১১ জুলাই ২০২২

মোঃ হা‌বিবুর রহমান এর মুক্তগদ্য " সুপ্ত বাসনা"





সুপ্ত বাসনা

মোঃ হা‌বিবুর রহমান



মানু‌ষের সারাজীব‌নের জমাকৃত সকল অতৃপ্ত ও অপূর্ণ ইচ্ছা বা বাসনার যে শত শত সুপ্ত পাহাড় পুঞ্জীভূত থা‌কে সেইগু‌লো বু‌ঝি পৌঢ় বয়‌সে এ‌সে মানু‌ষের ম‌নি‌কোঠায় বার বার কড়া নাড়‌তে থা‌কে। 

অপূর্ণ এ ম‌নোবাসনাগু‌লি মানু‌ষের মানসপ‌টে আঠার মত ক‌রে সদা লে‌গে থা‌কে। 

আবার মা‌ঝে মা‌ঝে এসব পর্বতপ্রমাণ সুপ্ত বাসনাগু‌লো বু‌ঝি হঠাৎ হঠাৎ-ই মাথাচাড়া দি‌য়ে উ‌ঠে ব‌লে 'হে মনটা তু‌মি কি জা‌নো না যে, তোমার অপূর্ণ বাসনাগু‌লো কিন্তু তোমার জীবদ্দশায়ই পু‌রা হ‌বেই হ‌বে ? 

ম‌নের এ মা‌লিক এক বিশাল আশায় বুক বেঁ‌ধে তাই সাম‌য়িকভা‌বে য‌দিও তৃপ্ত হয় আর যারপরনাই পুল‌কিত হয় কিন্তু ভাল ক‌রেই সে শতভাগ নি‌শ্চিৎ হয় যে, এই পর্বতপ্রমাণ অপূর্ণ সমস্ত অতৃপ্ত বাসনাগু‌লোর সেলগু‌লো ই‌তোম‌ধ্যেই ম‌রে গে‌ছে এ‌বং এগু‌লো‌কে আর ক‌স্মিনকা‌লেও জীবন্ত করা সম্ভব নয়; ফ‌লে এই সকল অতৃপ্ত বাসনা তার জীবদ্দশায় তা আর পূরণ হওয়া কোন‌দিনই সম্ভব নয়।

মানুষের জীবনকাল অ‌তীব ছোট হ‌লেও মানু‌ষের যে সকল আশাগু‌লো তা‌দের জীবদ্দশায় পূর‌ণ কর‌তে যে‌য়ে হঠাৎ ক‌রেই আশাহত হ‌য়ে‌ছে; সেই বুক ভরা সুপ্ত আশাগু‌লি পূর‌ণের কথা আজীবন কখনই তা ভোলে না বরং সেই অপূর্ণ আশাগু‌লো‌কে সত্ত্বর বাস্ত‌বে রূপা‌য়িত করার ল‌ক্ষ্যে তারা আজীবন মিথ্যা স্বপ্ন দেখ‌তে দেখ‌তে হয়ত এক‌দিন অবলীলায় ওপা‌রে পা‌ড়ি জমি‌য়েই ক্ষান্ত হয়।

এভা‌বে হয়তবা পড়ন্ত‌বেলার মানু‌ষেরা এই অলীক স্বপ্ন নি‌য়ে খেল‌তে থা‌কে আর এ‌ই খেলা‌তেই শেষ জীব‌নের দিনগু‌লো তা‌দের মহাআন‌ন্দে কে‌টে যায় আর সাঙ্গ হয় তা‌দের লীলা‌খেলা এক‌দিন নি‌জের একদম অজা‌ন্তেই !

১০ জুলাই ২০২২

কবি বাবুল চৌধুরী'র কবিতা "ভালবেসে ভাল থেকো"




ভালবেসে ভাল থেকো

 বাবুল চৌধুরী 


কঠোর আমি নই মোটেই 
শুধু নিজেকে বদলে নিয়েছি এটুকুই যা,
আবেগের প্রেমে এতটাই  মজে গেছি 
তাই দূরে থাকি এই ভেবে 
যদি নিজেকে ফেরাতে না পারি !
ভালবাসায় লেনদেন আছে নিশ্চই
তবুও চাই তুমি ভালবেসে ভাল থেকো
দূরে থাক তুমি ভালবাসা লয়ে বুক ভরে। 
না পাওয়াতে সুখ আছে 
বিরম্বনা নেই তাতে কোনো
পেয়ে হারানোর চেয়ে 
না পাওয়াতেই সুখ খুঁজে নিও। 

এজাক্স, অন্টারিও 

কবি নাজিয়া নিগার এর কবিতা "কালের কুটুম"




কালের কুটুম

নাজিয়া নিগার


কী ভীষণ একাকিত্বের নোঙ্গরে
পা রেখে চলে অঙ্কুশ জীবন
ফালি ফালি করে কাটা মনের কোটর
পালের হাওয়ায় পলিমাটির প্রস্তর
যেনো এক মৃত্যুগন্ধা ফুল!
ফোটার অপেক্ষায়
অপেক্ষার প্রহর।

পথে পথ রেখে চলতে ফিরতে
দমকা ধাক্কায়
থমকে রয় বায়োনিক সময়!

