলল  'ঠিক আছে ।তাহলে আমি গাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি।'
রেখা বলল  'কি উপকার যে করলে ভাই ,তোমাকে আর ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না।'
পার্থ বলল  'কি বলেন যে বৌদি পাশাপাশি থাকি মানে প্রতিবেশী ।এটুকু করবো না ?তবে হ্যাঁ ,এটা আমার নিজের গাড়ি নয় ।আমার গাড়িগুলো সব বুকিং আছে?'
রেখা বললো  'তাহলে কি হবে?'
পার্থ বলল  'না বৌদি ,কোনো চিন্তা করবেন না ।আর দাদা কোথায় ?দাদাকেও চিন্তা করতে বারণ করবেন ।কারণ আমি যে গাড়ি দিচ্ছি ,তার ড্রাইভার খুব ভাল ।আপনারা নিশ্চিন্তে যাত্রা করুন।'
রেখা বাথরুম দেখিয়ে বলল  'ওই যে বাথরুমে।'
 পার্থ বলল  'আপনারা যখন যাবেন ই ,গতকাল বললেই তো পারতেন?'
রেখা বলল 'না গো ,এবার ভেবেছিলাম যে ট্রেনে যাবো ।সেজন্য  জানানো হয় নি।'
পার্থ বলল  'ও আচ্ছা।'
রেখা বলল  'ট্রেন তো মিস হয়ে গেল ।সেই তোমাকেই বলতে হল।'
পার্থ বলল  'না ,না এরকম কেন কথা বলছেন, আমরা তো সব সময়ই আছি।'
রেখা হেসে বলল  'হ্যাঁ ,সে তো ঠিকই।'
পার্থ বলল  'বৌদি তাড়া আছে আসছি ।আমার আবার ওই টাটা সুমো গাড়িটা ভাড়া যাবে, ওর ড্রাইভার এসেছে কিনা দেখি ।এ আবার  নতুন ড্রাইভার।'
রেখা বললো 'আরে সকালবেলা এসেছো ,একটু চা খেয়ে যাও ভাই।'
পার্থ বলল  'না বৌদি ,আপনাদের দেরি হয়ে যাবে চা করতে গেলে। আমি অন্যদিন খাব।'
রেখা বলল  ' কতক্ষণ  আর লাগবে?'
পার্থ বলল  'না, না, ঠিক আছে বৌদি। সেফ জার্নি। আসছি বৌদি।'
রেখা বলল ' ঠিক আছে ভাই এসো।'
রেখা দরজা বন্ধ করতে যাচ্ছে ,তখনই দেখছে চৈতির মা।
চৈতির মা বলল ' দিদি একটা কথা আছে।'
রেখা একটু মনে মনে বিরক্ত হলো তবুও ভদ্রতা বশে স বলল  'কি কথা দিদি?'
চৈতির মা বলল 'একটু ভেতরে যাব গিয়ে বসে বলব ?একটু সময় লাগবে।'
রেখা বলল ' দিদি আমি এসে শুনি ।আমরা না আজকে এক জায়গায় যাব।'
চৈতির মা বলল ' কোথায় যাবেন দিদি?'
এমন সময় মনোজ হাঁক দিচ্ছে  'রেখা, রেখা ,রেখা।'
রেখা   দরজার দিকে তাকিয়ে বলল  'যাচ্ছি ।একটু কথা বলছি।"
চৈতির মায়ের এই কৌতুহলগুলো একদমই রেখার ভালো লাগে না কিন্তু মানুষ হিসেবে চৈতির মা খুবই ভালো ।
রেখা বলল 'দেশের বাড়ি যাবো।'
চৈতির মা বলল 'ও আচ্ছা। দিদি ,তাহলে আমি আসি ।পরে আপনাদের সঙ্গে কথা হবে।'
রেখা বলল ' আচ্ছা দিদি ।কিছু মনে করবেন না।'
চৈতির মা বলেল ' এরকম কথা কেন বলছেন দিদি ?'
চৈতির মা বলল 'না আমি না বুঝতে পেরে আপনাদের একটু বিরক্ত করলাম।'
রেখা বলল ' না না বিরক্তির কি আছে?'
রেখা দরজাটা বন্ধ করে দিল।
রেখা হন হন করে এসে ঢুকলো মনোজের ঘরে
বলল  'কি বলছো, বলো?'
মনোজ বলল  'কোন প্যান্ট ,কোন শার্ট পরবো কিছুই তো রেখে দাও নি।'(ওয়ারড্রব দরজা খুলে দাঁড়িয়ে)
রেখা একটু বিরক্ত হয়ে মনোজকে হাত দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বলল'বাপরে বাপ একটা জিনিস কি তুমি নিয়ে নিতে পারো না?'
মনোজ একটু আহ্লাদের সুরে বলল'রেখা তুমি তো জানো আমি এসব পারি না । তুমিই আমাকে  বদঅভ্যাসে পরিনত করেছ।'
রেখা বলল  'তাই নাকি?'
মনোজ (রেখার চিবুক দুটো ধরে) বলল  'ইয়েস ম্যাম'।
রেখা বলল  'অতো আদিখ্যেতার দরকার নেই। এবার দেখো, ব্ল্যাক প্যান্ট আর black-white কম্বিনেশনের চেক শার্ট টা দিচ্ছি কেমন।'

রেখা প্যান্ট শার্ট বের করে দিয়ে মনোজকে বলল তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে খাবার টেবিলে এসো আমার অনেক কাজ বাকি আছে বলেই দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাবার চেষ্টা করলো। 
ঠিক তখনই মনোজ 'রেখা রেখা রে খা আ.. আ বলে ডেকে উঠল।
 রেখা কাছে এসে বলল ' কি হল ডাকছো কেন?'
'তুমি কার সঙ্গে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলে পার্থর সঙ্গে?'
রেখা বলল " আরে না চৈতির মা এসেছিল।'
মনোজ বলল  "কেন?'
রেখা বলল ' কে জানে?'
মনোজ বলল ' মেয়ের ব্যাপারে হতে পারে'
রেখা বলল'আমায় বলছিলে একটু সময় নিয়ে কথা বলতে হবে । আমি বললাম অন্য দিন আসতে'।
মনোজ বলল ' দেখছো না, অনেকদিন ধরে মেয়েটা আছে মনে হচ্ছে কিছু সমস্যা হয়েছে'।

