জয় হোক সব-ই তার
নীল আকাশে কত তারা খসে যায় চোখের পলকে
অষ্টাদশী চাঁদ ডুবে গেলেও ডেকে যায় তেমন ঝলকে।
যাকে ভালোবেসে করি হৃদয় বিনিময়
ব্যাথাতুর এ ভাঙা হৃদয় --
সেটাই সব চেয়ে বড় সত্য। হোক না পতন তার
যুগ যুগান্তর ধরে ভাবি জয় যেন হয় সবই তার।
মোবাইলে টাইম পাশ, সম্বৃদ্ধ উল্লাস সাহিত্য হাসি ঠাট্টা খুনসুটি বিন্দাস পড়তে হবে নইলে মিস করতেই হবে। মোবাইল +91 9531601335 (হোয়াটসঅ্যাপ) email : d.sarkar.wt@gmail.com
জয় হোক সব-ই তার
নীল আকাশে কত তারা খসে যায় চোখের পলকে
অষ্টাদশী চাঁদ ডুবে গেলেও ডেকে যায় তেমন ঝলকে।
যাকে ভালোবেসে করি হৃদয় বিনিময়
ব্যাথাতুর এ ভাঙা হৃদয় --
সেটাই সব চেয়ে বড় সত্য। হোক না পতন তার
যুগ যুগান্তর ধরে ভাবি জয় যেন হয় সবই তার।
চলে গেলেন মানুষ কবি নাসের হোসেন
আশি দশকের অন্যতম প্রধান কবি নাসের হোসেন। জন্ম পঞ্চাশ দশকের দ্বিতীয় অর্ধে।কলকাতায়।
শৈশব ও কৈশোর বহরমপুরে। বি.এস.সি।
প্রথম কবিতা প্রকাশ : ১৯৭০
প্রথম যৌথ চিত্রপ্রদর্শনী : ১৯৭৪ কৃষ্ণনাথ কলেজ, বহরমপুর
একক কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা : ২১
যৌথ কাব্যগ্রন্থ : ৭
প্রথম একক চিত্রপদর্শনী : ১৯৮৪ বিড়লা একাডেমি, কলকাতা
প্রথম কাব্যগ্রন্থ : অপারেশান থিয়েটার
পত্রিকা সম্পাদনা সহযোগী : রৌঁরব (১৯৭৫-২০০৪)
পত্রিকা সম্পাদনা : কবিতা পাক্ষিক। চার বছর প্রধান সম্পাদক ছিলেন। এখন পত্রিকাটি নিয়মিতভাবে প্রতি চৌদ্দদিন পর পর বেরোয়।
ছদ্মনাম : অর্জুন মিত্র।
এই ছদ্মনামে কবিতা পাক্ষিক-এ কবিতা সংবাদ ও শিল্পসাহিত্য সংবাদ গদ্য রচনা : কবিতালেখার পাশাপাশি কবিতা চিত্রভাস্কর্য নিয়ে গদ্য লিখছেনে একাধিক ।
অনুবাদ ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ : ২০০৪ আলিয়ঁস ফ্রঁসে। ২০০৮ ম্যাক্সমূলার ভবন ও সাহিত্য আকাদেমির প্রয়াসে ।
সম্মানিত আমন্ত্রিত সদস্য : ২০০৮ থেকে সাহিত্য আকাদেমি (নিউ দিল্লি) অ্যাডভাইসরি বোর্ডের সম্মানিয় আমন্ত্রিত সদস্য।
পুরস্কার ও সম্মাননা: ১৯৯৮ কলকাতা বইমেলায় মহাশ্বেতা দেবীর হাত থেকে কবি অনন্য রায় পুরস্কার।
২০০৬ কবি আশেক মহান্তী পুরস্কার।
২০০৭ ‘মনীষা’ পত্রিকা প্রদত্ত সম্মাননা।
২০১২ স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য সম্মান
২০১৭ সমিধ সম্মান
১৯৯৪ সালে ভারতবর্ষ কবিতাটি ইউনেস্কা-র সংকলনে প্রকাশ পায়।
এছাড়াও আরো অনেক অনেক সম্মাননা তিনি পেয়েছেন৷
অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ : ফরাসি, স্প্যানিশ প্রভৃতি কিছু ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
৫ পার্ল রোড, বেকবাগান, কলকাতা।
গভীর শোক প্রকাশ করছি স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পক্ষ হতে ।
কবি তুমি ভালো থেকো
নাসের দা ভালো থেকো
ও মানুষ ভালো থেকো
ভালো থেকো ভালো থেকো ভালো থেকো !