কী নিথুয়ায় জড়িয়ে রয় বৈরাগী মন?
ক্লান্ত পাখির শহর
একান্নবর্তীর সারদ বাজায় ঘুমহীন পেঁচা
অথচ,দিনশেষে একা নীড়ে;
মায়ার খঞ্জনি হাতে কালের কুটুম।


কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন এর কবিতা "কবির খোয়ারি"




কবির খোয়ারি

রেজাউদ্দিন স্টালিন 


যখন রোদের গান মেঠোপথে করে পায়চারি,
শহরে তখন বাজে শীতাতপ ড্রামের খোয়ারি।

এখন রাখাল নেই কাকে তবে খোঁজে মেঠো পথ,
বাঁশির দরোজা দিয়ে চলে গেছে ঐতিহ্যের রথ।

কার আর ভালোলাগে জানজট কোলাহল দিন,
জীবনের স্বপ্নগুলো হতে থাকে ক্রমশঃ প্রাচীন। 

মোবাইলে ধেয়ে আসে প্রযুক্তির আশ্চর্য সুনামি,
বারুদ আকণ্ঠ খায় সভ্যতার সমস্ত প্রণামি।

মুহূর্ত এসেছে কাছে মহাকাল হারিয়েছে আয়ু,
বাঁচার সংগ্রামে কেউ হতে পারে হয়তো শতায়ু।

একদিন লোলচর্ম অবসাদ  বিষন্ন সময়,
কেড়ে নেবে স্বপ্নদেশ সবকিছু ভার্চুয়াল নয়।

অজর বাস্তব এসে হানা দেয় বুধের অন্তিমে,
ধীরগতি সবকিছু ডুবে যায় প্রজ্বলন্ত
অসীমে।

কবি মোঃ সেলিম মিয়া এর কবিতা আমার প্রিয়া





আমার প্রিয়া

মোঃ সেলিম মিয়া



ডাগর ডাগর নয়ন বানে 
পিলে চমকায় হাসি, 
তুমি আমার কাঙালির ধন
ত্রিভূবনের বাঁশি। 
রাঙা ঠুটেঁ জাগায় শিহরণ 
তুমি সর্বগ্রাসী! 
চুপি সারে হাতটি ধরে 
বুনিয়েছো কত স্বপ্ন, 
আশা নিয়ে বাসা বেঁধে 
তাই তো তুমি রত্ন!
জোনাক জ্বেলে আঁধার ঘুচে
চাইতে কাছে পাওয়া,
ভালোবাসার ফুলদানিতে 
বাসর সাজাতে চাওয়া।
বিয়ের সাজে রাঙা বেশে আসবে যখন ঘরে,
ভালোবাসার করিডোরে 
ভরিয়ে দিও মোরে। 
প্রতিক্ষার বাঁধ ভেঙে আজ
আমার প্রিয়া ঘরে!
সকাল সন্ধ্যা খুঁজি সুখ
তাঁরি ছোঁয়ার তরে।
সুখ খুঁজতে সুকান্তে হারিয়ে যাচ্ছি রোজ,
সংসার সুখে বেজায় খুশি 
জীবন করছি উপভোগ। 
ভালোবাসায় ধৈন্য মোরা চাওয়া পাওয়ার শেষ, 
স্বাদ আল্লাদের হিসেব নিকেশ 
চুকিয়ে দিয়েছে রেশ!
আমার প্রিয়া তুলনা বিহীন
মা হিসেবে অনন্য,
ভালোবাসার নাউ ভাসিয়ে 
তাই তো জীবন ধৈন্য।
সংসার সুখে বেজায় খুশি 
কাটছে ছন্দে দিন।
প্রিয়ার কুলে মাথা রেখে
তাকধিনাধিন ধিন।

