২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২

শামীমা আহমেদ  এর ধারাবাহিক উপন্যাস পার্ব ৬৩





শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৬৩)
শামীমা আহমেদ 

সন্ধ্যার চা পর্ব শেষ করে গভীর চিন্তামগ্ন হয়ে শায়লা নিজের ঘরে চলে এলো।নানান রকম খবরে কেমন যেন  মন বিষন্ন করা অনুভবে বিছানায় বসলো। ভাবনায় দুই বিপরীতমুখী মনের চলন! সারাদিন যেমন একটা অনন্য সুখের আবেশে ভেসেছিল এখন যেন ঠিক ততটাই  বেদনার সাগরে ভেসে চলা।সে জানে না এই ভেসে যাওয়া তাকে কতদূর নিবে।প্রতিটা মূহুর্তে শিহাবের অনুভুতি অনুভব তাকে আবেগী করে তুলছে আবার নোমান সাহেবের পিছুটান আশংকা হয়ে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। কেন জীবন আজ দুই দিকে দাঁড় করালো।নোমান সাহেব কেন এতদিন নীরব রইলেন?কেনইবা শায়লাকে আপন করে নেয়ার কোন আগ্রহই দেখাননি? শায়লাতো বয়সের ব্যবধানকে তুচ্ছ করেছিল।ভেবে ছিল মনটাই আসল। যদি তার সাথে মনের বন্ধন হয়ে যায় তবে আর বয়স কোন বাধা হবে না। তবে শায়লাকে নোমান সাহেবের বিয়ে করার প্রকৃত কারন যখন সে জেনেছে তখন তার প্রতি একরাশ ঘৃনাই জন্মেছে।মিথ্যে দিয়ে ঢেকেছে তার উদ্দেশ্য। দুজনার জীবনের শুরুটাই যদি এমন হয় তবে সেখানে আর কোন বিশ্বাস অবশিষ্ট থাকে না। বিয়ের পর তিনটি রাত তাদের একসাথে কাটলেও নোমান সাহেব কোন কিছুতেই এগিয়ে আসেননি। শায়লা বিছানার এক কোনায় একপাশ হয়ে নানান ভাবনায় থেকেছে।অজানা অচেনা ভিনদেশী মানুষ কোন অধিকার খাটায় নি বলে শায়লা তাকে বেশ ভদ্রলোকই ভেবেছিল।কিন্তু এখন মনে বারবার প্রশ্নটা  উঁকি দেয়,এটা কি তার নিছক ভদ্রতা ছিল, নাকি ছিল একধরনের উপেক্ষা? ফাইভ স্টার হোটেল রুমে শায়লার বতেমন করে বাসর সাজানো হয়নি,বিয়েতে  আর দশটি মেয়ের যেমন হয়।সেই যে তার শায়লাকে আপন করে না নেওয়া সেটা যেন বিশাল এক শূন্যতা হয়ে রইল।আর আচমকাই একটু একট করে, কেমন করে  শিহাব তার ভাবনায় জায়গা করে নিলো!দুজনেই যেন বঞ্চিতের দুঃখ ব্যথায় দুজনের কাছে আশ্রয় খুঁজেছে।দুজনার শূন্য জায়গাটা পূরন করার আকুলতায় কাছে এসেছে। শায়লার চোখের কোনে পানি এসে জমলো।তার জীবনটা কেন সবসময় এমনি অপ্রাপ্তি দিয়ে ভরা? এমনি নীরব প্রশ্নে বুকের ভেতরটা অভিমানী হয়ে কেঁদে উঠলো।  নানান ভাবনার গভীরতায় ডুবে শায়লা গুটিসুটি হয়ে কখন যেন ঘুমের কোলে ঢলে পড়লো।

রাহাত টিভির ক্রিকেট  খেলায় একেবারে ডুবে রইল।ছুটির দিনটি আজ  ঘরেই কাটালো রাহাত। চোখ টিভি স্ক্রিনে আটকে থাকলেও মনের ভেতর অনেক কিছুরই হিসেব চলছে।মাথার ভেতরে অনেককিছুর গণনার হিসেব চলছে।নোমান সাহেব আসতে আর দধদিন বাকী।তাইতো শায়লার বিষয়টি নিয়ে সে গভীরভাবে ভাবছে। শায়লার মুখের দিকে তাকালে রাহাতের মনটা কেঁদে উঠে।কতদিন আর আপুর এই একার জীবন চলবে? যদিও নোমান সাহেব আসতে চাইছেন।কিন্তু তা বেশ দেরি হয়ে গেলো। নব বিবাহিতদের মাঝে দেড় বছরের দূরত্ব সেতো অনেক। দুজনার মাঝে বয়স আর ভাষার ব্যবধান তাদের একেবারেই কাছে টানেনি।তাড়াহুড়ো করে বিয়েটা দেয়া ঠিক হয়নি।কিন্তু কী আর করা তখন? এক বোনের ভালোর জন্য আরেক বোনের এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
রুহি খালাকেও উপেক্ষা করা যায়নি।আমাদের পরিবারে তার একটা বিরাট অবদান। এখন এই সিচুয়েশনে   তাকেও ম্যানেজ করতে হবে।আবার নোমান সাহেব নিজের স্ত্রীকে কাছে নেয়ার অধিকারের কাছে তো আর শিহাব ভাইয়ার আবেগ দাঁড়াতে পারবে না। যেখানে কাগজে কলমে আইনে সে শায়লার স্বামী। কিন্তু এদিকে শায়লাও পুরোপুরি শিহাবের দিকে মন নিয়ে গেছে। দুজনাকে মানায়ও বেশ!
তবে এখানে শায়লার চেয়ে নোমান সাহেবের দোষটাই বেশী। তার উচিত ছিল আপুর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা আর তাকে কাছে নেয়ার প্রসেসটা দ্রুত করা।চাইলে জীবনের একটা দীর্ঘ সময় একা থাকা যায় কিন্তু কারো সাথে জীবন বাঁধলে তখন দূরত্বটা চরম এক হতাশা আর অস্থিরতায় ভরে উঠে। মনের সাথে শরীরেরও এক তীব্র চাওয়া হিংস্র হয়ে উঠে।স্বামীদের দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন দেশে থাকা স্ত্রীরা জানে জীবনের  কতটা  সুন্দর সময় একাকীত্বে কাটছে।তখন অন্য কোন হাতছানি এলে নিষিদ্ধ সম্পর্কে জড়িয়ে যায়।মানুষের দেহ আর মনের চাওয়া যে সমানভাবেই গুরুত্বপূর্ণ এটা আমাদের সমাজের মুরুব্বিরা বুঝতে চায় না।
রাহাত ভাবলো,কাল একটু সময় করে শিহাব ভাইয়ার সাথে কথা বলতে হবে।রাহাত টিভিতে  খেলার চ্যানেল বদলে অন্য চ্যানেলে থামতে হলো।সংবাদ চলছে।সংবাদ পাঠিকাকে রাহাতের খুব ভাল লাগলো।চমৎকার একটি শাড়ি পরেছে।রাহাত ভাবলো,বাঙালি মেয়েদের শাড়িতে অনন্য অপূর্ব রূপসী লাগে! 
রাতের খাবারের সময় হয়ে এলে রাহাত শায়লাকে ডেকে তুললো।এমন অসময়ে কিভাবে ঘুমিয়ে গেলাম? এইভেবে শায়লা দ্রুতই বিছানা ছাড়লো। টেবিলে খাবার সাজিয়ে নীরবে নিঃশব্দে ভাইবোন খেয়ে নিলো। শায়লার ভাবনায় কপালের ভাঁজ রাহাতের দৃষ্টি এড়ায়নি। রাহাত নিজেও কোনপথে কিভাবে এগুবে তা নিয়েও ভাবনায় ডুবে থাকে।সুনশান নীরবতায় বাড়িটাকে যেন মৃত্যুপুরী মনে হচ্ছে।মা থাকলে তবুও কিছু কথা চলে।
রাহাত খাবার শেষ করে শায়লাকে সব গুছিয়ে রাখতে সাহায্য করলো। রাহাত বুঝেছে আপুর জন্য এখন নিত্যদিনের কাজকরায় দিনদিন অনাগ্রহই আসবে।
আপু রাত জেগোনা,ঘুমিয়ে যেও।
বলে রাহাত নিজের ঘরে চলে গেলো।শায়লা নিজের ঘরে ঢুকলো।শিহাবের কথা মনে পড়ছে।সেকি রাতের খাবার খেয়েছে? নাকি নাখেয়েই ঘুমিয়ে গেলো? একটা কল দিয়ে জানাতো  যায়!ভাবতেই মোবাইল স্ক্রিন আলোকিত হয়ে উঠলো। আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে তাকাতেই দেখতে পেলো, নোমান সাহেবের কল!  শায়লা বুঝতে পারছে না এখন কি করবে? এখনতো কোন অজুহাতে কল না ধরে থাকা যাবে না।
শায়লা হাত বাড়িয়ে মোবাইলটা নিয়ে কল রিসিভ করলো।হ্যালো বলতেই,পৃথিবীর ওপ্রান্ত থেকে ভেসে এলো,হাই,শাআলা,,দিস ইজ নোমান ফ্রম কানাডা।হাউ আর ইউ? গুড ইভনিং,, 
কে যেন শায়লার কন্ঠ রোধ করে রাখলো।অপ্রান্ত থেকে বারবার একই প্রশ্নের শায়লার  অস্ফুট স্বরে একটা কথাই বেরিয়ে এলো,আই এম ফাইন,,থ্যাংকিউ।নোমান সাহেবের আজ যেন কথার খই ফুটেছে! একটানা কথা বলেই চলেছে।শায়লার অনিচ্ছতে কানে মোবাইলটা আটকে আছে যেন!

