০৫ নভেম্বর ২০২১

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক গল্প "অলিখিত শর্ত"৯




শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত 
                                              (পর্ব )
   শামীমা আহমেদ 



                                                প্রায় দুই আলমারী বোঝাই শিহাবের পোষাক,একটি তো স্যুট দিয়ে, তারপরেও তার মায়ের আলমারী দখলের চেষ্টা।আবার কিনতে গেলেই সাত আট সেট পোষাক একসাথে নিয়ে আসে,আরো চার পাঁচ সেট বানাতে দিয়ে আসেন টেইলারিং শপে। একসেট পোশাক একদিন পরলে আবার সেটা পরার জন্য ঘুরে আসতে কখনো দুই মাসও লেগে যায়। কেউ বলবে না এক পোষাকে তাকে দুই দিন দেখেছে।অবশ্য গ্রামে গেলে অনেক কাপড় বিলিয়ে দিয়ে  কিছু  কমিয়ে আসে।আবার যা তাই,নতুন নতুন  কিনে আলমারী ভরিয়ে ফেলা।
আর মা এতে বেশ বিরক্ত।দরকারের সময় প্রয়োজনীয়  জিনিসপত্র খুঁজে পায়না।সেই কলেজ লাইফ থেকে শিহাবের এই পোষাক বিলাসিতা।মাতো প্রায়ই বলেন, তোর কাপড়চোপড়ের যন্ত্রণায় আমার বাড়ি ছাড়তে হবে। এগুলো দিয়ে একটা শোরুম খুলে ফেল।বিক্রি হলে কিছু আয় হবে,ঘরে কিছুটা হলেও কাপড় কমবে।  মায়ের এই রাগ সবই বৃথা যায়।মা খুব ভালো করেই জানে কাপড়ের সাথে শিহাবের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। সে টিপটপ চলতে পছন্দ করে।সেই যে সেই কলেজ জীবনে ফার্স্ট ইয়ারে কলেজে যাবার জন্য দুই সেট শার্ট প্যান্ট আজো রয়েছে স্মৃতি হয়ে।ঘড়ি আর সানগ্লাস এগুলোতো ব্র‍্যান্ডেড হতেই হবে।জুতা! সেও এক ইতিহাস। যেমন জুতার সংগ্রহ তেমন তাদের যত্নআত্তি।দেশের বাইরে গেলে বাড়তি  সুটকেস কিনতে হয় জুতা ক্যারি করতে। আর যখন বাইরে  বেরুবে সুগন্ধিতে তো সারাবাড়ি মৌ মৌ করবে!
দু তিনটে পারফিউম মিশিয়ে স্প্রে করা শিহাবের হ্যাবিট।একসময় খুবই সৌখিন ছিল এইসব নিয়ে।এখন কিছুটা কমেছে।তবে পরিস্কার পরিচ্ছন পরিপাটি পোষাকে নিজেকে খুব যে জাহির করে সেটা নয়,  শিহাব বরাবরই খুবই মার্জিত  আর সংযত তার চালচলনে।একসময় উঠতি তরুণ বয়েসে নিত্য নতুন পোষাকে  সেকি রোমিও রোমিও ভাব নিয়ে চলা! মেয়েরা জানালা, দরজার আড়াল থেকে, বারান্দায় কাজের অজুহাতে কিংবা মোড়ের দোকানে কিছু কেনাকাটার ছলে  শিহাবের আড্ডার পাশ দিয়ে ঘুরে আসতো।সে সব দিনের কথা ভাবলে শিহাবের বেশ হাসি পায়।কিন্তু শিহাবতো শুধু একটা বারান্দারই অপেক্ষায় থাকতো।
তা হউক কড়া রোদ, ঝড়, বৃষ্টি কিংবা প্রচন্ড শীত আর এরজন্য বন্ধুদের নিয়ে কত হাজার  টাকা যে চায়ের বিল দিতে হয়েছে!

শিহাব চা খেয়ে গোসল সেরে নিলো।ঘড়ির কাটা আটটা ছুঁই ছুঁই। মা নাস্তা নিয়ে অপেক্ষায় থাকবে।গতরাতে মা আর আরাফের জন্য যা যা কেনাকাটা করেছিলো সেগুলো একেএকে গুছিয়ে নিলো। নিজে গুলশান মার্কেট থেকে কেনা প্রিন্টেড শার্ট, মিলিয়ে প্যান্ট আর গায়ে সুগন্ধি ঢেলে  নীচে নেমে এলো।আকর্ষণীয়, সুন্দর সুপুরুষ বলতে যা বুঝায়!এদেরকে ফিল্মেই মানায়। সিনেমার পর্দায় দারুণ দেখায় আর দর্শকরা তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে।হিরো হওয়ার প্রস্তাবও দু'একবার এসেছিল। দূরসম্পর্কের এক সিনেমা মামা আছেন।সিনেমার পরিচালক।ছোটবেলা থেকে এই নামেই চিনে তাকে।সিনেমা বানায় বলে নামের সাথে সিনেমা শব্দটা জুড়ে গেছে। সেই সিনেমা মামা ছোট বোন শিহাবের মাকে বলেছিল, ছেলেকে নায়ক বানাবি নাকি? তাহলে পাঠিয়ে দিস,,
কোথায় কি! নায়ক! সন্ধ্যা হলে মা পিটিয়ে পড়াতে বসাতেন।পড়ালেখা ছাড়া কোন কথা নেই।বাবা বিদেশ থেকে হাঁড়ভাঙা খাঁটুনি করে টাকা পাঠায়। কড়া নির্দেশ, দুই ছেলে যেনো মানুষ হয়। শিহাবের বড় ভাই শাহেদ ছিল খুবই মেধাবী।তার সাথে তুলনায় শিহাব বরাবরই পিছিয়ে যদিও দুষ্টুমিতে এগিয়ে।
শিহাবের সিনেমার নায়ক হওয়া হয়নি তবে তার ভেতরে শিল্প সাহিত্য গান সিনেমা এইসব  নান্দনিকতার প্রভাব প্রবল।সে যেমন আবেগী তেমনি রোমান্টিক। 
শিহাব তিনতলা থেকে নেমে এলো। নিজে  হাতে বাইকটা মুছে নিয়ে চোখে সানগ্লাসটা বসিয়ে বাইকে স্টার্ট দিল আর সাথে সাথেই প্রতিদিন নিয়ম করে যে ব্যাপারটা ঘটে যাচ্ছে, নীচতলার ভাবী দরজা খুলে তাকে উৎসুক চোখে একনজর দেখে নিচ্ছে। শিহাব ব্যাপারটা বেশ এনজয় করে।আর সামনের বিল্ডিংয়ের ডাইনিং এর পর্দাটা একটু সরবেই।কিন্তু কে আছে পর্দার পিছনে তা আর দেখা হয় না।শিহাব এসব ব্যাপার ফেস করে অভ্যস্ত।এ এলাকায় শিহাব নতুন।তাকে দেখবার উৎসুক চোখ তো থাকবেই!
শিহাব মনে মনে দিনের প্ল্যানটা করে নিলো। উত্তরা থেকে জিগাতলা যাওয়ার পথে পরীবাগের পেট্রোল পাম্প থেকে বাইকের জন্য তেল নিতে হবে।আর কিছু না ভেবেই  শিহাব বাইক স্টার্ট দিয়ে ঝিগাতলার দিকে ছুটলো।
চলবে....

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"৩৭

কান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "




 'টানাপোড়েন' (৩৭)