মমতা রায়চৌধুরী এর ধারাবাহিক উপন্যাস টানাপোড়েন পর্ব ১৮১




উপন্যাস 

টানাপোড়েন ১৮১

সবকিছুই অন্যরকম

মমতা রায় চৌধুরী



রেখা শুধু ঘর বার করছে। আর ভাবছে ফোন করছি ফোনটাও কেন ধরছে না। কিছু কি বাড়াবাড়ি হল? চিন্তার ভাঁজ কপালে নিয়ে রেখা ভাবতে লাগলো কিন্তু আজ তো খাতা জমা দিতে যেতেই হবে ।এদিকে তাপমাত্রা45 ডিগ্রি আজ। ফোন করছি ধরে বলবে তো , যেতে পারবে 
কি ,পারবে না ?তাহলে তো রেখা নিজেই বাস ধরে যাবে বা ট্রেনে। রেখা ভাবলো একবার পার্থকে ফোনটা করে দেখলে হয়। যেমনি ভাবা অমনি কাজ। পার্থর ফোন নম্বরটা খুঁজে-খুঁজে ডায়াল করলো।"ও বাবা নট রিচেবল দেখাচ্ছে কেন। কি হলো রে বাবা?'
রেখা দমবার পাত্রী নয়। কিছুক্ষণ ওয়েট করার পর আবার কল করলো। এবার ফোনটা লাগলো এই রিং হচ্ছে। কিন্তু ধরছে না কেন? রেখার যে কতটা পালপিটিশন বেড়ে যাচ্ছে এটা কাকে বলবে? আবার ফোন করে ।এবার রিং হতেই অপরপ্রান্ত থেকে বলল 'হ্যালো।'
রেখা বলল 'পার্থ, আমি বৌদি বলছি।"
পার্থ বললো,," কোন বৌদি?"
সত্যি এরা টেনশনে আছে। আবার বলল তোমার দাদা ওখানে আছে?'
"ও রেখা বৌদি?"
"হ্যাঁ গো।"
"বলছি দাদা আছে,?"
"না তো দাদা তো বেরিয়ে গেছে।"
'কখন বেরিয়ে গেছে?"
"তা মিনিট পনেরো কুড়ি হবে।"
"কেন কিছু হয়েছে?"
"না গো তোমাদের কারোরই ফোন পাচ্ছি না আমার তো চিন্তা হচ্ছে না ?চৈতির বাবা কেমন আছে?'
"ডাক্তার এখনও কিছু বলেন নি ,।এইতো সবে মাত্র ডাক্তার ঢুখলেন।'
"হ্যাঁ, দেখো ঠিক টাইমে পৌঁছে যাবে।"
"আসলে আমার খাতা  জমা দেবার ব্যাপার রয়েছে তো।"
"ও এই জন্যই দাদা তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেলেন।'
তুমি কখন ফিরবে?
"এই তো বৌদি ডাক্তাররা কি বলেন দেখি তারপরে বৌদি (চৈতির মা) কে নিয়ে যাব।'
"হ্যাঁ ,হ্যাঁ ওটাই ঠিক হবে।"
"ফোনটা রাখতে না রাখতে ই বাঁশচেরা গলায় চেঁচিয়ে বাড়ি অন্ধকার করে ফেললো জেঠিশাশুড়ি।
রেখা কানটা খাড়া করে শোনার চেষ্টা করল কি ব্যাপার ঘটেছে।
না কিছু তো হওয়ার কথা তো নয় ।মনোজের ঘরে গিয়ে দেখলো  'তুতু ঠিক শুয়ে আছে।'
রেখা ভারী অবাক হয়ে গেল আর ভাবলো তারপরেও কেন চেঁচাচ্ছেন। ও বাবা এখন তো তার  সাথে গলা জুড়েছে রেখার জা। " একা রামে রক্ষা নেই ,তার ওপর সুগ্রীব দোসর "l।
রেখা বাইরে বেরিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো।
দরজাটা খুলে দেখতে পেল গেটের কাছে বমি করা। এতক্ষণে রহস্যটা উদ্ধার হল। আরে বাবা শরীর থাকলে তো শরীর খারাপ করবেই । যা গরম পড়েছে। তাই এত শোরগোল। আচ্ছা বাবা পরিষ্কার তো তোমরা করবে না ?তাহলে এতো কথা কিসের ?দেখো, নোংরা থাকে, কি থাকে 
 না ?'
যদি থাকে তাহলে নয় কথা বলা যায়। এসব ভাবতে ভাবতে এক বালতি জল নিয়ে ভালো করে ধুয়ে দেয়। সামনে পাইলট ছিল শুয়ে। রেখা ভালো করে আদর করে দিল। উপর থেকে জেঠি শাশুড়ি আর বৌমা তাই দেখে আরো ওদের গা রাগে রি রি l করে উঠলো ।
রেখা ওদের গায়ে হাত বুলাতে লাগল আর বলতে লাগল 'তোদের কি শরীর খারাপ লাগছে?"
অসহায়ের মত তাকিয়ে রেখার কথাগুলো যেন বোঝার চেষ্টা করতে লাগলো। এমন সময় হঠাৎ পেছন থেকেকে যেন বলে উঠলো "কি হয়েছে ওদের?'
রেখা পেছনের দিকে তাকিয়ে দেখল মনোজ।
"বলল বমি করেছে।'
'এইজন্য গেটের কাছে জল দিয়ে ধোয়া'
"হ্যাঁ।"
এতক্ষণ  তা নিয়ে দক্ষযজ্ঞ হয়ে গেল।
মনোজ গেট লাগাতে লাগাতে বললো"ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে 'এ তো সকলের জানা।
যে যেমন কর্ম করবে তার ফল ভোগ করবে।"
ও সব ছাড়ো তুমি রেডি হয়ে নাও বেরোবো।'
'কিসে যাবে?'
'বাইকে।'
'এত গরমে তোমার অসুবিধা হবে নাতো?'
"একটু তো অসুবিধা হবে ই কিন্তু কি আর করা যাবে বল।"
"ঠিক আছে তুমি রেডি তো আর পাইলট তুলিদের খাবারগুলো সব ভাগে ভাগে রেডি করে যাও।'
"হ্যাঁ আমি রেডি। খাবারগুলো ঠিকঠাক করে সাজিয়ে রেখেছি। সেন্টুদাকে শুধু বলে দেওয়া।"
"সে চিন্তা তোমাকে করতে হবে না ।আমার সব বলাই আছে। চাবি রেখে দিয়ে যাব।"