পরাজিত এক শ্রোতা
আমি সেই অপেক্ষা আর অবহেলা সেই নতজানু পরাজিত প্রেম,
যে আজ শূন্য খেয়ায় একলা ভাসমান পথিক,
নেই চাল নেই চুলো নেই খোঁপায় বাঁধা ফুল,
নেই নিশিযাপনের অবকাশের আলতো ছোঁয়ায় চুম্বন,
যে প্রতিনিয়ত করছে প্রত্যাখ্যান,
পূনর্বাসনে পাঠাচ্ছে রোজরোজ,
হারানো বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা দিচ্ছে বারবার তুমি কোথায় তুমি কোথায়।
অথচ চোখের নীচের থমথমে আকাশ চোখে পড়ে না তার।
ঘোলাটে চাঁদে খেলা করে না বেদনার আকুতি!
আমি যে পুড়ছি কেঁদে ওঠা বসন্তেও বোঝে না!
বোঝেনা শরীরের ব্যথাগুলো অনুভবে ভাসে না মন,
এ জনমে তুমি আর আমার হলে না!
অকাতরে বিলীন হলে নিস্ক্রিয় জীবন হতে,
গ্রহণ করলে না সবটুকু ভুলে!
শ্বাস প্রশ্বাসের জায়গায় শুধু দম বন্ধ করে রেখে দিলে আগের সেই চিলেকোঠার বারান্দায়!
যেখানে আমি ছিলেম পরাজিত এক শ্রোতা।
বৃথা অন্বেষণ
যে সুখ রয়েছে আপনার ঘরে
সে সুখ কোথাও নাই,
মনের আগল সরানোর পর
আঁখির গোচরে পাই ।
এতদিন ধরে অনেক খুঁজেছি
দেখিনি রয়েছে কাছে,
সে কথা জানাই সকল সকাশে
প্রয়োজন খুব আছে !
গহন কাননে তটিনীর বুকে
খুঁজেছি বালুকা বেলা,
নিশিদিন ধরে মননের মাঝে
একাকী করেছি খেলা!
সাগরের কূলে বেলা অবেলায়
অযথা সময় যায়,
শহরে নগরে কত না খুঁজেছি
কোথাও পাইনি তায় !
হিসাব মেলেনি হিসেবের খতে
বারে বারে হয় ভুল,
পরিশেষে হায় নিজ নিকেতনে
পেলাম সুখের কূল !
নারী বিস্ময়
প্রসব বেদনা সয়ে যায় নারী
পুরুষ সেজে রয় বীর
আসলে পুরুষ বোঝেনা যাতনা
ছুড়ে মারে শুধু তীর।
কামনা বাসনা সুখের বেলায়
নারী হয়ে যায় রানী
দুঃখ যাতনা কুঁড়ে কুঁড়ে খায়
পুরুষ ছুড়ে যে বানী।
আদরে সোহাগে কাতর পুরুষ
নারী তখন নন্দিনী
সুযোগে বিচারে নারীকে আবার
করে রাখে যে বন্দিনী।
যেখানে ছুঁয়েছো সুখের পরশ
ধরায় আসার রাস্তা
লালসার লীলায় অন্ধ পুরুষ
সে রাস্তা করেছো শস্তা।
নারী কেবলই দুঃখের জোয়ার
পায় দু'বেলা আহার
ভোগের ক্ষেত্রে নারীই শ্রেষ্ঠ
বুকে কষ্টের পাহাড়।
পুরুষ তোমার বিন্দু কোষে
নারী রক্ত পেটে চুষে
মৃত্যু কূপের গুহা জয়ে নারী
গড়েছে তোমায় পুষে।
ওহে পুরুষ আদমের বীজ
সইবে না মা হাওয়া
নারী কেবল ভোগেরই নয়
পৃথিবী জন্ম পাওয়া।
আদম হয়েই বেঁচে থাকিস
পুরুষ হয়ে নয়
হাওয়া করেই পারলে রাখিস
নারী সৃষ্টিতেই বিষ্ময়।
দু'পয়সার সাংবাদিক
আমরা সোজা হয়ে হাঁটতে পারি
আমরা কলম তরোয়াল করতে পারি
আমরা অন্ধকার মুছে আলো দেখাতে পারি
আমরা দু'পয়সার সাংবাদিক নই।
এখানেই প্রতিবাদ গর্জে উঠুন
আমরা যারা সকলেই সাংবাদিক।
যিনি বলেছেন সুশিক্ষিতা জ্ঞানীগুণী
জানেন না কিছুই সাংবাদিকতার সংবাদ
নিজে হয়েছেন এখন সাংসদ
নামিয়ে দিতে পারেন কলমের সাংবাদিক।
বলার সাহস কোথায় পান?