রেখা বলল'তুমি তাড়াতাড়ি এসো আমি খেতে দিয়ে দেবো। এরপর মিলিদের খাবার আছে।' 
মনোজ চুলটা  নিয়ে বললো চলো।'
মনোজ খাবার টেবিলে বসে আর রেখা রান্নাঘরে।
মনোজ রেখাকে জিজ্ঞেস করছে 'আজ কি মেনু হয়েছে।'
রেখা বলল ' পরোটা আর আলুর দম।'
মনোজ বলল ,'নাও তাড়াতাড়ি দাও।'
রেখা রান্নাঘর থেকে পরোটা আলুর দম মনোজকে দেয়
মনোজ বলল মিলিদের খাইয়ে যাবে তো?'
রেখা বলল  'হ্যাঁ',
রেখা রান্নাঘর থেকে মেয়েদের খাবারটা নিয়ে দিতে গেল।
কিছুক্ষণ পর মনোজ রেখা রেখা বলে ডাকতে লাগল
রেখা বলল কি হয়েছে?
মনোজ বলল 'আর পরোটা হবে?'
রেখার হাতের আলুর দম খুবই টেস্টি।
রেখা বলল ' হ্যাঁ।'
রেখা হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে পরোটা দিতে গেলো।
তখন মনোজ  বলল 'এক্সট্রা আছে তো?'
রেখা জানে আর এক্সট্রা নেই তবু বলল  'আছে?'
মনোজ  রেখাকে মাথায় হাত দিয়ে বললো  'সত্যি করে বলো?'
রেখা  হাত সরিয়ে নিয়ে বলল'আরে আমি আজকে ওটস খাব।'
মনোজ বললো ' কি ব্যাপার ওটস খাবে?'
রেখা বললো ' তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে তাই।'
মনোজ এখানেও ধরে ফেলল। ঘরে ওটস নেই কারণ মাসকাবারিতে এবার ওটস লেখানো হয় নি।
মনোজ বলল  'রেখা তুমি তোমার খাবারটা আমাকে দিয়ে দিলে।'
রেখা বলল ' তাতে কি হয়েছে তুমি খেতে ভালোবাসো আমি পা রুটি, কলা ,ডিম সেদ্ধ খেয়ে নেব।'
মনোজ বলল'তুমি এত ভালো কেন?'
রেখা বলল   এ আবার কি কথা?'
রেখা বললো  'এসব কথা ছাড়ো মিলিদের খাবার দেবার ব্যবস্থা করে গেলে।'
মনোজ বলল  'চিন্তা কি আছে দেবে গৌরী সেন।"
রেখা হেসে বললো ' তুমি পারোও বটে। নাও তাড়াতাড়ি ওঠো।'
ওদিকে পার্থর পাঠানো গাড়ি এসে হর্ন দিতে শুরু করলো। রেখা বলল 'দেখলে গাড়ি এসে গেছে এখনো আমার কিচ্ছু হলো না।'
মনোজ বললো টেনশন নিও না দেখছি।'
রেখা চটপট তৈরি নিল। তারপর গাড়িতে উঠল আবার গাড়ি থেকে নেমে পরল। মনোজ বললো ' কি হলো?'
রেখা বললো ' মিলি, মিলির বাচ্চাদের একটু দেখে আসি।'
তারপর আবার এসে গাড়িতে চাপল রেখা, আবার নেমে পরল।
মনোজ বললো 'এবার আবার কি হলো?'
রেখা বলল' চৈতির মাকে একটু বলে যাই। বলে গাড়ি থেকে নেমে ডাকতে শুরু করলো দিদি দিদি।'
চৈতির মা বলল ' কি হলো দিদি?'
রেখা বলল 'একটু খেয়াল রাখবেন'.।
চৈতির মা বললো'তা আর বলতে।'
রেখা বলল  ''আসছি।'
চৈতির মা বলল  'দুর্গা দুর্গা যাত্রা পথ শুভ হোক।'
রেখা গাড়িতে উঠে বসল । ড্রাইভার বলল' দাদা কোন দিক দিয়ে যাবেন।'
মনোজ বলল'ত্রিবেণী হয়ে কালনা রোড ধরে বৈচি দিয়ে মেমারি হয়ে।'
ড্রাইভার বলল  'ঠিক আছে দাদা দিয়ে গাড়ি ছোটালো'
গাড়িতে তখন বাজছে 'আমারো পরানো যাহা চায়।'
রেখা বললো  ' নতুন ড্রাইভার কি করে জানল আমার পছন্দের গান।'
মনোজ বলল'এই হচ্ছে পার্থ বেটার কাজ।'
রেখা বললো  'সত্যিই পার্থ ছেলেটা খুব ভালো।'
এমন সময় ব্যাগে রেখার ফোন বেজে উঠল ।
রেখা ফোনটা বের করে দেখে রিম্পা দি ফোন।
রেখা বলল  ''বলো।'
রিম্পা দি বলল বেরিয়ে গেছিস?'
রেখা বলল  'তোমার মনে আছে?'
রিম্পা দি বললো 'তা মনে থাকবে না। এখন কোথায় আছিস?'
রেখা বলল  'এই তো বৈঁচি ক্রস করে জিটি রোডে উঠছে গাড়ি।'
রিম্পা দি বলল ' ঠিক আছে। সাবধানে যা ।যাত্রাপথ শুভ হোক ।পৌঁছে কিন্তু আমাকে ফোন করিস কেমন।'
রেখা বলল  'অবশ্যই।'
রিম্পা দি বলল 'ঠিক আছে ফোন ছাড়ছি।'
রেখা বলল'ok'
রেখা অনেকদিন পর চেনা রোড দেখতে পেয়ে মনে পড়ে গেল তার সেই জনম দুখিনীর ঘরের কথা। তার দুচোখ বেয়ে জল বের হতে লাগলো। মা সন্তানের যে আত্মিক সম্পর্ক হয়তো আজ কাছে নেই কিন্তু মায়ের সেই চেনা গন্ধ মায়ের হাতের স্পর্শ করা জিনিসগুলো সমস্ত কিছু আজকে রেখা নিজের হাতে স্পর্শ করে দেখতে পারবে। একটাকা আনন্দের আর কি হতে পারে। আজ তাই বারবার কবি অরুণ মিত্রের কবিতা লাইন মনে পড়ছে'সলতেটা নেভার পরও এই ডাক ঘুরতে থাকবে।'এ যেন জননী তার ক্লান্ত প্রাণ সন্তানকে ঘরে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছে।
মনোজ দেখছে রেখার চোখে জল। তখন বলল'কাঁদছো কেন? না না থাকলেও মায়ের সমতুল্য তোমার কাকিমা আছেন তোমাকে ভীষণ স্নেহ করেন ভালোবাসেন। সেখানে গেলে তোমার খুব ভালো লাগবে। মনের ভেতরে কোন টানাপোড়েন রেখো না। যাত্রাপথ চোখের জলে সিক্ত ক'রো না। বলেই রেখাকে দু'হাত দিয়ে কাছে টেনে নিল। মনোজ রেখার কন্ঠে কতবার শুনেছি এই কবিতার লাইন তাই সে  বললো'বিভুঁই মনের মধ্যে পথ খুঁজে কতবার দিশেহারা'। আজ তুমি সেই পথের সন্ধানে চলেছ।

রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়/শেষ পর্ব

চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 




উদাসী মেঘের ডানায় পর্ব 
শেষ পর্ব 


তৃৃষ্ণা কে সামিয়া,কিছুতেই রাজি করাতে পারলোনা
পার্লারে যেতে তৃষ্ণা,নিজেই সাজবে বললো সামিয়াকে
- তুমি তো কোর্স করেছিলে আমি ও কেন পার্লারে যাবো ওরা তো চেহারাই পালটে দিবে। আমি নিজে সাজবো হাত খোেপা করে বেলি ফুল জড়াবো শাড়িটা তুমি বেশ সুন্দর করে পড়াতে পারো কাজেই দরকার নেই,।শেষ পর্যন্ত তৃষ্ণা নিজেই সাজলো সামিয়াকে নিয়ে শাড়ি গহনা পড়িয়ে,সামিয়া অবাক হয়ে তৃষ্ণাকে
দেখছে, তৃষ্ণা লজ্জা পেয়ে বললো- খুব খারাপ লাগছে?
সামিয়া হেসে বললো- না,আমি চোখ ফেরাতে পারছিনা, অপুর কি করবে তোকে দেখে তাই ভাবছি।তৃষ্ণা- থাক,হয়েছে আর বলোনা।
এবার সবাই মিলে চলে গেলো চিন মৈত্রী তে।
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ,হলো কান্নাকাটির পালা শেষ করে,অপু তৃষ্ণা কে নিয়ে গাড়িতে বসলো।
কিছু্ক্ষণ পর গাড়ি স্টার্ট দিয়ে ধীরে ধীরে গাড়ি এগুতে শুরু করলো তৃষ্ণা গাড়ির জানালায় মুখ বের করে কাদঁছে আর মাকে দেখছে। গাড়ি সবাইকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গেলো, অপু তৃষ্ণার কান্না দেখে কি করবে ভাবছে, রুমাল দিয়ে চোখের জল মুছিয়ে হাতটা নিজের হাতে নিয়ে আলতে চাপ দিয়ে কানের
কাছে মুখ নিয়ে বললো- ফুটবল টিম লাগবে মনে আছেতো, এখন আার উপায় নেই পালাবার।
তৃষ্ণা হেসে বললো - খালি দুষ্টমি কথা ছাড়া কিছুই জানোনা।
বাড়িতে ঢুকে অপুর রুমে নিয়ে এলো তৃষ্ণা অবাক হয় গেলো বেলি ফুল ওর প্রিয় ফুল তাই দিয়ে পুরো রুমটা সাজানেো হয়েছে ফুলের গন্ধে রুমটা ভরে আছে।
মুগ্বতায় ভরে,উঠলো মন, ওকে বসিয়ে এবার সবাই মেতে উঠেছে তৃষ্ণাকে নিয়ে, রাত প্রায় ১টা বাজতে
চলছে সবাই বিদায় নিলো অপু রুমের দরজা বন্ধ করে কাছে এসে বসলো।
ঘোমটা সরিয়ে গাইলো
বধু কোন আলো লাগলো, লাগলো চোখে
গান শেষ হতেই আলো নিভিয়ে দিলো।

ইকবাল বাহার সুহেল ( ইংল্যান্ড )




প্রেম পত্র



দেখে নিও আমিও কবি হবো 
সম্পূর্ণ জীবন .. বলে কিচ্ছু নাই
নদীর কষ্ট , নীল জলের ভেতর ক্রমশ বিলীন হয়
দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান প্রেম জীবনের গভীরতা ধরতে ব্যর্থ হয় , হয়তো ধরতে চেষ্টাও করে না কখনো !

চোখের ভেতর শূন্যতা দেখে ,মন যখনই কৌতূহলী হয় ! খুবই অচেনা লাগে তোমাকে 
তাতে কারো কিচ্ছু যায় আসে না .. অগনতি প্রেমিক আছে যাদের তাদের কবি হতে ও কবিদের প্রেম ভালোই তো লাগে .. 
যদি সে বলে সম্পর্কের সমীকরণে পাল্টে যায়

অনিন্দ্য সুন্দর কথামালায় সুনির্মল অনুভূতি সিক্ত অনুরণন ধ্বনি ,

চটপটি আমি খাওয়াবো চলে এসো... কোন এক বরষায় সাথে কদম ফুল গুজে দেবো !

লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল"২৬

চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শান্তা কামালী'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "বনফুল" 






বনফুল
                            ( ২৬ তম পর্ব ) 

আনন্দে আত্মহারা হয়ে জুঁই বাবাকে ফোন করে বললো আব্বু তোমার আসতে আর কতক্ষণ লাগবে? 
 ওয়াজেদ সাহেব মেয়েকে বললো জুঁই মা তোমার জন্য কিছু কি আনতে হবে?
জুঁই বললো না আমার কিছু লাগবে না  তুমি বাসায় চলে এসো। 
ওয়াজেদ সাহেব মেয়েকে বললো জুঁই আমি বাসার কাছাকাছিই আছি মিনিট দশেকের মধ্যে চলে আসবো। মেয়ের আজকের মতো খুশি এর আগে কখনো দেখেনি মা মনোয়ারা বেগম।
জুঁই পায়চারি করছিলো বাবা আসার অপেক্ষায়....
ওয়াজেদ সাহেব কলিংবেল বাজাতেই দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিয়ে বাবার হাতে ধরে বললো জানো  আব্বু পলাশ রেকর্ড মার্কস নিয়ে পাশ করেছে....
মেয়ের খুশি দেখে উনি বললেন এতো খুবই আনন্দের খবর।। 
বাবা-মা মেয়েতে আনন্দ করে বেশকিছু মিষ্টি খেলো, 
জুঁই বললো আম্মু আমি খেয়ে এসেছি,বাকিটা  তোমরা খেয়ে নাও।
এই বলে জুঁই নিজের রুমে চলে গেল। হাত মুখ ধুয়ে বিছানায় শুয়ে একটু ঘুমানোর চেষ্টা করলো...।

ওদিকে পলাশের বাসায়ও আনন্দের বন্যা বয়ে গেলো।পলাশ ফোন রিসিভ করতে করতে ক্লান্ত। সব কাগজের সাংবাদিক, টিভি চ্যানেলের  রিপোর্টারদের বুঝাতেই পারছেনা ও আজ কোনো অবস্থাতেই সাক্ষাৎকার দিতে পারছেন না,ভীষণ ক্লান্ত।  কিন্তু ওনারা আজই  সাক্ষাৎকার নেবে,কেননা সাংবাদিকরা সবসময়  তাজা খবর কভার করতেই অভ্যস্ত ।  নিরুপায় হয়ে বিকাল পাঁচটায় আসতে বললো.....। 
পলাশ ছোট বোন তিথিকে ডেকে বললো বসার ঘরটা একটু গুছিয়ে রাখতে।  সাথে ছোট ভাই শিমুলও হাত লাগলো কারণ ঘড়িতে অলরেডি সাড়ে তিনটা বেজে গেছে। ঘর গুছানো শেষ হতে না হতেই সাংবাদিকদের দল এসে হাজির, সঙ্গে টিভি রিপোর্টারাও। 

                                                                                                                      চলবে...

রেহানা বীথি





চাঁদ ওঠে যুবক সন্ধ্যায়


নদীপথ তছনছ 
ভাবলাম, বাগানে যাই 
ওখানে পাখিরা আছে, ভোমরাও লীন হতে চায় 
কখনও তো আমিও লীন হতে চাই 
কথা বলি জানালায় হেলে থাকা হেমন্তের সাথে  

বাগানে পোড় খাওয়া রোদ 
বিষাদে কান্নায় মাখামাখি মধু-মঞ্জরী
আমাকে একটু আসন পেতে দেয়ার কথা 
ওদের মনেই এল না 
তবু আমি শুকনো পাতার আসন পেতে নিলাম
কিছু গল্প করলাম নিজেরই সঙ্গে 
রোদ হাসল

রোদের হাসি দেখে বললাম
জানো, নিরুদ্দিষ্ট নাবিকের মতো 
একবার হারিয়ে গিয়েছিলাম 
বাউলের পিছু পিছু, বাউলের পাশে পাশে 
বহুদূর ... 
বিরিক্ষির ছায়া ছেড়ে আরও আরও দূর 
যেন তেপান্তর... 

রোদ বলল, হারাতে হয় 
মাঝে মাঝে ওষ্ঠ ডুবিয়ে তুলে আনতে হয় জীবন 
তুলে আনতে হয় আদিম প্রত্ন-নিদর্শন 
ঠোঁট ডুবিয়ে...