আচ্ছা শোনো তুমি একটু হালকা কালারের সালোয়ার কামিজ পড়ে নাও ।গরম তো।'
"তুমি খাবারটা  খেয়ে নাও।'
"দাও দাও দাও।"
রেখা খাবার বাড়তে বাড়তে জিজ্ঞেস করল
"ডাক্তার কি বলল চৈতি র বাবার সম্পর্কে।"
"কি বলবে আমরা যেটা ভেবেছি সেটাই।"
"ব্রেন স্ট্রোক।"
এথেকেই ওই একটা অংশ পড়ে গেছে তাই তো অর্থাৎ প্যারালাইসড ।'
"হ্যাঁ একদমই তাই।"
'কি করে পারবে বলতো খরচ চালাতে?'
'হ্যাঁ ,আমি আর পার্থ সেই কথাই ভাবতে ভাবতে গিয়েছি ।বৌদির সামনে সেটা প্রকাশ করি 
নি ।বৌদির চোখ মুখটা একেবারে শুকিয়ে গেছে।
মেয়ে জামাই কতটুকু কি করবে কে জানে?'
"এমনিতেই চৈতির বাড়িতে অশান্তি হচ্ছিল এখন তো চৈতী যাই হোক প্রেগন্যান্ট ।এখন একটু ঠিক আছে ।'
"হ্যাঁ ,ঠিকই বলেছ।'
'দেখি আমরা এদিক থেকে  ক্লাব এর থেকে কিছু ম্যানেজ করব ।যতটুকু করা যায় মানুষের 
জন্য ,চেষ্টা করব।'
'নেবে আরেকটু পনির রেজালা?'
'না গো , গরমে আর বেশি খাব না।'
"ঠিক আছে ফ্রিজ থেকে এক বোতল  ঠান্ডা জলের বোতল বের করে নাও ।
"থালাটা কোথায় রাখবো বেসিনে?"
রেখা সানস্ক্রিম  পাউডারটা পাপ করতে করতে বলল হ্যাঁ ,ওখানেই রেখে দাও। রান্না ঘরের দরজাটা ভাল করে লক করেএসো।'
'আমাদের ওইদিকের মিনিগেট লক করে দিয়েছো?"
" হ্যাঁ দিয়েছি মনে হয় ।আচ্ছা ,ওদিকে গেলে একটু দেখে এসো না।'
"হেলমেটটা নিয়ে বেরোও।"
"হয়েছে তোমার?"
" হ্যাঁ,এইতো হয়ে গেছে "(দরজার লক করতে করতে বলল)।
ডুপ্লিকেট চাবি টা সেন্টু দার হাতে দিয়ে যেই গাড়িতে স্টার্ট করতে যাবে ,ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠলো  রেখা তখন মিলি,তুলি ,পাইলটদের মাথায় হাত রেখে আদর করছে।
মনোজ বললো" এই সময় আবার কে ফোন দিল । গাড়ি চালাতে গাঁড় ফেটে যাবে।'
মনোজ যখন বিশেষ মুডে  থাকে তখন ওই শব্দটার ব্যবহার করে।
মনোজ ফোনটা বের করে বলে 'হ্যালো'
পার্থ বলছি" দাদা,।'
হ্যাঁ বলো?'
"তোমরা কি বেরিয়ে পড়েছ?'
"হ্যাঁ গাড়ি স্টার্ট   দিতে যাবো ঠিক তখনি তোমার ফোন '।
"বলছি চৈতির বর তো এসেছে।'
"ও ভালো খবর তো।"
"পার্থ এদিক ওদিক তাকিয়ে বলল'এদিকে তো অন্য খবর?'
"কেন কি হয়েছে?"
চৈতির বাবাকে তো এখান থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে যাবে বলছে।"
মনোজ অবাক হয়ে বলল 'এই অবস্থায়! আগে একটু স্টেবল হোক।'
"আর আমি তো একা সিদ্ধান্ত নিতে পারছি 
না ।তাই তোমাকে ফোন করলাম।"
"বৌদি কি চাইছে?"
"চৈতির বর যখন কথাগুলো বলছিল বৌদি ইশারায় আমাকে না করলো।'
"আরে জামাই তো সুচারু নয় ।এইজন্যেই বৌদি বলেছে।"
"কি করি বলো তো?"
"জামাইকে বোঝাও এই অবস্থায় নিয়ে যাওয়াটা ঠিক হবে না। সে পরে ভেবেচিন্তে ঠিক করা যাবে আর তাছাড়া ডাক্তাররা তো আরো অন্য জায়গায় রেফার করেন নি।
ঠিক আছে বলে দেখি।
ছাড়ছি তাহলে সাবধানে ঘুরে এসো।
ওকে।
ফোন কেটে দিয়ে এই মনোজ খুব তাড়া দিল রেখাকে। তাড়াতাড়ি এসো না?"
"আমি কখন থেকে রেডি তুমি তো ফোনে কথা বলে যাচ্ছ।"
মনোজ বলল"ঠিক আছে নাও নাও ওঠো আর কথা বাড়িয়ো না"।
রেখা দুগ্গা দুগ্গা বলতে বলতে বাইকে উঠলো ।
কিছুদূর আসার পরই রেখা মনোজ কে বলল "অ্যাই দাঁড়াও , দাঁড়াও "।
মনোজ একটু বিরক্ত হয়ে বলল' কি হলো?'
,আমি তো খাতাগুলোই আনি নি।"
মনোজ বললো"তুমি এত বেয়াক্কেল কি করে হলে? যা তুমি জমা করতে যাচ্ছ সেগুলোই তুমিও নিতে ভুলে গেলে?'
"কি করব বল হুটোপাটিতে  ভুলে গেছি ।'
"তবুও থ্যাংকস গড যে বেশীদূর যাযই নি। তাহলে কি হতো বলো তো ?"
"নাও নাও যাও তাড়াতাড়ি দরজা খোলো, খুলে নিয়ে আসো। যত্ত সব অনাসৃষ্টি কান্ড ।"
রেখা ভেতরে গেল দরজা খুলে আর মনোজ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট খেতে লাগলো আর ভাবলো ওকে এত বকলাম আমার ঠিক হলো না কারণ এতগুলো খাতার চাপ তারপর সংসারের কাজকর্ম, লেখা আছে বেচারার নাজেহাল অবস্থা। ও তো সবসময় টানাপোড়েনের মধ্যেই থাকে । মনোজ ভাবতে লাগলো ''কেন যে রেখার সঙ্গে এরকম ব্যবহার করে ফেলে।"