শিহাব রাতের বেশ অনেকটা সময় বারান্দায় বসেই কাটিয়ে দিলো।আজ আর ঘরের দিকে মন টানছে না।মন চাইছে সারারাত এই বারান্দায় বসে কাটিয়ে দিতে।শায়লার অনুভব নিয়ে চোখে এক ঘোর লাগা  রঙিন 
স্বপ্নভেলায় ভাসছে সে।তার মন খুব করে শায়লার উপস্থিতি চাইছে।মনে হচ্ছে এখুনি কল করে শায়লাকে চলে আসতে বলি। আজ সারাটাদিন শায়লার চোখের প্রতিটি চাহনী তার বুকে যেন তীর হয়ে বিঁধছে।সুখানুভুতির তীব্রতায় আনমনে ভাবনায় কখন এভাবে সময় হয়ে গেলো, একেবারে টেরই পেলো না শিহাব।  একটি একটি করে পুরো এক প্যাকেট বেনসন শেষ হয়েছে।নিশ্চয়ই শায়লা থাকলে শত বারনে থামিয়ে দিত এই ধোয়া টেনে যাওয়ায়।নিশ্চয়ই বলতো সন্ধ্যে হয়েছে ঘরে আসো,এমন ভর সন্ধ্যায় বাইরে থাকতে হয়না।এমনি করে মিষ্টি  শাসনে কতদিন হল কেউ বারন করে না। শিহাববের ভাবনায় বারবার লিফটে সেই শায়লার স্পর্শ  শায়লার নিজেকে  একেবারে সঁপে দেয়া ক্ষণ গুলো যেন শিহাবকে বিদুৎ চমকে আবেশিত করছে।শিহাব ক্রমশ অধীর হয়ে উঠছে।শায়লাকে একান্তে পাওয়ার আবেগে একাকীত্বটা অসহনীয় হয়ে উঠছে। কেবলি বলতে ইচ্ছে করছে, শায়লা তুমি এক্ষুণি চলে আসো,এসে দেখো আমি কেমন একা  একা বসে শুধু তোমাকেই ভেবে চলেছি।হাতের কাছে মোবাইলটা। তবুও ইচ্ছে করছে না কল করতে, ইচ্ছে করছে না কথা বলতে, অনুভবের এই উন্মাদনায় শিহাব পুরোপুরি ডুবে আছে।চাইছে না কথার অনুরননে তার ছেদ ঘটাক। মাঝে মাঝে নিঝুম নিশ্চুপ নিরালা পরিবেশ হাজার কথার চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠে। আজ আকাশে প্রচুর তারার মেলা।শিহাব বারান্দায়  আলো নিভিয়ে সেই সন্ধ্যা থেকে বসা।ধীরে ধীরে সে সন্ধ্যার আকাশ থেকে রাতের এই ঘন কালো আঁধারের আকাশ দেখছে। তারার ঝিকিমিকিতে শিহাবের মন আনন্দের জোয়ারে ভাসছে। নিজেকে আজ একজন পরিপূর্ণ সুখী মানুষ ভাবছে। দুঃখ যতই আঘাত হানুক একটু সুখ ছোঁয়ার তার চেয়ে অনেক ক্ষমতা। শায়লাকে খুঁজে পাওয়া তার  আপন হওয়া এমনি করে তার জীবনের সাথে শায়লার মিশে যাওয়া শিহাবের  পিছনের সব দুঃখকে ভুলিয়ে দিয়েছে। শিহাবের যেন আর দেরী সইছে না, শায়লাকে কবে নিজের ঘরে তুলে আনবে।সব কিছুর দ্বায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে সে শুধুই শায়লাকে দেখে সময় কাটাবে। কত কত দিন যে এই নিঃসঙ্গ জীবন কাটিয়েছে। দিন শেষে শূন্য হৃদয়ে,ফাঁকা এই ঘরটার লক খুলে ঢুকেছে। অসহনীয় সেই ক্ষণগুলো।আর ভাল লাগছে না কিছুই।কবে শায়লার সান্নিধ্য পাবে, কাটবে মধুময় সময়।শিহাব বুঝতে পারছে কেমন করে শায়লা তাকে এতটা বিভোর করে রাখে।
ইচ্ছে করছে এখুনি বাইকটা নিয়ে পিছনে শায়লাকে সঙ্গী করে বেরিয়ে পড়ি অজানার উদ্দেশ্য।  ছুটে চলি মাঠ ঘাট প্রান্তর পেরিয়ে দূর থেকে দূরে। 
বেশ অনেক রাত হলো।শিহাব মোবাইল ঘড়িতে সময় দেখে নিলো। রাত সাড়ে বারোটা!  কিভাবে এতটা সময় পেরিয়ে গেলো।শায়লার সাথে কথা বলার জন্য মনটা বেচায়েন হয়ে উঠলো!  তার ফোন কলের অপেক্ষায় নিশ্চয়িই অভিমানী মুখ নিয়ে গাল ফুলিয়ে বসে আছে। শিহাব বিছানায় আধশোয়া হয়ে শায়লাকে মেসেঞ্জারে কল দিতেই ফোন স্ক্রিনে দেখা গেল, সি ইজ বিজি উইথ এনাদার কল! 
শিহাব বুঝতে পারলো না, এত রাতে শায়লা কোন কল নিয়ে বিজি হলো? তবে কি কানাডার কল এটেন্ড করছে সে? 
শিহাবের ভেতরটা ওলোট পালোট হয়ে গেলো।


চলবে.....

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২

কবি গোলাম কবির এর কবিতা





স্বপ্নের ভিতরে জীবনানন্দ দাশকে দেখে 
গোলাম কবির 

  
  এই তো সেদিন-
  ঘুমের ভিতরে দেখলাম ফার্মগেটের কাছেই 
  স্বপ্নের কবি জীবনানন্দ বাবু একাএকা
  হেঁটে যাচ্ছেন আমাদের নির্মীয়মান
  মেট্রোরেলের পথের ওপর দিয়ে, 
  তাঁকে দেখে হঠাৎ চমকে উঠে 
জিজ্ঞাসা করলাম, " কেমন আছেন প্রিয় কবি? " 
  বললেন ভালো নেই খুব, ওখানেও তাঁকে খুব
জ্বালাচ্ছে সুরঞ্জনা, বনলতা সেন ও লাবণ্যদাশ। 
 ওখানেও বাংলার নদীমাঠ, ভাঁটফুল,
 ধানসিঁড়ি নদী, কীর্তনখোলা আর
 সন্ধ্যানদীর মায়া, গাঙশালিকের দলের
 কথা ভুলতে পারছেন না কিছুতেই, 
 তাছাড়া আবার যে ফিরে আসবেন 
এই বাংলায় কিশোরীর রঙিন ঘুঙুর 
 নাঙা পায়ে পরে হয়তো মানুষ নয়, শঙ্খচিল
 কিংবা শালিকের বেশে সেই সুযোগও 
 আর এলোনা বলে কষ্টে আছেন খুব!
 এটুকুই আলাপ শেষে কোথায় জানি 
 তিনি হারিয়ে গেলেন সেদিনের মতো!
 অথচ আমি তাঁকে আবার ঘুমের ভিতরে
 দেখবো বলে, আরো অনেক না বলা কথা
 বলবো তাঁকে, তাঁর এতো অদ্ভুতসুন্দর
 কবিতা লিখার রহস্য জানবো বলে
 অপেক্ষার কুয়াশা ঢাকা মেঘের দিনে অপেক্ষা করতে করতে আবার ঘুমিয়ে পড়ছি প্রতিদিনই।

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১১২





উপন্যাস 



টানাপোড়েন ১১২

ছুঁ কার মেরে মনকো

মমতা রায় চৌধুরী




রেখার আজ অলস বিকেল কাটছে শুধু ওদেরকে নিয়েই ।মিলি আগের থেকে স্টেবল হয়েছে ওষুধ খাওয়ানোর পর  কিন্তু পাইলটের অবস্থা এখনো ঠিক হয়নি ।বিকেলবেলায় ওদের আদর করতে করতে হঠাৎ করে নজর পড়ে পাইলটের দিকে । রেখা খেয়াল করল'ও পটি করল কিন্তু পটিটা ভীষণ পাতলা ।
তখন সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসে মনোজের
 ঘরে ।রেখার ভেতরটা যেন পাইলটের জন্য কেমন দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে। যে বাচ্চাটি সবসময় এত উচ্ছ্বসিত থাকে রেখাকে দেখলে তো রক্ষে নেই ।আগে রেখাকে ধরবে জড়িয়ে দুই হাত 
দিয়ে । তারপর ওর গালে ঠোঁটে অসংখ্য অসংখ্য আদর করতে থাকে। তারপর ওকে রেখা যখন নিজে আদর করবে ভালো করে কোলে নিয়ে ,তখন ও শান্ত হয় ।আজকে এরকম নিস্তেজ অবস্থা দেখে রেখার চোখ ফেটে জল আসে। তবু ওকে কোলে নিয়ে আদর করতে থাকে। এঅবস্থাতেও কোনরকমে রেখার গালে চুম্বন এঁকে দেয়।
 রেখা আর রিক্স নিতে পারে না। ছুটে আসে মনোজের ঘরে। 
মনোজ তখন অলস বিকেল, মেঘলা দিনে বিছানা নিয়েছে। বিছানায় ঘুমিয়েছে কিনা বুঝতে পারছে না দরজায় নক করার প্রয়োজন মনে করেনি সরাসরি ছুটে গেছে।
 গিয়ে ডাকছে 'কিগো শুনছো? শুনছো ?
সাড়া না দেওয়াতে মনোজের গায়ে হাত দিয়ে ওকে ডেকে তোলে। আর রেখা দেখছে মনোজ  ঘুমিয়ে পড়েছে।
হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে কিছুক্ষণ মনোজ রেখার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে ।মানে বোঝাতে চায় ব্যাপারটা কি হলো ?
রেখা উদগ্রীব হয়ে বলল 'পাইলট পটি করেছে,খুব পাতলা হয়েছে আর কেমন নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। তুমি এক্ষুনি একবার মন্টু ডাক্তারকে ফোন করো।,'
মনোজের ভেতরেও কেমনএকটা অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেল ।ফোনটা দাও । দাও প্লিজ তাড়াতাড়ি।টেবিলের কাছে চার্জে দেয়া আছে ।'
রেখা ছুটে গিয়ে ফোনটা এনে দেয়।
মনোজ ফোন করে মন্টু ডাক্তারকে।
একবার রিং হয়ে গেল আবার ফোন ধরাল মনোজ ।এবারও রিং হয়ে গেল ।ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যাচ্ছে ।
রেখার লক্ষ্য করলো মনোজের কেমন যেন একটা চোখেমুখে অভিব্যক্তি ফুটে উঠেছে। রেখার দিকে তাকিয়ে বলছে 'ফোন কেন রিসিভ করছেন
 না ?'এরকম তো করেন না ।তাহলে কি উনি আর্জেন্ট কোন কাজে আছেন?'
 রেখা সঙ্গে সঙ্গে ঠাকুরের উদ্দেশ্যে দুই হাত জ্ড়ো করে প্রণাম করে আর বলে ঈশ্বর ফোনটা যেন ডাক্তারবাবু ধরেন ।করুণা করো আমাদের 
প্রতি ।ঈশ্বরের করুণা অবশ্য অশেষ তাই ডাক্তারবাবু এবার ফোনটা  ধরলেন।
 মনোজ আনন্দে চেঁচিয়ে  বলল' ডাক্তারবাবু ফোন ধরেছেন ।
'হ্যালো '
এ প্রান্ত থেকে' ডাক্তারবাবু আমি মনোজ
 বলছি। 
''হ্যাঁ বলুন ।ওদের কি খবর বলুন তো? '
ডাক্তারবাবু বললেন।