সংবাদমাধ্যম মস্ত বড় নীল আকাশ
মস্ত বড় সূর্যমুখী ভোর
অন্যায় কে চুরমার করে দিতে পারে
কলম সাংবাদিকের কলম
আর সমসাময়িক সংবাদ কাগজ।
ছি; ধিক্কার জানাই
আমরা সাংবাদিক কলম লাঙ্গল
ফসল বানাই রোজ
সেইফ আসলে এখনও আমরা আছি বেঁচে
অক্সিজেনকে সর্বক্ষণ।
আমরা দু'পয়সার সাংবাদিক নই
পকেট চুরি ন ই, মানুষকে ফাঁদে ফেলে নই
সাংবাদিক মানে সচ্ছল মানুষ। নির্ভেজাল সংবাদ
ধিক্কার জানাই হৃদয় নিংড়ে ছি:ছি:
আমরা গর্ববোধ করি সাংবাদিক
সংবাদ লিখে অন্ধকারে ঠেলে ফেলেদেওয়া যায়
যত বড়ই ক্ষমতাবান, রাজনীতিবিদ
তোমরা হয়ে থাকো----
দু'পয়সার সাংবাদিক নই
সহস্ত্র মাইলের পর মাইল
আমরা হাটতে জানি পরিবর্তন করতে পারি
আমরা সাংবাদিক আমরা সাংবাদিক
সমসাময়িক সংবাদপত্র
প্রতিবাদ জানাই ধিক্কার জানাই ছি:ছি;।
তোমার অপেক্ষায়
অপেক্ষা বা প্রতীক্ষার সময় ক্ষণ কখনো
কখনো তিক্ততায় ভরে উঠে!
কখনো আবার নীরব ভাষায় উৎসবের
আমেজ তৈরী করে হৃদয়ের মনিকোঠায়!
যদিও সেই অপেক্ষা হতে পারে সময়ের প্রয়োজনে"
আবার কখনো স্বস্তির নিঃশ্বাসের সুগভীর
ভাবনার প্রতিফলন ঘটাতে।
এমনই এক প্রতীক্ষার সমীকরণ মেলানোর চেষ্টায়
বসে রয়েছি অচেনা পথের পথিক হয়ে।
যেখানে সবকিছুই অচেনা;খুব ভয় হচ্ছে
আশেপাশের এলাকার মানুষগুলো দেখে!
কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে, কেউ বা আবার
ভয়ের ব্যাপার কথা বলছে।
কিন্তু আমার অক্ষিকোটরে অন্য কিছুর প্রতিচ্ছায়া
ঘুরাফেরা করছে প্রতিনিয়ত।
অদ্ভুত কিছু ভাবনার জগৎ ছাড়িয়ে আছে
মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষে।
কি যে চাচ্ছে কিন্তু সেই চাওয়াগুলো নীরবেই
মৃত্যুরে দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিদায় শব্দ নিয়ে!