০৯ জুলাই ২০২২

কবি মিতা নূর এর কবিতা "কেই থাকে সব" 





কেই থাকে না 

মিতা নূর 



কেউ একজন চলে গেল, 
গেল তো গেল!
বুকের ভেতর'টা একেবারেই, 
নিগড়ে নিয়ে গেল।
যাওয়ার সময় শুধু' 
শ্রাবণ চোখে তাকিয়ে ছিলাম। 
বুক ফাটা আর্তনাদ  চেপে ধরে.!
একবারও চিৎকার করে বলতে পারিনি,
পিছন ফিরে চাও।
শূন্য করে রেখে যেওনা, 
আমাকেও তোমার সঙ্গে নিয়ে যাও।
কেউ থাকে না, কেউ না..! 
জানি হবে না জীবনে কিছু পাওয়া, 
শুধু আর্তনাদে, মিছে চাওয়া। 
শুধুই মিথ্যে প্রতিশ্রুতি, 
মিথ্যে মায়া বাড়িয়ে' আঁকড়ে ধরে রাখা! 
কেউ আগলিয়ে রাখে না, 
থাকবে বলেও, 
শেষ অব্দি কেউ  থাকে না। 

মমতা রায়চৌধুরী এর ধারাবাহিক উপন্যাস টানাপোড়েন পর্ব ১৮০





উপন্যাস 


টানাপোড়েন ১৮০

ঈশ্বরের ইচ্ছে

মমতা রায়চৌধুরী



"উফ"! কি গরম আর পারা যাচ্ছে 
না ।তারমধ্যে আজ শেষ লটের খাতা জমা দেওয়া। হেড এক্সামিনারের বাড়ি ও তো কম দূরে নয় ।আজকে একা যাবার সাহসই নেই । রেখা মনে মনে ভাবল মনোজকে একবার বলে দেখবে। অবশ্য কদিন আগে বলা হয়েছিল ,নিজের থেকেই ও বলেছিল যাবে ।কিন্তু  যদি ভুলে গিয়ে থাকে ,এখন তো ওর মনটা নানা অবস্থায় আছে।তাই আজকে আর একবার স্মরণ করাবে? মুড কেমন আছে কে জানে? যাই হোক না কেন বলবেই। খুব সকাল সকাল উঠে পড়েছে সব কাজ গুলো গুছিয়ে রেখে দিয়ে যেতে হবে। চা করতে করতেই এসব কথাই ভাবছিল। চা হয়ে গেলে ফ্লাস্কে চা ঢেলে, বাকি চা কাপে ঢেলে নিয়ে মনোজের ঘরের দিকে পা বাড়ালো।
রেখা মনোজকে ডাকলো জানলাটা খুলতে খুলতে'কিগো ওঠো। এত গরমের মধ্যে আবার জানলাটা কখন উঠে বন্ধ করেছ, মাথাটা কি কাজ করছে না নাকি?
সাড়া না পেয়ে আবার ডাকল" কি গো সাড়া দিচ্ছ না যে? এবার মনোজের গায়ে ধাক্কা দিয়ে বলল'ওঠো,।
মনোজ এবার চোখটা খুলে অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল" কেন এত তাড়াতাড়ি ডাকছ?'
রেখা জানে সকাল সকাল ঘুম ভাঙানো মানে রেখার পক্ষে সেটা খুবই ট্রাপ ব্যাপার। একটা কুম্ভকর্ণ যে অসময়ে ঘুম ভাঙানো যাবে না, ভাঙ্গলেই বিপদ।
রেখা বলল' আজকে খাতা জমা দেবার দিন। তুমি যাবে তো আমার সাথে?'
মনোজ রেখার দিকে তাকিয়ে বলল 'না গেলে হবে ,এতটা রাস্তা তুমি একা 
যাবে? '
রেখা একটু খুশি হল তারপর বলল 'সেই জন্যই তো তোমাকে ডাকছি।'
মনোজ বলল' একটু ঘুমাতে 
দাও ।তারপর দেখো সত্যি সত্যি উঠে যাব।'
রেখা বলল' ঠিক আছে ।'রেখা দেখল এরপর আর বিরক্ত করা চলে না তাই বেরিয়ে এল। আবার আর একটা কথা বলার জন্য ভেতরে ঢুকলো ' হ্যাঁগো একবার বিরক্ত করছি .দুপুরে বাড়িতে খাবে তো নাকি?"
মনোজ বলল' আজকে দুপুরে রান্নাটা ক'রো
 না ।
রেখা খুশি হয়ে  বলল' মানে?
মানে আজকে রান্না করব না বাইরে খাবার খাবে?'
মনোজ শুধু বললো 'হুম।
রেখা তো মনে মনে এটাই চাইছিল। ঈশ্বর রেখার মনের ইচ্ছেটা পূরণ করেছেন। তাই
রেখার মনের ভেতরে খুশির ঢেউ ফুলে  ফেঁপে  উঠলো 
এমনিতেই গরমে রেখার রান্না করতে ইচ্ছে করছে না ,আর যদি মনের আশাটা পূর্ণ হয়ে যায় তাহলে তো সোনায় সোহাগা।
কিন্তু রেখার তো ছোট বাচ্চারা আছে ওর মা আছে ওদের জন্য তো করতেই হবে। রেখা চটপট  ওদের খাবারটা রেডি করতে গেল।