মনোজ বলল' হ্যাঁ, আপনাকে জানানো হয়নি দুজন ঠিকই আছে,  কিন্তু ছেলে বাচ্চাটি পাইলট যার নাম ও কিন্তু নিস্তেজ হয়ে গেছে ।একটু আগে আমার স্ত্রী  ওদেরকে যখন আদর করতে 
গেছে ।খেতে দিতে গেছে, তখন দেখছে, পাইলট পটি করেছে খুবই পাতলা  ,আর কেমন যেন একটু নিস্তেজ প্রকৃতির হয়ে গেছে।'
 ডাক্তারবাবু বললেন ' সে কি কথা? আপনারা এক কাজ করুন ,দ্বিতীয় ওষুধ টা অর্থাৎTaxim-0 বন্ধ করে দিন ।
আর বদলে আমি একটা ওষুধ বলছি ওটা লিখে নিন।
মনোজ বলল একটু হোল্ড করুন  ডাক্তার বাবু। আর রেখার দিকে তাকিয়ে বলল পেনটা দাও ।
দাও প্লিজ তাড়াতাড়ি।'
রেখা পেন্ টা এগিয়ে দিল।
মনোজ  বলল 'শুধু পেন্ দিলে? লিখবো 
কিসে ?রাইটিং প্যাডটা দাও বিরক্তির স্বরে বলল।
রেখা তড়িঘড়ি করে রাইটিং প্যাড টা এগিয়ে দিল
আর অধীর আগ্রহে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দুজনের কথোপকথনের শুনতে লাগল ফোনটা স্পিকারে দেয়া ছিল।
মনোজ বলল 'হ্যাঁ বলুন ডাক্তার বাবু।'

ডাক্তারবাবু বললেন
Nor-metrogyl(R)o
খাবার আগে দিনে দুবার খাইয়ে দিন 2ml করে।
ইমিডিয়েট খাইয়ে দিন।
আর একটাWalyte-ors
জলে গুলে রেখে দিন এই জল খেলেও কাজে দেবে।'
মনোজ বলল' অবশ্যই ডাক্তারবাবু। অসংখ্য ধন্যবাদ।'
ডাক্তারবাবু বললেন 'কেমন থাকে না থাকে জানাবেন অবশ্যই
মনোজ বলল 'ডেফিনেটলি'
এবার ফোনটা কেটে দিলো।
মনোজ তাড়াতাড়ি হাফপ্যান্ট পরা ছিল সেটাকে ছেড়ে দিয়ে একটা ফুলপ্যান্ট পড়ে নিল সঙ্গে করসুলের শার্ট,মাফলার জড়িয়ে বেরিয়ে পড়ল।'
রেখা দুশ্চিন্তা নিয়ে গোপালকে ভোগ চাপাতে 
গেল।
আজ পূজো করতে বসেও রেখার মন নেই। এরমধ্যে মনোজ ওষুধ নিয়ে এসে হাজির। এসেই রেখা রেখা বলে শোরগোল করতে শুরু করলো।
মনোজ রেখাকে বললো 'এসো ধরবে  ওষুধ খাওয়াবো  ।
রেখা সঙ্গে সঙ্গে গেল ।গিয়ে ধরলো পাইলট কে। খুব কষ্ট করে ওষুধটা খাওয়ানো হলো।
থ্যাংকস গড যে তাড়াতাড়ি ওষুধ খাওয়ানো গেলো রেখা বলল।
রেখl একটু নিশ্চিন্ত হল' দেখা যাক কি হয়।'
এবার রেখা নিজের রুমে চলে আসলো। এসে উপন্যাসের নেক্সট পার্ট লিখতে শুরু করলো। কিন্তু লিখতে শুরু করার আগে বারবার মনে হতে লাগলো সম্পাদককে । তিনি যে নাম বলছেন এই নামটা তো অনেক আগে তার জীবনে একটা দাগ কেটে গেছে। ডিপিতে কোন ছবি দেখা যাচ্ছে না। অনেক কথাই মিলে যায় তার সঙ্গে। হঠাৎ করে রেখাকেই বা কেন এত উৎসাহিত করছেন,?'
সাত-পাঁচ ভেবে কূলকিনারা করতে পারল না,। সে পেন্ নিয়ে বসল লিখতে। শুরু করলো লেখা।
এর মধ্যেই ফোন বেজে ওঠে' তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম..।'
রেখা একটু বিরক্ত হল এক আকাশ ইচ্ছে নিয়ে বসেছে লিখতে ।লেখার মাঝে তার কেটে দিলে ভাবনায় ছেদ পড়ে।'
একটু বিরক্ত নিয়ে ফোনটা রিসিভ করে বলে "হ্যালো'।
হ্যালো লিখছেন?
রেখা বলল হ্যাঁ লিখছি
সম্পাদক বললেন'বাচ্চাগুলো কেমন আছে?
রেখা বলল দুজন ভালো আছে আর একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
সম্পাদক বললেন সে কি?
রেখা বলল' হ্যাঁ,তাছাড়া কি বলছি।
সম্পাদক বললেন' তাহলে তো আপনার খুব চিন্তা বাড়লো।'
রেখা বললো' তা ঠিকই বলেছেন।'
সম্পাদক  হেসে বললেন 'আমাকে আপনি না করে বললেও হয় ।আমি কিন্তু আপনার থেকে বয়সে ছোট?'
রেখা বলল 'তা হয়ত হতে পারেন কিন্তু অচেনা-অজানা একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে প্রথমেই তুমি করে বলা যায় না আপনি তাই প্রযোজ্য বেশি।'
সম্পাদক বললেন তা অবশ্য ঠিকই বলেছেন।
তবে এখন যেখানে আমি বলছি আপনি আমাকে '' আপনি'শব্দটা বাদ দিতে পারেন।
রেখা বলে চেষ্টা করব?
সম্পাদক বলেন' সেই চেষ্টা।'
রেখার বুকের ভেতরে এসে যেন ধাক্কা দিলো কথাটা।
এ তো অবিকল তার মত কথা।
কি করে হতে পারে?'
সম্পাদক বললেন' ভাবনায় পড়ে গেলেন না?'
রেখা মনে মনে ভাবল একি রে বাবা কি হচ্ছে এসব। আমার মনের ভেতরে কিছু আছে তিনি কি   করে বলছেন?'
সম্পাদক বললেন' মাইগ্রেন আছে?'


রেখা এবার  অবাক হয়ে যাচ্ছে ,সে তো কখনো বলেনি তার মাইগ্রেন আছে? 'তাহলে এ প্রশ্ন কেন করছেন?'
সম্পাদক হেসে বললেন'এখন কি বসে বসে ভাবার চেষ্টা করবেন, কী রহস্য?
বলেই ফোনটা কেটে দেন।
রেখা সত্যিই উপন্যাসের পার্ট লিখতে বসে জীবনের পার্ট একের পর এক মেলে ধরছে ।কি যেন প্রজাপতির ডানায় চেপে এসেছে ভাবনাগুলো।
রেখার কেমন পাগল পাগল মনে হতে লাগলো। আবার নতুন কোন জীবনে কেউ আসতে চলেছে। এই ঢেউয়ে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে না তো দূর
 বহুদূরে ?নাকি খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে আপন মনে ।
রেখা ভাবনাটাকে  মন থেকে সরিয়ে দিয়ে উপন্যাস লেখায় মনোযোগী হল।'
রেখার ভাবনায়  উপন্যাসের চরিত্র কথা নিয়ে আসে।
উপন্যাসে মেঘ বৃষ্টির খেলা, আর নির্জন দুপুরে কারো ভাবনায় কেটে যায় কত মুহূর্ত। এ যেন রেখার জীবনেও ঘুরছে। ফিকে হয়ে যাওয়া স্মৃতি গুলো আবার কেন রঙিন বসন্ত হয়ে উঠছে।
এ যেন' ' ছু কর মেরে মনকো, কিয়া ত্যুনে কিয়া ইশারা….।'

রেখার এবার পাগল পাগল মনে হচ্ছে। পেন টা নিয়ে হিজিবিজি দাগ কেটে যাচ্ছে।
এর মধ্যেই মনোজ চিৎকার করে ডেকে ওঠে রেখা, রেখা, রেখাআ আ আ হঠাৎই রেখার ধ্যান ভাঙ্গে। 
সে সাড়া দেয়'কি হলো?'
মনোজ পাশের ঘর থেকে বলে কি হলো মানে কটা বাজে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখেছ?
রেখা সত্যিই ঘড়ির দিকে তাকায় নি খেয়ালই করে নি তাকিয়ে দেখে সাড়ে নটা বাজে। ইসসস কত দেরি হয়ে গেল।
মনোজ বলে ওদেরকে খেতে দেবে তো?
রেখা বলে হ্যাঁ দেবো তো?
রেখা পেন খাতা রেখে দিয়ে ছুটতে থাকে রান্নাঘরের দিকে আর মনে মনে ভাবতে থাকে আহা রে কত দেরি হয়ে গেল ।রেখার ভুলের জন্য বারবার ওদের কাছে ক্ষমা চাইতে থাকে ।এবার খাবার নিয়ে গিয়ে হাজির হয় মিলিদের কাছে কিন্তু সেই একই মিলি, তুলি খেলো বটে পাইলট কিন্তু ধারেকাছেও আসলো না। রেখা এত বার চেষ্টা করেও খাওয়াতে পারল না। চিন্তিত মনে তালা রান্নাঘরের বেসিন এর রেখে দিয়ে মনোজের ঘরে আসে এবং বলে পাইলট কিন্তু খাইনি।
মনোজ একটু চিন্তিত ভাবে বলল 'সবে তো ওষুধ পড়েছে একবার ।দেখো নিশ্চয়ই খাবে?'
রেখা ও তাই ভাবতে থাকে নিশ্চয়ই খাবে। একটা অনিশ্চয়তা' এই হবে ,হয়তো ,বোধহয় ,শব্দগুলো জীবনে একটা গভীর প্রভাব ফেলে। আর মন ছুঁয়ে যায়। তাইতো মন বলে ওঠে ছুঁকার মেরে মনকো কিয়া তুনে কেয়া ইশারা...।'

কবি মিলাদ হোসেন এর কবিতা




একুশে ফেব্রুয়ারী  
মিলাদ হোসেন 

মাতৃভাষা বাংলা আমার 
সকল ভাষার সেরা
রক্ত দিয়ে এনেছি মোরা
তাইতো সবার সেরা। 

ভয় করেনি টিয়ার গ্যাস 
দামাল ছেলের দল 
চুয়াল্লিশ ধারা ভঙ্গ করে
রাস্তায় নামে ঢল। 

মায়ের ভাষা কেড়ে নিবে
এমন সাহস কার? 
জীবন দিয়ে রক্ষা করে 
সালাম রফিক জব্বার। 

২১ শে ফেব্রুয়ারী নয় শুধু 
স্মরণীয় এক দিন
রক্ত দিয়ে এনেছে যারা
স্মরণীয় চিরদিন।