মানতে বাধ্য করছে;অনিচ্ছার আড়ালেও হয়তো
মেনে নিতে পারবো না, কিন্তু এই স্বল্প পরিচয়ের
গল্পের পাতাও ছাড়ছে না।
অর্থহীন চোখের জল
মাটির মলাট ছিড়ে বাতিল খড়গের হুংকার
দাতাল বেহায়ার চোখ ছানি-পড়া অরক্ষিত স্বাধীনতায়
যারা জানেনা পিতৃত্বের পরিচয় -
জানেনা গাদা- শুদ্ধি হওয়ার পথ
অযাচিত জবান খোয়ায় তেলের বাজারে নতুন হিস্যায়
হাদারাম আঙ্গুল নাড়ায় সময়ের ফানুস - শূন্য খতিয়ানে
ক্ষুব্ধমন সান্তনার ভাষা ভুলে যাই এই ।
বেদনার অশ্রুটা তপ্তদাহে বুকে বিধেঁ- মগজ পোড়ায়
অন্ধকার গিলে খাচ্ছে শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির ঘর
পঞ্চান্ন হাজার বর্গ মাইলের দেশে হাঁকায় শকুন শয়তান
সোনামুখির আচঁড়ে ভাঙ্গে ঐতিহ্যের কুটর
পর্দার আড়ালে নতজানু দর্শনে বিভ্রান্তির উৎসব
আজ চোখের সামনেই হয় প্রকল্পের ভাগ
নিয়মহীন নিদারুণ হাহাকার শুনি জনতার মুখে
হৃদয়ে ফোটেছিল রক্ত ফাগুন - আগুন আগুন
সেদিন রাজপথে ডুবেছিল মানুষ মানুষ-অধিকার আদায়ে
স্বাধীনতার বিজয় আজ স্বাস্থ্যহীন-স্বপ্নহীন শিল্পের ছল
ব্যথাগুলো এখনো সারেনি অর্থহীন চোখের জল ।
ভালোবাসার মৃত্যু
রাত ২টার সময় হঠাৎ খুন,
তোমাকে পেয়েছি রাতের অন্ধকারে
অবশেষে ধরা দিলে আমায়,
রক্তের পরোতে পরোতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে
দুটি শরীর।
কথার আঘাতে আহত হয়ে পড়ে থাকি পিয়ার কোলে।
কিছুটা শান্তনা দিলেও,
দুটি হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে থাকে,
নিশুতিরাতের বিছানায়।
তবুও তুমি ফিরে আসনি . …
ছেড়ে চলে গেলে… .
রাত ২টায় আমার পবিত্র ভালোবাসাকে খুন করেছিলে।
এটাতো জানতাম না
রোজি যাই প্রাতঃ ভ্রবনে, ঠিকানা নবান্ন, চোখ পড়ে বেশি দোকানে - জুলছে লংকা লেবু I ইচ্ছে করে জানতে, কেন ঝোলে লঙ্কালেবু? ফুলের দোকানে এক বন্ধুকে, জিজ্ঞাসা করেই ফেললাম, কেন ঝোলে লংকা লেবু? বন্ধু বললো, সে কি ! আপনি জানেন না? লেবু হোলো টক, আর লংকা ঝাল I কেউ দৃষ্টি দিলে, লেবু আগে দেখবে, সঙ্গে সঙ্গে বমি I আর লংকা যেই দেখবে, ঝালে মরে যাবে, দেবে দৌড় যেদিক পানে I
সূক্ষ্ম শরীর
অনুভূতি -চৈতন্যস্পর্শেই পায় চেতনা
অতি সূক্ষ্ম অনুভূতি করে অনুপ্রবেশ
আকাশ থেকে প্রাণে
প্রাণ থেকে দেহে l
সত্তা ও জ্ঞান-আলোকিত হয় প্রাণ স্পন্দনে
পঞ্চভূতে উত্পত্তি হয় মায়াজাল l
উদ্ভাসিত হয় হয় -স্বতন্ত্র অস্তিত্ব l
উনিশ অবয়বে অনুগত সেই চৈতন্য
জ্ঞানেন্দ্রিয় হয় অপরাজেয় -সৃষ্টির অলক্ষ্যে
সূক্ষ্ম শরীরে হয় প্রতিবিম্বিত
বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের প্রতিচিত্রিত মহারূপ
মহা প্রলয়ের সৃষ্টি লীলা l
বিজ্ঞানময় , মনোময় ,প্রাণময়
বাসনাময় - জৈবিক আঁধারে -
ওম্ ধ্বনি হয় - অনুরণিত l
পরমায়ু ভূতির উপাসনাস্থল l
মহা বিশ্বের অগোচরে - সৃষ্টিতেই লয় ;
ছোটগল্প
লাল সবুজের অন্তরালে
দশ-এগারো বছরের কিশোর আদিব। মায়ের আঁচলের ছায়ায় বেড়ে উঠছিলো , বাবার ভালোবাসায় মুখরিত জীবন তার। হঠাৎ একদিন বাবা চলে গেলেন গভীর রাতে। ঘুম থেকে জেগে আদিব বাবাকে খুঁজে হয়রান।
মা বাবা কোথায়? আমাকে না বলে বাবা কোথায় গেলো?
তোমার বাবা মুক্তি আনতে গেছে সোনা, এত অবুঝ হইও না, মুক্তি নিয়ে ঠিক চলে আসবে।
মুক্তি কি মা? ওটা দিয়ে কি করে?
