০২ মার্চ ২০২২

মমতা রায়চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস ১১৮পর্ব





উপন্যাস
 টানাপোড়েন১১৮
স্মৃতি-বিস্মৃতির দোলাচল

মমতা রায়চৌধুরী



স্কুল থেকে ফিরে হঠাৎ একটা বাজে খবর মনটাকে ভারাক্রান্ত করে দিল। তার সাথে পরিচয় বেশিদিনের নয় ,লেখালিখি নিয়ে মনামীর মাধ্যমেই পরিচয়। মনামীদের  অফিসে আসেন বিভিন্ন টেন্ডার নেবার জন্য এবং বিভিন্ন তথ্য সংবাদপত্রে পরিবেশনের জন্য। আসলে উনি একজন সাংবাদিক এবং লেখালেখিও করেন। বেশ কিছু কাব্যও নাকি প্রকাশিত হয়েছে। 
মনামী ভদ্রলোককে বলেছিলেন 'আমাদের এক বন্ধু ভালো লেখালেখি করেন ।'
 দেখতে পারেন' ওর লেখা নিয়ে ।'
ছেলে বন্ধু না মেয়ে বন্ধু?
মনামী  অবাক হয়ে নাকি বলেছিল' কি যে বলেন না আপনি মাঝে মাঝে ।মেয়ে বন্ধু। কোন বন্ধু হলে বেশি আপনার সুবিধা ? ছেলে না মেয়ে বন্ধু?'
একটু ব্যাকা চোখে তাকিয়ে মেয়ে বন্ধুর দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন।
মনামীদের অফিসে উনি একজন রসিক মানুষ বলেই খ্যাতি অর্জন করেছেন।  তাই কেউ উনার কথায় কিছু মনে করেন না।
" ভদ্রমহিলা দেখতে কেমন?'
মনামীর কাছে ছবি ছিল সঙ্গে সঙ্গে দেখিয়ে বলল এই দেখুন।'
"বাহ ,দারুন তো। জমে যাবে।'
আপনি পারেনও বটে।
মনামী নাকি হো হো করে হেসে ওঠে ছিল।
সেই সূত্রে কন্টাক্ট নাম্বারটা দেয়া 
হয়েছিল ।রেখাকেও পরে মনামী  কন্টাক্ট নম্বর দিয়েছিল ।
" এই নে কন্টাক্ট নম্বর।'
রেখা তো পুরো অবাক।
'বিস্ময়ে মনামীর মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল।'
আরে, হাঁ করে তাকিয়ে দেখবি ।না ,এখন নম্বরটা নিবি?'
'না দেখছি তোর দ্বারা কোনো কাজ হবে 
না । রিম্পাদির ফোন নম্বরটা দে ,রিম্পাদিকে পাঠিয়ে দিই।'
 এরপর নিজেই ব্যাগ হাতড়ে রেখার ফোনটা বের করে  সেভ করা নম্বরটি নিয়ে নিল।
রিম্পা দিকেও পাঠিয়েছিলো।
'তুই তো এসব নিয়ে বেশি কিছু ভাবিস
 না ।কতদিন বলেছি পত্রিকায় লেখাগুলো দে ।
না, নিজের কাছে চেপে রেখে দিয়েছে।'
আপন-মনে বকবক করে গেল কিছুক্ষণ ।তারপর রেখার ফোনেও নম্বরটি সেভ করে দিল।
'যাক বাবা, আমার শান্তি।
দেখিস বাবা, পরে আবার আমাকেই ভুলে যাস না।'
রেখা তো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বলল 'কি যা তা বলিস না।'
মনামী আরো বললো 'শোন
'একটা টাইম দিয়েছেন। এই টাইমের মধ্যে দেখবি তোর কাছে ফোন যাবে ।'
কথাগুলো বলে মনামী স্কুটিতে স্টার্ট দিল আর কোন দিকে তাকালো না। যেন মনে হলো একরাশ ঝড়ো বাতাস কিছুক্ষণের জন্য ঝটকা মেরে এসে সব কিছু ওলট পালট করে যেমন  দিয়ে যায়,ঠিক সেই গতিতে ও স্কুটি চালিয়ে চলে গেল।
রেখাও স্কুলে যাবে। স্টেশনে দাঁড়িয়ে।
রেখা বরাবর এসবে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। লেখাটা তার নেশা ।ভালোবেসে সে লেখে।তবে মাঝে মাঝে লেখার গতি থেমে যায় ।সেরকম তো চাপ থাকে না যে অমুক পত্রিকায় লেখা দিতেই হবে ,নির্দিষ্টভাবে কয়েকটা দিনের জন্য বা ধারাবাহিকভাবে। তাই  চাপ নিয়ে লেখে না, মনের খুশিতে, কখনো আনন্দ ,কখনো বা একাকিত্বের সঙ্গী হিসেবে সে বেছে নেয় লেখাকে।'
তাই আজও কোনো গুরুত্ব দিলো না কথাটার।
ট্রেনের খবর হয়ে গেল ট্রেন ঢুকছে ।রেখা দুই নম্বর প্লাটফর্মে যাবার জন্য ওভার ব্রিজ অতিক্রম করার জন্য দ্রুত উঠলো সিঁড়ি দিয়ে।
সেদিনের কথাটা তাই আজও তার মনে আছে। এই দিনেই তার প্রথম বোধহয় লেখালেখির জগতের বিচিত্র অভিজ্ঞতার ভিত স্থাপিত হয়েছিল।
 ট্রেনে উঠে রিম্পাদিকে খোঁজ করতে থাকে। সাধারণত রিম্পা দি প্রথম দিকের লেডিসেই থাকে কিন্তু কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া গেল না। তারপর কোন রকম ভাবে জায়গা নিয়ে রিম্পাদিকে  ফোন করলো।
রিম্পাদির ফোন রিং হতে হতেই রিম্পাদি ফোনটা রিসিভ করল বললো'আমাকে খুঁজছিস তো?'
'সত্যি ,তুমি কি করে বোঝা গো মনের কথাগুলো হ্যাঁ ।   তুমি কোথায় আছো বলো
 তো ?
রিম্পদি তখন ও হো হো করে হাসছে।
 ' তুমি কোথায় উঠেছে বলো
 আগে। জেনারেল কম্পার্টমেন্টে উঠেছ? কি ব্যাপার ?কিছু রহস্যের গন্ধ আসছে মনে হয়।
কিছু কেমিস্ট্রি তৈরি করছে নাকি?'
'হ্যাঁ ,হ্যাঁ গেস কর সেজন্যই তো অন্য কম্পার্টমেন্ট উঠেছি।  কি কি আমার কপালে তোরা কম্প্লিমেন্টস লিখে রেখেছিস।'
'তা বলো আর হেঁয়ালি কোরো না, কোন দিকে আছো?'
" আজকে পেছনে লেডিসে উঠেছি।'
'ওমা কেন কি কারনে উঠলে?'
'ওমা জানিস না স্মৃতিদি।স্মৃতিদির জন্য উঠলাম'।
_এর ভিতর স্মৃতিদিকে নিয়ে টানাটানি করছ কেন?'
আরে স্মৃতিদির নাগাল কোথায় পাচ্ছি। টাকা পাবে না ?কোন হুশ নেই। যতবারই ফোনে বলা হয় ,ওটা ঠিক পেয়ে যাবো। তাহলে বোঝো এভাবেও ব্যবসা চালায় সে।  টাকা  পড়ে রয়েছে  সেদিকে হুশ নেই।'
'হ্যাঁ ,বুঝলাম।'
এই জানিস তো একটা কি ভালো স্কিভি  
এনেছিল ।ভাবলাম আমাকে মানাবে  'কি মানাবে না ?'
'ওমা মানাবে না কেন?
 অত সুন্দর তুমি দেখতে। তোমার ফিগার টা কত সুন্দর বলতো?'
' আর ঢপের চপ ভাজিস না তো ।যত উল্টোপাল্টা কথা তোর।  হ্যাঁ তোর নজরে তো সবসময় আমি সুন্দর। আমার নজরে তুই।,'
'হ্যাঁ সুন্দরীর পাশে শাকচুন্নি ,বলেই হো হো করে হাসতে লাগলো রেখা।
 ঠিক আছে ।রাখ রাখ ।'
'কিছু নিলে কি ,সেটা বল?'
'হ্যাঁ ,নিলাম তো?
বেশ কিছুটা কৌতুহলী নিয়ে 
'কি কি নিলে বল তো?
'আরে একটা হ্যান্ড বাটিক সিল্ক শাড়ি।'
'কত সিল্কের শাড়ি কিনবে ?না ,এবার তোমার ওয়ারড্রব খালি করো তো ,কিছু আমাদের দাও।
'বাবা কে কাকে বলে রেখা?
' তবে হ্যাঁ ,হিংসে হচ্ছে ,যদি কালারটা সুন্দর হয় আমি কিন্তু নিয়ে নেব।'
'নে ,না কে বারণ করেছে। তোকেই মানাবে ।
'তাই বুঝি ?ঠিক আছে ।বাকি কথাগুলো আর এখন বললাম না ,পরেই বলবো।'
ফোনটা রাখতে যাচ্ছি ঠিক তখন রিম্পাদি বলে শোন শোন আমাকে একটা না কন্টাক্ট নম্বর পাঠিয়েছে জানিস?'
'আরে সেই ব্যাপারেই তো তোমার সঙ্গে কথা বলবো। '
' ঠিক আছে। স্কুলে গিয়ে কথা হবে।'
Ok