 এক রাস্তা হ্যায় জিন্দেগি



                                   রেখা হঠাৎ করেই দেখছে পরপর কতগুলো মেসেজ ঢুকছে। রেখা হোয়াটসঅ্যাপটা চেক করে দেখে স্কুল গ্রুপে মেসেজ ঢুকেছে। রেখা চশমাটা পরে ভাল করে দেখল"আরে এ তো এমসিকিউ 'এর মূল্যায়ণের জন্য খাতা ইমিডিয়েট সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে। আগামী পরশু দিন খাতা জমা দিতে হবে।'
রেখা দেখল  'আজকে তো  স্কুলে যায় নি। হাতে সময় মাত্র একটা দিন ।কালকে স্কুলে গিয়ে খাতা এনে চেক করে দেয়া অনেকটা টাফ ব্যাপার ।কি হবে এখন ?এদিকে মনোজ ও  ফেরে নি ।ওদিকে কী হলো কে জানে? রিম্পাদিকে বললে হ'তো, খাতাটা যদি নিয়ে আসতো, স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যেত। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে ,সে সময় পেরিয়ে গেছে। এখন তো বলেও লাভ নেই। রিম্পাদি তো ট্রেনে চেপে পড়েছে ,কি হবে? শরীরটাও ভাল নেই। কী যে হচ্ছে ,কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না ।সবকিছু কেমন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে।'
 অন্যদিকে মিলি  চেঁচাচ্ছে। বাবা, ওর আবার খিদে পেয়ে গেল। এত ঘনঘন খিদে পাচ্ছে। ওকেই বা দোষ দিয়ে লাভ কি ?বাচ্চারা বড় হচ্ছে, দুধ খাচ্ছে ,ওর ক্ষিদের পরিমাণ বাড়ছে, তাছাড়াও ঠিক করে না খেলে বাচ্চাদের দুধ ই বা পাবে কোথা থেকে?এই ভেবে গেল মিলিকে কিছু খাবার দিতে। মিলির কাছে যেতেই মিলি রেখাকে ওর ভাষায় রাগ দেখাতে লাগলো ।মানে ওর ভাষায় কিছু বলতে চাইছে যে এত দেরি করে দিচ্ছ ?খিদে পাচ্ছে ।তোমার কি টাইম জ্ঞান নেই?
রেখা হেসে বলল '  মা গো, আমার তো কাজ থাকে নাকি, রাগ কোরো না। খেয়ে নাও। '
মিলিও সেই কথা শুনে রেখার দিকে একটু তাকালো, তারপর লেজ নেড়ে খেতে শুরু করল।
এরমধ্যেই শুনতে পেল ঘরেতে ফোনে আওয়াজ হচ্ছে। রেখা মিলিকে খেতে দিয়ে ছুটল ফোনের দিকে।যেতে যেতে ফোনটা কেটে গেল। ভাবলো হাতটা ধুয়ে নিয়ে ফোনটা রিসিভ করবে ।
এরমধ্যে আবার ফোন বেজে উঠলো। রেখা হাত ধুতে গিয়ে আবার ফিরে আসলো ।বাহাতে ফোনটা রিসিভ করল ,ডান হাত টা তখনও এঁটো।
 রেখা বলল  '"হ্যালো।
অপরপক্ষ বলল 'এই রেখা আমার ট্রেন পালপাড়া ছাড়ছে ।তুই রেডি হয়ে স্টেশনে চলে আয় ।আমি তোর খাতাগুলো নিয়ে এসেছি ।কারণ খাতাগুলো চেক করে তাড়াতাড়ি জমা দিতে হবে।'
রেখা খুব খুশি হয়ে বলল  'তুমি কি করে আমার মনের কথা বোঝো রিম্পা দি ।সত্যিই তুমি ছাড়া কে বুঝবে আমাকে বল তো?'
রিম্পাদি বলল  ,'কি হয়েছে বল তো? হঠাৎ এরকম বলছিস কেন?'
রেখা বলল  ' মনে মনে এটাই ভাবছিলাম যে রিম্পাদি   কে বললে তো, খাতাগুলো দিয়ে যেত। মেসেজটা একটু আগে দেখতে পেলাম। আরেকটু আগে যদি বড়দি মেসেজ দিত। তাহলে হ'ত।'
রিম্পাদি বলল  'আমি জানি তো। সেই জন্যই তো আমি তোর খাতাগুলো নিয়ে আসলাম।'
রেখা বলল  'তোমাকে আমি থ্যাঙ্কস জানাবো না ।কারণ থ্যাংকস জানিয়ে আমি তোমাকে ছোট করতে চাই না ।তোমাকে আমি সব সময় আমার হৃদয়ের ভালোবাসায় তোমাকে সংযুক্ত করতে চাই। করতে চাই বললে ভুল, তুমি তো সংযুক্তি হয়েই গেছে ।না হলে বুঝলে কি করে আমার মনের কথা বল?
রিম্পা দি বলল ' হু, মন ভেজানো হচ্ছে না?'
রেখা বলল  ,'না গো রিম্পাদি ,মন ভেজানো নয় ।সত্যি কথা বলছি।'
রিম্পা দি বলল 'ঠিক আছে তাড়াতাড়ি চলে আয় ।খাতা গুলো নিয়ে যা।'
রেখা বলল 'হ্যাঁ, তুমি রাখো ফোন ।আমি স্টেশনে যাচ্ছি।'
রেখা রেডি হয়ে হন্তদন্ত হয়ে কোনরকমে একটা অটোকে পাকড়াও করল। অটো তো অলরেডি বুকিং ।এবার খুব চেপে চেপে বসতে হবে।
 অটোওয়ালা দাঁড়াতেই চাইছিল না। জোরজবস্তি
করে রেখা বলে ' এ‌ই অটো দাঁড়াও, রোজ যাই।'
অটোওয়ালা বলল ‌'না দিদি ,আপনি যেতে পারবেন না ঠাসাঠাসি করে বসতে হবে।
রেখা বললো  'আমাকে যেতেই হবে । আমি জানি এই ট্রেনটা মিস করলে আমার অসুবিধা আছে।'
অটোওয়ালা বলল  'কি বলব দিদি, বলুন তো ?আপনারা ডেলি প্যাসেঞ্জার করেন, কিছু বলার নেই ।ঠিক আছে উঠুন ।কষ্ট করে বসতে হবে আপনাকে।'
রেখা কোন কথা না বলে অটোতে উঠলো আর মনে মনে ভাবল অটোওয়ালা তো ঠিকই বলেছে। কিন্তু আমার তো কিছু করার নেই আর তাছাড়া অটোতে বসে আর যা কান্ড হবে, সেসব হজম করতে হবে ।তার চেয়ে মনে মনে ভালো কথাগুলো ভাবতে থাকি ।রিম্পাদির সঙ্গে দেখা হবে ,খাতা পাবো -এই খুশিতে যেটুকু পথ অতিক্রম করা যায়।
এই করতে করতে কল্যাণী স্টেশন এর কাছে নামিয়ে দিলো আর ঠিক তখনই ট্রেনটা ঢুকলো রেখা ছুটতে ছুটতে প্লাটফর্মে এসে  উপস্থিত হল। রিম্পাদি ও একগাল হাসি নিয়ে গেটের কাছে দাঁড়িয়ে । বলল 'এই নে ,তোর আমানত। আমি খুব টেনশনে ছিলাম। কি জানি তুই আসতে পারবি কিনা?'
রেখা বলল  'আর বোলো না, আসতে পারতাম না ।অটোওয়ালা কিছুতেই তো আমাকে অটোতে তুলে ছিল না ।নেহাৎ ডেলি প্যাসেঞ্জার বলে এই ফ্যাসিলিটি পেলাম জানো তো?
যাই হোক আজকে নেমে যাও না ?কালকে একসাথে যাবো স্কুলে।
রিম্পা বলল  ' হ্যাঁ , তাই  আর কি ?আমার বাড়িতে মেয়েটা রয়েছে ,আমার বর রয়েছে ।আমি না বলে কয়ে, হঠাৎ করে তোর বাড়িতে থেকে যা ই তাই না ?ঠিক আছে অন্য দিন আসব ।
এর মধ্যে  ট্রেন ছেড়ে দিল ।
ভালো থাকিস ।'হাত নাড়তে লাগল দুজনেই।
রেখা যতদূর ট্রেনটাতে রিম্পাদিকে দেখা গেল ,তাকিয়ে রইলো ।তারপর আবার অটোতে এসে বসলো। খেয়াল করে নি সেই অটোতেই বসেছে।
অটোওয়ালা তাকিয়ে বলল ' ও দিদি আপনি ট্রেনে গেলেন না ,এত হুটোপাটি করে যে আসলেন?'
রেখা একগাল হেসে বলল ' একটু দরকার ছিল দাদা।এই ট্রেন মিস করলে আমার খুব অসুবিধা হতো এইজন্য'।
অটোওয়ালা বলল ' তখন যা কষ্ট করে আসলেন ।এখন একটু জায়গা নিয়ে ঠিক ভালোভাবে যেতে পারবেন। বলেই হাঁকতে লাগল বুদ্ধ পার্ক, বি ব্লক ,বাগের মোর ।
এরমধ্যে মনোজ ফোন করলো ।
রেখা ফোন রিসিভ করে বলল' হ্যালো'।
মনোজ একটু অবাক হয়ে বলল ' আরে তুমি কোথায় ?আজকে স্কুলে যাও নি তো?'
রেখা বলল  'একটু স্টেশন এসেছিলাম। দরকার ছিল।'
মনোজ বলল  'এদিকে বাড়িতে এসে দেখি। ‌ মিলি কি চেঁচানো চেঁচাচ্ছে। আমাকে দেখে একটু শান্ত হলো।'
রেখা বলল 'আর বোলো না, ওর খাবার টাইম হয়ে গেছে।'
মনোজ বলল ।'আমি ওর খাবার দিয়ে দিয়েছি।'
রেখা বলল ' ও তাই? ভালো করেছো। ওদিকের কি খবর গো?'
মনোজ বলল  'আবার ডেট পড়েছে। জজ যা বলল তোমার বোনের তো লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাবার মতো।'
রেখা বলল ' ঠিক আছে ।আমি বাড়িতে গিয়ে শুনবো'।
এর মধ্যে অটোওয়ালা গান চালিয়েছে 'এক রাস্তা হ্যায় জিন্দেগি,যো থাম গ্যেয়ে তো কুছ  নেহি....।'
রেখা মনে মনে ভাবতে লাগল সত্যিই তো তাই আমাদের জীবনটাও ঠিক তাই।  
অটোওয়ালা বলল  'দিদি ,এসে গেছেন নামুন।'
রেখা বলল ' আচ্ছা, আচ্ছা ।এই নিন ভাড়া।'
 ভাড়া মিটিয়ে রেখা বাড়িতে ঢুকলো।
বাড়িতে এসে দেখে মনোজ কফি করে বসে আছে।
মনোজ বলল এই মাত্র কপি করলাম ফ্রেশ হও তাড়াতাড়ি।একটু গল্প করি দুজনে।'
রেখা কেমন অবাক হয়ে গেল ।কালকে অবধি তার জীবনটা কি অবস্থায় ছিল ?
এক টলমলে তরী ।যার মাঝির বেহাল অবস্থা ।আদৌ তরী তীরে নিয়ে গিয়ে থামাতে পারবে কিনা ?জীবন বিপর্যস্ত হয়ে যাবে কিনা? একটা টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে কাটিয়েছে ।আজকে মনোজকে অন্য মুডে দেখে রেখার চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগলো ।
মনোজ  বলল ' তুমি কাঁদছো কেন ?যাও ফ্রেশ হও।' রেখা তারপরও যখন নড়লো না।
 তখন মনোজ এসে রেখাকে হাত দুটো ধরে বলল  'সরি ,আমি যদি কোন খারাপ ব্যবহার করে থাকি, তার জন্য।আমার যে কি হয়েছিল..? আদপে আমি একটা সমস্যায় আছি ।তোমাকে না পারছি বলতে কি ভাববে ,না ভাববে ?আগে সমাধানটা করি ।তারপর তোমাকে সব বলবো ।আমার কোন কথা তো তোমার অজানা নয় ।শুধু হঠাৎ করে একটা উটকো ঝামেলায় মধ্যে কিভাবে জড়িয়ে গেলাম বুঝতে পারছি না। শুধু এটুকুই বলবো যে আমি ,আছি থাকবো তোমারি। তবে আমার কিছু খারাপ আচরণের জন্য সত্যিই আমি লজ্জিত।'
রেখা বলল 'এই যে তুমি মন খুলে আমাকে কথাটা বললে এতেই আমি খুশি। তোমাকে ঐরকম অবস্থায় দেখলে আমি একদম ভালো থাকি না।'
মনোজ বলল  'আসলে কেন যে আমি তোমার সাথে এরকম ব্যবহার করলাম আমি নিজেও জানি না।'
রেখা বললো ' ছাড়ো, যা হবার হয়ে গেছে। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি। দুজনে মিলে অনেকদিন পর বসে বসে আবার কফি খাবো  , গল্প করবো। আমাদের ব্যস্ততম জীবনে এই টুকুই অক্সিজেন।'
রেখা ফ্রেস হতে চলে গেল।
বাথরুম থেকেই রেখা ফোনের আওয়াজ শুনতে পেল। মনোজ ফোনে কথা বলছে  'হ্যালো'।
অপর পক্ষ বলল  'আমি সুরো বলছি।'
মনোজ বলল ' হ্যাঁ বল।'
সুরঞ্জন বলল 'তিথিটা এত নির্লজ্জ হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে তোকে এবার ডিএনএ টেস্ট করতে হবে? না হলে তুই এই সমস্যার সমাধান করতে পারবি না।
মনোজ বলল 'ডিএনএ?'
রেখা কলের জোরটা একটু কমিয়ে দিল বাথরুম থেকে ডিএনএ টেস্টের কথা শুনতে পেল। ভাবলো 'কেন, ডিএনএ টেস্ট কেন হবে?'
সুরঞ্জন বলল 'আরে তুই তো ফ্রেশ আছিস, তোর এত চিন্তার কি আছে? তাছাড়া  এই যাত্রায় তুই রক্ষা পাবি না।'
মনোজ বলল 'ও তো চিরকাল টাকার জন্যই সবকিছু করেছে। ও টাকার  পেছনে ছুটেছে বলে আমার ভালবাসাটাকে অস্বীকার করেছিল ।আজকে আবার আমার কাছেই ছুটে এসেছে । এখন আমি তো ওকে মনেপ্রাণে চাই না।''
রেখা বাথরুম থেকে কথাগুলো শুনতে পাচ্ছে আর ভেতরে ভেতরে একটা  কষ্ট পাচ্ছে। 
রেখা ভাবছে যখনই ক্ষণিক ভালোবাসার সুখে হাসি ফুটে ওঠে ,তখনই কিছু না কিছু খারাপ সময় রেখার জীবনে এসে হাজির হয়।
 আবার কোন কালবৈশাখী ঝড় আসতে চলেছে জীবনে কে জানে ?আদপেও এই ঝড়-ঝঞ্ঝার হাত থেকে মনোজকে, নিজেকে রক্ষা করতে পারবে কিনা?
কথাগুলো মনোজ  আস্তে আস্তে বলছে না জোরেই বলছে। এটুকুর ভরসায় বুকে বল পাচ্ছে।