বাবা,তুমি এখনো ছোট ,অত কিছু বুঝবা না। তবে মুক্তি এলে আমরা আমাদের মতো চলতে পারবো, নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারবো, আমরা আর কারো হুকুমের গোলাম হয়ে থাকবো না। আমাদের অর্জিত সম্পদ কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।
এসব তুমি কি বলো মা? আমি তো কিছুই বুঝি না।
এখন তুমি এসব বুঝবে না। দেশ স্বাধীন হোক, তোমার বাবা ফিরে আসুক, তখন তোমাকে বাবা বুঝিয়ে বলবে, বলবে এই মুক্তির আন্দোলনের সব ইতিহাস।
দেশে মুক্তিযুদ্ধ বেঁধে গেছে। চারিদিকে থমথমে ভাব, যেন সব মানুষ হাসতে ভুলে গেছে, পাক বাহিনীর ভয়ে কাঁদতেও ভুলে গেছে। কিশোরী যুবতী মেয়েছেলে, বৌদের মধ্যে অন্যরকম এক আতঙ্ক বিরাজ করছে। আস্তে আস্তে সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ছে হানাদার বাহিনী ,ক্যাম্প তৈরি করে ঘাঁটি বানাচ্ছে। দেশীয় কিছু দোসর ওদের পিছনে পা চাটা কুকুরের মতো লেগে আছে।
সুধীন বাবু, এ গাঁয়ের খুব নামকরা অঙ্কের মাস্টার। গতকাল তাকে ডেকে নিয়েছিলো ওদের ক্যাম্পে। কি বলেছে ওরাই জানে, মাস্টার বাবু তো মুখ খুলছে না।
হঠাৎ আদিবের মা সাহানা আক্তারের সাথে রাস্তায় দেখা। মাস্টার মশাই কেমন আছেন?
আর বলিও না, এমন পরিস্থিতিতে কেউ কি ভালো থাকতে পারে? আমি মনে হয় মেয়েটাকে নিয়ে এখানে থাকতে পারবো না গো। ওরা আমাকে কাল ডেকে নিয়ে কি বলে, উর্দুতেতে কথা বলতে, ওদেরকে গ্রামের সব গোপন খবর বলতে। আমি তো তা পারবো না গো।
আপনি ভাববেন না মাস্টার মশাই। আমাদের সাহসী ছেলেরা ওদের কোন ষড়যন্ত্র সফল হতে দিবে না। দেখবেন, একদিন আমরা ঠিক স্বাধীন হবো। আমরাও মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো পৃথিবীর মানচিত্রে একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে।
চলে যান মাস্টার মশাই। দিন দশেক পরে গোপনে দেশ ছেড়ে যেতে চাইছিলেন রাতের অন্ধকারে। কিন্তু তাদের যাবার খবর পাকিস্তানী ক্যাম্পে পৌঁছে দেয় দালাল রহিম শেখ। সে রাতেই মাস্টারের মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যায় ক্যাম্পে, মাস্টার মশাই ও তার স্ত্রীকে বেধড়ক মারপিট করে ফেলে রেখে যায়। মানুষ এত অসহায়! ভাবাই যায় না।
শাহানার চোখে ঘুম নেই, স্বামী মুক্তিযুদ্ধে গেছে , বড় ছেলেটাও কি সব ট্রেনিং নিচ্ছে গোপনে। না জানি কবে ওদের কথা জেনে যায় শয়তানেরা। রাত প্রায় সাড়ে বারোটা বাজে। হঠাৎ দরজায় জোরে জোরে কেউ কড়া নাড়ছে।
কে? কে ওখানে?
আমি গো ভাবি, তমিজুদ্দিন। দরজাটা একটু খোলো। তোমার সাথে ভিনদেশী কমান্ডার সাহেব দেখা করতে চান।
বুঝতে বাকী থাকে না শাহানার আর কিছু। এই নেড়ি কুত্তাটা আমার বাড়িটা চিনিয়ে নিয়ে এসেছে। আমিও দেখি কি করে তারা।
শাহানা উঠে ছেলেটাকে আড়ালে শুইয়ে দরজা খুলে দেয়, কি জন্য এসেছো এত রাতে?