 সত্যি সত্যিই ভদ্রলোক ফোন করেছিলেন এবং বলেছিলেন"আপনি লেখালেখি করেন,,।
যদি রাজি থাকেন তাহলে আমাদের পত্রিকাতে আমরা ধারাবাহিকভাবে আপনার লেখা প্রকাশ করব।
কথাটা শুনে মনে মনে রেখা খুবই উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিল। একটা কিরকম একটা অদ্ভুত অনুভুতির সৃষ্টি হয়েছিল।  সেও বোধহয় তার লেখাগুলো ডানায় ভর দিয়ে এভাবে পাড়ি দেবে মানুষের মনের জগতে। লেখক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করবে ।উত্তেজনায় তার  রক্তের ভিতরে একটা আলাদা স্রোত বয়ে গেছিল।কথাটা শোনার পর কল্পনায় যেন ভেসে গিয়েছিল রেখা দূর বহুদূর।
তারপর ভদ্রলোক যে কথাটা বলেছিলেন তাতে খুব আশ্চর্য্য হয়ে গিয়েছিল রেখা এবং কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে গেছিল।
 'এমনি এমনি তো আর প্রকাশ পাবে না ।এর জন্য কিছু খরচ তো করতেই হবে ।ঠিক আছে ।'
ভদ্রলোক এমনভাবে কথাগুলো বলেছিলেন তাতে রেখা বুঝতে পেরেছিল লোকটা পুরো 
প্রফেশনাল ।
তারপর যখন বললেন 'কী ম্যাডাম ,আপনি কিছু বলছেন না।'
'রেখা তখন বলেছিল 'না ,আমি আপনাকে পরে জানাবো।'
তাহলে একটু তাড়াতাড়ি জানাবেন কারণ আমাদের সামনে তো পুজো সংখ্যা বের হবে। একটু আগে বললে ভাল হয়।
 ঠিক আছে আপনি ভাবুন।'
বাড়িতে এসে রেখা মনোজকে কথাটা বলেছিল আর রিম্পদিকে ও ফোনে জানিয়েছে।
মনোজ বলেছিল' লেখালিখি তুমি করো। তুমি দেখো কি চাইছো? এব্যাপারে তো আমার কখনো তো তোমার ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দিই নি তবে তুমি দিতেই পারো  লেখাটা যদি বের হয় অনেকে পড়তে পারবে ।খারাপ কিছু নেই এতে।
তারপর রিম্পাদিকে ফোন করতে যাবে কি?
 রিম্পাদিই ফোন করে রেখাকে বলে ' ভদ্রলোক তো আমাকে ফোন করেছিলেন খুবই উৎসাহী মনে হল ।প্রথমে তো আমি একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম উৎসাহ দেখে যে বাবা এত উৎসাহ দেখাচ্ছেন নিশ্চয়ই লোকটা বেশ ভালো তো। লেখাগুলো প্রকাশ করবেন।  তুই তো কোথাও দিস
 না ।এতবার করে বলার পরও ।
পরক্ষনেই লেখালেখির ব্যাপারটা যখন আমি জিজ্ঞেস করলাম তাহলে ' কি হবে ? জানো লোকটা প্রফেশনাল পুরো।
রেখা বলল' সেই জন্যই তো  ,আমি একটু দ্বন্দ্বে পড়ে গেছি। আদপেও আমার লেখা  ভালো কি মন্দ ,সেটা আমি বুঝব কি করে বল তো
 রিম্পা দি ?আমি যদি টাকা দিয়েই আমার লেখাটা কে প্রকাশ করাই , তাহলে সেখানে লেখার  মান কি আছে ?আমি বুঝবো কী করে? ' 'কথাটা তুই ঠিকই বলেছিস । ছাড় না ,আমরা তো জানি তুই ভালো লিখিস। প্রকাশ হতে চাইছে যখন করে দে না আর তুই না পারিস আমি করে দিচ্ছি।
মনামী এই জন্যেই আমাকে কিন্তু নম্বরটা দিয়েছে। মনামী ও আমাকে ফোন করেছিল। ঠিক আছে। ছাড় ,তোকে এ নিয়ে ভাবতে হবে না।'
একটা রফা হয়ে গেছিল তারপর দেখা গেল সত্যি  কটা লেখা প্রকাশিত হল।
চারিদিকে একেবারে ধন্য ধন্য পড়ে গেল কিন্তু আমার আমি তো জানি, আমার মনের ভেতরে সে খচখচানি টা রয়েই গেল ।কত জনা কতভাবে উইশ করতে লাগলো কিন্তু মন থেকে সেই দ্বিধা, সেই টানাপোড়েন কিন্তু কিছুতেই সরাতে পারলাম না ।ভেতরে ভেতরে কেমন যেন একটা বিশ্রী রকমের অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছিল।'
 ওই পত্রিকায় লেখাটা দেখলেই তখন কেমন বিরক্তি লাগতো।   টাকা দিয়ে আমার লেখা প্রকাশ করলাম। সত্যি করে বিশ্বাস করো আমি না কিছুতেই ঘুমাতে পারতাম না রাত্রে।'
মনামীকে যখন ব্যাপারটা খুলে বললাম।
 মনামী বলল' ম্যাক্সিমাম তো এরকম ই হয় ।তুই জানিস না, তাই তুই এই নিয়ে বেশি মুষরে
 আছিস। মন থেকে ওটা সরিয়ে ফ্যাল তো।'
রেখাও নিজেকে একটু বোঝানোর চেষ্টা করল। ঠিক আছে বোধহয়  এরকমই এই  জগতটা।
কিন্তু খটকা লাগতে লাগল লেখা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে। লেখা প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল পুরোটা কিন্তু পুরো লেখা প্রকাশ হচ্ছিল না।
অবাক হয়েই রেখা ভদ্রলোককে ফোন করল 
 "কি ব্যাপার পুরো লেখা প্রকাশ করলেন না।
" হ্যাঁ ,করব ম্যাডাম। ধীরে ধীরে। চিন্তার কোন কারণ নেই। আসলে একটু ব্যস্ত আছি।
সে কথাই বিশ্বাস করল ও নিশ্চিন্তে বেশকিছু দিন দিন কাটাতে লাগলো কিন্তু রেখার ভেতরেও একটা কাঁটা যে রয়ে গেছে ,টাকার ব্যাপারটা। টাকা নিলেন প্রফেশনাল লোকের মত।অথচ লেখা প্রকাশ হলো না ।এই ব্যাপারটা আর সঙ্গে মনের ভেতরে ছিল একটা ভীষণ রকমের যন্ত্রণা টাকা দিয়ে লেখা প্রকাশ ভাবা যায়?'
রেখা তো কিছুতেই রাজি ছিল না। সবার কথাতেই সে রাজী হল।
যদিও ভদ্রলোক এরপর রেখার বিভিন্ন
 কবিতা ,গল্প চেয়েছেন ।
ম্যাডাম আরো কিছু গল্প, কবিতা, আপনি আমার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠান। অন্য কোন পত্রিকাতেও পাঠানোর চেষ্টা করব।
রেখা মনে মনে ভাবল সে কোন মানুষ সম্পর্কে এরকম বাজে ধারণা করাটাই উচিত না ।ভালো করে বোঝাও বুঝে ওঠার আগেই কারো সম্পর্কে রকম মন্তব্য করা উচিত নয়। নিজেই আত্মগ্লানিতে ভাবতে লাগলো।
যেরকম হামাল দিস্তা আদার টুকরো দিলে  তাতে যদি ছ্যাচা হয় ,দেখা যায় প্রথম অসাবধানতাবশত আদা কুচি চলে গেলে চোখে  জ্বালা যন্ত্রণা হয় কিছুক্ষণ চোখ টাকে বন্ধ করে রাখতে হয়।
রেখার ভেতর ঠিক সেরকমই জ্বালাটা ছিল। 
কোন মানুষ সম্পর্কে এরকম ধারনা করাটা উচিত নয় ।যদি প্রফেশনালি হবেন তাহলে আর কোন লেখা চাইতেন অন্য কোন পত্রিকায় পাঠানোর জন্য ?
ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ এটা মোটেই ভাবাটা ঠিক হয়নি।
 রেখার ভাবনার ভীত আর একটু মজবুত হয়েছে যখন দেখা গেল সত্যিই বেশ কিছু কবিতা ,গল্প অন্য পত্রিকাতেও প্রকাশ পেয়েছে।
এরপর কিন্তু রেখা ভুলে যেতে বসলো যে উনার পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে  রেখার লেখাগুলো প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল ,পুরোটা হয়নি। কেমন যেন একটা কৃতজ্ঞতাবোধে বাধো-বাধো
 ঠেকল ।
তার কাছে  আর বলতে পারল না।
এরপর ভদ্রলোক নানাভাবে হোয়াটসঅ্যাপে নানারকম মেসেজ পাঠাতে থাকলেন। প্রথমে সুপ্রভাত দিয়ে শুরু হলো তারপর একান্তে কিছু নিজের কথাগুলো, কষ্টের কথাগুলো ,শেয়ার করতে লাগলেন ।রেখাও ভাবলেন কি জানি হয়তো ভেতরে ভেতরে লোকটা এতটাই ভেঙে গেছেন। এইজন্য  রেখা ও সহানুভূতির সঙ্গে সমস্ত কথাগুলো শুনতে থাকে।
কিন্তু ভুলটা ভাঙ্গে রেখার একদিন ভদ্রলোক হঠাৎই রেখাকে প্রেমপ্রস্তাব এবং কিছু অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করে । রেখা ও ব্যাপারটাকে ধামাচাপা দিতে চেয়েছে এবং রেখা বুঝিয়ে দিতে চেয়েছে যে তিনি যে ব্যাপারটা করতে চাইছেন মোটেই ওনার বয়সের সঙ্গে শোভনীয় নয় এবং যাকে ব্যাপারটা তিনি বোঝাতে চাইছেন তিনি ওই ধরনের কাজের মেয়ে নন।
তারপরেও ভদ্রলোক পাগলের মত কিন্তু নানাভাবে নানা রকম মেসেজ পাঠাতে থাকে । ভেতরে রিপু গুলোকে যেন মহুয়া ফলের রস খাইয়ে মাতাল করে দিতে চাইতো । কিন্তু কখনো ভেবে দেখতেন না আদপেও অপর পক্ষে কতটা অভ্যস্ত হবেন।
মনে মনে ভাবতো লোকটা কি কোন সাইকো পেশেন্ট। এরকম কথাও বলা যায় বা লেখা যায়?
সাহিত্যিকরা তো শব্দ গুলোকে খুব সুন্দর ভাবে পরিবেশন করেন। কিন্তু উনি ছি: ছি :ছি : টলারেট করতে পারছিলো না রেখা অথচ নিরুপায়।
রেখাও এর থেকে মুক্তি পেতে চাইছিলো কিন্তু জানে না কিভাবে যে একটা অদৃশ্য সূত্রে বাঁধা পড়ে গেছে ।না পারছে বেরিয়ে আসতে, না পারছে এন্টারটেইন করতে। কেমন যেন অসহ্য হয়ে উঠেছিল।  বোঝা এরকমই হয় অক্টোপাসের মতো বন্ধন ছাড়াতে চাইলে ও ছাড়ানো যায় না। রেখার শাঁখের করাতের অবস্থা হয়েছিল।
যখন রেখাকে কোন কিছুতেই কাবু করতে পারলেন না।
তখন একদিন ফোন করে বললেন যে তাদের একটা কবি সাহিত্যিকদের সম্মাননা অনুষ্ঠান আছে, সেখানে আপনাকে সংবর্ধিত করা হবে একটা কার্ড আপনার বাড়িতে পৌঁছে যাবে অবশ্যই আসবেন।'
রেখা প্রথম ভাবল মনে মনে, যা হয়েছে হয়েছে ঠিক আছে ।কার্ড আসলে নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই l যাবে।
তারই মাঝে একদিন ফোন করলেন, বললেন আপনাকে বলা হয়নি । আপনাদের যে কবি স্বীকৃতির বা সম্মাননা দেয়া হবে আপনাদের মেডেল সার্টিফিকেট  , এর জন্য পে করতে হবে।
কথাটা শোনার পর রেখার মাথাটা ঘুরে গেল। বন বন করে ঘুরছে ।চোখে যেন সর্ষেফুল দেখছে। কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না।
তখনো রেখা চুপ করে শুনে যাচ্ছে পাগলের প্রলাপ।
'কারণ যারাই এই সম্মাননা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন, প্রত্যেকেই কিন্তু তারা এই পে করেই তাদের এই সার্টিফিকেট বা মেডেল নেবেন।
রেখা কিছুক্ষণ কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
 তারপর ভেবেচিন্তে  সিদ্ধান্ত নিল ।ভেতরে একটা তো বারুদের ঘর তৈরি হয়েছিল অপেক্ষা ছিল শুধু একটা স্ফুলিঙ্গের। দিনের খুব বিরক্তি অগ্ন্যুৎপাতের অপেক্ষায় ছিল।এত দিনের এই অসভ্যতামি  গুলো সহ্য করে গেছে রেখা। এখন কিছুতেই সেটা টলারেট করতে পারল না। বলল 'শুনুন কবিতা গল্প ,উপন্যাস, লেখাটা আমার নেশা। পেশা নয় ।যদি সার্টিফিকেট আমাকে পে করে নিতে হয় ,ওরকম সার্টিফিকেটের আমার কোন দরকার নেই ,আর ওই ধরনের কোনো অনুষ্ঠানে আমি যেতে চাই না।'
ভদ্রলোক একটু অবাক হয়ে বললেন'সে কি সবাই এই অনুষ্ঠানে আসার জন্য আগে থেকে আমাদের সঙ্গে কন্টাক্ট করেন আর আপনি এইধরনের একটা বিরাট  সুযোগ হাতছাড়া করবেন? আপনি চান না আপনার নাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ুক।
রেখা মাথাটা তখন একটু ঠাণ্ডা করে বললেন 'নিশ্চয়ই চাই কিন্তু সেই চাওয়া আমি টাকা দিয়ে নিজের কীর্তির তাজমহল বানাতে চাই না।'
'শুনুন এই আজকের দুনিয়াতে নিজের কীর্তির কথা আর নিজেকেই ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার করতে হয় ।এটা জেনে রাখুন। আপনি বোধহয় জানেন না ।আপনি তো এই লাইনে নতুন সেজন্য।'
কথাটায় একেবারে রেখার মাথাটা হঠাত করে কেমন ঝটকা মেরে উঠল। এতটাই তেতে আছে রেখা তবু নিজেকে বলছে মনে মনে রেখা থাম কুল, কুল ডাউন ।
তারপর বলল 'আপনাকে তো আমি বললাম যে আমি ওই ধরনের লেখক ,কবি ,সাহিত্যিকদের দলে নেই। কবি সাহিত্যিক স্বীকৃতি বা সম্মাননা যদি নিতেই হয় নিজের কৃতিত্বেই নেব। আমার লেখা যদি সকলের ভাল লাগে । এমনিই আমার কৃতিত্ব ফুটে বের হবে ।তার জন্য আমার টাকা দিয়ে কেনার কোন মানেই হয় না।'
'শুনুন কোনদিনও আপনার লেখা প্রকাশ পাবে না।'
' আমি চাই না আমার লেখা প্রকাশ পাক। আমি বললাম তো আপনাকে এটা আমার নেশা ।আমি ভালোবেসে লিখে যাব।'
'এ ভালোবাসার কেউ মর্যাদা দেবে না আপনাকে।'
রেখার ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছিলো শেষ পর্যন্ত বলতে বাধ্য হয়েছিল। ফোনটা কাটার আগে একবার জোরালো কন্ঠে বলল
'আর শুনুন একটা কথা বলি আপনাকে ,যে টাকাটা পে করা হয়েছিল আপনি তো পুরো লেখাটা আমার প্রকাশ করেন নি, সেটার কি হলো বলুন তো?
' আপনি চাইলে আপনাকে টাকাটা  ফেরত দিয়ে দিতে পারি।'
রেখা চুপ করেছিল।
যদিও সে টাকা আর ফেরত দেননি ভদ্রলোক।
রেখাও যেচে ফোন করতে যায়নি।
উল্টে ভদ্রলোকই অনেকবার মেসেজ পাঠিয়েছেন তার পরেও বলেছেন যে 
'আপনি লেখা পাঠান এর জন্য আর কোনো আপনাকে টাকা পে করতে হবে না কিন্তু রেখার কোনো কর্ণপাত করেনি ।
রেখা কোন রেসপন্স করেনি। হ্যাঁ ,হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটা রেখে দিয়েছিল। তারপর থেকে ভদ্রলোক আর কোন বাজে মেসেজ পাঠানোর সাহস
 পাননি।
 শুধু কোথায় কি কবি ,সাহিত্যিক, সম্মেলনে হচ্ছে সেগুলোকে মেসেজ করে পাঠিয়ে দিতেন এবং উত্তর পাবার চেষ্টা করতেন। শেষে একবার বললে মেসেজ পাঠিয়ে ছিলেন 'ম্যাডামের এখনো রাগ কমেনি।'
' ওই দিন থেকেই ওই ভদ্রলোকের সঙ্গে  যে এতদিনের টানাপোড়েন চলছিল বেরিয়ে আসার জন্য , সুযোগ এসে গেছিল। রেখা বন্ধন ছিন্ন করে ,যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো।'
রেখা যেন মুক্ত বিহঙ্গ নীল আকাশে ডানা মেলে উড়ে যেতে চায় আর মুক্ত বায়ু মনেপ্রাণে ভরে নিতে চায়।
  মনামীকে এই ঘটনাটা রেখা বলে নি। রেখা চায় নি মনামী এই ব্যাপারটা জানুক এবং ওদের ভেতরে যে সম্পর্কটা আছে ভালো সম্পর্কটা জিইয়ে  থাকুক । আর খারাপ দিকটা
 নিজের কাছেই রেখে দিয়েছিল।
শুধু রেখার মনের ভিতর তুষের আগুনের মতো জ্বলছিল।
এই ভদ্রলোক এমন ছিলেন কোন সম্পাদকের নম্বর পর্যন্ত দিতেন না ,চাইলেও বলতেন আমরা বলে না দিলে প্রকাশ পাবে না। তবুও
ভুলবশত একটা লিংক পাঠিয়ে ফেলেছিলেন 
তাতেই ওই পত্রিকার সম্পাদকের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ছিল। রিম্পা দি সেটা যত্ন করে রেখে দিয়েছিল।
আজ রেখার লেখা প্রকাশ পাচ্ছে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়।' সিঁড়ি' পত্রিকার ঠিকানা টা রিম্পা দি ওই ভদ্রলোকের দৌলতেই সেটাকে জোগাড় করে রেখেছিলেন, যার জন্য নিজের থেকে সেই 'সিঁড়ি' পত্রিকায় লেখাগুলো আবার দিতে থাকে এবং দেখা যায় যে ওই সম্পাদক তিনি উৎসাহিত করতে থাকেন এবং এখন ধারাবাহিকভাবে তার লেখাটা প্রকাশিত হচ্ছে ।এজন্য সত্যিই যতই লোকটাকে ঘৃনা করুক না কেন একটা যেন কৃতজ্ঞতা বোধ থেকেই গেল অন্তরে।
কিন্তু হঠাৎই ভদ্রলোকের হার্ট অ্যাটাকের খবরটা শোনার পর রেখার মনের ভেতরে একটা রেখাপাত ঘটল ।রেখা কোনদিনও মনেপ্রাণে চায় নি এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটুক। মানুষ তার আপন কর্মের দ্বারাই নিজের নিজের বৃত্তে আবর্তিত হোক এটাই চেয়েছে। কথাটা শোনার পর রেখা কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে গেছিল । মনামী যখন ফোন করে বলেছিল 'হ্যালো তুই 
কোথায় ?'
'কেন বলতো ?একটু ব্যস্ত আছি।
' কবি ,সাহিত্যিক, সাংবাদিক সৌমেন রায় মারা গেছেন ।'
কে?'
'আরে ভুলে গেলি এর মধ্যে? তোর লেখালেখি প্রকাশ হয়েছে।
' ও আচ্ছা ,আচ্ছা । কিভাবে?
' আর বলিস না গতরাত্রে হার্ট অ্যাটাক।
' সত্যি ভীষণ খারাপ খবর ।
'আরে সকালে ঘটনাটা ঘটেছে কিন্তু আমি অফিসে যাবার পথে তোকে আর ফোন করে উঠতে পারিনি ।আমি তাই তোকে জানানোর দরকার ছিল বলে তাই জানালাম।
' কি ভাল ছিল জানিস এই ভদ্রলোক।' 
রেখা কিছু বলতে পারলো না প্রথমদিকে ।যে ব্যক্তি বেঁচে নেই ,তাকে নিয়ে সমালোচনা করার কোন মানেই হয় না ।হ্যাঁ নিশ্চয়ই কারো না কারো কাছে নিশ্চয়ই ভালো ব্যক্তি, ভালোই হয়েই 
থাকুন না নয় ,সকলের কাছে উজ্জ্বল হয়েই
 থাকুন । কালো আঁধার  হয়ে থাকুক রেখার অন্তরে। 
রেখা শুধু বলল' উনার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।'
 মনামী বলল' আমার ভীষন খারাপ লাগছে জানিস।'
 রেখা বলল 'কেন কালকে হঠাৎ এরকম হলো? উনার কি কোন হার্ট ডিজিজ ছিল?
 আরে না শুনেছি ছেলে নাকি চলে যাবেন ভীষণরকম নাকি খাবার দাবার খাওয়া হয়েছে।  পরিবার সূত্রে জানা যায়   ।
' ও আচ্ছা ,আচ্ছা,।
 ঠিক আছে রাখছি।'
রেখা ভাবল এরকমও হয়। মানুষ যে পৃথিবীতে নেই অথচ কিছু বিরক্তি, কিছু ক্ষোভ ,কিছু ঘৃণা মানুষের ভেতরে কিছু ভালোবাসা ,সেগুলো থেকেই যায় ।এক মানুষ থেকে আরেক মানুষের ওপর নির্ভর করে ,সেই ব্যক্তি তার কি প্রতিক্রিয়া রেখে গেছেন ।
রেখার কাছে আজ কোন কিছুরই প্রতিক্রিয়া নেই শুধু একটাই কামনা যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন।  কৃতজ্ঞতাবোধ রেখার ভেতরে রয়েই 
গেছে।কারণ আজ উনার দৌলতেই রিম্পা দি অন্য পত্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছেন সে জন্য অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানালো। চোখ থেকে যেন  গড়িয়ে পরল নোনা চোখের
 জল ।সেই জলে কি ছিল বিরক্তি, ক্ষোভ ,ঘৃণা ,না ভালোবাসা? শুধু স্মৃতিতে রয়ে যাবে। নাকি বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাবে?'