বাগানে এসে  
একটি সিঁকেয় ঝুলে পড়ে শীতগন্ধ
লতায়-পাতায় জমে বিন্দু বিন্দু স্বেদ...
তছনছ নদীপথে নামে অথৈ কুয়াশা 
প্রাচীন স্তনের ধ্বংসাবশেষের মতো 
চাঁদ ওঠে যুবক সন্ধ্যায়  

আমি নেমে যাই 
বাগান থেকে শীতে 
শীত থেকে কুয়াশায় 
শৈশবে, যৌবনে 
বালখিল্যতায়...

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক গল্প "অলিখিত শর্ত"১৫

 স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শামীমা আহমেদ'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "অলিখিত শর্ত"




শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত 
                                              (পর্ব ১৫)
   শামীমা আহমেদ 

রাতের খাবারের টেবিলে ভা,ইবোন শায়লা আর রাহাতের  বেশ চুটিয়ে আড্ডা হলো।রাহাতের বন্ধুরা কে কোথায় কী করছে? কে কী হতে চেয়ে হতে পারেনি, সহপাঠী মেয়েদের কার কোথায় বিয়ে হয়েছে, কে মেয়ে খুঁজছে, কে দেশের প্রতি হতাশ হয়ে বিদেশে পাড়ি জমালো! এমনি নানান গল্প শেষে  শায়লা সাড়ে দশটার দিকে নিজের ঘরে এলো।প্রতিরাতে ঘুমাতে যাবার আগে শায়লা নিজেকে একটু ফ্রেশ করে নেয়।ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখটা ধুয়ে নেয়া, দাঁত ব্রাশ করা, খুব ভালো করে হাত, পা ধুয়ে নেয়া। ছোটবেলায় সারাদিন খেলাধুলা ছুটোছুটির কারণে  মা এই পা ধুয়ে ঘুমানোর অভ্যাসটা করেছেন।শায়লা নিজেও দেখেছে এতে বেশ ভালোই লাগে। ঘুমটা ভালো হয়।একটা  হালকা  ঢিলেঢালা পোশাক পরে নেয়া,চুলে ব্রাশ করা, শরীরের ক্লান্তি দূর করে দেয়।সবশেষে ময়শ্চারাইজার লাগানো।এতে ত্বকের আদ্রর্তা ঠিক থাকে।ত্বক রুক্ষ হয়না। কখনো মেকআপের জন্য  নয়, নিজের সৌন্দর্যটা ধরে রাখতে শায়লার একটু আধটু পার্লারে যাওয়া হয়। শায়লার গায়ের রঙটা শ্যামলা হলেও তার ছিপছিপে গড়নটা অনেকের কাছেই ঈর্ষার কারণ। শায়লা আয়নায় নিজেকে একটু দেখে নিলো। আজ কেমন যেন অন্যরকম লাগছে। নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে লজ্জাবোধ হচ্ছিল।
টুং শব্দে মেসেজ এলো! শায়লা মোবাইলটার দিকে এগিয়ে গেলো।
হু, শিহাব সাহেবের মেসেজ।
---এইতো ফিরলাম!
শায়লা  বেশ সহজভাবেই লিখে ফেললো,
এত রাত পর্যন্ত বাইরে থাকলেন?
বন্ধুদের সাথে গল্প আড্ডায় সময় কোনদিন দিয়ে কেটে গেছে বুঝিনি।
সবসময়ই কি এমনটা করেন?
আরে নাহ! মাঝে মাঝে।আচ্ছা ফ্রি হয়ে কথা বলবো। 
শায়লা বললো,  ঠিক আছে, খেয়ে নিন।
হু, ফ্রেশ হয়ে আভেনে খাবার গরম দিচ্ছি।
বলেই নিশ্চুপ হলেন।
অচেনা এই মানুষটার জন্য শায়লার মনটা হু হু করে উঠলো!কেমন যেন মায়া জন্মালো। মনে হচ্ছিল দৌড়ে গিয়ে টেবিলে  খাবার সাজিয়ে দিয়ে আসি !শায়লা নিজেকে মিলিয়ে নিল ভাবনার সাথে।
ইস! যেখানে বাঙালি মেয়েরা  না খেয়ে থেকে স্বামীর  ঘরে ফেরার অপেক্ষায় থাকে,
নিজে হাতে খাবার বেড়ে খাওয়ায়,নিজে ভালোটা না খেয়ে স্বামীর প্লেটে তুলে দেয়, সেখানে তার এমন কেউ নেই,নিজের হাতেই সব করতে হচ্ছে? সে না হয় অনেক ছেলেরা তা করতে পারে কিন্তু ঘরের এই শূন্যতাতো কিছুতে পূরণ হওয়ার নয়।কেমন করে থাকে একা একা? নাকি কারো সাথে আবার প্রেম ট্রেম চলছে? তাই কি বউ চলে গেলো নাকি? আজকালতো পরকীয়ায় সমাজ ভরে গেছে। সত্যিকারের প্রেমের সংজ্ঞা বদলে গেছে। আর ব্রেকআপও খুবই  সাধারণ ঘটনা। এ যুগের মেয়েরা খুব সাহসী। 
নিজের ইচ্ছে অনিচ্ছে সহজেই বাস্তবায়ন করতে পারে। শায়লা বুঝে না সে কোন যুগে পড়েছে? কেন সে নিজের মতামতটা শক্ত করে বলতে পারে না?
শিহাব আর কথা বাড়ায়নি।হয়তো খাবার খাওয়ায় ব্যস্ত হলো।শায়লা কী তার জন্য অপেক্ষা করবে? 
কিন্তু কেনই বা অপেক্ষা করবে? আবার ভাবল, আহা! বেচারা ঘরে ফিরেই আমাকে জানিয়েছে।তাহলে নিশ্চয়ই আসতে পথে আমার কথা ভেবেছে।
মনের ভেতর কোন সন্দেহ রেখে শায়লা কখনো শিহাবকে কোন প্রশ্ন করেনি।পাছে আবার তার কাছে না ছোট  হতে হয়!
লোকটিতো তার উপর আস্থা রাখতে চাইছে।
একজন মনের কথা বলবার বন্ধু বা সঙ্গী সবারই আজীবনের চাওয়া।
শায়লা ভাবনা ক্রমেই ডালপালা গজাচ্ছে।তার সম্পর্কে অনেককিছু জানতে ইচ্ছে করছে।কিন্তু কখনো জানা হচ্ছে না উনি কোথায় থাকেন, কী করেন? কত মানুষ কত ধরনের অবৈধ ব্যবসা করে। তেমন কিছুতে আবার জড়িত নয়তো? একা এভাবে একটা ফ্ল্যাটে থাকেন,বিষয়টি নিয়ে শায়লা বেশ চিন্তিত হলো।
শায়লার মনে যত ভয় উঁকি দিচ্ছে, সে নিজের মনে নিজেই তা খন্ডন করছে।শায়লা বুঝতে পারছে না কেন এমন করে সম্পর্কটা গাঢ় হচ্ছে। সেতো ভেবে নিয়েছিল কোন ভাবেই দূর্বল হওয়া যাবে না। তবে কেন এমন হচ্ছে?
নানান দ্বিধা দ্বন্দ্ব রেখেই সময় এগিয়ে চললো।
শিহাব নিজের হাতেই খাবার টেবিল সাজিয়ে নিল।তেমন খুব কিছুর আয়োজন নয়।এক প্লেটেই ভাত,মুরগির তরকারী আর বুটের ডাল সাজিয়ে আভেনে দুই মিনিটের জন্য ঢুকিয়ে দিল।রেফ্রিজারেটর  থেকে ঠান্ডা পানির  ক্যানটা বের করে নিল।নিজের হাতে মগটা ধুয়ে খাবার নিয়ে বসলো।শিহাব বাইরে নিজেকে যতই ব্যস্ত রাখলো ভেতরে কেমন যেন একটা একাকীত্ব বোধ করলো। শিহাবের চোখ দুটো জলে ভরে গেলো।খুব ইচ্ছা হচ্ছিল শায়লাকে একটা কল দিয়ে কথা বলতে। শায়লার সাথে পরিচয়ের পর থেকে প্রায়ই শিহাবের এমনটা হচ্ছে।তবে কি অবচেতন মনে সে শায়লার উপস্থিতি কামনা করছে।শায়লার সহজ সরলভাবে কথা বলা শিহাবকে খুব আবেগী করে তুলছে।
আজ বন্ধু মহলে গল্প আড্ডায় কিছুতেই যেনো তার মন বসছিল না। বারবার মনে হচ্ছিল সে কখন বাসায় ফিরবে আর শায়লাকে মেসেজ করবে।কয়েকজন বন্ধু তার এই অস্থিরতা ভাবটা টেরও পেয়েছে।বেশ ঠাট্টাও করছিল।কেন কার জন্যে এই অস্থিরতা? কিন্তু বন্ধুরা শিহাবের সবটাই জানে তাই কখনো ঠাট্টাচ্ছলে মনে আঘাত দিয়ে কিছু বলে না। শিহাবের ব্যবসার এই বন্ধুরা খুবই আন্তরিকভাবে তার সাথে মেশে।
এমনি আড্ডায় কয়েক কাপ চা ভেতরে চালান হয়ে যায় কিন্তু আজ যেন এক কাপই ফুরাতে চাইছে না।কিন্তু আড্ডার মধ্যমণি শিহাব চলে এলে বন্ধুরা মন খারাপ করবে।তাইতো সময়টা কোনভাবে পার করে বাইকটা স্টার্ট দিয়ে  সোজা বাসায় ফিরে আসা।
শিহাব ভাত খাচ্ছিল আর ঘড়ি দেখছিল।নাহ! ঘড়ির কাঁটা বারোটা ছুঁইছুঁই। এখন নক দেয়াটা অভদ্রতা  হবে। তাইতো খাবার টেবিল গুছিয়ে বিছানায় চলে এলো। আজ মোবাইলে গান শুনে রাতটা কাটিয়ে দিবে।
আহ! রিশতিনা,তুমি আমার জীবনে এক ধূমকেতু হয়ে এলে আর এভাবে হারিয়ে গেলে? মনের ভেতর এমনি অভিমান পুষে রেখেছে গত তিনটি বছর । 
হঠাৎ করে শায়লা এফবির প্রোফাইলের মুখটা ভেসে উঠল!  শিহাব বুঝতে পারছে না কেন এমন হচ্ছে?শায়লার মায়া ভরা মুখটায় কেমন যেন খুব আপন করে টানে।
তাইতো শিহাব নিয়মিত শায়লার খোঁজ খবর নিচ্ছে।নিজের চলাচল জানাচ্ছে।কখন কী করছে, যতটুকু জানানো যায় বা শেয়ার করা যায় তা করছে। শায়লাও তা জেনে রাখছে।
নিজেও টুকটাক মেসেজ দিয়ে রাখছে যেন একটা যোগাযোগ সর্বক্ষণ থাকে।