আপকা খসম কাহা হ্যায়? আপটা বেটা ভি দেখ নেহি রাহা, কাহা হ্যায় ও, উসকো বোলাও।
তোমার স্বামী কই? বড় ছেলেটা কোথায়, তাকে ডাকতে বলছেন হুজুর। মূলার মতো দাঁত বের করে তমিজুদ্দিন হাসছিলো। ইচ্ছা করছিলো বটিটা এনে ওর ঘাড়টা দু'টুকরো করে দিতে।
শান্ত হয়ে তবুও শাহানা জবাব দিলো, তারা একটু কাজে গ্রামের বাইরে গেছে, কয়েকদিনের মধ্যেই ফিরে আসবে।
জব ও লোক ফিরেঙ্গে, হামকো জরুর খবর দে না।
আচ্ছা,বলে শাহানা বন্ধ করে দেয়। মনে মনে ভাবে, আমাদের স্বাধীনতা বুঝি দেখার সৌভাগ্য হবে না।
চাচী, ক্ষুধা লাগছে, আমরা মাত্র তিনজন। একটু খাবার দিতে পারবা ?
আয় ভিতরে, ওদের ডেকে কিছু শুকনা মুড়ি আর গুড় খেতে দেয় শাহানা। ট্রেনিং করতে গিয়ে দুদিন কিছু খাওয়া হয়নি । গ্রামে পাক বাহিনী ঢুকেছে খবর পেয়ে ওরা এখানে এসেছে কয়েকজন ছেলে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে এখন হানাদারদের অবস্থান ও সংখ্যা বোঝার চেষ্টা করছে। গোগ্রাসে খাচ্ছিলো ওরা।
শাহানা ভয়ে থাকে কখন কে এসে যায়। তখনই পাক বাহিনীর কয়েকজন ছুটে এসে বলে তোর বাড়িতে মুক্তি আছে বের করে দে, নইলে ......
নইলে? কি করবি? মুক্তি চাই তোদের? আমরা সবাই মুক্তি। এতক্ষণে ওরা লুকিয়ে বের হয়ে যায় পিছনের দরজা দিয়ে। শাহানা আগেই ওদিকটা দেখিয়ে দিয়েছিলো ওদের।
শাহানা জানে, ওরা নিশ্চিত খবর না পেয়ে আসেনি। আর কিছু না ভেবে বুকের মানিককে বের করে দেয়, এই নে মুক্তি।
ছেলে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে? কি করছো মা?
বাবা আমায় ক্ষমা করিস। এটাই মুক্তি, দেশের জন্য স্বাধীনতা।
বলতে বলতেই ওদের রাইফেলের বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে যায় কিশোর আদিবের ছোট্ট বক্ষ পিঞ্জর। তাতেও হায়েনাদের তৃপ্তি হয়না, ধরে নিয়ে যায় শাহানাকে। তারপর সে আর ফিরে আসে না।
নয় মাস যুদ্ধ চলে, যুদ্ধে শত্রুর গোলার আঘাতে মারা যান শাহানার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা বীর সেনানী আব্দুল গফুর শেখ। ছেলে আদনান ফিরে আসে বিজয়ী বেশে লাল সবুজের পতাকা হাতে। ভাইয়ের রক্তে, মায়ের ইজ্জতে আর বাবার সংগ্রামী জীবনের বিনিময়ে নিঃস্ব আদনান স্বপ্ন ভাঙা আর্তনাদে কুড়িয়ে আনে স্বাধীনতা। এ এক গৌরবগাঁথা। গর্বিত বাঙালি আদনান লাল সবুজের পতাকা হাতে তবুও আগামীর স্বপ্ন বোনে।
এখন
এখন প্রকৃতি তার রূপ,রং
দিন দিন পাল্টায়
সময় ও সময়ের সাথে
দিন,মাস বদলায় ৷
এখন বাতাস ভারী হয়
বোমা বারুদের গন্ধে
দিনের আলো না নিভতেই
নেমে আসে সন্ধ্যে ৷
এখন দূষণের দুঃসহ স্পর্দ্ধা
বিস্মিত করে ধরণীকে
সবুজের মিছিল থমকে দাঁড়ায়
সন্ত্রাসীদের চাবুকে ৷
এখন প্রতিবাদ মাথা কুটে মরে
প্রতিদিন প্রতি ঘরে
তরুণ তরুণীরা স্বপ্নে বিভোর
আক্রান্ত মোবাইল জ্বরে ৷
এখন সংকীর্ণতার ঘূর্ণীঝড়ে
হাবুডুবু খায় মানবতা
হৃদয় ভেঙে চুরমার হয়
আঁতকে ওঠে নিরবতা ৷
এখন সভ্যতা প্রতি বছর
দ্রুত গতিতে এগিয়ে
উদ্ভিদ জগৎ দিন দিন
যাচ্ছে নিরবে হারিয়ে ৷