০১ মার্চ ২০২২

কবি শরিফুর রহমান এর কবিতা




চলো গাঁয়ে ফিরি
শরিফুর রহমান

ফিরে যেতে ইচ্ছে করে গাঁয়ে
ভাল্লাগেনা স্বার্থপর -এ শহর, 
মেঠো পথে হাঁটবো খোলা পায়ে
মন টেকে না অট্টালিকার 'পর।

সোঁদা মাটির গন্ধ ভালো লাগে
ভাল্লাগেনা কালো বিষের ধোঁয়া,
সবুজবীথি হৃদয় মাঝে জাগে
মন স্বাধে না স্বপ্ন অাকাশ ছোঁয়া।

গাঁয়ের মানুষ বড্ড সরল মনা 
ভাল্লাগেনা মুখোশ পরা আপন,
পল্লী মায়ের বুকে ফলে সোনা
মন চাহে না শহরঘ্যাষা যাপন।

চলো ফিরি নীল-সবুজের কোলে
ভাল্লাগেনা হাজার সিঁড়ির তোপে,
গাঁয়ের স্মৃতি প্রাণে দোদুল দোলে
মন থাকে না ইট-পাথরের খোপে।

মমতা রায়চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১১৭





উপন্যাস 


টানাপোড়েন১১৭
ভালো থেকো
মমতা রায়চৌধুরী

সবদিক থেকে একটা কালশিটে পড়া চাপা কষ্ট  যেন অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে ছিল ।যেমন করে বেগুন পোড়ালে উপরটা কালশিটে পড়ে যায় আর ভেতরটা নরম।
মনোজের ঘরে সকালবেলা উঁকি দিয়ে ফোনের কথাবার্তাগুলো ভাসা-ভাসা রেখার কানে এসেছিল। স্কুলে গিয়ে সারাদিন সেই কথাগুলো তার মনের আকাশে উঁকি দিয়ে গেছে ।একটা অদম্য কৌতুহল যেনো কাজ করেছে ,ঠিক যেমন করে সামুক যখন ঢাকা খোল থেকে বেরোয় ঠিক তেমন। স্কুলে কাজ করেছে ঠিকই মন বসাতে পারেনি। বারবার শুধু মনে হয়েছে দাম্পত্য জীবনের রসদগুলো কি এভাবেই ফুরিয়ে যায়?
টেবিলে গাদাগুচ্ছ প্রোজেক্টের খাতা জমেছে। 
বেশ কয়েকটা খাতা দেখার পর আর মনেই হচ্ছে না খাতাগুলো দেখে। বারবার মনের ভেলায় পাড়ি দিচ্ছে বেখেয়ালি মন।কর্তব্যনিষ্ঠ শিক্ষিকা হিসেবে সুনাম আছে তার স্কুলে। সারাদিন হয় বই, না হয় ক্লাস, কিছু-না-কিছু বিদ্যালয় সংক্রান্ত কাজ রেখা করতেই থাকে। এজন্য  সারাদিন কাজের শেষে বাড়িতে ঘাড়ে ব্যথা নিয়ে ফেরে। ফিরে কিন্তু সে ঘাড়ের ব্যথাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়। বাড়িতে এসে তার কর্তব্যের কোন অবহেলা হয়না ।রেস্ট বাদ দিয়ে সাংসারিক কাজকর্ম করে যায় নিপুণভাবে ।শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা যেমন সাংসারিক জীবনে তার উজ্জ্বল উপস্থিতি ,তেমনি করে স্কুলের ক্ষেত্রেও সূর্য ওঠার মতো দৈনিক চিত্র লক্ষ্য করা যায়। শুধুমাত্র নজরের বৃত্ত থেকে সরে যায় তার শরীরের ক্ষেত্র।
শরীরটা যেন তাকে সাথ দিচ্ছে না কিন্তু মনের জোরটা তার এতটাই যে সেগুলোকে উপেক্ষা ক'রে চলে। ট্রেনে উঠে শরীরটাকে এলিয়ে দেয় সিটের সঙ্গে।  আজ যদি রিম্পাদি থাকতো তাহলে অন্তত তার সহমর্মিতার ছোঁয়াটুকু পেতো।হাতটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেখার পিঠে এসে রাখত। বসে বসে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে ।আজ কোথায় রিম্পা দি, কোথায় রেখা। আজও চলছে খাওয়া ,চলছে সবার সঙ্গে হাই-হ্যালো, শুধু পাচ্ছে না মনের খোরাক। তার মাঝেও তৃষ্ণার্ত চাতকের কাছে যেমন এক ফোঁটা বৃষ্টি অত্যন্ত মহার্ঘ্য, ঠিক তেমনি তার তৃষ্ণার্ত মরুভূমিতে তার নেশা লেখা ,লেখনি শক্তি। লেখার মধ্যে দিয়েই ফুটিয়ে তোলে দৈনন্দিন জীবনের চাওয়া পাওয়া দুঃখ কষ্ট ছোট ছোট সুখানুভূতি ,খুনসুটি ।এ সমস্তই তর মনে এসে সঞ্চিত হয়। ট্রেনে আস্তে আস্তে এসবই ভাবছিল রেখা ।
হঠাৎই ফোনের আর্তনাদ শোনা যায়। প্রথমে রেখা ফোনটা রিসিভ করেনি কিন্তু ফোনের আর্তনাদে এবার তাকে ফোনটা ধরতেই হল।
 বলল  'হ্যালো'
ম্যাডাম কালকের পর্ব টা পাঠান নি ।
একটু অবাক হয়ে রেখা বলে' হ্যাঁ পাঠিয়েছি তো'।
হ্যাঁ ,পাঠিয়েছেন। কিন্তু আপনি বলেছিলেন যে দু একটা জায়গায় ভুল আছেএকবার ফ্রেশ করে পাঠাবে ন?'
জিভ কেটে' ও হ্যাঁ ভুলে গেছি ।সত্যি ভীষণ ভাবে দুঃখিত।'
গাব ফল খেতে গিয়ে কাকের গলার ভেতরে যখন আঁটি ঢুকে যায় তখন সে ভাবে, সে খুব ভুল 
করেছে l রেখার ও ঠিক তেমনি অবস্থা হয়েছিল।
ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে ভদ্রলোক বললেন' না ঠিক আছে ।আজকে আপনি তাহলে দুটো পাঠিয়ে দিন।'
'ঠিক আছে। তাই হবে।'
ফোনটা কেটে মনে মনে ভাবছে' বললাম তো পাঠিয়ে দেব কিন্তু খুব চাপ আছে।
শরীরটা তো সাথ দিচ্ছে না। কিন্তু মনের জোর হারালে তো হবে না এই লেখাযই তাকে প্রাণশক্তি জুগিয়ে যাচ্ছে । কাছেই লেখা কমপ্লিট করতেই হবে।'
এসব ভাবতে ভাবতেই তার ভাবনা উড়াল থামিয়ে দেয় ফোনের আর্তনাদ।
একে  তো ট্রেনেতে ভিড় ।তাও রক্ষে যে জায়গাটা পাওয়া গেছে । ব্যাগ হাতরে হাতরে আবার ফোনটা বের করল। বের করতে করতেই গেলো ফোনটা কেটে ।
ফোনটা বের করে নম্বরটা চেক করতে  দেখতে যাচ্ছে কে ফোনটা করেছে ?এমন সময় আবার ফোন বেজে উঠল ।
'ও বাবা, এত রিম্পাদির ফোন।'
"হ্যালো'
"কি ব্যাপার রে ।কোথায় আছিস?'
এখান থেকে চলে যাবার পর তুমি যেন সব ভুলে গেছ। এ সময় কোথায় থাকতে পারি বলো?'
রিম্পা দি তো হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে' হ্যাঁ, ঠিকই বলেছিস ।আমি তো বাড়িতে ।তাই আমি ভাবলাম তুই ও বাড়িতে।'
' তুমি এ সবই ভাবতে থাকো ।কাছে পিঠে চলে গেছ তো ,ওই জন্য বলো ?'
'হ্যাঁ ,এবার তুই ট্রেনে। বুঝতেই পারছি ট্রেনের আওয়াজ, ভিড় ।তারমানে স্কুলে গেছিস ।একদম ঠিক ।
আচ্ছা পিকনিকে যাবি তো ?যেতে কিন্তু হবে ।না করতে পারবি না, আর মনোজকে বলেছিলি?'
' ওর কথা ছাড়ো তো  যেতে হলে আমি যাব কিন্তু আমার শরীরটা জানো তো কিছুদিন ধরে সাথ দিচ্ছে না।
" আরে ছাড় না  মনটাকে ঠিক রাখ , শরীর ঠিক হয়ে যাবে। বলেই হো হো হো করে হাসতে লাগলো।
তারপর বলল' তোর সঙ্গে  যতই হাসি-ঠাট্টা করি না কেন ।তবে একবার তোর ডাক্তার দেখিয়ে নেয়া উচিত। মনোজকে বল। আমি কি তোকে নিয়ে যাব?'
রেখা বলল 'সে দেখা যাবে  ।
দেখি তোর দেখা যাক সেটা কবে হয় আবার এক যুগ পার করে দিস না যেন। আচ্ছা শোন
'তোদের মিড ডে মিল কবে থেকে ?'
ভালোকথা মনে করেছো এই মিড-ডে-মিল নিয়েএকটা না যা কান্ড হয়েছে না, তোমাকে না বললে আমার পেটের ভাত হজম হচ্ছে না ।যদিও এখন পেটে ভাত নেই । ছুঁচোতে পেটে  ডন 
মারছে। বাড়িতে গিয়ে খাবার খেতে হবে।।
 তবুও বলছি অনুরাধা দি   নাকি অসুস্থ । কাল যখন বেরোচ্ছি  ট্রেন ধরবো  বলে তখন বড়দি পঞ্চমীর হাত দিয়ে একটা কপি পাঠিয়ে
 দিলেন ।
আমি বললাম কি এটা?
 ও বলল 'আমি কি দেখেছি নাকি? বড়দি দিতে বললেন তাই আমি ছুটে এসে দিচ্ছি 
আপনাকে ।"
'ওদিকে বড়দি শুনতে পেয়ে জানলা দিয়ে বলছেন এই লেখাটা পঞ্চম শ্রেণীর পোটাল থেকে একটা মেয়েদের লিস্ট বার করে আর ফোন নম্বর বার করে তোমাকে দেয়া হয়েছে। অনুরাধা দি তো অসুস্থ ।মিড-ডে-মিল সংক্রান্ত মেসেজ পাঠাতে হবে ,সঙ্গে ওদের ফোন করে দিতে হবে একটু একটু করে দিও   ।'
'কি বলি বলো তো ?  না করতে পারি না ।আমার হয়েছে যত জ্বালা।'
' সে তো বুঝলাম ।ব্যাপারটা কি হয়েছে
 বাবা  বল না আমার জানতে ইচ্ছে করছে। আমার আর তর সইছে না। উগলে দে তাড়াতাড়ি।'
কোন মা কুকুর তার সন্তানের জন্য খাবার সঞ্চয় করে এনে যেমন উগলে দেয়, উদগ্রীব হয়ে থাকে তাকে খাবার খাওয়ানোর জন্য। ঠিক সে রকম।
রিম্পা দি এমনভাবে কথাগুলো বলল যেন মনে হচ্ছে মনের ভেতরে একটা আকুলি-বিকুলি চলছে কি মজার কান্ড হয়েছে ,সেটা শোনার জন্য। একজন গার্জেনকে যখন ফোন করা হলো। ফোন ধরে কি বলল ' জানো?'

রিম্পা দিয়ে একদম যেন জাঁকিয়ে বসেছে শোনার জন্য কোন দিকে ধ্যান নেই ।তপস্বী যেমন তপস্যা করতে বসলে তার অন্য কোন দিকে ধ্যান থাকে না ।ঠিক সে রকম।'
আরে জানবো কি করে ?কখন থেকে শুধু জানো জানো বলছিস ।বলে ফেল না।'
যেই ফোনটা ধরল ধরে বললো
"হ্যালো"।
জান রিম্পা দি যখন আমি বললাম ভুবন মোহিনী গার্লস হাই স্কুল থেকে বলছি।
 তখন ঐ গার্জেন কি বলল 'জানো ?
 বললো  'কেন ফোন করেছেন বটেক?'
 যখন আমি বললাম' আপনার মেয়ের নাম লক্ষী মুর্মু।'
গার্জেন বলল ' ত আছে বটে।'
আমি বললাম' সামনের মাসে 3 তারিখে মিড ডে মিল দেওয়া হবে।'
গার্জেন একটু অবাক হয়ে বলল''কি আছে বটে?'
আমি যতদূর বুঝলাম এ গার্জেন এর ছেলেমেয়েদের পড়া এবং স্কুল সংক্রান্ত কোন বিষয়ে যোগাযোগ নেই  ।
আমি বললাম চাল আরো আনুষাঙ্গিক বিষয় গুলো  দেয়া হবে।'
সবথেকে অবাক লাগল  কি 'জানো ?'
রিম্পা দি বললো ' কি?'
গার্জেন আমাকে বলছে' তু লিয়ে লে বটেক।,'
আমি তখন বললাম' কি বলছেন আপনি ?নিয়ে নেব মানে?'
তখন বললো 'আমাকে জ্বালাস নি তো বটে।'
আমি বুঝলাম যে আমার কথা বলাটাই বৃথা।
' সে তো রীতিমতো নেশায় বুঁদ হয়ে আছে।'
এমন সময় ফোনে আওয়াজ পেলাম ওর বউ এসে বলছে' তু কার সঙ্গে কথাটো বুলছিস?
দেখি বলছে 'তু কথাটা ক্যানন বুল না'।
তখন সেই মহিলা ফোনটা নিয়ে বলছে 'কে বুলছিস?'
তখন আমি আবার বললাম' আমি স্কুল থেকে বলছি।
তখন দেখলাম একটু সপ্রতিভভাবে বলল 'ম্যাডাম আছিস কেনে?'
আমি বললাম, ' হ্যাঁ, মিড ডে মিল এর জন্য বলছিলাম।'
'কোন দিন টা তো যেতে হবেক দিদিমুনি'
"সামনের মাসের 3 তারিখে।'
"উর কথাটো তো কিছু মুনে করিস নি।
 ও তো লেশা ভান করে আছে লা?
আমি ঠিক পৌঁছেটো  যাবক।'
' ঠিক আছে।'
 ফোনটা নামিয়ে না আমি কি করব হাসবো 
না , না কাঁদবো ,কি করবো? আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না ।'
ওই লোক যখন বলল যে তুই লেলে  বটেক।
আমি ভাবছিলাম যে বড়দি কি দায়িত্ব 
দিলেন ।আজকাল কিনা করতে হচ্ছে আমাদেরকে। '
বললাম বড়দিকেও ।
বড়দি বললেন 'তাহলেই ভাবো। তবে কিছু ভেবো না রেখা ।মানুষের সঙ্গে জনসংযোগটাতো 
হচ্ছে বল। কত ধরনের বিচিত্র মানুষ ,তাদের জীবনযাপন ,তাদের কথা বলার ভঙ্গি স,বকিছুই আমরা জানতে পারছি এটাও দরকার আছে।
সম্পর্কে আরও সমৃদ্ধ হতে পারছি আমরা।'বড়দি আমার চোখ মুখের অবস্থা দেখে নিজেও হাসতে শুরু করলেন আর পিঠে মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন' এগিয়ে চলো ,এগিয়ে চলো।'
 রিম্পা দিয়ে বলল' কি কান্ড রে।'
তবে একটা কথা বলি তোর কিন্তু উপন্যাসের চরিত্রগুলো তোর চোখের সামনে ভিড় করছে এবং তাদের ডায়লগগুলো এটাই কাজে লাগিয়ে দে।
ইতিমধ্যেই ট্রেনের হুইসেল বেজে উঠল মদনপুর স্টেশন ছাড়লো কল্যাণী স্টেশন এর দিকে এগোতে শুরু করলো বললো শোন রাখছি তাহলে পিকনিকে আসছিস কনফার্ম মনে থাকে যেন কোন অজুহাত শুনবো না ভালো থাকিস।
রেখা  মনে ভাবল 'ভালো থাকিস, ভালো 
থেকো ,এই ভাবনাগুলো যতক্ষণ মনের মধ্যে রাখবো ।ততক্ষনে ভালো থাকবো। ভালো থাকাটা তো এভাবেই ।এজন্যই মনের ভেতরে বেশিক্ষণ কষ্ট চেপে রাখতে চাইছি না ।দুদিনের এই পৃথিবীতে এসেছি ।যত কষ্ট চেপে রাখবো ,ততই কষ্ট পাবো.। গানের একটা লাইন মনে পড়ে গেল 'পারবো না ছুঁতে শুধু ,স্বপ্নে এসেই বলব তুমি ভালো থেকো।'টানাপোড়েনের এই জীবনে শুধু এটাই বলব ভালো থাকার মানুষগুলো সবাই ভালো থাকুক। ডানায় ডানায় ভর করে, উড়াল দিয়ে চলুক ভালো থাকার বার্তা।