গুলশান আরা রুবী




অন্তরে যার স্থান


তুমি কষ্ট দেয়া বন্ধ করো না-
তাতে কি হবে 
ভুলতে চাই না সহজে তা আমি 
তুমি কি তা বুঝবে।

যতদিন বেঁচে রইবো এ ধরণীতে- 
কামনা থেকে রেহাই নেই নিশ্চয়ই!
তবে একবার ভেবে দেখ তো 
যা আছে সব রেখে যাবে কিছুই আপন নয় তো ।

ঐ কষ্টগুলো ভীষণ মধুরতম-   
তোমার কষ্ট থেকে চাই না পরিত্রাণ !
তা নিয়েই যেন পাই পরপারে স্থান।।

জীবনে যা ভাবেনি তাই পাই 
আসলে এমন বুঝি পৃথিবীর জীবনটাই !
সময়ে সাথে বদলে যায় মানুষের রুপ 
বদলে যায় আচার ব্যবহার 
বদলে যায় রীতিনীতি এটাই জীবন।

রাবেয়া রুবি




ফেরারী মন 


সেই কবে হারালো ভালোবাসার নক্ষত্রগুলো
লুকায়িত হয়ে প্রাপ্তি খুঁজে পেলনা, 
অনুরাগের সবুজ গালিচায় ভালোবাসা আর
ঈর্ষা পাশাপাশি  শুয়ে থাকেনা। 
রাত নেমে এলেই গোধূলির লালিমা, ধূসর রঙের  সমাপ্তি, 
তবুও ডুবন্ত সূর্যের ঝলকানির মাঝেও আকাশ খুঁজে প্রাপ্তি।
পরম ভালোবাসা গুলো ঝুলে থাকে শূন্য আকাশে নিস্তব্ধতায়, 
আঁকা হয়না  রঙিন আল্পনাগুলো  নির্জন রাতের জ্যোস্নায়। 
জীবনের দোলাচলে মিশে আছো
জীবনেরই  প্রতিচ্ছায়া  হয়ে, 
সব ভাবনাগুলোও  জুড়ে আছো
আদুরে মায়া নিয়ে। 
প্রকৃতির নিয়মের বেড়াজালে সব ঠিক আছে
স্বপ্নগুলো ঘুরেফিরে দমকা হাওয়ার মাঝে।
কতদিন হলো একসাথে নতুন সূর্যোদয়  দেখা হয়না,
এখন আর শিশিরেও পা ভিজানো হয়না, 
মন যমুনায় ঢেউ উঠলে ভোরের শুকতারা হয়ে এসো, 
তখন শুনবো পাখ- পাখালির  কলতান,
পরিযায়ী পাখিরা দলবেঁধে এসে ফিরে যাবে,
হয়তো রেখে যাবে মহা মিলনের  গান।
কতটা সময় পাড়ি দিয়েছি কত বাঁধা-বিপত্তির  পথ, 
প্রহরগুলো অমলিন সোনালী  ছিল,থমকে যায় সবকিছু হঠাৎ। 
সাজানো পৃথিবী  থেমে যায়,সবকিছু  নিস্তব্ধ তায়,
থেমে নেই শুধু  সময়ের গতিবেগ, আর নতুন চলার গতি যত,
প্রকৃতিও তালে তালে মিলে যায়  সব - ই  আগের মত।

লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল"১৮

চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শান্তা কামালী'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "বনফুল" 





বনফুল
                     ( ১৮ তম পর্ব) 
 