এরইমধ্যে তুতু এসে কিউ কিউ করতে লাগলো। রেখা বলল "ওমা তুমি আবার কখন আসলে"?
"এখন বিরক্ত করো না তোমাদের খাবার রেডি করছি।"
তারপরেও সমানে কিউ কিউ করে যেতে লাগলো।
রেখা গাল দুটোকে ধরে আদর করে বলল কি হয়েছে? বলবি তো কি হয়েছে?
রেখা আবার কাজে মনোযোগ দেয়। কিন্তু ওর আওয়াজ বন্ধ হয় না। অহ ,তুতু বিরক্ত করো 
না আমাকে ।বেশ তো
 ঘুমাচ্ছিলে ।আবার উঠে আসলে কেন?'
হঠাৎ রেখার সিক্স সেন্স কাজ করলো ওর পটি বা হিসু পায় নি তো?
তাড়াতাড়ি গ্যাসের আঁচটা সিম করে দিয়ে দরজা খুলে দিল। হ্যাঁ যা ভেবেছে তাই। রেখা লক্ষ্য করলো তুতু (তুলি) একটা পা যেন ফেলতে কষ্ট হচ্ছে। রেখা ভাবল ওর পায়ে কী করে লাগল?
তাহলে তো ওষুধ খাওয়াতে হবে। 
 মন্টু ডাক্তার কে ফোন করে ওষুধ জানতে হবে।
এরমধ্যে পটি করে ঘরে ঢুকে পরল এখন যেন রেখাকে চিনতেই পারল না।
রেখা বলল' কি রে আমি দাঁড়িয়ে আছি ,তোর হুঁশ নেই।'
রেখার কথায় একবার পিছন ফিরে তাকাল তারপর ডোন্ট কেয়ার মনোভাব নিয়ে একেবারে ঘরের ভেতরে গিয়ে শুয়ে পড়ল।
রেখা আপন মনে হাসতে লাগলো। এরাই তোর বেঁচে থাকার অক্সিজেন' এদের মধ্যে দিয়ে কেটে যায় কতটা সময় ওদের ভালোবাসায় আবদারে রেখার কল যেন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ভাবতে ভাবতে যেই রান্নাঘরে রেখা  ঢুকেছে আবার কলিং বেলের আওয়াজ 'জয় রাধে ,রাধে , কৃষ্ণ, কৃষ্ণ গোবিন্দ গোবিন্দ বল রে…।'
রেখা ভাবল এ সময় আবার কে আসলো?"
"মাসি? কাজের মাসির তো এখনো সময় হয়নি।"
আবার কলিং বেলের আওয়াজ 'জয় রাধে, রাধে, কৃষ্ণ ,কৃষ্ণ ।গোবিন্দ ,গোবিন্দ ,বল রে…।"
দরজাটা খুলতেই রেখা যেন ভূত দেখার মত দেখল চৈতির মাকে?'
'কি ব্যাপার দিদি এত সকালে?'
চৈতির মার চোখ মুখ যেন শুকিয়ে গেছে একটা বিমর্ষ অবস্থা বোঝা যাচ্ছে।
"আর বলবেন না দিদি, একটা বিপদ হয়েছে ,একটু দাদা কে ডেকে দিন না?'
"হ্যাঁ , সে  দিচ্ছি । কিন্তু  কি হয়েছে?"
"আপনাদের দাদার হঠাৎ করে মুখের একটা অংশ বেঁকে যাচ্ছে কথাগুলো সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।"
কথাগুলো বলছে আর চৈতির মায়ের চোখগুলো জলে ভর্তি হয়ে গেছে।
রেখা বলে" এখন দাদা কোথায়?
শুয়ে থাকা অবস্থাতেই হয়েছে।
আপনি দাদাকে রেখে চলে আসলেন?'
'কিছু বুঝতে পারছিনা আমার দিশেহারা লাগছে।'
'মেয়েকে ফোন করেছেন?'
'হ্যাঁ করেছি।'
আর এই জন্য আপনাদের কাছে ছুটে এসেছি।'
'ঠিক আছে চিন্তা করবেন না'
 দাদা কে ডেকে দিচ্ছি।'
'কিগো উঠ তো? অ্যা ই ওঠো।
কি হলো?'
আর একবার চৈতিদের বাড়িতে যাও ওর বাবার কি যেন হয়েছে?
হসপিটালে ভর্তি ব্যাপারে ব্যবস্থা করতে হবে একা মেয়ে মানুষ ?"তো?
হ্যাঁ সে ঠিক আছে একবার পার্থকে ফোন করে দিই। আমিও এই কথাটাই ভাবছিলাম হ্যাঁ যত তাড়াতাড়ি পারো পার্থ কে ফোন করো। সঙ্গে গাড়িটাও যেন নিয়ে আসে।
রেখা চৈতির মাকে বলল" দিদি আপনি বাড়ি যান এখানে দায়ী থাকবেন না ।ওরা যাচ্ছে একটু পরে। আপনি বলুন মেয়ে জামাই কখন আসতে একবার জেনে নিন।
হ্যাঁ ঠিকই  বলেছেন  আমি বাড়ি যাচ্ছি।
মনোজ পার্থকে ফোন করলো