মমতা রায় চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১১৬




উপন্যাস 


টানাপোড়েন ১১৬
মনের হদিস কে বা জানে?
মমতা রায় চৌধুরী

ভোরের দিকে সবেমাত্র চোখটা লেগেছে অমনি ফোন বেজে উঠলো।ফোনের আওয়াজে রেখার বুক ধড়ফড়ানি শুরু হল। আশ্চর্য হয়ে ভাবলোএত সকালে কে করবে? আর কি কারণেই বা প্রথমেই যতসব অশুভ কথাগুলোই মনে আসতে থাকে। তবুও ভয়ে ভয়ে গিয়ে ফোনটা রিসিভ করে। ভাল খারাপ যাই হোক । তার তো সামনাসামনি দাঁড়াতেই হবে । কাজেই বিলম্ব না কোরে ফোনটা তুলে বলে ''হ্যালো'। 
প্রথম দিকটা একটু চুপ থাকে তারপর যখন আবার বলে 'হ্যালো '।
তখন অন্য পক্ষ উত্তর দেয়' দিদি আমি' সমু' বলছি।'
হঠাৎই সোমদত্তার ফোন আসে রেখার কাছে।
একটু অবাক হয়ে যায়। এতদিন পর
ফোন  করেছে, কি ব্যাপার? ভেতরে একটা কৌতুহল থেকেই যায়। একেবারে বিছানায় উঠে বসে রেখা। ঠিক শুনলো তো গলাটা।
সব ভাবনার অবসান ঘটিয়ে বলল কে সমু?
একটু নীরব থেকে উত্তর দেয় ', হ্যাঁ, দিদি।'
'এত সকাল বেলায় ফোন করছিস? সব ঠিক আছে তো? কি হয়েছে? কাকু ,কাকিমা ঠিক আছে?'
 যদিও কালকে কাকু কাকিমার সঙ্গে কথা হলো রাত্রের মধ্যে আবার কি হলো মনে মনে ভাবল।
' হ্যাঁ ,সবাই ঠিক আছে।
 'তাহলে হঠাৎ ফোন করলি?'
একটু চুপ করে থেকে বলে' আজ পার্থর বিয়ে?'
'কার বিয়ে?'
'দিদি, পার্থর বিয়ে।'
'ও পার্থর বিয়ে। তা ভালো কথা তো?'
তুইতো সংসারটা করলি না ।এবার তোর জন্য আর কত দিন ওয়েট করবে বল পুরুষ মানুষ তো।'
'হ্যাঁ ঠিকই বলেছ। যেন যখন আমি ছিলাম ওর সঙ্গে ও যেন কোন মেয়ের দিকে তাকাতো না সবার কাছে তো তার নিজের চরিত্রটা উদার মহৎ নির্ভেজাল একটা ভালো মানুষ হিসেবে   বাজিয়ে গেছে ।যত দোষ সব আমার ছিল।'
হঠাৎ আজ এসব কথা কেন বলছিস? তোকে তো কত দিন বলেছিলাম, কোন সমস্যা থাকলে আমাদের বল ।তখন তো কোন কথাই বলিস নি।'
'হ্যাঁ ,বলি নি এ কারণে ।সবাই আমাকে দোষারোপ করুক ।ভালো থাকুক ও।কিন্তু আমি এই দিনটার অপেক্ষায় ছিলাম দিদি ।এবার ওর মুখোশটা তোমাদের কাছে খুলবো।'
'তাতে কি লাভ হবে বল বিয়েটা তো আর আটকানো যাবেনা।'
"আমি বিয়ে আটকানোর কথা বলছি না। তাছাড়া আমি ওর সাথে সংসার ও করতাম না।'
'তাহলে?'
'কার সাথে বিয়ে করছে জানো ?আমি যাকে নিয়ে সন্দেহ করেছিলাম ঠিক তাকে ই।'
'কাকে?'
'ওর অফিসের কলিগ মোনালিসা।'
'মানে?'
'মোনালিসা ও ডিভোর্সি। ওর দুটো বেবি আছে।
জানো ইদানিং কি শুরু করেছিল প্রায় দিনই ড্রাংক হয়ে বাড়ি ফিরত। পাবলো তো এখন বুঝতে শিখেছে ওর বাবাকে ওই অবস্থায় দেখে ভয় পেত। ওকে কোনরকম সামলে নিয়ে বেহুশ অবস্থায় যখন অফিস থেকে গাড়ি করে ওকে দিয়ে যেত তখন ওকে আলাদা ঘরে শুয়ে দিতাম আর জানো আমাদের সঙ্গে যখন শারীরিক মিলন হতো তখন কাকে নাম ধরে ডাকতো মোনালিসা, মোনালিসা , দিদিভাই মোনালিসা। বলেই অঝোরে কাঁদতে থাকে। '
'তুমি ভাবো আমি যখন প্রথম কাউকে ভালোবেসেছিলাম। তাকে তো আমার বাড়ি থেকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। আমাকে বিয়ে দেয়া হলো পার্থর সঙ্গে ।আমি তো মেনে নিয়েছিলাম। ওকেই আমি খুশি রাখার চেষ্টা করতাম। কিন্তু তুমি ভাবো যখন দুজন মিলিত হতাম মানে শারীরিকভাবে তখন আমার স্বামী আমার জায়গায় অন্য মহিলাকে এক্সপেক্ট করছে ।ভাবতে পারো শুধুমাত্র যেন একটা যৌন ঋণ কাজ 
করত আমাদের ভেতরে। কেন যৌন ঋণ বলতো শব্দটা ব্যবহার করলাম। মনে হতো ওকে না পেয়ে চোখ বুঝে আমার জায়গায় মোনালিসাকে ভেবে তার শরীরে একটা বিদ্যুত খেলে যাচ্ছে।  মনে হত যেন সেই ঋণ শোধ দিচ্ছে।'
"এসব কি বলছিস সমু?'
'আমি ঠিক বলছি দিদি।'
'স্বামী-স্ত্রীর ভেতরে যে সম্পর্ক ।সে সম্পর্ক থাকতে হবে বিশ্বাসের দিদিভাই, থাকতে হবে 
ভালোবাসার ।বিশ্বাস যেখানে ভেঙ্গে যায়, সেখানে ভালোবাসা কি করে থাকে দিদিভাই?'
রেখা সমুর কষ্ট গুলো বুঝতে পারে।'
' সত্যিই তো ত বিশ্বাস ,ভালোবাসা এসব না থাকলে বন্ধন কিভাবে অটুট থাকবে?'
সমু তখনও বকে যাচ্ছে । আসলে এতদিনের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস টা যেন উপচে পড়ছে। শিব ভেঙেচুরে সব শেষ করে দিতে চাইছে।
'বলছে মনোজদার মতো তো সবাই নয় দিদিভাই।'
রেখাও চুপ করে থাকে।
আর ভাবে' সবাই মনোজকে কত ভালো মানুষ ভাবে। তাই রেখা বললেও রেখার কথা কি কেউ বিশ্বাস করবে?'
আজ পর্যন্ত সমুকে যেভাবে দোষারোপ 
করেছে  ।পার্থকে সেখানে বড় করে দেখানো হয়েছে কিন্তু সমুর ভেতরে জমানো কষ্ট, যন্ত্রণা 
বিশ্বাসভঙ্গের বেদনা আছে সেটা কখনো উপলব্ধি করতে পারে নি।'
'তুই এখন কি করবি ভাবছিস?তুই তো  ওই ছেলেটার সঙ্গে সংসার করবি নাকি?'
"তুমি খেপেছে দিদিভাই ।আমি জানি ও বিবাহিত ওর সংসার আছে। আমি জেনে বুঝে ওর সংসারটাকে নষ্ট করব?'ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়।'
রেখা সত্যিই অবাক হয় ।সে কিরে, তাহলে এতদিন যে তুই ওর সঙ্গে ….।'
সমুএকটু ম্লান হেসে বলে
'ভালোবাসার অভিনয়গুলো করেছি। কেমন সুন্দর অভিনয় করলাম বলো? পারফেক্ট না দিদিভাই?
ওটা না করলে যে আমি ডিভোর্স পেতাম না দিদিভাই।'
সত্যিই রেখা আশ্চর্য হয়ে যায় যে সমু ম্যাচিওর হয়ে গেছে ।ওর ভেতরে যে একটা মিথ্যা মিথ্যা খেলা গেছে চলে ,সেটা কেউ ধরতেই পারলাম না।
"এবার তুই কি করবি তাহলে?'
"না ভালোবাসার অভিনয় করলেও, ও কিন্তু আমাকে একটা কাজ দেখে দিয়েছে
 দিদিভাই ।সেজন্য আমি ওর কাছে কৃতজ্ঞ।
তবে হ্যাঁ, ও আমাকে ভালোবাসে দিদিভাই ।কিন্তু আমি সেই ডাকে সাড়া দিতে পারব না। ফাইতফুল গু ধারার মতো আমার ভেতরে বয়ে যাবে কিন্তু প্রকাশটা থাকবে না।আমি বলেছি যদি ভালোবাসো তাহলে আমাকে একটা কাজ দাও যাতে আমি আমার সন্তানকে যথাযোগ্য মানুষ করতে পারি।'
"তা তোর কথা রেখেছে?'
"হ্যাঁ দিদিভাই।'
'যাক যেভাবে ভালো থাকিস ,সেভাবেই থাকার চেষ্টা কর ।না বুঝেই তোকে অনেক কথা বলেছি বোন ।কিছু মনে করিস না।
তবে পার্থর মুখোশ খুলে দিয়ে ভালোই করেছিস। কাকিমা কাকু কে জানাব ব্যাপারটা।'
সমু একটু চুপ থাকে, তারপর বলে "তোমরা কেমন আছ দিদিভাই?'
'এইতো চলছে রে বোন।'
"তুই তাহলে এখন কোথায় থাকবি।'
'আমাকে তো একটা ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছে তবে আমি বলেছি আমি অফিস থেকে যে স্যালারি টা পাবো তার থেকে আস্তে আস্তে টাকাটা শোধ করে দেব।'
"বাহ, কোথায় নিয়েছিস?'
"ও ই  তো গড়িয়ার কাছে।
একদিন এসো দিদিভাই অনেক কথা হবে।'
"হ্যাঁ ,নিশ্চয়ই যাবো রে ।তুই ভালো 
থাকিস ।পাবলোর খেয়াল রাখিস।"
'হ্যাঁ দিদিভাই ,রাখি তাহলে।'
বাপরে ফোনটা ছেড়ে দিয়ে ধপ করে বসে পড়ে বিছানার উপর রেখা ।মানুষের মনের খবর কে রাখতে পারে ? এত কিছু ঘটে গেছে অথচ উপর থেকে ওকে দেখে কিছু বোঝা যেত না ।ওর ডেসপারেটলি এসব কান্ড কারখানা দেখে কত দোষারোপ করা হয়েছে। ঈশ্বর ওকে একটু মনে শান্তি দিন, আনন্দ দিন এই প্রার্থনাই করি।'
রেখা মনে মনে ভাবতে থাকে 'রেখার  ভেতরের যন্ত্রণার কথা  কাকে বলবে?'
বিষন্ন মন নিয়ে জানলার কাছে দাঁড়িয়ে প্রকাণ্ড মাঠখানাকে দেখতে থাকে। মনে হচ্ছে এই  মাঠ পেরোতে পারলে সব বাধা-বিপত্তি উধাও হয়ে যাবে ।
হঠাৎ কলিং বেলের আওয়াজ মাঠ পেরোনোর আগেই ছন্দপতন। কলিং বেল বেজে গেল' জয় গনেশ ,জয় গনেশ ,জয় গনেশ দেবা।'
রেখা ভাবলো নির্ঘাত মাসি এসেছে।
আস্তে আস্তে বেরিয়ে এসে দরজাটা খুলল।
' বৌমা"আজকে না কাজ করব না।
রেখা বলল 'কেন মাসি?'
আর ব'লো না আমার নাতিটার রাত থেকে পাতলা পায়খানা হচ্ছে। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছি তাই তোমাকে যাবার পথে একটু বলে গেলাম চিন্তায় থাকবে তো?'
'তা বেশ করেছ মাসি। না ,না তোমাকে কাজ করতে হবে না। তুমি নাতিটা টিটমেন্ট করাও গিয়ে।'
কিছুক্ষণ চুপ করে মাসি দাঁড়িয়ে থাকে 
"কি মাসি, কিছু টাকা পয়সা লাগবে?'
মাসি তখনও চুপ করে তারপর বলে' আসলে কখনো তো এভাবে চাইনি।'
"না ,না ছি :ছি :ছি: এভাবে বলছ কেন ?তুমি একটু ওয়েট করো।' বলেই রেখা ঘরে গিয়ে হাজার টাকা এনে মাসির হাতে গুঁজে দেয়।' 
" যাও নাতিকে  ডাক্তারের কাছে  নিয়ে যাও।'
মাসি দুই হাত জোড় করে বললো' তুমি যে কি উপকার করলে বৌমা'।
"না ,না ,এভাবে কেন বলছো মাসি? ঠিক আছে তুমি এস । রেখা খেয়াল করল মাসির দুচোখে চিকচিক করছে জল।
"যদি নাতি ঠিক থাকে। তাহলে বিকেলে আসবো।'
'না, তোমাকে আর বিকেলে আসতে হবে না কাজে।'
"মাসি একটু হেসে চলে গেল।"
'রেখা দরজাটা বন্ধ করে ভেতরে 
আসলো ।তাড়াতাড়ি করে কাজে হাত লাগাল কারণ আজকে তো স্কুলে যেতে হবে। সকালবেলায় প্রাতঃক্রিয়া না সারলে আবার হয় না ।বাথরুমে ছুটল গিজার টা চালিয়ে জলটা গরম করতে বসালো ।তারপর প্রাতঃক্রিয়া সেরে ফ্রেশ হয়ে  রাধা গোবিন্দের ভোগ চাপিয়ে রান্না ঘরে ছোটে।  রান্নাঘরে গিয়ে একদিকে বাচ্চাদের জন্য দুধ গরম করতে বসিয়ে দিল ।আজকে ওরা দুধ বিস্কিট খাবে ।রুটি করার সময় থাকবে
 না ।রাত্রে যে বাসন গুলো ছিল সেগুলো কে বেসিনে সাবান দিয়ে ভালো করে বাসনগুলো ধুয়ে নিল। তারপর ভেবে নিল ঘর মোছার মত আজকে পরিস্থিতি নেই। যা হবে হবে ।এবার আস্তে আস্তে এক এক  করে খাবার  বানাতে শুরু। আগের দিন রাত্রে যে সবজি গুলো কেটে রেখেছে , টোটাল তরকারি সে করতে পারবে না । সময় থাকবে না তাই সে ব্রকলি আর আলু ভাজা , রুটির তরকারি করে নিল অন্যদিকে একটু ডাল ,বেগুন ভাজা আর মাছের ঝাল।'আর বাচ্চাগুলোর মেটের তরকারি।
এতক্ষণ পর ফ্লাক্স থেকে চা টা ঢেলে কাপে নিয়ে বসল খেতে। অন্য আর এক কাপে চা ঢেলে মনোজকে দিতে গেল। গিয়ে দেখছে মনোজ কার সঙ্গে ফোনে কথা বলছে ।ও দরজায় নক করে চায়ের কাপটা সামনে টি টেবিলে রেখে দিয়ে চলে আসল।
রেখা মনে মনে ভাবছে 'কার সাথে এত হেসে হেসে কথা বলছিল ?শুধু রেখার সঙ্গে কথা বলতে 
কষ্ট ।  রেখার সাত সকালে একটা গান ভীষণভাবে মনকে নাড়া দিল' 'মনের হদিস কে বা জানে, সে হদিস কে বা জানে,, কি যে থাকে মনের 
ঘরে। কেউ জানে না ,কেউ জানে না.. যে ধারণ করে।'
তাই রেখা মনে মনে ভাবল' যা হচ্ছে হোক, অত গুরুত্ব দিতে চায় না ।বেশি ভাবলেই বেশি
 কষ্ট । হাতের কাজগুলো দ্রুত সেরে নিয়ে স্কুলে বেরোতে হবে। এত ব্যস্ততার মধ্যেও  সমু আর পার্থর দাম্পত্য জীবনের দৃশ্য টা যেন মনের পর্দায় হাওয়ায়  উড়ছে। কখনো মনে হয়নি তাদের নীলাভ আলোয়অন্ধকার আছে। মনের হদিশ পাওয়া সত্যিই দুষ্কর।