জুঁই উপরে উঠে হাত পা ছেড়ে শুয়ে পড়ল,ঘড়িতে তখন তিনটে বাজে। ফোনটা হাতে নিয়ে পলাশকে ফোন দিল, ওপাশ থেকে পলাশের কণ্ঠে বললো কেমন আছো জুঁই ? স্যরি জুঁই আমি আর তোমাকে ফোন দিতে পারিনি! এপাশ থেকে জুঁই বললো its Okay আমি তো দিচ্ছি, মোট কথা একজন দিলেই হলো।
আমিও ব্যস্ত ছিলাম তাইতো তোমাকে ফোন দিতে পারিনি, এখন বল তোমার বন্ধু কেমন আছেন?  
হুমমম ভালো আছে, এতক্ষণ পর্যন্ত তোমার গল্পই হচ্ছিল..... 
জুঁই হাহাহা হাহাহা হাহাহা  হেসে উঠলো! আমায় নিয়ে আবার গল্প করার কি আছে, আমি সাদামাটা একটা মেয়ে মাত্র,আমি তো ক্লিওপেট্রা নই। আচ্ছা তোমাদের বন্ধুত্বের গল্পে ভাগ বসাতে চাই না, কালকে ঠিক সময়ে চলে এসো। ফোন রাখছি বাই বাই বলে জুঁই ফোন কেটে দিলো। কিছুক্ষণ চুপ করে শুতেই ঘুমিয়ে পড়েছে জুঁই। পাঁচটায় জুঁয়ের ঘুম ভাঙ্গলো, হাতমুখ ধুয়ে নিচে নেমে আসতেই ময়না জিজ্ঞেস করলো আপামনি আপনাকে চা দেবো না কফি?  
জুঁই বললো কফি দাও সাথে হালকা কিছু স্ন্যাকস দিও।
আজ জুঁয়ের মা ভীষণ ব্যস্ত কালকে বাসায় মেহমান আসবে, তাই আজ থেকে সব কিছু গুছিয়ে রাখছে, যেন সকালে নাস্তার পরই একে একে সব রান্না করে নিতে পারেন।
আজ জুঁই বাবা-মায়ের সঙ্গে চুটিয়ে গল্প করলো রাত দশটা পর্যন্ত, তারপর ময়না টেবিলে খাবার পরিবেশন করেছে। বাবা-মা মেয়েতে ডিনার শেষ করে। গুডনাইট বলে জুঁই  উপড়ে উঠে এলো। 
দাঁত ব্রাস করে ফ্রেস হয়ে জুঁই শুতে যাওয়ার আগে নিজেকে একবার আয়নায় দেখে নিলো।তারপর ভাবলো কালকে কি ড্রেস পরবে।কোন বডি স্প্রে টা পলাশ কে বেশী আকর্ষণ করবে,এইসব ভাবতে ভাবতে একটা চুড়িদার ওড়না, ইনার গার্মেন্টস সবকিছু গুছিয়ে রাখলো।পড়ার টেবিলে একটা ফটো ফ্রেমে নিজের একটা হাল্কা পোশাক পরা ছবি লাগিয়ে বসিয়ে দিলো।আবারও আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বিনুনি দুটো পেছন থেকে সামনে এনে বুকের দুপাশে দুলিয়ে দিয়ে নিজেকে দেখে নিজেই হেসে ফেললো। প্রতিবিম্ব কে যেন নিজেই প্রশ্ন করলো",উঁ এইটুকু মেয়ে আবার প্রেম করে"।ঠোঁটের ওপর হাল্কা করে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে মুখটা এঁকিয়ে বেঁকিয়ে নিজেকে মুগ্ধ হয়ে দেখছিলো,এমন সময় 
 পলাশ একটা গুড নাইট মেসেজ পাঠালো।ফোনটা হাতে নিয়ে পলাশ কে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,তোমার বন্ধু কি ঘুমিয়েছে, না-কি এখনো আমাকে নিয়েই.....। পলাশ বললো, এতোক্ষণে ঘুমিয়েছে বলেই তো শুভ রাত্রি জানাতে দেরি হয়ে গেলো।
একটা মিষ্টি হাসির মৃদু শব্দ শুনিয়ে পলাশ কে শুভ রাত্রি জানিয়ে জুঁই ঘুমাতে গেল।


                                                                                                                                      চলবে। ....

০৩ নভেম্বর ২০২১

কবিতা আমার ঘরের ভেতর ঘর , বোধের নিবিড় অনন্ত প্রহর

তিন বোনের দুই বই 


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : পেশা সাহিত্যচর্চায় অন্তরায় হয় না, যদি ইচ্ছে শক্তি প্রবল থাকে। এমন উদাহরণ অহরহ দেয়া যায়, নেশা ও পেশাতে সামঞ্জস্য রেখে অতীতেও অনেকে সাহিত্যচর্চায় নিবিড় সংযোগ অক্ষয় রেখেছেন, এইসময়ও তার ব্যতিক্রম নয়। আসলে এই দুইয়ের মেলবন্ধন তৈরি হলে লেখকের ভেতরে প্রাণ ও সাংস্কৃতিক গতি সঞ্চার হবে এটাই স্বাভাবিক । ভারতীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক জগত এমনিতর দিক নির্দেশ করে এসেছে।
 
       মঞ্চে গুণীজনদের কাব্যবাস ,"কবিতা যখন মনের গভীরে কথা বলে " , মোবাইলে উঠে আসা দর্পন। 




                           তিন বোন। দু'টি বই। গত ২ নভেম্বর, ২০২১ মঙ্গলবার সন্ধে ছিল এমনই এক মনোজ্ঞ। প্রাণের সঙ্গে প্রাণের মেলবন্ধন ঘটালেন তিন তরুণ কবি। 
                           সীমা সোম বিশ্বাস, একজন কবি। পেশাগতভাবে এক সময়  একটি বিশেষ কলেজের অধ্যাপনা করেছেন কবি । এখন তিনি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষিকা ।  শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাহিত্যের মেলবন্ধন ঘঠিয়েছেন সীমা সোম বিশ্বাস।  বোঝা যায় সাহিত্যের সঙ্গে যোগ অকাট্য। রাষ্ট্র বিজ্ঞানের এই শিক্ষিকার লেখালেখির শুরু সেই ছোটবেলা থেকে। বেলঘরিয়া প্যারীমোহন লাইব্রেরি সভাকক্ষে প্রকাশিত হল, শিক্ষার্থীদের সিলেবাস ভিত্তিক পাঠ্যবই 'জনপ্রশাসনের নানাদিক'। এছাড়াও ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়েছে সীমার  'ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তার ইতিবৃত্ত' ও কবিতার বই 'সম্পর্ক ও অন্বেষণ'। 
    


      উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশনে দেবারতি দাশগুপ্ত চক্রবর্তী ও কবিবৃন্দ। 


মেজ বোন, কবি শোভা চন্দ। কবিতা লেখেন। এই লেখক লেখালেখিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন মনের গভীর থেকে। 

           নৃত্য পরিবেশনে অর্পিতা চ্যাটার্জী 

   
 কবি সোমা বিশ্বাস, কবিতা লেখেন। পাশাপাশি গদ্যও সমান তালে লিখছেন তরুণ  প্রজন্মের এই কবি।
    কবি সোমা বিশ্বাস কবি সীমা সোম বিশ্বাস কবি  অরুণকুমার চক্রবর্তী

তেমনি নদিয়া জেলার করিমপুরে স্কুলে পড়াশোনার সময় থেকেই আবৃত্তি করেন মনের আনন্দে। ওঁর কবিতার আবিষ্কার ও প্রস্ফুটন আবৃত্তি ও গভীর পুস্তক পাঠের নেশা থেকেই।  কবির প্রথম বই  "সম্পর্ক ও অন্বেষণ" যৌথ কাব্যগ্রন্থ ।
                এদিন পেশাগতভাবে আইনজ্ঞ কবি সোমা বিশ্বাসের নতুন কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন হল, 'মন থেকে মনে' কবিতার বইটির। বইটি প্রকাশিত হবে চলতি বছরেই।  
                এই সুন্দর অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন  রাজস্মিতা  গুহ রায় সহ একদল নবীন শিক্ষার্থীরাও । 


নৃত্য পরিবেশনে দেবারতি দাশগুপ্ত চক্রবর্তী

                              এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি অরুণকুমার চক্রবর্তী, কবি অরুণ চট্টোপাধ্যায়, কবি পার্থসারথি গায়েন, প্রদ্যুম্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, ডঃ দেবেশচন্দ্র দেব, কবি বরুণ চক্রবর্তী, কবি স্বরূপ চক্রবর্তী, 

        কবিতা  যখন  নিজেই নিজের স্বর, আসলে তা কবিতা ঈশ্বর 


 কবিঅমলেন্দু বিশ্বাস, কবি বিধানেন্দু পুরকাইত, কবি প্রদীপ গুপ্ত, অভিজিৎ বেরা, কবি তাজিমুর রহামান, কবি ফাল্গুনী ঘোষ, কবি ভাস্কর বণিক, কবি রাজীব দত্ত,

      বিশেষ মুহূর্তে কবি অরুণ কুমার চক্রবর্তী'র সঙ্গে কবি ও সাহিত্যিক পাঠক বৃন্দ। 

 
          কবি প্রদীপ গুপ্ত এবং পাশে কবি ও সাংবাদিক বরুণ  চক্রবর্তী 


      বিশেষ কিছু মুহূর্ত ধরা পড়েছে মোবাইলের ক্যামেরায় 



  কবি ও সাংবাদিক সানি সরকার প্রমুখ। 
                              কবি অরুণকুমার চক্রবর্তী, কবি অরুণ চট্টোপাধ্যায়, কবি পার্থসারথি গায়েন,  কবি  প্রদীপ গুপ্তের ভাষণে উঠে আসে নিবিড় কবিতা বৈভব এবং কবি সীমা সোম বিশ্বাস ও সোমা বিশ্বাসের  আপ্পায়য়ন। কবি ফাল্গুনী ঘোষ তার বোধের পরিচয় রেখেছেন।  কবিতা পথে ও নৃত্যে সাজিয়ে তুলেছিল বেলঘড়িয়ার প্যারীমোহন লাইব্রেরি।  যা ইতিহাস হয়ে উঠল। 