"হ্যালো'

এই আমি মনোজ দা বলছি পার্থ।
হ্যাঁ ,সুপ্রভাত দাদা ।।এ তো দাদা সকাল সকাল মনে করলেন।'
বলেই  হাসতে লাগল।
পার্থ একবার এক্ষুনি গাড়িটা নিয়ে এসে চৈতি দের বাড়ির কাছে দাঁড়াও।

এরমধ্যে রেখা ও দেকগেল আবার কলিং বেলের আওয়াজ
"জয় রাধে ,রাধে কৃষ্ণ কৃষ্ণ গোবিন্দ ,গোবিন্দ বল রে।'
রেখা মনে মনেl ভাবল আজকে খাতা জমা দেওয়ার লাস্ট ডেট এর মধ্যে যদি মনোজও চলে
যায় তাহলে তো।  ..?

মনোজ্ঞ বলল' আমি জানি কি ভাবছো?
এর মধ্যে পার্থ এসে হর্ন বাজালো।
মনোজ বলল' আসছি।'
এদিকে তাড়াতাড়ি চৈতির বাবাকে কোল পাজা করে তুলে  গাড়িতে শোয়ালো।
তারপর দ্রুত গাড়ি চালিয়ে হসপিটালে এসে ভর্তি করে দিল।
এদিকে রেখা ঘড়ির দিকে তাকাতে লাগলো কি জানি শেষ পর্যন্ত মনোজ যেতে পারবে কিনা?
তবুও রেখা মনের ভেতরে ক্ষীণ আশা টুকু জাগিয়ে মনোজ এর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। কারণ মনোজ যদি না আসতে পারতো, তাহলে ফোন করে দিত।
এসব ভাবতে ভাবতেই রেখা মিলি আর বাচ্চাদের খেতে দিয়ে দিল। নিজেও ব্রেকফাস্ট করে নিল। রেখা সবকিছু গুছিয়ে গাছিয়ে এবার মনোজকে একটা ফোন করলো।
রিং হতে  না হতেই'বলল হ্যালো'
তুমি কখন আসবে?
এইতো ডাক্তার দেখাচ্ছি দাদাকে এডমিট করে নিয়েছে ।
আসলে বেলা হয়ে যাচ্ছে তো। রোদের তাপ টাও বাড়ছে।
সে হোক কি আর করা যাবে বিপদের দিনে মানুষের পাশে তো থাকতেই হবে।
হ্যাঁ সে কথা তো ঠিকই।
রেখা মনোজ যেতে পারবে ভেবে মনে মনে খুশি হল কিন্তু চৈতির বাবার জন্য আবার মন খারাপ হলো ঈশ্বর করুন সবকিছু ঠিক করে দিন।
ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করল রেখা।
চৈতির মা পার্থ আর মানুষকে বারবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল।
মনোজ বলল বৌদি এভাবে বলবেন না মানুষ হয়ে জন্মেছি মানুষের জন্য যদি কিছু করতে না পারে তাহলে মনুষ্য জীবনের সার্থকতা কি।
পার্থ বলল হ্যাঁ কিছু চিন্তা করবেন না সব ঠিক হয়ে যাবে।
চৈতির মা বলল তবুও আমি বলার সাথে সাথে যেভাবে আপনারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এইটুকু কৃতজ্ঞতা যদি প্রকাশ না করি তাহলে ভেতরে ভেতরে খুব ছোট লাগবে নিজেকে।"
মনোজ বলল 'বৌদি এসব কথা না ভেবে বরং ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করুন দাদা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।'
পার্থ বলল" চৈতি আসছে?
চৈতির মা বলল হ্যাঁ আসবে তত সমস্যা রয়েছে ও প্রেগন্যান্ট এই অবস্থায় হুটোপাটি করে আসাটা জার্নি করাটাও তো রিক্স।'
তাছাড়া ওর তো প্রথম বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে গেছে।'
পার্থ, মনোজ দু'জনায় বলল"তাহলে তো রিক্স ই  বটে।'
চৈতির মা বলল তবুও বাবার এই অবস্থা শুনে ও তো আর নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পারবে না আসবেই। এখন পুরোটাই ঈশ্বরের উপর ভরসা করা ছাড়া কিছুই নয় ঈশ্বর যেটা ভালো বুঝবেন সেটাই করবেন।
'মনোজ বলল কিছু চিন্তা করবেন না ঈশ্বর সব সময় মানুষের ভালোর জন্যই করে থাকেন।
মনোজ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল পার্থ আমি বরণ বাসে বেরিয়ে যাচ্ছি কারণ রেখার আজকে খাতা জমা দেবার আছে। তুমি বরংআরেকটু ওয়েট করে ডাক্তার কি বলেন সব শুনে বৌদিকে নিয়ে তার পরে ফিরো।

কবি সালাম তাসির এর কবিতা উত্তরের হাওয়া




উত্তরের হাওয়া 

 সালাম তাসির


প্রেম এক অদ্ভুত অলঙ্কার
কখনও ফুলের কখনও কাঁটার
একবার ভোলে বার বার ভোলায়
কখনও জোছনায় কখনও আঁধার।

অভিমানে হৃদয় খুঁড়ে অশ্রুজলে ভাসায় দু'কুল
কখনও উড়িয়ে আঁচল কখনও ভাঙে সব ভুল
দু'চোখে আনন্দ ধারা মননে  স্বপ্ন জাগায় 
কখনও লালনে সুখ কখনও নজরুল।

ক্ষণিকের ললাট চুমি ভুলে যাওয়া দুঃখগুলো 
কখনও বসন্ত রাত কখনও উষার আলো
জীবনের ফল্গুধারায় সুখ দুঃখ একসাথে রয়
কখনও ক্লান্ত আঁধার কখনও প্রদীপ জ্বালো।

জোছনা ধোয়া বিশ্বাসের ফুল
কখনও কালো গোলাপ কখনো রক্ত শিমুল 
জীবনবোধে জাগুক প্রাণ পূর্ব জন্মের  ঘরে
কখনও ফুটছে বকুল কখনও গন্ধে আকুল।।


কবি সুব্রত চক্রবর্ত্তী এর কবিতা "শেষের ঠিকানা"




শেষের ঠিকানা

 সুব্রত চক্রবর্ত্তী
    

কৃত্রিম মায়াবী আলোর বন্যায়
 ভাসছে সবাই ----
আমিও তারই মাঝে এগিয়ে চলি অনিবার।
হতাশার পাহাড় বয়ে বয়ে বেড়াচ্ছি।
তবুও চলছি , ছুটছি - ছুটেই চলেছি
অজানা কোনো রাজপথ ধরে।
একটা একটা করে মাইল ফলক
তীব্র গতিতে পিছিয়ে যায় দূরে --
সরে সরে আরো দূরে ।