কবি মিতা নূরের কবিতা




শুধুই ভুল বুঝে গেলে
মিতা নূর


শুধুই ভুল বুঝে গেলে
তুমি আমার না পাওয়া গল্প হয়ে রয়ে গেলে , 
কেমন যেন নিঃস্ব লাগে, শূন্য লাগে সব, 
বুকের ভেতর, একটা কষ্ট কষ্ট অনুভূতি হয়, 
অনুভূতি টা ঠিক কষ্টেও না,বেদনারওনা, কেমন যেন একটা চিনচিন অনুভূতি! 
সেই অনুভূতিতে সূক্ষ্ম একটা আফসোস জড়িয়ে আছে, 
অবশ্য এইসব অনুভূতিতে কারোর জীবন থেমে থাকেনি, 
আচ্ছা একটু বলবে আমায়,কি অপরাধে ভুল বুঝে চলে গিয়েছিলে? 
ভেঙে চুরমার করে গুছিয়ে রাখা সপ্ন গুলো!
তুমি সেদিন পেরেছিলে চলে যেতে, কিন্তু আমি পারিনি যেতে, 
আমি চাইনি তোমার থেকে দূরে যেতে,চাইনি এভাবে আমাদের  বিচ্ছেদ  ঘটে যাক।
সেদিন তুমি দিব্যি চলে গিয়েছিলে, একবারও চোখে পড়েনি তোমার, 
আমার চোখের বর্ষন, অথচ এই চোখে সামান্য জল টুকুও তুমি সইতে পারতে না। 
তুমি চলে যাওয়ার পর আমি একটু ভেঙে গিয়ে ছিলাম, ঠিক একটু নয়, 
অনেকটাই ভেঙে গিয়ে ছিলাম, তবে বিশ্বাস করো তুমি, কাউকে বুঝতে দেইনি আমি, আমি যে ভেঙে যাওয়া ভাঙাচোরা একজন। 
প্রতি সকালের আকাশে তোমায় খুঁজতাম, শিশির ভেজা চোখে, 
তোমার মুখটা ভেসে উঠতো কুয়াশার ভীড় ঠেলে, 
তখন আকাশের ডানাভাঙা পাখির মতো ছটফট করে মরতাম।
এমন করে কতটা ভোর কাটিয়েছি, তোমার অপেক্ষায়, 
ভেবে ছিলাম এই বুঝি ফিরবে, সব অভিমান ভুলে! 
একা একা কাটিয়ে দিলাম কুড়ি বছর, কুড়ি'টা  বসন্ত, তবু্ও অন্য কোথাও যাইনি, 
এসেছিল জীবনে অনেকজন, কিন্তু তোমার মতো করে কাউকে আপন করে নিতে পারিনি। 
একলা হেঁটেছি, গরম বালিতে পা পুড়িয়েছি, তবু কারোর হাত ধরে বৃষ্টি ভেজা সুখ নেইনি, 
আজ দুঃখ বিলাসীনী...!
অন্ধকারে  একলা একা আমি, লজ্জায় মুখ ঢেকে রাখি, আমি চাই  কেউ না জানুক, 
কষ্ট গুলো চেপে রাখি, মাঝে মাঝে গোলাপ কাঁটার মতো বুকে বিঁধে। 
তখন রক্তাক্ত হই খুব, তবু আমি পারিনি মন থেকে তোমায় সরাতে, 
হয়তো আর পারবোও না, আবার যেতেও পারবোনা তোমার কাছে। 
একটা শক্ত প্রাচীর  দাঁড়িয়ে আছে, তোমার আমার মাঝে, 
আজও তুমি আমায়, শুধুই ভুল বুঝে গেলে  !

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২

কবি মোঃ ইসমাঈল এর কবিতা

 


রীতি
মোঃ ইসমাঈল 

আহা কতই না সুন্দর দেখতে ফুল
চোখ আসে জুড়িয়ে হয়ে যায় ব্যাকুল। 
যখনই নাকে আসে ফুলের ঘ্রাণ
পরম শান্তিতে জুড়ায় এ মন ও প্রাণ। 

মৌমাছিরা ফুল থেকে করে মধু আহরণ
তোমারই মনের গহিনে আমি করিবো বিচরণ।
ফুল ফুটে বসন্তের ঋতুতে
আমি হারিয়ে যাবো কেবল শুধু তোমাতে।

ফুল ফুটে ফল ধরিয়ে যায় সে ঝড়ে
মানুষ অভিনয়ের মাঝে যায় যে মরে।
অবশেষে হয়ে যায় ফুলের ইতি
অপরদিকে মানুষের বেঁচে থাকে শুধুই স্মৃতি।

মমতা রায়চৌধুরীর পত্রিকা





উপন্যাস




 টানাপোড়েন ১১৫
থাকো জাজ্জ্বল্যমান হয়ে

মমতা রায়চৌধুরী

টানা তিন দিন ধরে বৃষ্টির পর শীত প্রভাতের কাঁচা সোনালী রোদ্দুর যেন নতুন করে প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছে ।পথের ধারে নির্জীব গাছগুলোর শিশির
চাকচিক্যে ভরিয়ে দিয়েছে ।তবে বাতাস একটু 
কড়া আছে ।বেলা বাড়ছে রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া ,যাতায়াত ,পথিক সংখ্যাও বেড়ে 
চলেছে ।শীতকালে কাশ্মীরি কোম্পানির নানা রঙের শাল , রেপার এবং নানা রংয়ের বালাপোষ পথচারীরা শরীর ঢাকাতে  রবির ছটা যেন আরো বেশি বর্ণ বহুল হয়ে উঠেছে।
রেখা অনেকদিন পর ছাদের অনুচ্চ আলিশার ধারে দাঁড়িয়ে এই সব দৃশ্যগুলো দেখছিল। এখনও ঠিক করে উঠতে পারেনি আজ স্কুলে যাবে কিনা। তবে শরীরটা তো সাথ দিচ্ছে না  রান্না তো এখনো বসায় নি। না যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।মাসি এসে কাজ করছে। এই মাসিকে বেশি কিছু দেখানোর নেই। মাসিকে একবার বুঝিয়ে দেয়াতে , সব বুঝে গেছে।
এমন সময় রেখার ভাবনা পাশের বাড়ির 
দিকে ।নজরে আসলো শূন্য বাড়িটার বাইরের দিকে তাকিয়ে ,একটু দীর্ঘশ্বাস ফেলল।' বেশ কয়েকদিন হল চৈতির মা নেই। রেখা শুনেছি মেয়ের বাড়ি থেকে একটু বাবার বাড়ি হয়ে আসবে কেমন শূন্যতা ঘিরে আছে যেনো বাড়িটাকে অথচ এই ছাদে উঠলে চৈতির মা ও ছাদ থেকে কত কথা বলে। কখনো বা জানলার ধারে দাঁড়িয়ে কখনো বা রান্নাঘরের থেকে কত কথাই না 
হয়েছে ।যখন কোন মানুষই দূরে থাকে তখন বোঝা যায় তার শূন্যতা।কাছে থাকলে বোঝা যায় না। দূরে গেলে তার অভাব ততটাই প্রকট হয়ে ওঠে। এই শূন্য বাড়িটার সঙ্গে একটা মর্মান্তিক বেদনার স্মৃতি যেন জড়িয়ে গেল।
হঠাৎ মনোজ নিচ থেকে ডাকছে'রেখা, রেখা,রেখা
আ. আ আ…
এরপর মাসি ডাকলো ও বৌমা বৌমা বৌমা।
রেখা ছাদের থেকে উত্তর দিল ডাকছো মাসি?
'আরে ছেলে ডাকছে তোমায় একবার নিচে এসো তো।
ও আচ্ছা যাচ্ছি
মনোজ যে রেখাকে ডাকবে কল্পনার অতীত ছিল।
বাচ্চাগুলোর অসুস্থতার সময় দু এক কথা ওর সঙ্গে হত ।আজকাল যেন কথাটাও বড় প্রয়োজন মাফিক। তাই মনোজ ডাকছে শুনে একটু উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলো , পরক্ষনেই মনটা নিষ্প্রভ হয়ে গেল কারণ প্রয়োজন নিশ্চয়ই আছে এজন্যই মনোজ ডেকেছে এই ভেবে । তার স্বচ্ছ আনন্দময় দর্পণএর  মত উজ্জল প্রাণের উপরে ধুলোর পর্দা যে পড়ে গেছে। তবুও রেখার ইচ্ছে হয় ধুলোকণাকে  সরিয়ে ,দর্পণে আবার নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে। দেখতে ইচ্ছে করে তার প্রিয় মানুষগুলোর  প্রতিচ্ছবিও। যত অভিমান ক্ষোভ সব দূরে সরিয়ে ভেসে যেতে চায়, চলে যেতে চায় কাছের মানুষের টানে। রেখা বড্ড ভালবাসার কাঙ্গাল। তাই মনোজের ডাক শোনা মাত্রই ছাদের থেকে সিঁড়ি দিয়ে তরতর করে নামতে থাকে ।যত দ্রুত এসে পৌঁছানো যায় কিন্তু একি হচ্ছে তার শরীর আগের মত কেন সাড়া দেয় না ,নামতে গিয়ে ও সে দ্রুত নামতে পারে না। একটু নামতে গিয়ে হাঁপাতে থাকে। ওদিকে মনোজের ক্রুদ্ধ স্বর শোনা যায়"এতক্ষণ আসতে লাগে ?একটা কাজের জন্যই তো ডেকেছি, গল্প করার জন্য তো নয়?'
সব কথাগুলো শুনতে পায় রেখা। মনের ভেতরে যে খুশির হাওয়া  পাল তুলে দিয়েছিল, আস্তে আস্তে সেটা যেন চুপসে যেতে থাকে। তবুও আস্তে আস্তে আসে ।তারপর জিজ্ঞেস করে 'কি হয়েছে?'
'তোমাকে কখন থেকে ডাকছি। তুমি কি শুনতে পাও না? নাকি শুনেও, না শোনার ভান করো। কেন এরকম করো বলো তো ?এত কথা বলতে ত ইচ্ছে করে না , তবুও বলতেই হয়?'
রেখার বুকের ভেতরে লাগে তবুও শব্দটা ব্যবহার করার জন্য রেখার এতটাই অপ্রয়োজনে হয়ে N  ।,গেছে এতে রেখার কি দোষ আছে ভেবে পায় না ভাবার চেষ্টা করতেও চায়না এখন যত ভাবতে যাবে তত কষ্ট বাড়বে শুধু রেখার দুই চোখ জলে ভরে ওঠে। এসব কথাগুলো শুনতে চায় না। অথচ আজকাল  এসব কথা শুনতে হয় ।কি পেয়েছে এই সংসার থেকে?উপরি পাওনা হিসেবে পেয়েছে অবজ্ঞা, অবহেলা, অপমান।
তবুও মনের কষ্ট গুলোকে পাথরচাপা দিয়ে বলল 'কি হয়েছে বলো?  '
 'ওদিকে' সুরু' ফোন করেছিলো? '
রেখা একটু অবাক হলো' সুরো' দা?
 'ওরা কাজের মানুষ কতক্ষণ ফোন ধরে থাকবে বলো ?তোমার মত তো আর সাতসকালে কেউ ছাদে গিয়ে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে বেড়াবে না অত সময় ওদের কাছে নেই তাই না?
ফোনটা কেটে দিলো।'
রেখা শুধু বললো '  তা আমাকে কি জন্য প্রয়োজন তোমার বন্ধু র ?'
'কি অবাক কান্ড আমার বন্ধু কোনদিন তোমার সঙ্গে কথা বলে নি? না  কি কেউ কথা বলে না এমন ভাবে বলছো?'
রেখা একটু চুপ করে থাকলো তারপর ভাবলো 'তাই তো কথা তো বলে ।'
ফলে আর কিছু কথা বাড়ালো না।
"আর শোনো ' মা'  কিন্তু ,দিন তিনেক পরেই আসছে। শুধু এটুকুই বলবো বাড়িতে যেন শান্তি বজায় থাকে।'
রেখা যত মনোজকে দেখছে তত বেশি অবাক হয়ে যাচ্ছে।  বাড়িতে অশান্তির মূল তাহলে কি রেখা? এটাই বোঝাতে চাইল মনোজ।
আজ মনোজ ও একথাটা স্পষ্ট করে বলল।
রেখা বুকের ভেতর একটা চাপা কষ্ট ,যেন আর নিতে পারছি না , রেখা আস্তে আস্তে নিজের ঘরে চলে আসে। ওদিকে মাসি কাজ করে দিয়ে যাবার সময় বলল বৌমা ,আসছি মা।'
প্রতিদিনই মাসি চলে যাবার আগে রেখাকে এভাবে সম্মোধন করে যায় । উফফফ একটা কাজের মাসি তার এই মিষ্টি ডাকটা  এত কষ্টের ভেতরের যেন কোথায় একটু যন্ত্রণা উপশমের মলম লাগিয়ে দেয়। 
রেখা শুধু বলে হ্যাঁ, মাসি এসো।'
কতদিন কাকিমার সাথে কথা হয় না। নানা ঝামেলায় জড়িয়ে থাকার জন্য খবর নেওয়া হয়নি।
মা চলে যাবার পর থেকে কাকু কাকিমার কাছ থেকে একটু স্নেহ ভালোবাসা পায়। মাসের মানি অর্ডার টা ঠিক পৌঁছেছে কিনা খবর নেওয়া হয়নি। গতদিনের পেপারে বেরোনোর স্বপ্নীলের ছবিটা ওর কাব্যের অংশটুকু সযত্নে রেখে দিয়েছে রেখা খাটের পাশে রেখে দিয়ে ভাবলে একবার কাকিমার কাছে খবরটা নেয়া দরকার বলেই ফোনটা করলো। রিং হয়ে গেল ।ধরল না।
রেখা আবার ফোন করল। এবার মনে হচ্ছে ফোনটা ধরল। 'হ্যালো'।
রেখা বলল ও কাকিমা?
কাকিমা বললেন 'কে রে ননি?'
রেখা বলল  কাকিমা'।
কেমন আছিস মা গলাটা শুনে মনে হচ্ছে কিছু একটা হয়েছে? কি হয়েছে মা?'
রেখার চোখ তখনো জলে ভেজা। নিজেকে সাম্লে নিয়ে বললো'কই কিছু হয়নি তো।'সবাই ঠিক আছে তো?'
হ্যাঁ আমরা মোটামুটি ঠিকই আছি তবে তুই লুকিয়ে গেলে হবে মা তোর গলাতে মনে হচ্ছে কিছু একটা হয়েছে।
না না তোমরা সব সময় তো ওটাই ভাবো কিছু না কিছু হয়েছে বলো?
আমরা মা সন্তানের দুঃখ-কষ্ট আমরা ভাল করে বুঝি মা। যাক ভাল থাক এটাই সব সময় চাই।
তোমরা ও'মাসে মানি অর্ডারে টাকাটা পেয়েছো?
হ্যাঁ ,পেয়েছি ।একটু দেরি হয়েছে মা আর আমাদেরও জানানো হয়নি ।জানানো উচিত ছিল। একটু অন্য সমস্যা হয়েছিল?'
রেখা অত্যন্ত উদগ্রীব হয়ে জিজ্ঞেস করল 'কি হয়েছে? কাকু ঠিক আছে? তুমি ঠিক আছো তো?'
কাকিমা বললেন' হ্যাঁ আমরা সবাই ঠিক আছি।তোর কাকুর যা অবস্থা সেরকমই আছে আরে বুলু দির কথা বলছিলাম।'
কি হয়েছে বুলু কাকিমার?
 বুলুদি তো শয্যাশায়ী ।কদিন আর আয়ু আছে পৃথিবীতে কে জানে? একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। রেখা যেন স্পষ্ট শুনতে পেল।
'সেকি কাকিমা? ছোট ছেলে বৌমা দেখছে তো?'
'ঐতো দায়ে পড়ে' পাড়ার লোকে চাপ আছে না?'
তবে বুলু দি মনে হচ্ছে বড় ছেলের জন্যই প্রাণটা ধরে রেখেছেন।'
'নীলুদা তাহলে আর আসলো না। নীলুদাকে কি খবরটা জানানো হয়েছে।'
'কে জানে ওদেরকে তো বলেছি যে খবরটা জানাতে। ওরা জানাচ্ছে কিনা সেটাই তো বুঝতে পারছি না। না হলে বলো না মায়ের এরকম অবস্থা শুনে সে কি না এসে পারে?'
রেখা বলল 'তাই তো?
'খুব দেখতে  ইচ্ছে করছে।'
'চলে আয় না মা ।কতদিন আসিস না ।সেই যে এসেছিলি। ক দিন এসে থেকে যা। আমাদেরও ভালো লাগবে। তোরও মনটা একটু ভালো হবে।
রেখা মনে মনে ভাবল   মা আসলে পরেই যাবে। 
হ্যাঁ দেখছি কাকিমা ।আমারও মনটা ছুটে গেছে তোমাদের 
জন্য ।রোজই তো পাখির মত মন  ছুটে যায়। শুধু দেহটা পড়ে থাকে এখানে।
দেহ থাকে।প্রাণ থাকে না।
ঠিক আছে কাকিমা পরে কথা বলবো ভালো থেকো সবাই। রাখছি ফোন।
'হ্যাঁ মা ।রাখ। ভাল থেকো।'
ফোনটা নামিয়ে  রেখে ভাবে ,কিছু সময়ের জন্য তার মনটা প্রফুল্ল হয়ে উঠেছিল। নইলে এই সংসার তার প্রতি অন্যায় বিচার করে ,তাকেই শুধু দোষী সাব্যস্ত করে। কষ্টগুলো যেন হু হু করে বুকের ভেতরে ছুটে চলে। তবুও স্বপ্নীলের ছবিটাকে আঁকড়ে ধরে  বলতে থাকে 'যেখানেই থাকো ,ভালো 
থেকো ।কবিতা, কাব্য ,উপন্যাস এরমধ্যে তোমার প্রকাশ জাজ্জ্বল্যমান হয়ে থাকুক। শুধু আমি থাকি অন্ধকারে চাইলেও দেয়াল চিরে পারবে না দেখতে।চোখের জল শুধু পড়বে। তবুও তুমি চলো নীল আকাশে দু'চোখ মেলে আর হৃদয় পথে দু 'পা ফেলে। দেখবে হৃদয় আকাশের মত। আজ বলবো কি তোমায় প্লিজ নিজের খেয়াল রেখো।
আমি যেথায় যেখানে থাকি শুধু বলবো তুমি ভালো থেকো ।