        কবি সীমা সোম বিশ্বাস, বাম দিক থেকে কবি অরুণ চট্টোপাধ্যায়, কবি অরুণ চক্রবর্তী, কবি অমলেন্দু বিশ্বাস 

            নৃত্যে রাজস্মিতা গুহ রায়

                             ওই দিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা প্রদান। সহ কবি ও গুণী জনদের সম্মাননা প্রদান। 
                          ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা প্রদান।

পরিশেষে বলতেই হয় সঞ্চালকদের কথা।  তাদের মননশীল ভাষা ও মানবিক ঐকতার মধ্যদিয়ে  সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি সীমা সোম বিশ্বাস ও সোমা বিশ্বাস এবং কবি ও সাংবাদিক বরুণ চক্রবর্তী। 



মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" ৩৬

কান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "




টানাপোড়েন (৩৬)

এক চিলতে আলো


                                                    রেখা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে ।কি করবে? এখন কি করা উচিত? কার পরামর্শ নেবে? এরমধ্যে ফোনটা বেজে উঠল ক্রিং ক্রিং ক্রিং।
রেখা ফোনটা রিসিভ করতেই  'হ্যালো'
অপর পক্ষ  বলল 'দিদি, আমি সোমদত্তা  বলছি।'
রেখা বলল 'হ্যাঁ বল।'
সমু বলল' তোর কি শরীর খারাপ?'
রেখা বলল ' হ্যাঁ'।
সমু বলল ' ডাক্তার দেখিয়েছিস?'
রেখা বলল ' ডাক্তার দেখাতে যাই নি ।ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে তোর জামাইবাবু ওষুধের ব্যবস্থা করেছে।
সোমু বলল  'ঠিক আছে ।রেস্ট নে ,ভালো থাকিস। তবে একটা কথা আছে,আজকে আমাদের কোর্টে ডেট আছে ।জামাইবাবু  আসতে পারবে?'
রেখা বলল 'ওর শরীরটা বোধহয় ঠিক নেই ।এখনো তো শুয়ে আছে ।ঠিক আছে। বলে দেখব।'
সমু বলল   'আজ হেয়ারিং আছে একটায়।'ঠিক আছে। ছাড়ছি।'
রেখা  ফোনটা ছেড়ে মনে মনে বলল  'যত আদিখ্যেতা অন্যের সংসার ভাঙ্গার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। টের পাবি তুই দেখিস পরবর্তী ক্ষেত্রে। 
পরক্ষণেই ভাবতে লাগল এবার তো  মনোজকে খবরটা দিতে হবে। যেতেই হবে মনোজের ঘরে।
রেখা মনোজের ঘরে গিয়ে দেখলো মনোজ তখনও শুয়ে আছে। সাহস করে আস্তে আস্তে মানোজের  মাথায় হাত বুলাতে লাগল আর ভাবতে লাগলো মানুষটা ভালো ছিল ।হঠাৎ করে এরকম হয়ে গেল কেন?ভালোবাসার কমতি তো আমাদের মধ্যে কখনো ছিল না । এখন কেন এরকম হচ্ছে । শনির দৃষ্টি পড়লো নাকি? হাতজোড় করে ভগবানের উদ্দেশ্যে বলল ,ভগবান সব ঠিক করে দাও।'
এমন সময় মনোজ চোখ খুলে তাকালো , অবাক হল ।উঠে বসলো এবং বলল ' কি ব্যাপার তুমি এখানে?'
রেখা বলল 'আসলে এতটা বেলা হল ।তোমাকে দেখতে পাচ্ছিলাম না ।তারপর সমু ফোন  করেছিল?'
মনোজ বলল 'এই যা ,আজকে তো কোর্টের ডেট  আছে। একদম ভুলে গেছি। দেরি হয়ে যাবে তো?''বলেই উঠে পড়ল, বাথরুমের দিকে গেল।
রেখা বলল  'হ্যাঁ ,সেই জন্যই তো তোমাকে ডাকতে এসেছিলাম। তুমি যাবে?'
মনোজ বলল 'না গেলে কেমন দেখায় না বল?'
রেখা বলল  'আমি বলে দিয়েছি ।বোধহয়, তোর জামাইবাবুর শরীরটা ভালো নেই।'
বাথরুমের দরজাটা ধড়াম করে লাগিয়ে দিয়ে বলল রেডি হই। দেখি, যদি টাইমে পৌঁছাতে পারি ,তাহলে যাব।'
রেখা বলল 'এখনো তো আমি খাবার করি নি ।তাহলে কি খেয়ে যাবে?'
মনোজ বলল  'তোমাকে অত টেনশন নিতে হবে না ।ডিম সেদ্ধ করে দাও আর পা রুটি আছে তো ?বাটার টোস্ট করে দাও। তুমি পারবে তো করতে? না হলে ছেড়ে দাও।'
রেখা বলল  'হ্যাঁ, হ্যাঁ পারবো।'
রেখা যতটা শরীর খারাপ ছিল মনের দিক থেকে মনোজের সঙ্গে কথা বলে অনেকটাই ভালো লাগছে। কে বলবে কাল রাতে কত কিছু ঘটনা ঘটে গেছে। কিছু মনে করতে চাইছে না ।সে বুঝতে পারছে মনোজের ভেতরে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। কি হবে ঝগড়াঝাটি করে ?এতে তো সমস্যার সমাধান হয় না। মানুষ মাত্রেই কিছু-না-কিছু ক্রাইসিস তৈরি হয়। সেগুলো  হয়তো আমার সঙ্গে শেয়ার করতে পারছে না। 
এসব ভাবতে ভাবতে রেখা রান্নাঘরের দিকে গেল। গ্যাস ওভেন টা জ্বালালো, ডিম সেদ্ধ করার জন্য বসিয়ে দিল।
এর ই মধ্যে মিলি চিৎকার করে উঠল। রেখা কান পেতে শুনল। এ চিৎকার তো খিদে পাওয়ার চিৎকার। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল ওর তো খাওয়ার টাইম হয়ে গেছে। চার পাঁচ বার খাবার খায়। কি হবে এখন ?রেখা তো খাবারই করে নি। যা ঝামেলা হয়ে গেল ।এসবের মধ্যে মিলির কথাটা মাথায় আসে নি। তাছাড়া শরীরটাও তো সাথ  দিচ্ছিল না। এবার মিলির জন্য একদিকে ভাত বসিয়ে দিল। আর মনে মনে ভাবলো ,না মিলিকে কটা বিস্কিট খাইয়ে আসি। 
এই ভেবে এবার কতগুলো ব্রিটানিয়া বিস্কিট হাতে নিল এবং সিঁড়ির কাছটায় গিয়ে   ডাকলো  'মিলি, মিলি ।সঙ্গে সঙ্গে মিলি বেরিয়ে আসলো এবং হাও হাও করতে করতে লেজ নাড়তে লাগলো। মিলিকে গিয়ে গায়ে আদর করে দিল হাত বুলিয়ে বুলিয়ে আর মিলি বিস্কিট খেতে লাগল ।