                                                                                                       চলবে...

১৬ নভেম্বর ২০২১

আমিনা তাবাসসুম




প্রহরের পর প্রহর

 

একটা মৃত্যুর জন্য অন্তহীন অপেক্ষা

দিন পেরিয়ে রাত আসে
রাত পেরিয়ে ভোর

যার আসার কথা ছিল
সে আসে না
যার আসার কথা ছিল না
সেও আসে না

কেবল একটা কালো গোলাপ ফুঁপিয়ে কাঁদে
                          প্রহরের পর প্রহর...

গোলাম রববানী




সুখ গেছে নির্বাসনে 


সুখে থাকলে মানুষের ভূতে কিলায়
দুখে থাকলে মারে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা, আ!
মানুষের রক্তে মানুষ ডুবে যায়

জানো-তো রাস্তায় উঠলে কেরামতি বাড়ে
চায়ের দোকানে গেলে সরস্বতী ক্ষ্যাপে
আর মাঠে ময়দানে রাজপথে মোড়ে গৃহাঙ্গিণায়
মাৎস্যন্যায়ের মতো ওম্নি সব ঢোক গিলে খায়
স্পার্টাকাসেরা সব চিতাতলের ছাঁইপাষ হয়ে রয়

শুধু আমার এই বোবা মুখটি
সদ্য দাফন হওয়া ঘর গোরস্তানের ধুলোবালির 
মতো উড়ে উড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়
দুঃখিনী বর্ণমালা অক্ষম প্রতিবাদী শব্দ তৈরিতে

যুগে যুগে কালে কালে কতো কালানল হলো
জাহেলি কাল থেকে মহামারি কাল
এই আকালের মতো কোনো কাল দেখিনি মালিক

এ কেমন মানুষ জন্ম পেলাম মনিব ?

রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়"২৮

চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 



উদাসী মেঘের ডানায় 
                                     ( পর্ব ২৮


সকালে অপুর গায়ে হলুূদ  বুবলির আনন্দ বাপি মাকে খুঁজে পেয়েছে অস্হির হয়ে আছে একটু পর পর প্রশ্ন-
বাপি মাম্মা কথন আসবে বলোনা, আমি মম্মার কোলে উঠবো।
অপু- কাল আসবে সোনামনি।
বুবলি- চলে যাবে নাতো আর,মাম্মিকে আমরা অনেক
আদর করে দিবো আর যাবে নাতো।
অপু- না যাবেনা তোমাকে ছেড়ে মাম্মির অনেক কষ্ট হয়েছে আর যাবেনা হারিয়ে।
এমন সময় অপুর মা এসে নাতনীকে নিয়ে গেলো দুপুরে ঘুম পাড়াতে।
তৃষ্ণাদের বাড়িতে বিকেলে শুরু হলো গায়ে হলুদের পালা সবাই আনন্দে মেতে উঠেছে আর সামিয়া ভিডিও করছে অপু দেথতে চাচ্ছে। নাচ গানের পালা শেষ হলো রাত,নয়টায় তৃষ্ণা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে একটানা বিকেল থেকে বসা। তৃষ্ণার মা এসে সামিয়াকে বললো - সামিয়া তৃষ্ণাকে নিয়ে তুমি খেয়ে
নাও আজ রাতে তুমি ওর সাথে ঘুমাবে, একা রাখতে নেই।তৃষ্ণা কি আর করবে মার কথা শুনতে হবে আমার মন খারাপ সামিয়ার সামনে অপুর সাথে আজ আর কথা বলা হবেনা।
সামিয়া- মন খারাপ হলো আমি কান বন্ধ করে রাখবো
তুই কথা বলিস।
তৃষ্ণা- মন খারাপ হয়নিতো তুমি বেশি বুঝো।
ঠিক এই,সময় অপু ফোন করলো সামিয়া রুম থেকে রের হতে হতে বললো -দশ মিনিট সময় দিলাম কথা বল, তোকে ঘুমাতে হবে কালকে ও কিন্ত এভাবে বসে থাকতে হবে। আমি আসছি।




                                                                        চলবে...