কবি সেলিম সেখ এর কবিতা




 ভাষা
সেলিম সেখ 

বাংলা মোদের গর্বের ভাষা
পেয়েছি শত কষ্টে,
সেই ভাষাই শুনবে তুমি
সকল বাঙালীর ওষ্ঠে।

বাংলা ভাষা শুনে মোদের
প্রাণ ধড়ে তে ফিরে,
বাংলা ভাষার অপমানে
প্রাণ যে যায় ছিঁড়ে।

পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়েছে আজ
এই বাংলা ভাষা,
বিদেশীরাও পড়ছে বাংলা
বলছে দেখো খাসা।

বাঙালির রক্তে মিশে আছে
মোদের বাংলা ভাষা,
বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তায়
সপ্তম স্থানে আসা।

এই ভাষাতেই পড়ি লিখি
এই ভাষাতেই গাই গান,
বাংলা ভাষা না বললে
বাড়বে কীভাবে মান।

কবি সৈয়দ আহম্মদ আশেকী এর কবিতা




পালাব কোথায়
সৈয়দ আহম্মদ আশেকী


তোমাদের ছেড়ে আমি পালাব কোথায় ?
এ মমতাময়ী প্রেম-ভালোবাসা মাখা
মিশে আছে আমার প্রাণ।
আমার শত জনমের পূর্ব পুরুষেরা
এইখানে ঘুমায়ে আছে,
আমার বাবা ,আমার দাদা
তাঁর বাবার বাবা,দাদার দাদা
তাঁদের স্পর্শ পাই সর্বত্র।
মমতাময়ী মাটির পরতে পরতে
বৃক্ষের কান্ডে,ডালে,পাতায় মুকুলে, ফুলে
বাতাসের গন্ধে,সুস্নিগ্ধ নদী-ঝিলের জলে
পাখির কলতান,আলো,বৃক্ষ ছায়
তাঁদের ছেড়ে আমি পালাব কোথায়?

এইখানে মাটির ঘ্রাণে মিশে গেছেন নবাব সিরাজ
জন্মভূমি ছিলো যার বক্ষের পাঁজর,
দরাজ মুক্তি কন্ঠের ঢেউ শেখ মুজিবুর রহমান,
বহমানকালে শেরে বাংলা ফজলুল হক,
দেশ প্রেমের উপমা হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী,
শুদ্ধ মানব মাওলানা ভাসানী,
উদ্যমী প্রাণ পুরুষ জেনারেল উসমানী
স্বপ্ন সিঁড়ি-চুড়ায় স্বপ্ন ছিল;
মেঘের ফাঁকে ফাঁকে ধবল চাঁদ
উঠে হেসেছিল মায়ায় মায়ায়
তাঁদের ছেড়ে আমি পালাব কোথায় ?

টলমল নদীজল, সুনির্মল বায়ু
দিগন্ত বিস্তৃত আকাশ,সবুজের হাসি।
এইখানে আমার ঘর,গ্রাম,নগর,বন্দর
আমার স্বজন,প্রিয়জন,স্বপ্ন-কোলাহল। 
রাধারমণ,বাউল করিম,হাছন,লালন
ধানের শিষে কৃষকের আনন্দকেতন
ঢেউ খেলে আঁকাবাঁকা হাওয়ায়
এত সুখ রেখে আমি পালাব কোথায় ?

এ মাটি আমার বেঁচে থাকা
যে ঘ্রাণে বুকে সজিব-শক্তি সাহস
দুর্বার চিত্ত ,উম্মত্ত ইচ্ছা পৌরুষ।
জন্ম জন্মান্তরে বাঙালিপনা।
এ মাটি আমার মা;
পূর্বপুরুষদের মত আমিও
মাটির কোলে মিশে যাব
তবু নিঃশেষ হবো না কোনদিন।
এ বায়ু চরে শ্যমল আঁচল ধরে 
নির্মল ঘ্রাণ নেবো,সুবাস নেবো।
তোমাদের ছেড়ে, প্রেমের কোল ছিঁড়ে 
কভু কি ভাল থাকা যায়?
তোমার ছেড়ে আমি পালাব কোথায় ?

মনি জামান এর ধারাবাহিক উপন্যাস ১৪ পর্ব






ধারাবাহিক উপন্যাস


সেদিন গোধূলি সন্ধ্যা ছিল
১৪ তম পর্ব 

মনি জামান


জিকুর মৃত্যুর পরে আসমা খুব ভেঙ্গে পড়েলো ঠিক মত ঘুমায় না ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করে না,ছেলেটাকে ও কাছে পেতনা সব সময় শাশুড়ি মোমেনা বেগম নয়নকে কাছে রেখে দিতো,আসমা নয়নকে কাছে ডাকলে মোমেনা বেগম আসমার কাছে আসতে দিতোনা ছেলেকে।ছেলে নয়ন ও দাদী মোমেনা বেগমের কাছে থাকতে থাকতে মা ছাড়া দাদীর কোলে অভ্যস্ত হয়ে উঠলো,মা আর ছেলের দুরত্বটা বাড়ানোর জন্য মোমেনা বেগম মনে মনে সেই প্রথম দিন থেকে সুদুর প্রসারি এই কৌশল অবলম্বন করে সে সফল,যাতে মা আর ছেলের দুরাত্ব বেড়ে যায় কারণ মোমেনা বেগম মনে মনে চায় ছোট লোকের বাচ্চা আসমাকে এ বাড়ি থেকে বের করে দিতে।
আজ হোক কাল হোক মোমেনা বেগম সেই সুদর প্রসারি যড়যন্ত্রের ফসল মা ছেলের এই দুরত্ব সৃষ্টি।জিকুর মৃত্যু আজ দেড় বছর হয়ে গেলো এই দেড় বছরে আসমার জীবনে নেমে এল চরম নির্যাতনের এক ভয়ংকর অধ্যায়,জিকুর মৃত্যুর পর মোমেনা বেগম আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলো আসমা উপর এখন এই ছোটলোকের মেয়ে আসমা তার বাড়ির বোঝা হয়ে গেছে, তাই নিষ্ঠুর সব কৌশল একের পর এক প্রয়োগ করতে শুরু করছে।
আসমার কোন কাজে ত্রুটি না পেলে ও অহেতুক আসমাকে গালাগালি মার ধোর শুরু করলো,প্রতিবেশিরা কেউ কোন কথা বলতো না মোমেনা বেগমের ভয়ে।
সাংবাদিক ফিরোজ মাঝে মাঝে আসতো মোমেনা বেগমের বাড়ি আসমাকে দেখতে, কিন্তু মোমেনা বেগম ফিরোজের আশা একদম পছন্দ করতো না কারণ ফিরোজকে ভয় পেতো যদি ফিরোজ কিছু জেনে যায়,তাই কৌশল অবলম্বন করে একদিন মোমেনা বেগম ফিরোজকে ডেকে বলল,ফিরোজ আসমা এখন বিধবা তুমি এই যে আসা যাওয়া কর আমাদের বাড়ি পাড়ার লোকেরা কিন্তু কানাঘুষা করে। 
তুমি নিশ্চয় বুঝতে পারছো আর কি বলবো,মোমেনা বেগমের কথা শুনে ফিরোজ যা বুঝার বুঝে নিয়েছে,তারপর থেকে ফিরোজ জিকুদের বাড়ি আর কখনো যায়নি দুর থেকে দেখতো,আসমার কষ্ট আর নির্যাতন গুলো সাংবাদিক হিসেবে সকল খবর প্রতিবেশীদের কাছে নিয়ে নিতো,সব যখন শুনতো ফিরোজ নিজেই যেন কষ্ট অনুভব করতো।
ফিরোজ মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো আসমাকে বাঁচানোর একটাই পথ আসমাকে বিয়ে করা কারণ ফিরোজ আসমাকে পছন্দ করে,তাই একদিন আসমাকে ডেকে ফিরোজ নিজেই বিয়ের প্রস্তাব দিলো,প্রস্তাব শুনে আসমা ফিরোজকে বলল,এটা সম্ভব নয় ভাই। আমার মৃত্যু বেতীত জিকুকে এই মাটিতে শুয়ে রেখে আমি বিয়ে তো দুরের কথা আমি কোথাও যাব না মৃত্যু হলে এখানেই হবে কারণ জিকু আমার হৃদয়ে ভালবাসার রাজকুমার,আমার হৃদয়ে অন্য কাউকে আমি কখনো স্থান দিতে পারবনা ভাই।
ফিরোজ অবাক হয়ে শুনলো সেদিন আসমার কথা গুলো,ফিরোজ ভাবছে এই সমাজে কজন নারী ভালোবাসাকে এমন শ্রদ্ধার সাথে হৃদয়ে ধারণ করে এমন ভালোবাসা আঁকড়ে রাখে,আসমার কথা গুলো শুনার পরে আসমার প্রতি ফিরোজের আরো শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বেড়ে গেলো।
ফিরোজ ভাবলো আসমা কি সত্যিই মানুষ না কোন স্বর্গের দেবী যে এত নির্যাতন ভোগ করার পরেও স্বামী জিকুর ভালবাসা আঁকড়ে ধরে পড়ে আছে স্বামীর ভিটে!ফিরোজ সেদিন বলল,ভাবি স্যালুট আপনাকে যদি কোন সমস্যা হয় আমাকে শুধু একবার সংবাদ দেবেন আমি আপনার পাশেই আছি।আসমা মাথা নাড়িয়ে সেদিন সাই দিয়ে বলল,প্রয়োজন হলে অবশ্যই বলব ভাই।
ফিরোজ চলে গেলো কিন্তু ফিরোজ একবারও বুঝতে পারলো না আসমা আজ দুইদিন কিছুই খায়নি তাকে খেতে দেয়নি নিষ্ঠুর শাশুড়ি মোমেনা বেগম।এদিকে মোমেনা বেগম একের পর এক কৌশল অবলম্বন করে ও যখন আসমাকে বাড়ি থেকে তাড়াতে পারলো না,তখন একটা ভয়ঙ্কর যড়যন্ত্র মনে মনে ঠিক করে মোমেনা বেগম তার ভাইয়ের ছেলে বকাটে নিশাখোর যবুক আরমানকে ফোন করলো তারপর বললো,আরমান বাবা তুমি আমার বাড়ি একবার এসো কালকে জরুরী দরকার তোমার কাছে,আরমান বলল,কি এমন দরকার আমার কাছে,ফুফু বলেন কি হয়েছে।মোমেনা বেগম আরমানকে বলল, একটা কাজ করতে পারবি বাপ,আরমান বলল কি কাজ ফুফু?মোমেনা বেগম বললো,আমার বাড়ি আয় তারপর বলবো। আরমান পরের দিন ফুফু মোমেনা বেগমের বাড়ি এসে হাজির হলো,আরমানকে ফুফু মোমেনা বেগম বলল,বাবা তুমি ঐ ছোট লোকের বাচ্চা আসমার ঘরে রাত্রি ঢুকে  আসমার সাথে ধস্তাধস্তি করবে আমি ঠিক সেই সময় লোকজন নিয়ে ধরে ঐ ছোট লোকের বাচ্চাটাকে বাড়ি থেকে বের করে দেব।পারবিনা বাপ?তোকে অনেক অনেক টাকা দেব,আরমান বলল,পারবনা মানে কখন করতে হবে কাজটা?মোমেনা বেগম বলল,কাল রাতে।
পরের দিন রাত নামলো আসমা ঘরে থাকা কিছু মুড়ি খেলো,তাও মোমেনার বাড়ির বৃদ্ধ কর্মচারী মোবারাক চুরি করে কিনে দিয়ে গেছে আসমার কষ্ট না দেখতে পেরে।পরের দিন রাতে আসমা শুয়ে আছে তার ঘরে,দরজা এখনো দেইনি ভাবছে পরে দরজা দিয়ে ঘুমাবে।হঠাৎ আসমা দেখলো আরমান ঘরে ঢুকেই আসমাকে জড়িয়ে ধরলো,আসমা ধস্তাধস্তি করছে নিজেকে ছাড়িয়ে নেবার জন্য কিন্তু দুর্বল শরীর আসমার,না খেয়ে খেয়ে এতটাই দুর্বল যে আরমানের হাত থেকে নিজেকে ছাড়াতে পারলো না।
আরমান আসমাকে এত জোরে ধরেছে যে আসমার আর কিছুই করার নেই,আরমান একে পর এক আসমার শরীর থেকে শাড়ি ব্লাউজ সব খুলে ফেলেছে তারপর
আসমাকে ধর্ষণ করে ঘরে অপেক্ষা করছে আরমান মোমেনা বেগমের জন্য।
একটু পর মোমেনা বেগম পাড়ার লোক জন নিয়ে হাজির হয়ে ঘরে ঢুকে আসমাকে ধরে বাইরে নিয়ে এলো,আরমান মোমেনা বেগমের কথা মত পালিয়ে গেলো। মোমেনা বেগম লোকজনকে বলল,এই মেয়ে চরিত্রহীন আমার কথা তো কেউ এতদিন বিশ্বাস করনি আজ সবাই প্রমাণ পেলে তো?
কাল সকালে এই চরিত্রহীন ছোট লোকের বাচ্চার বিচার করে বাড়ি ছাড়া করা হবে আপনরা কি বলেন,সবাই বলল হ্যাঁ সকালে বিচার করতে হবে।আজ সবাই একসুরে কথা বলছে,আসমা নির্বাক,আসমার আজ কেন জানি মনে হলো পাষান পৃথিবীর জীর্ণ কুঠিরে আজ সংরক্ষিত তার ভালোবাসা বিসর্জন হলো,চূর্ণ হলো তার সব অহঙ্কার।জিকুকে হারানোর পর থেকে কত রাত কেটে গেছে একা,নির্ঘুম অশ্রু সজল দুটি চোখ,কষ্টের আলিঙ্গনে ছিলো এই ক্ষণিক জীবনে না পাওয়ার সব কষ্ট গুলো,আজ কারো প্রতি আসমার কোন অভিযোগ নেই,নেই পৃথিবীর প্রতি কোন অভিমান
আজ যা আছে সেটা তার ভাগ্যের প্রতি ঘৃণা,নিজেকে বড় একা লাগছে কেউ নেই তার আজ।