অন্যদিকে রেখার আওয়াজ পেয়ে তার মধ্যে একটা বাচ্চা ঘেউ করে উঠলো। প্রথম মিলির বাচ্চা আওয়াজ করলো ।রেখা গিয়ে বাচ্চাটাকে কোলে তুলে নিল ,আদর করতে লাগল। এ যেন মিলির মাতৃত্বের সঙ্গে রেখার মাতৃত্ব একাকার হয়ে গেল ।যেন প্রথম বাচ্চার আওয়াজ শুনলে যে রকম আনন্দ হয় মায়েদের ।রেখার ও ঠিক তেমনি আনন্দ হতে লাগল ।অনেকক্ষণ ধরে বাচ্চাটিকে আদর করলো ।অন্যদিকে মনোজ ' রেখা ,রেখা ' করে ডাকতে শুরু করলো। 
রেখা সিঁড়ির কাছ থেকে সাড়া দিল ' যাই।'
যাবার সময় মিলিকে বলে গেল দাঁড়া মা ।তোর এক্ষুনি খাবার হয়ে যাবে । মিলি ও  যেন রেখার সব কথা বুঝতে পারল এবং সে বাচ্চাদের কাছে গিয়ে শুয়ে পড়ল।
মনোজ বললো  'কোথায় গিয়েছিলে?'
রেখা বললো ' মিলির  খিদে পেয়েছে। চিৎকার করছিল কিন্তু আমি তো খাবার তৈরি করে উঠতে পারি নি ।কিছু বিস্কিট খাওয়াতে গিয়েছিলাম। সঙ্গে খুব খুশি মনে বলল ' জানো তো আজকে মিলির একটি বাচ্চা 'ঘেউ 'করে আওয়াজ করেছে। কি মিষ্টি বাচ্চাটি।'
মনোজ হেসে বলল ' তাই বুঝি?
তা ওর নাম কিছু রেখেছো?'
রেখা বলল  'তোমার সাথে ভেবেছিলাম আলোচনা করব নামের ব্যাপারে ,তা করা হয় নি । আমি কিন্তু ঠিক করেছি জানো তো রান্না ঘর থেকে রেখা বলতে লাগল ।অন্যদিকে বাটার টোস্ট বানাতে শুরু করে দিল আর একদিকে মিলিদের মাংস বসিয়ে দিল।
মনোজ বলল  'কি নাম ঠিক করলে?'
রেখা বলল  'যদি মেয়ে হয় তাহলে মিলি। আর যদি ছেলে হয় তাহলে নাম হবে পাইলট ক্যাপ্টেন কর্নেল।'
মনোজ বলল  'তুমি কি করে ভাবলে একটি মেয়ে হবে তিনটে মেয়েও তো হতে পারে?'
রেখা হেসে এসে বলল রান্নাঘর থেকে জানো তো আমার মন বলছে বাচ্চা গুলো যেভাবে তেজ দেখাচ্ছে কয়েকটা ,তাতে মনে হলো বাকীগুলো ছেলে,একটা মেয়ে বাচ্চা হবে?'
মনোজ বলল  'বাবা তুমি দেখছি গণনাও করতে পারো দেখা যাক কি হয়‌ ।ঠিক আছে। তোমার খাবার রেডি তো ?খাবার দিয়ে দাও।'
রেখা বলল ' হ্যাঁ, তুমি টেবিলে বসো। খাবারর রেডি । দিচ্ছি।'
মনোজ  বললে  'তোমার শরীর কেমন আছে? ডাক্তার কাকাকে কি আর খবর দিতে হবে?
রেখা বলল  'এখন ঠিক লাগছে ।তবে উইক আছে শরীর।'
মনোজ বলল  ,'সুমিতা এসেছিল? তুমি রেস্ট নাও।'
রেখা বলল  'হ্যাঁ ,এসেছিল। আজকে এডভান্স টাকা নিয়ে গেছে। বলে গেল  আজকে এক জায়গায় যাবে।
এর ই মধ্যে মনোজের ফোন বেজে উঠল-ক্রিং ক্রিং ক্রিং।
ফোনের আওয়াজ শুনলেই রেখার বুকের ভেতরটা যেন কেমন করে ওঠে।
মনোজ ফোন রিসিভ করল' হ্যালো''।
অপরপক্ষ বলল  'তুই এত টেনশন নিস না। আমি ব্যাপারটা দেখছি।'
মনোজ বলল 'হ্যাঁ ,তুইও ব্যাপারটা দেখ আর আমিও দেখছি ।মামদোবাজি নাকি বল তো ?হঠাৎ করে যা বলবে তাই কি মেনে নিতে হবে? এটা আমার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। আমি যে কাজটা করি নি তার দায় আমি কেন নেব আর যদি তাই হয় তাহলে এত বছর পরে কেন? অনেকগুলো প্রশ্ন চিহ্ন থেকে যাচ্ছে না ,সুরো?'
রেখে এবার বুঝতে পারল সুরঞ্জনদার সঙ্গে কথা বলছে ওদের ওই ফোনকলটার ব্যাপারে।
 ভগবান মুখ তুলে তাকাও।আমার স্বামীকে যেন কোনো সমস্যায় পড়তে না হয় ,দেখো ভগবান। তিনবার জোড়হাত করে প্রণাম করলো।
মনোজ তখন ও ফোনে কথা বলে যাচ্ছে' হ্যাঁ ভালো আছে। রেখার দিকে তাকিয়ে।'
রেখা বুঝলো সুরঞ্জনদা রেখার ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছে।
ফোনটা নামিয়ে রেখে মনোজ বলল  রেখাকে ' কেন প্রনাম করলে কেন?'
রেখা বলল ' এমনি ‌'।
মনোজ বলল ' তুমি কিছু মনে করো না ,কালকে তোমাকে অনেক খারাপ কথা বলেছি না?'
রেখা বলল ফোনটা ধরা উচিত হয়নি আমারই ভুল হয়েছে ।সরি।
মনোজ হেসে বলল  'না, না, ঠিক আছে ।ধরাটাই তো স্বাভাবিক।
ঠিক আছে আমি বেরোচ্ছি।'
রেখা বলল  'কিন্তু এখন তো ট্রেন পাবে না। তুমি কি করে যাবে?
মনোজ বলল  'পার্থর গাড়িকে বলে দিয়েছি।'
রেখা বলল  'ঠিক আছে, সাবধানে,এসো।'
এরইমধ্যে ফোন বেজে উঠল ক্রিং ক্রিং ক্রিং।
রেখা দেখল রেখার ফোন।
ফোন কল টা এসেছে রিম্পাদির কাছ থেকে।
রেখা ফোন ধরে বলল 'হ্যালো'।
রিম্পাদি বলল  'কিরে রেখা ,কালকে কতবার তোকে ফোন করেছি।'
রেখা বলল  'ও তাই বুঝি?
রিম্পাদি বলল  'কল লিস্ট চেক করিস নি। ঠিক আছিস তো?'
রেখা মনে মনে ভাবল ' কালকে যে কি অবস্থা হয়েছিল সেটা রিম্পাদিকে কি করে বলবে? শুধু বলল শরীরটা একটু খারাপ ছিল।
রিম্পাদি বলল  'তাই? তাহলে বড়দি ম্যাসেজ দিয়েছে সেটাও দেখিস নি? কালকে স্কুলে যেতে হবে পর্ষদ নির্দেশিত এমসিকিউ প্রশ্নপত্রের উত্তরপত্র জমা নিতে হবে।'
রেখা বলল  'তাই বুঝি ?কিন্তু আমার যে শরীর উইক, স্কুলে যেতে পারবো না।'
রিম্পাদি বলল 'সেটাই ভালো ‌।রেস্ট নে। আর বড়দিকে  ফোন কর বা মেসেজ করে বলে দে।' 
রেখা বলল 'হ্যাঁ, তাই করবো।'
রিম্পাদি বলল  'ঠিক আছে। ভালো থাকিস। ওষুধপত্র ঠিক করে  খা ।ছাড়ছি রে।'
রেখা শুধু বলল হ্যাঁ, তুমিও ভালো থেকো।'
ফোনটা ছেড়ে রেখা মনে মনে ভাবতে লাগল আজকে মনোজকে যে অবস্থায় দেখল ,তাতে যেন মনে হলো কাল অমানিশির রাত ঘুচে, তার হৃদয়াকাশে উজ্জ্বল তারকারাজির স্নিগ্ধ আলো উঁকি দিয়েছে। খুশিতে তার হৃদয় ও গুনগুন করে উঠলো 'দেখো আলোয় আলো আকাশ ।দেখো আকাশ তারায় ভরা। দেখো যাওয়ার পথের পাশে ,ছোটে হাওয়া পাগল পারা ।এত আনন্দ আয়োজন সবই বৃথা, আমায় ছাড়া..।'