কবি সালমা খান এর কবিতা





ছায়া
সালমা খান 

ঘোর সন্ধ্যায় হাঁটছি নদীর 
পাশ ঘেঁষে, 
আমার ছায়া যাচ্ছে পিছু 
নিয়ে ,
মায়াবিনী ছায়া পড়েছে 
আমার মায়ায়।
আমার ছায়া পথে পথে  
আমায় শাসায়,
আমার ভঙ্গিমা নকল করে 
আমায় আগলে রাখে ।
পিছন ফিরে ছায়ায় 
বলি,
করিস কেন বাহাদুরি ?
জানা আছে তোর 
জারিজুরি। 
ঐ চেয়ে দেখ, আকাশ  
পানে।
একটু করে চাঁদের আলো
চেয়ে, 
গন্ধ গায়ক যাচ্ছে গান
গেয়ে ।
চাঁদ তখন মেঘের 
আলিঙ্গনে 
ঢেকে মুখ আলগোছে 
আনমনে।
অন্ধ ভাবে চাঁদের সঙ্গ
জোছনা বুঝি ধুইয়ে 
দিচ্ছে অঙ্গ । 
জানেই নাতো আচ্ছা 
বোকা অন্ধ ,
কখন যে চাঁদের দুয়ার 
হলো বন্ধ। 
তখন সে ভাবলো, এটাই
তার অন্ধকার,
এটাই আশীর্বাদ অন্ধতার।
 ঠিক ছায়া তোর ও নেই,
কোনো অধিকার ।

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২

মনি জামান এর ধারাবাহিক উপন্যাস ১২ তম পর্ব 





ধারাবাহিক উপন্যাস


সেদিন গোধূলি সন্ধ্যা ছিল
১২ তম পর্ব 
মনি জামান

গাড়ি চলছে জিকু আর আসমা দুজন পাশাপাশি সিটে বসে,নয়ন দাদী মোমেনা বেগমের কোলে ফিরোজ পিছুনের সিটে মোমেনা বেগমের পাশে বসে ভাবছে এক মনে,আজকে যে ব্যবহার আসমার সাথে করেছে শাশুড়ি মোমেনা বেগম তা রীতিমত ভাবনার বিষয় সে নিজ চোখে দেখেছে ঘটনাটা,কিন্তু বন্ধু জিকু সেটা লক্ষ্য করেছে কিনা জানে না ফিরোজ তবে বিষয়টি জিকুকে বলা কি উচিত হবে আবার ভাবলো না বিষয়টি বলা ঠিক হবে না কারণ এটা তাদের পারিববারিক বিষয়।
গাড়ির ড্রাইভার জিকুকে জিজ্ঞেস করলো,ভাই ঐ সামনে মোড় দেখা যায় মোড় থেকে কোনদিকে যাবো,জিকু ড্রাইভারকে বলল,আপনি মোড়ে গিয়ে তারপর ডানে ঘুরে সোজা ঐ যে রাস্তা ওটায় যাবেন,ড্রাইভার বলল,আমি কখনো এই রাস্তায় আসিনি তাই জিজ্ঞেস করলাম ভাই কিছু মনে করবেন না ভাই,জিকু বলল না না কেন কিছু মনে করবো আপনি তো এই রাস্তা চিনেন না আমি জানি।
নয়ন প্রস্রাব করেছে দাদী মোমেনা বেগমের কোলে,মোমেনা বেগম বৌমা আসমাকে না ডেকে ফিরোজকে বলল,নয়নকে জিকুর কাছে দাও দাদু ভাই প্রস্রাব করে দিয়েছে আমার কাপড়ে বলে ফিরোজের কাছে নয়নকে দিয়ে বলল জিকুকে দাও।
ফিরোজ নয়নকে নিয়ে আসমাকে ডেকে বলল,ভাবি নয়ন প্রস্রাব করেছে ওর দাদীর কাপড়ে ধরেন নয়নের জামা প্যান্ট পাল্টে দেন,জিকু হাত বাড়িয়ে ফিরোজের কাছ থেকে ছেলেকে নিয়ে আসমার কোলে দিয়ে বলল,পাল্টে দাও জামা প্যান্ট।
জিকু ব্যাগ থেকে ছেলের জামা প্যান্ট বের করে আসমাকে দিলো আসমা ছেলেকে নতুন জামা প্যান্ট পরিয়ে নিজের কাছে রাখলো।গাড়ি চলছে ভবদা গ্রামের পথ ধরে আজ আসমার বেশ খুশি খুশি লাগছে কতদিন পর স্বামীর বাড়ি যাচ্ছে সে,কারণ প্রতিটি মেয়ের স্বপ্ন থাকে স্বামীর বাড়ি যাওয়ার আসমার স্বপ্ন ও এক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম নয়।
আসমা মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাশুড়ি তার সাথে যত খারাপ ব্যবহার করুক না কেন সে শাশুড়ির মন জয় করবেই কাজে ব্যবহারে সব দিক থেকে তা যতোই কষ্ট হোক আসমার,হঠাৎ জিকু আসমাকে বলল,এই আসমা তুমি চুপ করে আছো কেন,জিকুর ডাক আসমার ভাবনায় ব্যবচ্ছেদ ঘটলো,আসমা বলল না এমনি বাইরের গাছপালা কত সুন্দর তাই দেখছি।
জিকু আসমাকে বলল,ঐ যে দুরে যে গ্রামটা দেখা যায় ওটার পরেই আমাদের ভবদা গ্রামের শুরু,আসমা বলল,আর কত সময় লাগবে আমাদের পৌছাতে বাড়ি।
জিকু বলল,আর এক ঘন্টা মত সময় লাগবে বাড়ি পৌছাতে,আসমা বলল,তাই?জিকু বলল হ্যাঁ।
আসমা আর জিকু গল্প করছে তাদের কথোপকথনে ফিরোজ লক্ষ্য করলো মোমেনা বেগমের ভিতর কিছুটা বিরক্ত বিরক্ত ভাব মনে হচ্ছে,মোমেনা বেগমের লাল টকটকে মুখের চেহারাটা কেমন যেন কালচে রঙ্গ ধারণ করেছে রাগে।
সাংবাদিক হিসেবে ফিরোজের নাম ডাক আছে সে দৈনিক ভবদা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার তার চোখ শকুনের মত তীক্ষ্ণ যা এড়ালো না মোমেনা বেগমের মুখচ্ছবি দেখে।
ফিরোজ কেমন যেন একটা গন্ধ পাচ্ছে এভাবে চললে কতদিন টিকবে আসমা! আগামী দিনে কিছু ঘটার আভাষে শঙ্কিত ফিরোজ,কারণ মোমেনা বেগম এমন এক নারী সে কখনো হয়তো আসমাকে পুত্র বধু হিসেবে মেনে নেবেনা,সেটা আজকের এই ব্যবহারে ফিরোজ অনুমান করতে পারছে। মোমেনা বেগম এমন এক কঠিন মনের মানুষ যেমন অহঙ্কারি তেমনি লোভী এবং গরীব বিদ্বেষী,এটা ভবদা গ্রামের সবাই জানে।
আসমা স্বামী জিকুকে বলল,নয়নকে একটু ধরো নয়ন ঘুমিয়ে পড়েছে বলে জিকুর কাছে দিয়ে নিজে একটু নড়েচড়ে গুছিয়ে বসলো তারপর জিকুকে বললো কয়টা বাজে দেখতো,জিকু ঘড়ি দেখে বলল,পৌনে পাঁচটা আর কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা বাড়ি পৌছে যাবো,আসমা বলল,তাই নাকি তাহলে তো আমরা এসে গেছি তাই না?জিকু বলল,হ্যাঁ আর দশ মিনিট মত সময় লাগবে।
এ কথা শুনার সাথে সাথে আসমার ভিতর একটা কেমন যেন রোমাঞ্চকর ভাব অনুভুত হলো,সত্যি আজ সে শশুর বাড়ি যাচ্ছে কতদিনের স্বপ্ন আসমার শশুর বাড়ি যাওয়ার আজ সে স্বপ্ন পূর্ণ হতে যাচ্ছে,শশুর বাড়ির সবাইকে সে আপন করে নিবে,সুন্দর একটা সংসার হবে সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে থাকবে ছেলে নয়নকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলবে,আসমা নিজে আবার কলেজে ভর্তি হয়ে অনার্স শেষ করবে অবশ্য স্বামী জিকু আসমাকে বার বার বলেছে তুমি ভর্তি হও আমি ভর্তি করে দিয়ে আসি।আসমা রাজি হয়নি শুধু এটুকু জিকুকে বলেছিলো যদি কোন দিন শাশুড়ি মেনে নেই সেদিন আবার লেখাপড়া শুরু করবে।আজ শাশুড়ি মেনে নিয়েছে আসমাকে,আসমার মনের ভিতর কি যে খুশি লাগছে কাউকে বোঝাতে পারবেনা সে।
আজ কতদিন বাবা মা'কে দেখিনি আসমার মনটা যেন ছুটছে মায়ের বাড়ির দিকে,আসমাকে মেনে নিয়েছে তার শাশুড়ি এই কথাটা শুনলে বাবা মা ও অনেক খুশি হবে।আসমার আজ ছোট দুটো বোনের কথা মনে পড়ছে ওরা কেমন আছে লেখাপড়া করছে কিনা ইত্যাদি ভাবনা গুলো ঘুরপাক খাচ্ছে মনের ভিতর,আসমা তার ভালোবাসার রাজকুমার পেয়ে আজ এতদিন সবাইকে ভুলে গিয়েছিলো আজ আবার নতুন করে পেতে যাচ্ছে সব কিছু।জিকু আসমার গায়ে ছোট্ট একটা টোকা দিয়ে বলল,আসমা ঐ দেখো আমাদের বাড়ি দেখা যায় আর মিনিট তিনেক সময় লাগবে বাড়ি পৌছাতে,আসমা জিকুর আঙুল লক্ষ্য করে তাকালো এবং দেখলো এই প্রথম তার শশুরবাড়ি,দুইতলা বিশিষ্ট অট্টালিকা ঐ দুরে যেন ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে নতুন বউ আসমাকে স্বাগত জানাতে।


চলবে.....