চলবে....

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৬৪




ধারাবাহিক উপন্যাস


শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত 
(পর্ব ৬৪)
শামীমা আহমেদ 

শায়লার ফোন ব্যস্ত পেয়ে শিহাবের ভেতরে যেন ঝড় বয়ে যাচ্ছে।।যেন সাজানো বাগানে আচমকা  কালবৈশাখীর তান্ডব। শিহাব বুঝতে পারছে না সে এখন কি করবে? শায়লার নাম্বারে কি কল দেবে বা দেয়া উচিত  হবে? কিন্তু এমনতো হতে পারে শায়লা তার অনিচ্ছাতেই কানাডায় কথা বলছে।পরক্ষণেই শিহাব ভাবলো, না,শায়লাতো কথা বলতেই পারে। শিহাবের মন  কেমন যেন  দোদুল্যমান হয়ে যাচ্ছে।তবে কি শায়লা অন্য কিছু ভাবছে? তবে যে আজ সারাদিন আমাদের সাথে সময় কাটালো? যদিও রেস্টুরেন্টে তাকে বেশ চিন্তিত লাগছিলো।তবে কি নোমান সাহেব শায়লার সাথে যোগাযোগে আছে? কই শায়লাতো কিছু বললো না?আর এতদিন নীরব  থেকে এখন সে কেন শায়লার খোঁজ করছে।কিন্তু শায়লাতো বলেছে সে আমাকেই ভালবাসে। শায়লাতো বারবার এটাই বুঝিয়েছে।আরাফকে আপন করে নিয়েছে। আরাফও শায়লাকে খুব পছন্দ করেছে।তাহলে কেন এতটা কাছে আসা? তার জন্য এতটা আকুল হওয়া? আবার কি তবে তার জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটতে যাচ্ছে? শিহাবের 
বিছানায় আর ভালো লাগছে না। মোবাইল নামিয়ে রেখে সে উঠে বসলো।  এক চাপা উত্তেজনায় ঘরময় হেঁটে চললো।এমন টেনশনের সময় সিগারেট  দরকার টেনশন কমাতে।কিন্তু সন্ধ্যা থেকে শায়লার ভাবনায় ডুবে থেকে একে একে সব স্টিক শেষ হয়েছে।এখন কি করা ? এত রাতেতো সিগারেটের দোকান খোলা নেই। শিহাবের ভেতর কিছু একটা হারিয়ে যাওয়ার আশংকা!
নোমান সাহেব আজ কিছুতেই ফোন কল ছাড়ছেন না।মনে হচ্ছে গত দেড়বছরের কথা সে আজ বলবে। অবিরত বলেই চলেছে,
সুইট হার্ট শাআলা।আই এম ভেরি সরি ফর মাই ডিলে।ডোন্ট মাইন্ড প্লিজ।ইন ফ্যাক্ট,আই ওয়াজ ওয়েটিং ফর ইউর রেস্পন্স!
শায়লা বুঝে নিলো,আসলে উনি ভেবেছিলেন আমি বিদেশ যাওয়ার জন্য নিশ্চয়ই অধীর আগ্রহে করে আছি।উনি ভেবেছেন মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়েদের মত বিদেশের পাত্রের জন্য আমি লোভী হয়ে আছি। সে শায়লাকে  খুবই সস্তা ভেবেছে।বারবার তার মুখে শায়লাকে  শাআলা ডাকটি অসহ্য লাগছে।
শাআলা,আই এম কামিংজাস্ট আফটার টেন ডেজ।প্লিজ, ফরগিভ মি,নাউ আই ক্যান আন্ডারস্ট্যান্ড, ইটস মাই ফল্ট,
এ প্রান্তে শায়লা একেবারে নীরব পাথর হয়ে আছে।শিহাবকে কি উত্তর দিবে সে? কি করবে এখন?
শাআলা,মাই চিল্ড্রেন লাইক ইউ ভেরি মাচ! ইউ আর দেয়ার মম। দে আর আলঅয়েজ আস্কিং এবাউট ইউ।প্লিজ,জাস্ট থিংক অফ দেম।
শাআলা,প্লিজ টক টু মি, প্লিজ রিপ্লাই মি,,প্লিজ ইউ গেট রেডি।ইউ প্যাক আপ ইউর এভরিথিং। আই উইল টেক ইউ উইথ মি হিয়ার ইন কানাডা।
প্লিজ, মাই লাভ,ডোন্ট বি স্যাড! 
শাআলা,প্লিজ, টক টু মি।প্লিজ রিপ্লাই মি,,
শায়লা এপাশে একেবারেই নিরুত্তর হয়ে রইল। অচেনা একটি কন্ঠে শায়লার নাম উচ্চারিত হচ্ছে শায়লার ভেতরে হু হু করে উঠছে। কিছুতেই তা ভাললাগছে না। সন্ধ্যার ফোনকলের শিহাবের কন্ঠের প্রলেপ এখনো তার কানে লেগে আছে।
নোমান সাহেব কোন সাড়া না পেয়ে অগত্যা বললেন,
ওকে,ডিয়ার,আই এম বিজি নাউ।টক টু ইউ লেটার।প্লিজ,গেট ইওর মাইন্ড রেডি টু কাম টু কানাডা।আই এম ইন এ হারি নাউ,,,
সো,বাই ফর দিস মোমেন্ট! লাভ ইউ শাআলা।
শাআলা,ডু ইউ লাভ মি? বাই হানি!
নোমান সাহেবের এই বিরতিহীন কথা শায়লার ভেতরে এঁফোড় ওফোঁড় হয়ে বেরিয়ে গেলো! বুকের ভেতর তীব্র যন্ত্রণায় রক্তক্ষরণ হতে লাগলো।তার রক্তের ভেতর একটাই স্পন্দনের পুনরাবৃত্তি ,শিহাব, শিহাব, শিহাব!শায়লা একেবারে নীরব নিথর হয়ে ঘরের দেয়ালে দৃষ্টি নিয়ে মন ভাবনায় ডুবে রইল। অপলক দৃষ্টিতে  শুধু শিহাবের মুখটিই ভেসে উঠছে!
শিহাব বুঝতে পারছে না কি করবে? আইনি জটিলতা পার করে শায়লাকে তার কাছে আনা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এখুনি শায়লার সাথে কথা বলতে হবে তার।শিহাব এগিয়ে গিয়ে মোবাইলটা হাতে নিলো।শায়লাকে ছোট্ট করে একটা মেসেজ লিখলো।
শায়লা ঘুমিয়েছ? 
মেসেজের শব্দে শায়লা ভাবনার জগত থেকে ফিরে এলো।শিহাবের নাম দেখে দ্রুতই মেসেজটি দেখে নিলো। সাথে সাথে রিপ্লাই দিলো,না জেগে আছি। রিপ্লাইটি পৌঁছাতে এক দন্ড সময়ের মধ্যেই শিহাবের কল চলে এলো, শায়লা রিসিভ করে হ্যালো  বলতেই, জানার প্রবল আগ্রহ আর উত্তর শোনার উৎকন্ঠায়  জানতে চাইল, শায়লা তোমার ফোন বিজি পাচ্ছিলাম কেন? 
শায়লা একটু সময়ও নষ্ট না করে উত্তর দিলো,কানাডা থেকে কল এসেছিল।
কি বললেন উনি?
বললেন, উনি দশদিন পর বাংলাদেশে আসছেন আমাকে নিয়ে ফিরবেন।
শিহাব কথাটি শুনে শিহাবের শরীরের ভেতর দিয়ে মনে হলো একটি শীতল অনুভুতি বয়ে গেলো।যা  শায়লাকে নিয়ে তার মনের ভেতর জ্বলে উঠা শত আশা আকাঙ্ক্ষার বাতিটি যেন ধপ করে নিভিয়ে দিলো।
শিহাব হালকা করে বললো,তুমি কি বললে? 
শায়লা নীরব হয়ে রইল।
শায়লার নিরুত্তরে শিহাব যেন ভেঙে পড়লো।
শায়লা,কিছু বলো।তুমি কি বললে? তুমি কি তার সাথে চলে যাবে? শায়লা কথা বলো।উত্তর দাও। শিহাবের আবেগী কন্ঠে শায়লার চোখ দিয়ে কান্নার ধারা নেমে আসছে। শায়লা কোন কথাই বলতে পারছে না।সে শিহাবকে এই বলেও আশ্বস্ত করতে পারছে না, শিহাব তুমি ভয় পেও না। কিছুক্ষন পর শিহাবের উৎকন্ঠাকে দমাতে শায়লা বলে উঠলো,,শিহাব  নোমান সাহেবের কথার আমি কোন উত্তর দেইনি।কারণ,আমি তোমাকে ছেড়ে যেতে চাই না। আমি তোমার কাছেই থাকতে চাই।তুমি আমাকে বেঁধে রাখতে পারবে না শিহাব? আমি তোমার সাথেই জীবন কাটাতে চাই।
শায়লার কথাগুলো শিহাবের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনলো। শায়লা তাকে ছেড়ে যাবে না, শায়লা তার হয়েই থাকবে! শিহাব মনকে আনন্দের খবরটি জানিয়ে দিয়ে, একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লো। শায়লাকে কাছে নেয়ার আবেগে শিহাব বেশ আদুরে কন্ঠে বলে উঠলো,শায়লা তুমি আমার খুব কাছে আসো। আমার বুকের মাঝে তোমার আবাস গড়ে নাও।আমি সকাল বিকাল রাত সারাটাক্ষন  শুধু তোমাকেই দেখতে চাই।
শায়লা তুমি আমাকে কাছে টেনে নিবে না?
এবার শায়লা অনেকটা স্বাভাবিকে ফিরে এলো।সন্ধ্যা থেকে ঘটে যাওয়া সবকিছুকে তুচ্ছ করে শায়লা শিহাবের মাঝে ডুবে গেলো।খুবই মোলায়েম কন্ঠে, মাদকতায় পূর্ণ কন্ঠে  শায়লা বললো,হু, এসো আমার খুব কাছে।
ফোনের দু'প্রান্তে দুজন যেন দুজনের পরশ অনুভব করছে। দুজন দুজনার নিঃশ্বাসের দুরত্বে খুব কাছাকাছি অনুভবে একেবারে মূর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে যেনো! 
কিছুক্ষন পর শিহাব বলে উঠলো, শায়লা তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।
আমারও মন চাইছে তোমাকে দেখার,তোমার একটা ছবি পাঠাবে? 
এ কথা বলতেই, শিহাব ভিডিও কলে চলে এলো। দুজন দুজনকে দেখে যেন শান্তি পেলো।
কি আজ ঘুমাতে হবে না? শায়লার প্রশ্নে শিহাব বলে উঠলো, কেন এক রাত কি আমার জন্য না ঘুমিয়ে কাটানো যায় না?
বেশ যায়,
তবে থাকো জেগে।জানো শায়লা তোমার ফোন বিজি পেয়ে আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।
কেন আমার হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে? 
হ্যাঁ, তোমাকে যদি হারিয়ে ফেলি এই জীবনে আর আমি কাউকে  বিশ্বাস করবো না জেনে রাখো।
না, আমি হারাবো না।আর তোমাকেও একা থাকতে হবে না।
কিন্তু কিভাবে শায়লা? কিভাবে তা সম্ভব করবে? 
ভালোবাসায় সব সম্ভব শিহাব।ভালোবাসায় সব জয় করে নেয়া যায়।শুধু অধিকারে সব পাওয়া যায় না।
শায়লা, তুমি আমাকে অভয় দিচ্ছো।
হ্যাঁ, শিহাব মনে রেখো, তুমি না, আমিই তোমাকে আগে ভালবেসেছি।তাই তোমাকে পাওয়ার আকুলতা আমার বেশি।আর তুমি আমার ভালোবাসায় সাড়া দিয়েছো তাই তোমাকে পূর্ণ করা আমার ভালোবাসার শপথ।
শায়লার কথায় শিহাব আজ যেন অন্য শায়লাকে দেখছে।কথায় আর দৃষ্টিতে বেশ দৃঢ়তা। শিহাব নিজেকে একজন সুখী মানুষ ভাবছে যেখানে শায়লা  তাকে এমনিভাবে ভালোবেসেছে।এই ভেবে শায়লাকে হারানোর ভয় থেকে একটু যেন সাহস ফিরে এলো।
বেশ অনেক রাত হয়েছে।শায়লা মন থেকে নোমান সাহেবের কথাগুলো মুছে ফেওলতে চাইছে। হঠাৎ করে কোথা থেকে যেন মনের ভেতর সাহস জমা হলো।নিজেকে বেশ হালকা মনে করেছে।
শিহাবকে জানালো,এখন তার বেশ ঘুম পাচ্ছে।সে ঘুমাতে চায়।শিহাবও যেন নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।শায়লা শিহাবের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ঘুমের প্রস্তুতি নিলো।
কল শেষ করলেও আজ শিহাবের চোখে যেন ঘুম নেই। সন্ধ্যা থেকে শায়লার ভাবনায় ডুবে থেকে হঠাৎই হারানোর ভয়ে শিহাবের চোখ থেকে ঘুম উধাও হয়ে গেছে।তার শায়লাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।শিহাব ভোরের আলো ফোটার অপেক্ষায় রইল।

খুব সকালে শিহাবের ফোন কলে শায়লার ঘুম ভাঙলো।ঘুম জড়ানো চোখে শায়লা হ্যালো বলতেই, শিহাবের কন্ঠ ভেসে এলো,
শায়লা তোমার  বারান্দায় এসে একটু দাঁড়াবে?  তোমাকে আমার খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।



চলবে.....