                                                                                                                                   ক্রমশ 

রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়"২১

চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 




উদাসী,মেঘের ডানায়  
                                   (পর্ব ২১)


                                             ঘুম ভাঙলো তৃষ্ণার চড়ুইপাখিদের কিচির মিচির সুরে
উঠে এসে বারান্দায় দাঁড়ালো।
সকালটা কি আশ্চর্য নির্মল মিষ্টি অনুভূতির আবেশ ছড়িয়ে রেখেছে শরৎ এর ভোর।
একটু পরই ভোরের সিগ্ধতার ফাঁক গলে সোলালী থালা জানাবে এই আমি আসছি।
তাড়াতাড়ি ঘরে এসে বাথরুমে ঢুকে শাওয়ার সেরে
সালোয়ার কামিজ পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
হালকা মেকাপ করে আলাইনার দিলো ওর চোখেরমনিটা লাইট ব্রাউন কিছুটা সময় থমকে দাঁড়িয়ে  নিজেকে দেখতে দেখতে বললো দেখ তৃষ্ণা শরৎএর সিগ্ধতার মতোন আবেগী হয়ে উঠছো কেবল
শেষ পর্ষন্ত ভালোবাসার হাতকড়ায় বন্দিহয়ে পরিতৃপ্ত।
ধীরে চলো তৃষ্ণা আর পিছনে ফেরা নয় তুমি জেগে
উঠেছো ভোরের নির্মল সিগ্ধতার মতন।
মায়ের ডাকে চমকে উঠে বললো
- আসছি মা। 
ব্রেকফাষ্ট করে  অফিসে যারার সময় মাকে আদর করে বেড়িয়ে গেলো
অফিস ছুটির পর বাহিরে এসে,দেখে অপু দাঁড়িয়ে আছে।
অবাক হয়ে বললো- তুমি, কখন এলে ফোন করনিতো
আসবে।
অপু- কেমন সারপ্রাইজ,  যাক এবার চলোতো একটু
ঘুরে আসি দুজন।
আমি সামিয়াকে বলি গাড়ি নিয়ে চলে যেতে দাঁড়াও
আসছি।
একটু পরই এলো সামিয়ার সাথে কি জানি বলে
তারপর বললো- অপু তোমার গাড়ি কোথায়?
অপু- এইযে দেখছোনা
তৃষ্ণা- এতো বাইক।
আজ বাইকে ঘুরবো।
তৃষ্ণা- শরৎএর আকাশে কেমন মেঘ জমেছে যদি বৃৃষ্টি
আসে।
অপু- আসলে আসবে চলো তো আর কথা নয়।
কি আর করা শেষে বাইকে উঠলো তৃষ্ণা।
একটু একটু করে অপু স্প্রিড বাড়াচ্ছে সংসদ ভবনের
সামনে এসে তৃষ্ণা ভয়ে আকাশের কেমর জড়িয়ে পিঠি মুখ রেখে চোখ বন্ধ করে আাছে।
বাইক ছুটছে মহাখালি হয়ে বনানী ব্রিজের সামনে এসে বাইক থামালো তৃষ্ণা তখন ও জড়িয়ে ধরে আছে
চোখ খুলেনি আলতো কারে হাত চাপ দিয়ে বললো
অপু-  ম্যাডাম ছাড়েন এবার
তৃষ্ণা চমকে উঠে দেখে অপু হো- হো করে হাসছে আর বলছে ধরিয়ে ছাড়লাম তো শেষ অবধি এখন চলেন
ধাবায় যেয়ে কিছু খেয়ে নেওয়া যাক
এমন সময় বৃষ্টি শুরু হলো দুজন ভিজে একাকার 
তৃষ্ণা- বললো আমি ভিজে কাপড়ে ধাবায় খেতে যাবোনা।
অপু- ক্ষিধে পেয়েছে ভীষণ।
তৃষ্ণা - না যাবোনা তার চেয়ে বাসায় চলো মাকে বলে
দিচ্ছি নাস্তা রেডি করতে, তাছাড়া মা তেমাকে দেখতে
চেয়েছে।
অপু- সত্যি নিয়ে যাবে তাহলে চলো শুধু নাস্তা নয় বলে
দাও রাতের খাবার খেয়ে আসবো সাথে যেনো মাংস
থাকে। তৃষ্ণা পানি আছে বড্ড পিপাসা পেয়েছে।
তৃষ্ণা- ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে বললো
-এই নাও খাও।
পানি খেয়ে অপু বললো-এ জলে কি পিপাসা মেটে অন্তরে মরুর পিপাসা মিটাবে কবে।
জানো অন্তরের গভীর মুগ্ধতার জলের গভীরে অন্য
এক জল আছে যেখানে তপ্তমরুর ভালোলাগার ছোঁয়ায় অন্তরের সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে তোমাকেই খুঁজে।
আজ এই বৃষ্ট ভেজা তৃষ্ণা যে কি অপূর্ব  আমার চোখ দিয়ে দেখো,তোমার অবয়ব জুড়ে বৃৃষ্টির ফোটা গুলো
হাজার মুক্তোয় সাজানো পদ্মপাতার জলের মনত
ছুঁয়ে দিতেই গড়িয়ে পড়বে।
তৃষ্ণার মুখে কথা নেই অপু আজ বেশি আবেগ প্রবন
হয়ে উঠেছে।তারপর ও বললো- আর কত ভিজবে
চলো এবার যাওয়া যাক।
অপু - মাংস থাকবে তো না বারণ করেছো?
তৃষ্ণা- সে তেমাকে ভাবতে হবেনা পেটুক মাশাই। 
এবার হুন্ডা স্ট্রাট দিলো ধানমন্ডির দিকে।
চলবে...

লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল"১৭

চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শান্তা কামালী'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "বনফুল





বনফুল 
                                ১৭ তম পর্ব 


                                          লাশ ফোন রাখতেই সৈকত বললো, দোস্ত কি ব্যাপার?  বিষয়টা তো বুঝতে পারলাম না! খুলে বল দোস্ত।
 পলাশ সব বলবো দোস্ত খেয়ে এলাম এইমাত্র, একটু রেস্ট নিতে দে। 

ওদিকে জুঁই পলাশকে নিয়ে অনেক কিছু ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়েছে....।

পলাশ বললো দোস্ত একটু আগে যার ফোন এসেছিল ওর নাম জুঁই, ফার্স্ট ইয়ারে ভার্সিটিতে এ্যাডমিশন নিয়েছে, প্রথম দিনই ওর সাথে দেখা হয়,অবশ্য কথা হয়নি। পরের দিন পরিচয় হলো, এর কিছু দিন পরে আমাকে প্রোপজ করে জুঁই, ওকে না করার সাধ্য আমার ছিলো না, হয়তো আমিও ওকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম। তাইতো জোরালো ভাবে না করতে পারিনি। বাকি কথা পরে হবে। 
এবার ঘুমা, আলাপ পরিচয় ও সব হবে...। 
পলাশ ও সৈকত দুজনেই ঘুমিয়ে পড়েছে।

 সকাল নয়টায় ঘুম ভাঙ্গলো জুঁইয়ের। বাবা-মা দুজনেই ওর জন্য নাস্তার টেবিলে অপেক্ষা করছে। দ্রুত ফ্রেস হয়ে নিচে নেমে এলো জুঁই।
বাবা-মা দুজনের সাথে নাস্তা শেষ করে একটা কফি খেলো। তারপর জুঁই তার মা'কে বললো, আম্মু আমি আজ একটু  মার্কেটে যাবো, টুকটাক অনেক কিছু কিনতে হবে। মা মনোয়ারা বেগম বললেন বেশ তো যাও। 
জুঁই ময়নাকে ডেকে বললো ড্রাইভারকে গাড়ি বের করতে বলো, আমি রেডি হয়ে আসছি...।
জুঁই খুব দ্রুত রেডি হয়ে এলো, ইস্টার্ন প্লাজায় যেতে বললো ড্রাইভারকে।
গাড়ি থেকে নামতে যাবে এমন সময় জুঁই দেখতে পেলো অহনাকে...। অহনা দেখতে পায়নি জুঁই কে।
অহনা কলেজের বেস্টফ্রেন্ড। তাড়াহুড়ো করে গাড়ি থেকে নেমে আহনার পিছন দিক থেকে  সে চোখ চেপে ধরলো অহনার, অহনাও বলে উঠলো জুঁই আমি তোর স্পর্শ বুঝতে পারি। তুই ছাড়া আর কেউ এমন করে চোখ চেপে ধরে না। 
অহনা প্রশ্ন করলো জুঁই তুই এখানে? 
জুঁই বললো আর বলিস না, অনেক গুলো কসমেটিকস  ফুরিয়ে গেছে ,আর এইজন্য কিছু কেনাকাটা করতে এসেছি।

                                                                                              চলবে....

তালুকদার ইমরোজ




মৃত্যু


লোকটির আত্মহত্যার খবরে পাড়ার লোকজন নানারকম মুখরোচক গল্পে ঘুমন্ত পাড়াকে- 
প্রায় জাগিয়ে তুলল,গরম করে ফেললো;
কেউ বলল,'লোকটি ডুবে ডুবে দীর্ঘদিন ধরেই জল খাচ্ছিল,ভালো মানুষের ভান ধরেছিলো। 
আসলে চূড়ান্ত ভালো বলে কিছু নেই'।
যে লোকটি নির্ঝঞ্ঝাট ছিলো,কারও সামান্যতম ক্ষতি যে করেনি,যে মানুষের কষ্টে এগিয়ে আসতো,
যার হৃদয়টা ছিলো ছোট্ট শিশুর মতো,যাকে পঙ্কিলতা স্পর্শ করেনি,সে এখন সবার মুখে মুখে-
নিষিদ্ধ সংগমের মতো ঘৃণায় উচ্চারিত মানুষ।
অথচ আত্মহত্যার বহুবছর পূর্বেই লোকটি যে
মারা গিয়েছিলো,সে খবর আমরা কেউ রাখিনি।

নাজিয়া নিগার




রেনেসিয়ান


শিল্পের জানালায় কাকতাড়ুয়া....
রাজনৈতিক মঞ্চে নাচে নটবর।
সত্যের পেখম তুলে উড়ে যায় নিরন্ন গাঙচিল।
শিল্পকে খুঁটে খায় শিল্পের প্রলেতারিয়েত।
শিল্পীর চোখেমুখে অস্ফুট স্বগতোক্তি
নিপীড়িত শিল্প যেন যৌন-প্রতিকের কফিন!
দেয়াল ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া একদল উটপাখি প্রাচ্যের চৌকাঠ পেরোয়।
আমাদের শিল্প পরে রয়;কুটির শিল্পের যাদুঘরে
শিল্পীরা পরে রয় মৃত সেলুলয়েডের ভাঙাচোরা অলিন্দে।
শিল্পের মুখাবয়বে আল্পনা এঁকে যায় এক গোত্রের রেনেসিয়ান।
ওদিকে শকুনের দল বসে করে শিল্পের বড়াই।