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৬২




ধারাবাহিক উপন্যাস


শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত 
(পর্ব ৬২)
শামীমা আহমেদ 

অপ্রত্যাশিতভাবে আগত নোমান সাহেবের মিসড কল দেখে শায়লা সেখানেই স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। বোধহীন হয়ে কতক্ষন যে সেভাবে দাঁড়িয়ে রইল তা হয়তো সময় ঘড়িই বলতে পারবে! ভেজা চুলে আলুথালু বসনায় একেবারে বেখেয়াল হয়ে রইল। ওয়াশরুমে শাওয়ার ঝরছে অবিরল ধারায়। একেবারে কানে তালা লেগেছে নয়তো সে শব্দও কোন চেতনা আনছে না কেন?আবার মোবাইল রিং হতেই শায়লা একেবারে চমকে উঠলো! মোবাইল স্ক্রিনে তাকাতে বুকের ভেতর কেঁপে উঠছে!ফোনের শব্দটা যেন তার ভেতরে আতংক হয়ে বেজে উঠলো। যেখানে  এতদিন এই রিংটোন কতইনা কাঙ্ক্ষিত ছিল। আজ নোমান সাহেবের মিসড কলে শায়লা একেবারে জড় কাঠের মত হয়ে গেছে।নোমান সাহেব ফোন করলে তাকে কি বলবে? কেমন করে সে বুঝাবে কানাডায় যাওয়ার এতটুকুও ইচ্ছে তার নেই। কলটা কি রিসিভ করবে না আগে রাহাতকে জানাবে?শায়লার ভেতরে অস্থিরতায় পায়ের তলায় ভেজা কাপড়ের জমে থাকা জলের ধারা বইছে। শায়লা বুঝে উঠতে পারছে না সে এখন কি করবে? একটানা অনেকক্ষন কল হয়ে  থেমে গিয়ে আবার কল শুরু হতেই শায়লা বিছানায় রাখা মোবাইলটির দিকে খুবই ভয় মিশ্রিত দৃষ্টিতে তাকাতেই যেন তার ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়লো। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। ওহ! এও কোনদিন হতে পারে!শিহাবের কল! শায়লা রীতিমতো এক ঝটকায় ফোনটি খাঁমচে ধরলো। কলটি দ্রুতই রিসিভ করলো।মনে হলো কোন খুনী তাকে তাড়া করেছিলো আর বারবার পিছন ফিরে তাকিয়ে  প্রাণ  বাঁচাতে দৌড়াতে গিয়ে   হঠাৎই শিহাবের  আগমন। বাঁচবার প্রানান্তকর চেষ্টায় অন্ধের মত তার উপর গিয়ে পড়েছে ! শায়লা দ্রুতই ফোন রিসিভ করে নিলো। যেন সে অনুভব করলো শিহাব তার খুব কাছেই দাঁড়িয়ে।
ও-প্রান্ত থেকে শিহাবের জানতে চাওয়ার সে কোন উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না শায়লা। কিছুই যেন শুনতে পায়নি।শুধু শিহাবই তার জন্য অনেক পাওয়া। শিহাব শায়লাকে প্রশ্ন করেই যাচ্ছে,,ভালো মত পৌছেছো? কি করছো? তোমাকে মিস করছি।সারাদিন একসাথে ছিলাম। এখন আমার পাশটা কেমন ফাঁকা লাগছে।ঘরে এসে ভালো লাগছে না শায়লা।তোমার কথা খুব মনে পড়ছে!শায়লা তুমি এসে আমায় বিকেলের চা বানিয়ে দিয়ে যাও,,শায়লা,
শায়লা কিছু বলছো না যে?বাসায় কোন সমস্যা হয়েছে? রাহাত কি কিছু বলেছে? তোমার মা কি রাগ করেছেন? 
রাহাত আর মায়ের কথা শুনতে পেয়ে শায়লা যেন নিজের মাঝে ফিরে এলো।চারপাশে তাকিয়ে দেখলো সে তার নিজের ঘরের ভেতর দাঁড়িয়ে। তবে এতক্ষন সে কোথায় ছিল? 
শিহাবের বারবার শায়লা, শায়লা ডাকে, এবার যেন সে স্বাভাবিকে ফিরে এলো! 
সন্ধ্যে হয়ে গেছে ঘরের বাতি দেয়া হয়নি,ওয়াশরুমের দরজা খোলা, বাতি জ্বলছে,শাওয়ার থেকে পানি ঝরছে!
শায়লা নিজের দিকে তাকিয়ে দেখলো,পরনের ভেজা কাপড় গায়ে অর্ধেক শুকিয়ে গেছে।ভেজা চুল পানিতে জমাট বেঁধে আছে।
হাতের মোবাইল খেয়াল হতেই তা কানে লাগালো।শিহাব বলেই যাচ্ছে,শায়লা কোন সমস্যা হয়েছে?কথা বলছো না কেন?
এবার শায়লার কন্ঠ খুললো, না  না কোন সমস্যা নেই।আমি ভালমতো পৌছেছি।রাহাত, মা আমাকে কিছু বলেনি।
শিহাব,আমি শাওয়ারে ছিলাম।তাই ফোন ধরতে দেরী হলো।
ওহ! সরি, ঠিক আছে,তুমি শাওয়ার সেরে নাও। আমি বাসায় ঢুকেছি।তাই তোমার খোঁজ নিলাম।আচ্ছা রাতে কথা হবে।শিহাব কল শেষ করলো।
ঠিকাছে বলে শায়লা মোবাইলটির দিকে অনেকক্ষন তাকিয়ে রইল আর ভাবলো,কি এক আজব যন্ত্র আবিষ্কার হয়েছে যা কিনা বয়ে আনতে পারে এক অনাকাঙ্ক্ষিত সংবাদ আবার বয়ে আনতে পারে একরাশ শুভবারতা। একটু আগের ভীত শায়লার মনের ভেতর এখন যেন শিহাবের রেশ লেগে রইল। হাতে ধরা মোবাইলটিকে শিহাব মনে করে শায়লা তাকে বুকের খুব কাছে নিয়ে আলতো করে চেপে ধরলো, শিহাবের উষ্ণতায় হৃদয়ে শক্তি ভরে নিলো।
শায়লা ফোনটি বিছানায় রেখে ওয়াশরুমের দিকে ছুটলো!
হায়! কতক্ষণ হলো শাওয়ারওটা চলছে,,,
শায়লা শাওয়ার বন্ধ করে টাওয়েল হাতে নিলো। শরীর আর চুলে বুলিয়ে নিয়ে কাপড় পালটে নিলো। ভেজা কাপরগুলো কাল বুয়ের জন্য বালতিতে জমিয়ে রাখলো।যদিও সে নিজের কাপড় নিজেই কেচে নেয় কিন্তু এখন শায়লার আর কিছুই ভালো লাগছে না।মনের ভেতর মিশ্র অনুভূতি।  দোটানায়  পায়ের চলা বারবার ধীর হয়ে যাচ্ছে। বারবার শিহাবের মুখটা ভেসে উঠছে। শায়লা ঘরের বাতি জ্বালিয়ে মোবাইলটা চার্জে দিয়ে  দরজা খুলে বেরিয়ে ডাইনিং এ এলো। 
ডাইনিং এ মা বা রাহাত কাউকে দেখছে না।
ড্রইং রুম থেকে বেশ জোরে টিভির সাউন্ড ভেসে আসছে। শায়লা উঁকি দিতেই রাহাত হাসি মুখে বললো, আপু আসো।বসো।টিভি দেখি।
শায়লা এগিয়ে গেলো।মা কোথায়? ঘরে?  যাই দেখা করে আসি।
না আপু, মা ঘরে নেই।
কেন?  মা কোথায় গিয়েছে?
মা,নায়লার বাসায় গিয়েছে। আজ দুপুরে এসে মোর্শেদ মাকে নিয়ে গেছে।নায়লার নাকি মাকে দেখার খুব ইচ্ছে হচ্ছে।
প্রেগন্যান্ট অবস্থায় মেয়েদের মায়ের জন্য আকুলতাতো লাগবেই। 
তাহলে,মা আজ ফিরবে না?
না,কয়েকদিন হয়তো থাকবে।বসো আপু।
আচ্ছা,আমি চা বানিয়ে আনি।তারপর ভাইবোন বসে গল্প করবো।
শায়লা রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেলো।চুলা জ্বালিয়ে চায়ের পানি বসাতেই ঝট করে চা নিয়ে শিহাব যেন তখন কি বলছিল,সেটা মনে করার চেষ্টা করলো,,ও হ্যাঁ, চা বানিয়ে দিয়ে আসতে বললো! শায়লা মনে মনে একা একাই হেসে ফেললো,আর নীরব কথায় বলে উঠলো, ইস, খেয়ে দেয়ে আমার কোন কাজ নেই? তাকে চা বানিয়ে দিতে হবে।শায়লা এই মন গড়া কথন শুধু সে নিজেই শুনতে পেলো।
ট্রেতে দুই কাপ চা, বিস্কিট নিয়ে শায়লা ড্রইং রুমে গেলো।ভাই বোন টিভির দিকে তাকিয়ে।রাহাত ক্রিকেট খেলা দেখছে।
টিভির দিকে মুখ রেখেই রাহাত চায়ের কাপ হাতে নিলো।শায়লা একটা বিস্কুট এগিয়ে দিতেই রাহাত বলে উঠলো, আপু কেমন লাগলো শিহাব ভাইয়াদের বাড়ির সবাইকে? আরাফ কি তোমার কাছে এসেছিল?
শায়লা আনমনে চায়ের কাপ তুলে নিলো।তার চোখে আজ সারাদিনের ঘটে যাওয়া সবকিছু রিক্যাপের মত ভেসে উঠলো। 
শায়লা বললো, হ্যাঁ সবাইকে ভালো লেগেছে।সবাই খুব ভালো।
হ্যাঁ,তাতো  শি্হাব ভাইয়াকে দেখলেই বুঝা যায়। খেলা দেখায় ডুবে থাকা রাহাতের মন্তব্য। 
আর আরাফ?
আরাফ প্রথমে আসতে চায়নি।পরে আস্তে আস্তে কাছে এসেছে।রেখে আসতে মায়াই লাগছিলো।
তাহলেতো আপু, আজ তুমি অনেক আনন্দ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে ঘরে ফিরেছো।তোমার মন শিহাব ভাইয়ের ভাবনায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে।
তবুও তোমার সাথে আজ কিছু জরুরি কথা খোলামেলাভাবে বলে নিতে চাই।আজ মা ঘরে নেই।মা যেটুকু বুঝার বুঝে গেছে।তার কাছে আমরাতো কিছুই লুকাইনি।এখন তোমার,আমার আর শিহাব ভাইয়ার মিলিতভাবে সবকিছুতে আগাতে হবে।
শায়লা চায়ের কাপে বিস্কুটটি ভিজিয়ে নিলো।একচুমুক চা গলায় চালিয়ে দিল।সবকিছুর টেনশনে শায়লার গলা শুকিয়ে আসছিলো।আমি তো তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছি।
আজ সন্ধ্যায় নোমান সাহেবের  মিসড কলে ফোনের কথাটা কি বলবে? ভাবতেই রাহাত 
বলে উঠলো, আজ দুপুরে রুহি খালা এসেছিলো।ততক্ষনে মা নায়লার বাসায় চলে গেছে।সম্ভবত  আজ সকালে সে তোমাকে আমাকে বাইরে যেতে দেখেছে।
রুহি খালা কি বললো?
বললো, তোমরা ভাইবোন যা করছো সেটা ঠিক করছো না।তোমার বিবাহিত বোন অন্য পর পুরুষের সাথে সারাদিন বাইরে কাটাচ্ছে এইসব কানাডায় জানলে বিষয়টি ভালো হবে না।একজনের বিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে অন্য আরেকজনের কাছে দিয়ে আসছো,,শায়লার কানাডায় যাওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে।নোমান বাবাজি শীঘ্রই চলে আসবে।তোমরা ঠিকঠাক মত চলাফেরা করো।,,,এইসব আরকি,,
শায়লা নীরবে চায়ের সাথেই যেন কথা বলছে।যেন বলছে,আমি কোনদিনই কানাডা যাচ্ছি না।তা  যত শর্তেই সে বাধা থাকুক না কেন।
শায়লা এবার বুঝতে পারলো,আর এজন্যই
নোমান সাহেবের এত কল? আজ আমার কথা মনে পড়েছে।বিয়ে করে রেখে যাওয়া বউয়ের যে খোঁজ নেয় না, যার মন বুঝার কোন দায়িত্ব সে মনে করেনা,কেবল স্বামীর অধিকারে  অন্যের খবরে আজ কল করা।
রাহাত বললো, আপু নোমান সাহেব শীঘ্রই আসছে।চিন্তা করোনা। তার আগেই আমি ডিভোর্সের কাগজপত্র রেডি করে ফেলবো।তুমি শুধু নিজেকে ঠিক রেখো আর নিয়মিত শিহাব ভাইয়ার সাথে যোগাযোগটা রেখো।
শায়লা আর কোনদিক চিন্তা না করেই বলে ফেললো,একটু আগে সন্ধ্যা নোমান সাহেব কল দিয়েছিলেন।আমি শাওয়ারে ছিলাম।মিসড কল হয়ে গেছে।কথা হয়নি।
আমি কি এরপর ফোন এলে আমি কি কল রিসিভ করবো? রাহাতের কাছে জানতে চাইলো শায়লা।
হ্যাঁ আপু, অবশ্যই কল ধরবে আর কি বলতে চাচ্ছে তা শুনবে। তুমি তোমার কথা কিছু জানিও না।আবার আইনি ঝামেলা করতে পারে। নিশ্চয়ই রুহি খালা সব জানিয়েছে,,,
শায়লা  মনের ভেতর উৎকন্ঠা নিয়ে যেন সামনে এক বিরাট যুদ্ধ তার মোকাবেলা করতে হবে,,এই ভেবে ভেবে  ধীর পায়ে খালি চায়ের কাপ, ট্রে নিয়ে রান্নাঘরের দিকে গেলো।