কবি রফিকুল ইসলাম এর কবিতা





আশাদীর্ণ অনুতাপে
রফিকুল ইসলাম

নন্দন ভুবনলোকে  আনমনে জাগে 
কত স্বপ্ন  এলোমেলো 
তৃষ্ণিত পলাতকা মন পরম আত্মীয় প্রিয়জন
কত বন্ধু এল-গেলো।। 
অনুভূতির সীমানায় কত কল্পনা
কত প্রত্যাশার পায়চারী 
কখনো অভিমানে পিয়াসী মনে আড়ি ।
স্বপ্ন বিন্যাসে নিশিদিন নীলকণ্ঠ ফোটে
ধূলা মাটির মায়া মালিকায়
বেগুনি প্রজাপতি নাচে বাতাসে গায়।
ভালোবাসার অরণ্যে মুখ লুকায় 
আবেগী বাসর সাজায় পাতার আড়ালে।
 শত চুম্বনে অনুরাগে মায়ায় জড়ালে ।
ঘুম ভাঙা ভোরে ঝরে পড়ে সুখের শিশির 
রোদেলা ক্লান্ত দুপুর 
অদূরে হাঁসের ছানা জলে ভাসে 
ব্যথার দেউলে বসে কত কথা মনে আসে।
বিকেলের  সোনা রোদে 
হলুদ ঝিঁঙে ফুল মাচায় দোলে
প্রণয়ী পায়রা বাকবাকুম মাতে টিনের চালে।
অলখ্যে হলুদ রঙে ঝরে পড়ে পাতার আয়ু 
আশাদীর্ণ অনুতাপে
বিমর্ষ-ম্লান জীবন সন্ধ্যা বিদায় আরতি জ্বালে 
আঁধারের  নির্জন পথে।

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২

মমতা রায় চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস ১১৪ পর্ব




উপন্যাস

 টানাপোড়েন ১১৪
বি ব্লক এর ২৩ নম্বর
মমতা রায় চৌধুরী



সারারাত ছটফট করেছে রেখা ।কি যে ভেতরে একটা উত্তেজনা অনুভব করেছে ফোনটা আসার পর থেকে ।কে হতে পারে ?কে হতে পারে? এই ভাবনা বার বার মোচড় দিয়ে উঠেছে তার হৃদআকাশে । একবার এপাশ, একবার ও পাশ করেছে। একটু অবাক হল আবার মনোজ আজও এ ঘরে শুতে আসে নি। অথচ আগে বলতো রেখার পাশে না শুলে নাকি ওর ঘুমই আসে না। 
চুলের গন্ধে ওকে নাকি আলাদা একটা মাদকতা এনে দিত। এসব অতীত রেখা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ।একটা সময় পর বোধহয়  এরকমই
 হয়  ।দাম্পত্য জীবনের একঘেয়েমি দোরগোড়ায় কড়া নাড়ে। রেখার  ও মনোজের জীবনে তো আরও তাড়াতাড়ি চলে আসলো ।এর কারণ অবশ্যই আছে, তাদের মাঝে সেতুবন্ধন ঠিকঠাক হয়নি ।আজ যদি ওদের মাঝে এক নতুন অতিথি র আগমন হতো, তাহলে কি সব কিছু অন্যরকম হতো। নাকি তিথি এখনো মনোজের মন জুড়ে আছে ।কিছুটা সময় হয় তো রেখার সঙ্গে মোহাবিষ্ট হয়ে জড়িয়ে ছিল ।এজন্যই হয়তো তখন তিথি ছিল নিষ্ক্রিয় । আজ রেখা নিষ্ক্রিয় হতে  চলেছে ।এমনিতেও রেখাকে পছন্দ করে না শাশুড়ি, ননদ ।মনোজের একরাশ ভালোবাসা সবকিছু ভুলে গেছিল কিন্তু আজ যদি ও  মুখ ফিরিয়ে নেয় ,তাহলে রেখার ভালোবাসার স্বপ্নগুলো কিভাবে পূর্ণতা পাবে?
তবে কি সে বড় ভুল করেছে ?তার জীবনে বসন্ত এসে তার দোরগোড়ায় কড়া নেড়েছে বারবার । স্বপ্নীল এসেছিল জায়গাটা নিতে  সে জায়গায় তাকে বসালেই কি তার জীবনে অন্য পূর্ণতা পেত?
আজ ভীষণভাবে স্বপ্নীলের কথা মনে হচ্ছে।
হঠাৎই রেখা বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় ,জানলার কাছে পর্দা সরিয়ে ভালো করে পাল্লা খুলে  দেখতে থাকে । নিচের দিকে তাকিয়ে ঝিমঝিম করে উঠে মাথাটা। অবলম্বনহীন একটা শূন্যতা যেন রেখার চারপাশে দুহাত বাড়িয়ে আকর্ষণ করতে 
থাকে ।জানলা দিয়ে বাতাস ছুটে আসছে। অবলম্বনহীন দীর্ঘ শূন্যতা তার নেমে আসছে সারা শরীরে। কিভাবে অতিক্রম করবে ?অনেকক্ষণ চেয়ে রইল নিচের দিকে ।ভুল হয়ে গেছে।   প্রায় পোকার মত মানুষ হাঁটছে, মর্নিং ওয়াক করছে।  গাড়ি যাচ্ছে।
এর মধ্যেই বাথরুমের দরজা খোলার আওয়াজ আসলো। এত সকালে বাথরুমে কে মনোজ ই 
হবে ।হঠাৎ আওয়াজ পেয়ে রেখাও উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করে। রেখার আজকাল শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না। ভাবছে একবার ডাক্তার দেখাবে কিনা? এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মনে হল রেখার যদি লেখার রসদ কিছু খুঁজে পাওয়া যায় ,তাই ডায়েরি নিয়ে বসল গিয়ে ব্যালকনিতে।
হ্যাঁ তাঁর উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র আলো ।  আলোর মনটা ছিল কল্পনাপ্রবন। কল্পনায় সে হারিয়ে যেত দূর থেকে বহুদূর। তার নায়িকার মধ্যে রয়েছে একাকীত্ব, তার স্বামী তাকে ভালোবাসে না, তার মেয়ে তাকে ভালোবাসে
 না ,তার ছেলে তাকে ভালোবাসে না, সংসারে কেউ তাকে চায় না ।তার সেই দু:খের কথা ভেবেই  ভেবেই সে  সুখ পেত।
তাঁর উপন্যাসের আলো ছিল রক্ষণশীল পরিবারের বধূ। ও বাড়ীর কাঁটাতার পেরিয়ে মনের হদিশ পাওয়া খুবই দুষ্কর ব্যাপার। তবুও যেন পবিত্র কোন এক রন্ধ্র পথে  ঢুকে পড়েছিল। আলোর দুর্বলতাগুলো যেন সে জেনে নিতে পেরেছিল। এই দুর্বলতাকে  না সরিয়ে বরং আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল।
আলো বোধহয় এ রকমই কিছু চেয়েছিল ।কোন একটা অঘটন ,একটু পতন। তবুও,একটু  সামান্য অপরাধবোধে জীবনটাকে যেন উজ্জ্বল করে দিয়ে যায়।
এই অব্দি লেখার পর রেখা একটু আঁতকে উঠলো একি আলো, আলো ক্রমশ রেখার সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। এ যেন মনে হচ্ছে দুটি ভিন্ন আত্মা।
এবার লেখা থামিয়ে রেখা ভাবল এবার প্রাতঃক্রিয়া সেরে  ফেলে গোপালের ভোগ চাপাতে হবে। চা করতে হবে। কাজের মাসি একটু পরেই চলে আসবে। মিলি,তুলিদের খাবার দিতে হবে।
কালকে রাত্রিতে খেয়াল করেছে পাইলট একটু  খেয়েছে ।আশা করা যায় আজ থেকে পাইলট খাবার ধরবে। ওদের তো শুনেছি আজকে ভ্যাকসিন করতে আসার কথা, যে দুটো বাচ্চা সুস্থ আছে তাদের জন্য। এসব ভাবতে ভাবতে বাথরুমে চলে যায় রেখা।তারপর ফ্রেস হয়ে বেড়িয়ে গোপালের ভোগ নিবেদন করে। 
, চায়ের জলটা বসিয়ে  পেপারে মনোযোগ দেয়। অনেকদিন পর পেপারটা পরছে । সকাল থেকে বৃষ্টি পড়ছে ।অলস বৃষ্টির দিনে আজকে স্কুলে যাবে না এমনিতেই শরীরটা ভালো যাচ্ছে না সেজন্য স্কুলে যাওয়ার কোনো তাড়া নেই। পেপারের পাতা উল্টাতে উল্টাতে হঠাৎ করে একটা ছবি নজরে আসে। আরে ,এ তো স্বপ্নিলের ছবি ।ভুল দেখছে না তো? ছবিটা আরেকটু চোখের সামনে নিয়ে আসলো । চশমাটা পরে নিল  হ্যাঁ ঠিক দেখছে।
ভালো করে পরল পড়ে দেখল স্বপ্নীলের কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হচ্ছে বইমেলায়। স্বপ্নীলের সঙ্গে যখন পরিচয় হয়েছিল। তখনো মাঝেমাঝেই কবিতা আওরাত এতো ভালো লাগতো ওর 
কন্ঠে।রেখা মোহাছন্নের  মতো তাকিয়ে
 থাকতো ।কবিতা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তাকিয়ে থাকত রেখা।
মনে পড়ে স্টেশনে আসার পর গরম এক কাপ চা না খেলে যেন সারা সকালটাই
যেন তখন মাঠে মারা যেত।
আর স্টেশনের রত্নাদির চা না খেলে তো জীবনটাই যেন বৃথা। একদিন  স্বপ্নীল বলল ' চা খাবে?'
 দোকানটার দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে বললো ওই দোকানের চা খুব ভালো।
রেখা বলল' হ্যাঁ ,চা তো খাবোই। রত্নাদির তাহলে তো কথাই নেই। রত্নাদির চা ঠিক আছে। আজ তুমি কিন্তু আমার 
অতিথি ।আমি তোমাকে চা 
খাওয়াবো ।স্বপ্নীল একগাল হেসে 
নিল। তারপর বলল' বেশ তাই হবে।'
তড়িঘড়িরেখা বলল 'রত্নাদি তোমার স্পেশাল চা খাওয়াও। দু কাপ দিও।'
রত্নাদি হেসে বলল' রিম্পাদি এসেছে?'
রেখা ঘাড় নেড়ে বলল আসেনি।
রত্নাদি বলে তাহলে দুকাপ চা।
স্বপ্নীল নিজেকে দেখিয়ে এগিয়ে এসে বলল' 'এই যে আমি অধম এখানে পড়ে আছি ,আমার জন্য।
রত্নাদি অত্যন্ত আহ্লাদিতো ভাবে  বলল' আরে আমার কবি
 ভাই ।তোমাকে চা না খাওয়ালে হবে ,তোমার কবিতার লাইন শুনবো কি করে?'
রেখা খুব অবাক হয়ে যায় রত্নাদি স্বপ্নীলকে চেনে? অনেক কিছুই জানে মনে হয়।
স্বপ্নীল ও রেখা একটা নিরিবিলি জায়গা দেখে বসল।
ইতিমধ্যে রত্নাদি স্পেশাল চা করে এনে দিয়ে গেছে। চা খেতে খেতে বলল' তোমাকে কবি ভাই বললো ,তাহলে তোমার লেখা এরাও পড়েছে?'
স্বপ্নীল মুচকি মুচকি হাসে আর বলে 'আমার কাছ থেকে শুনেছে।আবার অন্য কোনভাবে উপরে থাকতে পারে সেটা আমার জানা নেই।'
কত সুন্দর মুহূর্ত গুলো কেটেছে।
এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মনে পড়ে যায়, আরে, রান্নাঘরে তো
চায়ের জল বসানো 
আছে ।এতক্ষণ পর মনে পড়ল রেখার।
তড়িঘড়ি করে রেখা রান্নাঘরে গেল ,গিয়ে দেখল চায়ের জল কমে এক কাপের নিচে এসে দাঁড়িয়েছে। কি আর করবে অগত্যা আর একটু জল দিয়ে দিল । এবার চা করে নিয়ে এককাপ মনোজের ঘরে দিতে গেল।
চা নিয়ে গিয়ে রেখা দেখল মনোজ অঘোরে ঘুমোচ্ছে। রেখা ডাকলো না ।চা নিয়ে চলে আসলো। এরমধ্যে কলিংবেলের আওয়াজ জয় গনেশ জয় গনেশ জয় গনেশ দেবা।'
রেখা ছুটে গিয়ে দরজাটা খুলে দেখে মাসি এসেছে 
কাজে ।রেখা বলল' তুমি আজকে আরো তাড়াতাড়ি আসলে।
বৃষ্টি মাথায় নিয়ে না আসলেই পারতে   
মাসি।'
মাসি এক গাল হেসে বলল 'তোমাকে বলে যায়নি তো। তাই?
রেখা বলল 'তা বুঝেছি, এই বৃষ্টিতে ভিজলে শরীর খারাপ হবে মাসি। আর তোমাকে বলা থাকলো এরকম বৃষ্টি হলে তুমি সেদিন কাজে এসো না।
বলতে বলতেই রেখা চায়ের কাপটা মাসীর দিকে এগিয়ে ধরে।
চা খেতে খেতে মাসী বললো আজকে তুমি স্কুলে যাবে না?
রেখা আস্তে আস্তে বলল 'আজকে আমি ডুব দিলাম'।
'তা বেশ করেছো'। এর মধ্যেই আবার কলিং বেলের আওয়াজ 'জয় গনেশ, জয় গনেশ ,জয় গনেশ দেবা '। রেখা অবাক হয়ে গেল ।বলল'আবার কে আসলো?
একটু বিরক্তি নিয়ে দরজাটা খুলল, খুলেই ভূত দেখার মত দেখল" একি পার্থ?'
পার্থ বলল' হ্যাঁ বৌদি, মনোজদা রেডি তো?'
 রেখা অবাক হয়ে বলল 'রেডী মানে? কোথায় যাবে?'
' সে কি আপনাকে বলে নি।,


"আমাকে বলেছিল তো কলকাতায় যাবে।'
রেখা বললো' কে জানে ।কলকাতায় যাবে তো এখনো অঘোরে ঘুমোচ্ছে ।আমাকে তো কিছু বলেনি। এসো ,ভেতরে এসো পার্থ ।কতক্ষণ বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবে?'
বৃষ্টির অলস দিনের কাজের ফাঁকে ফাঁকেই সারাদিন ধরে মনের ভেতরে পিয়ানোর সুর এর মত বারবার বেজে উঠেছে স্বপ্নীলের কথা। কতবার স্বপ্নের ঘোরে স্বপ্নীল আর রেখা এক হয়েছে ,পাশাপাশি চলেছে, তাদের এই ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছে । স্বপ্ন ভেঙে গিয়ে দেখে সে পড়ে আছে কল্যাণীর 'বি' ব্লকের ২৩ নম্বর বাড়িতে। এখানে আছেএখন একরাশ বিরক্তি ,ভালবাসাহীন, অবলম্বনহীন শূন্যতা।'