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"৪৪

কান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "





টানাপোড়েন (৪৪)

প্রস্তুতি


                                                  জ রবিবার সুমিতা কাজে আসবে না ,তাই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পরেছে ।গতরাত্রে মনোজের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করে নিয়েছে।একবার দেশের বাড়ি কাকা কাকিমার কাছে যেতে হবে। কাকু অসুস্থ ‌।কাকিমা ফোন করেছিল না গেলে খুব খারাপ দেখায় ।যদিও তার আগেই যাওয়ার দরকার ছিল কিন্তু সময় করে উঠতে পারে নি নানাকারণে । তাই আজকে কোনোভাবেই মিস না হয় সেজন্য রেখা সব প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।তাছাড়া জন্মভিটের প্রতি টানটাই যেন রেখাকে বারবার হাতছানি দিয়ে ডাকছে। সেই সবুজে ঘেরা বাড়ি। সামনে মস্ত বড় উঠোন। যখন ছোট ছিল দেখেছে,সেই উঠোন গোবর দিয়ে মা,কাকিমা ,জেঠিমা কে ভালো করে লেপে দিতে। কাজের জন্য চন্দনা কাকিমা ছিল কিন্তু অতো বড় উঠোন কখনোই তাকে নিকাতে দেখা যায় নি। দুপুরবেলায় দোতলার ঘরগুলো মোছার নাম করে দেখা যেত ফ্যান চালিয়ে দিয়ে কাকিমা সেখানে ঘুমোচ্ছে। আজ কত স্মৃতি মনে পড়ছে। আজ কবি অরুণ মিত্রের কবিতার  লাইন মনে পড়ছে-
'আমার শ্রবণ একক স্বরের স্থিতি পায়।'
অথবা মনে পড়ে
'তবু তার আঁচলের হাওয়া আজও আমার নিভৃতে।'
রেখা আর সেইসব নিশানা ধরেই ফিরে যেতে চায় তার গ্রামের বাড়িতে। ভেতরে সারারাতের সেই উত্তেজনা কাজ করেছে,তাই ভোর পাঁচটায় উঠে পড়েছে। প্রাতঃক্রিয়া সেরে রাধা গোবিন্দর পূজো করেছে।মিলির বাচ্চাদের দুধ গরম করেছে। কিন্তু সমস্যা তার পিছু ছাড়ে না।চা করে মনোজকে ডাকবে বলে যেই ঘরের দিকে পা বাড়ায়।
 ঠিক তখনই রেখার জা চিৎকার শুরু করে দেয়' 'এখানে সেখানে নোংরা করে রাখবে, একটু যে সকাল বেলায় পুজোর থালা নিয়ে উপরে যাবো ,সেই উপায় নেই।'
রেখা কথাগুলো শুনতে পায়। আর মনে মনে ভাবে সকালবেলায় সিঁড়ির দরজা যখন খুলেছে ,সেখানে রেখা বাচ্চাদের মলমূত্র যা ছিল তা পরিষ্কার করে দিয়েছে ।
তা সত্ত্বেও একবার রেখা ছুটে গিয়ে দেখে আসে।
সেখানে গিয়ে রেখা দেখে 'না মিলির  বাচ্চাগুলো ঘুমিয়ে আছে। কোথাও নোংরা কিচ্ছু নেই।'
তখন রেখা বাধ্য হয়ে ওর জায়ের কাছে গিয়ে বলে' 'দিদিভাই, দিদিভাই কোথায় নোংরা গো?'
রেখার জা  দেখল হাতেনাতে ধরা পড়ে গেছে ।তাই তখন কথাটা ঘুরিয়ে বলে' না ,না ।নোংরা নয়। আমি বললাম  সিঁড়ির কাছে কে জুতো রেখেছে এলোমেলো করে ।পুজোর থানা নিয়ে যাব তো তাই?'
রেখা বলল ' কে রেখেছে  জুতোগুলো? কাদের ই বা জুতো?'
রেখার  জা বলল  'কে জানে?'
রেখা জানে কাদের জুতো। ওরা নিজেরাই নিজেদের জুতো রেখে দেয়, অথচ এমনভাবে কথা বলবে যেন মনে হয় ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না।শুধু শুধু পায়ে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করার মতলব।
রেখা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে কতটা সময় নষ্ট হয়ে গেছে। মিলির বাচ্চাদের দুধ ঠান্ডা হয়ে গেছে। আবার গরম করতে হবে। মনোজের চাও ঠান্ডা হয়ে গেল। কে জান তো এরকম একটা ঝামেলায় পড়তে হবে। প্রতিদিন ফ্লাক্সে চা টা রাখা হয়। আজ ভাবলো সঙ্গে সঙ্গে চা টা দিয়ে দেবে কিন্তু হবার উপায় নেই।
রেখা ভাবে 'আজকে কার মুখ দেখে ঘুম ভেঙেছিল কে জানে?'
এসব না ভেবে তাড়াতাড়ি গিয়ে কাজগুলো সেরে নিতে হবে।
ওদিকে মিলি এবং ওর বাচ্চারা চেঁচাচ্ছে ।রেখা কোন দিকে যাবে বুঝে উঠতে পারছে না ।
শুধু একবার হাঁক দিয়ে বলে  'যাচ্ছি চুপ কর।'
কিছুক্ষনের জন্যে চুপ করে।
এর মধ্যেই মনোজ চেঁচাচ্ছে 'রেখা রেখা রেখা...।
রেখা রান্নাঘর থেকে আওয়াজ দিল'  'কি হলো?'
মনোজ বলল  'ঘড়িতে কটা বাজে খেয়াল আছে?'
রেখা বলল  'আমার তো আছে কিন্তু তোমার কি আছে?'
আর কোন কথা না বাড়িয়ে রেখা মিলির বাচ্চাদের দিকে ছুটল।
মনোজ চুপ করে যায় আর মনে মনে ভাবে  'তাই তো ?'
রেখা বাচ্চাদের কাছে বলল 'কই রে আমার  পাইলট ,ক্যাপ্টেন ,কর্নেল ,মিলি সোনারা কই?'
মনোজ গিয়ে সেই দৃশ্যটা দেখছে রেখার ডাক শুনতে পেয়ে বাচ্চা গুলো কেমন সুন্দর ছুটে ছুটে আসছে। মানোজ থাকতে না পেরে ভিডিও করে ফেলল।
হঠাৎ পেছন ফিরে  রেখা দেখে  মনোজ দাঁড়িয়ে।
রেখা বলে  'কত কিছু কান্ড হয়ে গেল।'
মনোজ  বলল  'আমাকে তোমার ডাকার কথা ছিল না? '
রেখা বলল 'হ্যাঁ তোমাকেই তো ডাকতে যাচ্ছিলুম  ।কিন্তু এদিকে মহাভারত রচনা কৌশল তৈরি হয়েছিল। আমার অবস্থাটা কেমন হয়েছিল জানো,'পাগল মরে হেঁটে আর বোকা মরে খেটে'।'
মনোজ বলল ' কেন কি হয়েছিল?'
রেখা বলল 'কি আবার হবে।
 সেই সমস্যা মিলি আর মিলির বাচ্চারা, ওরা যেন ওদের চক্ষুশূল হয়ে উঠেছে।
মনোজ বলল 'আর সহ্য করা যাচ্ছে না। এবার কিছু বলতেই হবে।'
রেখা বলল 'দেখো আজকে যে চক্রবুহ্য তারা রচনা করতে চাইছিল, তাতে নিজেদের জালে নিজেরাই জড়িয়ে গেছে।'
মনোজ বলল' এরকমভাবে আর কতদিন সহ্য করব বল?'
রেখা বললো 'এসব কথা আর মাথায় নিও না তো ।এবার তাড়াতাড়ি তুমি চা টা খেয়ে ফ্রেস হয়ে নাও ।বেরোতে হবে তো?'
মনোজ বলল  'তোমার সব রেডি?'
রেখা বলল  'আমি তো গুছিয়ে নেবার চেষ্টা করছি।
মনোজ বলল  'আজকে ওই ট্রেনটা পাবো না জানো তো ?তার থেকে চলো পার্থ কে বলি।'
রেখা বলল  'পার্থকে এখন পাবে তুমি ?পুজোর সিজিন ওর গাড়ী কত বুকিং থাকে।'
মনোজ বলল 'অত টেনশন নিও না তো ।পার্থকে ফোন করে দেখি না। ওর কাছে যদি গাড়ি না থাকে। ও কিছু না কিছু একটা ব্যবস্থা করে দেবে।'
রেখা বলল 'হ্যাঁ', পার্থ খুব ভালো ছেলে ।আমাদের সুবিধা -অসুবিধাগুলো ভালো বোঝে।'
মিলির বাচ্চাদের থালাটা নিয়ে এবার ও ছুটতে শুরু করল আর বলল  'তাহলে সেই ব্যবস্থাই করো আর তাড়াতাড়ি  যেন বেরোতে পারি , তুমিও তার প্রস্তুতি নাও।'