শিহাব একপ্রস্থ গ্রোসারী আইটেম কেনাকাটা করে ঘরে ফিরেছে।কিচেনে গিয়ে সব গুছিয়ে রাখলো।নিজেই এককাপ চা বানিয়ে নিয়ে  বারান্দায় বসলো।একটা বেনসন স্টিক ধরিয়ে সাথে চা পান চললো আর   আজ শায়লাকে কাছে পাওয়ার ক্ষনগুলো মনে করে চোখে মুখে এক আনন্দের ঝিলিক খেলে যাচ্ছিল! অবশ্য সে ঝিলিক কেউ দেখছে না,এমন কি শিহাব নিজেও দেখছে না,শুধু ভেতরে ভেতরে  রক্তস্রোতে আর হৃদস্পন্দনে তার সাড়া মিলছে।
চলবে......

কবি মমতা রায় চৌধুরীর কবিতা




অমর একুশ
মমতা রায় চৌধুরী



একুশ মানে মাতৃভাষা
একুশ প্রাণের চেতনা।
একুশ মানে ছদ্মবেশে
লুট চালায় ঘাতকেরা।
একুশ মানে ভাইয়ের রক্তে
রঞ্জিত প্রাণের ভাষা।
একুশ মানে ভাষার দাবিতে
রক্ত ছোটায় শিরায়।
একুশ মানে বাঁচার লড়াই
অহংকার আপামর বাঙালির।
একুশ টাটকা ক্ষতে 
দৃঢ় প্রত্যয় রাখি।

মনি জামান এর ধারাবাহিক উপন্যাস১১ তম পর্ব 




ধারাবাহিক উপন্যাস


সেদিন গোধূলি সন্ধ্যা ছিল
১১ ম পর্ব 
মনি জামান

মেবিন নাছোড় সে নিলয়ের কাছ থেকে আসমা গল্পের শেষ শুনবে,মেবিন আদর মাখা কণ্ঠে বলল,প্লীজ বলো পরে কি হয়েছিল আসমার,
নিলয়ঃ শোন তাহলে,মোমেনা বেগম সাংবাদিক ফিরোজকে সাথে নিয়ে কুমাল্লায় উদ্দশ্য ছেলে জিকুর বাসায় রওনা হল,অবশ্য আগেই সাংবাদিক ফিরোজ জিকুকে ফোন করে সব জানিয়ে দিয়েছিলো,জিকুর মাকে নিয়ে ওদের বাসায় যাচ্ছে সংবাদটা।জিকু খবরটা পেয়েই আসমাকে বলল,মা আর ফিরোজ আসছে আজ আমাদের বাসায় আমাদের বাড়ি নিয়ে যেতে,আসমা খবর শুনেই আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া আদায় করলো,আজ আসমা খুশি আল্লাহ তারপ্রতি মুখ তুলেছে,আসমা আজ খুব খুশি শাশুড়ি আসছে শুনে।আসমা জিকুকে বলল,শোন আজ আম্মা প্রথম আসছে কেনাকাটা করতে হবে সব,জিকু বলল,হ্যাঁ আমিও ভাবছি বাজার করতে যাবো তবে কি কি কিনতে হবে লিষ্ট করে দাও আসমা আগেই লিষ্ট করে রেখেছিল সেটা জিকুকে দিয়ে বলল,এগুলো সব নিয়ে এসো লিষ্ট অনুযায়ী দেখো আবার কোনটা বাদ না পড়ে বলেই জিকুর হাতে লিষ্ট ধরিয়ে দিলো  জিকু লিষ্ট নিয়ে বাজারে চলে গেলো।আসমা আজ বাসা বাড়ি সব সুন্দর করে গোছগাছ করলো মনের মত করে,কারণ শাশুড়ি আসবে কি যে খুশি লাগছে আজ আসমার,জিকু মায়ের জন্য বাজার করলো তারপর শাড়ি এবং আনুসাঙ্গিক সব কেনাকাটা করে দুই ঘন্টার ভিতর রিক্সায় করে সব নিয়ে বাসায় চলে এলো।আসমা আর জিকু দুজনে মিলে সব কাজ করলো তারপর রান্না শেষ করে দুজনে গোসল সেরে মা এবং ফিরোজের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো।দেরি দেখে জিকু ফিরোজের কাছে ফোন করে জানতে চাইলো মা আর তুই এখন কোথায়,ফিরোজ বললো এইতো কুমিল্লা বাস স্টান্ডে নামলাম মাত্র।জিকু বলল, অপেক্ষা কর আমি আসছি,বলে আসমাকে বলল,আমি মাকে আনতে যাচ্ছি তুমি বাসায় থাকো বলেই বেরিয়ে গেল,বাস স্টেশন থেকে জিকুর বাসায় আসতে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় লাগে রিকশায়।আসমা নয়নকে কোলে নিয়ে বাসার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে শাশুড়ির জন্য অপেক্ষা করছে কখন আসবে শাশুড়ি মোমেনা বেগম,প্রায় দশ পনেরো মিনিট পরে জিকু তার মাকে ও ফিরোজকে সাথে নিয়ে গেটের সামনে এসে দাঁড়ালো,গেটের সামনে এসেই ফিরোজ আসমার সাথে ছালাম বিনিময় করলো,আর মোমেনা বেগম আসমার কোল থেকে তার পুতা ছেলে নয়নকে কোলে নিয়ে বাসার ভিতরে প্রবেশ করলো,আসমা শাশুড়িকে ছালাম দিলো কিন্তু আসমার ছালামের উত্তর দিলো না মোমেনা বেগম,এমনকি বললো না বৌমা কেমন আছো।নয়ন কে কোলে নিয়েই মোমেনা বেগম বাসার ভিতর চলে গেলো আগে আগে, জিকু পিছনে সাংবাদিক ফিরোজ আর আসমা পিছুনে।
শাশুড়ি মোমেনা বেগম আসমার সাথে কথা না বলাতে আসমার মনটা ভিষণ খারাপ হয়ে গেলো,কিন্তু ফিরোজের দৃষ্টি এড়ালো না বিষয়টি,আসমাকে ফিরোজ শান্তনা দিয়ে বলল, ভাবি মন খারাপ করবেন না সব ঠিক হয়ে যাবে।ফিরোজেরও আজ অনেক খারাপ লেগেছে জিকুর মায়ের এই ব্যবহারে মানুষ এতটা অহঙ্কারি হয় কি করে,জিকুর মা মোমেনা বেগমকে না দেখলে ফিরোজ বুঝতেই পারতো না।
সবাই বাসার ভিতরে এলো মোমেনা বেগম ও ফিরোজ তাদের পোশাক পরিবর্তন করে ফ্রেস হলো,কিছুক্ষণ পর জিকু মাকে ও ফিরোজকে ডাকলো খেতে,ফিরোজ ও মোমেনা বগম খাবার টেবিলে এসে বসলো জিকুও বসলো,আসমা ওদের খাবার পরিবেশন করে খাওয়াল শাশুড়ি জিকু ও ফিরোজকে।খাওয়া শেষে মোমেনা বেগম ছেলে জিকুকে বলল,সব গোজ-গাজ করে নিতে বাড়িতে ফিরতে হবে,জিকু বলল,মা কালকে চলো যায়,মোমেনা বেগম বলল,না না এখন গুছিয়ে নাও মাত্রতো দুই ঘন্টার পথ।ফিরোজও বলল,চল জিকু ভাবিকে গুছিয়ে নিতে বল,কি আর করা মায়ের হুকুম।জিকু আর আসমা সব গোছগাছ করে নিয়ে জিকু ফোন করলো প্রাইভেট গাড়ির জন্য স্টেশনে,একটু পর গাড়ি চলে এলো সবাই মিলে ওদের ব্যাগ গাড়িতে উঠালো তারপর গাড়িতে সবাই গিয়ে উঠে বসলো কিন্তু আশ্চর্য মোমেনা বেগম একটি বারের জন্য হলেও বৌমা আসমার সাথে কথাই বললো না।ড্রাইভার জিকুর কাছে জানতে চাইলো কোথায় যাবেন,জিকু বলল,ভবদা গ্রামে ড্রাইভার গাড়ি ছাড়লো  ভবদা গ্রামের উদ্দশ্য,ফিরোজ মনে মনে ভাবছে আসমার বিষয়টি নিয়ে,এমন হলে আসমার ভবিষ্যৎ কি?আরো ভাবছে বিষয়টি জিকু লক্ষ্য করেছে কিনা,যদি করে থাকে তাহলে ঐ সামাল দিতে পারবে।সমাজের এই উচু নিচু জাত পাত কেন সৃষ্টি করলো সৃষ্টি কর্তা এটা খুব ভাবালো সাংবাদিক ফিরোজকে,আসমার বিষয়টি ফিরোজের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত করলো।আসমা অসাধারণ একটি মেয়ে রূপে গুণে শিক্ষা দীক্ষায় আর দশটা মেয়ের থেকে সম্পূর্ণ  আলাদা,কিন্তু আসমার একটাই অপরাধ সে গরিব ঘরের সন্তান।ফিরোজের একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো হাই সৃষ্টিকর্তা তোমার দুনিয়ায় মানুষে মানুষে এত ব্যবধান কেন।


চলবে....