আলোর ঝলকানিতে 
ঝাপসা হয়ে আসে দৃষ্টি।
চলার পথ কেমন যেন আরো অচেনা।
চেনা মানুষের ভিড়েও
আপনজনের দেখা নেই।
আগামীর স্টেশন ঠিকানাহীন --
পথের শেষও অজানা।

তথাপি ভেসে ওঠে ঝাপসা চোখে
ব্যর্থতা,চরম ব্যর্থতাময় আমি।
তবুও চলছি,ছুটেই চলেছি
হতাশার পাহাড় কাঁধে বয়ে বয়ে
ছুটছি একটার পর একটা
মাইল ফলক পিছনে ফেলে --
দূরে আরও দূরে ---।।


এম. আর হারুন এর কবিতা "স্মৃতি বিজরিত"





স্মৃতি বিজরিত

এম. আর হারুন


বৈঞ্চব পাড়ায় গৌরনিত্যানন্দের কীর্তণ
ঢাকের তালে সারা রাত চলবে ভগবানের জয়োগান,
নেশায় মাতাল হয়ে দেবানন্দ তুমিও
সেখানে ছিলে সনাতনী একজন গুনগ্রাহী,
আজ তুমি নেই দেবানন্দ,
স্মৃতির পাতায় বেশ মনে পড়ে।

কলেজ রেষ্টুরেন্টে সিঙ্গারা খেয়ে
দিন কাটাতো ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখা
হত দরিদ্র মাহতাব,
তোমার আর ইঞ্জিয়ার হওয়া হলোনা
ক্যান্সার কেড়ে নিলো প্রান।

সুকুমার কবিতা লিখতে লিখতে
এক সময় দেশের সুনামখ্যাত কবি হতে
চেয়েছিলো সুনাম সুখ্যাতির আশায়,
সেই সুকুমার আজ পাগল বেশে
রাস্তায় কুঁড়ানো বিড়ি তুলে টানছে।

ক্লাশের শেষ বেঞ্চে বসে থাকা আজিম
কখনই স্যারের পড়া দিতো পারতো না,
স্যার বলতো কিছুই হতে পারবে না
আজ সেই আজিম কোটি টাকার 
গাড়ি হাঁকিয়ে চলছে শহরের ব্যস্ত নগরীতে।

ক্লাশ রুমে টেবিলে তাল তুলে গান করতো
যে আফজাল শিল্পী হওয়ার আশায়,
আজ সে হাসপাতালের বারান্দায়
মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করছে প্রতিনিয়ত,
তাকে দেখবার কেহ নেই।

বিশ্ব জুড়ে যে ছেলেটি আজ বিজ্ঞানী
নামে খ্যাতি অর্জন করে নোবেল পেলো
সে আজ মাটিতে পা রাখার সুযোগ পাচ্ছেনা
দিবানিশি চন্দ্র গ্রহন নিয়েই ধ্যান জ্ঞানে মগ্ন
অথচ তাকে পাত্তা দিতাম না।

আজ আমরা কে কোথায় আছি
কারো হাড় মাংশ পচে গেছে,
কেউ দেউলিয়া হয়ে পথে বিড়ি টানছে
কেউ বিশ্বের বুকে মহা মানব,
কেউ ছেঁড়া কাঁথায় রাত পার করছে
কেউ মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করছে,
কেউ গলা ফাটিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে
একটি চাকুরীর আশায়,
সত্যিই আমাদের স্মৃতি বিজরিত।

আশ্রাফ বাবু এর কবিতা "দৃষ্টিপাত"




দৃষ্টিপাত

আশ্রাফ বাবু


চোখ তাকে ঘিরে আছে অত্যন্ত উত্তপ্ত 
দেখায় প্রাণবন্ত ও উৎসুক বহির্ভাগের শিখা-চক্র,
যে ভোরে আমি যাত্রা করবো
ভাবছি অতিক্রম করে যাবে আমার দৃষ্টিপাত।

সময়ের ব্যবধানে কাঁটায় পুরো বারো মাস। 
ঋতুও পিছিয়ে আছে এই নগরীতে এখন
রাত্রিকে অতিক্রম করার জন্য, 
আমি অপেক্ষা করি নীরবে। 

অভ্যন্তরে প্রতীক্ষা করছে যা ভাবনার অতীত
তোমার মুখছবিতে হয় না ভাংচুর
নড়েচড়ে আমার স্পর্শ করি বাজে না কোনো সুর
চোখের পুতলি নাড়াতে পারে না পাতা।

কীভাবে বন্ধ করবো অভ্যন্তরে প্রতীক্ষা 
তাবৎ হয়েছে উৎসুক;
ভেতরে আমি এড়াতে পারি না
নির্নিমেষ দৃষ্টিপাত-চাও না ছুঁতে তোমার দুহাত।

কবি কানন রায় এর কবিতা "জীবন"





জীবন

কানন রায়


জীবনকে জীবন দিয়ে জয় করতে হয়,
মরণকে প্রাণের বিনিময়ে
টুকরো টুকরো কথা,
ছোট্ট ছোট্ট ব্যথা
বলে দেয় কত না বলা কথা।
একটু ভালোবাসা,
ছোট্ট ছোট্ট আকাঙ্খা 
কিছু পাওয়া কিছু না পাওয়া
চিনিয়ে দেয় জীবন কতো সহনশীল।
জীবনের চাওয়া এক রকম
জীবনের পায় আরেক রকম।
জীবনের দেয়া এক জীবনের নেয়া আরেক
এতো কিছুর মধ্যে ও জীবন বহতা।