ফারজানা আফরোজ




ডুয়েট কবিতা


বিদায় বেলায়
কাব্য-এই সুন্দর দুপুর হয়তো বা নাও আসতে পারে।হতেও পারে এটাই শেষ দেখা।তোমার ভালো লাগা আমার থেকে ছিল ভিন্ন।দুই জনের মন যে আলাদা।
কবিতা-তুমি ভালোবাসতে মেঘলা আকাশ।আর আমি শ্রাবণের বৃষ্টি।আমি ভালোবাসি সমুদ্র আর তুমি পাহাড়।
কাব্য-তাইতো তোমার আমার মাঝে এত অমিল।পৃথিবীটা দেখি আমার চোখে আমার মত।তুমি দেখো তোমার মত।
কবিতা-আজকাল তোমার কি হয়েছে বল তো কথাবার্তায় কষ্টের রং।
কাব্য-অনেক কিছু বদলে যায়।তোমার আর আমার মধ্যে অনেক ব্যাবধান।দুজনের পথ আলাদা হয়ে গেছে।
কবিতা-তুমি কি জান আকাশের শেষ সীমান্ত কোথায়?এই পথে আর কি কখনো দেখা হবে?
কাব্য-না।শুধু জানি তুমি অনেক অভিমানী।তুমি কি সত্যি আমাকে ভালোবাসো।নাকি অন্য কাউকে।
কাব্য-ভালোবাসি।তবে এই ভালোবাসা অবাস্তব।ভুলে যেও আমাকে।দূরে থাকলেও বন্ধু হয়ে  থাকবে চিরকাল।
কাব্য-এই পথে আবার কখনো হয়তো দেখা হবে।চলে যেতে হবে অনেক দূরে।আপন ঠিকানায়।দূরে থেকেও কথা হবে।মনে রেখো‌ কেউ আছে তোমার পাশে।
কবিতা-ঠিকানা না দিলেও ঠিকানা খুঁজে নিব কোন দিন।দেখা হবে হঠাৎ করে।ভালো থেকো।

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক গল্প "অলিখিত শর্ত"৮




শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত 
                                              (পর্ব )
   শামীমা আহমেদ 

 

                                                   চায়ের মগ হাতে  নিয়ে শায়লা বারান্দায় চলে এলো।সকাল হয়েছে। ছুটির দিন তাই শহরবাসী একটু ঘুমিয়ে নিচ্ছে। প্রতিদিনের মত ছুটোছুটিটা নেই।অবশ্য শায়লার এখন প্রতিদিনই ছুটির দিন।চাকরীটা ছাড়ার পর এখন জীবনের দিনগুলো অন্যরকম কাটছে।নিজের দিকে তাকানোর ফুসরত মিলেছে! কথায় বলে সুখ দুঃখ পালা করে আসে।
এখন শায়লাদের পরিবারে সুখের সুবাতাস বইছে।শায়লা প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
রাহাত একটা ভালো চাকরী করছে।মায়ের দেখভাল, চিকিৎসা নিয়মিত হচ্ছে।দুঃসময়ের কষ্টটাকে যদি মাটিতে পুঁতে রাখা যায় তবে সময়ের পরিক্রমায় তা সুখবৃক্ষ হয়ে সুখের ডালপালা ছড়িয়ে দেয়। শায়লাদের সুখবৃক্ষ এখন রাহাত।আজ ছুটির দিনে সে একটু বেলা করে উঠবে।কর্পোরেট জবে যেমন হ্যান্ডসাম স্যালারী তেমনি কাজের বিস্তৃতি। তাতে কি? কথায় বলে---পেটে খেলে পিঠে সয়। তাছাড়া এতে লিভিং স্ট্যান্ডার্ডটা রাতারাতি বদলে যায়।যা একটা সরকারী চাকরীতে সারাজীবন লেগে যায়।
হঠাৎ শায়লার রাতের কথা মনে পড়তেই মোবাইলে চোখ চলে গেলো।খুব দ্রুতই ফেসবুকে ঢুকলো। হু,ফ্রেন্ড লিস্টে  চলে এসেছেন সেই কাংখিত "সততায় শিহাব" ভদ্রলোকের ছবিটি।
তাহলে কখন এক্সেপ্ট করলেন? টেরই পেলাম না!যা হোক বন্ধু যখন হয়েছে এক সময় সবই জানা যাবে।
মেসেঞ্জারেএকটু ঢুঁ দিয়ে আসি।শায়লার সিনিয়র জুনিয়র  অফিস কলীগরা অনেকেই তাকে খুব মিস করে।শুভ সকাল শুভ দুপুর ঈদ পূজা নিউ ইয়ার সব শুভেচ্ছাই জানায়। শায়লার ভালোই লাগে।ছোট একটা চাকুরী করলেও অন্তত সবার মনে একটা জায়গা নিতে পেরেছে,এটাই প্রাপ্তি! বেশ অবাক করে দিয়েই শায়লার চোখ একটা মেসেজে আটকে গেলো।শিহাবের মেসেজ,"শুভ সকাল"।ওহ! তাহলে সকালে এক্সেপ্ট করেছেন ভদ্রলোক। শায়লাও ভদ্রতা রক্ষার্থে পালটা শুভেচ্ছা পাঠিয়ে দিলো।শুভ সকাল।আজকের দিনটি সবার জন্য সুন্দর হউক।
শায়লা চায়ের মগে চুমুক দিতেই চট করে রিপ্লাই চলে এলো, কেমন আছেন?শায়লা খুবই স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই লিখলো, জ্বী, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আপনি? 
আলহামদুলিল্লাহ ভালো।
চা খেয়েছেন? সকালের মর্নিং টি বা বলা যায় বেড টি?
জ্বী,  এইতো চায়ের মগ হাতে বারান্দায়।
চমৎকার!  আমিও চা বানিয়ে নিয়ে বারান্দায়। নিজের হাতে যত্নে গড়া ছোট্ট ব্যালকনী বাগানে এসে বসেছি,,
জ্বী,সকালের চা, সারাদিনের জন্য মনকে প্রস্তুত করে।আর প্রকৃতির কাছাকাছি গেলেতো অন্য রকম ভালোলাগা।
ও প্রান্ত নীরব।শায়লা কি কথা বেশি টেনে নিচ্ছে? ছুটির দিন তারতো আজ ফ্যামিলিকে সময় দিতে হবে। ঠিক আছে আরেকটু দেখে না হয় আর কথা বাড়াবে না ।
তখুনি স্ক্রিনে উত্তর ভেসে উঠল! 
আচ্ছা  কথায় কথায় এত জ্বি জ্বি করা হচ্ছে কেনো?আমি কি আপনার অফিস বস? ফাইল দেখাচ্ছেন আর পাতা উল্টাচ্ছেন?
শায়লা বেশ লজ্জিতই হলো।তাকে বেশ রসিক মানুষই মনে হলো! মনে মনে ভাবল হ্যাঁ,চাকরীর সুবাদে একটুতো জ্বী হুজুর, জ্বী স্যার জ্বি ম্যাডাম এসেই যায়,  সেই বৃটিশ আমল থেকেই বাঙালির মুখে উঠেছে এই সম্বোধন। 
চায়ের সাথে গান শুনছেন না?
নাহ্, শুনতাম একসময়। এখন শোনা হয় না।
সে কি! গান ছাড়বেন না।আমি কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে গান শুনছি। গান হচ্ছে এই এক কাপ চায়ের মত, চুমুকেই চাঙ্গা! বিজ্ঞাপনের ভাষায় বললাম।
শায়লা নিজেকে সামলে নিয়ে লিখলো, হ্যাঁ, তবে শুনবো এখন থেকে। 
ঠিক আছে আবার কথা হবে। একটু ব্যস্ততা আছে। আর হ্যাঁ,আপনার প্রোফাইলে গিয়েছিলাম। বেশ ছিমছাম আপনি। অতিরিক্ত কিছু নেই। আর আপনার ভাবনাগুলোও অসাধারণ।বাই।
বলেই নিমেষে উধাও হয়ে গেলেন মোবাইল থেকে।শায়লা বিদায় নেবার আগেই!
কি যেন? খুব বুঝি তাড়া! নাকি এড়িয়ে গিয়ে আগ্রহ বাড়িয়ে যাওয়া।
শায়লা মনের অজান্তে নিজের প্রোফাইলে ঘুরে এলো।এইতো নানান  মনোভাবনার কিছু টুকিটাকি কথা লেখা আর অফিস কলীগদের সাথে একটা চাইনিযে খেতে গিয়ে অনুরোধে কিছু ছবি তোলা।লাল একটা সালোয়ার কামিজ পরা। শাড়ি খুব একটা পরা হয় না।এর জন্য মায়ের অনেক চাপা ক্ষোভ। কেন শাড়ি পরিনা।মাকে কিভাবে বুঝাবে যার দুটো বাস বদলে অফিসে যেতে হয় তার জন্য শাড়ি পরে বের হওয়া  কতটা ঝামেলাপূর্ণ ! মায়েরা একসাথে সবই চায়। মেয়ে স্বাবলম্বী হবে আবার সেজেগুজে অপরুপাও হবে।পাত্র পক্ষ একেবারে ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে। তবে মধ্যবিত্তের জন্য  সাজগোজ, ফ্যাশান এসব বিলাসিতা খুব একটা মানায় না।  আজকালকার মেয়েদের দেখে তাদের পরিবারের অবস্থান বুঝ্য যায় না।তারা বেশ স্মার্ট আর পরিপাটি।ড্রেস বদলের মত বয়ফ্রেন্ড বদলায়।
শায়লার ভাবনায় আবার শিহাব চলে এলো।এতগুলো কথা যখন বলেছে তবে নিশ্চয়ই আবার কথা হবে।কথায়তো বেশ ভদ্রই মনে হলো। আর শায়লাকে জানার জন্য অতিরিক্ত কোন প্রশ্ন করেনি।এটা শায়লার ভালো লাগলো।কারণ সে আপাতত এত দ্রুত  নিজেকে জানাতে চাইছে না 



                                                                                                                  চলবে....