                                                                      (ক্রমশ )

লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল"২৫

চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শান্তা কামালী'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "বনফুল" 




বনফুল
( ২৫ তম পর্ব ) 


আস্তে আস্তে ছেলে মেয়েদের ভীড়  কমতেই জুঁই পলাশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল,পলাশ দৌড়ে এসে জুঁইয়ের হতে ধরে বললো জুঁই তুমি খুশি তো?  জুঁই তখন আনন্দে বাকরূদ্ধ হয়ে গেছে,জুঁইয়ের দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। পলাশ জুঁইকে প্রশ্ন করলো জুঁই তুমি কাঁদছো কেন? 
জুঁই পলাশের হাত ধরে বললো এমনিই, চলো আগে  গাড়িতে ওঠো, গাড়িতে উঠতে যাবে সেই সময় জুঁইয়ের মাথা ঘুরে চক্কর দিয়ে পড়ে যাচ্ছিলো।ঠিক সময়ে  তখন পলাশ জুঁইকে ধরে গাড়িতে উঠে বসতে সাহায্য করলো। গাড়িতে উঠে পলাশ জিজ্ঞেস করল জুঁই এর আগে ও আমি লক্ষ্য করেছি তোমার মাথা ঘুরে চক্কর দিতে! তুমি কি ডাক্তার দেখিয়েছো?  তখন জুঁই বললো আজ তোমার রেজাল্ট বের হবে বলে সারা রাত ঘুম আসেনি, হযতো সেই জন্য এমন হয়েছে, বাদ দাও তো এইসব কথা। চলো আগে কিছু খাই।
জুঁই ড্রাইভার কে রেস্টুরেন্টে যেতে বললো। ড্রাইভার ওদের পছন্দের রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেল। ভিতরে ঢুকে নিরিবিলি দেখে এক সাইডে একটা সিঙ্গেল টেবিলে বসলো। আজ জুঁই পলাশের সব পছন্দের খাবার অর্ডার করলো, জুঁই পলাশকে বললো আজ আমি এতো খুশি যে তোমাকে বুঝিয়ে বলতে পারবো না...।
  পলাশ বললো জুঁই আমি বুঝতে পেরেছি,কিন্তু...
কোনো কিন্তু নয়,আগে খেয়ে নাও....।
ওয়েটার ঠিক সেই  সময়ে খাবার এনে রাখলো টেবিলে। 
পলাশ জুঁইকে খাবার পরিবেশন করছে দেখে জুঁই আশ্চর্য হচ্ছে....।
 পলাশ  নিজের খাবারও গুছিয়ে প্লেটে  নিয়ে প্রথম চামচ খাবার জুঁইয়ের মুখে তুলে দিলো.....দ্বিতীয় চামচ খাবার তুলে দিতে যাচ্ছে জুঁই বাধা দিতে চাইলো, তখন পলাশ বললো জান না একবার কিছু নিতে নেই। খাওয়া শেষ হলো ওয়েটার বিল নিয়ে এলো জুঁই ব্যাগ থেকে নোট বের করে দিলো।
পলাশ বললো জুঁই বিল আমি দিচ্ছি।জুঁই বললো একটাও কথা বলবে না,চুপ করে ভালো ছেলের মতো বসো তো। 
ওয়েটার বিল এবং টাকার চেঞ্জ নিয়ে এলো। জুঁই ট্রে তে একশো টাকা রেখে বাকি টাকা ব্যাগে ঢুকিয়ে বললো চলো,ওঠা যাক।
রেস্টুরেন্টে থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠে জুঁই ড্রাইভারকে বললো ভালো মিষ্টির দোকানে চলুন। ভালো মিষ্টির দোকানের সামনে গাড়ি থামতেই জুঁই পলাশ দুজনেই গাড়ি থেকে নেমে দোকানে ঢুকে সবচেয়ে ভালো মানের মিষ্টি তিন রকমের তিনটে করে প্যাকেটে নিয়ে, দুই কার্টনে সমান ভাগ করে প্যাকিং করে নিলো।
 মিষ্টির দাম জুঁই দিচ্ছে দেখে পলাশ জুঁইয়ের হতে ধরে বললো জুঁই তোমাদের বাসার মিষ্টি দাম আমি পেমেন্ট করবো।
জুঁই বললো ঠিকআছে,করো।কি দারুণ মিল ওদের, জুঁই পলাশের বাসার জন্য মিষ্টি কিনলো আর পলাশ জুঁইয়ের বাসার জন্য। 
পলাশকে নামিয়ে জুঁই নিজের বাসায় পৌঁছে মিষ্টির কার্টন টেবিলে রেখে মাকে জড়িয়ে  ধরলো,মা বললেন, কি হলো রে জুঁই, মিষ্টির কার্টন! কিচ্ছু বুঝতে পারছি না তো বিষয়টা?
 জুঁই বললো আম্মু পলাশ রেকর্ড মার্কস নিয়ে পাশ করেছে, আর মিষ্টি পলাশ কিনে পাঠিয়েছে। 
মনোয়ারা বেগমের চোখেমুখে  খুশির বিদ্যুৎ খেলে গেলো।

শাহীন রহমান




আমি এখন খুবই একা
 


"জোষ্টি মাসের বকুল গুলো,ঝরছে এসে শেষ শরতে,
খুব কষ্ট লাগে,তুই কেবলি ঝরে গেলি কাল না-বুঝে!  
রেখে যাওয়া স্মৃতিগুলো,থরেবিথরে সাজানো সব,
ভুলতে তোকে পারিনারে,হিয়ার মাঝে বেড়াই খুঁজে !! 

আকাশ জুড়ে শাওন মেঘের ঘনঘটার ভেজা উঠোন,
হারিয়ে গেছে কাদার মাঝে,পিছলে পড়ে গড়াগড়ি ! 
সেই ভর দুপুরে লুকোচুরি,পোড়োবাড়ির দরদালানে,
ঘাম ঝরানো নিঘাদ বেলা,বকুল ফুলের ছড়াছড়ি !! 