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২

কবি শামীমা আহমেদ ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৬১




শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত( পর্ব ৬১)
শামীমা আহমেদ 

ওয়েটার ছেলেটি দুই গ্লাস কোল্ড কফি নিয়ে আসতেই শায়লা শিহাবের থেকে হাত ছাড়িয়ে নিলো। শায়লা একটু বিব্রত হলেও শিহাব খুব সহজভাবেই গ্লাস দুটো  রিসিভ করলো। ওয়েটার ছেলেটিকে ধন্যবাদ জানাতেই  ছেলেটি ফিরে গেলো। শিহাব শায়লাকে গ্লাসটি এগিয়ে দিয়ে নিজের গ্লাসের স্ট্রটিতে বেশ লম্বা একটা চুমুক বসিয়ে দিলো। এক টানে গলা ভিজিয়ে নিলো।হয়তো ভীষণ তৃষ্ণার্ত ছিল। শায়লা বেশ অনেকক্ষন যাবৎ আনমনে স্ট্র দিয়ে কফি গ্লাসে নাড়াচাড়া করছিল। শিহাব চোখের ইশারায় শুরু করতে বলাতে শায়লা ছোট্ট  এক চুমুকে যেন ভদ্রতা রক্ষার্থে টান দেয়া। শিহাব বুঝতে পারলো শায়লা কোন বিষয় নিয়ে গভীর চিন্তামগ্ন। 
কি হলো শায়লা, ভালো লাগছে না? 
হ্যাঁ, লাগছে।
তবে? 
শিহাব আমি তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই।
হ্যাঁ, অবশ্যই বলো আর কথা বলবার জন্যইতো এখানে আসা। 
শিহাব ঘন ঘন স্ট্রতে টান দিয়ে দ্রুতই কফি শেষ করে পুরোপুরি শায়লার দিকে স্থির দৃষ্টি রাখলো। 
আচ্ছা শিহাব, আজ সকালে রিশতিনাকে ফিরিয়ে দিয়ে তুমি কি কাজটি ঠিক করলে?
আমি সারাটাদিন এই বিষয়টি নিয়ে ভেবেছি।সে তো একবার তার বাবা মাকে ছেড়ে তোমার কাছে এসেছিলো। আজ আবার সে সব কিছু উপেক্ষা করে এলো।তার সংসার সন্তান বুঝে নিতে। তাকে তুমি কি আমার জন্যই ফিরিয়ে দিলে? 
শিহাব এবার বুঝতে পারলো শায়লার অন্যমনস্কতার কারন।
শিহাব শান্ত ভাবেই বললো,
শায়লা তুমি এভাবে ভেবোনা। রিশতিনার পরিবারটিকে তোমার পুরোপুরি জানা নেই।রিশতিনা যে পরিবারের সন্তান তাকে কোনদিনই আমাদের পরিবারে সংসার করতে দেয়া হবে না।বলতে গেলে রিশতিনাই আমার প্রতি বেশি আগ্রহী ছিল আর আমাকে পাওয়ার জন্য খুবই অস্থির হয়ে উঠেছিল।  আমি সবটা বুঝে উঠার আগেই ও বিয়ের জন্য আমাকে চাপ দিতে থাকে।মূলত ও ওর বাবা মায়ের কড়া শাসনে অতিষ্ঠ  হয়ে উঠেছিল।ওর ইচ্ছাকে মূল্য দিতেই আমি দ্রুতই বিয়ের সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলি। 
শিহাবকে থামিয়ে শায়লা বলে উঠলো, 
শিহাব আমি তোমার অতীত মনে করিয়ে দিয়ে কি কষ্ট দিলাম?
না শায়লা একেবারেই না।আমি একেবারেই ঠান্ডা মাথায় উত্তর দিচ্ছি।আমিতো আগেই বলেছি, তোমার মনে যত প্রশ্ন, আজ তুমি তা কর‍তে পারো।তাইতো এখানে আসা।আর যতদিন বা যখনি রিশতিনাকে নিয়ে তোমার মনে প্রশ্ন আসবে তুমি তখুনি তা জানতে চাইবে।আমার উত্তর দিতে কোন বাঁধা নেই।আমি  চাইনা আমাদের ভালবাসায়  তোমার মনে ভেতর কোন প্রশ্নের উত্তর অজানা থাকুক।আমি চাইনা আমার সাথে  মনে কোন প্রশ্ন নিয়ে জীবন কাটাও।
শায়লা, রিশতিনা আমার জীবনে এক কালবৈশাখী ঝড় হয়ে এসেছিলো। ও আমার জীবনটাকে ওলোটপালোট করে দিয়ে গেছে।তবে হ্যাঁ, এই ঝড় আমায় যতই কষ্ট দিক না কেন,এতে আমার একটা বিরাট অর্জন হয়েছে, আমার সন্তান আরাফকে পেয়েছি।
রিশতিনার বাবা মায়ের অর্থ বিত্ত আর অবস্থানের আভিজাত্যে তারা এতটাই অন্ধ যে,নিজ সন্তান মা হয়েছে,তারপরেও তার বুক থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়েছে।আমাদের কাছে ছুড়ে দিয়ে গেছে।এই চারটি বছর রিশতিনাকে আরাফের একটা খোঁজও নিতে দেয়নি। রিশতিনা দেশে থাকলেও কোনদিনই ওরা আমার সাথে শান্তিতে সংসার করতে দিতো না।আর এমন একটি অসুস্থ পরিবেশে আরাফ সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারতো না।যদিও আরাফ তার আপন মাকে পায়নি কিন্তু সে একটা সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশে বড় হয়েছে। আমি ধৈর্য্য  ধরেছি।রিশতিনার ফিরে আসার অপেক্ষায় থেকেছি।কিন্তু পরক্ষনেই তাদের পরিবারের দাপট আর নোংরা আচরনে  আবার কিছুতেই চাইনি রিশতিনা ফিরে আসুক। তার পরিবারের অবস্থানেই তাকে মানিয়ে নিয়ে নতুন জীবন  শুরু করতে হবে। রিশতিনা যতই অস্বীকার করুক আমি জেনেছি, রিশতিনাকে ওর বাবার ছাত্রের সাথে বিয়ে দিয়ে ঢাকা থেকে ওরা লন্ডনে গেছে।তবে জানিনা রিশতিনা সে বিয়ে মেনে নিয়েছে কিনা। আমি  রিশতিনার ভালোর জন্যই ওকে ফিরিয়ে দিয়েছি।এতে তুমি কোন হীনমন্যতায় ভুগবেনা শায়লা। এখানে তোমার কোন কার্যকারন জড়িত নয় শায়লা। তুমি জানো না,আমি আরাফকে নিয়ে ভালোই ছিলাম।এই একার জীবনে অনেক অনেক রাত একা একা আঁধারে শুধু প্রশ্ন রেখে গেছি কেন আমার জীবনটা এমন হলো? শুধু আরাফের মায়ের শূন্যতা আমাকে কষ্ট দিয়েছে। শায়লা আজ তোমাকে পেয়েছি।আমার জীবনটা আবার নতুন করে সাজাতে ইচ্ছে করছে।আবার স্বপ্নেরা উঁকি  দিচ্ছে।রিশতিনার সাথে আমার একমাসের চেয়ে অল্প কিছুদিনের দাম্পত্য জীবন। স্বামী স্ত্রীর সবটুকু সুখ ভোগের আগেই আমাদের জীবনটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।আমি বুঝিনি জীবন কি, সংসারে স্ত্রীর ভালবাসা কি? রাত নিশুতে খুব ভালবেসে স্ত্রীর কাছে সুখ খুঁজে নেয়া কি,বুঝিনি কেমন করে দুজনে দুজনার হয়ে হয়, কেমন করে ভালবাসার উজান গাঙে নাও বাইতে হয়! কেমন করে প্রেয়সীর ভেজা চুলের ঘ্রাণ নিতে হয়। দুজনার সাজানো সংসারে আটপৌরে নারীর দেহের বাঁকে কেমনে লুকিয়ে থাকে শিহরনের স্পন্দনের দোলা!
শায়লা, আমার অনেকদিনের না পাওয়ার মাঝে আমি তোমাকে পেয়েছি।একটা সুন্দর সুখের নীড় গড়বার আশায় তোমার বুকে মুখ লুকাতে চাই শায়লা।ভেবোনা রিশতিনাকে একেবারেই ভুলেছি। এটা বললে মিথ্যে বলা হবে।তোমার কাছে আমি কিছু লুকাইনি শায়লা।আমি অন্তত ওকে একদিকে শান্তি দিতে চাই।ও বাবা মায়ের পরিবার থেকে কখনোই মুক্তি পাবে না। কখনোই আমাদের ওরা শান্তি দিবে না।
শায়লা তুমি আমায় গ্রহন করো।আমাকে আমার একাকী জীবন থেকে মুক্তি দাও। শায়লার শিহাবের কথার মাঝে একেবারে ডুবে গিয়েছিল।তার কোল্ড কফি যেন জুড়িয়ে গিয়ে উষ্ণতা ছড়াচ্ছে।শায়লা স্ট্র দিয়ে কফি গ্লাসে হাত ঘুরাচ্ছে।সাথে তার মনেও নানান ভাবনা মনের ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে।
শিহাব  একটানে শায়লার ডানহাতটি কাছে টেনে নিলো।বললো,বাহ" ব্রেসলেটটা তোমাকে দারুন মানিয়েছে। বলেই শিহাব শায়লার হাতে ঠোঁট ছুইয়ে দিলো। শায়লা  বাইরে আমি খুবই পরিপাটি হলেও এই অগোছালো আমিটা তোমার যত্ন খোঁজে।
এই চেতনাহীন আমিটাকে তোমার চেতনার রঙে রাঙিয়ে দিও,যখন আমি দ্বিধান্বিত হই তুমি আমায় পথ দেখিও।
শায়লা, ঘড়ির কাঁটা মেপে চললেও আমি যে খুব ভুলো মনা, তুমি আমাকে তোমার মনের গহীনে রেখো। তোমার আঁচল তলে ছায়া খুঁজি বলে আমায় কাপুরুষ ভেবোনা,  তুমি চাইলে আমি যে হিমালয় জয় করতে পারি, পারি আটলান্টিক পাড়ি দিতে, শত ক্রোশ পেরিয়ে তোমায় নীল পদ্ম এনে দিতে।
শায়লা শি্হাবের সব কথায় একেবারে ডুবে গেলেও তার ভেতরেও প্রতিনিয়ত একটি কাঁটা বিঁধছে। কানাডার বাতাস বয়ে আনছে উৎকন্ঠা। শায়লার চোখে মুখে তার ছাপ শিহাবের দৃষ্টি এড়ায় না। শিহাব তা বুঝতে পেরে শায়লার মনে আশা জাগাতে শত বাধাকে উপেক্ষা করবে। 
শিহাব বলে উঠলো, শায়লা তোমার বিষয়টিও একটা বাধা হয়ে আছে।তুমি ভেবোনা, একটা সুন্দর সমাধানে আমাদের যেতে হবে।
রাহাত আর আমি দুজনে সবঠিক করে নিবো।রাহাতের কথা আসাতেই বাড়িব ফেরার কথা মনে হলো। 
শিহাব বললো, এবার তবে চলো উঠি।
শিহাব ওয়েটারকে বিল দেয়ার জন্য ডাকতেই ওরা বিল নিয়ে হাজির হলো। শিহাব বিল ও সাথে কিছু টিপস দিয়ে উঠে দাঁড়ালো। শায়লা 
হ্যান্ডব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে একপা আগালো।রেস্টুরেন্টের ছেলেটি ওদের ধন্যবাদ জানালো।আবার আসবার আমন্ত্রণ জানালো। শিহাব হাসি বিনিময় করে শায়লার হাত ধরে লিফটের দিকে এগিয়ে গেলো। লিফট গ্রাউন্ড ফ্লোরে কল দিতেই ঊঠে এলো।লিফট থেকে দুইটি ছেলেমেয়ে নামল। শিহাব ভাবলো, ওদেরও নিশ্চয়ই কত কথা জমে আছে মনের ভেতর! 
দুজনে লিফটে উঠতেই দরজা বন্ধ হলো।  শিহাব মনে মনে চাইতেই শায়লা শিহাবের খুব কাছে চলে এলো।শিহাবের বুকে মাথা রেখে যেন নিজেকে একেবারে শিহাবের কাছে সঁপে দিলো।শিহাব শায়লার আবেগের সাড়া দিয়ে ভীষণ শক্ত করে শায়লাকে নিজের সাথে বেঁধে নিলো। তিন সেকেন্ড স্থায়ী এই ভালবাসার উষ্ণতার বন্ধন যেন এক মহাজীবনের সঞ্চয় হয়ে রইল।লিফট গ্রাউন্ড ফ্লোর টাচ করতেই  শায়লা নিজেকে আলাদা করে নিলো।শিহাব নিজেকে মানিয়ে নিয়ে দুজনে লিফট থেকে নামলো।দুজনে
এগিয়ে মেইন রোডে দাঁড়ালো। একটু অপেক্ষা করতেই একটা খালি রিকশা এগিয়ে এলো। শিহাব ইশারা দিতেই শায়লা রিকশায় উঠলো।  শিহাব রিকশাওয়ালাকে যথাযথ নির্দেশনা দিয়ে বললো, আপনার এই ম্যাডামের কাছ থেকে ভাড়া নিবেন,বুঝছেন, আমি কিন্তু ভাড়া দিলাম না। রিকশা ওয়ালা মাথা ঝুকিয়ে বললো, আইচ্ছা।
শিহাব শায়লার কাছে থেকে বিদায় নিলো।শায়লার মুখটা বিষন্নতায় ছেয়ে গেলে শিহাব বললো, রাতে কথা হবে। আমার ঘরের গ্রোসারী জাতীয়  কিছু কেনাকাটা আছে।একটা সুপারমলে ঢুকবো।তুমি পৌঁছে জানিও।বাই, বলতেই রিকশা ঘুরে গেলো।
দশ মিনিটের মধ্যেই শায়লা বাসায় পৌঁছে গেলো। ছুটির দিন বিকেলে আজ রুহি খালার হাজবেন্ড জয়নাল খালু দাঁড়িয়ে।শায়লাকে ভালোভাবেই পর্যবেক্ষণ করে নিলেন।নিশ্চয়ই  যাওয়ার সময় রুহি খালা দেখেছে আর রুহি খালার কাছ থেকে সবই জানা হয়েছে।শায়লা রিকশা ভাড়া মিটিয়ে বাসার গেটে ঢুকে গেলো। জয়নাল সাহেব যা বুঝার বুঝে নিলেন। শায়লা দোতালায় উঠে গিয়ে কলিংবেল দিতেই রাহাত দরজা খুলো। ভাই বোনের হাসি বিনিময় হলো। শায়লা কিছুটা লজ্জিত প্রকাশভঙ্গীতে তাকিয়ে বললো,মা কেমন আছে।রাহাত মাথা ঝুকিয়ে জানালো,ভালো।
শায়লা নিজের ঘরে ঢুকে গেলো। দ্রুতই কাপড় চেঞ্জ করার উদ্দেশ্য, শাওয়ার নেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো। 
প্রায় আধ ঘন্টা খানেক সময় কাটিয়ে একেবারে জলধোয়া পদ্মপাতা হয়ে বেরিয়ে এলো। ভেজা চুলে জলের ধারা। অগছালো বসনায় তাড়াহুড়োয় বেরিয়ে আসা।
আহ, মোবাইল বেজেই চলেছে।নিশ্চয়ই শিহাব পৌছেছি কিনা জানতে।আহ! এসে আর মোবাইল বের করে কল দেয়া হয়নি।
শায়লা হন্তদন্ত হয়ে ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করলো এবং যারপর নাই  মোবাইল স্ক্রিনে  নামটা দেখে  ভীষণ রকম চমকে উঠলো! 
কানাডা থেকে নোমান সাহেবের  পাঁচটি মিসড কল!!