গভীর রাতে শিয়াল ডাকা,বুুকের মাঝে গুঁজিস মাথা,
বাঁশ বাগানের মাথার উপর,কোজাগরী পুর্নিমা চাঁদ! 
হারিয়ে যাওয়া হয়নিরে ঠিক,আমি এখন খুবই একা,
ভরা গাঙে কাটতে সাতার,আবার মনে জাগেরে সাধ !! 

শিউলি ফুলের লাল বোটাতে,সিঁদুর মাখা রক্তজবা,
কোন শহরে থাকিস এখন,সে দেশে কি বকুল ফোটে ! 
গোলাপ কাঁটায় রক্ত ঝরে, সরসে ফুলে মৌমাছিরা,
মধুর আশায় ব্যাকুল হয়ে,এ ফুল থেকে সে ফুল ছোটে !! 

সারাক্ষণই পায়রা গুলো,বাকুম বাকুম প্রেমের গানে,
আবার কিন্তু আসিস ফিরে,আমি এখন খুবই একা! 
আমার যাবার সময় হলে,আমি কিন্তু চলেই যাবো,
তখন শুধু কাঁদবি এসে,আর পাবিনা আমার দেখা।

মোঃ সেলিম মিয়া'র ছোট গল্প


 
প্রথম শীতের আভাস 
 




                                                  কিশোরী তুল্য নব যৌবন অধিকারিনী ঘণ কুয়াশা যেমন সাদা শাড়ির ঘুমটা পড়ে আন্দোলিত  নব যৌবনটা নিয়ে সরু কোমরটা দোলায়ে দোলায়ে কাঁচা নাচন নাচতে নাচতে সামনের দিকে  ধাপিত হচ্ছে আর খিল খিল হাসিতে নদীর দু'পাড় ঘেঁষে  প্রকৃতির নিয়মে জন্মানো  সাদা বকের পালকের ন্যায় সাদা সাদা পল্লবে কাশবন মাঠে আদরের পরশ বুলাতে বার বার হাসিতে আছর খাচ্ছে। তাই দেখে সূর্যী মামা  তার স্নেহের পরশ আরোও বাড়িয়ে দিতে মেঠু পথের দু'পাশে জন্মানো দূর্বাঘাস, কচুপাতা ও  পত্র পল্লবের উপর জমে থাকা শিশির বিন্দুতে  সকালের সু মিষ্ট রোদে গা বুলিয়ে দিতে কোন রুপ কার্পণ্য করেছে না। নবাগত শীতকে সাদরে সম্ভাষণ জানাতে সূর্যী মামার আদর স্নেহের  পরশ জুড়ি মেলা ভাড়! সাদা সাদা ঘণ কুয়াশা ও শির শির ঠান্ডা বেতাল হাওয়া ভেত করে  গ্রাম্য গেছু সহিষ ভাই দিগন্ত মাঠ জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা খেজুরের গাছ গুলিতে বুক চিড়ে খেজুরের রস তুলতে অনেক বেশি ব্যস্ত সময় পাড় করছেন । খেজুরের গাছ গুলিও তার সুমিষ্ট রসে প্রকৃতির সাথে নিবির সম্পর্কে একত্বা ঘোষণা করছে। গ্রামের মা জননী গণও  বিভিন্ন স্বাদে  পিঠা পল্লীর মাধ্যমে  নবাগত শীতকে বরণ করে নিতে  কোন রুপ কার্পণ্য করেছেন না। রাত ভোর মা বোনদের  ঢেঁকিতে আটা কোটার শব্দে শিয়াল মামাদের হুক্কা হুয়া ডাক ও নবাগত শীতের আমেজ জনমনে  হয়ে উঠছে আরো বেশি প্রানবন্ত। শীতের আগমনী বার্তাকে স্বাগত জানাতে প্রতিটি গ্রামে  জারি সারি পালা গানের প্রতিযোগিতা এবং তবলা, ঢুল,খন্জর, বাঁশি আর হারমনিয়ামের সুরে বয়াতি-বাউলদের কোমড় দোলানো নিত্য দেখে নবাগত শীত যেন লজ্জায় গদ গদ! শীতের আগমনী বার্তাকে জানান দিতে ঘণ কুয়োশায় লেপটে থাকা রজনী গন্ধাও প্রস্ফুটিত হয়ে আরো বেশী সুগ্রাণে আগমনী শীতকে বরণ করতে খুব বেশি মাত্রায় ব্যস্ত। অন্যদিকে নবাগত শীতের আগাম  প্রস্তুুতিতে ধনীদের মাঝে গরম কাপড় কেনাকাটায় এক মহোৎসব চলে এসেছে । গরীবদের দিকে ফিরে তাকানোর মতো সময় তাদের কারো নেই। গরীবের তাতে কি আসে যায়? গত বছরে জমিয়ে রাখা ছেঁড়া কাথা, রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত ছেঁড়া কম্বল  দিয়ে শীত পাড় করার মতো অদম্য সাহস তাদেরকে কোন মতেই শীতের আগমনী বার্তা  নিরুৎসাহীতো করার সুযোগ দেইনি। কেউ কেউ গোয়াল ঘরের পাশের উঠোনে খরকুঠো জ্বালিয়ে  আগুনে দু'হাত সেকে নবাগত শীতকে ঠেকানোর কসরত করছে মাত্র। 
তাইতো বিদ্রোহী কবি নজরুলের মতো কবিতার ভাষায় বলতে মানা নেই--

"শীত আসবে বসবে ঘরে,
গরীব দুঃখীর কুড়ে ঘরে! 
যতন করে বসতে দিবো,
কাঠ পুড়িয়ে আগুন জ্বেলে।
দু'হাত সেকে আগুন পুড়ে,
করবো বরণ পা জুড়িয়ে! 
ছেঁড়া কাঁথার গা জুড়িয়ে,
ফাটা ঠোঁটে আদ্র নয়নে"।

# পরিশেষে  বলতে চাই -আসুন সমাজের আনাচে-কানাচেতে পড়ে থাকা ছিন্নমূল গরীব দুঃখীর কথা স্মরণ করে আগমনী শীতকে এমন কায়দায় বরণ করি যাতে শীতের কনকনে হিমেল হাওয়ার পরশে ও  ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা না পড়ুক ছিন্নমূল গরীব দুঃখী মানুষ । আগমনী শীতকে বরণ করতে সামর্থ্যবান বিত্তবান সকলে মিলে একতাবদ্ধ হয়ে  গরীব দুঃখীদের মাঝে বাড়িয়ে দেই  গরম কাপড়ে শীতের আচ্ছাদন।  আর তাতেই দেখা মিলবে আগাম শীতের পূর্বাভাষে ঘুণ কুয়াশায় ভেদ করে এক চিলতে  স্মৃতি বিজুরিত অমলিন হাসি। এমন হাসিতে হয়তো ঝড়বেনা কোন মুনিমুক্তা; প্রকারন্তরে  প্রথম শীতের আভাসে কষ্ট সহিষ্ণু সুবিধা বঞ্চিত লক্ষ কোটি মানুষদের মুখের হাসি বাংলার ঐতিহ্যবাহি  শীত ঋতু  তার সঠিক ঐতিহ্য হিম হিম শির শির কুয়াশায় নিশ্চিত ফিরে পাবে শতভাগ বর্ণিল সজীবতা এটা আমি হলফ করে বলতে পারি!!!