চলবে....

কবি সাহানুকা হাসান শিখা  এর কবিতা




প্রাপ্তি 
সাহানুকা হাসান শিখা 


বহু বছর আগে হয়েছে 
আমার আত্মার হয়েছে মৃত্যু
কিন্তু আমার দেহ আজও
চিতায় জ্বলছে  অবিরত। 
ঈশ্বর মাঝে মাঝে করেন কিছু দান,
আবার মাঝে মাঝে অভুক্ত রই,
পাই কিছু অপমান। 
জন্ম আর মৃত্যু, দুটিই আমার কাছে
অনর্থক মনে হয়। 
সারাক্ষণ মনটা জুড়ে প্রচণ্ড ভয়,
এগুলো কি দৈত্য দানব, 
নাকি নরপিশাচ !

কবি মাহবুবা আখতার এর কবিতা




রক্ত ক্ষরণের ধারাপাত     
মাহবুবা আখতার 

যদি কষ্টগুলো কখনো দুঃখ নদী হতো
যদি সুখগুলো কখনো উড়াল পাখি হতো
যদি ভালোবাসাগুলো কখনো হতো অচেনা শহরের অন্ধগলি
তাহলে হে জীবন,আমার এই অথর্ব,অসহিষ্ণু জীবনটা 
উৎসর্গ করে অনায়াসে প্রণয়ী হতাম সহজিয়া হিরন্ময় তৃষ্ণায়। 
আমি অনার্য প্রেমে জলের জলে সন্তরণ খেলতাম কাদম্বিনী হয়ে। 

যদি স্মৃতিগুলো কখনো হৃদয়ে স্থিতি পেতো 
যদি স্বপ্নগুলো কখনো ফেরিওয়ালা হতো জীবনের নাগর দোলায়
যদি সময়গুলো কখনো শরীরের অস্তিত্বে একাকার হতো 
তাহলে হে জীবন আমার অনায়াসে তোমাকে আহুতি দিয়ে মেঘের শরীরে মিশে নিপুণ নিষ্ঠায় সঙ্গোপনে আমাকে যোগ্য করে নিতাম চমৎকার প্রেমী হতে। 

যদি অহংকারগুলো কখনো আরব বেদুঈন হতো
যদি ভুলগুলো কখনো শুদ্ধ ব্যাকরণ হতো
যদি বিষন্নতাগুলো কখনো সুস্থ চালচিত্র হতো 
তাহলে হে জীবন আমার,এই ক্ষয়িষ্ণু জীবনটা বিশাল 
বিলবোর্ডে কালো চাদরে ঢেকে রাখতাম। 

যদি ইচ্ছেগুলো কখনো দুর্দান্ত পাগলামো হতো
যদি দুঃখ-কষ্টগুলো কখনো নাচের ভৈরবী আলাপ হতো
যদি আয়ুষ্কালট কখনো স্তব্ধতা না ভাঙতো 
তাহলে হে জীবন আমার,সকল বিবশতা,অস্থিরতা তুচ্ছ 
করে হেঁটে যেতাম নেলসন ম্যান্ডেলার হাত ধরে। 

যদি আর্তনাদ গুলো কখনো শ্রাবণ আকাশ হতো
যদি যন্ত্রণা গুলো কখনো ফিনিক্স পাখি হতো 
যদি প্রশংসা গুলো কখনো ঘৃণার বারুদ হতো
তাহলে হে জীবন আমার, মুহূর্তে তোমার সমূহ দৃশ্যপট
পাল্টে দিয়ে মঙ্গলালোকের অলৌকিক বাঁশীতে 'ফুঁ' দিয়ে আনন্দ যজ্ঞ করতাম। 

অথচ,অথচঃ কত্তো সময় পেরিয়ে গেলো এলোমেলো ক্লান্ত ভাবনা, বিনিদ্র চোখ, ভুল সূত্রে অসমাপ্ত কবিতার পান্ডুলিপি নিয়ে আমি আজো সেখানেই দাঁড়িয়ে  
আছি শর্তহীন রক্ত ক্ষরণের ধারাপাতে।

কবি শিবনাথ মণ্ডল এর কবিতা




একুশ স্মরণে


শিবনাথ মণ্ডল

আজো তোমায় স্মরণ করে
বিশ্বের নর-নারী
বিশ্বভূমে জয় হয়েছে
একুশে ফেব্রুয়ারি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাঁরা
নেমেছিল আন্দোলন পথে
বুলেটে তাদের ঝাঁজরা করে
বাংলাভাষা মুছার স্বার্থে।
ভাষা আন্দোলনের পথেপথে
লক্ষ মানুষের ঢল
বুলেট দিয়ে ভাঙতে চায়
বাংলা ভাষার বল।
বুলেট ছুড়ে হয় না বন্ধ
বংলা মায়ের গান
জীবন দিয়ে রাখব ধরে
বাংলা  ভাষার মান।
আসুক ঝড় আশুক তুফান 
রাখব মাতৃভাষার মান
বিশ্বের মাঝে বাংলাভাষা
হবে বলবান।
বাংলাভাষার বিরোধ কারীরা
মাথা করেন নত
মাতৃ ভাষাকে সমর্থন করেন
বিশ্বে দেশআছে যত।
একুশে ফেব্রুয়ারী আন্তজার্তিক করেন
বাংলা ভাষা ঘোষণা
আন্দোলনকারী শহিদদের
সার্থক হলো সাধনা।
বাংলা ভাষা মাতৃ ভাষা
তোমায় প্রণাম করি
হাজার মানুষের রক্তঝড়া
একুশে ফেব্রুয়ারি।।